২৩ নভেম্বর, ২০১৪

ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ০৬

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

৫১.
- নামাজ পড়া বা মন্দিরে মুর্তিরে পূজা করতে পাছা উঁচা করতে হয় কেনু? (কাজি শামসু)
- স্রষ্টাকে স্বর্গের সুরঙ্গ দেখানোর জন্য। (Prodip Traveller)

৫২.
- পিছলাম নামের ধর্মটি শিয়া, সুন্নি, ওহাবী. . . - এতগুলা মতবাদে বিভক্ত কেনু? (Farzana Akter)
- আসমানী কিতাব আসমান থাইকা ভূমিতে পইড়াই খণ্ড খণ্ড হইয়্যা গেছে। (Masum Rahman)

৫৩. 
- আচ্ছা, ইহুদিরা মাথায় ছোট টুপি পরে কেনু? (দান্তে)
- কিপটা ইহুদিদের কাপড় বাঁচানোর ধান্দা। (Neon Seven)

৫৪. 
- য়াল্ল্যা বলেছে তার আ-কার নাই। কিন্তু অন্যান্য কারগুলিও নাই কেন তার? যেমন, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার প্রভৃতি। (Tamanna Jhumu)
- কিতা কইন! হেতের যে বি-কার রইছে হেইডা আফনের চক্ষে পরে না! (Mahmud Reza)

৫৫. 
- সূর্য যখন আল্লার আরশের নীচে সেজদায় যায় কিংবা পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যায়, তখন আম্রিকার আকাশে যেইটা থাকে, সেইটা কি সূর্যের যমজ ভাই? (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)
- আল্লা কি আম্রিকার ভিসা পাইছিলো? আম্রিকার আকাশে কী থাকে, সেইটা কেম্নে জানবে? (অনুসন্ধানী আবাহন)
#
- আল্লা আরশে বসে ঘুমায়, আর সেই ফাঁকে সুর্য ইতিউতি যায়। (Shiji Sejuti)
#
- এই সূর্য ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র। কুরানে সূর্যের কথা আগেই বলা হয়েছে। ওরা গোপনে সেটা নিয়ে রিসার্চ করে সূর্য বানিয়ে নিজেদের আকাশে স্থাপন করেছে। এরপরেও কে অস্বীকার করবে, কুরান বিজ্ঞানময়? (ইমরান ওয়াহিদ)
#
- আল্লা যে খিরিষ্টানদের জন্য আরেকটা বানাইসে, তা কোরানে বলার কূনু দরকার নাই। (Mahbubul Hasan)
#
- এনে আপ্নেরা খালি খালি য়্যাল্লা, মহাবদ আর সুর্য আরশের সহবত, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে পড়ি আছেন! তার আগে তামাম হেঁদু, ইহুদি, নাসারা আর খ্রেস্টানগো ভগবান, ঈশ্বর আর গড বেবাকডি কি বইসা ছিড়িতে ছিড়িতে সরোদ বাজাইতেছিল! হেরা কিন্তু মাগার সবার আগে কম্পু বানাইছিলো মাইন্ড ইট, তাই কন্ট্রোল+ সি কইরা কন্ট্রোল+ ভি মারতে কতক্ষন লাগে? পয়েন্টটা কিন্তু খেয়াল কইরা! (Mahmud Reza)
#
- ইসলামের ইতিহাসে আম্রিকা-টাম্রিকা কিছু নাই, আল্যাপাক আম্রিকা বানাইছে এইতো মাত্র ৩০০ বছর আগে! (Alal E Musa Shishir)
#
- আম্রিকায় যে সুর্য দেখা যায়, তাহা সুর্যেরই নিতম্ব। সুর্য যখন সেজদায় যায়, তখন সুর্যের নিতম্ব উঁচা হয়, আর তখন আম্রিকাবাসী সুর্যের নিতম্বকে দেখতে পায়। (আমি সত্যের পথে)

৫৬.
- ইসলামের আইন শরিয়া আইনে ধর্ষণ বলিয়া কিছু নাই কেন? (Tasnim Zuberia)
- কারণ ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ স্থান ও সম্মান, তাই নারীর জন্য অসম্মানজনক এই শব্দ নাজায়েজ। (Mahmud Reza)

৫৭.
- ইনসানের সাথে সাথে জ্বিনেরাও জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে। তাদের জন্য কি কোনো নবী-রাসূল পাঠানো হয়েছে? না-হলে তাদের শাস্তি কিংবা পুরস্কার দেয়ার যৌক্তিকতা কী? (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)
- মাস্টার ক্লাসে পড়ায়নি ব’লে পরীক্ষা হবে না, এটা কেমন কথা! (Aboneel Aritro)

৫৮.
- শীত কালেই কেন দেশে ওয়াজ মাহফিল বেশী দেখি আমরা? আবার কী আজিব ব্যাপার, এই একই সময়ে দেশে যাত্রা-পালা আর ভ্যারাইটি শোর নামে কী সব অশালীন নগ্ন নারী ড্যান্সারদের আয় আয় মার্কা ব্যাপারস্যাপারও বেশি চলে। কারণ কী? (Allama Soytaan)
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। (Shirin Sultana Boby)

৫৯.
- হুরের সংখ্যাটা ৭২ কেন? ৫০, ১০০ এই রকম পুর্ণ সংখ্যা হল না কেন? (Mahfuz Sazal)
- ইসলামের ৭২টা সেক্টের প্রতিটা সেক্ট থিকা একটা একটা কইরা হুরি নেয়া হইছে, যাতে কেউ মাইন্ড না খায়। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
#
- নবীজি ৭২-এর বেশি গুনতে পারতো না, তাই। (Tamanna Jhumu)
#
- ডজন হিসাবে। (মূর্খ চাষা)

৬০.
- ফরজ গোছল না করলে কী কী ব্যাঙগানিক ক্ষতি হয়? (অয়ো ময়)
- আরেক বিবি বুইজা ফালাইতে পারে যে, আফনে অন্য কোথাও কিছু ফেলেছেন! (Mahmud Reza)

আগের পর্বগুলো:

হোর কনটেস্ট, হুরী কনটেস্ট

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

মিস ওয়ার্ল্ড ইজ এ হোর কনটেস্ট; ইসলামিক মিস ওয়ার্ল্ড ইজ এ হুরী কনটেস্ট।


নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৪৩

লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৮৫:
নাস্তিকদের ছদ্মনাম ব্যাবহারে মুমিনদের আপত্তি কেন? নাম যা-ই হোক, ব্যক্তির লেখাই তো মূখ্য। ছদ্মনাম ব্যবহার করলে কি লেখার যৌক্তিকতা ক্ষুণ্ণ হয়?

দাঁতভাঙা জবাব:
নাস্তিকরা অনেক বড় বড় কথা বলে, অথচ প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দিতেই ভয় পায়। তারা নিজেদের সত্যবাদী মনে করলে আসল পরিচয়ে আসুক। আসলে নাস্তিকের আড়ালে সবাই ইসলামবিদ্বেষী হিন্দু, তাই ছদ্মনাম ব্যবহার করে।


কটূক্তি ৮৬:
প্রকাশ্যে কেউ নাস্তিকতার প্রচার করলে বা কোনো মুসলিম ইসলামত্যাগের ঘোষণা দিলে মুমিনরা কি মেনে নেবে?

দাঁত ভাঙা জবাব:
৯৭ ভাগ মুসলিমের দেশে প্রকাশ্যে নাস্তিকতার প্রচার কখনোই বরদাস্ত করা হবে না। কোনো নাস্তিক এই ঘোষণা দিলে তৌহিদি জনতা তাদের ঈমানি শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে। আর ইসলামত্যাগকারীকে অবশ্যই কতল করা হবে।

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১২৭

সংবাদ:
কার্যকর হওয়া নতুন সৌদি আইনে দেশের কোনো নারীর আকর্ষণীয় চোখ থাকলে এখন থেকে তাঁকে তা ঢেকে রাখতে হবে। অর্থাত্‍ আকর্ষণীয় চোখ থাকলেই সেই নারীদের পুরো মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখতে হবে। নতুন এই আইনের কারণ, নারীদের আকর্ষণীয় চোখ পুরুষদের বিপদে চালনা করছে, যার প্রভাব পড়ছে সমাজে।


২২ নভেম্বর, ২০১৪

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ১১৪

লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৫৬৬.
অনেক মমিনা হিজাব দিয়ে তাদের মাথা ও চুল পেঁচিয়ে বেঁধে পৃথিবী থেকে গোপন করে রাখে। নইলে নাকি পুরুষরা তাদের দেখে কামার্ত হয়ে পড়বে, রেপ করতে চাইবে বা করেও ফেলবে। 

ওরা ওদের ঠোঁট কেন লুকিয়ে রাখে না? ঠোঁট দেখলে কি পুরুষদের তাতে চুমু খেতে মন চাইবে না? পুরুষদের কি শুধু মমিনাদের চুল আর মাথা ধর্ষণ করতে ইচ্ছে হয়?

৫৬৭.
জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার। তেমনি ধর্মগ্রন্থ বোধগম্য ভাষায় না পড়লে কেউ জানবে না, ওসব বই কতোটা জঘন্য।

৫৬৮.
স্কুল জীবনে journey by boat, journey by train জাতীয় কিছু রচনা মুখস্থ করতে হতো পরীক্ষায় লেখার জন্য। পরীক্ষায় লিখতে হবে, তাই রাত জেগে বকের মত ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে মুখস্থ করতাম। তখন এই রচনাগুলির নিগূঢ় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারিনি ঈমানের দুর্বলতার কারণে। এখন দিনকে দিন আমার দ্বীনী জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে বুঝতে পারছি, মানব জীবনের কতোটা গভীরে প্রথিত নৌকাভ্রমণ ও রেলগাড়ি ভ্রমণের রচনার গুরুত্ব। মানুষের মাথায় নৌকাভ্রমণ, রেল ভ্রমণ করা ও এ সম্পর্কে রচনা লেখার বুদ্ধি এলো কোথা থেকে? আমাদের মহানবী বোরাক ভ্রমণে গিয়েছিলেন, এবং ফিরে এসে সে বিষয়ে রচনা বলেছিলেন। এবং তার ছাহাবি ও মমিনরা তা মুখস্থ করেছে। আল্লার মা হুজুরেরা সেই মুখস্থ বিদ্যার পরীক্ষা দিয়ে থাকে মাইক লাগিয়ে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার দিয়ে। বর্তমান কালের নৌকাভ্রমণ, রেলভ্রমণ ইত্যাদি প্রকারের ভ্রমণ ও এই বিষয়ে রচনা লেখা, মুখস্থ করা ও পরীক্ষা নেওয়ার আইডিয়া আসলে নবীজির বোরাক ভ্রমণ থেকে চুরি করা।

৫৬৯.
- মহাবদের মানবহিতৈষীতার কিছু উদাহরণ দাও।
- মানুষের হাত-কর্তন, চক্ষুউৎপাটন, পরের ধন-সম্পদলুণ্ঠন, নারীদের লুণ্ঠন ও অতঃপর ধর্ষণ, দাসীদের ধর্ষণ, খালাবিবাহ, শিশুবিবাহ, পুত্রবধূবিবাহ, মানুষ জবাইকরণ, বুদ্ধিজীবী হত্যা, অগ্নিসংযোগ, প্রতারণা, মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি, চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি, মানুষের মনে মিথ্যে বলে ভীতি সৃষ্টিকরণ, প্রতারণা করে ক্ষমতা দখল-করণ, সন্ত্রাসের রাজ্য সৃষ্টি-করণ ইত্যাদি।

৫৭০.
আমি এক, য়াল্ল্যাও এক। আমার কোনো শরিক নাই, য়াল্ল্যারও কোনো শরিক নাই। আমি গণিতশাস্ত্রে দুর্বল, য়াল্ল্যাও গণিতশাস্ত্রে দুর্বল।

আরে, য়াল্ল্যা হওয়ার সব গুণই দেখছি আমার মধ্যে বিদ্যমান!

যিশুর চাকরি-রহস্য


মূল ছবি এখানে

কোরানের আরও একটি ভুল

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল

মুহাম্মদ... থুক্কু, আল্লাহ কোরানে কইছে, প্রত্যেক প্রাণীই মরনশীল।

Well, প্রিয় মুহাম্মদ... থুক্কু, প্রিয় আল্লাহ, আপনারে পরিচয় করাইয়া দেই Turritopsis dohrnii অর্থাৎ the immortal jellyfish-এর সাথে।

আপনার কোরানকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে এই হারামজাদা কখনোই প্রাকৃতিক কারণে মারা যায় না। সে বাস্তবিকই অমর।

এই হারামখোর যে শিউর হারাম খায়, তার প্রমাণ হইলো - যদি কখনো কোন বাহ্যিক এক্সট্রিম প্রভাবের ফলে এর মরবে-মরবে অবস্থা হইয়া যায়, তখন সে কী করে? ট্রান্সফর্মেশান হয়ে বাচ্চা হইয়া যায়। এরপর বাচ্চা থেকে ধীরে আবার সুস্থ-সবল হিসেবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।


এদের আরেক ভাইগনা আছে টার্ডিগ্রেড, তাগোরে নাসা স্পেসে কোনো সুরক্ষা ছাড়াই বহুতদিন ছাইড়া দিছিল, যেই স্পেসে স্পেশাল সুরক্ষা ছাড়া আশরাফুল মাখলুকাতেরা দশ মিনিটেই অক্কা পায়, সেইখান থেকে এরা সুস্থ সবল বংশবিস্তার করতে করতে ফিরে আসছিলো।

চিন্তা করেন, আল্লাহর সেরা সৃষ্টি যা পারে না, তা এরা করছে আরামসে, এদেরকে বানাইছেন, প্রভু জিনক্স।

এতসব মিরাক্কেলের পরেও কি মুসলমান-হিন্দু ইত্যাদিরা আল্লাহ-ভগবানকে ভুলে প্রভু জিনক্সের উপর ঈমান আনবে না?

হা-হা-হাদিস – ১১৪

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক ১
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing

ডাউনলোড লিংক ২
http://www.nowdownload.ch/dl/da441c35c51a0

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

২১ নভেম্বর, ২০১৪

আরব জাহানের শিশ্ন ও পশ্চিমা বিশ্বের অন্তর্বাস

লিখেছেন ক্যাটম্যান

কিছুদিন আগে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের অতি ঈমানদার মুমিনগণ আমেরিকা ও ইসরাইল সহ পশ্চিমা বিশ্বের সকল পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি মুমিনেরা ওই সকল পণ্যের তালিকাও উপস্থাপন করেছিল; যে-তালিকায় বাংলাদেশী পণ্যের নামও ছিলো। মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে কোনো ইসরাইলি পণ্য বাজারজাত হয় না। কারণ বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের কোনো প্রকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি নেই। নেই কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সম্পর্ক। তারপরও বাংলাদেশী মুমিনগণ বাংলাদেশের বাজারে অজস্র পণ্যের ভীড়ে ইসরাইলি পণ্য খুজে পেয়েছিল।

পৃথিবীতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অসহযোগিতা আরোপের সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ চরিতার্থ করার নিমিত্তে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা আরোপের নীতি মধ্যযুগের আরব সমাজেও লক্ষ্য করা যায়। মুহম্মদের নবুয়ত প্রাপ্তির সপ্তম সনে মক্কার কুরায়শ নেতৃবৃন্দ পরামর্শ করে একটি চুক্তিপত্র প্রণয়ন করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী কুরায়শ ও কুরায়শের মিত্ররা মুহম্মদ ও তার পক্ষাবলম্বনকারীদের প্রতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসহযোগিতা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । এই ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে সকল মক্কাবাসীদের নিকট হতে তখন শপথ নেওয়া হয়; বিষয় তিনটি ছিল নিম্নরূপ:
১. কোনো মুসলমানের সাথে কেউ বৈবাহিক সম্পর্ক করবে না।
২. তাদের নিকট কেউ কোনো কিছু বিক্রয় করবে না।
৩. তাদের নিকট হতে কেউ কোনো কিছু ক্রয় করবে না।

উক্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তিপত্রটি লিখে কাবা মন্দিরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, মক্কার মুশরিক পৌত্তলিকগণ যে পন্থা অবলম্বন করে মুহম্মদ ও তার সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে দুর্বিষহ করে তুলতে চেয়েছিল; সেই একই পন্থা অবলম্বন করে বাংলাদেশের অতি মুমিন-মুসলমানগণ এখন পশ্চিমা বিশ্বকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছে । ওই সকল মুমিন কথায় কথায় নবী মুহম্মদের সুন্নতি তরিকা পালনের জিগির তুললেও এক্ষেত্রে তারা সুন্নত বর্জন করে নবীর শত্রু মুশরিক কুরায়শদের আদর্শ অনুসরণ করেছে।

তবে পণ্য বর্জনের ক্ষেত্রে যে-সব বিষয়ের প্রতি মুমিনগণের সচেতন দৃষ্টি কাম্য ছিল, দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, অতি মুমিনগণ সেই সব বিষয়েই সচেতন ভাবে অচেতন থাকার কৌশল গ্রহণ করেছিল। যেমন আরবের মুনাফিক বাদশাহ, যে কিনা সহিহ ইসলাম সমর্থিত খেলাফতের আদর্শকে বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে; তার মত মুনাফিক বাদশাহ ও মুনাফিকির রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম জাহানের কোনো মুসলমানকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। কারণ পৃথিবীতে এখন আর কোন মুসলিম জাহান নেই। সমস্ত মুসলিম জাহান মুনাফিক জাহানে পরিণত হয়েছে। মুনাফিক জাহান জুড়ে শুধু মুসলিম বেশধারি মুনাফিক আর মুনাফিক। তাই তারা ভুলেও তাদের মুনাফিক ভগবান সৌদি বাদশাহর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে না। 

জর্ডান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের অর্থ সহায়তা নিয়ে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় বর্বরতা চালাচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে নবীপ্রেমিক মুনাফিক মুসলমানগণ নির্বাক। তারা আজ নিজেদের মুনাফিকির লজ্জা ঢাকতে পশ্চিমা বিশ্বের স্নো-পাউডার, শ্যাম্পু, কনডমের মতো পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। অথচ সত্যিকার অর্থেই যদি কোনো মুসলিম জাহান থেকে থাকে, এই মুহূর্তে তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল মুনাফিক সৌদি বাদশাহ ও তার মুনাফিকির রাজতন্ত্র কবলিত আরবের হজ্জ্বব্রত বর্জন করা। যেমন করে নবী মুহম্মদ মুশরিক-পৌত্তলিক কবলিত মক্কার হজ্জ্বব্রত বর্জন করে মদিনায় ফিরে গিয়েছিলেন। 

আর নিঃসন্দেহে হজ্জ্ব সৌদি আরবের একটি লাভজনক পণ্য; যা প্রাক-ইসলামি কাল থেকে আরবের পৌত্তলিক সমাজ সফল ব্যবসা হিসেবে চর্চা করে আসছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে মহাসমারোহে হজ্জ্ব পণ্যের মেলা বসে; যা প্রমাণ করে হজ্জ্বসেবা একটি আধ্যাত্মিক পণ্য, যা অর্থের বিনিময়ে অর্জন করা যায়। মুমিনগণ পণ্য বর্জনের মাধ্যমে যদি অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতেই চায়, তাহলে পূর্বাহ্নেই তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত আরবের খেজুর বর্জন করা। অথচ মুনাফিক আরবদের উত্পাদিত পচা খেজুর না হলে মুনাফিক মুমিনদের পবিত্র ইফতার সম্পন্ন হয় না। মুনাফিকতন্ত্রে পরিচালিত আরব দেশসমূহের এয়ারলাইন্স বা বিমান সেবা বর্জন করা। তাদের উট, দুম্বার মাংস বর্জন করা। এমনকি তাদের খনিজ তেল বর্জন করা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে একজন মুমিনও কি রয়েছে পৃথিবীতে, যে ঈমানের দাবি প্রতিষ্ঠায় মুনাফিকতন্ত্রী আরব জাহানের পণ্য বর্জন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে?

সারা বিশ্বের কথা না-হয় বাদ দিলাম; বাংলাদেশে কত ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন, সংঘ, মসজিদ-মাদ্রাসা রয়েছে ; তারা কি কখনও ওই সকল মুনাফিকতন্ত্রী আরব বিশ্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সামান্যতম যোগ্যতা রাখে? 

নিঃসন্দেহে একমাত্র উত্তর হবে ' না '; কারণ তারা সকলেই মুনাফিকতন্ত্রী আরব জাহানের উচ্ছিষ্টভোজী কুকুর। 



মুনাফিক আরব জাহানের শিশ্নলেহন তাদের অন্যতম ঈমানি কর্তব্য। মুনাফিক আরব জাহানের দান খয়রাতের বদৌলতেই তাদের ইসলামি সংগঠন, সংঘ, মসজিদ-মাদ্রাসা চলে। তারা সাচ্চা মুনাফিক। তাদের মসজিদ-মাদ্রাসায় পয়দা হয় সাচ্চা মুনাফিক। তাই দিকে দিকে আজ শুধু মুসলিম বেশধারী মুনাফিকদের চিত্কার ও শিত্কার ধ্বনি শোনা যায়। আর মুনাফিক কখনও মুনাফিক প্রভু আরব বিশ্বের পণ্য বর্জনের হিম্মত রাখে না। তারা নিজেদের মুনাফিকীর লজ্জা ঢাকতে শুধু পশ্চিমা বিশ্বের অন্তর্বাস নিয়ে কামড়া-কামড়ি করতে ব্যাপক উৎসাহ বোধ করে।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৯৬



হুরভোগের স্বপ্নদোষ ও বর্বর মুমিনেরা

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

হুরভোগ পাইতে হইলে কী কী করিতে হইবে?

হুরভোগ পাইতে হইলে সারাক্ষণ আল্লাহ এবং তাহার প্রেরিত মহাপুরুষ (!) এর চামচামিতে মশগুল হইতে হইবে।

আল্লার নামে পশু হত্যা করিয়া মানবতা কোরবানী দিতে হইবে।

তাহার নামে জিহাদ করিয়া অন্যকে মারিতে হইবে অথবা মারা খাইতে হইবে।

আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাহার প্রেরিত পুরুষের চরিত্র নিয়ে কোনো প্রকার প্রশ্ন করা যাইবে না, আর যাহারা করিবে তাহাদের কল্লার সাথে নিজের বিবেক-বুদ্ধি কাটিয়া ফেলিতে হইবে।

এক কথায় - আল্লা-নবীর প্রেমে সর্বদা অসভ্য-বর্বর এবং ধর্মান্ধ হইয়া থাকিতে হইবে।

কিন্তু মুমিনদের কাছে উক্ত বর্বরতা কোনোই পাপ নহে। কারণ যে সকল ইতর প্রাণী নর্দমাতে জন্মিয়া নর্দমাতেই থাকিতে অভ্যস্ত, তাহাদের নিকটে দুর্গন্ধ বলিয়া কিছুই নাই।

আসলে হইয়াছে কী... মুমিনেরা ধর্মের গণ্ডিতে জন্মিয়া ধর্মের গণ্ডিতেই বড় হইয়াছে। ইহার কারণেই ধর্মের সকল বর্বরতা অসভ্যতা মুমিনদের কাছে স্বাভাবিক জীবন-যাপনই মনে হইতেছে।

ইহারা অন্যায় আর পাপ বলিতে বোঝে:

কোন মাইয়া ভার্সিটিত পড়ে?
কোন মাইয়া মুরুব্বি দেইখা মাথায় কাপড় দিলো না?
কোন মাইয়া বোরখা ছাড়া ঘরের বাইরে গেল?
কোন মাইয়া গাড়ি চালায়?
কোন মাইয়া চাকরি করে?
কোন কোন পোলা-মাইয়া হাত ধইরা হাটতেছে?
কেডা নামাজ পড়তে গেল না?
কেডা মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের ট্যাকা দিলো না?
কেডা মাথায় টুপি পরলো না?
কেডা টাকনুর নিচে প্যান্ট পরছে?
মুখে দাড়ি নিয়ে ঘোরে না কেডা? 
কেডা ধর্ম নিয়া প্রশ্ন তুললো?
...ইত্যাদি।

কিন্তু দাসীভোগ, গনিমতের মাল ভোগ, যুদ্ধবন্দী ধর্ষণ, শিশুকামিতা, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা, পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা, বেত্রাঘাত-হস্তকর্তন-কল্লাকর্তনের ন্যায় বর্বর আইন মানিয়া চলা, বিধর্মীদের বাড়ি-ঘর,উপাসনাল ভাংচুর, একাধিক বিবাহ করা - এইসব কোনো অন্যায় অসভ্যতা তো নয়ই, বরং উপরোক্ত কর্মকাণ্ড ধর্মসম্মত হালাল এবং নবীজির সুন্নত।

উক্ত কারণেই মুমিনেরা উপরোক্ত অসভ্যতাকে সভ্যতা মনে করিয়াই বড় হইয়াছে, তাই উক্ত কাজ তাহাদের জন্য পুণ্যের, এবং এই পুণ্য অর্জনের লাগিয়াই মুমিনেরা পুরো পৃথিবী জুড়িয়া সর্বদা হুরভোগের লক্ষ্যে নবীজিরে কপি কইরা বিধর্মি কোপাইয়া ফরজ কামাইয়া যাইতেছে।

বি.দ্র. আমার কল্লা কাটা ফরজ!

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৭০

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা


২০ নভেম্বর, ২০১৪

কোরান কুইজ – ৪৯

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৫৯: আল্যাফাক মানুষকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছে?

১. ধুলো
২. কাদা
৩. বীর্য
৪. রক্তপিণ্ড
৫. পানি
৬. কোনও উপকরণ ছাড়াই

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

বেদ্বীনবাণী - ২২


অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি কৌস্তুভ-এর, ধর্মকারীর নয়

কামকাতর, নারীলোভী নবী ও ইসলামে নারীর অবস্থান

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

ইসলামমতে পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও তাদের উপর কর্তৃত্বশীল, সে কথা আমরা কোরআন থেকে জানি। এমনকি আদমের প্রয়োজনেই হাওয়া বিবির সৃষ্টি। 

ইসলাম নারীকে এতই সম্মান (!) দিয়েছে যে, 
বলা হয়েছে - রজঃস্বলা নারী অশূচি ও দূষিত;
বলা হয়েছে - পুরুষের জন্য সবচাইতে ক্ষতিকর ফিতনা ও বিপর্যয় হল নারী,
বলা হয়েছে - দোযখীদের মধ্যে নারীরা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ,
বলা হয়েছে - স্বামী যদি স্ত্রীকে বিছানায় আসতে বলে ও স্ত্রী যদি তাৎক্ষণিক সাড়া না দেয়, তবে সেটা গুনাহ,
দেয়া হয়েছে পুরুষের বহুগামিতাকে বৈধতা;
দেয়া হয়েছে চার বিয়ের পাশাপাশি দাসীসম্ভোগ, আর যুদ্ধবন্দিনী-সম্ভোগকে ন্যায্যতা।
ইসলামের দৃষ্টিতে নামাজ, রোজা, পর্দাপ্রথা পালন ও শরিয়তের অন্যান্য বিধান পালনের পাশাপাশি নারীর দায়িত্ব স্বামীর আনুগত্য করা, স্বামীকে আনন্দিত করে রাখা, স্বামী-সন্তানের প্রতি যত্নশীল হওয়া, নিজ সতীত্বের হেফাজত করা, স্বামীর যৌনচাহিদার প্রতি সর্বক্ষণ সচেতন থাকা, স্বামীর বাসনা পূর্ণ করা, অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, কোনো অবস্থাতেই বিরুদ্ধাচরণ না করা, এমনকি মাঝে মধ্যে হালকা প্রহার মেনে নেওয়াও নারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বাল্য বিবাহ, স্বামীর একাধিক বিবাহ এবং দাসীসম্ভোগে আপত্তি না করা নেককার নারীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলেই সমাজে প্রচলিত। এ ছাড়াও নারীরা বুদ্ধিহীন, স্বল্প স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলে তাদের মর্যাদা স্বামীর অর্ধেক এবং সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রেও একজন পুরুষের সাক্ষ্য দুইজন নারীর সাক্ষ্যের সমতুল্য বলে বিবেচিত। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও পুরুষ সন্তান যা পাবে, কন্যা সন্তানের অধিকার তার অর্ধেক। নারীর জন্য ভয়ঙ্কর অবমাননার জেনা, রজম ইত্যাদি প্রসঙ্গ আপাতত এই আলোচনার বাইরেই রাখছি। পুরুষের জন্য মেয়েদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর ফিতনা ও বিপর্যয় আর নেই, দোজখের যারা প্রবেশ করবে তাদের অধিকাংশ নারী এমনটাও আমরা হরহামেশাই শুনি; কোরআন আর হাদিসের আলোকেই শুনি।

এরপরও স্বয়ং মুহাম্মদ নারীদের কোন দৃষ্টিতে দেখতেন? তিনি নিজে কি নারীদের সম্মানিত করেছেন, নাকি কামাতুরভাবে তাদের ভোগ্যবস্তু বলে মনে করতেন?

নিচের হাদিস বলছে, তিনিও কামকাতরতা থেকে মোটেই মুক্ত ছিলেন না।
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (র) ইবন নুমায়র আল হামদানী (র)......আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।
(সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৬৫)
কামুক নবীর কামকাতরতার কারণে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে কি কোন্দল হত? তাঁরা কি একে অন্যকে গলা চড়িয়ে অশ্লীল কথা বলতেন? নিচের হাদিস বলছে তারা নিজেদের মধ্যে উচ্চস্বরে চুলোচুলি করত!
আবু বকর আবু শায়বা আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শেষ পর্যায়ে নবী (সা) -এর নয়জন সহধর্মিনী ছিলেন। নবী (সা) তাদের মাঝে পালাবণ্টন কালে নয় দিনের আগে (পালার) প্রথমা স্ত্রী'র কাছে পূনরায় পৌছতেন না।
(সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৫০)
প্রতি রাতে নবী (সা) যে ঘরে অবস্হান করতেন, সেখানে তারা (নবী (সা) পত্নীগণ) সমবেত হতেন। একরাতে তিনি যখন আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন, তখন যয়নাব (রাঃ) সেখানে আগমন করলে নবী (সা) তার দিকে নিজের হাত প্রসারিত করলেন।

আয়িশা (রাঃ) বললেন, ও তো যয়নাব! ফলে নবী (সা) তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন। তখন তারা দু-জন (আয়িশা ও যয়নাব) কথা কটিাকাটি করতে লাগলেন । এমনকি তাদের গোসসার আওয়ায চড়ে গেল, ওদিকে সালাতের ইকামত (এর সময় উপস্হিত) হল।

ঐ অবস্থায় আবু বকর (রাঃ) সেখান দিয়ে (সালাতে) যাচ্ছিলেন। তিনি ঐ দুজনের আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা)! আপনি বের হয়ে আসুন এবং ওদের মুখে ধুলা-মাটি ছুঁড়ে ( দিয়ে মুখ বন্ধ করে) দিন। তখন নবী (সা) বের হয়ে এলেন।

আয়িশা (রাঃ) বললেন, এখন নবী (সা) তাঁর সালাত আদায় করবেন, তার পরে তো আবু বকর (রাঃ) এসে আমাকে বকাবকি ও গালমন্দ করবেন, পরে (তাই হল)।
নবী (সা) তার সালাত সমাধা করলে আবু বকর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর নিকটে এসে তাকে কড়াকড়া কথা বললেন এবং বললেন, তুমি এমনটা করে থাক!

শিশুকামী, নারীলোভী, মুহাম্মদ নিজ জীবনেও কামকাতরতার চূড়ান্ত নিদর্শন রেখেছেন বন্ধুর শিশুকন্যাকে বিবাহ করে, বন্ধুকন্যাকে বিবাহ করে, নিজ কন্যার সাথে বন্ধুর বিবাহ দিয়ে, নিজ কন্যার সাথে তারই চাচাত ভাইয়ের বিবাহ দিয়ে, এমনকি নিজ পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করে। মুহাম্মদের বৈবাহিক সম্পর্কগুলো এটাই স্পষ্ট করে যে, তৎকালীন আরব সমাজ নারীকে নিছক ভোগ্যবস্তুর অধিক কিছুই ভাবত না।

চিত্রপঞ্চক - ৯৯

ইছলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান


হাসিমুখে ইছলামী শিশুশিক্ষা

আছেন কোনও ভাই, তাফসির কইরা দিবেন?


১৯ নভেম্বর, ২০১৪

আমার "আমার অবিশ্বাস" পাঠ - ২১

হুমায়ুন আজাদের 'আমার অবিশ্বাস' নামের বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম বেশ আগে। ধর্মকারী তখন স্থগিতাবস্থায়। কিন্তু কিছুদূর পড়ার পরে লক্ষ্য করলাম, বইটিতে উদ্ধৃতিযোগ্য ছত্রের ছড়াছড়ি। পড়া তখনই থামিয়ে দিয়ে স্থির করলাম, ধর্মকারী আবার সচল হলে ধর্মকারীর পাঠকদের (অনেকেরই বইটা পড়া আছে, জানি, তবুও...) সঙ্গে টাটকা পাঠমুগ্ধতা ভাগাভাগি করবো। তাই পড়তে শুরু করলাম আবার। বিসমিল্যা।

৯৮. 
বিধাতাকল্পনায় হিংস্রতার পর বড়ো ক'রে তোলা হয়েছে তাঁর স্তুতিপ্রিয়তা। সব ধর্মেই বিধাতার প্রিয় স্তাবকতা, স্তুতি; তিনি পছন্দ করেন নিরর্থক বন্দনা; প্রহরে প্রহরে তাঁর বন্দনা করতে হয়, নইলে তিনি সুখী হন না। তাঁকে স্তুতি করার জন্যে রচিত হয়েছে মানবভাষার বিপুল বাক্যসম্ভার। ওই স্তবকতা বা বন্দনার শ্লোকগুলো খুব উৎকৃষ্ট নয়।... মহাজগতের মতো অনন্ত অসীমের স্রষ্টা যিনি, তিনি কী ক'রে উপভোগ করতে পারেন তুচ্ছ মানুষের তুচ্ছ স্তাবকতা, তুচ্ছ স্তুতি; কী ক'রে তিনি সুখী হ'তে পারেন এই সব তুচ্ছ কানাকড়িতে? 

৯৯.
জগতে সুষমা আর মহৎ লক্ষ্য বা মহাপরিকল্পনা দেখা বিশ্বাসীদের একটি দুরারোগ্য ব্যাধি।... সমাজ ও রাষ্ট্রের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে এমন সব অশ্লীল ঘটনা, যা কোনো মহাপরিকল্পনার ফল নয়।

১০০.
শুধু আদিম নয়, আধুনিক সব ধর্মেই রয়েছে অলৌকিক শক্তিগুলোকে তৃপ্ত করার নানান রীতি। কিন্তু যদি বিশ্বাস করি যে রয়েছে অলৌকিক শক্তি, যারা নিয়ন্ত্রণ করে জগত, আর আমরা যদি তাদের কাছে চাই সুযোগসুবিধা, তার অর্থ দাঁড়ায় প্রাকৃতিক নিয়ম শিথিল করা সম্ভব; প্রার্থনা করে বা পশুবলি দিয়ে ওই শক্তিদের সাহায্যে বদলে দিতে পারি প্রাকৃতিক নিয়ম। 

১০১.
প্রার্থনায় অবশ্য কখনোই কাজ হয় না, নির্বোধেরা শুধু একটু সাময়িক শান্তি পায়।

১০২.
প্রার্থনা - আত্মসম্মানবোধহীন দুর্বলের লোলুপবাণীবিন্যাস।

ঐশী বইয়ের বৈশিষ্ট্য



আরবি নামগুলোর হাস্যকর অর্থ: উৎস সন্ধান

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

আবু বকর মানে ছাগলের আব্বা, জামাল মানে উট, জামাল উদ্দিন মানে ধর্মের উট, ইবনে মায়েজ মানে ছাগলের পুত্র, বিনতে তাওর মানে বলদের কন্যা...ইত্যাদি আরবি নামগুলোর মানে দেখে আমরা হাসাহাসি করি। কিন্তু আসলেই কি হাসাহাসি করার মত সুযোগ আছে?

কোরানের অনেক সূরার বাংলা মানে করলেও হাসি পায় - বিভিন্ন প্রাণীর নামের সূরা - বকনা বাছুর, গৃহপালিত পশু, মৌমাছি, পিপীলিকা, মাকড়সা; স্থান বা বস্তুর নামে - পাথুরে পাহাড়, বালুর পাহাড় গুহা; ফলা-ফলাদির নামে ডুমুর, জলপাই - আল্যায় নিজেও এসবের নামে কসম খায়।

কিন্তু, প্লিজ, হাসবেন না।

দুনিয়ার সমস্ত মানবজাতি একই গতিতে সমান ভাবে উন্নতি লাভ করেনি। বর্তমানে ইউরোপিয়ানদের আমরা সবচেয়ে উন্নত মনে করি। আর সবচেয়ে অনুন্নত জাতির খবর নৃতত্ত্ববিদরা রাখেন - আফ্রিকা, পাপুয়া নিউগিনি বা এরকম এলাকায় এলাকায় এখনো এমন জাতির সন্ধান পাওয়া যাবে যাদের গায়ে বর্তমান সভ্যতার বিন্দুমাত্র উন্নতির আঁচড় লাগেনি। ভারতীয়, আরব, বা আমরাও এই উন্নতির কোনো একটা স্তরে আছি। ইউরোপিয়ানরাও কোনো না কোনো কালে এসব পার হয়ে এসেছে, আরো সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের ইতিহাস-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এসবের পরিচয় পাওয়া যাবে। আমরাও আমাদের চেয়ে অনুন্নত জাতিদের স্তরে কোনো এক কালে ছিলাম, ধীরে ধীরে সামনে এগোচ্ছি।

আমাদের ইতিহাস-সাহিত্য-সংস্কৃতির আদি রূপটা জানতে হলে ভারতের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলো অবশ্যপাঠ্য। পুরানো কালে গেলে উপনিষদ কুকুর সম্পর্কে একটা শ্লোকের সূত্র ধরে এগিয়ে ঋগ্বেদ পর্যন্ত গেলে সাপ, ব্যাঙ, বাঘ, ছাগল, তিতির, খচ্চোর, মাছ, বানর, ভাল্লুক, কুমির, কচ্ছপ ইত্যাদি নামধারী জাতি বা মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়। এমনটাই ছিল বাঙালীদের আদি কৌমসমাজেও - একেকটা গোষ্ঠীর পরিচয় গড়ে উঠত বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ার-প্রাণীদের নামে। এটা সবার জানা। (এখন ইউরোপিয়ানদের নামের প্রায় কোনো অর্থ থাকে না, কিন্তু আমরা এখনো প্রাণী বা বস্তুর সাথে মিলিয়ে নাম রাখি।) ইউরোপ-আমেরিকা বা পৃথিবীর সব জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ঘাটলেও একই ব্যাপার পাওয়া যাবে।

একই জিনিস আরব জনগোষ্ঠীর বেলাতেও হয়েছে। যদিও তারা কোরান থেকে শুরু করে এবং পেছনে শুধু আদম-হাওয়া পর্যন্ত যায়। এর মাঝামাঝি যা আছে, সব অস্বীকার করে। পুরানো আর সব ইতিহাস এরা ধ্বংস করে একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়, নইলে তাদের ধর্মটাই যে মিথ্যা হয়ে যায়! এরা আরবের বাইরেও এই কাজ করেছে বা করে আসছে। যেখানেই গেছে সেখানের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি একেবারে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে বা চায়। কিন্তু তাদের কোরান-হাদিসেই মনের অগোচরেই সেই আদিম কালের ছাপ রয়ে গেছে, ইতিহাস রয়ে গেছে। ঐসব নামগুলো ওই দিকেই নির্দেশ করে। আর মহাম্মদ এসব জানত, তাই নিজের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে সেই ভয়েই ধর্মের বাইরে আর কোনো সাহিত্য বা বিজ্ঞান চর্চার কোনো সুযোগ রাখতে চায়নি।

এক জোড়া পোস্টার

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি কৌস্তুভ-এর, ধর্মকারীর নয় 

পাঠিয়েছেন মোল্লাচি

১৮ নভেম্বর, ২০১৪

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের প্রতি

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

হেলু কিশুর কিশুরী বন্দুরা, কেমুন আছো তমরা।

আশা খরি, মুসলিম এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আল্লাহপাকের রহমতে ভাল আছো।

আর হিন্দু এসএসসি পরীক্ষার্থীরা তুমাগের ইশ্বর "বিষনু" কাকার আশীর্বাদে ভাল থাকিয়া পিসিমা "স্বরস্বতী"র দাক্ষিণ্যে উৎকৃষ্ট বিদ্যালাভের মইধ্য দিয়া আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ।

অন্যদিকে ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নিশ্চয় তূমাগের সৃষ্টিকর্তা 'YHWH' এর ভালবাসার অনুপ্রেরণায় আসন্ন জানুয়ারির পরিক্ষার জন্য উঠিফড়ি।

ঐদিকে খিশটান ধর্মালম্বি এসএসসি পরীক্ষার্থিরা Jesus ও Father এর কৃপা লাভের আশায় দিন গুজরান কোইত্তে আছো।

অফরদিকে বৌদ্দ পরীক্ষার্থীরা হয়ত পরিক্ষা টরিক্ষা বাদ দিয়া নির্বাণ লাভের আশায় কচু গাছ তলায় বসি আছো, আর কচি কচি বাঁশ খায়া গম আছো।

শুনো বন্দুরা... 

তুমরা বা আমরা সবাই ফরীক্ষা আসি আসি মূহুর্তে কিসু কাজ লিয়ে হুদাই সিন্তা যুক্ত থাকি। এই সময় ফড়তে বোইসলেই মুনে চিন্তা আসে যে, ফেইসবুকের টাইমলাইন এর কভার পিকটা চেঞ্জ করি ফেলা দরকার এবার!

অথবা টেবিলে পড়তে বসা অবস্তায় মুনে হইতে ফারে, দরজাটা ক্যাঁত ক্যাঁত কোইত্তেসে... যাই, একটু তেল দিয়া আসি। খসখসা ভাব সোলি যাইবে!

আবার মুনে আইশতে ফারে যে, ফ্যানটা সাফ করা দরকার, অনেক দিন পরিষ্কার করা হয় নাই! - এমন সব কাজের কতা চিরকালই পরীক্ষালগ্নে ফরীক্ষার্থীদের মনের কুনায় ভীড় করে।

সাবধান!!!

তুমরা মুনের কুনে ভীড় করোইন্যা এসব কতায় মুটেও কান দিবা না। বরং তুমরা খাতার শেষের পৃষ্ঠায় এসব কতা মুনে আইশলে লিস্টি করিয়া লিখি রাখিও এবং নিজেকে বোইলবা "পরীক্ষা শেষে করা হবে"।

এসব উদ্ভট কাজের কতা এমন সব সময়ে মুনে আইশলে মুসলিম ছাত্ররা এই দুয়া ফড়িও: "লা হাওলা ওয়ালা কুয়াত্বা ইল্লা বিল্লা ফিল আলুউল আজীম"।

অন্য ধর্মাবলম্বীরা বুকে থুক দিও।

তবে মুসলিম ইশটুডেন্টরা আবার আমার উফরুক্ত বর্নীত একটা ক্লু লিয়ে কিন্তুক একদম ভাবিও না। যে ক্লুতে আমি মুসলিম হিন্দু ইয়াহুদি খিশটানদের সৃষ্টিকর্তাকে আলাদা করি বর্ননা কারাসি। হাঁ,বন্দুরা, "আল্লাহ" এবং "বিষনু" অথবা ইয়াহুদি/খিশটানদের ধর্মগ্রন্থে বর্নীত শৃষ্টিকর্তা 'YHWH' সহ সকল সৃষ্টিকর্তাগনদের বৈশিষ্ট্যগত তফাৎ নিয়া পরিক্ষা শেষে অধ্যয়ন করিও। আফাতত এই চিন্তার ক্লু'টাও খাতার ফেসোনে "পরীক্ষার ফরে ভাবিয়া দেখিব" লিস্টে লিফিবদ্ধ করি রাখো।

মুনে রাকবা, এই মূল্যবান সময়টা অতি গোফনে তোমাগের সারা জীবনের রাস্তা তৈয়ারি কোইরগা দিচ্ছে। এই ফরীক্ষাটা কারো জন্য ডাক্তারি লাইন সহজ করি দিচ্ছে, কারো জন্যে রেল গাড়ির ড্রাইভার হতে ফারার সম্ভাবনা, কারো রাস্তা হইতে ফারে মিডল ইস্টের দিকে, যেখানে রয়েসে রাস্তা ঝাড়ু অথবা নির্মান শ্রমিকের কর্ম।

অতএব, ফড়ো। সিরিয়াসলিই ফড়ো।

মুছলিম-মুছলিম ভাই-ভাই


কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৫৬): ওহুদ যুদ্ধ - ৩: ইহুদিদের ভূমিকা কী ছিল? ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – উনত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫

ওহুদ যুদ্ধ যাত্রার প্রাক্কালে কী কারণে প্রায় ৩০০ জন (এক-তৃতীয়াংশ) মুহাম্মদ অনুসারী মাঝপথ থেকেই মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং কী অপরাধে পথিমধ্যেই সা'দ বিন যায়েদ নামক এক মুহাম্মদ অনুসারী মিরবাহ বিন কেইজি নামক এক অন্ধকে খুন করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

সেই হতভাগ্য অন্ধ ব্যক্তিটির অপরাধ ছিল এই যে, তিনি তাঁরই মালিকানাধীন বাগানের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের যাত্রায় বাধা দানের চেষ্টা করেছিলেন, তাদের উদ্দেশে এক মুষ্টি ধূলা নিক্ষেপ করেছিলেন এবং আরেক মুষ্টি ধূলা হাতে নিয়ে তা মুহাম্মদের মুখের ওপর নিক্ষেপের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। 

আমরা আরও জেনেছি যে, সেই অপরাধের শাস্তি স্বরূপ যখন মুহাম্মদ অনুসারীরা সেই অন্ধ ব্যক্তিকে খুন করার জন্য দ্রুতগতিতে ছুটে আসে, তখন স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাদের উদ্দেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন,

"তাকে খুন করো না, কারণ এই অন্ধ মানুষটির অন্তর ও দৃষ্টি দুইই অন্ধ।"

কিন্তু তাঁর এই ঘোষণার আগেই সা'দ বিন যায়েদ সেই অন্ধ ব্যক্তিটির মস্তক বিভক্ত করে দেয়। অর্থাৎ মুহাম্মদের ঘোষণাটি ছিল অন্ধ ব্যক্তিটির মস্তক চূর্ণ হওয়ার পরে! 

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর বাণী ও শিক্ষার সমালোচনাকারী প্রতিটি ব্যক্তিই যে ‘অন্ধ অন্তর ও অনুরূপ বিভিন্ন বিশেষণের অধিকারী’, তা মুহাম্মদ তাঁর স্বরচিত ব্যক্তিমানস জবানীগ্রন্থ কুরানের পাতায় পাতায় বর্ণনা করেছেন (পর্ব ২৬-২৭); আর এই সমালোচনাকারীদের তাঁর অনুসারীরা কীরূপ দ্রুততার সাথে হত্যা/শায়েস্তা করার চেষ্টা করতেন, তা মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট!

আজকের পৃথিবীর ইসলাম অনুসারীরা ও সেই শিক্ষার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত অনুগতভাবে পালন করে চলেছেন! মুসলিম শাসিত ও মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশে তা পালিত হয় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে! আর মুসলিম অ-শাসিত ও মুসলিম সংখ্যালঘু দেশে তা পালিত হয় “যেখানেই সুযোগ মেলে সেখানেই”! মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরেও মুহাম্মদের সমালোচনাকারী কোনো ব্যক্তিই মুহাম্মদ অনুসারীদের হাতে নিরাপদ নয়! 

ইন্টারনেট প্রযুক্তির আবিষ্কার না হলে মুহাম্মদ ও তাঁরই অনুসারী আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত ইতিহাসের (কুরান, সিরাত ও হাদিস) আলোকে মুহাম্মদের বাণী/শিক্ষা ও কর্মকাণ্ডের খোলামেলা আলোচনা কখনোই সম্ভব ছিল না! এই অসামান্য আবিষ্কারের ফলে মৃত্যু-ঝুঁকির সম্ভাবনা নিয়েও বহু লেখক ও গবেষক তাঁদের গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়েছেন। তা না হলে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানেরা কখনোই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ পেতেন না।

আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে - মুহাম্মদ তাঁর ১০ বছরের (৬২২-৬৩২ সাল) মদিনা জীবনে যে ৬০-১০০ টি যুদ্ধ ও সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তার মধ্যে যে মাত্র দু'টি সংঘর্ষে কুরাইশরা আক্রমণাত্মক (Offensive) ভূমিকায় ছিলেন, তার প্রথমটি হলো এই ওহুদ যুদ্ধ। কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি যে, এই ওহুদ যুদ্ধের মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট হলো বদর যুদ্ধ (পর্ব ৫৪), যা সংঘটিত হয় ১৫ মার্চ ৬২৪ সাল; আর ওহুদ যুদ্ধটি সংঘটিত হয় তার এক বছর পর ৬২৫ সালের ২৩শে মার্চ তারিখে।

ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি, বদর যুদ্ধের পর থেকে ওহুদ যুদ্ধ পর্যন্ত গত একটি বছরে মুহাম্মদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক নৃশংসতায় একের পর এক খুন করেছেন ১২০ বছর বয়সী ইহুদি কবি আবু-আফাককে (পর্ব- ৪৬), কোলের সন্তানকে স্তন্যপান অবস্থায় পাঁচ সন্তানের জননী ইহুদি কবি আসমা-বিনতে মারওয়ানকে (পর্ব- ৪৭), প্রতারণার আশ্রয়ে ইহুদি কবি কাব বিন আল-আশরাফ ও আবু রাফি-কে (পর্ব- ৪৮ ও ৫০) এবং ইবনে সুনেইনা নামের এক একান্ত নিরীহ ইহুদি ব্যবসায়ীকে (পর্ব- ৪৯)!

আমরা আরও জেনেছি, শক্তিমত্তায় মত্ত মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক নৃশংসতায় বনি কেইনুকা নামক এক ইহুদি গোত্রের সমস্ত মানুষকে প্রায় এক বস্ত্রে তাঁদের শত শত বছরের পৈত্রিক ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট করেছেন (পর্ব-৫১)!

মদিনার ইহুদি গোত্রের ওপর গত একটি বছর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের একের পর এক এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদিনার ইহুদিদের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তা যে কোন বিবেকসম্পন্ন মানুষ অতি সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন।   

প্রশ্ন হলো, এমত পরিস্থিতিতে ওহুদ যুদ্ধে ইহুদিদের ভূমিকা কী ছিল?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

'জিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কাই নয় এমন একজন হইতে < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে < আল-জুহরী হইতে বর্ণিত হয়েছে: [1]

সেই দিন আনসাররা বলে, "হে আল্লাহর নবী, আমাদের কি এটি উচিত নয় যে, আমরা আমাদের মিত্র ইহুদিদের কাছে সাহায্য শুধাই?"

জবাবে তিনি বলেন, "তাদের প্রয়োজন আমাদের নেই!" [2] -----

'ওহুদ যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের একজন হলেন ইহুদি মুখায়েরিক, যিনি ছিলেন বানু থালাবা বিন আল-ফিতিউন গোত্রের লোক।

ঐ দিন তিনি ইহুদিদের উদ্দেশে বলেন:
"তোমরা জান যে, তোমাদের কর্তব্য হলো মুহাম্মদকে সাহায্য করা।"

যখন তারা জবাবে বলে যে, সেটি 'সাবাথ দিন', তিনি বলেন, "তোমরা কোনো সাবাথের অধিকার পাবে না" এবং তাঁর তরবারি ও সাজসজ্জা নিয়ে ঘোষনা দেন যে, যদি তিনি নিহত হন তবে তাঁর সম্পত্তির মালিক হবেন মুহাম্মদ, যা তিনি যেমন খুশী তেমন ভাবে ব্যয় করতে পারবেন। 

তারপর তিনি আল্লাহর নবীর সাথে যোগদান করেন এবং নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেন। আমি শুনেছি যে, আল্লাহর নবী বলেন, "মুখায়েরিক হলো ইহুদিদের মধ্যে উত্তম।" [3] [4] [5]

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

The narrative of Muhammad Ibne Ishaq (704-768 AD):

‘Someone, not Ziyad, (Ziyad b. 'Abdullah al-Bakka'i.) from Muhammad b. Ishaq from al-Zuhri, said that on that day the Ansar said, [1]

“O apostle, should we not ask help from our allies, the Jews?'”

He said, 'We have no need of them.'  ----[2]

“Among those killed at Uhud was (T. the Jew) Mukhayriq who was one of the B.Tha'laba b. al-Fityun.

On that day he addressed the Jews saying:

‘You know that it is your duty to help Muhammad’, and when they replied that it was the Sabbath day, he said,  'You will have no Sabbath,' and taking his sword and accoutrements, he said that if he was slain his property was to go to Muhammad, who could deal with it as he liked. Then he joined the apostle and fought with him until he was killed. I have heared that he apostle said, 'Mukhayriq is the best of the Jews." [3] [4] [5]

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই বর্ণনায় আমরা জানতে পারছি যে, যখন কিছু মুহাম্মদ অনুসারী মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করেন, তাদের কি উচিত নয় যে, তারা তাদের মিত্র ইহুদিদের কাছে সাহায্য চাইবে, তখন জবাবে মুহাম্মদ বলেন যে, ইহুদীদের কাছ থেকে কোনো সাহায্যের প্রয়োজন তাঁর নেই! 

অর্থাৎ ওহুদ যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য মদিনায় ইহুদিদের কাছে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কোনোরূপ আবেদনই করেননি!

তা সত্ত্বেও মুখায়েরিক নামের এক ইহুদি ওহুদ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ও নিহত হয়েছিলেন।

আমরা আরও জানতে পারছি যে, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদেরকে কোনোরূপ আবেদন না করা সত্ত্বেও ও মুসলমানদের সাহায্যের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যখন মুখায়েরিক নামের এই ইহুদি অন্যান্য ইহুদিদের যুদ্ধযাত্রার আহ্বান জানান, তাঁরা যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেননি। তাঁরা জবাবে বলেন যে, সেটি তাঁদের পবিত্র 'সাবাথ দিন' (A day of religious observance and abstinence from work, kept by Jews from Friday evening to Saturday evening)। [6]

আমরা ইতিপূর্বেই জেনেছি যে, শুক্রবার দিন জুমার নামাজের পর মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন ও ওহুদ প্রান্তে (মদিনায় নয়) যে দিনটিতে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, সেই দিনটি ছিল শনিবার। অর্থাৎ ইহুদিরা কোন মিথ্যা অজুহাতের আশ্রয় নেননি।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো, কুরাইশরা ওহুদ প্রান্তে জড়ো হয়েছেন বদর যুদ্ধে তাঁদের প্রিয়জনদের হত্যা, বন্দী, অপমান ও লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নিতে!

কিন্তু,

“তাঁরা মদিনা আক্রমণ করেননি! মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা আক্রান্তও হননি!

এমত অবস্থায়, আক্রান্ত হওয়ার আগেই আগ বাড়িয়ে মদিনা ছেড়ে ওহুদ প্রান্তে গিয়ে কুরাইশদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে জীবন বিসর্জন দেয়ার কোনো অর্থ মুহাম্মদের বহু অনুসারীরাও খুঁজে পাননি!

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর একান্ত অনুসারীরাও ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত। মুহাম্মদের বহু অনুসারী মদিনা পরিত্যাগ করে আগ বাড়িয়ে ওহুদ প্রান্তে গিয়ে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে এতই অনিচ্ছুক ছিলেন যে, তাঁর এক-তৃতীয়াংশ অনুসারী মাঝপথ থেকে আবার মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন (পর্ব-৫৫)।

যেখানে মুহাম্মদের নিজ অনুসারীরাই আগ বাড়িয়ে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে অনিচ্ছুক, সেখানে গত একটি বছর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের একের পর এক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার বলি (Victim) মদিনার ইহুদি গোত্রের লোকেরা তাঁদের পবিত্র 'সাবাথ দিনে' মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কাছ থকে কোনোরূপ সাহায্যের আহ্বান ছাড়াই আগ বাড়িয়ে দলে দলে ওহুদ যুদ্ধে শরীক হবেন, এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। 

মদিনায় অবস্থানকারী ইহুদি গোত্রের বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোত্রের উপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অনৈতিক আগ্রাসী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বৈধতা দিতে ইসলামী বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অ-পণ্ডিতরা মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) রচিত যে "মদিনা সনদ" নামক এক চুক্তি ভঙ্গের অবতারণা করেন, সেই “তথাকথিত মদিনা সনদ চুক্তির" বিস্তারিত আলোচনা পর্ব ৫৩-তে করা হয়েছে। দাবী করা হয়, এই তথাকথিত শান্তি চুক্তিটির এক বিশেষ শর্ত ছিল এই যে,

"ইহুদিরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবে না এবং যদি কোনো শত্রু তাঁকে মদিনায় আক্রমণ করে তবে তারা তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসবে।" [7] 

মদিনা এবং মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা আক্রান্ত না হওয়া সত্বেও আগ বাড়িয়ে ওহুদ প্রান্তে গিয়ে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে মুহাম্মদের বহু অনুসারীদের মতই মদিনার ইহুদিরাও ছিলেন অনিচ্ছুক। এটি কোনো চুক্তিভঙ্গের উদাহরণ নয়!

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] জিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কাই ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ছাত্র।
বিস্তারিত পর্ব-৪৪।

[2] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৩৭২

[3] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক:  আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭ – পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪২৪ 

[4] ‘বানু থালাব ছিল মদিনার এক গুরুত্বপূর্ণ ইহুদি গোত্র, কিন্তু তারা ছিল সম্ভবত: আরব অধিবাসী যারা ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন; কারণ ঘাসান (Ghassan) গোত্রের সাথেও তারা যুক্ত ছিল’।

[5] Ibid ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা -৩৮৪

[6] 'সাবাথ’

[7] Ibid আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৬০

বিজ্ঞান বনাম অপবিজ্ঞান


অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি করেছেন কৌস্তুভ, ধর্মকারী নয়

এবারে দেখে নিন অপবিজ্ঞানের একটি তালিকা। পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে।

১৭ নভেম্বর, ২০১৪

ঈমানদীপ্ত কাহিনী ৪ (মুচকি হাসি)

লিখেছেন জল্লাদ মিয়া

তখনও পেপসোডেন্ট এবং ক্লোজ আপ আবিষ্কৃত হয় নাই। মানুষজন দাঁত ব্রাশ করিতে জানিত না। ফলে আরবের লোকেরাও দন্ত মোবারক কেমনে মাজে, তা জানিত না। আরবের লোকেরা দুম্বার গোস্ত, আরবী (মদ্য বিশেষ) খাইয়্যা দাঁত মাজা দূরে থাক, কুলিও করত না। অবশ্য নামাজ আবিষ্কৃত হইলে অজু করার নিমিত্তে দৈনিক পাঁচবার করিয়া কুলি করিতে হইত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ আজকের কাহিনী তাহারও আগের।

ইছলাম প্রচারের জইন্য মুহাম্মদ (খাঃ পুঃ)-এর বিভিন্ন জায়গায় এবং বিভিন্ন বাড়িতে যাইতে হইত। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়া ইছলামের দাওয়াত প্রচার করিতেন। মানুষের কাছে ইছলাম তখনও একখানা নয়া ধর্ম। তাহারা এতদিন লাত, উজ্জা, মানাতের পূজা করিয়া আসিতেছিলেন। ইছলামের আজগুবি সব কথা এবং ইসলামে আসিলে যে সকল পুরস্কারের কথা আমজনতাকে মুহাম্মদ শুনাইতেন, তাহা শুনিয়া আমজনতা অট্ট হাসিতে ঢলিয়া পড়িত। অনেকদিন দাঁত না মাজার ফলে মানুষের হাসির শব্দের সাথে সাথে তীব্র পচা দূর্গন্ধও বাহির হইয়্যা আসিত, যাহা মুহাম্মদকে খুবই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলিয়া দিত। মুহাম্মদ না পারিতেন তাহাদের গালি দিতে, না পারিতেন তাহাদের হাসি বন্ধ করিয়া রাখিতে। কারণ পাগল-ছাগলের কথা শুনিয়া আমরাও খুব হাসাহাসি করি।

আপদটি ছোট্ট মনে হইলেও গুরুতর। এতে পিছলাম প্রচারে ব্যাঘাত ঘটে। মুহাম্মদ ভাবিতে লাগিলেন...

অবশেষে বুদ্ধি পাইলেন! তিনি লোকজনের হাসি বন্ধ করিতে না পারিলেও হাসির সাথে আসা গন্ধ আটকানোর একটা ব্যবস্থা করিতে একখানা হাদীছ রচনা করেন। হাদিছটি নিম্নরূপ:

হাসি তিন প্রকার:
১. মুচকি হাসি।
২. দাঁত দেখিয়ে হাসি।
৩. অট্ট হাসি।

১ নাম্বার হাসিতে সোয়াব আছে। কারণ এটিতে গন্ধ বের হবার কোনো আশংকাই নাই।

২ নাম্বার হাসিটাতে দাঁত দেখা যাবে কিন্তু শব্দ হবে না। আমরা যেভাবে কাউকে দাঁত পরিষ্কার আছে কি না দেখাই, এ হাসি অনেকটা সেরকম। এ হাসিতে দুর্গন্ধ বের হওয়ার আশংকা কম। তাই এতে গুনাহ নাই।

কিন্তু শালা হারামী ৩ নাম্বার হাসিটা মুহাম্মদ (খাঃ পুঃ)-কে যত কষ্ট দিয়াছিল। এই জন্য ওইটা হারাম!

আমি অবশ্য প্রতিদিন ক্লোজ আপ দিয়া দন্ত মোবারক ব্রাশ করি। তাই আমার মুচকি হাসা ওয়াজিব নয়!

আপনি কীরাম করি হাসেন?