২৬ জানুয়ারী, ২০১৫

মুহাম্মদের জন্মরহস্য: 'জারজ' কেন গালি হবে?

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

বাংলায় 'জার' শব্দটি যখন বিশেষ্য, তখন তার একটি অর্থ হয়ে ওঠে - গুপ্ত প্রণয়ী; সমাজের চোখে সম্পর্কটি বৈধ নয় এবং সে প্রণয়ের ফলে জন্মে যে-শিশু, তার প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে - সে জারজাত বা জারজ। বস্তুত বৈজ্ঞানিক ও মানবতাবাদী দৃষ্টিতে জারজ বলে কিছু নেই, কোনো শিশু, কোনো মানুষই অবৈধ নয়; শুধুমাত্র ধর্মের প্রভাবে ধর্মসিদ্ধ বিবাহ-আচারটি ও তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজ-সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবার তাগিদে সমাজবদ্ধ মানুষেরা এই 'জারজ' শব্দটিকে পরিণত করেছে অত্যন্ত নেতিবাচক একটি শব্দে, মিশ্রিত করেছে স্ব-আরোপিত ঘৃণার সাথে, এবং বঞ্চিত করেছে সামাজিক পরিচয়, উত্তরাধিকার ও বংশবৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত সকল অধিকার হতে; এমনকি প্রণয়ের এই সম্পর্কটিকে ব্যভিচার নামে আখ্যা দিয়ে ভিন্ন-ভিন্ন সমাজব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে ভিন্ন-ভিন্ন শাস্তির, যার সবচাইতে বর্বর রূপটি পাওয়া যায় প্রাচীন মরুসংস্কৃতিতে, যার নাম রজম বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা। 

রজমের ভয়াবহ বর্বর দিকটি সম্পর্কে মুমিনেরা অবগত; অতি নির্মমতার কারণেই এই প্রথাটি মেনে নেওয়া অসম্ভবও; কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে - অধিকাংশ মুসলমান এ নিয়ে মুখ না খুললেও প্রকারান্তরে পুরুতান্ত্রিকতার প্রবল সহিংস প্রকাশটিকে সমর্থনই করেন। এরই বিপরীত চিত্র হচ্ছে - ব্যভিচারকে চরম বর্বরভাবে দেখলেও, জারজ সে শিশুকে সকল সামাজিক পরিচয় ও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করলেও সেই মরুসংস্কৃতিই আবার জারজ শিশুটির প্রতি প্রশংসনীয় সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। পিতৃ-পরিচয় না জানলে তাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য করার উপদেশও দিয়েছে [সূরা আল-আহযাব ৩৩/৫]; খ্রিষ্টধর্মেও জারজ সন্তানদেরকে ঘৃণা করাকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে। 

বহু জারজ সন্তান এবং দাসী-সন্তান খলিফাও হয়েছেন, এমনকি আরবদের পিতা ইসমাইল নিজেও দাসী-পুত্রই। আশ্চর্যজনক অপর একটি সত্য হল - অধিকাংশ কথিত নবী-রসুলদের সুস্পষ্ট পিতৃপরিচয় পাওয়া যায় না, অথবা যেগুলো পাওয়া যায়, তার প্রায় সকল তথ্যই অসত্য এবং মিথ্যা দাবির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পিতা ছাড়াই যিশু খ্রিষ্টের জন্মকে ব্যভিচারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে যে-অলৌকিক গল্পের অবতারণা করা হয়, সেটা কেবল হাস্যকর প্রমাদই নয়, গোটা মানবগোষ্ঠীর সাথে প্রতারণাও বটে; কিন্তু তাবত মুমিন, কোনও এক অদ্ভুত কারণে, আজও এই মিথ্যাকে পরম শ্রদ্ধায় বিশ্বাস করে চলেছেন। 

অপর বিখ্যাত নবী মুহাম্মদের জন্মকাহিনীও দারুণ রহস্যভরা; তাঁর জন্মের ঔরস নিয়ে যুগে যুগে সংশয় প্রকাশ করে গেছেন সকল ঐতিহাসিকই, আর ইসলামের নব্য ঐতিহাসিকেরা প্রবল শঠতায় সেগুলোকে ধামা চাপা দেয়ার প্রবণতায় সৃষ্টি করেছেন কৌতূহলোদ্দীপক সব গল্পের। এমনকি ইসলামের ইতিহাসের মৌলিক সূত্র ইবনে ইসহাক, আল তাবারি, আল হালাবি, ইবনে কাথিরের মত সর্বকালীন স্কলারদেরও তাঁরা অবজ্ঞা ভরে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন। প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং প্রখ্যাত প্রকাশনার এনসাইক্লোপিডিয়াগুলোও তাঁদের চোখে ষড়যন্ত্র মাত্র। 

মুহাম্মদের জন্মরহস্যের মৌলিক সূত্রটি নিহিত কুরাইশ বংশের ইতিহাসে, অপরাপর সূত্রগুলোর মধ্যে তৎকালীন আরবীয় গোত্রগুলোর বৈবাহিক প্রথা, যৌনাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। মুহাম্মদ-মৃত্যুপরবর্তীকালে আরব জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং সেই জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতা সংহত করার রাজনৈতিক কৌশলের ধারাটির অনুধাবনও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে। 

মক্কায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত গোত্রগুলোর মধ্যে কাবার তত্ত্বাবধায়কের কাজটি ন্যস্ত ছিল কুরাইশদের হাতে। অর্থোপার্জনের অন্যতম এই উৎসটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে গোত্রদ্বন্দ্বের অন্যতম একটি কারণ এবং বহুধা বিভক্ত কুরাইশদের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রধান দুটি গোত্রের - হাশিমি গোত্র ও উমাইয়া গোত্র। উমাইয়া ও হাশিমি - এই দুই গোত্রের দ্বন্দ্ব এসে চরমাকার ধারণ করে হাশিমি নেতা আব্দুল মুত্তালিবের সময়ে; এই আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের ঔরসে দশ পুত্র ও ছয় কন্যা জন্মগ্রহণ করেন। পুত্ররা হলেন: আল-আব্বাস, হামযা, আবদুল্লাহ, আবুতালিব, যুবায়ের, হারেস, হাজলা, মুকাওয়েম, দিরা, আবু লাহাব (প্রকৃত নাম আবদুল উয্যা) এবং কন্যারা হলেনঃ সাফিয়া, উম্মে হাকিম আল বায়দা, আতিকা, উমায়মা, আরওয়া, বাররাহ।

আবদুল মুত্তালিবের অন্যতম একটি সাফল্য ছিল যমযম কূপ পুনঃখনন ও তার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মরুভুমির পরিবেশে যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্ববহ। তিনি এক পর্যায়ে মানত করেছিলেন যে, যদি তাঁর দশটি সন্তান জন্মে এবং তারা তাঁর জীবদ্দশায় বয়োপ্রাপ্ত হয়ে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তিনি একটি সন্তানকে কা’বার পাশে কুরবানী করবেন। এ ধরনের মানতের জন্য নির্ধারিত প্রথা ছিল তীর টানার মধ্য দিয়ে ‘হুবাল’ দেবমূর্তির কাছে ভাগ্য পরীক্ষা; তীরে যা লেখা থাকবে সে ফায়সালাই হবে চূড়ান্ত ফায়সালা; তীরের এই পরীক্ষায় আবদুল্লাহ'র নাম উঠে এলে আবদুল মুত্তালিব তাকেই কুরবানি করতে উদ্যত হন; পরবর্তীতে অন্যান্য কোরাইশ নেতা ও তার পুত্রদের অনুরোধে মুক্তিপণ দিয়ে অব্যাহতি নেন, উল্লেখ্য যে এই মুক্তিপনের জন্য দশ বার তীর টানা হয় এবং একশত উটের বিনিময়ে আবদুল্লাহ তার প্রাণভিক্ষা পান। 

মুহাম্মদের দাদা মুত্তালিব আরবদের স্বাভাবিক নারী-পাগল প্রবণতার বাইরে ছিলেন না, তিনি নিজেও একাধিক বিবাহ করেন; এমনকি তিনি যখন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ'র সাথে অয়াহাব ইবন আবদ মানাফের কন্যা আমেনার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান, তখন কথাবার্তা চালাতে গিয়ে অয়াহাবের ভাগ্নি হালার রূপদর্শন করে মোহিত হন এবং তার পাণিপ্রার্থী হন। অয়াহাব তাতে সম্মত হলে পিতা ও পুত্রের বিয়ের অনুষ্ঠানও একই দিনে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। 

আবদুল মুত্তালিব আর হালার ঘরে যে পুত্রসন্তান জন্মায় তারই নাম হামজা; ইনি মুহাম্মদের অন্যতম খ্যাতনামা সাহাবি ছিলেন, এবং ইসলামী সূত্রমতে - তিনি মুহাম্মদের চাইতে বয়েসে চার বছরের বড় ছিলেন। আবদুল্লাহ ও আমিনার বৈবাহিক সম্পর্কটি খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই আবদুল্লাহ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী সূত্রমতে - এ সময় আমিনা গর্ভবতী ছিলেন এবং কিছুদিনের মধ্যে মুহাম্মদ জন্মগ্রহন করেন। 

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে: এই হামজা মুহাম্মদের চাচা হলে এবং তিনি বয়েসে মুহাম্মদের চাইতে চার বছরের বড় হলে এবং মুহাম্মদ আবদুল্লাহ'র ঔরসজাত সন্তান হলে আমেনা কি সকল লৌকিক নিয়মের বাইরে চার বছরব্যাপী গর্ভবতী ছিলেন? সেটিও কি একটি মু'জেজা? তবে এই বিশেষ মু'জেজাকে কেন গোপন করবার চেষ্টা করা হয়? সুরা রা'দ, আয়াত ৮-এ কি তাই আল্যা বলেছেন, "আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সঙ্কুচিত ও বর্ধিত হয়। এবং তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমাণ রয়েছে।" 

জাগতিক নিয়ম মেনে মুহাম্মদ আমেনার পুত্র হলেও আবদুল্লাহ'র ঔরসজাত সন্তান হতে পারেন না; জাগতিক নিয়মে ও ধর্মের সংজ্ঞায় তিনিও একজন জারজ সন্তান। গুপ্ত সে প্রণয় আজও গুপ্তই রয়ে গেছে। 

সূত্র:

1. Prophet Muhammad (S) and His Family: A Sociological Perspective By Aleem 
2. The Life of Muhammad: Al-Waqidi's Kitab Al-Maghazi
3. Muhammad ibn Saad, Tabaqat vol. 3. Translated by Bewley, A. (2013). The Companions of Badr, London: Ta-Ha Publishers
4. Ibn Ishaq, The Life of Muhammad: A Translation of Ishaq's Sirat Rasul Allah, Translated by A. Guillaume, Oxford University Press, Oxford, England, 
5. Al-Tabari (838? – 923 A.D.), The History of al-Tabari (Ta’rikh al-rusul wa’l-muluk), Translated by W. M. Watt and M.V. McDonald, State University of New York Press, Albany, NY, 1988

--------------

ধর্মপচারক-এর পক্ষ থেকে:

'নাস্তিকদের বাপের/জন্মের ঠিক নাই' - এমন কথা প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় আস্তিকীয় খিস্তিখেউড়ে। এদের মতে, ধর্মসম্মত উপায়ে রেজিস্ট্রিকৃত বিবাহবন্ধনে দম্পতিদের জন্ম দেয়া সন্তানগুলো ছাড়া বাকি সমস্ত সন্তান জারজ।

নিজের জন্মের ওপরে কারুর হাত থাকে না। আর তাই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনও সন্তান অবৈধ তথা জারজ ঘোষিত হলেও তাকে ঘৃণা, অবজ্ঞা বা হেয় করার ভেতরে আছে ছোটোলোকি, অমানবিকতা ও বর্বরতা।

ওপরের নিবন্ধ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়: ইছলামের নবীর জন্ম, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, নিশ্চিতভাবেই অবৈধ। কিন্তু আমরা, অন্তত এ বিষয় নিয়ে, ব্যঙ্গ বা বিদ্রূপ করবো না। তার কঠোর সমালোচনা আমরা করবো তার কর্মকাণ্ডের জন্য, কিন্তু গালিকামিল মমিনদের পথ ধরে আমরা অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলবো না, "দ্যাখ, তোদের নবীর বাপের/জন্মের ঠিক নাই।"

ইছলামের নবীর জন্মরহস্য বিষয়ে একটি তথ্যবহুল ভিডিও দেখুন:



ভিডিও লিংক: http://youtu.be/eppDnzmPJfk

২৫ জানুয়ারী, ২০১৫

বেদ্বীনবাণী - ২৮



নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৪৮

লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৯৫:
মুহাম্মদকে নিয়ে কার্টুন আঁকলে কেন জঙ্গি হামলা চালিয়ে খুন করতে হবে? কার্টুন আঁকার প্রতিবাদ তো কার্টুন এঁকেই করা যায়।

দাঁতভাঙা জবাব:
দেখুন, ইহুদি-নাসারাদের মোড়ল আমেরিকা কিছু মস্তিষ্কবিকৃত লোককে দিয়ে এইসব হামলা সৃষ্টি করায় নিজেদের স্বার্থে। দুনিয়ার বেশিরভাগ মুসলিমই এসব সমর্থন করে না।


কটূক্তি ৯৬:
তার মানে মুহাম্মদের কার্টুন আঁকলে বা ইসলামের সমালোচনা-ব্যঙ্গ করলে মুসলিমরা স্বাভাবিক ভাবে নেবে?

দাঁতভাঙা জবাব:
মুহাম্মদ (সঃ) হচ্ছেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ। মুসলিমরা তাকে নিজের জীবনের চেয়েও ভালবাসে। তার সম্মানহানি করা মানে মুসলিম বিশ্বের ওপর আঘাত যা মুসলিমরা কখনোই মেনে নেবে না। ঈমানি শক্তি দিয়ে জবাব দেবে।

* Asif Mohiuddin এর স্ট্যাটাস থেকে প্রাপ্ত আইডিয়া

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

ছহিহ ইছলামি প্লেবয় - ০৪

এই সিরিজের সার্বিক দায়িত্বে আছেন ক্যাটম্যান

ইসলাম অর্থ শান্তি, তাই ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম বলা হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্মানুসারীদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল মুহম্মদ (ছাঃ) দুনিয়া ও আখেরাতে অশেষ শান্তির বন্দোবস্ত করেছেন। অথচ শান্তি খুঁজতে গিয়ে অনেক মুমিন, মুসলমান কুরআন-হাদিস তালাশ না করে ইহুদি-নাসারা কর্তৃক প্রকাশিত প্লেবয় ম্যাগাজিন তালাশ করে থাকেন। তারা ইহুদি-নাসারা কর্তৃক প্রকাশিত প্লেবয় ম্যাগাজিনের পাতায় চোখ বুলিয়ে জান্নাতি মেওয়া ভোগের স্বাদ পেতে চান; কিন্তু ইহুদি-নাসারাদের প্লেবয় ম্যাগাজিন মুসলমানদের জন্য হারাম। কারণ যে-কিতাব বা ম্যাগাজিনে ইসলামি তাহযিব-তমুদ্দুনের লেশমাত্র নেই, তেমন কিতাব বা ম্যাগাজিন মুমিন মুসলমানদের জন্য হালাল হতে পারে না। যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, সেহেতু ইসলামেই রয়েছে সমস্ত সমস্যার সমাধান। আর তাই মুমিন মুসলমানদের ঈমান রক্ষার্থে ধর্মকারী নিয়ে এল আল-কুরআনের আদর্শভিত্তিক ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিন। এই ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্য মুমিন মুসলমানদের ছহিহ ইসলামি বিনোদন উপহার দেয়া; একই সাথে সেই সব মুমিনা হুরদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়া, যারা জান্নাতে গিয়েও হুরের দায়িত্ব পালন করবেন। 


ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় সম্পূর্ণরূপে অনৈসলামিক নগ্নতামুক্ত বিধায়, এখানে শুধুই ইসলামি নগ্নতা প্রকাশ পাবে, যা আল-কুরআন দ্বারা স্বীকৃত। 

আল-কুরআনে বলা হয়েছে - "আসমান ও যমিনে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং সবকিছুকে আল্লাহ পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন" (সূরা নিসাঃ ১২৬ আয়াত); উক্ত আয়াত থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, এই ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় আল্লাহর এবং প্রকাশিত সকল বিষয়কে আল্লাহ পরিবেষ্টন করে আছেন বিধায় কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে অনৈসলামিক নগ্নতার অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ নেই। এই ম্যাগাজিনে যেটুকু ইসলামি নগ্নতা প্রকাশ পাবে, সে সম্পর্কে আল-কুরআনে বলা হয়েছে - "তাহারা যেন তাহাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাহাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কাহারও নিকট তাহাদের আভরণ প্রকাশ না করে।" (সূরা নূরঃ ৩১ আয়াত )

এই আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুসলিমা নারীগণ তাদের স্বীয় আভরণ স্বামী, পিতা, ভাই, ভাতিজার ন্যায় যৌনকামনারহিত পুরুষ অর্থাৎ নারীর প্রতি ইসলামি নেক দৃষ্টিদানকারী পুরুষ ও অজ্ঞ বালকদের সামনে প্রকাশ করতে পারবেন।

তাই সন্মানিত পাঠকবৃন্দকে ছহিহ ইসলামি আদর্শ অনুসরণের স্বার্থে আল্লাহ প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী অজ্ঞ বালক অথবা যৌনকামনারহিত পুরুষের দৃষ্টিতে এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় দেখার অনুরোধ করা যাচ্ছে।



এবং ইছলামী প্লেবয় সেন্টারফোল্ড: দু'টি ছবি (ক্লিক করুন), তবে ইমোটা খিয়াল কৈরা 
+

সারা বছর সানিস্বতীর পূজা করে একদিন সরস্বতীর পূজা কেন?

লিখেছেন নিলয় নীল 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে প্রতিটি বিভাগ আলাদা আলাদাভাবে সরস্বতী পুজা করে থাকে। প্রতিটি বিভাগ তাদের দেবীকে সাজাতে তাদের বিভাগের কনসেপ্ট মাথায় রাখে। কোন বিভাগের দেবী কতো সুন্দর, এ নিয়ে হয় প্রতিযোগিতা। এইতো গত বছরও কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ তার দেবীকে ডিজিটালভাবে সাজিয়েছে, দেবীর হাতে বইয়ের বদলে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ তুলে দিয়েছে। আশ্চর্য হলেও সত্য, ভক্তদের কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি, বরং ভক্তিভরে সেই ডিজিটাল সরস্বতীকে পুজা করেছে তারা।

গীতায় ভগবান বলেছেন, ভক্তরা যেভাবে ভগবানকে কল্পনা করেন, ভগবান সেই রূপেই ভক্তের আরাধনা গ্রহণ করেন। তাহলে কেউ কেউ যদি তার ঈশ্বরকে সানি লিওনের রূপে কল্পনা করে ঈশ্বরের হাতে ডিলডো দিয়ে পুজা করেন, তাহলে ঈশ্বর তাদের পুজা নেবে না কেন? আর যদি বিকৃত ডিজিটাল সরস্বতী দেখে কারো অনুভূতিতে আঘাত না লাগে, তাহলে সেক্সি সরস্বতী দেখলে অনুভূতিতে আঘাত কেন লাগবে? 

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

সরস্বতী বিদ্যার দেবী আর সানিস্বতী যৌনবিদ্যার দেবী বলে যারা তুলনা দিচ্ছেন তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, সানি লিওনকে অন্তত তার পিতার সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতে হয়নি, পুরাণমতে যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন দেবী সরস্বতী। সরস্বতী পুরানে দুইভাবে সরস্বতীর জন্মবৃত্তান্ত পাওয়া যায়। প্রথম কাহিনী মতে, সরস্বতী ব্রহ্মার নাতনী হলেও পরবর্তী কাহিনী অনুযায়ী সরস্বতী ব্রহ্মার কন্যা। পৌরাণিক এইসব কাহিনীর বিস্তর মতপার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ সরস্বতীকে ব্রহ্মার কন্যা হিসেবেই স্বীকৃতি দেন। 

প্রথমেই বলে রাখি, বিজ্ঞান আমাদের যে শিক্ষা দেয়, যেমন - সন্তানের জন্মের জন্য মায়ের প্রয়োজন অপরিহার্য, বৈঘ্যানিক হিন্দুধর্ম তা ভ্রান্ত প্রমাণ করেছে ইতিমধ্যেই। আপনি বিজ্ঞানে আস্থা রাখবেন, নাকি হিন্দুধর্মে আস্থা রাখবেন, এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার হলেও আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, দেবী সরস্বতীর কোনো মা ছিলো না। অর্থাৎ দেবী সরস্বতী কোনো মায়ের গর্ভে জন্ম নেননি। এমনকি তার জন্মপ্রক্রিয়ার কোনোখানেই নারীর সামান্য অবদানের নজির নেই। 

সরস্বতী পুরাণের সরস্বতী-জন্মের প্রথম কাহিনী অনুযায়ী, আজকালকার ছেলেরা সানি লিওনকে দেখে যেমন হস্তের দ্বারস্থ হয়, ঠিক তেমনি ঊর্বশীকে দেখে স্বমেহন করতেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মার শুক্রাণু জমা হত একটি পাত্রে। সেই পাত্রেই জন্ম হয় ঋষি অগস্ত্যর এবং পরবর্তীতে অগস্ত্য জন্ম দেন সরস্বতীর। এই সূত্র অনুযায়ী - সরস্বতী ব্রহ্মার নাতনি। 

আবার অন্য সূত্র বলে, ব্রহ্মার শুক্রাণু থেকে সরাসরি জন্ম হয় সরস্বতীর। কিন্তু আত্মজার রূপ দেখে মুগ্ধ হন পিতা প্রজাপতি ব্রহ্মা। তিনি সরস্বতী বড় হলে তাঁর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে চান। জন্মদাতার কামনা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যান সরস্বতী। কিন্তু শেষ অবধি হার মানতে হয় ব্রহ্মার কামনার কাছে। 

আজকালকার ছেলেমেয়েরা ধর্ম থেকে অনেক কিছু শিখলেও তারা স্বীকার করে না, এটাই সমস্যা। এই যেমন ধরুন, লিভ টুগেদার যা আমাদের কাছে নতুন, কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে ব্রহ্মা এবং সরস্বতী পরস্পর পিতা ও কন্যা হয়েও স্বামী-স্ত্রীর মতো পদ্মফুলে লিভ টুগেদার করেন ১০০ বছর ধরে। আসলে এটা লিভ টুগেদারও বলা যায় না, কারণ লিভ টুগেদারে দু'জনার সম্মতি থাকতে হয়। সহজভাবে বললে - এই ১০০ বছর ধরে ব্রহ্মা সরস্বতীকে ধর্ষণ করেছিলেন, সরস্বতী এই কাজ কখনোই করতে চাননি। কিন্তু এরপরেও ব্রহ্মার বিকৃত কামনা কমেনি। 

ব্রহ্মার বিকৃতি এতো চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যে, দেবী সরস্বতী অভিশাপ দিতে বাধ্য হন ব্রহ্মাকে। অভিশাপ দিয়ে বলেন, দেবতাদের মূলস্রোতে থাকবেন না প্রজাপতি ব্রহ্মা অর্থাৎ তিনি পূজিত হবেন না। সত্যি হিন্দু দেবতাদের মূলধারার মধ্যে পূজিত হন না ব্রহ্মা। রাজস্থানের পুষ্কর ছাড়া তাঁর মন্দির এবং অর্চনা বিরল। 

কুপিত হয়ে সরস্বতী তাঁকে ছেড়েও চলে যান। দেবী থেকে রূপান্তরিত হন নদীতে। সেখান থেকেই বৈদিক যুগের সরস্বতী নদী। কৃষিপ্রধান সভ্যতার মূলে থাকা উর্বরতার উৎস এই নদীর উৎসমুখ ও প্রবাহ নিয়ে এখনও চলে গবেষণা। 

যাদের এই কাহিনী পড়ে সংশয়বোধ হবে, তাদেরকে বলবো, দয়া করে আমার চোদ্দগুষ্ঠি নিয়ে চণ্ডীপাঠ করার আগে সরস্বতী পুরাণে সরস্বতীর জন্মবৃত্তান্তটা পড়ে নেবেন। 

আজকাল তরুণদের সরস্বতী নিয়ে মধ্যে খুব একটা মাথাব্যথা দেখা যায় না, তারপরও বছরে একবার সরস্বতী পূজা এলে তখন তাদের আয়োজন শুরু হয়। সারাবছর সানি লিওন অর্থাৎ দেবী সানিস্বতীর আরাধনা করে বছরে একদিন দেবী সরস্বতীর আরাধনা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। তাই আসুন, সারা বছর যার আরাধনা করি, বছরের একটা দিন একমাত্র তারই পূজা করি আমরা। চলুন, আমরা মন্ত্রজপে দেবী সানিস্বতীকে আহবান করি এভাবে:
চুমো সানিস্বতী উর্বশী সাজে
আঃ কি যাদু তব চাহনে,
ন্যাংটারূপে বিশালবক্ষী
সদাই দেখি পর্ণমুভিতে।
আয় আয়, সানি, মন চায় তোরে….
কটিদেশদুলিত হিপহপ গানে,
সেক্সিনন্দিত কামুক বাণে
আগত স্বাগত সানি বিনাবস্ত্রে। 
দেবীকে এভাবে আহবানের পর সবাই সম্মিলিতভাবে দেবীর অঞ্জলি দেবো এভাবে:
জয় জয় দেবি চরাচরসারে
কুচযুগশোভিত বস্ত্র ব্যতিহারে,
বীণারঞ্জিত চটি হস্তে
কামুকরতি দেবি নমোঃহস্তমৈথুনে।
ওঁ সানিস্বতী মহাভোগে
পর্ণবিদ্যে কোমল ঠাপনে
বিশ্বরূপে বিশালবক্ষা
যৌনাং দেহি নমোহস্তুতে।
* তথ্যগুলো সরস্বতী পুরান থেকে নেয়া ও মন্ত্রগুলো সংগ্রহের পর পরিমার্জিত করা।

২৪ জানুয়ারী, ২০১৫

পোপমারানির বাণী

ভ্যাটিকানের পোপমারানি গত ১৫ তারিখে একটা বাণী ঝেড়েছে এই মর্মে যে, কার্টুনের কারণে হত্যাকাণ্ড সমর্থযোগ্য নয়, তবে কাউকে উস্কানি দেয়ার ও অন্যদের ধর্মবিশ্বাসকে অপমান করার অধিকার কারোর নেই। 

তবে-কিন্তু-যদি সহযোগে ত্যানাপ্যাঁচানিপটুদের এমন বাণীর প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটি দুর্দান্ত কার্টুন-পোস্ট আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। এবারে আরও দু'টি কার্টুন।



দারুল ইসলাম - আলো-বাতাসহীন কারাগার

লিখেছেন পুতুল হক

পৃথিবীতে যোগ্যরা টিকে থাকে, জয়ী হয়। এমন সময় ছিল, যখন যোগ্যতা নির্ধারিত হতো বাহুবল বা অস্ত্রবল দিয়ে। এক দেশের রাজার শক্তি বেশি থাকলে সে আরেক দেশের রাজাকে খুন করতে পারতো, সেই রাজার দেশকে দখল করতে পারতো। কিন্তু সে অনেককাল আগের কথা। যোগ্যতার সে সংজ্ঞার পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন সে-ই যোগ্য, যার আছে অধিক মেধা, যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত, যে কৌশলে উন্নত, যে বুঝতে পারে সময়ের প্রয়োজন, যে বুঝতে পারে মানুষের মন আর চাহিদা।

যোগ্যতার বিচারে মুসলমান খুব কম যোগ্য জাতি। পৃথিবীতে আবিষ্কার-উদ্ভাবনে, শিল্পে-সাহিত্যে মুসলমানদের অবস্থান খুব নগণ্য। কিছু মুসলমান আছে, যারা তাদের মেধাকে সৃষ্টিশীল কাজে বা মানবকল্যাণে না লাগিয়ে ধংসাত্বক কাজে লাগায় আর বাকি মুসলমান তাঁদের সমর্থন করে। আর তাই আইএস, তালেবান, বোকোহারাম বা জেএমবি বা জামাতে ইসলামকে অধিকাংশ মুসলমান সমর্থন করে।

১৪০০ বছর আগে মহানবীর দেখিয়ে যাওয়া পথে এরা জয়ী হতে চায়। মুসলমানরা  খুন, ধর্ষণ আর লুট দিয়ে পৃথিবীকে দারুল ইসলাম বানাতে চায়। এদের নেই মেধার চর্চা, জ্ঞানের চর্চা। সর্বোপরি এরা সময়কে বোঝে না, মানুষকে বোঝে না। পৃথিবীর মানুষ দারুল ইসলাম নাকি দারুল হারব চায়? 

দারুল ইসলাম মানে সার্বক্ষণিক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ধ্বংস, খুন করে পার পাওয়া, ধর্ষককে রেহাই দেয়া আর ধর্ষিতাকে ফাঁসি দেয়া, যৌনতা আর সন্তান জন্ম দেয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজে নারীর অবদান নিষিদ্ধ করা, নারীকে বস্তাবন্দী করে রাখা, পরকালমুখী হয়ে পৃথিবীর উন্নতি অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়া, সব রকম সুকুমার বৃত্তির চর্চাকে নিষিদ্ধ করা, মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করা। 

আর দারুল হারব অর্থ মানবতার জয়, বিজ্ঞানের জয়, বিবেকের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, নারীস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, নাচ-গান-সাহিত্য-চিত্রকর্মের আনন্দ, সব মানুষকে বন্ধু করার আনন্দ, মানুষে মানুষে ভালোবাসার আনন্দ। সেখানে যে ধর্মের নামে নৃশংসতা নেই, তা নয়, কিন্তু এই নৃশংসতাকে ঘৃণা জানায় মানুষ, আড়াল করে না।

মুসলমানদের আকর্ষণও দারুল হারবের প্রতি। তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমান বিধর্মী কাফেরদের দেশগুলোতে যাবার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে। তবে অন্ধ বিশ্বাসের কারণে এরা দারুল ইসলামের স্বপ্নকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারে না। তাই মনে মনে টান থাকার পরও এরা দারুল হারবকে নিজের বলে ভাবতে পারে না। এই না পারার ক্ষোভ থেকে তৈরি হয় ঘৃণা। 

মুসলমান আনন্দ করতে পারে না, তাই আনন্দ ধংস করে। আল্লাহ আর নবী ছাড়া কাউকে ভালবাসতে পারে না, তাই মানুষের ভালবাসায় এরা আস্থা পায় না। এরা গাইতে পারে না, নাচতে পারে না, ছবি আঁকতে পারে না, তাই সব শিল্পীদের প্রতি এদের ঘৃণা। নিজেদের আড়াল করে প্রাচীন কারায় বন্দী করে রাখে। ১৪০০ বছর আগের আলো-বাতাসহীন একটা কারাগারের নাম দারুল ইসলাম।

ইছলামে হারাম-হালালের হাল-হকিকত



নতুন বিয়া করোইন্যা ফুরুশদের জইন্য

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

সদ্য বিবাহিত কিসু বিপদগ্রস্ত হাজবেন্ডদের খুশির খবর!!! বাজারে এলো সেই রকম এক বিছানা!!!

অনেক নতুন বিবাহিত লুকের অভিযুগ, রাতের বেলায় যখন উনার পরিবারকে পাশাপাশি শুয়া অবস্তায় বুকে জড়িয়ে গুমাতে যান, একটা সময় হাত বেথা করি উঠে, হাতের ডোঁয়া বেথা করি উঠে, কিন্তুক এত বেথার পরও পরিবারকে দুই হাত থেকে ছাড়ি দিতে ইচ্ছা করে না। গরমে খাক, মশায় খাক, দুই হাত দিয়া জড়ায়ে ধরি রাখন সাই ই সাই। অবশ্য যুদিও নয়া নয়া সবকিছুই এই রকম, কেউই ছাড়তে চায় না, আর দুই দিন পর খবরও থায়ে না।

এ বেফারে নরকের কীট নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ বা বদমাশ সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বা উদেরই মত অন্য কুন নারিসংগলুভি, স্বারথোফর, দান্দাবাজ লুক কুতায় জানি বোলেছিল, প্রিয়ার হাত ধরে, আঙ্গুল ধরে, আরও কিছু সময় গড়িয়ে গেলে এমন এক মুহুর্ত আসে, যখন মনে হয় শুধু আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়ানোই যথেষ্ঠ নয়, আহ! পারতাম যদি আঙ্গুল কেটে, আঙুলে আঙুল মিশিয়ে দিতে, দু'জনা এক হয়ে যেতে!!

এইসব নাস্তিকদের পথমে আঙুল জড়াজড়ি, তারপর হাত ধরাধরি, দুই দিন পরে ইচ্ছা করে আরও কিসু ধরি, তারপর সব বেশরিয়তি কাম।

নাস্তিকদের এমনসব আঙ্গুল ধরাধরির গোফনিয় অনুভুতির কতা ত নবিজি ১৪০০ বছর আগেই জানতেন। সমাজ বিধংশীকারি এমন অশ্লিল অনুভুতি যাতে করি মনে উদ্রেক না হয়, সেজন্য ইসলাম বলি দিছে পর্দা করি চলতে।

পোবিত্র কুরানে আল্লাহপাক (সুবঃ) ইরশাদ করেন:

قل للمؤمنت يغضنن من ابصارهن ويحفظن فروجهن ولا يبدين زينتهن الا ما ظهر منها

তরজমা: (হে নবী!) মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আভরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)

এই আয়াতটা শুনানির পর সেদিন এক নাস্তিক হুট করি বলে উঠল, আঙুল কি লজ্জাস্তান যে ঢেকে রাখবে!

ঐ নাস্তিকের কতা শুনি সেদিন আমার হাসি ফেল। নাস্তিকদের বুদ্দি এমন যে, উরা শুদু স্থুল বেফারটা বুঝে সবসময়।

যাই হোক, নাস্তিকদের কতা বলি ত আর লাব নাই, নাস্তিকরা ত আর বিয়ে কোইত্তে সায় না বা বিয়ে কোইত্তে রাজি না। বরং নতুন বিবাহিত কিসু বিপদগ্রস্ত লুকের কতা বলি, যারা তাদের বাম-হাত নিয়ে প্রতিরাতেই এক অস্বস্তিকর রকম বিপদে পড়ে, যারা প্রতি রাতেই অবচেতনভাবেই হয়তবা ‘কাডল মেট্রেস’ এর কতা ভাবে এবং পরের দিন ভুলি যায়।

এই মুসলিম তার হাতের ডোঁয়া বা বাহু বিছানার নিচে ডুকিয়ে রাখাতে অহেতুক হাত/বাহু/ডোঁয়া বেথা হওয়া থেকে বেচে যাবে। তবে ছবিতে বেশরিয়তি কাজ হইছে, বিবি তার হাজবেন্ড এর ডান পাশে শুইছে, যা উচিত হই নাই। 

আফনি হয়ত এতদিন এমন একটা বেড-এর কতা কল্পনা কোইত্তেসিলেন (আমি নতুন বিয়া করোইন্যা লুকদের বলতেসি)।

হয়ত আফনের পরিবারকে রাতের বেলায় যখন জড়ায়ে ধরলেন, জড়ায়ে ধরতে গিয়া যখন টের পাইলেন, আরে!! জড়ায়ে ধরি রাখা ত এত সহজ না, পাশাপাশি শুইয়া জড়ায়ে বুকের ভিতর এবং অতপর আরেকটু ভিতরে নিয়া ধরে রাখতে গেলে পরিবারের কান্দের নিচে দিয়া হাত নিতে হয়, আর হাত নিতে গিয়া দেখা যায় যে, সারাদিনে শরিরের শিরা-উপশিরায় ৮০ হাজার মাইল দৌরাদুরি করা রক্তের গতি-প্রকৃতি বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞানের হিসাব নিয়া গরমিল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা জাগি উঠে।

নিজের পুরুশুত্তের প্রমান এবং নতুন বউয়ের প্রতি অগাধ ভালবাসার প্রমান রাইখতে গিয়া হয়ত বউকে বারবার নিজের সেক্রিফাইসের কতা আকারে ইংগিতে বুজাইতে চান, বউ বুজতে বের্থ হইলে, অধৈর্য্য হইয়া তখন বলেই ফেলেন যে, উকে বুকে জড়িয়ে রাখতে গিয়ে আফনের হাতের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েসে, আফনে আরও বলেন যে, এতে আফনের কুন পোবলেম হইতেসে না!

আফনের পরিবার আফনের আত্মতেগ উপলব্দি কৈরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কইত্তে আফনের দিকে কিসুক্ষনের জোন্য ছলছল চুখে চাইয়া থাকে এবং সাতে সাতেই আফনের বুকের আরও কাসাকাসি গিয়া আফনের বুকে মুখ লুকায়। আফনে হয়ত তখন দুই একবার বলিও থাইকবেন, যদি এমুন একটা খাট থাইকতো যে, উকে জড়ায়ে ধরতে গিয়া বাধাদানকারী বাম-হাতটা উর ঘাড়ের নিচে একটা ফাক দিয়া যুদি নিচে নামায়ে দেয়া যাইত, এ কথা শুনি বউ আফনের বুকের ভিতর থিকা বলে, ‘পাগলা’!

আজকে অয়ত এই ‘কাডল মেট্রেস’ বউকে দেখাবেন, আফনের বউ হয়ত প্রথমে বুজতে ফারবে না আফনি কী বোইলতে চাইতেসেন, আফনে তখন উকে শরন করাইতে বোলবেন যে, ঘুমের ভিতর জড়ায়ে ধরি রাখা ঐসব রজনী গুলার পরের দিনের কতা, যখন দিনের বেলায় আফনের আর আফনের পরিবারের ঘাড় এবং পিঠ বেথা হই থাকত, আগের রাইতের বেঁয়াকোঁয়া হই শুই থাকার কারনে!

কাডল মেট্রেসের কতা শুনি আফনের পরিবার হয়ত উর স্বামীর একদা কল্পনা-পোতিভার ঐ রকম খাটের সন্ধান পায়া কিসুটা খুশি হইতে ফারে, আবার এত গেরাজ্য না-ও কোইত্তে ফারে।

* আমি একটি গুনাহের কাজ কোরেছে এমন একটা ছবি লিখার সাতে দিয়ে, যে ছবিতে দুইজন ইহুদি বা নাসারা বা হইতে ফারে কুন নাস্তিকের অশ্লিল দৃশ্য দিখা যাইতেসে। আল্লাহ্‌ আমার গুনাহ মাফ করুন, এবং সাতে সাতে আফনেরা যারা এই ছবি দেখিয়া গুনাহর ভাগিদার হইছেন আফনেদের জোন্যো আমি আল্লাহর দরবারে মাপ চাইতেসি।

** বেডটা খুব শোন্দর না? দেখেন, হাতের ডোঁয়া কি আরামে বেডের ভিতর ডুকিয়ে রাখা যায়। আজকেই ওয়াডার দিয়ে একটা বানিয়ে নিন।

২৩ জানুয়ারী, ২০১৫

রসময় দেবী


ফাল দিয়া ওঠা কথা - ৩৭

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

১০৯.
'মুসলিম মাত্রই সন্ত্রাসী নয়' মুসলিমদের জন্য এর চেয়ে বড়ো অসম্মানজনক বাক্য কিছুই হতে পারে না। অথচ কেউ এই বাণী দিলে মুমিনরা নিজেরাই গর্বের সাথে শেয়ার করে!

১১০.
যতো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ সব আসলে সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র।
কিন্তু আপনি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কথা বললে সাম্রাজ্যবাদের দালাল হয়ে যাবেন,
কারণ জঙ্গিরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে!

কেউ কি এই পেজগির সমাধান দিতে পারেন?

১১১.
আমরা যদি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বড়ো বড়ো বুলি ঝেড়ে আদিবাসী দমন-নিপীড়নে সমর্থন দিই বা নিশ্চুপ থাকি, তাহলে বুঝতে হবে আমরা একেকজন অসাম্প্রদায়িক বজ্জাত...

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৭৭

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু কয়দিন তারে না পোন্দাইলে মন্ডা কেমুন জানি করে...

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

 'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন ঈশ্বরের স্রষ্টা

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন অন্নপূর্ণা দেবী

ওহুদ যুদ্ধ - ১২: আবু সুফিয়ানের উপাখ্যান: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৬৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – উনচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪

ওয়াহশি নামক এক ক্রীতদাসের বল্লমের আঘাতে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের নৃশংস হত্যার পর প্রতিশোধস্পৃহায় আবু সুফিয়ান পত্নী হিন্দ বিনতে ওতবা ও তাঁর সঙ্গের মহিলারা হামজা ও অন্যান্য মুহাম্মদ অনুসারীর কিছু মৃতদেহের কান ও নাক কেটে নিয়ে তা দিয়ে কানের দুল, গলার মালা ও পায়ের মল তৈরি করে পরম কৃতজ্ঞতায় সেগুলো তাঁরা কীরূপে ওয়াহশিকে উৎসর্গ করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বদর যুদ্ধে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারবের হানজালা নামের এক জোয়ান পুত্র সন্তানকে হত্যা ও আমর নামের আর এক পুত্র সন্তানকে বন্দী করে মদিনায় ধরে নিয়ে আসে।

তারপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কীরূপে আবু সুফিয়ানের কাছে তাঁর পুত্র আমরের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন; মুক্তিপণ প্রদানে আবু সুফিয়ান কী কারণে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছিলেন ও কী পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা আমরকে বিনা মুক্তিপণেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব ৩৭-এ করা হয়েছে।

এই কুরাইশ নেতা তাঁর শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও শ্যালকসহ অন্যান্য আরও বহু কুরাইশের হত্যাকারী হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের মৃতদেহ প্রত্যক্ষ করে ক্ষণিকের জন্য আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর বল্লমের অগ্রভাগ দিয়ে হামজার মুখের পাশে আঘাত করেন ও বলেন যে, সে রাষ্ট্রদ্রোহী (Rebel) এবং তার উচিত সাজাটিই হয়েছে।

কুরাইশ নেতার এই কর্ম এক কুরাইশের নজরে আসে। সে আশ্চর্য হয়ে বলে, "মৃত জ্ঞাতিভাইয়ের (Cousin) সাথে কুরাইশ নেতার এ কেমন ব্যবহার!"

আবু সুফিয়ান তাঁর এই ব্যবহারে লজ্জিত হয়ে তৎক্ষণাৎ স্বীকার করে নেন যে, তিনি ভুল করেছেন। তিনি তাকে অনুরোধ করেন, সে যেন ঘটনাটি গোপন রাখে।

তারপর তিনি মুহাম্মদ অনুসারীদের জানিয়ে দেন যে, তাদের কিছু সহচরের মৃতদেহের অঙ্গচ্ছেদ (Mutilation) করা হয়েছে। তিনি তাদের আরও জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনো কুরাইশকেই এই কর্মটি করার আদেশ করেননি কিংবা কাউকে তা করতে বাধা প্রদানও করেননি।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ:

'আল-হুলায়েস বিন জাববান নামের বানু আল-হারিথ বিন আবদ মানাত গোত্রের এক ভাই, সেই সময় যিনি ছিলেন কালো সৈন্যদলের দলপতি, আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় লক্ষ্য করেন, তিনি তাঁর বল্লমের আগা দিয়ে মৃত হামজার মুখের এক পাশে আঘাত করছেন এবং বলছেন, "এই রাষ্ট্রদ্রোহী, নে তার স্বাদ ভোগ কর।"

হুলায়েস আশ্চর্য হয়ে বলে, "হে বানু কিনানা, তোমরা কি দেখেছো যে, এই সেই কুরাইশ নেতা, যে তাঁর নিজের মৃত জ্ঞাতিভাইয়ের সাথে এমন ব্যবহার করছে?"

তিনি বলেন, "চুপ থাকো। ঘটনাটি গোপন রেখো, কাজটি ভুল ছিল।"

(Al-Hulays b.Zabban, brother of the B. al-Harith b. 'Abdu Manat, who was then chief of the black troops, passed by Abu Sufyan as he was striking the side of Hamza's mouth with the point of his spear saying, 

'Taste that, you rebel.'

Hulays exclaimed, 'O B. Kinana, is this the chief of Quraysh acting thus with his dead cousin as you see?'

He said, 'Confound you. Keep the matter quiet, for it was a slip.’)

---- [যুদ্ধের শেষে] যখন আবু সুফিয়ান ফিরে যেতে মনস্থ করেন, তখন তিনি পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণ করেন ও উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলেন, "তোমরা উত্তম কাজটিই করেছ; যুদ্ধে বিজয় পালা ক্রমে হয়। আজকের দিনটি হলো সেই দিনের (তাবারী: বদরের) বিনিময়ে। হুবাল, তোমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন কর।" অর্থাৎ তোমার ধর্ম প্রতিষ্ঠিত কর।

আল্লাহর নবী ওমরকে উঠে দাঁড়িয়ে আবু সুফিয়ানের উদ্দেশে বলতে বলেন, "আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতি মহিমান্বিত। আমরা সমান নই। আমাদের মৃতরা এখন বেহেশতে; তোমাদের মৃতরা নরকে।"

এই জবাব শুনে আবু সুফিয়ান ওমরকে বলেন, "ওমর, কাছে এসো।"

আল্লাহর নবী তাকে তার কাছে যেতে বলেন এবং তার কী উদ্দেশ্য, তা পরখ করতে বলেন।

যখন সে নিকটে আসে, আবু সুফিয়ান বলেন, "আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, ওমর, আমরা কি মুহাম্মদকে হত্যা করেছি।"

জবাবে সে বলে, "না, তা তোমরা করোনি। তুমি যা কিছু বলছো, তা তিনি শুনছেন।"

তিনি বলেন, "আমি তোমাকে ইবনে কামিয়ার চেয়ে বেশী সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বলে জানি।" ইবনে কামিয়া কর্তৃক মুহাম্মদকে হত্যার দাবীর প্রসঙ্গে তিনি এই কথাটি বলেন। [পর্ব-৬২]

তারপর আবু সুফিয়ান বলেন,

"তোমাদের মৃত সহচরদের কিছু মৃতদেহের অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে। আল্লাহর কসম, যা আমাকে পরিতৃপ্ত অথবা রাগান্বিত কোনোটিই করেনি। আমি তাদের অঙ্গচ্ছেদ করার জন্য কোনো আদেশ জারি কিংবা বাধা প্রদান কোনোটিই করিনি। " --

(Then Abu Sufyan called out, 'There are some mutailated bodies among your dead. By God, it gives me no satisfaction, and no anger. I neither prohibited nor ordered mutilation.')

আল্লাহর নবী আবু সুফিয়ানের সৈন্যদলকে অনুসরণ করে তারা কী করছে ও তাদের কী উদ্দেশ্য, তা জানার জন্য আলীকে পাঠান।

যদি তারা তাদের উঠের পিঠের ওপর চড়ে বসে ও ঘোড়াদের পরিচালনা করে, তবে, সম্ভবত, তাদের গন্তব্য হলো মক্কা। আর তারা যদি তাদের ঘোড়ার পিঠের ওপর চড়ে বসে ও উটদের পরিচালনা করে, তবে, সম্ভবত, তাদের গন্তব্য হলো মদিনা।

"আল্লাহর কসম", তিনি বলেন, "যদি তাদের গন্তব্য হয় মদিনা, আমি সেখানে যাব এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করবো।"

আলী বলেছেন যে, সে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে এবং দেখে তারা কী করছে। তারা তাদের ঘোড়াদের পরিচালনা করছিল ও উটের পিঠের ওপর চড়ে বসছিল এবং মক্কার অভিমুখে রওনা হচ্ছিল।’ [1][2]

আল তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:

----'আল্লাহর নবী [আলীকে] বলেন, "তারা যা কিছুই করুক না কেন, আমার কাছে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তুমি নীরব থাকবে।"

যখন আমি [আলী] দেখেছি যে, তারা মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে, আমি চিৎকার করতে করতে ফিরে আসি। আমি তাদের মদিনার পরিবর্তে মক্কা প্রত্যাবর্তনের দৃশ্য দেখে আনন্দ-উল্লাসে এতই উৎফুল্ল ছিলাম যে, আল্লাহর নবীর নির্দেশ অনুযায়ী এই তথ্যটি গোপন রাখতে পারিনি। [2]

>>> মানুষ ভুল করে। এটি একটি মানবিক বৈশিষ্ট্য। মানুষ ভুল করে লোভ, লালসা, হিংসা-প্রতিহিংসা, ভীতি, দুঃখ, শোক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে। একজন সৎ, সংবেদনশীল ও অকপট মানুষ অন্য মানুষের কাছে তাঁর ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও প্রয়োজনে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান তাঁর ভুল স্বীকার করেছিলেন। ইতিমধ্যেই আমরা আরও জেনেছি যে, কুরাইশ নেতা আবু জেহেলও অনুরূপ কাজটি করেছিলেন এবং হামজার ধনুকের আঘাতে তাঁর মস্তক চূর্ণ হওয়ার পরও (‘-which split his head open in an ugly way’) তিনি সহিংসতায় বাধা প্রদান করেছিলেন (পর্ব-৬৩)

এখানে একটি অতি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন:

"মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর ৬২ বছরের কর্ম জীবনে কখনো কি কোনো ভুল করেছিলেন? তাঁর নিজের সেই ভুল কর্মের জন্য কখনো কি তিনি কোনো অবিশ্বাসী কাফেরদের কাছে কোনোরূপ লজ্জা বা দুঃখ প্রকাশ অথবা ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন?"

নিজের ভুলের কারণে তিনি কখনো কোনো অবিশ্বাসী কাফেরদের কাছে কোনোরূপ লজ্জা বা দুঃখ প্রকাশ অথবা ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, এমন তথ্য আমার জানা নাই।

তবে ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি যে, তিনিও ভুল করেছিলেন! আর সেই ভুলটি হলো:

"আল্লাহর ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বদর যুদ্ধে ধৃত ৭০ জন কুরাইশ বন্দীর সবাইকে একে একে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন না করে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। তাঁর এই ভুলের সাক্ষ্য কুরান (৮:৬৭-৬৮) সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণিত আছে। এই চরম ভুলের অনুশোচনায় অনুতপ্ত ও মর্মাহত মুহাম্মদ কীরূপ ক্রন্দন করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব ছত্রিশে করা হয়েছে।"

জগতের প্রায় সকল ইসলাম-বিশ্বাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আবু লাহাব, আবু জেহেল, আবু সুফিয়ান ইত্যাদি কুরাইশ নেতারা ছিলেন জঘন্য প্রকৃতির মানুষ। ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় প্রাথমিক সংজ্ঞায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বানী ও কর্মকাণ্ডের সামান্যতম সমালোচনা তো অনেক দূরের বিষয়, কোনোরূপ সন্দেহ পোষণ করাও "ইমান ও আকীদার (ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার একান্ত আবশ্যক সর্বপ্রথম শর্ত)" সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এই একান্ত আবশ্যকীয় প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী - আবু লাহাব, আবু জেহেল, আবু সুফিয়ানসহ সকল কুরাইশ, অ-কুরাইশ এবং পৃথিবীর সকল মানুষ যারা মুহাম্মদের বাণীকে অস্বীকার, সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছেন, করছেন ও ভবিষ্যতে করবেন, তাঁরা সকলেই বিপথগামী, লাঞ্ছিত, পথভ্রষ্ট এবং অনন্ত শাস্তির যোগ্য (পর্ব-২৭)।

ইসলামের এই একান্ত আবশ্যকীয় শর্তে দীক্ষিত হওয়ার পর "ইমান ও আকীদা পালনের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্বে" জগতের সকল ইসলাম বিশ্বাসীকেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেই হবে যে, আবু লাহাব, আবু জেহেল, আবু সুফিয়ান, উমাইয়া ইবনে খালফ সহ সকল কুরাইশ নেতৃবর্গ ও সাধারণ কুরাইশ ও অ-কুরাইশ অবিশ্বাসী কাফের, যারাই মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত জঘন্য প্রকৃতির মানুষ। ইসলামী পরিভাষায় তাঁদের খেতাব হলো আইয়্যামে জাহিলিয়াত (অন্ধকারের যুগ/বাসিন্দা)।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ (Psycho-Biography) কুরানের অসংখ্য বাণীতে তাঁদেরকে করেছেন অসম্মান, দোষারোপ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, শাপ-অভিশাপ, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন; যার আলোচনা পর্ব ২৬ ও ২৭-এ করা হয়েছে।

ইসলামী প্রোপাগান্ডা এতই শক্তিশালী যে, শুধু ইসলাম বিশ্বাসীরাই নয়, জগতের বহু ইসলাম অবিশ্বাসী সাধারণ মানুষ ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক অনুরূপ ধারণাই পোষণ করেন। ইসলাম বিশ্বাসীদের সাথে সুর মিলিয়ে তা তাঁরা তাঁদের বক্তৃতা ও বিবৃতিতে, বেতার-টেলিভিশন টক শো-তে, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধে, খবরের কাগজের নিবন্ধে ও তাঁদের রচিত গ্রন্থে প্রচার করেন।

ইসলাম অবিশ্বাসীদের এই প্রচারকে উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করে ইসলাম-বিশ্বাসীরা তাঁদের বিশ্বাসের সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হন ও অপরকেও নিশ্চিত হওয়ার উপদেশ দান করেন।

কিন্তু

মুহাম্মদের স্বরচিত কুরান ও আদি উৎসে বর্ণিত আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থ ও হাদিস-গ্রন্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা তাঁদের এই বিশ্বাস ও দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখতে পাই।

তাঁদেরই রচিত গ্রন্থের খণ্ড খণ্ড চিত্রের আলোকে আমরা যে-সত্যের সন্ধান পাই, তা হলো - পৃথিবীর অন্যান্য সকল মানুষের সর্বজনসম্মত ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত ও মানবতার মাপকাঠি বিচারে এই সকল মানুষদের কোনোভাবেই অন্ধকারের বাসিন্দা বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার কোনোই অবকাশ নেই!

শুধু তাইই নয়, তুলনামূলক বিচারে তাঁদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড ছিল মুহম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি শালীন, মার্জিত ও মানবিক।

আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, কীরূপে এই কুরাইশ দলপতি আবু-সুফিয়ান বিন হারব বদরের রক্তাক্ত সংঘর্ষ (বদর যুদ্ধ) এড়াতে চেয়েছিলেন। এই অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও ধৈর্যশীল কুরাইশ নেতা তাঁর বাণিজ্য-কাফেলার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে বদর প্রান্তে সমবেত কুরাইশদের কাছে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তা হলো,

"তোমরা এসেছ শুধুমাত্র তোমাদের বাণিজ্য-কাফেলা রক্ষা করতে, তোমাদের লোকজনদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সম্পদ রক্ষা করতে। আল্লাহ তার হেফাজত করেছেন। এখন তোমরা ফিরে যাও।" (পর্ব-৩১)

শুধু বদর যুদ্ধই নয়, ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি, কীরূপে এই কুরাইশ নেতা ওহুদের রক্তাক্ত সংঘর্ষও এড়াতে চেয়েছিলেন। ওহুদ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁদের যাবতীয় দুরবস্থার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী যে ব্যক্তি, শুধু সেই মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ছাড়া মুহাম্মদের মদিনাবাসী অনুসারীদের সাথে রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িত হতে চাননি।

আর অন্যদিকে, এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সিংহনাদ ছিল:

"হত্যা কর, হত্যা কর"!’ (পর্ব-৫৭)

ইতিমধ্যেই আমরা আরও জেনেছি যে, বদর যুদ্ধে একই দিনে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এই কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নিজ পুত্র-সন্তান, শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও শ্যালককে প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় হত্যা ও আর এক সন্তানকে বন্দী করা সত্ত্বেও এই নেতা মক্কায় অবস্থিত মুহাম্মদের কন্যা জয়নাবকে সংক্ষুব্ধ স্বজন-হারা বিক্ষুব্ধ কুরাইশদের রোষানল এড়িয়ে মক্কা থেকে মদিনায় তাঁর পিতার কাছে আসতে সাহায্য করেছিলেন (পর্ব ৩৯)

স্বঘোষিত নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অতীব মহানুভবতার উদাহরণ হিসাবে জগতের প্রায় সকল ইসলাম বিশ্বাসী ও বহু অবিশ্বাসী যে উদাহরণটি জগতের সামনে অতি গর্বের সাথে উদ্ধৃত করেন, তা হলো - মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে মহানবী মুহাম্মদ কোনোরূপ রক্তপাতের আশ্রয় নেন নাই।

কিন্তু যে ইতিহাসটি জগতের প্রায় সকল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের অজানা, তা হলো - মুহাম্মদের এই "রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়ের" নেপথ্যের মহান কারিগর ছিলেন মুহাম্মদের চাচা আল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও এই কুরাইশ দলনেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো "মুহাম্মদের মক্কা বিজয়" পর্বে।

সংক্ষেপে,

৬৩০ সালের পহেলা জানুয়ারি (১০ই রমজান, হিজরি ৮ সাল) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর অনুসারী এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে রওনা হন। তিনি তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যস্থল তাঁর অনুসারীদের কাছেও গোপন রাখেন এবং ঘোষণা দেন যে, তাঁদের অনুসারীদের কেউই যেন মক্কার কুরাইশদের সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ না করে।

তাঁর চাচা আল-আব্বাস পরিবার সমেত "আল-যুহফা" নামক স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার (Migration) সময় পথিমধ্যে মুহাম্মদের সাথে মিলিত হন। এর আগে তিনি মক্কাতেই বসবাস করতেন। [3]

অন্যান্য প্রায় সমস্ত অভিযানের মতই অতর্কিত আক্রমণে শত্রুদের পরাস্ত করার নিমিত্তে অতীব গোপনীয়তায় মুহাম্মদ ও তাঁর ১০,০০০ অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে রাতের অন্ধকারে মক্কার অদূরবর্তী "মার আল-জাহরান" নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মুহাম্মদ অনুসারীরা বুঝতে পারেন, আল্লাহর নবীর লক্ষ্য হলো মক্কা অভিযান; অতর্কিত আক্রমণে মক্কাবাসীদের পরাস্ত করে "মক্কা বিজয়"।

মক্কাবাসীরা মুহাম্মদের এই পরিকল্পনা ও আক্রমণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ৬২৮ সালের মার্চ মাসে (জিল-হজ, হিজরি ৬ সাল) হুদাইবিয়া নামক স্থানে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে মক্কার কুরাইশদের দশ বছরের শান্তি চুক্তি ("হুদাইবিয়ার সন্ধি") স্বাক্ষরিত হয়।

মক্কাবাসী কুরাইশরা ধারনাও করতে পারেননি যে, মুহাম্মদ এই দশ বছরের শান্তি চুক্তি অবলীলায় লঙ্ঘন করে (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা "হুদাইবিয়ার সন্ধি" পর্বে করা হবে) মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মক্কা আক্রমণ করতে পারেন। (মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার আলোকে অবিশ্বাসী কাফেরদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের পর তা অবলীলায় ভঙ্গ করার জন্য "কী কারণ প্রয়োজন" তার আলোচনা পর্ব-৫১ তে করা হয়েছে)। 

তা সত্ত্বেও, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের উপর্যুপরি অন্যায়, অমানবিক, নৃশংস আক্রমণ ও জয়লাভ এবং এই ঘটনার অল্প কিছুদিন আগে বানু খুজা গোত্র (মুহাম্মদের মিত্রপক্ষ) ও বানু বকর গোত্রের (কুরাইশদের মিত্রপক্ষ) সংঘর্ষের কারণে মক্কাবাসী কুরাইশরা অতিরিক্ত সন্ধানী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

মক্কাবাসীর নিরাপত্তার লক্ষ্যে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব রাত্রিবেলা হাকিম বিন হিজাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারকা নামের দুইজন কুরাইশকে সঙ্গে নিয়ে সেইসময় পাহারায় থাকতেন।

যে রাত্রিতে মুহাম্মদ "মার আল-জাহরান" নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন, মুহাম্মদের চাচা আল আব্বাস মক্কার কুরাইশদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অতিশয় উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন যে, মুহাম্মদের এই বিশাল বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে প্রচুর রক্তপাতের কারণ ঘটবে ও কুরাইশদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

তিনি যে কোনো মূল্যে মুহাম্মদের এই অতর্কিত মক্কা আক্রমণের খবরটি কুরাইশদের কাছে পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই রাত্রিতেই তিনি মুহাম্মদের সাদা খচ্চরের (White mule) পিঠে চড়ে শিবির থেকে বের হয়ে আসেন। শিবিরের নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা মুহাম্মদের এই সাদা খচ্চরটি চিনতেন, আল-আব্বাসকেও চিনতেন অনেকে। সে কারণে শিবির থেকে বাইরে যাওয়া ও পুনরায় শিবিরে ফিরে আসার ব্যাপারে তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি।

তাঁর উদ্দেশ্য ছিল: যে কোনোভাবে মক্কার সন্নিকটে "আল-আরাক" নামক এক বৃক্ষ উপত্যকায় (A tree Valley) পৌঁছানো। তাঁর লক্ষ্য ছিল এই যে, তিনি সেখানে গিয়ে মক্কা গমনকারী যে কোনো পথচারীর মাধ্যমে মক্কাবাসীদের কাছে মুহাম্মদের এই আক্রমণের খবরটি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

পথিমধ্যে তিনি আবু সুফিয়ানের গলার শব্দ শুনতে পান। রাতের অন্ধকারে অসংখ্য মশালের আলোয় আলোকিত দূরের সেই স্থানটিতে কারা আছে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করছিলেন। সঙ্গীদের একজন বলেন যে, ঐ স্থানটিতে বানু খুজার লোকজনেরা গোলযোগ করছে। আবু সুফিয়ান জবাবে বলেন যে, তা হতে পারে না; বানু খোজার লোকেরা গরীব, তাদের কাছে এত অধিক মশালের আলো জ্বালানো সম্ভব নয়।

আবু সুফিয়ানের গলার আওয়াজ শুনে আল আব্বাস জিজ্ঞেস করেন, "আবু হানজালা নাকি?" আবু সুফিয়ান জবাবে বলেন, "আবু আল-ফদল নাকি? [4]

আল-আব্বাস মুহাম্মদের পরিকল্পনার খবর আবু সুফিয়ানকে খুলে বলেন। তিনি তাঁকে বলেন যে মুহাম্মদের এই বিশাল বাহিনীর আক্রমণ তাদের সবাইকেই (কুরাইশ) ধ্বংস করে দেবে। তিনি আরও বলেন যে, যদি তিনি তাঁর ও কুরাইশদের জীবন রক্ষা করতে চান, তবে এই মুহূর্তেই তিনি যেন তাঁর সাথে এই খচ্চরের পিঠের ওপর চড়ে বসেন।

কুরাইশদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের জীবন বাজি রেখে আবু সুফিয়ান আল আব্বাসের পেছনে মুহাম্মদের সেই সাদা খচ্চরের ওপর চড়ে বসেন। আল আব্বাস তাঁকে নিয়ে মুহাম্মদের শিবিরে ফিরে আসেন।

শিবিরের ভেতর প্রবেশ করার পর, মুহাম্মদের কক্ষে প্রবেশ করার আগের মুহূর্তে ওমর ইবনে খাত্তাব আবু সুফিয়ানকে চিনে ফেলেন। তিনি তখনই আবু সুফিয়ানের কল্লা কাটার জন্য প্রস্তুত। আল আব্বাস প্রবলভাবে উমরকে বাধা প্রদান করেন ও তাঁকে জানিয়ে দেন যে, আবু সুফিয়ানকে তিনি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি দ্রুত গতিতে আবু সুফিয়ানকে নিয়ে মুহাম্মদের কক্ষে প্রবেশ করেন।

ওমর সেখানেও আবু সুফিয়ানের কল্লা কাটার জন্য প্রস্তুত। আল আব্বাস প্রবলভাবে আবারও বাধা প্রদান করেন এবং মুহাম্মদকে জানিয়ে দেন যে, আবু সুফিয়ানকে তিনি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ওমরের সাথে আল আব্বাসের বচসা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে তা বংশমর্যাদা পর্যন্ত পৌঁছায়। আব্বাস বলেন যে, ওমরের এই ব্যবহারে তিনি মর্মাহত এবং প্রশ্ন রাখেন যে আবু সুফিয়ান যদি আবদ-মানাফ বংশের (মুহাম্মদ/আল-আব্বাসের বংশ) না হয়ে আবদ আ'দি বংশের (ওমরের বংশ) হতো, তবে ওমর কখনোই আবু সুফিয়ানের সাথে এমন ব্যবহার করতে পারতো না।

মুহাম্মদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি আল আব্বাসকে আদেশ করেন যে, তিনি যেন আবু সুফিয়ানকে সেই রাত্রির জন্য ধরে রাখেন এবং পরদিন সকালে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। আল-আব্বাস তাঁর নিজের তাঁবুতেই সেই রাত্রে আবু সুফিয়ানকে নিয়ে রাখেন ও পরদিন প্রত্যুষে তাঁকে মুহাম্মদের কাছে হাজির করেন।

মুহাম্মদ আবু সুফিয়ানের প্রশ্ন রাখেন যে, এখনও কি আবু সুফিয়ানের সন্দেহ আছে যে, তিনিই আল্লাহর নবী? তিনি তাঁকে নবী হিসাবে মেনে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

আবু সুফিয়ান কুরাইশদের নিরাপত্তার ব্যাপারে মুহাম্মদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন। মুহাম্মদ তার কোনো জবাব না দিয়ে আবারও আবু সুফিয়ানকে একই প্রশ্ন করেন ও তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান।

আবু সুফিয়ানের নিরাপত্তার কথা ভেবে আল আব্বাস উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। তিনি আবু সুফিয়ানকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যদি জীবন বাঁচাতে চান, তবে এই মুহূর্তেই যেন তিনি মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মেনে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু সুফিয়ান তরবারির মুখে ইসলাম গ্রহণ করেন।

আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহণের পর আল আব্বাস মুহাম্মদকে এই বলে অনুরোধ করেন যে, আবু সুফিয়ান একজন সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত কুরাইশ নেতা। মুহাম্মদ যেন তাঁকে এমন কিছু দান করেন, যা আবু সুফিয়ান মক্কার কুরাইশদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, তিনি যেন তাঁকে বিফল না করেন। 

জবাবে মুহাম্মদ বলেন, আবু সুফিয়ান যেন মক্কার কুরাইশদের কাছে গিয়ে খবর দেন যে, ঐ ব্যক্তিরা নিরাপদ যারা:

১) আবু সুফিয়ানের বাড়ীতে আশ্রয় নেবে
২) যারা আশ্রয় নেবে কাবা ঘরে, আর
৩) যারা তাদের নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ রেখে তার ভেতরে অবস্থান করবে।

মুহাম্মদ আল আব্বাসকে হুকুম দেন, তাঁর সৈন্যরা এই শিবির থেকে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে যেন আবু সুফিয়ানকে ধরে রাখেন। আল আব্বাস মুহাম্মদের সেই নির্দেশ পালন করেন এবং সৈন্যরা প্রস্থান করার পর আবু সুফিয়ানকে ছেড়ে দেন।

আবু সুফিয়ান দ্রুত গতিতে মক্কায় ফিরে আসেন এবং মক্কার কুরাইশদের সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। ভীত সন্ত্রস্ত কুরাইশরা তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ঐ শর্তগুলো অনুসরণ করেন। [5][6]

এক কথায়,

কুরাইশদের প্রতি আল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও আবু সুফিয়ান বিন হারবের গভীর মমত্ব ও দায়িত্ববোধ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্বা এবং অসীম সাহসিকতায় রক্তপাতহীন মক্কা বিজয় সম্ভব হয়েছিল।

(চলবে) 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৩৮৫-৩৮৭

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক:  আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪১৮-১৪১৯ http://books.google.com/books?id=efOFhaeNhAwC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[3] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, ইবনে হিশামের নোট (নম্বর ৭৯৭)- পৃষ্ঠা ৭৭৩

[4] এই নামগুলোকে আরবে ‘কুনাহ (Kunah)’ নামে অভিহিত করা হয়। সাধারণত: পিতার এ ধরণের নামকরণ তাঁর বড় পুত্রের নামের সাথে মিলিয়ে সম্বোধন করা হয়। আবু সুফিয়ানকে "আবু হানজালা" নামে ও আল আব্বাস কে "আবু আল-ফদল" নামে সম্বোধন করা হতো। হানজালা বদর যুদ্ধে নিহত হয়। মুহাম্মদের কুনাহ ছিল "আবুল কাসেম"।

[5] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৫৪৫-৫৪৮

[6] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক:  আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮,
পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬২৮-১৬৩৪

২২ জানুয়ারী, ২০১৫

দর্পণে দেখুন নিজের মুখ



হুর-লালসাগ্রস্ত ইছলামী জঙ্গিবাদ

লিখেছেন অপ্রিয় ভাষ্য

রক্তের স্রোত দেখতে পারি না, একদম সহ্য হয় না। তাই পাঁঠা বলী, গরু জবাই এগুলো দেখি না বিগত বারো বছর ধরে। একদিন এক বন্ধুর মোবাইলে আইসিসের, বোকা হারামের, ইসলামি জঙ্গি গৌষ্ঠীর হত্যাকাণ্ডের কিছু ছবি দেখে পাথর হয়ে গেলাম! একটি একটি কল্লা কেটে মুণ্ডুহীন লাশগুলো এক জায়গায় স্তূপ করা হচ্ছে। জায়গাটা রক্তে লাল হয়ে আছে। যে মানুষটির (এরা মানুষ?) হাতে তলোয়ার, সে হেসে হেসে একেকটি মানুষ জবাই করছে। আবার কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে একসাথে অনেক মানুষকে গুলি করা হচ্ছে। 

কয়েক দিন আগে বোকা হারাম ২০০০ হাজার মানুষকে স্বাভাবিকভাবে হত্যা করেছে। স্বাভাবিক এজন্য বলছি, এখন প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা তাদের কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়, একদম স্বাভাবিক ব্যাপার। চিন্তা করি, ইসলামি জঙ্গিরা কীভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে? কীভাবে জবাই করে অবলীলায়? তাও আবার হাসতে হাসতে! ইসলামি জঙ্গি - সেও তো একজন মানুষ! তো তার মনমানসিকতা এতো উগ্র কেন? আসলে সমস্যাটা কোন জায়গায়? কিসের জন্য, কিসের লোভে তারা এই ঘৃণ্য বর্বর অসভ্য কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে? 

সমস্যাটা হল লোভ। লোভে পড়ে মানুষ হিংস্র হয়, বর্বর হয়, অমানুষ হয়, বোধবুদ্ধিহীন অবিবেচক হয়। একজন মানুষকে যখন পরকালের জান্নাতের ৭২টি অপুর্ব সুন্দরীর সাথে যৌনবিলাস করার লোভ দেখানো হয়, অফুরন্ত মদের সরাফের লোভ দেখানো হয়, অত্যন্ত বিলাসী জীবন-যাপনের লোভ দেখানো হয়, তখন সেই মানুষ কি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে পারবে? 

এখন জান্নাতে যাওয়ার জন্য ইসলাম মুসলমানদের যে-শিক্ষা দিয়েছে, যা যা করলে মুসলমানদের জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হয়, সেগুলোর কয়েকটি হলো: 

১. নবীর অবমাননা করেছে যে, তাকে হত্যা কর। 

২. যে আল্লা ও ইসলামের ওপর বিশ্বাস আনেনি, তাকে হত্যা কর। 

৩. যে শান্তির ধর্ম ইসলামকে ছেড়ে চলে যায়, তাকে হত্যা কর। 

৪. যে ইসলামের সমালোচনা করেছে, তাকে হত্যা কর।

৫. বিধর্মীদের ইসলামের ছায়াতলে আসার দাওয়াত দাও, গ্রহণ না করলে তাদের হত্যা কর। 

ওপরে উল্লেখিত ইসলামের এ নিয়মগুলো পালন করলে, একজন মুসলিম মনে করে, জান্নাতের টিকেট নিশ্চিত করা গেল। তো গলদটা কোথায়? ইসলামে।

বোকা হারামরা, আইসিসরা, তালেবানরা জান্নাতের আশায় খুন-হত্যা-ধর্ষণ-লুট করে মুহম্মদী (ইসলামি) মতাদর্শের দাসত্ব করছে মাত্র। এদের বর্বরতা থেকে মুক্তির একটা উপায় হল, ইসলামকে এই একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে তোলা, নয়তো অকেজো করে দেয়া। এবং ইসলামকে সন্ত্রাসী আর বর্বরদের ধর্মবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা। ইসলামকে অকেজো করার চাবিকাটি রাষ্ট্রনায়কদের হাতে। তারা যদি ইসলামকে শান্তির ধর্ম না বলতো, ইসলামকে না বানাতো রাষ্ট্রধর্ম, রাষ্ট্রে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা না করতো, আল্লার আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করার কথা না ভাবতো, তাহলে ইসলামের নিয়মগুলো ধীরে ধীরে মৃত (অকেজো) হয়ে যেতো। আর বোকা হারাম, তালেবান, আইসিসরা ইসলামের শান্তি প্রতিষ্টার জন্য মানুষ হত্যা করার দুঃসাহস দেখাতো না!

বোকা হারাম, তালেবান, আইসিসদের বর্বর বানিয়েছে তাদের দেশের রাজনীতিবিদরাই। তারা যদি ইসলামের মতো অসভ্য ভয়ংকর রীতিকে রাষ্ট্রে স্থান না দিত, প্রশ্রয় না দিত, তাহলে আজ আইসিস, বোকা হারাম, তালেবানদের জম্মই হতো না।