২৪ মে, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ৩১

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।


Egyptian Atheist: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামের সঙ্গে মাফিয়ার কোনও তফাত খুঁজে পাই না। মাফিয়াদের দল ত্যাগকারীতেও হত্যা করা হয়। 

NocturnalMission: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এমন কোনও "পরম করুণাময়" আল্যায় আমি বিশ্বাস করতে চাই না, যে কিনা একদল মানুষকে দোজখের আগুনে অনন্তকাল ধরে পোড়াবে।

Muhammad Syed (PBUM): আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আপনার আসমানী-পিতা যতো যৌনতাবাতিকগ্রস্তই হোক না কেন, নারী-খতনা অনৈতিক ও অমানবিক।

EmmyC: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বিজ্ঞান নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছি।

Rizwaan Khan: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাদের জীবন একটিই এবং বিভ্রমের ভেতরে বসবাস করে সেই জীবনটাকে ধ্বংস করে ফেলার কোনও অর্থ হয় না।

LaFouz: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার স্বামী ধর্মান্তরিত হয়ে ইছলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমার বিয়ের আমেরিকান সার্টিফিকেট আমার নিজের দেশে বৈধ নয়।

SentientSelf: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি বিশ্বাস করি, যৌনদাসপ্রথা মানবতার বিরুদ্ধে নিকৃষ্টতম অপরাধ।

Ru: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আবাল জিহাদীদের সঙ্গে বেহেশতে থাকার চেয়ে আইনস্টাইন, এপিকুরাস, টমাস পেইন, মারিয়া কুরির সঙ্গে দোজখে পোড়া শ্রেয়।

Khan: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সম্পর্কে আমার মনে উদয় হওয়া সংশয়ের কারণে আমি বহু রাত কাটিয়েছি আল্যার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এবং আমি এখন এখানে!

Maha: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ১২ বছর আগে আমার পরিবার আমাকে ত্যাজ্য করেছিল আমি যথেষ্ট 'বিশুদ্ধ' ছিলাম না বলে। "আল্যা পতিতাদের ঘৃণা করে।" ধন্যবাদ, মা। ধন্যবাদ, বাবা।

এক জোড়া পোস্টার


এসো, কোরান তিলাওয়াত করি - ০৭

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সাঃ)

১৭.
বললাম, হে আদম, তুমি ও হাওয়া জান্নাতে বাস করো এবং যা ইচ্ছা খাও, যেখানে ইচ্ছা যাও; কিন্তু এই গাছের কাছে যেওনা। অন্যথায় উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শয়তান তাদেরকে সংকল্প থেকে বিচ্যুত করলো। ওরা গন্দম ফল ভক্ষণ করলো। উভয়কেই বের করে দিলাম জান্নাত থেকে। তাদের নির্দেশ দিলাম, তোমরা পরস্পর শত্রুরূপে নেমে পড়ো দুনিয়াতে। (২:৩৫-৩৬) সুরা বাকারা, আয়াত ৩৫-৩৬

- আল্লা তার তৈরি আদম ও হাওয়াকে জান্নাতের যেখানে খুশি যেতে বললেন, যা ইচ্ছা খেতে বললেন। কিন্তু গন্দম-গাছের কাছেও যেতে মানা করলেন। বললেন, ওদিকে গেলে ওরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লার তৈরি আদম ও হাওয়ার ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা আছে, এমন জিনিস আল্লা তৈরি করেছিলেন কেন? তৈরি যদিও করেছিলেন, তা তাদের হাতের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন কেন? বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর এমন যে কোনো জিনিসের গায়ে লেখা থাকে, বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখুন। বয়স্কদের দায়িত্ব বিপজ্জনক জিনিস বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখা। তা না করলে বা করার পরেও যদি কোনো বাচ্চা তা দ্বারা ক্ষতির স্বীকার হয়, তার জন্য বাচ্চা দোষী নয়, দোষী প্রাপ্তবয়স্ক, যে বাচ্চাকে ঠিক মতো দেখাশোনা করেনি বা বিপজ্জনক জিনিসটি বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখেনি।

- আল্লা কোরানে অনেকবার বলেছেন, তিনিই একমাত্র সর্বশক্তিমান। তার ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না। তাহলে তারই তৈরি তুচ্ছ শয়তান কীভাবে আদম ও হাওয়াকে সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারলো? সর্বশক্তিমান আল্লার শক্তি কি তারই তৈরি শয়তানের চেয়ে অনেক কম?

মনে করুন, কেউ একজন একটা খাবার বানালো। তার বাচ্চাকে বললো, খাবারটা খেয়ো না। বাচ্চাটা তবুও খাবারটা একটু চেখে দেখলো। এজন্য কি সেই মানুষটি তার বাচ্চাকে চিরদিনের জন্য বাসা থেকে বের করে দেবে? এমন অসভ্য লোক কি পৃথিবীতে কেউ আছে? আদম-হাওয়া গন্দম খেয়েছিল বলেই কি তাদেরকে জান্নাত থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে? এবং শয়তান এবং আদমকে চিরশত্রু হিসেবে পৃথিবীতে মারামারি কাটাকাটিতে লিপ্ত থাকতে নির্দেশ দিতে হবে? পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম মানুষটিও কি এমন জঘন্য কাজ করতে পারবে?

- আদম ও হাওয়াকে আল্লা বলেছিলেন, গন্দম ফল না খেতে, এমন কি ওই গাছের কাছেও না যেতে। অন্যথায় উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আদম ও হাওয়া গন্দম খাওয়ার পরে তাদের কোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হয়েছিল ব'লে কোরানে লেখা নেই। তার মানে, কোরানে লেখা আল্লার ভবিষ্যৎবাণী ডাহা ভুল প্রমাণিত হয়ে গেছে সেই আদিতেই। কিন্তু তবুও কেন শুধু তুচ্ছ গন্দম খাওয়ার জন্য আল্লা আদম-হাওয়াকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করে দিলেন? কেমন হাস্যকর না! এটা তো অপরাধের পর্যায়েই পড়ে না? ক্ষমতা থাকলেই কি তার ফানি স্বৈর-ব্যবহার করতে হবে?

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৮১

২৩ মে, ২০১৬

একটি এলান

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গতকাল সারারাতব্যাপী ছালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর এবাদতে মগ্ন ছিলাম বলে ধর্মকারী ব্লগের জন্য পোস্ট নাজিল করা সম্ভব হলো না।

ভবদীয়,
ধর্মপচারক

২২ মে, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১৬: চুক্তি ভঙ্গ - দুই!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২৬): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

৬২৮ সালের মার্চ মাসে স্বঘোষিত আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হুদাইবিয়ায় কুরাইশদের সঙ্গে যে-লিখিত সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, সেই চুক্তির প্রতিটি শর্তের প্রতি মুহাম্মদ পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন - এই দাবিটি কী কারণে ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি; মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মক্কা থেকে পালিয়ে আসা উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা নামের এক মহিলাকে তাঁর ভাইদের কাছে ফেরত না পাঠিয়ে মুহাম্মদ কীভাবে এই চুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন; কী অজুহাতে তিনি তা করেছিলেন; তাঁর সেই অজুহাত কী কারণে অভিসন্ধিমূলক ও প্রতারণা; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। নিজ উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাঁর যে 'আল্লাহ' কে সৃষ্টি করেছিলেন (পর্ব: ১৪), তাঁর সেই আল্লাহকে মুহাম্মদ কী রূপে যথেচ্ছ ব্যবহার করতেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হলো তাঁর রচিত এই ৬০:১০-১১ শ্লোক দু'টি।

হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের দেড়-দুই মাস পর, হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (যার শুরু হয়েছিল মে ১১, ৬২৮ সাল) মুহাম্মদ "শুধু” তাঁর হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে কী উদ্দেশ্যে খায়বারের নিরীহ জনগণের ওপর আগ্রাসী হামলা চালিয়েছিলেন, তার আংশিক আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১২৪), এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ‘খায়বার যুদ্ধ’ অধ্যায়ে করা হবে। খায়বার থেকে মদিনায় ফিরে আসার পর মুহাম্মদ রবিউল আওয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আওয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাস (জুলাই ৯, ৬২৮ সাল - মার্চ ১, ৬২৯ সাল) পর্যন্ত মদিনায় অবস্থান করেন। এই সময়টিতে মুহাম্মদ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর খায়বার হামলা ছাড়াও কমপক্ষে আরও সাতটি হামলার আদেশ জারি করেন। অতঃপর হুদাইবিয়া সন্ধি-স্বাক্ষরের ঠিক এক বছর পর, হিজরি ৭ সালের জিলকদ মাসে (যার শুরু হয়েছিল মার্চ ২, ৬২৯ সাল) মুহাম্মদ তাঁর আগের বছরের হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। [1] [2]

সন্ধিচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দিনের এই ওমরা পালন শেষে মদিনায় ফিরে আসার প্রাক্কালে মুহাম্মদ হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি আবারও ভঙ্গ করেন। আল-ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারী সেই ঘটনার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনা: [3] [4]

'ইবনে আব্বাস হইতে > ইকরিমা হইতে > দাউদ বিন আল-হুসায়েন-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে 'ইবনে আবি হাবিবা আমাকে বলেছেন:

বস্তুত যখন আল্লাহর নবী আগমন করেন, তখন উমারা বিনতে হামজা বিন আবদ আল-মুত্তালিব ও তাঁর মাতা সালমা বিনতে উমায়া ছিলেন মক্কায়। আলী নবীর সাথে কথাবার্তা কালে বলে, "কেন আমরা আমাদের চাচার এই এতিম মেয়েটিকে মুশরিকদের মাঝে রেখে যাব?" নবী আলীকে বারণ করেন না, ও তিনি তার কাছে গমন করেন।

যায়েদ বিন হারিথা ছিলেন হামজার সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক (trustee) এবং নবী সকল মুহাজিরদের - বাস্তুত্যাগীদের - ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার কারণে তারা ছিলেন ভ্রাতৃতুল্য। তিনি বলেন, "তার ওপর আমার অধিকার বেশি, সে আমার ভাইয়ের কন্যা।"

যখন জাফর তা শুনতে পান, বলেন "খালা হলো মাতৃতুল্য, তার ওপর আমার অধিকারই বেশি এই কারণে যে, তার খালা আসমা বিনতে উমায়া আমার সাথেই থাকে।"

আলী বলেন, "আমার কাজিন-কে নিয়ে বিতর্ক করো না, কারণ মুশরিকদের মধ্য থেকে যে তাকে নিয়ে এসেছে, সে হলো আমি। আমি তা না করলে তোমরা ওর সাথে অন্তরঙ্গতার সুযোগ পেতে না। তাই আমার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তোমাদের চেয়ে বেশি।"

আল্লাহর নবী বলেন, "তোমাদের মধ্য আমি ফয়সালা করে দেবো! হে যায়েদ, তোমার ব্যাপারটি হলো, তুমি হলে আল্লাহ ও তার নবীর কাছ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাস; হে আলী, তুমি হলে আমার ভাই ও সহচর। হে জাফর, তোমার ব্যাপারটি হলো, তোমার বাইরের চেহারা সাথে আমার মিল আছে ও তোমার স্বভাবের (ভেতরের চেহারার) সাথেও আমার আছে মিল। হে জাফর, তার ওপর তোমার অধিকারই বেশী। তার খালা হলো তোমার স্ত্রী [পর্ব-৩৮]।  একজন নারীর উচিত নয় যে, সে তার খালা বা ফুপুর স্বামীকে বিবাহ করে। অতঃপর আল্লাহর নবী জাফরের পক্ষে তার রায় দেন।

ইবনে ওয়াকিদ বলেছেন, যখন তিনি তার রায় জাফরের পক্ষে দেন, জাফর উঠে দাঁড়ান ও আল্লাহর নবীর চতুর্দিক ঘুরে লাফালাফি করেন। আল্লাহর নবী বলেন, "এটা কী জন্যে, জাফর?" তিনি জবাবে বলেন, "হে আল্লাহর নবী, যখন 'নিগাস' [আবিসিনিয়ার রাজার খেতাব] তাঁর রাজ্যের কোনো লোককে সন্তুষ্ট করে, সেই ব্যক্তিটি  দাঁড়িয়ে যায় ও 'নিগাস' এর চতুর্দিক ঘুরে লাফালাফি করে।" আল্লাহর নবীকে বলা হয়, "তাকে বিবাহ করুন।" তিনি বলেন, "সে হলো আমার পালিত ভাইয়ের (Foster brother) কন্যা, একই ধাই যাকে আমার সাথে লালন-পালান করেছে।"

আল্লাহর নবী সালামা ইবনে আবি সালামার সাথে তার বিবাহ দেন। আল্লাহর নবী প্রায়ই বলতেন, "আমি কি সালামা-কে পুরস্কৃত করেছি?"

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।


ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [4]

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা (৫:৫৯:৫৫৩৩:৪৯:৮৬৩) আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ। আল-বারার (Al-Bara) উদ্ধৃতি সাপেক্ষে এই ঘটনার বর্ণনায় ইমাম বুখারী আবারও উল্লেখ করেছেন যে, হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির শর্ত ছিল, "---মুহাম্মদ অবশ্যই খাপের ভেতরে তরবারি ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র মক্কায় নিয়ে আসবেন না; মক্কার কোনো লোককে অবশ্যই তাঁর সাথে নিয়ে যাবেন না, এমনকি সেই লোকটি যদি তাঁর সাথে যেতেও চায়, তবুও; এবং তাঁর কোনো অনুসারী যদি মক্কায় থেকে যেতে চায়, তিনি তাকে বাধা দেবেন না।"

("----Muhammad should not bring arms into Mecca except sheathed swords, and should not take with him any person of the people of Mecca even if such a person wanted to follow him, and if any of his companions wants to stay in Mecca, he should not forbid him. ----")

>>> আগের বছর মুহাম্মদের যে-অনুসারীরা ওমরা পালনে ব্যর্থ হয়ে হুদাইবিয়া থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার ঠিক এক বছর পর (মার্চ, ৬২৯ সাল) মুহাম্মদ তাঁর সেই অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে এই ওমরা পালনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আল ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, ওমরা পালন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন কালে মুহাম্মদ তাঁর সমবয়সী চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা উমারা বিনতে হামজাকে মক্কা থেকে তুলে নিয়ে এসেছিলেন, "যা ছিল হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন! কারণ, সন্ধির শর্ত ছিল এই যে, মক্কার কোনো লোককে মুহাম্মদ অবশ্যই তাঁর সাথে নিয়ে যাবেন না, এমনকি সেই লোকটি যদি তার সাথে যেতেও চায়, তবুও না!"

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মক্কা থেকে মদিনায় পালিয়ে যাওয়া তাঁর অনুসারীকে শুধু যে তিনি কুরাইশদের কাছে ফেরত দেননি, তাইই নয় (পর্ব: ১২৫), চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে তাঁদের চোখের সামনেই খোদ মক্কা থেকে তাঁদের একজনকে মদিনায় তুলে নিয়ে আসা সত্ত্বেও কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে চাননি। অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের মানসিকতা ছিল তাঁদের এই মানসিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা গত নিরানব্বইটি পর্বে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। 

সত্য হলো:

কুরাইশরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুহাম্মদের সাথে শুধু একটাই যুদ্ধ করেছিলেন, সে যুদ্ধটি হলো "ওহুদ যুদ্ধ (পর্ব: ৫৪-৭১)!" তাঁরা তা কেন করেছিলেন ও সেই যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কী হাল হয়েছিল, তার বিশদ আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। খন্দক যুদ্ধে তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন সত্যি, কিন্তু সেই যুদ্ধের উদ্যোক্তা তাঁরা ছিলেন না। কারা ছিলেন খন্দক যুদ্ধের উদ্যোক্তা ও সেই যুদ্ধেও মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কী হাল হয়েছিল, তার বিশদ আলোচনাও ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ৭৭-৮৬)

কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে সর্বদাই সংঘর্ষ এড়াতে চেয়েছিলেন। কী কারণে তা তাঁরা করেছিলেন, তাও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট!  আর তা হলো, তাঁদের উদার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। শুধুমাত্র ভিন্ন-ধর্মাবম্বলী হওয়ার কারণে কোনো ধর্মগুরু ও তাঁর অনুসারীদের নির্মূল করার মানসিকতার অধিকারী কুরাইশরা কখনোই ছিলেন না। মুহাম্মদ ও তাঁর সহচরদের অনেকেই ছিলেন তাঁদেরই একান্ত পরিবার-পরিজন, নিকট-আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব বা প্রতিবেশী। এই লোকগুলোর প্রতি ছিল তাঁদের মানবিক দুর্বলতা, স্বজনদের প্রতি তাঁদের সহিষ্ণুতা, অনুকম্পা ও মানবতাবোধ। যে-কারণে বদর যুদ্ধে তাঁদের চরম পরাজয় ঘটেছিল (পর্ব: ৩৪)! যে-কারণে ওহুদ যুদ্ধে তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের একান্ত নাগালের মধ্যে পেয়েও তাঁদেরকে নির্মূল করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি (পর্ব: ৬৯); যে-কারণে বারংবার হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করার পরেও তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়াতে চাননি।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কুরাইশরা কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেননি। মুহাম্মদের চরম সাফল্য ('মক্কা বিজয়') ও কুরাইশদের চরম পরাজয়ের কারণ ছিল এখানেই। হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির সাথে এর কোনোই সম্পর্ক নেই।

যিশুশিক্ষা

বিগ ব্যাং সম্পর্কে জাকির নায়েকের মিথ্যাচার (নাকি অজ্ঞতা?) - ২

লিখেছেন মানবিক মানব


এবার কোরআনের সুরা ফসিলতের আরেকটি আয়াত (নম্বর ১২) পেশ করছি:
অতপর তিনি আকাশ মন্ডলীকে দু দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন।
এই আয়াতটি তিনি এই লেকচারে উল্লেখ করেননি। এর কারণ বিগ ব্যাং থিওরিতে এই ধরনের উদ্ভট কথা নেই। তা বিগ ব্যাং থিওরি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাহলে এখন জাকির নায়ের সম্পর্কে কী বলবো? তিনি কি বিগ ব্যাং সম্পর্কে ভালো ভাবে জানেননি? এবং তিনি না জেনেই তার অজ্ঞানতা থেকেই এই কথাগুলো বলেছেন? নাকি তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন?... আমার মনে হয় না, তিনি অজ্ঞতা থেকে এই কথা গুলো বলেছেন।

আবার মুসলমানদেরকে দেখে অবাক হই, যখন দেখি তারা না জেনে জাকির নায়েকের কথাগুলো অন্ধভাবে বিশ্বাস করছেন। আবার বিভিন্ন জায়গায় সেই কথাগুলি বারবার বলছেনও। আশ্চর্য হই তখন, যখন ভাবি এই মুসলমানদের কি একবারের জন্যও জাকির নায়েক ঠিক বলেছেন কি না, সে ব্যাপারে জানতে ইচ্ছা হয় না? জাকির নায়েকের মত লোকগুলো বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে আর সেই মানুষগুলোও সুন্দরভাবে বিভ্রান্ত হবে! একবারের জন্যও তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখবে না! আর এই অজ্ঞতার ওপরই মিথ্যা ধর্মগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, শুধু অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে নয়, আসুন, আমরা সত্য জানি। সত্যের সাথে জ্ঞানের আলোকে আমাদের জীবনকে আলোকিত করি!

আমার এই লেখাটি পড়ে যে সব মুসলমান ভাই প্রতিবাদ করতে আসবেন, তাদেরকে আমি বিনীত অনুরোধ করবো বিগ ব্যাং সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে নিতে অথবা স্টিফেন হকিংসের "কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস" ( A brief history of time) বইটি পড়ে নিতে। আর যাঁরা এইসব ঝামেলায় যেতে চান না, তাদের জন্য আমি আমার যথাসম্ভব সহজভাবে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বলছি যে, কেন বিগ ব্যাং-এর আগে গ্যাস থাকা সম্ভব নয় এবং গ্যাস থেকে কেন বিগ ব্যাং হওয়া সম্ভব নয়।

প্রত্যেকটা পদার্থের একটা নির্দিষ্ট পরিমান আয়তন এবং ভর আছে। গ্যাসীয় পদার্থেরও একটা নির্দিষ্ট আয়তন ও ভর থাকে। একটা গ্যাসীয় কণারও খুব ক্ষুদ্র কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়তন এবং ভর আছে। এখন ধরি, বিগ ব্যাং-এর সময় মহাবিশ্বের সমস্ত বায়বীয় অর্থাৎ গ্যাসীয় পদার্থ এক সাথে মিলিত হবে, ফলে গ্যাসীয় কণাগুলোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়তন মিলে এই মহাবিশ্বের মোট পদার্থের আয়তনের সমান আয়তন হবে। ফলে তারা ঠিক এক বিন্দুতে মিলিত হতে পারবে না। কারণ বাইরের পদার্থগুলো ভেতরের দিকে ঢুকতে পারবে না আগে জমা হওয়া গ্যাসের জন্য। এবং এই গ্যাসীয় পদার্থগুলোর আয়তন হবে অনেক অনেক অনেক বড় আয়তনের। ফলে বিগ ব্যাং-এর থিওরি অনুযায়ী মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত হতে পারবে না।

আবার গ্যাস জাতীয় পদার্থগুলো যদি এক সাথে মিলিত হয়, তবে তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভর মিলে হবে মহাবিশ্বের মোট ভরের সমান, যেটা হবে অকল্পনীয় ভর। এর ফলে এর মহাকর্ষীয় বল হবে অকল্পনীয় বেশি। যেটা কৃষ্ণ গহবরের মহাকর্ষীয় বলের তুলনায় অনেক অনেক অনেক বেশি। কারণ বস্তুর ভর বৃদ্ধির ফলে এর মহাকর্ষীয় বল বৃদ্ধি পায়। ফলে এই অবস্থায় এক বৃহৎ কৃষ্ণ গহবরের (ব্লাক হোল) সৃষ্টি হবে। ফলে বিগ ব্যাং আর সংঘটিত হবে না। আর হলেও সেই অকল্পনীয় মহাকর্ষীয় বল উপেক্ষা করে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। সেই কৃষ্ণ গহবরের অকল্পনীয় মহাকর্ষীয় টানে মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান সেই বৃহৎ কৃষ্ণ গহবরের ভেতরেই থেকে যাবে। কিন্তু মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান শক্তি (এনার্জি) হিসেবে ছিল বলেই বিগ ব্যাং সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং বিগ ব্যাং-এর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান গ্যাসীয় অবস্থায় ছিল - কথাটা ডাহা মিথ্যা ও একেবারেই অসম্ভব।

বিভিন্ন মুসলমান ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ বলে থাকে যে, কোরান আল্লাহর কাছ থেকে আবির্ভূত হয়েছে বলে এতে একটাও ভুল নেই এবং যদি এতে একটাও ভুল পাওয়া যায়, তবে এই কুরআন মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বিগ ব্যাং থিওরি কোরানে আছে বলে যে-দাবি তারা করেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা। সুতরাং এই কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে আসেনি। এটা মানুষের রচনা।

ইছলামী শিবলিঙ্গ

২১ মে, ২০১৬

কোরআন আসলে কার বাণী? - ১

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

ইসলামীয় ইতিহাস মতে, ৬১০-৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ নামক এক আরবীয়র নিকট একটি ঐশ্বরিক ধর্মগ্রন্থ কোরআন ওহী আকারে নাযিল হয়েছিল। ইসলামী পণ্ডিতগণ বলেন, জিবরাঈল নামক এক ফেরেশতা মুহাম্মদকে এই কোরআন শিক্ষা দিয়েছিল। মুহাম্মদের সাথে জিবরাঈলের প্রথম সাক্ষাতের পুরো বর্ণনা বুখারী হাদিস গ্রন্থের খণ্ড ১ , গ্রন্থ ১-এর ৩ নাম্বার হাদিসটিতে বর্ণিত আছে।

আমার এই লেখাটির মুল বিষয়বস্তু হল, ওপরে বর্ণিত ইসলামীয় এই চিরাচরিত রূপকে নিয়ে প্রশ্ন করা। এই লেখাটির মাধ্যমে আমি কিছু দাবি করব, যা মূলত নিম্নরুপ:
১. বর্তমানের লিখিত কোরআন অরিজিনাল কিংবা আল্লাহর কোরআন নয়, বরং কোরানে কথিত জিবরাঈল এবং অন্যান্য লেখকের নিজস্ব বাণী।
২. মূল কোরআন আরবি ব্যতিত অন্য ভাষায় লেখা ছিল।
৩. ওহী নিয়ে আসা জিবরাঈল কোনো ফেরেশতা নয়, বরং অন্য কিছু।
পয়েন্টগুলো সরাসরি আলোচনা করার আগে পাঠকদের আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে নিতে চাই । আমার এই লেখা শুধুমাত্র কোরআনের আয়াতগুলোর ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। হাদিস কিংবা অন্যান্য সহায়ক গ্রন্থকে আমি একেবারেই উপেক্ষা করে গেছি। তার কারণ হল: কোরআনকে আমি কোরাআনের দৃষ্টি থেকে দেখতে চেয়েছি। কোরআন নিয়ে কোরআনের পণ্ডিতগণ যেসব দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন, আমার এই লেখাটি সেসবের অনেক কিছুকেই চ্যালেঞ্জ করবে। প্রথমেই বর্তমান কোরআন এবং মোহাম্মদ নিয়ে কিছু বলি।

কোরআন নিয়ে বর্তমান কোরআনটিতে বলা আছে, এটা জগৎসমুহের প্রতিপালক আল্লাহ হতে জীবরাঈলের মাধ্যমে (কোরান ২৬:১৯৩) আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে (কোরান ১২:২, কোরান ৪৩:৩) শবে কদরের রাতে (কোরান ৯৭:১), যার কথা এর আগের কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে (কোরান ২৬:১৯৬) যা এগুলোকে সত্যায়ন দান করে (কোরান ৩:৩, কোরান ২৯:৩০) এবং এটা বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ (কোরান ১৬:১০২, কোরান ৬৮:৫২) ও বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত এবং রহমত স্বরূপ (কোরান ৩:২০); এই কোরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্যে ছিল মক্কা এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে বসবাসকারী সম্প্রদায়কে বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক করা (কোরান ৪২:৭)।

যে ব্যক্তিকে (মুহাম্মদকে) এই কোরআন দেয়া হয়েছে, তাকে নিয়ে কোরআন থেকে যতটুকু জানা যায়, তার মধ্যে একটি হল - তিনি ছিলেন একজন নিঃস্ব (কোরান ৯৩:৮), এতিম (কোরান ৯৩:৬); কোরআন অনুসারে মুহাম্মদ এর আগে কখনো কোনো প্রকার ধর্মগ্রন্থ লেখেননি (কোরান ২৯:৪৮), এই কোরআন সম্বন্ধেও তিনি ছিলেন অজ্ঞ (কোরান ৪:১১৩, ‌কোরান ১২:২), এবং ইসলামীয় ঈমান নিয়েও তাঁর কোনো জ্ঞান ছিল না (কোরান ৪২:৫২); তবে এই কোরআন মুহাম্মদকে কোনো কাগজে বা অন্য কিছুতে লিখে দেয়া হয়নি (কোরান ৬:৭), বরং জিবরাঈল তাকে হৃদয় দিয়ে মুখস্থ করতে বলেছিল (কোরান ২৬:১৯৪)।

ধর্মগ্রন্থ এবং পুরুষ রাসুল পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সতর্ক করা মূলত ইসলামী ধর্মতত্ত্বের একটা চলমান প্রক্রিয়া (কোরান ১৬:৪৩); এর আগেও মুসা, ঈসা, ঈব্রাহিম নামক নবীসহ আরো অনেক নবীদের এমন ঐশ্বরিক গ্রন্থ দেয়া হয়েছিল (কোরান ৪:১৬৩, কোরান ৭:৭২);
কিন্তু এর পূর্বে মক্কা এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে কোনো ঐশ্বরিক ধর্মগ্রন্থ দেয়া হয়নি এবং এদের সতর্ক করতে কোনো নবীও আসেননি (কোরান ৩২:৩); যে সম্প্রদায় বা জাতিকে কোনো সতর্ককারী এবং কোনো ধর্মগ্রন্থ দেয়া হয় না, সে জাতিকে ইসলামে মূলত ‘উম্মি’ বলে ডাকা হয়। কোরআনের অনেক জায়গাতেই (ওপরে দেখে নিন) বলা হয়েছে, মুহাম্মদ কোরআনের আগে অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ পড়েননি বা লেখেননি এবং যে এলাকায় তিনি বড় হয়েছেন, এই এলাকায় এর আগে কোনো নবী আসেননি, সুতরাং মুহাম্মদকে (কোরান ৭:১৫৭) এবং অন্যান্য মক্কাবাসীদের (কোরান ২:৭৮) কোরআনে উম্মি হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে ।

মুহাম্মদের হঠাৎ করে নবী হয়ে ওঠা এবং ইসলাম প্রচার করাটাকে ততকালীন মক্কাবাসীরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি (কোরান ৩৮:৮); তারা মুহাম্মদকে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল নয় বলে তাকে প্রত্যাখ্যান করে (কোরান ১৩:৪৩) এবং পূর্বপুরুষদের মূর্তিপূজার ঐতিহ্য ছেড়ে ইসলামের মত একটা একেশ্বরবাদী ধর্ম পালনের আহ্বান শুনে মুহাম্মদকে একজন বিদ্রূপের পাত্র (কোরান ২১:৩৬) এবং পাগল বলেই সম্বোধন করতে থাকে (কোরান ১৫:৬); ওদের ভাষায় "আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের ইলাহগণকে বর্জন করিব?"(কোরান ৩৭:৩৬); এছাড়াও তাদের দাবি ছিল, অন্য ভাষার এক লোক (কোরান ১৬:১০৩) এবং জ্বীন সম্প্রদায়ের লোকেরা (কোরান ২৫:৪) তাকে কোরআনের শিক্ষা দিচ্ছে এবং কোরআনকে তারা মুহাম্মদের রচনা বলেই গণ্য করেছিল (কোরান ১০:১৫,৩৮; কোরান ১১:৩৫)।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৫১

বাংলাদেশী হিন্দু

লিখেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

'নওদাবস' গ্রামের সীমান্তে আমাদের বাড়ি। বাড়ির দক্ষিণ দিকে বিশাল দোলা। উত্তরে লোকালয়, যেখানে মানুষ থাকে। যখন আমার ১৩ বছর, তখন পুরো গ্রাম তো দূর, আমাদের পাড়াটিও ঘুরেফিরে দেখিনি। সুবাসদা', রবীন্দ্র কাকা, রাধামোহন দাদু, রমনী কাকা, হরিবোলা কাকা, মন্টু দাদু, কার্তিকের বাপ জেঠু, দুলালের বাপ জেঠু প্রমুুখ কতকজনের বাড়িতে যাওয়া আসা ছিলো আমার। মস্ত বড় পৃথিবীর এই অতি ক্ষুদ্র অংশটুকুই ছিলো আমার দেশ। তবুও বাড়ির লোকজন ছাড়া আমি কারো সাথে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারতাম না। ওরাই আমার সাথে একটা সূক্ষ্ম বিভাজন রেখে দিতো। 

আমি বড় হতে থাকি ফসলের মাঠে, মেঠো রাস্তায়, বাড়িতে, উঠোনে, স্কুলে। সুবিস্তৃত দোলা'র মধ্যদিয়ে প্রতিদিন স্কুল যাওয়া-আসা করে। আমার আপন মনে হতো স্কুলগামী রাস্তাটাকে; মাঠের মেরুদণ্ড হয়ে যে'টি চলে গেছে পার্শ্ববর্তী গ্রামের পথে, যে-স্কুলটির সহকারী-শিক্ষক আমার বাবা। আর আমার মা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। গ্রামে চাকুরীজীবী এমন পরিবার নেই বললেই চলে। এ গ্রাম জুড়ে কেবল বাবার বন্ধু সিরাজ আর তার বউ মাদ্রাসায় চাকরি করে। স্বভাবতই এমন পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের মধ্যে একটা দম্ভ থাকতো। এ কারণেই গ্রামের আর-সবার সাথে আমার একটা দূরত্ব থেকেই যেতো। 

কিন্তু মাঝেমাঝে গ্রামের গরীব মানুষদের জীবনযাপন দেখে অপরাধবোধ হতো। শৈশবে আমার খেলার সাথী মিলন যখন ক্ষুধার্ত পেটে আমার সাথে খেলত, তখন লুকিয়ে তাকে এক বাটি মুড়ি এনে দিতাম। লুকিয়ে লুকিয়ে রমনী কাকার মা'কে একমুঠো পান দিয়ে আসতাম। বন্যার সময় মাছ ধরতাম, বেশি মাছ পেলে বৃদ্ধ প্রিয়নাথ পিসে মশাই'র খলুইয়ে কিছু ঢেলে দিতাম। এইসব সাধারণ শিক্ষা আমি বাবার কাছেই শিখেছি। শৈশব থেকে বাবার কাছে যতকিছু শিখেছি, ততটুকু মানুষ হবার জন্য যথেষ্ট। বাবার রক্ত যে আমার শরীরে বইছে, এটাও একটা কারণ।

কিন্তু আমার বয়সের সাথে আমাদের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক ধীরেধীরে স্কুলগামী মেঠো রাস্তাটার মত ফাঁকা হয়ে গেলো। ১৪ বছর বয়সে এসে বাবাকে "বাবা" ডাকতেও সংকোচবোধ হতো। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি বাবাকে পছন্দ করি না। আমার জীবনে বাবার কোনো দরকার নেই। তবুও কেউ যেচে বাবার প্রসংশা করলে প্রচণ্ড ভালো লাগত, আবার কেউ নিন্দা করে সামান্য কিছু বললেও প্রচণ্ড মন খারাপ হতো। 

একবার আমাদের স্কুলের পার্শ্বস্থ মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট স্যারের দ্বিতীয় বিয়ে উপলক্ষে রং খেলায় মেতেছিলো স্কুল আর মাদ্রাসার ছাত্ররা মিলে। সেদিন বাবা স্কুলে আসতে দেরি করছিলো। ছাত্ররাও প্ল্যান করে রেখেছিলো, রুদ্র স্যার আসবার সাথেই রং ছুঁড়ে দেবে। আমি তাদের পরিকল্পনা শুনে ফেলি, এবং স্কুলের রাস্তায় অপেক্ষা করি, যেন বাবা আসবার আগেই সবকিছু বলে দিতে পারি এবং তাঁর গায়ে কেউ রং দিতে না পারে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আমি সেদিন বাবাকে রং থেকে বাঁচাতে পারিনি। পরে অবশ্য তাঁর পরিপাটি শার্টের বেহাল দশা দেখে হেসেছিলাম।

সেবার আমার বাবা রুদ্র মাস্টার আমাদের হেডস্যারের প্ররোচনায় পড়ে রাজনীতিতে যোগ দিলো। হেডস্যার প্রায়দিনই তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কারবারে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমি তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নামও জানতাম না। মা আমাকে টিপ্পনি করে বলত, "তোর বাপ তো নেতা!" আমি চুপচাপ থাকতাম, ভাবতাম, সত্যি বোধহয় আমার বাবা ক্ষমতাবান নেতা। মনে খুব প্রশান্তি নিয়ে নানান চিন্তা করতাম। বাবা আমার নায়ক।

এভাবেই যাচ্ছিলো দিনকাল।

একরাতে আমার ঘুম আসছিলো না। চুপচাপ শুয়ে আবোল-তাবোল ভাবছিলাম। বাবা রাত ১১ টা'র দিকে বাড়ি এলো। এসে সোজা বিছানায় শুয়ে রইলো। আমাদের বিশ-হাত লম্বা একটা টিনের ঘর ছিলো। মাঝখানে পার্টিশন। বাবা-মা একটা ঘরে থাকত, আমি আরেকটা ঘরে। ও ঘরের কথা স্পষ্ট শোনা যায়। আমি চুপচাপ শুয়ে থেকে শুনছি:

মা জিজ্ঞেস করছে, "কী হয়েছে তোমার?"

বাবা কথা বলছে না।

মায়ের জোরাজুরিতে বাবা এবার মুখ খুললো। বলল, "সিরাজ এতো খারাপ মানুষ, আগে বুঝতে পারিনি! ছোটোবেলা থেকে একসাথে চলাচল করে আসছি, অথচ ছোট্ট একটা কারণে সে আমাকে এতো বড় ভেজালে ফেলবে, তা স্বপ্নেও আসেনি। সিরাজ এতো জঘন্য কাজ করতে পারলো!"

মা বললো, "কী হয়েছে, বলবে তো!"

বুদ্ধাং সারানাং গাঞ্জামি

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা। এই তিথিতে বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
সিদ্ধির একটি অর্থ কিন্তু গাঁজা। খিয়াল কৈরা!

গত বছর এই দিনে লেখা ওপরের কথাগুলোয় কিছু পুতুপুতু বুদ্ধপ্রেমী নাস্তিকও বেতা পেয়েছিলেন দিলে। ধারণা করা যায়, বুদ্ধের বর্ণিত শ্রুতিসুখকর ও আপাত আনন্দানুভূতিদায়ী কিন্তু ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ভকিচকি মার্কা বাস্তবতাসংশ্লেষহীন কিছু বাণীর অন্ধ মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন অনেকেই। অতএব একটাই চাওয়া:

জগতের সকল প্রাণী বিভ্রমমুক্ত হোক।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ইছলাম ধর্মের মতো বৌদ্ধধর্মেরও চন্দ্রবাতিকগ্রস্ততা আছে। বুদ্ধের জন্ম এই পূর্ণিমাতে, তারপর অন্য এক পূর্ণিমার রাতে স্ত্রী-পরিবারকে গোপনে ত্যাগ করে কাপুরুষের মতো ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন তিনি (যদিও ঘৃণার্হ এই ঘটনার ভেতরেও মাহাত্ম্য ও মহিমা খুঁজে পায় বুদ্ধপ্রেমীরা - অবশ্য প্রেম সব সময়ই অন্ধ), অতঃপর আবার এই পূর্ণিমাতেই তিনি সিদ্ধিলাভ করেন এবং তাঁর মুত্যুও এই পূর্ণিমাতেই। কী তাজ্জিব কাণ্ড! পুরাই অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার! 

অনিবার্যভাবে আবারও মনে পড়ে যায়: সিদ্ধির একটি অর্থ গাঁজা।

২০ মে, ২০১৬

মুসলিম জাতি

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-এর “মানুষ জাতি” কবিতার প্যারোডি করেছেন নাস্তিকথন

জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মুসলিম জাতি;
মুহম্মদের শিক্ষা এবং
হাদিস-কুরান মোদের সাথী।
গণিমত, দাসী, সহবত খেলা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
অযুমাখা হাতে অস্ত্রটি তুলি
জেহাদের তরে সমান যুঝি।
কাফির খুঁজি ও কল্লা কাটি গো,
সালাতে সবাই কাতারে দাঁড়া,
মডারেট সহি বাহিরে কেবল
ঈমানদণ্ড সবারই খাড়া।
বাহিরে লেবাস, দাড়িতে উকুন
ভিতরের রং ঈমানে ফোটে,
সুন্নি ও শিয়া, সহি, মডারেট
কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লোটে।

জেহাদের কালে ভেতরে লুকোনো
প্রকৃত রূপটি প্রকট হয়,
কাফির কুপিয়ে হত্যার পরে
জগৎ বানাবো মুমিনময়।

আমাদের আত্মীয়েরা – ৯৪

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

পাঠিয়েছেন সুনন্দ পাত্র

নবী সমীপে খোলা চিঠি

লিখেছেন পুতুল হক

মাননীয় নবী,

আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানবেন। মুসলিম পিতামাতার ঘরে মুসলমান হয়ে জন্মে আমি বর্তমানে একজন নাস্তিক। আমি জানি, আপনার অভিশাপ এবং আপনার সাঙ্গপাঙ্গদের নাঙ্গা তলোয়ারের নিচে আমাকে আমৃত্যু বাস করতে হবে। তবুও আমি আমাকে শ্রদ্ধা জানাই, কারণ আপনি আমার চাইতে প্রায় পনেরশ বছরের সিনিয়র এবং গুরুজনকে মান্য করা আমাদের এ অঞ্চলের রীতি। তাছাড়াও আপনি একজন মানুষ এবং দোষে-গুণে মিলিয়ে একজন মানুষ। আপনার নব্যুয়তির উদ্ভব ছিল সময়ের দাবি।

হাসবানে না, শ্রদ্ধেয় নবী, আমি আপনাকে সত্যিকারে ভালোবাসি; টিটকারি মারছি না। আপনার জীবনী পড়ে এবং আপনার চালু করা কোরআন পড়ে আমার কেবলই মনে হত, আপনার জীবনে ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতার বড়ই অভাব ছিলো। আরবের নীরস মরুভূমির চাইতেও শুষ্ক ছিলো আপনার জীবন। দুঃখের তরবারিতে হৃদয় আপনার ফালাফালা। আমি আপনাকে ভালোবাসি, নবী, কোনো খাদ নেই তাতে। শুধু আমি নই, আমার মত অসংখ নাস্তিক আপনাকে ভালোবাসে, কারণ আমাদের কাছে ভালোবাসা সব চাইতে বড় ধর্ম। আপনার উম্মতদের চাপাতির কোপে আমাদের ধড় আলাদা হয়, তাজা রক্তের স্রোতে পথঘাট ভাসে, তবু মানুষের জন্য আমাদের ভালোবাসা ফুরায় না। 

পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে আমার খুব সামান্য ধারণা আছে, আপনার, বোধহয়, তাও নেই। এই বিজ্ঞান বলে, পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুর একে অপরের ওপর একটি টান কাজ করে। আমার কী মনে হয়, জানেন? এর নাম ভালোবাসা। না না, সিনেমার নাম নয় - বাস্তবে এর নাম ভালোবাসা। এই ভালোবাসা আপনার জন্যেও আছে।

ভূমিকাতেই পত্র আমার দীর্ঘ হয়ে গেল। আসলে আমার বক্তব্য খুব সরল-সোজা এবং সংক্ষিপ্ত। আপনার উম্মতদের ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা আপনাকে ইচ্ছেমত ভাঙে, গড়ে। সৌদি প্রেসের নাম - লাওহে মাহফুজ। ইসলাম নামের যে-চারা গাছটি আপনি রোপণ করেছিলেন, তা এখন ফলবান বিশাল মহীরুহ। এর ফল ভক্ষণ করে কোটি কোটি মানুষ এখন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। আপনার কিছু করার নেই এখন। একজন মৃত মানুষের কিছু করার ক্ষমতা থাকে না। এই বিষাক্রান্তরা যতই আমাদের আঘাত করুক, আমাদের রক্ত পান করুক, আমরা তাদের রোগমুক্তির জন্য চেষ্টা করে যাবো। আমরা তাদের বোঝাবো, মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসাকে যে-ধর্ম খাটো করে, তা কখনো মানুষের ধর্ম হতে পারে না।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৩৮

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে 

বানিয়েছেন রঙ্গিলা রসুল

১৯ মে, ২০১৬

আমার মেরাজ গমন

লিখেছেন তসলিমা আক্তার লিমা

গতকাল রাতে আমি মেরাজ গমন করেছি। নবীর কথাই সঠিক, নারীদের অধিকাংশকেই দেখলাম জাহান্নামি আর পুরুষদের অধিকাংশই জান্নাতি! তো জান্নাত-জাহান্নম সফর করার পর অাল্লাহর দরবারে তশরিফ নিলাম। আল্লাহকে বল্লাম, "ইয়াল্লা! তুমি পৃথিবীতে কোনো নারী-নবী প্রেরণ করোনি কেন? তুমি কি দেখছো না, নারীদের অধিকাংশ জাহান্নামি হয়ে গেছে? আমি নারীদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে চাই। এজন্য পৃথিবীতে আমাকে নারী নবী হিসাবে প্রেরণ করুন।"

আল্লাহ বললেন, "খামোশ নির্লজ্জ বেহায়া নারী, আমি পৃথিবীতে কোনো নারী-নবী প্রেরণ করিনি আর কখনো করবোও না।

আমি: ইয়াল্লা! আপনি কেন শুধু পুরুষদেরকে নবী-রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন?

আল্লাহ: কারণ আমি পুরুষদেরকে ভালোবাসি আর তারাও আমাকে ভালোবাসে।

আমি: ইয়াল্লা! নারীরাও তো আপনাকে ভালোবাসে।

আল্লাহ: খামোশ গোস্থাক! আমি কোনো নারীর ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারবো না, আর কোনো নারীকেও আমি ভালোবাসতে পারবো না। এ জন্যই নারীদের অধিকাংশকেই আমি করেছি জাহান্নামি।

আমি: ইয়াল্লা! আপনি কি গে (সমকামী) নাকি?

আল্লাহ: ইয়ে... মানে... আসলে না, মানে ইয়ে আসলে...

আমি: হয়েছে হয়েছে, আর বলতে হবে না। বুঝতে পেরেছি, আপনি গে।

আল্লাহ: (রেগে গিয়ে) ভালো হইছে, বুঝতে পারছো, আমি গে! তোমগোরে (নারীদেরকে) জাহান্নমে ভরমু আর হগ্গল বেডাগোরে লইয়্যা আমি জান্নাতে মৌজ মস্তি করমু। এবার গিয়া মারা খাও... যা ভাগ।

আমি আল্লাহর আরশের এক কোণায় লুকিয়ে গেলাম, আল্লাহ এখনো সিসি ক্যামেরা আবিষ্কার করতে পারেনি, তাই আমার লুকিয়ে থাকতে তেমন বেগ পেতে হল না। হঠাৎ দেখি, নবী মুহাম্মদ আল্লাহর আরশে ঢুকছে। তারপর দুইজনে মিলে শরাবাং তাহুরা পান করার পর কাপড় খুলে ফেলল, তারপর নবী আর আল্লাহ মিলে যা করতে শুরু করলো... নাউজুবিল্লাহ! আমি এই সুযোগে নবুওয়তের দরজায় ঢুকে চুরি করে নবুওয়ত নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছি। অতঃপর গতকাল রাতে আমার উপর একটা সূরা অবতীর্ণ হয়। তোমরা ব্যাগডি এখন আমার প্রতি ঈমান আনো।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৩৯

আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন কত দিনে

লিখেছেন বর্ণ সরকার

আল্লাহ এই মহাবিশ্ব কত দিনে সৃষ্টি করেছেন, তা নিয়ে একটু আলোচনা করি।
১. নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ? (কোরান ১০:৩)
২. তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু! (কোরান ১১:৭)
৩. নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।(কোরান ৭:৫৪)
ওপরের ১, ২ও ৩ নং আয়াত থেকে আল্লাহ আংশিক অস্বচ্ছতার সাথে প্রমাণ করেছেন, সত্যিই তিনি এই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলসহ সমগ্র মহাবিশ্ব ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। আসুন, এবার নিচের আয়াতটা দেখি:
৪. আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। (কোরান ৫০:৩৮)
আগের আয়াতগুলিতে ভূমণ্ডল ও মভোমণ্ডল তৈরি করেছেন ৬ দিনে। তবে এই ৪ নং আয়াতে বলছেন, ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের মাঝে যা আছে, তা তৈরি করেছেন ৬ দিনে। তাহলে ওপরের আয়াতগুলি থেকে কি এই এই প্রমাণ হয় না যে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল তৈরিতে ৬ দিন এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের মাঝের অংশ তৈরিতে ৬ দিন - সর্বমোট ১২ দিনে লেগেছে? এবার লক্ষ্য করুন নিচের আয়াতগুলিতে কয় দিনের কথা বলেছেন:
৫. বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা (কোরান ৪১:৯) 
৬. তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। (কোরান ৪১:১০) 
৭. অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।(কোরান ৪১:১১)
৮. অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। (কোরান ৪১:১২) 
৫ নং আয়াতে ২ দিন, ৬ নং আয়াতে ৪ দিন, ৭ নং আয়াতে ২ দিন অর্থাৎ ২ + ৪ + ২ = ৮ দিন। খাইছে! আগে কইল ১২ দিনে, এখন আবার ৮ দিন হইল ক্যান? আল্লাহ কি হিসাবে কোথাও ফাঁকি দিছে, নাকি হিসাবই জানে না?

অনেকেই আবার আল্লাহর বা নবীর অলৌকিকতাকে প্রমাণের জন্য বলতে পারেন, আল্লাহর দিন ও আমাদের দিনের হিসেব এক নয়। তাদেরর জন্য নিচের আয়াতই মনে হয় যথেষ্ট। দেখুন:
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। (কোরান ৯:৩৬-৩৭)
এই দুই আয়াত দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে, আমাদের দিন ও আল্লাহর দিন একই, যা সৃষ্টির শুরু থেকেই চলে আসছে বলে আল্লাহ স্বীকার করেছেন।... তারপরেও কথা থেকেই যায়। দেখুন:
তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু! (কোরান ১১:৭)
তাহলে আল্লাহ এই বিশ্ব তৈরির আগে তার আরশ পানির উপরে কীভাবে থাকল? সেই পানি তৈরি করেছিল কে, আর পানিই বা ছিল কোথায়? এখন আপনারাই বলুন, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করতে আল্লাহর সত্যি সত্যিই কত দিন লেগেছে?

ইছলামের পাঁচ স্তম্ভ

১৮ মে, ২০১৬

মুছলিমদের ইহুদিবিদ্বেষের গোপন কারণমূহ

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

পৃথিবীর অনেক সমীক্ষার রিপোর্টে একটা বিষয় বারে বারে উঠে এসেছে - ইহুদি/ইসরাইল বিদ্বেষ, যার কেন্দ্রবিন্দু হলো আরবীয় মুছলিম জাহান। মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ দিই। যারা পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) সম্পর্কে সচেতন, তারা ঘটি-বাঙালের ঠাণ্ডা যুদ্ধ বিষয়ে জানেন। বাঙাল অর্থাৎ বাংলাদেশি বাঙালি হিন্দুরা, যারা ভারতে শরণার্থী হয়ে এসেছেন, তাঁরাই এখন ঘটি অর্থাৎ ভারতীয় বাঙালি হিন্দুদের টেক্কা শুধু নয়, কয়েকশো যোজন দূরে ফেলে দিয়েছেন। এতে দোষের কিছু নেই, কারণ ঘটিদের ঘটিবাটিতে কোনওদিন টান পড়েনি, তাই তাঁরা ডারউইন সাহেবের 'Struggle for Existence' মতবাদটা বুঝতে পারেননি, যেটা সর্বস্ব খোয়ানো বাঙালরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছিলেন।

আরব মরু আর ইসরাইলের ছবিটা এই ঘটি-বাঙালের সাথে দারুণ মিল খায়। ইসরাইলও মরু, আরবও মরু, তবুও ৬৭ বছরে ইসরাইল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যে উন্নতি করেছে, তা আরবীয় মুছলিম জাহানের কাবা-পূজারিরা দীর্ঘ চোদ্দোশো বছর ধরে তার আশোপাশেও পৌঁছাতে পারেনি। তেল ছাড়া এদের ভাঁড়ার শূন্য, তাই শীর্ষ ১০ তেল উৎপাদকের তালিকায় মাত্র একটি দেশ আরব মরুর হওয়া সত্ত্বেও লোকে তেল বলতে আরবই বোঝে।

জিহাদি হোক বা মডারেট, খাদ্য সবার প্রয়োজন। ইসরাইল নিজেরাই নিজেদের ৯৫% খাদ্য উৎপাদন করে, যেখানে আরব ব্যর্থ। নতুন করে আবার ৯৮ লক্ষ সিরিয়ান খাদ্যের অভাবে ভুগছে। ফল উৎপাদনে ইসরাইল মরু বিশ্বের দরবারে জায়গা করে নিয়েছে, যেটা আরব মরু ভাবতেই পারে না। Drip Irrigation আবিষ্কার করে ইসরাইল মেরু আজ শস্য উৎপাদনে অনেক এগিয়ে। আরব মরুতে তেমন কিছুই নেই।

আল্লাহ কার পক্ষে, সেটাও বোঝা বেশ মুশকিল, কারণ ইসরাইল একমাত্র দেশ, যেখানে গাছপালার সংখ্যা বা 'Trees per capita' কমেনি, বেড়েছে। আরব মরুর সব থেকে উর্বর ভূমি নীল নদের তীর আজ বিপর্যস্ত।

অন্নের পরে মানুষের জীবনে সাম্যের খুব প্রয়োজন, যার প্রধান হলো নারীর অধিকার। আরবীয় মুছলিম জাহানে নারীর দশার কথা আর কী বা বলবো! ইসরাইল - বিশ্বের সব থেকে উন্নত গণতন্ত্র (নারী অধিকারের দিক দিয়ে) এবং নারীর শ্লীলতাহানি ও কটূক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে কড়া আইন এখানে। ইসরাইলি নারীরাই বাকি সব দেশের তুলনায় বেশি বাণিজ্য করে এবং নতুন করে ব্যবসা গড়ে তোলে। 

আরব জাহানে প্রতি দুইজন নারী পিছু একজন পুরোপুরি অশিক্ষিত। ইসরাইলে প্রতি ১০০০ জন নারী প্রতি ৯৭৬ জনই শিক্ষিত অর্থাৎ ৯৭.৫% শতাংশ। আরো মজার ব্যাপার হলো, ইসরাইলে যে ২৪ জন নারী শিক্ষিত নয়, তারা ইসরাইলে বসবাসকারী আরবি মুসলিম, কারণ ইসরাইলে ইহুদি নারীদের শিক্ষিতের হার ১০০%।

খুন-জখমের দিক দিয়ে দেখলে ইসরাইল বিশ্বের প্রথম ৫টি সবথেকে নিরাপদ দেশের মধ্যে একটা - স্লোভেনিয়া, সুইডেন, সুইটজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার পরেই। আর আরব মরুতে শান্তির দাপট নিয়ে কী বা বলবো! শান্তির কেন্দ্রবিন্দু মক্কা কাবাতেই ৩১-৭-১৯৮৭ সালে খুন হয়েছিলো ৪০০ জন। আরব মরুতে জঙ্গিদের শান্তির প্রচার নাহয় বাদই দিলাম।

আমেরিকা প্রথম, আর দ্বিতীয় হলো ইসরাইল, যেখান থেকে বিশ্বের সবথেকে বেশি টেকনোলজিক্যাল কম্পানি উঠে আসে। আরো স্পষ্ট করে বললে - এই বিষয়ে বিশ্বে Sillicon Valley, California, US প্রথম স্থানে, দ্বিতীয় - Silicon Wadi, Israel. আরবীয় মুছলিম জাহানের কোথাও আরবি টেকনোলজিক্যাল কম্পানি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরব মরু সবকিছুতেই ইসরাইলের থেকে অনেক পিছিয়ে। তাই ভারতীয়দের ভাষায়, আরব মরুর PNPC (পরনিন্দা পরচর্চা) তথা বিদ্বেষ প্রকাশ করা ছাড়া উপায় কী?

* এখানে উল্লেখিত তথ্যগুলোর সত্যতা নেটে লভ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত করেছেন বর্তমান নিবন্ধের লেখক।

ইছলামী লাইফগার্ড

ইসলামে নারী অধিকারের জোয়ার - ১

লিখেছেন জিওর্দানো ব্রুনো

কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাস্তিক ব্লগারদের তুলোধুনো করেছেন, কারণ তারা নাকি ইসলামের কিছু না জেনে ইসলাম সম্পর্কে অশ্লীল কথাবার্তা ছড়ায়। এর কিছুদিন আগে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম পোক্তভাবে বহাল রাখা হয়েছে এবং আশা করছি, খুব শিগগিরই “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামটি বদলে “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” করা হবে ইনশাল্যা। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে কিছু সমস্যায় পড়তে হতে পারে, আমার এই পোস্টটি সেই বিষয়ে।

শুনে আসছি, ইসলাম নাকি নারীদের অধিকারের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে, ইসলামের আগে নারীদের নাকি কোনো অধিকারই ছিল না। চলুন, দেখি, আমাদের কোরান-হাদিসে নারীদের কী ধরনের অধিকার বা মর্যাদা দেয়া হয়েছে। 'জাল হাদিস' বা 'কোরান অনুবাদের ভুল' জাতীয় অপযুক্তি দিয়ে যারা পল্টি মারার ধান্দায় আছেন, এই পোস্ট তাদের পড়ার দরকার নেই।

নারীদের কি বুদ্ধিশুদ্ধি কম? জ্বি, কম। এই দেখুন:
আবু সাইদ আল খুদরী বলেছেন - একদিন নবী (দঃ) ঈদের নামাজের জন্য মাসাল্লাতে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু নারীদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, “তোমরা সদকা দাও, কেননা আমি দোজখের আগুনে বেশির ভাগ নারীদেরই পুড়তে দেখেছি।” তারা বলল: “এর কারণ কি, ইয়া রাসুলুল্লাহ?” তিনি বললেন: “তোমরা অভিশাপ দাও এবং তোমাদের স্বামীদের প্রতি তোমরা অকৃতজ্ঞ। ধর্মে আর বুদ্ধিতে তোমাদের চেয়ে খাটো আমি কাউকে দেখিনি। একজন বুদ্ধিমান সংযমী পুরুষকে তোমাদের কেউ কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে।” তারা বললেন: “ইয়া রাসুলুল্লাহ, ধর্মে আর বুদ্ধিতে আমরা খাটো কেন?” তিনি বললেন: “দুজন নারীর সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সমান নয়?” তারা হ্যাঁ-বাচক জবাব দিল। তিনি বললেন “এটাই হলো বুদ্ধির ঘাটতি। এটা কি সত্যি নয় যে মাসিক-এর সময় নারীরা নামাজ এবং রোজা করতে পারে না?” তারা হ্যাঁ-বাচক জবাব দিল। তিনি বললেন “এটাই হলো ধর্মে ঘাটতি।” (সহিহ বুখারী, ভল্যুম ১, হাদিস ৩০১)
পবিত্র কোরানেও এর ওপরে আলোকপাত করা হয়েছে:
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋণ গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণ গ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দুর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন। (সুরা ২: ২৮২)
পরিষ্কার বলা হয়েছে, একজন পুরুষের সাক্ষীর সমান দু'জন নারীর সাক্ষী। কারণ নারীদের ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাস্তবে যদিও উল্টোটাই ঠিক। নারীরাই সব কিছু অনেক বিশদে মনে রাখতে পারে, কবে প্রথম দেখা, কবে প্রথম হাত ধরা, কবে প্রথম “ভালোবাসি” বলা হয়েছে, কোন তারিখে ক'টার সময় প্রথম চুম্বন - এগুলো নারীদের জন্য মনে রাখা কোনো ব্যাপারই নয়।

নারীরা কি অশুভ? জ্বি, হ্যাঁ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তিন জিনিসের মধ্যে অশুভ আছে: নারী, বাড়ী এবং ঘোড়া হয়।' (সহিহ বুখারী, ভল্যুম ৭, হাদিস ৩০)
নারী আর উট কি একই একই জিনিস? কী মনে হয়, দেখুন তো:
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন এস হতে বর্ণিত: নবী (দঃ) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ দাস-দাসী কিনলে বা বিয়ে করলে তাকে বলতে হবে – ও আল্লাহ আমি এর স্বভাব চরিত্রে ভালো কিছুর জন্য তোমর কাছে প্রাথনা করি। আর এর চরিত্রের মন্দ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। কেউ উট কিনলেও তাকে উটের কুজো ধরে এ কথা বলতে হবে। (সুনান আবু দাউদ ১১ খণ্ড, হাদিস ২১৫৫)
বাংলাদেশের আজকের এই পরিণতির জন্য দায়ী কী, জানেন?
আবু বাকরা বলেছেন, নবী (দ:) বলেছেন যে, যে জাতি নারীর ওপরে নেতৃত্ব দেবে, সে জাতি কখনো সফলকাম হবে না। (সহিহ বুখারী, ভল্যুম ৫, হাদিস ৭০৯)
এখন প্রশ্ন জাগে: প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪০ সফলকাম হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু?

আস্তিকীয় বাতিক