২৬ নভেম্বর, ২০১৪

বাকস্বাধীনতা = আল-ব্ল্যাছফেমি

ইছলামবাজের সাক্ষাৎকার।
- ইছলামে কি বাকস্বাধীনতা নেই?
- থাকবে না কেন! নিশ্চয়ই আছে।
- ইছলামিক পরিভাষায় সেটাকে কী বলা হয়?
- আল-ব্ল্যাছফেমি, যার শাস্তি - মৃত্যুদণ্ড।


বৌদ্ধশাস্ত্রে পিতৃতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১৫


স্বামী যে তার স্ত্রীকে অবহেলা করবে এটাই স্বাভাবিক, স্ত্রীর সবচেয়ে বড় সাধনা হচ্ছে স্বামীর মন রক্ষা করা। অবশ্যই স্বামীর অধিকার আছে তার স্ত্রীকে সন্দেহ করার, কিন্তু স্বামীর সেবা করাই স্ত্রীর একান্ত কর্তব্য, পতিদেবতাকে সন্দেহ করার কোনো অধিকার স্ত্রীর নেই। 

না, এগুলো আমার কথা নয়, ধর্মের কথা। কমবেশি এই ধরণের নীতিকথা আমাদের প্রতিটা ধর্মই শেখায়। বৌদ্ধধর্মও তার ব্যতিক্রম নয়। 

বৌদ্ধশাস্ত্র ত্রিপিটকের জাতকে এই ধরণের নির্দেশনা রয়েছে প্রচুর। এখন আমরা আলোচনা করবো ৫১৯ নম্বর জাতক, সম্বুলা জাতক নিয়ে। 

এই জাতকের অতীতবস্তুতে বলা হয়েছে, বারাণসীরাজ স্বস্তিসেনের সম্বুলা নামে এক স্ত্রী ছিলেন যিনি অতীব সৌন্দর্যবতী রূপে-গুণে অদ্বিতীয়া ছিলেন। স্বস্তিসেন কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হলে এবং চিকিৎসায় প্রতিকার না পেলে গোপনে বনবাসে যাত্রা করেন। এই যাত্রায় সম্বুলা তার সেবাশুশ্রূষার জন্য সহযাত্রী হন। একদিন একা একা বনের মধ্যে দিয়ে সম্বুলার চলন দেখে এক দানব আকৃষ্ট হয়। দানব তার সতীত্ব নষ্ট করতে চাইলে তখন দৈববাণী হয়: 
সুপণ্ডিতা, জিতেন্দ্রিয়া, ইনি অতি যশস্বিনী
অগ্নিসমা, উগ্রতেজা, রমণীর শিরোমণি।
এমন সতীকে করিস যদি ভক্ষণ
করিব আমি তোর শির বিদারণ।
এ পতিব্রতার দেহ স্পর্শে তোর কলুষিত
করিস না, ছাড় শীঘ্র, চাস যদি নিজ হিত। 
এরপর দানব সম্বুলাকে ছেড়ে দিলো, সেখান থেকে কোন রকমে বেঁচে গৃহে ফিরে স্বামীকে না দেখতে পেয়ে সম্বুলা কাঁদতে শুরু করেন। পরে স্বামী স্বস্তিসেন এলে নিজের বিলম্বের প্রকৃত কারণ এড়িয়ে অন্য কারণ বলেন সম্বুলা। কিন্তু এই বিলম্বের কারণ স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। স্বামী স্বস্তিসেন বলেন:
রমণীজাতির বুদ্ধি নানা দিকে খেলে
চৌরী তারা, সত্য সদা দুই পায়ে ঠেলে।
উদকে মৎস্যের গতি বুঝা নাহি যায়
সেইরুপ স্ত্রী চরিত্র বুঝা বড় দায়। 
স্বস্তিসেনের এ প্রকার অবিশ্বাসের পরেও সম্বুলা স্বামীসঙ্গ পরিত্যাগ করে না। সে আপন সত্যবলে স্বামীসেবা করে যাবার প্রতিজ্ঞা করে। স্বস্তিসেন আবার বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে সে নিজের সতীত্ব প্রমাণের জন্য স্বস্তিসেনের শরীরে পানি ঢেলে দিলে স্বস্তিসেন সুস্থ হয়ে উঠে। কিন্তু এতো কিছুর পরও স্বস্তিসেন তার স্ত্রীকে অবহেলাই করে গেছেন। স্বামীর অবহেলাই যেন নারীর নিয়তি!

(চলবে) 

অপরাধ ও শাস্তি



২৫ নভেম্বর, ২০১৪

ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের কিছু সাদৃশ্য

লিখেছেন বিভাস মন্ডল

সাধারণত মুসলমানরা ইহুদিদের দেখতে পারে না। ইহুদিরাও সাধারণত মুসলমানদের দেখতে পারে না। তবে ইসলাম ও ইহুদি ধর্মে পার্থক্য যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাদৃশ্যও আছে।

১. 
মুসলমান ও ইহুদিরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। সৃষ্টিকর্তা এক এবং তাঁর কোন শরীক নেই।

২. 
মুসলমান ও ইহুদিদের মতে, তাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) / আব্রাহাম। সমগ্র মানব জাতির পিতা হযরত আদম (আঃ) / অ্যাডাম।

৩. 
মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচ বার (ভোরে , দুপুরে , বিকেলে , সন্ধ্যায় ও রাতে) নামাজ আদায় করে। ইহুদিরা প্রতিদিন তিন বার (ভোরে, দুপুরে ও রাতে) প্রার্থনা করে।

৪. 
এই দুই ধর্মেই প্রার্থনার জন্য কিবলা (দিক) আছে। মুসলমানদের কিবলা মক্কার কাবা ও ইহুদিদের কিবলা (দিক) জেরুজালেমের প্রার্থনা স্থান।

৫. 
মুসলমানদের জীবনে একবার হজ্জ্ব করতে হয় মক্কায়। ইহুদিদের বছরে তিনবার তীর্থ যাত্রা করতে হয় জেরুজালেমে।

৬. 
মুসলমান ও ইহুদি পুরুষদের খতনা (circumcision) করতে হয়।

৭. 
দাড়ি রাখতে বলা আছে দুই ধর্মেই। দাড়ি কাটা দুই ধর্মের দৃষ্টিতে গুনাহ / পাপ।

৮. 
সম্পদ দান করা দুই ধর্মেই অবশ্যপালনীয় বিষয়। মুসলমানরা নিজের সম্পদের একটি অংশ যাকাত হিসেবে দেয়। ইহুদিরা তাদের সম্পদের একটি অংশ প্রতি বছর চ্যারিটি হিসেবে দেয়।

৯. 
মুসলমানরা কোনো ব্যাক্তিকে দেখলে সালাম দেয়। ইহুদিরা কোনো ব্যাক্তিকে দেখলে সালোম / শালোম বলে। দুই শব্দের অর্থই - শান্তি।

১০. 
দুই ধর্মেই বিশেষ আইন রয়েছে। মুসলমানদের জন্য শরীয়াহ আইন। ইহুদীদের জন্য হালাখা আইন। এই দুই আইনেরই শাস্তির বিধান কঠোর। জেনা (বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক) করা এই আইন অনুসারে মারাত্মক অপরাধ। জেনা করলে মুসলমানদের শরীয়াহ আইন মোতাবেক ১০০ বেত্রাঘাত। ইহুদীদের হালাখা আইন মোতাবেক পাথর ছুড়ে মারা।

১১. 
ইসলাম ধর্ম মতে, শুক্রবার সপ্তাহের পবিত্র দিন ও বিশেষ ইবাদতের দিন - জুম্মা। ইহুদি ধর্ম মতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সপ্তাহের পবিত্র সময় ও বিশেষ প্রার্থনার সময়।

১২. 
দুই ধর্মেই নির্দিষ্ট খাবারের অনুমতি আছে। মুসলমানদের জন্য হালাল খাবার। ইহুদিদের জন্য কোশার খাবার। দুই ধর্ম মতেই পশুর রক্ত ও শুকরের মাংস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। একজন মুসলমান ইহুদিদের কোশার খাবার খেতে পারবে। একজন ইহুদী মুসলমানদের হালাল খাবার খেতে পারবে। তবে মুসলমানদের জন্য কোশারের মধ্যে অ্যালকোহল খাওয়ার অনুমতি নেই কারন যে কোনো ধরনের অ্যালকোহল মুসলমানদের জন্য হারাম।

১৩. 
পশু জবাইয়ের নিয়ম দুই ধর্মেই প্রায় এক ধরনের। মুসলমানেরা প্রতিটি পশু জবাইয়ের আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। ইহুদিরা শুধু একবার প্রভুর নাম স্মরণ করে একসাথে সব পশু জবাই করে।

১৪. 
মেয়েদের ক্ষেত্রে দুই ধর্মেই মাথায় কাপড় দেয়ার বিধান আছে, তবে ইসলাম ধর্মে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলেই মাথায় কাপড় দেয়ার বিধান আছে। আর ইহুদি ধর্মে মেয়ে বিয়ে করলে মাথায় কাপড় বাধার বিধান আছে। নারী ও পুরুষের জন্য শালীন কাপড় পরার বিধান দুই ধর্মে আছে।

১৫. 
পুরুষের টুপি পড়ার বিধান দুই ধর্মেই আছে।

১৬. 
ইবাদত/প্রার্থনার অংশ হিসেবে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার বিধান দুই ধর্মেই আছে। মুসলমানদের রমজান মাসের প্রতিদিন রোযা রাখা ফরজ আর ইহুদিদের বছরে পাঁচটি বিশেষ দিনে পানাহার থেকে বিরত থাকা অবশ্য পালনীয়।

১৭. 
সন্তান জন্ম নিলে মুসলমানদের অনেকে বাচ্চার কানের কাছে আযান দেয়া হয়। ইহুদিরা অনেকে বাচ্চার কানের কাছে শিমা দেয়।

১৮. 
দুই ধর্মেই সুদ নিষিদ্ধ।

১৯. 
ধর্মীয় দিনপঞ্জিকায় মাস নতুন চাঁদ দেখে ঠিক করা হয় দুই ধর্মেই।

২০. 
সন্তানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখার সময় ছাগল বা ভেড়া জবাই দেয়া দুই ধর্মেরই বিধান।

২১. 
দুই ধর্ম মতেই জেরুজালেম হচ্ছে পবিত্র নগরী। মুসলিমদের জন্য মক্কা হচ্ছে সবচেয়ে পবিত্র নগরী তারপর মদীনা তারপর জেরুজালেম।  ইহুদিদের জন্য জেরুজালেম সবচেয়ে পবিত্র নগরী। আগে মুসলিমদের কিবলা জেরুজালেমে ছিলো। পরে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা নগরীর কাবা হয় মুসলিমদের কিবলা।

২২. 
কোরআন অনুসারে, অমুসলিমদের মধ্যে একমাত্র ইহুদি-নাছারা জাতির নারীর সাথে মুসলিম পুরুষের বিয়ের অনুমতি আছে। আলেম ওলামাদের মতে এই বিয়ে জায়েজ হবে তবে তা মাকরুহ/পছন্দনীয় কাজ না। এই ধরনের বিয়ে করলে শর্ত হলো সন্তান মুসলিম হতে হবে।

২৩.
ইহুদি পুরুষরা প্রার্থনা করার সময় মাথায় টুপি পরে। ইহুদিদের টুপির সাথে মুসলমানদের টুপির মিল আছে।

২৪.
ইহুদি বিবাহিত মহিলাদের মাথায় কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখা ও লম্বা কাপড় পরা বাধ্যতামূলক। মুসলমান যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের (বিবাহিত , অবিবাহিত) মাথায় কাপড় দেয়া বাধ্যতামূলক ও শরীর ঢেকে রাখতে লম্বা কাপড় পড়ার বিধান আছে।

একটি ছহীহ ইছলামী পরিবার


ঈমানদীপ্ত কাহিনীঁ - ৫ (সুন্নতের পাগড়ি)

লিখেছেন জল্লাদ মিয়া

আমরা যখন মসজিদে যাই, তখন দেখিতে পাই হুজুরেরা মাথায় পাগড়ি দিয়া আছেন। সচেতন মুসলমান মাত্রই  পিয়ারে নবীর প্রত্যেক সুন্নত মুহাব্বতের সহিত পালন করেন। আমরা পাগড়ি মাথায় দেওয়ার ফজিলত সম্পর্কে জানি, কিন্তু নামাজের সময়কার পাগড়ির ইতিবৃত্ত সম্পর্কে অবগত নই। আজ আমরা নামাজের পাগড়ির ইতিহাস সম্পর্কে জানিব।

আপনারা হয়তো জানিয়া থাকিতে পারেন যে, তত্‍কালীন আরবেরা খুব বেয়াদপ বেতমিজ আছিল (যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি যায় নাই!); তাহাদের ওভার-রসিকও বলা যায়। একটু বেশি পরিমাণে রসিকতা করিত আরকি!

তো একদা মুহাম্মদের মাথায় একটা ফোঁড়া উঠিল। আহা! কী ব্যাথা! তিনি মাথায় ফোঁড়া নিয়াই মসজিদে ইমামতি করিতে গেলেন। সেখানে কয়েকজন সাহাবী মুহাম্মদের ফোঁড়া দেখিয়া ফেলিল। তাহারা মুহাম্মদের মস্তক লইয়া রসিকতা করিতে চাহিল। কিন্তু মুহাম্মদের শরীরে ৩০ হর্স পাওয়ার আছিল বলে সাহাবিরা সুবিধা করিতে পারিতেছিল না। তাহারা ভাবিলো, আগে মুহাম্মদ নামাজে দাঁড়াক। তারপর দেখা যাবে!

মুহাম্মদ যথাসময়ে ইমামতি শুরু করিলেন। পেছনে অন্যরা ইমাম সাহেবকে ইক্তেদা করিয়া আল্লাফাকের রাহে নামাজ আরম্ভ করিল। কিন্তু কয়েকজন ওভার-রসিক নামাজের নিয়ত করিল না, এমনি দাঁড়াইল। মুহাম্মদ কেরাত পড়িলেন, রুকু করিলেন, তাছবিহ পড়িলেন এবং সিজদায় পড়িলেন। ওভার-রসিকদের রসিকতার সুযোগ মিলিল। তাহাদের একজন মুহাম্মদের মাথায় একখান চাট্টি বসাইল। সেটা মুহাম্মদ অনেক কষ্ট করিয়া হজম করিলেন। এরপর আরেকজন সাহাবী মুহাম্মদের মাথায় খড়ম বসাইল। এটা গিয়া লাগিল সরাসরি মুহাম্মদের মাথার ফোঁড়ায়!

মুহাম্মদ এইবার আর সহ্য করিতে পারিলেন না। তিনি নামাজ ভাঙ্গিয়া বেতমিজগুলারে দৌড়াইয়া লইয়্যা গেলেন। সে যাত্রায় বেয়াদপ সাহাবিরা অতি কষ্টে রক্ষা পাইল, কিন্তু মুহাম্মদের মাথার দুশ্চিন্তা দূরীভূত হইলো না। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, কী করা যায়? সাহাবিদের রসিকতা বন্ধ করা যাইবে না। বরং এমন ব্যবস্থা করিতে হইবে, যেন তিনি হারামজাদাগুলার রসিতায় আপাতত ব্যাথা না পান। ভাবিতে লাগিলেন, ভাবিতে লাগিলেন...

এমন সময় তাহার মাথায় একখান দারুণ বুদ্ধি আসিল। মাথায় একটা ত্যানা মুড়িয়ে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! তিনি তাহলে চপ্পলের আঘাতে আর ব্যাথা পাবেন না।

পরের দিন তিনি মাথাটাকে ত্যানায় মুড়িয়ে মসজিদে গেলেন। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করিলো, মুহাম্মদ, ইহা তুমি কী করিয়াছ? 

মুহাম্মদ অকপটে উত্তর দিলেন, ইহার নাম পাগড়ি! নামাজকালে পাগড়ি বাঁধা সুন্নত!

সেই থেকে মুসলমানের মাথায় ফোঁড়া না উঠিলেও মাথায় একখানা কাপ্পড় প্যাঁচাইয়্যা মসজিদে যায়!

নামাজরঙ্গ - ৩৭


২৪ নভেম্বর, ২০১৪

ওহুদ যুদ্ধ-৪: শুরু হলো যুদ্ধ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৫৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও মক্কাবাসী কুরাইশদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের যে দ্বিতীয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটি ওহুদ প্রান্তে সংঘটিত হয়েছিল তার কারণ ও প্রেক্ষাপট, আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও আগ বাড়িয়ে নিজেদের আবাসস্থল মদিনা থেকে বের হয়ে ওহুদ প্রান্তে গিয়ে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে মুহাম্মদের বহু অনুসারীরা কী কারণে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং এই যুদ্ধে মদিনার ইহুদিদের ভূমিকা কেমন ছিল, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের তিনটি পর্বে করা হয়েছে। 

আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল ও আরও প্রায় ৩০০ মুহাম্মদ অনুসারী (এক-তৃতীয়াংশ) মাঝপথ থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মুহাম্মদ তাঁর প্রায় ৭০০ জন অবশিষ্ট অনুসারীকে সঙ্গে নিয়ে ওহুদ প্রান্তে পৌঁছান। তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

‘আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধ করেন, প্রায় ৭০০ জন মানুষ। তিনি আবদুল্লাহ বিন যুবায়েরের নামের বানু আমর বিন আউফ গোত্রের এক ভাইকে তীরন্দাজ বাহিনীর নেতৃত্বে নিয়োগ করেন। ঐ দিন আবদুল্লাহ বিন যুবায়েরের পরনে ছিল সাদা পোশাক, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল।

তাদের সাথে ছিল ৫০ জন তীরন্দাজ। মুহাম্মদ তাদেরকে বলেন, "তোমাদের তীরের সাহায্যে অশ্বারোহী বাহিনীকে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখবে এবং পেছন দিক থেকে তাদেরকে আমাদের কাছে আসতে দেবে না, তা যুদ্ধের ফলাফল আমাদের পক্ষে হোক অথবা বিপক্ষে। তোমরা ঐ স্থানেই থাকবে যাতে আমরা তোমাদের দিক থেকে আক্রান্ত না হই।"

তারপর আল্লাহর নবী দুইটি বর্ম-আবরণ (Coats of mail) পরিধান করেন এবং যুদ্ধের ঝাণ্ডাটি মুসাব বিন উমায়ের নামের বানু আমর গোত্রের এক ভাইয়ের হাতে দেন।

তারপর তিনি তাঁর তরবারি হাতে নেন এবং তা ঘুরিয়ে আস্ফালন (Brandish) করে বলেন, "তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে এই তরবারির যোগ্য?"

উমর তা নেয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান ও বলেন," আমি এটি নেয়ার যোগ্য", কিন্তু আল্লাহর নবী ঘুরে দাঁড়ান এবং দ্বিতীয় বার একই বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে তা ঘুরিয়ে আস্ফালন করেন।

তারপর আল-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম উঠে দাঁড়ান এবং তিনিও প্রত্যাখ্যাত হন। তারপর বানু সায়েদা (Banu Sa'ida) গোত্রের দুযানা সিমাক বিন খারাশা (Dujana Simak b. Kharasha) নামের এক ভাই উঠে দাঁড়ান ও তা গ্রহণ করেন।

তিনি [আবু দুযানা] জিজ্ঞাসা করেন, "হে আল্লাহর নবী, এটি গ্রহণের যোগ্যতা কী?"

তিনি জবাবে বলেন, "তা এই যে, এটি দিয়ে তুমি শত্রুদের আঘাত/বধ (Smite) করতেই থাকবে যতক্ষণ না এটি বেঁকে যায়।"

যখন তিনি বলেন যে, তিনি এটি গ্রহণ করে তার মর্যাদা রাখবেন, তিনি তা তাকে দেন। আবু দুযানা ছিলেন সাহসী কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দাম্ভিক। যখনই তিনি তাঁর লাল পাগড়িটি পরিধান করতেন, জনগণ জানতেন যে, তিনি যুদ্ধে প্রস্তুত।’ --- [1][2][3]

ঐ দিন মুহাম্মদ অনুসারীদের সিংহনাদ ছিল, "হত্যা কর, হত্যা কর"!’ [4]
(The companions’ war-cry that day was "Kill, Kill!")!

অন্যদিকে,

বদর যুদ্ধে আবু সুফিয়ান বিন হারবের স্ত্রী হিন্দ বিনতে ওতবার পিতা ওতবা বিন রাবিয়া ও তাঁর চাচা সেইবা বিন রাবিয়া এবং ভাই আল-ওয়ালিদ বিন ওতবা যেমন "তোমাদের সাথে আমাদের কোনোই বিবাদ নেই" ঘোষণা দিয়ে আনসারদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাননি (পর্ব-৩২), তেমনই ওহুদ যুদ্ধেও আবু সুফিয়ান ও তাঁর সহকারীরা আনসারদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাননি!

যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আবু সুফিয়ান যুদ্ধে আগত মুহাম্মদ অনুসারী আউস ও খাযরাজ গোত্রের লোকদের উদ্দেশে এক বার্তাবাহক পাঠান। বার্তাবাহক মারফত তিনি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁরা এসেছেন তাঁদের যাবতীয় দুরবস্থার জন্য যে-ব্যক্তিটি দায়ী, সেই মুহাম্মদের সাথে মোকাবেলা করতে; তাদের সাথে যুদ্ধ করতে নয়!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পূর্বানুবৃত্তি (Continuation):

'কুরাইশরা তাদের লোকদের জড় করেন। প্রায় ৩০০০ জন মানুষ, তাদের সাথে ছিল ২০০ টি ঘোড়া। বাম পার্শ্বের অশ্বারোহী বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ এবং ডান পার্শ্বের অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ইকরিমা বিন আবু-জেহেল। ---

‘তখন আবু সুফিয়ান এই খবর জানিয়ে এক বার্তাবাহক পাঠান,

"হে আউস ও খাযরাজ গোত্রের লোকেরা, আমাকে আমার জ্ঞাতি ভাইয়ের (Cousin) সাথে মোকাবেলা করতে দাও, তারপর আমরা তোমাদের ছেড়ে চলে যাব। কারণ তোমাদের সাথে আমাদের যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু তারা তাকে অভদ্র জবাব দেয়।” ----

(Now Abu Sufyan had sent a messenger saying, 'You men of Aus and Khazraj, leave me to deal with my cousin and we will depart from you, for we have no need to fight you'; but they gave him a rude answer.)  

বানু আবদ-দার গোত্রের লোকেরা ছিল যুদ্ধের ঝাণ্ডা বহনকারী দল। তাদেরকে যুদ্ধে উদ্দীপ্ত করার জন্য আবু-সুফিয়ান বলেন, "এই যে বানু আবদ-দার, বদর যুদ্ধের দিন তোমাদের দায়িত্বে ছিল এই যুদ্ধ-ঝাণ্ডা - তোমরা জানো যে, সেদিন কী হয়েছিল। জনগণ নির্ভর করে যুদ্ধ-ঝাণ্ডার ভাগ্যের ওপর। তাই তোমরা হয় তা দক্ষতার সাথে অবশ্যই রক্ষা করবে, নতুবা তা আমাদের হাতে অবশ্যই সোপর্দ করবে - আমরা (তা রক্ষার দায়িত্ব থেকে) তোমাদের ঝামেলা মুক্ত করবো।"

বিষয়টির বিবেচনায় তারা অপমানিত বোধ করে এবং তাঁকে ধমক দিয়ে বলে, "তুমি কি চাও যে, আমরা আমাদের এই ঝাণ্ডা তোমাকে সমর্পণ করি? আগামীকাল যখন যুদ্ধ শুরু হবে, তখন দেখবে, আমরা কীরূপে যুদ্ধ করি," - আবু সুফিয়ান এটিই চেয়েছিলেন। --

যখন দুই পক্ষ একে অপরের নিকটবর্তী হয়, হিন্দ বিনতে ওতবা তাঁর সঙ্গের মহিলাদের নিয়ে উঠে দাঁড়ান ও সৈন্যদের পেছনে পেছনে যে খঞ্জনিগুলো তারা সৈন্যদের উদ্দীপ্ত করার জন্য বাজাচ্ছিল, তা তুলে নেন ও বলতে থাকেন:

"হে আবদ-দার এর দারক,
তোমরা আমাদের রক্ষক,
প্রতিটি শাণিত বল্লম দ্বারা করো তাদের আঘাত!"

তিনি আরও বলেন,

"যদি তোমরা হও আগুয়ান বাঁধিব আলিঙ্গনে,
বিছাইব মোরা কোমল গালিচা তোমাদেরই পদতলে;
যদি তোমরা হটো পিছু জানাবো মোরা বিদায়,
এমনই বিদায় যেথায় মোদের কোনো ভালবাসা আর নাই।"’ [5] [6]

>>> পাঠক, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, বদর যুদ্ধে মুহাম্মদ অনুসারীরা কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারব ও তাঁর স্ত্রী হিন্দ বিনতে ওতবার এক জোয়ান পুত্র হানজালাকে করেন খুন ও আর এক পুত্র আমরকে করেন বন্দী (পর্ব-৩৭)।

শুধু তাঁদের সন্তান হানজালাকেই নয়, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বদর প্রান্তে হিন্দ বিনতে ওতবার পিতা ওতবা, চাচা সেইবা ও ভাই আল-ওয়ালিদকেও নৃশংসভাবে খুন করেন (পর্ব-৩২)।

তা সত্ত্বেও, এই মহীয়সী মহিলাটি একই দিনে তাঁর নিজ পুত্র, বাবা, চাচা ও ভাইয়ের খুনের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী মুহাম্মদের মক্কায় অবস্থিত কন্যা জয়নাবকে পরম স্নেহ ও সমবেদনায় সর্বাত্মক সাহায্যের আশ্বাস নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন (পর্ব-৩৯)।

স্বজনহারা শোকাবহ সেই মহীয়সী হিন্দ বিনতে ওতবা আজ যুদ্ধের ময়দানে! তিনি এসেছেন তাঁর পিতা, পুত্র, ভাই ও চাচার খুনের প্রতিশোধ নিতে।

একই ভাবে ইকরিমা বিন আবু-জেহেল এসেছেন তাঁর পিতা আবু জেহেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে! কুরাইশ নেতা আবু জেহেলকে কীরূপ নৃশংসতায় বদর যুদ্ধে খুন করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব বত্রিশে করা হয়েছে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৩৭৩ http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক:  আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭ – পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৯৮,  

[3] Ibid আল-তাবারী - পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৯৪

[4] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ইবনে হিশামের নোট) - পৃষ্ঠা ৭৫৩  

[5] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৩৭৪

[6] Ibid আল-তাবারী - পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৯৯-১৪০০

বিশ্বাস, জাদু ও বিশ্বাসের জাদু



সহী জঙ্গি দলকে সমর্থন করুন

লিখেছেন আসিফ আল আজাদ

পুরানো এক ঐতিহাসিক মহাশক্তিকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার এ এক গভীর ষড়যন্ত্র!

ঘটনা তো মনে হচ্ছে সুবিধার না। বিরাট ঐতিহাসিক কানেকশান খুজে পাচ্ছি। মিশরীয় দেবী Isis (আইসিস) এর সাথে ইসলামিক জঙ্গি বাহিনী ISIS-এর নামের এত মিল কেন? এই মিল তো কিছুদিন আগেও ছিল না!


প্রথমে এদের নাম ছিল শুধু ISI (Islamic State of Iraq).
তারপর নাম বদল করে হল ISIL ( Islamic State of Iraq and the Levant).
আর এখন সরাসরি ISIS ( Islamic State of Iraq and Syria)

সবগুলো নাম খেয়াল করলে দেখা যায়, তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে নামের কোনো মিল নেই। এই Islamic State কি এরা শুধু ইরাক ও সিরিয়ায় চায়? না। এদের কর্মকাণ্ড সারা পৃথিবীব্যাপী। তাহলে নামের পেছনে কেন এত কারসাজি?

এর পেছনে কঠিন রহস্য লুক্কায়িত। একবারে দেবী Isis-এর নাম নিলে সবাই সহজেই বুঝে ফেলতে পারে, তাই আস্তে আস্তে নাম পরিবর্তন করে শেষমেষ মহাশক্তিধর দেবী আইসিস এর নাম নেওয়া। গোপনে এরা আসলে দেবী আইসিস-এর পূজারি। আগেই বলেছিল সবাই, "ইহা সহী ইসলাম নয়।"

ইসলামে দেবদেবীর কোনো স্থান নেই। একটি সহী ইসলামী বেহেস্তি জিহাদি ভাইদের পবিত্র দলের নাম কোনো পৌত্তলিক ধর্মের দেবীর নামে হতে পারে না। এরা পুরোনো শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় অাছে। আল-কায়দা সহ আরো অনেক সহী ইসলামী নামের সহী জিহাদি দল আছে, তাদের সাথে থাকুন, তাদেরকে সহায়তা করে বেহেস্ত হাসিল করুন।

পুনশ্চ. ক'দিন ধরে শরীরটা বেশ খারাপ। আজ ভোর থেকে আবার পেটের অবস্থাও একটু খারাপ। টয়লেটে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। তো টয়লেটে বসে থেকে এই সময়টা অপচয় না করে এই আবিষ্কারটা করে ফেললাম। এই পোস্টের বেশিরভাগ অংশ মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে কমোডে বসেই লেখা।

ইছলামী জঙ্গিদের দিনকাল



২৩ নভেম্বর, ২০১৪

ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ০৬

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

৫১.
- নামাজ পড়া বা মন্দিরে মুর্তিরে পূজা করতে পাছা উঁচা করতে হয় কেনু? (কাজি শামসু)
- স্রষ্টাকে স্বর্গের সুরঙ্গ দেখানোর জন্য। (Prodip Traveller)

৫২.
- পিছলাম নামের ধর্মটি শিয়া, সুন্নি, ওহাবী. . . - এতগুলা মতবাদে বিভক্ত কেনু? (Farzana Akter)
- আসমানী কিতাব আসমান থাইকা ভূমিতে পইড়াই খণ্ড খণ্ড হইয়্যা গেছে। (Masum Rahman)

৫৩. 
- আচ্ছা, ইহুদিরা মাথায় ছোট টুপি পরে কেনু? (দান্তে)
- কিপটা ইহুদিদের কাপড় বাঁচানোর ধান্দা। (Neon Seven)

৫৪. 
- য়াল্ল্যা বলেছে তার আ-কার নাই। কিন্তু অন্যান্য কারগুলিও নাই কেন তার? যেমন, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার প্রভৃতি। (Tamanna Jhumu)
- কিতা কইন! হেতের যে বি-কার রইছে হেইডা আফনের চক্ষে পরে না! (Mahmud Reza)

৫৫. 
- সূর্য যখন আল্লার আরশের নীচে সেজদায় যায় কিংবা পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যায়, তখন আম্রিকার আকাশে যেইটা থাকে, সেইটা কি সূর্যের যমজ ভাই? (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)
- আল্লা কি আম্রিকার ভিসা পাইছিলো? আম্রিকার আকাশে কী থাকে, সেইটা কেম্নে জানবে? (অনুসন্ধানী আবাহন)
#
- আল্লা আরশে বসে ঘুমায়, আর সেই ফাঁকে সুর্য ইতিউতি যায়। (Shiji Sejuti)
#
- এই সূর্য ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র। কুরানে সূর্যের কথা আগেই বলা হয়েছে। ওরা গোপনে সেটা নিয়ে রিসার্চ করে সূর্য বানিয়ে নিজেদের আকাশে স্থাপন করেছে। এরপরেও কে অস্বীকার করবে, কুরান বিজ্ঞানময়? (ইমরান ওয়াহিদ)
#
- আল্লা যে খিরিষ্টানদের জন্য আরেকটা বানাইসে, তা কোরানে বলার কূনু দরকার নাই। (Mahbubul Hasan)
#
- এনে আপ্নেরা খালি খালি য়্যাল্লা, মহাবদ আর সুর্য আরশের সহবত, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে পড়ি আছেন! তার আগে তামাম হেঁদু, ইহুদি, নাসারা আর খ্রেস্টানগো ভগবান, ঈশ্বর আর গড বেবাকডি কি বইসা ছিড়িতে ছিড়িতে সরোদ বাজাইতেছিল! হেরা কিন্তু মাগার সবার আগে কম্পু বানাইছিলো মাইন্ড ইট, তাই কন্ট্রোল+ সি কইরা কন্ট্রোল+ ভি মারতে কতক্ষন লাগে? পয়েন্টটা কিন্তু খেয়াল কইরা! (Mahmud Reza)
#
- ইসলামের ইতিহাসে আম্রিকা-টাম্রিকা কিছু নাই, আল্যাপাক আম্রিকা বানাইছে এইতো মাত্র ৩০০ বছর আগে! (Alal E Musa Shishir)
#
- আম্রিকায় যে সুর্য দেখা যায়, তাহা সুর্যেরই নিতম্ব। সুর্য যখন সেজদায় যায়, তখন সুর্যের নিতম্ব উঁচা হয়, আর তখন আম্রিকাবাসী সুর্যের নিতম্বকে দেখতে পায়। (আমি সত্যের পথে)

৫৬.
- ইসলামের আইন শরিয়া আইনে ধর্ষণ বলিয়া কিছু নাই কেন? (Tasnim Zuberia)
- কারণ ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ স্থান ও সম্মান, তাই নারীর জন্য অসম্মানজনক এই শব্দ নাজায়েজ। (Mahmud Reza)

৫৭.
- ইনসানের সাথে সাথে জ্বিনেরাও জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে। তাদের জন্য কি কোনো নবী-রাসূল পাঠানো হয়েছে? না-হলে তাদের শাস্তি কিংবা পুরস্কার দেয়ার যৌক্তিকতা কী? (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)
- মাস্টার ক্লাসে পড়ায়নি ব’লে পরীক্ষা হবে না, এটা কেমন কথা! (Aboneel Aritro)

৫৮.
- শীত কালেই কেন দেশে ওয়াজ মাহফিল বেশী দেখি আমরা? আবার কী আজিব ব্যাপার, এই একই সময়ে দেশে যাত্রা-পালা আর ভ্যারাইটি শোর নামে কী সব অশালীন নগ্ন নারী ড্যান্সারদের আয় আয় মার্কা ব্যাপারস্যাপারও বেশি চলে। কারণ কী? (Allama Soytaan)
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। (Shirin Sultana Boby)

৫৯.
- হুরের সংখ্যাটা ৭২ কেন? ৫০, ১০০ এই রকম পুর্ণ সংখ্যা হল না কেন? (Mahfuz Sazal)
- ইসলামের ৭২টা সেক্টের প্রতিটা সেক্ট থিকা একটা একটা কইরা হুরি নেয়া হইছে, যাতে কেউ মাইন্ড না খায়। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
#
- নবীজি ৭২-এর বেশি গুনতে পারতো না, তাই। (Tamanna Jhumu)
#
- ডজন হিসাবে। (মূর্খ চাষা)

৬০.
- ফরজ গোছল না করলে কী কী ব্যাঙগানিক ক্ষতি হয়? (অয়ো ময়)
- আরেক বিবি বুইজা ফালাইতে পারে যে, আফনে অন্য কোথাও কিছু ফেলেছেন! (Mahmud Reza)

আগের পর্বগুলো:

হোর কনটেস্ট, হুরী কনটেস্ট

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

মিস ওয়ার্ল্ড ইজ এ হোর কনটেস্ট; ইসলামিক মিস ওয়ার্ল্ড ইজ এ হুরী কনটেস্ট।


নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৪৩

লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৮৫:
নাস্তিকদের ছদ্মনাম ব্যাবহারে মুমিনদের আপত্তি কেন? নাম যা-ই হোক, ব্যক্তির লেখাই তো মূখ্য। ছদ্মনাম ব্যবহার করলে কি লেখার যৌক্তিকতা ক্ষুণ্ণ হয়?

দাঁতভাঙা জবাব:
নাস্তিকরা অনেক বড় বড় কথা বলে, অথচ প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দিতেই ভয় পায়। তারা নিজেদের সত্যবাদী মনে করলে আসল পরিচয়ে আসুক। আসলে নাস্তিকের আড়ালে সবাই ইসলামবিদ্বেষী হিন্দু, তাই ছদ্মনাম ব্যবহার করে।


কটূক্তি ৮৬:
প্রকাশ্যে কেউ নাস্তিকতার প্রচার করলে বা কোনো মুসলিম ইসলামত্যাগের ঘোষণা দিলে মুমিনরা কি মেনে নেবে?

দাঁত ভাঙা জবাব:
৯৭ ভাগ মুসলিমের দেশে প্রকাশ্যে নাস্তিকতার প্রচার কখনোই বরদাস্ত করা হবে না। কোনো নাস্তিক এই ঘোষণা দিলে তৌহিদি জনতা তাদের ঈমানি শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে। আর ইসলামত্যাগকারীকে অবশ্যই কতল করা হবে।

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১২৭

সংবাদ:
কার্যকর হওয়া নতুন সৌদি আইনে দেশের কোনো নারীর আকর্ষণীয় চোখ থাকলে এখন থেকে তাঁকে তা ঢেকে রাখতে হবে। অর্থাত্‍ আকর্ষণীয় চোখ থাকলেই সেই নারীদের পুরো মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখতে হবে। নতুন এই আইনের কারণ, নারীদের আকর্ষণীয় চোখ পুরুষদের বিপদে চালনা করছে, যার প্রভাব পড়ছে সমাজে।


২২ নভেম্বর, ২০১৪

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ১১৪

লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৫৬৬.
অনেক মমিনা হিজাব দিয়ে তাদের মাথা ও চুল পেঁচিয়ে বেঁধে পৃথিবী থেকে গোপন করে রাখে। নইলে নাকি পুরুষরা তাদের দেখে কামার্ত হয়ে পড়বে, রেপ করতে চাইবে বা করেও ফেলবে। 

ওরা ওদের ঠোঁট কেন লুকিয়ে রাখে না? ঠোঁট দেখলে কি পুরুষদের তাতে চুমু খেতে মন চাইবে না? পুরুষদের কি শুধু মমিনাদের চুল আর মাথা ধর্ষণ করতে ইচ্ছে হয়?

৫৬৭.
জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার। তেমনি ধর্মগ্রন্থ বোধগম্য ভাষায় না পড়লে কেউ জানবে না, ওসব বই কতোটা জঘন্য।

৫৬৮.
স্কুল জীবনে journey by boat, journey by train জাতীয় কিছু রচনা মুখস্থ করতে হতো পরীক্ষায় লেখার জন্য। পরীক্ষায় লিখতে হবে, তাই রাত জেগে বকের মত ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে মুখস্থ করতাম। তখন এই রচনাগুলির নিগূঢ় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারিনি ঈমানের দুর্বলতার কারণে। এখন দিনকে দিন আমার দ্বীনী জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে বুঝতে পারছি, মানব জীবনের কতোটা গভীরে প্রথিত নৌকাভ্রমণ ও রেলগাড়ি ভ্রমণের রচনার গুরুত্ব। মানুষের মাথায় নৌকাভ্রমণ, রেল ভ্রমণ করা ও এ সম্পর্কে রচনা লেখার বুদ্ধি এলো কোথা থেকে? আমাদের মহানবী বোরাক ভ্রমণে গিয়েছিলেন, এবং ফিরে এসে সে বিষয়ে রচনা বলেছিলেন। এবং তার ছাহাবি ও মমিনরা তা মুখস্থ করেছে। আল্লার মা হুজুরেরা সেই মুখস্থ বিদ্যার পরীক্ষা দিয়ে থাকে মাইক লাগিয়ে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার দিয়ে। বর্তমান কালের নৌকাভ্রমণ, রেলভ্রমণ ইত্যাদি প্রকারের ভ্রমণ ও এই বিষয়ে রচনা লেখা, মুখস্থ করা ও পরীক্ষা নেওয়ার আইডিয়া আসলে নবীজির বোরাক ভ্রমণ থেকে চুরি করা।

৫৬৯.
- মহাবদের মানবহিতৈষীতার কিছু উদাহরণ দাও।
- মানুষের হাত-কর্তন, চক্ষুউৎপাটন, পরের ধন-সম্পদলুণ্ঠন, নারীদের লুণ্ঠন ও অতঃপর ধর্ষণ, দাসীদের ধর্ষণ, খালাবিবাহ, শিশুবিবাহ, পুত্রবধূবিবাহ, মানুষ জবাইকরণ, বুদ্ধিজীবী হত্যা, অগ্নিসংযোগ, প্রতারণা, মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি, চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি, মানুষের মনে মিথ্যে বলে ভীতি সৃষ্টিকরণ, প্রতারণা করে ক্ষমতা দখল-করণ, সন্ত্রাসের রাজ্য সৃষ্টি-করণ ইত্যাদি।

৫৭০.
আমি এক, য়াল্ল্যাও এক। আমার কোনো শরিক নাই, য়াল্ল্যারও কোনো শরিক নাই। আমি গণিতশাস্ত্রে দুর্বল, য়াল্ল্যাও গণিতশাস্ত্রে দুর্বল।

আরে, য়াল্ল্যা হওয়ার সব গুণই দেখছি আমার মধ্যে বিদ্যমান!

যিশুর চাকরি-রহস্য


মূল ছবি এখানে

কোরানের আরও একটি ভুল

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল

মুহাম্মদ... থুক্কু, আল্লাহ কোরানে কইছে, প্রত্যেক প্রাণীই মরনশীল।

Well, প্রিয় মুহাম্মদ... থুক্কু, প্রিয় আল্লাহ, আপনারে পরিচয় করাইয়া দেই Turritopsis dohrnii অর্থাৎ the immortal jellyfish-এর সাথে।

আপনার কোরানকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে এই হারামজাদা কখনোই প্রাকৃতিক কারণে মারা যায় না। সে বাস্তবিকই অমর।

এই হারামখোর যে শিউর হারাম খায়, তার প্রমাণ হইলো - যদি কখনো কোন বাহ্যিক এক্সট্রিম প্রভাবের ফলে এর মরবে-মরবে অবস্থা হইয়া যায়, তখন সে কী করে? ট্রান্সফর্মেশান হয়ে বাচ্চা হইয়া যায়। এরপর বাচ্চা থেকে ধীরে আবার সুস্থ-সবল হিসেবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।


এদের আরেক ভাইগনা আছে টার্ডিগ্রেড, তাগোরে নাসা স্পেসে কোনো সুরক্ষা ছাড়াই বহুতদিন ছাইড়া দিছিল, যেই স্পেসে স্পেশাল সুরক্ষা ছাড়া আশরাফুল মাখলুকাতেরা দশ মিনিটেই অক্কা পায়, সেইখান থেকে এরা সুস্থ সবল বংশবিস্তার করতে করতে ফিরে আসছিলো।

চিন্তা করেন, আল্লাহর সেরা সৃষ্টি যা পারে না, তা এরা করছে আরামসে, এদেরকে বানাইছেন, প্রভু জিনক্স।

এতসব মিরাক্কেলের পরেও কি মুসলমান-হিন্দু ইত্যাদিরা আল্লাহ-ভগবানকে ভুলে প্রভু জিনক্সের উপর ঈমান আনবে না?

হা-হা-হাদিস – ১১৪

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক ১
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing

ডাউনলোড লিংক ২
http://www.nowdownload.ch/dl/da441c35c51a0

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

২১ নভেম্বর, ২০১৪

আরব জাহানের শিশ্ন ও পশ্চিমা বিশ্বের অন্তর্বাস

লিখেছেন ক্যাটম্যান

কিছুদিন আগে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের অতি ঈমানদার মুমিনগণ আমেরিকা ও ইসরাইল সহ পশ্চিমা বিশ্বের সকল পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি মুমিনেরা ওই সকল পণ্যের তালিকাও উপস্থাপন করেছিল; যে-তালিকায় বাংলাদেশী পণ্যের নামও ছিলো। মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে কোনো ইসরাইলি পণ্য বাজারজাত হয় না। কারণ বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের কোনো প্রকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি নেই। নেই কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সম্পর্ক। তারপরও বাংলাদেশী মুমিনগণ বাংলাদেশের বাজারে অজস্র পণ্যের ভীড়ে ইসরাইলি পণ্য খুজে পেয়েছিল।

পৃথিবীতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অসহযোগিতা আরোপের সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ চরিতার্থ করার নিমিত্তে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা আরোপের নীতি মধ্যযুগের আরব সমাজেও লক্ষ্য করা যায়। মুহম্মদের নবুয়ত প্রাপ্তির সপ্তম সনে মক্কার কুরায়শ নেতৃবৃন্দ পরামর্শ করে একটি চুক্তিপত্র প্রণয়ন করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী কুরায়শ ও কুরায়শের মিত্ররা মুহম্মদ ও তার পক্ষাবলম্বনকারীদের প্রতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসহযোগিতা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । এই ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে সকল মক্কাবাসীদের নিকট হতে তখন শপথ নেওয়া হয়; বিষয় তিনটি ছিল নিম্নরূপ:
১. কোনো মুসলমানের সাথে কেউ বৈবাহিক সম্পর্ক করবে না।
২. তাদের নিকট কেউ কোনো কিছু বিক্রয় করবে না।
৩. তাদের নিকট হতে কেউ কোনো কিছু ক্রয় করবে না।

উক্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তিপত্রটি লিখে কাবা মন্দিরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, মক্কার মুশরিক পৌত্তলিকগণ যে পন্থা অবলম্বন করে মুহম্মদ ও তার সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে দুর্বিষহ করে তুলতে চেয়েছিল; সেই একই পন্থা অবলম্বন করে বাংলাদেশের অতি মুমিন-মুসলমানগণ এখন পশ্চিমা বিশ্বকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছে । ওই সকল মুমিন কথায় কথায় নবী মুহম্মদের সুন্নতি তরিকা পালনের জিগির তুললেও এক্ষেত্রে তারা সুন্নত বর্জন করে নবীর শত্রু মুশরিক কুরায়শদের আদর্শ অনুসরণ করেছে।

তবে পণ্য বর্জনের ক্ষেত্রে যে-সব বিষয়ের প্রতি মুমিনগণের সচেতন দৃষ্টি কাম্য ছিল, দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, অতি মুমিনগণ সেই সব বিষয়েই সচেতন ভাবে অচেতন থাকার কৌশল গ্রহণ করেছিল। যেমন আরবের মুনাফিক বাদশাহ, যে কিনা সহিহ ইসলাম সমর্থিত খেলাফতের আদর্শকে বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে; তার মত মুনাফিক বাদশাহ ও মুনাফিকির রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম জাহানের কোনো মুসলমানকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। কারণ পৃথিবীতে এখন আর কোন মুসলিম জাহান নেই। সমস্ত মুসলিম জাহান মুনাফিক জাহানে পরিণত হয়েছে। মুনাফিক জাহান জুড়ে শুধু মুসলিম বেশধারি মুনাফিক আর মুনাফিক। তাই তারা ভুলেও তাদের মুনাফিক ভগবান সৌদি বাদশাহর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে না। 

জর্ডান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের অর্থ সহায়তা নিয়ে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় বর্বরতা চালাচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে নবীপ্রেমিক মুনাফিক মুসলমানগণ নির্বাক। তারা আজ নিজেদের মুনাফিকির লজ্জা ঢাকতে পশ্চিমা বিশ্বের স্নো-পাউডার, শ্যাম্পু, কনডমের মতো পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। অথচ সত্যিকার অর্থেই যদি কোনো মুসলিম জাহান থেকে থাকে, এই মুহূর্তে তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল মুনাফিক সৌদি বাদশাহ ও তার মুনাফিকির রাজতন্ত্র কবলিত আরবের হজ্জ্বব্রত বর্জন করা। যেমন করে নবী মুহম্মদ মুশরিক-পৌত্তলিক কবলিত মক্কার হজ্জ্বব্রত বর্জন করে মদিনায় ফিরে গিয়েছিলেন। 

আর নিঃসন্দেহে হজ্জ্ব সৌদি আরবের একটি লাভজনক পণ্য; যা প্রাক-ইসলামি কাল থেকে আরবের পৌত্তলিক সমাজ সফল ব্যবসা হিসেবে চর্চা করে আসছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে মহাসমারোহে হজ্জ্ব পণ্যের মেলা বসে; যা প্রমাণ করে হজ্জ্বসেবা একটি আধ্যাত্মিক পণ্য, যা অর্থের বিনিময়ে অর্জন করা যায়। মুমিনগণ পণ্য বর্জনের মাধ্যমে যদি অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতেই চায়, তাহলে পূর্বাহ্নেই তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত আরবের খেজুর বর্জন করা। অথচ মুনাফিক আরবদের উত্পাদিত পচা খেজুর না হলে মুনাফিক মুমিনদের পবিত্র ইফতার সম্পন্ন হয় না। মুনাফিকতন্ত্রে পরিচালিত আরব দেশসমূহের এয়ারলাইন্স বা বিমান সেবা বর্জন করা। তাদের উট, দুম্বার মাংস বর্জন করা। এমনকি তাদের খনিজ তেল বর্জন করা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে একজন মুমিনও কি রয়েছে পৃথিবীতে, যে ঈমানের দাবি প্রতিষ্ঠায় মুনাফিকতন্ত্রী আরব জাহানের পণ্য বর্জন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে?

সারা বিশ্বের কথা না-হয় বাদ দিলাম; বাংলাদেশে কত ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন, সংঘ, মসজিদ-মাদ্রাসা রয়েছে ; তারা কি কখনও ওই সকল মুনাফিকতন্ত্রী আরব বিশ্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সামান্যতম যোগ্যতা রাখে? 

নিঃসন্দেহে একমাত্র উত্তর হবে ' না '; কারণ তারা সকলেই মুনাফিকতন্ত্রী আরব জাহানের উচ্ছিষ্টভোজী কুকুর। 



মুনাফিক আরব জাহানের শিশ্নলেহন তাদের অন্যতম ঈমানি কর্তব্য। মুনাফিক আরব জাহানের দান খয়রাতের বদৌলতেই তাদের ইসলামি সংগঠন, সংঘ, মসজিদ-মাদ্রাসা চলে। তারা সাচ্চা মুনাফিক। তাদের মসজিদ-মাদ্রাসায় পয়দা হয় সাচ্চা মুনাফিক। তাই দিকে দিকে আজ শুধু মুসলিম বেশধারী মুনাফিকদের চিত্কার ও শিত্কার ধ্বনি শোনা যায়। আর মুনাফিক কখনও মুনাফিক প্রভু আরব বিশ্বের পণ্য বর্জনের হিম্মত রাখে না। তারা নিজেদের মুনাফিকীর লজ্জা ঢাকতে শুধু পশ্চিমা বিশ্বের অন্তর্বাস নিয়ে কামড়া-কামড়ি করতে ব্যাপক উৎসাহ বোধ করে।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৯৬



হুরভোগের স্বপ্নদোষ ও বর্বর মুমিনেরা

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

হুরভোগ পাইতে হইলে কী কী করিতে হইবে?

হুরভোগ পাইতে হইলে সারাক্ষণ আল্লাহ এবং তাহার প্রেরিত মহাপুরুষ (!) এর চামচামিতে মশগুল হইতে হইবে।

আল্লার নামে পশু হত্যা করিয়া মানবতা কোরবানী দিতে হইবে।

তাহার নামে জিহাদ করিয়া অন্যকে মারিতে হইবে অথবা মারা খাইতে হইবে।

আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাহার প্রেরিত পুরুষের চরিত্র নিয়ে কোনো প্রকার প্রশ্ন করা যাইবে না, আর যাহারা করিবে তাহাদের কল্লার সাথে নিজের বিবেক-বুদ্ধি কাটিয়া ফেলিতে হইবে।

এক কথায় - আল্লা-নবীর প্রেমে সর্বদা অসভ্য-বর্বর এবং ধর্মান্ধ হইয়া থাকিতে হইবে।

কিন্তু মুমিনদের কাছে উক্ত বর্বরতা কোনোই পাপ নহে। কারণ যে সকল ইতর প্রাণী নর্দমাতে জন্মিয়া নর্দমাতেই থাকিতে অভ্যস্ত, তাহাদের নিকটে দুর্গন্ধ বলিয়া কিছুই নাই।

আসলে হইয়াছে কী... মুমিনেরা ধর্মের গণ্ডিতে জন্মিয়া ধর্মের গণ্ডিতেই বড় হইয়াছে। ইহার কারণেই ধর্মের সকল বর্বরতা অসভ্যতা মুমিনদের কাছে স্বাভাবিক জীবন-যাপনই মনে হইতেছে।

ইহারা অন্যায় আর পাপ বলিতে বোঝে:

কোন মাইয়া ভার্সিটিত পড়ে?
কোন মাইয়া মুরুব্বি দেইখা মাথায় কাপড় দিলো না?
কোন মাইয়া বোরখা ছাড়া ঘরের বাইরে গেল?
কোন মাইয়া গাড়ি চালায়?
কোন মাইয়া চাকরি করে?
কোন কোন পোলা-মাইয়া হাত ধইরা হাটতেছে?
কেডা নামাজ পড়তে গেল না?
কেডা মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের ট্যাকা দিলো না?
কেডা মাথায় টুপি পরলো না?
কেডা টাকনুর নিচে প্যান্ট পরছে?
মুখে দাড়ি নিয়ে ঘোরে না কেডা? 
কেডা ধর্ম নিয়া প্রশ্ন তুললো?
...ইত্যাদি।

কিন্তু দাসীভোগ, গনিমতের মাল ভোগ, যুদ্ধবন্দী ধর্ষণ, শিশুকামিতা, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা, পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা, বেত্রাঘাত-হস্তকর্তন-কল্লাকর্তনের ন্যায় বর্বর আইন মানিয়া চলা, বিধর্মীদের বাড়ি-ঘর,উপাসনাল ভাংচুর, একাধিক বিবাহ করা - এইসব কোনো অন্যায় অসভ্যতা তো নয়ই, বরং উপরোক্ত কর্মকাণ্ড ধর্মসম্মত হালাল এবং নবীজির সুন্নত।

উক্ত কারণেই মুমিনেরা উপরোক্ত অসভ্যতাকে সভ্যতা মনে করিয়াই বড় হইয়াছে, তাই উক্ত কাজ তাহাদের জন্য পুণ্যের, এবং এই পুণ্য অর্জনের লাগিয়াই মুমিনেরা পুরো পৃথিবী জুড়িয়া সর্বদা হুরভোগের লক্ষ্যে নবীজিরে কপি কইরা বিধর্মি কোপাইয়া ফরজ কামাইয়া যাইতেছে।

বি.দ্র. আমার কল্লা কাটা ফরজ!

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৭০

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা


২০ নভেম্বর, ২০১৪

কোরান কুইজ – ৪৯

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৫৯: আল্যাফাক মানুষকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছে?

১. ধুলো
২. কাদা
৩. বীর্য
৪. রক্তপিণ্ড
৫. পানি
৬. কোনও উপকরণ ছাড়াই

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

বেদ্বীনবাণী - ২২


অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি কৌস্তুভ-এর, ধর্মকারীর নয়