১৪ জুলাই, ২০১৫

মুসলমানদের ভণ্ডামি: ধর্ম ও জিরাফের গল্প

লিখেছেন শোভন

৯০% মুসলমানের বাংলাদেশে ৯৯% ই মুনাফিক। তারা ইসলামের ই-ও জানে না, কচুটাও মানে না। 

নামাজ তো বেশিরভাগ লোকই পড়ে না। তারা সেহেরি পার্টিতে আসে শর্ট স্কার্ট আর স্লিভলেস গাউন পরে। তাদেরকে দেখা যায় বোটানিক্যাল গার্ডেনে গার্লফ্রেন্ডের কাপড়ের নিচে হাত দেওয়া অবস্থায়, অথবা কোনো এক নেশাখোরদের আড্ডায়। তারা সারাদিন হিন্দি গান শোনে আর ভারতীয় অভিনেত্রীদের নৃত্য দেখে আনন্দিত হয়। তারা গালাগালি করায় চ্যাম্পিয়ন। তারা স্ট্রেইট পর্নের চেয়ে লেসবিয়ান পর্ন বেশি ভালো পায়। তাদের যৌনশিক্ষা শুরু হয় চটি পড়ে। তারা অর্ধনগ্ন অবস্থায় ফটোশুট করে সেটা প্রকাশ করে। তারা সেক্স ম্যানিয়্যাক। বিভিন্ন যাত্রাপালায় আর মেয়েদের খোলামেলা নৃত্যের অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি। ফেসবুকে বিভিন্ন পর্ন ও সেক্স রিলেটেড পেইজে তাদের কমেন্টের পরিমাণ লক্ষ্য করার মত। শুধু সেক্স রিলেটেড পেইজ কেন, তারা তো কোথাও একটা মেয়ের ছবি দেখলেই তাদের "সহীহ্ ইসলামী কমেন্ট" শুরু করে। যার উদাহরণ আমরা বহুদিন ধরেই লক্ষ্য করে আসছি। 

আপনি কি মনে করেন, ৯০% "মুসলমানের" দেশে মুসলমান থাকতে হিন্দু-বৌদ্ধ-নাস্তিকরা ওসব কমেন্ট করে গেছে? (হিন্দু-বৌদ্ধ-নাস্তিকদের ধোয়া তুলসির পাতা বলতেছি না। ভালো খারাপ তো সব কমিউনিটিতেই থাকে।)

কিন্তু যখনই কেউ ইসলাম সম্পর্কে সামান্য সমালোচনা করে, অমনি তখন ঠিক ওপরে বর্ণিত লোকদেরই ধর্মানুভূতি কেটে-ছিঁড়ে-ফেটে গিয়ে রক্তে ভেসে যায়। তখন তারা সবাই হয়ে ওঠে একেকজন মুফতি, একেকজন আলেম, একেকজন পীর, একেকজন কোরানের হাফেজ, একেকজন জিহাদি সৈনিক। তখন তারাই হয়ে ওঠে সহীহ্ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ইসলামের জন্য তখন তারাই নিবেদিতপ্রাণ। তখন তারাই হাতে নেয় চাপাতি, তারাই খুন করে মানুষ। তারা এসব খুনকে সমর্থন দেয়, খুনিদের বাহবা দেয়, এবং এমন খুন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

হায় রে বাংলাদেশ। ভণ্ডামি আর কত? হিপোক্রিসি আর কত? কেউ খাঁটি মুসলমান হোক, খাঁটি নাস্তিক হোক, খাঁটি হিন্দু হোক আর যা-ই হোক, আমার বিন্দুমাত্র কিছু আসে যায় না। সে তার ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে আছে, থাক। কিন্তু যখন সারাটা দিন নিজ ধর্মবিরোধী কাজ-কারবার করে আসা মানুষের কাছ থেকে ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান শুনতে হয়, তখন মেজাজটা আসলেই গরম হয়ে উঠতে চায়।

পরিষ্কার কিছু কথা বলে দেই:
আপনি যদি নামাজ না পড়েন, আপনি মুসলিম না।
আপনি যদি কোনো ধরনের নেশা করেন, ইসলাম ধর্মকে রক্ষা করা আপনার মানায় না।
আপনি যদি রাস্তাঘাটে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে মেক আউট করেন, ওই মুখে ইসলামের সাফাই গাওয়া আপনার সাজে না।
আপনি যদি পর্ন অ্যাডিক্টেড হন, ইসলামের পক্ষ নিয়ে কথা বলা আপনার সাজে না।
আপনি যদি অবাধে ছেলেমেয়ে সবার সাথে মেলামেশা করেন, নিজেকে মুসলিম বলতে আপনার লজ্জা করা উচিত।
আপনি যদি এমন কাপড় পরেন, যা আপনার শরীরকে ঢাকে না, তবে আপনি মুসলিম না, আপনি মুনাফিক।
সকল বাংলাদেশি মুসলিমদের প্রতি আমার আবেদন:
যদি ইসলাম অনুযায়ী আচরণ না করেন, নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেবেন না। নাস্তিক হয়ে যান, যদি ইসলামের ঝাল ভালো না লাগে আপনার। আর যদি ইচ্ছে করে, ইসলামের ঝাল নিজের পশ্চাদ্দেশে ভরেন, তো সেটাও আপনার সিদ্ধান্ত। যা-ই করেন করেন, নাস্তিক হন বা মুসলিম হন, ভণ্ড হবেন না।

লেখা শেষে একটা বাস্তব শিক্ষামূলক কাহিনী দিয়ে শেষ করি।

আমার এক বন্ধু তার ল্যাপটপ আমার কাছে রেখে গেছে একটা কাজের জন্য। তো সে বন্ধুটা আবার ধর্মপাগলা, ধর্মের বিন্দুমাত্র বদনাম সহ্য করে না, এমন ভাব ধরে থাকে, যেন সে হাজী। যাই হোক, তার ল্যাপটপে দেখি, এক ফোল্ডারের ভেতর সুবিশাল পর্ন মুভির ভাণ্ডার, আরেক ফোল্ডারে অনেক ইসলামি ফটো, কুরানের আয়াত, আল্লাহর নাম, হাদিস, কুরানের পিডিএফ, ইত্যাদি। আমার মনে হল, ব্যাটাকে একটা শিক্ষা দেওয়া উচিত, ও যে কত বড় ভণ্ড, তা ওকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো উচিত। তো আমি কী করলাম, কুরান পিডিএফ-সহ কিছু আল্লাহ আর কুরানের আয়াতের ছবি কপি করে তার সুবিশাল পর্নের ভাণ্ডারে ছেড়ে দিলাম, এই আশায় যে সে হয়ত লজ্জায় মাথা নত করে তার ভুলটা বুঝবে, হয় পর্নের পথে অগ্রসর হবে, আর না হয় আল্লাহর পথে। এক হাতে চটির বই আর আরেক হাতে কুরান থাকা কিন্তু আসলে আমার কাছে দুই হাতে গ্রেনেড থাকার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক মনে হয়।

গল্পটির নীতিকথা: যে কোনো একটি বেছে নিন - জ্ঞানী আল্লাহ বা সানি লিওন। দুই নৌকায় পা দেবেন না।

আমার মনে হয়, এ কথা নাস্তিকদের পাশাপাশি খোদ মুসলমানরাও অগ্রাহ্য করতে পারবে না। কারণ তাদের ধর্মমতেই তো "মুনাফিক কাফের হতেও বড় শত্রু।" 

বি:দ্র: লেখাটি সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ধর্ম-বর্ণ-মতনির্বিশেষে ভণ্ডামি ঘৃণীত। তবে ৯০% মুসলমানের দেশে তো লেখার ৯০% জুড়ে মুসলমানদের কথা থাকাটাই স্বাভাবিক, তাই না?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন