১৩ অক্টোবর, ২০১৫

কতিপয় বিবেচ্য বিষয় - ২

লিখেছেন নরমপন্থী

৫.
মানলাম, ঈশ্বর অসীম করুণাময়। মানলাম, তাঁর ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। এর ওপর আরও দাবি একই সঙ্গে মানিতে হইবে যে, তিনি প্রত্যেকের ভাগ্য লিখিয়া রাখিয়াছেন, প্রত্যেকের জন্ম হইবার আগে। তারপর তিনি মৃত্যুর পর মিজান (দাঁড়িপাল্লা) মাপিয়া (!) পাপ-পুণ্যের বিচার করে নরকে অনন্তকাল জ্বালাইবেন। এখন প্রশ্ন হইলো: কোথাও কোনো খটকা লাগে না?

৬.
কী ছাতার মাথার বিগ ব্যাং থিওরি! আমাদের আছে অনেক ভাল বিকল্প:
একটা গন্ধমের লাগিয়া
আল্লায় বানাইল দুনিয়া
আদম খাইল আর হাওয়ায় খাইল
ইবলিশ শয়তান তার আশা ফুরাইল
তারপর সর্বশক্তিমান বিপথগামী মানুষদের সঠিক পথে আনার জন্য ১২৪০০০ নবী-রাসুল পাঠাইছেন। শুধু তাই নয়, তিনি পাঠিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল মহাম্মাদ (সাঃ)-কে। সর্বজ্ঞানী এবং অসীম দয়ালু আল্লাহ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি স্তন্যপায়ী মানুষ প্রজাতিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি।

আসুন, আমরা হিসাব করে দেখতে পারি, তিনি কত শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছেন। অতীতকালে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ অসম্ভব ছিল। আমরা জানি, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৩% (যদিও তেত্তিরিশ পাইলে পাশ) মুছলিম। সর্বজ্ঞানী অসীম দয়ালু আল্লাহ এখনো অধিকাংশ ৬৭ % মানুষদের বিধর্মীদের ঘরে নরকের জ্বালানি হইবার জন্য জন্ম দিয়া যাইতেছেন। আর যারা ২৩% এর মধ্যে পড়ে, তাদের ভিত্রেও শিয়া, সুন্নি, আহমদিয়া ইত্যাদি একে অন্যকে ভুল বলে। অসীম দয়ালু সর্বজ্ঞানী সর্বশক্তিমান কেউ থাকলে আসলে কি এমন হতে পারত?

৭.
(আসুন বাজারজাতকরণ এবং হিসাব বিজ্ঞানের কিছু ধারণার আলোকে ধর্মকে বুঝতে চেষ্টা করি)

এত স্পষ্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় থাকার পরেও একজন সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন ব্যক্তির চোখে এই সব চোখে পড়ে না কেন? আসুন, একটু ভেবে দেখি। নাস্তিকদের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার বোঝা দরকার আস্তিকদের জন্যই। টিভিতে কোনো সাবানের বিজ্ঞাপন যখন চোখের সামনে দেখানো হয়, বিজ্ঞাপনদাতার উদ্দেশ্য থাকে, দর্শকের মনের মধ্যে নির্দিষ্ট এই সাবান কেনার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করা। বিজ্ঞাপনদাতা ভালোভাবে জানে, এত এত টাকা বিসর্জন দিলেও তার (external branding-এর) উদ্দেশ্য সফল হবে। ধর্মের বিজ্ঞাপনটা হয় অভ্যন্তরীণ ব্র্যান্ডিং (internal branding)-এর মত করে। যা কিনা সাবানের বাহ্যিক বিজ্ঞাপনের চেয়েও মারাত্মক। ইসলাম ধর্মে উপর্যুপরি দৈনিক পাঁচবার নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয় এবং প্রতি বাক্যে ইনশাল্লাহ-মাশাল্লাহ বলতে বলতে মগজ ধোলাই হয়ে যায়। যদিও স্থির মস্তিস্কে অর্থ বুঝে কোরান-হাদিস পড়লে নাস্তিক হয়ে যেতে বেশি সময় লাগার কথা না। তাই কোরান-হাদিস পড়তে হয় আল্লাহর প্রতি উপর্যুপরি ভয়-ভীতি জাগ্রত রেখে। প্রথমে 'অজু কর, সাবধানে ধরো' এই সব ভাওতাবাজির পাশাপাশি মৃত্যুর পর অনন্তকাল অত্যাচারিত হবার ভীতি, আর সার্বক্ষণিক চিন্তা-ভাবনা অবলোকন করা হচ্ছে - এমন ভয় দেখিয়ে মানুষের মগজের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বিনষ্ট করে ধর্মগ্রন্থ পড়তে বলা হয়। আর তাই ধার্মিক থাকে ঘোরের মধ্যে। কোনোকিছুর ব্যাপারে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে না। 

তারপর আছে মসজিদে গিয়ে দলগতভাবে মগজধোলাই। চারপাশে সবাই মিলে একই বিষয়ের চর্বিত চর্বন চালাতে থাকে। সামাজিক জীব হিসাবে মানুষের চাহিদা পূরণ হয় ঠিক, তবে ধর্মীয় বিভ্রম আরো সুদৃঢ় হয়। 

ধার্মিকদের অন্যতম বড় ফাঁদ হলো কোরবানি। আপনি ধার্মিক হলে আপনি বিশ্বস্ত। আপনাকে সমাজের চোখে নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করতে হবে পশু কোরবানি দিয়ে, এবং আপনার পুরুষ সন্তানের যৌনাঙ্গের কিয়দাংশ কর্তনের মাধ্যমে। এবং তা চলতে থাকে বংশপরম্পরায়। 

এত কিছুর পর মানুষ বাঁধা পরে নিমগ্ন খরচ (sunk cost)-এর কথা ভেবে। এতদিন জীবনের এত সময় ধর্মকর্মে খরচ / কোরবানি করলাম, এখন শেষ বয়সে কিছু নাস্তিকের কথা শুনে সারাজীবনের খরচগুলো বেহুদা নিমগ্ন খরচ বলে মেনে নেব, তা হতেই পারে না। তারচেয়ে বরং মিথ্যা ঘোরে ডুবে থাকতে থাকতে মৃত্যুবরণ করব। 

(কিয়দংশ Steven Pinker-এর ভিডিও দ্বারা প্রভাবিত)

৮. 
আদিমকাল থেকে যে সব কারণে মানুষ ধর্মের ফাঁদে ধরা পড়ে, তার দুটোর একটা - ভিত্তিহীন আত্মা তথা অমরাত্মার অস্তিত্ব কল্পনা, অন্যটা হল - অতিরঞ্জিত মৃত্যুভীতি। এই দুই বিষয়কে দর্শন ও যৌক্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে আস্তিকতার ঘোর থেকে মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছে Yale University এই কোর্সে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শ্রবণযোগ্য ও পঠনযোগ্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন