৮ জুন, ২০১৫

যার কেউ নেই, তার আল্লাও নেই

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

"যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছে" - কথাটা ভুল।

আসুন, প্রমাণ করি: "যার কেউ নেই, তার আল্লাও নেই।"

এক লোকের সামনে দুটো প্রাণী। ধরুন, দুটো ছাগল। একটা ছাগল সুস্থ, অন্যটা অসুস্থ। এখন তিনি সুস্থ ছাগলটার শরীরে হাত বোলালেন, আদর করলেন, কাঁঠালপাতা খেতে দিলেন। তারপর অসুস্থ ছাগলটাকে ওভাবেই রেখে চলে গেলেন। এখন তাঁকে কি দয়ালু বলবেন? মহান বলবেন? বলবেন না। কারণ যে-ছাগলের সাহায্য দরকার ছিল, তাকে করেননি। 

আর যে ছাগলটি সুস্থ ছিল, তাকে তো সাহায্য না করলেও চলতো। মোদ্দা কথা, যে-অচল, দুর্বল তাকে সাহায্য না করে যে-সবল, সচল, তাকে সাহায্য করা মানে তেলা মাথায় তেল দেওয়া ছাড়া কিছুই না।

আসুন, দেখি, কুরান কী বলে:
তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
(সূরা রা’দ, ১১)
খেয়াল করুন, "আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।" বুঝলেন তো, আপনি নিজে নিজের উন্নতি আগে করুন তারপর... তারপর আর কী? উন্নতি তো হয়েই গেল, আল্লাহ আর কী করবে? নিজের পরিশ্রমে উন্নতি করে সব কৃতিত্ব আল্লাহকে দিন।

আর যে দুর্বল, পরিশ্রম করতে পারছে না, তার জন্য আল্লাহ সাহায্য না দিয়ে অপেক্ষা করছেন কবে সে নিজে নিজেই উন্নতি করবে? তখন তিনি শুধু কৃতিত্ব নিজের করে নেবেন। 

সারকথা হল: যে উন্নতি করতে অক্ষম (অক্ষম বলতে যার অর্থ নেই বা কাজের উপযোগী শরীর নেই বা তাকে সাহায্য করার মত কেউ নেই) তার সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাও নেই। প্রমাণিত।

হ্যাঁ, আল্লাহ আছেন, তবে উন্নতি করার পর যখন আল্লাহকে আর দরকার নেই, তখন। আর মোল্লারা তাকে তখন বলবেন, "আল্লাহ আপনাকে দুস্থ থেকে এতো উন্নীত করেছে, আপনি এবার হজ্জ্ব মারেন।"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন