১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বেদ্বীনবাণী - ৪৫


হানিলতা সেন

জীবনানন্দ দাশ-এর বনলতা সেন কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

হাজার বছর ধরে আমি ডাকাতি করিতেছি হেজাজের পথে,
উত্তপ্ত মদিনা থেকে নিশীথের অন্ধকারে উহুদ বদরে
অনেক লুটেছি আমি; কোরায়জা মোস্তালিকের ধূসর জগতে
মক্কায় ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি অতৃপ্ত প্রাণ এক, ঘরেতে ৬৫ পার খাদিজা ছিলেন,
আমারে ঈমানদণ্ড-শান্তি দিয়েছিল মেরাজের হানিলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার বেহেস্তের কারুকার্য; অতিদূর মরুভূমির ’পর
উট হারিয়ে যে-বেদুইন হারায়েছে দিশা
ধূসর বালির দেশ যখন সে চোখে দেখে বালিচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি চেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
খেজুর বিচির মতো চোখ তুলে মেরাজের হানিলতা সেন। 

সমস্ত মেরাজ শেষে জিকিরের শব্দের মতন
সকাল আসে; জিহ্বায় হানির গন্ধ চোখদুটো নীল;
হিজরের সব সাহাবা জেগে গেলে খোঁজাখুঁজির করে আয়োজন
তখন ফাঁদি কল্পগল্প - আসমান ভ্রমণের রঙে ঝিলমিল;
বুড়ি বউয়ের ঘরে ফিরি - আমি নবী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার হানিলতা সেন।

৩১ আগস্ট, ২০১৫

হা-হা-হাদিস – ১৪৫

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

পেঁয়াজ সংকটের ঐশী কারণ

লিখেছেন ক্যাটম্যান

সম্প্রতি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সংকটে পড়েছেন দেশীয় ভোক্তারা। শুধু তাই নয়, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার পেঁয়াজ ভোক্তাদের মাঝেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পশ্চাতে কী কারণ নিহিত আছে, তার অনুসন্ধানে সরকার ও বাজার বিশ্লেষকগণ রীতিমত গলদঘর্ম হচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কেউ কেউ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কয়েকটি কারণ সনাক্ত করেছেন বটে, যেমন - (১) অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ। (২) বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারতে পেঁয়াজের সংকট। (৩) রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে ভারতীয় পেঁয়াজের টনপ্রতি রপ্তানি মূল্য ৪২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলারে নির্ধারণ। (৪) আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি। এতসব কারণ থাকা সত্ত্বেও সরকার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেমন - টিসিবিকে পেঁয়াজ আমদানির নির্দেশ দান, বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের চালান দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, পেঁয়াজ আমদানিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সহজে ঋণপত্র খোলার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া ও বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি করা। কিন্তু এতসব উদ্যোগ গ্রহণ করা সত্ত্বেত্ত পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার এখন পর্যন্ত ব্যর্থ।

পেঁয়াজ এই উপমহাদেশের মানুষের আবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য হওয়ায় বছরের প্রায় সময় পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উপমহাদেশ জুড়েই সংবাদের শিরোনাম হয়। এমনকি ভারত উপমহাদেশীয় দেশসমূহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবেও পেঁয়াজকে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদগণ পার্থিব লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজকে কার্যকরী হাতিয়ার বিবেচনা করলেও ধর্মবাদীগণ পারলৌকিক লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজকে প্রতিকূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। তাই ধর্মবাদীগণের বিবেচনায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অন্যত্র বিদ্যমান। সরকার পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যত প্রকার কারণ সনাক্ত করুক না কেন, ধর্মবাদীগণের বিবেচনায় - এর পেছনে মূলত ঐশ্বরিক কারণ বিদ্যমান। তাই পেঁয়াজ শুধু সাধারণ ভোক্তা ও রাজনৈতিক নেতাদেরই আলোচনার বিষয়বস্তু নয়, একইসাথে তা ইসলাম ধর্মের প্রভু আল্লাহরও আলোচনার বিষয়বস্তু। কারণ ইসলাম ধর্মের প্রভু আল্লাহ পেঁয়াজের ঝাঁজাল গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাকে নিকৃষ্ট দ্রব্যের কাতারভুক্ত করেছেন, একইসাথে তার ভক্ত ও অনুসারীদেরকে পেঁয়াজ ভোগে নিরুৎসাহিত করেছেন। এমনকি যারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পেঁয়াজ ভোগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে, তাদেরকে আল্লাহ অভাব-অনটনের ন্যায় লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির হুমকি প্রদান করেছেন। আল-কুরআনে পেঁয়াজ বর্জনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে -
স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা! আমরা একই ধরনের খাবারের ওপর সবর করতে পারি না, তোমার রবের কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমাদের জন্য শাক-সব্জি, গম, রসুন, পেঁয়াজ, ডাল ইত্যাদি কৃষিজাত দ্রব্যাদি উৎপন্ন করেন।’ তখন মূসা বলেছিল, ‘তোমরা কি একটি উৎকৃষ্ট জিনিসের পরিবর্তে নিকৃষ্ট জিনিস নিতে চাও? তাহলে তোমরা কোন নগরে গিয়ে বসবাস করো, তোমরা যা কিছু চাও সেখানে পেয়ে যাবে।’ অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছলো যার ফলে লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটন তাদের ওপর চেপে বসলো এবং আল্লাহর গযব তাদেরকে ঘিরে ফেললো।
[সূরা বাকারা, আয়াত ৬১]
উক্ত আয়াতের শিক্ষা হলো: মূসার সম্প্রদায় ঈশ্বর প্রদত্ত একঘেয়ে খাবারের প্রতি বিরক্ত হয়ে তা থেকে নিস্তার পেতে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের প্রতি আগ্রহ ব্যক্ত করে। শাকসবজি, গম, রসুন, পেঁয়াজ ও ডালের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের ব্যাপারে তারা মূসার মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকট আবদার করে। আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী আমরা জানি যে, শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যপ্রাণ ও আঁশ বিদ্যমান, গম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, রসুন ও পেঁয়াজ যথেষ্ট ভৈষজিক গুণসম্পন্ন এবং ডাল আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মূসার সম্প্রদায়ের দাবিকৃত খাবারসমূহের এত এত গুণ থাকা সত্ত্বেত্ত আল্লাহ এগুলো ভোগের চরম বিরোধী। তাই তিনি এগুলোকে ঈশ্বর প্রদত্ত একঘেয়ে উৎকৃষ্ট খাবারের বিপরীতে নিকৃষ্ট খাবার বলে আখ্যায়িত করেছেন। এবং এগুলো পেতে চাইলে কোনো এক নগরে গিয়ে বসবাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি ঈশ্বরের একঘেয়ে রুচির বিরোধিতা করায় লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটন মূসার সম্প্রদায়ের ওপর চেপে বসেছিল এবং আল্লাহর গজব তাদের ঘিরে ফেলেছিল।

নিকৃষ্ট খাবার পেঁয়াজ-রসুনকে কেন্দ্র করে এমন তাৎপর্যময় শিক্ষা আল-কুরআনে থাকা সত্ত্বেত্ত বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় তা মানতে নারাজ। মুসলমানেরা আজীবন ইহুদি ধর্ম ও সংস্কৃতির চরম বিরোধিতা করে এলেও পেঁয়াজ রসুন-ভোগের প্রশ্নে তারা মূসার ইহুদি সম্প্রদায়ের ন্যায় ঈশ্বরবিরোধী। আল-কুরআনে পেঁয়াজ-রসুনকে ঈশ্বর ঘোষিত নিকৃষ্ট জিনিস হিসেবে জানলেও মুসলমানগণ তা উৎকৃষ্ট জিনিস হিসেবেই ভোগ করে থাকেন। পেঁয়াজ-রসুন ভোগের প্রশ্নে মুসলমানগণ আল-কুরআনের শিক্ষার বিরোধিতা করে মূলত আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ কুফরির সামিল। এই বিবেচনায় শাকসবজি ও পেঁয়াজ-রসুন ভোগকারী মুসলিম সম্প্রদায় মূলত মুসলিম বেশধারী কাফের। তাই মূসার ঈশ্বর যেমন পেঁয়াজখেকো ইহুদি সম্প্রদায়কে ঈশ্বরবিরোধিতার অপরাধে অভাব-অনটন দ্বারা শাস্তি দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি একই অপরাধে বর্তমান মুসলিম সম্প্রদায়কেও ঈশ্বরের হুকুম অমান্যের শাস্তি দিচ্ছেন মুহম্মদের আল্লাহ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশে পেঁয়াজীয় গজব নাজিল করেছেন তিনি। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলার মুমিনকুলকে ঐশ্বরিক হুকুম অমান্যের শাস্তি দিচ্ছেন তিনি। যেন তারা চড়া মূল্যে পেঁয়াজ খরিদ করে অভাব-অনটনে নিপতিত হয়। উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ ক্রয় করে তারা যেন দারিদ্র্যপীড়িত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ অধঃপতন ও লাঞ্ছনা যেন তাদের ঘিরে থাকে। তাই আল-কুরআনে প্রদত্ত উক্ত অভিশাপ বাস্তবায়নের নিমিত্তে হঠাৎ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র ও ঐশ্বরিক কারণ।

এক্ষেত্রে অভিশপ্ত পেঁয়াজ বর্জনের মাধ্যমেই শুধু আল্লাহ প্রদত্ত উর্ধ্বমূল্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সরকারের আশু কর্তব্য হলো: মুমিন মুসলমানদের অস্তিত্ব ও ঈমান রক্ষার্থে অবিলম্বে পেঁয়াজের উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। অর্থাৎ ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজকে বাংলার জমিনে চিরতরে নিষিদ্ধ করা। যেন আর কোনো মুমিন পেঁয়াজের ঝাঁজাল গন্ধে আসক্ত হয়ে পেঁয়াজীয় গজবের শিকার না হয়। অথচ মদিনা সনদের ধ্বজাধারী বর্তমান আওয়ামি সরকার আল-কুরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো উদ্যোগই যে সফল হবে না, সে বিষয়ে তারা একেবারেই ওয়াকিবহাল নয় হয়ত। যদি সরকার আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়ও, সেক্ষেত্রে তা হবে আল্লাহর সাথে শিরকের সামিল। আর শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনও ক্ষমা করেন না। তবে ঈমানবিরোধী সরকারের এমন অবিমৃষ্যকারিতায় বাংলার জাতীয় মুমিন মুসলমানদের বসে বসে আঙ্গুল চুষলে হবে না। নিজেদের দূষিত ঈমানকে শুদ্ধ করতে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই মুহূর্তে তাই বাংলার ছদ্মবেশী মুমিন মুসলমানদের আশু কর্তব্য হলো: ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজ বর্জন করে নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা এবং মুসলমানের ছদ্মবেশ পরিত্যাগ করে খাঁটি মুসলমান হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানো। নইলে পেঁয়াজবিদ্বেষী আল্লাহর পেঁয়াজীয় গজবে খোদাদ্রোহী মুসলমানগণের ধ্বংস অনিবার্য।

একটি নিরীহ ছবি

৩০ আগস্ট, ২০১৫

এ কী হেরিনু!

ধর্মবিশ্বাসীরা মাছের পেটে, বেগুনে, টমেটোয়, কাটা মাংসে, আমের আঁটিতে, গাছের পাতায়, টোস্টের ওপরে, এমনকি হাগনকুঠিতেও এবং সম্ভব-অসম্ভব সব স্থানে-অস্থানে, পাত্রে-অপাত্রে আল্লাহ-নবীর নাম (যিশু বা হিন্দু দেব-দেবীদের ক্ষেত্রে - চেহারা) খোদাই করা অবস্থায় দেখতে পায় প্রায়ই। এসবই ঐশী সংকেত।

অবশেষে নাস্তিকেরাও একটি সংকেত পেয়েছে তাদের দাবির সপক্ষে!

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/l8-8WJxA-cI

(১০.০১.১০ তারিখে প্রথম প্রকাশিত)

কোরান কুইজ – ৭৩

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৮২: অবিশ্বাসীদের ভুল পথে চালায় কে?

১. আল্যা
২. শয়তান
৩. তারা নিজেরাই

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

এক জোড়া পোস্টার


ডাস্টবিন থেকে কুড়আনো চিন্তা - ০৬

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

১৬.
যা যা কাল্লা খাইরান = যা যা কল্লা কাইট্টান।

১৭.
- মুহম্মদের আগে কোন নবী এসেছিলেন ? 
- ইসা ইবনে আল্লা।

১৮.
(কল্পগল্প) মা কালী ও পাঠা বলি:
মা কালী অসূর বধে খড়গহস্ত হইয়া দিগ্বিদিক ঘুরিতেছিলেন। একদা ঝাঁকে ঝাঁকে অসুর আসিয়া কালীকে কোণঠাসা করিয়া ফেলে। উপায়ান্তর না দেখিয়া কালী পলায়নের পথ খুঁজিতে থাকে। সেই পথ ধরিয়া এক রাখাল ছাগলের পাল চড়াইয়া লইয়া যাইতেছিল। কালী তৎক্ষণাৎ ছাগলের বেশ ধরিয়া পালের মধ্যে ঢুকিয়া আত্মগোপন করিল। অকস্মাৎ একটা দাড়িওয়ালা পাঁঠা আসিয়া কালীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়, কালী অসম্মতি জ্ঞাপন করিয়া পাঁঠাটিকে এড়াইয়া চলার আপ্রাণ চেষ্টা করিলেও শেষ রক্ষা হয় নাই। 
সেই থেকে হিন্দুরা পাঁঠা বলি দেয়।

১৯.
- 'বিজ্ঞানমনস্ক' শব্দটির বিপরীত শব্দ কী?
- 'ধর্মপ্রাণ'।

২০.
আল্লা তালা - বাজারের সব থেকে দুর্বল এবং অকার্যকর তালা।
এই তালা দিয়ে না আটকানো যায় চোরকে, না আটকানো যায় ডাকাতকে।

২৯ আগস্ট, ২০১৫

ষড়যন্ত্রী নাস্তিক ও তার কঙ্কাল


বনি কুরাইজা গণহত্যা–৪: রায় ঘোষণা- ‘ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও লুট’!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৯০) ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – চৌষট্টি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯

বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁদের মিত্র আল-আউস গোত্রের লোকেরা তাঁদের প্রাণ রক্ষার প্রচেষ্টায় উৎকণ্ঠিত অবস্থায় মুহাম্মদের কাছে দৌড়ে এসে কী আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ তাদেরকে কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁর সেই প্রস্তাবে রাজি হলে মুহাম্মদ সা'দ বিন মুয়াদ নামের তাঁর এক একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারীকে কী উদ্দেশ্যে বনি কুরাইজার বিরুদ্ধে ‘রায় প্রদানকারী’ রূপে ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুহাম্মদের নির্বাচিত এই বিচারকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল, খন্দক যুদ্ধে তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর এই বিচারক 'বনি কুরাইজার প্রতি প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার অভিপ্রায়' কীভাবে ব্যক্ত করেছিলেন - তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1][2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৮৯) পর:

‘আল্লাহর নবী তাঁর মসজিদে [বানু] আসলামের রুফায়েদা নামের এক মহিলার তাঁবুর ভিতরে সা'দ কে রেখেছিলেন। মহিলাটি আহত লোকদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন ও যে স মুসলমানের সেবা-যত্নের প্রয়োজন, তাদেরকে তিনি দেখাশুনা করতেন। খন্দক যুদ্ধে যখন সা'দ তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হন, তখন আল্লাহর নবী তাঁর লোকজনদের বলেন যে, তিনি পরে গিয়ে তার সাথে দেখা করার পূর্ব পর্যন্ত তাকে যেন রুফায়েদার তাঁবুর ভিতরে রাখা হয়।

যখন আল্লাহর নবী তাকে বনি কুরাইজার ব্যাপারে বিচারকের ভূমিকায় নিযুক্ত করেন, তার লোকেরা তার কাছে আগমন করে ও তাকে এক খচ্চরের পিঠের উপর বসানো চামড়ার গদির উপর আরোহণ করায়, সে ছিল স্থূলকায় এক মানুষ। তারা তাকে আল্লাহর নবীর নিকট নিয়ে আসে ও বলে, "তোমার মিত্রদের সাথে সদয় আচরণ করো, সেই কারণেই আল্লাহর নবী তোমাকে মধ্যস্থ নিযুক্ত করেছেন।"

যখন তারা তাকে জোরাজুরি করে, সে বলে, "এখন তার সময় এসেছে আল্লাহর নিমিত্তে কিছু করার, কোনো মানুষের অনুযোগে যত্নবান হওয়ার জন্য নয়।"

তার লোকদের যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদের মধ্যে থেকে কিছু লোক বানু আবদুল-আশহাল গোত্রের কোয়ার্টারে ফিরে আসে এবং সা'দ সেখানে পৌঁছার আগেই তাদের উদ্দেশে তারা বনি কুরাইজার লোকদের নিধনের ঘোষণা দেয়, কারণ তাকে তারা তাইই বলতে শুনেছিল।      

যখন সা'দ আল্লাহর নবী ও মুসলমানদের কাছে পৌঁছেআল্লাহর নবী তাদের নেতাকে অভিবাদন জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়ার আদেশ দেন।

কুরাইশ মুহাজিররা মনে করে যে, আল্লাহর নবী আনসারদের বোঝাতে চেয়েছেন, পক্ষান্তরে আনসাররা মনে করে যে, তিনি সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন, তাই তারা দাঁড়িয়ে যায় ও বলে, "হে আবু আমর, আল্লাহর নবী বিশ্বাস করে তোমাকে তোমার মিত্রদের ব্যাপারে নিযুক্ত করেছেন, যেন তুমি তাদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করতে পারো।" [3]

সা'দ জবাবে বলে, "তোমরা কি আল্লাহর ওয়াস্তে অঙ্গীকারবদ্ধ যে, যে-রায় আমি ঘোষণা করবো, তা তোমরা মেনে নেবে?" তারা বলে "হ্যাঁ"।

সে আল্লাহর নবীর দিকে (তাকিয়ে) ও সম্মানহেতু তাঁর নাম উল্লেখ না করে বলে, "এটা কি তাঁর দায়িত্বে, যিনি এখানে উপস্থিত আছেন?" আল্লাহর নবী বলেন, "হ্যাঁ।"

সা'দ বলে, "তাহলে আমার রায় এই যে, 'তাদের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করো, তাদের সম্পত্তি বণ্টন করো ও তাদের মহিলা ও শিশু সন্তানদের বন্দী করো’।"

আলকামা বিন ওয়াককাস আল-লেইথি হইতে > আবদুল-রাহমান বিন আমর বিন সা'দ বিন মুয়াদ এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসিম নিন উমর বিন কাতাদা আমাকে জানিয়েছেন:

আল্লাহর নবী সা'দ কে বলেন, "তুমি যে রায়টি দিয়েছো, সেটিই হলো সাত আসমানের ওপর অধিষ্ঠিত আল্লাহর রায়।"’

(অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।)

>>> স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় (৫৭০-৬৩২ সাল) যে স মানবতাবিরোধী নৃশংস অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তার সবচেয়ে গর্হিত, নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি হলো এই 'বনি কুরাইজা গণহত্যাসে কারণেই এই জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে মুহাম্মদ অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা গত ১৪০০ বছর যাব এই গণহত্যার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি তথ্যবিকৃতি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এই গণহত্যার সপক্ষে তারা সচরাচর যে-সব মিথ্যাচার ও কলা-কৌশলের আশ্রয় নেন, সেগুলো হলো:

"খন্দক যুদ্ধকালে তারা ‘চুক্তি ভঙ্গ’ করে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিল!"
"বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা 'মুহাম্মদের প্রস্তাবে' রাজি হয়েছিল!"
"তারা সা'দ বিন মুয়াদ কে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিল!"
"সা'দের এই রায় ছিল ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'তৌরাত' এর নিয়ম অনুযায়ী!"

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থ ('সিরাত') ও হাদিস গ্রন্থের বনি কুরাইজা উপাখ্যানের বর্ণনায় আলোকে এই সব 'অজুহাত' এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা যাক:

১) "খন্দক যুদ্ধকালে তারা চুক্তি ভঙ্গ করে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিল"!

আদি উৎসে বিশিষ্ট মুসলিম স্কলারদেরই বর্ণিত খন্দক যুদ্ধ উপাখ্যানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে [পর্ব: ৭৭-৮৬] আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, তাদের এই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট একটি প্রমাণও কোথাও নেই। Not a single One!

২) "বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা 'মুহাম্মদের প্রস্তাবে' রাজি হয়েছিল!"

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থের বনি কুরাইজা উপাখ্যানের বর্ণনায় [4] যে বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, আত্মসমর্পণের পূর্বে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা “মুহাম্মদের কাছে কোনোরূপ শর্ত আরোপ করেছিলেন” এমন আভাস কোথাও নেই। বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদের এমন ক্ষমতা ছিল না, তাঁরা ছিলেন অসহায় ও ভীত-সন্ত্রস্ত! তাঁরা মুহাম্মদের কাছে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

শুধু তাইই নয়, আত্মসমর্পণের পরে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা "তাঁদের প্রাণভিক্ষার জন্য মুহাম্মদের কাছে কখনো কোনো আবেদন বা অনুরোধ করেছিলেন”, এমন আভাসও কোথাও নেই!

বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা নয়, আবদুল্লাহ বিন উবাই যেমন বনি-কেইনুকা ও বনি নাদির গোত্রের প্রাণভিক্ষার জন্য মুহাম্মদের কাছে আবেদন করেছিলেন, তেমনিভাবে আল-আউস গোত্রের লোকেরা বনি-কুরাইজা গোত্রের লোকদের প্রাণভিক্ষার জন্য মুহাম্মদের কাছে আবেদন করেছিলেন। (পর্ব: ৮৯)

আল-আউস গোত্রের উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ আল-আউস গোত্রের লোকদেরকে (বনি কুরাইজার লোকদের নয়) যে-প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন, তা হলো, বনি কুরাইজার বিষয়ে যদি আল-আউস গোত্রের কোনো লোক রায় প্রদান করে, তবে আল-আউস গোত্রের লোকেরা তাতে সন্তুষ্ট হবে কি না। মুহাম্মদের সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন আল-আউস গোত্রের লোকেরা, বনি কুরাইজার লোকেরা নয়। এই ঘটনার সময় বনি কুরাইজার কোনো লোক ঘটনাস্থলের আশেপাশে কোথাও ছিলেন, এমন তথ্যও কোথাও উল্লেখিত হয়নি

৩) "তারা সা'দ বিন মুয়াদ কে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিল!"

আল-আউস গোত্রের লোকদের নিকট প্রস্তাবিত মুহাম্মদের এই প্রস্তাবটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, “এই প্রস্তাবে মুহাম্মদ সুনির্দিষ্ট (Specific) কোনো লোকের নাম উল্লেখ করেননি।" অর্থাৎ, আল-আউস গোত্রের প্রতি মুহাম্মদের প্রস্তাবটি এমনটি ছিল না যে, "যদি তোমাদের গোত্র-নেতা 'আবদুল্লাহ বিন মুয়াদ' তোমাদের পক্ষ হতে বনি কুরাইজার বিষয়ে রায় প্রদান করে, তবে তোমরা তাতে সন্তুষ্ট হবে কি না।"

আল-আউস গোত্রের লোকেরা যখন উৎফুল্ল-চিত্তে মুহাম্মদের এই “অনির্দিষ্ট (non-specific/vague)” প্রস্তাবে সানন্দে রাজি হন, সম্ভবত, এই আশায় যে, যদি তাদের গোত্রের মধ্য থেকে কাউকে এই দায়িত্ব দেয়া হয় “তবে বনি কুরাইজার লোকদের প্রাণ রক্ষা হবে", তখন মুহাম্মদ 'সা'দ বিন মুয়াদের' নাম ঘোষণা করেন। মুহাম্মদ নিশ্চিত জানতেন যে, তাঁর এই একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী "তাঁর অভিপ্রায়ই" অনুগতভাবে পালন করবেন। “মুহাম্মদের পলিটিক্স (চাতুরী)' ছিল এইখানেই।

সুতরাং, আল-আউস গোত্রের লোকেরা তাদের গোত্র-নেতা 'সা'দ বিন মুয়াদের' রায় মেনে নিতে রাজি ছিলেন"- এই দাবির মধ্যে যে-সত্যতা আছে, তা হলো "এক চতুরতার ইতিহাস" উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ যে কীরূপ চতুরতার আশ্রয় অবলম্বন করতেন, এই ঘটনাটি হলো তারই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ!

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, মুহাম্মদের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর যখন মুহাম্মদ আল-আউস গোত্রের লোকদের উদ্দেশে 'সা'দ বিন মুয়াদের' নাম ঘোষণা করেন, তখন তারা উদ্বিগ্নচিত্তে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদের বাঁচানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

তারা সা'দকে বিভিন্নভাবে এই মর্মে বারংবার অনুরোধ করতেই থাকেন যে, তিনি যেন বনি কুরাইজার লোকদের প্রতি সদয় হন। তাদের এই পীড়াপীড়ির পরিপ্রেক্ষিতে সা'দ ঘোষণা দেন যে, কোনো মানুষের অনুযোগে যত্নবান হওয়ার সময় তার নেই। এখন তার সময় এসেছে, "আল্লাহর নিমিত্তে কিছু করার"

অর্থাৎ মুহাম্মদের অভিপ্রায় চরিতার্থ করাকেই সা'দ বিন মুয়াদ তার একান্ত কর্তব্য বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন। এই বিষয়টি তীক্ষ্ণবুদ্ধির মুহাম্মদ সুনিশ্চিত জানতেন।

মুহাম্মদ ও সা'দের অভিপ্রায় যে অভিন্ন, তা আল-আউস গোত্রের লোকেরা সুনিশ্চিত জানতেন। তাই সা'দকে সদয় হওয়ার জন্য তাদের এত পীড়াপীড়ি!

আর এর প্রমাণ হলো, মুহাম্মদের 'সা'দ বিন মুয়াদের' নাম ঘোষণার পর আল আউস গোত্রের কিছু লোক সেই স্থান পরিত্যাগ করে বানু আবদুল-আশহাল গোত্রের কোয়ার্টারে ফিরে আসে ও "সা'দ সেখানে পৌঁছার আগেই" তারা তাদের উদ্দেশে বনি কুরাইজার গণহত্যার ঘোষণা দেয়! মুহাম্মদের নিযুক্ত এই মধ্যস্থতাকারীর রায় প্রদানের আগেই তারা কীভাবে বনি কুরাইজার এই ভবিষ্যৎ পরিণতির খবর জানতে পেরেছেন, তাও এই ঘটনার বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট।

অন্যদিকে, সা'দ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করার আদেশ জারি করে মুহাম্মদ তাঁর এই যুদ্ধাহত ও মৃত্যুপথযাত্রী অনুসারীর "নবীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও নবীর অভিপ্রায় পূর্ণ করার আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত করেন" ভক্তের প্রতি গুরুর এই অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন ভক্তের গুরুভক্তির তীব্রতাকে বহু গুণে বৃদ্ধি করতে বাধ্য।

সা'দ যখন তার রায় ঘোষণা করেন, কোনোরূপ তথাকথিত ঐশী বাণীর আগমনের অপেক্ষা ও ঘটনা ছাড়া উৎফুল্ল মুহাম্মদ "আল্লাহর নামে" সাদের এই রায়ের সাথে তাঁর একাত্মতার ঘোষণা দেন।

প্রশ্ন হলো, 'সিরাতে' বনি কুরাইজার এই উপাখ্যানের প্রাণবন্ত ও বিস্তারিত (Vivid and detail) বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও কী কারণে ইসলাম-অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা শতাব্দীর পর শতাব্দী যাব দাবি করে আসছেন যে, বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা সা'দের রায় মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন? তাঁদের এই দাবির উৎস কী?”

তাঁদের এই দাবির উৎস হলো, 'সিরাত' রচনার একশত বছরেরও অধিক পরে (পর্ব: ৪৪) ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) রচিত ছয়-সাত লাইনের এক 'হাদিস'; আর সেই হাদিসটি হলো:

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ২৮০

‘আবু সাইদ আল-খুদরি হইতে বর্ণিত: যখন বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা সা'দের রায় মেনে নিতে রাজি হয়, আল্লাহর নবী সা'দকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠান, সে তখন তাঁর নিকটেই ছিল। সা'দ এক খচ্চরের পিঠে চড়ে সেখানে আসে ও যখন সে নিকটবর্তী হয়, আল্লাহর নবী (আনসারদের) বলেন, "তোমাদের নেতার সম্মানে উঠে দাঁড়াও।অতঃপর সা'দ সেখানে আসে ও আল্লাহর নবীর পাশে এসে বসে। আল্লাহর নবী তাকে বলেন, "এই লোকেরা তোমার রায় মেনে নিতে রাজি আছে

সা'দ বলে, "আমার রায় এই যে, তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করো ও তাদের মহিলা ও শিশুদের বন্দী করো।" তখন আল্লাহর নবীর মন্তব্য ছিল, "হে সা'দ! তোমার রায়টি হলো আল্লাহর রায় (অথবা তার অনুরূপ)।" [5]

(অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।)

কিন্তু, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, দীর্ঘ ২৫ দিন যাব চারদিক থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর বনি কুরাইজার লোকেরা অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত (কুরান: ৩৩:২৬) ও দুঃসহ অবস্থায় বিনা শর্তে মুহাম্মদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। বনি কুরাইজার লোকেরা মুহাম্মদের কাছে 'কোনোরূপ শর্ত আরোপ অথবা প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন, এমন আভাস কোথাও নাই।

“'সিরাত' রচনার এক শতাব্দীরও অধিক পরে কোনোরূপ প্রামাণিক তথ্য ও ব্যাখ্যা (Evidence and explanation) ব্যতিরেকে এমন একটি দাবি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বনি কুরাইজার গণহত্যার বৈধতা প্রদানের অপচেষ্টা, তা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। যেখানে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদের কাছে 'কোনোরূপ শর্ত আরোপ অথবা প্রাণভিক্ষার কোনো আবেদনই করেননি’, সেখানে তারা ‘সা'দের রায় মেনে নিতে রাজি হয়' এমন দাবি একেবারেই অবান্তর!”

৪) "সা'দের এই রায় ছিল ইহুদিদের পবিত্র ধর্ম-গ্রন্থ 'তৌরাত' এর নিয়ম অনুযায়ী!"

আদি উৎসের বর্ণনায় এই দাবির আদৌ কোনো ভিত্তি নেই, সা'দ বিন মুয়াদ একজন "তৌরাত বিশেষজ্ঞ" ছিলেন, এমন ইতিহাস আদি উৎসের কোথাও উল্লেখিত হয়নি

সংক্ষেপে,

বনি কুরাইজার লোকেরা অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ও দুঃসহ অবস্থায় "বিনা শর্তে" মুহাম্মদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। বনি কুরাইজা গোত্রের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা পর্যন্ত "তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিণতির ব্যাপারে" যে সকল ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়েছিল, তা ছিল মুহাম্মদ ও আল-আউস গোত্রের লোকদের মধ্যে।  বনি কুরাইজার কোনো লোক এ স ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

তাঁরা তাঁদের পরিণতির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। শুধুই অপেক্ষা!

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় আদি উৎসের বর্ণনার বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি।]

দ্বীনবানের দীন বাণী - ২৩

২৮ আগস্ট, ২০১৫

ন্যাংটা হজ্ব

ইছলামের প্রাথমিক বছরগুলোয় হাজীরা নগ্ন হয়ে কাবার চারপাশে ঘুরতো - এমন সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শুনে বিস্মিত হবার কিছু নেই। হজ্ব নামের ইছলামী ধর্মাচারটি পৌত্তলিক কোরাইশদের কাছ থেকে চোথা মারা। আর কোরাইশরা কাবা প্রদক্ষিণ করতো নগ্ন অবস্থায়। 

ইছলাম প্রবর্তনের পর নবীজি এই হজ্ব পালন করেছে নয় বছর। এবং শুধু নবম বছরে (লক্ষ্য করুন, নবম বছরে) নবীজি হুকুম দিলো, নগ্ন অবস্থায় কাবা প্রদক্ষিণ নিষিদ্ধ। 

এর মানে কী খাড়াইল? এর স্পষ্ট অর্থ এই: ইছলামী হজ্ব পালনের প্রথম আট বছরে নিশ্চয়ই কেউ কেউ (বা সবাই) ন্যাংটা অবস্থায় কাবা প্রদক্ষিণ করতো।

এই কাহিনী নাস্তিকমস্তিষ্কপ্রসূত নয়, বরং ছহীহ ইছলামী তথ্যসূত্র থেকে আহরিত। নিচে স্লাইড শো দেখে নিশ্চিত হোন অথবা স্লাইড শো থেকে বানানো পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়ে নিন।

সাইজ: ৩.৪ মেগাবাইট

ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ)
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৫১


শান্তিবিধ্বংসী ইসলাম

লিখেছেন অপ্রিয় কথা

১. 
বর্তমান বিশ্বে ইসলাম মানেই ক্ষতিকর। ইসলাম মানেই মানবসভ্যতা ধ্বংসের প্রতীক। পৃথিবীর যে কোনো দেশে ১% ইসলামের অনুসারী থাকলেও সে দেশে শান্তি নেই। সেখানেও মুসলিমরা আল্লা ও ইসলামের নামে সহিংসতা করবেই। সেখানেও আল্লাহ-কোরানের নামে মানুষ হত্যা চলবেই। গত কয়েক মাসে ইসলামের অনুসারী মুসলিম সন্ত্রাসীদের সহিংসতা কম দেখিনি। যেখানেই গণহত্যার খবর শুনেছি, সেখানেই মুসলিম সন্ত্রাসীদের নাম এসেছে। তারা 'আল্লাহু আকবর' বলে বলে মানুষ হত্যা করেছে। কখনো পেছনে হাত বেঁধে গলায় ছুরি বসিয়ে জবাই করেছে, কখনো সারিবদ্ধভাবে শুইয়ে একসাথে গুলি করে হত্যা করছে। হত্যা করার সময় ঐ একই শব্দবন্ধ - "আল্লাহু আকবর! আল্লাহু আকবর!"

২. 
বিশ্বে এখন ইসলামিক সন্ত্রাসী থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে সভ্যতার দেশ ফ্রান্সের মতো জায়গায় শার্লি হেব্দোর কার্টুন পত্রিকা অফিসের ১২ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে মুসলিম সন্ত্রাসীরা। এরপর পাকিস্তানে ১৩২ জন স্কুলশিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসলামিক তালেবান জঙ্গিরা। ইরাক-সিরিয়ার ইসলামিক জঙ্গিগৌষ্ঠি আইএস তো প্রায় প্রতিদিনই গণহারে হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে নাইজেরিয়ার ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম তো সর্বোচ্চ ২০০০ হাজার জন খ্রিষ্টানকে আল্লার নামে গণহত্যা করেছে। তাছাড়া স্কুল থেকে খ্রিষ্টানদের ছোট ছোট মেয়েগুলোকে অপহরণ নিয়ে যায় ধর্ষণ করার জন্য, নয়তো বা তাদের যৌনদাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেয়। কোরান মেনেই এখনো তারা দাস প্রথা টিকিয়ে রেখেছে। ওখানে যারা গণহত্যার শিকার হয়েছে, তাদের অপরাধ একটাই: তারা খ্রিষ্টান, তারা বিধর্মী। আর বিধর্মীদের হত্যা ও ধর্ষণ করা ইসলামে জায়েজ। এছাড়া বাংলাদেশে মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাতের বরাত দিয়ে একের পর এক নাস্তিক-ব্লগারদের চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করছে ইসলামি জঙ্গিরা। আরও কিছুদিন আগে কেনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জন খ্রিষ্টান ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে আরেক ইসলামি জঙ্গি গৌষ্ঠি দল আল শাবাব। হত্যা করার সময় তারা ছাত্রদের নাম জিজ্ঞেস করে, মুসলিম নাকি জিজ্ঞেস করে। যারা নবী ও তার পিতামাতার নাম ও কিছু কোরানের আয়াত মুখস্থ বলতে পারেনি, তাঁদেরকে হত্যা করেছে মুসলিম সন্ত্রাসী গৌষ্ঠি আল শাবাব। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মুসলিমরাই চালায়। আর ইসলাম তাদের মদদ দেয়।

৩.
ইসলামের অনুসারী মুসলমানদের এই গণহত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আজ নতুন নয়। এটা হাজার বছরের পুরোনো। এই বর্বরতা শুরু হয় আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, মুহম্মদের হাত ধরে। তিনি তার সৃষ্ট ধর্ম ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অগণিত ভিন্নধর্মী মানুষকে হত্যা করেছেন ও হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা ইসলাম ধর্মে ঈমান আনবে না, ইসলামে বিশ্বাস আনবে না, তাদেরকে হত্যা করা ইসলামে জায়েজ বলেছেন আল্লার প্রিয় নবী মুহম্মদ। মুসলমানদের ধর্মের প্রবর্তক হল মুহম্মদ। তারা মুহম্মদের মাধ্যমে আল্লার প্রাপ্ত বাণী কোরানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে জানে। আর মুহম্মদকে আল্লার প্রেরিত রাসুল হিসেবে অন্ধবিশ্বাস করে মুসলমানরা। তাদের ধর্মগ্রন্থ কোরানে অনেক আয়াত আছে, যেখানে বলা আছে - বিধর্মী কাফের মুরতাদদের হত্যা করলে সোয়াব হয়। বেহেশতে ৭২ হুরীর সাথে পাকাপাকি ভাবে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়। তাই ইসলামের অনুসারীরা ইসলাম ও আল্লার পথে জিহাদ করে। বেহেশতে যাওয়ার জন্য বিধর্মী মুরতাদ কাফেরদের হত্যা করে।

মন্তব্য:
আমি একজন মুক্তচিন্তক ও নাস্তিক মানুষ। প্রচলিত কোনো ধর্মের প্রতিই আমার আস্থা নেই। তবে আমি মনে করি, বর্তমান বিশ্বে অন্য যে কোনো ধর্মের তুলনায় ইসলাম সহস্র গুণ ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। তাই আমি ইসলামের পতন চাই। চাই, ইসলাম নিষিদ্ধ হোক। ইসলামের বিলুপ্তি চাই। সবশেষে ইসলামের ধ্বংস চাই! কারণ ইসলাম পৃথিবী ও মানবসভ্যতার জন্য ভয়ংকরতম হুমকি।

২৭ আগস্ট, ২০১৫

ইসলামী ইরোটিকা

কিছুদিন আগেও erotica শব্দটির গুগলকৃত বাংলা অনুবাদে 'ইসলাম' শব্দটি দেখা যেতো। ভাগ্যিস সময়মতো পর্দাচিত্র তুলে রেখেছিলাম!


এবার তাহলে আধুনিক 'ইসলামী ইরোটিকা' ধারণাটির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক এগারোটি চিত্রকর্ম ও ফটোর মাধ্যমে। 

(সবগুলো দেখতে ছবির একেবারে ওপরের অংশের বৃত্তগুলোয় ক্লিক করতে হবে অথবা ছবির ওপরে মাউস নিয়ে গেলে দুটো তীরচিহ্ন পথ দেখাবে)

আমাদের আত্মীয়েরা – ৮১

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

মাদ্রাসা ও এতিমখানার ডানাভাঙা ফড়িংগুলো

লিখেছেন পুতুল হক

"মাদ্রাসা ও এতিমখানা" - এই নামদুটো শুনলেই চোখে ভাসে, গরীব ঘরের ছোট ছোট ছেলে, শীত-গ্রীষ্মে টেট্রনের ঢোলা পাঞ্জাবি আর পাজামা পরে আধ-ময়লা টুপি মাথায় লোভী লোভী চোখে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। এরা বেশিরভাগ সময় খুব নিদারুণ আর কঠোর একটা পরিবেশের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। যদিও দয়াবান (!) মুমিনদের অর্থে এদের থাকা-পরা জোটে, কিন্তু মায়ার স্পর্শ কখনো জোটে না। 

কারো মৃত্যু উপলক্ষে হয়তো একবেলা পেট পুরে গোস্ত-ভাত খায়, তাও হুজুরদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার পর। বাচ্চাগুলো সবসময় ক্ষুধার্ত থাকে। শুধু পেটের ক্ষুধা নয়, স্নেহ-মায়া-মমতার ক্ষুধা, বিনোদনের ক্ষুধা, আরামের ক্ষুধা, দেখার ক্ষুধা, শোনার ক্ষুধা, একটা ভালো জামার ক্ষুধা... ইত্যাদি আরো কতো রকমের ক্ষুধা এদের রয়ে যায়, কে জানে! 

একেবারে নাবালক অবস্থা থেকে যে-কথা এরা সব চাইতে বেশি শুনে বড় হয়, সেটা হচ্ছে - পরকালের আজাব বা দোজখের শাস্তি। এরপর শোনে বেহেশতী সুখ, তথা নানারকম মজাদার খাবার আর হুরদের দেহসৌন্দর্যের বর্ণনা। লোহার খাঁচায় বন্দী হয়ে পড়ে এদের কল্পনাশক্তি। এদের জীবনের একটাই লক্ষ্য থাকে, তা হলো - কীভাবে দোজখের শাস্তি এড়িয়ে বেহেশতী সুখ লাভ করা যায়। আর কোন বিকল্প চিন্তার কথা এরা জানে না। 

ছোটবেলায় আমার সাথে কয়েকটা দুষ্টু ছেলে খেলতো। ফড়িং-এর ডানা ভেঙে দিয়ে তারা খুব মজা পেতো। এতিমখানার বাচ্চারা সেইরকম ডানাভাঙা ফড়িং। স্বার্থপর আর ধান্দাবাজ মুমিনের দল এসব ডানাভাঙা ফড়িং দেখে আনন্দ পায়। ইহকালে নাম আর পরকালে নামে এরা হাজার হাজার ফড়িং-এর ডানা ভেঙে রাখে।

আমার ছোট খালু কানাডায় খুব বড় চাকুরি করেন। তাঁর গ্রামের বাড়িতে তিনি একা একটা এতিমখানা চালান। এছাড়াও তিনি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলও গড়েছেন। গরীবের সন্তানদের জন্য এতিমখানা আর ধনী ঘরের শিশুদের জন্য কানাডিয়ান পদ্ধতির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন তিনি দু'টি সম্পূর্ণ ভিন্নধারার শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন? একটি বাংলা স্কুল তিনি করতে পারতেন, যেখানে প্রয়োজনের তাগিদে ইংরেজি গুরুত্ব পাবে। সবাই একইরকম যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ পাবে। খালু বললেন, গরীবের বাচ্চাদের জন্য আধুনিক শিক্ষার দরকার নেই। নিজেদের বাচ্চারা যেহেতু মাদ্রাসায় পড়ছে না, তাই বলে দ্বীনের দায় থেকে তো আর মাফ পাওয়া যাবে না। তাই গরীব যারা, তারা দ্বীন শিক্ষা করে পরকালে তাঁদের জন্য সুপারিশ করুক।

মাদ্রাসা থেকে যারা বের হয়, তাদের অধিকাংশ আমাদের জন্য বোঝাস্বরূপ। তারা জঙ্গি হয়, জিহাদ করে। ডানাভাঙা ফড়িংগুলো এক সময় বোধহীন ভয়ানক জানোয়ারে পরিণত হয়।

২৬ আগস্ট, ২০১৫

অর্থাৎ সব ধর্মই ভুয়া

লিংকিন পার্ক

১. এবারে সৃষ্টিকর্তার আলামত দেখা গেছে মানববর্জ্যত্যাগকক্ষের দেয়ালে। তার লীলা বোঝা আসলেই ভার: এতো জায়গা থাকতে সে বেছে নিয়েছে কিনা হাগনকুঠি!

২. ১৩ বছরের বালিকাকে বহির্জগতের সঙ্গে সম্পর্কহীন রেখে ৫ বছর ধরে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করেছে এক দম্পতি, কারণ বাইবেল তা অনুমোদন করে।

৩. বাইবেলের কথা অনুসরণ করে আরেক ব্যক্তি হত্যা করেছে ৮ জনকে, যাদের ভেতরে ছিলো তার ১৩ বছর বয়সী সন্তানও।

৪. মুছলিম মোল্লা আর খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরাই শুধু মজা লুটবে, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বুঝি সাধ-আহ্লাদ থাকতে নেই! তাদের বুঝি ইচ্ছে করে না স্তনমর্দন করতে! (লিংক: কৌস্তুভ)

৫. ধর্মপীড়িত রাশিয়ার অবস্থা অনেক সময়ই বাংলাদেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনলাইনে ব্যবহৃত গে ইমোটিকনগুলো রাশিয়ার আইন ভঙ্গ করছে কি না, এ নিয়েও তাদের শিরঃপীড়া।

৬. রাশিয়ায় বাংলাদেশের মতো নাস্তিক-ব্লগারহত্যা শুরু হয়নি বটে, তবে সীমা লঙ্ঘন করে ধর্মানুভূতিতে-আঘাত-হানা স্থাপত্য প্রদর্শনীতে হামলা চালিয়ে কিছু স্থাপত্য ভাংচুর করেছে হেফাজতে খ্রিষ্টধর্মের মর্দে মুজাহিদিনরা।

৭. ইহুদিধর্মও নারীকে এতোটাই সম্মান দিয়েছে যে, খাছ ইহুদি পুরুষ প্লেনে নারীর পাশে বসতে অস্বীকৃতি জানায়।

৮. মেয়ে ডুবে মরতে বসেছে, কিন্তু তাকে উদ্ধার করতে উদ্যত পুরুষ-উদ্ধারকর্মীদের বাধা দিয়েছে তার পিতা। কারণ মেয়ের শরীরে বেগানা পুরুষের স্পর্শের চেয়ে তার মৃত্যু শ্রেয়। আচ্ছা, কোনও নাস্তিক-পিতার পক্ষে এমন কাজ কি আদৌ সম্ভব?... মনে পড়লো, ২০০২ সালে চৌদি আজবের মক্কায় ১৫ জন বালিকা স্কুলভবনের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হয়। তারা জ্বলন্ত স্কুলভবন ত্যাগ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু চৌদি ধর্মীয় পুলিশ তাদের বের হতে দেয়নি, কারণ বালিকারা সেই মুহূর্তে ইছলামসম্মত পোশাকে ছিলো না।

৯. খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের ইতরামির (মূলত যৌনতা সংক্রান্ত - শিশুধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীধর্ষণ, শিশুপর্ন সংরক্ষণ ইত্যাদি) বড়ো একটি সংকলন পাওয়া যাবে এখানে। নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

১০. জ্বিন-ভূত-পরী-ইবলিশ-ডাইনী ও ইত্যাকার উৎকট ও অবাস্তব ধারণাগুলো আপাদমস্তক ধর্মীয়। এবং ধর্ম সব সময়ই অশুভ। উদাহরণ: ঝাড়খন্ডে ডাইনি অপবাদে ৫ নারীকে পিটিয়ে হত্যা

১১. সীতার অগ্নিপরীক্ষার আধুনিক সংস্করণ: ৮৮ পাউন্ড ওজনের পাথর মাথায় নিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে ধর্ষিতাকে 'শুদ্ধতার পরীক্ষায়' উত্তীর্ণ হতে হবে।

১২. খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারিকা তার ঈশ্বর-বিশ্বাসের জোরে এক মহিলার উচ্চতা তিন ইঞ্চি বাড়িয়ে দিয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে - সুস্থবুদ্ধির মানুষ এই উদ্ভট কাহিনীকে হেসে উড়িয়ে দিলেও এতে বিশ্বাস করে অনেকেই। আসলে কারুর ভক্ত বনে গেলে তার বর্ণিত অবাস্তব ঘটনাতেও নিঃশর্ত বিশ্বাস স্থাপন এবং যে কোনও মূল্যে তা সত্য বলে প্রতিষ্ঠার প্রাণপাতকারী প্রচেষ্টার প্রবণতা আছে ধর্মবিশ্বাসীদের। আরও দুঃখের কথা এই যে, কিছু নাস্তিকও এই হানিকর প্রবণতায় আক্রান্ত।

১৩. সব ধর্মই সমপ্রেমবিদ্বেষপুষ্ট। জেরুজালেমের গে প্রাইডে অংশগ্রহণকারী ছয়জনকে ছুরিকাঘাত করেছে এক রক্ষণশীল ইহুদি। আহতদের একজন পরে মৃত্যুবরণ করে।

১৪. যিশুর জন্য কুমারীত্ব সংরক্ষণ করে রাখা ৩৮ বছর বয়সী মহিলা চার্চে গিয়ে বিয়ে করেছে যিশুকেই। তবে তাদের বাসররাত কবে এবং কোথায়, সে বিষয়ে কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

১৫. রোগগ্রস্ত সন্তানের আরোগ্যলাভের আশায় পুরোহিতের পরামর্শ অনুসারে ধর্মীয় আচার পালন করতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করেছে এক হিন্দু। 

১৬. বাইবেলে (মার্ক ১৬:১৮) বলা আছে, খ্রিষ্টধর্মের সুসমাচারে বিশ্বাস করা ব্যক্তিরা হাত দিয়ে সাপ ধরতে পারবে, এমনকি যতো ভয়াবহ বিষই তারা পান করুক না কেন, তাদের কোনও ক্ষতি হবে না। আর তাই কিছু চার্চে সাপ হাতে নিয়ে উপাসনা করা হয়। এবং সঙ্গত কারণেই এই চার্চগুলোর ভেতরে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা খুব বিরল নয় - সাম্প্রতিক একটি ঘটনা

১৭. যিশুর কথিত ৪০ দিন ৪০ রাতের উপবাসের রেকর্ড পুনরাবৃত্তি করা, এমনকি সম্ভব হলে, ভাঙার উদ্যোগ নিয়ে ৩০ দিনের মাথায় মারা পড়েছে যিশুর ৭০ বছর বয়সী অনুসারী।

১৮. আরেক ধর্মযাজক যিশুর কথিত পুনরুত্থান পুনরাবৃত্তি করতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

১৯. বিশ্বে শিশুকামীদের বৃহত্তম সংগঠন ক্যাথলিক চার্চের প্রাক্তন পোপ তার প্রধান দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে। তার শাসনামলে শিশুধর্ষণের অভিযোগগুলো সে যথাসম্ভব কম গুরুত্ব সহকারে যাচাই করেছে।

২০. ইছলামী দেশগুলোয় ভিন্নধর্মাবলম্বীদের অধিকারহীনতা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। এবারে বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে মুছলিমদের আরও কোণঠাসা করতে দু'টি বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

২১. লেখাপড়া করলেই সবাই শিক্ষিত হয় না। ধর্মবিশ্বাসগ্রস্তদের বিপুল একটি অংশ হয় কুশিক্ষিত। তেমন কুশিক্ষিতক্লিষ্ট আমেরিকার শতকরা চল্লিশজন বিশ্বাস করে - এই পৃথিবীতে একটা সময়ে ডাইনোসর ও মানুষের সহাবস্থান ছিলো।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২০১


২৫ আগস্ট, ২০১৫

ভগবানেশ্বরাল্লাহর অফিসিয়াল FAQ পেইজ

যদু-মধুসহ যাবতীয় হেঁজিপেঁজির ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থাকলে সর্বশক্তিমান, সর্বক্ষমতাধরের থাকবে না, তা তো হয় না! এখন ভগবানেশ্বরাল্লাহ সম্পর্কে আপনার যা কিছু জ্ঞাতব্য, পাবেন তার অফিসিয়াল FAQ পেইজে


(০৯.০১.১০ তারিখে প্রথম প্রকাশিত) 

analysis of কোরআন, looking for বিজ্ঞান

লিখেছেন শ্মশানবাসী

সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু করিলাম।

আসুন, এক আল্লাহর বিশ্বাসী হই, আসুন সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ওপরে অবতীর্ণ হওয়া কোরআনের কথার ওপর ঈমান আনি।

কিন্তু এক আল্লাহ, এক নবী,এক গ্রন্থে ঈমান আনতে গেলে প্রথমেই অবিশ্বাস দানা বাঁধে।

গ্রন্থের সুরার সংখ্যা একশত চোদ্দটি ঠিকই আছে, কিন্তু পৃথিবী জুড়ে এর আয়াতের সংখ্যায় ভিন্নতা কেন? 
১. হযরত আয়শা (রাঃ) মতে কোরআনের আয়াতের সংখ্যা ৬৬৬৬টি।
২. হযরত ওসমান (রাঃ) মতে ৬২৫০টি।
৩. হযরত আলী (রাঃ) মতে ৬২৩৬টি।
৪. হযরত ইবনে মাসউদের মতে ৬২১৮টি।
৫. মক্কার গণনা মতে ৬২১৩টি।
৬. বসরার গণনা মতে ৬২২৬টি।
৭. ইরাকের গণনা মতে ৬২১৪টি। 
এই অবস্থাতে কোরআনে বিজ্ঞান খুঁজতে এসে আমি নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। যেন রুগী ডাক্তারের কাছে এসে দেখতে পেল, ডাক্তার নিজেই অসুস্থ।

এক আল্লাহর এক পৃথিবী এক নবীর এক পবিত্র গ্রন্থের সুরার সংখ্যা ঠিক আছে, কিন্তু আয়াতের সংখ্যায় এত গোলমাল কেন। মজার ব্যাপার কী, জানেন? আয়শা বর্ণিত হাদিস মুসলিম বিশ্বে শতভাগ সহি বলে ধরে নেওয়া হলেও কোরআনের ক্ষেত্রে আলীর পেশকৃত ৬২৩৬ টা আয়াত বিশিষ্ট কোরআনই উপমহাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রচলিত। এটা একটা রহস্যও বটে।

পষ্ট কইরা লেখা - ০৭

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ১৮

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

৮৬.
থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়, নিলয় নীল - এঁরা সবাই প্রচলিত সকল ধর্ম তথা অন্ধ বানোয়াট ক্ষতিকর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখতেন। কিন্তু এঁদের সবাইকে খুন করেছে ইছলামিস্টরা। অন্য কোনো ধর্মের অন্ধবিশ্বাসীরা নয়। এটার কারণ কী? ইছলামিস্টরা ছাড়া আর সবাই জানে ও মানে যে, অন্য সবকিছুর মত ধর্মেরও সমালোচনা করা যায়; এটা অসম্ভব বা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু সবাই সভ্য হলেও ইছলামিস্টরা কোনোদিন সভ্য হবে না। অন্তত কোরান-হাদিছ পৃথিবীতে যতদিন থাকবে, ততদিন না। তার প্রমাণ আমরা পাই প্রতিদিন, দুনিয়াব্যাপী।

৮৭.
লুইচ্চাকে লুইচ্চা বলো না। শিশুধর্ষককে শিশুধর্ষক বলো না। ডাকাতকে ডাকাত বলো না। খুনিকে খুনি বলো না। ধোঁকাবাজকে ধোঁকাবাজ বলো না। বললে তুমি খুন হবে।

৮৮.
হে মানুষ, তোমরা কখনো সীমা লঙ্ঘন করো না। বৌ পেটাও, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। দাসী সম্ভোগ করো, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। শিশুবিবাহ করে ধর্ষণ করো আরাম ক'রে, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। মানুষের হাত কেটে ফেলে দাও, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। মানুষের মাথা কেটে ফেলে দাও, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। মানুষকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করো, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না।

৮৯.
সব ধর্মই খারাপ। সব ধর্মগ্রন্থই জঘন্য। এক সময় সব ধর্মের অনুসারীরই বিষাক্ত নখ-দাঁত ছিল। এখন সবাই বিষ নখ-দাঁত ছেঁটে নির্বিষ হয়ে গেছে - একমাত্র ইছলামিস্টরা ছাড়া। ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, শিখ ইত্যাদি সবার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। সম্ভব নয় শুধুমাত্র ইছলামিস্টদের সাথে। তার প্রমাণ আমরা এ পর্যন্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমানে পেয়েছি ও পেয়ে চলেছি। ইছলামিস্টরা এ পৃথিবীর মানুষদের সাথে বাস করার অনুপযুক্ত। এরা সীমাহীন বিষধর। মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখতে হলে এদেরকে ধরে ধরে সূর্য কিংবা আরো দূরবর্তী জ্বলন্ত নক্ষত্রে নির্বাসিত করা জরুরি।

৯০.
এক আল্যা পাক দেড় হাজার বছর আগে ওহী নাজিল করেছিল, সীমা লঙ্ঘন করো না। এখন বাংলাদেশে প্রতিদিন নতুন নতুন আল্যাপাক সৃষ্টি হচ্ছেন। আর প্রতিদিন নতুন নতুন ওহী নাজিল করে চলেছেন - সীমা লঙ্ঘন করো না, সীমা লঙ্ঘন করো না। এত আল্যাপাক আর এত ওহীর ভারে ও ভীড়ে আমরা যাই কই?