২৩ জুলাই, ২০১৪

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৯৫

লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৪৭১.
ইফতারের সময় রোজাদারদের গোগ্রাসে খাওয়া ও রোজার শেষে ঈদের দিনে মমিনদের আনন্দ দেখেই প্রমাণিত হয়, দিনের বেলা কয়েকঘণ্টা উপোস করা তাদের মোটেই পছন্দের ব্যাপার নয়। শুধু ভয় ও লোভেই তারা উপোস করে, ভক্তি ভ'রে নয়।

৪৭২.
ঢাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অগণিত মসজিদ। মসজিদ আল্যার ঘর। এক আল্যার জন্য কয়টা ঘর দরকার? অসংখ্য মানুষ যেখানে গৃহহীন, সেখানে একজনের জন্য এতগুলি ঘর কেন? এদিকে পুরুষদেরকে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ছ্যাড়ছেড়িয়ে হিসু করতে দেখা যায়। এটা যেমনই দৃষ্টিকটু তেমনই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই অসংখ্য মসজিদের কিছু কিছু গৃহহীন মানুষের আবাসনের জন্য ছেড়ে দিয়ে বাকিগুলিকে পাবলিক টয়লেটে পরিণত করা উচিত মানবতা ও পরিবেশের খাতিরে।

৪৭৩.
নিজের বাবা, মা, ভাই, বোনকে কেউ হাটে-বাজারে বেচাকেনা করতে কখনো শুনেছেন আপনারা? হ্যাঁ, করছে, হরহামেশাই করছে নিজের মা-বাবা-ভাই-বোনের বেচাকেনা। গাভী হিন্দুদের মা। সেই হিসেবে ষাঁড় তাদের বাবা, এঁড়েবাছুর তাদের ভাই, বকনা বাছুর তাদের বোন। এবং হিন্দুরা তাদের মা-বাবা-ভাই-বোনের বেচাকেনা করে নিত্য, ব্যবসা করে নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে। কী অমানবিক ও অগরুবিক ব্যাপার!

৪৭৪.
মাছির উপদ্রব থেকে বাঁচানর জন্য খাদ্যকে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। মমিনারা নিজেদেরকে আপাদমস্তক বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখে কেন? তারা কি খাদ্য? মমিনরা কি মাছি?

৪৭৫.
বিষবৃক্ষের সমূলে উৎপাটনই পৃথিবীর মাটি ও পরিবেশের জন্য মঙ্গলকর। প্রতিটি ধর্মই হচ্ছে পৃথিবী ও মানুষের জন্য বিষবৃক্ষ। ডালপালা ছেঁটে দিয়ে এদের বিষ নিঃসরণ বন্ধ করা যাবে না। সুস্থ পৃথিবী ও সুস্থ পরিবেশের জন্য এদের সবগুলিকেই সমূলে উৎপাটিত করে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা অপরিহার্য।

২২ জুলাই, ২০১৪

নামাজরঙ্গ - ২৬


পুরান আল্যা বনাম নতুন আল্যা

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা

কোরান থিকা কিছু উদ্ধৃতি দেখা যাক:
মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি। 
(কোরান ৫.২০)
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। 
(কোরান ৫.২১)
মূসা তার অনুসারীদের তাদের জন্য আল্যার নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করতে বলতেছে। 
আল্যার নিজের মুখে শুনেন:
...আমি বনী ইসরাঈলীদের এই সমুদয়ের অধিকারী করেছিলাম। 
(কোরান ২৬.৫৯)
এইটার একটা তাফসীর দেখা যাক:
উদ্যানরাজি, প্রস্রবণ , ধন-ভান্ডার, সুরম্যসৌধমালা ইত্যাদির অধিকারী বনী ইসরাঈলীরা হয়েছিলো, বহু বছর মরূপ্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর পরে প্যালেস্টাইনে এসে। কিন্তু তারা আবার যখন আল্লাহ্‌র বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন তারা আবার এসব হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সম্প্রদায় [ মুসলমান ] তা অধিকার করে নেয়। কারণ তারা ছিলো প্রকৃত বিশ্বাসী।
মহাম্মদ যেহেতু আগের ইহুদি আর খ্রিষ্টানগো ধর্মগ্রন্থ থিকা কাহিনী কপি-পেস্ট করত, সেহেতু এই কাহিনী খুঁজলে হয়তো ইহুদি আর খ্রিষ্টানগো ধর্মগ্রন্থেও পাওয়া যাবে। তো কোরানেই যেহেতু দেখা যাইতেছে, তখন আপাতত সেই পুরান কাহিনীতে হাত দিলাম না। 

এখানে আল্যায় নিজেই এই ভূমি ইহুদিগো দিতেছে। ইহুদিগো আল্যায় যে বিধান দিছে, সেইটা তারা অমান্য করছে, এমন কথাও ধোপে টিকে না, কেননা যে মহাম্মদ আইসা তার নিজস্ব তথাকথিত আল্যার বিধান নাজিল করছে, ইহুদিরা তাগো নিজস্ব আল্যার বিধান অনুসারে সেই মহাম্মদের বিধান মানে না। বরং মানতে গেলেই বলা যেত যে, ইহুদিরা তাদের আল্যার বিধান অমান্য করছে। তো এখন অন্য সম্প্রদায় মানে মুসলমানরা ইহুদিদের সেই আল্যার দান করা ভূমি আবার "অধিকার" করতে যায় কী মনে কইরা?

পুরান আল্যায় কইছে এই ভূমি ইহুদিগো। আবার নতুন আল্যায় কইছে ইহুদিগো হত্যা কর। ও আল্যা, এ তুমার কেমন বিচার!

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৪৯



বাথরুম পরিষ্কার না করায় মুয়াজ্জিনকে মারধর

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

সমগ্র মুস্লিম উম্মার কাসে নবী অবমাননার বিসার সাই।

কনটেকটারের সোটো ভাই আজ আমার গলা সিবি (টিপে দেয়া) দেছে।

আসলে হইসে কি, আজান দিবার আগে দিয়া আমি গেলাম টাট্টিখানায়। সেখানে গিয়া দিখি কি, কনটেকটারের কতিফয় শ্রমদাস ময়লাক্ত হইয়া এসেসে মসজিদে। আমি তাদের মুখের দিকে তাকাইয়া তাহাদিগের পেটের অবস্তা সন্দেহ করি ফেলি। অর্থাত, আমি বুঝি ফেলি যে, এরা কিসুক্ষনের ভিতর মসজিদের ভিতর নিজেদের ফেট খালি কোইত্তে যাইতেসে।

কিন্তুক মসজিদ ত হয়েসে মুসুল্লিদের জন্য, সেখানে ত কুনো পুজিবাদি কনটেকটারের বা তার কর্মিদের ফায়খানার যায়গা হতে ফারে না।

তাই আল্লাহর মসজিদের অবমাননা ফ্রতিহত কোইত্তেই আমি টাট্টিখানার বদনাটা লুকিয়ে পেলি। এতে করি শ্রমিক অসন্তোস দিখা দেয়। এবং অসন্তোস বশত শ্রমিকদের ভিতর নেতা শ্রেনির একজন বলে, এক্কেরে দারি টানি সিড়ে ফেলব।

সোটোলুক শ্রমিকের বেয়াদফিতে আমার মনে হইল, সে ধর্মাবমাননা কারাসে। তাই তাকে "নাস্তেক" বলিয়া ধ্বাক্কা মারি মসজিদের মিম্বরের উফর ফেলি দেই।

একটু ফরে সে কন্টেক্টারের সোটো ভাইকে নিয়া আসলে আমি এই পপুজিবাদের কাসে কৈফিয়ত দেই এই বলি যে, এরা জায়গাটা ময়লা করি রাখে, তাই যাকে তাকে এটা বেবোহার কোইত্তে দেতে ফারি না।

তখন, এই সোটোমিয়া আমায় বলে, বাথরুম সাফাই করি রাখতে যুদি তাদের লুকেরা ময়লা করি রাখে।

একজন মুয়াজ্জিন হয়ে আমি কেনো পায়খানা সাফ কোইরব! তাই আমি বলি, এটা মুয়াজ্জিনের কাজ না। এ কথাটি বলার সাথে সাথেই সে আমার গালে চড় মারল, তারফর গলা চাপি ধরি ধাক্কা মারি ফেলে দেয়।

এই ঘটনায় প্রথমতঃ একজন মুয়াজ্জিনকে টাট্টিখানা সাফাই কোইত্তে বলিয়া সে নবী অবমাননা কারাসে।কারন একজন মুয়াজ্জিন ত হযরত বিল্লালের উত্তরসূরী। আর বিল্লাল ত নবিজির সাহাবি। সাহাবি অবমাননা মানে নবিজি অবমাননা।

দ্বিতিয়তঃ এই "সোটোমিয়া" একজন নিরিহ গরিব মুয়াজ্জিনের গায়ে হাত তুলিয়া সারা দুনিয়ার মজলুমের উফর আবারো নিফিড়ন সালালো।

এখন মুসলিম ভাইয়েরা তুমরাই বলো, এই নাস্তেক "সোটো পুঁজিবাদ"-এর কী শাস্তি হওয়া উসিত?

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৭৭



আমার 'আমার অবিশ্বাস' পাঠ - ০৮

হুমায়ুন আজদের 'আমার অবিশ্বাস' নামের বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম বেশ আগে। ধর্মকারী তখন স্থগিতাবস্থায়। কিন্তু কিছুদূর পড়ার পরে লক্ষ্য করলাম, বইটিতে উদ্ধৃতিযোগ্য ছত্রের ছড়াছড়ি। পড়া তখনই থামিয়ে দিয়ে স্থির করলাম, ধর্মকারী আবার সচল হলে ধর্মকারীর পাঠকদের (অনেকেরই বইটা পড়া আছে, জানি, তবুও...) সঙ্গে টাটকা পাঠমুগ্ধতা ভাগাভাগি করবো। তাই পড়তে শুরু করলাম আবার। বিসমিল্যা।

৩৪.
বিশ্বাসীরা ভীত আর লোভী মানুষ; অন্ধকারে থাকতেই তাদের আনন্দ।

৩৫.
তাঁরা (আমাদের পূর্বপুরুষেরা) মহাজাগতিক সত্য বের করেন নি, বের করার চেষ্টা করেন নি, বরং বিচিত্র রকম দেবদেবী কল্পনা ক'রে সেগুলোকেই সত্য বলে প্রচার করেছেন; এবং চাপিয়ে দিয়ে গেছেন আমাদের ওপর।

৩৬.
তারা (আগেকার যুগের মানুষেরা) কল্পনা করে যে দেবতাদের তুষ্ট করার দরকার; তখন দেখা দেয় পুরোহিত, দৈববাণী, মন্দির, পুজো ইত্যাদির আধিপত্য ও ব্যবসাবাণিজ্য। দিকে দিকে দেবতা তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়; তারা মহাজগতের রহস্যকে পরিণত করে শক্তি ও সম্পদের সহজ আকর্ষণীয় উৎসে। আজো সেই ধারা চলছে।

৩৭.
কয়েক হাজার বছর ধ'রে মানুষ উৎপীড়িত হয়ে আসছে নানা নামের কল্পিত অতিমানবিক সত্তাদের দ্বারা। এই পীড়নে অবশ্য ভূমিকা নেই কল্পিত সত্তাদের; তারা কাউকে পীড়ন করে না, তারা জানেও না যে তারা আছে, সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের; কিন্তু তাদের নামে সুবিধাভোগী একদল মানুষ পীড়ন করে অন্য মানুষদের। 

৩৮.
কয়েক শো বছরের মধ্যেই সমাজপ্রভুরা ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে; কেননা তারা দেখতে পায় কুসংস্কারে তাদের লাভ অনেক, বিজ্ঞানে ক্ষতি প্রচুর।

২১ জুলাই, ২০১৪

ধর্মীয় নির্বুদ্ধিতা-বিধ্বংসী বিজ্ঞান


শেষ বিচার বিভ্রাট

লিখেছেন কিশোর লেখক জগৎপ্রেমিক

Afterlife বা পরকালে ঈশ্বর আমাদের পার্থিব সকল কাজের বিচার করবেন। ভালো ও খারাপ কাজের সাপেক্ষে ফলাফল দেওয়া হবে।

যার ভালো কাজ বা পুণ্য কাজ বেশি, সে পুরস্কৃত হবে।
যার খারাপ কাজ বা পাপ কাজ বেশি, সে তিরস্কৃত হবে।

অর্থাৎ বিচারভিত্তি হল কাজ ভালো না খারাপ এবং তার পরিমাণ।

কিন্তু ভালো খারাপ তো আপেক্ষিক বিষয়।

যেমন, রেল লাইনের পাশের জমিটা অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট দিলাম। এখন এটা খারাপ না ভালো? পাপ না পুণ্য?

অবশ্যই খারাপ। এটা তো অবৈধ। 

আবার ভিন্নভাবে দেখলে - এতে বিশেষ কারো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং আমি তো বটেই, আমার কর্মচারীরাও আয় করার সুযোগ পাচ্ছে, ক্রেতারা হাতের কাছে পাচ্ছে দোকান। কারো ক্ষতি হচ্ছে না। উল্টো লাভ হচ্ছে।

কাজেই এটা ধর্মীয় পরিভাষায় পুণ্য।

আবার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা, অনুশাসন ভঙ্গ করা, রেলযাত্রীদের ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবার কথা চিন্তা করলে সেটা পাপ কাজও বলা যেতে পারে।

কাজেই এটা পাপ না পুণ্য, সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। আমার সাপেক্ষে পুণ্য, কিন্তু রেলবোর্ডের সাপেক্ষে পাপ। ঈশ্বর নিশ্চয়ই নিরপেক্ষ। কাজেই তার বিচার স্তব্ধ হয়ে যাবে।

এ রকম প্রায় সকল কাজেরই ভালো এবং খারাপ উভয় দিকই আছে। নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যায়।

অপরদিকে পরিমাণ।

হে পরম বিচারক, মহানন গণক, খুন এবংং ধর্ষণের তফাৎ কত?
ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান আর ক্ষুধার্তের জন্য জীবনদান? কোনটা অধিকতর পুণ্য?
এক মুঠো ভাতে বেশি পুণ্য নাকি এক গ্লাস জলে?
মরণ পথযাত্রীকে বাঁচানো উত্তম, নাকি খুনি বলে তাকে মরতে দেওয়াই উত্তম?

ঈশ্বর বিচারক নন। শেষ বিচার বলে কিছু নেই। জান্নাতি জাহান্নামি বৈষম্য অলীক।

ঈশ্বর তার সৃষ্টিকে শাস্তি দেবেন না, পুরস্কারও দেবেন না। কারণ তিনি নিরপেক্ষ, সর্বসাপেক্ষ।

কুরান, গীতা, বেদ, বাইবেলে সব চাপা।

হা-হা-হাদিস – ৯৩

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক (লিংকের পাতায় গিয়ে ওপরে বামদিকে নিম্নমুখী তীরচিহ্নে ক্লিক করে ফাইলটি ডাউনলোড করুন)
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ২১

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

৬১.
কেউ আমাকে ধর্মবিদ্বেষী বলে অভিযুক্ত করলে আমি সেটা প্রত্যাখান করি না। কারণ ধর্মবিদ্বেষ অপরাধ নয়। মানববিদ্বেষ অপরাধ। পৃথিবীর সব ধর্মই মানববিদ্বেষে পূর্ণ। মানববিদ্বেষী ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা পবিত্র দায়িত্ব মনে করি।

৬২.
১৪০০ বছর ধরে এক মাস সারাদিন না খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা অনুভবের হাস্যকর প্রচেষ্টার চেয়ে ক্ষুধা নির্মূলের চেষ্টা করাই যৌক্তিক।

৬৩.
মুমিনরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই আল্লাকে বিশ্বাস করতে পারে, অথচ নাস্তিকরা আগে মুসলিম ছিলো - এটা বিশ্বাস করে না কেন, কেন প্রমাণ চায়?

কোনো কিছু শুনে বিশ্বাস না করে প্রমাণ চাওয়া কি তাদের ধর্মীয় দর্শনের বিপরীত না?

চিত্রপঞ্চক - ৭৮

এর পর তোমরা তাহার কোন নেয়ামত-কে অস্বীকার করিবে?

ক্রুশবিদ্ধ বিয়ারবিদ্ধ নাস্তেক

গুরুর কাঁধে শিষ্য

ইয়া মাবুদ, এই অস্ত্র দিয়া কাফেরহত্যার তৌফিক দান করো

কোনও সন্দেহ আছে?

মুহাম্মদ সুরত - ০৪

মূল: আলী সিনা-র Understanding Muhammad নামের বই থেকে একটি অধ্যায়
অনুবাদ: Elijah Neo

এক্রোমিগেলি রোগে উচ্চ রক্তচাপ ও দুর্বল রক্ত চলাচল হইয়া থাকে। ফলতঃ হাত-পা ঠাণ্ডা হইয়া থাকে।
আবু জুহাইফা বলিয়াছেন, “আমি তার একটি হাত নিয়ে আমার মাথায় রাখি। আমি দেখলাম যে, এটি বরফের চেয়েও ঠাণ্ডা এবং কস্তুরী চেয়েও সুগন্ধময়।”
(বোখারী শরীফ ৪:৫৬:৭৫৩)
হাইকল আরো বলিয়াছেন, “জাবির বিন সামুরা – ও তখন ছোট ছিল – বলেছে, ‘সে (মুহাম্মদ) যখন আমার গাল ধরে টানল, আমি অনুভব করলাম হাতটি খুব ঠান্ডা ছিল এবং এমন সুগন্ধি ছড়াচ্ছিল যেন সুগন্ধি দোকান থেকে মাত্র আনা হয়েছে।
(সহীহ মুসলিম ২:২৫৬)
এক্রোমিগেলি রোগে আক্রান্ত কোনো কোনো ব্যক্তির মেরুদণ্ডের হাড় পাশে বা লম্বালম্বি অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো হইয়া থাকে (kyphoscoliosis)। এই কারণেই হয়ত মুহাম্মদ হাঁটিবার সময় সম্মুখে ঝুঁকিয়া হাটিতেন। উপরন্তু, মস্তিষ্কমধ্যে অবস্হিত পিটুইটারী গ্রন্হি অত্যধিক বড় হইবার কারণে মাথাব্যথা, অবসন্নতা, অস্বাভাবিকতা এবং হরমোনের অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হইতে পারে।

মুহাম্মদের শরীর মোটা, পেশীবহুল ছিল, তার পেট ও বুক ছিল সমান সমান। এক্রোমিগেলি রোগীদের বুক এমন পেটা হইয়া থাকে। উপরন্তু এই রোগের কারণে মেরুদণ্ড বাঁকাইয়া যাইতে পারে, ফলে পিঠে উঁচু কুঁজ দেখা দিতে পারে। এই কারণেই মুহাম্মদের পিঠ উঁচু ছিল।

এক্রেমিগেলি রোগীদের প্রায়শই শ্বাসকষ্ট হইয়া থাকে। তাহাদিগকে লম্বা শ্বাস গ্রহণ করিতে হয়।

ইবন সা’দ একটি হাদিসে আনাস হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, 
আল্লাহর পয়গম্বর কোন কিছু পান করতে গেলে তিনবার দম নিতেন, এবং বলতেন, এটা বেশ ভাল, সহজতর আর মজাদার।
ইহা মূলত মুহাম্মদের নাতিদীর্ঘ শ্বাস-সমস্যা চিহ্নিত করে, যাহাতে বোঝা যায়, তাহার ঐ রোগ ছিল।

(চলিবে)

২০ জুলাই, ২০১৪

শান্তিবাজ মুছলিমেরা



ইছলামী হালাল শঠতা

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

আল্লাহ এবং তার বান্দারা যখন কোনো দেশে সংখ্যালঘু থাকে:
তোমার ধর্ম তোমার কাছে আমার ধর্ম আমার কাছে।
(কোরান ১০৯:৬)
যখন আল্লাহ এবং তার বান্দারা কোনো দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ:
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদেরজন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুত: আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।
(কোরান ২:২১৬)
আল্লাহ্র পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ,নি:সন্দেহে আল্লাহ্ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন।
(কোরান ২:২৪৪)
অতএব যারা কাফের হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
(কোরান ৩:৫৬)
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথেঅংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
(কোরান ৩:১৫১)
কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করেদেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুত: যারা আল্লাহ্র রাহে লড়াই করে এবং অত:পর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুর্ণ্য দান করব।
(কোরান ৪:৭৪)
যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের,সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্খির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।
(কোরান ৮:১২)
হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।
(কোরান ৮:১৫)
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণনা ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহ্র সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।
(কোরান ৮:৩৯)
সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।
(কোরান ৮:৫৭)
আর কাফেররা যেন একা যা মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনও এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না।
(কোরান ৮:৫৯)
এবং অনুরূপ আরও সংখ্য আয়াত। সংক্ষেপে:


এক জোড়া পোস্টার



কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৪৩): বদর যুদ্ধ-১৪ (শেষ পর্ব): ইসলামী প্রোপাগান্ডার স্বরূপ, ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ষোল

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মদিনায় এসে কুরাইশদের ওপর যে সকল আক্রমণাত্মক অনৈতিক সহিংস বর্বর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন, তার বৈধতার প্রয়োজনে তিনি তাঁর রচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরানের মদিনা পর্বে বারংবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, মক্কায় অবস্থানকালে “কুরাইশরা তাঁদের প্রতি অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে, তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের অন্যায়ভাবে তাঁদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করেছে এবং তাঁকে বন্দী অথবা হত্যার পরিকল্পনা করেছে”।

গত ১৪০০ বছর যাবত পৃথিবীর প্রায় সকল মুহাম্মদ বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা মুহাম্মদের সাথে সুর মিলিয়ে বিভিন্ন কল্পকাহিনীর মাধ্যমে মুহাম্মদের এই দাবীর প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। ইসলামের প্রাথমিক সংজ্ঞা অনুযায়ী - এটা তাঁদের একান্ত বাধ্যতামূলক দায়িত্ব (বিস্তারিত দশম পর্বে); এই প্রচারণায় তাঁরা এতটাই সফল যে, শুধু ইসলাম-বিশ্বাসীরাই নয়, তাঁদের সাথে একাত্ম হয়ে জগতের বহু অমুসলিম পণ্ডিত ও জনসাধারণ তাঁদের মতই একই ধারণা পোষণ করেন।

কিন্তু ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকেদেরই বর্ণনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদের এই দাবির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। এ বিষয়ের প্রাসঙ্গিক আলোচনা গত দু'টি পর্বে করা হয়েছে; বিস্তারিত আলোচনা 'আইয়্যামে জাহিলিয়াত ও হিজরত তত্ত্বে' করা হবে।

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরও দাবী করেছেন যে, "কুরাইশরা তাঁদেরকে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেছে।" কুরান, সিরাত ও হাদিসের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় যে সত্যটি স্পষ্ট, তা হলো: মুসলমানদের প্রতি অকথ্য অত্যাচার ও তাড়িয়ে দেয়ার কিচ্ছার মতই মুহাম্মদের এই দাবিরও কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

“কুরাইশরা তাঁদের কে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেছে!”

মুহাম্মদ বিন ইশাক ও আল-তাবারীর বিশালায়তন গবেষণালব্ধ মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থের পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি যে, মদিনায় এসে কুরাইশদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের যাবতীয় অনৈতিক আগ্রাসী সন্ত্রাসী আক্রমণ, লুণ্ঠন, হত্যা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও  "দুটি মাত্র ব্যতিক্রম" ছাড়া কোনো কুরাইশই কোনো মুহাম্মদ অনুসারীকে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেননি। এই দু'টি ঘটনার "মাত্র একটি” ছিল সমষ্টিগত, যেখানে সকল কুরাইশ গোত্র জড়িত ছিলেন। অন্যটি ছিল একান্ত ব্যক্তিগত।

এই দু'টি ঘটনা ছাড়া মুহাম্মদ অনুসারীরা সকল সময়ই কোনোরূপ বিধিনিষেধ ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মদিনা থেকে মক্কায় তীর্থ যাত্রা করেছেন এবং মসজিদে হারাম পরিদর্শন ও আনুষঙ্গিক সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন শেষে নিরাপদে আবার মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছেন।

আর, এই দুটি ঘটনাই ঘটেছিল মুহাম্মদের “মদিনায় হিজরতের পর”! মক্কায় অবস্থানকালে নয়। আর তা সংঘটিত হয়েছিল মুহাম্মদের আগ্রাসী আক্রমণাত্মক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কুরাইশদের পাল্টা প্রতিরোধের অংশ হিসাবে।

ঘটনা দুটি হলো:

১) বদর যুদ্ধের পর আবু সুফিয়ান কর্তৃক সা'দ বিন আল নুমান কে মক্কায় ধরে রাখা

মুহাম্মদ যখন আবু সুফিয়ানের এক ছেলে হানজালা বিন আবু সুফিয়ানকে খুন ও আরেক ছেলে আমর বিন আবু সুফিয়ানকে বন্দী করে মদিনায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেন, তখন স্বজনহারা বিক্ষুব্ধ পিতা আবু সুফিয়ান মুহাম্মদ অনুসারী সা'দ বিন আল নুমানকে মক্কায় বন্দী করে তাঁর ছেলে আমরকে ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনাটি "ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের" প্রতিরক্ষা চেষ্টা; নিজ ছেলেকে মুহাম্মদের কবল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা। [বিস্তারিত পর্ব - ৩৭]।

২) হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির (মার্চ, ৬২৮ সাল) প্রাক্কালে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান

শুধু ঐ সময়টিতেই কুরাইশরা সংঘবদ্ধভাবে মুসলমানদের মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেন। আর এই ঘটনাটি ঘটেছিল মুহাম্মদের মদিনা হিজরতের ৬ বছর পরে, মক্কায় অবস্থানকালে নয় [বিস্তারিত হুদাইবিয়া সন্ধি পর্বে]। এই একটি মাত্র ঘটনা ছাড়া কুরাইশরা সংঘবদ্ধভাবে কখনোই মুহাম্মদ কিংবা তাঁর কোনো অনুসারীকে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেননি। [1] 

>>> পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের সাধারণ ধর্মাম্বলীরা ইসলামের মত এত বেশি সময়সাপেক্ষ অত্যাবশ্যকীয় ধর্মীয় অনুশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট নয়। একজন মানুষের দেহ-মন সুস্থির রাখার জন্য প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। আরও কমপক্ষে দুই ঘণ্টা দরকার জীবনের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কাজ [Activities of Daily Living (ADL)] যেমন: প্রাতঃক্রিয়াদি, রান্না, খাওয়া, গোসল, শরীর-স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের পরিচর্যা, সামাজিকতা - ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজে। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা সময় ব্যবহার করার সুযোগ পান জীবনের অন্যান্য ব্যবহারিক কাজে। [2]

একজন নিবেদিত প্রাণ সাধারণ মুসলমান প্রতিদিন তাঁর অত্যাবশ্যকীয় কাজের (ADL) পর জীবনের অন্যান্য ব্যবহারিক কাজে ব্যবহৃত ১৬ ঘণ্টা লভ্য সময়ের ২-৩ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন “শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই”; এ ছাড়াও আছে অত্যাবশ্যকীয় ধর্মীয় আরও অন্যান্য অনুশাসন।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিন প্রত্যুষে ঘুম থেকে ওঠার সময় থেকে (ফজর নামাজ) শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাবার পূর্ব পর্যন্ত (এশার নামাজ) এই ১৬-১৮ ঘণ্টা সচেতন সময়ে কমপক্ষে পাঁচ বার (গড়ে প্রতি সাড়ে তিন ঘণ্টায় একবার) পৃথিবীর প্রত্যেকটি ইসলাম বিশ্বাসীর মস্তিষ্কে মুহাম্মদের গুণকীর্তন ও আদেশ-নিষেধের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় উচ্চকণ্ঠ আজানের মাধ্যমে, পরিবার সদস্যদের মাধ্যমে ও পরিপার্শ্বের অন্যান্য মুসলমানদের মাধ্যমে।

ইসলাম ধর্মের এক বিশেষ বিশেষত্ব এই যে, এই ধর্মের অনুশাসন পালনকারী সকল অনুসারীই প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ‘ইসলাম প্রচারকের ভূমিকা’ পালন করেন।

ইসলামের অনুশাসন পালনকারী একান্ত পরিবার সদস্য, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে গ্রামের নিরক্ষর কৃষক- শ্রমিক-মজুর ও বাসার গৃহ পরিচারিকা পর্যন্ত সকলেই প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে "ইসলাম প্রচারকের ভূমিকা" পালন করেন। ইসলামের অনুশাসন পালনে গাফেল কোন ব্যক্তিকে দ্বীনের রাস্তায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টাকে এই ইসলাম অনুশাসন পালনকারীরা (Practicing Muslims) মহৎ কর্ম, বিশেষ সওয়াবের অংশ ও ইমানী দায়িত্ব বলে বিশ্বাস করেন।

এ সকল সাধারণ ইসলাম বিশ্বাসীর কাছ থেকে কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত এর আহ্বান বিশ্বের প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী অত্যন্ত শিশুকাল থেকেই নিত্যই শুনে থাকেন। চারিপাশের এ সকল লোকের কাছ থেকে নামাজ-রোজার আহ্বান শোনেননি, এমন একটিও বে-নামাজি ও বে-রোজদার মুসলমান জগতে আছেন বলে কল্পনাও করা যায় না।

“এক ওয়াক্ত নামাজ ক্বাযা হলে কত গুনাহ হয়; দোজখের আগুন ও বেহেশতের আরাম আয়েশের বর্ণনা; দ্বীনের পথে 'আমাদের নবী' কত কষ্ট করছেন; কাফেরেরা আমাদের পাক নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর কত নির্যাতন করেছেন কিন্তু আমাদের দয়াল নবী তাঁদের প্রতি কখনো কোন অন্যায় তো করেনইনি, উল্টো সেই নির্যাতনকারীর অসুস্থতার সময় নবী তার সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তুলেছেন (তারপর বয়ান): ‘এক বুড়ি নবীর চলার পথে কাঁটা দিতো, একদিন পথে কাঁটা না দেখে দয়াল নবী বুড়ির খোঁজ করতে গিয়ে যখন জানলেন যে বুড়িটি অসুস্থ তখন তিনি বুড়িটির সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তুললেন, নবীর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে বুড়ি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মুসলমান হলেন’”— ইত্যাদি উপাখ্যান যেখানে যেমন প্রয়োজন, সেখানে সেইভাবে প্রচার করে এই ইসলাম বিশ্বাসীরা ইসলামের অনুশাসন বিচ্যুত মুসলমানদের ইসলামের পথে আনার চেষ্টা করেন।

এ ছাড়াও আছে প্রতিদিন পাঁচবার মুয়াজ্জিনের উচ্চকণ্ঠ আজান ও মসজিদের ইমাম সাহেবের বক্তৃতা; ওয়াজ-মাহফিলের বয়ান; প্রতিটি টিভি চ্যানেলে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সময় নিয়ে ইসলামী অনুষ্ঠান-বক্তৃতা-বিবৃতি; দৈনিক খবরের কাগজে ধর্মীয় কলাম; ইন্টারনেটের বিভিন্ন ইসলামী ব্লগ - ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমে মুহাম্মদের গুণকীর্তন ও ইসলামের আদর্শের জয়গান।

তার ওপর আছে প্রতি ছয় দিন পর পর এক বিশেষ দিন! প্রতি শুক্রবারে জুমার বিশেষ নামাজ-বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে পৃথিবীর প্রত্যেকটি ইসলাম বিশ্বাসীর মস্তিষ্কে মুহাম্মদ ও তাঁর প্রচারিত মতবাদের গুণকীর্তন।

আরও আছে প্রতি এগার মাস পর পর একাধারে দীর্ঘ এক মাস ব্যাপী 'রমজান'-এর বিশেষ ইসলামী অনুশীলন। যে মাসে দিবারাত্র বিভিন্ন উপায়ে ইসলামের পথে আহ্বানের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রত্যেকটি ইসলাম বিশ্বাসীর মস্তিষ্কে মুহাম্মদের গুণকীর্তন ও আদেশ নিষেধের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

ফলশ্রুতিতে, পৃথিবীর প্রায় সকল ইসলাম বিশ্বাসীর চেতন-অবচেতন মস্তিষ্কের সবটা জুড়েই বাসা বাঁধে বেহেস্তের প্রলোভন ও দোযখের অসীম শাস্তির ভয় এবং কবর আযাবের বিভীষিকাময় চিত্র! তাঁদের ধ্যান-মন-প্রাণের সবটা জুড়েই থাকে মুহাম্মদের বাণী (কুরান-হাদিসের) ও অনুশাসন চিন্তা। ফলাফল, তাঁদের মগজধোলাই অন্যান্য ধর্মের মানুষের তুলনায় হয় অধিকতর নিশ্চিত, তীব্রতর ও সুদূরপ্রসারী! তিনি মুক্ত মানুষ থেকে পরিণত হন দাসে! পরম তৃপ্তিতে! একান্ত আজ্ঞাবহ মুহাম্মদের দাস! আবদ-মুহাম্মদ (পর্ব-১৫)!

এমত পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে একজন ইসলাম বিশ্বাসীর পক্ষে প্রচলিত ধারনার বিপরীত কোনো তথ্য-উপাত্ত ও ইতিহাস নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার অবকাশ কোথায়?

এই একান্ত আজ্ঞাবহ মুহাম্মদের দাস আবদ-মুহাম্মদদের “সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা” যে কত শক্তিশালী ও সফল, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ইসলামের হাজারো অতিকথাকে (Myth) সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করা। যার সাক্ষ্য, আজকের পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ইসলাম বিশ্বাসী ও বহু অমুসলিম সাধারণ জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, মক্কায় কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী নব্য ধর্মান্তরিত মুসলমানদের ওপর যথেচ্ছ অমানুষিক নিপীড়ন ও নির্যাতন করতেন। তাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, কুরাইশদের এই অমানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মুহাম্মদের নির্দেশে মুসলমানেরা প্রথমে আবিসিনিয়ায় ও পরে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যুহুমকির বশবর্তী হয়েই রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি মদিনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের এই বিশ্বাসের আদি উৎস হলো "মুহাম্মদ"!

গত পনেরটি পর্বের পর্যালোচনায় সংক্ষিপ্তসার:

দুষ্টু যাজিকারা - ১৪



১৭ জুলাই, ২০১৪

'বেরোজদার হয়রানি' নামের ইছলামী ইতরামির বিরুদ্ধে

অধিকাংশ মুছলিম আশা করে, তারা যখন রোজা রাখবে, তখন এ নিয়ে তটস্থ থাকতে হবে বাকিদেরকে - অর্থাৎ যারা রোজা পালন করতেসে না। ক্যান রে, বাপু? তুমি সংযম পালন করবা, করো, আমি তাতে বাধা দিতে যামু না। কিন্তু আমার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে তোমার সমস্যা ক্যান? আমারে আমার সুবিধামতোন আরাম কইরা খাইতে দিবা না? এইটাই তোমার ইছলামের শিক্ষা? আমারে খাইতে দেখলে তোমার সংযম তো আরও পোক্ত হওয়ার কথা এবং ছওয়াবও বেশি উপার্জন করতে পারবা, তাই না? 

তুমি বড়োজোর অনুরোধ করতে পারো, তোমার সামনে যেন না খাই। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে, আইন পাশ করে, শাস্তি বা জরিমানার ভয় দেখায়ে (অনেক মুসলিম দেশেই এসব চলে) শ্রদ্ধা আদায় করা যায়? এইটা কি এক ধরনের ইতরামি না?

তো এখন এই ইতরামির বিরুদ্ধে মুছলিম দেশগুলাতেই প্রতিবাদ শুরু হইসে। 

১.
রমজান মাসে কেউ প্রকাশ্যে খাইদাই করলে তার ছবি তুইলা লজ্জা দেওয়ার হুমকি দিসে এক তিউনিসিয়ান মোল্লা। সে এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও আরজি পেশ করসে রমজানের 'পবিত্রতা' ভঙ্গকারীদের জন্যে শাস্তির ব্যবস্থা করার। তার মতে, রমজানে প্রকাশ্যে খাইদাই তো বটেই, এ ছাড়া সমুদ্রসৈকতে গিয়া আমোদ-ফূর্তি করাও হারাম। 

এর পরে তিউনিসিয়ার পোলাপান ফেইসবুকে একটা পেইজ খুলসে 'রমজানে তোলা খাওয়ার ছবি' নাম দিয়া। সেখানে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানকারী তিউনিসিয়ানরা তাদের খাওয়া-দাওয়া, মদ্য- ও ধূমপান এবং সমুদ্রসৈকতে তোলা হারাম ছবি প্রকাশ করতেসে। হেব্বি মজা পাইলাম।

https://www.facebook.com/pages/Photos-prises-durant-Ramadan-chmeta-fi-Adel-Almi/295136230632655?id=295136230632655&sk=photos_stream

২. 
এই বছর মরক্কোর পোলাপান খুলসে এক ফেসবুক পেজ। নাম দিসে - আমরা রোজা রাখি না। এই পেজেও ব্যাপক খাওনদাওনের ছবি:

https://www.facebook.com/MASAYMINCH/photos_stream

৩. 
আলজেরিয়ায় বেরোজদারদের ওপর হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে প্রায় শ'তিনেক মানুষ লাঞ্চ করসে প্রকাশ্য দিবালোকে!

কী আর কমু! Get a life, Muslims!

ডিসক্লেইমার:

ওপরের স-লিংক লেখাটি গত বছর রমজানে প্রকাশ করেছিলাম ফেসবুকে। এটার কথা মনে পড়লো আরিফুর রহমানের শেয়ার করা একটা ভিডিও দেখে।

আগামী ২০ জুলাই দুপুর একটায় লন্ডনের হাইড পার্কে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য: রোজা রাখতে অনিচ্ছুক ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপরে রমজান মাসে চাপিয়ে দেয়া ইছলামী কানুনকে কাঁচকলা দেখানো। যাঁরা পিকনিকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদেরকেও অনুরোধ করা হয়েছে রোজা চলাকালে প্রকাশ্যে খাদ্যগ্রহণের (পানীয়গ্রহণেরও নিশ্চয়ই) ছবি ও ভিডিও পাঠাতে। 

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/SrkXmUYaLIU

ছহীহ বেশ্যাহেস্ত গমন তরিকা


নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ২৯

লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৫৭:
একজন বিজ্ঞানীর কর্মের সাথে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তবু কেন মুসলিম বিজ্ঞানী বলা হয়? তাদের গবেষণার সাথে ব্যক্তিগত ধর্মের সম্পর্ক কী?

দাঁতভাঙা জবাব:
মুসলিম মানে ইসলামের অনুসারী। সব সময়ই অভিযোগ করা হয়, ইসলাম নাকি জ্ঞানবিমুখ করে রাখে মানুষকে। এই অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। ইসলাম মানুষকে জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী করে, তার প্রমাণ মুসলিম বিজ্ঞানীগণ।


কটূক্তি ৫৮:
আইনস্টাইন, নিউটন, হকিং-দেরকে কি তাহলে ইহুদী বা খ্রিষ্টান বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হবে?

দাঁতভাঙা জবাব:
একজন বিজ্ঞানীর কর্মের সাথে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন তো নয়, তারা ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে কিছু আবিষ্কার করেছে। তাহলে শুধু শুধু কেন তাদের ইহুদী বা খ্রিষ্টান বিজ্ঞানী বলা হবে?


[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

বেদ্বীনবাণী - ১৪



বিবর্তনতত্ত্ব: আর কতো প্রমাণ চাই

লিখেছেন অর্ণব খান

অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অভিযোগ করে যে, বিবর্তনতত্ত্ব প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিবর্তন পরীক্ষাগারে প্রমাণ করা যায়। কীভাবে? বিবর্তন হওয়ার জন্য চারটি ঘটনা ঘটতে হয়, যা পরীক্ষাগারেও করা যায় এবং একই ফলাফল পাওয়া যায়।

১. প্রাকৃতিকভাবে জিন মিউটেশন হতে হবে।

প্রমাণ: প্রাকৃতিকভাবে জিন মিউটেশন হয়, এটা যে কেউ পরীক্ষাগারে হাজার বার প্রমাণ করতে পারে। ছয় আঙুল বিশিষ্ট শিশুর জন্ম প্রাকৃতিক মিউটেশনের উদাহরণ। এ ধরনের শিশুর জিন প্রোফাইল চেক করলেই বলে দেয়া যায়, ঠিক কোন জায়গায় মিউটেশন হয়েছে।

২. মিউটেশনের ফলে প্রাণীদেহে দৈহিক পরিবর্তন হতে হবে।

প্রমাণ: পরীক্ষাগারে মিউটেশন করে দৈহিক পরিবর্তনের হাজার হাজার উদাহরণ বিদ্যমান। যেমন নিচের ছবিতে (A) মিউটেশন করে ফড়িং এর একজোড়া পাখনা বেশি পাওয়া গিয়েছে।

৩. এক জাতীয় প্রাণীদেহে মিউটেশনের ফলে ভিন্ন জাতীয় প্রাণীর অঙ্গ উদ্ভূত হতে হবে।

প্রমাণ: পরীক্ষাগারে মিউটেশন করে অসংখ্য ট্রান্সজেনিক প্রাণী তৈরি করা হয়েছে। যেমন, নিচের ছবিতে (B) ইঁদুরের জিনে মিউটেশন করে মানুষের কানের জিন দেয়ার পর দেখা যায় ইদুঁরের পিঠে মানুষের কান গজায়। এছাড়া প্রাকৃতিক মিউটেশনের কারণে নিচের ছবির (C) মত সাপের দেহে পাখির মত পা গজাতে পারে।

৪. অনেকগুলো মিউটেশনের সামগ্রিক কারণে এক প্রজাতির প্রাণী থেকে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী জন্মাতে হবে।

প্রমাণ: পরীক্ষাগারে জিনসেট পরিবর্তন করে এক প্রজাতির প্রাণীর গর্ভে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর ভ্রূণ সৃষ্টি করা গিয়েছে। জিনের নির্দেশনাতেই জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হয়, কোনো প্রাণীতে অর্ধেক কুকুর আর অর্ধেক সিংহের জিন থাকলে সে প্রাণীটি দেখতে কেমন হয়, তার সত্যিকারের ছবি (D) দেখলেই ব্যাপারটাতে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না।


বিবর্তনতত্ত্ব একটি প্রমাণিত সত্য। ধার্মিকেরা শুধু তাদের ধর্ম বাঁচাতে এই সত্য অস্বীকার করে।

১৬ জুলাই, ২০১৪

সর্বজ্ঞ আল্যাও যখন অনিশ্চিত

আল্যাফাক সর্বজ্ঞ, তবু সে তার নিজের জ্ঞানের ওপরে আস্থাশীল নয়। নিশ্চিত নয় সে অনেক বিষয়েই - অন্তত কোরানের বেশ কিছু বাণী সে-কথা প্রমাণ করছে।

পাঠিয়েছেন Norom Tola



আবু জাহেলীয় তালিম সমগ্র - ১২


৬৬.
কুরআনে খালি বিগ্যান আর বিগ্যান। দুনিয়ার সব কিছু আবিষ্কার হইছে কুরআন পড়ে!
যেমন মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার, ফ্রিজ, রেডিও, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, কনডম, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, টিকা ইত্যাদি সব কিছুই কুরআন থেকে বিগ্যানীরা আবিষ্কার করেছেন!! কুরআন ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাই করা যায় না! 
এরপরেও নাস্তিকরা এই কুরআনের ভুল ধরতে যায়! কী পরিমাণ অকৃতজ্ঞ তারা! 

৬৭.
ছহীহ্ মুমিনস্ যুক্তি!
"কুরআনে আকাশ বলতে কখনো বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর, কখনো গ্যালাক্সিসমূহকে আবার কখনো প্যারালাল মহাবিশ্বকে ইঙ্গিত করা হয়েছে" 
- তারমানে আকাশ হইলো All in one একখান জিনিস! আকাশ কখনো বাতাস, কখনো গ্রহ-নক্ষত্র আবার কখনো মহাবিশ্ব। বুঝা গেল, মুমিনস্ কখনো ছাগল, কখনো পাগল, আবার কখনো মাতাল। তবে কখনোই বুদ্ধিমান মানুষ না!

৬৮.
মুছলিমগণ এতো দুআ কালাম করার পরেও আল্লাহ ইসরায়েলের বালটাও ফালাইতে পারে নাই! সে বরাবরই নিষ্ক্রিয়! বুঝা গেল, আল্লাহ হতে ইসরায়েলের ক্ষমতা বেশি! 

৬৯.
মানুষ কেন পোশাক পরে?
উত্তর যদি হয়: লজ্জা নিবারণের জন্য, তবে প্রশ্ন হলো - একজন মানুষের ল্জ্জাস্হান ঢাকার জন্য কতোটুকু পোশাক প্রয়োজন? নিশ্চয়ই বস্তা পরার দরকার নেই! 
আর উত্তর যদি হয়: সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য, তবে বস্তা পরা কোনো মেয়েকে কি আদৌ সুন্দর দেখায়?
আর উত্তর যদি হয়: ধর্ষণ ঠেকাতে, তবে পৃথিবীর এমন কোনো পোশাক আছে কি, যেটা পরিধানরত অবস্থায় কোনো নারী ধর্ষিত হয়নি?!

৭০.
আল্লায় নাকি আদমেরে ৯০ ফিট লম্বা বানাইছিল! আল্লাই জানে, ওর ইয়েটা কতো বড় ছিল!
আল্লায় হাওয়ারেও তার সমান করে বানাইছিল! আল্লাই জানে, হাওয়ার ইয়ে দুইটা আর ইয়েটা কত্তো বড় ছিল!  
আরে ভাই, আমি দুইটা চোখ আর নাকের কথা বলতেছিলাম আরকি!