৯ জুন, ২০১৫

ঘৃণার ন্যায্য অধিকার

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

মুসলিমদের পবিত্র কিতাব কোরান থেকে কিছু উদ্ধৃতি:
- হত্যা করো যেখানেই তাদের পাও (২:১৯১)
- ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ তাবৎ ফিতনা দূর না হয় এবং আল্লার দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয় (২:১৯৩)
- কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবে (৩:১৫১)
- তাদের হত্যা করো, শূলীতে চড়াও কিংবা তাদের হাত-পা কেটে দাও, অথবা দেশ থেকে নির্বাসন দাও (৫:৩৩)
- আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবো, তাই তাদের গর্দানের উপর আঘাত করো এবং আঘাত করো ওদের প্রতি আঙ্গুলের গাইটে (৮:১২)
- ওদের সাথে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে আল্লা ওদেরকে শাস্তি দেওয়াবেন ও লাঞ্ছিত করবেন (৯:১৪)
- যুদ্ধ করো যারা বিশ্বাসী নয় আল্লা ও পরকালের প্রতি (৯:২৯)
- হে রাসুল, জেহাদ করো কাফেরদের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে এবং ওদের প্রতি কঠোর হও, আর ওদের আবাস জাহান্নাম; ইহা নিকৃষ্ট পরিণতি (৯:৭৩)
- হে ঈমানদারগণ, তোমরা আশেপাশে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করো, যাতে ওরা বোঝে তোমাদের শক্তি-সামর্থ্য এবং জানে আল্লা সাবধানীদের সাথে আছেন (৯:১২৩)
এই জঘন্য কথাগুলি মুসলমানদের পাক কোরানে তাদের নবীজি মোহাম্মদ রচনা করে দিয়ে গেছে। এছাড়াও আরো অগণিত ঘৃণ্য কথা আছে কোরানের আয়াতে-আয়াতে। হাদিসে রয়েছে মোহাম্মদের সমস্ত কৃত হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও ধোঁকাবাজির বর্ণনা। এই কোরান-হাদিস নামক বইগুলিতে যারা বিশ্বাস করে, তারা কেন কোরানের রচয়িতা ও হাদিসের হরর-নায়ক মোহাম্মদের মত জঘন্য হবে না?

কয়েক বছর আগে কোরানের অনুবাদ যখন পড়তে শুরু করেছি, তখন এক একটা আয়াত পড়ে প্রবল ঘৃণায় আঁতকে উঠেছি। এত বাজে কথা কেউ চিন্তা করতে পারে? এত বর্বর কেউ কখনো হতে পারে? এত প্রতারক, এত ভণ্ড কীভাবে হয় কোনো মানুষ? দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে একজন মানুষ মিথ্যা বলে যেতে পারে বিরামহীন? ২৩ বছর ধরে কোনো মানুষ ধর্ষণ, ডাকাতি, খুন আর ধোঁকাবাজি করে যেতে পারে? 

পারে। মোহাম্মদ পেরেছে। তার উম্মত মুসলমানেরাও পারে।

যারা বিজ্ঞানের কথা বলে, মানবতার কথা বলে, যুক্তির কথা, নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলে, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিপক্ষে কথা বলে, শিল্পের কথা বলে, সাহিত্যের কথা বলে, তাদেরকে হত্যা করা ইসলামিস্টদের জন্য ফরজ। 

কারণ ইসলাম বিজ্ঞানবিরোধী, মানবতাবিরোধী, যুক্তিবিরোধী। 
নারীকে তারা শুধু সেক্স মেশিন ও ঢোল হিসেবে ব্যবহার করে। 
বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ তাদের নবীজি মোহাম্মদের অতি প্রিয় বস্তু ছিল। 
শিল্প সাহিত্য ইসলাম ও ইসলামের নবীজির চরম শত্রু। নবীজি কবি-সাহিত্যিকদেরকে হত্যা করতো। 

তার অনুসারীরা এমনই তো হবে। 

সব ধর্মই খারাপ। সব ধর্মগ্রন্থই বাজে কথায় ভরপুর। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা কালক্রমে সভ্যতার ক্রমবিকাশে সভ্য হয়ে উঠেছে। ওদের ধর্মগ্রন্থের বাজে কথাগুলি পুঁথিগত নির্বিষ বস্তু হয়ে বইয়ের পাতায় বন্দী হয়ে আছে অনেকটা। একমাত্র ইসলামই এখনো বিষাক্ত কালকেউটে। এই যুগেও ইসলামিস্টরা সেই দেড় হাজার বছর আগে মরে ভূত হয়ে যাওয়া নবীজির মত বর্বর, ডাকাত, খুনি, জিঘাংসু, জঘন্য। হাজার বছরের পরিশ্রম ও সাধনায় এক একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে। তাকে ধ্বংস করে দিতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। একজন বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী মানবতাবাদী লেখক তৈরি হতে বিপুল পরিশ্রম লাগে, লাগে সাধনা। 

সেই লেখককে এক সেকেন্ডে খুন করে ফেলে ইসলামিস্টরা। কারণ তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান যুক্তি মানবতাকে ভয় পায়, ভয় পায় কলমকে। ওদের নবীজি যে গণ্ডমূর্খ ছিল। বর্তমান বিশ্বের একমাত্র প্রধান শত্রু হচ্ছে ইসলাম। মানবতা ও মানব সভ্যতার একমাত্র প্রধান শত্রু হচ্ছে ইসলামিস্টরা। লক্ষ লক্ষ বছরে গড়া মানব সভ্যতা রক্ষা করার জন্য এই মুহূর্তেই ইসলাম এই পৃথিবীতে নিষিদ্ধ করা উচিত। ইসলামিস্টদেরকে একঘরে করা উচিত। আজকাল মানুষ আর ভূত-পেত্নীকে ভয় পায় না, ভয় পায় ইসলামকে ও ইসলামিস্টদেরকে।

তিন মাস আগে আমার এক বন্ধু আমাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠায়, অভিজিৎকে ওরা মেরে ফেলেছে। তার একমাস পরে ওরা বাবুকে খুন করলো। তার একমাস পর আবার মোবাইলে মেসেজ পাই, ওরা অনন্ত বিজয়কে মেরে ফেলেছে। এখন আমার ফোনে রিং হলেই ভয় লাগে।মনে হয়, এই বুঝি শুনবো আরেক নিরপরাধের খুনের সংবাদ। 

ইসলাম এখন মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। আমি ইসলামকে ঘৃণা করি সমস্ত অন্তর দিয়ে। তার মানে কি আমি সব মুসলিমকে ঘৃণা করি? কেউ কেউ বলবেন, সকল মুসলিমের কী দোষ? আমি বলি: না, সকলের দোষ নিশ্চয়ই নেই, তবে যে সব মুসলিম হত্যা করে, ও যারা হত্যাকে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ বা প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন যুগিয়ে যায়, তাদের সংখ্যা বিপুল বলে তাদের সকলকে আমি ঘৃণাও করতে পারবো না? 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন