২১ অক্টোবর, ২০১৪

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১২৩



বৌদ্ধশাস্ত্রে পিতৃতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১৪

লিখেছেন নিলয় নীল


পুরুষ স্ত্রীকে চায় সর্বগুণ সমন্বিত দাসীর রূপে। তারা সংসারে কর্মঠ যন্ত্রবিশেষ হবে, কিন্তু কোন কণ্ঠস্বর থাকবে না। এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো বৌদ্ধ শাস্ত্রের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকের জাতক কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সুজাতা জাতক নিয়ে। জাতক কাহিনীর ২৬৯ নম্বর এই জাতকের অতীতবস্তুতে জানা যায় বিশাখার কনিষ্ঠা ভগিনী সুজাতা স্বামীগৃহে যাবার সময় অনেক দাসদাসী সঙ্গে নিয়েছিলো, এ জন্য তার মধ্যে অহংকার ছিলো। 

সে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি কাউকেই গ্রাহ্য করতো না, বাড়ির দাসদাসীকে তর্জন গর্জন এমনকি প্রহার পর্যন্ত করতো। একদিন বোধিসত্ত্ব (একাদশ পর্বে বোধিসত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দ্রষ্টব্য) ঐ বাড়িতে আহার করতে এসে সুজাতার স্বভাব জানতে পেরে তাকে সাত প্রকার ভার্যা সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং তার নিজের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য বলে। 

১. বধকা নারী: এই প্রকারের নারীরা অর্থ অপচয়কারিণী, দুষ্টমতি এবং স্বামীকে ঘৃণা করে। 

২. চৌরী নারী: এই প্রকারের নারীরা স্বামীর সম্পত্তি হরণ করে, কিন্তু স্বামীর কষ্টের কথা ভাবে না। 

৩. আর্যাপ্রচন্ডা নারী: এরা অলস, পেটুক, দুর্মুখ, নির্দয়, পীড়নকারিণী। 

বাকি চার প্রকার নারীই ভদ্র এবং এরাই সমাজের কাম্য। সতিসাধ্বী নারীদের প্রকৃতি সম্পর্কে বোধিসত্ত্বের মতামতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- সব সময় স্ত্রী পতির যত্ন করবে। 

- স্ত্রী তার পতির সেবা শুশ্রুষা করবে। 

- স্বামীকে সব সময় সম্মান করবে 

- স্ত্রী সর্বদা তার পতির বশবর্তী হয়ে থাকবে। 

- লজ্জায় মুখ থেকে কথা বের হবে না। 

- নির্যাতনেও কখনোই অসন্তোষ প্রকাশ করবে না। 

- স্বামীর ভয়ে সব সময় কম্পমান থাকবে। 

এরাই হচ্ছে বোধিসত্ত্বের মতে সতী নারী। যারা সংসারে সুখ নিয়ে আসতে পারে। বোধিসত্ত্বের নীতিগাথাটি নিম্নে দেয়া হলো যার মাধ্যমে সতী নারী সম্পর্কে আপনিও স্পষ্ট ধারণা পাবেন: 
চিত্ত যার সর্বদা হিতব্রতপরায়ণ
পতির সম্পত্তি যত্নে করে সংরক্ষণ
যেরূপ যতনে মাতা, পুত্রের লালনে রতা
পতির শুশ্রুষা তথা করে অনুক্ষণ
মাতৃসমা হেন ভার্যা বলে সর্বজন
কনিষ্ঠা ভগিনী যথা জ্যেষ্ঠ সহোদরে
নিয়ত সম্মান করে প্রফুল্ল অন্তরে
সেইরূপ যে গৃহিণী, পতির বশবর্তিনী
লজ্জাবশে যার মুখে না সরে বচন,
সে ভার্যা ভগিনীসমা বলে সর্বজন।
বিলম্বে সখার সঙ্গে ঘটিলে মিলন
সখী যথা সুখী তার নেহারি বদন
হেরিলে পতির মুখ, তেমতি যে পায় সুখ
সুজাতা, সুশীলা, সাধ্বী রমণীরতন
হেন ভার্যা সখীসমা বলে সর্বজন
উৎপীড়নে অসন্তোষ না উপজে যার
দণ্ডভয়ে কম্পমান সদা কলেবর
সুশীলা তিতিক্ষাবতী, ক্রোধহীনা যেন সতী
তুষিতে পতির মন রত অনুক্ষণ,
দাসী সেই ভার্যা ইহা বলে সর্বজন। 
বোধিসত্ত্ব উপরের গাথাটি বলে সুজাতাকে প্রশ্ন করলেন, সে কেমন ভার্যা হতে চায়? সুজাতা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাসী হতেই চেয়েছে। প্রতিটি ধর্মের মতো বৌদ্ধধর্মেও সেই দাসী হওয়াই নারীর নিয়তি! 

(চলবে) 

Taliband: ছহীহ ইছলামী ছঙ্গীতদল




শান্তির কোপে ফালা-ফালা

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

১. 
স্পেনের এক শহর আছে। নাম Ceuta. এর ওপর একটা ডকুমেন্টারি দেখলাম। চরম দুর্লভ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। মুসলমান (আরব + বর্বর), নাছারা, ইহুদি, হিন্দু সবাই শান্তিতে আছে। এমনকি এটা বিশ্বের একমাত্র অমুসলিম শহর, যেখানে ঈদুল আযহাকে অফিসিয়াল পাবলিক ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তো এই শহরে একটাই মাত্র গ্রুপ আছে, যাদের এসব ভাল্লাগে না। তারা আর কেউ না। মোছলমান। তারা মরক্কোর সাথে জুটতে চায়। বিধর্মীদের সাথে থাকতে তাদের ভাল্লাগে না।

২. 
আলি সিনা'র লেখা বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ' পড়ে অনেক কিছু নতুন করে বুঝতে পেরেছি। এখন বুঝি, কেন মোছলমানদের সাথে অন্যদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব নয়। 


স্যামুয়েল হান্টিংটনের বই ‘ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশন্‌স্‌’ পড়ে লেখকের ওপর রাগ, ক্রোধ হয়েছিল (তখন মোছলমান ছিলাম); এখন বুঝি, এদের সাথে কারোই শান্তিতে থাকা সম্ভব না। এরা না খেয়ে, অস্ত্র হাতে নিয়ে, বিধর্মীদের ক্ষতি করতে করতে মরতে রাজি; কিন্তু ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ একটা অক্সিমরন (oxymoron), যখন আশে-পাশে “শান্তির ধর্মের বিশ্বাসীরা” থাকে।

৩.
গত দশ বছর ধরে ফরাসী ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়ছি। ফরাসী সমাজে একটা জোস ব্যাপার আছে। এরা সেক্যুলার। এটা সবাই জানে। যেটা অনেকেই জানে না, সেটা বলি। ফরাসী ভাষায় কারো পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় (বাস্তব জীবনে অথবা উপন্যাসে) তার ধর্ম-পরিচয় দেয়া হয় তাকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য। একটা উদাহরণ দিচ্ছি: কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন মুসলিম প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর, যে কিনা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী ইহুদি প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর, যে ব্যাপক কিপ্টা। লক্ষণীয়: এক এক ধর্মের লোকজন এক এক ব্যাপারে সারা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ও হাসির পাত্র। আর কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর।

২০ অক্টোবর, ২০১৪

ঝড়-বজ্রপাত-বৃষ্টির ধর্মীয় বৈগ্যানিক কারণ



টেকি আল্লাহ ও অ-টেকসই ঐশীবাণী-সংরক্ষণ ম্যাটেরিয়াল

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

হাদিসে পড়েছি, রাসুলুল্লাহ্ একবার তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বললেন; তখন পেছন থেকে এক সাহাবী “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছীরান তায়্যিবান মুবা–রাকান ফীহ” বললেন।

সালাত শেষ করে রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “কে এরূপ বলেছিল?”

সে সাহাবী বললেন, “আমি।” 

তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, “আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফেরেশতা এর সওয়াব কে আগে লিখবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।” ~(সহীহ বুখারী ৭৬৩, ইফা)~

এই হাদিসটা পড়ার পর আমার মনে প্রশ্ন হল:

ফেরেশতারা সোয়াব কিসে বা কোথায় লেখেন? কীভাবে সংরক্ষণ করেন? 

এই ডাটাবেস ও স্টোরেজ নিশ্চয় অবিনশ্বর, কারণ তা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে বলে বলা আছে। তার মানে আল্লাহ্‌র অবশ্যই শ্রেষ্ঠতর টেকনোলজি জানা আছে, যা তিনি ফেরেশতাদের শিখিয়েছেন!

তবে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে জিবরাঈলের মাধ্যমে আসা কোরানের বাণীগুলো কাগজের অভাবে পাথর, কাপড়, হাড়, চামড়া - এসব বস্তুর ওপর কেন লিখতে হল, যা নশ্বর ও ধ্বংসযোগ্য? এবং যা কালক্রমে হারিয়ে গেছে!

কেন নবী ও তার উম্মতদের কেবলমাত্র মানুষের স্মৃতিশক্তির ওপরে নির্ভরশীল হতে হল, যা ক্ষয়িষ্ণু ও প্রামাণ্য নয়?

আল্লাহ্‌ কি তবে তার হাবিব, পেয়ারা নবীকে ফেরেশতাদের তুলনায় কম ভালোবাসতেন?

কম্পিউটার ও অনলাইন হারাম


আমার শুদু হাসি ফায়

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

মোহাম্মদ (রাঃ) বলে কেউ ছিলেন কি!

হাহাহাহা, হাহাহাহা, আমার শুদু হাসি ফায় হাহা… 

এদের মূর্খতামী দেখি আমার শুদু হাসি ফায়। এরা এমুন কুন ধরনের সাহাবি আছিলো, এরা এমুন ধরনের জীবনিকার, এরা কী ফড়িয়া ইতিহাসবিদ হইসে যে নবীজীর জন্মতারিখটা বাহির কোইত্তে ফারে নাই! নবীজীর জন্মদিন লইয়া এত এত জোচ্চুরি সোলতেসে, যার কারণে খেরেস্তান রবার্ট স্পেনসার সন্দিগ্ধতার সহিত এই প্রশ্ন উঠানির সুযুগ ফায় যে, Did Muhammad exist?

আসলে হইসে কী, আমরা সকলেই জানি, নবীজীর জন্মদিন ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ রবিউল আউয়াল সোমবার। নাকি? কিন্তুক খুবই গুরুত্বফূর্ন ও বিশ্বস্ত এক লুকের মাধ্যমে জানা যাইতেসে, নবীজির আদি জীবনিকার ইবনে আব্বাস বলেসেন, তাঁর জন্ম হস্তি বর্ষে (year of the elephant, 570); কিন্তুক একদল ইতিহাসবিদ-এর মতে, মোটেও না, নবীজি জন্মেছেন ১৫ বছর আগে। আবার একদল বলসেন, নবীজির জন্ম হস্তি বছরের অনেক পরে, প্রায় সত্তুর বছর পর।

হাহাহাহা, নবীজীর জন্ম লই এমুন তালবাহান দেখি আমার হাসি ফায়… হাহাহা…

কাহিনি এখানেই শেষ নহে, বৎস ! আরো আছে।

জন্ম মাস নিয়েও সমস্যা। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ নিকি বলসেন চন্দ্রবৎসরের তৃতীয় মাসে জন্ম। আরেকদল বলছে, তাঁর জন্ম মোহররম মাসে। আরেক দল বলছে, মোটেও না, তাঁর জন্ম সাফার মাসে। হাহাহাহাহা। আমি কই যাই! তরা আমায় ধর ওরে সোটোলুক বাঙ্গালী… জন্ম তারিখ লইয়াও বোলে শোমোইশ্যা। হাহাহাহা… একদল কয়, রবিউল আউয়ালের ৩ তারিখে। আরেকদল কয়, ৯ তারিখ। আবার আরেক দল কইবার লাগছে ১২ তারিখ। হাহাহাহা… 

আসল হাসির বেফারটা এখনো বাকি ! এই যে আমরা যারা মুসলিম আছি, আমরা ত নবীজির জীবনিকার ইবনে আব্বাসের কথাকে বিশ্বাস করি মানি নিয়েসি যে, নবীজীর জন্ম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল মাসের ১২ই সোমবারে, কিন্তুক আধুনিক দিন পঞ্জিকা কয় কী!এই নাস্তেক দিন পঞ্জিকা কয়, ৫৭০ খৃষ্টাব্দের রবিউল মাসের ১২ তারিখ মোটেও সোমবার না, এইটা ভুল তথ্য! সোমবার না? তাইলে? 

তাইলে নবীজীর জন্ম কবে? কবে? কবে?

খালেদা জিয়ার নিজির জন্ম তারিখের ঠিক নাই, তাই উনাকে কতই না লজ্জা ফেতে হয়। আমাগের ফ্রানের সেয়ে ফ্রিয় নবীজীর ত দিখি আরো বিরাট সমস্যা, উনি ত ওফাত লাভ করেসেন, তাই লজ্জা শরমের দায় দায়িত্ব ত উনাকে নিতে হবে না, আমাদিগকেই নিতে হবে। নাকি? 

অথুসো Robert spencner কয়, Did Muhammad exit??? হাহাহাহা...

১৯ অক্টোবর, ২০১৪

হা-হা-হাদিস – ১১০

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ০১

(ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।)

১.
- আমি তখনই মসজিদের খোঁজ করি, যখন আমার হিসু পায়। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? (সোহেল সর্দার)
- প্রকৃতির ডাক ঈশ্বরের ডাকের ব্যস্তানুপাতিক... (বোকা কাক)

২. 
- খাদিজা এবং নবীর মধ্যে কখনো মতের অমিল হত না কেন? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- "ঘরজামাইরা অতিমাত্রায় স্ত্রীভক্ত হয়" - এই সূত্রের কারণে... (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)

৩. 
- কৃষ্ণের প্রেমিকার অভাব হয় না, আমার প্রেমিকাকে পাওয়া যায় না। কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো হোয়াই, মানে কেনু? (অসীম নন্দন)
- কারণ আপনে কানু হারামজাদা না। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

৪. 
- ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা করা হয় কেন? (Allama Soytaan)
- তখনও ইয়াবা আবিষ্কার হয় নাই বলে। (অন্নপূর্ণা দেবী)

৫. 
- ছেলেদের হাঁটুর ওপর কাপড় ওঠানো বা গোড়ালির নিচে কাপড় নামানো নিষিদ্ধ কেন? কাপড় উঠলে বা নামলে সমস্যা কী? (ওয়াশিকুর বাবু)
- মুসলমানেরা আগে থ্রি কুয়াটার হাপ্পেন পরত তো, তাই গোড়ালির নিচে নামাইলে নুনু বের হয়ে যেত, সেজন্য নিষিদ্ধ। (Shantanu Adib)

৬. 
- মুমিনরা প্রস্রাব করার পর মাটির ঢিলা কুলুপ ব্যবহার করে কেনু? (চার্বাক শুভ্র)
-  এই সুযোগে বেহেস্তের হুরভোগের জন্য অগ্রিম শান দেয়! (হোয়াইট স্টর্ক)

৭. 
- মুমিনগণ পশ্চিমকোণে মুখ করে প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদন করে না কেনু? (অসীম নন্দন)
- করে তো! পাদ মারে তো! ঈশ্বর বায়বীয়, তাই বায়ু উনার পছন্দ। কিন্তু তরল বা কঠিন উনার পছন্দ না। তাই ঐদিকে ফিইরা বায়ু মারা যাবে, কিন্তু তরল বা কঠিন না। (বোকা কাক)

৮. 
- বিধর্মী বিয়েতে সব ধর্ম নিষেধ করে কেন? (Shiji Sejuti)
- কাস্টমার হারাবার ভয়ে। (Abdullah Al-Mamun)

৯. 
- আল্লাহর কি জননাঙ্গ আছে? (ধর্মদ্রোহী বালক)
-  না দেখে বলাটা কি ঠিক হবে ? (মূর্খ চাষা)
এবং
- আরশ যেহেতু আছে সেহেতু পাছাও আছে। পাছার উল্টাদিকে কিছু একটা থাকাটা অস্বাভাবিক না। (Mahbubul Hasan)

১০. 
- হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না কেনু? (চার্বাক শুভ্র)
- গরুর মাংসে আল্যা থাকে। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম) 
এবং
- গরু খাইয়া ফ্যাল্লে মূত্র পাইব কই? (কৃষ্ণ পূর্ণিমা)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৯১



ইসলামে‬ লেসবিয়ানিজম হালাল

লিখেছেন মুফাসা দ্যা গ্রেট

আরে চোখ কপালে উঠানোর কী আছে! ইসলামে সমকামিতা নিষিদ্ধ, এইটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন, ইসলাম সুনির্দিষ্টভাবে নারী সমকামীদের বিষয়ে কোনোকিছু বলেছে কি না? না, বলেনি।

ইসলামে সমকামিতাকে ডিফাই করা হয় জিনা হিসেবে। আসেন, জিনা কী, আমরা দেখি?

জিনা হচ্ছে প্রধানত দুই ধরনের:
১. নারী পুরুষে বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক।
২. পায়ু পথে যৌনাচার। মানে হচ্ছে অ্যানাল সেক্স কিংবা সমকামিতা (যখন তা পুরুষে-পুরুষে সংঘটিত হয়)

জিনার দুইটা বেসিক প্রিন্সিপাল আছে, যেগুলো ফলো করলে জিনা হিসেবে বিবেচ্য হবে।
১. লিঙ্গ প্রবেশ
২. বীর্য স্থলন

আসেন, মহান আল্লাহ পাক ও রাসুলে কারীম নবী মুহাম্মদে মুস্তাফা কী বলেছেন, শুনি।

আল্লাহ পাক বলেছেন:
যদি তোমাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ব্যাভিচারী হয় তবে তাদের উভয়কে শাস্তি দাও, যদি তারা ক্ষমা চায় ও ভুল বুঝতে পারে তবে তাদের একা ছেড়ে দাও, নিশ্চই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
(কোরান ৪:১৬)
ইবনে আব্বাস হইতে বর্ণিত হাদিস:
রাসুল তাদের কে অভিশাপ দিয়েছেন যে সকল পুরুষ নারীদের মত করে সেজে থাকে, তাদের ঘর হতে বের করে দাও।
(সহিহ বুখারী ৮:৮২:৮২০)
ইবনে আব্বাস হইতে বর্ণিত হাদিস:
কেউ যদি লুত এর অনুসারীদের মত কাজ করে থাকে, তবে দুজনকেই হত্যা করো। যে করেছে এবং যাকে করা হয়েছে।
(আবু দাউদ ৩৮:৪৪৪৭)
ইবনে আব্বাস হইতে বর্ণিত হাদিস:
কোন অবিবাহিত পুরুষ যদি পায়ুপথে যৌনাচারে ধরা পরে, তবে তাকে পাথর মেরে হত্যা করো।
(আবু দাউদ ৩৮:৪৪৪৮)
ওপরের তথ্যগুলা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহপাক আর রাসুলে কারীম মুহাম্মদে মুস্তাফা এই পুরুষে-পুরুষে পুটু মারামারি নিয়া ব্যাফুক বিরক্ত আছিলেন। তাই তাদের চক্ষুর অন্তরালে বিবিরা বিবিরা যে কী কইরালাইছে, এইডা দেখেন নাই। আর এদিকে অপ্সরা মেনকা ভেনাস আফ্রোদিতিরা স্বর্গে বসে মিটি মিটি হাসতেছিল। জিউস কী করতেছিল, এইটা আসলে চিন্তার বিষয়।

আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, নবীজি আর আল্লাহপাক নারীদের ভেতরের কামনার ঝড় উপলব্ধি করতে পারেন নাই। কারণ তারা বুঝেন, নারী হইতেছে গিয়া শস্যক্ষেত্র; এইখানে মোহাম্মদি লাংগল চালাইয়া শস্য উৎপাদন করতে হবে। কিন্তু নারীদের যে চাহিদা থাকতে পারে, তা আসলে নবীজি কিংবা আল্লাহপাকের মাথায় আসে নাই।

কী, আবার কনফিউজড? আসেন, আবার একটু ভাংগাচুরা করি। 

আসলে মুমিনদের উত্থানের পর থেকেই নারীদেরকে তাদের অতি মুল্যবান শরীর ঢাকতে মোহাম্মদি বাহিনী বস্তার আবরণে ঢেকে দেয়। আর ইসলামে তো মেনকা কিংবা আফ্রোদিতির মত সেক্সি হুর কিংবা দেবী নাই। যেই হুরের কথা বলা হইছে, হেইডা হুদাই একটা মুলা। যাই হোউক, প্রসঙ্গ ওইটা না। প্রসঙ্গ হইলো, বস্তার ভিতরে মুমিনাদের ভেতরের আবেগও ঢাকা পড়ে, তারা পরিণত হয় মুমিন উৎপাদনের মেশিনে। তাই আল্লাহপাক পুলায় পুলায় পুটু মারামারিকে রুখতে যত জোর দিয়েছেন, নারীদের দিকে তাকানোর সে রকম সময় পান নাই।

তো মুমিনা আপুরা, সিট ব্যাক অ্যান্ড রিলাক্স, ইউ গাইজ আর নাউ আউট অব ডেঞ্জার।

ব্যাখ্যা হচ্ছে, লেসবিয়ানিজম জিনার পর্যায়ে পরে না, কারণ:
১. এইখানে লিঙ্গ অনুপস্থিত।
২. এইখানে পায়ু পথে সংগম হচ্ছে না।
৩. এইখানে বীর্যপাত হয় না।

তাই আমরা বলতে পারি, ইসলামে ‪‎লেসবিয়ানিজম‬ হালাল।

১৮ অক্টোবর, ২০১৪

ক্রুশগাথা

ক্রুশগাঁথা নিয়ে ক্রুশগাথা।



ঘড়ির কারিগরের অচল যুক্তি

লিখেছেন অর্ণব খান

কিছু বিবর্তনবিরোধী লোক এখনো উইলিয়াম প্যালের সেই ঘড়ির কারিগরের যুক্তি প্রয়োগ করে বলে যে, কোথাও একসাথে বালুকণা আর পানি রেখে দিলে সেখান থেকে আপনাআপনি একটি চলনক্ষম মূর্তি তৈরি হওয়া যেমন অসম্ভব, বিবর্তনতত্ত্বও তেমন অসম্ভব।

নিতান্ত সাধারণ কিছু রাসায়নিক ও জীববিজ্ঞান না জানলে এমন বেখাপ্পা অ্যানালজি ছাড়া তাদের কাছে আসলে অন্য কিছু আশাও করা যায় না। তাদের অ্যানালজি অনুসারে - কোনো এক জায়গায় হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন রেখে দিলে সেখান থেকে পানি তৈরি হয়ে যাবার ব্যাপারটিও হয়ে যাবে কল্পকাহিনী।

রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে চমৎকার একটি ভিডিও দেখুন, বালুকণা-পানির যুক্তির অসারতা বুঝতে পারবেন।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/FofPjj7v414

কেমিক্যাল রিয়্যাকশন-এর মাধ্যমে প্রোটিন, ডিএনএ, আরএনএ তৈরি হতে পারে, এগুলো যে কেউ ল্যাবে বসেই পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সকল প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম (এক ধরনের প্রোটিন) আছে, যেগুলোর কাজের সাহায্যে প্রাণীরা জীবিত থাকে। এই এনজাইমগুলো এখন পরীক্ষাগারেই তৈরি করা যায়, যদিও ডেভেলপমেন্টের অনেক বাকি আছে। 

যেসব রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে এনজাইমগুলো কাজ করে, সেগুলো সরবরাহ করলে টেস্টটিউবের ভেতরেও এনজাইমগুলো একই রকম কাজ করতে পারে। তাদের জীবন বা আলাদা প্রাণীদেহের প্রয়োজন হয় না। 

বিরোধীরা কি তাহলে এখন মেনে নেবে যে, এনজাইমগুলোর প্রাণ আছে? তাহলে তো এই প্রাণ মানুষই সৃষ্টি করতে পারে। চিন্তা করলে তারা বুঝতো, মানুষ বা প্রাণী জৈবিক কম্পিউটার ছাড়া আর কিছুই না। আগ্রহীরা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, ডিএনএ পলিমারেজ নামে একটি বহুল পরিচিত এনজাইম PCR মেশিনে কীভাবে ব্যবহৃত হয় ডিএনএ কপি করে এর পরিমাণ বাড়ানোর জন্য।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৬৫


চিন্তা-প্রতিচিন্তা - ১৭

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

৪৯.
সব ধর্মই জাদুঘরে ঢুকবে,
তবে ইসলাম ঢুকবে হেরা গুহায়।

৫০.
অনেক হিন্দু ভাইদের বলতে শুনেছি, এমনকি অনেক মুসলমান ভাইদেরও বলতে শুনেছি: আল্লাহ-ভগবান একই জিনিস।
সম্ভবত, এইটা একে অপরকে তেল মারার জন্য বলে থাকে।

কিন্তু আমি সকল হিন্দু-মুসলিম ভাইদের কাছে জানতে চাই, আল্লার ৯৯ নামের মইধ্যে কোন যায়গায় আছে তার নাম ভগবান? বেদ-গীতায় ভগবান কোন যায়গায় কইছে, তার আরেক নাম আল্লাহ?

৫১.
বর্তমান বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা ১৬২ কোটি।

মাশাল্যা, আমরা মুসলিম ফুরুষেরা ইসলামসম্মতভাবে চাইরটা কইরা বিয়া ও প্রত্যেক বছর প্রত্যেক বিবির গর্ভে একটা কইরা মুসলমান পয়দা করতে পারলেই আগামি ২০৫০ নাগাদ ১৬২ থেইকা ১৬২০ কোটি ছাড়াইতে পারবো।

আল্লাহু আকবার।

১৭ অক্টোবর, ২০১৪

চিত্রপঞ্চক - ৯৪


এই জব-এর সময়ে পুরুষেরা মেয়েদের মাথায় হাত দিতে পছন্দ করে

সুন্নি + শিয়া = সুশি


কে বলেছে, ক্রুশ কোনও কাজেই আসে না!

বঙ্গদেশী আরব মুসলমানেরা

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

প্রধানমন্ত্রীর পূর্বপুরুষেরা ধর্মপ্রচার করতে বাংলাদেশে আইছিল, এইটা নতুন কিছু না। ইরেকশন থুক্কু ইলেকশনের আগেও এরকম প্রচারণা দেখা গেছিল। রীতিমত চৌদ্দপুরুষের নাম-ধামসহ লিস্ট পর্যন্ত ফেবুতে ফেরি হইতে দেখা গেছে। কয়েকদিন আগে দস্তারের একটা স্ক্রীনশট দিছিলাম, সে দাবী করছিল সে অরজিনালি নবির বংশধর। দুইদিন আগে রাজু নামের আরেকজন কইলো, সে সৈয়দ বংশের পোলা, আর সৈয়দরা সরাসরি নবির বীর্যজাত। নবির ৩০ জন পুরুষের সমান ক্ষমতার কথা শোনা যায়, কিন্তু তার নিজের বীর্য আছিল, এমন কথা কোথাও পাওয়া যায় না। এই দুইজনকে বলছিলাম, তারা কেমনে নবির বংশধর, তার একটা বিস্তারিত বর্ণনা দিতে। নবি-মারিয়ার বিয়ার দাওয়াত খাওয়ার লাইগা অনেকদিন ধইরা অপেক্ষাইতেছি, তেমনি এদের জন্মবৃত্তান্ত নিয়া পোস্টেরও অপেক্ষায়। যাক, এটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ। আসল কথায় ফেরা যাক।

এই দেশে কে কতবড় মুসলমান, সেইটা প্রচার করতে সবাই মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী বইলা কথা না, দেশের প্রতিটা মুসলমানকে জিজ্ঞেস করলেও বলবে, তাদের পূর্বপুরুষ সাতশ-আটশ বছর আগে আরব থিকা এই দেশে আইছিল ইসলাম প্রচার করতে। তার মানে এরা কেউই বাঙালি না, এরা জাতিতে আরব। তাইলে বাঙালি কারা?

তো আরব থেকে আসা মুসলমানদের পূর্বপুরুষরা আটশ বছর ধরে এই বঙ্গে ইসলামের প্রচারণা চালাইছে। তারপর এখন ১ আনায় নাইমা গেলেও এই কয়েক দশক আগেও তথ্যে দেখা যায় এদেশে ৬ আনার বেশি লোক হিন্দু ছিল। তাইলে এরাই শুধু বাঙালি?

আবার শুনি, হিন্দুদেরও অনেকে ইসলাম গ্রহণ করছে, তাইলে সেইসব হিন্দুরা এবং হিন্দুদের পূর্বপুরুষরা এই দেশে কই থিকা আইছিল? হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া গ্রুপের জাতির পিতাও কি ইব্রাহিম? আরকেটু খুইলা কই, রাম-শ্যাম দুইভাই, হিন্দু। শ্যাম ইসলাম গ্রহন কইরা রহিম হইল। এখন এই রহিমের জাতির পিতা কে হবে? আর হিন্দু রয়ে যাওয়া রামের জাতির পিতাই বা কে?

দস্তার টাইপের মুসলমানরা আরো বলে যে, মুসলমানরাই জঙ্গল কাইটা এই বাংলাদেশ বানাইছে, সুলতানী আমলে বাংলা ভাষার জন্ম দিছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা আটশ বছর আগের এই দেশের ইতিহাস বেমালুম চেপে যায়। এদের কাছে বাংলার ইতিহাস শুরুই হয় বখতিয়ারের ঘোড়ার বীর্য থিকা। আর ইয়ে মানে তাইলে আরব থিকা মুসলমানরা এই দেশে আইসা জঙ্গলের গাছপালার কাছে ইসলাম ধর্ম প্রচার করছিল? গাছপালার কাছে ইসলাম প্রচার করা সেইরাম বুদ্ধিমান আরবদের বংশধররাও দেখি সেইরাম বুদ্ধিমান!

মুসলমানরা যখন বলে তাদের পুর্বপুরুষেরা আরব থেকে আসছিল, তখন প্রশ্ন জাগে: তাদের “পূর্বনারীরা” কই থিকা আসছিল? বঙ্গে প্রথম প্রবেশকারী মুসলমানদের মধ্যে যে তিনশজন পীর-আউলিয়ার কথা শোনা যায়, তারা সাথে কইরা নারী নিয়া আসছিল, এমন কথা তো কোথাও শুনি না। বখরিয়ারের সাথেও ঘোড়া ছাড়া আর কোনো প্রাণী ছিল না। তাইলে মুসলমানদের পূর্বনারী কি বঙ্গের সেই গাছপালাগুলা? নাহ, তা কেমনে হয়। তাইলে বাকি থাকে…মানে ভাগ্যের সন্ধানে যাযাবর হইয়া ঘুইরা বেড়ানো আরবরা সাথে গাধা খচ্চর বকরি রাখত। আর বর্তমানেও ঘোড়া-গাধা-খচ্চর-বকরিদের সাথে আরব মুসলমানদের যে পীরিতের সম্পর্ক দেখা যায়, তাতে তাদের বংশধর অর্থাৎ এ দেশের মুসলমানদের পূর্বনারী খুঁজতে আর বেশি বেগ পেতে হয় না, হেঁ হেঁ…।

[আরব পুরুষ মুসলমান + (ঘোড়া, খচ্চর, গাধা, বকরি) = বাংলাদেশী মুসলমান।]

জন্মপরিচয় নিয়া এদেশের আরব মুসলমানরা বরাবরই হীনমন্যতায় ভোগে। আশা করি জন্মপরিচয় নিয়া এখন থেকে তাদের আর কোনো সন্দেহ থাকবে না। আর ব্যাপারটা স্বীকার করার জন্য এদেশের বুদ্ধিমান আরব মুসলমানদেরকে অনেক অনেক উত্তম জাঝা!

আদম বাস্তবিকই মুছলিম হলে


কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৫২): বনি নাদির গোত্রকে উচ্ছেদ ও তাঁদের সম্পত্তি লুট! ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – পঁচিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ০১ > পর্ব ০২ > পর্ব ০৩ > পর্ব ০৪ > পর্ব ০৫ > পর্ব ০৬ > পর্ব ০৭ > পর্ব ০৮ > পর্ব ০৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ > পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১

বলা হয়, ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এরই স্বরচিত (স্বলিখিত নয়) ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরান।

ইসলামের ইতিহাসের এই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল কুরানে অবিশ্বাসী কাফেররা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ঠিক কী অত্যাচার করতেন, তার সুনির্দিষ্ট (Specific) উল্লেখ কোথাও নাই। তাঁরা মুসলমানদের যথেচ্ছ হুমকি-শাসানী বা ভীতি প্রদর্শন করতেন, অসম্মান বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন, এমন উদাহরণও নাই।

মুসলমানদের প্রতি অবিশ্বাসীদের কথিত অত্যাচারের বর্ণনা অত্যন্ত ভাসা-ভাসা। যেমন, কাফেররা: 

ক) আল্লাহ ও রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে...
খ) আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে...
গ) তোমাদের ধর্মকে উপহাস করে...
ঘ) আল্লাহ ও রসুলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে...
ঙ) ধর্মের ব্যাপারে ফিতনা সৃষ্টি করে...
চ) তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে...
ছ) মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করে...
ঝ) তারা রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে...
ঞ) তারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ... ইত্যাদি, ইত্যাদি।

[অবিশ্বাসীরা কেন মুহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা সতের, আঠার, উনিশ, তেইশ, চব্বিশ ও পঁচিশ-তম পর্বে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও আলোচনা আইয়্যামে জাহিলিয়াত তত্ত্বে করা হবে।]

এই ভাসা-ভাসা বিবরণকেই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ইসলামী পণ্ডিত ও অ-পণ্ডিতরা মুহাম্মদের যাবতীয় অমানবিক কর্মকাণ্ড ও জিহাদের বৈধতার সাক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন করেন। অবিশ্বাসীরা কোনো মুহাম্মদ-অনুসারী মুসলমানকে খুন করেছেন কিংবা শারীরিক আঘাত করেছেন, এমন উদাহরণ “সমগ্র কুরানে একটিও নেই”

অন্য দিকে, আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যে কী পরিমাণ হুমকি-শাসানী, ভীতি প্রদর্শন, অসম্মান, দোষারোপ ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন, তা কুরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের এ সব হুমকি শুধু মৌখিক হুঁশিয়ারিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক ও সন্ত্রাসী কায়দায় কীভাবে অমুসলিমদের হামলা করেছিলেন; খুন করেছিলেন; নির্যাতন করেছিলেন (মুক্ত মানুষকে চিরদিনের জন্য বন্দী); তাঁদেরকে ভিটে মাটি থেকে উৎখাত করে তাঁদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি লুট করেছিলেন, তা মুহাম্মদ তাঁর নিজের জবানবন্দিতেই (কুরান) অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন!

মুহাম্মদ তাঁর নৃশংস সন্ত্রাসী (terror) কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মদিনায় নিজেকে এক ক্ষমতাধর নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন (বুখারী: ৪:৫২:২২০)। [1]

সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া তাঁর প্রতিটি সহচরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল বাধ্যতামূলক। মুহাম্মদ তাঁর ১০ বছরের মদিনা জীবনে (৬২২-৬৩২) ৬০ টিরও বেশী, মতান্তরে ১০০ টি, যুদ্ধ/সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। গড়ে প্রতি ৫-৮ সপ্তাহে একটি!  ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের (ইবনে ইশাক/আল-তাবারী প্রমুখ) মতে এই বিপুল সংখ্যক সংঘর্ষের মাত্র দুটি (ওহুদ ও খন্দক) ছাড়া আর কোনোটিই তাঁর আত্মরক্ষার নিমিত্তে ছিল না।

ইসলামের ইতিহাসের এ সকল বিখ্যাত আদি মুসলিম পণ্ডিতরা তাঁদের লেখনীতে এই ওহুদ ও খন্দক যুদ্ধের যে-পরিপ্রেক্ষিত বর্ণনা করেছেন, তারই আলোকে আমরা যে সত্যে উপনীত হতে পারি, তা হলো - এই ওহুদ ও খন্দক যুদ্ধও ছিল রাতের অন্ধকারে বাণিজ্য-ফেরত কুরাইশ কাফেলার ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর সহচরদের চোরাগোপ্তা হামলায় (ডাকাতি) অতিষ্ঠ কুরাইশদের প্রতিরক্ষা যুদ্ধ।

সর্বাবস্থায় মুহাম্মদ ও তাঁর বাহিনীই ছিল প্রথম আক্রমণকারী ও আগ্রাসী! আক্রান্ত জনগোষ্ঠী করেছেন তাঁদের জান-মাল ও ধর্ম রক্ষার চেষ্টা! আত্মরক্ষার চেষ্টা! বশ্যতা অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের কীরূপে এই বিপুল সংখ্যক আক্রমণাত্মক (Offensive), অন্যায়, অমানবিক, নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেছিলেন, তার বিবরণ মুহাম্মদের ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থে (কুরান) বর্ণিত আছে।

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কী অজুহাতে মদিনায় অবস্থিত বনি-কেইনুকা নামক এক ইহুদি গোত্রের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মহিলা ও শিশুসহ সমস্ত মানুষকে তাঁদের শত শত বছরের পৈত্রিক ভিটে-মাটি  থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও করায়ত্ত করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। উক্ত ঘটনার বিবরণে আমরা আরও জেনেছি যে, সেদিন যদি আবদুল্লাহ বিন উবাই নামের এক আদি মদিনাবাসী মুহাম্মদ অনুসারী (আনসার) মুহাম্মদের এই কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করতেন, তবে বনি কেইনুকা গোত্রের সমস্ত মানুষকে (৭০০ জন) মুহাম্মদ এক সকালের মধ্যেই খুন করতেন।

বনি-কেইনুকা গোত্রের মতই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষকে তাঁদের বংশ পরম্পরায় বসবাসরত শত শত বছরের আবাসভূমি ও ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি লুট করেন!

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বনি নাদির গোত্রকে কী কারণে তাঁদের ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন, তার বিশদ বিবরণ নিবেদিতপ্রাণ আদি মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

কী সেই কারণ?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ সাল) ও আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ) প্রমুখ আদি ঐতিহাসিকরা সেই ঘটনাটির বর্ণনা বিভিন্নভাবে তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।

বনি নাদির গোত্রকে উচ্ছেদ ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি লুট

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনা:

হিজরতের চতুর্থ বর্ষে (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) আল্লাহর নবী বনি নাদির গোত্রকে তাঁদের ভিটে-মাটি থেকে বিতাড়িত করেন। কারণটি ছিল:

‘আমর বিন উমাইয়াহকে আল্লাহর নবী 'বীর মাউনাহ' অভিযানে পাঠান।

সেই অভিযান আমর বিন উমাইয়াহ আল দামরির বনি আমির গোত্রের দু'জন লোককে খুন করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করে।

আল্লাহর নবী উক্ত গোত্রকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি পাশে আবদ্ধ ছিলেন। আমর বিন উমাইয়াহর এই জোড়া খুনের রক্ত-মূল্য পরিশোধের ব্যাপারে আল্লাহর নবী বনি নাদির গোত্রের কাছে যান এবং তাদেরকে এই রক্ত-মূল্য পরিশোধের আবেদন জানান। বনি নাদির গোত্র ও বনি আমির গোত্র পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল।

নবী যখন তাদেরকে রক্ত-মূল্য পরিশোধের আবেদন জানান, তারা বলে যে, অবশ্যই আল্লাহর নবী যেমনটি চাইবেন সেভাবেই তারা তাঁকে সাহায্য করবে।

কিন্তু তারা গোপনে একে অপরের সাথে শলা-পরামর্শ করে এবং বলে, 'এমন সুযোগ তোমরা আর কখনোই পাবে না। কেউ কি বাড়ির ছাদের ওপর উঠে (হত্যার জন্য) তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করবে, যাতে আমরা তার থেকে রেহাই পেতে পারি?'

নবী তখন তাদের এক বাড়ির দেয়ালের পাশে ছিলেন। আমর বিন জিহাশ বিন ক্বাব তাদের এই প্রস্তাবে স্বেচ্ছায় রাজি হয় এবং নবীর ওপর পাথর নিক্ষেপের জন্য ওপরে উঠে। সে সময় নবী তাঁর বেশ কিছু অনুসারীদের সঙ্গে ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর, ওমর এবং আলী।

আসমানি ঐশী বাণীর মাধ্যমে নবী এই লোকগুলোর অভিপ্রায় জানতে পারেন।

নবী উঠে দাঁড়ান (তাঁর অনুসারীদের বলেন, 'আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত এখান থেকে কোথাও যেও না') এবং মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও যখন নবী ফিরে এলেন না, তখন তাঁর অনুসারীরা নবীকে খুঁজতে বের হন।।

পথে তারা মদিনা থেকে আগমনকারী এক লোকের সাক্ষাত পান। সে লোকটিকে তারা নবীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। লোকটি বলে যে, সে নবীকে মদিনায় ঢুকতে দেখেছে।

অনুসারীরা যখন নবীর সন্ধান পান, নবী তাদেরকে তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদীদের [বনি নাদির] ঐ প্রতারণার খবরটি অবহিত করান। আল্লাহর নবী তাদেরকে যুদ্ধের প্রস্তুতি সমেত বনি নাদির গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানের হুকুম দেন। তিনি নিজেও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বনি নাদির গোত্রের ওপর আক্রমণ চালান।

ইহুদি গোত্রটি তাদের দুর্গ মধ্যে আশ্রয় নেয়। নবী তাঁদের পাম-গাছ (তাল-গাছ জাতীয়) কেটে ফেলার এবং পুড়িয়ে ফেলার হুকুম জারি করেন। [কুরান: ৫৯:৫]। তারা চিৎকার করে বলে,

"হে মুহাম্মদ, তুমি না কারও সম্পত্তি ধ্বংস করাকে ভীষণ অন্যায় বলে প্রচার করো এবং এই অপকর্মকারীদের তুমি অপরাধী বলে রায় দাও। সেই তুমিই কেন আমাদের পাম-গাছগুলো ধ্বংস করছো ও পুড়িয়ে দিচ্ছ?" 

বনি আউফ বিন খাযরায বংশের বেশ কিছু লোক বনি নাদির গোত্রকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিল আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল, ওয়াদিয়া, মালিক বিন আবু কাউকাল, সুয়ায়েদ এবং ডেইয়াস। তারা বনি নাদির গোত্রের লোকদের বলে,

“ওঠো ও বাঁচার জন্য প্রতিরোধের ব্যবস্থা নাও। আমরা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা তোমাদের সাহায্যে যুদ্ধ করবো। যদি তোমরা বিতাড়িত হও, আমরা তোমাদের সঙ্গে যাব।"

অত:পর বনি নদির গোত্র তাদের প্রতিশ্রুত সাহায্যের জন্য অপেক্ষায় রইলো। কিন্তু তারা কোনো সাহায্যের জন্যই এগিয়ে এলো না। [কুরান: ৫৯:১১]

আল্লাহর নবী পনের দিন বনি নদির গোত্রকে অবরোধ করে রাখে। তারা ক্রমান্বয়ে সম্পূর্ণরূপে অসহায় হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাদের অন্তরে চরম ত্রাস ও আতংক পয়দা করে।

তারা নবীর কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করে এবং উঠের পিঠে বহন পরিমাণ অস্ত্রবিহীন জিনিসপত্র সঙ্গে নেয়ার অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিতাড়িত করার আকুতি জানালে নবী রাজী হন।

বনি নাদির গোত্রের লোকেরা তাদের উঠের পিঠে বহনযোগ্য পরিমাণ জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়। - কিছু লোক যায় খায়বারে এবং অন্যান্যরা যায় সিরিয়ায়।' [2][3][4][5]

মুহাম্মদ তাঁর নিজস্ব জবানবন্দীতে (কুরান) যা উল্লেখ করেছেন:

১৬ অক্টোবর, ২০১৪

নির্ধার্মিক মনীষীরা – ৯৯

ফেইসবুক পেইজ যুক্তি-র সৌজন্যে


স্টিফেন হকিং-এর ঈশ্বরবিরোধী বক্তব্যে বাংলার মুমিনদের প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

উগ্র মুমিন
হালারে জবাই দে।

নম্র মুমিন
আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান কর।

ছাগু/ছিপি মুমিন
কুত্তার বাচ্চার মায়েরে ুদি।

টাকলা মুমিন
salara joto mar, mora na kano.

ইংলিশ মুমিন
go to hill (পাহাড়ে যা বলে কি হেরা গুহায় যেতে বলেছে!)।

বিজ্ঞানমনস্ক মুমিন
আরে তুই যে বিগব্যাং-এর কথা বললি তা ১৪০০ বছর আগেই আল্লাহ পবিত্র কুরানে বলে দিয়েছে। তারপরও বলবেন আল্লাহ নেই।

বিজ্ঞানবিদ্বেষী মুমিন
শালা গাধার বাচ্চা গাধা, বিজ্ঞান দিয়ে তোর ঘাড়টা আগে সোজা করে দেখা।

গ্যানি মুমিন
শালা কুততার বাচচা।।। (অাললা) অাছেন অার সেটা বোঝার মত গ্যান তোর নেই। তুই কেমন বেকে চুরে গেছিষ দেক আগে তোর শরীর ঠিক কর!

চালাক(!) নাকি বেকুব মুমিন
ওনি ঠিক বলেছেন ঈশ্বর বলতে কিছু নেই। এই দুনিয়া ঈশ্বর গড়েন নি এই দুনিয়া গড়েছেন মহান আল্লাহ আমাদের বানিয়েছেনন মহান আল্লাহ আমাকে খাওয়াইতে চেন মহান আল্লাহ।

এড মি মুমিন
আপনি কি জানেন ১৪০০ বছর আগে থেকেই কেউএকজন অপনাকে ভালোবেসে আসছে। আপনি কি জানেন তিনি কে? তিনি হলেন আমাদের প্রির রাসূল "হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) "যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ADD দেন। যদি Block থাকেন তাহলে follow করেন আমি আপনাকে add দিবো।

লীগার মুমিন
ুদির ভাই জামাতের দালাল।

বিএনপি-জামাতি মুমিন
হালায় মানুষ না আওয়ামী লীগ।

বাম মুমিন
স্টিফেন হকিং কেন বৌদ্ধ নাস্তিক হইলেন? বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। স্টিফেন হকিং কেন মনে করেন তারাই সঠিক! যেখানে দুনিয়ার সব মুসলিম ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে... স্টিফেন হকিংয়ের এই বক্তব্যে বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটলে আমেরিকা অতি সহজে ঢুকে পড়বে এই দেশে। বাংলাদেশের স্বার্থেই হকিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বলছি।

মডারেট নাস্তিক মুমিন
আর মানে ইয়ে... ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক বিজ্ঞানের এখতিয়ার নয়।

নামাজরঙ্গ - ৩৪


এবং নামাজরঙ্গের একটি চলমান ছবি (gif), সাইজ প্রায় তিন মেগাবাইট।

মডারেট মুসলমানদের উদ্দেশে খোলা চিঠি - ১

মুল রচনাআলি এ রিজভি
অনুবাদ: মাহফুজ সজল

প্রথমেই বলে নিই, আমি কী কী করব না।

আমি বলব না, বিশ্বব্যাপী মুসলিম জঙ্গিবাদের সময় আপনারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। আমি নিশ্চিত, আপনাদের মধ্যে বেশিরভাগই ISIS-এর মত জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সত্যি বলতে, আপনাদের সাহায্যের জন্যই ISIS-কে আঘাত করা সহজ হয়েছে।

আমি আরও বলব না, আপনারা এইসব জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি নিশ্চিত জানি, আপনিও আমাদের (আর দশটা অমুসলমানের) মত জঙ্গিদের এই সব জিহাদ আর জোর করে ধর্মান্তরকরণের বিপক্ষে। এই জঙ্গিদের বেশিরভাগ ভিকটিমই যে সাধারণ মুসলমান, সেটা আপনাদের থেকে আর কে ভালো জানে??

আমি কথা বলতে চাই, বহির্বিশ্বে আপনাদের সততা নিয়ে যে-প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে। কে জানে, হয়ত আপনারাও ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন।
সত্যি বলতে কী, বিশ্ব জুড়ে মুসলিম মৌলবাদীরা যেভাবে নিজেদেরকে "Voice of Islam" বলে চালিয়ে দিচ্ছে (চিন্তার ব্যাপার হল, অমুসলিম বিশ্ব সেটা মেনেও নিচ্ছে), তাতে আপনাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে কমে গেছে।

কিছুদিন আগেই বিল মার লিবারেলদের প্রচুর সমালোচনা করেন, ইসলামের সমালোচনা না করার জন্য। এর প্রতিবাদে ধর্মবিদ রেজা আসলান CNN-এ বিল মারের প্রবল সমালোচনা করেন। এমনকি তাকে "স্টুপিড", "ধর্মবিদ্বেষী" এগুলোও বলেন। অবশ্য পরে তিনি এই আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

আসলান সাহেবের কথার জবাব পরে দেয়া যাবে। আপাতত তার কিছু কথা বলি, যেগুলোর সাথে, আশা করি, আপনারা একাত্ম বোধ করবেন। সাধারণ মুসলিমদের আর জঙ্গিদের প্রায়ই একই পাল্লায় মাপা হয়, আর ব্যাপারটা শুধু ভুলই না, সাধারণ মুসলিমদের জন্য অপমানজনকও বটে।

কিন্তু এই অন্যায্য বিশেষণ প্রয়োগের জন্য বিল মার এবং আমাদেরকে "স্টুপিড" আর "ধর্মবিদ্বেষী" বলে এড়িয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। আপনারা মিডিয়াকে গাল দিতে পারেন, কিন্তু অমুসলিম বিশ্ব আর মিডিয়া দুয়ে মিলে মুসলমানদের পেছনে লেগেছে, এটা হয়তো আপনি নিজেও বিশ্বাস করেন না।

সমস্যাটা হল, আপনার মত অনেক মডারেট মুসলিমদের কারণেই ইসলাম অনেক অনেক বেশি সমালোচনার শিকার হচ্ছে। অবশ্য আমি জানি, আপনি এটা মোটেই চান না। আমার মনে হয় ব্যাপারটা একটু খুলে বলা দরকার।

দেখুন তো, এই ঘটনাগুলোর সাথে আপনি পরিচিত কি না:
১. কোনও মডারেট মুসলিম বলল ISIS আসলে "সহিহ মুসলিম না", ইসলাম আসলে শান্তির ধর্ম।
২. এখন কেউ জানতে চাইল: তাহলে কোরানের যেসব আয়াত সরাসরি কাফেরদের হত্যা করতে বলছে (যেমন সূরা নিসা: ৮৯, সূরা আল আনফাল: ১২/১৩) কিংবা যেই আয়াতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের হত্যার আদেশ দেয়া হয়েছে (সূরা আল মায়েদাহ: ৩৩), সে সব আয়াতের ব্যাখ্যা কী? এখানে একটা ব্যাপার খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে বেশিরভাগ ব্যাখ্যাতেই "বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী" বলতে মূলত ইসলামের বিরোধিতাকারীদের কথা বলা হচ্ছে।
৩. মডারেট মুসলমান তখন এই আয়াতগুলো "অপ্রাসঙ্গিকভাবে নেয়া হয়েছে" বলে থাকে। একই সাথে বলে, এই আয়াতগুলোকে আক্ষরিক অর্থে নেবার দরকার নেই অথবা আয়াতগুলোর অর্থ ভুলভাবে উপস্থাপনা করা হচ্ছে। 
৪. প্রশ্নকর্তা এ রকম আরও আয়াত এবং তাদের নানান রকম অনুবাদ দেখানোর পরেও মডারেট মুসলিম বার বার তার ধর্মগ্রন্থকেই সমর্থন করে যায়। 
প্রায়শই এই ধরনের আলোচনার সময় প্রশ্নকর্তাকে "ইসলামবিদ্বেষী" শব্দটা শুনতে হয়, যেমনটা আসলান সাহেব বিল মারকে বলেছেন। এই "ইসলামবিদ্বেষী" টার্মটা আলোচনা থামিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট এবং এতে আর যা-ই হোক, প্রশ্নকারীর মনে ইসলাম কিংবা মডারেটদের সম্পর্কে কোনও ভালো মনোভাব তৈরি হয় না। because, let's face it, কেউই "বিদ্বেষী" টার্মটা শুনতে চায় না। 

এখন নিজেকে একটু অমুসলিমদের কাতারে বসান। আপনার কি আসলেই মনে হয়, অমুসলিমরা ইসলাম আর জঙ্গিবাদকে এক করার চেষ্টা করছে? চতুর্দিকে দেখুন, কী ছবি আর কী ভিডিও, সবখানে জঙ্গিরা "আল্লাহু আকবর" বলে গলা কাটছে, কোরানের আয়াত বলতে বলতে বোমা মারছে, অন্য মুসলমানদেরকে জিহাদ করতে বলছে। আপনিই বলুন, কারা ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক স্থাপনে ব্যস্ত। যদি কোনও খ্রিষ্টান বাইবেলের আয়াত বলতে বলতে কারও গলা কাটতো, তবে কি আপনি বাইবেলের দিকে আঙুল তুলতেন না? 

রেজা আসলান কোরানকে (অন্তত জ্বিহাদী আয়াতগুলো) "আক্ষরিক অর্থে" নেয়ার ঘোর বিরোধী। মজার ব্যাপার হল, মুসলিম (মডারেট কিম্বা মৌলবাদী) অমুসলিম সবাই জানি, কোরান মুসলিমদের কাছে আল্লার বাণী আর একে সেভাবেই নিতে হবে, যেভাবে আল্লা পাঠিয়েছেন। 

একইভাবে অনেক মডারেটও কোরানের আক্ষরিক অর্থ এড়িয়ে যেতে চান, তারা কোরানের "রূপক অর্থ" ব্যবহার করতে আগ্রহী। আপনার কী মনে হয়, এই আচরণ অমুসলিমরা কীভাবে দেখে? অমুসলিমরা মনে করে, আপনি কোরানের অর্থকে নিজের মত করে প্রচার করতে চাইছেন এবং কোরানের আসল অর্থ আসলে ভুল কিংবা বাতিল (অনেক বেশি পুরানো); ফলে কোরান যে আল্লার বাণী, আর একে যেভাবে পাঠানো হয়েছে,  সেভাবেই গ্রহণ করতে হবে, এই আইডিয়াটা ভুল মনে হয়। এছাড়াও কোরানকে "ভুল বোঝা হচ্ছে" টাইপের কথা বললে কোরান লেখকের (আল্লার) লেখার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আমি যদি একটা বই লিখি, আর ভিন্ন ভিন্ন মানুষ তার ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করতে চায়, এর মানে কি এই না যে, আমি আমার কথা বোঝাতে পারিনি? অন্য ভাবে বললে, আমি বইটা ঠিকভাবে লিখিনি?
 
আমি নিশ্চিত আপনি এই রকম মেসেজ দিতে চান না, কারণ একসময় আমিও আপনার জায়গাতেই ছিলাম। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, অমুসলিমরা এই আচরণে আপনার কোরান কিংবা আল্লা কারও ওপরই খুশি হতে পারছে না। 

এছাড়াও কোনও সাহিত্যের রূপক অর্থটাও যে অরিজিনাল আইডিয়াটাকে সমর্থন করে, সেটা নিশ্চয়ই মিথ্যা নয়? রূপক জিনিসটা কোনওকিছুকে আরও ভালভাবে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, সেটার অর্থ পাল্টে দেবার জন্য নয়। যখন আয়াতে বলা হয় "ঘাড় থেকে মাথা আলাদা কর", তখন সেটাকে শান্তির বাণী বলে দাবি করলে ব্যাপারটা আর "রূপক" থাকে না। সত্য বলতে, এই আচরণ তখন অসততার মত মনে হয়, সেটা স্বেচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়। 

এই রকম আয়াত যদি অল্প কয়েকটা থাকত, এই "রূপক" আর্গুমেন্ট যদি সমস্ত মুসলিম মেনে নিত, তাহলেও আপনাকে সমর্থন দেয়া যেত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দুটোর একটাও বাস্তবে হচ্ছে না। 

আমি বুঝতে পারছি, আপনি এতক্ষণে আমার সব কথাকেই "ভুল সবই ভুল" বলে মনে করছেন। সেটাই স্বাভাবিক, After all আপনি যখন এই (রূপক) ব্যাখ্যা কোনও মুসলিমকে শোনান, তারা ঠিকই গ্রহণ করে। কিন্তু এটাই কি স্বাভাবিক না? যে নিজের ধর্মকে রক্ষা করতে চায়, ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সে তো তার ধর্মের পক্ষে যে কোনো যুক্তিই মেনে নেবে। 

বিশ্বাস করুন, ঘরের চার দেয়ালের বাইরে পরিস্থিতি খুবই ভিন্ন। আমি পশ্চিমা লিবারেলদের সাথে এ নিয়ে কথা বলেছি। তারা এই ধরনের আর্গুমেন্টকে একেবারেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না (সেটাই কি স্বাভাবিক না?), কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে অস্বস্তি বোধ করে। কারণ তারা নিজেদের "ইসলামবিদ্বেষী" ভাবতে পছন্দ করে না, সেটা শুনতেও চায় না। এছাড়াও তারা মনে করে, মডারেটদের সাথে নিয়েই ইসলামী জঙ্গিবাদ হটানো যাবে। আপনার বেশিরভাগ লিবারেল বন্ধুই এই বিষয়টা হয়ত এড়িয়ে যায়, তবে সেটা তারা করে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য। এদের সাথে বিল মারের তফাতটা এখানেই। 

দুঃখজনক হলেও সত্য এই আচরণের কারণেই মডারেট মুসলমানদের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে, এই আচরণের জন্যই মডারেট মুসলমানদের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে, তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোকে সাধারণ মুসলমানদের "অমুসলিমবিদ্বেষী" মনে করছে। আমি নিশ্চিত, আপনি সেটা চান না, কিন্তু সত্যটা হল: সাধারণ মানুষেরা মডারেটদের সাথে মৌলবাদীদের অমিলের থেকে মিলই বেশি দেখছে। 

আপনি ইসলামের নামে হওয়া সব রকম অমানবিক কাজের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, কিন্তু সেই আয়াত কোরানে থাকলে সেগুলোকে ডিফেন্ড করছেন। এই আচরণের মুলে হয় স্বেচ্ছা-অসততা কিংবা অজ্ঞতা লুকিয়ে থাকে। এই দুটোই কিন্তু যে কোনও অনেস্ট আর্গুমেন্টের পথে বাধা। এর ফলে কিন্তু আপনিই উভয়সংকটে পড়ছেন। 

কোরান যে আল্লার অপরিবর্তনীয় বাণী, সেটা প্রায় সব মুসলমানই বিশ্বাস করে, হোক তারা মডারেট কিংবা মৌলবাদী। একই সাথে তারা বিশ্বাস করে, কোরানের কিছু অংশও ছেড়ে দিলে আর মুসলমান থেকে যাবে না। এখন কথা হল, এই নিয়ম কি চিরকাল মানতেই হবে?

(দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ পর্ব অচিরেই প্রকাশিতব্য) 

দ্বীনবানের দীন বাণী - ০৬