২ মার্চ, ২০১৫

দুঃস্বপ্নে শুনি, আল্লাহুয়াকবর

লিখেছেন শান্তনু আদিব
আমি নাস্তিক। কিন্তু আমার আশে পাশের বহু কাছের মানুষজন বন্ধু বান্ধবই মুসলিম। তাদের উপর আমার কোন রাগ নেই, নেই কোন ঘৃণা। তাদের আনন্দের দিনে আমিও আনন্দিত হই। তাদের উপর নিপীড়ন হলে আমিও বেদনার্ত হই। প্যালেস্টাইনে বা কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য বোধ করি না। অতীতেও দাঁড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবো। এটাই আমার মানবতার শিক্ষা।
- অভিজিৎ রায়
এই অভিজিৎ রায় এখন অনেকের কাছে হিন্দু। অনেকেই তাকে হিন্দু লেখক বলে চালাবার চেষ্টা করছে (পশ্চিমবঙ্গের আঁতেল সমাজ দ্রষ্টব্য), অনেকে মনে করছে অভিজিৎ নাস্তিক হলেও তার হিন্দুয়ানী নামের জন্য তাকে মোল্লারা খুন করেছে। কেউ কেউ (বামাতি) আবার তাঁর হত্যাকাণ্ডটিকে হিন্দু-মুসলিম ক্যাচাল বলেও চালাতে চাইছে।

সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, অভিজিৎ রায় নাস্তিক। তিনি নিজের মুখেই সেটা বলেছেন। তাঁকে হিন্দু বললে হয়ত এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদদের ধান্দার সুবিধা হবে, কিন্তু এতে অপমান হবে অভিজিৎ রায়-এর। অভিজিৎ রায় যে-যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার অপমান হবে, সে যুদ্ধকে রুখে দেওয়া হবে।

তাঁর হত্যাকারীদের কাছে তিনি হতে পারেন হিন্দু, কিন্তু সেটা তাঁকে হত্যা করার কারণ কখনওই ছিল না। বাংলাদেশে কি হিন্দু লেখক আর নেই, ভারতীয় হিন্দু লেখকেরা এলেই কি তাদের মেরে ফেলা হয়? না, হয় না। তাঁকে মেরে ফেলার একটাই কারণ যে, তিনি একজন মুক্তমনা নাস্তিক।

তিনি মানুষের অধিকারের পক্ষে বলতেন। ধর্মীয় গোঁড়ামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখতেন। সমকামীদের ব্যাপারে প্রেজুডিসের ব্যাপারে লিখতেন। এগুলো তো কখনই মৌলবাদীদের পছন্দ হবে না, হতে পারে না। কারণ সেই মৌলবাদীগুলো একবিংশ শতকে বসবাস করলেও ধ্যান-ধারণা বয়ে চলে ১৪০০ বছর আগের মরু প্রান্তরের।

একজন মুক্তমনার মৃত্যু মানে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদদের আর সুডো-সেকুদের ঈদের দিন। সবাই শুধু সেই সুযোগ নেবে। কেউ করবে ধান্দা, কেউ খাবে হিট।

অভিজিৎ রায়-এর মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছি, থমকে গিয়েছি, সাথে ভয়ও একটু পেয়েছি। তারপরেই ভয় ঝেড়ে ফেলে দিয়েছি। যারা আমাদের ভয় দেখাতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য যাতে কোনভাবে সফল না হয়, সে জন্য রুখে দাঁড়িয়েছি।

অভিজিৎ রায়-এর ওপরের স্টেটমেন্ট খেয়াল করে দেখুন, তিনি কিন্তু মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যখনি দরকার হয়েছে। এটা শুধু কথার কথা নয়, প্রমাণও আছে। তাঁদের জন্য তিনি হয়েছেন বেদনার্ত, যখন হয়েছে তারা নিপীড়িত। কিন্তু দিনশেষে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছে সেই মুসলিমদের হাতেই।

আমি খুব বিশ্বাস করতে চাই, সব মুসলিম খারাপ না। আফটার অল, আমার আত্মীয়স্বজন পরিবারের সবাই তো মুসলিম। তারপরেও বিশ্বাস করতে চাইলেও ইদানীং আর তা করতে পারছি না। অপরিচিত মুসলিম দেখলে ভয় লাগে, দাড়ি-টুপি মোল্লা দেখলে চমকে উঠি, দুঃস্বপ্নে শুনি, আল্লাহুয়াকবর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন