২১ এপ্রিল, ২০১৫

টয়লেট, মসজিদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে

লিখেছেন রহমান পৃথু

১. 
টয়লেট যেমন, মুসলমানরা দিনের আকাম-কুকাম অপরাধ পাপবোধ ত্যাগ করে মসজিদে। এভাবে পায় আরাম .... আর পায় নতুন অপরাধ করার অনুপ্রেরনা - মসজিদ হতে। তাই মসজিদ তাদের এত প্রিয়।

মসজিদ-মাদ্রাসায় ভরে যাচ্ছে দেশ - অলিগলি, রাস্তার মোড়, হাট, ঘাট, গাছতলা বটতলা, অফিস, স্কুল, খালি জায়গা - কিছু বাকি নেই।

এরা সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের অর্থসম্পদ গিলে খাচ্ছে। সমাজের সব অর্থ-কড়ি জমা হচ্ছে মসজিদ-মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে। এটি একটি সর্বভূক প্রক্রিয়া। এদের চাহিদার শেষ নাই। মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর নাম করে মানুষের অর্থ-কড়ি কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে দেশব্যাপী - সর্বগ্রাসী রাক্ষসের মত।

এরা এক টাকা দুই টাকা ভিক্ষা নিয়ে বাঁশের খুঁটি ও পাটকাঠির বেড়া দিয়ে শুরু করে মসজিদ। এর পর সোনার গম্বুজ মণি-মানিক্য দিয়ে সাজালেও সে মসজিদ নির্মাণের চাহিদা শেষ হয় না।

এভাবে বাংলাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অশুভ শক্তির অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ও সম্পদের পাহাড় পুঞ্জিভূত হচ্ছে।

ধর্ম মানুষকে উন্মাদ করে। আর ধর্মউন্মাদনার শেষ ধ্বংসে।

২.
আমি অনেক মুসলিম দেশে গিয়েছি।
কিন্তু নামাজ পড়ে কপালে ঘা বানানোর কৌশল একমাত্র বাঙালি মুসলমানরাই জানে।

এরা কত ধুরন্ধর!

৩.
আমরা মুসলমান। আমাদের ঈমান - দুই টাকায় কেনা যায়।

মুসলমানদের বিশ্বাস - ফাঁকা বুলি।

আমরা ব্রিটিশ, আমেরিকানদের অধীনে ভাল আছি... ছিলাম... থাকা সৌভাগ্যের মনে করি। ব্রিটিশদের শিক্ষা, বিচার, প্রশাসন, রেলওয়ে ব্যাবস্থা এখনও আমাদের দেশে সেরা।

ক্রুশ আঁকা পাসপোর্ট... আমাদের কাছে সোনার হরিণ।

আমাদের অধিকাংশ যুবক, যুবতী, পুরুষ, নারী এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা বাংলাদেশ নয়... ব্রিটিশ রাণীর অধীনে থাকতে পছন্দ করি।

শুধু আমরা কেন, সৌদি আরবের নারীদেরকে সুযোগ দিন... সোনার মক্কা-মদিনা ...আল্লার আরশ ফাঁকা হয়ে যাবে।

এভাবে পাশ্চাত্যের ভাষা, জীবন, মূল্যবোধ, জ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে মুসলমানদের অহংকারের নির্লজ্জ পরাজয় প্রমাণিত হয়েছে।

মুসলমান যখন কোনো খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু বা নাস্তিক দেশের কাছে নির্লজ্জের মত আশ্রয় চায়, তখন তাদের অহংকার কোথায় থাকে?

মুসলমানদের অহংকার ও আদর্শ বলে কিছু নেই।

মুসলমানরা কাফের, নাস্তিক, বিধর্মীদের করুণায় বেঁচে থাকা পৃথিবীর অনুন্নত জনগোষ্ঠী।

তারপরও মুসলমানরা আরবীয়দের জীবন ও ধর্মকে শ্রেষ্ঠ দাবি করে। কোনো মুসলমান ইসলাম নিয়ে গর্ব করার আগে এ কথাগুলো মনে রাখবেন, আশা করি।

১৯ এপ্রিল, ২০১৫

কোরান কুইজ – ৫৯

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৬৯: আল্যার এক দিন মানুষের কয় দিনের সমান?

১. এক হাজার বছর
২. পঞ্চাশ হাজার বছর

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

আমাদের আত্মীয়েরা – ৭৯

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।


ভারতের এক রেলওয়ে স্টেশনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত এক বানরকে রক্ষা করলো আরেক বানর।
ভিডিও লিংক: https://youtu.be/yDcYpXYvg6M

১৮ এপ্রিল, ২০১৫

খোলা চিনির বস্তা ও মমিন মাছি

লিখেছেন সংশপ্তক অর্ক

আমি প্রায়ই চলতি পথে রাস্তায় খুব সুন্দর মডেলের গাড়ি দেখি, মোটর বাইক দেখি, রাস্তার পাশে আলীশান বাড়ি দেখি, দোকানে সাজানো সুস্বাদু খাবার দেখি। কিন্তু আমি কখনই সে গাড়ি বা বাড়ি বা খাবারকে জোর করে দখল করবার চেষ্টা করি না। আপনারাও হয়তো করেন না।

কেননা আমার ভালো লাগলেই বা লোভ লাগলেই যে তা আমি জোর করে বা চুরি করে যে কোনো কিছু দখল করতে পারি না, বা আমার তা করা উচিত নয়, এইটুকু সামাজিক বোধ ও নীতিবোধ আমার আছে। 

এটা সত্য যে, রাস্তায় পরিপাটি পোশাক পরা, বা আকর্ষণীয় পোশাক পরা কিংবা আকর্ষণীয় গড়নের কোন মেয়ে দেখলে আমার ভালো লাগে। আমি যেহেতু পুরুষ, আমার যেহেতু যৌবন আছে, সেহেতু পহেলা বৈশাখের রঙীন শাড়ি পরা ঈষৎ কোমর উন্মোচিত যুবতী দেখলে আমার ভালোই লাগে, কখনো শিহরণও অনুভব করি। 

কিন্তু তাই বলে কোনো যুবতীর শরীরে রাস্তায় বা লোকালয়ে ঝাঁপিয়ে পরবো, এমন অসভ্যতা বা অসামাজিক আমি কী করে হতে পারি? ভালো লাগলেই বা শিহরিত হলেই তা পাবার জন্য আমি যত্রতত্র ঝাঁপিয়ে পরবো? এটাই কি নীতিশিক্ষা? 

কাম, ক্রোধ, লোভ - এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যিনি না রাখতে পারেন, সে দায় তাঁর। একজন সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য মানুষ অবশ্যই এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন বলেই তিনি সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য। আমরা তাঁকেই সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য বলি, যিনি তার এই তিনটি রিপুকে পরিমাপ মত নিয়ন্ত্রণে রাখেন। 

একটা উদাহরণ দেয়া হয় প্রায়ই: চিনির বস্তা খোলা থাকলে নাকি মাছি উড়ে এসে পড়বেই। হ্যাঁ, এটা সত্য। মিষ্টি জাতীয় খাবার খোলা থাকলে মাছি উড়ে এসে সে খাবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, কিন্তু মানুষ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে না। আর তাছাড়া নারীজাতিও চিনির বস্তা নয়, পুরুষরাও মাছি মত কিছু নয়। 

মানুষ আর মাছিকে একই মাত্রায় মাপাটা আহাম্মকি। অবশ্য এই ফারাকটুকু বোঝার মত জ্ঞান যাদের নেই, সেইসব মুমিন বান্দার কাছে এই আলোচনার কোনো মুল্যই থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।

দু'টি ইছলামী প্রতীক



১৭ এপ্রিল, ২০১৫

বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ: শেষ দৃশ্য!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৭৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – উনপঞ্চাশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কর্মময় নবী জীবনে ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর ওহুদ যুদ্ধ পরবর্তী চারটি মাসে আবু সুফিয়ান বিন হারব-কে হত্যা চেষ্টা, 'আল-রাজী’ও বীর মাউনা-র অভিযান কীরূপ করুণ ব্যর্থতায় সম্পন্ন হয়েছিল, তার আলোচনা গত তিনটি পর্বে করা হয়েছে।

বীর মাউনা অভিযানে আমর বিন উমাইয়া আল-দামরি নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী কীভাবে বানু আমির গোত্রের দুইজন নিরীহ লোককে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করেছিলেন এবং সেই খুনের রক্তমুল্য পরিশোধ করতে মুহাম্মদ কেন বাধ্য ছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

বীর মাউনার ঘটনার পর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কী অজুহাতে মদিনায় অবস্থিত 'বনি-নাদির' নামক এক ইহুদি গোত্রের সমস্ত মানুষ কে তাঁদের শত শত বছরের পৈত্রিক ভিটে-মাটি থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি করায়ত্ত করার মাধ্যমে বনি আমির গোত্রের রক্ত-মূল্য, তাঁর পরিবার পরিজনদের ভরন-পোষণের অর্থ এবং তাঁর নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছিলেন - তার আংশিক আলোচনা "বনি নাদির গোত্রকে উচ্ছেদ ও তাদের সম্পত্তি লুট!" পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদের কর্মময় নবী জীবনের পরবর্তী অংশের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে 'বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ’ ঘটনা সরাসরি সম্পর্কযুক্ত! 

তাই উৎসাহী পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ এই যে, তাঁরা যেন এই নৃশংস হৃদয়বিদারক উপাখ্যানের শেষ অংশটি পড়ার আগে এই উপাখ্যানের প্রথম অংশটির (পর্ব-৫২) উপর আর একবার চোখ বুলিয়ে নেন।

বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ উপাখ্যানের পরবর্তী অংশ 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল তাবারীর বর্ণনা: [1] 

পূর্ব প্রকাশিতের পর (Resumption of the narrative): 

'তাই তারা তাদের উঠগুলোর পিঠ যথাসম্ভব বহনযোগ্য জিনিস-পত্র দিয়ে বোঝাই করে। লোকেরা তাদের বসত বাড়ীর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত ধ্বংস করে তার যা কিছু সম্ভব তা তাদের উঠের পিঠের উপর স্থাপন করে ও তা নিয়ে রওনা হয়। কিছু লোক যায় খাইবার, অন্যরা যায় সিরিয়ায়। 

যে লোকগুলো খাইবারে গমন করে তাদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিল সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েক [পর্ব-৫০], কিনানা বিন আল-রাবি বিন আবুল হুকায়েক ও হুয়েই বিন আখতাব। সেখানে যাওয়ার পর তারা হয় পরাধীন বাসিন্দা। 

আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] বলেছেন যে, তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে আসে তাদের মহিলাদের, সন্তানদের, কিছু সম্পদ; খঞ্জনি ও বাঁশি, তাদের পিছনে গায়িকারা তা বাজাতে বাজাতে আসে। 

তাদের মধ্যে ছিল উরওয়া বিন আল-ওয়ারদ আল-আবসির স্ত্রী উম্মে 'আমর', যাকে তারা তার কাছ থেকে খরিদ করেছিল; সে ছিল বনি গিফার গোত্রের এক মহিলা। এমন ধুমধাম ও জাঁকজমক সহকারে (তারা গমন করে), যা সেই সময়ে অন্য কোন গোত্রের ক্ষেত্রে কখনো পরিলক্ষিত হয় নাই। 

তারা তাদের ধন-সম্পদ আল্লাহর নবীর কাছে ফেলে আসে এবং তা তাঁর ব্যক্তিগত ধন-সম্পদে পরিণত হয়, যা তিনি তাঁর ইচ্ছামত বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন।

আনসারদের বঞ্চিত করে তিনি সেগুলো মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করেন। ব্যতিক্রম শুধু সাহল বিন হুনায়েফ এবং আবু দুজানা সিমাক বিন খারাশা নামের দুই আনসার, যারা তাদের দারিদ্র্যতার অভিযোগ আনে ও সে কারণে তিনি তাদেরকেও কিছু দান করেন। 

সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে বনি নাদির গোত্রের মাত্র দু’জন লোক মুসলমান হন: ইয়ামিন বিন উমায়ের আবু কা'ব বিন 'আমর' বিন জিহাশ, ও আবু সা'দ বিন ওহাব। 

ইয়ামিন পরিবারের লোকদের একজন আমাকে বলেছেন যে আল্লাহর নবী ইয়ামিন কে বলেন, "তুমি কী জানো যে তোমার জ্ঞাতিভাই (cousin) আমার সাথে কী রূপ ব্যবহার করেছে ও সে কী প্রস্তাব করেছে? 

তার পরিপ্রেক্ষিতে, ইয়ামিন এক লোককে অর্থের বিনিময়ে 'আমর' বিন জিহাশ কে খুন করার জন্য পাঠায়; ঐ লোকটি তাকে খুন করে, যা তারা জানিয়েছে।' 

(আল তাবারী হইতে বর্ণিত: 'আল-ওয়াকিদির উদ্ধৃতি: তারা যখন আল্লাহর নবীর উপর পাথর নিক্ষেপের ষড়যন্ত্র করে, --'আমর' বিন জিহাশ পাথর নিক্ষেপের জন্য ছাদের উপর উঠে। এই খবরটি আরশ থেকে আল্লাহর নবী কাছে পৌঁছে (News of this came to the Prophet from Heaven)--।') [2][3]

বনি নাদির গোত্রের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ 'সুরা হাশর' নাজিল করে [সুরা: ৫৯]; যেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণিত আছে কী ভাবে আল্লাহ তাদের উপর প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটিয়েছে, তার নবীকে তাদের উপর ক্ষমতাবান করেছে ও তিনি তাদের সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছেন।                                       

আল্লাহ নাজিল করে

৫৯:২ - "তিনিই কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে প্রথমবার একত্রিত করে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে বহিষ্কার করেছেন। তোমরা ধারণাও করতে পারনি যে, তারা বের হবে এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর এমন দিক থেকে আসল, যার কল্পনাও তারা করেনি। আল্লাহ তাদের অন্তরে ত্রাস সঞ্চার করে দিলেন। তারা তাদের বাড়ী-ঘর নিজেদের হাতে এবং মুসলমানদের হাতে ধ্বংস করছিল। অতএব, হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।"

>>> এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো, লোকেরা তাদের বসত বাড়ীর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত ধ্বংস করে এবং তা তাদের উটির পিঠের ওপর স্থাপন করে রওনা হয়; যেটি ছিল আল্লাহর প্রতিহিংসার গ্রহণ।

৫৯:৩ - "আল্লাহ যদি তাদের জন্যে নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন।"

>>> অর্থাৎ, তরবারি মারফত।

"আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব।" 

>>> আরও আছে জাহান্নাম।

৫৯:৪-৫ - "এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (৫) -তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন।"

>>> অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমেই সেগুলো কাটা হয়েছিল; এটি কোনো ধ্বংস নয়, বরং আল্লাহর প্রতিশোধ গ্রহণ ও অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করণ।

৫৯:৬- "আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।"          

>>> অর্থাৎ বনি নাদির গোত্রের কাছ থেকে।

৫৯:৭ - "আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।"

>>> মুসলিমরা জোরপূর্বক যে কৃষি-জমি ও বসত-বাড়ি (farms) হস্তগত করেছে, তার মালিক হলো আল্লাহ ও তার রসুল।

৫৯:৮-১০ - "এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী। (৯) -যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। (১০) -আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।"          

>>> তাই আল্লাহর নবী এই সম্পদ মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করেন; ব্যতিক্রম শুধু সাহল বিন হুনায়েফ এবং আবু দুজানা সিমাক বিন খারাশা যারা তাদের দারিদ্র্যের অভিযোগ আনে ও তাই তিনি তাদেরকেও কিছু দান করেন।

৫৯:১১–১৪- "আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি?"

>>> এর মানে হলো, আবদুল্লাহ বিন উবাই ও তাঁর সহকারী ও যারা তাদের মতই মানসিকতার অধিকারী [বিস্তারিত, পর্ব: ৫২]।

"তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। (১২)- যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না। (১৩)- নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। (১৪)- তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে। তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়।"    

>>> অর্থাৎ বনি আল-নাদির 

৫৯:১৫ -"তারা সেই লোকদের মত, যারা তাদের নিকট অতীতে নিজেদের কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"  

>>> অর্থাৎ বনি কেইনুকা গোত্রের পরিণতি [বিস্তারিত, পর্ব: ৫১]।

৫৯:১৬ -১৭ - "তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। (১৭]) অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।[4][5] 

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল, আয়াত নম্বর, >>> ও [**] যোগ - লেখক।]

১৬ এপ্রিল, ২০১৫

নারীর শরিয়াসম্মত পোশাক ও নিয়ন্ত্রণহীন মমিনীয় ঈমানদণ্ড

নারী ধর্ষিত হলে বা তাকে উত্যক্ত করা হলে এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই নারীর পোশাক বা আচরণের ভূমিকা থাকে বলে মনে করে এক জাতীয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। এবং এদের সংখ্যা রীতিমতো আতঙ্কজাগানিয়া। আরও বেদনার কথা এই যে, এমন ধারণা পোষণ করে অনেক নারীও।

বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, নারীর শরিয়াসম্মত পোশাকও মমিনীয় ঈমানদণ্ড নিয়ন্ত্রণে অক্ষম।




পোস্টার: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

আপাদমস্তক বস্তাবন্দী বোরখাবন্দী জেনানা দেখেও মমিনীয় ঈমানদণ্ড অদম্য।


ছহীহ ধর্ষবরণ উৎসব

লিখেছেন পুতুল হক

১.
সারাদিন ধরেই টিএসসির বর্বর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ছি। নিউজ লিংকের কমেন্ট আমি পড়িনি। এদেশের মানুষের গড়পড়তা মানসিকতা জানা হয়ে গেছে। রুচি হয়না ওসব পড়তে বা ওদের সাথে তর্ক করতে। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, যে নারীদের নিয়ে এসব হলো, তাঁরা কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন? নাভীর উপর শাড়ি আর হিজাব পরে বৈশাখী মেলা পরিহার করবেন, নাকি নিজের সম্মানের জন্য খোলা চুলে নিজের পছন্দমত পোষাকে বের হবেন? 

এতো কিছুর পরেও যদি মেয়েরা পুরুষের নোংরা রুচির বহিঃপ্রকাশের জন্য নিজেদের শরীর এবং পোশাককে দায়ী মনে করেন, তাহলে বলবো - তাঁরা সারাজীবন "মেয়ে মানুষ" হয়েই থাকুক। মানুষ হবার যোগ্যতা এঁদের নেই। 

আর বাংলাদেশের গড়পড়তা পুরুষদের প্রতি ঘৃণা জানাবার ভাষা আমার নেই। অবশ্য পুত্রবধূর অর্ধউলঙ্গ শরীর দেখে যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগা এবং কলে-কৌশলে তাকে বিয়ে করা ব্যক্তি যাদের চোখে মহামানব, তাদের কাছ থেকে আর যা-ই হোক, ভব্যতা আশা করা যায় না।

কিছু মেয়ে পিঠ খোলা রেখে নাভির নিচে শাড়ি পরে পহেলা বৈশাখে বের হয়েছিল। এ নিয়ে কিছু মুক্তাবালের ধারণা, তাতে নাকি দেশ "যৌনপল্লী" হয়ে গেছে, আর তাদের গায়ে হাত দেয়া জায়েজ! এদেরকে কেমনে বুঝাই কেউ ন্যাংটা হইয়া হাঁটলেও তার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার কারো নাই...

সিলেটে এক গৃহবধুকে ধর্ষণ করল এক ইমাম। কারো ধর্মানুনুভোদায় আঘাত লাগার কথা শোনা গেল না।

শাড়ি পরে কিছু মেয়ে টিএসসিতে পহেলা বৈশাখ পালন করতে করতে গেলে কিছু মুসলমান মেয়েদেরকে ন্যাংটা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করল। চাপাতির কোপ বাদেও যে এভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেটা আমরা আবার নতুন করে শিখলাম।
পোস্টার ও মন্তব্য: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

২.
এইমাত্র এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো কালকের বর্বরতা নিয়ে। এমন ভাব করলো যে, সে কিছু জানেই না। সব শুনে বলল, এসব নিশ্চই বস্তির ছেলেপেলেদের কাজ। মাথা না ঘামাতে বলল আমাকে। আমার আশেপাশে ভদ্র সুশিক্ষিত ছেলেরা যারা ছিল, সারাদিন কেউ বিষয়টা নিয়ে তেমন কোন কথাই বলেনি। সবাই এড়িয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এভাবে এড়িয়ে যাওয়াটা তো প্রকারান্তরে নীচ মানসিকতাকে সমর্থন করে যাওয়া। ঘটনাটা বস্তিতে হয়নি, হয়েছে পহেলা বৈশাখের উৎসবে, আমাদের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোল ঘেঁষে। বস্তিতে কি মানুষ থাকে না? সেখানে কি সব রকম বর্বরতা বৈধ? তাহলেতো আমাদের পুরো দেশটাই একটা বস্তি। ঘটনাটা যদি আমাকে নিয়ে ঘটতো, তাহলেও কি আমার ভাই বন্ধুরা এভাবে এড়িয়ে যেত? কে জানে! ফোন রাখার আগে বলল, মাথা গরম না করে ইজিয়াম খেয়ে ঘুমাতে। 

আমরাতো ঘুমিয়েই আছি। শান্তির ছায়া পড়ছে মাথার ওপরে, না ঘুমিয়ে উপায় কী? এরপর ঘরে ঢুকে যখন হিজাব না পরার কারণে বিবস্ত্র করবে, তখনও ঘুম ভাঙবে না।

বেদ্বীনবাণী - ৩৫



১৫ এপ্রিল, ২০১৫

শান্তির ধর্মের অসুখী অনুসারীরা

লিখেছেন এন্টনী ফিরিঙ্গী

অভিজিৎ রায় দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর সাথে ধর্মের একটা কো-রিলেশন দেখিয়েছিলেন। এর পর অনেকগুলো সূচক আমাদের সামনে এসেছে। যেমন, ব্যর্থ রাষ্ট্র, ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব নেতিবাচক সূচকগুলোতে শীর্ষ দেশগুলো প্রায় একই থাকে। এবং এগুলোর সাথেও ধর্মের কো-রিলেশন টানা হলে গ্রাফগুলো প্রায় একই থাকে।

গত ২০ মার্চ "আন্তর্জাতিক সুখ দিবস" উপলক্ষে গ্যালপ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে সুখী রাষ্ট্রের তালিকা। তালিকাটা ওল্টালে হয়ে যায় "অসুখী রাষ্ট্রের তালিকা।" সুখী রাষ্ট্রের তালিকার সর্বশেষ ৫ টি দেশ অর্থাৎ ৫ টি সবথেকে অসুখী রাষ্ট্রে হল - সুদান, তিউনেশিয়া, বাংলাদেশ, সার্বিয়া, তুরস্ক। সার্বিয়া ছাড়া বাকি দেশগুলোতে মুসলমানদের সংখ্যা ৯০- ৯৯ শতাংশ। অসুখীর তালিকার প্রথম ১৫ টি দেশের ৯ টিই মুসলিম রাষ্ট্র। সুখী রাষ্ট্রের তালিকায় কয়েকটি মুসলিম দেশ বাদ দিলে বাকিদের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়নি আরো কিছু অস্থিতিশীল রাষ্ট্র। নইলে অসুখী রাষ্ট্রের তালিকায় যোগ হত আরো কিছু ইসলামিক স্টেট।

ইসলামিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার সময় এসেছে। কী কারণে এরা অসুখী? দেখা গেছে, অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা সুখ পরিমাপের খুব একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ মানদণ্ড নয়। কারণ সুখী রাষ্ট্রের তালিকার প্রথম ১০ টি দেশ ল্যাটিন আমেরিকার, যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ইউরোপ-আমেরিকার শক্তিশালী দেশগুলো থেকে বেশ খানিকটা পেছনে। তবে অর্থনীতিটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও একেবারে এড়িয়ে যাবার মতোও ফ্যাক্টর না। কারণ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর পরেই সুখী রাষ্ট্রের তালিকার মধ্যস্থান পর্যন্ত আধিপত্য দেখা যায় স্ক্যান্ডিনেভীয় এবং ইউরোপীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো; পাশাপাশি আমেরিকা, কানাডা, সিঙ্গাপুরের মত দেশও আছে ওপরের দিকেই। যাই হোক, তারপরও সামগ্রিক বিবেচনায় অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ইসলামী রাষ্ট্রগুলো অসুখী - এমন হাইপোথিসিস গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে: মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকগণ নিজেদের অসুখী ভাবছেন কেন? যাদেরকে জন্মাবধি শেখানো হয় - ইসলাম সর্বোচ্চ শান্তির ধর্ম, শতকরা ৯৭- ৯৯ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ সুদান, তিউনিসিয়া, তুরস্কের যেখানে কথিত স্বর্গ হবার কথা, সেই দেশগুলোর নাগরিকরাই পৃথিবীর সব থেকে অসুখী মানুষ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এই দেশগুলোর জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

একটি জাতি গঠিত হয় জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। কিন্তু ইসলাম অনুসারীরা ধর্মের ভিত্তিতে একটা জাতি কল্পনা করে নেয়। এবং বাস্তবে ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বা হয়েও সমগ্র পৃথিবীর সিংহভাগ মুসলিম কিছু কমন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, যেগুলো নিঃসন্দেহে তাদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলছে।

ধার্মিকদের প্রার্থনা থেকে তাদের মানসিকতার কিছুটা আঁচ করা যায়। অমুসলিমদের প্রার্থনা থেকে মুসলিমদের প্রার্থনার কিছুটা পার্থক্য আছে। যেমন, বৌদ্ধধর্মে প্রার্থনার সময় বলা হয়:

"সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু, অবেরা হোন্তু, অব্যাপজ্ঝা হোন্তু, সুখী অত্তানং পরিহরন্তু, সব্বে সত্তা মা যথালব্ধসম্পত্তিতো বিগচ্ছন্তু" অর্থাৎ সকল প্রাণী সুখী হোক, শত্রুহীন হোক, সুখী অহিংসিত হোক, সুখী আত্মা হয়ে কালহরণ করুক, সকল প্রাণী আপন যথালব্ধসম্পত্তি হতে বঞ্চিত না হোক।

জগতের সকল প্রাণীর কল্যান কামনা করে এদের প্রার্থনা শেষ হয়। পক্ষান্তরে, মুসলমানদের প্রার্থনায় হরহামেশাই শোনা যায়, অমুকের হস্তপদ ধ্বংস হয়ে যাক, নির্বংশ হোক। এদের প্রার্থনায় সকল প্রাণী দূরে থাক, সমগ্র মানব জাতির কল্যান চাওয়ার কথা ভুলেও শোনা যায়। শুধু মুসলিম উম্মার শান্তি সমৃদ্ধিই এদের প্রার্থনার মূল বিবেচ্য। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রার্থনা অর্থহীন বা সুযোগ নেই মুসলমানদের জন্য, কারণ তাদের কল্পিত স্বর্গে অন্যদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। সকল সুখ, শান্তি যেন সব তাদের জন্যই। এরকম একটা আত্মকেন্দ্রিক, আত্মাহংকারী মন সুখী হতে পারে না।

মুসলমানরা মোটামুটি সারা পৃথিবী জুড়েই অসহিষ্ণু এবং সহিংসতাপ্রিয়। তাদের কাছে মুসলমান ব্যতীত সকলেই শত্রু। তাদের দৃষ্টিতে একজন অমুসলিম মানেই শত্রু, ষড়যন্ত্রকারী, এবং ইসলাম অবমাননাকারী। এমনকি অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা পর্যন্ত এই ধর্মে নিষেধ আছে। অধিকন্তু এরা সব সময় প্রতিপক্ষ খোজে। অমুসলিম প্রধান দেশে অমুসলিমদের ইসলামের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে দেখে, যেসব দেশে প্রায় সবাই মুসলমান, সেসব দেশে একগ্রুপ আরেক গ্রুপকে সহীহ মুসলমান না এই যুক্তি দেখিয়ে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়। যেমন, পাকিস্তানে এমন কোন জুম্মার দিন পাওয়া যাবে না, যেদিন শিয়াদের হাতে সুন্নীরা মার খাচ্ছে না নতুবা সুন্নীদের হাতে শিয়ারা মার খাচ্ছে না। কার্যত অনেক মুসলিম দেশে মুসলমানরা সর্বদাই তটস্থ থাকে ইসলামপন্থীদের জন্য। যেমন, পাকিস্তানে প্রায় দেড়শতাধিক স্কুল ছাত্র তালিবানদের হাতে মারা গেল। নাইজিরিয়ায় মসজিদে ব্রাশ ফায়ারে প্রায় ৮০ জনকে হত্যা করল বোকো হারাম গোষ্ঠী। সব ক্ষেত্রেই আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে গুলি চালানো হল। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে খুব বড় প্রতিবাদও দেখা যায়নি। খুব সম্ভব ইসলামিস্ট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটা অনৈসলামিক কাজ হয়ে যায় কি না, এরকম একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। কার্যত এমন অস্বস্তিকর অবস্থায় প্রতিটি মুসলিম দেশ ভূগছে। এগুলোকেও অসুখী হবার একটা ফ্যাক্টর ধরা যেতে পারে।

ইসলামী স্কলাররা প্রায়ই এমন ধারণা দেন যে, পৃথিবীটা মুমিনদের কাছে কারাগারস্বরূপ, এখানে জীবনটাকে যত কম উপভোগ করা যাবে, তাদের জন্য কথিত স্বর্গে যাওয়া ততই সহজ হবে। এই ধারণাটি প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়েছে অনুন্নত ইসলামী দেশগুলোতে। ফলে এসব জায়গায় জীবনবিমুখ এক বিরাট জনগোষ্ঠী গড়ে উঠছে। এরা জীবনের জন্য আবশ্যকীয় আনন্দগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। জীবনটা উপভোগের বিষয় - এই চিন্তা করাও তাদের কাছে পাপ। কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখে আনন্দ পাওয়াও এরা অনৈসলামিক মনে করে। কোনো খাবার হাতে নিয়ে ভাবে, এটা হালাল কি না। স্বাভাবিকভাবেই এরা সুখী হতে চায় না, কারণ তাতে তাদের কথিত পরকালের অবারিত সুখ ধরা নাও দিতে পারে।

এছাড়া মুসলমানদের মানসিক হীনমন্যতা তাদের অসুখী হবার পেছনে অনেকখানি দায়ী। কোনো সুপারস্টার ইসলাম গ্রহণ করেছে, এ ধরনের খবর মুসলমানদের কাছে টনিকের কাজ করে। স্বাভাবিক অবস্থায় কতটা অসুখী হলে একজন পর্নস্টারের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবর এদেরকে উৎফুল্ল করে, ভাবা যায়! অসহায় ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো ধরে বাঁচার শেষ চেষ্টার মতই পর্নস্টার থেকে মহাকাশচারী, ফুটবলার, অভিনেতা, গায়ক ইসলাম গ্রহণ করছে - এই ধরনের খবর শুনে এরা সুখী হবার চেষ্টা করে। কোনো অমুসলিম বিজ্ঞানী কালোজিরার একটা গুণ আবিষ্কার করেছে, কিংবা কোনো অমুসলিম বিজ্ঞানী রোযা রাখার একটা উপকারিতা খুঁজে পেয়েছে, এগুলো অসুখী মুসলমানদের সাময়িক মানসিক প্রশান্তি দেয়, বিনিময়ে মরিশ বুকাইলি'রা আখের গুছিয়ে মিটিমিটি হাসে।

যাই হোক, ফিরে যাই "হ্যাপী প্লানেট ইনডেক্সে।" জিডিপি র‍্যাংকিং-এ ১১৮ তম অবস্থানের গুয়েতেমালা সুখী রাষ্ট্রের তালিকায় হয়েছে ২য়। আসলে সারা ল্যাটিন আমেরিকার অবস্থাটা এরকমই। এই মহাদেশের লোকেরা পৃথিবীতে সব থেকে বেশি হাসে। একবেলা না খেলেও মুখের হাসিটা ঠিকই থাকে। সারা মহাদেশ জুড়েই রয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলার এক শক্তিশালী বলয়। মানবিক গুণাবলী বিকাশের সব কিছুই আছে বলা চলে। ইউরোপের মত এতটা যান্ত্রিকও হয়ে ওঠেনি এদের জীবন। সুখী হতে চাইলে এদের অনুসরণ করা যেতেই পারে তাই। শান্তিই যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে হাতে ছুরি নিয়ে যে সেটা প্রতিষ্ঠা করা যায় না, বাস্তব অভিজ্ঞতা সেটাই বলে।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১১২



নিউ মদিনায় ছহীহ উপায়ে নববর্ষ পালন

লিখেছেন শান্তনু আদিব

প্রথমেই আমি বলে রাখি, আমি কিন্তু পহেলা বৈশাখ পালনের পক্ষে না। নববর্ষ যদি পালন করতেই হয় তাহলে মুসলিম জাতির নববর্ষ হচ্ছে পহেলা মুহাররাম। যেহেতু জন্মেছি এই নাস্তিক বঙ্গদেশে, তাই ইচ্ছা না থাকলেও আমাদের দেখতে হয় নববর্ষ পালন করা, অনেক সময় পালন করতেও হয়। তাই আসুন আজকে আমরা শিখি, কী করে আমাদের ইমান-আক্বীদা বজায় রেখে সহীহ হালাল উপায়ে আমরা নববর্ষ পালন করতে পারি।

১. অনুষ্ঠানের শুরু করতে হবে আযান দিয়ে। আযান দেবে আমার বাড়ির পাশের মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মাদ ইসলাম হুজুর। আযানের পরপরই সমবেত জনসাধারণ ২ রাকাত নফল নামায পড়ে নেবে। যেহেতু জামাতের সাথে নামায আদায় করা হবে, তাই মহিলারা এখানে স্বাগতম নহে।

২. রমনার বটমূলে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া যাবে না। তার বদলে শাপলা চত্বরে (আইডিয়া: ফয়সল রাফি) গাইতে হবে নাসিদ, হামদ-নাত। দরকার হলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইসলামী করন করিতে হইবে। 

৩. গার্জেন ছাড়া কোনো মহিলা বের হতে পারবে না। বয়ফ্রেন্ড, বন্ধু এসব বিদাতী কালচার ভুলে যেতে হবে। পরপুরুষের সাথে হাসাহাসি, ঢলাঢলি চলবে না। এমনকি জোরে শব্দ করে হাসতে পারবে না মহিলারা।

৪. শাড়ি, আলতা, চুড়ি এসব পরে মহিলারা বের হতে পারবে না। এতে পুরুষের বুকে ব্যথা হতে পারে, মনে কুচিন্তা আসতে পারে। তাই কালো রঙের সহীহ আরবীয় বুরখা পরে অনুষ্ঠানে আসতে হবে। আর কেউ যদি গরমের অজুহাতে বুরখা খুলে ফেলে, তাকে সহস্র দোররা মারা হবে।

৫. অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার হিসাবে থাকিবে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির এবং আন্সারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যগণ।

৬. হিন্দু মেয়েদেরও বুরখা পরে আসতে হবে। তা না হলে দোররা তো আছেই, ভলান্টিয়ারেরা গনিমতের মাল মনে করে খেয়ে ফেলতে পারে।

৭. ইলিশা-পান্তা চলবে না। খোরমা-খেজুর, কাবাব-রুটি এসব খেয়ে বর্ষবরণ করতে হবে।

৮. শিশুপার্কের সামনে প্রতি বছর ফকির আলমগীর তার দলবল নিয়ে 'ও সখিনা' গায়, তা আর করতে দেওয়া যাবে না। তাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে সেখানে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতে হবে।

৯. বাশি, ডুগডুগি, বেলুন ইত্যাদি মেলায় বিক্রি করা যাবে না। তার বদলে নামায শিক্ষা, কায়দা, আমপারা বিক্রয় করিতে হইবে। ইসলামিক খেলনা হিসাবে কাবাঘরের মডেল, মসজিদের মডেল, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি শিশুদের কিনিয়া দেওয়া যাইতে পারে।

১০. রাস্তায় কোন নকশা করা যাইবে না। তার বদলে দেয়ালে দেয়ালে কুরান-হাদিসের আয়াতের চিকা মেরে দিতে হবে।

১১) সন্ধ্যা হলেই লোকজন যাতে আধারে কোনো বিদাতী কাজে জড়িয়ে না পড়তে পারে, সে জন্য সন্ধ্যার পরপরই কারফিউ জারি করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাগরেবের মধ্যেই সকলকে তাদের নিজ গৃহে ফিরিয়া যাইতে হইবে।

আমার মনে হয়, এইসব বেসিক ইসলামি নীতি ফলো করিলে পহেলা বৈশাখ সহীহ হইয়া যাইবে।

মনে রাখিবেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, যদি তাহা ইসলামি কায়দায় পালন করা হয়।

জাযাকাল্লাহ।

সালাম আলেকুম।


লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

শুভ নববর্ষ, মদিনাবাসী (বাংলাদেশী)। 

নিউ মদিনার সাফল্যের হিসেবনিকাশ:

গত বাংলা বছরের আগের বছর রাজীব হায়দার (থাবা বাবা) আর গত বছর অভিজিৎ রায় এবং ওয়াশিকুর বাবু।

বরগুনায় ১৪ হিন্দু পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ।

রামুতে হামলার তিন বছর পূর্তি হবে। আসামী হয়তো ধরাছোঁয়ার বাইরে কিংবা জামিনে বের হয়ে পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খেয়েছে।

খাগড়াছড়িতে বিজয় দিবসের দিন হামলা করে ৫০ এর বেশি আদিবাসী ঘরবাড়ি ধ্বংস কর। এই আদিবাসীরা প্রচণ্ড শীতে বসবাস করছিলেন খোলা আকাশের নিচে।

প্রতি মাসে গড়ে দুই তিনটা করে আদিবাসী মেয়ে ধর্ষণের শিকার।

নাস্তিক কোপালে কেউ কিছু বলে না, কারণ তারা নাস্তিক। সমতলের অমুসলিম হিন্দু-বৌদ্ধদের দেশছাড়া করলে চুপ করে থাকে, কারণ সবদেশেই নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়!

পাহাড়ের আদিবাসী নির্যাতনের ব্যাপারে বলা হয়, সে কিছু না। আদিবাসীদের মাঝেমাঝে এমন টাইট দেওয়া উচিত।

হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই অবশ্যই। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার! অল্প কিছু মুসলিম নামধারী মুনাফেক ইহুদিদের জন্য আপনি একটি ইসলামিক দেশ বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বলতে পারেন না। কখনোই না। 



শুভ নববর্ষ, নিউ মদিনা। মদিনার সনদ আনার প্রয়োজন নেই। দেশটাই আস্ত মদিনা হওয়ার একটুখানি বাকি আছে। সরকার দলীয় সংগঠন ওলামা লীগ দাবি করেছে, দেশে ৯৮% মুসলিম। বাকি ২% অমুসলিম দেশ থেকে তাড়াতে পারলেই ১০০% মুসলিমের দেশ বাংলাদেশ = নিউ মদিনা।

১৪ এপ্রিল, ২০১৫

ইছলামী খাসলত



ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ১০

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

৪৬.
- সূর্যগ্রহণ কী?
- পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে যদি চাঁদ এসে পড়ে তাহলে চাঁদের কারণে সূর্যকে দেখা যায় না। এটাই হচ্ছে সূর্যগ্রহণ। কিন্তু সূর্যগ্রহণ হলে মহাসর্বজ্ঞানী মহানবীজি কী করেছিল, শুনুন:
সূর্যগ্রহণ শুরু হলে নবীজি উঠে দাঁড়ালেন এবং ভয় পেলেন যে হয়ত মহাপ্রলয়ের দিন এসে গেছে। তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে চলে গেলেন। (ছহী বুখারি ২,১৮,১৬৭)
৪৭.
আমি এত্ত কুখ্যাত কাফের হয়েও গত জীবনে অনেক নামাগ পড়েছি, রোগা রেখেছি অনেকগুলি; এমনকি হগ করার নিয়ত পর্যন্ত করে রেখেছি। আর য়াল্ল্যাকে দেখুন, আমার চেয়েও বাগে কাফের সে। জীবনে কোনোদিন নামাগ পড়েনি, রোগা রাখেনি, হগও করা তো দূরের কথা, নিয়ত পর্যন্ত করেনি। মরার পরে কবরে ছওয়াল-গবাবে কী গবাব দেবে সে? এহেন কুফরীর গন্য তো সে সারা গেবন দোগগের আগুনে পুড়বে আর গাক্কুম খাবে। হায়রে কাফের য়াল্ল্যা, হায়রে বাগে কাফের য়াল্ল্যা, হায়রে আমার চেয়ে বাগে কাফের য়াল্ল্যা।

৪৮.
সব ধর্মগ্রন্থই বাজে, সব ধর্মপ্রবর্তকই বাজে, সব ধর্মই বাজে। তবে সভ্যতার ক্রমবিকাশে অন্যান্য সকল ধর্মের অনুসারীরা অনেকটা সভ্য হয়েছে। আজো সেই মহাবদ নবীর মত বাজে রয়ে গেছে মহাবদের সৃষ্ট ধর্ম ইছলাম ও এর অনুসারী মুছলিমরা। এখন মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে ইছলাম ধর্ম, কোরান ও মুছলিম। পৃথিবীর জঘন্যতম জিনিস এই তিনটা। পৃথিবীর কল্যাণ ও মানব সভ্যতা রক্ষা করার জন্য ইছলাম ধর্ম এবং মহাবদের রচিত কোরান পৃথিবী থেকে এই মুহূর্তেই ব্যান করা উচিত। ওয়াশিকুর বাবুর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলছি:
ইছলাম ধ্বংস হোক
ইছলাম ধ্বংস হোক
ইছলাম ধ্বংস হোক।

৪৯.
কাবাঘর হলো একটা উন্মুক্ত ন্যুড বার। য়াল্ল্যা এখানে নগ্ন হয়ে তার যৌনাঙ্গ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে রেখেছে সারা পৃথিবীর য়াল্ল্যা-কামুক নর-নারীর জন্য। সমস্ত পৃথিবীর চারদিক থেকে য়াল্ল্যার যৌনাঙ্গ-পিয়াসী নরনারীরা এসে এখানে য়াল্ল্যার নেংটু যৌনাঙ্গে চুমু খায়। আর পাগলামী ছাগলামী দুম্বামী উটামী করে। ন্যুড বার ব'লে কথা। এখানে আসা মানুষগুলির আচার-আচরণ এর চেয়ে ভালো আশা করাটাই বোকামি।

৫০.
য়াল্লার জন্য অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাসস্থান চাই, শিক্ষা চাই, চিকিৎসা চাই। য়াল্ল্যা তার মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণে অক্ষম। অতএব সকল মানবিক মানুষ য়াল্ল্যার মৌলিক চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসুন। শেখ হাসিনা এগিয়ে এসেছেন য়াল্ল্যার বাসস্থানের চাহিদা পূরণে। তেমনি আমরা কেউ কেউ এগিয়ে আসতে পারি বস্ত্রের চাহিদা পূরণে, কেউ কেউ এগিয়ে আসতে পারি অন্নের চাহিদা পূরণে, কেউ কেউ এগিয়ে আসতে পারি শিক্ষার ব্যাপারে, কেউ কেউ চিকিৎসার ব্যাপারে। আপনাদের পুরনো কাপড়, পুরনো বইপত্র, পুরনো প্যারাসিটামল, বাসী খাবার ফেলে না দিয়ে য়াল্ল্যাকে দিন; সবকিছু নতুন হতে হবে এমন কথা নেই। যারা নতুন দিতে পারেন, তারা নতুন দেবেন, অসুবিধা নেই।

মুছলিম আদম-হাওয়া



১৩ এপ্রিল, ২০১৫

কৌতুকুৎসের বিবর্তন

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু

১৯৮০ সাল:
দোস্ত, গোপাল ভাঁড়, নাসিরুদ্দীন হোজ্জা, বীরবলের বই থাকলে দে তো। মনটা না ভীষণ খারাপ! কৌতুক পড়লে মন ভালো হয়। 

২০১৫ সাল:
দোস্ত রে! মিরাক্কেল, চার্লি চাপলিন, দ্য থ্রী ষ্টুজেস - এইগুলার ভিডিও লিংক দে তো। এসব দেখলে আমার খুব হাসি পায়! মনডা ভালা হয়। 

২০৮০ সাল:

১.
ছেলে: মা গো, কোরান-হাদিস, গীতা, বাইবেল - এসবের বাংলা অনুবাদ থাকলে দাও তো। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসির কৌতুকের এই বইগুলো পড়তে খুব মজা লাগে। এগুলো যারা রচনা করেছে, তাদের অনেক ধন্যবাদ! তারা না থাকলে কি আর এত বিনোদন পেতাম? কী জোশ বই রে! 

২.
ডাক্তার: নিজের প্রতি যত্ন নেবেন। আর বেশি বেশি ঐশী বাণী পাঠ করবেন। এসব কিতাব পড়লে খুব মজা পাবেন, হাসি থামাতে পারবেন না! জানেন তো, মনকে হাসি খুশি রাখলে শরীরও ভালো থাকে। 

৩.
বন্ধু: দোস্ত, ছ্যাঁকা খেয়েছিস তো কী হয়েছে। মন খারাপ করিস না। বেশি বেশি ধর্মীয় বই পড়। দেখবি মনটা ভালো হয়ে গেছে। ইউসুফ-জোলেখার গল্প কল্পকাহিনী হলেও খুব রোমান্টিক! 

৪.
প্রেমিক: জানু! তোমার জন্য একটা গিফট কিনব ভাবছি। কী কিনব বলতো? 
প্রেমিকা: জাস্ট একটা আল্লামা বালালুদ্দীন রুমীর করা কোরানের বাংলা অনুবাদ! কৌতুকের বইটা দারুণ! 

৫.
শিক্ষক: তোমার প্রিয় বই কোনগুলো? 
ছাত্র: স্যার, কোরান, মহাভারত, গীতা, বাইবেল এগুলো। 
শিক্ষক: বাহ! বেশ বেশ! এগুলো আমারও খুব প্রিয়। বইগুলো প্রাচীন হলেও এবং গাঁজাখুররা লিখলেও গল্পগুলো চরম! 

৬.

বাবা: খালি ধর্মীয় গল্প কিসসা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে? সামনে তোর পরীক্ষা না? কৌতুক পড়ার টাইম অনেক পাবি। এবার একটু পাঠ্যপুস্তক পড়।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৪১



একটি বোনাস ভিডিও। বোরখা পরিধানের অজস্র উপকারিতার কথা যারা বলে, তাদের জন্য আরও একটি যুক্তি:


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা ভালো নেই - আতঙ্কে আছি

লিখেছেন সাংকৃত্যায়ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, 

অভিজিৎ রায় হত্যার পাঁচদিন পর ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, সূর্য পূর্ব দিকেই উঠেছে; উত্তরে, দক্ষিণে কিংবা পশ্চিমে ওঠেনি। ধরে নিয়েছিলাম, অভিজিৎ রায়ের হত্যার পরের দিন থেকে সূর্য ভিন্ন দিকেই উঠবে। কিন্তু তা হলো না। অভিজিৎ রায়ের পর চলে গেল ওয়াশিকুর। আশা করেছিলাম, অন্তত এখন থেকে হলেও সূর্য উল্টো দিকে উঠবে; পৃথিবী সমতল হয়ে যাবে, সূর্য ডোবার মাঝে অস্ত যাবে, পৃথিবী স্থির হয়ে থাকবে, সূর্য ঘুরবে, প্রস্ফুটিত হবে চাঁদের দ্বিখণ্ডণ, মহাকাশে দেখা যাবে ছেদন, ভেসে উঠবে সপ্ত আসমান, শয়তান তাড়াতে উল্কা নিক্ষেপ করবে আকারবিহীন ভগবান। 

কিন্তু না। এসবের কিছুই হল না। অবশ্য পিথাগোরাস, এনাকু সিমন্ড, গ্যালিলিও, গ্যামো, সক্রেটিস, কোপার্নিকাস, ডারউইনের শত বিরোধিতার পরেও পৃথিবী গোলাকার, সূর্য স্থির, আবর্তনী পৃথিবী, নিজস্ব আলোবিহীন চাঁদ এবং সত্য ছিল বিবর্তন। আমাদের বাংলার সক্রেটিস - আরজ আলী মাতুব্বর এবং আমাদের রিচার্ড ডকিন্সের নাম অভিজিৎ রায়। সবাই জানে, অভিজিৎ রায় কখনো ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াতেন না; ধর্মকে সমালোচনা করতেন। যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন, আল্লাহ-ভগবান-খোদা কেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা নয়।

আমি অভিজিৎ রায়ের পদাঙ্ক অনুসারী ক্ষুদ্র এক ব্লগার। ফেসবুক থেকে হাতে ধরে তিনি আমাকে ব্লগার বানিয়েছেন। বিশ্বাস করুন, প্রধানমন্ত্রী, অভিজিৎদা’র হত্যার পর থেকে আমি অনেকদিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি। এতে দাদার প্রতি না যতটুকু আবেগ ছিল, তার থেকে বেশি ছিল নিজের জীবনের প্রতি মায়া। মনে ভয় দেখা দিল, আমাকেও কি একদিন দাদার মতো রাস্তায় লাশ হতে হবে? নিজেকে গুছিয়ে নিলাম। 

অথচ দাদার শোক কেটে না উঠতেই নিহত হল ওয়াশিকুর। ওয়াশিকুর বাবু আমার বন্ধু। আমি এমন এক বন্ধুপ্রেমী অদ্ভুত মানবতাবাদী নিজের বন্ধুর লাশ দেখে আঁতকে উঠেছি, ভয় পেয়েছি। পরবর্তী জনের কথা ভেবে শিউরে উঠেছি। এভাবেই কি হত্যাকারীরা পরবর্তী লক্ষ্যের দিকেই এগুচ্ছে? অভিজিৎদা'র হত্যার পর থেকে মোল্লা থেকে দূরে থাকতাম। কিন্তু ওয়াশিকুর হত্যার পর থেকে মানুষ দেখা মাত্রই ভয় লাগে। এখন খুব কাছের বন্ধুটিকে সন্দেহ হয়, নিজের ভাই-পিতাকেও সন্দেহ হয়, এমনকি নিজেকে নিজের সন্দেহ হয়। সন্ধ্যার পরে ঘর থেকে বের হতে পারি না, রাস্তায় দুই মিনিট দাঁড়াতে পারি না, কোথাও দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে পারি না, চার ধাপ চলতে ছয় বার পেছনে তাকাতে হয়, নিয়ম মেনে একই পথে চলাফেরা করতে পারি না, নিজের ঘরের ছাদে জ্যোৎস্না দেখতে পারি না, একলা রাস্তায় চলতে পারি না, কেউ ঘরের দরজায় টোকা দিলে ভয় হয়, কেউ চিৎকার দিলেও ভয়। 

টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখলে ভয় - এই বুঝি আরেকজন মারা গেল; মসজিদের খুতবা শুনতে ভয় হয় - এখুনি হয়তো নাস্তিক হত্যার ফতোয়া দেওয়া হবে। আজরাইল থেকে আজকাল আল্লামা শফি নামটা অনেকে ভয়ানক। টিভিতে আল্লামা শফির চেহেরা দেখলে ভয়, তার নাম শুনলেও ভয় হয়। ভয়ে রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সারাক্ষণ মনে হয় হত্যাকারীরা এখানে-ওখানে লুকিয়ে আছে। তারা নাস্তিক ধরবে, হত্যা করবে। গলির সামনে, দরজার পেছনে, অন্ধকারে, সিঁড়ির নিচে, বাজারে, অফিসে, ইউনিভার্সিটিতে, চায়ের দোকানে, সবখানে সব জায়গায় লুকিয়ে আছে, লুকিয়ে থাকতে পারে। ভয়, প্রচণ্ড ভয় হয়। 

তীব্র ভয়ের মাঝে পরিচিত ব্লগারদের সাথে কথা বলি। ভয়টা আমার নয়, সবার মাঝেই আছে। বুঝতে পারি, প্রগতিশীলদের কাছে এখন বাংলাদেশের আরেক নাম আতঙ্ক। সারাক্ষণ আতঙ্কের মাঝেই থাকি। ওয়াশিকুর হত্যার পরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, গলির সামনে দেখি কিছু ছেলে আড্ডা দিচ্ছে। আমি তাদের চিনি না। অনেকক্ষণ স্থির থেকে আমাকে চিন্তা করতে হল, আমি কি তাদের সামনে দিয়ে পথ পারি দেবো; নাকি বাসায় ফিরে যাবো। সাহস করে তাদের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। দ্রুত রিক্সা নিয়ে ব্যস্ত রাস্তার পাশে এসে চায়ের দোকানে সিগারেট ফুঁকে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছি। দেখি, একটি মোটর সাইকেল এসে থামলো। পাঞ্জাবী পরা দু’জন যুবক, মুখে উস্কোখুস্কো দাড়ি, হাতে একটি থলে, তাদের চোখে-মুখে চঞ্চলতা; তারা কি যেন খুঁজছে! আমার খুব সন্দেহ হল। দোকানের ভেতরে গিয়ে বসলাম। তারা চলে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে বের হতে পারিনি। তারা চলে যাওয়ার পর নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বললাম, ছিঃ! নিজের বাঙালি ভাইদের সন্দেহ হচ্ছে, ছিঃ! 

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বাস করুন, আমি কখনোই এত ভীতু ছিলাম না। পরিস্থিতি আমাকে ভীতু হতে বাধ্য করছে। শুধু আমি নয়, আমার প্রতিটি সহযোদ্ধা ভয়ের মাঝে আছে। আমাদের ধরে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, আমাদের মৃত্যু হবে মৌলবাদীর চাপাতিতে, নয়তো হুমায়ুন আজাদের মত হাইপার টেনশন রোগে। সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলাম। সিএনজি ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো। চারপাশ তাকিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। অন্ধকার। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠবো, এমন সময় মনে হল সিঁড়ির সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। চিৎকার দিলাম। নিচের বাসা থেকে মানুষ জড় হয়ে গেল। পাশের দোকান থেকে আলো নিয়ে দৌড়ে এলো দোকানদার চাচা। আলোর মাঝে দেখতে পেলাম অন্ধকারের দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আমার বাবা। আমার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। 

কষ্ট লাগে যখন পিতাকেও জঙ্গি মনে হয়। সব কিছুতেই ভয়। রাস্তায় কেউ নাম ধরে ডাকলেও ভয় হয়, কেউ একটু পিছু পিছু হাঁটলেও ভয় হয়, কারো চোখে চোখ পড়লেও ভয় হয়। ওয়াশিকুর হত্যার পরের দিন রাতে ঘুম হয় নি। মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। টয়লেট থেকে পেছন ফিরতেই মনে হল অন্ধকারে সত্যিই কেউ দাঁড়িয়ে আছে। একটু হালকা চিৎকার দিয়ে পেছনে দৌড় দিতেই মাথায় এলো, নিজের ছায়া দেখে নিজেই ভয় পেয়েছি। 

অভিজিৎদা’র হত্যার রাতে সারা রাত চোখে জল নিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি, "কেন ছাগু হলাম না? মডারেট ছাগু হলে তো রাষ্ট্রই আমাদের নিরাপত্তা দিতো।" এখনও চোখ বন্ধ করলে মনে পড়ে ওয়াশিকুরের চঞ্চলতা, নম্রভাষার যুক্তিতর্ক, অপ্রিয় কথার দাঁতভাঙা জবাব। আমার বন্ধু ওয়াশিকুর, যার মুখমণ্ডল চাপাতির আঘাতে চার টুকরো হয়ে পড়েছিল চৌরাস্তায়। ঘর থেকে বের হলেই মাথায় আসছে বন্যাদি’র কথা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে অভিজিৎদা’র ছিটকে পড়া মগজের খুলি, রক্তের দাগ, লাল পাঞ্জাবি। একটু নস্টালজিক হলেই মনে পড়ে থাবা বাবা’র নিথর দেহ। 

বিশ্বাস করুন প্রধানমন্ত্রী, আমরা সর্বোচ্চ ভয় পেয়েছি। এতই ভয় পেয়েছি, ‘বাংলাদেশ আমার দেশ’, এই কথাটি বলতেও ভয় হয়। তবে সত্যি বলতে, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের শত ভয়ের মাঝেও সত্য সত্যই থাকবে। কোনো মিথ্যেবাদী নিজেকে সত্যবাদী বললে সত্যবাদী হয়ে যায় না, জন্ম থেকে অশান্তি সৃষ্টিকারী কোনো ধর্ম নিজেকে শান্তির দাবি করলে, শান্তি নাম রাখলেই শান্তির হয়ে যায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দয়া করুন, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দিন, জঙ্গিবাদ থামান, বিন্দুমাত্র মৌলবাদ তোষণও বন্ধ করুন। আমরা শুনেছিলাম, এই দেশ স্বাধীন হয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে, ধর্মনিরপেক্ষতার হাত ধরে। তবে আমরা জানি, এই দেশে দেশপ্রেমের চেতনার থেকে ধর্মীয় চেতনার মূল্য বেশি। কে কতটুকু দেশপ্রেমিক, তার থেকে বড় প্রশ্ন - কে কত বড় ধার্মিক। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিবর্তন এবং মহাকাশ নিয়ে যাদের সামান্যতম জ্ঞান আছে, তারা আর কখনো নাস্তিক থেকে আস্তিক হতে পারবে না। পারবে না কুঁজো হতে, সেজদা দিতে, সকাল বিকাল ভাবমূর্তিপূজা করতে। তবে পারবে ভণ্ড হতে, চুপ থাকতে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমরাও ভণ্ড হয়ে যাবো। আমরা আর কোনোদিন কাউকে বলবো না এমন একজন ধর্মপ্রচারকের কথা, যিনি ধর্ষণ করেছিলেন, পুত্রবধূসহ এগারটি বিয়ে করেছিলেন, যাঁর যৌনদাসী ছিল, নয় বছরের বাচ্চাকে যিনি শয্যাসঙ্গিনী করেছিলেন। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা আর কোনোদিন বলবো না এক যুদ্ধাবাজের কথা, যিনি ৪৩ জনকে শিরচ্ছেদ করেছিলেন, যিনি বেঁচে থাকতে ছোট বড় ১০০ টি যুদ্ধের কারণ ছিলেন, যাঁর মাঝে ২৭ টি যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন, এবং তাঁর প্রিয় ৩ টি তরবারি ছিল, যা দিয়ে অবিশ্বাসীদের হত্যা করা হতো। আমরা বলবো না এমন এক মহাপুরুষের কথা যার মাধ্যমে প্রেরিত একটি বিশেষ বইতে ১০০ এর বেশি মানুষ হত্যা’র আদেশ আছে। আমরা এইসব কথা কাউকে কোনোদিন বলবো না। ওই মহাপুরুষের নাম কাউকে বলবো না। আপনাকেও না। বলার মত সেই সাহস আর আমাদের নেই। 

প্রিয় কবি হুমায়ুন আজাদ কবিতায় লিখেছিলেন, "এখন, বিশ শতকের দ্বিতীয়াংশে, সব কিছুই সাহসের পরিচায়ক। কথা বলা সাহস, চুপ করে থাকাও সাহস। দলে থাকা সাহস, দলে না থাকাও সাহস। আমি কিছু চাই বলাটা সাহস, আবার আমি কিছুই চাই না বলাও সাহস। এখন, এ-দুর্দশাগ্রস্ত গ্রহে বেঁচে থাকাটাই এক প্রকাণ্ড দুঃসাহস।" জানি না, আমার সহযোদ্ধারা কেমন করে বেঁচে আছে, তবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বাস করুন, আমি বেঁচে নেই। আমার মনের ভেতরে আর একটুও সাহস জীবিত নেই। অভিজিৎদা'কে হারানোর পরের দিন থেকে আমাদের ভেতরের অর্ধেকটা মৃত; অনেকটাই অনুভূতিই শূন্য। বাংলাতে জন্ম নিয়ে আমার আজন্ম একটাই দুঃখ থাকবে, কেন মডারেট ছাগু হলাম না। আতঙ্কের মাঝে বেঁচে থাকাকে কি আসলেই বেঁচে থাকা বলে? 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের মায়ের মত। মা হয়ে আপনি যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেইঞ্জে গুলি করে আপনার সন্তানদের মেরে ফেলুন। আমরা আর কখনোই বাকস্বাধীনতার নামে চিৎকার করবো না, সমালোচনা করবো না, প্রগতিশীলতার কথা বলবো না, সত্য বলবো না, মিথ্যেও বলবো না এবং আপোষও করবো না। আমাদের মেরে ফেলুন। পৃথিবীতে মিশে যাক আমাদের শরীরের ভিতরে প্রাণ নামক রাসায়নিক বিক্রিয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খুনটা আপনার হাতেই হতে চাই। মায়ের যদি সন্ত্রাস দমনের ইচ্ছে না থাকে, তবে কী আর করা, তাই খুন যখন হবো, একজন শিক্ষিত প্রগতিশীল মায়ের হাতেই। তবুও কতগুলো জঙ্গি, অপদার্থ, আমাদের নিম্নাঙ্গের কেশ পরিমাণ জ্ঞান যাদের নেই, তাদের হাতে মরতে চাই না। বেঁচে থাকার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা তাদের মাথায় থুঃথুঃ দিয়ে যাবো। মরতে মরতেও বলে যাবো, আমাদের অবিশ্বাস দীর্ঘজীবী হোক।

ভালো থাকুক বাংলাদেশ। ভালো থাকুক সবাই।

ইতি 
সাংকৃত্যায়ন

১২ এপ্রিল, ২০১৫

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮৬


'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন ব্লাকমাস্কড থিঙ্কটাঙ্ক

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন অন্নপূর্ণা দেবী

সূরা কামারুজ্জামান

লিখেছেন ক্যাটম্যান

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি গত ১১-০৪-২০১৫ ইং তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে কার্যকর করা হয়েছে। ঠিক একই সময়ে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণ পূর্বক উম্মতে মুহম্মদির নিবেদিত প্রাণ সদস্যগণের জ্ঞাতার্থে একটি ক্ষুদ্র সূরা নাজিল করেন কঠিন হৃদয়ের অধিকারী মহা ক্ষুদ্র আল্লাহফাঁক। সেইসাথে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জমানের প্রতি গণ-অভিশাপ বর্ষণের লক্ষ্যে উম্মতে মুহম্মদির প্রত্যেক সদস্যের উপর এই সূরা পাঠ ফরজ করা হয়েছে। 

আল্লাহু আসগর ( আল্লাহ মহাক্ষুদ্র )

সূরা নাজিলের তারিখ: ২১ জমাদিউস সানি, ১৪৩৬ হিজরী।*

সময়: ১০ টা ৩০ মিনিট। 

নাজিলের স্থান: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, নাজিম উদ্দিন রোড, ঢাকা-১০০০, ঢাকা।

আয়াত সংখ্যা: ৫

“সূরা কামারুজ্জামান”

————————————————

বিছমিল্লা-হি ক্বাসওয়াতান ক্বুলুব।
অর্থ: কঠিন হৃদয় আল্লাহর নামে।

১. তাব্বাত ইয়াদা কামারুজ্জামান ওয়া তাব্ব।
অর্থ: ধ্বংস হউক, কামারুজ্জামানের দুই হস্ত এবং ধ্বংস হউক সে নিজেও।

২. মা আগনা—‘আনহু মা-লুহূ ওয়ামা-কাছাব্।
অর্থ: উহার ধন-সম্পদ ও উহার উপার্জন উহার কোনো কাজে আসে নাই।

৩. ছাইয়াসলা-না-রাং যা-তা লাহাব।
অর্থ: অচিরে সে প্রবেশ করিবে লেলিহান অগ্নিতে।

৪. ওয়ামরাআতুহূ , হা ম্মা- লাতাল হাতাব।
অর্থ: এবং তাহার স্ত্রীও, যে ইন্ধন বহন করে,

৫. ফী জীদিহা- হাবলুম্ মিম্ মাছাদ্।
অর্থ: তাহার গলদেশে পাকান রজ্জু।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সূরা নাজিলের হিজরী তারিখ নিয়ে আলেমদের মাঝে ইতোমধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। ভিন্ন মতাবলম্বী আলেমদের মতে সূরা নাজিলের সঠিক তারিখ ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৬ হিজরী। কারণ হিজরী সাল চাঁদের উপর নির্ভরশীল। আর হিজরী পঞ্জিকায় নতুন দিনের সূচনা হয় সন্ধ্যাকালে। সেই প্রেক্ষিতে সূরা কামারুজ্জামান রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে নাজিল হওয়ায় বিবেচ্য তারিখ হবে ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৬ হিজরী।

সংক্ষিপ্ত ইছলামী যৌনবিগ্যান

লিখেছেন মুক্তমন-সরিতা

ইছলাম একটি যৌনাঙ্গ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখন ইছলামের আলোকে যৌনতা বিষয়ে কিছু জ্ঞানলাভ করা যাক।

১. 
প্রশ্ন:  কুরআন ও হাদিসের আলোকে ঘরে কেবল স্বামী-স্ত্রী থাকলে শরীরে কোনো কাপড় না রেখে কি ঘুমানো যায়? 

উত্তর: লজ্জাস্থান অপ্রয়োজনে খুলে রাখা বৈধ নয়। পর্দার ভেতরে প্রয়োজনে তা খুলে রাখায় দোষ নেই। যেমন মিলনের সময়, গোসলের সময় বা প্রস্রাব-পায়খানা করার সময়। অপ্রয়োজনের সময় লজ্জাস্থান আবৃত রাখা ওয়াজেব।

নবী (সঃ) বলেছেন, “তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকট লজ্জাস্থানের হেফাজত কর।”

সাহাবী বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! লোকেরা আপসে এক জায়গায় থাকলে?"

তিনি বললেন, “যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।”

সাহাবী বললেন, "হে আল্লহর রাসুল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?"

তিনি বললেন, “মানুষ অপেক্ষা আল্লাহর বেশি হকদার যে, তাকে লজ্জা করা হবে।” ৬১৪ (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩১১৭ নং)

২. 
প্রশ্ন: শুনেছি, সহবাসের সময় সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতে নেই, ঘর অন্ধকার রাখতে হয়, একে অপরের লজ্জাস্থান দেখতে নেই ইত্যাদি। তা কি ঠিক?

উত্তর: এ হল লজ্জাশীলতার পরিচয়। উপরন্তু শরীয়তে তা হারাম নয়। অর্থাৎ ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে এবং সেখানে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ না থাকলে আর পর্দার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের লেবাস। উভয়ে উভয়ের সব কিছু দেখতে পারে।

মহান আল্লাহ বলেছেন, “সফল মুমিন তারা, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতিত।

সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। (মু’মিনূনঃ ৫-৬, মাআরিজঃ ২৯-৩১)

৩.
প্রশ্ন: কোন কোন সময় স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ? শুনেছি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাত্রিতে সহবাস করতে হয় না? এ কথা কি ঠিক?

উত্তর: দিবারাত্রে স্বামী-স্ত্রীর যখন সুযোগ হয়, তখনই সহবাস বৈধ। তবে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কয়েকটি নিষিদ্ধ সময় আছে, যখন স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ নয়।
১. স্ত্রীর মাসিক অথবা প্রসবোত্তর অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “লোকে রাজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রাজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাঁদেরকে পছন্দ করেন।” (বাকারাহঃ ২২২)
রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি তার ঋতুমতী স্ত্রী (মাসিক অবস্থায়) সঙ্গম করে, অথবা কোন স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে, অথবা কোন গনকের নিকট উপস্থিত হয়ে (সে যা বলে তা) বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সঃ) এর অবতীর্ণ কুরআনের সাথে কুফরী করে।” (অর্থাৎ কুরআনকে সে অবিশ্বাস ও অমান্য করে। কারণ, কুরআনে এ সব কুকর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।) (আহমাদ ২/৪০৮, ৪৭৬, তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ ৫২২ নং)
২. রমজানের দিনের বেলায় রোজা অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।” (বাকারাহঃ ১৮৭) আর বিদিত যে, রমজানের রোযা অবস্থায় সঙ্গম করলে যথারীতি তার কাফফারা আছে। একটানা দুইমাস রোজা রাখতে হবে, নচেৎ অক্ষম হলে ষাট জন মিসকিন খাওয়াতে হবে।
৩. হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেন, “সুবিদিত মাসে (যথাঃ শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। যে কেউ এই মাস গুলোতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জ এর সময় স্ত্রী সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), পাপ কাজ এবং ঝগড়া বিবাদ না করে।” (বাকারাহঃ ১৯৭)
এ ছাড়া অন্য সময়ে দিবারাত্রির যে কোন অংশে সহবাস বৈধ। (মুহাম্মাদ স্বালেহ আল-মুনাজ্জিদ) হাদিসে এসেছে, “যদি তোমদের কেউ স্ত্রী-সহবাসের ইচ্ছা করে, তখন দুআ পড়ে, তাহলে তাঁদের ভাগ্যে সন্তান এলে, শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।” (বুখারী-মুসলিম)

৪.
প্রশ্ন: শরীয়তে সমমৈথুন প্রসঙ্গে বিধান কী?

উত্তর: সমমৈথুন - পুরুষ-সঙ্গম বা পুরুষ-পুরুষে পায়ুপথে কুকর্ম করাকে বলে। আর এরই অনুরূপ স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করাও। মহান আল্লাহ বলেন, “মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই উপগত হও।” (সূরা শূআরা ১৬৫ আয়াত) তিনি আরও বলেন, “তোমরা তো কামতৃপ্তির জন্য নারী ত্যাগ করে পুরুষদের নিকট গমন কর!” (সূরা আ’রাফ ৮১ আয়াত) আল্লাহ তাঁদেরকে এই কুকাজের শাস্তি স্বরূপ তাঁদের ঘরবাড়ি উল্টে দিয়েছিলেন এবং আকাশ থেকে তাঁদের ওপর বর্ষণ করেছিলেন পাথর। তিনি বলেন, “(অতঃপর যখন আমার আদেশ এলো) তখন আমি (তাঁদের নগরগুলোকে) ঊর্ধ্বভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করেছিলাম এবং আমি তাঁদের উপর ক্রমগত কঙ্কর বর্ষণ করেছিলাম।” (সূরা হিজর ৭৪ )

৫.
প্রশ্ন: হস্তমৈথুন যুবক-যুবতী কারোর জন্যও বৈধ নয়। কিন্তু যদি স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হস্ত দ্বারা মৈথুন করে, তাহলেও কি তা অবৈধ হবে?

উত্তর: স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন মৈথুন অবৈধ নয়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “সফল মু’মিন তারা, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নি অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যাতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালঙ্ঘকারী।” (মু’মিনূনঃ ৫-৭, মাআরিজঃ ২৯-৩১)

সুতরাং অবৈধ হল নিজের হাতে নিজের বীর্যপাত। স্বামী স্ত্রীর একে অন্যের হাত দ্বারা বীর্যপাত অবৈধ নয়।

মহানবী (সঃ) ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে যৌনাচার করার ব্যপারে বলেছেন, “সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর।” (মুসলিম ৩০২ নং)

৬.
ইসলামে যৌন-চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

হাদীসে আছে, "যে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে তাদের উচিত বিয়ে করা, এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে । (বুখারী, মুসলিম)

৭.
হস্তমৈথুন প্রসঙ্গে হাদিস বলছে:

ইসলাম কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে। হস্তমৈথুন বা স্বকাম তাই ইসলামে অনুমোদিত নয়। ইবনে কাসীর সহ বেশ কিছু হাদিসগ্রন্থের হাদিসে হস্তমৈথুনকারীকে অভিশপ্ত এবং হস্তমৈথূনকে স্বীয় হস্তের সাথে ব্যভিচার বলা হয়েছে।

এছাড়াও হাদিসে বলা হয়েছে, হস্তমৈথুনকারীকে আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, কিন্তু যারা অনুশোচনা ও তওবা করবে, আল্লাহ শুধু তাদেরকেই ক্ষমা করবেন। 

৮.
ব্লোজব বা মুখমৈথুন প্রসঙ্গে

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুনের ব্যপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। সে কারণে অনেক আলেমই এটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা বৈধতা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছেন। আবার অনেক আলেম এটিকে মাকরুহ বলে সাব্যস্ত করেছেন।

১১ এপ্রিল, ২০১৫

হা-হা-হাদিস – ১৩০


ইসলামী ইতরামি

লিখেছেন নিলয় নীল

১.
হিজাব না পরার জন্য ছাত্রীকে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে মিশরের এক ধর্মশিক্ষক। মিশরের কায়রোতে ঘটা সেই ঘটনায় অবশেষে সেই ধর্মশিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। না, শিক্ষক তার ছাত্রীকে শুধু নৃশংসভাবে পেটায়ইনি, বরং তার মাথার চুলও কেটে দিয়েছে। 

২.
সুখবর! সুখবর! সুখবর! অবশেষে ২ চাক্কার স্বাধীনতা পেলো চৌদি নারীরা। এখন থেকে চৌদি নারীরা সাইকেল চালাতে পারবে, তবে সেই সাইকেল চালানোর জন্য সরকার আলাদা ব্যবস্থা দিয়ে দিয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা একটা পার্ক দিয়ে দিয়েছে, যেখানে পুরুষরা যেতে পারবে না এবং নারীরা নির্বিঘ্নে সাইকেল চালাতে পারবে। তবে সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই সবকিছু ঢেকে ইসলামী পোশাক পরিধান করতে হবে। আর সাইকেল চালানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে অবশ্যই সেই নারীর আইনসঙ্গত পুরুষ গার্জিয়ান লাগবে, যারা পার্কের বাইরে অপেক্ষা করবে নারী যতসময় ভেতরে সাইকেল চালাবে। যদিও ইতিমধ্যে নারীদের এতোখানি স্বাধীনতা দিয়ে পা ওঠানামা করে সাইকেল চালানোর অধিকার দেওয়ার সমালোচনা করেছেন আবু আব্দুল আল রাহমান ইবনে আকিল আল জাহিরি (Abu Abd al-Rahman Ibn Aqil al-Zahiri) সহ অনেক ধর্মীয় নেতাই। 

৩.
ভুলে যাও গণতন্ত্র, মালয়েশিয়া শরিয়া মোতাবেক চলবে। পার্লামেন্ট বা স্টেট অ্যাসেম্বিলির অনুমোদন না পেলেও ইসলামিক আইন সমস্ত দেশে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে দাবি করছেন মালয়েশিয়ার ইসলামিস্টরা। এদিকে মালয়েশিয়ার হিজবুত তাহরির মুখপাত্র আব্দুল হাকিম বলেছেন, শুধু হুদুদ আইন হলেই চলবে না, মালয়েশিয়ার টপ টু বটম ইসলাম দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। আবার অন্যদিকে শরিয়া আইন নিয়ে কটূক্তি করার জন্য ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়ার এক সাংবাদিককে ধর্ষণ করে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে ইসলামিস্টরা। 

৪.
আনুশাহ গেছিলো সুন্দরবনের মংলার একটি গ্রামে কাজ করতে। তার দলের সবগুলো মেয়েই সেখানে যেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ে। তাদের পোশাক অশালীন বলে তাদেরকে বোরকা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়। হয় বোরকা পরবে, না হলে গ্রাম ছাড়বে - এমন অবস্থায় তারা গ্রাম ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়। 

৫.
আপনার যদি প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগে এবং আপনি যদি খাবার না পান, তাহলে একজন মুসলমান হিসেবে আপনি আপনার যে কোনো এক স্ত্রীকে খেয়ে ফেলতে পারেন। শরিয়া মোতাবেক, আপনি আপনার স্ত্রীর শরীরের যে কোনো একটি অংশ কেটে রান্না করে খেয়ে ফেলে ক্ষুধা নিবৃত করতে পারেন। এই ফতোয়া দিয়েছেন সৌদি আরবের মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ।

৬.
এতদিন ইহুদি নাসারাদের তৈরি টয়লেট পেপার হারাম থাকলেও অবশেষে সেটা হালাল হলো। তুর্কীর ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফতোয়া ঘোষণা করে জানালো যে, টয়লেট পেপার ব্যবহার শুধুমাত্র তখনই হালাল হবে, যখন আপনার কাছে পানি থাকবে না। অর্থাৎ পানি না পেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য টয়লেট পেপার ব্যবহার করতে শরীয়ত মোতাবেক কোন বাধা নেই। http://rt.com/news/247857-turkey-muslims-toilet-paper/ . 

৭.
এদিকে টয়লেট পেপারকে হালাল ঘোষণা করায় তুর্কীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ক্ষিপ্ত দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের উপরে। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই হালাল টয়লেট পেপার নামে এক ধরনের টয়লেট পেপার বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে তুর্কীর একটি বিপণন সংস্থা। তবে হালাল টয়লেট পেপার ও হারাম টয়লেট পেপারের মধ্যে তফাত এখনো স্পষ্ট নয়। হালাল টয়লেট পেপার সম্পর্কে ব্যঙ্গ করে তুর্কী নাস্তিকদের ওয়েবসাইট Ateizm Dernegi থেকে পোষ্ট করা একটি বক্তব্য ছিল এরকম: সব থেকে হালাল সেই টয়লেট পেপার, যা কোরআনের আয়াত সমৃদ্ধ হবে এবং এটি ব্যবহার করাই সবচেয়ে সওয়াবের কাজ হবে। 

৮.
কাগ্রি মারকেইজির ‘এথিজম দেরনেগি’ ওয়েবসাইটটি গত মাসেই তুর্কী থেকে অ্যাকসেস বন্ধ করে দেয়া হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অপরাধে তুর্কী পেনাল কোর্ট ২১৬ ধারায় ওয়েবসাইটটিকে নিষিদ্ধ করে।

৯.
নাহ্, শুধু মুসলমান নারীদের হিজাব পরলেই হবে না, অমুসলিম মা-বোনকেও হিজাব পরতে হবে। কারণ আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়েরা এইসব অমুসলিম নারীদের হিজাব ছাড়া দেখলে ঈমানুনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অমুসলিমদের ইসলামবিদ্বেষ সম্পর্কে বুঝতে হবে, এই ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অমুসলিমদেরও সংগ্রাম করতে হবে। - এই ফতোয়া দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত মুসলমানদের এক লোকাল কাউন্সিল। 

* বোনাস: একটি গরুপূজারি বিনোদন
যারা যারা গরুকে রাষ্ট্রমাতা রূপে দেখতে চান, তারা ০৭৫৩৩০০৭৫১১ এই নম্বরে একটা মিসকল দিলেই হবে। বাহিনী সেটাকেই নিজেদের মতের সমর্থন হিসেবে গণ্য করবে।