১০ মার্চ, ২০১৫

মডারেট মুসলিম - সর্ষের ভূত

লিখেছেন শান্তনু আদিব

সর্ষের ভূত কী জিনিস, জানেন? না জানলে দেখতে আসুন মডারেট মুসলিম বাঙালির মনের ভেতরটা। গাছেরটা খাবে, তলারটাও কুড়াবে - এমন আচরণের প্রকৃষ্ট নমুনা পাবেন এদের মধ্যে। উদাহরণ শুনতে চাইলে পুরনো একটা দিয়েই শুরু করি না হয়, "আমিও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা...।"

এবার নতুন একটা বলি, "আমিও অভিজিতের হত্যার বিচার চাই কিন্তু অভিজিৎ যা করেছে সেটা মানতে পারছি না। এমনি এমনিই কি আমরা পৃথিবীর দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম? তার উপরে ইসলাম হল শান্তির ধর্ম, এ ধর্ম মানবতার কথা বলে।"

হ্যাঁ, এই বাঙালি মডারেট মুসলিম শ্রেণীই হচ্ছে সর্ষের ভূত। এদের জন্য ইসলাম নামক ভূতটাকে এখনো তাড়ানো যাচ্ছে না। এদের অনেকে খেলার সাথে রাজনীতি মেশায় না, কিন্তু মুসলিম ভাই বলে পাকিস্তানকে ঠিক সাপোর্ট করে। আরেকদল আছে বাকস্বাধীনতার পক্ষে, কিন্তু বাকস্বাধীনতার ব্যবহারকারীদের বিপক্ষে।

আপনি পাবে যাবেন, মদ খাবেন, নাচবেন, ইসলাম মানবেন না - সব ঠিক আছে। তারা নিজেরা সেরকম জীবন যাপন করে। কিন্তু যেই শুনবে কেউ একজন নাস্তিক, তখনি বলে বসবে, না না এরকম করে বলাটা ঠিক না, এতটা উগ্রতা ভালো না। নাস্তিক শুনলে যেন এদের অনেকের গায়ে যেন গরম তেলের ছিটে লাগে।

এই জগাখিচুড়ি মডারেট শ্রেণীই মূলত প্রচার করে - ইসলাম শান্তির ধর্ম। এরাই মূলত পানি-রোদ দিয়ে ইসলাম নামক বিষবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখে। যখনি আপনি ইসলামের সমালোচনা করতে যাবেন এরাই আগ বাড়িয়ে এসে আপনাকে থামাবে। নিজেরা হয়ত খুন করবে না কিন্তু আপনি খুন হবার পরে রক্ত মুছবে। আবার আপনার মৃত্যু স্মরণে মানববন্ধনেও তারা থাকবে।



একজন অভিজিৎ রায় খুন হলেন, দেশে বিদেশে উঠল প্রতিবাদের ঝড়। স্বাভাবিক, এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু অভিজিৎ খুন হলেন, সেটা নিয়ে হাতে গোনা অল্প কিছু মানুষ ছাড়া তেমন কেউ কিছু বলছে না, করছেও না। অভিজিৎ রায় যে প্রগতির কথা বলতে খুন হয়েছেন, সেটা সবাই জানে, সেটা বলছেও, কিন্তু ১৪০০ বছরের পুরাতন আইনের বিরুদ্ধে কথা বলতে যাওয়াটা যে প্রগতির অংশ, সে কথাটি সবাই উহ্য রাখতে পারলেই যেন বাঁচে। আফটার অল, আমরা সবাই তো কম্যুনিটিতে বাস করি, সমাজ ছাড়া হয়ে গেলে চলবে কী করে!

* প্রাসঙ্গিক পোস্ট: মডারেট মুসলিমমানস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন