৬ জানুয়ারী, ২০১৫

দ্বীনবানের দীন বাণী - ১০

বাংলাদেশের মুছলিমদের ভেতরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়াজজীবী আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, যে বলেছিল, "ঢাকা শহর যদি নড়ে উঠে, তাহলে উপরটা চলে যাবে এক হাজার কোটি কিলোমিটার নিচে", এবারে বেহেশতের হুরিদের রূপ-সৌন্দর্য বর্ণনা করছে। তার এই ওয়াজটি পড়ে/দেখে/শুনে আবারও নিশ্চিত হোন: বেহেশতে না গেলেই নয়!

ওয়াজের ভিডিও থেকে ট্র্যান্সক্রিপ্ট বানিয়েছেন নিলয় নীল

ওয়াজ ৩: হে যুবক, এতো বৈপরীত্য কেন?

জাকির নায়েকের পিচ টিভির অন্যতম জনপ্রিয় বক্তা মুফতি আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ বাংলাদেশ ও ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশে ওয়াজ মাহফিল করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি ওয়াজের কিছু অংশ হুবহু তুলে দিচ্ছি। ওয়াজটি জান্নাতের নারীরা কতো সুন্দর, কতো সুন্দর, কতো সুন্দর হবে তার বর্ণনা নিয়ে। যেসব পুরুষদের জান্নাতের নারী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই, তারা হুজুরের এই ওয়াজ শুনে উপকৃত হবেন বলে আশা করছি। 
যুবক, তুমি মনে রেখো জান্নাতের ঐ মেয়েকে ভোগ করা যাবে না এই মেয়েকে (টেলিভিশন মিডিয়ায় যেসব মেয়েরা অভিনয় করে) চোখে ভোগ করে। জান্নাতের ওরা ব্যতিক্রম নারী। ওদের ব্যপারে আল্লাহ্‌ বলেছেন, ওদের ব্যাপারে আমাদের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, জান্নাতের মেঝে হচ্ছে সোনা রূপা দ্বারা তৈরি। দেওয়াল, ছাদ হচ্ছে হীরা মুক্তা মাণিক্য দ্বারা তৈরি। চতুর্দিকে রেশমি কাপড় লাগানো আছে। আপনার জন্য গালিচা সেট করা আছে। গালিচার উপরে রেশমি কাপড় দেয়া আছে। 
আপনার জন্য শোফা (সোফা) সেট করা আছে। আপনি বসলে আপনার সামনে ৭২ থেকে ৭৩ জন নারী এসে বসবে। ওরা এতো সুন্দরী, ওরা এতো সুন্দরী, ওরা এতো সুন্দরী, আল্লাহ্‌তায়লা বলেছেন যে, ওদেরকে দেখলে মনে হবে ঝেনুকের (ঝিনুক) মধ্যে লুকানো মুক্তা। 
আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, ওরা এতো সুন্দরী, ওরা এতো সুন্দরী যে ছাড়ানো ছিটানো মাণিক্য। আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, ওরা এতো নরম, ওরা এতো নরম, ওরা এতো নরম, ডিমের কুসুম ও খোসার মধ্যে যে সাদা পদার্থটা রয়েছে, এটা যত নরম, জান্নাতের মহিলারা ততো নরম। তাহলে আপনাকে কি আমি বুঝাতে পারবো তারা কতো নরম? 
মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, গোলাকার বক্ষের অধিকারিণী ১৫/১৬ বছরের মেয়েরা যেমন হয় সেই মেয়েদের সাথেও ওদের তুলনা করা যাবে না। এরকম বক্ষের অধিকারিণী তারা, মাথায় লম্বা লম্বা কুচকুচে কোঁকড়া কোঁকড়া চুল। সুন্দর হওয়ার জন্য যত গুণ আছে, সব গুণ তাদের ভিতরে। 
কোনোদিন তাদের পেশাব (প্রসাব) হবে না, কোনোদিন তাদের পায়খানা হবে না, কোনোদিন তাদের হায়েজ (প্রতি মাসে বালেগা মেয়েদের রক্তস্রাব) হবে না, কোনোদিন তাদের শরীর ময়লা হবে না, কোনোদিন তাদের কাপড়ে ময়লা হবে না, সব সময় তারা একই রকম থাকবে। 
৭২ থেকে ৭৩ জন নারী সামনে এসে বসবে, ইতিমধ্যে অবশিষ্ট একজন কাছে এসে বলবে, আসসালামুলাইকুম। আপনি বলবেন, ওয়াআলাইকুমআসসালাম। তারপর আপনি বলবেন, তুমি কে? তখন ও বলবে, আমি হচ্ছি অবশিষ্ট। আপনি তার মুখের দিকে তাকাবেন, আপনার পুরো চেহারাটা আপনি তার গালে দেখতে পাবেন। গাল কতো স্বচ্ছ, অবশিষ্টের গাল যদি এতো স্বচ্ছ হয়, তাহলে আগে থেকে বসে আছে যারা, তাদের গাল কতো স্বচ্ছ! কী দিয়ে বুঝাই, জান্নাতের নারী কতো সুন্দরী? 
আমরা চিরস্থায়ী রয়েছি, কখনো ধ্বংস হবো না, আমরা নষ্ট হবো না, আমরা সর্বদা আপনাকে সন্তুষ্ট করে রাখবো কখনো আমরা অসন্তুষ্ট করবো না। আমরা হচ্ছি আপনার জন্য আর আপনি হচ্ছেন আমাদের জন্য। যুবক, এই নারী যদি তুমি ভোগ করতে চাও, তাহলে তুমি বলো এই পতিতালয়ের যারা তোমার টিভিতে আসছে, এরা বেশ্যালয়ের মহিলা। এই রং মাখানো পতিতালয়ের মহিলাদেরকে দেখে চক্ষু ঠাণ্ডা করে, কলিজা ঠাণ্ডা করে তুমি জান্নাতের নারী ভোগ করতে চাও? তোমাকে তো অবাক মনে হচ্ছে!
আসলেই হুজুরের শেষ লাইনের সাথে একমত না হয়ে পারছি না। আজকালকার যুবকদের দেখলে অবাকই হতে হয়।

- তারা একদিকে দাজ্জালের সৃষ্টি করা টেলিভিশনের শয়তান রমণীদের দেখে, আবার অন্যদিকে জান্নাতের হুর নিয়েও হুড়োহুড়ি করে।

- তারা একদিকে ৫ ওয়াকথু নামাজ পড়ার চেষ্টা করে, আবার ৫ বার মাশআল্লাহ্‌ হস্তমৈথুনও করে।

- তারা একদিকে পর্দা রক্ষা করতে চায়, আবার অন্যদিকে পর্দা ফাটায়।

- তাদের একদিকে মালাউনসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মনে মনে হলেও ঘৃণা করতে হয়, আবার অন্যদিকে সংখ্যালঘু মেয়ে পেলে তারাই ইনিয়ে বিনিয়ে প্রেম আর সেক্স করতে চায়।

- তারা একদিকে সহি সালামতে বিয়ে করে বালবাচ্চা উৎপাদন করতে চায়, আবার অন্যদিকে বিয়ের আগেই শয়তানী কাজে নিয়োজিত হতে হয় (নাউজুবিল্লাহ) । 

- তারা নিজের আপনজনদের (মহিলা) বস্তাবন্দী করতে চায়, অন্যদিকে পরের আপনজনদের বস্তা সবার আগে খুলতে চায়।

- তাদের একদিকে সবিতা বৌদি লাগে, আবার অন্যদিকে আয়শা-খাদিজাদের লাগে।

- তাদের একদিকে সানি লিওন লাগে, আবার অন্যদিকে কোরআন হাদিস লাগে।

- তাদের একদিকে ইসলাম পালন করতে হয়, অন্যদিকে আবার মডারেট হতে হয়।

হুজুরের মতোই বলবো, হে যুবক, এতো বৈপরীত্য কেন? আল্লাহ্‌র পথে বা শয়তানের পথে - যে কোনো এক পথে যাও। শয়তানের কাজকর্ম করে তুমি আবার আল্লাহ্‌কে পেতে চাও?


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন