২৯ আগস্ট, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ৯: আল-নাটার ইহুদিদের পরিণতি!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১৩৮): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত বারো

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

অমানুষিক নৃশংসতায় খায়বারের নিরপরাধ ইহুদি জনপদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়ে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা আল-নাটার আল-সাব বিন মুয়াধ দুর্গগুলো জোরপূর্বক দখল করার পর কীভাবে তাঁদের গচ্ছিত খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সমস্ত  সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন; সেই লুণ্ঠিত সামগ্রীর তালিকায় কী ধরনের জিনিসপত্র ছিলো; এই দুর্গগুলো থেকে তারা কী পরিমাণ সম্পদ হস্তগত করেছিলেন; রান্না ও গৃহকর্মের প্রয়োজনে যে কাঠগুলো তাঁরা মওজুদ করে রেখেছিলেন, মুহাম্মদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা কীভাবে সেগুলো ধ্বংস করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৩৭) পর:

ইশাক বিন আবদুল্লাহ হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবনে আবি-সাবরা আমাকে যা বলেছে:

'-----ইতিমধ্যে মুসলমানরা আল-সাব বিন মুয়াধ দুর্গে ঘুরে বেড়ায়, এটির ছিলো একাধিক প্রবেশ পথ। তারা এক ইহুদিকে ভেতর থেকে ধরে নিয়ে আসে ও তার কল্লা কেটে ফেলে ও তার রক্তের কালো রং দেখে তারা বিস্মিত হয়। তাদের একজন বলে, "আমি এমন কালো রক্ত কখনোই দেখিনি।" সে বলেছে যে, এক বর্ণনাকারী তাকে বলেছে, "ঐ শেলফগুলোর একটিতে রাখা ছিলো রসুন ও জুস," আর সে কারণেই ইহুদিটি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তারা তাকে সামনে নিয়ে আসে ও তার কল্লা কেটে ফেলে।

আল-নাইম দুর্গের সকল ইহুদি, যারা আল-সাব বিন মুয়াধ দুর্গে ছিলো তারা ও নাটায় অবস্থিত প্রত্যেক-টি দুর্গে যারা ছিলো তাদের সকলকে ‘কালাত আল-যুবায়ের (Qalat al-Zubayr)’ নামের এক দুর্গে স্থানান্তরিত করা হয়। আল্লাহর নবী ও মুসলমানরা দ্রুতগতিতে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের দুর্গ মধ্যে তারা তাদেরকে ঘেরাও ও রুদ্ধ করে রাখে, যার ভেতরে প্রবেশ সহজগম্য ছিলো না। প্রকৃতপক্ষেই এটি ছিলো এক পাহাড়ের চূড়ায়, যেখানে কোনো ঘোড়া কিংবা মানুষ আরোহণ করতে পারতো না, সে কারণেই তা ছিল দুর্গম। নাটার দুর্গ মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিলো, দু'-একজন ছাড়া তাদের সম্বন্ধে কিছুই উল্লেখিত হয়নি। তাদেরকে সম্মুখে থেকে পাহারা দেওয়ার জন্য আল্লাহর নবী লোক নিযুক্ত করেন। ইহুদিদের মধ্যে এমন কেউ ছিলো না, যে তাদের সম্মুখে এসেছিলো, কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়নি।কালাত আল-যুবায়ের’ এর লোকদের ঘেরাও করে রাখা অবস্থায় আল্লাহর নবী সেখানে তিন দিন যাবত অবস্থান করেন।

ইহুদিদের মধ্যে থেকে ঘাযযাল (Ghazzal) নামের এক লোক আবির্ভূত হয়। সে বলে, "আবু কাসেম, আমার নিরাপত্তা মঞ্জুর করুন; পরিবর্তে আমি আপনাকে এমনভাবে পথপ্রদর্শন করাবো, যা আপনাদের নাটার জনগণদের কাছ থেকে মুক্তি দেবে ও আপনারা বের হয়ে আল-শিইক (al-Shiqq) এর লোকদের উদ্দেশে রওনা দিতে পারবেন, এটি এ জন্যেই যে, প্রকৃতপক্ষেই আল-শিইক-এর জনগণ আপনাদের ভয়ে ভীত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আছে।" সে বলেছে: আল্লাহর নবী তার, তার পরিবার ও তার সম্পদের নিরাপত্তা প্রদান করেন।

সেই ইহুদিটি বলে, "আপনারা যদি এক মাসও অবস্থান করেন, তারা তার পরোয়া করবে না এই কারণে যে, ভূগর্ভস্থ স্থানে তাদের একাধিক জলপ্রবাহ আছে। তারা রাতের বেলা বের হয়ে আসতে পারে, ও সেখানে পানি পান করে তাদের দুর্গে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, যা আপনার জন্য দুর্গম। কিন্তু আপনি যদি তাদের পানির উৎসটি কেটে দেন, তবে তারা নিদারুণ যন্ত্রণায় পতিত হবে।" আল্লাহর নবী তাদের জলপ্রবাহের উৎসস্থানে গমন করেন ও সেগুলো বন্ধ করে দেন। যখন তিনি তাদের পানি পানের উৎসটি বন্ধ করে দেন, তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় থাকতে পারে না। তারা বের হয়ে আসে ও প্রাণপণে যুদ্ধ করে। সেই সময় কিছু মুসলমান নিহত হয় ও সেদিন দশজন ইহুদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আল্লাহর নবী তা দখল করেন ও এটিই ছিলো নাটার শেষ দুর্গ।

নাটা দখল সম্পন্ন করার পর আল্লাহর নবী আদেশ করেন যে, তারা যেন স্থানান্তরিত হয়, সেনাদল তাদের স্টেশনটি আল-রাজী থেকে স্থানান্তর করে পুনরায় আল-মাযিলোতে নিয়ে আসে। আল্লাহর নবীকে রাতের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়েছিলো, যেটি ছিলো ইহুদিদের যুদ্ধকৌশল, তাদের কাছ থেকে যে ভয়টি তিনি করতেন। নাটার জনগণ ছিলো ইহুদিদের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস ও যার অন্তর্ভুক্ত ছিলো নাজাদ-এর লোকেরা। অতঃপর আল্লাহর নবী আল-শিইখ লোকদের উদ্দেশে যাত্রা করেন।----'

- অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসে ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খায়বারের আল-নাটা নামক স্থানে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা সর্বশেষ যে-দুর্গটি দখল করে নিয়েছিলেন, তা হলো "কালাত আল-যুবায়ের" দুর্গটি। আল-সাদ বিন মুয়াধ দুর্গটি দখল করার পর মুহাম্মদ অনুসারীরা এই দুর্গ মধ্য থেকে এক ইহুদিকে ধরে নিয়ে এসে তাঁর কল্লা কেটে ফেলে। আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে আল-নাইম, আল-সাব বিন মুয়াধ ও নাটায় অবস্থিত অন্যান্য দুর্গের প্রায় সকল ইহুদি পালিয়ে 'কালাত আল-যুবায়ের' নামের এক দুর্গম দুর্গে আশ্রয় নেন। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে তাদের সেই দুর্গটি চারিদিক থেকে ঘেরাও করে রাখেন, ইহুদিরা তাঁদের এই দুর্গ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আর যে ইহুদিরা পালাতে ব্যর্থ হয়ে নাটার অন্যান্য দুর্গ মধ্যেই অবস্থান করছিলেন, আল ওয়াকিদিরি এই বর্ণনা মতে তাঁদের মাত্র দু'-একজন ছাড়া ঐ হতভাগ্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছিলো, তার ইতিহাস কোথাও বর্ণিত হয়নি।

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা 'কালাত আল-যুবায়ের' দুর্গটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন ঠিকই কিন্তু তার ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা তারা করতে পারেনি। তাই মুহাম্মদ এই দুর্গের সম্মুখে পাহারার ব্যবস্থা করেন ও যে ইহুদিরাই তাদের সম্মুখে আসে, তাঁদের সকলকেই তারা খুন করে। তিন দিন যাবত এমত অবস্থা চলে। অতঃপর এই ইহুদিদের মধ্য থেকে ঘাযযাল নামের এক ব্যক্তি মুহাম্মদের কাছে এসে জানান যে, মুহাম্মদ যদি তাকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন, তবে সে মুহাম্মদকে এমনভাবে সাহায্য করবে যে অতি শীঘ্রই মুহাম্মদ এই দুর্গটি দখলের মাধ্যমে আল-নাটার জনপদবাসীদের সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত  করে খায়বারের আল-শিইক নামক স্থানের লোকদের আক্রমণ করার জন্য রওনা হতে পারবে। মুহাম্মদ যখন তার এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তখন সে তাঁকে জানায় যে, এই দুর্গের ভূগর্ভস্থ স্থানে পানি পান করার ব্যবস্থা আছে। সে মুহাম্মদকে তাদের সেই পানির উৎসটি কেটে দেয়ার পরামর্শ দেন, মুহাম্মদ তাঁদের সেই পানির উৎসটি বন্ধ করে দেন।

>> পানির অপর নাম জীবন, কারণ পানি ছাড়া কোনো জীব বাঁচতে পারে না। যখন কোনো জনপদের একমাত্র পানির উৎসটি বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন সেই জনপদের দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সের শিশু-কিশোর, গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ, অতি বৃদ্ধসহ সকল বয়সের মানুষরা পিপাসিত অবস্থায় তিলে তিলে কষ্ট ভোগ করেন। সমস্ত পৃথিবীতে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কের একজন মুসলমানকেও হয়তো পাওয়া যাবে না, যে ‘কারবালা প্রান্তরে’ ইমাম হুসেইনের পরিবার-সদস্যদের পানিবঞ্চিত অবস্থায় প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় তৃষ্ণার্ত ও পিপাসিত রাখার খবর কখনোই শোনেননি। তাঁরা এই ঘটনাকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও করুণ ইতিহাসের একটি হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রতিবছর মহরম মাসে দোয়া-মিলাদ মাহফিল, ইবাদত বন্দেগী, রোজা রাখা, তাজিয়া উৎসব - ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা স্মরণ করেন।

আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় অনুরূপ পানিবঞ্চিত, তৃষ্ণার্ত ও পিপাসিত রেখে যুদ্ধে জয়ী হবার এই অমানবিক কৌশলের গোড়াপত্তনকারী ব্যক্তিটি ছিলেন এই ইসলাম অনুসারীদেরই স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)! কারবালা প্রান্তরের এই নৃশংস ঘটনার সাড়ে ছাপ্পান্ন বছর পূর্বে, ৬২৪ সালের মার্চ মাসে, এই ইমাম হুসেইনেরই নানা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কুরাইশদেরকে প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় অনুরূপ পানিবঞ্চিত, তৃষ্ণার্ত ও পিপাসিত রাখার কৌশলের গোড়াপত্তন করে যুদ্ধ জয় করেছিলেন (বিস্তারিত আলোচনা '"নৃশংস যাত্রার সূচনা [পর্ব ৩২]" পর্বে)। আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই।

'কারবালা প্রান্তর' ইতিহাসের সেই খুনিদের সবাই ছিলেন মুহাম্মদ অনুসারী! তারা কোনো কাফের, মুশরিক, ইহুদি-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন না। নবীর শিক্ষায় শিক্ষিত এই অনুসারীরা যুদ্ধে জয়ী হবার এই অমানবিক মোক্ষম কৌশলটি তাদের সেই নবীরই প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ও তাঁর পরিবার ও সহযাত্রীদের ওপর প্রয়োগ করেছিলেন!

ইসলামের ইতিহাস বড়ই বিচিত্র!

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি।

আমাদের আত্মীয়েরা – ৯৮

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।


ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮১

২৪৯.
- "আমি তোমার জন্য দোয়া করবো" - এই কথার প্রকৃত অর্থ কী?
- "আমি তোমার জন্য বাস্তব কিছু করতে পারছি না বটে, তবু অন্তত কিছুটা কৃতিত্ব আমার প্রাপ্য।"

২৫০.
যাবতীয় ভগবানেশ্বরাল্লাকে সঙ্গে নিয়ে বারে ঢুকলো এক নাস্তিক। বারম্যান তাকে বললো:
- হুম, দেখতে পাচ্ছি, আবার একা একা মদ খেতে এসেছেন।

২৫১.
এক মুছলিম রমণীকে প্রশ্ন করা হলো:
- আপনি কি নিপীড়িত?
- জানি না, আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে।

২৫২.
- বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞান নিরন্তর বিভিন্ন প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর খুঁজে চলে, আর ধর্ম সব প্রশ্নের মনগড়া উত্তর বানিয়ে রেখেছে।

২৫৩.
- দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনায় কোনও কাজ হয় না, এর প্রমাণ কী?
- কাজ হলে পৃথিবীর সব পুরুষের ঈমানদণ্ডের দৈর্ঘ্য হতো অন্তত আট ইঞ্চি।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৫১

২৮ আগস্ট, ২০১৬

জঙ্গিনামা: ধর্মকারীর কুফরী কিতাব

অন্য সব ধর্মের জঙ্গিবাদের তুলনায় ইছলামী জঙ্গিবাদ এতো প্রবল, পরাক্রমশালী ও সর্বগ্রাসী কেন? কেন এখন জঙ্গি শব্দটির শুনলে অবধারিতভাবে মুছলিম জঙ্গির কথাই মাথায় আসে শুধু? মুছলিম জঙ্গিরা এতো সংখ্যাবহুল কেন? সাধারণ মুছলিমদেরকে কোন পদ্ধতিতে এবং নবীর জীবনের কোন কোন বীভৎস ও অমানবিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয় জঙ্গিবাদের পথে আসতে, এবং জঙ্গি হওয়া প্রতিটি মুছলিমের একটি ঈমানী দায়িত্ব কেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে এই ইবুক-এ। বর্তমান ইবুকের অনুবাদক, সম্পাদক ও নির্মাতা নরসুন্দর মানুষ লিখছেন:

"প্রায়শই একটি চিন্তা মাথায় আসে আমাদের: জঙ্গি মনস্তত্ত্বের মূল উৎস কোথায়? রাজনীতি, তেলসম্পদ, ক্ষমতা; নাকি ধর্মেই? ইসলাম কি শান্তির ধর্ম? ইসলাম কি যুদ্ধের ধর্ম? ঘুরপাক খান অনেকেই! সত্যিই কি গোড়ায় গলদ না থাকলে শুধুমাত্র রাজনীতি, তেলসম্পদ আর ক্ষমতার মারপ্যাঁচ দিয়ে একজন যুবককে জঙ্গি তৈরি করা সম্ভব?

