২৬ মার্চ, ২০১৫

অভিজিৎ হত্যার এক মাস

লিখেছেন বন্যা আহমেদ

মার্চ মাসের ছাব্বিশ তারিখ আজ – ঠিক এক মাস আগে আমার স্বামী অভিজিৎ রায় এবং আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

অভিজিৎ বিজ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে লেখালেখি করতো, কঠোর সমালোচনা করতো ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে, এবং প্রতিষ্ঠা করেছিল মুক্তচিন্তকদের জন্য বাংলায় সর্বপ্রথম একটা অনলাইন প্লাটফর্ম – মুক্তমনা। এই সবের জন্য, ধর্মীয় মৌলবাদীরা তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

হামলাটা ঘটেছিলো জনাকীর্ণ এলাকায়, অসংখ্য মানুষের চোখের সামনে। সেখানে নিরাপত্তা ক্যামেরা ছিলো, ছিলো পুলিশ চেকপয়েন্ট। অভিজিৎ হত্যার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ‘আনসার বাংলা ৭’ নামের একটি ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার কৃতিত্ব দাবী করে। এতো কিছুর পরেও এক মাস পরে এসে একজন মাত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা ছাড়া এই তদন্তের আর কোনো অগ্রগতি নেই।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, অভিজিৎ হত্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থেকেছে। এটি খুবই আশংকাজনক এবং ভীতিকর একটি অবস্থা। ‘আনসার বাংলা-৭’ এর নেতারা এখন কোথায় লুকিয়ে আছে? কেনো তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরা হচ্ছে না?

যুক্তিবাদী লেখকদের ওপর এরকম হামলা বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। বিচার না হবার কারণে সন্ত্রাসীরা নিজেদের ভেবেছে দুর্জেয়, আর হতাশায় মুষড়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। আমরা দাবি জানাই যে, বাংলাদেশ সরকার ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলুক, লেখক-হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুক।

ছাব্বিশ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম একটা মূলনীতি ছিলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা ছিলো সকল মানুষের বাক স্বাধীনতাকে। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা উপলদ্ধি করছি যে, আজকে সেই দেশেই ধর্মোন্মাদদের অরাজক কাজকর্মের বিচার চাইবার জন্য আমাদের কাকুতি-মিনতি করতে হচ্ছে।

অভিজিৎ-এর স্ত্রী, তাঁর সহযাত্রী লেখক, এবং একজন মুক্তমনা হিসাবে, আমি আবারো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এবং এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য।

যার যেটা অস্ত্র - ১০

কলম নামের অস্ত্রের জবাবে কলম ব্যবহার করতে অক্ষম ধর্মবিশ্বাসীরা হাতে তুলে নেয় মারণাস্ত্র। কিন্তু এরা জানে না, ইতিহাসে কখনওই কলমকে স্তব্ধ করা যায়নি।



আবু সুফিয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুপ্তঘাতক প্রেরণ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৭৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসনের (হিজরত) পর তাঁর ও তাঁর অনুসারীরা মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় ও মদিনার চতুষ্পার্শ্বের অন্যান্য অমুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে আগ্রাসী, নৃশংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আদাল ও আল-কারা গোত্রের কিছু লোক হুদায়েল গোত্রের কিছু লোকের সহায়তায় মুহাম্মদের ছয়জন অনুসারীকে কীভাবে আক্রমণ করে তাদের চারজনকে খুন এবং খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননা নামের দুইজনকে বন্দী করে মক্কায় ধরে নিয়ে এসেছিলেন এবং হুজায়ের বিন আবু ইহাব আল-তামিমি ও সাফওয়ান বিন উমাইয়া নামক দুই কুরাইশ তাদেরকে কিনে নিয়ে কী কারণে হত্যা করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর, অনতিবিলম্বে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারবকে হত্যার আদেশ সহকারে ‘আমর বিন উমাইয়া (Amr bin Umayya)’ নামক তাঁর এক আদি মক্কাবাসী অনুসারীকে (মুহাজির) মক্কায় প্রেরণ করেন। আমরকে সাহায্য করার জন্য মুহাম্মদ তাঁর এক আদি মদিনাবাসী অনুসারীকে ও (আনসার) তার সঙ্গে পাঠান।

কিন্তু এই দুই ঘাতক আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। আবু সুফিয়ানকে হত্যার আগেই মক্কাবাসীরা ‘আমর’-কে চিনে ফেলে এবং তারা তাদেরকে ধাওয়া করে। ঘাতকরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

পালিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে ঘাতক আমর বিন উমাইয়া তিনজন মানুষকে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করে, যাদের একজন ছিলেন এক-চোখ-অন্ধ প্রতিবন্ধী।

ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধীর সতেজ চোখটির ভেতরে আমর তার ধনুকের আগা ঢুকিয়ে দিয়ে সজোরে চাপ দিতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা লোকটির চোখের ভিতর দিয়ে ঢুকে তাঁর ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে!

কী অপরাধে ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধী মানুষটিকে এমন অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করা হয়েছিল, তার প্রাণবন্ত বিবরণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিখে রেখেছেন!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল-তাবারীর বর্ণনা: [1] [2] [3] [4]

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামা বিন আল ফাদল হইতে < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে < জাফর বিন আল-ফাদল বিন বিন আল-হাসান বিন আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত হয়েছে যে শেষ উক্ত ব্যক্তিটি বলেছেন:

'খুবায়েব ও তার সঙ্গীদের খুন হওয়ার পর আল্লাহর নবী আমার [আমর বিন উমাইয়া] সাথে একজন আনসারকে সঙ্গে দিয়ে এই আদেশ সহকারে পাঠান যে, আমরা যেন আবু সুফিয়ানকে খুন করি; তাই আমরা রওনা হই। 

আমার সঙ্গীর কোনো উট ছিল না এবং তার পায়ে ছিল জখম, তাই আমি তাকে আমার উটের ওপর সওয়ার করে ইয়াজাজ উপত্যকা পর্যন্ত নিয়ে আসি ও তার এক কোণে পশুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে আমরা বিশ্রাম নিই। 

আমি আমার সঙ্গীর কাছে এই প্রস্তাব দিই যে, আমরা আবু সুফিয়ানের বড়িতে যাব ও যখন আমি তাকে হত্যার চেষ্টা করবো, তখন সে চারদিকে নজর রাখবে। যদি কোনো গোলমাল হয় কিংবা সে যদি কোনো বিপদের আশংকা করে, তবে সে যেন উটটির কাছে ফিরে আসে ও মদিনায় প্রত্যাবর্তন করে আল্লাহর নবীকে খবরটি জানায়; সে আমাকে ফেলে রেখেই যেতে পারে এ কারণে যে, এই জায়গাটি আমার খুব পরিচিত ও আমি দ্রুত হাঁটতে পারি।

আমার কাছে ছিল ঈগলের পালকের মত এক ছোট ছুরি, যখন আমরা মক্কায় প্রবেশ করি, তখন আমি তা এমনভাবে প্রস্তুত রাখি, যদি কেউ আমাকে ধরার চেষ্টা করে, তবে আমি তা দিয়ে তাকে খুন করতে পারি। 

আমার সঙ্গীর অনুরোধ এই যে আমরা সাত বার ক্বাবা প্রদক্ষিণ করি ও কয়েক রাকাত নামাজ পড়ে কাজটি শুরু করি।

আমি তাকে বলি যে, আমি মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে তার চেয়ে অনেক ভাল জানি: সন্ধ্যার সময় তারা তার প্রাঙ্গণে পানি ছিটায় ও তাতে বসে থাকে, ফলে চিত্রবিচিত্র ঘোড়ার চেয়েও বেশি সহজে তারা আমাকে চিনতে পারবে।

কিন্তু সে আমাকে সেই অনুরোধ করতেই থাকে যতক্ষণ না সে যেটা চেয়েছে আমরা তা-ই করি। যখন আমরা ক্বাবা থেকে বের হয়ে তাদের সেই জটলার একটির পাশ দিয়ে যাই, তখন এক লোক আমাকে চিনে ফেলে ও তার গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলে,

"এই সেই 'আমর বিন উমাইয়া'!"

তারপর মক্কাবাসীরা আমাদের দিকে দৌড়ে আসে. ও বলে, "আল্লাহর কসম, ‘আমর’ কোনো ভাল কাজে আসেনি। সে অনিষ্ট ছাড়া কখনো কোনো ভাল কিছু নিয়ে আসে না;" কারণ ধর্মহীন সময়ে ‘আমর’ ছিল হিংস্র (Violent) ও অবাধ্য (Unruly) এক ব্যক্তি।

তারা আমাদের পিছু পিছু ছুটে আসে এবং আমি আমার সঙ্গীকে পালাতে বলি। কারণ আমি যে আশংকাটি করেছিলাম, ঠিক তাইই ঘটেছে, এই অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে পাবার কোনো উপায়ই নেই।

আমরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বের হয়ে আসি এবং পাহাড়ের ওপর উঠি ও এক গুহার ভেতর ঢুকে সেখানে রাত্রিযাপন করি; তাদের কাছ থেকে আমরা সফলভাবে পলায়ন করি, তারা মক্কায় ফিরে যায়।

গুহার ভেতরে ঢুকে আমি তার প্রবেশপথ আড়াল করার জন্য কিছু পাথর জড় করে রাখি ও আমার সঙ্গীকে তাদের পশ্চাদ্ধাবন বন্ধ হবার পূর্ব পর্যন্ত চুপ থাকতে বলি; কারণ তারা সেই রাতে ও তার পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সন্ধান করতে পারে।

যখন আমরা গুহার ভেতরে, তখন ওসমান বিন মালিক বিন ওবায়েদুল্লাহ আল-তায়েমি তার ঘোড়ার ঘাস কাটার জন্য সেখানে আসে। সে আমাদের নিকটে আসতেই থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে গুহার প্রবেশ পথের একদম সামনে এসে হাজির হয়।

আমি আমার বন্ধুকে তার পরিচয় বলি এবং আরও বলি যে, সে আমাদেরকে মক্কাবাসীদের কাছে ধরিয়ে দিতে পারে; আমি বাহিরে বের হয়ে আসি ও ছুরিটি দিয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করি।

সে এত জোরে চিৎকার করে যে, মক্কাবাসীরা তার চিৎকার শুনতে পায় ও তারা তার দিকে ছুটে আসতে থাকে।

আমি গুহার মধ্যে ফিরে যাই ও আমার বন্ধুকে বলি যে, যেখানে সে আছে, সেখানেই যেন সে অবস্থান করে।

মক্কাবাসীরা তার চিৎকার অনুসরণ করে ছুটে আসে; তারা যখন তার সন্ধান পায়, তখন সে মুমূর্ষু অবস্থায়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, কে তাকে ছুরিকাঘাত করেছে; সে তাদেরকে বলে যে, আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি, তারপর তার মৃত্যু হয়।

তারা জানতে পারে না, আমরা কোথায় আছি, তারা বলে, "আল্লাহর কসম, আমরা জানতাম যে ‘আমর’ কোনো ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে আসেনি।"

তারা মৃত ব্যক্তিটিকে নিয়ে ও তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া নিয়ে এতই ব্যতিব্যস্ত ছিল যে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ করেনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়া নাগাদ আমরা কিছুদিন গুহার মধ্যেই অবস্থান করি।

তারপর আমরা আল-তানিমে গমন করি এবং খুবায়েব কে ক্রুশ বিদ্ধ (Cross) অবস্থায় দেখি। আমার বন্ধু জিজ্ঞেস করে, তাকে ক্রুশ থেকে নিচে নামানো আমাদের উচিত কি না, কারণ সে তখন ওখানেই [বধ-কাষ্ঠে] ছিল।

আমি তাকে এই বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিতে বলি এবং তাকে আমার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে বলি, কারণ এটির চারপাশে ছিল প্রহরী মোতায়েন; যদি সে এমন কিছু দেখে, যা তাকে ভীতিগ্রস্ত করে, তবে সে যেন অবশ্যই উটটি নিয়ে চলে যায় এবং যা কিছু ঘটেছে তা আল্লাহর নবীকে গিয়ে বলে।

আমি খুবায়েবের বধ-কাষ্ঠের ওপর উঠি, তার লাশটি তা থেকে মুক্ত করি ও আমার পিঠে করে নিয়ে আসি। খুব বেশি হলে আমার চল্লিশ ধাপ যাওয়ার পর তারা আমার উপস্থিতি জানতে পায়; আমি তার লাশটি নিচে নিক্ষেপ করি ও সেটি ধড়াস্ শব্দে পতিত হয়, যা আমি ভুলতে পারি না।

তারা আমার পেছনে দৌড়ে আসে এবং আমি আল-সাফরা যাওয়ার পথ ধরি; তারা আমার পশ্চাদ্ধাবনে পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে যায়। আমার বন্ধু আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে এসে তাঁকে আমাদের ঘটনা গুলো জানায়।

আমি পদব্রজে চলতে থাকি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি দাজনান (মক্কার অদূরের এক পাহাড়) উপত্যকা দেখতে পাই। আমি আমার তীর ও ধনুক নিয়ে সেখানকার এক গুহার মধ্যে প্রবেশ করি।

আমার সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় বানু আল-দিল গোত্রের এক-চোখওয়ালা এক লোক আসে, সে তার ভেড়াগুলো চড়াচ্ছিল।

যখন সে জিজ্ঞেস করে, আমি কে, আমি বলি, আমি বানু বকর গোত্রের একজন। সে বলে যে, সে-ও বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আল-দিল গোত্রের। [5]

তারপর সে আমার পাশেই শুয়ে পড়ে ও গলার শব্দ উঁচু করে গান গাইতে শুরু করে:

'হবো না মুসলমান যতদিন থাকবো বেঁচে,
দেব না মনোযোগ তাদের ধর্মে।'

আমি মনে মনে বলি, "তুই শীঘ্রই টের পাবি!"

যেইমাত্র সে ঘুমিয়ে পড়েছে ও নাক ডাকা শুরু করেছে, আমি উঠে দাঁড়াই ও তাকে এমন ভয়ঙ্করভাবে খুন করি যা অন্য কোনো মানুষকে করা হয়নি। আমি আমার ধনুকের আগাটি তার সতেজ চোখের উপর স্থাপন করি, তারপর তাতে তা  সজোরে ছেঁদা করে (Bore down) প্রবিষ্ট করাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা তার ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে আসে।

তারপর আমি শিকারের জন্তুর মত সেখান থেকে বের হয়ে আসি এবং বড় রাস্তা দিয়ে ঈগলের মত ছুটতে থাকি, গ্রামের পর গ্রাম, তারপর রাকুবায় ও তারপর আল-নাকি; হঠাৎ সেখানে দুইজন মক্কাবাসী এসে হাজির হয়, যাদেরকে কুরাইশরা আল্লাহর নবীর ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পাঠিয়েছিল।

আমি তাদের চিনতে পারি ও তাদেরকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান করি; যখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করে আমি তাদের একজনকে তীর নিক্ষেপে হত্যা করি, আর অন্যজন করে আত্মসমর্পণ। আমি তাকে বেঁধে ফেলি ও আল্লাহর নবীর কাছে হাজির করি।

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামাহ হইতে < ইবনে ইশাক হইতে <সুলেয়মান বিন ওয়ারদান হইতে <তার পিতা হইতে < আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত:

'মদিনায় পৌঁছার পর যখন আমি [আমর বিন উমাইয়া] কিছু শায়েখ (shaykhs) আনসারদের পাশ অতিক্রম করি, তারা আমাকে দেখে আশ্চর্য হয়; কিছু নবীন লোক আমার নামটি শুনে ফেলে ও তারা দৌড়ে গিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে খবর পৌঁছায়।

আমি আমার ধনুকের দড়ি (bow string) দিয়ে বন্দীর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁধে ফেলেছিলাম; আল্লাহর নবী তাকে দেখে এমনভাবে হেসে ওঠেন যে, তাঁর পেছনের দাঁতগুলো দৃষ্টিগোচর হয়।

তিনি আমার খবর জানতে চান এবং যখন আমি যা যা ঘটেছে তা তাঁকে বলি, তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেন।’

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

বিজ্ঞান ও জিহাদ



'কম' মুসলিম, 'বেশি' মুসলিম

লিখেছেন পুতুল হক

পাকিস্তানীরা বাঙালিদের "কম" মুসলমান বলে ঘৃণা করতো। বাঙালি আজও পাকিস্তানীদের "বেশি" মুসলমান বলে ভালোবাসে। 'পাকিস্তানীরা কত্তো সুন্দর! কী সুন্দর গমের মত গায়ের রঙ তাঁদের। আহারে..., কতো উঁচা-লম্বা পাকিস্তানী শের! আর মেয়েগুলাতো জান্নাতি হুর। উর্দুতে কথা শুনলে কলিজা জুড়িয়ে যায়।' পাকিস্তানীদের সম্পর্কে এই হলো বাঙালির সাধারণ মন্তব্য! 

এই প্রশংসায় ঢাকা পড়ে যায় ৭১ এর গণহত্যার কথা, লক্ষ লক্ষ নারীর ধর্ষিত হবার কথা, সব কিছু হারিয়ে শরণার্থী হবার কথা। আমরা ভুলে গেছি কতোটা ত্যাগ স্বীকার করেছিল আমাদের পূর্বপুরুষ আমাদেরই জন্য। একটি আধুনিক, ধর্মীয় গোড়ামিমুক্ত, মানবতাবাদী রাষ্ট্র উপহার দেবার জন্য। তাঁদের ত্যাগের প্রতিদান আমরা দিচ্ছি 'পাইক্যা, আমাকে বিয়ে করো' প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে! 

৪৪ বছরেও ওরা আমাদের কাছে ক্ষমা পর্যন্ত চায়নি ৭১-এর পৈশাচিকতার জন্য। আমাদের হাতের প্ল্যাকার্ডে কি লেখা থাকা উচিত ছিল না 'ক্ষমা চাও'? পাকিস্তানের ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের সাথেও বা কীভাবে আমাদের সুসম্পর্ক থাকে? ওদের সরকার কি ওদের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছে কখনো? আমাদের বাংলাদেশেই যখন বারবার ইতিহাসের প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়, পাক হানাদার বাহিনীর বদলে শুধু হানাদার বাহিনী লেখা হয় তখন ওদের সরকারের কি ঠ্যাকা? ওদের ধর্মান্ধ, মৌলবাদী প্রজন্মের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি আশা করাটাও বোকামি। 

যাদের ঘৃণা করার কথা, তাদের আমরা বুকে জড়িয়ে ধরি আমাদেরই বাবা-ভাইয়ের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে। 

ওদের মেয়েদের রূপে আমরা মুগ্ধ হই আমাদের ধর্ষিত বোনের কান্নাকে ভুলে। 

ওদের খেলোয়াড়দের সমর্থন জানাই আমাদের মানচিত্রকে অপমান করে। 

অনেক বছর আগে ভারতের জনপ্রিয় টিভি তারকা তাঁর একটি অনুষ্ঠানে কৌতুক করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলে! শুধুমাত্র এই একটি উক্তির কারণে তাঁর আর কোনো অনুষ্ঠান আর কখনো দেখিনি। আমার খুব কষ্ট হয়েছিলো, কারণ আমার দেশের খেলোয়াড়দের অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। আঘাতটা সরাসরি আমার বুকে এসে বিঁধেছিল। এটা আমার দেশপ্রেমের প্রমান নয়, আমার শুদ্ধ আবেগ। 

একটি উক্তির কারণে শেখর সুমনকে যদি আমি আস্তাকুঁড়ে ফেলতে পারি, তাহলে পাকিস্তানীদের আমি কোথায় ফেলবো? কোথায় ফেলা উচিত? সৌদি আরবে যখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়, সেই অত্যাচার আমার ওপর অত্যাচার। 

কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, আমার তা দেখার বিষয় নয়। আমাকে যে অপমান করে, কষ্ট দেয় সে-ই আমার শত্রু। ঘৃণা করি তাকে আমি।

২৫ মার্চ, ২০১৫

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১১০



ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ১৮

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

১৭১.
- পাঁচ ওয়াক্তে মাটির লগে কপাল ঠুকলে আল্যায় এত খুশি হন কেনু। (ফাহিম আল হামিম)
- কপাল না, ভাই, পুটু দেইখা মজা পায়। (এন্টি কোয়ার্ক)

১৭২.
- ধর্মে বিয়ে করার পর সেক্সের অনুমতি দেয়া হয়েছে কেনু? (শহীদুজ্জামান সরকার)
- নবী মুহাম্মদের মত অন্যদেরও পিতৃপরিচয় নিয়া যাতে সন্দেহ না হয়। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

১৭৩.
- নবী যখন মিরাজে যান, তখন সেই যাওয়াটা কে কে দেখেছিলেন? (বাঙাল মূর্খ চাষা)
- আরে গুলিস্তান টু নারায়ণগঞ্জ 'বোরাক' সার্ভিস চলে, আর ঢাকা টু নেত্রকোনা চলে 'রফরফ' সার্ভিস। তারপরও কীভাবে আপনারা অস্বীকার করেন মেরাজের কথা? (তাহসিব হাসান)

১৭৪.
- এল্লা বলেন, কোরআন শরীফের একটি নুকতাও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। তাহলে নাস্তিকরা বা অন্য ধর্মালম্বীরা যখন কুরানের ওপর হিসু করে, আর জ্বালায় দেয়, তখন এল্লা বাধা দেন না কেন? (আৎসুকো আয়ামে)
- কোরান যখন পুড়ছিল, এল্লা তখন হুরপরীদের রোল কল কচ্চিলেন। (শাহরিয়ার কনক)

১৭৫.
- চল্লিশ বৎসরের একজন ধনাঢ্য বিধবা মহিলার জন্য কি ২৫ বৎসরের চালচুলোহীন, অনাথ ও বেকার এক অবিবাহিত যুবককে বিবাহ করা সুন্নত? মাসালা চাই। (সেক্যুলার ফ্রাইডে)
- এর পরে আবার প্রশ্ন করবেন, ছয় বছরের শিশুর সাথে ইয়ে করা সুন্নত কি না! ছেলের বৌকে বিয়া করা সুন্নত কি না! এতো প্রশ্ন করলে হবে? চান্স পাইলে সব করতে পারেন। চান্সে ছক্কা পিটানিটাই সুন্নত। (মামুনুর রশীদ রনি)
#
- মহিলাকে অবশ্যই ধন্যাঢ্য হতে হপে, ধন্যাঢ্য হলে সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তা না হলে সিল অটুট দেখে বিবাহ মুস্তাহাব। (অনুসন্ধানী আবাহন)

১৭৬.
- রাস্তার উপর নামাজ পড়ার কথা কোথায় বর্ণনা করা আছে? আজকে মিরপুর বাংলা কলেজে পরীক্ষা ছিল।পাক্কা ৫০ মিনিটের উপর কলাবাগান থেকে ধানমন্ডি ২৭ নং রোড পর্যন্ত পুরা ব্লক ছিল সুবহানবাগ মসজিদের সামনের রাস্তায় জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য। পরীক্ষা দিতে পারলাম না। ধর্মীয় কোন অনুভূতি থেকে ব্যাখ্যা দিবেন? (শরৎ শ্রাবণ)
- কাছায় চুলকানি হইলে যেমন লোক লজ্জা থাকে না, তেমনি নামাজের সুড়সুড়ি উঠলে মুমিনগো যেহানে ইচ্ছা সেহানে উপুড় হইয়া পড়ে। (হাইড রাসা)

১৭৭.
- কারা সহী মুসলামান? ১. ওহাবী, ২. শিয়া, ৩. সুন্নি, ৪. আহমাদিয়া, ৫. সুফি, ৬. আলহে হাদিস, ৭. আলহে সুন্নত, ৮. আরও অন্যান্য। (তাহসিব হাসান)
- ফাইটিং শেষে যে জিতবে। (পুতুল হক)

১৭৮.
- হাদিসে আছে নবীজির পুরুষাঙ্গকে ৩০ জন যুবকের লিঙ্গের সমপরিমান শক্তি দেয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নবীজি কোন ব্রান্ডের জাইঙ্গা ইউজ করে পুরুষাঙ্গ কন্ট্রোল করিতেন? (আধ্যাত্মিক সাধক)
- উনি জাইঙ্গা ইউজ কর্তেন না, কারণ ১ ঘন্টাও টিকতো না নয়া জাইঙ্গা। লুটের মাল, নয়া জাইঙ্গা খরিদ কর্তেই খরচ হইয়া যাইতো। এই কারণেই সুন্নতি জোব্বা। জোব্বার ঘেরে খাড়াধন ঢাকা পড়ে। (অনুসন্ধানী আবাহন)

১৭৯.
- ধর্ম অর্থ নাকি ধারণ করা। তো কী ধারণ করা? (শহীদুজ্জামান সরকার)
- ধর্ম ধারণ করে আছে নবী আর কৃষ্ণর ইচ্ছাগুলোকে। (আঁধারের যাত্রী)

১৮০.
- চাচা-ভাতিজি প্রেম প্রেগন্যাণ্ট বিয়া - বিষয়টা কত পার্সেণ্ট ইসলাম সম্মত? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- এখানে মুখ দেখে মূগের ডাল সূত্র প্রয়োগ হবে। আলী-ফাতেমা জায়েজ। অন্যদের হারাম। (নিওন সেভেন)
#
- ইসলাম অনুসারে সবাই ভাই ভাই, এখানে চাচা ভাতিজি আইলো কীভাবে ? সব ইহুদী নাসাদের ষড়যন্ত্র । (বাঙাল মূর্খ চাষা)

আগের পর্বগুলো:


আব্রাহাম্মকি


সহীহ মুসলিম তত্ত্বের পূর্বাপর এবং একটি কুপ্রস্তাব

লিখেছেন আশরাফুল আলম 

প্রবাসে বসবাস করেন যে সব মুসলিম, তাদের প্রায় সকলেই মডারেট মুসলিম, দুই একজন দুষ্ট লোক ছাড়া। তো সেই দুষ্ট লোকেরা উল্টাপাল্টা কিছু করলেই বাকি মডারেট মুসলিমেরা চিন্তিত হয়ে পড়েন, তাদের দিকে কেউ আঙুল তাক করল কি না, এই নিয়ে। টুইটারে-ফেসবুকে দ্রুতগতিতে হ্যাশট্যাগ মারেন 'সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই' জানিয়ে, অথবা হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান নানাভাবে। শেষে ব্যাখ্যা দেন এভাবে – এই যে সন্ত্রাসী, সে আসলে সত্যিকারের সহীহ মুসলিম না, সে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এইসব করছে। ইসলাম এসব সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। অতি চেনা চিত্রনাট্য, অতি ব্যবহারে জীর্ণ হওয়ার দশা, র‍্যাবের ক্রসফায়ার উপাখ্যানের মত। লন্ডন, মাদ্রিদ, টুইন টাওয়ার, সিডনী, পেশাওয়ার, কানাডা সব ঘটনার পরেই এই একই চিত্র – এইটাকে আপাতত বলা যাক ‘সহীহ মুসলিম তত্ত্ব’।

এবার আসুন, দেখে নিই, এই যুগান্তকারী তত্ত্ব কি সাম্প্রতিক মডারেট মুসলমানদের আবিষ্কার, নাকি এর সূত্র আরো কোনো গভীরে প্রোথিত?

যুক্তিশাস্ত্রে বলা হচ্ছে, ফ্যালাসি একটা এমন ধরনের যুক্তি, যা আসলে অপযুক্তি – অর্থাৎ সেটা কখনো সত্য আবার কখনো মিথ্যা। কাজেই সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাইয়ের কাজে সেই অপযুক্তি বা মানদণ্ড ব্যবহার করা যাবে না, যেহেতু সে সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে পারে না। তবে সেটা শুনতে বেশ অকাট্য যুক্তির মতই শোনায়, এবং আগে থেকে জানা না থাকলে অনেকেই এই অপযুক্তির খপ্পরে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

যারা সামাজিক গণমাধ্যমে যুক্তি-তর্কের মাঠের খেলোয়াড়, তারা এইসব ফ্যালাসির খবর রাখেন বলেই ধারণা করি। এমন একটা ফ্যালাসিকে বলা হয় ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসি। এই ফ্যালাসি একটা আশ্চর্যজনক মেশিন, যার একপাশ দিয়ে আপনি যা ইচ্ছা তাই প্রবেশ করান, অন্যপাশে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বের করে আনা যাবে। ধরুন, আপনি বলতে চান যে, সকল বাংলাদেশী শিক্ষিত। কথাটা বলেই ফেললেন হয়তো কাউকে। সে আপনাকে একজন অশিক্ষিত বাংলাদেশী সামনে এনে দেখাল। আপনি বললেন, এই লোক তো আসলে সত্যিকারের বাংলাদেশী না, কাজেই তাকে গোণা হবে না। ব্যস, প্রমাণিত হয়ে গেল যে, সকল বাংলাদেশীই শিক্ষিত। 

এভাবে আপনি সকল বাংলাদেশী দেশপ্রেমিক, সকল বাংলাদেশী শান্তিপ্রিয়, সকল বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা, সকল বাংলাদেশী রাজাকার, সকল রাজাকারই মুক্তিযোদ্ধা, এগুলো অনায়াসে প্রমাণ করতে পারবেন। আবার ধরুন, এরশাদ বললেন, সব বাংলাদেশীই প্রেমিক। আপনি তখন প্রেমিক নন, এমন একজন বাংলাদেশীর উদাহরণ দিলেন। তখন এরশাদ বলবেন, হুম, তার মানে সে আসলে প্রকৃত বাংলাদেশীই না। খেয়াল করে দেখুন, “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক” এই কথাটাই একটি অসংজ্ঞায়িত/অপ্রমাণিত কথা, এবং এই অপ্রমাণিত কথার ওপর ভিত্তি করে “প্রকৃত বাংলাদেশীই না” সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত আবার প্রথমে বলা “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক” কথাটাকে প্রমাণ করছে।

এভাবে চললে আপনি যত উদাহরণই হাজির করেন না কেন, প্রথম বাক্য “সব বাংলাদেশিই প্রেমিক”-কে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন না। এই “নো ট্রু স্কটসম্যান” ফ্যালাসিকে বাংলায় ত্যানা-প্যাঁচানি বলা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়: উনি সহিহ মুক্তিযোদ্ধা নন, উহা আসল হিন্দুধর্ম নহে, ইনি প্রকৃত রাজাকার না, উনি খাঁটি নাস্তিক না, তিনি প্রকৃত আওয়ামী লীগার না, ইত্যাদি দাবি করা হচ্ছে। এর প্রায় সবই অপযুক্তি।

এই অপযুক্তিকে যুক্তিতে পরিণত করা যাবে, যদি স্কটসম্যানকে সংজ্ঞায়িত করে ফেলা যায়। অর্থাৎ আপনি একটা/একদল ব্যক্তি/বস্তুকে যার সাথে তুলনা করছেন, সেই জিনিসগুলোর সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা বা সীমানা-চৌহদ্দি থাকা আবশ্যক। আপনি বলতে পারেন, “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক”, কোন সমস্যা নেই, যদি “বাংলাদেশী” এবং “প্রেমিক” ধারণাগুলোর একটা স্থির সংজ্ঞা থাকে, অন্তত আপনি যে অর্থে ‘বাংলাদেশী’ বা ‘প্রেমিক’ বলছেন, সেই প্রেক্ষিতে। সেই সংজ্ঞামতে কোনো অ-প্রেমিক বা অ-বাংলাদেশী খুঁজে পাওয়া যাবে নাকি যাবে না, সেটা পরের ব্যাপার – কিন্তু “সব বাংলাদেশিই প্রেমিক” বলতে গেলেই বাংলাদেশীর এবং প্রেমিকের সংজ্ঞা থাকতে হবে। দুটো উদাহরণ দিই, যাতে পার্থক্যটা বোঝা যায়।

দাবি: সকল এসএসসি পাশ লোকই ইংরেজি জানে। এসএসসি পাশের সংজ্ঞা: যার এসএসসি পাশের একটি মূল সনদপত্র আছে। ইংরেজি জানার সংজ্ঞা – ডেইলি স্টার পড়তে পারা। পড়তে পারার সংজ্ঞা হল পড়ে বুঝতে পারা। এখন যদি এমন একজন লোক পাওয়া যায়, যে এসএসসি পাশ, কিন্তু ইংরেজি জানে না, তাহলে ‘সে আসলে প্রকৃত এসএসসি পাশই না’ বলার সুযোগ নেই। সংজ্ঞানুযায়ী এই লোকটি এসএসসি পাশ, এবং সে ইংরেজি জানে না। কাজেই ওপরের দাবিটি ভুল, অর্থাৎ সকল এসএসসি পাশ লোক ইংরেজি জানে না।

দাবি: সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা। দাবি যিনি করছেন, তিনি বাংলাদেশীর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না দিয়েই এই দাবিটি করলেন। কাজেই যদি এমন একজন লোককে দেখানো যায়, যিনি মুক্তিযুদ্ধে শরীক না হয়ে বরং বিরোধিতা করেছেন, তার ব্যাপারে বলা হবে, ‘তিনি প্রকৃত বাংলাদেশী নন।’ অর্থাৎ একজন সাক্ষাৎ বাংলাদেশী অ-মুক্তিযোদ্ধা হাতে থাকা সত্ত্বেও “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” বাক্যটিকে ভুল প্রমাণ করা গেল না। এরকম ব্যতিক্রম একটা কেন, হাজার হাজার পাওয়া গেলেও “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” দাবিটি চিরদিনই সঠিক, ‘তিনি/তাঁরা প্রকৃত বাংলাদেশী নন’ ট্রাম্প-কার্ড ব্যবহার করলে। যদি বলা হত, বাংলাদেশী = বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অধিকারী যিনি (অথবা অন্য কোনো সংজ্ঞা), তাহলে আর এই গোঁজামিল সম্ভব হতো না। তখন “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” কি না, তা প্রমাণ/অপ্রমাণ করার সুযোগ থাকত।

এবারে আসি সাম্প্রতিক সময়ে সহীহ মুসলিম তত্ত্বের কিছু প্রয়োগ নিয়ে। বেশ কিছু মডারেট মুসলমানকে দেখলাম কিছুদিন আগে পেশাওয়ারে হামলার ঘটনায় এই তত্ত্ব ফলাতে। বললেন, তালেবানেরা প্রকৃত মুসলিম নয়, এরা সন্ত্রাসী। এসব সন্ত্রাসীর জন্য ইসলামের নাম খারাপ হচ্ছে। ইসলাম আদতে শান্তির ধর্ম। এমনকি খোদ তালেবানেরাও এই তত্ত্ব প্রয়োগ করল পেশাওয়ারের ঘটনায়। পাকিস্তানের তালিবান, যাদের নাম তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান, তারা প্রায় দেড়শ মানুষ মারার দায় স্বীকার করল। গুলি চালানোর আগে তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলেই গুলি চালিয়েছিল। ওদিকে আসল যে তালেবান, মানে আফগানিস্তানের তালেবান, তারা এই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করল। তারা এটাও বলেছে, পাকিস্তানের তালেবানরা সহীহ তালিবান নয়। সহীহ তালেবান মানেই হচ্ছে শান্তির বাহক, তারা কোনোদিন নিরাপরাধ মানুষ হত্যা করে না, এবং পাকিস্তানের তালেবানের এই কাজ ইসলামসম্মত নয়।

ভাবখানা এমন, যেন গুটিকয়েক উগ্র ভেজালযুক্ত তালেবানের জন্য সকল তালেবানকে দোষারোপ করা ঘোরতর অন্যায়। তাও যদি তারা ভেজালমুক্ত প্রকৃত তালেবান হত, তাহলে না হয় বলা যেত যে, অন্তত কিছু তালেবান খারাপ। কিন্তু এই তালেবানেরা সহীহ তালেবান না হওয়ায় তালেবানদের শান্তিময় ভাবমূর্তির ওপরে কোনোই আঘাত আসার উপায় নেই। যে তালেবান সন্ত্রাস করবে, সে আসলে প্রকৃত তালেবান নয়। সকল প্রকৃত তালেবান শান্তিকামী। কাজেই প্রমাণিত হলো যে, তালেবানেরা সন্ত্রাসী নয়।

‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসির অভাবনীয় প্রয়োগ দেখলেন তো? এটার আবার নানা রকমের সংস্করণ আছে। সিডনীতে যে মুসলমান লোক একটা ক্যাফেতে জনা বিশেক লোককে জিম্মি করেছিল, সে আরবী লেখা পতাকা নিয়ে গিয়েছিল সেখানে। তার যে দাবিনামা, তার আগের যে কর্মকাণ্ড, সেই অনুযায়ী ওঝা যায়, শেখ হারোন মনিস অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোয় অতি ক্ষিপ্ত। সে ২০১৩ সালে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল আফগানিস্তানে মারা যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের বাসায় হেইট-লেটার বা ঘৃণাভরা চিঠি লেখার জন্য। তার ভাষায়, “Shame on Team Australia and shame on those racist and terrorist Australians who support the governments of America and its allies including Australia.” তার ফেইসবুক পেইজে বলা হচ্ছে, সেটি ‘Team Islam’ against Australian oppression and terrorism. কাজেই সে যে ডাকাতি করতে ওই ক্যাফেতে যায়নি, সেটা স্পষ্ট। সে গেছে তার ধর্মের কাজে, ধর্মের নামে। কিন্তু বিধি বাম, তার নামে একাধিক মামলা হয়েছিল অতীতে, যার একটা মামলা তার আগের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার দায়ে। ফলে আমাদের মডারেট মুসলিমেরা বেশ আরামের সাথে সহীহ মুসলিম থিওরীর প্রয়োগ করতে পারলেন – এই লোক অ্যাটেনশান সীকার, সে ক্রিমিনাল, সে পথভ্রষ্ট, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ কোনো মুসলিম এই সন্ত্রাস করেনি, করেছে এক ক্রিমিনাল। আমরা মুসলমানেরা দায়মুক্ত, আমাদের দিকে কেউ আঙুল তুলবেন না।

এই শেখ হারোন মনিস যে মুসলিম নয়, তা কিন্তু তার এই ঘটনার আগে কেউই জানত না বা বলেনি। সে শেখ উপাধী নিয়ে তার নানা ধর্মীয় ও জেহাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তার নামে এই যে আগের ক্রিমিনাল রেকর্ড, সে কারণে কোনো মুসলমান/অমুসলমান অথোরিটি তাকে অমুসলিম ঘোষণা করেছেন বলেও জানি না। সে নিজেকে মুসলিম দাবি করেছে, ইসলামের জন্যই সে কাজ করেছে, শেষে শহীদও হল, সমস্ত মিডিয়ায় তাকে মুসলিম বলেই চিহ্নিত করা হচ্ছে, কিন্তু আমার প্রতিবেশী মডারেট বাঙালি মুসলমান তাকে ‘সহীহ মুসলমান’ মানতে নারাজ। তার দাবি, শেখ হারোন মনিস ইসলামের নাম ব্যবহার করে অ্যাটেনশান সীক করেছে। সে সন্ত্রাসী, সহীহ মুসলিম নয়। সে ইসলাম বোঝে না, বুঝলে সন্ত্রাস করত না (আবার সেই ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসি)। 

সহীহ মুসলিম কাকে বলে? যারা সন্ত্রাস করে না, তারাই সহীহ মুসলিম। যেই মাত্র কেউ সন্ত্রাস করে ফেলবে, সেই মুহূর্ত থেকেই সে ভেজালযুক্ত মুসলিম, অর্থাৎ সহীহ মুসলিম নয়। ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসির আদর্শ প্রয়োগ। এই যুক্তির ফলে দুনিয়ার কোন সন্ত্রাসীই মুসলিম নয়। তারা শুধুই সন্ত্রাসী। তাছাড়া একজন মুসলিম কি খারাপ কাজ করতে পারে না? সবাই কি সাধু হবে?

আমি যুক্তির পথে হাঁটতে চাইলাম। বললাম, মুসলমানদের সবাইকে সাধু হতেই হবে, এমন দিব্যি কেউ দেয় নি – তারাও চোর গুণ্ডা বদমাশ মলম পার্টি রাজাকার হতে পারবে। তবে এই শেখ হারোন যদি ডাকাতি করতে গিয়ে দুইজনকে খুন করত, সেক্ষেত্রে এই কথাটা প্রাসঙ্গিক হত। একজন মুসলমানের চোর/ডাকাত হওয়া, আর একজন মুসলমানের ইসলামের স্বার্থে ইসলামের নামে সন্ত্রাস করার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। সিডনীর মুসলিম গানম্যান হারোন আসলে ইসলাম থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সশস্ত্র সংগ্রামের। 

প্রতিবেশীকে কোরান থেকে কিছু আয়াত দেখালাম ইংরেজি অনুবাদে, যেহেতু আরবি জানি না। তিনি বললেন, এই অনুবাদ সহীহ অনুবাদ নয়, আপনাকে আগে আরবি শিখতে হবে। বললাম, আরবি শিখলে কী হবে? তিনি বললেন, আরবি শিখলে দেখবেন, এইটা একটা শান্তিময় আয়াত, কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অথবা না জেনে এখানে যুদ্ধ-টুদ্ধ খুঁজে পাচ্ছে। আমি বললাম, ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সেটা নিয়ে আমার আলোচনা নয়। স্বীকার করলাম যে, আপনি যেমনটা বলছেন, সেটা সম্ভব – হয়তো কোরানকে যে যার মত করে ব্যাখ্যা করে বা করছে। যেমন, কোরান বলছে, তোমরা সবাই একসাথে থাকো, একত্রে ইসলাম পালন করো – জামায়াতীরা বলছে, ইসলামে রাজনৈতিক সংগঠন করা ফরজ। কোরান বলছে, অবিশ্বাসীকে হত্যা করো (একটা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে), কিন্তু তালেবানেরা বলছে, অবিশ্বাসীকে হত্যা করা ফরজ। অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোয় সিডনীর গানম্যান বহুদিন থেকেই ক্ষিপ্ত, কারণ তার হিসেবে এটা অন্যায়। সে আফগানিস্তানে মারা যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের বাসায় হেইট-লেটার লিখত। শেষে তো নিজেই মরল দুই জনকে সাথে নিয়ে। তার অনুপ্রেরণা কি নিচের এই আয়াতগুলো থেকে আসতে পারে না? 
Fight in the cause of Allah those who fight you, but do not transgress limits; for Allah loveth not transgressors. And slay them wherever ye catch them, and turn them out from where they have Turned you out; for tumult and oppression are worse than slaughter; but fight them not at the Sacred Mosque, unless they (first) fight you there; but if they fight you, slay them. Such is the reward of those who suppress faith. But if they cease, Allah is Oft-forgiving, Most Merciful. And fight them on until there is no more Tumult or oppression, and there prevail justice and faith in Allah; but if they cease, Let there be no hostility except to those who practice oppression. (2:190-193)। 
আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি। আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)। (২:১৯০-১৯৩)
তো এই যেমন খুশি তেমন ব্যাখ্যা দাও, এইটাকে কে আটকাবে? কাজেই, আমি প্রস্তাব দিলাম, আপনারা ‘সহীহ ইসলাম-কে সংজ্ঞায়িত করে ফেলেন না কেন? কোরানের সকল আয়াতের অর্থ আপনারা সহীহ মতে লিপিবদ্ধ করেন, যাতে দুষ্ট লোকেরা তাদের মনগড়া/ভ্রান্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী সন্ত্রাস করলেও সেইটা আপনাদের গায়ে না আসে আর কি! আপনারা এই কোরান ইংরেজিতে লিখবেন, যাতে ‘কোরান বোঝার আগে যান আরবী শিখে আসেন’ এই ধাপ্পা দিয়ে দুষ্ট লোকেরা কোরানের ঠিকাদারি নিজেদের হাতে না রেখে দিতে পারে অনির্দিষ্টকালের জন্য। আপনারা সহীহ মডারেট মুসলিমেরা একটা লেস-টক্সিক, নির্দোষ সুগার-কোটেড অর্থ নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবেন, ওদিকে কিছু বদমায়েশ লোক ভুলভাল একটা ব্যাখ্যা নিয়ে গানম্যান হবে, তালেবান হবে, আল-কায়েদা হবে, শেখ হারোন হবে। তো হোক না, তাতে আপনাদের কি! আপনারা শুধু ‪#‎iCondemnAllTerror‬ হ্যাশট্যাগ মারতে থাকবেন। আপনাদের কোরানের ভার্শন হবে ‘সহীহ মডারেট কোরান’।

এই এই কুপ্রস্তাব শুনেও প্রতিবেশী আমার মাথার দাম নির্ধারণ করেননি, কারণ আমরা অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। বাংলাদেশে হলে আমার এই প্রস্তাবের জন্য কী যে ঘটত, বলতে পারি না। তবে আমার প্রস্তাবটা কিন্তু মন্দ না। বিশ্বব্যাপী একটা ডিরেক্টরি থাকবে সহীহ মুসলমানদের। তারা চলবে সহীহ মডারেট কোরান দ্বারা। আর কারা কারা দুষ্ট লোক, সহীহ মুসলমান নয়, তাদেরও তালিকা থাকবে। ফলে কেউ সন্ত্রাস করলে আমরা নিজেরা দেখতেই পারব, সে সহীহ মুসলমান ছিল, নাকি সহীহ মুসলমান ছিল না। সারা দুনিয়ায় সহীহ মুসলমানদের দিকে কেউ আর আঙ্গুল তাক করবে না সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য। যত দোষ ওই আন-সহীহ না-বুঝদার আনপড়াহ সন্ত্রাসীদের।

মোদ্দাকথা হলো, সকল মুসলিম সন্ত্রাসী ইসলাম ভুল বুঝেছে – অথবা তারা সহীহ বিশুদ্ধ মুসলিম নয়, এইটা স্রেফ একটা ডিনায়্যাল, এবং ‘সহীহ মুসলিম’ ও ‘ইসলাম-কে সংজ্ঞায়িত করার আগ পর্যন্ত এইটা একটা লজিক্যাল ফ্যালাসি। অপযুক্তি। এই যে মডারেট মুসলমানদের ডিনায়্যাল মুড, এইটার কারণ সম্ভবত তাদের অপরাধবোধ বা ক্রাইসিস – তারা জানে যে, তারাও সেই একই বিশ্বাসে বিশ্বাসী, অথবা তাদের বিশ্বাস খুবই কাছাকাছি, তারা শুধু পালন করে না, এই যা। পার্থক্য শুধু কমিটমেন্টের। তারা ইহুদি-নাসারাদেরকে ঘৃণা করে, তালেবানরাও করে। তারা জানে যে, তাদের ধর্মই একমাত্র সেরা ধর্ম, তালেবানরাও জানে। তারা জানে যে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠিয়ে মুসলিমদেরকে মেরে ভুল করেছে (এইখানে তারা মানে মডারেট সহীহ মুসলিমেরা। আপাতত ধরা যাক, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী মুসলিমেরা।), অথচ তারা তাদের পয়েন্ট প্রমাণ করার জন্য কাউকে গানপয়েন্টে জিম্মি করেনি। সিডনীর ওই লোকটা করেছে, কারণ তার বিশ্বাস বেশ শক্ত, এবং সে সুবিধাবাদী নয়। মডারেট সহীহ মুসলিমেরা সাহসের অভাবে, সুযোগের অভাবে, নাকি বিশ্বাসের গাছতলায় মাটির অভাবে বন্দুক হাতে নেয়নি, সেটা বলা শক্ত। এই একটা ডিলেমা তাদের – তারা এই মৌলবাদীদের থেকে বিশ্বাসের জায়গায় খুব একটা দুরে না, সেটা তারা ভাল করেই জানে, আর তাই ওপরিতলে এসে অস্বীকারের প্রাণান্তকর চেষ্টা। প্রি-এম্পটিভ ডিনায়্যাল। যখন একজন মৌলবাদী খ্রিষ্টান কোনো সন্ত্রাস করে, তখন অন্য কোনো খ্রিষ্টানকে কিন্তু ডিনায়্যাল মুডে যেতে হয় না, আগ বাড়িয়ে হ্যাশট্যাগ মেরে ‘আমি তো কলা খাই নি’ বলতে হয় না, কারণ তারা বিশ্বাসের জায়গাতে মৌলবাদীদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে কয়েক প্রজন্ম আগে।

সিডনীর এই লোকটা সন্ত্রাসী, এবং সে মুসলিম। তালেবানেরা সন্ত্রাসী এবং তারাও মুসলিম। সম্ভবত তারা একটু বেশিই মুসলিম। যাই হোক, আমার আশেপাশে যারা মডারেট ওরফে সহীহ মুসলিম আছেন, তারা প্লিজ শর্মিন্দা হবেন না। মডারেট মুসলিম কিম্বা সহীহ মুসলিম হওয়াতে দোষের কিছুই নেই, বরং আপনার নিজের পরিচয়ে গর্বিত হোন। তবে দিনকাল যা পড়েছে, আপনারা তাড়াতাড়ি ‘সহীহ মুসলিম’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সহীহ মডারেট কোরান মোতাবেক সহীহ মুসলমানের তালিকা না বানালে ভবিষ্যতেও কিছু খারাপ মানুষ ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাস করবে। সে পর্যন্ত আপনারা এসব ক্ষেত্রে প্লিজ একটা করে ‪#সন্ত্রাসীর_কোনো_ধর্ম_নেই‬ হ্যাশট্যাগ মেরে দিতে ভুলবেন না। আশা করি, কেউ আপনাদেরকে সন্দেহ করবে না।

২৪ মার্চ, ২০১৫

বেদ্বীনবাণী - ৩৩



ইছলামী ত্যানা: কনটেক্সট বুঝতে হবে!

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

এছলামিক বিগ্‌গ্যানের কল্যাণে আজ আমরা সবাই জানি যে, কাফেরদের সাতটি অন্ত্র থাকে, যেখানে একজন মোছলমানের অন্ত্র থাকে একটি। 

এ ব্যাপারে একজন মোমিনের সাথে আমার কথোপকথন হয়েছিল। জনস্বার্থে তা এখানে প্রকাশ করা হলো।

আমি: হাদিসে নাকি আছে, বিধর্মীরা সাত অন্ত্রের অধিকারী। এই হাদিসের মাজেজা, শানে-নুযুল, অর্থ কিছুই তো বুঝলাম না। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের বই-পত্র সবই তো ইহুদি-নাসারাদের তৈরি, তারা পেটও কাটে ইহুদি-নাসারাদের। বইতে তো দেখি তাদের পেটের অবস্থা আমাদের মতই। একটাই মেকানিজম। তো এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? আর আমাদের পড়া সব বইগুলো যদি ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারে পূর্ণ থাকে, তাহলে আমার ভিন্ন একটা প্রশ্ন আছে। সেটা হলো, সাতটা অন্ত্রের জন্য একটা মাত্র পায়ুপথ কেমনে কাজ করে?

মোমিন: দেখুন, আপনাকে কনটেক্সট বুঝতে হবে। কোন প্রসঙ্গে এটা বলা হয়েছে, সেটা জানতে হবে। এগুলো সবই ভুল ইন্টারপ্রিটেশনের ফলাফল। আসলে এখানে মহানবী (সঃ) অন্য একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার আলোচনা করেছেন। দেখবেন, কাফেররা দুনিয়া নিয়ে মশগুল থাকে। তারা খাবার বেলায় গপ-গপ করে বেশি বেশি খায়। তাদের দেখলে মনে হয়, যেন তারা শুধু এই খাওয়ার জন্যই জন্মেছে। আমাদের মহানবী (সঃ) দিনে কখনো দুই বেলার বেশি খাননি। খাওয়া নিয়ে তিনি কখনোই ব্যস্ত ছিলেন না। এবং তিনি আদেশ দিয়ে গেছেন তাঁর উম্মতদের যেন তারাও এসব দুনিয়াবি কাজে কাফেরদের অনুসরণ না করে। আশা করি, আপনাকে বোঝাতে পেরেছি। 

আমি ছোভানাল্লাহ, ঝাঝাকাল্লাহ ইত্যাদি বলে মোমিনকে “আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহ্‌লাল কুবুর” বলে চলে এলাম। 

ব্যাখ্যা: আঙুর ফল টক। অন্যের দুম্বা, উট চরিয়ে খুব ভালো জীবিকা অর্জন করা যায় না। মোহাম্মদ ছিলো অলস ও কাজে-কর্মে ব্যাপক অনাগ্রহী। জীবনের শেষ ১০-১৫ বছর ছাড়া সে কখনোই দিনে দুই বেলার বেশি খেতে পারেনি। ইহুদিরা যখন হালাল উপায়ে কামানো জীবিকার কল্যাণে পেট ভরে খেত, তখন বৃথা বিষোদগার করা ছাড়া তার আর কিছুই করার থাকতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সবাইকে বলি, আরব দেশের এখনও যেসব জায়গা চরম রুক্ষ মরুভূমি, সেসব জায়গায় গেলেই বুঝতে পারবেন, এছলামকে বোঝার জন্য কনটেক্সট কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরকম জায়গা থেকেই এছলামের উৎপত্তি হয়েছে। আরও ভালো হয়, যদি আরবি ভাষাটা রপ্ত করতে পারেন। এছলামের ফালতু সব অহংকারের জারি-জুরি ফাঁস হয়ে পড়বে আপনার সামনেই। কিছু উদাহরণ দিই। 

উদাহরণ ১: আমি ব্যক্তিগতভাবে মরুভূমিতে ছিলাম বহুদিন। সূর্য ওঠার প্রায় ১ ঘন্টা পর থেকে বিকেল পর্যন্ত কী পরিমাণ মাছি যে আপনাকে ছেঁকে ধরতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। যেখানে মানুষ কিংবা অন্য কোনো প্রাণীও থাকে না, সেখানেও মাছি থাকে। শুধু এক মিনিটের জন্যও কোথাও বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন না, মাছির ভনভন উপদ্রবের জন্য। পানির চরম অভাব যেখানে বাস্তবতা, সেখানে আপনার খাওয়ার পানিতে বাথরুমের মাছি এসে বসলেও আপনাকে সেই পানিই খেতে হবে। সেই পানি খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হলে মানুষ স্বভাবতই এমন কারও কাছে প্রতিকার চায়, যার সাথে সৃষ্টিকর্তার (কাল্পনিক) যোগাযোগ আছে। এ জন্যই হাদিস চলে আসে, “মাছির এক পাখায় আছে জীবাণু, আর অন্য পাখায় আছে তার প্রতিষেধক।” এ কারণেই এছলামে বলা আছে, পানি কিংবা দুধে মাছি পড়লে সেই মাছিকে ওই পানীয়তে পুরোপুরি ডুবিয়ে তারপর বাইরে ফেলে দিয়ে সে পানীয় পান করার জন্য। 

উদাহরণ ২: বেশির ভাগ মরুভূমির (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে) মাটির নিচে পানির স্তর (বাংলাদেশের তুলনায়) বেশ কাছাকাছি থাকে। পানি পেতে হলে একটাই কাজ, মাটি খুঁড়তে হবে। কোনো শর্টকাট নেই এখানে। তো আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ অলস হন, তাহলে খাবার পানির চাহিদা মেটার পর আর পানি তোলার ইচ্ছা আপনার না থাকারই কথা। ঠিক তখনই আপনি তায়াম্মুম জাতীয় কোনো উদ্ভট কাজ করবেন, নিজেকে পবিত্র দাবি করার জন্য। শখের বশে অনেকেই বাংলাদেশে তায়াম্মুম করে। আমি মরুভূমির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক দিন ধরে হাত-মুখ না-ধোয়া মানুষকে দেখেছি বালু দিয়ে তায়াম্মুম করতে। চরম বিবমিষা জাগানো দৃশ্য। এটা দেখার পরে আমি সিদ্ধান্তে এসেছি, যে এরকম উপায়ে পবিত্র হওয়া সম্ভব মনে করে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত। 

সংক্ষেপে আরও কিছু উদাহরণ: 

১. মরুভূমিতে বাতাস চরম শুষ্ক হওয়ায় বড় পাগড়ি-আলখাল্লা পরা সেখানে বাঁচার অন্যতম শর্ত। সেটাই এখন আমরা কর্তব্য মনে করে পালন করি। 

২. মুখ আর দাঁত পরিস্কার করার জন্য তখন গাছের ডাল ছাড়া আর কিছু ছিল না। সেটাকে আমরা এখন সুন্নত মনে করি। 

৩. ১৪০০ বছর আগের আরবে নিয়মিত গোত্রে-গোত্রে যুদ্ধ, যাযাবর জীবনযাপন ইত্যাদির জন্য সমাজে পুরুষের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান ছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবিবাহিতা/বিধবা নারীদের তখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিবাহিত পুরুষের দ্বিতীয়/তৃতীয় স্ত্রী হওয়া ছাড়া কিছু করার ছিল না। এটাকে এখনও মোছলমানরা কর্তব্য মনে করে। 

এইসব কিছু এমন একটা কনটেক্সটকে সামনে আনে, যেখানে একদল মূর্খ নতুন একটা ধর্ম বানানোর সময় কল্পনাও করতে পারে নি যে, তাদের চেয়ে আলাদা সমাজ বা প্রকৃতি বা পরিবেশে বাকি দুনিয়ার মানুষ বাস করতে পারে।

হা-হা-হাদিস – ১২৯


বাঙালি মুসলিমচরিত

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

বাঙালি মুসলিমরা সবাই সহজ, সরল, ভাল মানুষ। তারা সাম্প্রদায়িক না, মৌলবাদ লালন করে না, ধর্মান্ধ না। যে ঘটনাগুলো ঘটে, সব সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদের চক্রান্তে হয় অথবা ব্রিটিশ 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির কারণে। তারা সহজ সরল মুসলিম বাঙালিকে ভুলিয়ে এসব কাজ করায়। বাঙালি মুসলিম হচ্ছে শিশুর মতো সরল। এদের কোনো দোষ নেই, তেমনি গুণও নেই। এরা ভাল-মন্দ প্রভেদ করতে পারে না।

তবে আপনি কখনোই তাদের সচেতনতা চাইতে পারবেন না, অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে পারবেন না। তাহলে আপনি তাদের শত্রু হয়ে যাবেন। আপনাকে তাদের শিশু হয়ে থাকতে দিতে হবে। শিশুরা যেমন রাগ করে অনেক কিছু ভাঙে, তারাও মাঝে-মাঝে বিধর্মীদের ঘর বাড়ি পোড়াবে, নাস্তিকদের কতল করবে। আপনি কিছু বলবেন না বা বললেও ব্যালেন্স করে বলতে হবে। কারণ আপনি মডারেট, সুশীল, বুদ্ধিজীবী।

মা যেমন শিশুকে রসগোল্লার ভেতর ট্যাবলেট পুরে খাওয়াতে চায়, আপনাকেও তেমনি ইসলামের মোড়কে পুরে নৈতিকতা, মানবতা বাঙালি মুসলিমদের গেলানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুর মত তারাও ট্যাবলেটটুকু ফেলে দিয়ে শুধু ধর্মের রসগোল্লাটাই গিলবে বারবার, তারপরও আপনাকে এই প্রক্রিয়াতেই যেতে হবে। 

সব কিছুর ইসলামী ভার্শন বের করতে হবে। ইসলামী সেক্যুলারিজম, ইসলামী ইতিহাস, ইসলামী নারীবাদ, ইসলামী বিজ্ঞান, ইসলামী বিবর্তন এরকম। এর জন্য নিজেদেরও ঈমানের পরীক্ষা দিতে হবে। মাথায় টুপি পরতে হবে; প্রয়োজনে খৎনা দেখাতে হবে। এভাবে গেলাতে গিয়ে মূল লক্ষ্যই বাদ পড়ে যাবে। তারপরও ইসলাম থাকা চাই। কোনোভাবেই বলা যাবে না অসাম্প্রদায়িকতার জন্যই সেক্যুলারিজম প্রয়োজন, নির্মোহভাবেই ইতিহাস জানা প্রয়োজন, মানুষ হিসেবেই নারীর সমতা প্রয়োজন, বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বিজ্ঞান জানা প্রয়োজন। 

আমেরিকা চাইলেই কেন কিছু মানুষকে ব্যবহার করে যা খুশি করাতে পারবে, সেই প্রশ্ন তুলবেন না। সেসব বললেই আপনি নাস্তিক, মুরতাদ হয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে আগে। এদের সুশিক্ষা দরকার নেই, বিজ্ঞান দরকার নেই, যুক্তি দরকার নেই। এদের দরকার শুধু ইসলাম। ইসলামের নামে যে কেউ এদের যা খুশি খাইয়ে দিতে পারে।

বাঘ যখন শিকার করে তখন হায়েনা, শিয়াল, শকুন অপেক্ষায় থাকে, কখন বাঘ আহার শেষ করবে, যাতে তারা কাড়াকাড়ি করে উচ্ছিষ্টটুকু সাবাড় করতে পারে। এদেশের মডারেট, সুশীল, বুদ্ধিজীবীরা হচ্ছে হায়েনা, শিয়াল, শকুনের দল। তারা সর্বক্ষণ আমেরিকা নামক বাঘটার অপসারন কামনা করে, যাতে নিজেরা মুসলিম নামক ভেড়াদের নিয়ে ইচ্ছেমতো খেলতে পারে। তাই কেউ মুসলিমদের অন্ধবিশ্বাস, মূর্খতা ভাঙতে চাইলে তারা সহ্য করতে পারে না। 

মূর্খ শিকার-সচেতন হয়ে উঠলে তো রুটি-রুজি, খ্যাতি সব ভেসে যাবে!

২৩ মার্চ, ২০১৫

নিখিল আবালকুলশিরোমণি সম্মেলন


কোরান কুইজ – ৫৭

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৬৭: কেয়ামতের সময় অবিশ্বাসীরা কি কথা বলতে পারবে?

১. হ্যাঁ
২. না

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮৪


'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন অন্নপূর্ণা দেবী

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন সৌমেন স্বনামে

ছহীহ বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

নিচের বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনগুলিকে ছহীহ বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনে রূপান্তরিত করো।

- বরের ঘরের মাসি কনের ঘরের পিসি
- বরের ভাই কাম শ্বশুর, কনের বাপ কাম ভাসুর

- খাতা-কলমে 
- গুহার ওহী থেকে ছাহাবিদের খেজুরপাতায়

- আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়া 
- ঠাডা পড়া

- মাথা খাওয়া 
- কছম খাওয়া

- বুক ফাটিয়া যাওয়া 
- দাঁত মোবারক শহীদ হওয়া

- লজ্জার মাথা খাওয়া 
- পুত্রবধূকে সাঙ্গা করা

- শিকায় তোলা 
- আরশে তোলা

- অমবশ্যার চাঁদ 
- নবুয়াত

- আমড়া কাঠের ঢেঁকি 
- খেজুর গাছের মেছওয়াক

- গোমূর্খ 
- উটমূর্খ বা দুম্বামূর্খ

- গণ্ডমূর্খ 
- নবীমূর্খ

- ক অক্ষর গোমাংস 
- আলিফ অক্ষর শূকরের মাংস

- গভীর জলের মাছ 
- গভীর বালির চাকর  (যেমন, মহাবদ একটি গভীর বালির চাকর ছিল)

- নিজের পায়ে কুড়াল মারা 
- নিজের নামে করাত মারা (যেমন, মোহাম্মদ নিজের নামে নিজে করাত বসিয়ে Mohammod saw হয়েছিল)

- অতি চালাকের গলায় দড়ি 
- অতি বদের চাচা কাম বেহাইয়ের গলায় খেজুরের দড়ি (যেমন, মহাবদ তার চাচা কাম বেহাই আবু লাহাবের গলায় খেজুরের দড়ি কামনা করেছিল)

- একবার না পারিলে দেখো শতবার 
- একবার সাঙ্গা করিলে করো চোদ্দবার (যেমন, মহাবদ একবার সাঙ্গা করিয়া দেখিয়া চোদ্দবার করিয়াছিল)

- চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা 
- ধর্মবিদ্যা মহাবিদ্যা লোভী, ভীতু আর বেকুবদের কাছে

- পৈতে থাকলেই বামুন হয় না 
- চাকর হলেই নবী হয় না

- নুন আনতে পানতা ফুরোয় 
- বিবি আনতে খেজুর ফুরোয় (মহাবদ খেজুর তোলার সময় নাকি তার ঘরে কোনো খাবার ছিল না, কিন্তু বিবি ছিল ঘরভর্তি। এতগুলি বিবি মিলে হৈ হৈ করে সব খেজুর খেয়ে ফেলেছে। তাই তো মহাবদ খেজুর খেতে না পেয়ে খেজুর তুলেছে।)

- নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো
- নাই ছেলের চেয়ে সপত্নী-ছেলে ভালো (এজন্যই তো নবীজি তার পালিত ছেলেকে বিয়ে দিয়ে তার বিবিকে বিয়ে করে নিয়েছিল)

- চোরে চোরে মাসতুত ভাই 
- মরুদস্যুতে মরুদস্যুতে শ্বশুর-জামাই (যেমন, নবীজি ও আবু বকর)

- দশের লাঠি একের বোঝা 
- চোদ্দখানা শস্যক্ষেত্রের জন্য লাঙল মাত্র একখানা

- দাঁতভাঙা জবাব 
- দাঁত মোবারক উপড়ানো জবাব (উহুদের যুদ্ধে এক কাফের নবীজিকে দাঁত মোবারক উপড়ানো জবাব দিয়েছিল)

২২ মার্চ, ২০১৫

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৩৯



প্যারোডি যখন সত্যের কাছাকাছি

বছর ৩-৪ আগে ইংরেজি প্যারোডি সংবাদের একটি সাইট খুঁজে পেয়েছিলাম। সাইটটি এখন বিকল। তাদের স্লোগানটি ছিলো বড়োই মজাদার: Breaking news. Into lots of little pieces.

তো সেখান থকে ২০১১ সালে তিনটি খবরের লিংক প্রকাশ করেছিলাম ধর্মকারীতে। খবরগুলো নেটে এখনও লভ্য বটে, তবে আলাদা আলাদা সাইটে। 

খবর তিনটি ছিলো চৌদি আজব সংক্রান্ত। 

১.
চৌদি আজবে নারীদেরকে ভোটের অধিকার দেবার পেছনে গোপন একটি কারণ আছে বলে জানিয়েছে এই সাইট। কারণটি হলো: এই অধিকার প্রদানের মাধ্যমে নারীবাদীদেরকে শনাক্ত করে তাদেরকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা সহজ হবে।

২.
চৌদি বৈজ্ঞানিকেরা জানিয়েছে, তথাকথিত vagina আসলে একটি কাল্পনিক ধারণা। জ্যোতিষবিদ্যা, আলকেমি ও পানি পবিত্রকরণবিদ্যায় পারদর্শী এই বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে এসেছে যে, সেক্স থেকে আনন্দ পায় বলে মেয়েরা যে-দাবি করে থাকে, সেটার কোনও ভিত্তিই নেই। কারণ vagina আসলে নিতম্বের পরিবর্ধিত অংশ।

৩.
চৌদি আজব মহাশূন্যে মানুষ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার ব্যাপারটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে প্রথমে পাঠানো হবে কোনও নারীকে, পরে যাবে কুকুর, তারপরে বানর এবং সবশেষে মানুষ।

* আরও একটি খবরের শিরোনাম পড়ে কী যে হাসি পেয়েছিল! দুঃখের কথা, খবরটির নাগাল দিতে ব্যর্থ হলো গুগল। তবে শিরোনামটা টুকে রেখেছিলাম সেই সময়েই: India begins choreographing dance routine for manned moon mission.

আমাদের আত্মীয়েরা – ৭৭


শিম্পাঞ্জি ও মানুষের আঙুল

সকল ঋতুর নবী

কোরানের মতে, ঋতুস্রাবের কালে নারী দূষিত, অশুচি। অতএব তারা উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী না হবার আদেশ দেয়া আছে কোরানে (সুরা ২:২২২)।

কিন্তু ইছলামের মেগাকামুক নবী কি নিজে মেনে চলতো এই বিধান? 

সম্পূর্ণভাবে ইছলামী তথ্যসূত্রনির্ভর গবেষণালব্ধ স্লাইড শো স্ক্রল করে দেখে নিশ্চিত হোন। চাইলে স্লাইড শো থেকে বানানো পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন।

পৃষ্ঠা: ৬৮
সাইজ: ৫.০২ মেগাবাইট

ডাউনলোড লিংক ১
https://drive.google.com/open?id=0BwbIXqxRzoBOQjc5aE4wQXRaTW8&authuser=0

ডাউনলোড লিংক ২
http://www.nowdownload.ch/dl/799f77f82d51b

২১ মার্চ, ২০১৫

আদম-হাওয়ার ব্যবসাপাতি


ইসলামী ইতরামি

পাঠিয়েছেন নিলয় নীল

১.
আফগানিস্তানের কাবুলে গত বৃহস্পতিবারে এক মহিলাকে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে সে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সেই মহিলা যে কোরআন পুড়িয়েছে, এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে না পারলেও একজনমাত্র দাবি করেছে যে, সে নিজে তাকে কোরআন পোড়াতে দেখেছে। হাজার হাজার মানুষ এই হত্যাকাণ্ডে আনন্দের সহিত অংশগ্রহণ করে বলেই ভিডিওতে দেখা যায়। জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সী ফারখুন্দা নামের সেই মহিলাটি ছিল পাগলী।

২.
২০১৬ সালের মধ্যে ৯০ ভাগ অ্যামেরিকানদের হত্যা করে অামেরিকায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছে আইএস।

৩.
বাংলাদেশের এক ইমাম আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলো দুবাইয়ে। ইমামকে রাখা হয়েছিলো ৮ বছরের এক ছেলেশিশুকে কোরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ছেলেশিশুটি অবশেষে আর না পেরে তার বাবাকে বলে দিলো, কীভাবে ঐ ছেলেশিশুর গুপ্তঅঙ্গ হাতড়াতো তার কোরআন শিক্ষক। বাবা জিজ্ঞেস করেছিলো, এবারই কি প্রথম এই কাজ করেছিলেন হুজুর? বাচ্চা ছেলেটি বলেছে, হুজুর এই কাজ প্রায়ই তার সাথে করতেন তাও কোরআন শিখানোর সময়েই। অবশেষে বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বাংলাদেশের সেই ইমামকে গ্রেফতার করে। মামলাটি দুবাইয়ের আদালতে গড়িয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ আদালত রায় দিবে এই মামলার।

৪.
হোয়াটসঅ্যাপে প্রাইভেট মেসেজে যোগাযোগ করে একজন পুরুষকে অপদস্থ করার অভিযোগে এক মহিলাকে শাস্তি দিয়েছে সৌদি আরবের শরিয়া আদালত। নারীটিকে সহিহসম্মতভাবে ৭০ টা দোররা মারা হয় এবং ২০ হাজার সৌদি রিয়াল (৩ হাজার ৬০৪ ইউরো) জরিমানা করা হয়। পুরুষটির অভিযোগ ছিলো - নারীটি নাকি প্রথমে যৌন সুড়সুড়িমার্কা কথাবার্তা বলতো। একটা সময় পুরুষ তাতে সাড়া না দিলে তাকে অপমান অপদস্থ করে সেই সৌদি নারীটি

৫.
ঘটনা ভারতের জয়পুরে। ১১ বছরের নাজমিনকে ধর্ষণের পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় তার চাচা সেলিম। নাজমিনের অপরাধ সে একটি গোঁড়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও বিভিন্ন ধরণের উগ্র পোশাক (চাচার বয়ানে) এবং লিপিস্টিক পরিধান করতো যা ইসলামে হারাম। একাধিকবার নিষেধ করার পরেও এই অপরাধ করায় নাজমিনকে যৌন নির্যাতনের পরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

৬.
সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের সব ধরনের খেলাধুলাকে না বলেছেন সৌদি আরবের শিক্ষামন্ত্রী। 

৭.
আইএস ধ্বংস করলো ইরাকের ২০০০ বছরের পুরানো শহর হাট্রাকে। হাট্রা হলো পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি শহর যা ইউনুস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। 

৮.
আইএসের কাছে কল্লা দাও বা ইসলাম গ্রহণ করো এই দুইটি পথের মধ্যে বুদ্ধিমান বিধর্মীরা ইসলাম গ্রহণ করবে, তাতে সন্দেহ নেই। অবশেষে লেবানিজ আরেকজন খ্রিষ্টান আইএসের কাছে ইসলামে দীক্ষিত হয়ে কল্লা বাচিয়েছেন। এভাবেই যুগে যুগে জয় হয়েছে ইসলামের।

৯.
মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে উটের মূত্র জনপ্রিয় হচ্ছে রেলিজিয়ন অফ piss এর অনুসারিদের মধ্যে। উটের মূত্র খাচ্ছে তারা এই মহামারী ভাইরাস প্রতিরোধে। 

১০.
কত্তো বড় সাহস, মুসলমান মহিলা হইয়া কুত্তা নিয়া ছবি তুলে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়। মালয়েশিয়ার মুসলমানবতাবাদী লিঙ্গ অনুভূতিতে দাড়িয়ে গেছে, মেয়েটির কঠিন শাস্তি দাবি করছে এরকম হারাম কাজ করার জন্য। 

১১.
ঘটনা সেন্ট্রাল আফ্রিকার রিপাবলিক অফ চাঁদে, কচি কচি শরণার্থী ছেলেমেয়েগুলোকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে কোরআন ঠিক মতো উচ্চারণ করে না পড়া, জোরে জোরে না পড়া এবং সুরারোপ করে না পড়ার জন্য। 

১২.
শান্তির ধর্মের অনুসারী জর্জিয়ান এক ভাই তার বোনকে ছুরিকাহত করছে। বোনের অপরাধ - বোন ঠিক মতো হিজাব পড়ে নি
 http://dfwatch.net/georgian-man-stabs-sister-for-not-wearing-hijab-88277-31434

১৩.
সমকামী হবার অপরাধে ইসলামী রীতি অনুযায়ী উঁচু দালান থেকে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করেছে একজনকে আইএস। আর এই ব্যতিক্রমী হত্যাকাণ্ড দেখার জন্য হাজার হাজার মডারেট মুসলমান নিচে অপেক্ষা করছিলো।

২০ মার্চ, ২০১৫

চিত্রপঞ্চক - ১১৩

'ছেলেদের দাঁড়ানো অবস্থায়' - খিয়াল কৈরা!

আমার বেলাজ দৃষ্টি শুরুতে ধরতেই পারেনি - ছবিতে দু'আঙুলের মাঝে সর্ষে দানা ধরা

প্রযুক্তি প্রসাদ 

নিউ ইয়র্কের কট্টরপন্থী ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায়

রাশিয়ায় ধর্ম, রাষ্ট্র মিলেমিশে একাকার (পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল)

বর্ণাশ্রম প্রথা - হিন্দুধর্মের কুৎসিত একটি দিক

লিখেছেন অনির্বাণ অনিক

ইদানীং একটা কথা খুব চাউর হয়েছে, বর্ণাশ্রম প্রথা হিন্দুধর্মে নাকি স্বীকৃত নয়। হিন্দুধর্ম নাকি একটি মিষ্টি মিষ্টি গুল্লু গুল্লু পুচু পুচু ধর্ম। সপক্ষে যুক্তিদাতারা বেদে বর্ণাশ্রমপ্রথার অনুল্লেখকে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করছেন। বেদের পুরুষ সুক্ত যদিও আমাদের ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়, তবু পরবর্তী বৈদিক যুগে সৃষ্টি হওয়ার কারণে পুরুষ সুক্তকে ফন্দিবাজ কোনো হিন্দু উচ্চবর্ণের দ্বারা প্রক্ষিপ্ত ধরে নিয়ে নাহয় আলোচনার বাইরেই রাখলাম। কিন্তু শুধু বেদের ওপর ভরসা করে হিন্দুধর্মকে বর্ণাশ্রম প্রথার দায় থেকে ক্লীন চিট দেয়া কতটা সম্ভব? আসলে এই তত্ত্বগুলি প্রচারকারী ব্যক্তিবর্গের পক্ষে একটি সুবিধাজনক বিষয় হলো - হিন্দুধর্মের ঐতিহাসিক উৎপত্তিজনিত কারণে একটি সুপার ফ্লেক্সিবল জমি। ধর্ম সম্পর্কে সঠিক বিচারকারী কোনো মুক্তমনা বিচার করতে বসলে ঐ হিন্দুধর্মটা বৈদিক ধর্ম, না হিন্দুধর্ম না সনাতন ধর্ম, তা নিয়ে রীতিমত ধন্দে পড়ে যেতে বাধ্য হবে ।

সুতরাং হিন্দুধর্মের যে কোনো সমালোচনার ক্ষেত্রেই শুধু বেদের ওপর ভিত্তি করে যুক্তি সাজালে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য: বর্তমান হিন্দুধর্মের সাথে বেদের কতটা মিল আছে? শিব, দূর্গা কালী ইত্যাদি এদের অধিকাংশই শংকর প্রজাতির দেবতা। কিছুটা দেশী, কিছুটা বৈদিক পুরান-সব ঘেঁটে ঘ হয়ে এই সব দেবদেবীরা বিবর্তিত। আমি কোন ধর্মটাকে হিন্দুধর্ম ধরবো? বেদ রচয়িতারা নিজেরাও কিন্তু "হিন্দুধর্ম" নামক কোনো ধর্মের অস্তিত্ব জানতেন না। অনেকে এই সমস্যার সমাধানে "সনাতন ধর্ম" নামক একটি আজগুবি ধর্মকে খাড়া করেন। কিন্তু "সনাতন" শব্দটি গীতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বিশেষণ হিসেবেই ব্যবহৃত, বিশেষ্য হিসাবে নয়। তাহলে হিন্দুধর্ম মাানে আপনাদের বেদে উল্লিখিত নাম-না-জানা ধর্ম, নাকি আজ আপনারা যে হিন্দুধর্মটিকে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিয়েছেন, সেই রূপটি হিন্দুধর্ম? হিন্দুধর্মের দ্বারা স্বীকৃত গ্রন্থ হিসেবে কেন ধরবো না সেই ধর্মগ্রন্থগুলিকেও, যেগুলির নির্দেশ হিন্দুধর্মের বর্তমান সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চেহারায় প্রতিফলিত হয়?

উদাহরণস্বরূপ একটি গ্রন্থ মনুস্মৃতি। মনুস্মৃতিকে বর্তমান হিন্দুরা হিন্দু ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মান্যতা দিতে চান না। মান্যতা না দেওয়ার বিষয়টি একদিক দিয়ে প্রশংসাযোগ্য, কারণ ১. এর দ্বারা প্রমাণ হয়, হিন্দুদের মধ্যে ঊনবিংশ শতকের সংস্কার আন্দোলনগুলির ফলে ধর্মবদ্ধ সমাজে কিছুটা হলেও ফাটল ধরানো গেছে। ২.স্বাধীনতার পরে সংবিধান রচনাকালে আম্বেদকর প্রমুখ ব্যক্তিত্বগণ সংধু-সন্তদের ও হিন্দুত্ববাদীদের তুমুল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েও হিন্দু কোড বিল থেকে শুরু করে অন্যান্য সাহসী পদক্ষেপগুলি নিয়েছিলেন, তার কিছুটা হলেও ফল ফলেছে। ৩. প্রাচীন ভারতবর্ষের ধর্মীয় "সংহিতার" দ্বারা সমাজকে ধর্মবদ্ধ করার প্রয়াসকে বাদ দিলে, দর্শনগত স্তরে একটা পর্যায় পর্যন্ত প্রথার বিপরীতে যাওয়ার ফ্লেক্সিবিলিটি ছিল, যা হিন্দু সমাজকে বর্তমান যুগেও প্রথা ভাঙ্গতে সামান্য হলেও শক্তি যুগিয়েছে।

এ সকল কারণে বর্তমানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আগত নাস্তিক বা ধর্ম বিষয়ে বিশেষ মাথা-না-ঘামানো অনেক ব্যক্তিই আছেন, যাদের জীবনচর্যায় এই ঘৃণিত প্রথাটি প্রতিফলিত হয় না। কিছু উদাহরণও নিজের চোখে দেখা, যেখানে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মধ্যে বিবাহ সাধিত হয়েছে। কিন্তু সেটাও তো বর্তমান হিন্দুধর্মের গুণ নয়, পূর্বে বর্ণিত ঐতিহাসিক ফ্যাক্টরগুলির ফলশ্রুতি।

এবার এর বিপরীতে দেখুন, বর্তমানেও অধিকাংশ হিন্দু বিবাহ, পূজানুষ্ঠান ইত্যাদি বিষয়ে মনুস্মৃতির বর্ণাশ্রমের নির্দেশের বাইরে বেরোন না। বেশি দূর যেতে হবে না। আনন্দবাজারের ম্যাট্রিমোনিয়ালটা পড়লেই দেখা যায়। গুচ্ছের জাত-বর্ণ-গোত্র বিচারে ভরপুর থাকে। অর্থাৎ তাদের অনেকেরই অন্তরে মনুস্মৃতির প্রক্ষেপ আজো রয়ে গেছে। তাহলে আজকের হিন্দুধর্মের প্রসঙ্গ এলে মনুস্মৃতিকে বাদ দেবো কী করে? গীতাতেও একটি শ্লোকে নারী, বৈশ্য ও শূদ্রদের অধম করেই দেখানো হয়েছে। আবার ভারতের বিভিন্ন প্রত্যন্ত স্থানে দলিতদের ওপর বিক্ষিপ্ত অত্যাচারেও কি দেখা যায় না বর্ণাশ্রম প্রথার প্রতিফলন? সর্বোপরি একটা উদাহরণ বর্তমান যুগেও কি দেখাতে পারবেন, যেখানে একজন নিম্নবর্ণ উচ্চবর্ণ হয়েছে বা একজন উচ্চবর্ণ নিম্নবর্ণ? তাহলে হিন্দু ধর্মের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বাস্তবে পর্যবেক্ষণ করলে এই ধর্মগ্রন্থগুলির নির্দেশেরই প্রয়োগ দেখা যায় না কি? বেদের নির্দেশের প্রতিফলন দেখা যায় কি? তাহলে শুধুই বেদের ওপর ভরসা করে হিন্দুধর্মের কোনো বিষয়ের আলোচনা করি কী করে ?

সত্য বলতে কি, বর্ণাশ্রম হিন্দু ধর্মের অন্তর্ভুক্ত নয় সেদিনই মানা সম্ভব, যেদিন 
১. ম্যাট্রিমোনিয়ালে জাত-পাত-গোত্র বিচার বন্ধ হবে।
২. প্রত্যন্ত স্থানগুলিতে দলিতদের ওপর বিক্ষিপ্ত অত্যাচার বন্ধ হবে।
৩. উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণ কোনো প্রকারে ভিন্ন করার কোন উপায় থাকবে না।

তার পূর্বে বর্তমানে যে-ধর্মটি হিন্দুধর্মরূপে প্রচলিত, তার এই অন্যতম অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করে ধর্মটিকে এ বিষয়ে গুল্লু গুল্লু পুচুমণি স্বীকার করা সম্ভব নয়। এই ধর্মের বর্ণাশ্রম প্রথায় স্বীকৃতি দানকারী ধর্মগ্রন্থগুলিকেও এই ধর্মের বহির্ভুত স্বীকার করা সম্ভব নয়।