৪ জুলাই, ২০১৫

প্রমীলা তালিম পার্টি

লিখেছেন পুতুল হক

আজকাল ধনী মডারেট মুসলিম পরিবারের গৃহিণীরা “তালিম পার্টি” নামে এক নতুন ধরণের পার্টির প্রচলন করেছেন। সপ্তাহের বিভিন্ন দিন ঘুরে-ফিরে এরা এক-একজনের বাড়িতে যায়। টক-ঝাল-মিষ্টি নানান প্রকরণের খাবারদাবার চলে। সাথে সাথে চলে ইসলামী আলাপ। তখন সেই পরিবারের গৃহপরিচারিকাদের বারোটা বাজে। বেগম সাহেবরা সারাদিন বাজার আর রান্নাবান্নার তদারকিতে ঘরবাড়ি উত্তপ্ত করে ফেলেন। সবাই ধর্মপালন শেষে চলে গেলে এসি ছেড়ে রেস্ট নেন।

আমার আগ্রহ ছিল, এই বিলাসী তালিম পার্টিতে কী বিষয়ে আলাপ হয়। কথা শুনে যা মনে হল, পোশাকের নতুন ইসলামী স্টাইল, আরবের রন্ধনপ্রণালী শেয়ার, হজ্জ-উমরাহ্‌ করতে গিয়ে শপিং-এর ফিরিস্তি ইত্যাদি পার্টি আলোচনার মূল বিষয়।

এদের প্রায় সবার ছেলেমেয়ে পশ্চিমে লেখাপড়া করে। স্বামীগুলো হয় ব্যবসায়ী নয়তো ঘুষখোর আমলা। কিটেন পার্টি, সোশ্যালওয়ার্ক পার্টি বা এনজিও পার্টির মত আর একটি নতুন পার্টি এই তালিম পার্টি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ে পরকীয়া রোগে আক্রান্ত। এরা কোরআন-হাদিসের অর্থ জানে না, জানতে চায়ও না। নিরাকার আল্লাহকে নিজেদের পছন্দমত একটি আকার দিয়ে তারা পার্টি করে।

এই সমস্ত মডারেট মুসলমান এতিমখানা এবং মাদ্রাসাগুলোতে অকাতরে দান করে। গরীব পরিবারের সন্তান মাদ্রাসায় তাদের দয়ায় পড়বে, ভিক্ষুক হবে আর পরকালের জন্য তারা সওয়াব কামাবে। হুমায়ুন আজাদকে এরা কাফের বলে। রাজিব, অভিজিৎ, বাবু আর অনন্তের হত্যাকে বৈধ মনে করে। আমেরিকাকে ইসলামের প্রধান শত্রু মনে করলেও এদের লক্ষ্য থাকে - ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় বা পশ্চিমা কোনো দেশে সেটেলড হোক। ইসলামকে এরা ততটুকু চায়, যতটুকু বা যেভাবে ইসলাম তাঁদের কাজে লাগতে পারে। মৌলবাদী কট্টোর মুসলমানকে তবু একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা যায়, কিন্তু এই বহুরূপী মডারেটদের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। এরা এদের নিরাকার আল্লাহ্‌র মত ক্ষণে ক্ষণে নিজেদের পাল্টায়।

সমাজ পরিবর্তনে এই তালিম পার্টিওয়ালাদের কোও ভূমিকা থাকে না, কিন্তু পরিবর্তনের সুফল এরাই সবার আগে ভোগ করে। লোভী আল্লাহকে অর্থের বিনিময়ে নিজেদের দাস বানায়। একটা সময় পর্যন্ত কবিতা, উপন্যাস বা রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিল তারা, কিন্তু এখন রবীন্দ্রনাথকে হিন্দু বলে ত্যাজ্য করে। মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে বালির মধ্যে মুখ গুঁজে থাকে, কিন্তু কোথাও বিধর্মীদের হাতে মুসলমান মারা গেলে ইসলাম প্রেমে আরেকটি পার্টির আয়োজন করে। সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের কুকর্মের জন্য ইহুদি-নাসারাদের দায়ী করে। হাঁচি-কাশি হলে দিল্লীর ইন্দ্রপুরীতে চলে যায় চেকআপের জন্য, বছরে অন্তত দু'বার নর্থ-সাউথ ইন্ডিয়া ঘুরে শাড়ি কিনে আনে তারপর ঘরে ফিরে ইন্ডিয়ার পিন্ডি চটকায়। 

দেশের মানুষ ধর্মান্ধ থেকে যাক, পিছিয়ে পড়ুক, এরা সেটাই চায়। নিজেরা অর্থের জোরে পশ্চিম থেকে আধুনিক বিলাস কিনে আনে। দেশের ভেতর বা বাইরে এরা মিউজিয়াম বা আর্ট গ্যালারিতে যায় না। এদের ইতিহাস শুরু হয় নিজেদের মুসলিম জাহির করার সময় থেকে। পৃথিবীর ইতিহাস শুরু হয় নবী মোহাম্মদের ইসলাম প্রচারের সময় থেকে। ইসলামী জঙ্গিরা মসজিদ ভাঙলে এরা নিন্দা না জানিয়ে চুপ করে থাকে বা ‘ইহা সহি ইসলাম নয়’ বলে চিঁহিঁ রব তোলে, কিন্তু মন্দির ভাঙলে নিজেদের উল্লাস চেপে রাখতে পারে না। 

ইসলামী বাংলাদেশের সব চাইতে বড় চানেওয়ালা এই সমস্ত নিরাকার মডারেট মুসলমান।

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় - ১০

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




৩ জুলাই, ২০১৫

ফটো-ভিডিও ও নবী-রসুল

ফটোগ্রাফি আর ভিডিও আবিষ্কার হবার পরে নবী-রসুলরা পৃথিবীতে এলে কত্তো ভালোই না হতো! তাদের অস্তিত্ব ও তাদের নামে চালিয়ে দেয়া তথাকথিত অলৌকিক ঘটনাগুলোর নিশ্চিত প্রমাণ থাকতো তাহলে। ফলে নাস্তিকদের সঙ্গে তর্কে নেমে বিচিত্র আকার ও বর্ণের তাৎপর্যহীন ত্যানা প্যাঁচানোর লজ্জাজনক প্রক্রিয়া প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা থাকতো না বেচারা ধর্মবিশ্বাসীদের।

ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু 

এবং তিনদিন পরে পুনরুত্থান

খন্দক যুদ্ধ - ৭: সাদ বিন মুয়াদ গুরুতর আহত!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৮৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতান্ন

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২

আদি উৎসে ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লেখনীতে খন্দক যুদ্ধে আলী ইবনে আবু তালিবের নৃশংসতা ও তার পিতার বন্ধু আমর বিন আবদু উদ্দ বিন আবু কায়েস নামের এক কুরাইশের সংবেদনশীলতার যে-উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

কুরানে বর্ণিত অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শত শত হিংস্র, অমানবিক ও নৃশংস নির্দেশ এবং সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সংঘটিত সন্ত্রাস, খুন, জখম, নৃশংসতা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড "শুধু মাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য ও এটিই ছিল তৎকালীন সমাজে প্রচলিত রীতি" দাবিটি কেন অসত্য, তার আলোচনাও আগের পর্বে করা হয়েছে।

খন্দক যুদ্ধের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, এই যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াদ (মুয়াধ) নামের মুহাম্মদের এক নিবেদিতপ্রাণ অনুসারী তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৮২) পর:

বানু হারিথা গোত্রের আবু লায়লা আবদুল্লাহ বিন সাহল বিন আবদুল-রাহমান বিন সাহল আল-আনসারী আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] বলেছেন:

খন্দক যুদ্ধের দিন আয়েশা, বানু হারিথা গোত্রের দুর্গে অবস্থান করছিলেন। এই দুর্গটি ছিল মদিনার শক্তিশালী দুর্গের একটি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাদ বিন মুয়াদের মা।

‘আয়েশা বলেন, "আমাদের ওপর বোরখা আরোপ [৩৩:৫৩] হওয়ার পূর্বে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। [3]। সাদ আমাদের পাশ দিয়ে এত ছোট এক বর্ম-আবরণ পরিধান করে যাচ্ছিল যে, তার কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো হাতাটাই ছিল উন্মুক্ত। সে এক বর্শা হাতে নিয়ে তাড়াহুড়া করে যাচ্ছিল ও বলছিল, “অপেক্ষা কর! হামাল দেখুক যুদ্ধ (এটি একটি প্রবাদ বাক্য); মোক্ষম সময়ে মৃত্যুর পরোয়া করে কে?”

তার মা বলে, “এই ছেলে, তাড়াতাড়ি কর্। আল্লাহর কসম, তুই দেরি করে ফেলেছিস।”

আমি তাকে বলি, "আমার আশা ছিল এই যে, সাদের বর্ম-আবরণটি হবে এর চেয়ে আরও বেশি লম্বা", কারণ আমি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম তার শরীরের ঐ স্থানটির ব্যাপারে, যেখানে সে তীরবিদ্ধ হয়েছিল। সাদ তীরবিদ্ধ হয়েছিল বাহুতে ও তীরটি তার ধমনি (Vein) ছিন্ন করেছিল।

যে-লোকটি তাকে তীরবিদ্ধ করেছিল, সে ছিল বানু আমির বিন লুয়াভি গোত্রের হিববান বিন কায়েস বিন আল-আরিকা, যা আসিম বিন ‌উমর বিন কাতাদা আমাকে জানিয়েছেন।

যখন সে তাকে তীর-বিদ্ধ করে, তখন বলে: "এটা হলো আমার, আল-আরিকার পুত্রের।"

সাদ তাকে বলে, "জাহান্নামে আল্লাহ তোর মুখ করুক ঘর্মাক্ত। হে মাবুদ! যদি কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ প্রলম্বিত হয়, তবে সে সময় পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রেখো। কারণ যে-লোকেরা তোমার নবীকে করেছে অপমান, বলেছে মিথ্যুক ও করেছে বিতাড়িত; অন্য যে কোনো লোকের চেয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমার বেশি পছন্দ। হে মাবুদ, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধ নির্ধারণ করেছ, আমাকে শহীদে পরিণত করো এবং বনি কুরাইজার ওপর আমার আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করার পূর্ব পর্যন্ত আমাকে মৃত্যুবরণ করতে দিয়ো না।"'

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

(Abu Layla 'Abdullah b. Sahl b. 'Abdu'l -Rahman b. Sahl al-Ansari, brother of B.

Haritha, told me that 'A'isha was in the fort of B. Haritha on that day. It was one of the strongest forts of Medina. The mother of Sa'd b. Mu'adh was with her.

'A'isha said: 'This was before the veil had been imposed upon us. Sa'd went by wearing a coat of mail so short that the whole of his forearm was exposed. He hurried along carrying a lance, saying the while, Wait a little! Let Hamal (The saying is proverbial) see the fight. What matters death when the time is right?

His mother said, "Hurry up, my boy, for by God you are late".

I said to her, "I wish that Sa'd's coat of mail were longer than it is", for I was afraid for him where the arrow actually hit him. Sa'd was shot by an arrow which severed the vein of his arm.

The man who shot him, according to what 'Asim b. 'Umar b. Qatada told me, was Hibban b. Qays b. al-'Ariqa, (She was Khadija's grandmother according to some) one of B. 'Amir b. Lu'ayy. When he hit him he said, "Take that from me, the son of al- 'Ariqa."

Sa'd said to him, "May God make your face sweat (arraq) in hell. O God, if the war with Quraysh is to be prolonged spare me for it, for there is no people whom I want to fight more than those who insulted your apostle, called him a liar, and drove him out. O God, seeing that you have appointed war between us and them grant me martyrdom and do not let me die until I have seen my desire upon B. Qurayza."') [1] [2]

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: (১:৮:৪৫২)

আয়েশা হইতে বর্ণিত:
খন্দক যুদ্ধের দিন সাদ বিন মুয়াদ তার বাহুর ভিতরের শিরায় তীরবিদ্ধ হয় ও আল্লাহর নবী তার দেখাশোনা করার জন্য মসজিদে এক তাঁবু খাটান। মসজিদে বনি গাফফার গোত্রের জন্যও একটি তাঁবু ছিল ও সাদের বাহুর রক্তক্ষরণের রক্ত সাদের তাঁবু থেকে বনি গাফফারের তাঁবুর দিকে বইতে থাকে। তারা চিৎকার করে বলে, "এই যে তাঁবুর বাসিন্দারা! তোমাদের ওখান থেকে আমাদের এখানে এটি কী আসছে?" তারা দেখে যে, সাদের ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে ও সাদ তার তাঁবুতে মৃত্যুবরণ করেছে।' [4]  

[অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম- বই ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৭০] [5]  

(অনুবাদ – লেখক)

>>> সাদ বিন মুয়াদ ছিলেন মুহাম্মদের অন্যতম প্রধান অনুসারীদের একজন। তিনি ছিলেন মদিনার আল-আউস গোত্রের প্রধান। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, তিনি ছিলেন হঠকারী মেজাজের লোক ও খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে চুক্তি ভঙ্গের অজুহাতে তিনি বনি কুরাইজার লোকদের গালাগালি ও অপমান করেন! (পর্ব: ৮০)। 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো: খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে সাদ বিন মুয়াদ, মক্কার বানু আমির বিন লুয়াভি গোত্রের হিববান বিন কায়েস নামের এক কুরাইশের নিক্ষিপ্ত তীরের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তীরটি তাঁর কব্জি ও কনুইয়ের মাঝখানে বিদ্ধ হয় ও সেখানকার এক ধমনী ছিঁড়ে ফেলে। সেই ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তিনি হন মৃত্যুপথ যাত্রী।

সাদ বিন মুয়াদের এই আহত হওয়ার ঘটনায় বনি কুরাইজা গোত্রের কোনো লোক কোনভাবে দায়ী ছিলেন, এমন ইঙ্গিত উক্ত বর্ণনার কোথাও নেই। তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কোনোরূপ আক্রমণ বা হত্যা চেষ্টা করেছেন, কিংবা তাঁরা মিত্রবাহিনীকে কোনোরূপ সাহায্য-চেষ্টা করেছেন, কিংবা ন্যূনতম পক্ষে তাঁরা মিত্রবাহিনীর কোনো সদস্যের সাথে কোনরূপ সক্রিয় যোগাযোগ চেষ্টা করেছেন - এমন দৃষ্টান্তের সামান্যতম ইঙ্গিত খন্দক যুদ্ধ উপাখ্যানের গত ছয়টি পর্বের কোথাও নেই। 

তা সত্ত্বেও,
সাদ বিন মুয়াদ "বনি কুরাইজার উপর তার আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করার পূর্ব পর্যন্ত” তাকে মৃত্যুবরণ করতে না দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে আবেদন করেন। বদর যুদ্ধ উপাখ্যানের বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, মুহাম্মদের এই অনুসারী কতটা হিংস্র, নৃশংস ও প্রতিহিংসাপরায়ণ(পর্ব: ৩৬)। 

'বদর যুদ্ধে ধৃত সত্তর জন কুরাইশ বন্দিদের সবাইকেই প্রচণ্ড নৃশংসতায় খুন না করে মদিনায় ধরে নিয়ে আসা ও মুক্তিপণের মাধ্যমে তাঁদেরকে জীবিত ছেড়ে দেয়ার অনুশোচনায় মুহাম্মদের ক্রন্দন ও ঐশী বাণীর অবতারণা:

৮:৬৭-৬৮-"নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ আল্লাহ্ চান আখেরাত। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা| যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌঁছাত।"

অত:পর, সা'দ বিন মুয়াদের প্রশংসায় মুহাম্মদের ঘোষণা:

"যদি আল্লাহর আরশ থেকে গজব অবতীর্ণ হতো তবে একমাত্র সা'দ বিন মুয়াদ ছাড়া কেহই রক্ষা পেত না, কারণ সেই শুধু বলেছিল, 'হে আল্লাহর নবী, লোকদের জীবিত ছেড়ে দেয়ার চেয়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডই আমার বেশি প্রিয়” [6]

>>> মুহাম্মদের সেদিনের সেই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সা’দ বিন মুয়াদ বদর যুদ্ধ-বন্দীদের ওপর তার জিঘাংসা চরিতার্থ করতে পারেননি! কিন্তু, খন্দক যুদ্ধের পর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর এই প্রিয় অনুসারীর আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রাখেননি!

“বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা চুক্তি ভঙ্গ করে মিত্র বাহিনীকে সাহায্য করেছে" - এই অজুহাতে তাঁদেরকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করার পর তাঁদের কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য মুহাম্মদ সা'দকে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করেন! এই ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসাপরায়ণ বিচারকের রায়টি ছিল:

"তাদের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করো, সম্পত্তি দখল করো ও তাদের মহিলা ও শিশুদের বন্দী করো।" ('The men should be killed, the property divided, and the women and children taken as captives')।

সাদের এই ঘোষণার পরে পরেই মুহাম্মদ সা'দকে জানিয়ে দেন যে, যে-রায়টি সে দিয়েছে, সেটিই ছিল আল্লাহর রায় ('You have given the judgement of Allah above the seven heavens')।

উল্লেখ্য, কোনোরূপ ঐশী বাণীর আগমনের কিচ্ছা ছাড়াই মুহাম্মদ "আল্লাহর নামে" সাদের এই রায়ের সাথে তাঁর একাত্মতার ঘোষণা দেন। অতঃপর, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বনি কুরাইজা গোত্রের উপর পাশবিক গণহত্যা চালান। (বিস্তারিত আলোচনা 'বনি কুরাইজা গণহত্যা' পর্বে করা হবে)

খন্দক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাদ বিন মুয়াদের ভূমিকা ও অবস্থান কী ছিল, তা বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ না করে খন্দক যুদ্ধ পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। আদি উৎসের সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা খন্দক যুদ্ধ ও তার অব্যবহিত পরে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত বনি কুরাইজার নৃশংস গণহত্যার” যে-ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন, সেই ইতিহাসের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ চরিত্র হলো সাদ বিন মুয়াদ।

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৫৭-৪৫৮

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৭৬-১৪৮০

[3] বলা হয়, হিজরি ৫ সালে মুহাম্মদের পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারিথার তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহাশ (Zaynab bint Jahsh) এর সাথে মুহাম্মদের বিয়ের সময় কিছু অতিথির আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৩:৫৩ অবতীর্ণ হয়। হিজরি ৬ সালে সাফওয়ান ও আয়েশার সম্পর্কে রটনার পর নবী পত্নীদের প্রতি তা বাধ্যতামূলক করা হয়। (পর্ব: ৩৯)

৩৩:৫৩ – ‘হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ’।          

[4] সহি বুখারী: ভলুম ১, বই নম্বর ৮, হাদিস নম্বর ৪৫২: 
Narated By 'Aisha : On the day of Al-Khandaq (battle of the Trench') the medial arm vein of Sa'd bin Mu'ad was injured and the Prophet pitched a tent in the mosque to look after him. There was another tent for Banu Ghaffar in the mosque and the blood started flowing from Sa'd's tent to the tent of Bani Ghaffar. They shouted, "O occupants of the tent! What is coming from you to us?" They found that Sa'd' wound was bleeding profusely and Sa'd died in his tent.

[5] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম- বই ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৭০

[6] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-88706-345-4 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৫৬-১৩৫৯

ডিলডো ও বিবিধ যৌনখেলনাখচিত আইসিস-এর পতাকা

লন্ডনে অনুষ্ঠিত গে প্রাইড-এ ইছলামী জঙ্গি দল আইসিস-এর পতাকা দেখা গেছে বলে প্রচার করেছিল সিএনএন।


এখন দেখা যাক আইসিস-এর পতাকা...


এবং গে প্রাইড-এ ব্যবহৃত সেই পতাকা...


বস্তুত অনেকগুলো ডিলডো ও বিবিধ যৌনখেলনাখচিত এই পতাকাটিকেই আইসিস-এর বলে ঘোষণা দিয়েছিল সিএনএন।

আইসিস-এর পতাকার আরও কয়েকটি প্যারেডি:




২ জুলাই, ২০১৫

কুড়আনো চিন্তা - ০১

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

১.
আল্লার তার পছন্দের উপকরণ দিয়ে জান্নাত সাজিয়েছেন।
রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লার নিকট আতরের চেয়েও সুমিষ্ট।
একবার ভেবে দেখুন, যে-জান্নাতের জন্য এত হাউকাউ করছেন, সেই জান্নাতে গিয়ে দেখলেন, আতরের চেয়েও সুমিষ্ট এই গন্ধ দিয়ে আল্লা জান্নাত ভরিয়ে রেখেছেন।

২.
হে বিজ্ঞান, তুমি মোরে করেছ মহান
তুমি মোরে দানিয়াছ ইবলিসের এর সম্মান।
মুক্তচিন্তা, মুক্তভাবনা দিয়াছ তাপস,
অবিশ্বাস প্রকাশের দুরন্ত সাহস।

৩.
মারদাঙ্গা আইডিয়া পেলাম:
বউ নামাজে দাঁড়াইলে তখনই আমি তাকে বিছানায় আমন্ত্রন জানাব।
হাদিসে আছে:
মিলনের উদ্দেশ্যে স্বামী তলব করা মাত্রই স্ত্রী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, তৎক্ষণাৎ তাকে স্বামীর কাছে যেতেই হবে।

হা-হা-হাদিস – ১৩৮


ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ২১

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

২০১.
- আল্লা চরিত্রবান লোকদের পছন্দ করে! তাহলে কি আল্লা মোহাম্মদকে পছন্দ করতো না? (রাজু ঋদ্ধ দে)
-  যে যত বিবাহ করিতে পারিবা, আল্লাহর কাছে সে তত বেশি চরিত্রবান। (মুক্ত পথের পথিক)

২০২.
- নবীর দেশের সুন্নতি খেজুর কেন পচে? সুন্নতি খেজুরে কেনু ফরমালিন দিয়ে প্রিজার্ভ করা লাগে? সুন্নতি সেই ফরমালিন মিশানো খেজুর কেন র‍্যাব-পুলিশে আবার ধরে? (মশিউর রহমান)
- খেজুরে উটের মুত মাখানো উচিত ছিল, তাইলে, মনে হয়, আর পুলিশে ধরতো না। (অরূপ রত্নাকর)

২০৩.
- শিবের "লিঙ্গ" এত বিখ্যাত কেন? সাইজের জন্য? রং-এর জন্য? নাকি স্বয়ং শিবের লিঙ্গ - এই জন্য? (সুস্ময়ের বাবা)
- ওটা দুনিয়ার প্রথম ডিলডো তাই। (জেনারেল আলাদিন)

২০৪.
- নবিজী এতগুলো যুদ্ধ করেছেন কেন? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- ঘর জামাইয়ের অপবাদ থেকে বা‍চার জন্য। (মুল্লা মাও সেতুং)
#
- উনি তো যুদ্ধ করেননি, যুদ্ধ ওনাকে করেছে। যেমন "আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে..." (টুকুন জিল)

২০৫.
- আল্ল্যাপাক ফেরেশতাদের যৌনক্ষমতা দান করেননি কেন? (ফাহিম আল হামিম)
- ওই একই কারণ - যার জন্য রাজা-সম্রাটদের হেরেমখানার দারোয়ানদেরকে "খোজা" করে রাখা হতো! ভাইরে, নিজের ভালো পাগলেও বোঝে - আর সর্বজ্ঞানী রাব্বুল আলামিন বুঝবেন না? ফেরেস্তাদের যৌনক্ষমতা দিলে বেহেস্তের হুর-পরীরা কি কুত্সিত মুমীনদের সাথে সহবত করতে রাজি হতো? (সৈযদ জামাল)

২০৬.
- কনডম ব্যবহার সম্পর্কে কোরআন কী বলে? (রাজু ঋদ্ধ দে)
- যেহেতু কোরআন-হাদিসে আছে, অপচয়কারী শয়তানের ভাই। তাই কনডম ব্যবহার কইরা বীর্যের অপচয় করা অবশ্যই হারাম। (অনিক সরকার)

২০৭.
- আল্লার এতো নাম কিনু ? (উপপ্লব উদ্বোধক)
- যাতে কোনো একটা আইডি ব্লক হইলে আরেকটা দিয়া কাম চালানো যায়। (অরূপ রত্নাকর)

২০৮.
- আইএস যদি মক্কা হামলা করে, তাহলে আল্লাহ পাক কি অলৌকিকভাবে মক্কা রক্ষা করবেন? (তানভীর হিমেল)
- অবশ্যই করবেন। কারণ এর রক্ষাকর্তা একমাত্র আল্লাহ, আর যেহেতু এটা আল্লাহর ঘর, তাই আল্লাহ নিজেই তাঁর ঘর রক্ষা করবেন। কিন্তু সৌদি পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা কেন নিচ্ছে, বুঝতে পারছি না। (শামীম হোসেন)

২০৯.
- প্রতি জুম্মাবারে মুমিনরা বোমা ফাটাইয়া মুমিন মারে কেন? (মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ)
- হাতের কাছে কাফের পায় না, তাই। (আব্দুল হামিদ)

২১০.
- রমজানে দাঁত না মেজে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর অসভ্যতাটি কেন পবিত্রতা বলে বিবেচিত? (সেক্যুলার ফ্রাইডে)
- নিশ্চয় আল্লাপাক দুর্গন্ধ পছন্দ করেন। (অনিক সরকার)

আগের পর্বগুলো:

১ জুলাই, ২০১৫

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৪৬




দাঁড়িপাল্লার ঝাড়ি - ৩৩

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

৯৭.
এক সমপ্রেমী আরেক সমপ্রেমীরে বিয়া করছে - এইটা আমি সমর্থন করছি। এর মানে যদি এই হয় যে, আমিও সমপ্রেমী, তাহলে আপনার আম্মু আপনার আব্বুরে বিয়া করছে - এটা যদি আমি সমর্থন করি, তাহলে আমি আপনার আম্মু নাকি আপনার আব্বু হমু?

অথবা

এক সমপ্রেমী আরেক সমপ্রেমীরে লাগাইতেছে - এইটা আমি সমর্থন করছি। এর মানে যদি এই হয় যে, আমিও সমকামিতা পছন্দ করি, তাহলে আপনি যে আপনার বউরে লাগান, আমি সেইটা সমর্থন করি - তার মানে কি এই যে, আমিও আপনার বউরে লাগাইতে পছন্দ করি?

৯৮.
ধর্মাবালদের পাশাপাশি অনেক মুক্তাবাল-নাস্তিকাবালও মনে করে:

- সমকামিতাকে সাপোর্ট করা মানে নিজেও সমকামী হওয়া (প্রোপিক কালার করছেন কেন, আপনিও কি সমকামী?)

- নারীবাদকে সাপোর্ট করা মানে নিজেও নারী হয়ে যাওয়া (নারীবাদকে সাপোর্ট করেন কেন, আপনি কি মেয়ে হয়ে গেছেন?)

- ধর্ষণের বিপক্ষে কথা বলা মানে নিজেও ধর্ষণের শিকার হওয়া (ধর্ষণ নিয়া আপনার সমস্যা কী, আপনারে কি কেউ ধর্ষণ করছে?)

- যৌননির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে নিজেও যৌননির্যাতনের শিকার হওয়া (মেয়েদের গায়ে হাত দিলে আপনার সমস্যা কী, আপনার গায়ে তো কেউ হাত দেয় নাই।)

- মাদ্রাসার হুজুরদের শিশুকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলা মানে... (ছোটবেলা হুজুররা কি আপনার পুটু মারছিল?)

- নারী দেখলে ঈমানদণ্ড খাড়া না হওয়া মানে ধ্বজভঙ্গতার লক্ষণ (আপনার না খাড়াইলে ডাক্তার দেখান।)

- সংখ্যালগুদের অধিকার নিয়ে কথা বলা মানে নিজেও ওই সংখ্যালঘুদের একজন (হিন্দুদের মন্দির ভাঙলে আপনার সমস্যা কী? আপনি তো ধর্ম মানেন না, মন্দির ভাঙলে তো আপনাদেরই লাভ। নাকি আপনি ছুপা হিন্দু?)

৯৯.
* ভাই, আপনে ফিলিস্তিনি পতাকায় সেইভ গাজা লেইখা প্রোপিক বানাইছেন, আপনে কি ফিলিস্তিনি?

* ভাই, আপনে রোহিঙ্গাদের ছবি দিয়ে কাভার পিক বানাইছেন, আপনে কি রোহিঙ্গা?

* ভাই, আপনে আইসিসের পতাকা দিয়া প্রোপিক বানাইছেন, আপনে কি জঙ্গী?

* ভাই, আপনে সাউথ ইণ্ডিয়ান নায়িকাদের ছবি দিয়ে প্রোপিক বানাইছেন, আপনে কি নায়িকা? (ইয়াল্যা আন্নের চক্ষু দুইডা কী সোন্দর!)

* ভাই, আপনে আল্যা লেখা ছবি দিয়ে প্রোপিক বানাইছেন, আপনে কি আল্যা?

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১২০



৩০ জুন, ২০১৫

উগ্র নাস্তিক বনাম উগ্র আস্তিকদের চিপা অন্বেষী ‘সেলিব্রাটি’ ব্লগারদের জন্য

মওকা পেলেই 'উগ্র আস্তিক' আর 'উগ্র নাস্তিক'-কে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সমান দোষে দোষী প্রমাণ করতে সন্দেহজনভাবে তৎপর হয়ে ওঠে একদল ব্যক্তি, যারা হয় নিরাময়াতীত নির্বোধ, নয়তো সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদী অথবা গ্যাঞ্জামবাদী জ্ঞানপাপী। 

এ বিষয়ে দু'বছর আগে অভিজিৎ রায় রচিত একটি বিশদ রচনার প্রাসঙ্গিক অংশ প্রকাশ করা হচ্ছে।

চারিদিকে মুক্তচিন্তার ব্লগাররা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রথমে আসিফ মহিউদ্দীন ছুরিকাহত হলেন, থাবা বাবাকে জবাই করা হল, এর পর আক্রান্ত হলেন সামিউর। সাধারণত যাঁরা আক্রান্ত হন, জনসহানুভূতি কিছুটা হলেও তাদের পক্ষে থাকে। কিন্তু সেটা হবে না, যদি আপনি ‘নাস্তিক ব্লগার’ হিসেবে ট্যাগ খেয়ে যান। ধর্মান্ধরা নাস্তিকদের পছন্দ করবে না জানা কথা। কিন্তু মানবতার বাণী কপচানো, সংখ্যালঘুদের জন্য অন্তপ্রাণ, গলা কাঁপিয়ে ‘টক শো’ করা ‘পুলিশ প্রোটেকশন’ নিয়ে চলা সেলিব্রেটি ব্লগাররাও দেখবেন চামের উপ্রে বামে গালি দিয়ে যাবে – ‘ব্যাটা তুই নাস্তিক হইছস ক্যান! ধর্মের বিরুদ্ধে লেখস ক্যান, দোষ তো তোরই। গলায় তুই কোপ খাইবি না তো খাইবো টা কে?’ টিপিকাল ‘women raped, women blamed’ অ্যাটিচুড। বেডি তুই উগ্র পোষাক পরছস ক্যান, হ্যাল হ্যাল কইরা চলছস ক্যান, ছিনালী হাসি হাসছস ক্যান। তুই ঠাপ খাবি না তো খাইবো কে!

ওয়েল, চামে চামে ‘চিপায় পড়া আর চিপা খোঁজা’ এইসব সনাতন মানসিকতার লোকজন নাকি নতুন প্রজন্মের সৈনিক, দেশকে নতুন দিশা দেখাবে। দিশার ঠেলায় দিশাহারা অবস্থা আমাগো। ধর্ষিতা নারীদের মতোই। একবার ফিজিকালি ধর্ষিতা হয়, তারপর যখন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আঙ্গুল তুলে বলে – ‘ঐ পোশাক পইরা গেছিল বইলাই না হইছে।’ এইভাবে দ্বিতীয়বার হয় আরেকদফা ধর্ষণ। নাস্তিকেরাও তাই। গলায় খায় কোপ একবার। তারপর আসে আরো বড় কোপ – ১৫০০ লাইক আর ছয়শ শেয়ার হওয়া ‘চিপা খোঁজা’ সেলিব্রিটি ব্লগারদের স্ট্যাটাসের কোপ।


উগ্র নাস্তিক বনাম উগ্র আস্তিকদের চিপা: উগ্রতার দাঁড়িপাল্লা কি সমান?


পুরানা কথা বার বার বলতে ভাল লাগে না, তাও বলতে হয়। ‘উগ্র ধার্মিক’ আর ‘উগ্র নাস্তিক’ দুইটাই নাকি খুব খ্রাপ, দুইটাই একাত্তরের বিরোধী। এর চেয়ে বড় ফাউল কথা, এর চেয়ে বড় মিথ্যার বেসাতি আর কী হতে পারে? ইদানীং দেখছি ‘উগ্র’ শব্দটা পজিটিভ নেগেটিভ সব কিছুর সাথেই ট্যাগ করে কাঠালের আমসত্ত্ব কিংবা হাঁসজারুমার্কা বাক্য তৈরি করছেন দিশা দেখানো সেলিব্রিটি ব্লগারেরা । ইদানীং এটা একটা খুব ভাল চল হয়েছে বটে। কিন্তু একটু চোখ খোলা রাখলেই দেখা যায়, এই ধরণের বক্তব্য কত অসার। যারা এগুলো বলেন, তাদেরকেই যদি উল্টে বলা হয় - ‘উগ্র আওয়ামি লীগ আর উগ্র বিএনপি দুইটাই খারাপ, একাত্তর বিরোধী' কিংবা ‘উগ্র মুক্তিযোদ্ধা আর উগ্র রাজাকার দুইটাই খারাপ' - তখন কিন্তু এই মাইনকার চিপা খোঁজা ‘মিডেল ম্যান’রাই হাঁ রে রে করে উঠবেন। নিপুন পলিটিশিয়ানদের মতো তাদের প্রক্ষিপ্ত বাক্যাবলীতে চটক থাকলেও সেটা বোধশক্তির বিচারে অর্থহীন। কেউ যদি বলে ‘উগ্র সেক্যুলার আর উগ্র মৌলবাদী দুইটাই খারাপ’ - এটার কি কোন অর্থ হয়? কোনো অর্থ হবে যদি কেউ বলে ‘উগ্র বিজ্ঞানমনস্ক আর উগ্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন - দুইটাই বাজে, দুটোই একাত্তরবিরোধী?’ না হয় না। ওয়ান সাইড ক্যান বি রং, ডেড রং। ‘বিবর্তন বনাম সৃষ্টিবাদী রূপকথা’ কিংবা ‘বিজ্ঞান বনাম সংস্কার’ ‘একাত্তরের চেতনা বনাম রাজাকারী’ - এগুলোর মাঝে একটা স্ট্যান্ড নিতেই হয়। দুই নৌকায় পা রেখে মডারেট সাজার কোনো অর্থ নেই। ‘হাফ প্রেগ্নেন্সি’ কিংবা ‘মডারেট প্রেগ্নেন্সি’ যেমন হয় না ; কোনো নারী হয় ‘প্রেগনেন্ট’, নতুবা ‘প্রেগনেন্ট নয়’ - এইটাই বাস্তবতা। মাঝে মধ্যে বাস্তবতাটা বোঝা জরুরি। কাজেই ‘উগ্র ধর্মান্ধ আর উগ্র ধর্মবিদ্বেষীর চিপায় বিরক্তিকর অনলাইন জীবন’ এর আহাজারি করবেন না; এটা আমাদের কাছে ‘উগ্র মুক্তিযোদ্ধা আর উগ্র রাজাকারের চিপায় আপনার বিরক্তিকর অনলাইন জীবন’ এর মতো হ্যাস্যকর শোনাচ্ছে।

আর নাস্তিকদের উগ্রতাই বা কতটুকু? ‘ধর্মবিশ্বাসে’ আঘাতের কথা যেটা বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা কেবল লেখালেখির মাধ্যমে সমালোচনা কিংবা বড়জোর ঠাট্টা-তামাশা-ব্যঙ্গ-বিদ্রূপেই সীমাবদ্ধ (যে ধরনের সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, ঠাট্টা-তামাসা রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ক্রীড়াসহ সকল শাখাতেই দেখা যায়); ধার্মিকদের ভঙ্গুর অনুভূতি সামান্যতেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ধর্মযুদ্ধের নামে বিধর্মীদের ওপর কী ধরনের অত্যাচার করা হয়েছিলো, তা বললে তাদের ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, পয়গম্বর-নবী-রসুল আর ধর্মের দেবদূতদের অমানবিক কার্যকলাপ তুলে ধরলে ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, নারীদের অন্তরীণ করে তাদের অধিকার হরণ করা হয়, তা বললে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, কৃষ্ণের লীলাখেলার কথা বললে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, ধর্মগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত অবৈজ্ঞানিক আয়াত বা শ্লোক তুলে ধরলেও তাঁরা আহত হন। আর ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হলে তো কথাই নেই; ঈশ্বর যে ‘খুঁটি ছাড়া আকাশকে ছাদ স্বরূপ ধরে রাখেন’, তা যেন চৌচির হয়ে তাদের মাথায় তৎক্ষণাৎ ভেঙে পড়ে। ধর্ম সব সময়ই কৌতুকের বড় উৎস হলেও ব্যঙ্গ এবং কৌতুকবোধের ব্যাপারটা ধার্মিকদের সাথে সবসময়ই কেন যেন রেসিপ্রোকাল। অথচ, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা বা অন্যান্য যাবতীয় বিষয়কে সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে তাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কেবল ধর্মের বেলাতেই গণেশ উল্টে যায় বরাবরই।


বড় মজা না? ধার্মিক, মডারেট ধার্মিক, বক ধার্মিকেরা সব করতে পারবেন, কিন্তু নিজের বিশ্বাসের বেলায় ‘ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেয়ার পক্ষে আমি নই।’ কী চমৎকার হিপোক্রিসি। অন্যের বিশ্বাস কিংবা ধারণার সমালোচনা করতে তো ধার্মিকদের কোনো সমস্যা দেখি না। ডারউইনের সাথে বাঁদরের ছবি যোগ করে ‘বিবর্তনকে ভুল প্রমাণ’ থেকে শুরু করে নাস্তিকদের গায়ের জোরে ‘ছাগু’ প্রমাণ করা, বজ্জাত, মিথ্যেবাদী, চরিত্রহীন প্রমাণ করা, চড়া সুরে মাইক বাজিয়ে আজান দিয়ে পাবলিক নুইসেন্স তৈরি করে প্রার্থনার জন্য ডাকা, নামাজে ইমামদের খুতবা পড়ে পড়ে ইহুদি-নাসারা বিধর্মীদের প্রতি উস্কানো - এমন কিছু নেই তো নেই যা তথাকথিত ‘ধর্মবিশ্বাসীরা’ করছেন না। তাতেও যখন কুলায় না, ‘কাফির অবিশ্বাসীদের গর্দানে আঘাত করার’, ‘যেখানেই পাওয়া যাক, হত্যা করার’ আয়াত আউড়িয়ে কোপানো পর্যন্ত জায়েজ হয়ে যায়। গলায় কোপ খাওয়া রক্তাক্ত নাস্তিকদের রক্তমাখা ছিদ্রান্বেষণ করে তার মধ্যে নিজের পাজামার গিঁট খুলে ধর্মোত্থিত শিশ্ন প্রবেশ করার প্রচেষ্টাও হয়ে যায় কত মহান।



নাস্তিকেরা ধর্মবিদ্বেষী, খুব সমস্যা?

সেলিব্রেটি ব্লগার বলেছেন, ‘আমাদের দেশের নব্য অনলাইন নাস্তিকদের অধিকাংশই আসলে নাস্তিক না, তাদের অধিকাংশই আসলে ধর্মবিদ্বেষী।’ হ্যা, নাস্তিকরা যেহেতু ধর্মে বিশ্বাস করেন না, ধর্মের সমালোচনা করবেন তারা, সেটাই স্বাভাবিক নয়? ধর্মের সমালোচনাটাকে কুৎসিৎ রূপ দেওয়ার জন্য ‘ধর্মবিদ্বেষী’ বলে ট্যাগ করেছেন। তো সে হিসেবে তো সেই সেলিব্রিটি ব্লগার আর তাঁর অনুসারীরাও রাজাকার বিদ্বেষী, গোলাম আযম বিদ্বেষী, ফরহাদ মজহার বিদ্বেষী, হিযবুত তাহরীর বিদ্বেষী। তাঁরা সেগুলোর সামালোচনা করেন। খুব প্যাশনেটলিই করেন। তাদের ‘ছাগু’ হিসেবে ট্যাগ করেন। কারণ তাঁরা জানেন জামাত-শিবিরের আদর্শ মিথ্যার ওপর, বর্বরতার উপর প্রতিষ্ঠিত। তা তাঁরা যে কাজটা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে করেন, সেটার লিমিট নাস্তিকদের ওপর বেঁধে দিচ্ছেন কেন? নাস্তিকেরা যদি মনে করে, ধর্ম জিনিসটা পুরোটাই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ধর্মপ্রচারকেরাই সবচেয়ে বর্বর কাজগুলোর উদাহরণ হাজির করেছেন - বেদ পাঠের জন্য শম্বুকের শিরোচ্ছেদ করেছেন, শূদ্রদের পাছায় গরম শলাকা দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার বিধান দিয়েছেন, গোপবালাদের সাথে লীলা খেলা করেছেন, নারীকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন, যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধবন্দিনী এবং দাসীদের সাথে সহবাসের বিধান দিয়েছেন – সেগুলোর উল্লেখ এবং সমালোচনা করা যাবে না কেন? তবে কি তারা চান, আমরা সবাই চোখ বুঁজে থাকি, আর আজন্ম লালিত কুসংস্কারে কেবল আস্থাশীল থাকি? কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ তো নিজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। ধর্মগুলোর মধ্যে বিরাজমান নিষ্ঠুরতার কথা কি তাঁর অজানা? প্রতিটি ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন আয়াত এবং শ্লোকে বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে ঢালাওভাবে, কখনো দেয়া হয়েছে হত্যার নির্দেশ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্ম আসলে জিহাদ, দাসত্ব, জাতিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, হোমোফোবিয়া, অসহিষ্ণুতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নির্যাতন এবং সমঅধিকার হরণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রতিটি যুগেই ব্যবহৃত হয়েছে। সেগুলোর আলোচনা-সমালোচনা করলে যদি ‘বিদ্বেষী’ ট্যাগ পেতে হয়, তবে আমরা বিদ্বেষীই বটে, ঠিক যেমন অনেকেই হিটলারবিদ্বেষী, উনারা গোলাম আজম বিদ্বেষী, কাদের মোল্লা বিদ্বেষী; সভ্য মননশীল বহু মানুষ যেমন ফ্যানাটিসিজম, রেসিজম, সেক্সিজম, বার্বারিজম বিদ্বেষী, ঠিক তেমনি অনেক নাস্তিক থাকবে যারা ধর্মবিদ্বেষী । টেক ইট।

কোরান কুইজ – ৬৬

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৭৬: শয়তান কাকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল?

১. শুধু আদমকে
২. আদম-হাওয়া উভয়কেই

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

প্রেমের রংধনু ও নির্বর্ণ ধর্মগুলো




২৯ জুন, ২০১৫

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৯৪

"আমি বিজয়ী হয়েছি সন্ত্রাসের মাধ্যমে" - ইছলামের নবী (বুখারি, বই ৫২, হাদিস ২২০)


রমজান ও অসভ্য আচার

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

পবিত্রতা শব্দটি পূত, পূণ্য, অপাপবিদ্ধ, বিশুদ্ধ, কলুষমুক্ত ইত্যাদি অভিধার সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি অবাস্তব অনুভূতি; কোনো বাস্তবিকতা থেকে এটি অনুভূত নয়। এর সাথে জড়িত পরিচ্ছন্নতা বা শুচিকরণের আচারটি পবিত্রতার একটি অনুষঙ্গ মাত্র।

মরু ঝড়ে উটপাখির মত মাথা গোঁজা নির্লিপ্ততায় মুমিন মুসলমানেরা নির্দ্বিধায় ঘোষণা করে, রমজান হচ্ছে পবিত্র একটি মাস, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস, এবং রাত দিন নিয়ত রহমত বর্ষণের মাস। এমনকি তিরমিযি শরীফে ইসলামের নবীকে উদ্ধৃত করে বলা আছে, রমজান মাসের প্রথম রাত উপনীত হলেই আল্লাহ শয়তান ও দুষ্ট জ্বিনগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন এবং জান্নাতের দরজা খুলে দেন।

অথচ মুসলিম-প্রধান সমাজে আমরা দেখি এই মাসটিকে সবচাইতে অকার্যকর একটি মাসে পরিণত হতে; সরকারী উদ্যোগে এ মাসে শ্রমঘন্টা কমে আসে, অভুক্ত থাকার কারনে কর্মদক্ষতা কমে আসে, এবং রমজানের অপরিমিত খরচ মেটাতে বাড়ে অনৈতিকতা, ঘুষ ও দুর্নীতি।

না খেয়ে থাকার অস্বাভাবিক এই জীবনাচারের সমর্থনে বুখারী শরীফে এমনটাও বলা আছে, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকে আম্বরের সুগন্ধের চেয়েও অনেক উৎকৃষ্ট। দাঁত না মাজার এই অসভ্যতাটি কেন পরিচ্ছন্নতা বা শুচিকরণের আচার বলে বিবেচিত, সেটা সুস্থ মস্তিস্কে বোঝাটা অসম্ভব।

রমজানের এই মাসটির অপর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর গোঁয়ার্তুমিভাব; আমি না খেয়ে আছি, কাজেই তুমিও খেতে পারবে না। এই মনোভাব কোন অর্থে সংযম সহায়ক, সেটা বোঝা ভার। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোকে বোরখা পরিয়ে, দরিদ্র শ্রমজীবীদের প্রাত্যহিক ব্যয়ভার বাড়িয়ে, আল্লাহ নামের প্রাণীটির ঠিক কোন উদ্দেশ্য সাধন হয়, সেটা বোঝা এক বেয়াড়া রকমের দুঃসাধ্য কাজ। তবে লক্ষ্যণীয় যে, পাঁচতারা হোটেল, যেখানে ধনাঢ্যদের নিত্য যাতায়াত, সেখানে সুস্বাদু খাবার, পানীয় ও সূরার কোনো কমতি নেই।

রমজানের সাথে জড়িয়ে আছে মরু সংস্কৃতি ও মরু সভ্যতার আরও অনেক আবোলতাবোল পৌরানিক গল্পগাথা। ঐশী গ্রন্থগুলো নাকি এ মাসেই নাজেল হয়েছে, সে গ্রন্থ পাঠে নাকি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হবে অতি সম্মানিত ফেরেশতাদের মাঝে; আবার হায়, আবার সে গ্রন্থেই চরম স্ববিরোধীতায় বলা হয়েছে, মানুষই উন্নততর প্রাণী।

রমজানের এই মাসটিতে বাংলাদেশের ফেসবুকারদের কল্যাণে সেটি যেন পরিণত হয়েছে আল জামায়াতে আল ফেসবুকিয়াতে; ভাব, ভাষা, মনন, আচরণ সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত মুসলমান বাঙালী নির্লজ্জভাবে প্রদর্শন করে চলছে তীব্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব; সর্বোপরি, সিয়াম পালনের ছদ্মবেশে থেমে নেই ধর্ষণ, থেমে নেই নারীনির্যাতন, সংখ্যালঘু নিগ্রহণ, থেমে নেই অসৎ উপার্জন ও শ্রম শোষণ।

এ কেমন সংযম, যা মানবীয় চিন্তাকে উন্নততর না করে আরও লোভী, আরও অসংযমী, অধিকতর অমানুষে পরিণত করে?

বেদ্বীনবাণী - ৪২

বাণীটি শুধু পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য


২৮ জুন, ২০১৫

ইছলামী ইতরামি

১.
রমজান মাসে আল্যা শয়তানকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখে বলে এই মাসে সংঘটিত সমস্ত অপকর্মের দায় নিশ্চয়ই আল্যাফাকের। পবিত্র রমজানের এক শুক্রবারেই মুছলিমদের হাতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫০ জন! আর রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনে মুছলিমরা হত্যা করেছে মাত্র ৯৩৩ জনকে - গড়ে দিনে প্রায় ১০০ জন। এই সময়ে অন্য কোনও ধর্মের নামে একটি হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়নি।

২.
সমুদ্রসৈকতে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩৬ জনকে হত্যা করেছে ইছলামী জঙ্গিরা। ঘটনা তিউনিসিয়ায়।

৩.
কোরানে আছে সন্ত্রাসের বীজ, আর সন্ত্রাসের চাষ হয় মসজিদে। মুছলিম দেশ তিউনিসিয়ার সরকারও সেটা উপলব্ধি করেছে - সে দেশের ৮০টি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হবে। 

৪. 
আইসিস আয়োজিত কোরান মুখস্থ করার প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পাবে শিশু-যৌনদাসীদের, যাদের সর্বনিম্ন বয়স নয়। যৌনদাসী ভোগ ইছলামে সম্পূর্ণ হালাল ও নবীজির সুন্নত।

৫.
ইছলামে জোরজরদস্তির স্থান নেই। রোজা ভাঙার কারণে তাই দুই কিশোরের ফাঁসি দিয়েছে আইসিস।

৬.

৭.
মানবহত্যাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বৈচিত্র্যপিয়াসী আইসিস এবারে ৫ জনকে খাঁচায় পুরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

৮.

৯. 
মুছলিম ভ্রাতৃত্বের আরেকটি নিদর্শন: কুয়েতে জুম্মার দিনে শিয়া মসজিদে বোমা হামলায় ২৭ জন নিহত। বিশ্বব্যাপী ইছলামী সন্ত্রাবাদের পেছনে সক্রিয় অর্থদাতা দেশগুলোতেই এবার শুরু হয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

১০.
মুছলিমদের কেউ কেউ সক্রিয় জঙ্গি, কেউ সহায়তাকারী, আর বাদবাকিদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ সমর্থন শোভন নয় বলে নীরব সমর্থক। জঙ্গি দলকে রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে চারজন দেশী ছহীহ মুছলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১১.
ইহুদি-নাছারাদের দেশে গিয়ে ইছলামী পোশাক পরার অধিকারের দাবিতে গলা ফাটানো মুছলিমরা তাদের দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নির্দেশ দেয় ছহীহসম্মত পোশাক পরিধানের। ঘটনা মালয়েশিয়ায়।

১২.
যেহেতু মুছলিম-মুছলিম ভাই-ভাই, তাই মুসলিম জঙ্গি মুছলিম জঙ্গিও ভাই-ভাই হবার কথা! অথচ আইসিস-এর জঙ্গিরা আল-কায়েদার ১২ জঙ্গির শিরশ্ছেদ করলো। গঠনা কী?

১৩.
মুছলিমের সন্তান অমুছলিম হলে তার কল্লা নামিয়ে দেয়া পিতার ঈমানী দায়িত্ব। তেমন ইচ্ছাই পোষণ করেছে এক মুছলিম পিতা।

১৪.
৯ বছর বয়সের মেয়েকে শয্যাসঙ্গী বানানো নবীজির সুন্নত। আইসিস নবীজির পদাঙ্কই অনুসরণ করছে।

১৫.
আমেরিকার প্রথম স্বঘোষিত সমকামী ইমামের কাহিনী আল জাজিরার রিপোর্টে।

১৬.
অপহৃত দুই বালিকাকে আত্মঘাতী বোমারু হিসেবে ব্যবহার করে ইছলামী জঙ্গি দল বোকো হারাম হত্যা করেছে ৩০ জনকে

১৭.
জঙ্গিরাও সাধারণ মুছলিম। ফরাসী জিহাদীর স্ত্রী বলেছে, "আমরা সাধারণ মুছলিম। আমরা রমজান পালন করি।"

১৮.
শিশু-কিশোরদের জঙ্গি হিসেবে গড়ে তুলতে কী অমানবিক প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিস, তার সচিত্র রিপোর্ট।

১৯.
গনিমতের হালাল মালকে ইছলামসম্মত বিধি মেনে ধর্ষণ করে আইসিস-এর মুছলিম জঙ্গিরা এইডস-আক্রান্ত হয়েছে! আল্যার এ কী অবিচার!

২০.
ইছলামত্যাগী এক নারীকে বিষ খাইয়েছে তার শ্বশুরপক্ষের লোকজন।

২১.
ইহুদি-নাছারাদের দেশে বাস করা হালাল, সেখানকার কুফরী বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়াও হালাল, তাদের দেয়া সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা হালাল, কিন্তু চিকিৎসার সময় তাদের দান করা অঙ্গ ব্যবহার করা হারাম! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাই মুছলিমদের আহ্বান জানিয়েছে অঙ্গদান করার। এর আগে এক মুছলিমকে নিঃস্বার্থভাবে অঙ্গদান করেছিলেন এক হিন্দু মহিলা। কিন্তু পরে তাঁকে সেই মুছলিমের গালিগালাজ কটুকাটব্য হজম করতে হয়েছিল। ইহাকে বলে ইছলামী কৃতজ্ঞতা।

কোরান অপেক্ষা বেকন উত্তম

পাঠিয়েছেন ছাগলনাইয়ার বনলতা সেন

অথচ

অস্ট্রেলীয় কমেডিয়ান Jim Jefferies বলেছিলেন:

নিচের ভিডিওর ১.০৫ টাইম মার্কে তিনি এই কথাগুলো বলেন: 
I don't think I could be a Muslim, because they can't eat bacon and or drink beer. And they are like the two greatest fucking things in the world. You take bacon and beer away from me, and I'll fly a plane into a fucking building.

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/kXaSpH6hDxk

অনুসিদ্ধান্ত:

পবিত্র রমজান এবং ভবঘুরের প্রশ্নবাণ

লিখেছেন ভবঘুরে বিদ্রোহী

রোযা বা রোজা (ফার্সি روزہ রুজ়ে), সাউম (আরবি صوم স্বাউম্‌), বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকার নামই রোযা বা সাওম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিবাদী ইসলাম ধর্মমতে - মাহে রমজান বা হিজরী রামাদান চান্দ্রমাস চলছে, ইসলামী মতে পূর্ণবয়স্ক সুস্থ-সবল ধনী-দরিদ্র সকল নর-নারীর ওপর নামাজের মতো রোজাও (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) অবশ্যপালনীয় ফরজ। সুর্যোদয়ের আগ থেকে সুর্যাস্তের পর পর্যন্ত সারাদিন অভুক্ত থেকে সংযম পালন করতে হয়, আকাশে সুর্য থাকা অবস্থায় খাদ্য, পানীয়, ধুম্র গ্রহণ বা গলধঃকরন সম্পূর্ণ নিষেধ।

রমজান হলো কুরআন নাজিলের মাস, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন: “রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কুরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী।” (সূরা বাকারা : ১৮৫) রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে পবিত্র আল-কুরআন একবারে নাজিল হয়েছে। সেখান হতে আবার রমজান মাসে অল্প অল্প করে নবী করিম (সাঃ)-এর প্রতি নাজিল হতে শুরু করে, জগতের সকল জ্ঞানের একমাত্র আধার কুরান মজিদ নাজিল হওয়ার মধ্য দিয়েই মোহাম্মদকে সর্বজ্ঞানী, আল্লার প্রেরিত মহানবী ও রাসুল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এ মাসে মানুষের হেদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাজিল হয়েছে, তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। এই মহীমান্বিত মাসে শয়তান বন্দী থাকে বলে কাউকে প্ররোচিত করতে পারে না, কেউ কোনো অপরাধ করলে নিজ থেকেই করে, তাই এ মাসে সকল প্রকার পাপকার্য থেকে পানাহারের মতোই নিজ থেকেই সকলে বিরত থাকে।

রোজাদারের অভুক্ত মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরী অপেক্ষাও অধিক প্রিয়, এমনকি রোজাদারের পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলেও কোরানে অঙ্গীকারাবদ্ধ, নিশ্চয় আল্লাহ ভঙ্গ করে না অঙ্গীকার। ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম, যা পৃথিবীর সকল কওমের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং অবশ্যপালনীয়, আল্লাহ সকলের জন্য সমান করুণাময়, দয়াশীল, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, সর্বগ, সর্বশক্তিমান, সর্বোৎকৃষ্ট বিচারকর্তা এবং সুমহান। আল্লাহু আকবার।

এমন ফযিলতের মাস, রহমতের মাসের মাহাত্ম্য শুনতে শুনতে এতোটাই ভালো লাগে যে, তার গুরুত্ত্ব আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলের কাছেই প্রাধান্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাই তারা প্রমাণ অসাধ্য রোযা নিজেরা রাখুক বা না রাখুক, অন্যকে পালন করাতে যথাতৎপর, এমনকি কিছুক্ষেত্রে বিধর্মী, অধার্মিক, শিশু-বৃদ্ধ কিংবা রোগীর কথাও চিন্তা না করে পাড়ার খাবার দোকান বা হোটেল-রেস্তোরা জোর করেই বন্ধ করে দেয়, যদিও তারা পাড়া ছেড়ে পাঁচতারা মার্কা হোটেলের ধারে-কাছেও ঘেঁষতে পারে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই রোজা কি পৃথিবীর সকল সুস্থ-সবল পূর্ণবয়স্ক সকল মানুষের জন্য আসলেই সমানভাবে প্রযোজ্য বা পালনীয় হওয়া সম্ভব? গোলাকার পৃথিবীর সর্বত্র দিবা-রাত্র কি আদৌ সমান? তাহলে....

আইসল্যান্ডে এবার সেহরি খেতে হচ্ছে রাত দু’টোয় আর ইফতার হয় পরের দিন রাত ১২ টায় ৷ সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার ব্যবধান। আর সবচেয়ে অল্প সময়ের রোজা হচ্ছে চিলিতে। সেখানে বৃহস্পতিবার রোজার সময় ছিল মাত্র ৯ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। বাংলাদেশে প্রথম রোজার সময় ছিল ১৫ ঘণ্টা ০৪ মিনিট। আইসল্যান্ডে মাত্র ৭৭০ জন মুসলমানের বাস। তবে এই ৭৭০ জনের মধ্যে যাঁরা পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা করেন, তাঁরা এক দিক থেকে বিশ্বের আর সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ছাড়িয়ে যান। তেমনি আরও কিছু দীর্ঘ রোজার দেশের হালচিত্র নিম্নে দেয়া হলো। যেমন:

সুইডেন – ২০ ঘণ্টা: খুব গরমের মধ্যে রোজা হলে সুইডেনের মুসলমানদেরও কষ্টের সীমা থাকে না। দেশটির ৫ লাখ মুসলমানের মধ্যে যাঁরা রোজা রাখেন, তাঁদের ইফতারের মাত্র চার ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়। উল্টো দিক থেকে ভাবলে কষ্টটা বুঝতে পারবেন। সুইডেনের মুসলমানদের অনেক দিন সেহরির ২০ ঘণ্টা পর ইফতার খেতে হয়৷

আলাস্কা – ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট: যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ৩ হাজার মুসলমান। গ্রীষ্মকালে ভীষণ গরম থাকে সেখানে। তার ওপর কোনো কোনোদিন সূর্যোদয়ের ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর সূর্য ডোবে। এত লম্বা সময় ধরে রোজা রাখা তাই অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না৷

জার্মানি – ১৯ ঘণ্টা: রমজান মাসের সময় দিন খুব বড় হলে জার্মানির মুসলমানদেরও রোজা রাখতে ভীষণ কষ্ট হয়। এ বছর জার্মানিতে সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে সেহরি খেতে হচ্ছে রাত সাড়ে তিনটায় আর ইফতার রাত দশটায়।

কানাডা – ১৭ দশমিক ৭ ঘণ্টা: এখন প্রায় ১০ লক্ষ মুসলমান আছে কানাডায়। সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস টরন্টোতে। এবার কোনো কোনো দিন সেহরির প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ইফতারি খেতে হবে তাঁদের।

তুরস্ক – সাড়ে ১৭ ঘণ্টা: মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্কেও গরমকালে রোজা রাখতে হয় খুব কষ্ট করে। এবার সেহরির প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর ইফতার করতে হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

ইংল্যান্ড – ১৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট: ইংল্যান্ডে সেহরি থেকে ইফতারের সময়ের পার্থক্য প্রায় ২০ ঘণ্টা। রমজান শুরুর আগেই তাই 'মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন' নামের একটি সংগঠন এত দীর্ঘ সময়ের রোজা রাখার আগে ভেবে দেখতে বলেছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এতো লম্বা সময় রোজা রাখলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ডায়বেটিসে আক্রান্তদের প্রাণহানির শঙ্কাও দেখা দিতে পারে। ব্রিটেনে এখন প্রায় ২৭ লক্ষ মুসলমান আছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজারই ডায়বেটিসে আক্রান্ত।

যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা, ওষুধ, খাদ্য ব্যবস্থার এবং জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়। তবে রোজার সময় ১৬-১৭ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এখানে চার রকমের সমস্যা হতে পারে। যার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তার রক্তের শর্করা বেড়ে যেতে পারে। অথবা কারো কারো ক্ষেত্রে ইফতারের আগে বিশেষ করে আসরের পরে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তের শর্করার স্বল্পতার কারণে তারা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। শরীরে পানির ধারণক্ষমতা কমে যাবে। কারণ রোজার সময়তো পানিও খেতে পারছে না। এতে স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়বে। অথবা আরো মারাত্মক হলো রক্তে শর্করার সাথে সাথে লবণ এবং অন্যান্য জিনিসের পরিবর্তন হয়ে ডায়াবেটিক কেটোয়েসিডোসিস -এর মতো মারাত্মক ধরনের সমস্যা আক্রান্ত হতে পারে।

না, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সময়োচিত দাবিতে ইংল্যান্ডের মুলধারার মুসলিমেরা সাড়া দেয়নি। বরং তারা প্রতিবাদে জানিয়েছে আকাশে সুর্য থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই পানাহার করা যাবে, সেটা হবে কোরানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। রোযা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ দিন, সুতরাং অনাহারে একদিন পূর্ণ করতেই হবে, ইসলাম ভিন্ন কোনো ফিরকার সাথে আপোস করে না।

এবার আসি গোলাকার পৃথিবীর আরেক অঞ্চলের আলোচনায়, এই যেমন নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে খ্যাত বা পৃথিবীর উত্তর মেরুর যেসব দেশে গ্রীষ্মকালে কখনোই সূর্য ডোবে না, সেখানকার মুসলমানরা কীভাবে রোজা রাখেন? রমজান মাস যেহেতু চন্দ্রপঞ্জিকার ওপর নির্ভর করে চলে, তাই কয়েক বছর পরপরই ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে রোজা শুরু হয়। এ বছরের মতো বিদায়ী গ্রীষ্মে সর্বশেষ রোজা শুরু হয়েছিল প্রায় পয়ঁত্রিশ বছর আগে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তবে সে সময় এমন প্রশ্নের সম্মুখিন কাউকে হতে হয়নি, কারণ ওই সময় উত্তর মেরুর দেশগুলোতে মুসলমানদের খুব একটা বসবাস ছিল না। নব্বই দশকের শুরু থেকেই সোমালিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের মতো উত্তর মেরুর দেশগুলোতে অভিবাসী হতে থাকে। এ দেশগুলোর কিছু অঞ্চলে বছরের প্রায় ছয় মাস কখনোই সূর্য অস্ত যায় না। এর ফলে দেশগুলোতে বর্তমানে অবস্থানরত মুসলিমদের রোজা পালন নিয়ে একটি নির্মম বাস্তবতা ও নৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ওখানকার মুসলমানরা তাহলে কীভাবে রোজা রাখছেন?

সম্প্রতি এমনই কিছু সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক সাংবাদিক নরওয়ের সর্ব উত্তরের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ট্রোমসো যান। ওখানকার মুসলমানদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তিনি জানতে পারেন, কীভাবে তাঁরা মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে সিয়াম সাধনা করছেন।

ট্রোমসো শহরটি ভৌগলিকভাবে আর্কটিক সার্কেল বা সুমেরু বৃত্তের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। শহরের চারদিক বরাফাবৃত পর্বতমালা ও সমুদ্রের খাঁড়ি দিয়ে ঘেরা। প্রতি বছর মে মাসের শেষদিক থেকে শুরু করে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত শহরটির বাসিন্দারা ‘মিডনাইট সান’ বা ‘মধ্যরাতে সুর্য’ দেখার এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সময়ের হিসেব কষে ঠিক এ বছরই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রোমসোর মুসলিম সম্প্রদায় পুরো রমজানে রাতের দেখা পাবেন না। তাহলে কীভাবে তারা রোজা রাখছেন? ১৯৮৬ সালেও এই একই সময়ে রোজা এসেছিল। কিন্তু সে সময়ে ট্রোমসো শহরে কোনো মুসলিমের বসবাস ছিল না বলে প্রশ্নটি সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমদের আগমনে বর্তমানে ট্রোমসো মুসলমানদের শহরে পরিণত হয়েছে। সেখানকার অধিবাসীরা জানিয়েছেন, সুর্য এখানে কখনোই ডোবে না, ২৪ ঘন্টাই আকাশের মাঝখানে অবস্থান করে।

তাই এ শহরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হিসেব করে রোজা রাখা কখনোই সম্ভব নয়। এখানকার মুসলমানরা নিকটবর্তী এমন কোনো দেশের সঙ্গে সময় মিলিয়ে রোজা রাখেন যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। আবার সৌদি আরবের মক্কা নগরীর সময়ের সঙ্গে মিল রেখে দিনের হিসাব করেও রোজা রাখার নিয়ম রয়েছে। তবে সেটা তারা সম্মিলিতভাবে আলোচনা করে নির্ধারন করেন। এ বছর সৌদি আরবের মক্কার সময়ের সঙ্গে মিল রেখেই তারা রোজা পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মক্কায় যদি ভোর পাঁচটায় সূর্যোদয় হয় তাহলে ট্রোমসোর মুসলিমরাও নরওয়ের স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা থেকেই দিনের সময় গণনা শুরু করবেন। মক্কার দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলেই তারা ১৪০০বছর পরে এ নিয়মটি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু রোজা নয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ও তারা এভাবেই বিন্যস্ত করে পালন করছেন। এ তো গেল দিনের কথা।

ট্রোমসোর মুসলমানদের এর আগেও অনেকবার রোজা রাখার জন্যে সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। শীতকালে তাদেরকে এর ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ শীতকালে এখানে সারাক্ষণই রাত থাকে। সূর্যের দেখা মেলে না প্রায় ছয় মাস। তাই শীতকালের জন্যেও তারা মক্কার নিয়মই অনুসরণ করেন। গ্রীষ্মকালে যেমন সূর্য অস্ত যায় না তেমনি শীতকালে সূর্যোদয় হয় না। তাই মক্কার সময় অনুসরণ করাটাই তারা শ্রেয় মনে করেন।

এখন প্রশ্ন হলো:

১. ট্রোমসোর মুসলিমদের প্রচলিত এই মক্কামান সময়ে সালাত আদায় বা সাওম পালন কি ছহিহ ইসলাম সম্মত?

২. যদি ছহিহ শরীয়াসম্মত না হয়, তবে রোযা-নামাজের বিষয়ে তাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতি কোনটি?

৩. আর যদি ট্রোমসোর পদ্ধতি ছহিহ ইসলাম সম্মতই হয়, তবে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলসহ ফিনল্যান্ড, আলাস্কা, টরন্টো, আইসল্যান্ডে মক্কার সাথে মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রোযার সেহরী ইফতারের সময় নির্ধারণ কেন ছহিহ ইসলাম সম্মত হবে না? আর এই ছহিহ পদ্ধতিটার আগাম ধারনা ১৪০০ বছর আগের এক সর্বজ্ঞানের আধার দাবিকৃত আসমানি কিতাব খানায় কেন রইলো না? আমাদের সর্বজ্ঞানী মহানবীই বা কেন তার শত হাদিসের কোথাও এমন একটি মরু-মেরুর ভৌগলিক ধারণা এবং আহ্নিক বা বার্ষিকগতির আগাম ফায়সালা দিতে পারলেন না?

৪. আবার যদি তাই ছহিহ হয়, তবে রোযার সংজ্ঞা শাশ্বত বা সার্বজনীনই বা কেমনে হয়? যা স্থানকাল অবস্থাভেদে তার নিজস্ব সুবিধাবাদী সংজ্ঞা বদলায়। বদলে যাওয়া সংজ্ঞা ধ্রুবসত্য ধারণ করতে পারে না। আর যা ধ্রুবসত্য নয়, সেটা ঐশ্বরিক ধর্মসত্য কেমনে হয়?

৫. রোযার মাসে আল্লাহ শয়তানকে বন্দী করে রাখেন, যাতে সে কাউকে প্ররোচিত করতে না পারে। তাহলে বাকি ১১ মাস কেন বন্দী করে রাখা হয় না? তবে শয়তানকে বাকি ১১ মাস মুক্ত করে দিয়ে আল্লাহ নিজেই কি প্ররোচনার দায় নিচ্ছেন না? অথবা আল্লাহ বাকি ১১ মাস শয়তানকে বন্দী করে রাখতে অক্ষম? তবে আর আল্লাহ সর্বশক্তিমান হয় কী করে? তবে কি যে আল্লাহ. সে-ই কি শয়তান নয়?

ভবঘুরের অনুসিদ্ধান্ত:

একজন স্থুলদৃষ্টির দৃশ্যত সমতল পৃথিবী দৃষ্ট মরু-জ্ঞানীর পক্ষে মেরুর জ্ঞান ছিলো না বিধায়ই ইসলাম মধ্যযুগীয় মরুভুমির আঞ্চলিকতাদুষ্ট কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঈশ্বর-শয়তানের গোলকধাঁধার কথিত ধর্ম। যা পৃথিবীর সকল অঞ্চলের জন্য একযোগে প্রয়োজনীয়তা হারায়, সেইসাথে রোযার নামে অবৈজ্ঞানিক উপোসের উপাসনা স্রেফ উপহাসের খোরাক যোগায় মাত্র। আর এমনি এক উপহাস্য (কু) সংস্কৃতির আগ্রাসন মরুসাম্রাজ্যবাদীদের হাত ধরে চিরায়ত নাতিশীতোষ্ণ লোকায়ত নীরিশ্বরবাদী চার্বাকের বাংলায় হাজার বছরের চাপানো দার্শনিক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এই স্থুল উপাসনার তাগিদেই চলে মাসব্যাপী অন্যের খাদ্য অধিকার হরণের মহোৎসব। রোজার মাসে আল্লাহ খাবারের হিসাব নেবে না, তাই সংযমের নামে ভুঁড়িভোজ, সংযমের নামে অপচয়, মিতব্যয়ের নামে অপব্যয়। রোজার মাসের সামগ্রিক লেনদেনের গ্রাফচিত্রটার উর্ধ্বমুখী উল্লম্ফিত চরিত্রটাই বলে দেয়, ধার্মিক তুমি কতোটা সংযমী। আর সংযমের নামে অন্যের ওপর কতোটা গরিষ্ঠের সহিংস বাড়াবাড়ি? তাই মুমিনীয় ধর্মের বাড়াবাড়িকে তাড়াতাড়ি দমন করতেই -

চীনে রোজা পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার। একই সঙ্গে রমজান মাসে সব ধরনের খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একদিন সারা পৃথিবী রোজার নামে এ মুমিনীয় সংযমী ভণ্ডামি নিষিদ্ধের দাবি তুলবে, সেইদিন বেশি দূরে নয়। আমি সেই সুদিনের অপেক্ষায়।

* তথ্যসুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর, আমারদেশ, thedhakatimes24, উইকিপিডিয়াসহ অন্যান্য।