১৭ মার্চ, ২০১৫

ধর্মান্তিক সমাচার - ০২

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

৪.
রাষ্ট্র যতদিন নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না, ততোদিন রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বেই ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাবে। নাহলে আইন-শৃংখলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। মানুষকে শাসন করার জন্যই একটা সাধারণ ছাতার প্রয়োজন হয়, যেন তার নিচে সবাইকে জড়ো করে গুটিকয়েক মানব-সৃষ্ট আইন দিয়ে সবাইকে গাধার পালের মত চালানো যায়। ধর্ম এরকমই একটি ছাতা। নৈতিক শিক্ষাহীন কোনো জনগোষ্ঠীকে “দুর্নীতি সমাজের বাকিদের জন্য ক্ষতিকারক” বলার চেয়ে “দুর্নীতি করলে হাজার বছর আগুনে পুড়তে হয়, দোজখে সেক্সি কোন মেয়ে থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি” বলা বেশি লাভজনক। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের রাষ্ট্র কি নৈতিক শিক্ষা আদৌ নিশ্চিত করতে পারবে কোনোদিন? উত্তর হচ্ছে: না। কারণ রাষ্ট্রের রাঘব-বোয়ালরা কেউই সুস্থ-মস্তিস্কের অধিকারী নন। তাঁরা ধর্মকেই সংবিধান মানেন। সুতরাং ধর্মদ্রোহী বিপ্লব চলছে, চলবে। সবাই বলেন, “জাঝাকাল্লাহ খায়রান।”

৫.
এছলাম ধর্মের বহু জায়গায়, কোরানে, হাদিসে “৭০ গুণ” কথাটা অনেকবার এসেছে। দোজখের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি ভয়ংকর। ৭০টা হুর পাবেন আপনি বেহেশতে গিয়ে। আসলে ব্যাপারটা কী? ব্যাপার কিছুই না। আরবি ভাষায় “৭০” সংখ্যাটি একটি বহুল-ব্যবহৃত উপমা। আমরা যেমন বলি, “তার তো কোটি কোটি টাকা”, কিংবা “চৌদ্দবার বললেও তোর শিক্ষা হবে না”... এরকম। আসলে আরবিতে Enormous amount বা কোনোকিছুর বিশাআআআআআআআল পরিমাণ বোঝাতে “৭০” সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। আপনি দেখবেন বাংলাদেশের হুজুরেরা ওয়াজে “৭০” উচ্চারণ করার সময় চোখ বড় করে ফেলে, ঠোঁট চোখা করে ফেলে, মাথা একদিকে কাৎ করে ফেলে। এটা হচ্ছে নিজের হিসাবের আয়ত্তের বাইরের কোন কিছু বর্ণনা করার চেষ্টাজনিত ব্যর্থতার সাইড-ইফেক্ট। আফ্রিকা, আমাজন, অস্ট্রেলিয়ার কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠী আছে; যারা ২ এর বেশি গুনতে পারে না। তারা চারকে বলে “দুই, দুই।” তারা ছয়কে বলে “দুই, দুই, দুই।” উপসংহার হিসেবে আমি বলতে চাই: আমার চেয়ে ৭০ গুণ অশিক্ষিত কেউ এসে ৭০ বারও যদি আমাকে জীবন, প্রাণের উৎস, মহাকাশ, মহাকাল, সমাজ ও অর্থনীতি নিয়ে জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করে; আমি তাকে ৭০ বার লাথি মারবো। সবাই বলেন, “আমিন।”

৬.
আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা একটা প্রশ্ন নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত। আমরা কি বাঙালি নাকি বাংলাদেশী? এবং এই প্রশ্নটা রাজনৈতিকভাবে যতটা বেশি আলোচনায় আসে, তার চেয়ে বেশি আসে ধর্মীয়ভাবে। আরও সূক্ষ্মভাবে বললে - এছলামিকভাবে। কেন? কারণ আমি যদি বাঙালি হই, আমাকে এছলামের কথা বলে বেশিক্ষণ দমানো যাবে না। কারণ আমার নিজস্ব সাংস্কৃতিক একটা পরিচয় তখন থাকে। কিন্তু মোছলমানদের কাছে সংস্কৃতি বলে কিছু নেই। আল্লাহ্‌র পেয়ারের নবী মোহাম্মদ যেভাবে খেয়েছেন, হেগেছেন, ঢিলা-কুলুখ করেছেন, ডান দিকে কাৎ হয়ে ঘুমিয়েছেন, দাড়ি রেখেছেন... এগুলোই সবাইকে মানতে হবে। সুতরাং আপনাকে মোছলমান বানাতে হলে আগে আপনাকে আপনার আসল সাংস্কৃতিক পরিচয় ভেঙে দিতে হবে। এজন্যই হিন্দুদের বিষোদগার করে আপনাকে সবসময় বোঝানো হয় যে, “আপনি তো আর মালাউন না। সুতরাং আপনি বাঙালি না। আপনি বাংলাদেশের মানুষ। তাই আপনি বাংলাদেশী। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ কোন আফিম (ধর্ম) খায়? এছলাম। সুতরাং আপনে চইলা আসেন ছহীহ তরিকায়। নইলে কিন্তু আপনারে জবাই করা হইবে।”

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন