২৫ এপ্রিল, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৮

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪৬.
কুরান সরিফ এর ফেমে ফরি গেসি। কিতাব কানা যতই ফরি, ততই মুগ্ধ হই।

বিগগান কেলা করে কুরানের ফাতায় ফাতায়। 

সংসকিতি তার বাজে বাজে।

ইতিহাস তার সিপায় সিপায়।

রাজনিতি, আইননিতি তার রন্দে রন্দে। 

যুদ্দনিতি তার ফরিচ্চেদে ফরিচ্চেদে।

বিগবেংক, মহাকর্স, অবিকর্স, সক্তির নিত্ততা সুতর, রকেট উড়ানুর সুতর, বলের সুতর, কাজের সুতর, আকাসের সুতর, বাতাসের সুতর সবই তার ইসারায় ইসারায়। 

জিবন বিদান তার অক্করে অক্করে।

গনিমত, তরিকত, সহিকত, বিবাহকত সবই তার ফাতার মদ্দে মদ্দে।

জিব বিগগান, চিকিতসা বিগগান কুরানে আচে সমান সমান। 

করতে সাও দাসি ভুগ, কুরান তবে করো সম্বুগ।

বেস্তের বর্ননা যারা সোন নাই, কোরান তারা কুনুদিন কুলো নাই! !

ফুত্রবদু ভুগ, কচি ভুগ এত কুরান মহামানবকে করাইচে সম্ভুগ। 

আরো আচে মুতানিতি। এর ফরো তুমরা আর কি সাও বলো দিকি? 

জানতে সাও মহাকাস, কুরানের ফাতায় চুক বুলাও টাস টাস।

গরুর গারি ঘুরার গারি, এত কুরান ইসারায় দিয়াসে করি তইরি।

দেকো নাই যারা সমুদরো, কুরানের ফাতায় তারা ডুব দেও তরাতর ।

যদি যাইতে সাও আকাসে, কুরানরে বাসাও মনের হরসে।

কাইতে সাও সারাবান তহুরা? কুরানের মদ্দেই দেকো আচে সুরা।

জাইনতে সাও ভুগুল? কুরান উল্টাই দেকো ফাবে না তার গিয়ানের কুল।

হতে চাও বিগগানি? কুরানে কুজো, ফাবে তাতে খনি।

নামাজরঙ্গ - ৪৯

কোন কোরআন?

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিরিশ বছরের একটানা চেষ্টায় তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজটি শেষ করেন - "তাফহীমুল কোরআন" নামে তিনি প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার কোরআনের ব্যাখ্যা (তাফসীর) গ্রন্থ রচনা করেন। ১২ টির বেশি ভাষায় তাঁর এই তাফসীর গ্রন্থটি অনূদিত হয়েছে এবং কোরআন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী রচনা হিসাবে বিবেচিত হয় মুসলিম সমাজে! গ্রন্থের 'প্রসঙ্গ কথায়' মারাত্মক কিছু কথা বলেছেন তিনি: "কুরআন মজিদের সূরাগুলো আসলে ছিল এক একটি ভাষণ। ইসলামী দাওয়াতের বিশেষ একটি পর্যায়ে একটি বিশেষ সময়ে প্রতিটি সূরা নাযিল হয়েছিলো। কোরআন একটি রচনার আকারে নয়, বরং ভাষণ আকারে বর্ণিত হয়েছে।”

সত্যিই তাই, কোরআন মুহাম্মদের নবী-জীবনের ২৩ বছর সময়ে আল্লার (!) নামে দেওয়া ভাষণের সংকলন ভিন্ন কিছু নয়! এ বিষয়ে মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী সাহেবের কথার সাথে একমত হলেও কোরআনের সংকলন সম্পর্কে ভূমিকায় লেখা তাঁর বর্ণনার সাথে একমত হবার উপায় নেই আমাদের; তিনি বলেছেন: "আজ যে কুরআন মজিদ আমাদের হাতে আছে, সেটি হজরত আবু বকর সিদ্দীকের (রা.) নোসখার অনুলিপি। এই অনুলিপিটি হযরত উসমান (রা.) সরকারী ব্যবস্থাপনায় সারা দুনিয়ার দেশে দেশে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানেও দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে কুরআনের সেই প্রামাণ্য নোসখাগুলো পাওয়া যায়। কুরআন মজীদ সঠিকভাবে সংরক্ষিত হবার ব্যাপারে যদি কারোর মনে সামান্যতমও সংশয় থাকে, তাহলে মানসিক সংশয় দূর করার জন্য তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় গিয়ে সেখানকার কোনো বই বিক্রেতার দোকান থেকে এক খণ্ড কুরআন মজিদ কিনে নিতে পারেন। তারপর সেখান থেকে চলে আসতে পারেন ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। জাভার কোনো হাফেযের মুখে কুরআনের পাঠ শুনে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে কেনা তাঁর হাতের নোসখাটির সাথে তা মিলিয়ে দেখতে পারেন। অতপর দুনিয়ার বড় বড় গ্রন্থাগারগুলোয় হজরত উসমানের (রা.) আমল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্তকার যতগুলো কুরআনের নোসখা রক্ষিত আছে, সবগুলোর সাথে সেটি মেলাতে পারেন। তিনি যদি তার মধ্যে কোন একটি হরফ নোকতার পার্থক্য দেখতে পান, তাহলে সারা দুনিয়াকে এই অভিনব আবিষ্কারের খবরটি জানানো তার অবশ্যকর্তব্য।"

আজকের এই পোস্টের বিষয় মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী সাহেবের ভূমিকায় লেখা অংশটুকুর প্রতিটি বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণিত করা, যা আদতে প্রতিটি মুসলিমের চরম বিশ্বাসেরই অন্ধ প্রকাশ মাত্র! আমরা প্রমাণ করবো:

বিষয়বস্তু - ১. কোরআন মোটেই একটিমাত্র নয়!

বিষয়বস্তু - ২. কোরআন মোটেই সঠিকভাবে সংরক্ষিত নয়!

বিষয়বস্তু - ৩. কোরআনগুলোর ভেতরে একাধিক পার্থক্য আছে!

বিষয়বস্তু - ১:
১৯৯৩ সালে কোরআন নিয়ে আমি প্রথম ধাক্কা খাই। আমার এক বন্ধুর চাচা সৌদি আরবের মদিনা থেকে উপহার দেবার জন্য ১০ টি কোরআন কিনে আনেন, ঘটনাক্রমে আমি সেসময় বন্ধুর বাসাতেই ছিলাম। একটি বাদে ৯ টি কোরআনের প্রচ্ছদ ছিলো হুবুহু এক রকম! আমার আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেই ভিন্ন প্রচ্ছদের কোরআনটি! ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে আরবি কোরআন পড়ি, তবে এই কোরআনটির সূরা ফাতিহা পড়তে গিয়ে আমার চোখে কিছু ভিন্নতা চোখে পড়ে! কোরআনটির ফাতিহার প্রথম আয়াতটি অনেক লম্বা অন্য ৯ টি কোরআনের সেই আয়াত থেকে! আমি বিস্ময়-চোখে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, এমনটা কেন?! সেই দিন থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই কোরআন আমার কাছে মনুষ্যরচিত ভুলভাল গ্রন্থের পরিচয় নিয়ে প্রকাশিত হয় এবং আস্তিকতার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়!

যিনি এই পর্বটি এখন পড়ছেন, আপনাকে অনুরোধ করবো আপনার পিসিতে বা মোবাইলে থাকা কোরআনের সূরা ফাতিহা বের করুন! দেখুন ফাতিহার প্রথম আয়াত শেষ হয়েছে এইটুকুতে:

বোরাক - একমাত্র ছহীহ্ ডানাওয়ালা ঘোড়া

২৪ এপ্রিল, ২০১৭

মুহাম্মদ-হানির মধুর রাতে (তিনটি প্যারোডি কবিতা)

হানিলতা সেন

জীবনানন্দ দাশ-এর বনলতা সেন কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

হাজার বছর ধরে আমি ডাকাতি করিতেছি হেজাজের পথে,
উত্তপ্ত মদিনা থেকে নিশীথের অন্ধকারে উহুদ বদরে
অনেক লুটেছি আমি; কোরায়জা মোস্তালিকের ধূসর জগতে
মক্কায় ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি অতৃপ্ত প্রাণ এক, ঘরেতে ৬৫ পার খাদিজা ছিলেন,
আমারে ঈমানদণ্ড-শান্তি দিয়েছিল মেরাজের হানিলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার বেহেস্তের কারুকার্য; অতিদূর মরুভূমির ’পর
উট হারিয়ে যে-বেদুইন হারায়েছে দিশা
ধূসর বালির দেশ যখন সে চোখে দেখে বালিচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি চেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
খেজুর বিচির মতো চোখ তুলে মেরাজের হানিলতা সেন। 

সমস্ত মেরাজ শেষে জিকিরের শব্দের মতন
সকাল আসে; জিহ্বায় হানির গন্ধ চোখদুটো নীল;
হিজরের সব সাহাবা জেগে গেলে খোঁজাখুঁজির করে আয়োজন
তখন ফাঁদি কল্পগল্প - আসমান ভ্রমণের রঙে ঝিলমিল;
বুড়ি বউয়ের ঘরে ফিরি - আমি নবী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার হানিলতা সেন।


আমি হব মেরাজ রাতের পাখি

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমি হব' কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

আমি হব মেরাজ রাতের পাখি,
গভীর রাতে হানির দ্বারে উঠব আমি ডাকি।
সুয্যি মামা জাগার আগেই উঠবে হানি জেগে,
"হয়নি মেরাজ, একটু আরো" - বলব আমি রেগে।
বলবে হানি, "লুচ্চা নবী, মেরাজে তুমি থাক।
হয়নি মেরাজ, তাই বলে কি সকাল হবে না ক।
আমরা যদি না জাগি তো কেমনে সকাল হবে?"
"হানির মধু খেলে পরেই মেরাজ হবে তবে।"


রাত পোহাবার বাকি কতখানি, হানি?

ইসলামি রে-নিসা থুক্কু রেনেসাঁ যুগের কবি ফররুখ আহমেদের কবিতা "পাঞ্জেরী" প্যারেডি করেছেন নাস্তিকথন

নিজেরে যখনই আবাল মনে হবে - ১৪



নবী-হানির মধুময় রাতে আরও কিছু পাঠ্য:

১. উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা - আস্ত এক ইবুক। নবীর এই প্রেমকাহিনী নিয়ে যাদের কৌতূহল আছে, তাদের জন্য ইছলামের ইতিহাসের বিস্তর দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে আবুল কাশেম লিখেছেন অসাধারণ এক রচনা। 

২. লাইলাতুল মেরাজ – বিজ্ঞান, নাকি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গাঁজাখুরি গল্প?: মেরাজ নামের গুলবাজির চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন হযরত ঠাকুর

৩. সচিত্র শবে মেরাজনবীর আল্লার সাথে সাক্ষাৎ এবং জাহান্নাম পরিদর্শন নিয়ে মুসলমান চিত্রশিল্পীদের আঁকা কিছু ছবিসহ একটি দারুণ বিশ্লেষণী রচনা লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা। লেখাটিতে এভাবে অনুসিদ্ধান্ত টানা হয়েছে: "মেরাজের কাহিনী যে সম্পূর্ণ ভূয়া, সেটা বুঝতে আর অসুবিধা থাকার কথা নয়, যদি না আপনি আজীবন বকরি হয়ে থাকেন।"

কী হয়েছিল সেই রাতে অথবা শবে মেরাজের ইতিহাস

লিখেছেন শান্তনু আদিব

গত রাত ছিলো পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ নামেই আমরা জানি। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই রাতে ইসলামের নবী যুদ্ধ ছেড়ে হয়ে উঠেছিলেন প্রেমের নবী, যদিও তা শুধু এক রাতের জন্যই। বর্বর আরবেরা সেই প্রেমের মর্ম বোঝেনি, বোঝেনি, প্রেম সে তো প্রেমই, হোক সে আপনকীয়া অথবা পরকীয়া। বোঝে না নাস্তেকরাও, তাই তারা প্রেমের নবীর প্রেমময় রাতের নামে মন্দ কথা বলে।
#
নবী তখন সদ্য বিপত্নীক। নবীর ফুপু এবং বউ বুড়ি খাদিজা মরেছে, নবীরও হাড় জুড়িয়েছে। বিগত দুই যুগের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত নবীর আকাশে-বাতাসে তখন শুধুই স্বাধীনতার গন্ধ। বিগতযৌবনা পয়সাওয়ালা দজ্জাল বউ-এর সাথে যে না থেকেছে, সে ভিন্ন অন্য কেউ এই ব্যথা বুঝবে না।

যাই হোক, মূল গল্পে ফিরে আসি, সে রাতে নবী তার চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে পবিত্র কাবার পাশে সাইকাডেলিক শ্রুম সহযোগে জিকির আসগারে ব্যস্ত ছিলেন। কে না জানে, জিকির আসগার মানেই তা বোরিং একটি কাজ এবং উন্নত মানের ঘুমপাড়ানিয়া। রাতের এক পর্যায়ে জিকির করতে করতে ঘুমিয়ে গেল সবাই, শুধু ঘুম আসে না নবীর। নবী তখন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, তার চোখ হাসে, তার মুখ হাসে, তার টগবগিয়ে খুন (রক্ত) হাসে ঈমানদণ্ডে। মরুভূমির রাতের ঠাণ্ডা বাতাসেও সেই টগবগানি থামে না।

স্বচ্ছ আকাশের মিটিমিটি তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তারাগুলো কার কথা যেন মনে করিয়ে দিল, যদিও সে নাইবা এলো, তাই বলে কি নবীর তার কাছে যেতে মানা? শুধু শ্বশুর বাড়ি মধুর হাঁড়ি নয়, গোপন প্রেমিকার বাড়িও মধুর হাঁড়ি হতে পারে, যদি প্রেমিকার স্বামী বাড়ি না থাকে আর তার ওপরে যদি হয় সেই প্রেমিকার নাম হয় হানি। যেই ভাবা সেই কাজ, ঘুমোচ্ছে চ্যালাচামুণ্ডারা। এখনই সময় তার কাছে যাবার।
#
নবী তো গেলো হানির মধু খেতে, এদিকে চ্যালাচামুণ্ডারা তো নেশায় বুঁদ। এর মাঝে ঠাণ্ডা, বোধহয়, একটু বেশি পড়েছিল অথবা হিসু চাপায় কোনো এক চ্যালার ঘুম গেল ভেঙ্গে। হিসু করে এসে খেয়াল হল, নবী সেখানে নেই। ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল, নবীকে কি কুরাইশেরা ধরে নিয়ে গেল? না কোনো শয়তান জ্বিন তাকে উধাও করল? নাকি কোনো ইহুদি ডাইনি বুড়ির তুকতাকে নবী ছোট হতে হতে পিঁপড়ার সমান হয়ে গেল। সেই চ্যালা ডেকে তুলল অন্য চামুণ্ডাদের। সবার মনেই ভয়, সবার মনেই সংশয়। তাই তারা ঠিক করল, দল বেঁধে নবীকে খুঁজতে বের হবে।

খুঁজতে খুঁজতে তাদের চোখে পড়ল, সারা মক্কায় এত রাতেও শুধু হানির বাড়িতেই টিমটিম করে হ্যারিকেন জ্বলছে। তা দেখে একটু কাফের টাইপের এক চ্যালা, যার আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি কম ছিল, বলে উঠল, "নিশ্চয়ই নবী গেছে হানির মধু খেতে।" অন্যরা সবাই শুনে তাকে এই মারে কি সেই মারে! নবীর মত মানুষ কি পারবে খাদিজার মত কাউকে ভুলে হানির মধু খেতে! কিন্তু সন্দেহ এমনই এক জিনিস, যা কাউকেই ছাড়ে না। শয়তানের প্ররোচনায় তারা তখন হানির ঘরে নক দিল।
#
ঘরের মাঝে মেরাজরত অবস্থায় কেঁপে উঠল নবী এবং উম্মে হানির বুক। কী হবে, কী হবে এখন, জাতকুলমান সবই আজ যাবে। কিন্তু নবী তো শুধু হানির মধু খেয়ে বড় হয়নি, উট দুম্বা থেকে শুরু করে বুড়ি খাদিজার শুকনা মধু পর্যন্ত খেয়েছে। ফিচলা বুদ্ধি তারও কম না। প্রেমের নবী জানে যে, তার চ্যালারা তেমন প্রগ্রেসিভ না। আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি আছে তাদের, এবং গায়ে-গতরে বড় হলেও এরা আসলে ভোদাই কিসিমের। তাই তাড়াতাড়ি কাপড় ঠিক করে নবী দরজা খুলে সবাইকে সাদর সম্ভাষণ জানায়।
#
আরবি মেরাজ শব্দটি আরাজা থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। আপনারা সবাই জানেন, মিশনারি পজিশন কী জিনিস এবং উহাই একমাত্র সহীহ সঙ্গমের তরিকা। যেখানে নারীরা থাকবে নিচে এবং পুরুষেরা তাদের উপরে আরোহণ করবে। ইংরেজিতে যাকে বলে রাইডিং। নবীও উম্মে হানির ঘরে হানির ওপর আরোহণ করেছিল, আহরণ করেছিল মধু। বিগট, মাথামোটা, খ্যাত, নট আধুনিক ভোদাই কিসিমের সাহাবীদেরকে কিন্তু নবী মিথ্যা বলেনি পুরোপুরি, তবে এই একটু ঘুরিয়ে বলেছিল এই যা। বলেছে, ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়েছে, হয়েছে স্বর্গভ্রমণ। দুই যুগের উপোসী নবীর কাছে নিশ্চয়ই সে রাত ছিল স্বর্গভ্রমণের সমতুল্য আর উম্মে হানি নিশ্চয়ই ছিল সে রাতের ঈশ্বর।

আজ নবীত্র চাপা মারাজ

২৩ এপ্রিল, ২০১৭

রঙ্গিলা রসুল: একটি ধর্মকারী কুফরী কিতাব

সম্পূর্ণ ছহীহ ও ইছলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও দলিল থেকে নবীর জীবন, তার কর্মকাণ্ড বা ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কিত উদ্ধৃতি দিলেও ঈমান্দার মুছলিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে - এই প্রবণতাটি কিন্তু সাম্প্রতিক নয়। বস্তুত এটাই ইছলামী ঐতিহ্য। শুধু তা-ই নয়, শুধু শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে (সত্যতা যাচাইয়ের স্বভাব বিশ্বাসীদের নেই) উন্মত্ত সহিংসতায় ঝাাঁপিয়ে পড়াটাও তাদের ঈমানী বৈশিষ্ট্য।

অখণ্ড ভারতবর্ষে ১৯২০-এর দশকের প্রারম্ভে পাঞ্জাবের মুসলিমরা একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। সেটিতে হিন্দুদের দেবী সীতাকে পতিতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এবং কথিত আছে, এর প্রতিশোধ নিতেই হিন্দু পণ্ডিত চমূপতি "রঙ্গিলা রসুল" নামে একটি সত্য তথ্য সম্বলিত ব্যঙ্গাত্মক পুস্তিকা লেখেন, যা ১৯২৩ সালে প্রকাশ করেন লাহোরের প্রকাশক রাজপাল। বইটির শেষে উল্লেখ করাও আছে: "এই পুস্তকে যে সমস্ত রেফারেন্স ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা কেবল সুন্নী দলিল হইতে গৃহীত।"

এর পরে ইলমুদ্দিন নামের মর্দে মুছলিম রাজপালকে হত্যা করে।

"রঙ্গিলা রসুল" নামের পুস্তিকাটিকে অখণ্ড ভারতবর্ষের প্রথম নিষিদ্ধ বই হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই বইটিকে মূল হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুরসিক ও সুলেখক জুপিটার জয়প্রকাশ। মূল বইয়ের চরিত্র ও স্বাদ অটুট রাখতে অনুবাদক ব্যবহার করেছেন সাধু বাংলা ভাষা, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত উপযুক্ত ও উপাদেয় হয়েছে।

আর ইবুকটি নির্মাণের সার্বিক কৃতিত্ব সকল কাজের কাজী নরসুন্দর মানুষ-এর।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.১৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/cxYigX
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/lmyUSp

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়এই ঠিকানায়)

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

তেলাপোকা পেলো পাখির মর্যাদা

লিখেছেন আক্কাস আলী

- স্যার, আসবো?
- Yes... Come in...
- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
[মাথা নেড়ে সালামের জবাব দিলেন, অতঃপর বসতে ইশারা করলেন]
- Introduce yourself...
- I am Akkas Ali Mohammad Bin Abdul Kuddus. I live in Chittagong. I am a sunni muslim. I read in Al-Jamiatul Ahlia Darul Ulum Muinul Islam. It also has another name, it is Hathazari Madrassa. My favorite teacher's name is Allama Shah Ahmad Shafi...
- Okay, Okay, বুঝলাম। তো আক্কাস সাহেব, আপনি এখানে পাঞ্জাবি-টুপি পরে কেন এসেছেন? ড্রেস কোড ফলো করেননি। এর কারণটা কী?
- স্যার, এইসব হচ্ছে সুন্নতী পোশাক। হুজুরে পাক (সাঃ) এইরকম পোশাকই পরিধান করতেন।
- বুঝলাম। কিন্তু নবীজি এ ধরনের পোশাক পরতেন তার দেশের আবহাওয়াগত কারণে। বড় কোর্তা আর মাথার উপর টুপি বা পাগড়ি রাখতে হতো মরু অঞ্চলে সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্যে। শুধু নবীজি নন, কাফেররাও তখন একই ধরনের পোশাক পরতেন। বোঝা গেলো? আপনি এখানে এসব পরে থাকবেন কোন দুঃখে? আরেকটা কথা, নবীজি তো উটে চড়ে যাতায়াত করতেন, আপনি উটে চড়ে আসলেন না কেন? সুন্নত কি কেবল নিজের সুবিধা অনুযায়ী?
- জানি না, স্যার।
- আচ্ছা, বাদ দিন। আপনি তো চট্টগ্রামের ছেলে। চট্টগ্রামের কয়েকটা দর্শনীয় স্থানের নাম বলুন।
- চট্টগ্রামে অনেক অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। যেমন ধরেন, হযরত খাজা গরীবুল্লাহ শাহ (রঃ) এর মাজার, বায়েজিদ বোস্তামির মাজার, শাহ আমানত (রঃ) এর মাজার, আমাদের বড় মাদ্রাসা, আর... আর...

[উত্তর শুনে ভাইবা বোর্ডের সবাই একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর একদম ডানপাশে বসা মাথায় বিশাল টাকওয়ালা স্যার আমাকে প্রশ্ন করলেন।]

- আক্কাস সাহেব, চলুন, প্রথমেই ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনি কী কী জানেন, সংক্ষেপে বলুন। কেন এবং কী কারণে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? যুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কী ছিলো?
- ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিলো। সেই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যায়। আসলে ভারতের হিন্দুরা ষড়যন্ত্র করে এই যুদ্ধ লাগিয়েছিলো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করতে। আর আপনি একটা বিরাট ভুল কথা বলেছেন স্যার, জাতির জনক শেখ মুজিব না। আমাদের পরিচয় একটাই - আমরা মুসলমান। আর আমাদের জাতির পিতা হইলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।

[সবাই চুপ মেরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন শুরু করলেন পাশের ম্যাডাম]

- সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা যাক। আচ্ছা, বলুন তো, দিন ও রাত সংঘটিত হওয়ার কারণ কী? দিন-রাতের দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধিই বা কেন হয়?
- দিনের বেলা সূর্য থাকে, তাই দিন। আর রাতের বেলা সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় পড়ে যায়। তখন সূর্য থাকে না বলে রাত হয়। আল্লাহ অনুমতি দিলে পরের দিন সুর্য উঠে দিন শুরু হয়। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫৪, হাদিস ৪২১)
- তার মানে, সুর্য যখন আরশের নিচে সেজদায় যায়, তখন পৃথিবীর কেউই সুর্যকে দেখতে পায় না? সব দেশেই রাত হয় একসাথে?

[রুমের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলো। আমি বিব্রত বোধ করলাম। অতঃপর আবার প্রশ্ন!]

- মানুষের জ্বর কেন হয়? জ্বর হলে কী করা উচিত? তাপমাত্রা কত উঠলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
- জ্বর হইলো আল্লাহর গজব, আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেন জ্বরের মাধ্যমে। জাহান্নামের আগুনের তাপ যখন আমাদের গায়ে এসে লাগে, তখনই আমাদের জ্বর হয়। (বুখারি, খণ্ড ৭, বই ৭১, হাদিস ৬১৯) জ্বর হইলে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হইবে আর নিজ গুনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ঔষধ হিসেবে কালিজিরা খাওয়াইলে জ্বর ভালো হবে ইনশাল্লাহ। শুধু জ্বর না, কালিজিরাতে সব রোগের নিরাময় রয়েছে। (বুখারি, খণ্ড ৭. বই ৭১, হাদিস ৫৯২)

- তেলাপোকা চেনেন? এরা কোন পর্বের প্রাণী? এদের চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
- অত কিছু জানি না। তবে তেলাপোকা হইলো বিশেষ এক ধরনের পাখি।
- তা ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশে অনেক অনেক তেলাপোকা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেলাপোকাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদেরকে পাখিদের দলভুক্ত করাই উত্তম কাজ। আচ্ছা, আক্কাস সাহেব, আমার মনে হয় আপনি ক্লাস সেভেন-এইটের বিজ্ঞানটাও ভালোমতো জানেন না। অনেক ফাঁকিঝুকি দিয়েছেন নিশ্চয়ই ছাত্রজীবনে?
- না, স্যার। আসলে সেই প্রাইমারী লেভেল থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত কোনো ক্লাসেই আমরা বিজ্ঞান পড়ি নাই। আমরা পড়ছি ইসলামের ইতিহাস, কোরান, আরবি ও ফার্সি ব্যাকরণ, বুখারি-মুসলিম-তিরমিজি, ফিকহ এইসব। তবে ইংলিশে আমি অনেক ভালো। ফার্মগেট থেকে "৭ দিনে ইংরেজি শিখুন" নামে একটা বই কিনছিলাম, ঐটা পড়েই ইংলিশের জাহাজ হইছি।
- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগলো কথা বলে। এখন আপনি আসতে পারেন।
- চাকরিটা হবে তো, স্যার?
- হবে হবে... মাস্টার্সের ছাট্টিফিকেট যেহেতু পেয়েছেন, চাকরিও পাবেন।

নাস্তিক টেররিস্ট

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৬

৩২৩.
মুছলিম:
- আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীর ১৬০ কোটি মুছলিমের মধ্যে শতকরা ৯৩ জনই মডারেট বা শান্তিপ্রিয়? মাত্র ৭ শতাংশ মুছলিম জঙ্গি। এটা এক জরিপের ফলাফল।
নাস্তিক:
- তা বটে! মাত্র ১১ কোটি ২ লক্ষ মুছলিম জঙ্গি। জেনে আশ্বস্ত হলাম।

৩২৪.
- আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারটা লম্বা, ব্র্যাড পিট-এরটা ছোট্ট, ম্যাডোনা'র সেটা নেই এবং পোপ-এর সেটা থাকলেও ব্যবহার করে না। কী সেটা?
- পদবী।

৩২৫.
ধরা যাক, বেহেশতে গিয়ে আপনি ৭২ হুরির একজনের প্রেমে পড়ে গেলেন।
আপনাকে কি তবু বাধ্য করা হবে বাকি ৭১ জনের সঙ্গে সেক্স করতে?
যদি বাধ্য করা না হয়, তাহলে বাকি ৭১ হুরি কী করবে অনন্তকালব্যাপী?
ওহ্, আপনি বলছেন, তাদেরকে অন্য বেহেশতবাসীদের ভেতরে বিলি করে দেয়া হবে।
তাহলে তো প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে, বেহেশতী ৭২ হুরির আইডিয়াটাই ত্রুটিযুক্ত।

আবার দেখুন, অনন্ত কালের কিছুটা সময় ধরে সেই একই হুরির সঙ্গে সঙ্গম করতে করতে  ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়লেন আপনি, তখন?
অতএব এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে - ৭২ জন হুরির কারুর সঙ্গেই প্রেমে না পড়া।
যার অর্থ - অনন্তকালব্যাপী প্রেমহীন সেক্স। হ্যাঁ, প্রেমহীন সেক্স। দারুণ না?
অবশ্য এই জাতীয় জটিল বিষয় নিয়ে ধর্মবিশ্বাসীরা চিন্তিত নয়।

নীতিকথা: যে ব্যক্তি মাথা খাটায় না, সে-ই ধর্মবিশ্বাসী।

৩২৬.
১০ বছরের বালিকাকে হেঁটে যেতে দেখে এক চৌদি মুছলিম আরেক চৌদিকে বললো:
- আমি নিশ্চিত, মেয়েটা ছোটোবেলায় খুব আকর্ষণীয় ছিলো।

৩২৭.
- মাইক্রোওয়েভ ও ইছলামী টেররিস্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
- টাইমারের শেষ বিন্দুতে পৌঁছালেও মাইক্রোওয়েভ বিস্ফোরিত হয় না।

গাধা চিরন্তনী

২২ এপ্রিল, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪২

লিখেছেন নীল নিমো

আমার একজন ঈমানদার মুসলমান মুরিদ এক মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করছে। মহিলাটি আমার কাছে এসে নালিস করল:
- হুজুর, আপনার ঈমানদার মুসলমান মুরিদ আমাকে পিটাইছে। আপনি এর বিচার করেন।

আমি প্রশ্ন করিলাম:
- আমার ঈমানদার মুরিদটি যে মুসলমান, সেটা কীভাবে শিওর হলেন?

মহিলাটি উত্তর দিল:
- তার লম্বা দাড়ি আছে।

আমি বলিলাম:
- রবীন্দ্রনাথেরও তো দাড়ি ছিল, তাই বলে সে কি মুসলমান ছিল?

মহিলাটি বলিল:
- তার নাম, মোহাম্মদ ইসলাম। সে জোব্বা ও টুপি পরিহিত ছিল। আমাকে মার দেওয়ার সময় আল্লাহু আকবর বলে আরবিতে শ্লোগান দিচ্ছিল।

আমি বলিলাম:
- এরপরও আমি শিওর হতে পারছি না, সে মুসলমান কি না। কারণ মুসলমান নাম থাকলেই যে সে মুসলমান হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা নাই। সাদ্দাম হোসেনের খ্রিষ্টান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ছিল তারেক আজিজ। আজকাল কাতার-দুবাই ভ্রমল করার সময় খ্রিষ্টানরা শখ করে জোব্বা-টুপি পরে। আর তাছাড়া আল্লাহ শব্দটির হিন্দি অনুবাদ হল ভগবান আর বাংলা অনুবাদ হল সৃষ্টিকর্তা। এমন হতে পারে আমার মুরিদ মোহাম্মদ ইসলাম একজন হিন্দু। ঠিক কি না?

মহিলাটি রেগে গিয়ে বলিল:
- সে আমার প্রাক্তন স্বামী, তাকে আপনি আমার থেকেও ভালভাবে চিনেন? কোরান ও সুন্নাকে ফলো করে সে আমারে নিয়মিত মারধর করত। সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, ৩০ রোজা রাখে, যাকাত দেয়, হজ্ব করেছে। সকাল-বিকাল ৫ কলেমা পড়ে। তাছাড়া তার সুন্নতে খতনা করা আছে।

আমি বলিলাম:
- তাহলে সে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান, একজন মুসলমান কখনই তার বউকে মারতে পারে না।

মহিলাটি বলিল:
- সে একটা মসজিদের খতিব, সে মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারে না। কোরানের সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে নারীদের পিটাইতে বলা আছে। তাছাড়া সহি মুসলিমের হাদিসের উল্লেখ আছে নবীজি নিজেও মেয়ে মানুষ পিটাইতেন। আয়শার বুকে নবীজি ঘুষি মারতেন। নবীজি কি তাহলে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান ছিলেন?

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি এইবার নিশ্চিত, এইটা পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র। মিডিয়ার অপপ্রচার। হিটলার ১১ মিলিয়ন মানুষকে মেরে ফেলেছে। সাদ্দাম, গাদ্দাফি মারা গেল, আর আপনি তো সামান্য মার খেয়েছেন। এগুলোর তুলনায় এই মাইর কিছুই না।

আমার উত্তর শুনে মহিলাটি শলাঝাড়ু নিয়ে আমাকে ধাওয়া দিল। ঝাড়ু ধাওয়া খেয়ে আমি দৌড়ে পালালাম।

হইতে সাবধান

সৌদি আরব কি ইসলামী সন্ত্রাসীদের পক্ষে না বিপক্ষে? - ২

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির ও সৌদি নারীদের অবস্থা অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে, খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, এপ্রিল ৪, ২০১০]


এরপর শুরু হতো ইসলামের গৌরবময় অতীত নিয়ে বড়াই করা ও বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা। এখন আমি বুঝি যে, এসব করা হতো একমাত্র আমাদের কচি ও সহজে প্রভাবিত মনকে ইসলামী জোশে ভরপুর করার জন্যে, যাতে করে আমরা ইসলামের অতীত বিজয় গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারি। ধর্মীয় শিক্ষকরা তরুণ সমাজকে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকার জন্যে নির্দেশ দিতেন; এগুলো হচ্ছে: ধূমপান, পাশ্চাত্যের ধরণে চুল ছাঁটা ও পোশাক পরা, মেয়েলি পোশাক পরা, সঙ্গীত শোনা - বিশেষত পাশ্চাত্য সঙ্গীত, টেলিভিশন উপভোগ করা। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের মোল্লারা বলত টেলিভিশন দেখা হচ্ছে সব চাইতে বড় পাপ। সত্যি বলতে কি, এ ব্যাপারে একটা ফতোয়া আছে, যাতে বলা হয়েছে যে, যার কাছে স্যাটালাইট অ্যান্টেনা থাকবে, সে বেহেশতে যাবে না। পাশ্চাত্যের অনুকরণে চুল বাঁধা হচ্ছে একেবারে দুর্বিনীত ব্যাবহার। এরই জন্যে আমাদের মাথার চুল ছাঁটা থাকত সামনে এবং পিছনে। সত্যি বলতে কি আমাদের মাঝে যাতে কোন ক্রমেই পাশ্চাত্যের চুল ছাঁটার প্রভাব না পড়ে সে জন্যে আমাদের প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের মাথা পরীক্ষা করতেন। কেউ যদি চুল কাটার আইন অবজ্ঞা করত, তবে জোরপূর্বক তার মাথার চুল ছেঁটে দেয়া হত বিদ্যালয়ের সেলুনে। এর অর্থ হলো, আমাদের অনেকেরই চুল ছাঁটা হতো 'জিরো' ভাবে - একে বারে ক্রু কাট যাকে বলে। আমাদেরকে তখন দেখলে মনে হত সামরিক বাহিনীর ক্ষুদে সৈনিক - ধর্মীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র নয়।

আমাদেরকে সর্বদাই মনে করিয়ে দেয়া হতো মৃত্যু সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে, মৃত্যু হচ্ছে ইসলামের একটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বক্তৃতা দেওয়া হতো যে, মৃত্যুর কথা মনে করা খুবই পুণ্যের কাজ। এরপর আমাদেরকে বর্ণনা দেওয়া হতো মৃতের দেহের সৎকার (কবর দেওয়া) এবং অন্যান্য অনুসাঙ্গিক বিষয় যা মৃত্যু ও শোককে ঘিরে থাকে। বলতে হয়, আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা সর্বদাই মৃত্যু নিয়ে আবিষ্ট বা মোহাচ্ছন্ন। যারা এই সব মর্মান্তিক বিষয় আমাদের ঐ কোমল মনে মৃত্যুর ধারণা ভাবনা ঢুকিয়ে দেয়, তারা কোনোদিন চিন্তাও করে না, এর কী মারাত্মক প্রভাব পড়ে তরুণ মনে। এই সবের জন্যে আমি প্রায়ই ভাবতাম, আল্লাহ্‌ কী কারণে আমাকে ইহজগতে পাঠালেন, যখন জন্মের সাথে সাথেই আমাকে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হতে বলা হচ্ছে। এসবের কী অর্থ হতে পারে - ইসলাম মানেই কি মৃত্যু? আমাদের মনে গভীর ভীতির সঞ্চারের জন্যে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়া হতো, কবরের ভিতরে আমাদের কী যন্ত্রণাই না পেতে হবে! এর পরিণাম এই হলো যে, কবরের ঐ যন্ত্রণা এড়ানোর জন্য যেসব কাজ মানা করা হয়েছে, আমরা মনে মনে প্রস্তুত হয়ে গেলাম, যে কোনোভাবেই ঐ আদেশ পালনের জন্যে।

এখন যখন আমি ঐ সব দিনগুলির কথা ভাবি, তখন আমার কোনো সন্দেহ থাকে না যে, আমাদের শিক্ষকেরা পরিষ্কার গুল মারতেন আমাদের শিশু মনে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টির জন্যে, যাতে করে যেমন করেই হোক আমরা ইসলামকে আঁকড়ে থাকব। এই প্রসঙ্গে একটা কালো সাপের গল্প মনে পড়ে গেল। গল্পটা হচ্ছে নিম্নরূপ:

এক ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার তাকে কবর দেওয়ার জন্যে কবরস্থানে নিয়ে গেল। কবরস্থানে দেখে এক কালো সাপ কবরের পাশে অবস্থান করছে। তাই তারা অন্য একটি কবরের কাছে গেল। সেখানেও ঐ একই অবস্থা—একটি কালো সাপ কবরের নিকট বসে আছে। এই ভাবে অনেক ঘোরাঘুরি করে লোকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর মরিয়া হয়ে ঐ কালো সাপকে উপেক্ষা করেই তারা মৃত লোকটিকে কবর দিয়ে দিল। কিন্তু যেই তারা ফিরে যাচ্ছিল, তখনই তারা শুনতে পেলো, কবরের ভেতর থেকে আসছে ভীষণ চিৎকার ও হৈ-হল্লার শব্দ। তারা তৎক্ষণাৎ কবরটি খুঁড়ে ফেলল এবং দেখল ঐ কালো সাপ কেমন করে এঁকে বেঁকে কবরে ঢুকে পড়ে মৃত দেহটিকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে মৃত ব্যক্তির হাড় ভেঙে গেছে। তখন লোকেরা ঐ মৃতের পিতাকে জিজ্ঞেস করল, "তোমার ছেলে কী করেছিল?" পিতা উত্তর দিল, "আমার ছেলে খারাপ তেমন কিছুই করেনি; শুধুমাত্র ব্যাপার এই যে, সে নিয়মিত নামায পড়ত না।"

এখন আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, আমাদের শিক্ষকেরা ঐ ধরনের প্রচুর মিথ্যা, ভয়ংকরী গল্প শুনিয়েছেন। আজ প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছানোর পর মোল্লাদের ঐ সব আজগুবি গল্পের কথা মনে পড়লে আমার হাসিই আসে। কিন্তু সেদিন তাদের বানানো ভয়ানক গল্পগুলোর প্রতিটি শব্দ আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম, যেহেতু তারা ছিল শক্তিশালী ও ধর্মের শিক্ষক। আমরা প্রচণ্ড ভীতি ও আতঙ্কের মাঝে থাকতাম। সর্বত্র আমরা দেখতাম আতঙ্ক, সন্ত্রাস; মৃত্যুভীতি, কবরের যন্ত্রণা, এবং শেষ বিচার দিনের শাস্তির কথায় উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা কাঁপতে থাকতাম। এছাড়াও সর্বদা আমাদের মনকে আবিষ্ট করে থাকত কাফের, আল্লাহ্‌র ক্রোধ আক্রোশ, পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরাঈল... ইত্যাদি। তখন আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতাম না যে, ঐ শিক্ষকেরা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলতেন। সর্বত্র আমরা ভীতি ছাড়া কিছুই দেখতাম না। আমাদের চারদিক ঘিরে থাকত সন্ত্রাস, ভীতি ও আতঙ্ক। আমরা আতঙ্কিত থাকতাম এই ভেবে যে, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাঈল আমাদেরকে আণবিক বোমা মেরে ধ্বংস করে দেবে। আপনার হয়তো হাসবেন, কিন্তু সত্যি সত্যি বলছি: আমার এক বন্ধুর ছেলে যখনই এরোপ্লেনের শব্দ শোনে, তখনই সে কান্না জুড়ে দেয়। সেই শিশু বয়সী ছেলে মনে করে, এরোপ্লেনের শব্দ মানেই যুদ্ধ্বের শুরু। এই আতঙ্কের রোগ আমাদের প্রত্যকের মনে আজ মজ্জাগত হয়ে গেছে আমাদের ঐ ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্যে। আমাদের জন্ম হয় আতঙ্ক নিয়ে, জীবনযাপন করি আতঙ্কের সাথে, এবং মারাও যাই আতঙ্কের ছায়ায়। আমাদের সরকার আমাদেরকে বন্দী করে রেখেছে চিরস্থায়ী আতঙ্ক দিয়ে - এই সর্বগ্রাসী ইসলামী আতঙ্ক থেকে আমাদের মুক্তির কোন পথই নেই।

আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকেরা কখনই বিশ্বাস করে না যে, যথাযথ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া সৌদি আরবের ছাত্রদের অনুকুলে। বলা বাহুল্য যে, এই মোল্লারা একেবারেই ভুল পথে রয়েছে। এরা এক মিথ্যা অহমিকা ও ভান করা দম্ভের মোহে আচ্ছন্ন। আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে যে মৌলিক ইংরেজি শেখানো হয়, তা নিতান্তই ধোঁকাবাজিতে ভরপুর। সত্যি কথা হলো: ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় চলে অবাধ নকল। আমি আমাদের দেশের শিক্ষকদের সাথে এই নকলের ব্যাপারে প্রচুর আলাপ করেছি। কিন্তু তারা একেবারে নিশ্চিত যে, ইংরেজি শেখা আমাদের জন্য তেমন গুরুত্বের কিছু নয় - আমাদের খুবই গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের ভাষার জন্য, যে ভাষায় কোরআন লেখা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষানীতির একটা বৈশিষ্ট্য এই যে, মুসলমানদের সাফল্যের প্রশংসা ছাড়া আমরা আর কারো ই প্রশংসা করতে পারি না। অ মুসলিমদের কোন সাফল্যের প্রশংসা করা এক মহাপাপ ও দণ্ডার্হ অপরাধ। আমাদের শিক্ষকেরা সবসময় জিহাদ এবং জিহাদে অংশগ্রহণের ফযিলতের কথা নিয়ে ব্যস্ত। আমাদেরকে বলা হচ্ছে জিহাদিদেরকে মুগ্ধভাবে প্রশংসা করতে ও সর্বতোভাবে তাদেরকে অনুকরণ করতে। আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করা হচ্ছে যে, আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য জীবনে একবার হলেও জিহাদে যোগদান করা। এই ব্যাপারে নিম্নের হাদিস প্রায়ই উল্লেখ করা হয়:
আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর রসুল বলেছেন, "যে কেউ আল্লাহ্‌র সাথে দেখা করবে অথচ তার কাছে জিহাদের কোনো চিহ্ন থাকবে না, সে এক খুঁত নিয়ে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে।" (জামি তিরমিজি, ভলুম ৩, হাদিস ১৬৬৬, প্রকাশক: দারুস্‌সালাম,‌ রিয়াদ, সৌদি আরব। অনুবাদ অনুবাদকের)
আমাদের সমাজে যেসব ছাত্র ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে, তারা সর্বদাই হচ্ছে সর্বোত্তম ছাত্র। এই ছাত্ররা প্রধান শিক্ষক থেকে সাধারণ শিক্ষক পর্যন্ত সবার সম্মান পেয়ে থাকে। এরা তাদের চুল ছাঁটে 'জিরো'তে, পোশাক থাকে 'থোয়াব' এবং প্রায়ই ধর্মীয় পুলিশ হিসাবে চাকুরি করে ওরা যেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিল সেই বিদ্যালয়েই। পুরস্কার হিসাবে তারা পায় প্রচুর সুযোগ সুবিধা ও অপরিমেয় সম্মান। এই জন্যেই প্রচুর ছাত্র ধার্মিক হয়, কেননা তারা আকুলভাবে কামনা করে ঐ সব মহার্ঘ ও ঐশ্বর্যবান সুযোগ সুবিধা ও আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, যা সরকার ও জনগণ ওদেরকে অকুন্ঠভাবে দিয়ে থাকে। মোদ্দা কথায়, সৌদি আরবের ধর্মান্ধ লোকেরা সরকার ও আমজনতা থেকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার পায়। এদেরকে বলা হয় আল্লাহ্‌র তত্ত্বাবধায়ক।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৭

২১ এপ্রিল, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৬

লিখেছেন ইমানুল হক

৮. 
আমার বিষন ভয় লাইগতাছে। আল্লা, আমি কি করুম, তুমিই কও। এই কতাও হুনতে অয়? কি কলিযুগ আইলো! 

ইক্টু আগে দেহা হইছিল মেম্বরের ফুলার লগে। আমি জিগাইলাম:
- বাজান, ক্যামন আছো?

মেম্বরের ফুলার জবাব:
- এই তো চাচা, তেমন ভালো না। আপনি কেমন আছেন?

আমি বইল্যাম:
- বালাই আছি। কিন্তু তুমার আবার কি অইলো?

মেম্বরের পো উওর দিল: 
- দেখেন না, দেশটা একেবারে ইসলামিক জঙ্গি দিয়ে ভরে গেল। চারিদিকে শুধু ইসলামিক জঙ্গিদের আতংক। দেশটা তো একবারে ধ্বংস করে ফেলবে।

- কি কও বাজান, এইসব ত ইসলামে কয় নাই, এইগুলা ত ইহুদী-ক্রিষ্টানগের চক্রান্ত। এগুলাত কান দিও না। আল্লা এইগুলার উফরে গজব পেলবে, দেইহো। আল্লায় কইছে: "হে কিতাবিগণ! তুমরা তুমাগের দর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি কইরো না আর আল্লার ব্যাফারে সত্যি কতা কও।" (সূরা নিসা: ১৭১) তাছাড়া আরেক জাগায় কইছে: "তুমার প্রতিফালক ইচ্চা কইল্যে পিতৃবীত যারা আছে, হগ্যলেই ইমান আইন্ত (আল্লার উফ্রে)। তালি কি তুমি ইমানদার অওয়ার জইন্য মাইনশের লগে জবরদুস্তি করবা?" - আমি বুজাইলাম। 

মেম্বরের পোর পাল্টা জবাব:
- তালি ফড়ে এই আয়াতডা কি মিছা নি চাচা? "আমি কাফেরদের মনে ভীতির সন্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হানো এবং তাদেরকে কাটো জোরায় জোরায়।" (সূরা: ৮ আয়াত: ১২) আর আর এক জায়গায় আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন: "অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আত তাওবাহ, আয়াত:৫) এইগুলাও কি ইহুদী-নাসারাদের চক্রান্ত নাকি চাচা?" 

আমার মেজাজ খারাপ অই গেল কতাডা হুইনা। কি কমু, বাইবতে ফাইল্লাম না। মেম্বারের ফুলা, কিছু কওয়াও যায় না।

দিশা না ফাই "নাউজবেল্লা, নাউজবেল্লা" বইলতে বইলতে বাসার দিক তারাতারি দৌর দি চলি আইলাম। আর এই সূরাডা কি মেম্বরের ফুলা বানাই কইলো নিকি, চিন্তা কইত্তে লাইগলাম।

সুপারমার্কেটে আদম-হাওয়া

ইছলামী ধাঁধা

২০ এপ্রিল, ২০১৭

পিছলামি

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

আচ্ছা, ধার্মিকরা সব সময় পিছলায় কেন?

বলবেন, "নবী ছিল লুইচ্চা, ডাকাত, পেডোফাইল..."
বলবে, "না, নবী ইসলাম প্রচারের জন্য সব করেছে।"

বলবেন, "জাকির নায়েক ভণ্ড, অল্পশিক্ষিত, ভুল বলে, টাকা দিয়া বাড়ি গাড়ি করছে..." 
বলবে, "না, যা করেছে, ইসলাম প্রচারের জন্য করছে।"

বলবেন, "কুরানে বিজ্ঞান তো দূরের কথা, বিজ্ঞানের ব-ও নেই।"
বলবে, "না, কুরান সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস।"

বলবেন, "নবী সম্বন্ধে পড়েছেন? তার হাদিসের বইগুলো কোনোদিন উল্টেপাল্টে দেখেছেন? 
বলবে, "না, হাদিস মানুষে লিখেছে। ভুল থাকতে পারে।"

বলবেন, "কুরান কোনোদিন নিজ ভাষায় পড়েছেন?"
বলবে, "না, কুরান পড়া হয় নি। বর্তমান কুরানের অনুবাদ ভুল আছে।"

বলবেন, "জাকির যা বলে, যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন?"
বলবে, "না, তবে জাকির যা বলে, সব সঠিক।"

বলবেন, "কুরানে যে বিজ্ঞান আছে, সেটা কী করে জানলেন? আপনি কি বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?" 
বলবে, "না, বিজ্ঞানে বিশ্বাস নেই, সবসময় পাল্টায়। তবে কুরানে বিজ্ঞান আছে, সেটা সত্য।"

বেদ্বীনবাণী - ৮৮


ধর্ম বিষয়ে তাঁর আরও ক্ষুরধার বক্তব্য:

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/mhZq9PslWYA

আজানে মাইকের প্রয়োজনীয়তা

পোঁদধ্বনি: দূষিত বায়ু ত্যাগের শব্দ (সৌজন্য: দুষ্টু শব্দ)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৮২

১৯ এপ্রিল, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ৫: শঙ্কিত হিরাক্লিয়াস!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬৬): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসন-পরবর্তী ছয়টি বছরে (৬২২-৬২৮ সাল) "ধর্মের নামে আগ্রাসী আরব শক্তির উত্থান" ঘটিয়েছিলেন, তা কী উপায়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস জানতে পেরেছিলেন বলে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তার বিস্তারিত আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে।

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 


'অতঃপর হিরাক্লিয়াস তার পুলিশ-প্রধানকে ডেকে পাঠান ও তাকে বলেন, "আমার জন্য তুমি সিরিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকো, যতক্ষণে না তুমি এই লোকটির এলাকার কোনো লোককে আমার কাছে হাজির করতে পারো (Turn Syria upside down for me, until you bring me someone from the people of this man)" - অর্থাৎ, তিনি আল্লাহর নবীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন।

আল্লাহর কসম, আমরা তখন গাজায়, তার পুলিশ-প্রধান আমাদের ওপর চড়াও হয় ও বলে, "তোমরা কি হিজাজের এই লোকটির এলাকার লোকদের কেউ?" আমরা বলি, "হ্যাঁ।" সে বলে, "আমাদের সাথে সম্রাটের কাছে চলো!" তাই, আমারা তার সাথে যাত্রা শুরু করি। যখন আমরা সম্রাটের কাছে এসে হাজির হই, তিনি বলেন, "তোমরা কি এই লোকটির স্বজাতীয়দের কেউ?" আমরা বলি, "হ্যাঁ।"

তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "তোমাদের মধ্যে কে এই লোকটির সাথে আত্মীয়তা সূত্রে সবচেয়ে বেশী নিকটস্থ?" বললাম, "আমি।" আল্লাহর কসম, আমি কখনোই এর আগে এমন কোনো বিধর্মী (খৎনাবিহীন) লোককে দেখিনি, যাকে আমি এই লোকটির চেয়ে বেশী বিচক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতে পারি - অর্থাৎ, হিরাক্লিয়াস।

তিনি বলেন, "তাকে আমার নিকটে নিয়ে এসো।” তিনি আমাকে তাঁর সম্মুখে বসান, আর আমার সহচরদের বসান আমার পিছনে; অতঃপর তিনি বলেন: "আমি তাকে প্রশ্ন করবো। যদি সে মিথ্যা বলে, তাকে খণ্ডন করবে।"

আল্লাহর কসম, যদি আমি মিথ্যাও বলতাম, তারা আমাকে খণ্ডন করতো না; তথাপি, আমি ছিলাম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, এতই উচ্চবংশজাত যে, মিথ্যা বলা আমার সাজে না। এ ছাড়াও আমি জানতাম যে, যদি আমি মিথ্যা বলি, অন্ততপক্ষে ব্যাপারটি যা হবে, তা হলো এই যে, আমার সম্বন্ধে এই বিষয়ে তারা আমার বিপক্ষে বলাবলি করবে; তাই আমি তাকে মিথ্যা বলিনি। 

হিরাক্লিয়াস বলেন, "আমাকে এই লোকটি সম্পর্কে বলো, যে তোমাদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হয়ে দাবিগুলো করছে।" আমি তার কাছে তার গুরুত্ব কমিয়ে বলা ও তাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করি। আমি বলি, "হে সম্রাট, "তার সম্পর্কে দুশ্চিন্তা করবেন না। তাঁর গুরুত্ব এত কম যে, তার প্রভাব আপনার ওপর বর্তাবে না।" আমার এই কথার কোনো গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, "তার সম্পর্কে আমি যা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবো, তুমি তার জবাব দেবে।" আমি বলি, "জিজ্ঞাসা করুন, যা আপনার ইচ্ছা।"

তিনি বলেন, "তোমাদের মধ্যে কী তার বংশ পরিচয়?" আমি বলি, "বিশুদ্ধ - আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বংশ।" তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "বলো, তার বংশের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে, সে যা বলছে সেরূপ আগে কখনো তা বলেছে, যাতে এমন হতে পারে যে সে তা অনুকরণ করছে?" আমি বলি, "না।"

তিনি বলেন, "তোমাদের ওপর তার কি কোনো কর্তৃত্ব করার অধিকার ছিল, যে কারণে তোমরা পরে তাকে বেইজ্জতি করেছো, আর সে কারণেই সে এই বক্তৃতাগুলো শুরু করেছে এই অভিপ্রায়ে যে, তোমরা তাকে তার কর্তৃত্বের অধিকার ফিরিয়ে দেবে?" আমি বলি, "না।"

তিনি বলেন, "তোমাদের মধ্যে যে লোকগুলো তার অনুসারী, তাদের সম্পর্কে বলো; তারা কারা?" আমি বলি, "দুর্বল, দরিদ্র, তরুণ ছেলে ও নারীরা। যে লোকগুলো বহু বছর যাবত সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত, তাদের কেউই তার অনুসারী নন।" তিনি বলেন, "যে লোকগুলো তার অনুসারী, তাদের সম্পর্কে বলো: তারা কি তাকে ভালবাসে ও তার ওপর অবিচল থাকে, নাকি তারা তার সাথে কলহ করে ও তাকে পরিত্যাগ করে?" আমি বলি, "এমন কোনো লোক নেই যে তাকে অনুসরণ করেছে, অতঃপর তাকে পরিত্যাগ করেছে।"

তিনি বলেন, "তোমাদের ও তার মধ্যের যে যুদ্ধ-বিগ্রহ, সে সম্পর্কে বলো।" আমি বলি, "বিভিন্ন প্রকার - কখনও কখনও আমাদের বিরুদ্ধে সে জয়ী হয়, আর কখনও কখনও তার বিরুদ্ধে আমরা হই জয়ী।"

তিনি বলেন, "আমাকে বলো, সে কি বিশ্বাসঘাতকতা করে?" (এই বিষয়টি ছাড়া তিনি আমাকে তার সম্বন্ধে আর যা যা জিজ্ঞাসা করেছেন, সে ব্যাপারে আমি তার [মুহাম্মদের] চরিত্র সম্পর্কে যুক্তিযুক্ত বিরূপ মন্তব্য প্রকাশের কারণ খুঁজে পাইনি।) আমি বলি, "না; তার সঙ্গে আমরা এক সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ, (আর) আমরা শঙ্কিত এই ভেবে যে, সে আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে।"