আমরা যারা নাস্তিকতার চর্চা করি, তাদের বক্তব্য মানতে চান না কোনো মডারেট মুসলিম; কিন্তু একই বক্তব্য যদি একজন ইসলামিক বিশেষজ্ঞ দেন; এমন একজন, যিনি আধুনিক শিক্ষায় ডক্টরেট ডিগ্রী পর্যন্ত অর্জন করেছেন; তখন তথাকথিত মডারেট মুসলিমদের ভাষ্য কী হতে পারে? একজন মানবতাবাদী মানুষ (সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী) কীভাবে নিতে পারেন ধর্মের অমানবিক বিষয়গুলোকে; তা দেখার ইচ্ছাতেই এই ইবুক-টির জন্ম।

খ্যাতনামা ইছলামবিদ শাইখ আনোয়ার আল আওলাকি’র ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে দেয়া একটি লেকচারের অডিও প্রতিলিপিই হচ্ছে এই ইবুক-টি। আমরা তার লেকচারের বিন্দুবিসর্গ পরিবর্তন করিনি; ঠিক যেভাবে তিনি শুরু এবং শেষ করেছেন, আমরাও ঠিক তেমনটাই রেখেছি; কেবল বিশেষ অংশগুলো হাইলাইট করে দিয়েছি।"

এই লেকচারে উদ্ধৃত ইছলামী ইতিহাসের ঘটনাগুলো ইছলামের আলোকে বিশ্লেষণ করে বক্তা এটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, শুধু জঙ্গিরাই সঠিক ইছলাম মেনে চলে এবং কোরান, হাদিস ও নবীর আদর্শকে সঠিকভাবে মেনে চলতে চাইলে জঙ্গি হওয়া ছাড়া একজন মুছলিমের অন্য কোনও পথ নেই ও থাকতে পারে না।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ৭০৬ কিলোবাইট মাত্র
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): http://goo.gl/dORrpN
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): http://goo.gl/u8Az0a

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব - ১)

লিখেছেন উজান কৌরাগ

ঘর-বাড়ি আর গাছপালা মাথায় সাদা পাগড়ি প’রে স্থির হ’য়ে দাঁড়িয়ে আছে; আলাদা বয়সের দুই-চারজন মানুষ মাথায় সাদা পাগড়ি প’রে হাঁটছে; একটা গাধা আর দুটো রোমশ ভেড়া গায়ে সাদা জামা আর মাথায় সাদা পাগড়ি প’রে সবুজ ঘাস খুঁজছে, কিন্তু ঘাস পাবার উপায় নেই, তাবৎ ঘাস যে মুড়ি দিয়ে আছে সাদা চাদর! আসলে টুপি, জামা কিংবা চাদর নয়; ধবধবে সাদা তুষাররাশি। পাহাড়, পাহাড়ের গাছপালা, পাহাড়ের কোলঘেঁষা ঘরবাড়ি, মানুষ, গাধা আর ভেড়া সকলের ওপরই নিরন্তর বর্ষিত হচ্ছে মিহি দানার সাদা তুষার; আর তুষারাবৃত পথে হাঁটছি আমি, ঠান্ডায় আমার মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে, কিন্তু দারুণ উপভোগ করছি আমি এই শুভ্র-শীতল পরিবেশ। পাহাড় বেয়ে, রাশি রাশি তুষার মাড়িয়ে আমি ক্রমশ ওপর দিকে উঠছি; যতো ওপরে উঠছি ততো ঠান্ডা উপভোগ করছি আমি। চারিদিকে সুনসান নীরবতা, উত্তরে হাওয়ায় ভেসে নিঃশব্দ আদরের মতো ঝ’রে পড়ছে তুষার। তারই মধ্যে দ্রিম-দ্রিম শব্দ! প্রথমে দ্রিম-দ্রিম, তারপর দ্রিম-দ্রিমের সাথে পোঁ-পোঁ, আরো পরে যোগ হলো টুং-টাং। আমি ভাবলাম পাহাড়ি কোনো সম্প্রদায়ের বিশেষ কোনো উৎসব, আর সেই উৎসব উপলক্ষে ওরা যেসব বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে, এ তারই শব্দ। শব্দ ক্রমশ কাছে আসছে, এখন আর টুংটাং শব্দটা নেই, শ্রবণেন্দ্রিয়ে শুধু দ্রিম-দ্রিম আর পোঁ-পোঁ শব্দ; অচৈতন্যকাল পেরিয়ে এখন আমার অধচৈতন্যজুড়ে বিস্তীর্ণ তুষারাবৃত জনপদ। কিন্তু জোড়ালো শব্দের দাপটে অধচৈতন্য থেকেও আমার পতন হলো চৈতন্যে। তুষারাবৃত জনপদ থেকে আমি ধপাস ক’রে গড়িয়ে পড়লাম সমতলে; তাও কোনো সবুজ জনপদে নয়, কংক্রিটের আবর্জনাময় এই ঢাকা শহরে; আমি শুয়ে আছি বাঁ-দিকে কাত হয়ে আমার রোজকার বিছানায় কোলবালিশ জড়িয়ে, পর্দার ফাঁক গলে রাস্তার লাইটের সরু একফালি আলো অন্ধকার তাড়িয়ে রেখার মতো পড়েছে আমার পেটের ওপর দিয়ে! কোথায় সেই মিহি দানার শুভ্র-শীতল তুষার, কোথায় তুষারাবৃত ঘরবাড়ি আর কোথায়ই-বা শরীর কাঁপানো উত্তরে শীতল বাতাস! মশারির মধ্যে তীব্র গরমে আমার গায়ের পাতলা গেঞ্জি ভিজে গেছে, মাথার বাঁ-দিকের চুল ভিজে গেছে, গলা-ঘাড়ে প্যাচপেচে ঘাম, কপালে-মুখে ঘাম, ঘামে বালিশ ভিজে চপচপ করছে; অথচ আমি কিনা তীব্র শীত উপভোগ করতে করতে সাদা তুষাররাশির ভেতর দিয়ে হাঁটছি! স্বপ্নের কী ছিরিছাঁদ!

অবশ্য স্বপ্নের আর কী দোষ, দোষ আমার মনের, আমার অদ্ভুতুড়ে কল্পনাশক্তির! অতিরিক্ত গরম পড়লে মশারির কুঠুরির মধ্যে শোবার পর এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে মনটাকে সরানোর জন্য ঘামতে ঘামতে কল্পনা করতে থাকি যে, আমি আদতেও এই গরম সমতলে নেই, আমি আছি হিমালয়ের পাদদেশের কোনো পাহাড়ি জনপদে, যেখানে অবিরাম তুষার পড়ছে, ঠান্ডা বাতাস হাড় কাঁপাচ্ছে, আর আপনাআপনিই পাওয়া যাচ্ছে মেঘের নিবিড় স্পর্শ! এই অসম্ভব কল্পনা করতে করতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়ি আমি, এই তীব্র গরমে আমার ঘুমানোর এ এক মস্ত মহৌষুধ! গ্রীষ্ম কি ভাদ্রের অসহনীয় গরমের দুপুরেও আমি ইউটিউবে বৃষ্টির শব্দ ছেড়ে দিয়ে অনবরত ঘামতে ঘামতে পড়ি কিংবা কাজকর্ম করি আর ভাবি- আহা, কী বৃষ্টি, কী শীতল বৃষ্টি! মাঝে মাঝে গেয়েও উঠি - ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়’! 

যাইহোক, জেগে জেগে অমন অতি কাল্পনিক স্বপ্ন দেখছিলাম বলেই হয়তো ঘুমের মধ্যেও সেই শান্তিময় টুকরো টুকরো ছবিগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল! 

স্বপ্ন অলীক হলেও শব্দটা কিন্তু বাস্তব সত্য, যেন শান্তিময় সমতল কিংবা পাহাড়ি প্রকৃতিতে হঠাৎ আর্বিভূত হওয়া সাইমুম! বালিশে কান পাতলে শব্দটা আরো তীব্রভাবে আঘাত করছে শ্রবণেন্দ্রিয়ে, বীভৎস দ্রিম-দ্রিম আর পোঁ-পোঁ শব্দের সঙ্গে এখন মানুষের চিৎকার স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। শব্দের উৎস এবং উপলক্ষ এখন আমার কাছে পরিষ্কার। ভীষণ বিরক্তিকর আর আপত্তিকর হলেও শান্তিময় ঘুমের মাঝে এই শব্দের সাইমুম বাধ্য হয়েই মেনে নিতে হয় আমাকে, আমার মতো আরো অনেককে। অন্ধকারে হাতড়ে বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে সুইচ অন ক’রে দেখলাম আড়াইটা বাজে। গরম আর শব্দের তীব্রতায় বিছানায় উঠে বসলাম। ফ্যানের বাতাস অর্ধেকটাই আটকে দেয় মশারি। মশারি খুলে রাখলে গায়ে বেশ বাতাস লাগে, এমন চটচটে ঘাম হয় না শরীরে। কিন্তু সে উপায় নেই; মা-মেয়ে, খালা-ফুফু, দাদী-নানী, নাতনি ইত্যাদি নিয়ে শরীরে হামলে পড়ে লেডি মশার দল। লেডি না ছাই, মাগির দল! মাগির ঝাড় তোদের ডিম নিষেক, বংশগতি ঠিক রাখার জন্য থ্রিওনিন নামক অ্যামাইনো এসিড দরকার যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্তে বিদ্যমান; বেশ ভাল কথা, তা ব’লে তোরা রাতের বেলা জোট পাকিয়ে কামরাতে আসবি, মানুষকে ঘুমোতে দিবিনে! মাগির ঝাড়, তোদের তো সকাল আটটায় ক্লাস ধরতে হয় না, তোরা কি ক’রে বুঝবি, গরমে সারারাত না ঘুমিয়ে সকাল আটটায় ক্লাসে যাওয়ার কষ্ট! ও রাতে গরমে ঘুমোতে পারি না, এ রাতে যাওবা একটু ঘুমাতাম, তারও পোয়া বারো! আজ থেকে শুরু হলো মাঝরাত্তিরে শব্দদূষণ! মশারিটা উচু ক’রে চটজলদি বিছানা থেকে নিচে নামলাম। চটজলদি না নেমে উপায় আছে, মাগির দল পররাষ্ট্রনীতিতে তুখোর, আমেরিকার সম পর্যায়ের, মুহূর্তেই সেঁধিয়ে পড়তে পারে! 

বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। উহ, সাইমুম, সাইমুম! বাপরে বাপ, কী শব্দ! কী বাজায় ওরা? তিনতলার বারান্দা থেকে গলিতে তাকাতেই মূর্তিমান ছয়জন শব্দদৈত্যকে দেখতে পেলাম রাস্তার লাইটের আলোয়; যারা বংশপরম্পরায় মস্তিষ্কের কোষে বহন ক’রে চলেছে সাইমুম, যারা বুকে ধারণ করেছে সাইমুম! ছয়জনের মধ্যে চারজন মুখচেনা; আমাদের সি ব্লকের নয়, ডি ব্লকে কয়েকটা টিনশেড বাড়ি আছে, ওখানেই থাকে ওরা। দু’জনের হাতে দুটো পানির জার, বাঁ-হাতে গলার কাছটায় ধ’রে ডানহাতের চ্যালাকাঠ দিয়ে ধুপধাপ পেটাচ্ছে আর চিৎকার করছে, ‘সেহেরি খাওনের সময় অইচে, উইঠ্যা পড়েন!’ দু’জনের হাতে দুটো ছোট ভুভুজেলা, অনর্গল বাজিয়ে চলেছে। বাকি দু’জনের একজনের হাত খালি, সে শুধু চিৎকার করছে। আর অন্যজনের হাতে একটা সরু লাঠি, সে কেবল লাইটপোস্টের কাছে এসে পরপর কয়েকটা বাড়ি দিচ্ছে; দ্রিম-দ্রিম, পোঁ-পোঁ শব্দের পর এবার টুং-টাং শব্দরহস্যও আমার কাছে পরিষ্কার হলো। ছয়জনের মধ্যে তিনজনের উদোম শরীর, পরনে লুঙ্গি; দু’জনের গায়ে জামা, পরনে হাফপ্যান্ট; একজনের গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি, পরনে হাফপ্যান্ট। ওরা অনর্গল শব্দ আর চিৎকার করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে গলির আরেক মাথার দিকে, তীরের ফলার মতো শব্দ আঘাত হানছে আমার মস্তিষ্কের কোষে কোষে। শব্দের সাইমুমে আমার শ্রবণেন্দ্রিয় আহত, আমি বিরক্ত, ক্ষুব্ধ; আমার দৃষ্টি শরের মতো বিদ্ধ জাগনদার দলের পিঠে, আচমকাই আমার মুখ থেকে উচ্চারিত হলো, ‘অসভ্য বর্বরের দল!’

আস্তিকীয় আজগুবি ধারণা


Bigfoot (also known as Sasquatch) is the name given to a mythological simian. বিস্তারিত এখানে

ধার্মিক - ১

লিখেছেন যুক্তিবাদী পীর

রাত আনুমানিক ১০ টা। এক বড় ভাই রাতের গাড়িতে শহর ত্যাগ করবে, তাকে বিদায় জানাতে বাসষ্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি কোনো এক অজানা কারণে ১০:২০ টার গাড়ি ছাড়বে রাত ১১ টায় । 

ভাইয়া বল্ল:
- চল, চা খেয়ে আসি! 
- চলো যাই। 

হাতে প্রচুর সময় থাকায় ষ্টেশন থেকে একটু দূরেই চলে এলাম। চা-পরোটা খাওয়া শেষে একটা নড়বড়ে বেঞ্চে বসে আমি আর ভাইয়া বিড়ি ফুঁকছিলাম। 

হঠাৎ পেছন দিক থেকে গলঅর আওয়াজ:
- ভাইজান, আল্লার ওয়াস্তে একটু সাহায্য করেন... 

পেছনে ফিরে দেখি, একজন মধ্যবয়স্ক লোক, যার ডান হাতটা আমার দিকে বাড়ানো, লোকটা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটু ঘাবড়ে গেল এবং যথাসম্ভব দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করলো। 

বি. দ্র. ঐ ভিখিরি লোকটি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। কিছুদিন আগেও সে সনাতন ধর্ম অনুযায়ী তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছে এবং সে আমার পরিচিত।

বিবিধ বিশ্বাস

২৬ আগস্ট, ২০১৬

ইসলামি সম্মেলন সংস্থার মহাসচিব: "পরকালের কোনো সত্যতা নেই"

লিখেছেন ক্যাটম্যান

গত ১৯-০৮-২০১৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি খবরের উপ-শিরোনাম খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। খবরটির উপ-শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে— “যুবকদের পরকালের মিথ্যা প্রলোভন যারা দেখাচ্ছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে: ওআইসি মহাসচিব”।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ওআইসি (Organisation of Islamic Cooperation) মহাসচিব ইয়াদ বিন আমিন মাদানি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে বলেন, ‘যুবকদের পরকালের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আত্মত্যাগের এই ভুল পথে কারা পরিচালিত করছে তা আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।’ আর তাই ওআইসি মহাসচিবের সেই বাণী উপজীব্য করে পরের দিন ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতায় উপর্যুক্ত উপ-শিরোনামটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। ওআইসি মহাসচিব প্রদত্ত বাণীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ‘পরকালের মিথ্যা প্রলোভন’ বাক্যাংশটি; অর্থাৎ তিনি তার বাণীতে স্বীকার করেছেন যে, পরকালের কোনো সত্যতা নেই। তাই পরকালের যাবতীয় প্রলোভন মিথ্যা। জনাব মাদানি প্রদত্ত বাণীটি সাধারণের বোধগম্য হওয়া সত্ত্বেও মাথামোটা মুমিন-মুসলমানগণ তা বুঝতে অপারগ। তাই উক্ত বাণীটির অনুকূল অর্থান্তর করার মানসে তারা অযৌক্তিক ব্যাখ্যার অবতারণায় লিপ্ত হয়। তারা বোঝাতে চায়, জনাব মাদানি উক্ত বাণীতে পরকালকে মিথ্যা বলেননি; তিনি পরকালের প্রলোভনকে শুধু মিথ্যা বলেছেন। তাদের এমন দাবি যে ধোপে টিকবে না, জনাব মাদানি প্রদত্ত বাণীটি সামান্য বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে। জনাব মাদানি প্রদত্ত বাণীটি একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লিখলে যা হয়, তা নিম্নরূপ:

মূল বাণী: পরকালের মিথ্যা প্রলোভন।
(ক) পরিবর্তিত বাণী: পরকালের প্রলোভন মিথ্যা।
(খ) পরিবর্তিত বাণী: মিথ্যা পরকালের প্রলোভন।

উপর্যুক্ত পরিবর্তিত বাণী দু'টির প্রথমটির অর্থ হলো - পরকালের যাবতীয় প্রলোভন মিথ্যা। এখানে সত্য প্রলোভন বা মিথ্যা প্রলোভন বলে কোনো আলাদা বিষয় নেই। আর দ্বিতীয় পরিবর্তিত বাণীটির অর্থ হলো- পরকাল মিথ্যা, বিধায় সেই মিথ্যা পরকালের যাবতীয় প্রলোভনও মিথ্যা, অর্থাৎ কোনো প্রলোভন সত্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো বিষয়টি ঈমানি প্রতারণার সামিল।

অপরপক্ষে জনাব মাদানি প্রদত্ত মূল বাণীটির সঠিক অর্থ নিরূপণে মুমিন-মুসলমানদের ব্যাখ্যাও যদি অনুসরণ করি, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে পরকালের মিথ্যা প্রলোভনের বিপরীতে পরকালের সত্য প্রলোভন কী কী? আর মস্তিষ্ক প্রক্ষালক ধর্মীয় গুরুরা নাশকতাকারী মুসলিম জঙ্গীদেরকে কী কী মিথ্যা প্রলোভনে প্রলোভিত করে থাকে?

আল-কুরআন ও আল-হাদিস ঘেঁটে আমরা জানতে পারি যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করতে মুহম্মদের আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিম পুরুষকে জান্নাতে গমন ও তথায় বিষমকামিতা চরিতার্থকরণে উদ্ভিন্নযৌবনা ও আয়তলোচনা হুর, সমকামিতা চরিতার্থকরণে মুক্তা সদৃশ গেলমান অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর বালক, পানাহারের নিমিত্তে দুধ, মধু, মদ, শীতল পানি ও ফলের ন্যায় স্থূল বিষয়ের প্রলোভন দেখিয়েছেন। এবং একই উদ্দেশ্যে মুসলিম নারীদেরকে একজন জান্নাতি কামুক পুরুষের যৌনদাসী হয়ে জান্নাতে প্রবেশের প্রলোভন দেখিয়েছেন, যা নির্বোধ মুমিন-মুসলমানদের নিকট সত্য প্রলোভন বলে বিবেচিত।

বিশ্বজুড়ে ইছলামী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

অনলাইনে নতুন বিনোদনী প্রজাতি - হিন্দু "নাস্তিক"

হিন্দু "নাস্তিক" প্রজাতির গতকালের বাণী:
ইছলামের নবীর এক স্ত্রীর বয়স ছিলো ৬, শুধু এটুকু জেনেই তাকে শিশুকামী বলা যাবে, কিন্তু কৃষ্ণের ১৬১০৮ স্ত্রী ছিলো জেনেও তাকে "লুইচ্চা" বলার আগে অর্বাচীন নাস্তিকদের উচিত হবে হিন্দুধর্ম ও কৃষ্ণ সম্পর্কে গভীর স্টাডি করা। আর হ্যাঁ, হিন্দুরা তার পূজা করলেও কৃষ্ণ চরিত্রটা তো কাল্পনিক।
নিচ্চই! নিচ্চই! আর তাছাড়া এই পূজার সাথে হিন্দুধর্মের কোনও সম্পর্ক থাকলে তো! এটা স্রেফ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ! 

বছর দুয়েক আগে কৃষ্ণ সম্পর্কে ধর্মকারীতে প্রকাশিত হয়েছিল একটি মজাদার পোস্ট:

কৃষ্ণ - ১৭৭১৮৮ সন্তানের পিতা!

লিখেছেন ভীতুর ডিম

বিভিন্ন পুরাণ ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণ ১২৫ বছর বেঁচে ছিলেন। এবং সেই মহাভারত, পুরাণ অনুযায়ী কৃষ্ণের স্ত্রী ছিলেন ১৬১০৮ জন মাত্র। যাদের প্রত্যেকের গর্ভে ১০ টি করে পুত্র আর ১ টি করে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। 

কিন্তু দুটো জিনিস আমার কাছে স্ববিরোধী লাগে। কী রকম? 

ধরা গেল, কৃষ্ণ ১৫ বছর বয়স থেকে সন্তানের পিতা হতে শুরু করে। এবং এই ধারা বজায় রাখে ১০০ বছর পর্যন্ত - যা কিনা অসম্ভব বলেই মনে হয়। তবু নাহয় মেনে নিলাম। তাহলে দাঁড়াচ্ছে, সন্তানজন্মদানপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার জন্য কৃষ্ণ সময় পেয়েছিল মোট ৮৫ বছর। 

এবার একটু অঙ্ক কষা যাক। 

১৬১০৮ জন স্ত্রীর যদি ১১ জন করে সন্তান হয়, তাহলে মোট সন্তানের সংখ্যা হল ১৬১০৮ x ১১ = ১৭৭১৮৮ জন।

এবার ধরা যাক, তিনি দিনে পাঁচ বার করে মিলন করছেন এবং প্রতিটি মিলনের ফলেই একটি করে সন্তান জন্মেছে - যা কিনা লজিক্যালি সম্ভব নয়, তবু নাহয় ধরে নিলাম। তার মানে তাকে সঙ্গম করতে হয়েছে ১৭৭১৮৮ / ৫ = ৩৫৪৩৭.৬ দিন। যা কিনা বছরের হিসেবে দাঁড়ায় ৩৫৪৩৭.৬ / ৩৬৫ = ৯৭ বছর।

অথচ তিনি সময় পেয়েছিলেন ৮৫ বছর। তাহলে কী করে সম্ভব হল? তাহলে কি কৃষ্ণের ১২৫ বছর বাঁচাটা গল্প নয়? তাহলে কি ১৬১০৮ জন স্ত্রীর ব্যাপারটা মিথ্যে নয়? তাহলে কি ১১ টি করে প্রত্যেক স্ত্রীর সন্তান হওয়াটা ভাঁওতা নয়? 

একটু ভাবুন... হরে কৃষ্ণ... হরে কৃষ্ণ... হেহহেহেহেহ...

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব অযুত আবাল

এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে বিজ্ঞান ও উন্নত টেকনোলজির সমস্ত সুযোগসুবিধা ও সেবা ব্যবহার করেও যারা বিশ্বাস করে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসলে আল্যার ইঙ্গিত (শাস্তি, শিক্ষা, পরীক্ষা ইত্যাদি), তাদেরকে "আবাল" আখ্যা দিলে প্রকৃত আবালরা অপমানিত বোধ করতে পারে। 

২৪ আগস্টের ভূমিকম্পকে মূঢ়মস্তিষ্ক মমিনমহল মনে করেছে নামাজের অ্যালার্ম। হায়, আবালআকীর্ণ এ বঙ্গদেশ। তো সেদিন ফেসবুকে জড়বুদ্ধিসম্পন্ন বেকুবের দল এ বিষয়ে প্রসব করেছে অসংখ্য স্ট্যাটাস, যেগুলো থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছেন Stezo Erich এবং লিখেছেন:
হে আল্যা, তোমার মুমিন বান্দাদের জন্য প্রতিদিন নামাজের আগে একটা করে অ্যালার্ম দিয়া দিয়ো।
সর্বমোট ১১টি ছবি। নিচের ছোট ছোট ছবিগুলোর ওপরে একের পর এক ক্লিক করে দেখতে হবে।

২৫ আগস্ট, ২০১৬

ধর্মের চিড়িয়াখানায় - ১০

লিখেছেন ধর্মহীন জিরাফ

৪৬.
আমরা গর্বিত মুসলিম!
আমরা দৈনন্দিন জীবনে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আবিষ্কৃত জিনিস থেকে সুবিধা ভোগ করি,আবার তাদেরই ধ্বংস কামনা করি।

৪৭.
ঈশ্বর কোনো খারাপ কাজের দায় না নিলেও সমস্ত ভালো কাজের কৃতিত্ব দাবি করতে একটুও লজ্জাবোধ করে না।
হে ঈশ্বর, তুমি এতো নির্লজ্জ কেন? এত অসৎ কেন তুমি?

৪৮.
শফি হুজুররা ওয়াজে-নামাজে বলে বেড়ায়, ইহকাল কিছুই না, পরকালই সব। ইহকাল যাত্রাপথের বিরতি মাত্র, এটাকে গুরুত্ব দেয়া যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি...
নারীনীতি, শিক্ষানীতি, ভাস্কর্য এগুলো তো সব ইহাকালীন। তাহলে এইগুলো নিয়ে এরা এত মাতামাতি করে কিল্লাই?

৪৯.
ধর্মে কুসংস্কারাচ্ছন্ন অশিক্ষিত মূর্খদের প্রাধান্য বরাবরই বেশি। সেটা ধর্মপ্রবর্তক ও ধর্মগুরু থেকে সাধারণ কোটি কোটি প্রকৃত ধার্মিক -সকলের বেলায়ই সত্যি।

৫০.
"তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশ্রিত করো না আর জেনেশুনে সত্য কে গোপন করো না।"  (সূরা বাকারা, আয়াত ৪২)
কোরানের ওপরোক্ত আয়াতটা সবচেয়ে বেশি বার ধর্ষিত হয়েছে বাঁশের কেল্লা'র হাতে।

মানবশিরশ্ছেদের প্রথম পাঠ

শয়তানের প্রলোভন

২৪ আগস্ট, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ৩৯

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮

Hani Kafir: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ভাবতেই হাসি পায় যে, আল্যা আস্ত একটা সুরা জুড়ে শুধু আবু লাহাবকে অভিশাপ দিয়েছে।

Lusi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি স্টুপিড হতে চাই না।

Alexander Kerensky: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ প্যারিস, মার্সেই, ব্রাসেলস এবং কোপেনহেগেনের হত্যাযজ্ঞ ও ইহুদিদের ওপর আক্রমণের সঙ্গে ইছলামের সম্পর্ক আছে।

Atheist Genie: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ "জান্নাত" বলে কিছু নেই। সৎ মানুষ হতে গেলে বেহেশতের প্রতিশ্রুতির (যেমন, অফুরান খাদ্য ও যৌনদাসী) প্রয়োজন পড়ে না।

Sarah imanuel: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এক আবাল ঈশ্বরের চেয়ে খারাপ হতে পারে শুধু আরেক আবাল ঈশ্বর, যে মানুষে-মানুষে শত্রুতার উস্কানি দেয়।

Jane Gandhi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মানুষের জীবনের মূল্য মুহাম্মদ যতোটা দিতো, তারচেয়ে বেশি দিই আমি।

Asif Raheem: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ দাসপ্রথা ইছলামে অনুমোদিত।

Aaqib.Hossain: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোরানে উল্লেখিত আল্যার কর্মকাণ্ডের নৈতিকতা বিষয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন করার কারণে আমি মৃত্যুহুমকি পাই।

Freethoughts: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি মানবতার পথে এসে বুঝেছি, নাস্তিক, ইহুদি ও সমকামীরাও মানুষ এবং তাদের হত্যা করা উচিত নয়।

Omar Makram: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মিসরের ৮৬ শতাংশ মুছলিম ইছলামত্যাগকারী ব্যক্তিকে হত্যা করা সমর্থন করে, এটা "সাংস্কৃতিক" ব্যাপার হতে পারে না।

বড়োদের স্যান্টা

উপাসনালয় বনাম পতিতালয়

লিখেছেন মৌলবাদী Big জ্ঞানী

(পতিতালয় ভালো স্থান নাকি খারাপ স্থান, প্রয়োজনীয় নাকি অপ্রয়োজনীয়, সেই বিতর্ক এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তবে পতিতালয় যে উপাসনালয়ের চেয়ে উত্তম, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সে-কথাই প্রমাণ করা হয়েছে এই লেখায়।)

১. 
মন্দিরে মুসলিমদের প্ৰবেশ নিষেধ, মসজিদে হিন্দুদের প্ৰবেশ নিষেধ; আমার মনে হয়, এর থেকে পতিতালয়ই ভালো, কারও প্রবেশেই নিষেধ নেই, সে হিন্দু বা মুসলিম যা-ই হোক না কেন! 
(অবশ্যই ১৮ বছরের পরবর্তী বয়সীদের) 

২. 
গীতাপাঠ করে, মন্দিরে পুজো দিয়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে, নামাজ আদায় করে কার কী লাভ হয়, জানি না, তবে পতিতালয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ "শক্তি" খরচ করে এলে শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকে। 
(কারণ যৌনতা আমাদের জীবনে আর পাঁচটি অভ্যাসের মতই সুস্থ একটি অভ্যাস) 

৩. 
মন্দিরের প্রণামী বাক্সে বা পীরের মাজারে লোকে টাকাপয়সা দান করে কী পায়, জানি না, তবে পতিতালয়ে যৌনকর্মীদের চাহিদার বেশি বখশিস দিলে তাঁরা খুশিও হন, এবং আরও বেশি সময় ধরে ভালো "পরিসেবা" দিয়ে customer কে খুশিও করে রাখেন। 
(একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে খুশি করতে পারা একটি মহৎ গুণ)

৪. 
ঈশ্বর বা আল্লাহ সব মানুষকে সমান দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখেন কি না, আমার জানা নেই, তবে পতিতারা সকল "খদ্দের"-কে সমান চোখে দেখেন। 
(সাক্ষাৎ দেবী যদি বলতে হয়, তো একজন যৌনকর্মীকেই বলবো)

৫. 
মানুষ কাল্পনিক ঈশ্বর বা আল্লাহ'কে ভালোবেসে (?) সমাজের কতটা উপকারে কাজে আসে, তা জানা নেই, তবে একজন যৌনকর্মীকে ভালোবেসে যদি কেউ বিয়ে করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনে তাঁর অন্ধকার জগৎ থেকে, তবে একজন নারী তার প্রকৃত মর্যাদা পায়। তাঁকে আর কারও কাছে "শরীর বেচতে" হয় না। 
(ঈশ্বরপ্ৰেমীরা কি আদৌ মানুষকে ভালোবাসতে জানেন?)

চেয়ে চেয়ে দেখি আর ভাবি

২৩ আগস্ট, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ২০

লিখেছেন পুতুল হক

৭৬.
আল্যা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কারো পিতা নন। তবে কি তিনি মাতা?

৭৭.
ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। পুরো দেশটাই এখন মসজিদে গিজগিজ করছে। এমন একটা দেশে যে ইসলামি সন্ত্রাস ছড়াবে, সে কথা বলাটাই বাহুল্য। আমাদের ঘরে ঘরে এখন মোল্লা। এদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এলিট ক্লাস মোল্লা। তারা সবাই ইসলামের পালক, রক্ষক এবং সেবক। এদের ইসলামপ্রীতি দেখে সন্দেহ হয়, স্বয়ং নবী মোহাম্মদেরও এতোটা ইসলাম-প্রেম ছিল কি না! সদা সর্বদা এরা ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে। দামি গাড়িতে চড়ে দামি ফ্ল্যাটে থেকে মুখে ফেনা তুলে "এ জীবন কিছু নয়, আখিরাতই আসল" বলে। এরাই আজকাল নির্ধারণ করে, কে বেহেশত যাবে, আর কে নরক পাবে। আল্লাহর শেষ বিচারের কাজ এরা অনেকটাই এগিয়ে দিচ্ছে। কিছুদিন পরে হয়তো এরা গোরস্তানে বেহেস্ত যাবার ছাড়পত্র বেচবে। ভাবছি সময় থাকতে এদের কারো কাছ থেকে একটা ছাড়পত্র সংগ্রহ করে রাখবো।

৭৮.
আবহাওয়াবিদ পূর্বাভাসের মাধ্যমে মিকাঈলের কাজকারবার আগেই জানিয়ে দেয়। হায় মিকাঈল, এও দেখে যেতে হল জীবনে! তোমার আল্যা কি কিছুই করবে না বিজ্ঞানের?

৭৯.
কামরুলের প্যান্টের পকেটে এক গাছা সোনার হার। বাড়ি ফিরে হাতমুখ ধুয়েছে, খেয়েছে। হারের অস্তিত্ব সারাক্ষণ অনুভব করছে। পকেট থেকে বের করে দেখার সাহস হচ্ছে না।

কামরুল বাড়ি থেকে তিন মেইল দূরের একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ে। অনির্বাণও তার সাথে একই ক্লাসে পড়ে। তারা ছোটবেলার বন্ধু। কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, অনির্বাণরা ভারত চলে যাবে। ওদের জায়গা-জমি বেশিরভাগ বেদখল হয়ে গেছে, আর কিছু পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছে জয়ন্ত কাকা। আজকে কলেজ থেকে ফেরার পথে দেখে, অনির্বাণদের বাড়ি দিনে-দুপুরে লুট হচ্ছে। কামরুলের খুব খারাপ লাগে। সে দৌড়ে যায় বাড়ির ভেতর। কাকিমাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা পালিয়ে গেছে।

চেনা-অচেনা অনেকগুলো মুখের মাঝে কামরুলের উদ্ভ্রান্ত মুখটি দেখা যায় কাকিমার শোবার ঘরে। নাড়ু কিংবা বরইয়ের আচার খেতে কামরুল কতবার যে এসেছে এই ঘরে! যে যা পারছে নিয়ে নিচ্ছে। কে যেন বলল, "যা পারো নিয়া নাও। হিন্দুদের মালে মুসলমানের হক আছে। গুনাহ্‌ নাই, নিয়া নাও।" ভাঙা আলমারির সামনে কাপড়চোপড়ের গাদার মধ্যে কাকিমার হারটি ছিল। কামরুল সন্তর্পণে সেটি নিয়ে নেয়।

পকেটের হারটি তার বুকে খোঁচা দিচ্ছে বারবার। তার একবার মনে হচ্ছে, সিঁদুর-জড়ানো হার নেয়া তাঁর অন্যায় হয়েছে, আবার মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ যাকে অন্যায় বলেনি, সে কেন তবে অন্যায় মনে করবে? কামরুল খুব দোটানার মধ্যে পড়ে যায়।

৮০.
আমি যদি বলি, আল্যা নেই, তবে রাগ করার কথা আল্যার। আল্যা নাহয় রাগ করে আমায় বেহেশত দিল না। কিন্তু কোনো কোনো মানুষের এতো জ্বলে কেন?

দোয়া সরবরাহ হ্রাস

আল্লাহ কি বিজ্ঞানের কাছে পরাজিত? - ১

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে কুরানের অনেক বাণী মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার ধর্মের অস্তিত্বের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিজ্ঞানের কল্যাণেই মানুষ ধর্ম নামক ভাঁওতাবাজি থেকে মুক্তি পাবে। তো চলুন, বন্ধুরা, আল্লাহর বাণীকে মিথ্যা প্রমাণিত করা কিছু চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা জেনে নিই।

১. "তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।" [কুরান ৪২:৪৯]

>> বিজ্ঞানীরা এখন বিভিন্ন জেন্ডার সিলেকশন মেথড, যেমন: sperm-shorting, micro-short, PGD, LLC-এর মাধ্যমে ইচ্ছেমত পুত্র- বা কন্যাসন্তান জন্ম দিতে পারে! PGD মেথড এ সফলতার হার ৯৯.৯৯%।

২. ''অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।" [কুরান ৪২:৫০]

>> আল্লাহ এক সুইডিশ মহিলাকে বন্ধ্যা করে দিয়েছিল, কিন্তু বিজ্ঞানীরা তার জরায়ু প্রতিস্থাপন করেন এবং মহিলাটি পরে আল্লাহকে মিথ্যা প্রমাণিত করে সন্তানও জন্ম দেন! বিজ্ঞানীদের কাছে আল্লাহ পরাজিত হন!

৩. "বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।" [কুরান ৬৭:২৩]

>> বিজ্ঞানীরা বহু জন্মান্ধকেই দৃষ্টি দিয়েছেন, যাদেরকে আল্লাহ দৃষ্টি দিতে পারেনি! বিজ্ঞানীরা এমন এক শিশুরও অপারেশন করতে যাচ্ছেন, যাকে আল্লাহ চোখই দেননি! আল্লাহ থেকে বিজ্ঞানীরা অধিক ক্ষমতাবান!

৪. "তিনি মানবকে এক ফোটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। [কুরান ১৬:৪] "অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃষ্ট হয়েছে। সে সৃষ্ট হয়েছে সবেগে স্খলিত তরল থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে [কুরান ৮৬:৫-৭]

>> বিজ্ঞানীরা বীর্য ছাড়াই মানুষ সৃষ্টি করে দেখিয়েছেন। উদাহরণ - Human cloning. ক্লোন-মানব তৈরিতে বীর্য তো দূরের কথা, কোনো পুরুষেরই দরকার নেই! একটি ডিম্বাণুর DNA-কে স্পার্মের বদলে দেহকোষ থেকে সংগৃহীত DNA দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে মানুষ জন্ম দেয়া সম্ভব হয়েছে।

৫. "তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নিদর্শন রয়েছে। [কুরান ৩১:৩১] তিনি ইচ্ছা করলে বাতাসকে থামিয়ে দেন। তখন জাহাজসমূহ সমুদ্রপৃষ্ঠে নিশ্চল হয়ে পড়ে যেন পাহাড়। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সবরকারী, কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে [কুরান ৪২:৩৩]

>> আল্লাহ সেই আদিম যুগের পালতোলা জাহাজ নিয়া পইড়া আছেন! বিজ্ঞানীরা বহু আগেই ইঞ্জিনের জাহাজ বানাই ফেলসে! উনি বাতাস থামায় দিলেও জাহাজ চলবে!

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৬২

২২ আগস্ট, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ০৯)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮

{প্রশ্ন জাগে; মুহাম্মদ নবী না কবি ছিলেন? উত্তর: দুটোই; তবে ব্যাখ্যা করতে হবে এভাবে, যেহেতু মুহাম্মদ একটি নতুন ধর্মমত প্রচারে সফল হয়েছেন, তাই তিনি ধর্মপ্রচারক নবী; আর নিজের সচেতন মনের অজান্তে আরবি কবিতার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি; তাই কবি। কোনো অনুবাদেই কবিতার সূর বা ছন্দমিল তুলে ধরা যায় না; তাই কোরআনের সকল অনুবাদ রসহীন গদ্যে পরিণত হতে বাধ্য। মক্কাতে প্রকাশিত বেশিরভাগ সূরায় কবিতার ছন্দমিল/অন্ত্যমিল দেখতে পাওয়া যায়, কিন্ত মদিনার প্রকাশিত সূরাগুলোতে ছন্দমিল/অন্ত্যমিলের প্রভাব কম; এর কারণ খুঁজতে মুহাম্মদের জীবন পর্যবেক্ষণ জরুরি।

মনে রাখতে হবে, প্রতিটি সূরা প্রকাশের জন্য মুহাম্মদের মনোজগতের বদল ও বিকাশ বড় ভূমিকা নিয়েছে, সেই সাথে বিনা কষ্টে (কবিতা প্রসবের কষ্ট, কবি মাত্রই জানেন) মুহাম্মদ এক লাইনও সূরা প্রকাশ করতে পারেননি। বর্তমানে প্রাপ্ত কোরআনের ৬২৩৬ টি লাইন কতটি খণ্ডে নবী মুহাম্মদ প্রকাশ করেছেন, তার ধারাবাহিক বন্টনই এই সিরিজটি লেখার কারণ, এর জন্য যাবতীয় শানেনূযুল আর অবতরণের হিসাবের ১৪০০ বছরের সংস্কারকে নবী মনোজগতের পরিপ্রেক্ষিতে ভেঙে ফেলতে হয়েছে। এবং আরও মজার তথ্য হচ্ছে মুহাম্মদ প্রতি মাসে গড়ে ২ টির বেশি সূরার অংশ প্রকাশ করতে সমর্থ ছিলেন না, এটি একটি লক্ষণীয় বিষয় বটে; ২৩ বছরের বাকিটা সময় পূর্ববর্তী প্রকাশের বহুপঠনের কারনেই কোরআনের সকল সূরা স্থায়ীত্ব লাভ করতে পেরেছিলো। মুহাম্মদের প্রতিটি প্রকাশ, নিজস্ব মনোজগতের শীতলীকরন প্রক্রিয়া ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়; আর মক্কার ১৩ বছর সময়কালে এসব প্রকাশের বেশিরভাগ কখনই কুরাইশদের কান পযন্ত পৌঁছায়নি। উদাহরণ: নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা সমাজ থেকে যেসব প্রশ্ন নিয়ে ঘরে ফেরেন; তার সমাধানমূলক উত্তর কখনই প্রশ্নকারীদের কাছে পৌঁছায় না। মনে করুন, আপনি নিয়মিত প্রচার করছেন - ইসলামে জঙ্গিবাদের স্থান নেই, জঙ্গিরা ভুল পথে আছে; তখন এই প্রশ্ন নিয়ে আপনার পাশের বাড়ির নবদীক্ষিত জঙ্গি ছেলেটি যখন তার প্রধানের কাছে যায়; এবং আপনার প্রশ্নের সত্যতা নিয়ে যে উত্তর পায়; তা কখনই আপনার কাছে পৌঁছাবে না। মক্কায় মুহাম্মদের সকল প্রকাশের ক্ষেত্রে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে ১৩ বছর; শুধুমাত্র সাহাবীরাই ছিল এসব প্রকাশের মুল শ্রোতা।

আজকের পর্বের তিনটি সূরার অন্ত্যমিল/ছন্দমিল দিয়ে দিলাম; যারা আরবি পড়তে পারেন, আগের প্রকাশিত অংশগুলোর অন্ত্যমিল/ছন্দমিল খুঁজে দেখে নিতে পারেন। প্রশ্ন রইল, এগুলো ছন্দবদ্ধ কবিতা হবার যোগ্যতা রাখে কি না?

সূরা আল ফালাক:
অন্ত্যমিল/ছন্দমিল (ক, ক, ব, দ, দ)

সূরা আল ইনশিকাক:
অন্ত্যমিল/ছন্দমিল (ত, ত, ত, ত, ত, হ, হ, রা, রা, হ, রা, রা, রা, রা, রা, ক, ক, ক, ক, ন, ন, ন, ন, ম, ন)

সূরা আল বালাদ:
অন্ত্যমিল/ছন্দমিল (দ, দ, দ, দ, দ, দ, দ, ন, ন, ন, হ, হ, হ, হ, হ, হ, হ, হ, হ, হ)

মুহাম্মদ সাফা থেকে ফেরার পর থেকেই কিছুটা মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলেন; মেয়ে দুটোর বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় হতাশাও বাসা বাধে মনের ভেতর; তা থেকে উত্তরণের প্রকাশ সূরা আল ফালাক; সাফার চূড়া থেকে তার ইসলাম প্রচার প্রচেষ্টার সফলতা না আসার বেদনার প্রকাশ সূরা আল ইনশিকাক; মুহাম্মদের প্রতি প্রথম বিরোধিতা উঠে আসে কবিতাপ্রেমী মক্কার উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকে, তারই বিরোধী প্রকাশ সূরা আল বালাদ। সূরা লাহাব থেকে এই তিনটি প্রকাশের দুরত্ব তিন মাসের বেশি হবার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ৯ম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর-এর দ্বিতীয় তিন অংশঅনুবাদের ভাষা ৫০ টির বেশি বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}