১১ মার্চ, ২০১৫

ডাকাত-উন-নবী

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

মুসলমান ঐতিহাসিকেরা বিভিন্ন সুত্রে দাবি করেন যে, ছোট-বড় মিলিয়ে নবীজি প্রায় শতাধিক "যুদ্ধ" করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত সত্যটা হচ্ছে এই: ঐতিহাসিকেরা নবী মুহাম্মদের অনৈতিকতা ও নির্মমতাকে ঢাকবার জন্যে লুণ্ঠন উদ্দেশ্যে করা বিভিন্ন অভিযান (Expedition), অতর্কিত হামলা (Invasion), হঠাৎ চড়াও হওয়া (Raids) এবং নিষ্ঠুর হত্যালীলাকে (massacre) যুদ্ধের মর্যাদা দেওয়ার হীন চেষ্টা চালান ও একটি মাত্র শব্দ জিহাদের ধোঁয়াটে আবরনে আবৃত করবার হাস্যকর অপপ্রয়াস চালান।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কথিত এই জিহাদগুলো সংগঠিত হয়েছিল আচমকা এবং অতর্কিত এই হামলাগুলোর প্রায় কোনোটিতেই তিনি প্রতিরোধের সম্মুখীন হননি এবং এসবের অধিকাংশগুলো থেকেই গনিমতের প্রচুর মাল অর্জন করেন। লুটপাটের উদ্দেশ্যে করা এই আক্রমণগুলোকে যুদ্ধ বলা সমীচীন নয়, কারন হামলা আর যুদ্ধ সমার্থক নয়।

এমনকি বহুল কথিত "বদরের যুদ্ধ" বলে কথিত লড়াইটির উদেশ্যও কিন্তু ছিল আবু-সুফিয়ানের কাফেলা লুন্ঠন।

নবীজির জীবনের একটি যুগই কেটেছে লুটপাট করে; সে উদ্দেশ্যে যে সব আক্রমণ তিনি করেছেন, তাতে হত্যা, নারী- ও শিশুহত্যা, বন্দিনী নারীদের ধর্ষণ, গুম খুন, শপথ ভঙ্গ করে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যার মত নির্মমতা ছিল অতি সাধারণ ঘটনা।

এমনকি মক্কা থেকে বিতাড়িত হবার পর মদিনার যে ইহুদি গোত্রগুলি তাঁকে আশ্রয় দেয়, সেই বানু কানুইকা, বানু নাজির ও বানু কুরাইজা গোষ্ঠীগুলোকে তিনি একে একে নির্মূল করেন; দুটি গোষ্ঠী হয় নির্বাসিত আর অন্যটির সকল পুরুষকে হত্যা করে শিশু ও নারীদের তিনি বানিয়েছিলেন দাস-দাসী। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি করেছিলেন দখল। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির উৎসও সেই দখলীসূত্রেই, কোনো কর্মসূত্রে নয়।

যে কোনো লড়াইকে "যুদ্ধ" নামে অভিহিত করতে হলে কিছু মৌলিক শর্তের প্রয়োজন হয়; যেমন, প্রধানতম শর্ত হচ্ছে, যুদ্ধে সেনাদলের উপস্থিতি থাকতে হবে, আক্রমণ ও প্রতিরোধ উভয়ের চরিত্র হতে হবে সশস্ত্র, এতে ন্যূনতম হলেও প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে সামরিক কৌশলের ব্যবহার থাকতে হবে এবং সামরিক সরবরাহের বন্দোবস্ত থাকতে হবে।

সেই বিচারে মুহাম্মদের অতর্কিত হামলাগুলোর কোনোটিই যুদ্ধ নয়; হামলা মাত্র।

তবে কি মুহাম্মদ যুদ্ধ করেননি? হ্যাঁ, করেছেন। সঠিক অর্থে মুহাম্মদ যুদ্ধ করেছেন মাত্র তিনটি।

১. মদিনার প্রতিরোধের যুদ্ধ, যা খন্দকের যুদ্ধ নামে পরিচিত
২. মক্কা জয়ের যুদ্ধ
৩. আরব ভূখণ্ড রক্ষার যুদ্ধ

আইসিস, তালিবান, বোকো হারাম এদের কর্মকাণ্ড নবীর আচরণের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং নবী নিজে কি এ ধরনের কোন নির্মমতা প্রদর্শন করেছেন কি না, সে তথ্য জানতে খন্দকের যুদ্ধটির পর্যালোচনা জরুরি। ঘটে যাওয়া এই নির্মমতা ছিল রোমহর্ষক ও পাশবিকতার এক জলন্ত উদাহরণ।

৫ম হিজরীর শাওয়াল মাসে ঘটা এই যুদ্ধে প্রকৌশল শাস্ত্রে দক্ষ সালমান ফারসীর ভুমিকা ও সামরিক কৌশলের ব্যবহার ছিল অনন্য; মদীনার চারপাশে পরিখা খনন করে কোরাইশদের সম্মিলিত বাহিনীকে রুখে দেয়াটাও ছিল অভাবনীয় সাফল্য। কিন্তু অতি হাস্যকরভাবে এক্ষেত্রেও মুসলমান ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় একদেশদর্শীতার পরিচয় পাই, যা অরুচিকর। এ ক্ষেত্রেও তারা মুহাম্মদের যুদ্ধ কৌশলকেই উল্লেখ করার হীন চেষ্টা করেন।

খন্দকের যুদ্ধের ইতিহাস, সে যুদ্ধের চরিত্র, অনুসৃত কৌশলগুলো, ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের সাথে চুক্তি ও সম্পর্ক, প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াত ও হাদিস বিশ্লেষণ করলে এটাই স্পষ্ট হয় যে, কুরাইশদের রুখে দেওয়াতে মুসলমানদের পাশাপাশি বনু কুরাইজাদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য, কারণ একমাত্র বনু কুরাইজাদের এলাকাতেই পরিখা কাটা ছিল না।

বনু কুরাইজারা যদি সত্যিই মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করত, তবে আবু সুফিয়ানের বাহিনী সেদিক থেকে প্রবেশ করে মুসলমানদের কচুকাটা করতে পারত, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সে রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বনু কুরাইজাদের নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান, এমনকি অকারণ দোষারোপের অপচেষ্টাও করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রামাণ্য হাদিসও আছে, কিন্তু স্পষ্টতই সেসব অপচেষ্টায় বনু কুরাইজা গোষ্ঠী বিভ্রান্ত হয়নি। তারা মুসলমানদের বশ্যতা স্বীকার না করলেও কুরাইশদের সহায়তাও করেনি। ফলে এ যুদ্ধে মুসলমানরাই বিজয়ী হয়। এর পরও মুহাম্মদ তাঁর ইহুদিবিদ্বেষের চরম নিদর্শন প্রদর্শন করেন পুরো বনু কুরাইজা গোষ্ঠীকে হত্যা করেন, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেন, তাদের নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানিয়ে, বিভিন্ন উপায়ে ধর্ষণসহ মানবেতর বহু অন্যায় করেন ।

অনেক ঐতিহাসিকের মতে বনু কুরাইজাদের উপর এই আক্রমণ ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। কারণ কোরাইশদের সম্মিলিত বাহিনীকে রুখে দেয়ার পর, যুদ্ধ শেষে কোনো প্রতিবাদ-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই মুহাম্মদ ঘরে ফিরে এসেছিলেন; অথচ পরবর্তীতে জিবরাইলের দেয়া অসত্য তথ্য ও প্ররোচনায় বনু কুরাইজাদের ওপর চরম নির্মমতা প্রদর্শন করলেন, তাও আবার প্রায় ৮০০/৯০০ জন পুরুষের শিরোশ্ছেদ করে এবং নিরপরাধ নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানিয়ে; এই অন্যায় কোন যুক্তিতে মুসলমান ঐতিহাসিকেরা সমর্থন করেন, সেটা বোঝা দায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন