৩ মার্চ, ২০১৪

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-২৭): মদিনায় মুহাম্মদ: হুমকি-শাসানী-ভীতি-অসম্মান ও দোষারোপ – দুই

লিখেছেন গোলাপ
ইসলামী পণ্ডিতদের সাথে সুর মিলিয়ে প্রায় সমস্ত ইসলাম বিশ্বাসী এবং কিছু অমুসলিম তথাকথিত বুদ্ধিজীবী লেখক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক দাবি করেন যে, ইসলাম অন্যান্য ধর্মাম্বলীদের প্রতি অতীব সহনশীল। আর তা প্রমাণ করতে কারণে-অকারণে তাঁরা উদ্ধৃত করেন মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা সময়ের অল্প কিছু গৎবাঁধা সহনশীল বাণী। যেমন:

  • “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই (২:২৫৬)।”
  • “এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে (৫:৩২)।”
  • “আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি (৬:১০৭)।”
  • “তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? (১০:৯৯)”
  • “তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র (১১:১২)।”
  • “আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন (৫০:৪৫)।”
  • “যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক (৭৪:৫৫),--
  • “আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের শাসক নন  (৮৮:২১-২২)।”
  • “তোমাদের ধর্ম  তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে (১০৯:৬)” -  ইত্যাদি ।
কিন্তু তাঁরা ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ করেন না যে, ইসলামের প্রাথমিক সংজ্ঞা অনুযায়ী - যে-ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদের (সাঃ) ও তাঁর প্রচারিত বাণী ও মতবাদে (কুরান) বিশ্বাসী নয়, তাঁরাই বিপথগামী, লাঞ্ছিত, পথভ্রষ্ট এবং অনন্ত শাস্তির যোগ্য। এটা কি তাঁদের অজ্ঞতা? না কি প্রতারণা? কিসের প্রয়োজনে তাঁদের এই চতুরতা,তা বোঝা যায় অতি সহজেই। সাধারণ মানুষদের বোকা বানানোর প্রয়োজনেই তাদের তা করতে হয়েছে অতীতে, করতে হচ্ছে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের তা করতে হবে। স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অসংখ্যবার ঘোষণা করেছেন:

৬:১৫৭ -অত:পর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে -

৭:৩৬ - যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে -- তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে| 

৭:১৪৭ - বস্তুত: যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূহকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে| 

৯০:১৯-২০ - 'আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা। তারা অগ্নি-পরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।' 

৩৪:৫ - 'আর যারা আমার আয়াত সমূহকে ব্যর্থ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।'

৪৫:১১ - '- যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।' - ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

>>> সোজা ভাষায়, মুহাম্মদের প্রচারিত মতবাদে অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষই গুনাহগার, পথভ্রষ্ট, কাফির। সেই কাফিরদের উদ্দেশে বর্ণিত মুহাম্মদের অসংখ্য অমানবিক বাণী, হুমকি-শাসানী-ভীতি-অসম্মান ও দোষারোপের আংশিক আলোচনা আগের পর্বে (মক্কায় মুহাম্মদ) করা হয়েছে। ঐ বাণীগুলো সেই সময়ের [মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা সময়ের] যখন মুহাম্মদের কোনো শক্তিই ছিল না তাঁর প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার! সঙ্গত কারণেই তাঁর হুমকি-শাসানী-ভীতি-তাচ্ছিল্য ছিল পরোক্ষ! শুধু দু'-একটি (যেমন, ৭২:২৩) বাণী ছাড়া নিজেকে সে-মুহূর্তে তিনি সংযত রেখেছিলেন “শুধু আল্লাহ"-কে অবিশ্বাস করার পরিণতির সীমারেখায়। কিন্তু মদিনায় শক্তিমান মুহাম্মদের বাণীতে অনুরূপ পরোক্ষ হুমকির সাথে যোগ হয়েছে প্রত্যক্ষ হুমকি ও হত্যার নির্দেশ। সে নির্দেশ শুধু আল্লাহর বাণীকে অস্বীকারকারীদের উদ্দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরিবর্তিত হয়েছে "তাঁকে (মুহাম্মদ)” অমান্যকারীর বিরুদ্ধেও! মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা সময়ের আপাত সহনশীল বাণীর অন্তরালে নিজেকে লুকানোর প্রয়োজন তখন আর তাঁর ছিল না! অবিশ্বাসীদের ওপর তাঁর কল্পিত আল্লাহর গজব তিনি দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর বাণী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে! 

মদিনায় মুহাম্মদ (৬২২-৬৩২ সাল)

মুহাম্মদের সাথে সামান্যতম মতভেদ করার শাস্তি:

346-352.  ৩৩:৬০-৬৬ - মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে উত্তেজিত করব। অতঃপর এই শহরে আপনার প্রতিবেশী অল্পই থাকবে। অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে। যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর রীতি। আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। - তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম।  

353.  ৫:৩৩ - যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে| এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি|

354-355. ৪:১৫০-১৫১ - যারা আল্লাহ্ ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ্ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়| প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যাকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব।

>>>আল্লাহ ও রসূলের যে কোন একজনকে শুধু অবিশ্বাসই নয়, তাদের মধ্যে সামান্য তারতম্য করলেই 'অনন্ত আযাব"। যার সরল অর্থ হলো ইসলামের বিধান মুতাবেক 'ইসলাম বিশ্বাসী ছাড়া' অন্যান্য সমস্ত বিশ্ববাসী দোজখে অনন্ত-অসীম শাস্তির যোগ্য।

356.   ৪:৪২ - সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়|

357.  ৯:৬১ - আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবীকে ক্লেশ দেয়, এবং বলে, এ লোকটি তো কানসর্বস্ব। আপনি বলে দিন, কান হলেও তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে মুসলমানদের কথার উপর। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার তাদের জন্য তিনি রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। 

358-359. ৬৫:৮-৯ - অনেক জনপদ তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রসূলগণের আদেশ অমান্য করেছিল, অতঃপর আমি তাদেরকে কঠোর হিসাবে ধৃত করেছিলাম এবং তাদেরকে ভীষণ শাস্তি দিয়েছিলাম। অতঃপর তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করল এবং তাদের কর্মের পরিণাম ক্ষতিই ছিল।

360.  ৫৮:৫ - যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

361-365.  ৫৮:১৬-২০ - তারা তাদের শপথকে ঢাল করে রেখেছেন, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে। অতএব, তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। - আল্লাহর কবল থেকে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদেরকে মোটেই বাঁচাতে পারবেনা। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী তথায় তারা চিরকাল থাকবে।- যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন। অতঃপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে। তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎপথে আছে। সাবধান, তারাই তো আসল মিথ্যাবাদী।- শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভূলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।- নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তারাই লাঞ্ছিতদের দলভূক্ত।  

366.  ৪:১৪ - যে কেউ আল্লাহ্ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন| সে সেখানে চিরকাল থাকবে| তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি|

367.  ৯:২ - অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।  

368.  ৯:৩ - আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও। 

369.  ৯:২৯ - তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

370.  ৯:৫২ - আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ। 

>>> পাঠক, আবারও মনোযোগের সাথে খেয়াল করুন! বিফল ও অক্ষম মুহাম্মদের মক্কার আপাত সহনশীল বাণী, "আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন (৫০:৪৫)। আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের শাসক নন (৮৮:২১-২২)" - ইত্যাদি ছিল মুহাম্মদের মক্কা-জীবনে। যখন তার বাহুবল ও জনবলের কোনোটাই ছিল না তার নিজেরই আত্মীয়, পরিবার-পরিজন ও মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার। সে সময় অবিশ্বাসীদের শাস্তি আল্লাহর উপর (মৃত্যু-পরবর্তী দোযখ) ছেড়ে দেয়া ছাড়া মুহাম্মদের গত্যন্তর ছিল না।  সেখানেও তিনি পরোক্ষ হুমকি-শাসানী-তাচ্ছিল্য কোন কিছুই বাদ রাখেন নাই। ঐ সব আপাত সহনশীল ও শান্তির বাণী কর্পুরের মত উধাও হয়ে মদিনায় সফল ও শক্তিমান মুহাম্মদের আসল চেহারায় আত্ম-প্রকাশ!  মদিনায় মুহাম্মদের শক্তিবৃদ্ধির সাথে সাথে অমুসলিমদের ও তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি কঠিন থেকে কঠিনতর প্রত্যক্ষ হুমকি ও হত্যার নির্দেশ! দোযখের হুমকির সাথে সাথে তিনি এবং তার অনুসারীরা দুনিয়াতেই সে 'শাস্তি' প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা রেখেছেন [‘আমাদের হস্তে' (৯:৫২)]! আল্লাহর আযাব অনিশ্চিত বিশ্বাস মাত্র, আর অমুসলিমদের উপর মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের আযাব বাস্তব। পরবর্তীতে মদিনায় নাযিলকৃত এসব কঠিন থেকে কঠিন-তম মুহাম্মদী আদেশ ও নিষেধ মুহাম্মদের মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা জীবনে নাযিলকৃত আপাত সহনশীল আদেশ ও নিষেধকে বাতিল (Abrogate) করে দিয়েছে। ইসলামী পরিভাষায় যা আল-নাসিক ওয়া আল-মানসুক (Al-Nasikh wa al-Mansukh) নামে অবিহিত। মুহাম্মদের সর্বশেষ বাণী হল এই সুরা তওবার আদেশ ও নিষেধ। যেখানে তিনি ঘোষনা করছেন যে “মুশরিকদের (Polytheist) জন্য ইসলাম গ্রহনই বাঁচার একমাত্র উপায়" (৯:৫)।  আর আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) প্রাণ রক্ষার জন্য  বিশেষ ছাড় এই যে তাঁদের জন্য  ইসলাম গ্রহণ ছাড়াও আরও একটি পথ খোলা আছে! আর সেই বিশেষ পথটি হলো, মুহাম্মদ/তাঁর অনুসারীদের বশ্যতা স্বীকার করে “অবনত মস্তকে করজোড়ে” যিযিয়া প্রদান (৯:২৯)! এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো “ত্রাস-হত্যা-হামলা পর্বে”]।

সুতরাং, জিহাদিরা  কেন  মানুষ  খুন  করে  তা  অতি  সহজেই  বোঝা  যায়  কুরান-সিরাত-হাদিসের পর্যালোচনায়।  নিঃসন্দেহে  এই  জিহাদিরাই  আখেরি  নবীর  শিক্ষা-আদেশ  ও  নির্দেশ  সহিভাবে পালনের  চেষ্টা  করছে। আর তথাকথিত মডারেট ইসলামী পণ্ডিতরা যেখানে যেমন সেখানে তেমন কুরানের অপব্যাখ্যা করে যুগে যুগে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে এসেছে। এই জিহাদিরা  যখন  যেখানেই "ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে", এই ইসলামবাজরা রং পরিবর্তন করে সুর পাল্টে তাদের সাথে একযোগে কাজ করেছে। এটা ইতিহাসের শিক্ষা। ইসলামে কোনো কোমল (Mild), মডারেট অথবা মৌলবাদী শ্রেণীবিভাগ নেই। ইসলাম একটিই! আর তা হলো "মুহাম্মদের ইসলাম"! বাকি সবই "ইসলামী রাজনীতি"; কিন্তু পৃথিবীতে বহু ধরনের মুসলমান আছে। তথাকথিত মডারেট মুসলমান তাদেরকেই বলা হয় যারা জ্ঞাতসারে, কিংবা প্রতারণার আশ্রয়ে (তাকিয়া) কিংবা অজ্ঞতাবশত ইসলামের এ সব সহি অমানবিক ও কদর্য আদেশ পরিহার করে নিজস্ব বুদ্ধি-বিচার-বিবেকের মাধ্যমে মানবিকতার চর্চা করেন। তারা সহি ইসলামের অনুসারী নন!

নবীর স্ত্রীদের ওপর "ঐশী" হুমকী:

371-373. ৬৬:৩-৫ - যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন,:  যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন। -  তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তুত ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।  - যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী। মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। 

অমুসলিমদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ না করার ঐশী নির্দেশ

374. ৫:৫১ -হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না| তারা একে অপরের বন্ধু| তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত| আল্লাহ্ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না|

375-376. ৯:১৬-১৭ -তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে।  মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। 

377-380. ৪:১৩৭-১৪০ - আল্লাহ্ তাদেরকে না কখনও ক্ষমা করবেন, না পথ দেখাবেন|  তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব| যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহ্রই জন্য| আল্লাহ্ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন|

381.  ৪:১৪৪ -হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে| তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহ্র প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

382.  ৩:২৮ - মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে| যারা এরূপ করবে আল্লাহ্র সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না| তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন| এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে|

383.  ৩:১১৮ - হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ| শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়| আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য|

>>> স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর এ সব বাণী মোতাবেক ইসলাম বিশ্বাসীরা কোনো অমুসলিমকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতে পারেন না। তাঁদের কাছে কোনো সম্মান প্রত্যাশার নিমিত্তে কোনোরূপ কর্মতৎপরতায় অংশ নেয়ার শাস্তি "নির্ধারিত বেদনাদায়ক আযাব"। কিন্তু আজকের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির কারণে সমস্ত পৃথিবীটাই এখন 'গ্লোবাল ভিলেজ'। যেখানে আমরা সবাই একে অপরের সাথে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত। পৃথিবীর সব মুসলিম দেশ থেকে উন্নত জীবন-যাপনের আশায় লক্ষ লক্ষ মুসলমান ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডা সহ বহু অমুসলিম কাফেরের দেশের দূতাবাস গুলোতে প্রতিদিন ধরনা দিচ্ছেন। মুহাম্মদের (আল্লাহ) এই অত্যন্ত স্পষ্ট নিষেধ অমান্যকারীদের সামনে তিনটি পথ খোলা আছে:

১) বকধার্মিক এবং/অথবা ভণ্ড সাজা (Hypocrite) - মুখে এক, অন্তরে আর এক!

২) যাবতীয় কসরতের মাধ্যমে 'পরিবেশ-বান্ধব' কুরানের অনুবাদ হাজির করা। আধুনিক ইসলামী পণ্ডিতরা এ ব্যাপারে বিশেষ পারদর্শী। এক নম্বর দলের সাথে এদের পার্থক্য এই যে, 'মুখে এক - অন্তরে আর এক' তাড়িত বিবেকের তাড়না থেকে এ দল মুক্ত।

৩) মুহম্মদের অমানবিক, ঘৃণা ও বিভেদের কদর্য শিক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা।

এ ছাড়াও আছে যথারীতি পরোক্ষ হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শন

384. ৮:২৫ - জেনে রেখ যে, আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠোর|  

385-386. ৯:৩৪-৩৫-- তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।  

387. ২:৫৯-- তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে|

388. ২:৬১ - আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা| তারা আল্লাহ্র রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল|

389. ২:৬৫ (৫:৬০) - তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল| আমি বলেছিলাম: তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও|

390. ২: ৮১ - তারাই দোযখের অধিবাসী| তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে|

391. ২: ৮৫ - যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই| কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে|

392. ২:৯৮ - নিশ্চিতই আল্লাহ্ সেসব কাফেরের শত্রু| 

393. ২: ১০৪ - আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি|.

394. ২:১০৯-আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশত: চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফির বানিয়ে দেয়| তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)| যাক তোমরা আল্লাহ্র নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর| নিশ্চয় আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান|

395. ২:২১১ - আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহ্র আযাব অতি কঠিন|

396. ২: ১১৪ - ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে|

397. ২:১২০ - কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই|

398. ২: ১২৩ - তোমরা ভয় কর সেদিনকে, --তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না|

399. ২: ১২৬- আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অত:পর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্খান|

400. ২: ১৪৫ - তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন|

401. ২:১৫৯ - সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণের |

402. ২: ১৬১-নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্খায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত|

403. ২:১৬২-এরা চিরকাল এ লা’নতের মাঝেই থাকবে| তাদের উপর থেকে আযাব কখনও হালকা করা হবে না বরং এরা বিরাম ও পাবে না

404. ২: ১৬৫ - যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর|

405. ২: ১৬৭- আল্লাহ্ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে| অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না| 

406. ২:১৭৪ - তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না| আর আল্লাহ্ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুত: তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব|

407. ২:১৭৫ - অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্যধারণকারী|

408. ৩:৪- নি:সন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব| আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী|

409. ৩:১১- ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ্ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন আর আল্লাহ্র আযাব অতি কঠিন|

410. ৩:১২ - খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে-সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্খান|

411. ৩:১৯- যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে,  নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।

412. ৩:২১-যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন|

413. ৩:২২- এরাই হলো সে লোক যাদের সমগ্র আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয়লোকেই বিনষ্ট হয়ে গেছে| পক্ষান্তরে তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই|

414. ৩:২৬- (বলুন) তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ই্চ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর| তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ| নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল|

415. ৩:৩০ -সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! আল্লাহ্ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন|

416. ৩:৩২- যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ্ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না|

417. ৩:৫৬ - তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে - তাদের কোন সাহায্যকারী নেই|

418. ৩:৭৭ - বস্তুত: তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব| 

419. ৩:৮৭ - এমন লোকের শাস্তি হলো আল্লাহ্, ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত|

420. ৩:১০৫ -- তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব|

421. ৩:১১২ - তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে| আর ওরা উপার্জন করেছে আল্লাহর গযব| ওদের উপর চাপানো হয়েছে গলগ্রহতা|

422. ৩:১৩১ - তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে|

423. ৩:১৪১-- আল্লাহ্ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান|

424. ৩:১৫১ - খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো| কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি| আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন| বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট|

425. ৩:১৬২ - বস্তুত: তার ঠিকানা হল দোযখ| আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্খান!

426. ৩:১৭৬ - বস্তুত: তাদের জন্যে রয়েছে মহা শাস্তি|

427. ৩:১৭৭ - আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি|

428. ৩:১৯২ - হে আমাদের পালনকর্তা!  নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে সবসময়ে অপমানিত করলে; আর জালেমদের জন্যে তো সাহায্যকারী নেই|

429.  ৩:১৯৭ - এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোযখ| আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্খান|

430.  ৫:৩৭ - তারা দোযখের আগুন থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না| তারা চিরস্খায়ী শাস্তি ভোগ করবে|

431. ৪:১৮- আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি|

432. ৪:১২১ - তাদের বাসস্খান জাহান্নাম| তারা সেখান থেকে কোথাও পালাবার জায়গা পাবে না|

433. ৪:৫৫- বস্তুত: (তাদের জন্য) দোযখের শিখায়িত আগুনই যথেষ্ট|

434. ৪:৫৬ - আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব| তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে|

>>>বীভৎসতার চূড়ান্ত! মুহাম্মদকে ও তাঁর বাণীকে (কুরান) অস্বীকার করার অপরাধ এবং সীমাবদ্ধ পাপের শাস্তি "অসীম- অনন্ত" নরক বাস কি ন্যায্য বিচার?

435. ৪:৮৪ - আর আল্লাহ্ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা|

436-438. ৫৭:১৩-১৫ - যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হ্যাঁ কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।- অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।  

439. ৬৪:১০ - আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা তথায় অনন্তকাল থাকবে। কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল এটা।  
440. ২:২৪ - -- সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর| যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য

441.  ৪:১৬০ - বস্তুত: ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহ্র পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন|

442. ৪:১৪৫ - নি:সন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে| আর তোমরা তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী কখনও পাবে না|

443. ৫:১৩ - যারা বলে: আমরা নাছারা, আমি তাদের কাছ থেকেও তাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম| অত:পর তারাও যে উপদেশ প্রাপ্ত হয়েছিল, তা থেকে উপকার লাভ করা ভুলে গেল| অত:পর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি| অবশেষে আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন|

444.  ৫:৩৬ - যারা কাফের, --| তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে|

445. ৪:১৬৯ - তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পথ| সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল|

446.  ৪:১৭৩ - তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব| আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না|

447.  ৫:২ - আল্লাহকে ভয় কর| নিশ্চয় আল্লাহ্ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা|

448.  ৫:১০ - যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী

449.  ৫:৮৬ - যারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলেছে, তারাই দোযখী|

450-451. ৫:২৫-২৬ - মূসা বলল: হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি| অতএব, আপনি আমাদের মধ্যে ও এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করুন| বললেন: এ দেশ চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্যে হারাম করা হল| তারা ভুপৃষ্ঠে উদভ্রান্ত হয়ে ফিরবে| অতএব, আপনি অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্যে দু:খ করবেন না|

452.  ৮:৩৬ - আর যারা কাফের তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে|  

453.  ৮:৫০ - আর যদি তুমি দেখ, যখন ফেরেশতারা কাফেরদের জান কবজ করে; প্রহার করে, তাদের মুখে এবং তাদের পশ্চাদদেশে আর বলে, জ্বলন্ত আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর|  

454.  ৮:৫২ - সেজন্য আল্লাহ্ তা’আলা তাদের পাকড়াও করেছেন তাদেরই পাপের দরুন| নি:সন্দেহে আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, কঠিন শাস্তিদাতা|  

455.  ৮:৫৪- অত:পর আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি তাদের পাপের দরুন এবং ডুবিয়ে মেরেছি ফেরাউনের বংশধরদেরকে| বস্তুত: এরা সবাই ছিল যালেম|  

456.  ২:৩৯ - তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে|
457.  ২: ৪১ - আমার (আযাব) থেকে বাঁচ|

458.  ৫:৮০ - আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে| তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ| তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে|

459. ৫:১৭ - নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ্|

460. ৯:৩০ - ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।  

>>> "তথাকথিত" মডারেট (ইসলামে কোন কোমলপন্থী, মধ্যপন্থী বা উগ্রপন্থী শ্রেণীবিভাগ নেই, ইসলাম একটিই আর তা হলো মুহাম্মদের ইসলাম) ইসলামী পণ্ডিতরা, বিশেষ করে যারা উন্নত বিশ্বে অভিবাসী হয়েছেন এবং এখনো সংখ্যালঘু অবস্থায় আছেন,  খ্রিষ্টান কিংবা ইহুদিদের সাথে আলাপ, বক্তৃতা ও বিতর্কের সময় অথবা তাদের উদ্দেশে পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখার সময় "ইসলাম যে খ্রিষ্টান এবং ইহুদিদের প্রতি সহনশীল" তা প্রমাণের জন্য ঘোষণা দেন যে, ইসলাম তাদের নবী যীশু ও মুসাকে স্বীকার করে নিয়েছে।

আর তা প্রমাণ করতে তাঁরা কুরানের যে বাণীটি সর্বাধিক উদ্ধৃত করেন তা হলো (৫:৪৮), "আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্য গ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয় বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।" [বিস্তারিত আলোচনা ২২তম পর্বে করা হয়েছে।] কিন্তু তারা ঘুণাক্ষরেও কুরানের উপরের দুটি আয়াত (৫:১৭ ও ৯:৩০), যা খ্রিষ্টান ও ইহুদী ধর্মের অন্তর্নিহিত মূল বিশ্বাস কখনোই প্রকাশ করেন না। মুহাম্মদ তাঁদের ধর্মকে শুধু যে স্বীকারই করেন না, তাইই নয়, তিনি তাদেরকে অভিশাপ দিচ্ছেন "আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন"! 

461. ২৪:৫৭ - তোমরা কাফেরদেরকে পৃথিবীতে পরাক্রমশালী মনে করো না। তাদের ঠিকানা অগ্নি। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল।  

462. ৩৩:৮ - সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তিনি কাফেরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।  

463. ৩৩:১৬ - বলুন! তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর, তবে এ পলায়ন তোমাদের কাজে আসবে না। তখন তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে।  

464. ৩৩:১৭ - বলুন! কে তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তোমাদের প্রতি অনুকম্পার ইচ্ছা? তারা আল্লাহ ব্যতীত নিজেদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যদাতা পাবে না।  

465. ৪৭:১ - যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।  

466-467. ৪৭:৯-১০ - এটা এজন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন। তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি অতঃপর দেখেনি যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং কাফেরদের অবস্থা এরূপই হবে।  

468. ৪৭:১৫ - পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
  
469.  ৪৭:৩২ - নিশ্চয় যারা কাফের এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেদের জন্যে সৎপথ ব্যক্ত হওয়ার পর রসূলের (সঃ) বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তিনি ব্যর্থ করে দিবেন তাদের কর্মসমূহকে।

470.  ৪৭:৩৪ - নিশ্চয় যারা কাফের এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ কখনই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।  

471. ২২:৪৫ - আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি এমতাবস্থায় যে, তারা ছিল গোনাহগার। এই সব জনপদ এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে।  

472.  ২:২০ - যদি আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন.

473.  ৯:৬৮ - ওয়াদা করেছেন আল্লাহ, মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের-তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।

474.  ৯:৭০ - তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল?  তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে।

475. ৯:৮২ - অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে। 

476. ২:৫৪ - এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও|

477-478. ২২:৮-৯ – কতক মানুষ জ্ঞান; প্রমাণ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে। - সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে বিতর্ক করে, যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। তার জন্যে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আছে এবং কেয়ামতের দিন আমি তাকে দহন-যন্ত্রণা আস্বাদন করাব।  

479. ২২:২৫ - যারা কুফর করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচছা করে, আমি তাদেরকে যন্ত্রানাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।  

480-483. ৫৫:৪১-৪৪ - অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা থেকে; অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে টেনে নেয়া হবে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত। তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে।
  
484. ২:৪৮ - তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না

385. ২: ৫৫- - বস্তুত: তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ| অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে|

486-489. ২২:১৯-২২ - এই দুই বাদী বিবাদী, তারা তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্ক করে। অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে।--তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবেঃ দহন শাস্তি আস্বাদন কর।

>>>> কী বীভৎস বর্ণনা। জগতের নিকৃষ্টতম সাইকোপ্যাথও এমন নৃশংসতায় লজ্জা পাবে! কোন 'সসীম" অপরাধের শাস্তি "অসীম" হলে তা কখনোই সভ্য বা যৌক্তিক হতে পারে না। 

অবিশ্বাসীদেরকে অসম্মান, দোষারোপ ও তাচ্ছিল্য

490.  ২:২০৪ - আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে| আর তারা সাক্ষ্য স্খাপন করে আল্লাহ্কে নিজের মনের কথার ব্যাপারে| প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক|

491.  ২:১৪ - আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি| আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি| আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্রা|

492.  ৪:৬১ - আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহ্র নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে|

493.  ৪:১০১ - যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে| নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু|

494-495. ২:১৭০-১৭১ - আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব| যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি| যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও| -বস্তুত: এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ| সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না|

>>>> পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মানুসারীই তাঁদের নিজ নিজ বাপ-দাদাদের ধর্মকেই 'সত্য' বলে বিশ্বাস করেন ও পালন করেন। ইসলাম বিশ্বাসীরাও এর ব্যতিক্রম নন।  অবিশ্বাসীদের এই যুক্তি অকাট্য ও বাস্তব।  ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কুরাইশরা “তাদের ধর্মরক্ষার” খাতিরেই মুহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যখন মুহাম্মদ তাদের “পুজনীয় দেব-দেবীদের তাচ্ছিল্য’ এবং তাদের পূর্বপুরুষদের অসম্মান করা শুরু করেছিলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো “আইয়ামে জাহেলিয়াত এবং হিজরত-পর্বে। 

496.  ২:২৫৪ - হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব| আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম|

497. ৩:৯৪ - অত:পর আল্লাহ্র প্রতি যারা মিথ্যা আরোপ করেছে, তারাই যালেম সীমালংঘনকারী|

498. ৯:২৮ - হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা (Polytheist) তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।  

499.  ৯:৪৭ - যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।  

500.  ৯:৮৪ - আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।  

501.  ৯:১২৭ - আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি-না-অতঃপর সরে পড়ে। আল্লাহ ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।  

502. ২২:৭১ - তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর পূজা করে, যার কোন সনদ নাযিল করা হয়নি এবং সে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্তুতঃ জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।  

503.  ৫:৫৯ - বলুন: হে আহলে কিতাবগণ, আমাদের সাথে তোমাদের এছাড়া কি শত্রুতা যে, আমরা বিশ্বাস স্খাপন করেছি আল্লাহ্র প্রতি, আমাদের উপর অবতীর্ণ গ্রন্থের প্রতি এবং পূর্বে অবতীর্ণ গ্রন্থের প্রতি| আর তোমাদের অধিকাংশই নাফরমান|

504.  ৫:৬০ - বলুন: আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহ্র কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে|

505.  ৫:৮২ - আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে| এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না|

506. ৫:১০৩ - আল্লাহ্ ‘বহিরা’ ‘সায়েবা’ ওসীলা’ এবং ‘হামী’ কে শরীয়তসিদ্ধ করেননি| কিন্তু যারা কাফের, তারা আল্লাহ্র উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে| তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই|

507.  ৮:৩৫ - আর কা’বার নিকট তাদের নামায বলতে শিস দেয়া আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কোন কিছুই ছিল না| অতএব, এবার নিজেদের কৃত কুফরীর আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর|  

508.  ৮:৫৫ - সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অত:পর আর ঈমান আনেনি|  

509.  ৯:৮ - -- তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।  

510.  ৯:১০ - তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।
 
511- 519. ৫৯:১১-১৯ - আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না।- নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। - তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে। তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়।- তারা সেই লোকদের মত, যারা তাদের নিকট অতীতে নিজেদের কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।  

520. ২:৯৬ - আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন| তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়| অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না| আল্লাহ্ দেখেন যা কিছু তারা করে|

521.  ৪:৩৮ - আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহ্র উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী| 

>>> ইসলাম বিশ্বাসীদের সাথে সুর মিলিয়ে অনেক মুক্তমনা অবিশ্বাসীরাও জেনে বা না জেনে দাবী করেন যে, মক্কায় মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ড ছিল শান্তিপ্রিয়। মদিনায় ক্ষমতাধর হওয়ার পরেই তাঁর স্বভাবের পরিবর্তন হয়েছিল, হয়েছিলেন আগ্রাসী! এ দাবীর যে আদৌ কোন ভিত্তি নেই, তা মুহাম্মদের ব্যক্তি-মানস জীবনী গ্রন্থের পর্যালোচনায় অত্যন্ত স্পষ্ট! ক্ষমতাধর মুহাম্মদের মদিনার বাণী ও কর্মকাণ্ড এবং অক্ষম মুহাম্মদের মক্কার অসংখ্য অমানবিক বাণীর পর্যালোচনায় আমরা অতি সহজেই বুঝতে পারি যে মুহাম্মদ তাঁর প্রচারণায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় ছিলেন কঠোর ও আগ্রাসী। ইসলামের প্রকাশ্য যাত্রা শুরু হয়েছে নিকট আত্মীয় (আবু লাহাব) কে অভিশাপের মাধ্যমে (দ্বাদশ পর্ব)।  প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষমতাহীন কোনো মানুষের যথেচ্ছ হুমকি-শাসানী-তাচ্ছিল্য ও ভীতি প্রদর্শনের মাঝে মধ্যে কিছু সহনশীলতার বাণীকে কি তার শান্তিপ্রিয়তার প্রমাণ রূপে আখ্যায়িত করা যায়?  বিশেষ করে সেই মানুষটি যদি ক্ষমতাধর হওয়ার পর প্রতিপক্ষকে করেন খুন, বন্দী ও দাস-দাসীতে রূপান্তরিত? তাঁদেরকে বসতবাড়ি থেকে করেন উচ্ছেদ? তাদের সমস্ত স্থাবর সম্পত্তি করেন হস্তগত এবং অস্থাবর সম্পত্তি করেন লুণ্ঠন ও ভাগাভাগি?  

বিচারের ভার পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে। 

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন