১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

বৌদ্ধশাস্ত্রে পিতৃতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১৮

লিখেছেন নিলয় নীল


পুত্র সন্তান জন্মদান করাই নারীর একমাত্র লক্ষ্য। যদি সে পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারে, তাহলে কোথাও সমাদর পাবে না। প্রকৃতঅর্থে পুত্র না দিতে পারলে সেই নারীর জীবন বৃথা। তাই পুত্রসন্তান জন্মদান করতে সে যে কোনো ধরনের গর্হিত কাজ করতে পারে। সে অন্য পুরুষের সাথে পুত্র লাভের আশায় মিলিত হতে পারে, সে অন্যের পুত্রকে নিজের হিসেবে চালাতে পারে, এমনকি সে পুত্র চুরিও করতে পারে। কারণ তার সকল মান-মর্যাদা তো এই পুত্রের মধ্যেই নিহিত। 

বৌদ্ধশাস্ত্রের জাতকগুলো পাঠ করলে নারী চরিত্রগুলোতে পুত্রের আকাঙ্ক্ষা খুব ভালোভাবে চোখে পড়ে। এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো বৌদ্ধশাস্ত্র ত্রিপিটকের ন্যাগ্রোধ জাতক নিয়ে। এটি জাতক কাহিনীর ৪৪৫ নম্বর জাতক। এই জাতকের অতীতবস্তুতে মগধরাজের পুত্রবধূর পুত্রসন্তান জন্মদানের ব্যর্থতা লোকসমাজে প্রচারিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বলে রাখি, অন্যান্য প্রাচীন ধর্মের মতো বৌদ্ধধর্মেও সন্তান না হবার জন্য শুধুমাত্র নারীকে দায়ী করার দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে, এটি তার মধ্যে একটি। 

লোকসমাজে পুত্রসন্তান জন্মদানের ব্যর্থতা প্রচার হয়ে গেলে নারীটি বিপন্ন বোধ করে। এজন্য সে এক সন্তানসম্ভবা মায়ের সাথে চুক্তি করে তার পুত্র হলে সে নেবে বলে। ঐ সন্তানসম্ভাবা মায়ের একাধিক পুত্র থাকায় এবং সে দরিদ্র থাকায় সন্তানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে সম্মতি জ্ঞাপন করে। এরপর সেই নারী কৌশলে গর্ভধারণের অভিনয় করে এবং তাকে এই কাজে সহযোগিতা করে তার দাসী। বধূটি নিজেকে গর্ভবতী বোঝাবার জন্য ঋতুকাল গোপন করে, নিজের হাত পা আঘাত করে ফুলিয়ে তোলে, খাবারে অরুচি প্রচার করে, গর্ভে প্রতিদিন ন্যাকড়া জড়িয়ে রাখে এবং স্তনবৃন্তে কালি মাখিয়ে রাখে। 

এতে স্বামী ও সংসারে তার মান বৃদ্ধি পায় এবং তার সেবা-শুশ্রূষার ব্যবস্থা করা হয়। বধূটি তার মাতৃগৃহে সন্তান প্রসবের নাম করে যাত্রা করে। তারপর সেই সন্তানসম্ভবা মহিলার নবজাতককে নিয়ে নিজের নবজাতক বলে চালিয়ে দেয়। এভাবেই নারীটির মান বৃদ্ধি পায়। নারীটি তার জায়গা থেকে হয়তো নিরুপায় ছিলো, পিতৃতান্ত্রিক চাপে এছাড়া তার ভিন্ন কিছু করার কথা মাথায় ছিলো না। 


(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন