২১ মে, ২০১৫

এয়ারপোর্টের সোনা, মমিনীয় সোনা ও আরবি ভাষা

লিখেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

অলি-আউলিয়া তথা "ধর্ম"কেই সম্মান করে (কিছু রাজনীতিও ছিল সাথে!!) ঢাকা ও চট্রগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটোর নাম রাখা হয়েছে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ আমানত। 

ঢাকা বিমান বন্দরের নামফলক বাংলা ও ইংরেজীর পাশাপাশি পবিত্র ভাষা আরবীতেও লেখা আছে। কিন্তু এই বিমানবন্দর দুটোতে সোনা চোরাচালানি থামানো যায়নি - বরং দিন দিন সেটা বেড়েই যাচ্ছে!


দেখলাম, সৃষ্টির সেরা জীবদের যত্রতত্র মুত্র বিসর্জন থেকে বিরত রাখতে না পেরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ ঢাকার রাস্তার দেয়ালে পবিত্র আরবি ভাষার ব্যবহার শুরু করেছে।



দেখা যাক, এবার রাস্তায় আশরাফুল মাখলুকাত'দের "সোনা" প্রদর্শন বন্ধ হয় কি না!

সেজদার ফজিলত

হে বেদ্বীন নাস্তিকেরা, এর পরেও কি তোমরা ইছলামের পুশিতল শায়াতলে আসবে না?


জরুরি ভিত্তিতে সব নামাজির কাছে এই তথ্যটি পৌঁছিয়ে দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন

কুলাঙ্গার নাস্তিকদের থোঁতা মুখ ভোঁতা করবেন যেভাবে

নাস্তিক বাংলাদেশ নামের ফেইসবুক পেইজের সৌজন্যে

# নাস্তিকরা কথায় কথায় কুরান-হাদিস থেকে রেফারেন্স দেয়। আপনি প্রথমেই দেখে নিন, উক্ত রেফারেন্সটি কুরান না হাদিসের। কুরানের হলে বলে দিন, “যখন কুরআনের আয়াত পড়বেন, তখন রেফারেন্স দেয়া আয়াত-এর আগের লাইন ও পরের লাইন বুঝে পড়বেন। সম্পূর্ণ সুরা পড়বেন। না বুঝে চিল্লাচিল্লি করবেন না।” আর যদি রেফারেন্সটি হাদিস-এর হয়, তাইলে বলুন, "এটা সহীহ হাদিস না।" তারপরও যদি চিল্লায়, বলুন, "উক্ত আয়াত/হাদিস এর অর্থ পশ্চিমারা বিকৃত করছে। প্রকৃত অর্থ অন্য রকম হবে।"

# নাস্তিকরা বলে, ইসলাম নাকি সন্ত্রাসের ধর্ম, মুসলিমরা সন্ত্রাসী। কী বিপদ! টেনশন নিয়েন না। উত্তর আছে। বলে দিন, “সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই।”

# কুলাঙ্গারগুলা নারীর অধিকার নিয়া বেশি রকমের ফালাফালি করে। একটা ধর্ষণ হইলে একদম কইলজা ফাটাইয়া আন্দোলন করে। ওরা বোঝে না, বোরখা না পরলে ধর্ষণ হওয়াই স্বাভাবিক। ইসলাম নারীদের সবচেয়ে বেশি সম্মান দিছে।

# নাস্তিকরা এমন একটা ভাব লয় যে, তারা অনেক জ্ঞানী। ভাব চুদানোর টাইম নাই। একটা ডায়লগ দিয়ে দিবেন সময় মত, “অল্প বিদ্যায় নাস্তিক, অধিক বিদ্যায় আস্তিক।” এক্ষেত্রে কোনো চিন্তাবিদের রেফারেন্স দিতে পারলে ভাল। নো টেনশন, অনেক চিন্তাবিদই এই টাইপের বাণী দিয়েছেন।

# বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার নিয়ে নাস্তিকরা বাহাদুরি করে। বাহাদুরির কিছু নাই, আপনেরা এইটা আবিষ্কার করলেন সেইদিন, আর এটা কুরানে বলা হইছে ১৪০০ বছর আগে। কেমনে সম্ভব হইল? এখনো সময় আছে, কুফরি ছাইড়া লাইনে আসেন।

# আল্লাহ আছে, এইটার প্রমাণ চায় নাস্তিকরা। কী করি, কন তো? আরে বলদরা, তোদের তো চোখ নাই, থাকলেও অন্ধ। আল্লাহ যে আছে, তার প্রমাণ তো তুই নিজে। তোর চারপাশের গাছপালা, মাটি, বাতাস, সূর্য, সাগর মহাসাগর... এইগুলা কি এমনে এমনে সৃষ্টি হইছে রে, বলদ? মনে কর, একটা বিল্ডিং, তার নিশ্চয়ই একজন বিল্ডার থাকবেন। এমনে এমনে তো ইট বালু সিমেন্ট মিল্লা বিল্ডিং হইয়া যায় নাই (এক্ষেত্রে হাতঘড়ির উদাহরণটাও অনেক জনপ্রিয়। চাইলে দিতে পারেন)! ওরা যদি পাল্টা প্রশ্ন করে যে, আল্লাহ কি তাইলে এমনি এমনি আইছে? আল্লাহরে কে বালাইলো? মুমিন ভাইয়েরা, ঘাইমা যাইয়েন না। উত্তর আছে। বলবেন যে, আল্লাহর ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন প্রযোজ্য নয়। আল্লাহকে নিয়া চিন্তা করার মত জ্ঞান আল্লাহ আমাদের দেন নাই। এই বিষয়ে চিন্তা করলে মাথা পাগলও হয়ে যেতে পারে। তাই আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা না করে তাঁর সৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা করেন। ওদেরকে পাল্টা প্রশ্নও ছুঁড়ে দিতে পারেন যে, “আল্লাহ যে নাই, এইটা তুমি প্রমাণ করো।” ইনশাল্লাহ বেশ কাজে দিবে।

# আল্লাহ যে আছে, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো কুরান কারীম। ও আচ্ছা, আপনেরা তো কুরান ও বিশ্বাস করেন না। কুরান যে আল্লাহর বাণী, তাঁর প্রমাণ মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে। তিনি বলছেন যে কুরান আল্লাহর বাণী, আর নবীজি ছিলেন আল আমিন বা বিশ্বাসী। তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না।

# অনেকেই নবিজীর বিয়ে নিয়ে কটুক্তি করেন। তিনি ১৩ টা বিয়ে করছেন। তো কী হইছে? বিয়ে ছাড়া তো কিছু করেন নাই। যা করছেন নিজের বউ-এর সাথেই করছেন। আর আল্লাহপাক তাকে যত খুশি বিয়ের অনুমতি দিছেন। তাই বলে কিন্তু আপনে আমি এমনটা পারবো না; উম্মতদের জন্য ৪ টার বেশি যায়েজ নাই। আর অনেক বদমাইশ আমাদের মা আয়েশার ব্যাপারটা তুলে আমাদের নাজেহাল করতে চায়। ৬ বছরের মাইয়ার সাথে তো আকাম করে নাই। বিয়ে করছে। সমস্যাটা কী? আর ৬ বছর হইলে কি হইবো, মা আয়েশার তখন যৈবন শুরু হয়ে গেছিল। আরবে অনেক তারাতারি যৈবন আসে কিনা...

# নাস্তিকরা খালি যুক্তি যুক্তি করে। যুক্তি বেশি বুইঝা ফালাইছে। আপনে যতই কন, ওদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত দেয়া সব যুক্তির সাথে পেরে উঠবেন না। চিন্তা নাই, আমাদের শেষ ভরসা জাকির ভাই। বলবেন, “যা, পারলে জাকির নায়কের সাথে বিতর্ক কর। দেখি কত হেডাম!”

# কিছু নাস্তিক একটু নেতা টাইপের হয়। আন্দোলন ফান্দোলন নিয়ে ফালাফালি করে। ব্লগার হত্যার বিচার বিচার করে। ওদের শায়েস্তা করতে একটা ডায়লগই যথেষ্ট: “হারামির বাচ্চা, বেশি লাফাইস না, তাইলে তোর অবস্থাও অভিজিৎ-এর মত হবে।” – হাহাহা... দেখবেন একদম চুপ মাইরা যাইব বেশির ভাগ।

# ওরা কথায় কথায় বিজ্ঞান বুঝাইতে চায়। আপনি যদি সাইন্স-এর ছাত্র না হন, হলেও যদি সাইন্স কম বুঝেন, তাইলে আর কী করা, বলেন যে, আমি বিজ্ঞান বুঝতে চাই না। আল্লাহকে চিনতে হলে বিজ্ঞানের আরো অনেকদুর যেতে হবে। আমি মুমিন, বিশ্বাসী। বিজ্ঞান আমার দরকার নাই, চোখ বন্ধ করে আমি আল্লাহ আর রাসুলকে বিশ্বাস করে যেতে চাই। এরপর ওই নাস্তিক হালার আর কী করার থাকে, কন তো!

# এইরুপ অন্ধ বিশ্বাসের কথা শুইনা অনেক নাস্তিকের বাচ্চা আপনাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করতে পারে। তখন কমেন্টে আপনার কিছু জাঁদরেল শিবির টাইপের ফেইসবুক ফ্রেন্ডকে মেনশন কইরা তর্কে ইনভাইট করবেন। ওরা আইসা কিছু খাস বাংলায় অশ্লীল গালাগাল দিলেই সব ঠাণ্ডা, একদম পানির মত!

# কিছু নাস্তিক আছে কুত্তার লেজ, গালাগাল খাইয়াও থামবে না। তখন আর কী করা! আল্লাহ আর রাসুলের সম্মান বাঁচাতে সোজা চলে যাবেন চাপাতি ধার দিতে।

২০ মে, ২০১৫

বেদ্বীনবাণী - ৩৮


পাঠিয়েছেন বারান্দায় রোদ্দুর

বর্তমানে মুছলিমদের প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে এমন মুছলিমবিরোধী বাণীর জন্য মুছলিমরাই তাকে একটা সময়ে বেদ্বীন, হিন্দুয়ানী, নরাধম, খোদাদ্রোহী ও শয়তানের পূর্ণ অবতার জাতীয় বিবিধ আখ্যা দিয়েছে এবং তাঁর শিরশ্ছেদের স্বপ্ন দেখেছে। একটি নমুনা দেখুন:

"লোকটা মুসলিম নাকি শয়তান"
মুন্সী মোহাম্মদ রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ

যখন ধুমকেতু প্রথম উদয় হয় এবং বস্রা প্রত্যাগত উদ্দাম "হাবিলদার " কাজী নজরুল ইসলাম "সারথি " বলিয়া জানিতে পারি, তখনই বুঝিয়াছিলাম, "ধুমকেতু " মোসলেম. গগনে প্রকৃত ধুমকেতু রূপেেই উদয় হইতেছে। মোসলেম ভারতের. "বিদ্রোহী " কবিতায়ই কাজীর কারামৎ জাহির হইয়াছিল! তারপর "ধুমকেতু " প্রত্যেক সংখ্যায় পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে গরল উদগীরণ করিতেছে। এই উদ্দাম যুবক যে ইসলামী শিক্ষা আদৌ পায়নি, তাহা ইহার লেখার পত্রে পত্রে ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পাইতেছে! হিন্দুয়ানী মাদ্দায় ইহার মস্তিষ্ক - পরিপূর্ণ। হতভাগ্য যুবকটির ধর্ম জ্ঞান সম্পূর্ণ মুসলমানের সংসর্গ কখনও লাভ হয় নাই, অন্তত সেটুকু লাভ করিলেও পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে স্বীয় পৈশাচিক খড়গ উত্তোলন করিত না। থাকুক তাহার লেখায় যথেষ্ট শক্তি, হউক সে বিখ্যাত কবি, তজ্জন্য মুসমানের গৌরব করিবার কিছু নাই। এই নরাধম ইসলাম ধর্মের মানে জানে কি? খোদাদ্রোহী নরাধম নাস্তিকদিগকেও পরাজিত করিয়াছে। লোকটা শয়তানের পূর্ণ অবতার। ইহার কথা আলোচনা করিতেও ঘৃণা বোধ হয়। ....কলমের মুখে যা আসিতেছে,তাই লিখিতেছে। খাঁটি ইসলামী আমলদারী থাকিলে এই ফেরাউন বা নমরুদকে শূলবিদ্ধ করা হইত বা উহার মুণ্ডপাত করা হইত নিশ্চয়ই ...

সূত্র:
"লোকটা মুসলিম নাকি শয়তান?" 
মুন্সী মোহাম্মদ রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ, 
ইসলাম দর্শন, তৃতীয় বর্ষ, 
কার্তিক, ১৩২৯

পাঠিয়েছেন সংশপ্তক অর্ক

খন্দক যুদ্ধ -২: খন্দক খনন কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৭৮): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – বাহান্ন

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের অমানবিক নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ইহুদি বনি নাদির গোত্রের কতিপয় লোকের উদ্যোগে আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ও সংক্ষুব্ধ মক্কাবাসী কুরাইশ সম্প্রদায় ও ঘাতাফান গোত্রের লোকেরা প্রতিশোধ ও প্রতিরক্ষা স্পৃহায় কীভাবে তাঁদের সাথে একাত্ম হয়ে মুসলমানদের প্রতি আক্রমণের (Counter attack) অভিপ্রায়ে মদিনার উদ্দেশে অগ্রসর হয়েছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খন্দক যুদ্ধের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, তখন মদিনার পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক ছিল গিরি-লাভা, পাহাড়-পর্বত ও বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বলয়ের সুবিধায়। উত্তর দিকটি ছিল অরক্ষিত।

সালমান ফারসী (Salman al-Farisi) নামের এক আদি পারস্যবাসী মুহাম্মদকে পরামর্শ দেন যে, যদি তারা মদিনার উত্তর দিকে খন্দক খনন করতে পারে, তবে তার মাধ্যমে তারা মিত্র-বাহিনীর (Army of the Confederates) আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারবে। তাঁর এই পরামর্শ মুহাম্মদের মনঃপুত হয়।

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা মদিনার উত্তর দিকে এক খন্দক খনন করেন। এই খন্দকটি তাঁরা দুর্গম স্থানগুলোর (পাহাড় ও বৃক্ষ-জলাভূমি) সাথে সংযুক্ত করে দেন। (নীচের চিত্র)


মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

[প্রাসঙ্গিক বিষয়, অলৌকিক কিচ্ছা (পর্ব-৩৮) পরিহার।]
'যখন আল্লাহর নবী তাদের অভিসন্ধি জানতে পারেন, তখন তিনি মদিনার পাশে এক খন্দক খনন করেন; তিনি নিজেও সে কাজে অংশ গ্রহণ করেন ও মুসলমানদের বেহেশতের পুরষ্কারের আশা দিয়ে এই কাজে উত্সাহিত করেন।

মুসলমানরা তাঁর সাথে কঠোর পরিশ্রম করে, কিন্তু কিছু আনুগত্যহীন লোক তাদের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকে ও আল্লাহর নবীর অজ্ঞাতে ও তাঁর অনুমতি ছাড়াই কাজে ফাঁকি দিয়ে গোপনে তাদের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে শুরু করে। [1]

কোনো জরুরী কাজে যদি কোনো মুসলমানের এই কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সে আল্লাহর নবীর কাছে তার অনুমতি প্রার্থনা করে ও তিনি তা মনজুর করেন। সঠিক কাজের প্রতি বাসনা ও সম্মানবোধের কারণে সে তার সেই জরুরি কাজটি সম্পন্ন করে পুনরায় এই কাজে যোগদান করে। 

এই প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করে:

[যা ঘটেছিল]
২৪:৬২- "মুমিন তো তারাই; যারা আল্লাহর ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রসূলের সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোন কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।"  
এই অংশটি নাজিল হয় ঐ মুসলমানদের বিষয়ে যারা আল্লাহ ও তার নবীর আদেশ মান্য করতো এবং শুভ ফলের আশা ও তার সম্মান করতো।

তারপর যারা কাজে গাফিলতি করে দূরে অবস্থান করতো ও আল্লাহর নবীর অনুমতি ছাড়া কাজ ছেড়ে চলে যেতো, সেই মুনাফিকদের উদ্দেশে আল্লাহ বলে:

[হুমকি]
২৪:৬৩-৬৪ – “রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। (৬৪) মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।” 

মুসলমানেরা খন্দক খনন শেষ হওয়া পর্যন্ত এই কাজে নিয়োজিত থাকে। এই কাজটি করার সময় তারা জুয়ায়েল নামের এক মুসলমানকে নিয়ে, যাকে আল্লাহর নবী 'আমর' নামে নামকরণ করে, এক ছন্দময় পদ্য (work song) রচনা করেন; যার বচন ছিল: 

"পরিবর্তন করেছে সে নাম তার জুয়ায়েল থেকে আমর যেদিন;
সেই কাঙ্গালের সাহায্য হয়েছে সেদিন।"
(‘He changed his name from Ju'ayl to 'Amr;
And was a help to the poor man that day.’)

যখন তারা 'আমর' শব্দটি উচ্চারণের কাছে আসে, আল্লাহর নবী বলেন 'আমর'; এবং যখন তারা 'সাহায্য' শব্দটি উচ্চারণের কাছে আসে, আল্লাহর নবী বলেন 'সাহায্য'।
[---- এরপর ‘সিরাতে’ কিছু অলৌকিক কিচ্ছার বর্ণনা---]

আল্লাহর নবীর খন্দক খনন সম্পন্ন হওয়ার পর; আল-জুরুফ ও জাঘাবার [Zaghaba (al-Ghaba)] যে স্থানটিতে রুমার জলস্রোত প্রবাহিত, সেই স্থানটিতে এসে কুরাইশরা তাদের শিবির স্থাপন করে। তাদের সঙ্গে ছিল দশ হাজার সৈন্য; যাদের মধ্যে ছিল তাদের ভাড়াটে কালো লোক এবং তাদের পক্ষে যোগদানকারী বানু কিনানা ও তিহামার জনগণ। [2]

ঘাতাফান গোত্রের লোকেরাও তাদের পক্ষে যোগদানকারী নাজাদের লোকদের নিয়ে ওহুদের দিকে ধানাব নাকমা (Dhanab Naqma) স্থানটিতে এসে থামে।

আল্লাহর নবী ও মুসলমানেরা সা'ল [মধ্য মদিনার এক পাহাড়] কে পেছনে ফেলে তিন হাজার সৈন্য সহকারে বের হয়ে আসেন। খন্দকটি তাঁর ও শত্রুবাহিনীর মাঝখানে রেখে তিনি সেখানে তাঁর শিবির স্থাপন করেন এবং মহিলা ও শিশুদেরকে দুর্গের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার আদেশ জারি করেন।’ [3]

আল তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:

‘মুহাম্মদ বিন উমর [আল-ওয়াকিদি] হইতে বর্ণিত, যে লোকটি আল্লাহর নবীকে এই খন্দক খননের পরামর্শ দেন, তিনি হলেন সালমান। আল্লাহর নবীর সাথে সালমান এই যুদ্ধটিতেই প্রথম অংশগ্রহণ করেন। সেই সময় তিনি ছিলেন একজন মুক্ত মানুষ (a free man)।

তিনি বলেন, "হে আল্লাহর নবী, পারস্য দেশে যদি কখনও আমরা পরিবেষ্টিত হয়ে যাই; তখন খন্দক খনন করে আমরা নিজেদের রক্ষা করি।"'

মুহাম্মদ বিন বাশশার [মৃত্যু: ৮৬৬ সাল] < মুহাম্মদ বিন খালিদ ইবনে আথমান <কাথির বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ আল-মুযানি [মৃত্যু: ৭৬৭-৭৭৭ সালের মধ্যে] < তার পিতা (আবদুল্লাহ বিন আমর) < তার পিতা (আমর বিন আউফ) হইতে বর্ণিত:

'আল্লাহর নবী 'আল-আহযাব বছরে বানু হারিথা গোত্রের দুই শেখের দুর্গ থেকে শুরু করে আল-মাধাদ (al-Madhad) পর্যন্ত খন্দক খনন করেন। [4] [5]

প্রতি ৪০ কিউবিট [প্রায় ৬০ ফুট] অংশের কার্যভার তিনি দশ জন মুসলমানের উপর ন্যস্ত করেন। মুহাজির ও আনসাররা সালমানকে নিয়ে বিতর্কে নামে। আনসাররা বলে, "সালমান আমাদেরই একজন।" মুহাজিররা বলে, "সালমান আমাদেরই একজন।" তাই আল্লাহর নবী বলেন, "সালমান আমাদেরই একজন, নবীর উম্মতের একজন।"’ [6]

- (অনুবাদ, < ও [**] যোগ – লেখক)

>>> আদি উৎসের ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মিত্র বাহিনীর দশ হাজার সৈন্যের সেনা ছাউনিটি ছিল খন্দকটির উত্তর দিকে; আর তাদের পিঠ ছিল ওহুদ পাহাড়ের দিকে।

“তাঁদের সরাসরি সম্মুখে ছিল ‘খন্দকের বাধা’ ও খন্দকের ওপারে মুসলমান বাহিনী। খন্দকের এই বাধাটি অতিক্রম করা মিত্র বাহিনীর পক্ষে সম্ভব ছিল না; যে কারণে তাঁরা সদল বলে মুসলমানদের সরাসরি আক্রমণ করতে পারেননি।" (নীচের চিত্র)। [7]


অন্যদিকে,

মুহাম্মদের নেতৃত্বে মুসলমান বাহিনীর তিন হাজার সৈন্যের সেনা ছাউনিটি ছিল খন্দকটির দক্ষিণে।

“তাঁদের সরাসরি সম্মুখে ছিল তাঁদের খননকৃত 'প্রতিরক্ষা খন্দক' ও খন্দকের ওপারে মিত্র বাহিনী; যে খন্দকটির কারণে তাঁরা মিত্র বাহিনীর সরাসরি আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। আর তাঁদের পেছনটি ছিল মদিনার দিকে:

তাঁদের সরাসরি পিছনেই ছিল সাল পর্বত (Sal’/Sala/Sali), তার পিছনে মদিনা এবং তারও পিছনে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা।"


>>> মদিনায় অবস্থিত সম্পদশালী তিনটি বড় ইহুদী গোত্রের দুইটিকে অনেক আগেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বিতাড়িত করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করেছেন; বদর যুদ্ধের অল্প কিছুদিন পর বনি কেউনুকা গোত্রকে (পর্ব: ৫১) ও ওহুদ যুদ্ধের মাস ছয়েক পর বনি নাদির গোত্রকে (পর্ব: ৫২ ও ৭৫)। অবশিষ্ট আছে শুধু 'বনি কুরাইজা' গোত্র।

একমাত্র অবশিষ্ট এই 'বনি কুরাইজা গোত্রের অবস্থান' ছিল মদিনার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। তাঁদের সম্মুখটি ছিল মুসলমান বাহিনীর পিছন দিকে।
“তাঁদের সম্মুখে ছিল পর্যায়ক্রমে মদিনা শহর, তার সামনে সাল পর্বত ও মুসলমান বাহিনী, তারও সামনে খন্দক এবং তারও সামনে কুরাইশ ও ঘাতাফানের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী। যৌনাঙ্গের কেশ দেখে সনাক্তকরণ পদ্ধতিতে তাঁদের সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য সংখ্যা ছিল সর্বমোট ৭০০- ৯০০ জন।"

খন্দক যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা মদিনায় একমাত্র অবশিষ্ট এই সম্পদশালী বনি কুরাইজা গোত্রের সমস্ত সক্ষম প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য ও একজন মহিলাকে একটা একটা করে গলা কেটে হত্যা করে তাঁদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি লুণ্ঠন ও তাঁদের সমস্ত মহিলা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের দাস ও যৌন-দাসী তে রূপান্তরিত করে নিজেদের মধ্যে কীভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন, তার আংশিক আলোচনা 'আবু-লাহাব তত্ত্বে (পর্ব ১২)’ করা হয়েছে।

মুহাম্মদের নেতৃত্বে ৬২৭ সালে সংঘটিত এই "নৃশংস গণহত্যার" ন্যায্যতার সপক্ষে মুহাম্মদের অনুসারীরা তাঁদের রচিত মুহাম্মদের জীবনী গ্রন্থ (সিরাত) ও হাদিস গ্রন্থে যে অজুহাত পেশ করেন, ত হলো:

"তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করিয়াছিল!"

কিন্তু,

"কী ছিল সেই চুক্তি এবং কী ছিল তার শর্তাবলী?", সে ব্যাপারে সিরাত বা হাদিসের কোথাও কোনো উল্লেখ নেই। এটি কি সেই চুক্তি যা ইসলামের ইতিহাসে "মদিনা সনদ" নামে বিখ্যাত? এই প্রশ্নের উত্তর যদি হয় ‘হ্যাঁ’, তবে অনেক আগেই মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ “স্বয়ং” কীভাবে সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা ‘মদিনা সনদ তত্ত্বে (পর্ব- ৫৩) করা হয়েছে।

"তাহারা মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করিয়াছিল!" এই অজুহাত প্রসঙ্গের আলোচনায় সর্বদাই যে-বিষয়টি মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন, তা হলো:

"মিত্রবাহিনীর অবস্থান খন্দকের ওপারে, তাঁরা খন্দক অতিক্রমে ব্যর্থ। এমতাবস্থায়, ইচ্ছা করলেও তাঁরা বনি কুরাইজা গোত্রকে সৈন্যবলে সাহায্য করতে অসমর্থ।"

উৎসাহী পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ এই যে, তাঁরা যেন আদি উৎসে বর্ণিত খন্দক যুদ্ধের পরবর্তী পর্বগুলোর বিস্তারিত আলোচনা নিরপেক্ষভাবে মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন;

এবং,

মিত্রবাহিনীর কোনো লোকের প্ররোচনায় বনি কুরাইজা গোত্রের মানুষরা তাঁদের ৬০০-৯০০ জন সক্ষম জনবল নিয়ে তাঁদের চেয়ে চার গুণের অধিক সুসজ্জিত মুসলমান সেনাবাহিনীকে পেছন দিক থেকে আক্রমণ করার আত্মঘাতী চেষ্টা করেছিলেন কি না; কিংবা তাঁরা তাঁদের সম্মুখে অবস্থানরত মদিনায় অবশিষ্ট মুসলমান (মহিলা, শিশু ও অন্যান্য) ও অস্ত্রসজ্জিত তিন হাজার মুসলমান সেনাবাহিনী এবং খন্দকের বাধা অতিক্রম করে খন্দকের ওপারের মিত্র বাহিনীকে গোপনে কোনোরূপ সাহায্য করেছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা 'বনি কুরাইজা গণহত্যা' পর্বে করা হবে।

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] ‘আনুগত্যহীন লোক’ - অর্থাৎ 'মুনাফিক' (Disaffected); নামেমাত্র মুসলমান, যারা গোপনে মুহাম্মদের অনেক কর্মপন্থার বিরোধিতা করতেন। বলা হয়, তাদের নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উবাই।

[2] ‘তিহামা’: আরব উপদ্বীপের লোহিত সাগর উপকূলীয় সমভূমি।

[3] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৫১-৪৫২
[4] ‘বানু হারিথা গোত্র’: আল আউস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যাদের অবস্থান ছিল মদিনার উত্তর-পূর্ব দিকে।

[5] ‘আল-মাধাদ’: আল-খাযরাজ গোত্রের অধীনে বানু সালিমাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু-হারাম গোত্রের দুর্গ, যার অবস্থান ছিল সা'ল পাহাড়ের পশ্চিমে।

[6] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৬৫-১৪৭১ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[7] Another Image: William Montgomery Watt (1909-2006), ‘Muhammad at Medina’, Oxford 1956, page 152

বাংলাদেশ আপনার জন্য কতোটা নিরাপদ


১৯ মে, ২০১৫

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব কি হারাম?

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু

এক মুমিন ভাইলোক কর্তৃক হুজুরের কাছে জানতে চাওয়া হল, “হুজুর, দাঁড়িয়ে পেশাব করা প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে?” 

হুজুর: “দাঁড়িয়ে মুতা হারাম।” 

ব্যক্তি: “অতি উপায়হীন অবস্থায়?” 

হুজুর: “যেমন?” 

ব্যক্তি: “আমি জিন্সের প্যান্ট পরিধান করি। বসে বসে পেশাব করতে গেলে প্যান্টে মুতের ছিটা লাগে। প্যান্ট নাপাক হয়ে যায়। নামাজ পড়া তখন হারাম হয়ে যায়। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে পেশাব করা যাবে?” 

হুজুর: “প্যান্ট একটি ইহুদি-নাসারার পোষাক। এটি পরা হারাম। আপনি একটা ঢিলেঢালা পায়জামা সেলাই করবেন। তারপর আর বসে মূত্র ত্যাগ করতে সমস্যা হবে না।” 

ব্যাক্তি: “কিন্তু হুজুর পায়জামার উপর শার্ট পরলে দেখতে খুব খারাপ লাগবে।” 

হুজুর: “শার্টও একটা বিধর্মী পোষাক। তাই এটিও ত্যাগ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে পেশাব করা যাবে না।” 

হুজুরের জবাব পেলেন তো? এখন আমরা দুটো হাদিস দেখব। 
হযরত হুযায়ফা (রা) হতে বর্ণিত: 
তিনি বলেছেন, একদা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন।
বুখারিতে আরও একটি হাসিদ আছে একই বিষয়ে। এ ছাড়া মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজা, নাসাঈ, আবু দাউদ শরীফ, কিতাবুত তাহারাত-এ অনুরূপ ঘটনার উল্লেখ আছে। 

এখানে দেখা যাচ্ছে যে, খোদ নবীজিই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রহমতের কাজটি সেরেছে! অথচ ধর্মব্যবসায়ী হুজুরেরা বলেছে, কোনো অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে মুত্র ত্যাগ করা যাবে না! মুহাম্মদের দাঁড়িয়ে মুতার ব্যাখ্যায় এবার হুগুররা নিশ্চয়ই বলবে যে, অতি প্রয়োজনের সময় তা জায়েজ।

নষ্টদের প্রয়োজনে সব জায়েজ, আর অন্যদের প্রয়োজনে সব হারাম। আরে হারামীরা, কোরান-হাদিস তোদের মত ব্যাখ্যা করতে পারিস, আর নাস্তিকেরা যৌক্তিকভাবে কিছু বললেই কল্লা কাটার ফতোয়া?

দ্বীনবানের দীন বাণী - ১৪

পাঠিয়েছেন ক্যাটম্যান

পুতুলের হক কথা

লিখেছেন পুতুল হক

১. 
ভুমিকম্পের পর চাচাকে ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছিলাম। চাচা বললেন:
- নাসারাদের জন্য এই সমস্ত গজব আসে। 
আমি বললাম:
- গজব নাসারাদের না দিয়ে আমাদের দেশে দেয় কেন? এ দেশে সবাই তো ধরতে গেলে মুসলমান। 
চাচা বলেন:
- আসলে নাসারাদের ব্যবহার ভালো কিন্তু মুসলমানদের ব্যবহার ভালো না। 
আমি তখন বলি:
- ওরা মুসলমানদের চাইতে মানুষ হিসেবে বেশি ভালো। 
চাচা স্বীকার করে নেন। পরে আমতা আমতা করে বলেন:
- ওরা যে আল্লায় বিশ্বাস করে না। 
আমি জিজ্ঞেস করলাম:
- আল্লাহ নাসারাদের সৃষ্টি করে তিনিই যদি ঠিক করে রাখেন সবার ভাগ্য, তাইলে তাঁদের দোষ কী?  
তিনি আমাকে বলেন:
- তুমি সব সময় আজেবাজে কথা বল। 
তারপর ফোন রেখে দিলেন।

২.
ভার্চুয়াল জগতে যাদের আইডি হারাতে হয় মত প্রকাশের জন্য, বাস্তব জগতে তাঁরা প্রাণ হারাবে, সেটাই স্বাভাবিক।

৩.
নবীকে নিয়ে কেউ ব্যঙ্গ করলো, আর নবী বলল তাকে খুন করতে। এজন্য নবী প্রতারণাকেও বৈধ করে দিলো। আল্লাহর ইচ্ছা হলো, মানুষ তৈরি করলো। নবীর ইচ্ছা হলো, মানুষ মারতে বললো। মগের মুল্লুক আর কী! 

হায় হায়! কী বলি! মগের মুল্লুকে তবু মানুষ বাস করতে পারে, কিন্তু মুসলমানের মুল্লুকে শুধু মুসলমান বাস করতে পারে, কোনো মানুষ নয়।

১৮ মে, ২০১৫

হা-হা-হাদিস – ১৩৩


রূপকথায় বিশ্বাস - নির্বুদ্ধিতার পরাকাষ্ঠা

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

রূপকথা (Fiction) হলো সংক্ষিপ্ত কাল্পনিক গদ্য বা পদ্য, যা আনন্দদায়ক ও মজার, কিন্তু জাদু, অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বা এ ধরনের অন্যান্য জিনিসকে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে বলে অত্যন্ত অভাবনীয় বিবরণে পরিপূর্ণ। রূপকথাগুলোতে প্রায়শই বিভিন্ন কাল্পনিক প্রাণী এবং তাদের অবিশ্বাস্য, অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর ঐন্দ্রজালিক সমাধানের বর্ণনা পাওয়া যায়। রূপকথার অপর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - এই গল্পগুলো মানুষের মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায়।

কল্পনা শব্দটা সবসময় নেতিবাচক নয়।

যুক্তিগ্রাহ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কল্পনা-প্রতিভা (Imagination) আত্মোন্নয়নের জন্য, অসম্ভবকে দৃশ্যমান করার জন্য, নতুন কিছু করার জন্য, প্রগতি অভিমুখী হওয়ার জন্য, চিন্তা ও মননকে বিকশিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যৌক্তিক চিন্তার বিপরীতে জাদু, ইন্দ্রজাল, মায়াবিদ্যা, গুপ্ত শক্তি, ভোজবাজি, অলৌকিক বা ঐন্দ্রজালিক সমাধান যখন মানুষের জীবনে প্রাধান্য পায়, তখন সেটা প্রগতির বিরুদ্ধাচারণ করে, তখন সেটা হয়ে ওঠে যুক্তিকে অগ্রাহ্য করা দিবাস্বপ্ন বা ভাবাবেশ বা আজগুবি কল্পনা (fantasy), যা চিন্তা ও মননকে বিকশিত করার পরিবর্তে ঠেলে দেয় অন্ধবিশ্বাসের পথে।

কল্পনা-প্রতিভা (Imagination) নিয়ে বাঁচাটা ইতিবাচক; আজগুবি কল্পনা (fantasy) নিয়ে বাঁচাটা নেতিবাচক।

আধ্যাত্মিক চেতনা, অলৌকিক সত্তায় বিশ্বাস, কথিত আচার ও নির্দেশের চর্চা, অনুধাবন এবং পালন প্রতিটি ধর্মেই অত্যাবশ্যকীয়। ধর্ম ঐন্দ্রজালিক সমাধানে বিশ্বাস করে বলেই ধর্ম হচ্ছে আজগুবি কল্পনার জগৎ; আর সেজন্যই ধর্মে বিশ্বাসও নেতিবাচক।

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলাম ধর্মকে সত্য বলে মানে ও পালন করে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী সকলকেই "গায়েব" বা অদৃশ্য শক্তিতে, তাঁর নির্বাচিত প্রতিনিধিতে, তাঁর প্রেরিত বাণীতে এবং তাঁর ঘোষিত পরকালের শাস্তি ও পুরস্কারে বিশ্বাসী হতে হয়।

তাদের বিশ্বাস করতে হয় নূরের তৈরি ফেরেশতা ও আগুনের তৈরি জ্বিন নামক অদৃশ্য প্রাণীতে, যারা মানুষের ওপর অলৌকিক প্রভাব বিস্তারে সক্ষম, এবং এই বিশ্বাস বাধ্যতামূলক। তারা বিশ্বাস করে পৃথিবী সৃষ্টির পর মহাকাশের সৃষ্টি হয়েছে; শুকনো খটখটে মাটি থেকে ৯০ ফুট লম্বা আদম নামের পুরুষের জন্ম হয়েছে, পুরুষ আদমের হাড় থেকে নারীর জন্ম হয়েছে; সকল যুক্তির বিপরীতে এই আদম ও তাঁর সঙ্গিনীর শত শত বৎসর বেঁচে থাকার ইতিহাসেও তাদের পূর্ণ আস্থা আনতে হয়; তাদের এও মানতে হয় - পিতা ছাড়াই ঈশা নামের এক মানুষ অলৌকিকভাবে জন্মেছিল।

তাদের আস্থা রাখতে হয় কোনো এক কথিত মহাপ্লাবনে, যাতে সম্পূর্ণ সৃষ্টি বিলুপ্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি নৌকায় জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করা প্রাণীগুলো থেকে এই বিশাল প্রাণীজগৎ পুনরায় তৈরি হয়েছে। রূপকথার এই গল্পগুলির প্রতি অদ্ভুত এক মুগ্ধতায় তারা ধর্মবর্ণিত অজাচারকেও (Incest) ন্যায্যতা দেয়, তাও একবার নয়, দু'বার!

তারা বিশ্বাস করে যে, কোনো এক কালে কোনো এক মাছ একটি গোটা মানুষকে গিলে খেয়েছিল, কিন্তু তারপরও সেই মানুষটি মাছের পেটে দীর্ঘদিন বেঁচে ছিল, সেই মাছের পেটেই জন্মানো গাছের পাতা খেয়ে; এক পর্যায়ে সে আবার জীবিত বের হয়ে আসে। তারা বিশ্বাস করে যে, একদিন হঠাৎ করে কিছু মানুষ বানর হয়ে গিয়েছিল, কিছু মানুষ হারিয়ে গিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে। পশুপাখির সাথে মানুষের বাক্যালাপেও তাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে, বিশ্বাস আছে ইয়াজুস-মাজুস, দাজ্জাল নামের অপ্রাকৃত প্রাণীর অস্তিত্বে।

মহাকর্ষ বলে কোনো প্রভাব বিস্তার করা ছাড়াই চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ও জোড়া লাগার ব্যাপারেও তারা নিঃসন্দেহ। তারা নিঃসন্দেহ মেরাজ নামের অভাবনীয় এক নভোযাত্রাতে, যাতে মুহাম্মদ নামের মানুষটি বায়ুশূন্য মহাকাশে নারীমুখী এক পাখাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে এসেছেন। তিনি আল্লাহকে দেখে এসেছেন সেটাও তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনাতেও তাদের পূর্ণ আস্থা আছে। সেখানে বর্ণিত হুর-পরীর সান্নিধ্যের লিপ্সা, আকাঙ্ক্ষা আর আকুলতা তাদের এতই প্রবল যে, সে বর্ণনায় ন্যূনতম সন্দেহ প্রকাশ করলেই তারা ভয়ানক নিষ্ঠুররকম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আদ্যন্ত রূপকথায় বিশ্বাসী এই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে তাদের ঠাকুরদার ঝুলিটিকে কোরআন বলে অভিহিত করে, সেটাকেই একমাত্র সত্যগ্রন্থ বলে আসছে। উপরন্তু সেটাকে সকল জ্ঞানের, সকল নৈতিকতার, সকল আইনের উৎস বলে দাবি করে অন্য সকলকে সেটা মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করে চলেছে। ক্ষেত্র বিশেষে তারা সহিংসও হয়ে উঠছে।

চরম নির্বুদ্ধিতায় এরা এমনকি প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোকেও অস্বীকার করতে দ্বিধা করে না। কথিত সত্য গ্রন্থের পবিত্রতা রক্ষায় দলে দলে প্রাণদান করা ও প্রাণ হরণ করাও তাদের কাছে মর্যাদার। সে হুমকিও প্রকাশ্যেই তারা দেয়।

একবিংশ শতকে এসে রূপকথায় বিশ্বাস করা বর্বর এই গোষ্ঠীর সাথে সহাবস্থান পৃথিবীবাসীর জন্য যে কতটা কষ্টের, সে বোধটাই এদের নেই।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১১৫



১৭ মে, ২০১৫

সহী ইসলামের খোঁজে

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

"রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় করলে আল্লাহর গজব নেমে আসবে। কারণ এটা ইসলামসম্মত নয়।"

এমন লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিরা সবাই মুখে ইসলামসম্মতভাবে দাড়ি রেখেছে। মাথায় টুপি পরা। প্যান্ট পরা পায়ের গোড়ালির ওপরে। তবুও তারা সহী মুসলমান নয়! 

কারণ -
সহী মুসলমান হচ্ছে সেই মডারেট, যে প্যান্ট হাঁটুর কাছাকাছি পরে ঘুরে বেড়ায়। জীবনে মাথায় টুপি দেয় না। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না, তবে বলে বেড়াবে, "ইহা সহী ইসলাম নয়!"
আটক হওয়া ব্যক্তিরা মৌলবী এবং ধর্মান্ধ। কুরবানির গরুটা জবাই করার জন্য তাদেরই লাগে। তবুও তারা সহী মুসলমান নয়!

কারণ -
সহী মুসলমান হচ্ছে সেই মডারেট, যে কুরবানীর ঈদের দিন নামাজটাও পড়ে না। বসে গরুর হাড্ডি চিবায় আর ফেসবুকে তর্ক করে বেড়ায়, "ইহা সহী ইসলাম নয়!"
এই আটক হওয়া জঙ্গিরা অন্য যে কোনো মডারেট মুসলিমদের চেয়ে কুরান হাদিস বেশিই পড়েছে। তাদের ওয়াজ শোনার জন্য কত টাকা ব্যয় করে ফেলছে মুসলমানেরা। তবুও তারা সহী মুসলমান নয়! 

কারণ- 
সহী মুসলমান হচ্ছে মডরেট খচ্চরেরা, যারা এক লাইনও কুরান-হাদিস না পড়ে, অনলাইনে সানি লিওনের আপডেট ভার্সন খুঁজে খুঁজে মন্তব্য করে বেড়াবে, "ইহা সহী ইসলাম নয়!"
সেই মোল্লারা কুরান পড়ে হাফেজ। অথচ তারা নাকি কুরান শরীফ বোঝে না। কিন্তু তাদের দাবিটাই ইসলামসম্মত! তাদের দাবি - নাস্তিক রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় না খুলে কোনো মুসলিম দার্শনিকের নামে খোলা হোক। নাস্তিকের জন্য তাদের কত ঘৃণা, তবু তারা মুসলমান নয়!

কারণ - 
মুসলমান হচ্ছে সেই মডারেট, যে ৩০টা রোজার একটাও না রেখে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে মেয়ে দেখবে আর ইসলামে সম্মান রক্ষায় বলে বেড়াবে, "ইহা সহী ইসলাম নয়!" 

মূত্রভাষা আরবি চাই - ২

পথপাশে, দেয়ালে বা যত্রতত্র নির্লজ্জের মতো ছ্যাচ্ছেড়ে মূত্রত্যাগ করার সৌরভময় ঐতিহ্যটি অনেক বাঙালি পুরুষের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই অভ্যেসটা তাদের এতোটাই প্রবল যে, জলবিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কোনও নোটিস কোথাও থাকলেও কেউ তা নোটিসও করে না, বা করলেও পাত্তা না দিয়ে নির্বিকার চিত্তে বহুশাখাধারী মূত্রধারা সৃষ্টি করে চলে ঠিক সেখানেই। 

বাঙালির এহেন মূত্রত্যাগাভ্যাস পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার একটা উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলায় লেখা 'এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ' বাণীটি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে আরবি ভাষা দিয়ে। 

গড়পড়তা বাঙালি আরবি পড়তে পারে না, বা পড়তে পারলেও বুঝতে পারে না। এদেরকে আলিফ-অক্ষর উটমাংস বলা যায়, বোধহয়। তবে যেহেতু আরবিকে পবিত্র ভাষা জ্ঞান করা হ্যাংলা বাঙালি আরবি-চটিকেও চুমু খেতে পারে, তাই আরবিতে লেখা নোটিস দেখে অন্তত আরও কিছুক্ষণ মূত্রনিয়ন্ত্রণবিড়ম্বনা সইতে হবে মুছলিম পুরুষদের আলিফ বেচারাকে। 

উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে প্রাসঙ্গিক ভিডিও-তে। 

সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে পরিপূর্ণভাবে সফল করে তুলতে দলে দলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান তুলুন:

মূত্রভাষা আরবি চাই!


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজনের আইডিয়া থেকে ওপরের ছবিদুটোয় ফটোমাস্তানি করেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম


কী হয়েছিল সেই রাতে অথবা শবেমেরাজের ইতিহাস

লিখেছেন শান্তনু আদিব

গত রাত ছিলো পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবেমেরাজ নামেই আমরা জানি। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই রাতে ইসলামের নবী যুদ্ধ ছেড়ে হয়ে উঠেছিলেন প্রেমের নবী, যদিও তা শুধু এক রাতের জন্যই। বর্বর আরবেরা সেই প্রেমের মর্ম বোঝেনি, বোঝেনি, প্রেম সে তো প্রেমই, হোক সে আপনকীয়া অথবা পরকীয়া। বোঝে না নাস্তেকরাও, তাই তারা প্রেমের নবীর প্রেমময় রাতের নামে মন্দ কথা বলে।

#

নবী তখন সদ্য বিপত্নীক। নবীর ফুপু এবং বউ বুড়ি খাদিজা মরেছে, নবীরও হাড় জুড়িয়েছে। বিগত দুই যুগের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত নবীর আকাশে-বাতাসে তখন শুধুই স্বাধীনতার গন্ধ। বিগতযৌবনা পয়সাওয়ালা দজ্জাল বউ-এর সাথে যে না থেকেছে, সে ভিন্ন অন্য কেউ এই ব্যথা বুঝবে না।

যাই হোক, মুল গল্পে ফিরে আসি, সে রাতে নবী তার চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে পবিত্র কাবার পাশে সাইকাডেলিক শ্রুম সহযোগে জিকির আসগারে ব্যস্ত ছিলেন। কে না জানে, জিকির আসগার মানেই তা বোরিং একটি কাজ এবং উন্নত মানের ঘুম পাড়ানিয়া। রাতের এক পর্যায়ে জিকির করতে করতে ঘুমিয়ে গেল সবাই, শুধু ঘুম আসে না নবীর। নবী তখন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, তার চোখ হাসে, তার মুখ হাসে, তার টগবগিয়ে খুন (রক্ত) হাসে ঈমানদন্ডে। মরুভূমির রাতের ঠাণ্ডা বাতাসেও সেই টগবগানি থামে না।

স্বচ্ছ আকাশের মিটিমিটি তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তারাগুলো কার কথা যেন মনে করিয়ে দিল, যদিও সে নাইবা এলো, তাই বলে কি নবীর তার কাছে যেতে মানা? শুধু শ্বশুর বাড়ি মধুর হাঁড়ি নয়, গোপন প্রেমিকার বাড়িও মধুর হাঁড়ি হতে পারে, যদি প্রেমিকার স্বামী বাড়ি না থাকে আর তার ওপরে যদি হয় সেই প্রেমিকার নাম হয় হানি। যেই ভাবা সেই কাজ, ঘুমোচ্ছে চ্যালাচামুণ্ডারা। এখনই সময় তার কাছে যাবার।

#
নবী তো গেলো হানির মধু খেতে, এদিকে চ্যালাচামুণ্ডারা তো নেশায় বুদ। এর মাঝে ঠাণ্ডা, বোধহয়, একটু বেশি পড়েছিল অথবা হিসু চাপায় কোনো এক চ্যালার ঘুম গেল ভেঙ্গে। হিসু করে এসে খেয়াল হল, নবী সেখানে নেই। ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল, নবীকে কি কুরাইশেরা ধরে নিয়ে গেল? না কোনো শয়তান জ্বিন তাকে উধাও করল? নাকি কোনো ইহুদি ডাইনি বুড়ির তুকতাকে নবী ছোট হতে হতে পিঁপড়ার সমান হয়ে গেল। সেই চ্যালা ডেকে তুলল অন্য চামুণ্ডাদের। সবার মনেই ভয়, সবার মনেই সংশয়। তাই তারা ঠিক করল, দলবেঁধে নবীকে খুঁজতে বের হবে।

খুঁজতে খুঁজতে তাদের চোখে পড়ল, সারা মক্কায় এত রাতেও শুধু হানির বাড়িতেই টিমটিম করে হ্যারিকেন জ্বলছে। তা দেখে একটু কাফের টাইপের এক চ্যালা, যার আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি কম ছিল, বলে উঠল, "নিশ্চয়ই নবী গেছে হানির মধু খেতে।" অন্যরা সবাই শুনে তাকে এই মারে কি সেই মারে! নবীর মত মানুষ কি পারবে খাদিজার মত কাউকে ভুলে হানির মধু খেতে! কিন্তু সন্দেহ এমনই এক জিনিস, যা কাউকেই ছাড়ে না। শয়তানের প্ররোচনায় তারা তখন হানির ঘরে নক দিল।

#

ঘরের মাঝে মেরাজরত অবস্থায় কেঁপে উঠল নবী এবং উম্মে হানির বুক। কী হবে, কী হবে এখন, জাতকুলমান সবই আজ যাবে। কিন্তু নবী তো শুধু হানির মধু খেয়ে বড় হয়নি, উট দুম্বা থেকে শুরু করে বুড়ি খাদিজার শুকনা মধু পর্যন্ত খেয়েছে। ফিচলা বুদ্ধি তারও কম না। প্রেমের নবী জানে যে, তার চ্যালারা তেমন প্রগ্রেসিভ না। আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি আছে তাদের, এবং গায়ে-গতরে বড় হলেও এরা আসলে ভোদাই কিসিমের। তাই তাড়াতাড়ি কাপড় ঠিক করে নবী দরজা খুলে সবাইকে সাদর সম্ভাষণ জানায়।

#
আরবি মেরাজ শব্দটি আরাজা থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। আপনারা সবাই জানেন, মিশনারি পজিশন কী জিনিস এবং উহাই একমাত্র সহীহ সঙ্গমের তরিকা। যেখানে নারীরা থাকবে নিচে এবং পুরুষেরা তাদের উপরে আরোহণ করবে। ইংরেজিতে যাকে বলে রাইডিং। নবীও উম্মে হানির ঘরে হানির ওপর আরোহণ করেছিল, আহরণ করেছিল মধু। বিগট, মাথামোটা, খ্যাত, নট আধুনিক ভোদাই কিসিমের সাহাবীদেরকে কিন্তু নবী মিথ্যা বলেনি পুরোপুরি, তবে এই একটু ঘুরিয়ে বলেছিল এই যা। বলেছে, ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়েছে, হয়েছে স্বর্গ ভ্রমণ। দুই যুগের উপোসী নবীর কাছে নিশ্চয়ই সে রাত ছিল স্বর্গভ্রমণের সমতুল্য আর উম্মে হানি নিশ্চয়ই ছিল সে রাতের ঈশ্বর।

১৬ মে, ২০১৫

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮৯

পাঠিয়েছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন নাজমুল হোসেন

ধর্মই সকল কৌতুকের উৎস

লিখেছেন ইতু ইত্তিলা

“বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদিতে প্রাণী বা বস্তু কিছুই ছিল না। ‘অপ এব সসর্দাদৌ’- প্রথমেই জলের সৃষ্টি হলো। এই ব্রহ্মাণ্ডব্যাপী মহাসমুদ্রের ওপর বিষ্ণু মহানিদ্রায় শায়িত ছিলেন। তাঁর নাভিকমলে ছিলেন ব্রহ্মা। এদিকে বিষ্ণুর কানের ময়লা থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুই দৈত্যের জন্ম হলো। দৈত্যেরা ব্রহ্মাকে হত্যা করতে উদ্যত হলে ব্রহ্মা মহাময়া ও বিষ্ণুর স্তব করতে লাগলেন। মহামায়া প্রসন্ন হলে বিষ্ণুর মায়ানিদ্রা দূর হলো। তিনি মধু ও কৈটভকে বধ করলেন। ঐ দুই দৈত্যের মেদ থেকে মেদিনী অর্থাৎ পৃথিবীর সৃষ্টি হলো। আকাশ, বাতাস, স্বর্গ, পাতাল সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা ক্রমে সবই সৃষ্টি হলো। বিশ্ব ছিল সম্পূর্ণ তমসাচ্ছন্ন। চন্দ্র, সূর্য ও তারকারাজি সৃষ্টি করে ঈশ্বর অন্ধকার দূর করলেন।

এদিকে কশ্যপ মুনির দুই পত্নী - দিতি ও অদিতি। দিতি থেকে দৈত্যদের এবং অদিতি থেকে জন্ম হলো দেবতাদের। এখন মানুষ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ব্রহ্মা সৃষ্টি বিস্তারের জন্য মানসপুত্র ঋষিদের সৃষ্টি করলেন। কিন্তু ঋষিরা বংশবিস্তারে মনোযোগ না দিয়ে তপস্যায় মগ্ন হলেন। ব্রহ্মা প্রথম নারী ও পুরুষের সৃষ্টি করলেন। প্রথম সৃষ্ট পুরুষের নাম স্বায়ম্ভুব মনু, নারীর নাম শতরূপা। মানুষ মনুর সন্তান বলে মানব নামে পরিচিত।"
(সুত্র: হিন্দু ধর্ম শিক্ষা, নবম দশম শ্রেণী, শিক্ষাবর্ষ ২০১২)

সবাই বুঝলেন তো, কীভাবে পৃথিবী সৃষ্টি হলো, কীভাবে মানুষ সৃষ্টি হলো? ধর্মকারীর শ্লোগান: ধর্মই সকল কৌতুকের উৎস। হোক কৌতুক, তবুও ধর্ম তো, নাকি? একে নিয়ে কি হাসাহাসি করা যায়? পাপ হবে না? 

কেউ হাসবেন না। এতে অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। আর অনুভূতি আঘাত পেলে এর চিকিৎসা পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহে উল্লেখ না থাকার কারণে ধার্মিকেরা আপনাকে হত্যা করে আপনার রক্তকে ক্ষত স্থানে মলম হিসেবে ব্যবহার করবে। 

একবিংশ শতাব্দীতে মাথার ওপর ফ্যান-লাইট নিয়ে, ল্যাপটপ-মোবাইল ব্যবহার করতে করতে যখন পৃথিবী সৃষ্টির এমন কাহিনী ক্লাসে পড়ানো হয়, তখন কি আর কিছু বলার থাকে? ‘অমুক ধর্মে কৌতুক আছে, কিন্তু আমার ধর্মে নেই’ - এই কথা বলে কেউ, প্লিজ, আপনার ধর্ম নিয়ে আমাকে হাসতে এবং হাসাতে বাধ্য করবেন না, অনুভুতির প্রতি যত্নবান হোন। ‘আমার ধর্মই একমাত্র সত্য, বাকি সব মিথ্যা’  - সব ধার্মিকের মতেই তার নিজ নিজ ধর্ম হল একমাত্র সত্য, এটা আমরা জানি।

 - যার যার ধর্ম সে পালন করুক, এতে নাস্তিকদের সমস্যা কোথায়?
- কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করার পর সে যেই পরিবারে জন্মগ্রহণ করে, সেই পরিবারের ধর্ম লাভ করে। নাস্তিকদের কাছে মূল সমস্যা হল সেখানে। একটি শিশু জন্মের পর থেকেই তার মগজ ধোলায় কার্যক্রম শুরু। তাকে চিন্তা করার সুযোগ দেয়া হয় না, জানার সুযোগ দেয়া হয় না। নিজের মত বলে যে কিছু আছে, সেটা বোঝার আগেই তাকে মেনে নিতে হয় ধর্মীয় মত, বিশ্বাস করতে হয় ধর্মে। আর ছোটবেলা থেকেই যে-বিশ্বাস তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, সেই বিশ্বাসের ভূত মাথা থেকে তাড়ানো কোনো সহজ কাজ নয়। নাস্তিকেরা ব্লগে-ফেইসবুকে লেখালেখি করছে, মানুষের মাথা থেকে সেই প্রাচীন বিশ্বাসের ভূত তাড়ানোর মত কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছে। বিশ্বাসীরা না বুঝে হত্যা করছে এসব প্রগতির পক্ষের মানুষদের। কিন্তু আমরা থামছি না। 

যে-কাজে নিজের স্বার্থ থাকে, সেই কাজটি হয়তো মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে থামানো যায়। কিন্তু যেই কাজে নিজের কোনো স্বার্থ নেই, অন্যের জন্য যে-কাজ, সেই কাজে ভয় দেখিয়ে থামানো সম্ভব নয়। কারণ নিজের কথা না ভেবে অন্যের জন্য যারা ভাবছে, তারা নিজের জীবনের পরোয়া না করেই এই কাজ করছে, তারা অন্যের জন্য নিজের জীবনটি উৎসর্গ করছে। তারা মৃত্যুকে ভয় করে না।

- কারো বিশ্বাসে আঘাত দেয়ার কী দরকার? নাস্তিকরা বেশি বাড়াবাড়ি করে!


- বিশ্বাসে আঘাত না করে কি সভ্যতা এগিয়ে নেয়া সম্ভব? পুরানো বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে রাখলে সভ্যতা কী করে এগোবে? পৃথিবীতে এত এত ধর্ম। পুরাতন ধর্মকে আঘাত করেই তো নতুন-নতুন ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে। সেই নতুন আবার কালের বিবর্তনে পুরাতন হয়েছে। কাজেই বিশ্বাসে আঘাত কোনো নতুন বিষয় না। বিশ্বাসে আঘাত না করলে সভ্যতা থমকে দাঁড়াবে। কিন্তু সভ্যতার চাকা কি থামিয়ে দেয়া সম্ভব? সভ্যতা এগিয়ে চলবে। হয়তো এতে অনেক ত্যাগ লাগবে, অনেক রক্ত লাগবে। আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমাদের রক্তের স্রোতেই আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব সভ্যতাকে।

লিন্ডসে লোহানের বুক জুড়ে আল্লাহর নাম

আদেখলা মুছলিমদের হ্যাংলামো প্রকট হয়ে ওঠে কোনও সেলেব্রেটির ইছলাম ধর্ম গ্রহণের সংবাদে বা গুজবে। মমিনমহল মাতামাতি-মগ্ন হয়ে মাশাল্যা-আলহামদুলিল্যা জপতে থাকে। 

তেমন আরেকটি সুযোগ তাদের সামনে হাজির। হলিউডের নায়িকা লিন্ডসে লোহান ইছলামের পুশিতল শায়াতলে এসেছেন বলে ধারণা করছে কেউ কেউ। মদিনার ঘরে ঘরে আজ আনন্দ।

তবে লিন্ডসে লোহান যে ইছলামের পথে আসতে পারেন, এমন ইঙ্গিত ধর্মকারীতে দেয়া হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে।

বানিয়েছেন কৌস্তুভ

Killiever - একটি নতুন শব্দ

বিভিন্ন ও বিচিত্র ধরনের অভিধানের অন্ত নেই ইন্টারনেটে। তবে 'জনতার অভিধান' হিসেবে পরিচিত Urban Dictionary-র মতো অভিনব অভিধান খুব বেশি আছে বলে মনে হয় না। এর বৈশিষ্ট্য - কোনও ভাষাবিদ বা বিশেষজ্ঞ এই অভিধানের জন্য শব্দ ও শব্দার্থের জোগান দেয় না। দেয় আমজনতা। তাদের জমা দেয়া শব্দ বা শব্দার্থ অভিধানটির সম্পাদকমণ্ডলীর ভোটে প্রকাশিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অপ্রচলিত বা একেবারেই আনকোরা শব্দও এই অভিধান প্রকাশ করে থাকে।

তো আমি একবার (২০১৩ সালে) একটা ইংরেজি শব্দ বানিয়ে সেটির অর্থসহ জমা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পরেই ইমেইল-এ উত্তর পেয়েছিলাম: শব্দটি জনতার অভিধানে ঠাঁই পেয়েছে এই ঠিকানায়। প্রেরকের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলাম - dhormopocharok (ধর্মপচারক)।

বানানো সেই শব্দটি অভিধানে এভাবে প্রকাশিত হয়েছে:

Killiever

A believer who kills in the name of God.

What a killiever Bin Laden was!

by dhormopocharok August 22, 2013

এখন মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় শব্দটির উদাহরণ-বাক্য হতে পারতো এরকম:

Bangladesh is a very safe country for killievers. 
অথবা
Killievers don't get punished in Bangladesh.

#

এই অভিধান থেকে কয়েকটি মজাদার শব্দার্থ পড়ে নিন:

Islam 

1. A religion of peace which teaches that it is proper to eliminate people who question its peacefulness.

2. A religion of perpetual outrage and violence. It's followers have a dangerous preoccupation with death. They keep saying Islam means peace, but that was a misspelling, for piece. Like they want a piece of you me and everyone who isn't a Muslam!

Islamophobia

A word constructed by the blood thirsty, pedophile islamofascist to try and place blame on everyone else for their current geopolitical situation.

Muslim
1. Somebody who goes to live in other peoples countries but refuses to integrate with or tolerate their way of life. At the same time they demand we tolerate them and make all the changes to accomodate their stoneage way of life. 
Not all muslims are terrorists, but most terrorists are muslims. 

2. Possibly an acrinim for: Must Use Something Lethal In Massacre!

Religious
Something which is both hilarious and deeply saddening.

Koran
A superior brand of toilet paper, famous for its cleaning capabilities of removing excess fecal matter from the rectum after defacating. It also has many other uses such as wiping vaginal blood, cleaning up after masturbation, and can even be used as kindling for a camp fire.

১২ মে, ২০১৫

বেহেশতের সাইনবোর্ডসমূহ

লিখেছেন ফাহিম আল হামীম

বেহেশতের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে যেসব সাইনবোর্ড লাগানো থাকবে:

১. বেহেশতের পবিত্রতা রক্ষা করুন

২. যেখানে সেখানে কনডম ফেলিবেন না

৩. আরেকজনের হুরির দিকে নজর দিবেন না

৪. সহবতের সময় অতিরিক্ত শব্দ করিবেন না, এতে শব্দদুষণ হইতে পারে, যাহা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর

৫. সহবতের পর পরই সালসাবিলে গোছল করিয়া নিন, মনে রাখিবেন - পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ

৬. সালসাবিলে সাবান মাখিয়া গোছল করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, ইহাতে মৎস্যসম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়

৭. আপনার হুরিদের পর্দা করিতে বলুন

৮. যৌনরোগ লুকানোর বিষয় নহে, আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন

৯. দৌহিক মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করুন, বেহেশতি স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমুহতে তাহা বিনামূল্যে পাওয়া যাইতেছে

১০. সহবতের জন্য খোলা উদ্যান অপেক্ষা গাছের অথবা ঝোপ-ঝাড়ের আড়াল বাছিয়া নিন

১১. শুধু জান্নাতি স্ত্রীদিগের সহিত সহবত না করিয়া নিজের দুনিয়াবি স্ত্রীগণের মধ্যে যারা জান্নাতবাসী হইয়াছেন, তাহাদেরকেও সময় দিন, নতুবা তাহারা মনঃক্ষুণ্ণ হইতে পারেন

১২. বেহেশতি সুরা মাত্রাতিরিক্ত পান করা হইতে বিরত থাকুন; মাতাল হইয়া অন্য জান্নাতিদের সহিত অসদাচরণ করিবেন না

১৩. দুনিয়ার যে সকল নারী জান্নাতবাসি হইয়াছেন, তাহাদের দিকে কুদৃষ্টি দিবেন না।

১৪. যেহেতু বেহেশতে সকল নারীই যুবতী হইয়া প্রবেশ করেন, অতএব নানী-দাদী প্রভৃতি কারো প্রতি কুদৃষ্টি প্রদান হইতে বিরত থাকুন

১৫. আল্লাহর দিদার লাভ বা সাক্ষাতের সময় হুরীদের সহিত সহবত বা সহবত করার কল্পনা করা হইতে বিরত থাকুন

১১ মে, ২০১৫

চিত্রপঞ্চক - ১১৮

মোসলেমদের আল্যা এতই ফকিন্নি এবং দুর্বল যে, তার মেহমানদের ঠিক মত দেখভাল করতে কিংবা তাদের সমস্যা সমাধান করতে অপারগ। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা আল্যার চেয়ে বহুগুন শক্তিশালী এবং সাহায্য করতে সক্ষম। এ কথা মোসলেমরাও জানে, তাই লুজ্জা-শরমের মাথা খাইয়া দুর্বল ফকিন্নি আল্যার মেহমানরা এক মহিলার কাছে সাহায্য ভিক্ষা করছে। মগাই মগা! (ছবি ও মন্তব্য: ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট)

আস্তিকীয় ধাঁচের যুক্তি: আমার বিয়ারের গ্লাসে বানরের প্রতিকৃতি ভেসে উঠেছে, অতএব বিবর্তন সত্য 

এতো আচোদা ক্যামনে হয় মাইনষে!

ছহীহ মুছলিম হাঁস ও তার সুন্নতী পরিবার (পাঠিয়েছেন টোস্টার)

ধর্মদুর্গত রাশিয়ায় এখন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যিশুর কাতারে (পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল)

কোরান কুইজ – ৬১

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৭১: দোজখের খাদ্য কী হবে?

১. শুধুই বিষাক্ত কাঁটাগাছ
২. শুধুই পুঁজ
৩. যাকুম ফল

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.