২৪ জুন, ২০১৬

'রঙ্গিলা রাসুল' সমাচার, পাকিস্তানের জন্মে এর সম্ভাব্য ভূমিকা এবং পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইন

লিখেছেন মার্ক এন্টনি

রঙ্গিলা রাসুল এবং এবং একজন জাতীয় বীর ‘ইলমুদ্দিন’

১৯২০-এর দশকে পাঞ্জাবের মুসলিমরা এবং হিন্দু আর্য সমাজ একটি একটি রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। মুসলিমরা একটি পুস্তিকা বা প্যামফ্লেট প্রকাশ করে, যেখানে হিন্দুদের দেবী সীতাকে পতিতা হিসেবে দেখানো হয়। বলা হয়, এরই প্রতিশোধ নেবার জন্য আর্য সমাজের স্বামী দয়ান্দের এক অনুসারী কৃষ্ণ প্রসাদ প্রতাব, পণ্ডিত চামুপতি লাল ছদ্মনামে একটি পুস্তিকা লেখেন। এর নাম ছিল “রঙ্গিলা রাসুল।” লাহোরের এক প্রকাশক রাজপাল ১৯২৩ সালে পুস্তিকাটি প্রকাশ করেন। এই পুস্তিকায় নবী মুহম্মদের সাথে হজরত আয়শার বিবাহকে ফোকাস করা হয় যে, আয়শা ছিল নবী মুহম্মদের থেকে বয়সে অনেক ছোট। আর সেই সাথে প্রকাশ করা হয় বহুবিবাহের কুপ্রভাবসহ বিভিন্ন বয়সী নারীকে বিবাহের সমস্যাবলি। এই পুস্তিকাতে বেশ কিছু নির্দিষ্ট হাদিসেরও উল্লেখ ছিল।

মুসলিমরা এই পুস্তিকার বিষয়াবলির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যাপারটিকে আদালতে নিয়ে যায়। আদালত রাজপালকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে। পরবর্তীতে আপিল করা হলে কোর্ট এই বিচারকে সমর্থন করে। যাইহোক, রাজপাল এরপর হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে, কারণ তিনি যা করেছেন, তা ইন্ডিয়ান পেনাল কোড-এর ১৫৩ ধারা অনুযায়ী কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে না। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত মুসলিমদেরকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে।

ইলমুদ্দিন নামে ১৯ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রীর ছেলে তার বন্ধুদের সাথে লাহোরের মসজিদ ওয়াজির খান এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তখন মসজিদের মোল্লার জ্বালাময়ী ভাষণ শোনে, যেখানে ইসলামের নবীকে অমর্যাদাকারী ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লোকজনকে একত্রিত করা হচ্ছিল। বলা হয়, এই ভাষণদাতা ছিলেন সৈয়দ আতাউল্লাহ শাহ বুখারি, আর ভাষণটি দেয়া হয়েছিল ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিলে। ভাষণ শুনে ইলমুদ্দিন এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কেনে। এরপর সে লাহোরের ঊর্দু বাজারে রাজপালের দোকানে যায় এবং রাজপালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। সে পালিয়ে যাবার কোনো চেষ্টা করেনি। এতে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয় এবং মিয়ানওয়ালি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ইলমুদ্দিন এমন একজনকে হত্যা করে, যিনি সেই লেখাটার লেখক ছিলেন না। হয়তো ইলমুদ্দিন এবং রাজপালের কেউই সেই পুস্তিকাটি পড়েনি। কিন্তু সেই মোল্লার তীব্র ভাষণ এই ১৯ বছরের কিশোরকে সেদিন জঘন্যতম অপরাধটি করতে প্রভাবিত করেছিল, তাও এমন একজনকে, যাকে সে কোনোদিন চোখেও দেখেনি।

বিচারে ইলমুদ্দিনের পক্ষের আইনজীবী ফারুক হুসাইন দাবি করেন, ইলমুদ্দিন দোষী নয়, তাকে প্রভাবিত করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত ইলমুদ্দিনের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর লাহোর হাইকোর্টে একটি আপিল করা হয়, যেই আপিলের আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। কিন্তু যাই হোক, মামলাটিতে তার পরাজয় হয়। পরবর্তীতে ইলমুদ্দিন রাজা পঞ্চম জর্জের প্রতি একটি মার্সি পিটিশন বা ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত করে, যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

১৯২৯ সালের ৩১ শে অক্টোবর ইলমুদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মিয়ানওয়ালিতে ইলমুদ্দিনকে কবর দেয়া হয় যেখানে মুসলিমরা তার লাশকে লাহোরে দাফন করতে চেয়েছিল। ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল যে, এটা এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে, যা হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তৈরি করতে পারে। কেবল আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল এবং মিয়া আবদুল আজিজ এর নিশ্চিন্তকরণের পরই তার দেহ কবর থেকে ১৫ দিন পর তুলে আনা হয় এবং লাহোরে আবার কবর দেয়া হয়।

ইলমুদ্দিনের লাশ ১৯২৯ সালের ১৪ই নভেম্বরে পুনরায় কবর থেকে তোলা হয়। দুই দিন পর লাশ লাহোরে পোঁছে। সমস্ত শহর এবং আশেপাশের অনেক অঞ্চল থেকে মুসলিমরা তার জানাজায় আসে। ডঃ আল্লামা ইকবালকে ইলমুদ্দিনের বাবা জানাজার নামাজের ইমাম হতে বলেন। কিন্তু ইকবাল সাহেব সেটা করতে চাননি। তিনি বলেন, “আমি একজন পাপী ব্যক্তি, ইসলামের এই বীরের জানাজার নামাজের ইমাম হবার যোগ্যতা আমার নেই।” দুই লক্ষ মুসলিম এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিল, যা মসজিদ ওয়াজির খান-এর ইয়াম ইমাম মুহম্মদ শামসুদ্দীন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কবি এবং সাংবাদিক মওলানা জাফর আলী সেখানে বলেন, “হায়! যদি আমি এরকম এক আশীর্বাদপুষ্ট সম্মান অর্জন করতে পারতাম!” আল্লামা ইকবাল এই লাশ বহন করে নিয়ে যান। যখন ইকবাল সাহেব এই লাশটিকে তার কবরে রাখতে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেন, “এই অশিক্ষিত তরুণটি আমাদের মত শিক্ষিতদেরকে ছাড়িয়ে গেছে।”

সেদিন মুসলিম নেতাদের আচরণ আশানুযায়ী ছিল না। স্যার মুহমদ ইকবাল, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের জাতীয় কবি হন, এবং মওলানা জাফর আলী খান কেবল তার প্রশংসাই করেননি, তাকে বীরের মর্যাদা দেন।

(চলবে)

প্যাকেটে মোড়ানো ক্যান্ডি

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ৩৪

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

১৬৬.
সমস্ত পৃথিবী খুঁজে এমন একজন মোসলমান বের করা কি সম্ভব, যে সমকামিতা ঘৃণা করে না? যে সমকামীদের ঘৃণা করে না? যে মোসলমান কর্তৃক সমকামী হত্যা সমর্থন করে না?

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কাকে ভালোবাসবে, কার সাথে যৌনসম্পর্ক করবে, তা তার নিজের ব্যাপার সম্পূর্ণভাবে। অন্যের ক্ষতি না করে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে কোনো সম্পর্ক হলে তা কোনোভাবেই অপরাধ নয়। ইসলাম ও মোসলমানদের কে অধিকার দিয়েছে অন্যের প্রেম ও যৌনজীবনে তাদের নাক ঢুকিয়ে দিতে? হত্যা ও সব ধরনের ধ্বংসলীলা ছাড়া আর কিছুই কি তারা করতে জানে না?

১৬৭.
পৃথিবী সৃষ্টি করার আগে আল্লার কাম-কাজ কী ছিল? পৃথিবী সৃষ্টি করার পরেই বা তার কাম-কাজ কী?

১৬৮.
মানুষের জন্য একটা সুন্দর নিরাপদ পৃথিবীর প্রয়োজন। যেখানে মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে, শিল্প-সাহিত্য-সুন্দরের চর্চা করতে পারবে, অন্যের ক্ষতি না করে সবাই নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারবে, যেখানে লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষকে বিভাজিত করা হবে না, যেখানে সবার মুক্ত মত ও বুদ্ধির চর্চা থাকবে অবারিত। এরকম একটা পৃথিবী গড়তে হলে জগতের সমস্ত মোসলমানকে এক জায়গায় একত্রিত করে সেই জায়গাটাকে সীল মোহর করে দিতে হবে। মোসলমানদেরকে সঙ্গে রেখে সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গঠন অসম্ভব। কারণ ইসলামে গান হারাম, কবিতা লেখা হারাম, ছবি আঁকা শিরক, অমোসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব হারাম, নারীরা নাপাক। এরকম সমস্ত সুন্দর ও ভালো কাজ ইসলামে হারাম। ইসলামের কেতাব কোরানে মোসলমানদের বলা হয়েছে অমুসলিমদের হত্যা করতে, অমুসলিম নারীদের ধর্ষণ করতে, দাসীদের সম্ভোগ করতে, অমুসলিমদের ধন-সম্পদ লুট করতে। যতো ঘৃণ্য অপকর্ম আছে, সব ইসলামে হালাল। মোসলমানরা তাই করে করে জগতজুড়ে তাণ্ডবলীলা ঘটিয়ে চলেছে।

১৬৯.
- কোরানের চেয়ে জঘন্য কিতাবের নাম কী?
- হাদিস।
- হাদিসের চেয়ে জঘন্য কিতাবের নাম কী?
- কোরান।

১৭০.
গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, জীবহত্যা মহাপাপ। এটা শুধু তাঁর মুখের কথাই ছিল না। এই কথাকে তিনি বাস্তবায়িতও করেছিলেন তাঁর জীবনে। নিজের স্ত্রী ও সদ্যভূমিষ্ঠ পুত্রকে ত্যাগ করে তিনি চিরতরে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের সন্তানকে তিনি কোনোদিন পিতৃস্নেহ দেননি। সন্তান ও স্ত্রীর প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। তবে তিনি ওদেরকে হত্যা করেননি কিন্তু, যেহেতু ওরা জীব ছিল। 

দেখলেন তো, গৌতম শুধু কথায় নয়, কাজেও তাঁর মহত্বের প্রমাণ রেখে গেছেন?

ইসলামোফোবিক রেসিস্টগুলো

২৩ জুন, ২০১৬

কোরআন থেকে কোরআন: কেয়ামত হচ্ছে না কেন?

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

মক্কা-মদিনায় ইসলাম প্রচারের সময় মুহাম্মদ যে-কয়েকটা বিষয় সেখানকার অদিবাসীদের জোর গলায় বলে বেড়াতেন, কেয়ামত দিবস (কোরআন ২২:৭) হল তার একটি। কেয়ামতের বর্ণনায় যে কয়েকটি ঘটনা আল-কোরআনে বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল সেদিন আকাশ ভেঙে পড়বে (কোরআন ৮২:১), তারাগুলো তাদের আলো হারিয়ে (কোরআন ৭৭:৮) আকাশ থেকে খসে পড়বে (কোরআন ৮২:২) এবং সর্বোপরি বলা হয়েছে সেদিন এই পৃথিবী এবং আকাশমণ্ডলী সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে (কোরআন ১৪:৪৮)। 

কিন্তু কেয়ামতের এমন ভয়াবহতা শুনিয়ে মুহাম্মদের আল্লাভীতি অর্জনের সকল চেষ্টাকেই নিষ্ফল করে দিত মক্কাবাসীরা (কোরআন ৩৪:৩); কেয়ামতকে একটা অবিসম্ভাবী দিন বলে জোর গলায় প্রচার করে গেলেও মুহাম্মদের প্রচারিত অন্যান্য বিষয়গুলোর মত এই কেয়ামত দিবসকেও অবিশ্বাস করত তারা (কোরআন ৪০:৫৯, কোরআন ১৫:৮৫)। 

এই কেয়ামতটা ঠিক কখন হবে, সেটা অবশ্য মুহাম্মদ নিজেও জানত না। কারণ ছিল - কেয়ামত কখন হবে, সেটার জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে ছিল (কোরআন ৩৩:৬৩, কোরআন ৪১:৪৭, কোরআন ৪৩: ৮৫, কোরআন ৭৯:৪৪)।... আসুন কিছু পেছনে যাই। কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে প্রত্যেক জাতীর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে (কোরআন ৭:৩৪, কোরআন ১০:৪৯, কোরআন ৪৬:৩); এই সময়টা অতিক্রম হলেই কেয়ামতের মত মহাপ্রলয় দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ধবংস করে দেয়া হয়। মুহাম্মদের আগে মহাপ্রলয় দিয়ে আল্লাহ বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ধবংসও করে দিয়েছিলেন (কোরআন ৭:৪); উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় লূতের (কোরআন ১৫:৭৪) এবং হিজর সম্প্রদায় (কোরআন ১৫:৮৩) কথা। (নূহ এবং অন্যান্য নবীর সম্প্রদায়কে ধবংসের কাহিনী জানতে কোরআন ২৬:১০৫-১৮৯ পড়ে নিতে পারেন। ) 

গল্পগুলো থেকে যে-বিষয়টা নজরে আনার মত, সেটি হল, যেসব নবীর সম্প্রদায়কে মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে ধবংস করা হয়েছিল, সেই প্রলয়গুলো ঘটেছিল সেসব নবীর বেঁচে থাকাকালীন। আমার লেখাটির মূল প্রশ্নটি এখানেই। অন্যান্য নবীর জীবদ্দশায় মহাপ্রলয়গুলো হয়ে থাকলে মুহাম্মদের সময় কেয়ামতটা হল না কেন? আসুন, সামান্য গভীরে যাওয়া যাক। প্রথমে যে আয়াতটি লক্ষ্য করার মত, সেটি হল - কোরআন ৭:১৮৫ - "তাহারা কি লক্ষ্য করে না যে .... সম্ভবত তাদের নির্ধারিত কাল নিকটবর্তী।"

এখানে যা বোঝা যাচ্ছে, মুহাম্মদ কাফিরদের বলছিলেন যে, তাদের নির্ধারিত সময় এসে গেছে এবং খুব শিঘ্রই কেয়ামত হয়ে যাবে। একই কথা বলা হয়েছে কোরআন ৩৩:৬৩-তে ... "সম্ভবত কেয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে।" এখানে হয়ত কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, কেয়ামত মুহাম্মদের সময়েই আসবে, এমন কিছু কি বলা হয়েছে? এর উত্তর: জ্বী হ্যাঁ। 

কেয়ামত কাদের ওপর আসবে, তা খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে কোরআন ৭:১৮৭ আয়াতটিতে... "তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে কেয়ামত কখন ঘটবে। বল,... আকস্মিকভাবেই উহা *তোমাদের* উপর পড়িবে।" একই কথা বলা হয়েছে কোরআন ৩৪:৩-এ... "বল, আসিবেই। শপথ আমার প্রতিপালকের: নিশ্চয়ই *তোমাদের নিকট* ইহা আসিবে।" কেয়ামতটা যে তৎকালীন মক্কাবাসীর ওপরেই আসার কথা ছিল, তা ওপরের দু'টি আয়াতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এটাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।

কেয়ামত নিয়ে সবচেয়ে নজর কাড়ার মত যে-আয়াতটি কোরআনে বলা হয়েছে, সেটি হল কোরআন ৫৪:১ - "কেয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে আর চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।" অন্য একটি আয়াতে (কোরআন ৪৭:১৮) বলা হয়েছে, কেয়ামতের লক্ষণগুলো এসে পড়েছিল। এ দুটি আয়াত থেকে এটাও স্পষ্ট যে, কেয়ামতের লক্ষণও সে সময় প্রকাশ পেয়েছিল।

ওপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে এবার কয়েকটা প্রশ্ন তুলে ধরছি: ১) মুহাম্মদ যখন খুব নির্দিষ্ট করেই বলছিলেন যে, তৎকালীন কাফিরদের ওপর কেয়ামত আসবে, তাহলে কেয়ামতটা তাদের ওপর তার সময়কালেই হল না কেন? মহাপ্রলয় তো অন্যান্য নবীদের জীবদ্দশাতেই হয়েছিল!২) কেয়ামতের সকল লক্ষণ মুহাম্মদের সময়েই এসে পড়লেও ঠিক কী কারণে আজ অবধি কেয়ামত সংঘটিত হল না? এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা কী? ৩) মুহাম্মদ কি তাহলে মক্কাবাসীদের মিথ্যা কথা বলে বেড়াতেন? ৪) নাকি পুরো কেয়ামতটাই একটা মনগড়া বিষয়? 

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৪৩

মডারেট মুছলিম বা ইছলামের অন্য কোনও ইজ্জতরক্ষক "ইহা ছহীহ ইছলাম নহে" জাতীয় বাণী বর্ষণের আগেই একটি হাদিস জেনে নিন, যাতে ইছলামের নবী বলেছে, "আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।" (বুখারি ৫২:২২০)

ইসলামে নারী অধিকারের জোয়ার - ৪

লিখেছেন জিওর্দানো ব্রুনো


মাছির মিষ্টির প্রতি প্রেম আমাদের সবার জানা। মিষ্টি কেন, যে কোনো খাদ্য-খাবার খোলা ফেলে রাখলে তাতে মাছি হানা দেয় এবং এতে মাছির প্রতি রাগ হয়ে তাকে চ্যাপ্টা বানায়ে ফেলার যৌক্তিকতা নেই। কারণ “মাছির কাজ মাছি করেছে”, আপনার কাজ আপনি করেন, খাবার ঢেকে রাখেন তাহলে মাছি বসবে না।

ইসলামে নারী নামক সুমিষ্ট খাবারকে মাছির হাত থেকে রক্ষার জন্য পর্দাপ্রথার প্রচলন করা হয়েছে, যা নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা। নারী কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তা নবীজির জীবনী আর হাদিস পড়লেই জানা যায়। নারী ছিল নবীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি তিনি যুদ্ধে যাওয়ার সময়ও তার একজন বা দুজন স্ত্রীকে সাথে করে নিয়ে যেতেন। নবীজি বলেছেন “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত”, ভাবখানা এমন যেন, এটা না বললে কোনো মুমিন বান্দা মাকে সম্মান দেবে না। তাই বেহেশত নামক মূলা এখানেও দেখানো হয়েছে। সব ধর্মেই মায়ের আলাদা মর্যাদা আছে, সুতরাং ইসলাম এখানে আলাদা কোনো কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।

যা বলছিলাম। মাছি যদি খোলা খাবার খায়, তাহলে সেখানে মাছির কোনো দোষ নেই, দোষ - যে খাবার ঢেকে রাখেনি, তার। সুতরাং ভিড়ের মধ্যে কোনো নারীর শরীরে হাতসাফাই করলে দোষের কিছু নেই। আমাদের মুমিন বান্দারা এটা হর হামেশাই করছেন। বাংলা নববর্ষে আমাদের দেশেই ঘটেছে এমন ঘটনা। আরও দেখুন মিসরে প্রকাশ্য দিবালোকে 'আল্যাহু আকবার' ধ্বনি সহযোগে নারীকে মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। আর মিষ্টির হাড়ি খোলা থাকলে সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি বসবেই। মাছি-আক্রান্ত সেই 'মিষ্টি''-র জবানবন্দি শুনুন।। 

নারীরা আসলে ইসলামের চোখে কী, তা হাদিস-কোরানের আলোকেই লিখেছি, কেউ কেউ আমাকে "জাল হাদিস লেখক" উপাধি দিয়েছেন, কিন্তু সে পর্যন্তই, প্রমাণ করতে পারেননি। এখানে আরেকটি জাল পুস্তকের জাল হাদিস দিলাম:
আয়শা হ’তে বর্ণিত: যে সব বস্তু নামাজকে নষ্ট করে তারা হলো - কুকুর, গাধা ও নারী। আমি বললাম - আপনি আমাদেরকে (নারী) কুকুর ও গাধাদের সাথে তুলনা করলেন, হায় আল্লাহ! (সহি বুখারি, খণ্ড ১, বই ৯, হাদিস ৪৯৩)
যে শরিয়া আইন মুমিন বান্দারা পৃথিবীব্যাপী কায়েম করতে চায়, সেখান থেকে কয়েকটি আইন পড়ে নিন এই লিংক থেকে। দেখুন, নারীকে কতোটা অধিকার ভারগ্রস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া কোরানে স্ত্রীর সম্পত্তির ওপর অধিকারের ব্যাপারে যে-আয়াতটি আছে, সেটা বুদ্ধিতে খাটো নারীরা কীভাবে বুঝবেন, সেটা আমার জানা নেই, তারপরেও যারা এটা বুঝেছেন, আর এতেই খুশি আছেন, তাদের আমার বলার কিছু নেই।

নিচের অংশটুকু একজনের লেখা থেকে কপি করা। তিনি আমার মনের কথাই বলেছেন কিন্তু বর্ণনা করেছেন আমার চাইতেও অনেক দক্ষভাবে, তাই তার লেখা এখানে হুবহু দিলাম:
লেখাটা শেষ করছি একটা তথ্য দিয়ে। এসব বিষয়ে তর্কের সময় ইসলামপন্থীদের অনেকই দাবি করেন, ইসলাম তো নারীকে কিছুটা হলেও পিতার সম্পত্তিতে ভাগ দিয়েছে, অন্য ধর্ম তো তাও দেয়নি। তাদের জন্য জবাব হচ্ছে, ইসলাম-পূর্ব যুগে নারীর সম্পত্তির অধিকার কতটুকু ছিল, তার প্রমাণ হযরত খাদিজা। কারণ খাদিজা তার স্বামীর মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন! এর মানে হচ্ছে, সেই আরবে পৌত্তলিক ধর্মে নারীর সম্পত্তির অধিকার, স্বাধীন জীবনযাপন (খাদিজা স্বামী মারা যাবার পর একা থাকতেন) করতে পারতেন, নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে পারতেন (খাদিজা মুহাম্মদকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন); বরং ইসলাম আসার পর ইসলাম-পূর্ব যুগের নারীর অধিকার ইসলাম সবটাই হরণ করে নেয়।
মুসলিম দেশগুলোতে মর্যাদার সাগরে ভেসে যাওয়া নারীরা তীরে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু তীরে ওঠার সে অধিকার কি তাদের আছে?

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ২৭

বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতাদের অবস্থান বড়োই বেমানান, অশোভন, দৃষ্টিকটু এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবির সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach. খিয়াল কৈরা!)।


২২ জুন, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১: কে ছিল হামলাকারী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৩০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চার

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

আদি উৎসের (Primary source) ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত ও বিস্তারিত বর্ণনার আলোকে হিজরি ৬ সালের জিলকদ মাসে কী কারণ ও প্রেক্ষাপটে (পর্ব-১১১) স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর ১৪০০ সশস্ত্র (পর্ব-১১২) অনুসারীদের মক্কা প্রবেশের চেষ্টায় কুরাইশরা সক্রিয় বাধা প্রদান করেছিলেন; নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় এই চুক্তি আলোচনার পূর্বে কুরাইশরা যখন মুহাম্মদের কাছে তাঁদের বেশ কিছু প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন, তখন মুহাম্মদ অনুসারীরা তাঁদের প্রতি কী ধরনের অশ্রাব্য গালি বর্ষণ করেছিলেন (পর্ব-১১৫); কী পরিস্থিতিতে কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমরের সাথে মুহাম্মদ এই চুক্তির প্রস্তুতি ও আলোচনা সম্পন্ন করেছিলেন (পর্ব: ১১৮-১১৯); এই সন্ধিচুক্তির শর্তগুলো কী ছিল (পর্ব-১২২); এই চুক্তির প্রতিটি শর্তের প্রতি মুহাম্মদ পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন বলেই তিনি সুহায়েল বিন আমরের পুত্র আবু জানদাল বিন সুহায়েলকে কুরাইশদের কাছে ফেরত দিয়েছিলেন - ইসলাম-বিশ্বাসীদের এই দাবি কী কারণে মিথ্যাচার ও হাস্যকর (পর্ব-১২০); আবু জানদাল যেন তার জন্মদাতা পিতাকে হত্যা করতে পারে, এই অভিপ্রায়ে এই সন্ধিচুক্তির প্রাক্কালে উমর ইবনে খাত্তাব কীরূপ আচরণ করেছিলেন (পর্ব-১২১); নিজেদের বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার পর মুহাম্মদের প্রায় সকল অনুসারী এই সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করার আগে ও পরে কী কারণে অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত হয়েছিলেন ও মুহাম্মদের প্রতি আস্থা হারিয়েছিলেন; মুহাম্মদ তাঁদের এই অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও তাঁর হৃতগৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কারণে মদিনা প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে পথিমধ্যেই 'সূরা আল ফাতহ' অবতীর্ণ করার মাধ্যম এই সন্ধিচুক্তিটিকে 'এক সুস্পষ্ট বিজয়' নামে অবিহিত করার পর তাঁর মক্কা-বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর কমপক্ষে যে আঠারটি হামলার সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন সেই হামলাগুলো কী কী (পর্ব-১২৪); এই সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পরেই (পর্ব-১২৮) ও তার পরবর্তী দুই বছরে কমপক্ষে আরও চারবার কী ধরনের কলাকৌশলের মাধ্যমে মুহাম্মদ এই সন্ধিচুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন; দশ বছরের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করার পর কমপক্ষে চারবার নিজেই এর প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করার পর, 'চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ' এনে বিনা নোটিশে কুরাইশদের আক্রমণ করা কী কারণে প্রতারণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত (পর্ব-১২৯) - ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা গত উনিশটি পর্বে করা হয়েছে।

হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির প্রাক্কালে তাঁর যে সমস্ত অনুসারী তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন, মুহাম্মদ পথিমধ্যেই তাদেরকে কীভাবে 'আসন্ন বিজয়-পুরস্কার ও লুটের মালের ওয়াদা’ প্রদান করেছিলেন (৪৮:১৮-২০) তার বিস্তারিত আলোচনা 'আল-রিযওয়ানের শপথ (পর্ব-১১৭) ও সূরা আল ফাতহ (পর্ব-১২৩)' পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদ তাঁর এই প্রতিশ্রুতির প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন।

তাই তিনি এই সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার মাত্র দেড়-দুই মাস পর হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (মে-জুন, ৬২৮ সাল) শুধু তাঁর সঙ্গে হুদাইবিয়া যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ও আল-রিযওয়ানের শপথ গ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে ৯৫ মাইল দূরবর্তী খায়বার নামক স্থানের ইহুদি জনপদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালান। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী, আল-ওয়াকিদি, ইমাম বুখারী প্রমুখ আদি উৎসের প্রায় সকল মুসলিম ঐতিহাসিক এই ঘটনার বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। সবচেয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে। 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [1] [2] [3] [4]

'আল-হুদাইবিয়া হতে প্রত্যাবর্তনের পর আল্লাহর নবী যিলহজ মাস ও মহরম মাসের কিয়দংশ মদিনায় অবস্থান করেন, [তখন] তীর্থযাত্রীদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মুশরিকরা। অতঃপর তিনি খায়বার অভিযানে যাত্রা করেন। [5]

এমন এক ব্যক্তি যাকে আমি কোনো সন্দেহ করি না, আনাস বিন মালিক-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন: আল্লার নবী লোকদের ওপর হামলা করার জন্য সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। যদি তিনি প্রার্থনার আহ্বান (এর সাধারণ মানে হলো 'আজান', কিন্তু এখানে, সম্ভবত, লোকজনদের সকালে কাজে বের হওয়া অর্থে বোঝানো হয়েছে) শুনতে পান, তিনি পিছুটান দেন; যদি তিনি তা শুনতে না পান, তবে তিনি তাদেরকে আক্রমণ করেন। আমরা রাত্রিকালে খায়বারে পৌঁছাই, আল্লাহর নবী সেখানে রাত্রি যাপন করেন; সকালে যখন লোকজনদের চলা ফেরার শব্দ তিনি শুনতে পান না, তখন তিনি অশ্বের পিঠে সওয়ার হন ও আমরাই তাঁর সাথে সওয়ার হই; আমি বসেছিলাম আবু তালহার পিছে ও আমার পা আল্লাহর নবীর পা স্পর্শ করছিলো।

আমরা সাক্ষাৎ পাই শ্রমজীবী মানুষদের, যারা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে সকালে বের হয়ে এসেছিলো। যখন তারা আল্লাহর নবী ও তাঁর সৈন্যদের দেখতে পায়, তারা চিৎকার করে বলে, "মুহাম্মদ ও তার বাহিনী", অতঃপর ঘুরে সজোরে দৌড়ে পালায়। আল্লাহর নবী বলেন, "আল্লাহু আকবর! খায়বার ধ্বংস হয়েছে। যখন আমরা জনগণের উন্মুক্ত স্থানে আসি, তখন তা ছিল ঐ লোকদের দুর্ভাগ্যজনক সকাল, যাদেরকে তারা সতর্ক করেছিল।" আনাস-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে > হুমায়েদ > হারুন আমাদের একই রূপ বর্ণনা অবহিত করিয়েছেন।

আল্লাহর নবী যখন মদিনা থেকে খায়বার অভিমুখে রওনা হন, তিনি 'ইসর' (মদিনা ও ওয়াদি-উল ফুর-এর মধ্যবর্তী এক পর্বত)-এর রাস্তা দিয়ে গমন করেন ও সেখানে তাঁর জন্য এক মসজিদ নির্মাণ করা হয়; অতঃপর তিনি আল-সাহবা (খায়বার থেকে এক সন্ধ্যার পথ)-এর রাস্তা দিয়ে যান। অতঃপর তিনি তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে সামনে অগ্রসর হন ও আল-রাজী নামের এক উপত্যকায় পৌঁছে যাত্রা বিরতি দেন [এই আল-রাজী স্থানটি ও তায়েফের নিকটবর্তী আল-রাজী, যেখানে হিজরি ৪ সালে মুসলমানদের এক ছোট দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল, (পর্ব-৭২) একই জায়গা নয়]। [6]   

এই যাত্রা বিরতিটি ছিল খায়বার ও ঘাতাফান গোত্রের লোকদের লোকালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে, এই কারণে যে তিনি যেন ঘাতাফান গোত্রের লোকদেরকে খায়বারের লোকদের সাহায্য প্রদানে বাধা প্রদান করতে পারেন; তারা তাদের পক্ষে আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে ছিলেন। আমি শুনেছি যে, যখন ঘাতাফান গোত্রের লোকেরা আল্লাহর নবীর আক্রমণের খবর শুনতে পায়, তারা একত্রিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদিদের সাহায্যের জন্য রওনা হয়। কিন্তু এক দিনের রাস্তা অগ্রসর হওয়ার পর তারা তাদের সম্পত্তি ও পরিবার সম্বন্ধে এক গুজব শুনতে পায় ও  মনে করে যে, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের লোকদের আক্রমণ করা হয়েছে। তাই তারা আল্লাহর নবীর খায়বার যাবার পথ উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে তাদের রাস্তায় ফিরে যায়।

আল্লাহর নবী তাদের কাছে গমন করেন এবং একটা একটা করে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন ও একে একে তাদের দুর্গগুলো দখল করে নেন। প্রথম যে-দুর্গটির পতন হয়, তার নাম হলো নাইম দুর্গ ( fort of Na'im); যেখান থেকে নিক্ষিপ্ত এক জাঁতার আঘাতে মাহমুদ বিন মাসলামা খুন হয়; অতঃপর পতন হয় বানু আবু আল-হুকায়েক-এর আল-কামুস (al-Qamus) দুর্গ আল্লাহর নবী তাদের লোকদের বন্দী করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন কিনানা বিন আল-রাবি বিন আবু আল-হুকায়েক এর স্ত্রী সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব ও তার দুই কাজিন।

আল্লাহর নবী তাঁর নিজের জন্য সাফিয়াকে পছন্দ করেন। দিহায়া বিন খালিফা আল-কালবি (Dihya b. Khalifa al-Kalbi) সাফিয়াকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর নবীর কাছে আবেদন করে, অতঃপর যখন আল্লাহর নবী তাঁর নিজের জন্য তাকে বাছাই করেন, তখন তিনি তাকে দান করেন তার দুই কাজিনকে। খায়বারের মহিলাদেরকে মুসলমানদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়। মুসলমানরা গৃহপালিত উটের মাংস ভক্ষণ করে ও আল্লাহর নবী উঠে দাঁড়ান ও লোকদের কিছু সংখ্যক কাজকর্ম করতে নিষেধ করেন, যা তিনি পরপর উল্লেখ করেছিলেন।'

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিক বর্ণনা:

আল্লাহর নবী আল-হুদাইবিয়া থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন হিজরি ৬ সালের যিলহজ মাসের শেষ দিকে। তিনি যিলহজ মাসের শেষের দিনগুলো ও মহরম মাস মদিনায় অবস্থান করেন। তিনি হিজরি ৭ সালের সফর মাসে - কেউ কেউ বলে, মাসটি ছিল রবিউল আওয়াল- খায়বার গমন করেন।  আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের হামলার প্রস্তুতি নেয়ার আদেশ করেন, আর প্রস্তুতি কল্পে তারা ছিলেন নিরলস (diligent); তিনি তাঁর আশে পাশের অনুসারীদের তাঁর সঙ্গে অভিযানে যেতে করেন উত্তেজিত। যারা পেছনে অবস্থান করেছিল, তারা তাঁর কাছে আসে এই আশায় যে, তারা তাঁর সাথে লুটতরাজে অংশ নেবে। তারা বলে, "আমরা আপনার সঙ্গে যাবো!" তারা আল-হুদাইবিয়া যাত্রায় অংশ গ্রহণ না করে আল্লাহর নবী ও মুসলমানদের সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করেছিল। কিন্তু এখন তারা বলছে, "আমরা আপনার সঙ্গে খায়বার যাবো। নিশ্চয়ই এটি হিজাযের গ্রামাঞ্চলের একটি, যা খাদ্য ও সম্পত্তিতে সমৃদ্ধ।" আল্লাহর নবী বলেন, "তোমরা আমার সাথে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, যদি না তোমরা 'জিহাদ' অভিলাষী হও। লুটতরাজের জন্য, একজনও নয়।" তিনি এক ঘোষককে উচ্চস্বরে বাইরে ঘোষণা করার জন্য পাঠান, "একমাত্র যারাই 'জিহাদ' অভিলাষী, শুধু তারাই আমাদের সঙ্গে যাবে। লুটতরাজের জন্য - একজনও নয়!"

যখন লোকেরা খায়বার অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, মদিনার ইহুদিদের জন্য তা ছিল দুঃসহ, তারা আল্লাহর নবীর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলো। তারা জানতো যে, যদি মুসলমানরা খায়বার-এ প্রবেশ করে, আল্লাহ খায়বার ধ্বংস করবে - ঠিক যেমনটি সে ধ্বংস করেছিল বনি কেইনুকা [পর্ব-৫১], বনি নাদির [পর্ব-৫২] ও বনি কুরাইজা গোত্রকে [পর্ব: ৮৭-৯৫]।---’ [7]

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা:

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা (৫:৫৯:৫১২ ৫:৫৯:৫১০) মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ; পার্থক্য হলো এই যে, উপাখ্যানের বিস্তারিত বর্ণনা সেখানে অনুপস্থিত।  [4]

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, খায়বার-এর ইহুদি জনপদবাসী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ করতে আসেননি। বরাবরের মতই আগ্রাসী দলটি ছিল নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা। খায়বারে অধিষ্ঠিত এই ইহুদি জনপদবাসীর অনেকেই ছিলেন মুহাম্মদের আগ্রাসনের শিকার হয়ে মদিনা থেকে নির্বাসিত বনি নাদির গোত্রের লোকেরা [পর্ব: ৭৫] মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এই ইহুদি জনপদবাসীর ওপর কীরূপ নৃশংসতা প্রদর্শন করেছিলেন, তার বিস্তারিত ইতিহাস "খায়বার যুদ্ধ (হামলা)" অধ্যায়ের পরবর্তী পর্বগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। [8]

হা-হা-হাদিস – ১৭৭

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!


Narrated Al-Abbas ibn AbdulMuttalib: I was sitting in al-Batha with a company among whom the Apostle of Allah (peace_be_upon_him) was sitting, when a cloud passed above them. The Apostle of Allah (peace_be_upon_him) looked at it and said: What do you call this? They said: Sahab. He said: And muzn? They said: And muzn. He said: And anan? They said: And anan. AbuDawud said: I am not quite confident about the word anan. He asked: Do you know the distance between Heaven and Earth? They replied: We do not know. He then said: The distance between them is seventy-one, seventy-two, or seventy-three years. The heaven which is above it is at a similar distance (going on till he counted seven heavens). Above the seventh heaven there is a sea, the distance between whose surface and bottom is like that between one heaven and the next. Above that there are eight mountain goats the distance between whose hoofs and haunches is like the distance between one heaven and the next. Then Allah, the Blessed and the Exalted, is above that.

মাদ্রাসা - শিশুদের মানসিক মৃত্যুস্থল

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার করার বিলাসী স্বপ্ন দেখার চেয়ে এটা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া উচিত। কাজটা কঠিন হবে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের মানসিক মৃত্যু ঠেকানোর পথ চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এটা ছাড়া উপায় নেই।

মাদ্রাসা আছে দুই প্রকার। একটা হল কওমি। অন্যটা আলিয়া বা সরকারি মাদ্রাসা।

এই সরকারি মাদ্রাসাগুলোর সিলেবাস প্রায় স্কুলের মত। পড়ার মানও আধুনিক। তবে যে ভয়াল জিনিসটা এই মাদ্রাসাগুলায় ছড়িয়ে আছে, তা হল শিবির। অনেক সচেতনও মানুষও এই ব্যাপারটায় অসচেতন। তাঁরা ভাবেন যে, এই মাদ্রাসা যেহেতু সরকারের অধীন, তাই হয়ত নিরাপদ। এই ধারণাটা খুব ভুল। জামাত-শিবির এতোটা নির্বোধ নয় যে, কওমির মত একটা অসার ও নিষ্প্রয়োজন শিক্ষা-সিলেবাসের অধীনে পড়ালেখা করা লোকদের দলে ভেড়াবে। আলিয়া থেকে শিবির সরানো ভার্সিটি থেকে ছাত্র রাজনীতি সরানোর মতই কঠিন। কিংবা তারচেয়ে বেশি কঠিন। ভার্সিটিগুলোয় বহুবাদী রাজনীতি করার সুযোগ আছে, যেটা এইসব মাদ্রাসায় নেই।

অন্যদিকে কওমিগুলোর অবস্থাও খারাপ। এগুলোতে জামাতি রাজনীতির চর্চা হয়ত নেই, কিন্তু আহ্লাদিত হওয়ার মত কিছুও নেই।

এই মাদ্রাসাগুলার পরিবেশ ভয়ংকর। মেয়ে ও ছেলেদের জন্য আলাদা শিক্ষানীতি। কওমির সিলেবাসে দেশের মুক্তিযুদ্ধের কোনো ইতিহাস নেই। নেই ইংরেজি শিক্ষা, অংক, বিজ্ঞান বা আধুনিক কোনো বিষয়। এমনকি যে আরবি শেখানো হয়, তার সাথেও নেই আধুনিক আরবি মিল। পড়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় উর্দু।

এখানে কাউকে হাতে-কলমে জঙ্গি হবার শিক্ষা দেওয়া হয় না, কিন্তু মানসিকভাবে পুরোপুরি জঙ্গি বানিয়ে দেয়া হয়। প্রায় প্রত্যেকটা কওমি মাদ্রাসায় শিশুনির্যাতন, যৌননিপীড়ন ও আর্থিক কেলেংকারি নিয়মিত ঘটনা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর অপুষ্টিকর খাবারটাই সেখানে স্বাভাবিকতা। ওয়াজ, কোরবানি, নবান্ন ইত্যাদি সিজনে চাঁদা তোলার মাধ্যমে একেবারে বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেদের আত্মমর্যাদাহীন করে গড়ে তোলা হয়। 

সব কওমিতে চলে একদলীয় রাজনীতি। প্রিন্সিপাল যে-দল করে, মাদ্রাসায় কেবল ঐ দলের রাজনীতি চলবে। এর ফলে নষ্ট হয় ভিন্নমতাবলম্বী হবার ক্ষমতা।

কোনো শিক্ষামাধ্যম যে এতটা জঘন্য হতে পারে, তা আপনি কওমি মাদ্রাসা না দেখলে কল্পনাও করতে পারবেন না।

এই দুই ধরনের মাদ্রাসাই দেশের জন্য হুমকি। এগুলোর ব্যাপারে কঠিন হতেই হবে। এছাড়া উপায় নেই।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৫৫

২১ জুন, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ১৫

লিখেছেন পুতুল হক

৫৬.
যে মাসে কোরান নাযিল হয়, সে মাসে কোরান বেশি বেশি তেলাওয়াত হবে, বেশি বেশি অনুসরণ করা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। দিকে দিকে অমুসলমানদের প্রতি ইসলামী সন্ত্রাসী তাণ্ডব এর সত্যতা প্রমাণ করে।

৫৭.
ইসলাম আত্মহত্যা হারাম করেছে। পরীক্ষায় ফেল করে কিংবা প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে কিংবা মা-বাবার বকা খেয়ে কিংবা জীবনের কোনো অর্থ খুঁজে না পেয়ে নিজেকে শেষ করে ফেললে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে অনন্তকাল। কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর রাস্তায়, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য, দারুল ইসলামের জন্য, আল্লাহ্‌ নবীর সম্মান রক্ষার জন্য, মহানবীর দেখানো পথ অনুসরণের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়, তবে তাঁকে আত্মহত্যা বলে না, বলে জিহাদ এবং সে ব্যক্তি হয় শহীদ। ইসলামের জন্য ইসলামের নবীর জন্য জীবন দিতে পারে ভাগ্যবান মুসলমান। সব চাইতে প্রিয় বস্তু আল্লাহর ওয়াস্তে উৎসর্গ করার নাম কোরবানি। প্রতি বছর জিলহজ্জ মাসে গরু, ছাগল আর দুম্বা জবাই করা হয় গোস্ত খাওয়ার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনে নিজেকে এবং অন্যকে জবাই হতে দেয়ার জন্য। আল্লাহ্‌ নবীর কাছে সব চাইতে প্রিয় - শহীদ। মৃত্যুর পরে তারা ডাইরেক্ট বেহেশতে চলে যায়। শহীদের মর্যাদা সবার ওপরে। শহীদ হতে ইসলামে কোথাও নিষেধ করা হয়নি, বরং তাড়না আছে এর জন্য।

৫৮.
মুসলমান সহজে ইসলামকে ছাড়তে চাইবে না। কারণ ইসলাম তাদের সহজ আয়ের পথ দেখায়, সেটা হচ্ছে ডাকাতি।

৫৯.
বড় রাস্তা থেকে আমার বাসায় হেঁটে আসতে ৫/৬ মিনিট সময় লাগে। এর মধ্যে তিনটা মহিলা মাদ্রাসা। তার মধ্যে দুটোতে আবার সব বড় মেয়ে, কোনো বাচ্চা নেই। মাদ্রাসা তিনটির কোনোটি এতিমখানা নয় বা অবৈতনিক নয়। বাবা-মা এখানে চাইছেন তাঁদের সন্তান ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করবে। চাকরির বাজারেও ছোটখাটো একটা সেগমেন্ট তৈরি হয়েছে, যেখানে এসব মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেমেয়ের কাজ জুটে যাবে। আখেরাতের কথা না হয় বাদই দিলাম। অনলাইনে আমরা যতই চেঁচামেচি করি না কেন, মাদ্রাসায় বাবা-মা তাঁদের সন্তান পাঠাচ্ছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা তাঁদের কাছে অপ্রয়োজনীয় কিংবা অলাভজনক নয়। মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা যত বৃদ্ধি পায়, অপ্রগতিশীল, কূপমণ্ডূক এবং ধর্মান্ধ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় সেই হারেই। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা যায়, তারা যে সবাই আধুনিক কিংবা ধর্মান্ধ নয়, সেটাও নয়। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে আমরা প্রগতিশীল একটা গোষ্ঠী আশা করতে পারি, যা মাদ্রাসা থেকে পাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। আমরা নিত্যনতুন মাদ্রাসা গজিয়ে উঠতে দিই, যা মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের পাঠাতে উৎসাহিত করে।

৬০.
মুমিনের ইমান থাকে পশ্চাদ্দেশে। নামাজের সময় মাথা কপাল মাটিতে রেখে পশ্চাদ্দেশ আগলে রাখা দেখে বোঝা যায়, ঈমান সব সময় উচুতে রাখতে হয়।

ক্রুশের ছবি – ২০

শুধুই ক্রুশের ছবি। অন্যদিকে নজর গেলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে!



ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭৭

২৩১.
আস্তিক-নাস্তিক সংলাপ। আস্তিক বললো:
- আপনি আল্যার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না, কারণ তাকে দেখা যায় না, তাই তো? কিন্তু বাতাসও তো দেখা যায় না, অথচ বাতাসের অস্তিত্বে আপনি কিন্তু ঠিকই বিশ্বাস করেন।
- দুটোর ভেতরে তফাত আছে কিন্তু, - নাস্তিক জানালে।
- কেমন তফাত?
সশব্দে পাদ মেরে নাস্তিক বললো:
- তফাতটা এখন টের পাচ্ছেন?

২৩২.
- মমিনদের জন্য কখনও হালাল বার প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটার নাম কী দেয়া হবে?
- আল্যাহু আক-বার।

২৩৩.
- মমিন মুছলিমের ছহীহ লেবাছ কেমন হওয়া উচিত?
- বড়ো ভাইয়ের পাঞ্জাবি ও ছোট ভাইয়ের পায়জামা।
(সৌজন্য: তারেক ফাতাহ্)

২৩৪.
- আপনি কখন উপলব্ধি করেছেন যে, ঈশ্বর বলে কিছু নেই?
- একদিন প্রার্থনা করার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, আমি আসলে নিজের সঙ্গেই কথা বলছি শুধু।

২৩৫.
- রমজান মাসে আল্যা শয়তানকে বেঁধে রাখে কেন?
- কারণ কোটি কোটি রোজাদার মমিনের মুখনিঃসৃত কস্তুরিগন্ধের চেয়ে শ্রেয় সুবাস আল্যাফাক শয়তানের সঙ্গে শেয়ার না করে একাই উপভোগ করতে চায়।

রমজানি ভণ্ডামি

২০ জুন, ২০১৬

অপরাধপ্রবণতা ও মসজিদ উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক

লিখেছেন নরমপন্থী

মনে পড়ে, একটা সময়ে "আল্লাহর একটা অলৌকিক ঘটনা" ধার্মিক মহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব প্রচার পেয়েছিল। বিষয়টা হল - সুনামির টানে যখন চারপাশের সব কিছু ভেসে গিয়েছিল, তারপরও বেশ কিছু মসজিদ দণ্ডায়মান ছিল। এই দৃশ্য দেখার পর মমিনবান্দারা সুভানাল্লাহ-সুভানালাহর সুনামি বইয়ে দিলো। 

মনোবিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে "কনফার্মেশন বায়াস"-এর বিষয়টা কমবেশি সবার জানা । তবে আমার মেজাজ খারাপ হলো অন্য কারণে। আমার কথা হল - চারপাশের দুর্বল কাঠামোর ঘরবাড়ির মাঝে মাঝখানে মসজিদগুলো শক্ত ভিত্তিতে বানানো হলো কীভাবে? এই "শক্তিমত্তার" কারণ, খুব সম্ভবত, মসজিদ বানানোর সময় মসজিদগুলোর চারপাশের মানুষেদের থেকে অর্থ চুষে খাবার ক্ষমতার ভেতরে নিহিত।

আমার পরিচিত এক ব্যক্তি সমাজকর্ম করেন গ্রামের লোকজনকে একত্র করে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে। ভদ্রলোক একটা বয়সের পর ধর্মকর্মেও মেতে উঠেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তিনি কিছু মসজিদ উন্নয়ন এবং নির্মাণ জাতীয় কাজে হাত দিলেন। দেখা গেল, এই উদ্দেশ্যে তার দানের অর্থ সংগ্রহে তেমন বেগ পেতে হয় না। একবার এক হুজুর বলেছিলেন, "একবার যদি মসজিদে টাকা দেন, কেয়ামত পর্যন্ত সোয়াব পাইয়া যাবেন - এমনকি মৃত্যুর পরেও।" আর তাই রাস্তার মোড়ে, জুম্মায় জুম্মায়, বয়ানে বয়ানে টাকা উঠে আসে। 

একবার ভদ্রলোক দেখলেন, তার এলাকায় একটা কলেজ নির্মাণ করা দরকার। ভেবেছিলেন, হয়ত সেই একই গতিতে দেশ-বিদেশ থেকে টাকা উঠে আসবে। কিন্তু দেখা গেল - না। যে শিক্ষার ওপরে দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করে, সেই খাতে অর্থ ব্যয় করার প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি তাঁকে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ফেলে দিলো। 

কোন মমিন ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কিছু অর্থ উপার্জন করে, তখন মনের ভেতরের খচখচানি দূর করবার জন্য তার কিছু অংশ মসজিদে দান করে দিয়ে বা দিব্যি হজ ককরে আসতে পারে। 

আমার এক কাজিন একবার বলেছিল, "যদি দেখ, এলাকায় নতুন মসজিদ উঠসে বা পুরনো মসজিদটা দ্রুত জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাহলে বুঝবে, এলাকায় অপরাধ বেড়ে গেছে।"

ঢাকা - মসজিদের নগরী। ইহা হইতে আমরা কী বুঝিলাম?

রহমত বর্ষণলীলা

সুরা কাফিরুনে সংশোধনী

নাজিল হয়েছে এন জেড আহমেদ-এর ওপর

আজ যোনীগুহায় ধ্যানকালে হঠাৎ জিব্রাইল ফিরিস্তার আগমন। সে আসে সুরা কাফিরুনের সংশোধনী নিয়ে। তার মতে, আল্যা মডারেট মুসলিমদের ওপর মহাবিরক্ত, কারণ তারা বিজ্ঞান দিয়ে কুরানকে বিচার করার বৃথা চেষ্টা চালায়। কেন, বিজ্ঞান কি আলাফাকের চাইতে বড়? সে আরও বলে যে, আল্যাফাক মুমিনদের এখন থেকে সংশোধিত সুরা কাফিরুন পাঠের জন্য হুকুম করেছেন।

پالما احساست آنان 
১. বলুন, হে মডারেট মুসলিমকূল

طنینی سایتی یتیویحس ققنوس سایوز زمین 
২. আমি চুষি না তার লিঙ্গ, যার লিঙ্গ তোমরা চুষতে চাও।

آلمان بمانیم بمانی بنر بک یجیج
৩. এবং তোমরাও চোষ না (ভাল মত), যারটা আমি চুষি 

چاقی اتفاقا ینقنقحثج قنبکبکجقج 
৪. আমি চোষক নই, যারটা তোমরা চোষ।

بچین بمانیم بنام جاننیح یحبحف م 
৫. তোমরা চোষক নও, যারটা আমি চুষি।

لالجین بمانیم بنیامین انسجامی آنان ینقنقحثج 
৬. তোমাদের চোষাচুষি তোমাদের জন্যে এবং আমার চোষাচুষি আমার জন্যে।

(সুরা কাফিরুন পড়া থাকলে রসাস্বাদনে সুবিধে হবে)

ইনসেস্টভক্ত আল্যা

১৯ জুন, ২০১৬

শেখ'স শপ - ০৯

লিখেছেন শেখ মিলন

২৫.
দুপুরে মেসে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ ভাইয়ার হুড়হুড় আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো। তাকিয়ে দেখি, তিনি শার্ট-প্যান্ট পরে রেডি হয়ে কী যেন খুঁজছেন তাঁর বিছানার নিচে। শুধালাম আমি:
- কী খোঁজেন, ভাই? আর এতো রাতে কই যান? 
ভাইয়ার উত্তর:
- সে কথা আর বইলো না, ভাই। মেরাজে যাবো, জায়নামাজে ডাক দিয়েছে, নামায পড়তে যেতে হবে, কিন্তু টুপি খুঁজে পাচ্ছি না... 

(বি.দ্র. মেরাজ = রুম ডেটিং, জায়নামাজ = বৌ/প্রেমিকা, নামায = সঙ্গম, টুপি = কনডম)

২৬.
চলো, চাপাতি চালাই,
কাফিরদের কল্লা ফালাই,
হবে ঈমান ঝালাই,
ছেড়ে মনুষত্ব্যের বালাই
তাদের ঘরদ্বোর জ্বালাই,
বাঁচবে না কোনো শালাই,
কাফিররা বলে, 'পালাই'
চলো, চাপাতি চালাই

২৭.
ভাইয়ার কল। রিসিভ করলাম।
ভাইয়া: কোথায় আছিস, মিলু? 
আমি: মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সালামপুর। 
ভাইয়া: এটা আবার কোন জায়গা? 
আমি: ঢাকা। 
ভাইয়া: ও, মোহাম্মদপুর? 
আমি: জি। 
ভাইয়া: তাহলে তুই "সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সালামপুর" বললি কেন? মোহাম্মদপুর বললেই তো হতো। 
আমি: পাগল নাকি! নবীর নামের শেষে দরুদ না পড়লে যদি মুসলিমরা মোরে মাইরালায়?

মধুবিরোধী মৌমাছি

ইছলামে জঙ্গিবাদ হারাম ঘোষণা করে ইছলামী আলেমদের দেয়া ফতোয়া কোনও সুফল আনলে তা সুখবর হবে বৈকি। তবে আলোচ্য ফতোয়াটি যে ইছলাম- ও নবীর শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক, সে কথা ভুলে যাই কী করে?

আদম-হাওয়া, খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য

লিখেছেন বিরামহীন-আরাম

পবিত্র কুরআনে এরশাদ করা হয়েছে:
আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেথা ইচ্ছা আহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, হলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(সূরা বাকারা, আয়াত ৩৫)
পবিত্র কুরআনে আরও এরশাদ করা হয়েছে:
অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান, যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করার জন্য; শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল- পাছে তোমরা উভয়ে ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী (বাসিন্দা) হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এই বৃক্ষ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন।”
(সূরা আরাফ, আয়াত ২০)
>>> এই দুই আয়াত থিকা আমরা কী বুঝলাম?

১. জান্নাতে হাগা-মুতার কোনো সুবন্দোবস্ত না থাকলেও যেথা ইচ্ছা ও যথা-ইচ্ছা আহার করা যায়। কিন্তু শরীরে বিপাক ক্রিয়া না থাকলে আহার কইরা কী লাভ? পেট ভর্তি থাকলে আমি কাচ্চি বিরানী সামনে থাকলেও খাই না। বেহেশতিরা হুদাই খাইবো ক্যান?

২. জান্নাতে বৃক্ষ আছে। যেমন, গন্দম বৃক্ষের ফল। ফলমূলও আছে। তার মানে - মাটি আছে। সেই মাটিতে ফার্টিলাইজার আছে। ইউরিয়া আছে। তার মানে পুরা ইকোসিস্টেম আছে। আলহামদুলিল্লা! এ তো পুরা পৃথিবীর মতোন, দেখা যায়!

৩. "অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান, যা গোপন রাখা হয়েছিল" - ক্যান, ভাই? গন্ধম খাওয়ার আগে এবং পৃথিবীতে পাঠানির আগে আদম-হাওয়ার লজ্জাস্থান আল্লায় ক্যান বানাইসিল? আদমের কি বেহেশতেও বিচি ছিল? থাকলে ঐ বিচির কাজ কী ছিলো? লজ্জাস্থান যদি থাকেই, আদম-হাওয়ার কি নাভিও ছিল? 

৪. "শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল" - ক্যান, ভাই? শয়তান একে তো আদমরে সেজদা দেয় নাই এবং আল্লায় নাখোশ হইলেন তার উপ্রে; তারপরও বেহেশতবাসী আদম-হাওয়ারে কুমন্ত্রনা দেয়ার লাইগা ক্যামনে সে জান্নাতে থাকে, যদি না আল্লার এই ব্যাপারে একদম ইচ্ছা না-ই থাকে? আর একখান কথা: আল্লার শিরক এতো অপছন্দ, হেই আল্লায় আদমরে সেজদা দিতে কইলো ক্যা? 

৫. আরেকটা কথা: বেহেশতে হুদাই আম, জাম, কাডল গাছ ফালাইয়া গন্দম গাছ লাগাইসে কোন মালী? জানেন কিছু?

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৪২

পাঠিয়েছেন রঙ্গিলা রসুল

১৮ জুন, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা অধ্যায় - গোপন প্রচারের তিন বছর (পর্ব ০১)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

[বর্তমানে যে কোরআন আমরা পাঠ করি, তাকে বলা হয় “উসমানী কোরআন”; খলিফা উসমানের শাসন আমলে এ সংকলন করা হয়; সংকলন করার সময় আয়াত প্রকাশ হবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি; এর কারণে নবী মুহাম্মদের প্রথম প্রকাশ করা সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত সংকলিত হয়েছে কোরআনের ৯৬ নং অবস্থানে; মিনায় অবতীর্ণ হওয়া শেষ হজ্জের সময়কার আয়াত চলে এসেছে সূরা বাকারায়; ৪৩ তম বারে প্রকাশ হওয়া সূরা ফাতিহা আছে কোরআনের ১ নং অবস্থানে!

যেহেতু কোরআনে নবী মুহাম্মদের জীবনের প্রতিরূপ ক্রমশ প্রকাশিত হয়েছে, তাই কোরআন ও নবী মুহাম্মদের মানসপট বোঝার সহজ উপায় হচ্ছে, আয়াত প্রকাশ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে কোরআন অধ্যায়ন করা; কিন্তু দুঃখের বিষয়, ১৪০০ বছরের ইতিহাসে এ বিষয়ে কাজ হয়েছে খুব সামান্য।

২০০৮ ইং সাল থেকে বিষয়টি নিয়ে আমি মাথা ঘামানো শুরু করি; প্রায় শতাধিক নবী জীবনী, ১৫ টি হাদিস সংকলন, কোরআনের ৫০ টির বেশি বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ, ২০ টির মত তাফসীর এবং ১৫ টি শানেনুযুল গ্রন্থ অনুসারে আমি আপাত অসাধ্য কাজটিতে হাত দিই; আজ ৮ বছর পর, আমি প্রায় বেশির ভাগ কাজ গুছিয়ে আনতে পেরেছি; ধর্মকারীর বন্ধুদের জন্য কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশ করা শুরু করলাম; প্রতি পর্বে থাকবে ধারাবহিকভাবে ছয় অংশ। অনুবাদের ভাষা ৫০ টির বেশি বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।]

নবী মুহাম্মদ দ্বারা প্রথম প্রকাশ; সূরা আলাক (৯৬) (জমাট রক্তপিণ্ড) ৫ আয়াত:
১ .পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন,
২. সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।
৩. পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,
৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা দ্বিতীয় প্রকাশ; সূরা আল মুদ্দাসসির (৭৪) (কম্বল আচ্ছাদিত ব্যক্তি) ৭ আয়াত:
১. হে চাদরাবৃত!
২. উঠুন, সতর্ক করুন,
৩. আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন, 
৪. আপন পোশাক পবিত্র করুন,
৫. এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।
৬. অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দেবেন না;
৭. এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন ।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা তৃতীয় প্রকাশ; সূরা আছর (১০৩) (মহাকাল/সময়) ২ আয়াত:
১. কসম যুগের (সময়ের),
২. নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত;

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৪র্থ প্রকাশ; সূরা আয-যারিয়াত (৫১) (বিক্ষিপ্তকারী বায়ুরাশি) ৬ আয়াত:
১. কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
২. অতঃপর বোঝা বহনকারী বায়ুর কসম।
৩. অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের,
৪. অতঃপর কার্য-বিভাগকারী বায়ুর কসম,
৫. তোমাদেরকে প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য।
৬. এবং বিচার অবশ্যম্ভাবী।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৫ম প্রকাশ; সূরা আত্ব তাকাসূর (১০২) (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা) ২ আয়াত:
১. প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে মুগ্ধ রাখে,
২. এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৬ষ্ঠ প্রকাশ; সূরা আত্ব-তূর (৫২) (তূর পাহাড়) ৮ আয়াত:
১. কসম তূর পর্বতের,
২. এবং লিখিত কিতাবের,
৩. উন্মুক্ত পত্রে,
৪. কসম বায়তুল-মামুর তথা কাবা গৃহের,
৫. এবং সমুন্নত ছাদের,
৬. এবং উত্তাল সমুদ্রের,
৭. আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী,
৮. তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না।