১৩ জুলাই, ২০১৫

মার্ক্স বাদ, লেনিন বাদ

(ছবি ও কার্টুন সরবরাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন রাশিয়া-প্রবাসী মোকাম্মেল)

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'প্রিয় মধুবন' নামের গল্পে অত্যন্ত অর্থবহ একটি বাক্য আছে: "বিপ্লবের পথ কেবলই গার্হস্থ্যের দিকে বেঁকে যায়।" হায়, পরম দুঃখের কথা এই যে, শুধু গার্হস্থ্যের দিকেই নয়, সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, অনেক সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীর পথ বেঁকে যাচ্ছে ধর্মকর্মের দিকে ও তারা মন দিচ্ছে ধর্মতোষণে।

কথাগুলো আবারও মনে পড়লো বলিভিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্টের একটি আচরণ দেখে। 


বিশ্বে শিশুকামীদের বৃহত্তম সংগঠন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপকে কাস্তে-হাতুড়িতে বিদ্ধ যিশুর মূর্তি উপহার দিয়েছেন তিনি। 

বিজ্ঞানের কাছে একটু পাত্তা পেতে ধর্মগুলো যেরকম হ্যাংলামো করে, ধর্মগুলোর কাছ থেকে কি বামপন্থারও সেরকম পাত্তা পাওয়াটা জরুরি? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে এ জাতীয় আচরণের বিশ্লেষণ কী?

সামনের ব্যানারে লেখা: "কমিউনিজম - যিশুর অমর শিক্ষা"
পেছনের ব্যানারে: "রুশ ফেডারেশনের কমিউনিস্ট পার্টি"

কমিউনিস্ট পার্টির স্টেজে পোপ, ধর্মীয় আইকন...

যিশুর সামনে সাম্যবাদের মন্ত্রে দীক্ষিত কমিউনিস্ট পার্টির শিশু সংগঠনের কুচকাওয়াজ

বর্তমানে কোনটি হতে পারে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লাগসই প্রতীক?


এক বছর আগে ধর্মকারীতে প্রাসঙ্গিক একটি সচিত্র পোস্ট প্রকাশিত হয়েছিল:

সোশ্যালিজম-কমিউনিজম - এই শব্দগুলো উচ্চারণ করলে যে-দেশটির কথা আমাদের মাথায় আসে সর্বাগ্রে, সেটা রাশিয়া। সেই রাশিয়ায় এখন কী হাল কমিউনিস্ট পার্টির? মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের আদর্শের কতোটুকু তারা ধরে রেখেছে তাদের চেতনা, বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডে? এসব নিয়ে পৃথক আলোচনা হতে পারে। তবে...

রাশিয়া-প্রবাসী মোকাম্মেল-এর পাঠানো ছবি ও সংবাদগুলো পড়ে ধারণা করা যায়, মার্ক্স-লেনিনের ধর্মসংশ্লেষহীনতার নীতিটি তারা একেবারেই বিসর্জন দিয়েছে। 

রাশিয়ার কমিউিনস্ট পার্টির প্রধান গেনাদি জ্যুগানভ মার্ক্সবাদবিরোধী ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ধর্মবিশ্বাস ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। 

রাশিয়ার প্রধান কমিউনিস্ট চার্চে - নিবেদিতপ্রাণ খ্রিষ্টান হিসেবে

তিনি এমনকি এ-ও বলেছেন, যারা রাশিয়ার খ্রিষ্টান অর্থোডক্স চার্চের সমালোচনা করে, তারা রাশিয়ার শত্রু, এবং কমিউনিজমের মূলনীতি ও খ্রিষ্টান অর্থোডক্স প্রস্তাবিত বিশ্বাসের মধ্যে কোনও সংঘাত নেই। যিশুর শিক্ষা ও কমিউনিজম প্রস্তাবিত নীতিবোধগুলো পাশাপাশি রাখলে আপনি অবাক হয়ে এই দুয়ের মতৈক্য লক্ষ্য করবেন।

"ভেদাভেদ নেই যিশু আর মার্ক্সের দর্শনে"

এছাড়া তিনি মস্কোস্থ Cathedral of Christ the Savior-এ গেছেন এবং খ্রিষ্টীয় রীতিতে ভক্তি প্রকাশ করেছেন। 

কমিউনিস্টের ধর্মবিশ্বাস - এটা এখন বাস্তবতা?


* পূণ্যবাণ ধর্মীয় ব্যক্তিদের মাথার ওপরে জ্যোতিশ্চক্র (nimbus বা halo) থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। ওপরের তিনটি ছবিতে রাশিয়ার প্রধান কমিউনিস্টের মাথার চারপাশের লাল বৃত্তটি জ্যোতিশ্চক্র নয়, নয় তাঁর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গীও! এমনকি ওটি তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসসূচক প্রতীকী চিহ্নও নয়। স্রেফ তাঁকে চিনিয়ে দেয়ার জন্যে এই বৃত্তটি ব্যবহার করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন