৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইছলামী ইতরামি

গত তিন সপ্তাহের সংবাদ-সংকলন:

আইসিস-এর ইছলামী কীর্তি:
১. সিরিয়ায় ৩০০ জন হত্যা ও নারী-শিশুসহ ৪০০ জনকে অপহরণ, ২. একঘেয়েমি কাটাতে হত্যাবৈচিত্র্য - বুলডোজারের নিচে ৯ জন, ৩. জিহাদ ত্যাগ করার উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগে ২০ জন সহযোদ্ধার শিরশ্ছেদ, ৪. ইছলামত্যাগের অভিযোগে এক কিশোরের শিরশ্ছেদ, ৫. সিরিয়ায় ৪৫ জন হত্যা, ৬. শিশুকে দিয়ে শিরশ্ছেদ করানো।

অন্যান্য ইছলামী হামলা:
৭. বোকো হারাম ক্যামরুনে - ৩২ জন হত্যা, ৮. বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় - ৮৬ জন হত্যা (শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা), ৯. বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় - ২৬ জন খ্রিষ্টান হত্যা, ১০. সিরিয়ায় - ৭১ জন শিয়া মুছলিম হত্যা, ১১. তালিবান ফাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে - ২০ জন হত্যা, ১২. তালিবান আফগানিস্তানে - ২০ জন হত্যা, ১৩. আল শাবাব কেনিয়ায় - ৩ জন হত্যা, ১৪. চৌদি আজবে জুম্মাবারে মসজিদে - ৩ জন হত্যা

অভিলাষী অভিবাসী:
১৫. জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী তিনজন মুছলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বার্লিনে হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে। একটা গানে শুনেছিলাম: "আইতে না আইতে ঘরে লাগাইলা আগুন।" ১৬. অস্ট্রিয়ায় অভিবাসন-প্রত্যাশী এক মুছলিম সুইমিং পুলে ধর্ষণ করেছে এক দশ বছর বয়সী বালককে। ১৭. সুইডেনে অভিবাসন-প্রত্যাশী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক মহিলাকে। ১৮. কোলন শহরের অনুষ্ঠিত কার্নিভালের আগে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিমদের ভেতরে একটি লিফলেট বিলি করা হয় ধর্ষণ ও যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়ে। ১৯. জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী কিছু মুছলিম শিশুদের সুইমিং পুলে মলত্যাগ করেছে, জাকুজিতে হস্তমৈথুন করেছে, হানা দিয়েছে মেয়েদের পোশাক বদলানোর ঘরে২০. ইছলামী আব্দার: আগামীতে ইছলামী গণযৌনক্রীড়া তাহার্রুশ ঠেকাতে হলে জার্মানিতে অ্যালকোহল বিক্রয় নিষিদ্ধ করতে হবে২১. স্ত্রী বড্ড বেশি 'ইংলিশ' হয়ে যাচ্ছে বলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ব্রিটেনে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিম। ২২. কিশোরীকে যৌননিপীড়নের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিমের হাতে নিহত হয়েছে ১৫ বছর বয়সের কিশোর। ২৩. "জার্মান মেয়েরা তো শুধু সেক্সের জন্যই", বলেছে জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিম।

২৪. "খ্রিষ্টান মেয়েদের সৃষ্টি করা হয়েছে শুধু একটি কারণেই - মুছলিম পুরুষদের তৃপ্তি বিধান করতে", মুছলিম মুখনিঃসৃত বাণী।

২৫. ইছলামে অবাধ্য স্ত্রীকে পেটানো হালাল। তবে ৬ বছর বয়সী মেয়েকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নবীর সুন্নত পালন করার খায়েশে বাধা দিলে তার নাকও কেটে নেয়া যেতেই পারে!

২৬. ইছলাম ধর্মে দীক্ষিত ছ'জন নবজিহাদি ফ্রান্সের সুইঙ্গার্স ক্লাবে (swinging-এর অর্থ জেনে নিন) হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

২৭. প্রেম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণীকে নিজ হাতে হত্যা করা পিতা অত্যন্ত জনপ্রিয় এখন ফাকিস্তানে।

২৮. পার্থিব গেলমানগমনচর্চা তথা বালক ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক আটক। এদিকে সিলেটে বলাৎকারের প্রতিবাদ করলে (সাহস কতো!) এক মাদ্রাসার ছাত্রকে খুন করা হয়।

২৯. কোরবানি নামের বীভৎস পশুহত্যা-ঐতিহ্যের সমালোচনা করে খ্যাতনামা মিসরীয় লেখিকা জেলে।


৩১. ব্রিটেনের কোনও কোনও জেলে শতকরা ৪৪ জন মুছলিম, যদিও সে দেশে মুছলিমের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ।

৩২. 'শার্লি এব্দো' নামের পত্রিকাটি বিক্রি করা হয় বলে এক সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছে শান্তিকামী মুছলিম।

৩৩. ব্রিটিশ আইসিস সমর্থক পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ ও সৈনিক হত্যার

৩৪. প্যারিসের ডিজনিল্যান্ডে দু'টি আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যাগভর্তি গোলাবারুদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে সবচেয়ে ভয়ংকর মারণাস্ত্র কোরানও ছিলো।

৩৫. ইছলামে দাবা খেলা নিষিদ্ধ। হাদিসেই (সহি মুসলিম, ২৮:৫৬১২) তা স্পষ্ট করে বলা আছে। তবু চৌদি আজবে আলাদা করে নিষিদ্ধ করা হলো 'সময় অপচয়কারী' ও 'জুয়া খেলায় উৎসাহদায়ী' এই খেলা

৩৬. ক্যাঙ্গারুর থলেতে বিস্ফোরক পুরে ও তার শরীরে আইসিস-এর প্রতীক এঁকে হামলার পরিকল্পনা করেছিল অস্ট্রেলীয় জিহাদি কিশোর।

৩৭. আল্যা মুসলিম পুরুষদের অমুসলিম নারীদের ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে, বলেছে মিসরের কায়রোর বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামপন্থী নারী অধ্যাপক। তাদের লজ্জা দেয়ার জন্য মহান আল্যা এ অনুমোদন দিয়েছে।

৩৮. সুইসাইড বেল্ট বেঁধে এক আইসিস জিহাদির বেহেশত গমনের খায়েশ রহিত করে দিয়েছে কাফের পুলিশ।


৪০. ইহুদি-নাছারাদের চেয়ে মুছলিমরা বেশি মদ খায় নাকি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি মদ্যপান করে ইছলামের আঁতুর ঘর, নবীজির মাতৃভূমি, পৃথিবীর সবেচেয়ে পবিত্র দেশ চৌদি আজবের বাসিন্দারা! ৯০ শতাংশ মুছলিমের দেশ বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই মদ্যপানে! ইয়া মাবুদ! কেয়ামতের আর দেরি কি নাই?

৪১. গত ৩০ দিনে (বর্তমান পোস্টটি ড্রাফট করার মুহূর্তে) ইছলামী ইতরামির সংক্ষিপ্ত খতিয়ান: হামলা ১৪০, হত্যা ১৬৫৮ (দিনে গড়ে ৫৫ জন)।

আরব দেশে নারীর দশা - ১০

ওপরে লেখা: "আন্তর্জাতিক নারী দিবস"

দেয়াল-ক্যালেন্ডারে "৮ মার্চ", টিভি-পর্দায় "আন্তর্জাতিক নারী দিবস"

৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ১৯

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮

Afshin Mehrassa: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি কোরান পড়েছি তিনবার, পড়েছি মোহাম্মদের হাদিসও। এবং এসবে চূড়ান্ত সহিংসতা, হত্যা এমনকি ধর্ষণের আদেশ ছাড়া আর কিছু পাইনি।

Yama: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কার্টুন আঁকা বা মতপ্রকাশের চেয়ে হত্যা অনেক বেশি আপত্তিকর।

নাজিউল: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোরান বুঝতে তাফসির দরকার, অথচ কোরানে বলা আছে, কোরান নাকি সকলের জন্য সহজবোধ্য করে লেখা হয়েছে।

Imad Iddine Habib: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামের হারামের তালিকায় ধর্ষণ, দাসপ্রথা, জেনোফোবিয়া, যুদ্ধাপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

qudsia iqbal: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাকে জোর করে নামাজ পড়ানো হতো, যদিও আমি চাইতাম না। আমাকে জোর করা হতো, পেটানো হতো। ফলে আমার ভেতরে জমেছে ঘৃণা, ক্রোধ। আমার ব্যক্তিত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে চিরতরে।

Ali Asif: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি বিশ্বাস করি না আল্যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা। সে মুহাম্মদের মগজপ্রসূত।

AgnosticAlias: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যৌনতার প্রতি ইছলামের দমনমূলক আচরণ।

রাফাত সিরাজ নির্ঝর: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি আরব না হওয়া সত্ত্বেও আমার নাম আরবি ভাষায়। এবং ছোটবেলায় আমার মগজধোলাই করা হয়েছে। ইছলাম - সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের একটি রূপ।

Ahmed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মুহাম্মদ স্রেফ ইহুদিদের গল্প চুরি করে তাতে স্থানীয় সব ধর্ম ও ঐতিহ্য মিশিয়ে ছন্দে ছন্দে কোরান লিখেছে।

Somali Kafir: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ডাইনোসরের কথা উল্লেখ করার চিন্তা আল্যার মাথায় কখনও আসেনি।

বিষ্ঠার বৈশিষ্ট্য

আয়, শরিয়া আয়

লিখেছেন পুতুল হক

আমাদের দেশের মেয়েদের যখন 'অবলা নারী' বলা হয়, তখন আমি তেড়েবেড়ে আসি না। অবলার চাইতে বেশি হেয় করা যায়, এমন কোনো শব্দ যদি ব্যবহার করা হয়, তখনও আমি কিছু মনে করি না। সত্যিটা শুনতে তেতো হলেও সত্যি সত্যি-ই হয়। 

অবলা যদি না-ই হবে, তবে প্রতিদিন কেন নতুন নতুন মেয়ে হিজাব-বুরখা পরছে? ধান্দাবাজ মোল্লারা নাহয় শরিয়ার পক্ষে জিহাদ করলো, কিন্তু মেয়েগুলো কেন এর পক্ষে কথা বলে? ডানদিকে যেতে বললো ডানে গেল, বাম দিকে যেতে বললে বামে। একবারের জন্য চেয়ে দেখলো না ডানে বা বামে কী আছে। তাহলে তাদেরকে অবলা বলবে না তো কি সবলা বলবে?

বাবা চায় শরিয়া, ভাই চায় শরিয়া, হাবি চায় শরিয়া, তো মেয়েও চায় শরিয়া। কারণ কী? শরিয়া আল্লাহর আইন, আল্লাহর শাসন। কিন্তু সে জানে না, সেখানে কী লেখা আছে, কী দিয়েছে শরিয়া একটি মেয়েকে? আমি একটা জিনিস চাই, কিন্তু জানি না জিনিষটা কী, এরকমটা একমাত্র অবলার পক্ষেই সম্ভব।

এই যে শিক্ষিতা, আধুনিকা, চাকুরিরতা, শরিয়ার পক্ষে বাহাসরতা মুমিনা বোনেরা কি জানে যে, ... 
শরিয়া অনুযায়ী তাদের শিক্ষিতা হবার প্রয়োজন নেই, নামাজ-রোজা শিখলেই হবে?
স্বাবলম্বী চাকুরিরতাদের কর্মক্ষেত্রে পরপুরুষের সাথে বুরখার আড়ালে কাজ করতে হলেও পরপুরুষকে স্তন্য পান করাতে হবে?
হাবিরা যখন চারটা করে বিবি রাখবে, তখন পারিবারিক আদালত থাকবে না?
হাবির ইচ্ছে হলেই দেনমোহর বাবদ মুল্য পরিশোধ করে তালাক দিতে পারবে, এবং হাবির কিছুই করা যাবে না?
রাত-বিরেতে হাবিকে যখন বাসার বুয়ার ঘরে দেখা যাবে, তখন কোনো "টুঁ" শব্দ করা যাবে না?
আর হাবির ডাকে সাড়া না দিলে মাইর কিন্তু একটাও মাটিতে পড়বে না?
একা কিংবা বন্ধুদের সাথে গাউসিয়া বা আড়ং-এর সেলে যেতে পারবে না, সাথে নিতে হবে হাবি অথবা বাপি অথবা ভাইটিকে?
কখনো ধর্ষিতা হবার সম্ভাবনা দেখা দিলে দু'জন পুরুষ বা চারজন অবলা চাক্ষুষ সাক্ষীর অ্যারেঞ্জমেন্ট রাখতে হবে, নইলে ধর্ষিতা হবার দায়ে উলটো দোররা খেতে হবে?
সাজগোজ করা হবে শুধুমাত্র হাবির জন্য?
সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেয়া যাবে না?...
হিজাব পরা, মোটা আই লাইনারে ডাগর আঁখিওয়ালা খুশি-খুশি মুখ করে ভার্সিটি যাচ্ছে, অফিসে যাচ্ছে। মুসলমানের মেয়ে, মুসলমানের দেশের মেয়ে আর মুসলমানের পোশাক পরবে না! 

হিজাব পরতে এতো ভালো লাগে, শরিয়া আসলে না জানি কত ভালো লাগবে। "আয় শরিয়া আয়, তোর লাগি আমার পরান যে ফাটিয়া যায়...।"

নামাজরঙ্গ - ৪৩


৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ডাস্টবিন থেকে কুড়আনো চিন্তা - ১৬

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

৬১.
মসজিদ নির্মাণে ভিক্ষা চাইতে রাস্তায় মাইক দিয়ে শব্দদূষণ করে মালাউলানা গলা ফাটায়ে বলতেছিল:
- কত যায়গায় কত টাকা অকারণে চলি যায়, আল্লার গরে দান খরিলে আখেরাতে ফাওয়া যায়।
এই শুনে এক বলদ মমিন ১০ টাকা দান করল। তাই দেখে নাস্তিক এবার একই সুরে গাইল:
- কত যায়গায় কত টাকা অকারণে চলি যায়।

৬২.
কোনোরকম আত্নীয়স্বজন না থাকাটাও যে গর্বের ব্যাপার হইতে পারে, আল্যাফাক্কে না দেখিলে জানিতাম না।

৬৩.
একটা নাযায়েজ সওয়াল: মুসলিমদের আসলে কাকে বেশি ভয় করা উচিত - অ্যালাকে, নাকি শয়তানকে?

৬৪.
মৌলোভীরা কয়, বেদাতি ইংরেজি সন, তারিখ ব্যবহার না করে হিজরি সন ব্যবহার করা উচিত।
তাদের খোয়াব - বাংলা, ইংরেজি ক্যালেন্ডার রহিত করে হিজরি চালু করা, কারণ এটাই ইসলামিক কায়দা।
মুহম্মদের জন্ম, কুরান নাযিল, নব্যুওয়াত, মেরাজ এগুলোই ইসলামের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এসব মহাগুরুত্ববহ ঘটনার টাইমলাইন নিয়ে মমিনদের কাছে নাস্তিকের কিছু জিজ্ঞাস্য:
১. মুহম্মদ হিজরি কত সালে জন্মগ্রহন করেন?
২. মুহম্মদ হিজরি কত সালে নব্যুওয়াত প্রাপ্ত হন?
৩. হিজরি কত সালে প্রথম কুরান নাযেল হয়?
৪. হিজরি কত সালে মুহম্মদ হানিতে (মতান্তরে বোরাকে) মেরাজ (আরোহন) করেন?
৫. হিজরি কত সালে আবু বক্কর, উমর, আলি ইসলামের সায়াতলে আসে?
৬৫. 
কল্পনাবিলাসী মমিনের বক্তব্য: সবাই মুসলমান হয়ে গেলে পৃথিবীতে আর গোলযোগ থাকত না।
নাস্তিক কহে: তখন শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানি, মডারেট, হানাফি, শাফিই এইসব নিয়া পোন্দাপুন্দি হত, এখনো হচ্ছে।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪১


নামাযীরা ও চাকরির ইন্টারভিউ

লিখেছেন শেখ মিলন

১. নামাযীরা

পিচ টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেয়। ইসলামী বিজ্ঞাপন। নামাযের বিজ্ঞাপন...

সেখানে দেখা যায়, একজন কিশোর মসজিদে যাচ্ছে। পথিমধ্যে সে দেখলো, একজন ছিনতাইকারী ছিনতাই করে পালাচ্ছে, কয়েকজন বসে জুয়া খেলছে এবং কিছু নেশাগ্রস্ত যুবক মাদকসেবন করছে।

অতঃপর সে মসজিদে পৌঁছালো এবং আজান দিলো।

নামাযের সময় দেখা গেল, সেই ছিনতাইকারী, সেই জুয়াড়ি এবং সেই মাদকসেবী তার পাশেই নামাযে দাঁড়াচ্ছে। অর্থাৎ তারা পাপ করে আল্লার কাছে মাফ চাইতে চলে এসেছে।

ইহা হইতে আমরা কী বুঝিলাম? 

যারা খুব বেশি পাপ করে, তারাই দিনে পাঁচবার মাফ চাইতে যায়। এবং পাপমোচনের অজস্র সুযোগ দানের মাধ্যমে ইসলাম প্রকারান্তরে পাপ করার লাইসেন্স দেয়।

২. চাকরির ইন্টারভিউ

জনৈক হুজুর গেল চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। 
প্রশ্নকর্তা: বলুন তো, "ডাক্তার আসার পুর্বেই রোগী মারা গেল" - এর ইংরেজি কী হবে? 
হুজুর: ইংরেজি তো পারব না, স্যার, তবে আরবি পারবো, ইনশআল্লাহ। 
প্রশ্নকর্তা: তাই নাকি! তবে আরবিতেই বলেন। 
হুজুর: ইন্না লিল্লহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৬৮


৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১. জন লেননের 'ইমাজিন'-এর মুছলিম কাভার ভার্শন


৩. খ্যাতনামা জাদুকর জুটি Penn & Teller দেখালেন নাস্তিকীয় জাদু। বলে রাখি, দু'জনেই সক্রিয় নাস্তিক।

৪. মুছলিম মোল্লা বলছে, ৬-৭ বছরের শিশুকন্যাদেরও পর্দাবন্দী করা উচিত, কারণ তারা ততোদিনে যৌনআকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, এমনকি তাদের পিতাদের কাছেও। 

৫. কল-ইন টিভি শোতে দু'টি আস্তিকীয় সস্তা যুক্তি (বাস্তবে কোনও যুক্তিই নয়) দু'মিনিটে দু'বার ঘায়েল হলো, যখন নাস্তিকের পাল্টা প্রশ্নের উত্তর দিলো আস্তিক। বেচারা নিজের যুক্তিগুলো ধ্বংস করলো নিজেই।

৬. আব্রাহাম্মক ধর্মগুলোর ঈশ্বর ইয়াওয়ে-র অপরিসীম আহাম্মকি অসাধারণ বক্তব্যের অ্যানিমেটেড ভিডিওতে। অ্যানিমেশন খুব উন্নত মানের নয় বটে, তবে বিষয়বস্তুর উৎকর্ষ ঢেকে দেয় সমস্ত দুর্বলতা।

৭. ভিডিওর নাম "ইছলাম শান্তির ধর্ম নয়" দেখে ভেবেছিলাম গতানুগতিক কোনও ভিডিও। কিন্তু অত্যন্ত বলিষ্ট বক্তব্য ও উপস্থাপনার ধরন আমার অনুমান আমূল মিথ্যে প্রমাণ করেছে। 

প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিওগুলোর লিংক: 
১. https://youtu.be/eyzt38QYHrg      ২. https://youtu.be/6ZHJF0Ln5gk
৩. https://youtu.be/AoH7CuFf4_c     ৪. https://youtu.be/wJuUQOLuAPk
৫. https://youtu.be/JJxCFa8YmbQ     ৬. https://youtu.be/lWZifSXlzlI
৭. https://youtu.be/_ZiJehMXBpQ

বেদ্বীনবাণী - ৬১


ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ৩০

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

১৪৬.
মহাবদ নবীজিকে যয়নাব নামের এক ইহুদি মহিলা মাংসের সাথে বিষ খাইয়ে করেছিল বধ। কারণ মহাবদ যয়নাবের স্বজনদেরকে জবাই করেছিল।

১৪৭.
- "আমাদের পক্ষ হইতে ঈশ্বরকে যদি কিছু দিতে হয় তবে কী দিব, কী দিতে পারি?" (রবীন্দ্রনাথ, দুঃখ)
- প্রচণ্ড ব্যঙ্গ আর উষ্টালাত্থি দিব।

১৪৮.
সুইডেনের মানুষের মানসিকতা আর সিরিয়া ও সৌদি আরবের মানুষের মানসিকতার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য কেন? নরওয়ের মানুষের মানসিকতা আর পাকিস্তানের মানুষের মানসিকতা সম্পূর্ণ বিপরীত কেন? একই পৃথিবী, একই সময়কাল, তবুও এই ভিন্ন ভিন্ন জায়গার মানুষের মানসিকতা বিপরীত কেন? কারণ সুইডেন, নরওয়ে প্রভৃতি সভ্য ও ধর্মহীন দেশের মানুষদের বিবেক মানবিকতা যুক্তিবোধ জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা মানবসভ্যতা ও মানবিকতার উৎকর্ষে উন্নীত হয়েছে। অপরপক্ষে কোরান ও হাদিস নামক অমানবিক বর্বর হিংস্র বইগুলির কারণে মুসলিম দেশগুলোয় মানবিক গুণাবলির কদর নেই। 

১৪৯.
সে এক বিস্ময় - বিষময় ধর্মগুলিতে মানুষ আজও কীভাবে বিশ্বাস করে!

১৫০.
নিশ্চয়ই শূকরদেরকে আল্যাপাক অত্যন্ত ভালোবাসেন। তিনি কোরানে পাকে বারবার শূকর হত্যা করতে মানা করেছেন। আর কোনো প্রাণীর প্রতি আল্যাপাকের কোনো পিরিতি লক্ষ্য করা যায় না। আল্যাপাকের প্রিয় প্রাণী শূকর। 
শুকুর আলহামদুলিল্যা।

ত্রুটি সংশোধন

২০১০ সালের ১৯ মার্চ তারিখে ধর্মকারীতে প্রকাশিত হয়েছিল ছোট্ট এই পোস্টটি:
ত্রুটি সংশোধন
ইছলাম ধর্মের অনুসারী পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাইতেছে।
কতিপয় ব্যক্তির অনবধানতা ও অসাবধানতার কারণে একটি ভুল ব্যাপকভাবে প্রচারিত হইয়াছে। বেহেশতবাসী মুছলিম পুরুষদের জন্য "৭২ জন কুমারী"-র স্থলে "৭২ বছর বয়সী কুমারী" পড়িতে হইবে।
স্বাক্ষর: সর্বশক্তিমান আল্লাহ
এক সাইটে এই একই আইডিয়ায় গত বছরের জুন মাসে আঁকা নিচের কার্টুনটি চোখে পড়লো গতকাল। মনে হলো, great fools think alike  

৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

সৎপাত্র

সুকুমার রায়ের ‘সৎপাত্র’ ছড়ার প্যারোডি করেছেন নাস্তিকথন

শুনতে পেলাম মদীনা গিয়ে
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
মোহাম্মদকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও, সে কেমন ছেলে?
মন্দ নয় সে, পাত্র ভালো
চরিত্র তার বেজায় কালো;
তার উপরে দাড়ির গঠন
অনেকটা ঠিক পাঁঠার মতন;
বিদ্যে বুদ্ধি? বলছি বেশ -
চুক্তিতে সে চড়াত মেষ!
পঁচিশে এসে টাকার জন্য 
ঘরজামাই সে গণ্যমান্য।
কী করে খায়? ধুর্ত বেজায় -
ডাকাতি করে দিন চলে যায়।
মানুষ তো নয়, সঙ্গীরা তার -
কেউবা পাগল কেউবা গোঁয়ার;
আরেকটি তার তৈরি ছেলে,
করল বিয়ে দুজন মিলে।
কনিষ্ঠটি মরল কোলে 
চন্দ্রে তখন গ্রহণ চলে।
মুহম্মদ তো কেবল ভোগে
যাদু, ভ্রম ও জ্বীনের রোগে।
কিন্তু তারা উচ্চ ঘর,
কুরাইশের বংশধর!
হাশেম তালেব মক্কাগ্রামের
কী যেন হয় মোহাম্মদের। -
যাহোক, এবার পাত্র পেলে,
এমন কি আর মন্দ ছেলে?

এক জোড়া পোস্টার


বাঙালি মুসলমানের দুর্জ্ঞেয় মনোজগৎ

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতে চার জামায়াত শিবির কর্মী কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলেছে। একেবারে প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে তারা। ঘটনার দায়ও স্বীকার করেছে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ-দেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার জন্য মোক্ষম একটা খবর। কিন্তু কোনো মুসলমানেরই সেই চিরচেনা ধর্মানুভূতি আহত হলো না। দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও হলো না, মিছিল হলো না, মোল্লারা গাড়ি ভাঙচুর করলো না। পাজামার ভেতরে পাঞ্জাবি গুঁজে দিয়ে কাঠমোল্লারা খেমটা নাচ নাচলো না। কারণ কী?

কারণ কোরআন শরীফ যারা ছিঁড়েছে, তারা সবাই মুসলমান। মুসলমান যখন কোরআন ছিঁড়ে ফেলে, বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে, জায়নামাজে আগুন দেয়, তখন এ-দেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আহত হয় না। এ-দেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আহত হয় অমুসলিম কেউ কোরআন অবমাননা করেছে - এমন কোনো ভুয়া খবরে!

রামুতে হামলার আগে গুজব রটালো, 'উত্তম বড়ুয়া কোরআনের উপর ঠ্যাং তুলে দিয়ে ছবি তুলেছেন।' ব্যস, আর কী লাগে! সারা পৃথিবী রামু দেখতে পেলো।

বরিশালের চর কাউইয়াতে একটা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এক হিন্দু ছেলের নামে ফেইসবুকে ফেইক একাউন্ট খুলে চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাসীরা ইসলাম অবমাননাকর কিছু পোস্ট করে উস্কানি দিয়েছিলো এলাকায়। আর অমনি শান্তির ধর্মের অনুসারীরা শান্তি বিতরণ করতে করতে করতে গ্রামটাকে লণ্ডভণ্ড করে ফেললো। কেউ একবার খোঁজখবরও নিয়ে দেখলো না, আসলে মূল ঘটনা কী!

এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে, কোরআন অবমাননার গুজব রটিয়ে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা এ-দেশে ঘটানো হয়েছে অনেকবার। অথচ এবার সত্যি সত্যি কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটেছে, তাও বাঙালি মুসলমানেরা চুপ! কারণ? কারণ ঐ একটাই। যারা কোরআন ছিঁড়েছে, তারা মুসলমান। মুসলমান হয়ে মুসলমানের দোষ দেখতে নেই, ধরতে নেই!

সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে মুসলমান মারছে, ইয়েমেনের পাল্টা জবাবে সৌদি আরবে মুসলমান মরছে। এতো মুসলমানের লাশ পড়ছে কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই। কেন? কারণ মুসলমানেরাই মুসলমান মারছে। অতএব চুপ থাকাই শ্রেয়।

শিয়ারা সুন্নীদের মারছে, সুন্নীরা শিয়াদের মারছে। মসজিদে বোমা মারছে। মসজিদ ভেঙে ধুলোবালি হয়ে যাচ্ছে। কারো অনুভূতিতে লাগছে না। অনুভূতিতে লাগে শুধু ভারতের বাবরি মসজিদের জন্য! মুসলমানেরা মসজিদ ভাঙলেও ভালো। এতে অনুভূতিতে লাগে না।

অনুভূতিতে লাগে শুধু 'কোনো অমুসলিম কোরআন অবমাননা করেছে' - এমন ভুয়া খবরে। আর নিজ ধর্মের কেউ কোরআন পোড়াক, জলে ভাসিয়ে দিক, মসজিদ ভেঙে পাউডার করে ফেলুক, তাতে কোনো সমস্যা নেই! অনুভূতি তখন ডিপ ফ্রিজে থাকে। সত্যি! বাঙালি মুসলমান না দেখলে বুঝতেই পারতাম না, সার্কাসের মতো ঐতিহ্য কেবলমাত্র এদের দ্বারাই ধরে রাখা সম্ভব।

পর্নোগ্রাফি - নাস্তিকদের নৈতিকতার উৎস

৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ১৮

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭

Khaled Osman: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মোহাম্মদ মানুষ হত্যা করেছে, নারীধর্ষণ করেছে, তার ছিলো এক গাদা বিবি। তবু মুছলিমরা তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব বলে মানে।

Rudra Joyonto: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বাকি সব ধর্মের মতোই ইছলামও ঘৃণাপূর্ণ ভাবধারা প্রচার করে।

রাজিয়া সুলতানা: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামের দোহাই দিয়ে আমাকে গান শিখতে দেয়া হয়নি।

Wamique Gajdhar: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম আমার শৈশব ধ্বংস করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি বই আমাকে পড়তে হয়েছে আরবি ভাষায়, যে-ভাষা আমি বুঝি না।

Hajji ExMuslim: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মুহাম্মদের করা দাবি ও প্রমাণের কোনও সামঞ্জস্য নেই।

Shazza: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার প্রাক্তন প্রেমিক আমাকে বলেছিল, তার অধিকার আছে চারটে বিয়ে করার এবং সে যদি তা করতে চায়, আমাকে তা স্রেফ মেনে নিতে হবে।

Ask Dr. Dude: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি চাই না, আমার আত্মীয়ারা দেখতে হোক ডাস্টবিন ব্যাগের মতো।

Boy Thunder: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যারা আমার মতো নয়, তাদেরকে ধর্ষণ, হত্যা ও হেয় করার চেতনায় আমার বিশ্বাস নেই। আর তাছাড়া আমি নারীদের শ্রদ্ধা করি।

Itsnebar: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি জেনেছি, মোহাম্মদ মানুষহত্যা করতো, মানুষদের দাস বানাতো।

Shani: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম বিশ্বাস করে, নারীর মগজ পুরুষের মগজের অর্ধেক।

হা-হা-হাদিস – ১৬৪

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

The son of Abu Said al-Khudri reported on the authority of his father that Allah's Messenger (may peace be upon him) said: When one of you yawns, he should keep his mouth shut with the help of his hand, for it is the devil that enters therein.

প্রশ্নহীনতাই প্রগতিহীনতা

লিখেছেন জর্জ মিয়া

রাত দুটো বেজে গেছে, নোমান ঘুমাচ্ছে না কিছুতেই। আসলে বলতে গেলে ওর ঘুম আসছে না। আজকে একজন নাস্তিক বন্ধুর কিছু প্রশ্নে তার সবকিছু ওলটপালট হয়ে আছে। নাস্তিক বন্ধুটি এমন সব প্রশ্ন করছে, যার সাথে সে যে একেবারেই অপরিচিত, তাও নয়। মনের অজান্তেই তার মনেও এমন কিছু প্রশ্ন এসেছে আগে। যেমন, নাস্তিক বন্ধুটির করা একটা প্রশ্ন আরও অনেক আগে থেকেই তার মনেও জাগতো। প্রশ্নটি ছিলো: মরনের পরের জীবন আসলে কেমন? হাদিস-কোরানের আলোকে দেখতে গেলে সেখানে যে সমস্ত শাস্তি ও আরামের কথা বলা হয়েছে, তার সাথে নাস্তিক বন্ধুটির কথাটাকে সে ধরে নিয়েছে, "দোযখ এবং বেহেশত আদতে মোটেও সুখকর নয়। দুটোই এক ধরনের একঘেয়েমির মত। একটাতে অনন্তকাল সাজা, যা বিরক্তিকর, অন্যদিকে অনন্তকাল যৌনসম্ভোগ, মদ্যপান - এসবও বিরক্তিকর।" 

তাছাড়া আরও কিছু প্রশ্নের জবাবে নোমান বলতে গেলে দিগভ্রান্ত। এর মধ্যে এমন একটা প্রশ্ন ছিলো: "কোনো ব্যক্তি যদি জান্নাতে যায় এবং সে যদি যা চায়, তা-ই করতে পারে, তাহলে কথা হচ্ছে, নোমান জান্নাতী হয়ে গেলে সে কি চাইলেই তার নাস্তিক বন্ধুটিকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে? ধরা যাক, অন্য আরও একজন জান্নাতী চাইছে, তার সে নাস্তিক বন্ধুটি দোযখবাসীই থাকুক। সেক্ষেত্রে স্রষ্টার পদক্ষেপ কী? যদি ধরা হয় যে, জান্নাতী এবং জাহান্নামী কেউই তাদের স্বতন্ত্র চিন্তা ভাবনা করতে অক্ষম, তাহলে সে জান্নাতে-যা-চাইবে-তা-পাবে বলার যৌক্তিকতা কোথায়?"

নোমানের কাছে এ ধরনের প্রশ্নের জবাব নেই। নাস্তিক বন্ধুটি আবার এও প্রশ্ন করলেন: স্রষ্টার স্রষ্টা কে? আরও খোলাখুলিভাবে বললে, আল্লাহ যদি মানুষ সৃষ্টি করে থাকেন, তবে আল্লাহকে সৃষ্টি করলেন কে? নোমান এ প্রশ্নের জবাব কিছুটা দিতে চেয়েছে এভাবে, "আল্লাহ স্বয়ম্ভু, তার কোনো স্রষ্টা থাকতে পারে না। তার কোনো শরিক নেই, এমনকি তাকে কেউ সৃষ্টি কিংবা জন্ম দেননি।" কিন্তু নাস্তিক বন্ধুটি সে কথা মানতে নারাজ। তার যুক্তি হচ্ছে, যদি আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি না করে থাকে, আল্লার কেন দায় পড়লো মানুষ সৃষ্টি করার? আল্লাহ যেমনভাবে সৃষ্ট, ঠিক তেমনভাবেই মানুষ সৃষ্ট কেন নয়? 

এবার নোমান কিছু ভাবছে। উত্তর কিছু একটা পেয়েছে: "আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন এমনভাবে যে, দেখে মনে হবে মানুষ স্বাধীন। আসলে সেটা মোটেও ঠিক নয়। আল্লাহর এই মানুষ সৃষ্টিকে আমরা এবার একটু অন্যভাবে দেখি। ধরি, একটা মোবাইল কি নিজে থেকে হতে পারে? পারে না। একজন প্রস্তুকারক অবশ্যই আছে। তাহলে মোবাইল যিনি প্রস্তুত করেছেন, তিনি মোবাইলে যে সব প্রোগ্রাম যেভাবে প্রস্তুত করেছেন, ঠিক সেভাবেই চলছে। এখানে ব্যবহারকারী ইচ্ছেমত চালাতে পারছেন ঠিকই, কিন্তু ঐ প্রস্তুতকারকের করে দেয়া নিয়মের বাইরে নয়। এমনকি মোবাইল নিজেও জানে না, তার স্রষ্টা কে? তাহলে বলা যায়, আমাদেরকে আল্লা যেভাবে বানিয়েছেন, সেভাবে আসলে সমস্ত কিছুর সম্বন্ধে জ্ঞান রাখা সম্ভব নয়। মোবাইলের যেমন লাইফ টাইম আছে, আমাদের ও তেমন আছে।"

নাস্তিক: তাহলে আপনি বলতে চাইছেন, আল্লা সম্পর্কে মানুষের পক্ষে কোনো ধারনা নেয়া সম্ভব নয়?
নোমান: হ্যাঁ, সেটাই। 
নাস্তিক: (হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায় অবস্থা!) বিজ্ঞ নোমান ভাই! আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে, আল্লার কাছে ক্ষমার অযোগ্য যে সকল গুনাহ আছে, তার মধ্যে শিরক প্রধান 
নোমান: হ্যাঁ। শিরক গুরুতর পাপ। এ পাপের ক্ষমা নেই। এ পাপের সাজাই হচ্ছে নিশ্চিত জাহান্নাম! 
নাস্তিক: কিন্তু নোমান ভাই, আপনি খেয়াল করেছেন কি না, জানি না, ইতিমধ্যেই আপনি এই পাপ করে ফেলেছেন! আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, তার সাথে কাউকে শরিক না বানাতে। কিংবা তুলনা করা একেবারেই নিষেধ। কেননা ইছলামী গ্রন্থেই বলা আছে, আল্লাহকে কারো সাথে তুলনা না করতে। আপনি সেখানে সামান্য মোবাইল প্রস্তুতকারীর সাথে মানুষের স্রষ্টা আল্লাকে তুলনা করে ফেলেছেন! এখনই তওবা করুন। মাফ পাবেন কি না, জানি না, তবে তওবা করে তাহাযযুদ আদায় করে নিন। মাফ পেলেও পেতে পারেন। 
নোমান: ইশ! কী ভুলটাই না করে ফেললাম! আল্লাহ কি আমাকে মাফ করবেন? আপনি ঠিকই বলেছেন, এখনই অযু করে তাহাযযুদ পড়ে নিই। মাফ পেলেও পেতে পারি।
নাস্তিক: হ্যাঁ, ভাই, যান। শুধু আর একটা কথা বলি: আপনার ভেতরে যে খোদাভীতি, ঠিক এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুছলিমরা এত পিছিয়ে। প্রথমে প্রশ্ন করতে শিখতে হয়। আর সেটাকেই আপনার আল্লা মহাপাপ তথা শিরকের সমতুল্য করে জারি রেখেছেন। "বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায় > বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে।"

আখিরাতে ভবিতব্য

২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ২: তাঁরা ছিলেন সশস্ত্র!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছিয়াশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯ > পর্ব ১১০ > পর্ব ১১১

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

হুদাইবিয়া সন্ধির মাত্র তিন মাস আগে বনি আল-মুসতালিক গোত্রের ওপর এবং দু'মাস আগে 'বানু ফাযারাহ' গোত্রের ওপর আগ্রাসী হামলা, লুণ্ঠন, উম্মে কিরফা-সহ অন্যান্য লোকদের অমানুষিক নৃশংসতায় খুন ও মুক্ত মানুষদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌনদাসী-রূপে রূপান্তরিত ও ভাগাভাগি সম্পন্ন করার পর, হিজরি ৬ সালের জিলকদ মাসে (মার্চ, ৬২৮ সাল) স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর ৭০০-১৪০০ জন অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে কী বার্তা ঘোষণা দিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেনে, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে।

হুদাইবিয়া সন্ধির প্রাক্কালে ঠিক কত জন অনুসারী মুহাম্মদের সঙ্গে ছিলেন, সে বিষয়ে আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণিত (৭০০-১৪০০ জন ) উৎসটি ছাড়াও আল-তাবারী তাঁর "তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক" গ্রন্থে আরও পাঁচটি আদি উৎসের রেফারেন্স যোগ করেছেন [1]। সেই উৎসগুলোর তিনটি-তে তিনি এই সংখ্যা ১৪০০ জন, মুহাম্মদ ইবনে সা’দের (৭৮৪-৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনায় তা ১৫২৫ জন ও অন্য একটি উৎসের বর্ণনায় তা ১৩০০-১৯০০ জন বলে উল্লেখ করেছেন [2]। এ ছাড়াও ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ সাল) তাঁর হাদিস গ্রন্থে এই সংখ্যা ১৩০০-১৪০০ জন, আর আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে এই সংখ্যা ১৪০০-১৬০০ জন  উল্লেখ করেছেন। [3] [4]

আদি উৎসের অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে, হুদাইবিয়া সন্ধির প্রাক্কালে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি ও তিনি ছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সক্রিয় বাধাদানকারী কুরাইশ দলের অশ্বারোহী সদস্যদের একজন। কুরাইশরা তাঁকে কিছু অশ্বারোহী সহ 'কুরাল-ঘামিম' নামক স্থানে প্রেরণ করেন (পর্ব: ৯৬)। কিন্তু অন্য এক আদি উৎসের উদ্ধৃতি দিয়ে আল-তাবারী এই তথ্যও বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত উৎস (নিম্নে বর্ণিত) মতে হুদাইবিয়া সন্ধির পূর্বেই খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, মদিনায় হিজরত করেছিলেন ও এই সন্ধির প্রাক্কালে তিনি কুরাইশদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদকে সাহায্য করেছিলেন।

জগতের সকল ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা হুদাইবিয়া সন্ধির ইতিহাস বয়ানকালে যে-তথ্যটি অতি উচ্চস্বরে প্রচার করে থাকেন, তা হলো - এই যাত্রায় মুহাম্মদ তীর্থযাত্রীর পোশাক পরিধান করে ওমরা করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ও কুরবানির জন্য এক দল উটের পাল সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাই এই তথ্যটি ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী জনগণের অনেকেই অবগত আছেন। কিন্তু যে-অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি অধিকাংশ লোকেরই অজানা তা হলো, ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে (Primary source of history of Islam) এই তথ্যটিও বর্ণিত আছে যে, এই যাত্রায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাদের মজুদ অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ-ঘোড়া সঙ্গে নিয়েছিলেন, তারা ছিলেন সশস্ত্র!

আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনা: [5]

'ইবনে হুমাযেদ < ইয়াকুদ বিন ইয়াকুদ বিন কুম্মি [6] <জাফর (ইবনে আবি আল-মুঘিরাহ) < ইবনে আবযা হইতে বর্ণিত:

যখন আল্লাহর নবী কুরবানির জন্য উটগুলো নিয়ে ধু আল-হুলায়েফা নামক স্থানে পৌঁছান, তখন উমর তাঁকে বলেন, "আল্লাহর নবী, আপনি কি অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়াগুলো সঙ্গে না নিয়েই এমন লোকদের এলাকায় গমন করবেন, যারা আপনার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত?" তাই আল্লাহর নবী তাদেরকে মদিনায় প্রেরণ করেন ও সেখান থেকে সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়াগুলো নিয়ে আসেন, কিছুই অবশিষ্ট রাখেন না। যখন তিনি মক্কার নিকটবর্তী হন, তারা তাঁকে সেখানে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন; তাই তিনি মিনার পথে যাত্রা করেন ও সেখানে সাময়িক যাত্রা বিরতি দেন। তাঁর গুপ্তচর তাঁর কাছে খবর নিয়ে আসে, "ইকরিমা বিন আবু জেহেল ৫০০ লোক সঙ্গে নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।" [7] [8]

আল্লাহর নবী খালিদ বিন ওয়ালিদ-কে বলেন, "খালিদ, তোমার চাচার পুত্র অশ্বারোহীদের সঙ্গে নিয়ে তোমার বিরুদ্ধে এসেছে।"

খালিদ বলে, "আমি হলাম আল্লাহ ও তার রসুলের তরবারি! আল্লাহর নবী, আমাকে হুকুম করুন, যেমনটি আপনি চান।" - ঐ দিন সে ‘আল্লাহর তরবারি’ উপাধিটি পেয়েছিল।

তিনি অশ্বারোহী দলের অধিনায়ক রূপে তাকে প্রেরণ করেন ও সে এক গভীর গিরিখাত (canyon) এর মধ্যে ইকরিমার সম্মুখীন হয় ও তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে, এইভাবে সে ইকরিমা-কে তাড়িয়ে মক্কার দেয়াল ঘেরা বাগানে ফেরত পাঠায়। ইকরিমা আবার ফিরে আসে ও খালিদ তাকে বাধা দেয় ও তাড়িয়ে মক্কার দেয়াল ঘেরা বাগানে ফেরত পাঠায়। ইকরিমা তৃতীয়বার ফিরে আসে, খালিদ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে মক্কার দেয়াল ঘেরা বাগানে ফেরত পাঠায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ নাজিল করে, "তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর" - থেকে "যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতাম” উক্তিটি পর্যন্ত।" (কুরান: ৪৮:২৪-২৫

[৪৮:২৪-২৫ - "তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা দেখেন। (২৫) তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিতাম।"]

নবীকে তাদের ওপর বিজয়ী করার পর, মুহাম্মদকে মক্কাবাসীদের ওপর বিজয়ী করার পর মক্কায় অবস্থানরত অবশিষ্ট মুসলমানদের কারণে আল্লাহ তাঁকে তাদের কাছ থেকে নিবৃত্ত করেছে; কারণ আল্লাহ এটা চায় না যে, অশ্বারোহীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদেরকে পদদলিত করুক।'

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

>>> আল-তাবারীর সম্পাদিত আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মদিনা থেকে রওনা হয়ে ৫-৬ মাইল দূরবর্তী ধু আল-হুলায়েফা নামক স্থানে পৌঁছার পর উমর ইবনে খাত্তাবের পরামর্শে মুহাম্মদ মদিনায় মজুত সকল অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়াগুলো নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। তারপর সেই অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়গুলো সঙ্গে নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও হাদিস গ্রন্থের মুখ্য লেখকদের কেউই 'আল-হুলায়েফা-র' এই ঘটনার কোনো উল্লেখ করেননি। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের এই যাত্রায় কী ধরণের অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে নিয়েছিলেন, তারও কোনো সরাসরি বর্ণনা তাঁদের লেখায় খুঁজে পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও তাঁদের রচিত হুদাইবিয়া অধ্যায়ের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের বর্ণনায় আমরা অতি সহজেই বুঝতে পারি যে, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ছিলেন সশস্ত্র! অন্যদিকে, আল-ওয়াকিদি ধু আল-হুলায়েফা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর বর্ণনায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো এই যে, ধু আল-হুলায়েফা নামক স্থানে পৌঁছার পর যখন উমর ইবনে খাত্তাব মুহাম্মদকে মজুদ অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়াগুলো সঙ্গে নেয়ার পরামর্শ দেন, তখন মুহাম্মদ তাঁর সেই প্রস্তাবে রাজী হননি।

আল-ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনা:
'তারা খাপের মধ্যে তলোয়ার ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র না নিয়েই রওনা হোন। তাঁর অনুসারীদের এক দল লোক কুরবানির পশুদের পরিচালনা করে। --তারা সেগুলোকে ধু আল-হুলায়েফা নামক স্থানে তাঁর যাত্রা বিরতি পর্যন্ত নিয়ে আসে। --উমর ইবনে খাত্তাব বলে, "হে আল্লাহর নবী, আপনার কি আশংকা হয় না যে, আবু সুফিয়ান বিন হারব ও তার অনুসারীরা আমাদের আক্রমণ করতে পারে কারণ যুদ্ধের জন্য আমরা কোনো প্রস্তুতি নিইনি?" আল্লাহর নবী বলেন, "আমি জানি না। আমার ইচ্ছা নয় যে, তীর্থযাত্রা কালে আমি কোনো অস্ত্রশস্ত্র বহন করি।"’ [9]

>>> কিন্তু, অন্যান্য উৎসের রেফারেন্স সম্বলিত আল-ওয়াকিদির হুদাইবিয়া অধ্যায়ের অন্যান্য ঘটনা প্রবাহের বর্ণনায় আমরা আরও যে-সমস্ত তথ্য পাই, তার একটি হলো:  'যখন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা হুদাইবিয়ার নিকটবর্তী এক কুপের কাছে এসে পৌঁছান, সেখানে যে কূপটি ছিল, তাতে পানির পরিমাণ ছিল খুবই অল্প। সেই অবস্থায় মুহাম্মদ তাঁর তূণী থেকে তীর বের করে তাঁর অনুসারীদের দেন ও বলেন, তারা যেন এই তীরটি ঐ কূপের পানিতে বসায়। তারা তাই করে। আর তারপর অলৌকিক উপায়ে সেই কূপ পানি-পূর্ণ হয়ে যায় এবং সেই পানির সাহায্যে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের পানির চাহিদা পূরণ করে [10]। এই একই ঘটনার বর্ণনা ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও ইমাম বুখারী তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার বর্ণনায় যে-গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - শুধুমাত্র তলোয়ারই নয়, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তীর-ধনুকও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। [11] [12] [13]

আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, যখন মুহাম্মদ তাঁর এক গুপ্তচর মারফত জানতে পারেন, কুরাইশরা তাঁদেরকে বাধা প্রদানের জন্য সমবেত হয়েছে; তখন তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ও এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, তা তাঁর অনুসারীদের কাছে জানতে চান। আবু বকর, আবু হুরাইরা ও আল-মিকদাল বিন আমর নামের এক অনুসারী তাঁকে পরামর্শ দেন যে, যদি কুরাইশার তাদেরকে বাধা প্রদান করে, তবে তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। এই একই ঘটনার বর্ণনা ইমাম বুখারী তাঁর হাদিস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; যেখানে তিনি আরও যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো, যদি কুরাইশরা তাদেরকে বাধা প্রদান করে, তবে তাদের পরিবার ও সন্তানদের মুহাম্মদ ধ্বংস করবেন কি না, সে বিষয়ে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন ("O people! Give me your opinion. Do you recommend that I should destroy the families and offspring of those who want to stop us from the Ka'ba?")। [14] [15]

সুতরাং প্রশ্ন হলো, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যদি যুদ্ধ করার জন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র না নিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে বিনা অস্ত্রে তারা কীভাবে সশস্ত্র কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন ও নবীকে যুদ্ধের পরামর্শ দিয়েছিলেন? আর বিনা অস্ত্রে মুহাম্মদই বা কীভাবে সশস্ত্র কুরাইশদের পরিবার ও সন্তানদের ধ্বংস করবেন কি না, সেই পরামর্শ আহ্বান করেছিলেন? মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যে তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ-ঘোড়া সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো মুহাম্মদেরই স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ (Psycho-biography) কুরান। "হুদাইবিয়া সন্ধি" সম্পন্ন করার পর সেখান থেকে ফিরে এসে মুহাম্মদ ঐ প্রসঙ্গে সূরা আল ফাতহ (চ্যাপ্টার ৪৮) প্রচার করেন, তাঁর এই জবানবন্দির "৪৮:২২-২৫" বাণীটি-কে একটু মনোযোগের সাথে বিশ্লেষণ করা যাক।

মুহাম্মদের ভাষায়:

৪৮:২২-২৩ – “যদি কাফেররা তোমাদের মোকাবেলা করত, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত। তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পেত না। (২৩) এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।”  

>>> কী ভাবে? কোনো সশস্ত্র আক্রমণকারী দল কোনো নিরস্ত্র মোকাবেলাকারী দলকে দেখে “অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন” কেন করবে? এটা তখনই সম্ভব, যখন মোকাবেলাকারী দল, আক্রমণকারী দলের মতই সশস্ত্র।

৪৮:২৪-২৫ - "তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা দেখেন। (২৫) তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিতাম।"

>>> ওপরে বর্ণিত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও ইকরিমা বিন আবু জেহেল বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ এই বাণীটি রচনা করুন, কিংবা তিনি এটি অন্য কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রচনা করুন; এই বাণীটি নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যারা জানতেন না যে, "মক্কায় কিছুসংখ্যক ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী যারা আছেন তারা কারা?" বলা হচ্ছে, এই না জানার কারণে কুরাইশদের সঙ্গে তাদেরও "পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা" আছে বলেই "তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন" - অর্থাৎ, সে কারণেই মুহাম্মদ কুরাইশদের আক্রমণ করেননি। যদি এই আশংকা না থাকতো "তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত" -অর্থাৎ, কুরাইশদের আক্রমণ করে ধ্বংস করা হতো। এটা তখনই সম্ভব, যখন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা হবেন সশস্ত্র।

বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ অনুসারীদের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন

নিত্য নবীরে স্মরি – ২২৪