৪ মে, ২০১৬

ক্রুশের ছবি – ১৯

শুধুই ক্রুশের ছবি। অন্যদিকে নজর গেলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে!



ব্লগে প্রকাশাযোগ্য অর্থাৎ বড়োদের জন্য আরও দু'টি ক্রুশের ছবি এখানে

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

কোরান কুইজ – ৯৮

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ১০৮: কাফেররা আত্মসমর্পণ না করে মুখ ঘুরিয়ে নিলে নবীর কী কর্তব্য?

১) আল্লাহর বাণী তাদের কাছে শুধু পৌঁছিয়ে দেয়া
২) আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকা

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

সবচেয়ে জরুরি কাজ

জাপান টাইমস পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এই কার্টুন, সঙ্গে একটি নিবন্ধ

৩ মে, ২০১৬

সকল ঋতুর নবী

মাসিক ঋতুচক্রকালে নারীরা দূষিত এবং এই সময়ে তাদের সঙ্গ বর্জন করতে হবে - এ নির্দেশ কোরানেই (সুরা ২:২২২) স্পষ্ট করে দেয়া আছে। এছাড়া এই সময়ে নারীর নামাজ পড়াও নিষিদ্ধ (বুখারি, খণ্ড ১, বই ৬, হাদিস ৩২৭) করে গেছে ইছলামের নবী।

কিন্তু কোরানের নির্দেশ উপেক্ষা করে সে তার ঋতুমতী স্ত্রীদের সঙ্গে নানাবিধ যৌনাচরণ করেছে। হঠাৎ একবার বা মাঝে মাঝে নয় কিন্তু, একেবারেই নিয়মিতভাবে এবং এ ব্যাপারে তার এক ধরনের অবসেশন ছিলো বলেই মনে হয়।

ওপরের সমস্ত তথ্য ইছলামী তথ্যসূত্র ও দলিল থেকে আহরিত। বিস্তারিত জানতে নিচের স্লাইড শো দেখুন অথবা স্লাইড শো থেকে বানানো পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন।

সাইজ: ৫.০২ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/isJWU8
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/x2mfQI

কোরান অপেক্ষা ইন্টারনেট উত্তম


কারণ:
১. ইন্টারনেট বাস্তব।
২. অনলাইনে দোজখে পোড়ার সম্ভাবনা নেই।
৩. নেটে সেলেব্রেটিদের ন্যাংটো ছবি-ভিডিও পাওয়া যায়।
৪. ইন্টারনেট উদ্ভট নীতিকথা ঝাড়ে না।
৫. ইচ্ছে করলেই নেটবিযুক্ত হওয়া যায়। কিন্তু আজান, তবলিগের অত্যাচার, মোল্লা-হুজুরদের আগ্রাসন এড়ানোর উপায় নাই।
৬. ইন্টারনেট মানুষে-মানুষে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়।
৭. দিনে পাঁচবার উঠ-বস করা বা অন্য কোনও ধরনের কোনও প্রথা বা আচার ইন্টারনেট দাবি করে না।
৮. ইন্টারনেট কোরানের চেয়েও ঢের বেশি জানে। মুছলিমরা তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর কোরানে না খুঁজে ইন্টারনেটের শরণ নেয়।
৯. পর্নো।

পুতুলের হক কথা - ১৪

লিখেছেন পুতুল হক

৫১.
জীবনভর ইহুদি আর নারীকে নবী হেয় করে গেলেন, অভিসম্পাত করে গেলেন, শেষে ইহুদি নারীর হাতেই নবী প্রাণ হারালেন।

৫২.
আল্লাহতে বিশ্বাস করলে মুসলমান, না করলে মুসলমান না। ব্যাপারটা কঠিন কিছু নয়। আল্লাহ্‌ যদি বলতেন, "হে মানব, তোমরা তোমাদের অবস্থান থেকে শুধু বিশ্বাস করবে - আদি ও অনন্ত আমি আছি, থাকবো। আমি আল্লাহ্‌ তোমাদের সৃষ্টিকর্তা। তোমাদের উপাসনার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। তোমরা শুধু আমাতে বিশ্বাস করবে, যে কোনো নামে আমাকে স্মরণ করবে। তোমাদের জন্য যা ভালো, তোমরা তা গ্রহন করবে। তোমাদের জন্য যা মন্দ, তোমরা তা বর্জন করবে। তোমরা সুখী হলেই আমার সুখ।" তাহলে কিন্তু ল্যাঠা চুকে যেত। আল্লাহ্‌ নামের মহান কারো এমনই হওয়া উচিত ছিল। মানুষের উপাসনার মুখাপেক্ষী কোনো স্রষ্টা হতে পারেন না। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা করলেন না। তিনি বললেন, শুধু তাঁকে বিশ্বাস করলে হবে না, মোহাম্মদকেও বিশ্বাস করতে হবে। ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমানো পর্যন্ত প্রতি পদে পদে তাঁকে স্মরণ করতে হবে। তাঁর নামে পশু হত্যা করতে হবে, মানুষ হত্যা করতে হবে। তাঁর জন্য ঘর বানাতে হবে। তাঁর জন্য সিংহাসন বানাতে হবে। এভাবে আল্লাহ্‌ স্রস্টা হয়েও সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেন।

৫৩.
হাই স্কুলে ধর্ম ক্লাসে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে হিন্দুদের হনুমান গড নিয়ে বলা শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল একটি হিন্দু শিক্ষার্থী। হনুমান গডের কথায় সে খুব লজ্জিত হয়, প্রায় কেঁদে ফেলার অবস্থা। তাঁর বাসায় একটি ঐ গডের মূর্তি এবং অনেকগুলো ছবি আছে। বাড়ি ফিরে ঘোষণা দেয়, সে আর হনুমান গডের পূজা করবে না, সে আর হিন্দু থাকবে না। -- ইহা একটি সত্য ঘটনা। আসলে "আমি কী করছি" - সে বোধটুকু সজাগ থাকলেই যথেষ্ট।

৫৪.
পুলিশ যখন কিছুদিন পরপর জঙ্গি ধরে আনে তখন তাদের সাথে জিহাদি বই জব্দ করে। পড়ছে জিহাদি বই, হচ্ছে জঙ্গি - ব্যপারটা কেমন যেন! ডাক্তারী বই পড়ে লোকে ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ারিং বই পড়ে লোকে ইঞ্জিনিয়ার হয় আর জিহাদি বই পড়ে লোকে জঙ্গি হয়। জিহাদি বইয়ে থাকে কোরআনের আয়াত, রাসুলুল্লাহর হাদিস। তার মানে কোরআনের আয়াত এবং রাসুলুল্লাহর হাদিস পড়ে লোকে জিহাদি হয়। জিহাদিকে আবার জঙ্গি বলা হয়। যারা কোরআন এবং হাদিস পড়ে, তারা সবাই জিহাদি হয় না; কিন্তু যারা জিহাদি হয়, তারা সবাই কোরআন এবং হাদিস পড়েই হয়। যে জিহাদি শরীরে বোমা বেঁধে নিজেকে উড়িয়ে দেয় সাথে আরো কিছু লোক, সে কিন্তু কোনো ভাড়াটে খুনি নয়। সে স্ব-ইচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে ইসলাম ধর্মের নির্দেশ পালন করে মাত্র। ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদ তথা জিহাদের কোনো সম্পর্ক নেই - কথাটা অনেকটা "জীবের সাথে প্রাণের কোনো সম্পর্ক নেই"-এর মতো। জিহাদের প্রাণ ইসলাম। যে কোরআন এবং হাদিস থেকে জিহাদি তৈরি হয়, সেসবকে না আটকিয়ে জিহাদি ধরে কী লাভ! ইসলামী জঙ্গিবাদের জন্য কেউ পেট্রো ডলারকে কেউ বা ইউএস ডলারকে দোষ দেয়। পেট্রো ডলার কিংবা ইউএস ডলারের কিন্তু ক্ষমতা নেই কোরআনের একটা আয়াত কিংবা রাসুলুল্লাহর হাদিস বদলাবে। 

৫৫.
মাঝে মাঝে মনে হয় শুধু সুন্নতি দায়ে মন্দির ভাঙা হয় না। এর পেছনে থাকে পাকিস্তান ভেঙে ফেলার জন্য ভারতকে দায়ী করে চাপা আক্রোশ মেটানোর ইচ্ছে।

এক জোড়া পোস্টার


২ মে, ২০১৬

সুরা লা-আ হস্তমৈথুন

লিখেছেন নরমপন্থী

হে ঈমানদারগণ
তোমাদের হস্তযুগল দীর্ঘায়িত করিলাম যাহাতে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করিতে পারো
অতঃপর বলিয়া দিলাম: কখনোই হস্তমৈথুন করিবে না

নিশ্চয়ই মহাবিশ্বের অধিকর্তা তোমাদের যৌনকর্মে বিশেষভাবে আগ্রহী
এবং (লুইচ্চার মত) অবলোকন করিয়া থাকেন

তোমরা যখন ইচ্ছা স্ত্রী সঙ্গম করিবে
ইহার জন্য স্ত্রীর অনুমতি লইবার প্রয়োজন হইবে না
তবু হস্তমৈথুন করিবে না

যখন ইচ্ছা দাসি সঙ্গম করিবে
এই ক্ষেত্রে অনুমতির প্রশ্নই আসে না
তবু হস্তমৈথুন করিবে না

যখন ইচ্ছা যুদ্ধবন্দিনীদের সহিত সঙ্গম করিবে
তাহার স্বামী থাকুক আর না-ই থাকুক
তবু হস্তমৈথুন করিবে না

ইহুদি নারী বিবাহ করতে পারিবে
খ্রিষ্টান নারী বিবাহ করিতে পারিবে
তবে অন্য কোনো বিধর্মী পৌত্তলিক নারীকে বিবাহের প্রয়োজনই পড়িবে না
তাহাদের দেশ দখল করিয়া গনিমতের মাল বানাইয়া ফেলিয়া সঙ্গম শুরু করো
তবু হস্তমৈথুন করিবে না

নিশ্চয়ই আল্লাহ কামুক পুরুষদের কামবাসনা পূর্ণ করিবার অভিনব সুযোগ প্রদান করেন
ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নারীরা ইজ্জতকাতর হইয়া উঠিতে বাধ্য হইবে
আর তাই মুমিন পাইবে যত্রতত্র নারী-হয়রানি ও ধর্ষণের অবারিত সুযোগ
এবং নারীর থাকবে ধর্ষিতা হিসাবে প্রকাশিত হইবার ভীতিগ্রস্ত
তবু হস্তমৈথুন করিবে না

সঙ্গমকালের শেষভাগে একবিংশ শতাব্দীর পর্ন-তারকাদের ন্যায় আজল করিয়া বাহিরে বীর্যপাত করিবে
তবু হস্তমইথুন করিবে না

নিশ্চয়ই মহাবিশ্বের অধিকর্তা তোমাদের যৌনকর্মে বিশেষ ভাবে আগ্রহী
এবং (লুইচ্চার মত) অবোলোকন করিয়া থাকেন

* আরবি ভাষায় 'লা-আ' অর্থ - no.

বুদ্ধাং সারানাং গাধামী

সৃষ্টি হওয়া দৃষ্টিকোণে

লিখেছেন সত্যের সন্ধানে

১.
ধরা যাক, আমি একটি কবিতা লিখলাম আর ঘোষণা করলাম, "পারলে এর চেয়ে বেটার কোয়ালিটি সম্পন্ন একটা কবিতা লিখে আনুন।"
আপনারা তখন প্রশ্ন করতে পারেন, "কোয়ালিটি চেকিং এর মানদণ্ড কী হবে, আর কবিতা better নাকি worse - এই সিদ্ধান্ত কে নেবে?"
উত্তরে বললাম, "আমিই সিদ্ধান্ত নেব।"

এখন আপনারাই বলুন, যেখানে কবিতার লেখক আমি, বিচারের মানদণ্ডও আমার তৈরি, বিচারকও আমি, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কার বাপের সাধ্য আছে আমার চাইতে বেটার কবিতা লেখে?

পৃথিবীতে এই ধরনের দাবিকারী বুদ্ধিমানদের সংখ্যা এখন Fastest Growing. বোঝাই যাচ্ছে, কেন দিনে দিনে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

২.
হেফাজতে ইসলাম নামে একদল চটি-পাঠক, দেখলাম, মিছিল বের করেছে। তাদের দাবি - পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দু লেখকদের লেখা সরিয়ে ফেলতে হবে। দেশের পরিস্থিতি যা বুঝলাম, তাতে সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন তাদের নুনুর স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করবে। বিবর্তন ভুল প্রমাণ করার জন্য এরাই যথেষ্ট কারণ। একমাত্র স্রষ্টার পক্ষেই এই ধরনের মস্তিষ্কবিহীন প্রাণী তৈরি করা সম্ভব।

৩.
আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। (১৯:৯৭)

তাই যদি হয়, তাহলে হাদিসের প্রয়োজনীয়তা কী? হাদিস দ্বারা কোরানের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিশিষ্ট তাফসিরকারীরা হাদিসের আলোকে কোরানের ব্যাখ্যা লেখেন। কোরানের কোথাও যদি “ফল” লেখা থাকে, তাহলে হাদিসের দ্বারা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখানে “ফল” বলতে “আম” নাকি “কাঁঠালের” কথা বলা হয়েছে।

সহজ ভাষায় লেখা কোরানকে ব্যাখ্যা করার জন্য হাদিস ব্যবহার করা হয়, কারণ সবার বোঝার ক্ষমতা এক রকম নয়, তাই কেউ যেন আমের জায়গায় কাঠাল না বোঝে। কিন্তু কিছু বুদ্ধিতে খাটো প্রাণী আছে, যাদের জন্য হাদিসেরও ব্যাখ্যা দরকার হয়। কিন্তু সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় কিসের ব্যাখ্যা থাকে? আম কাঁচা হবে, নাকি পাকা হবে, সেটার ব্যাখ্যা? নাকি আম ডালে দিয়ে খাবো, নাকি আচার বানিয়ে খাবো, সেটার বর্ণনা?

মুমিন বান্দারা শুধু ত্যাঁনা প্যাঁচাতে থাকেন। আয়াত দিলে চান হাদিস, হাদিস দিলে চান হাদিসের ব্যাখ্যা... প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে এমন গিট্টু লাগে যে, মূল বিষয়ই গিট্টুর নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৭৯


১ মে, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১৩: সূরা আল ফাতহ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতানব্বই

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৬২৮ সালের মার্চ মাসে (জিলকদ, হিজরি ৬ সাল) মক্কার হারাম শরীফ থেকে ৯-১০ মাইল দূরবর্তী হুদাইবিয়া নামক স্থানে কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমরের সাথে কী কী শর্তে এক লিখিত চুক্তিনামায় সম্মত হয়েছিলেন; এই চুক্তিনামার তিনি কোন কোন ব্যক্তির স্বাক্ষর সাক্ষী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন; চুক্তিনামাটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত মুহাম্মদ অনুসারীরা প্রবল মর্মবেদনায় তাঁর সাথে কীরূপ আচরণ করেছিলেন; তাঁদের সেই আচরণে মনঃক্ষুন্ন মুহাম্মদ কার পরামর্শে সেখানে তাঁর পরবর্তী কার্যক্রম সমাধা করেছিলেন; অনুসারীদের এইরূপ অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতিতে তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করা ও সর্বোপরি তাঁর নবী-গৌরব পুনরুদ্ধার ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে প্রায় সর্বাবস্থায় মুহাম্মদ কোন দু'টি কৌশল অবলম্বন করেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

অতঃপর মুহাম্মদ মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর অনুসারীদের অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা ও সর্বোপরি তাঁর নবী-গৌরব ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের আগেই পথিমধ্যে মুহাম্মদ তাঁর প্রথম কৌশল-টি প্রয়োগ করেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১২২) পর:

‘আল-যুহরীর অব্যাহত বর্ণনা: “অতঃপর আল্লাহর নবী প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ও যখন তিনি তার অর্ধেক রাস্তায় পৌঁছেন, সুরা আল-ফাতহ (সুরা নম্বর ৪৮) অবতীর্ণ হয়।’”

ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর মুহাম্মদ "তাঁর আল্লাহর" নামে যে-উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে কমপক্ষে ৬০-টি বাণীর অবতারণা করেছিলেন (পর্ব: ৭০), সেই একই উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহর নামে ২৯টি বাণীর অবতারণা করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ভাষায় সেই বাণীগুলো হলো:

ভূমিকা প্রদান:
৪৮:১-৪ – “নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট।' (২) যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। (৩) এবং আপনাকে দান করেন বলিষ্ঠ সাহায্য। (৪) তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”।       

>> ইমাম বুখারীর বর্ণনায় (৫:৫৯:৪৯০) আমরা জানতে পারি যে, যখন “নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট (৪৮:১)" নাজিল হয়, তখন মুহাম্মদের অনুসারীরা তাঁকে অভিনন্দন জানান ও জিজ্ঞাসা করেন, "কিন্তু আমরা কী পুরষ্কার পাবো?" তাঁদের এই প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ তাঁদেরকে দেন প্রলোভন (৪৮:৫):

৪৮:৫ – “ঈমান এজন্যে বেড়ে যায়, যাতে তিনি ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে এবং যাতে তিনি তাদের পাপ মোচন করেন। এটাই আল্লাহর কাছে মহাসাফল্য”। [3]
           
অত:পর, হুমকি ও শাসানী!:
৪৮:৬ – “এবং যাতে তিনি কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ”।                 

অত:পর নিজেই নিজের certificate প্রদান:
৪৮:৭-৮ - 'নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৮) 'আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।'           

ভূমিকা-প্রলোভন-হুমকি-আত্ম প্রশংসা ও certificate প্রদানের পর অভিপ্রায় ঘোষণা!:
৪৮:৯ - 'যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।'          

অত:পর তাঁর দাবী, “মুহাম্মদের আনুগত্য = আল্লাহর আনুগত্য!"
৪৮:১০: 'যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। 'অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।'         

অত:পর, যারা এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন নাই, তাঁদের বিরুদ্ধে বিষোদগার!:
৪৮:১১-১২- 'মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। 'অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত। (১২) বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।'

অত:পর, তাঁকে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে হুমকি!:
৪৮:১৩- 'যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।'         

অত:পর, তাঁর 'স্বেচ্ছাচারী (পর্ব: ২০)’ বক্তব্য!:
৪৮:১৪- 'নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।'
         
আবারও যারা তাঁর সঙ্গে এই যাত্রায় অংশ নেন নাই তাঁদের বিরুদ্ধে বিষোদগার!:
৪৮:১৫- 'তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পেষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।'

অতঃপর, তাঁর সকল অনুসারীদের (ব্যতিক্রম শুধু অন্ধ-খঞ্জ-রুগ্ন) যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ "যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়!”:

৪৮:১৬-১৭- 'গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে

চিত্রপঞ্চক - ১৪৩

সর্বমোট পাঁচটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক:
http://imgur.com/a/iNH0T

'বিশ্বাস'-এর বিবিধ অর্থ

লিখেছেন ইত্তিলা ইতু

‘বিশ্বাস’ বড়ই অদ্ভুত একটি শব্দ। আসুন, ‘বিশ্বাস’ শব্দটি নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করা যাক।

বিশ্বাস শব্দটি সেখানেই ব্যবহার করা হয়, যেখানে সন্দেহ থাকে। একটা উদাহরণ দিই: পূর্ণিমায় চাঁদ ওঠে, আমরা সেটা জানি, আমরা সেটা দেখি। তাই আমরা কখনো বলব না যে, আমি বিশ্বাস করি পূর্ণিমায় চাঁদ ওঠে। আবার ধরুন, আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, আপনি জানেন না, ডাক্তার আপনার রোগ ভাল করতে পারবে কি না, আপনি জানেন না, সে আপনাকে ভুল চিকিৎসা দেবে কি না, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করেন যে, ডাক্তার আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবে। ডাক্তারের চিকিৎসায় আপনি সুস্থ না-ও হতে পারেন । আবার আপনি পুরোপুরি সুস্থও হয়ে যেতে পারেন। আপনি যেহেতু জানেন না কী হবে, তাই আপনি বিশ্বাস করেন। এই অজ্ঞতা থেকেই বিশ্বাসের সৃষ্টি।

আদিম যুগের মানুষ জানত না অনেক কিছু, তারা জানত না কেন চাঁদ ওঠে, কেন সূর্য ওঠে, তাদের অজ্ঞতার কারণে তারা অনেক বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে লালন করত। প্রাচীন গ্রিসের লোকেরা বিশ্বাস করত, পৃথিবী চালান দেবতারা, আর তাদের কর্তা হল জিউস, তিনি পৃথিবীতে পাঠান বিজলির ঝলক। প্রাচীন গ্রিক কাহিনীর মতোই পুরানো ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ন আর মহাভারতের কাহিনীগুলো। এসব কাহিনীতে বলা হয়েছে, আকাশে বাস করেন দেবতা আর অসুররা। এই দেবতারা কেউ চালান সূর্যকে, কেউ সৃষ্টি করেন ঝড়-বৃষ্টি। কখনো দেবতা আর অসুরদের মধ্যে বেধে যায় দারুণ লড়াই।

কিন্তু কেবল বিশ্বাস নিয়ে বসে থাকলে তো হবে না, জীবিকার প্রয়োজনে এবং মানুষের নিরন্তর সহজাত কৌতূহলের তাগিদে গ্রহ-নক্ষত্র-তারা কেন হয়, কীভাবে হয়, এর উত্তর খুঁজতে থাকে। তারা অজানাকে জয় করতে থাকে। আর তারই ফল হল আজকের সভ্যতা। বিজ্ঞান প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে চলছে। বিজ্ঞান এত দিন ধরে যা কিছু আবিস্কার করেছে, প্রতি ৮ বছরে তার দ্বিগুণ এগিয়ে যাচ্ছে। আদিম যুগে মানুষ অজানাকে বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দিত। আমরা পেছনের যুগ ফেলে মহাশূন্যের জগতে প্রবেশ করেছি বটে, কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো শিক্ষার আলো, বিজ্ঞানের ছোঁয়া প্রবেশ করতে পারেনি বলে আমরা এখনো নিজেদের অজ্ঞতাকে বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখতে ভালবাসি। আর এই বিশ্বাসগুলো আমাদের অবচেতন মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, আমরা চোখ খুলে সত্যকে দেখতে চাই না।

‘সেটার নাম বিশ্বাস, কারণ সেটা জ্ঞান নয়’- ক্রিস্টোফার হিচেন্স।

বিশ্বাসের প্রয়োজন একেবারেই নেই, তা বলছি না। যেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই, সেক্ষেত্রে বিশ্বাসই আমাদের সম্বল। যেমন, ডাক্তারের ক্ষেত্রে। ডাক্তারের ওপর বিশ্বাস রাখলে রোগীর আরোগ্য লাভ ঘটে। আমি যেই কাজটা করব ভাবছি, কাজটিতে আমি সফল নাও হতে পারি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, আমি কাজটি সফলভাবে শেষ করব। এই বিশ্বাস আমাকে উৎসাহ যোগাবে কাজটি করতে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বাসের দরকার আছে বটে। তবে মনে রাখতে হবে, এখানে বিশ্বাস অর্থ আস্থা বা কনফিডেন্স - ফেইথ বা অন্ধবিশ্বাস নয়।

কিন্তু পূর্বপুরষ বিশ্বাস করত, তাই সেই বিশ্বাস নিয়ে আমাকেও থাকতে হবে, তারা অজ্ঞ ছিল বলে আমাকেও চোখ বন্ধ করে অজ্ঞ থাকতে হবে, তাদের পথের অনুসারী হতে হবে, এমন বিশ্বাস ঠিক নয়। সত্যকে অস্বীকার করে যে-বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে হয়, সেই বিশ্বাস অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস আমাদের অজ্ঞ করবে, আমাদের পিছনের দিকে ঠেলে দেবে। আমাদেরকে অন্ধকারে রাখবে, এমন বিশ্বাস কি আমাদের আদৌ প্রয়োজন আছে?

গুপ্তকেশোৎপাটনাক্ষম দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনা


৩০ এপ্রিল, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ২০

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফয়সল আরেফিন দীপন ও নাজিমুদ্দিন সামাদ সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


এবারে আসি সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতের ‘দৃষ্টি’ বিষয়ক পর্যালোচনায়। উক্ত আয়াতে মুহম্মদ তার আত্মীকৃত ঈশ্বর ‘আল্লাহকে’ প্রত্যক্ষদর্শনের অসম্ভাব্যতা জ্ঞাপন করেছেন। আমরা জানি, কোনও কিছু দর্শন করার প্রধান মাধ্যম হলো চোখ। তবে শুধু চোখের উপস্থিতি দর্শনের শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে না। দর্শনের শর্ত পূরণের জন্য চোখে দৃষ্টিশক্তি থাকা বাঞ্ছনীয়। তাই যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন চোখের পক্ষেই কোনও দর্শনীয় বিষয়বস্তু যথাযথভাবে দর্শন করা সম্ভব। অথচ আল-কুরআনের উক্ত আয়াত অনুযায়ী, চোখ তো কোন ছার, যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীই আল্লাহকে দর্শন করতে পারে না। কারণ আল্লাহর অস্তিত্ব সমস্ত দৃষ্টির অগোচরে অবস্থিত বিধায় দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীর পক্ষে তাকে প্রত্যক্ষদর্শন করা দূরে থাক, তাকে কল্পনা বা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করাও সম্ভবপর নয়। উক্ত আয়াতের অনুবাদে আল-কুরআনের অধিকাংশ অনুবাদকগণ ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। যদিও কিছু অনুবাদে ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দের পরিবর্তে ‘চোখ’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন— “চোখ তাঁকে দেখতে পারে না, কিন্তু তিনি সব চোখ দেখতে পান।” এ বিষয়ে মৌলভি শের আলী’র ইংরেজি অনুবাদটি নিম্নরূপ: 
"Eyes cannot reach Him but He reaches the eyes. And He is the Incomprehensible, the All-Aware."

তবে ‘চোখ’ শব্দের তুলনায় ‘দৃষ্টি’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ায় আল-কুরআনের সুবিধাবাদী অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারগণ উক্ত আয়াত অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রশ্নে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘চোখ’ শব্দের পরিবর্তে ‘দৃষ্টি’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। তাই তাদের ব্যাখ্যানুযায়ী মুহম্মদের আল্লাহকে চোখ দিয়ে দেখা দূরে থাক, দৃষ্টি অথবা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার ক্ষমতাও কারও নেই। অথচ সেই দর্শনাতীত আল্লাহকে দর্শনীয় আল্লাহয় রূপান্তর করতে পূর্বোক্ত আয়াতের বিপরীতার্থক আয়াত মুহম্মদ তার প্রণীত আল-কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হইবে, তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। [সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩]”
উক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুমিন বান্দাগণ পরকালে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকবে। এখানে তাকিয়ে থাকা বলতে চোখের সাহায্যে দেখার প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মুুমিন বান্দাগণ স্বীয় চক্ষু দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো পাপীবান্দা পরকালে আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে না, এমন কথাও আল-কুরআনে ব্যক্ত করা হয়েছে:
কখখনো নয়, নিশ্চিতভাবেই সেদিন তাদের রবের দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে। [সূরা মুতাফফিফীন: ১৫]
উক্ত আয়াতে পাপীবান্দাগণকে আল্লাহর দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে, এমন কথা বলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শুধু পুণ্যবানগণ আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে, এমন বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা জ্ঞাপন করা হলেও এক্ষেত্রে নতুন একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তটি হলো, আল-কুরআনে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে ইহলৌকিক জীবনে কেউ দর্শন করতে না পারলেও পারলৌকিক জীবনে শুধু পুণ্যবানগণ তাকে দর্শন করার সুযোগ পাবে। এভাবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত অবস্থান হতে বিচ্যুত হয়ে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনীয়তার পরিবর্তিত অবস্থান গ্রহণ করেছেন মুহম্মদের কল্পিত আল্লাহ। আর মৃত্যু পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পারলৌকিক জীবনে জান্নাতবাসীগণ যে শুধুমাত্র নিজেদের সাধারণ চোখ দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে, এই মর্মে স্বয়ং মুহম্মদ হাদিসে কুদসি বিবৃত করেছেন:
আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না। কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না। স্থলভাগের কোন অধিবাসী ( আমাকে ) দেখিবে না, যতক্ষণ উহাকে নীচে নিক্ষেপ করা না হয়। ( অর্থাৎ তাহার মৃত্যু হয় )। জলভাগের কোন অধিবাসীও দেখিবে না, যে পর্যন্ত না তাহাকে বিচ্ছিন্ন করা হয় ( অর্থাৎ মৃত্যু হয় )। নিশ্চয়ই আমাকে দেখিবে জান্নাতবাসিগণ— যাহাদের চক্ষু দৃষ্টিহীন করা হইবে না এবং যাহাদের শরীর জরাগ্রস্ত হইবে না।
হাকীম ও তিরমিযী ইহা ইবনে আব্বাস ( রা)-এর সূত্রে সংগ্রহ করিয়াছেন।
হাদিস নং— ৩৩৭; আল্লামা মুহাম্মদ মাদানী: “হাদীসে কুদসী” ( অনুবাদ— মোমতাজ উদ্দীন আহমদ ), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০০৪ খৃ., পৃ. ২৮১
তবে উপর্যুক্ত হাদিসে কুদসির প্রথম বাক্য (আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না।) - এর সাথে হিব্রু বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত নিম্নলিখিত বাণীটির প্রথমাংশের যথেষ্ট মিল রয়েছে:
তিনি আরও বললেন, ‘তুমি কিন্তু আমার মুখমণ্ডল দেখতে পাবে না, কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না। [যাত্রাপুস্তক ৩৩:২০]
কিন্তু উক্ত বাণীর দ্বিতীয়াংশ (কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না।’ ) - এর সাথে বর্ণিত হাদিসে কুদসির দ্বিতীয় বাক্য (কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না।) - এর সামান্য পার্থক্য রয়েছে। অথবা বাক্য দু'টির মাঝে বিপ্রতীপ মিল বিদ্যমান। যেমন, বাইবেলের বাণীতে পরমেশ্বরকে দেখার পরে কোনো মানুষের মৃত্যুর নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, আর হাদিসে কুদসির বাক্যটিতে কোনো মানুষের মৃত্যুর পরে আল্লাহকে দেখার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাইবেল ও হাদিসে কুদসির বর্ণনায় পার্থক্য যথাক্রমে ‘ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের পরে মৃত্যুর নিশ্চয়তা’ এবং ‘মৃত্যুর পরে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা।’

(চলবে)

ধর্মীয় যুক্তির ধরন

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭৫

২২১.
- নিজ দেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে কাতার সবচেয়ে লাভবান হবে কোন দিক থেকে?
- বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে আলিশান স্টেডিয়ামগুলোয় বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে জাঁকজমকের সঙ্গে পাথর ছুঁড়ে নারীহত্যা উৎসবের আয়োজন করা সম্ভব হবে।

২২২.
- প্রার্থনা করার সময় ধর্মবিশ্বাসীরা হাঁটু গেড়ে বসে কেন?
- এই আসনে ব্লোজব দেয়া অত্যন্ত সুবিধেজনক বলে।

২২৩.
- বিজ্ঞান ও ধর্মের ভেতরে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞান সারাটা সময় উত্তর খোঁজায় নিয়োজিত, আর ধর্ম বহু আগেই মন-গড়া ও অপরিবর্তনীয় উত্তর বানিয়ে রেখেছে।

২২৪.
- শিশুদেরকে ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা দেয়ার উপায় কী?
- সবাইকে একটা ঘরে জড়ো করে সেখানে উপস্থিত না হওয়া।

২২৫.
- পাঁচ মিনিটে কোরান পড়ে ফেলা কি সম্ভব?
- সম্ভব, যদি সহিংস, নারীবিদ্বেষী, ঘৃণাপূর্ণ, মানবতাবিরোধী ও বারবার উল্লেখিত একই ধরনের আয়াতগুলো বাদ দেয়া হয়।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৩৭

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/pelwFkquzO0

২৯ এপ্রিল, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১. অনেক মেধাবী মানুষও ধর্ম ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে - এমন দাবির মাধ্যমে ধর্ম ও ঈশ্বরের সত্যতা ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে আস্তিকেরা। সেই দাবির ভিত্তিহীনতা ও সারশূন্যতা প্রকট করে তোলা হয়েছে একটি ভিডিওতে। আর ঠোঁটকাটা বিল মার তো এই দাবিকে শুধু নস্যাৎই করেননি, করে তুলেছেন হাস্যকরও। মেধাবী বিশ্বাসীদের তিনি ডেকেছেন smart stupid person নামে। অতীব উপভোগ্য ভিডিও। 
https://youtu.be/Y201QzDdzbg, https://youtu.be/ocv7F586SQU

২. বিবর্তনের প্রমাণ আছে আমাদের শরীরেই। যুক্তি-প্রমাণ না-মানা হাওয়ার পোলাদের জন্য এই ভিডিও দ্রষ্টব্য নয়।
https://youtu.be/rFxu7NEoKC8

৩. মমিনেরা যতোই দাবি করুক, জিহাদ সব সময়ই শান্তিপূর্ণ, কোরান, হাদিস, নবীর জীবনী ও ইছলামের ইতিহাস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সে কথাই সর্বৈব মিথ্যা প্রমাণ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে ওঠা আরবিভাষী নাস্তেক মহিলা।
https://youtu.be/KXGE2eBUdlQ

৪. ইহুদি শিশুবালকের খতনা করার অব্যবহিত পর র‍্যাবাই (ইহুদি মোল্লা) বালকের লিঙ্গ মুখে পুরে নিয়ে রক্ত চুষতে থাকে। এটাই তাদের রীতি ও ঐতিহ্য। খতনা ব্যাপারটাই বীভৎস, তদুপরি রক্তচোষার প্রথা! তো এই ড্রাকুলাগিরির নাকি বিশাল গুরুত্ব আছে! অন্তত ইহুদি মোল্লা সেটাই প্রমাণ করতে চাইছে।
https://youtu.be/g2Ij3l8qoxU

৫. Enlightenment-এর নামে বৌদ্ধধর্মে চলে যৌননিপীড়ন। ২১ মিনিটের ডকুমেন্টারি।
https://youtu.be/yWhIivvmMnk

৬. মসজিদগুলো উপাসনালয় শুধু নামেমাত্র। অধিকাংশ মসজিদের প্রধান কাজ বীভৎস ঘৃণা ও সহিংসতা প্রচার এবং জঙ্গি উৎপাদন। ব্রিটেনের মসজিদে গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিও ব্যবহার করে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি Undercover Mosque প্রচারিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৮ সালে প্রচারিত হয়েছিল Undercover Mosque: The Return. দেখতে গেলে গায়ের রোম শিউরে ওঠে। বোঝাই যায়, এই ডকুমেন্টারিগুলো ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সজাগ ও সতর্ক করতে পারেনি। 
https://youtu.be/kJk_AiK-4No, https://youtu.be/njRKaX0ORuI

হা-হা-হাদিস – ১৭২

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

... As for the resemblance of the child to its parents: If a man has sexual intercourse with his wife and gets discharge first, the child will resemble the father, and if the woman gets discharge first, the child will resemble her.

যৌনজ্বরাক্রান্ত ইসলাম

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করা বৈধ। ক্রীতদাসী হইল কিনে আনা দাসী। আগের যুগে বাজারে দাস-দাসী বেচাকেনা হইত। দাসদের দিয়ে কামলা খাটাত আর দাসীদের সাথে সেক্স করত। অবশ্য এই প্রথা ইসলাম আনে নাই। ইসলামের আগেও ছিল, আরব ছাড়াও অন্য অঞ্চলেও ছিল। ইসলাম এই জিনিসটার স্বীকৃতি আর বৈধতা দিয়েছে মাত্র। এখন আইএস-এর হাত ধরে ক্রীতদাসী প্রথা আবার আসছে।

ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করতে হলে আপনার তাকে বিয়াও করতে হবে না। অনেক মুমিনেরই বক্তব্য - ক্রীতদাসীকে নাকি বিয়ে করতে হয়। ফিকহের বইগুলা বলে অন্য কথা। নিশ্চিত হবার জন্য ফিকহের উপর নন্দিত গ্রন্থ মালাবুদ্দা মিনহু (লেখক সানাউল্লাহ পানিপথী) দেখতে পারেন।

একজন পুরুষ কয়টা দাসী (দাসী মানেই যৌনদাসী) রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে শান্তির ধর্মের কোনো বিধি-নিষেধ নাই। আপনি চাইলে হাজার জন, লক্ষ জন, কোটিজন রাখতে পারবেন। আল্লাহ আনলিমিটেড দাসী রাখার বৈধতা দিয়েছেন। 

ইসলাম ধর্মে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণও বৈধ। মুসলিমরা অবশ্য ইসলামের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবার ডরে ধর্ষণ শব্দটি এড়িয়ে যান। কয়দিন আগে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিপোক্রিসির বাইরে এসে সত্যটা বলে দিছিল, যেটা আমরা মিডিয়া মারফতে দেখেছি।

ধরেন, শফি হুজুর তার হেফাজতি কর্মীদের নিয়া বলিউড এটাক দিল। বলিউডের পতন হল। এখন সেখানকার নায়িকারা সব শফি হুজুর আর তার সৈন্যদের দাসী হয়ে যাবে। আর উপরেই বলেছি, ইসলামে দাসী সহবত হালাল। এখানে দাসী মানেই যৌনদাসী। তো এখন ধরেন, ক্যাটরিনা কাইফ শফি হুজুরের ভাগে পড়ল। আপনার কী মনে হয়, ক্যাটরিনা খুশি মনে হুজুরের লগে সেক্স করবে? নাকি পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে? এইটা কি ধর্ষণ না? আপনার কমন সেন্স কী বলে?

পাক আর্মি আমাদের মেয়েদের উপর হামলে পড়েছিল কেন, গেস করতে পারলেন? প্রিয় নবী বনু কুরাইজার নারীদের দাসী বানিয়েছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। (দেখুন সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া- মাওলানা মুশতাক, বিশ্বনবী- গোলাম মোস্তফা)

ইসলামে শিশুকামিতাও বৈধ। এই কুসংস্কার থেকেও নবীজি বেরোতে পারেন নাই। আয়েশাকে যখন বিয়ে করেন, আয়েশা তখন ৬, যখন আয়েশাকে ঘরে আনেন, আয়েশা তখন ৯! অবশ্য জাকির নায়েকসহ আজকালকার অনেক ডিজিটাল মুমিনরা আয়েশার বয়স ১৪/১৬ ছিল বলে দাবি করেন। তবে তাঁরা এড়িয়ে যান যে, আয়েশার বয়স যাই থাউক, ইসলামে শিশুদের বিয়ে করিয়ে দেয়ার বৈধতা আছে। আর তাই সামনে পড়লে মুমিনরা এটা অস্বীকারও করেন না। অস্বীকার করার উপায়ও তাদের নাই। তাই এখন তারা আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক তত্ত্বকে কাচকলা দেখায়ে বাল্যবিয়ে যে কতটা সায়েন্টিফিক, সেই উদ্ভট জিনিস প্রতিষ্ঠা করার ধান্দা করেন।

ইসলামে পুরুষের জন্য আনলিমিটেড বিয়েও বৈধ। ভ্রু কুঁচকায়েন না। কোরানে চার বিয়ে নির্দিষ্ট করে নাই। একসাথে চার স্ত্রীর বেশি রাখা রাখা নিষিদ্ধ করছে। তার মানে আপনি এখন রুমা, ঝুমা, নিমা, সুমারে বিয়া করলেন, তারপর আবার নিমা আর সুমারে তালাক দিয়া দীপা আর নিপারে বিয়া করতে পারবেন। তারপর এদের ভাল না লাগলে সব কয়টাকে তালাক দিয়া নীলা, শিলা, মিলা আর উর্মিলাকে বিয়া করতে পারবেন। ইসলামে তালাক নিরুৎসাহিত কিন্তু নিষিদ্ধ না। তালাক না দিলে ভাল, দিলে কোন সমস্যা নাই।

ইসলামে মু'তা বিয়েও বৈধ। এই মুতা বিয়ে হল হালাল পতিতাবৃত্তি। একজনকে আপনি টাকা দিয়ে এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের জন্য বিয়ে করতে পারবেন। চুক্তির সময় শেষ হলে বৌয়ের মেয়াদও শেষ। ইসলামে হিল্লা বিয়ে নামে আরেক অদ্ভুত প্রথাও আছে। এটা অবশ্য হানাফি মাজহাবের নীতি। স্বামী বৌরে তিন তালাক দিল। তারপর ভুল বুঝতে পারল, এখন বৌ ফেরত চায়। সে কী করবে? ইসলাম বলে, বৌকে একরাতের জন্য আরেক পুরুষের কাছে বিয়ে দাও। শুধু বিয়েতে হবে না, সেক্সও করতে হবে। তারপর ঐ লোক তালাক দিলে তখন তোমার বৌ নিতে পারবা। বড়ই মজার পদ্ধতি।

ইসলামে অজাচারও এক রকম বৈধ। নিজের চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই-বোনের সাথে বিয়ে বৈধ। বর্বর আরবরা এতই সাম্প্রদায়িক ছিল যে, নিজের আত্মীয় ছাড়া আর কোথাও কন্যাদান করত না। সেই কুপ্রথা ইসলামের হাত ধরে ঢুকেছে বাংলায়।

ইসলামে পালক মেয়েকে বিয়ে করাও বৈধ। (সুবাহানাল্লা বলেন) আপনি একটা মেয়েকে পেলে-পুষে বড় করলেন। মেয়ে আপনাকে আব্বা ডাকে। মেয়ে সাবালিকা হলে তারে বৌ বানিয়ে ওগো ডাক শুনতে পারবেন। আবার পালক ছেলেও বড় হয়ে তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। দারুণ না?

তাহলে আমরা আজ জানলাম, ইসলামে ১) ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স বৈধ, ২) যুদ্ধবন্দিনীকে ধর্ষণ বৈধ, ৩) আনলিমিটেড দাসীসম্ভোগ বৈধ, ৪) একসাথে চার বৌ রাখা বৈধ, ৫) পুরুষের আনলিমিটেড বিয়ে বৈধ, ৬) শিশুকামিতা বৈধ, ৭) পতিতাবৃত্তি (ওরফে মুতা বিয়ে) বৈধ, ৮) হিল্লা বিয়ে নামক কুপ্রথা বৈধ, ৯) অজাচার বৈধ, ১০) পালক মেয়ে বিয়েও বৈধ।

অথচ যৌনবিকৃতিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ধর্মের অনুসারীরা কিনা আমাদের গালি দেয়, "তোরা নাস্তিক হইছস ইচ্ছামত সেক্স করার জন্য!"

* প্রাসঙ্গিক আরেকটি রচনা: যৌনকেশ, অবাধ রমণীসঙ্গম ও নাস্তিককুল

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪৮

২৮ এপ্রিল, ২০১৬

শেখ'স শপ - ০৬

লিখেছেন শেখ মিলন

১৬.
আমার এক মুসলিম বন্ধুর সাথে ফেসবুকীয় আলাপন:
আমি: কী করিস?
বন্ধু: চটি পড়ি। তুই?
আমি: গীতা পড়ি।
বন্ধু: তুই কি শালা মালাউন হয়ে গিয়েছিস?

১৭.
পাপ করে যদি মাফ পাওয়া যায়, তবে পাপ না করাই তো বোকামি। ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কি এ কারণেই বেশি?
(তওবা পাঠ, গঙ্গাস্নান, হজ্জ্ব, কাশিযাত্রা, যিশুকে রক্ষাকর্তা হিসেবে গ্রহণ প্রভৃতি করলে পাপমুক্তি হয়)

১৮.
এই দেখো দেশ ডিজিটাল হয়েছে।
তবু নিন্দুকেরা বলে কিনা, দেশ পিছিয়েছে।
এখন তো আর দেশে বছর বছর বন্যা হয় না,
বন্যার জলে গ্রামের পর গ্রাম, মাঠের পর মাঠ ভাসে না,
এখন মাসে মাসে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়,
রক্তস্রোতে ভেসে যায় রাজপথ-ফুটপথ, ঘরের মেঝে...