৭ মার্চ, ২০১৫

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ৩৯

লিখেছেন ওয়াশিকুর বাবু

১১৭.
'বাঙলাদেশ অমরদের দেশ। এ-দেশের প্রতি বর্গমিটার মাটির নিচে পাঁচ জন ক’রে অমর ঘুমিয়ে আছেন।' - হুমায়ুন আজাদ

তিনি যে কথাটি বলেননি, 'বাংলাদেশ ধর্মগাধাদের দেশ। এ-দেশের প্রতি বর্গমিটার মাটির উপর পঞ্চাশ জন করে ধর্মগাধার বিচরণ, যারা অমরদের মাটির নিচে ঘুমাতে পাঠিয়ে দেয়।'

১১৮.
একসময় ধর্ম ব্যবসা করত মোল্লা-পুরুতরা। কারণ তখন সাধারণ মানুষ জীবিকা নির্বাহ ছাড়া জগতের তেমন খোঁজ রাখতো না। তাই মোল্লা-পুরুতরা ধর্মের নামে যা বলতো, তাই বিশ্বাসীরা মেনে নিত।

এখন মানুষ একটু-আধটু দুনিয়ার খোঁজ-খবর রাখে। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে বিশ্বাসীদের একটা অংশের চিন্তা-ভাবনা এগিয়ে গিয়েছে। তারা বোঝে, বিজ্ঞানকে পুরাপুরি অগ্রাহ্য করা সম্ভব না, নারীদের সম্পূর্ণ ঘরবন্দী করে রাখা যায় না, বিধর্মী হলেই তাদের ওপর খড়গহস্ত হওয়া ঠিক না। ধর্মগ্রন্থের বেশিরভাগ বাণীই তাদের সংশয়ী করে ফেলে।

এই আধা-ধার্মিক আধা-আধুনিক মানুষদের নিয়ে এখন ধর্ম ব্যবসা করে সুশীল, মডারেট ও বুদ্ধিজীবীরা। তারা ধর্মের সাথে বিজ্ঞান, নারীবাদ, সেক্যুলারিজম মিশিয়ে কথিত শিক্ষিত (সনদপ্রাপ্ত) শ্রেণীকে খাইয়ে দেয়। সাধারন মানুষের চিন্তার অগ্রসরতার কারণ যে মানব-রচিত শিক্ষা, কিছু মহামানবের আত্মত্যাগ, বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত গবেষণা, সাহিত্যিক, দার্শনিক - তা অস্বীকার করে এসবের পেছনে ধর্মের অবদান বের করে।

মানুষের অবদান অস্বীকার করে কথিত স্রষ্টা বা ধর্মের অবদান পুরোপুরিই প্রতারণা। সবকিছুই ধর্মে থাকলে এই আধা-ধার্মিক মানুষগুলো আর কষ্ট করে পড়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করে না, যুক্তির নিরিখে যাচাই করার চেষ্টা করে না। এভাবে বিজ্ঞান বা মুক্তচিন্তার প্রসারের নামে বিশ্বাসের প্রসারই হয়; সংশয়ী মনের এখানেই ইতি ঘটে।

এই নব্য ধর্মব্যবসায়ীরা নাস্তিকদের ওপর খুব ক্ষ্যাপা। নাস্তিকরা তাদের ধর্মব্যবসার গোড়ায় জল ঢেলে দেয়। তাই কোনো নাস্তিক কোপ খেলেই তাদের মিনমিনে কন্ঠ শোনা যায়, 'হত্যা সমর্থন করি না তবে, কিন্তু...'

নব্য ধর্মব্যবসায়ীরা যে কোনো পেশাজীবীই হতে পারে। তবে এদের মধ্যে ডাক্তারদের সংখ্যাধিক্য লক্ষণীয়।

১১৯.
'ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘর্ষ নেই।'

অবশ্য এই বিজ্ঞান জোকার নালায়েকের বিজ্ঞান। যেই বিজ্ঞানে মনে করা হয়, বিজ্ঞানীরা বসে বসে ধর্মগ্রন্থ পড়ে সব আবিষ্কার করে।

আর যেই বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু, প্রশ্ন তোলে, সংশয়ী হতে শেখায়, মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য স্রষ্টার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে, বিবর্তনের কথা বলে, সেই বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের অবশ্যই সংঘর্ষ আছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন