১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

মমিনীয় বেইজ্জতী প্রতিরক্ষা পদ্ধতি

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

# রোদেলা প্রকাশনীর বাংলাবাজারের অফিসে হামলা চালিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা। এটা পুরান খবর। (সামান্য একটা সহিহ হাদিস কপি-পেস্ট করে দিলেই যেখানে মমিনরা বেইজ্জতী রাখার জায়গা পায় না, সেখানে মুহাম্মদ তার ২৩ বছরের নবী জীবনে কী কী করেছে, সেগুলো পড়ে তারা আর বেইজ্জতী হতে চায় না।) নতুন খবর হলো বাংলা একাডেমিও বই মেলায় রোদেলা প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দিয়েছে এই একই অজুহাতে। অজুহাতটা হলো - ইরানের বিখ্যাত লেখক আলি দস্তির ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন আবুল কাশেম ও সৈকত চৌধুরী এবং বই আকারে প্রকাশ করেছে রোদেলা প্রকাশনী।

# আলি দস্তির মূল বইটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষিদ্ধ নয়, নিষিদ্ধ নয় বাংলাদেশেও। যে কেউ এর ইংলিশ ভার্শন কিনে পড়তে পারেন। তাহলে বাংলা অনুবাদে সমস্যা কোথায়? অনুবাদে ভুল আছে? তসলিমা নাসরিন কিংবা হুমায়ুন আজাদের বই মমিনরা না পড়েই নিষিদ্ধের দাবি করে, কারণ এনারা ধর্মকর্ম করেন না। তাদের বইয়ে ভুলটা কোথায়, সেটা কোনো মমিন আজ পর্যন্ত বলতে পারল না! ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটির অনুবাদও কোনো মমিন পড়ে দেখে নাই, পড়ে দেখাতে পারে নাই যে, কোথায় অনুবাদে ভুল আছে। তারপরেও এত ক্যাচাল… কারণ বইটির অনুবাদক দু'জনের কেউও ধর্মকর্ম করেন না। চুলকানিটা এখানেই! আর চুলকানি হবেই বা না কেন! ২/৩ ইঞ্চি বাঁকানো আগা মোটা গোড়া চিকন ঈমানদণ্ডে চুলকানি বেশি - সে আর নতুন করে কী বলব!

# একটা মজার বিষয় - কোরানের বাংলা অনুবাদ করেছে মমিনরা। কেউ সেই অনুবাদ কপি-পেস্ট করলে আবার মমিনরাই বলে - অনুবাদে ভুল আছে! ইসলামের ইতিহাস মুসলমানদেরই লেখা। নাস্তিকরা নতুন করে কোনো কিছু বানিয়ে বলে না। তারা শুধু দেখায় মুসলমানদের নিজেদের বানানো কাহিনীতেই অসঙ্গতি এবং তথ্যে গরমিল। এরকম হয়, কেননা একটা মিথ্যাকে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে সেই মিথ্যাকে আগে ঢাকতে হবে। একটা মিথ্যাকে ঢাকতে আরো হাজারটা মিথ্যার দরকার হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত পুরা জিনিসটাই তাসের ঘরের মত পুরা মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর একটা মিথ্যাকে টান দিলে যা হয়… পুরা কাহিনীটাই প্রশ্নবিদ্ধ!

# কয়েকদিন আগে ইসলামের ইতিহাস থেকে হামযা আর নবীর জন্ম কাহিনীর দুইটা লাইন তুলে দিয়ে নাস্তিকরা দেখিয়েছে, তথ্যে গরমিল আছে। সেটা মেকআপ দিতে মমিনরা আরো হাজারটা অযৌক্তিক তথ্যের আমদানি করেছে। কেউ কেউ বলেছে, নবী নাকি তার মায়ের গর্ভে ৪ বছর ছিল! ঈশা নবীর মত নবীও যে আল্যার মাল, সেইটা কইতেই শুধু বাকি রাখছে! আরেকটু চেপে ধরলে তারা এটাও বলবে একদিন... আমি নিশ্চিত!

# যা হোক, আলি দস্তির ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটিতে লেখক কোথাও নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে নবীকে কোনো বিশেষণে ভূষিত করেন নাই। তিনি শুধু ইসলামিক ইতিহাস থেকে তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। ঈমানদণ্ডে কী পরিমাণ চুলকানি থাকলে এতেই মমিনরা এত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে, একটু ভেবে দেখেন!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন