১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

সকল দেশের সেরা: প্রস্তাবিত ইসলামী জাতীয় সঙ্গীত

লিখেছেন জুপিটার জয়প্রকাশ

(লেখকের অচিরেই প্রকাশিতব্য একটি অভিনব ছড়া-ইবুক থেকে)

ধনধান্যে পুষ্পে ভরা
আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক
সকল দেশের সেরা
ও সে শান্তি দিয়ে তৈরি সে দেশ
বোরখা দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের সেরা সে যে,
নবীর জন্মভূমি।।

পুণ্য পূর্ণ মাথা নেড়া
কোথায় এত গোলাম খাড়া,
কোথায় এত চলে মুমিন
এমন মহা বেগে,
সেথা ওয়াজ শুনে ঘুমিয়ে উঠি
আজান শুনে জেগে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের সেরা সে যে
নবীর জন্মভূমি।।

এমন রুক্ষ ভূমি কাহার,
কোথায় এমন বালির পাহাড়
কোথায় এমন ঊষর ক্ষেত্র
আকাশ তলে মেশে
এমন বালির উপর ঢেউ খেলে যায়
বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের সেরা সে যে
নবীর জন্মভূমি।।

ধর্মে কর্মে নাহি ফাঁকি,
বাক্যে বাক্যে মেলে নেকী
উচ্ছসিয়া চলে পাপী
পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে
তারা পাপের জ্বালা ফুরিয়ে ফেরে
পাথর চুমা খেয়ে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের সেরা সে যে
নবীর জন্মভূমি।।

ভায়ের ভায়ের এত স্নেহ
কোথায় গেলে পাবে কেহ,
নবী তোমার চরণ দু’টি
বক্ষে আমার ধরি,
আমার যে দেশে হোক জন্ম,
যেন ঐ দেশেতেই মরি।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের সেরা সে যে
নবীর জন্মভূমি।।

পরজনমের তরে

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮৯

২৯০.
- ইছলাম কুকুরকে ঘৃণা করে কেন?
- কুকুরেরা শুঁকে শুঁকে বোমা বের করে ফেলে বলে। 

২৯১.
- বড়ো কোনও দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যদি আক্রান্ত সমস্ত মানুষের মৃত্যু ঘটে, তখন সেই স্বল্প সময়ে আজরাইল কি প্রত্যেকের রুহ আলাদা আলাদা করে কবচ করে?
- না, CTRL+A চিপে ডিলিট মারে।

(বানিয়েছেন রসিয়া বন্ধু)

২৯২.
- শয়তান ও ঈশ্বরের মধ্যে পার্থক্য কী?
- শয়তান আপনাকে অসৎ কাজে প্রলুব্ধ করে আর ঈশ্বর আপনাকে অসৎ কাজ করতে নির্দেশ দেয়।

২৯৩.
- মাদার তেরেসা বেঁচে ছিলেন ৮৭ বছর। তিনি জীবনে কতোবার সেক্স করেছেন?
- Nun.

২৯৪.
- দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনায় কাজ হয় কি?
- নিশ্চয়ই হয়! শৈশবে, যখন মুছলিম ছিলাম, আল্যার কাছে প্রার্থনা করতাম, "হে আল্যা, আমাকে আরও বেশি বেশি বুদ্ধি দান করো, যাতে আমি সবকিছু সঠিকভাবে বিচার করতে পারি।" তিনি আমার দোয়া মঞ্জুর করেছেন। এখন আমি নাস্তিক।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬৫

৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধর্মের চিড়িয়াখানায় - ২০

লিখেছেন ধর্মহীন জিরাফ

৯৬.
আপনি আপনার মুহম্মদকে যতটা ভালোবাসেন, তারচে' আমি অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি আমার বাবাকে। বাবাকে কেউ গালি দিলে রাগ হয় ঠিকই, কিন্তু কই, তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলার কথা আমার মাথায় তো একবারও আসে না।

ভালোবাসার প্রকাশ কাউকে খুন করা হতে পারে না। যত্তসব ভণ্ড!

৯৭.
সব ধর্মের মৌলবাদীই এক। এরা প্রত্যেকেই সমান হিংস্র, অসুস্থ আর ক্ষতিকর। পার্থক্য শুধু সংখ্যায়। কোনো ধর্মে মৌলবাদীর সংখ্যা বেশি আর কোনো ধর্মে কম।

৯৮.
ঈশ্বর এক ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যার নির্দেশ দেয় - এটা কি কোনো ঈশ্বরের কাজ হতে পারে? ঐ ধর্মের মানুষগুলোও তো তারই সৃষ্টি! এমন তো নয় যে, তারা অন্য কোনো ঈশ্বরের সৃষ্টি। এ নির্দেশ কখনোই ঈশ্বরের হতে পারে না।

৯৯.
"'মুহম্মদ কি আদৌ মুসলিম ছিলো?" - এই 'অযৌক্তিক' প্রশ্নটা নিয়ে বেশ কয়েকবার ভেবেছি! সে মুসলিম ছিলো, এর পক্ষে অনেক প্রমাণ দেখানো যায়, তারপরও আমার মনে হয় না সে মুসলিম ছিল। কারণ "কোন ধর্মপ্রবর্তকের পক্ষেই নিজের প্রবর্তিত ধর্মের অনুসারী হওয়া সম্ভব নয়!" 

কী জানি, বাপ!

১০০.
জীবনের পুরোটা সময় অন্য ধর্ম সম্পর্কে বিষবাষ্প ছড়িয়ে, ভক্তদের মাঝে বিভিন্নভাবে অন্য ধর্ম সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব তৈরি করে, নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠতম দাবি করে জীবনের শেষ ভাগে এসে 'ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়ি করিবে না' টাইপ হালকার ওপর ঝাপসা মেরে দিয়ে পগার পার...

বায়না

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (পর্ব ১)

লিখেছেন আবুল কাশেম

ভূমিকা

উম হানি এবং নবী মুহাম্মদের মাঝে পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে আলোকপাত করা অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক। জটিল এই কারণে যে, উম হানির ব্যাপারে আধুনিক ইসলামী পণ্ডিতেরা কোনো কিছুই জানাতে চান না। কারণ নবীর জীবনের এই অধ্যায় তেমন আনন্দদায়ক নয়। নবীর শিশু-স্ত্রী আয়েশা, পালকপুত্রের স্ত্রী যয়নবের সাথে নবীর বিবাহ, এবং আরও অন্যান্য নারীদের সাথে নবীর যৌন এবং অযৌন সম্পর্কের ব্যাপার আজ আমরা বেশ ভালভাবেই জানতে পারি। তা সম্ভব হয়েছে আন্তর্জালের অবাধ শক্তির জন্যে। আজকাল এই সব নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে এবং আমরা নবীর জীবনের অনেক অপ্রকাশিত অন্ধকার দিকগুলি অবলোকন করতে পারছি। কিন্তু উম হানির সাথে যে নবী আজীবন পরকীয়া প্রেম করে গেছেন—অগনিত স্ত্রী ও যৌনদাসী থাকা সত্ত্বেও—তা নিয়ে আজ পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবন্ধ লেখা হয়নি। উম হানি ছিলেন নবী মুহাম্মদের প্রথম এবং আজীবন প্রেম। ধরা যায়, নবী উম হানিকে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন এবং কোনোদিন এক মুহূর্তের জন্য উম হানিকে ভোলেননি। ইসলামের নির্ভরযোগ্য প্রাচীন ও মৌলিক উৎস ঘেঁটে এই রচনা লেখা হয়েছে, যাতে নবী জীবনের এই উপাখ্যান দীর্ঘ জানা যায়। যেহেতু উম হানির জীবন এবং নবীর সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কোনো ইসলামী পণ্ডিত ইচ্ছাকৃতভাবেই তেমন মাথা ঘামাননি, তাই অনেক কিছুই অনুমান করে নিতে হয়েছে। জোরালো হাদিস এবং প্রাথমিক জীবনীকারদের থেকে জানা তথ্যই এই অনুমানের ভিত্তি। এই রচনাতে নবী মুহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাঠকেরা হয়ত পাবেন।

এই রচনা লেখা বিপদজনক এই কারণে যে, ইসলামি জিহাদিদের কাছে নবীর জীবনের এই গহীন গোপনীয় ব্যাপার খুবই স্পর্শকাতর। যে লেখকই এই উপাখ্যান লিখবে, সে-ই ইসলামী সন্ত্রাসীদের শিকার হবে, তা বলা বাহুল্য।

উম হানি ও মুহাম্মদের সম্পর্কের সাথে আয়েশা, সওদা, মেরাজ, মক্কা বিজয় ও আরও কিছু প্রসঙ্গ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিছু প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে — উপায় ছিল না। ইসলামি কিতাবসমূহ যে পুনরাবৃত্তিতে ভরপুর।

উম হানির পরিচয়

নবী মুহাম্মদ জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা আবদুল্লাহকে হারান। ছয় বছর বয়সে নবীর মাতা আমিনাও মারা যান (ইবনে ইসহাক, পৃঃ ৭৪); মুহাম্মদের আট বছর বয়স পর্যন্ত তাঁকে লালনপালন করেন নবীর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব। আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর মুহাম্মদের ভরণ-পোষণের ভার ন্যস্ত হয় চাচা আবু তালেবের ওপর। আবু তালেব নবীকে নিজের সন্তানের মতই লালন পালন করেন আমৃত্যু পর্যন্ত।

আমরা ইতিহাস থেকে আবু তালিব সম্পর্কে যা জানতে পাই, তা হল এই:

আবু তালেব অর্থ হল তালেবের পিতা। আবু তালেবের আপন নাম ছিল আব্‌দ মানাফ। তালেব ছিল তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র। আব্‌দ মানাফের হয়ত অনেক স্ত্রী ছিল, কিন্তু ইসলামের ইতিহাস ঘেঁটে তাঁর দুই স্ত্রীর নাম পাওয়া যায়। এঁরা হলেন—
ফাতেমা বিন্‌ত আসাদ। এঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন চার পুত্র এবং তিন কন্যা। পুত্ররা হলেন—যথাক্রমে তালিব, আকিল, জাফর এবং আলী। আর কন্যারা হলেন—উম হানি, জুমানা এবং রায়তা (আসমা বিন্‌ত আবু তালেব) (ইবনে সা’দ, খণ্ড ১, পৃঃ ১৩৫)।
আবু তালেবের অপর স্ত্রীর নাম ছিল ইল্লাহ বা এলাহ্‌। তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এক পুত্র, তুলায়ক। এছাড়াও ইল্লাহ্‌র আগের স্বামীর ঔরসে জন্ম গ্রহণ করছিল আর এক পুত্র যার নাম ছিল আল হুয়েরেথ বিন আবু দুবাব (ঐ একই সূত্র)।
ইসলামের ইতিহাসে আব্‌দ মানাফের দুই ছেলে জাফর ও আলী সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু আকিল ও তালেব সম্বদ্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। ইবনে সা’দ লিখেছেন তালেবকে বদর যুদ্ধে জোরপূর্বক যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়। কিন্তু তালেব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। কারণ বদর যুদ্ধে তাঁর মৃত দেহ কেউ পায়নি, আবার তাঁকে জীবিতও কেউ দেখেনি। ধরা যায়, তালেব বদর যুদ্ধ থেকে পালিয়ে কোথাও চলে যান। এর পর থেকে আর কেউ তার খবর জানে না—তালেব চিরকালের জন্য নিখোঁজ হয়ে গেলেন; তার কোনো উত্তরসূরিও ছিল না (ইবনে সা’দ, খণ্ড-১, পৃঃ ১৩৫)।

আকিলের ব্যাপারেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। শুধু এইটুকু জানা যায় যে, যখন নবী ও আলী মদিনায় চলে যান, আর জাফর যখন আবিসিনিয়ায় নির্বাসিত ছিলেন, তখন আকিল আবু তালেবের মৃত্যুর পর সমস্ত পৈত্রিক সম্পত্তি নিজের হাতে নিয়ে নেন। কারণ নবী মুহাম্মদ যখন মক্কা জয় করেন, তখন অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি আবু তালেবের গৃহে যাবেন কি না। উত্তরে মুহাম্মদ বলেছিলেন যে, ঐ গৃহে যাবার তাঁর কোনো ইচ্ছেই নেই—কারণ আকিল তাঁদের জন্য কিছুই রাখেনি। বলা যায় যে, নবী যখন মক্কায় বিজয় পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলেন, তখন হয়ত আকিল কোথাও নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এই সময় উম হানি মক্কায় ছিলেন, এবং অনুমান করা যেতে পারে, উম হানি তাঁর পিতার ভিটেমাটির দখল পান।

ধরা যায়, উম হানি ছিলেন আবু তালেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা। উম হানির অর্থ হচ্ছে হানির জননী বা মা। উম হানির নিজস্ব নাম নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা আছে।

ইবনে ইসহাক লিখেছেন, উম হানির নাম ছিল হিন্দ (পৃঃ ৫৫৭); ইবনে সা’দও তাই বলেন (খণ্ড ১, পৃঃ ১৩৫)।

এদিকে মার্টিন লিঙ্গস্‌ (পৃঃ ১৩৫) লিখেছেন, উম হানির নাম ছিল ফাকিতাহ্‌। সে যাই হোক, ইসলামের ইতিহাসে এই নারী উম হানি হিসাবেই অধিক পরিচিত।

মার্টিন লিঙ্গস্‌ লিখেছেন, তালেব এবং নবী প্রায় একই বয়সের ছিলেন। বাল্য বয়সে নবীর সাথে জাফরের বিশেষ অন্তরঙ্গতা ছিল। এই সময় মুহাম্মদের বয়স ছিল ১২, আকিলের ১৩ আর জাফরের ৪; উম হানি ছিলেন মুহাম্মদের চাচাত বোন। অনুমান করা যায়, উম হানি কিশোর মুহাম্মদের খেলার সাথী ছিলেন। এবং এই সময় মুহাম্মদ উম হানির প্রেমে পড়ে যান (লিঙ্গস্‌, পৃঃ ৩৩)।

যদি আমরা ধরে নিই যে, উম হানি ছিলেন আবু তালেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা, তখন আমরা অনুমান করে নিতে পারি যে, উম হানির বয়স নবীর বয়সের কাছাকাছি অথবা কিছু অল্প ছিল। অর্থাৎ ১২ বছর বয়স থেকেই নবী মুহাম্মদ উম হানির সাথে প্রেমে আবদ্ধ ছিলেন। এই প্রেম শুধু এক তরফা ছিল কি না, বলা দায়, তবে এই রচনা সম্পূর্ণ পড়লে অনুমান করা যাবে যে, উম হানিরও কিছু সাড়া ছিল মুহাম্মদের এই নিভৃত প্রেমের প্রতি।

হানি কি পুত্র না কন্যা? এই সরল প্রশ্নের উত্তর কোনো জীবনীকার সহজ ভাবে দেননি। উইকিতে দেখা যায়, হানিকে উম হানির পুত্র বলা হয়েছে। কিন্তু এই তথ্যের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই। আরবিতে হানি সাধারণতঃ মেয়েদের নাম হয়—তবে পুরুষের নাম হওয়াও বিচিত্র কিছু নয়। যেমন বাংলাদেশে ‘শামিম’ ছেলে অথবা মেয়ে উভয়ের নাম হতে পারে।

উম হানি কবে মারা যান, তার তথ্য ভালভাবে পাওয়া যায় না। তবে মুহাম্মদের মৃত্যুর পর উম হানি অনেক দিন জীবিত ছিলেন, অনুমান করা যায়।

(চলবে)

পরিকল্পনা বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি

৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধর্মীয় নৈতিকতা কেন বীভৎস

ধর্মবিশ্বাসীদের দাবি, নৈতিকতার উৎস ধর্ম। ধর্মবিশ্বাস ছাড়া নৈতিক হওয়া সম্ভব নয়।... হ, আপনারে কইসে! তাইলে ৯০% মুছলিমমণ্ডিত, মসজিদ-মাদ্রাসাময় ও টুপি-দাড়ি-হিজাব-বোরখাবহুল দেশটায় নৈতিকতার এই দশা ক্যান? ধর্মহীন নাস্তিকপ্রধান দেশগুলাই বা সবচেয়ে সভ্য হিসাবে পরিচিত ক্যান?

নাস্তিকদের নৈতিকতা বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা এক মুছলিমের প্রশ্নের জাঙ্গিয়া-খোলা জবাব দিয়েছেন রিচার্ড ডকিন্স। ভিডিওর নিচে প্রশ্নোত্তরের ট্র্যান্সক্রিপ্ট।

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/VgHoyTvyh4o

Question from Hamsa Koreshi: 
My question is for professor Dawkins. Considering that Atheism cannot possibly have any sense of absolute morality, would it not then be an irrational leap of faith, which atheists themselves so harshly condemn, for an atheist to decide between right and wrong?

Richard Dawkins' answer: 
The absolute morality that a religious person might profess would include what, stoning people for adultery (Leviticus 20.10, Hadith Sahih Muslim 17:4209), death for apostasy (Deuteronomy 13.6-10, Sahih al-Bukhari 52:260), punishment for breaking the Sabbath (Exodus 31.14, Exodus 35.2, Numbers 15.32-36, Quran 2.65-66)? These are all things which are religiously-based absolute moralities. I don't think I want an absolute morality. I think I want a morality that is thought out, reasoned, argued, discussed, and based upon what you could almost call an intelligent design.
Can we not design our society in such a way to have the sort of morality that we want to live in? If you actually look at the moralities that are accepted among modern people, among 21st century people: we don't believe in slavery anymore, we believe in the equality of women, we believe in being gentle, we believe in being kind to animals. Theses are all things which are entirely recent. They have very little basis in Biblical or Quranic scripture. They are things that have developed over historical time through a consensus of reasoning, sober discussion, argument, legal theory, political and moral philosophy. They do not come from religion. 

To the extent that you can find the good bits in religious scriptures you have to cherry pick. You search your way through the Bible or the Quran and find the occasional verse that is an acceptable profession of morality and we say, "Look at that! That's religion." You leave out all the horrible bits and you say, "Oh, we don't believe that anymore. We've grown out of it." Well, of course we've grown out of it! We've grown out of it because of secular, moral philosophy and rational discussion.

ছহীহ আপস্কার্ট

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০২

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ০৬.
খ্যাতিমান নাস্তিক "ক"-র নৈতিক স্খলনের কথা কারুর অজানা নয় এবং তিনি অধিকাংশ বিশ্বাসীর তুলনায় চরিত্রহীন। অতএব প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৭.
যুবক বয়সে আমি মদ্যপান করেছি, জুয়া খেলেছি, ধর্ষণ করেছি, চুরি-ডাকাতি করেছি। অথচ এখন আমি ইসলামের পথে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৮.
বিবর্তনে বিশ্বাস করি না। কারণ ওই তত্ত্ব অনুধাবনের মানসিক অবস্থা আমার নেই। তাছাড়া তত্ত্বটি মেনে নিতে মন সায়ও দেয় না। বানরকুল আমার আত্মীয় – ভেবে বড়োই অস্বস্তি বোধ করি। এ থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৯.
আল্লাহ না থাকলে আমার মৃত্যুর পর আমার পারলৌকিক অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না; সে-কথা ভাবতেই আমার শরীর হিম হয়ে আসে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ১০.
আমার যুক্তি আপনার মতো গর্দভ নাস্তিকদের বোঝানোর চেষ্টা করাটাই নিরর্থক। বোঝার মতো বোধবুদ্ধি আপনাদের নেই। আপনাদের পছন্দ হোক বা না হোক, আল্লাহ আছেন। এবং এটাই সত্য। অর্থাৎ, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭০

৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২১: খায়বারের ইহুদীদের পরিণতি!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব - ১৫০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খায়বারের আল-কাতিবা অঞ্চলের সমস্ত লুণ্ঠিত সম্পদ কী কারণে একাই হস্তগত করেছিলেন; সেই সম্পদের পরিমাণ কী ছিল, এই লুটের মালের অংশ থেকে তিনি তাঁর কোন কোন পরিবার সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের দান করেছিলেন, সেই দানের পরিমাণ কেমন ছিল (আল-ওয়াকিদির বর্ণনা [পৃষ্ঠা ৬৯৪-৬৯৫] ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) অব্যাহত বর্ণনা: [1] [2]

‘আল্লাহর নবী খায়বারের আল-ওয়াতি ও আল-সুলালিম নামের দুই দুর্গের লোকদের ঘেরাও করে রাখেন, অবশেষে যখন তারা আর সহ্য করতে পারে না, তখন তারা তাঁর কাছে এই আবেদন করে যে, তিনি যেন তাদের প্রাণে না মেরে বিতাড়িত হবার সুযোগ দান করেন, অতঃপর তিনি তাই করেন। তখন আল্লাহর নবী তাদের সমস্ত সম্পদ হস্তগত করেছিলেন - আল-শিইখ, আল-নাটা ও আল-কাতিবা অঞ্চল ও তাদের সমস্ত দুর্গগুলোর, ব্যতিক্রম এই দু'টি দুর্গের অন্তর্ভুক্ত সম্পদগুলো। খায়বারের জনপদবাসী সেই শর্তে আত্মসমর্পণ করে ও তারা আল্লাহর নবীর কাছে ঐ  জমিগুলোতে কাজ করার অনুমতি প্রার্থনা করে, যেন তারা তা থেকে উৎপন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অর্ধেক পেতে পারে; তারা বলে, "আমরা এ সম্বন্ধে তোমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানসম্পন্ন ও আরও ভালো কৃষক।" আল্লাহর নবী এই ব্যবস্থায় রাজি হন এই শর্তে যে, "যদি আমরা তোমাদের বিতাড়িত করতে চাই, তোমাদের বিতাড়িত করবো।"

তিনি ফাদাক-এর জনপদবাসীদের ও অনুরূপ হাল করেন [বিস্তারিত আলোচনা 'ফাদাক' অধ্যায়ে করা হবে]; তাই খায়বার মুসলমানদের শিকারে পরিণত হয়, আর ফাদাক হয় আল্লাহর নবীর ব্যক্তিগত সম্পত্তিরূপে - এই কারণে যে, তারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ঘোড়া ও উট পরিচালনা করেননি (অর্থাৎ তা অস্ত্র বলে দখল করা হয়নি)।‘ ---- [3]

‘উবায়েদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসুদ হইতে > ইবনে শিহাব আল যুহরী হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে > সালিহ বিন কাসান আমাকে বলেছেন:

ছাগু-প্রশ্নের বান্দর-উত্তর

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ১৬)

লিখেছেন উজান কৌরাগ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫

বললাম, ‘আপনি আমার পূর্বপুরুষ, আপনার বংশের সর্বশেষ প্রতিনিধি আমি।’ 

তিনি ধীরে ধীরে পাথর থেকে নেমে এসে আমাকে প্রদক্ষিণ করতে করতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমিও পর্যবেক্ষণ করছি আমাকে প্রদক্ষিণরত আমারই পূর্বপুরুষকে, যার শরীরে একটা সুতো পর্যন্ত নেই! নগ্ন তিনি; আমি দৃষ্টি রাখছি তার মুখে, বুকে, পেটে, পিঠে, নিতম্বে, ঊরুতে, পায়ের পাতায়, এমনকি কাঁচা-পাকা কেশাবৃত শিশ্নেও! কিন্তু কী আশ্চর্য, তাকে দেখে আমার একটুও লজ্জা লাগছে না, তিনিও লজ্জিত বোধ করছেন না! তাকে দেখে মনে হচ্ছে না যে, আমার মতো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন ব’লে তিনি অশিক্ষিত; নগ্ন ব’লে মনে হচ্ছে না তিনি অসভ্য-অশালীন! তার নিম্নাঙ্গের কেশের ভেতর থেকে নেতিয়ে ঝুলে থাকা শিশ্নটাকে অশ্লীলতার ধ্বজা ব’লে মনে হচ্ছে না আমার। বরং মনে হচ্ছে তিনি স্বাভাবিক, সত্য, সুন্দর! 

আমি ভাবতে লাগলাম, আচ্ছা, আমি যদি আমার বাবা কিংবা চাচাকে এরকম নগ্ন অবস্থায় দেখতাম, তাহলে আমার কী মনে হতো? তাহলে আমি লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম, কয়েকটা দিন হয়তো তাদের সম্মুখে যেতে চাইতাম না, না চাইলেও মনের আয়নায় বারবার ভেসে উঠতো নগ্ন দৃশ্য। মনে হতো, কী অশ্লীল, কী অশালীন দৃশ্য! অথচ বাবা-চাচারই পূর্বপুরুষকে সম্পূর্ণ অনাবৃত অবস্থায় দেখেও আমার কিন্তু তেমন অনুভূতি হচ্ছে না! হয়তোবা সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অশ্লীলতা ঢুকে পড়েছে আমাদের মগজে, আমাদের চৈতন্যে ছড়িয়েছে অশ্লীলতাবোধ, আমাদের দৃশ্যমান লিঙ্গ কোমরের নিচে থাকলেও অদৃশ্য লিঙ্গ পাল তুলে ছুটছে মগজের কোষে কোষে। আমাদের মনন গ্রাস করেছে অস্বাভাবিক, অসত্য আর অসুন্দর তত্ত্বে; অথচ এই তত্ত্বকেই আমরা মেনে নিয়েছি স্বাভাবিক, সত্য আর সুন্দর ব’লে। কাল আমাদের গায়ে পরিয়ে দিয়েছে সুন্দর চাকচিক্য পোশাক, কিন্তু আমাদের অন্তরকে করেছে অসভ্য-অশালীন!

অর্থ উপার্জনের ধর্মসম্মত তরিকা

৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

অনেক উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক ধার্মিক কেন

লিখেছেন আক্কাস আলী (ফেসবুক পেজ Bitter Truth-এর সৌজন্যে)

সমাজের অনেক উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক ধার্মিক। ধর্ম যদি ভুয়াই হবে, তাহলে তারা ধর্ম পালন করে কেন?

মনে করুন, শবনম একজন ডাক্তার। তিনি একজন বুদ্ধিমান মানুষ। একদিন তার কাছে কেউ একজন এসে একটা ভ্রান্ত দাবি করলো যে, এই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে একটা গরু, গরুটা আকাশের ওপর আছে এবং গরুটাই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

তো, এবার বুদ্ধিমান ডাক্তার কী করবে? প্রথমে আধঘণ্টা অট্টহাসি হাসবে, তারপর ঐ ভ্রান্ত দাবিকারি লোকটাকে পাবনার একটা বাসের টিকেট কিনে ধরিয়ে দেবে।ঠিক বলেছি?... হ্যা, ঠিকই বলেছি। আহাম্মক কেউ হলে বিশ্বাস করে বসে থাকতো, কিন্তু ড. শবনম যেহেতু বুদ্ধিমান, তাই তিনি সহজেই বুঝে ফেলেছেন যে, এইটা একটা ফাউল দাবি। 

এবার সিকুয়েন্সটা বদলে দিই, চলুন।

আমরা চলে যাই ড. শবনমের একদম ছোটবেলায়। যখন থেকে সে বুঝতে শিখেছে, তখন থেকেই তার বাবা মায়ের মুখ থেকে শুনলো যে, আকাশের ওপর একটা গরু থাকে, যেটা মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। শবনম তখন কিছুই বোঝে না, যাচাই বাছাই করতে পারে না। জ্বীনগতভাবে এই পৃথিবীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে তার মা আর বাবাকে। তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা থাকায় তাদের কথা সহজেই বিশ্বাস করে। আর ড. শবনমও তাই তার পিচ্চিকালে মা-বাবার কথা সহজেই মেনে নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

তো, সে ছোটবেলা থেকেই মা আর বাবার কাছে শুনলো যে আকাশে একটা গরু থাকে, যেটা আমাদের এই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিলো যে, একটা গরু আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। কথা সইত্য। এরপর সে বড় হতে থাকলো, শুধু পরিবার না, তার স্কুল, শপিং সেন্টার, জিম, পার্লার, বাস স্টপেজ সবখানে এই একই ধারণা্র লোকদের সাথে তার ওঠাবসা, সবসময় তার কানে একটা কথাই ঢুকছে, তা হচ্ছে - একটা গরু আসমানের ওপর থাকে এবং সেটা সর্বশক্তিমান। এভাবে সবার কাছে শুনতে শুনতে তার কাছে এই দাবিটা আর ফাউল/ভ্রান্ত মনে হয় না। তার কাছে এটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে নিরপেক্ষ বিচারবুদ্ধি হারিয়ে সবসময় শুনে আসা কথাই আরামসে বিশ্বাস করে যায়।

এ অবস্থায় যদি আক্কাস আলী তার কাছে গিয়ে বলে, "আরে, শবনম, আসমানের উপর গরু বইল্যা কিছু নাই... সব ভুয়া", তখন ড. শবনম ক্ষেপে গিয়ে উল্টা আক্কাসকেই ফাউল, জ্ঞানহীন, ও মানসিক রোগী মনে করবে।

--- কাহিনী এটাই। সবখানে সবসময় আমরা সেই পিচ্চিকাল থেকেই যখন একটা ভ্রান্ত দাবি শুনে আসবো, তখন নিজের অজান্তেই সেটা স্বাভাবিক বলে মনে হবে, বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়ে যাবে। আর বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়ার কারণেই আমরা বিনা যুক্তিতে বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, হনুমান আকাশে উড়তে পারে কিংবা আমাদের মাথার ওপর সাত আসমান রয়েছে, যা গাধার পিঠে চড়ে পাড়ি দেয়া যায়! 

-- আমাদের সমাজের উচ্চশিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষগুলো ঠিক এই কারণেই ধর্ম পালন করে যায়। আর, তাদের বেশির ভাগই ধর্ম সম্পর্কে ভালো করে জানেই না। তাদের কয়জন কুরান/বাইবেল/বেদ পড়েছেন বুঝে বুঝে? জীবনেও পড়েননি, সযত্নে আলমিরাতেই সাজিয়ে রেখেছেন।

এমন অনেকে আছেন, যাঁরা একটু আধটু স্টাডি করেছেন ধর্ম নিয়ে, তাদের মনে জন্ম নিয়েছে ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহ। আর সন্দেহের ফলে মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা ধর্ম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অবস্থানটা এরকম যে, যদি ঈশ্বর আর পরকাল না থাকে, তাহলে ভালো। বেঁচে গেলাম। কিন্তু যদি থাকে, তাহলে কী করবো? বিপদ তো! জাহান্নামে যেইভাবে গরম তেলে ফ্রাই করার কথা আছে! ওরে আল্লারে! তাই আমরা সেইফ সাইডে থাকি। ধর্মকে যুক্তি দিয়ে আঘাত না করে সারা জীবন পালন করে যাই। এটাই ভালো হবে।

এই গণ্ডি যারা মেধা আর সাহস দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারে, তারাই নাস্তিক হয়। এর জন্যে চাই সরল যুক্তি ব্যবহার, ধর্ম নিয়ে স্টাডি ও সাহস।

* লেখাটা একটা ভিডিওকে ভিত্তি করে। ভিডিওটিতে আরও সুন্দরভাবে ও গুছিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কার্টুনের সাহায্য। দেখলেই মনে গেঁথে যাবে। লিঙ্কটা এখানে: https://youtu.be/Y201QzDdzbg

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫১

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/oQAw7MRQchk

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৯ – (ভাবীর গায়ের আতর-সুগন্ধি!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


আমার মামাতো ভাই আমেরিকায় থাকেন, সহজ ভাষায় ডি-ভি লটারী পাবলিক। বছর দশেক আগে বিয়ে করার জন্য দেশে এসেছিলেন; এসেই ১৫ দিনের ক্রাশ-কোর্সে যথারীতি এক হাজী সাহেবের কন্যাকে বিবাহ করে ফেললেন!

মূল গল্পে আসি, প্রতিটি মানুষের শরীরে আলাদা আলাদা গন্ধ আছে; বেশিরভাগ পুরুষের গন্ধ মহিষের মত হলেও নারীদেরটা তেমনটা নয়, নারী দেহের গন্ধ সর্বদাই মাদকতাময়; বিশ্বাস না হলে, সাবান-শ্যাম্পু ছাড়া গোসলের ১৫ মিনিট পর, নাভী আর বুকের পাঁজরের মাঝখানটা শুঁকে দেখবেন! মাতাল হবার মত সুগন্ধ থাকে প্রতিটি নারী শরীরে; এটা নারীর প্রকৃতিগত প্রাপ্তি! তবে আজকের গল্পটি পরকীয়া প্রেমের নয়, আমেরিকা থেকে আনা সুগন্ধি হাত করবার। 

একদিন ভাবীর ঘরে গিয়ে দেখি, টেবিলের ওপর দামী দামী পারফিউমের ৬/৭ টা প্যাকেট রাখা আছে। ভাইকে প্রশ্ন করে জানলাম, সবগুলো ভাবীর জন্য নিয়ে এসেছেন তিনি!... হায়রে ভাইরে! ৩০ বছরের একটানা ভাই হয়ে একটা পেলাম না, ১ মাসের কম বয়সী বউয়ের জন্য এতগুলো! আমি ধান্দাবাজ ঠিক করলাম, ২ টা না নিয়ে আজ বাসায় ফিরবো না, কোদালের কসম!

ভাইরে কইলাম, “ভাই, তুমি তো ভাবীরে এখনই আমেরিকা নিতে পারবা না, ভাবীরে এত পারফিউম দিয়া ব্যভিচারিণী বানাইতে চাওয়াটা কি তোমার ঠিক হবে?!”

আমার প্যাঁচ প্রায় সর্বদাই কাজে লাগে, তাই সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন: “তুই কী বলতে চাস?”

তারপর গল্প সংক্ষিপ্ত:

নবী মুহাম্মদ কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন:
‘পুরুষরা গন্ধ পাবে এমন উদ্দেশ্যে আতর-সুগন্ধি মেখে কোন মহিলা যদি পুরুষদের মাঝে গমন করে
তাহলে সে একজন ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হবে’। [১]

নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন:
‘যে মহিলা গায়ে সুগন্ধি মেখে মসজিদের দিকে বের হয় এজন্য যে, তার সুবাস পাওয়া যাবে,
তাহলে তার নামাজ তদবধি গৃহীত হবে না, যে পর্যন্ত না সে নাপাকীর নিমিত্ত 
ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করে’। [২]

এরপর, আমার আস্তিক ভাইয়ের বলার মত কিছু থাকলো না; ভাবীকে বলার সুযোগ দেবার প্রশ্নই আসে না। বেছে বেছে ২ টা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম!

তো মুমিন ভাই-বোনেরা; আজকাল আতর, পারফিউম ও নানা প্রকার সুগন্ধি মেখে নারীরা ঘরে-বাইরে পুরুষদের মাঝে চলাফেলা করে। অনেকে সুগন্ধি মেখে গাড়ীতে উঠছে, দোকানে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে, কিন্তু নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণীর দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছে না। ইসলাম এক্ষেত্রে এমন কঠোরতা আরোপ করেছে যে, নারীরা সুগন্ধি মেখে থাকলে অপবিত্রতা হেতু ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করতে হবে; এমনকি যদি মসজিদে যায় তবুও! 

অতএব, 
‘ইসলামের নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা’ বলে যতই চিল্লান, আপনার পরিবারের সকল নারীর জন্য নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণী মেনে চলার পরামর্শ দেবেন কি দেবেন না, তা আবার ভেবে দেখুন!

তথ্যসূত্র:
[১]. আহমাদ হাদীস, নাসাঈ হাদীস; মিশকাত হাদীস /১০৬৫।
[২]. আহমাদ হাদীস ২/৪৪৪; ছহীহুল জামে হাদীস/২৭০৩।

(চলবে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০২

৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

মানবতাভুক বিশ্বাস

লিখেছেন পুতুল হক

যখনই কোনো মুসলমান শুনতে পায়, কোনো অমুসলিম দেশে মুসলমান অধিবাসীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী দশ, বিশ বা ত্রিশ বছরের মধ্যে তারাই হয়ে যাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন তাঁদের চেহারায় একটা নূরানি খুশি খেলে যায়। যেন "এইবার তোমরা যাইবা কৈ?" এরা বিশ্বজয়ের কথা ভাবে সংখ্যা দিয়ে। কতটা গেঁয়ো, গোঁয়ার আর বিকৃত মানসিকতা হলে এমনটা ভাবা সম্ভব! 

আরো অদ্ভুত কথা হল, এই মানুষগুলো পৃথিবী দখল করে পৃথিবীকে কোনো সুন্দর স্থান হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবে না। এরা পৃথিবীকে নিয়ে যেতে চায় ১৪০০ বছর আগের আরবের সমাজ প্রথায়। যেখানে নারী মানে মেধাহীন যোগ্যতাহীন বস্তাবন্দী বাচ্চা পয়দা করার মেশিন, ক্ষুধার জন্য কোন শিশু খাবার চুরি করলে তাঁর হাত কেটে ফেলা হয়, শুধুমাত্র "লাইলাহাইল্লাললাহু" না বলার কারণে যে কোনো মানুষকে মেরে ফেলা সওয়াবের কাজ। 

পৃথিবী যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তারা পৃথিবীকে সুন্দর করবে না। মুসলমানের কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের কোনো মূল্য নাই, মানুষের কোনো মূল্য নাই। তারাই মানুষের জন্য কাজ করে, যারা মানুষ নিয়ে ভাবে। তারাই পৃথিবীর উন্নয়নে অবদান রাখে, যারা পৃথিবীকে ভালোবাসে। মুসলমান পৃথিবীতে আসে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আর আল্লাহর সাম্রাজ্য বিস্তারে অবদান রাখার জন্য। তাদের জীবনের মূল লক্ষ আখেরাত। এখানে আমার হিসেব মেলে না। যাদের কাছে পৃথিবীর জীবন অর্থহীন, তারা পৃথিবীর উপর দখল প্রতিষ্ঠার জন্য এতো মরিয়া কেন? ঘরে বসে যার যার মত করে আল্লাহর ইবাদত করলে আল্লাহ কেনই বা সন্তুষ্ট হতে পারেন না? আল্লাহ-নবীকে ভালবেসে কাছে পাওয়া যদি ইহকাল এবং পরকালের সব সুখের চাবিকাঠি হয়, তবে অন্যের জীবনাচার নিয়ে এতো মাথাব্যথার কারণ থাকার কথা নয়।

মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান সবাই ধর্মকে আবারো ঘর থেকে বাইরে বের করছে। স্বাভাবিক অবস্থায় মুসলিম এবং খ্রিষ্টানদের তুলনায় হিন্দুরা কম উগ্র। কিন্তু এটা স্বাভাবিক অবস্থার কথা। অস্বাভাবিক অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দেয় না, দেবেও না। রক্ত ঝরলে, সহায়-সম্পদ আর বাড়ির মেয়ে নিয়ে টানাটানি করলে কারো কষ্ট কম হয় না কারোর থেকে। ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নিই না। এতো বুদ্ধিমান প্রাণী হয়েও একই ভুল আমরা বারবার করি। 

চার্চ, মন্দির বা মসজিদ পৃথিবীর সব চাইতে ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র। এগুলো যখন 'বিস্ফোরিত' হয় তখন এর তেজস্ক্রিয়তা শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ বহন করে চলে। এই মারণাস্ত্র পৃথিবী থেকে নির্মূল করার কথা আমরা ভাবি না। এগুলোকে বরং আদরে-আহ্লাদে-ভক্তিতে রাখা হয়। এই উপাসনালয়গুলো একদল মানুষকে আরেক দল মানুষের পেছনে লেলিয়ে দেয়। মানুষও নির্বোধ প্রাণীর মত কামড়াকামড়ি করে। একে অপরের রক্তের জন্য লালায়িত হয়। 

ধার্মিক হলেই মানুষ রক্তপিপাসু হয়, তা নয়। নির্ভরতার জন্য, মানসিক শান্তির জন্য, আসমান-জমিন, জন্ম-মৃত্যুর রহস্য ভেদ করতে পারে না বলে মানুষ ধর্মের আশ্রয় নেয়। আমরা কেউ একা নই, অসহায় নই, পিতামাতা বা প্রিয় বন্ধুর পরেও আছেন আমাদের পরম স্রষ্টা - হোক এটা ভুল, তবুও এই মানসিক শান্তির মূল্য হয়তো কম নয়। ঘরের ভেতরে ধর্মচর্চা করলে এই একই শান্তি পাওয়া যায়। তবুও অন্ধবিশ্বাসী মানুষ ধর্মকে সাথে নিয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হয়, কামড়ায়, কামড় খায়। এর কারণ তার অন্ধবিশ্বাস। 

এই বিশ্বাস এমনই যে, একবার অন্তরে ঠাঁই দিলে কখন যে অন্তরের সবটুকু মানবিকতা, নির্মলতা, সরলতা, বিবেক, বিচার, বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়, কেউ বুঝতেই পারে না।

বৈজ্ঞানিক ভুলসমূহ

নিমো হুজুরের খুতবা - ১১

লিখেছেন নীল নিমো

নাস্তিকদের উৎপাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। যেমন ধরেন গতকাল ওয়াজ করছিলাম নিম্নরুপ:
- কোরান হল পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। যে মুসলমান কোরানকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, শয়তান তাকে কোনোদিনও বিপথগামী করতে পারবে না...

ওয়াজে বাধা দিয়ে এক নাস্তিক আমাকে প্রশ্ন করিল:
- হুজুর, কোরান যদি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হত, তাহলে আর হাদিসের দরকারটা কী? হাদিসের ব্যাখ্যা ছাড়া কোরান বুঝা যায় না। তাই কোরান পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হতে পারে না।

নাস্তিকের কথা শুনে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি বলিলাম:
- ওরে জাহান্নামি নাস্তিক, কোরানে মূল জিনিসগুলা বলা আছে। আর হাদিসে সেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেমন, কোরানে নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে। আর হাদিসে বলা হয়েছে, কীভাবে নামাজ পড়তে হবে।

আমার উত্তর শুনে নাস্তিক উত্তর দিল:
- তাহলে, হুজুর, স্বীকার করে নিলেন যে, শুধুমাত্র কোরান পড়লে মুসলিম হওয়া যায় না। হাদিসও পড়া লাগে। তাই বলা যায় যে, কোরান একটি অসম্পূর্ণ জীবনবিধান। হাদিসের মাধ্যমে কোরান পূর্ণতা পেয়েছে। তাই আপনার বলা উচিত ছিল, কোরান এবং হাদিস হল পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ। কোরান নিয়ে বাজে মন্তব্য ঠিক না।

নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, এখানেই কিন্তু শেষ না। মুসলমানরা কোনো সমস্যায় পড়লে প্রথমে কোরানের কাছে যায়। কোরান যদি সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তাহলে তারা হাদিসের কাছে যায়। হাদিস যদি সমস্যা সমাধান না করতে পারে, তাহলে তারা ইজমা-কিয়াসের দিকে যায়। আর ইজমা-কিয়াসও সমস্যার সমাধান না করতে পারলে ফতোয়ার দিকে যায়। এত কিছুর পরেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে মুসলমানরা চাপাতি দিয়ে কুপাকুপি করে নিজেদের সমস্যার সমাধান করে। নবীজির মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরে মুসলমানদের ভিতর ফিতনা বা গ্যাঞ্জাম লেগে যায়। এই সময় নবীজির বউ আয়েশা এবং নবীজির মেয়ের জামাই আলী নিজেদের ভিতরে কুপাকুপি করেই সমস্যা সমাধান করেছিল। তাই আমাদের বলা উচিত, কোরান নয়, বরং চাপাতি দিয়ে কুপাকুপির ভিতরেই সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। আল্লাহ-কোরান-হাদিস-ফতোয়া সবকিছুই যখন ব্যার্থ হয়ে যায়, তখন মুসলমানরা হাতে চাপাতি তুলে নেয়।

নাস্তিকের বেকায়দামূলক কথা শুনে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল। আমি ওযু করতে হাম্মামখানার দিকে দৌড় দিলাম।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা