১৪ অক্টোবর, ২০১৫

আওয়ামি লীগের ধর্মান্ধতোষণ

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। প্রতি বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় যারা জড়িত ছিল, তারা সবাই ধর্মান্ধ মুসলমান। তারা সহী মুসলমান নাকি অসহী মুসলমান সেই বিশ্লেষনে যাওয়ার প্রয়োজন আমার নেই। আমি দেখেছি, তাদের মাথায় টুপি আছে, গালে দাড়ি আছে, গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি আছে। প্যান্ট খুললে দেখা যাবে লিঙ্গ খতনা করা। তাদের মা-বাবা মুসলমান। মরলে তাদেরকে হিন্দু, বৌদ্ধদের মতো আগুনে পোড়ানো হবে না। তাদেরকে কবর দেওয়া হবে এবং জানাজা পড়ানো হবে। তাই আমি বলব, তারা মুসলমান, মুসলমান এবং মুসলমান।

আজ পর্যন্ত কোনো নাস্তিক শেখ হাসিনাকে খুন করার চেষ্টা করেনি। কোনো নাস্তিক গ্রেনেড হামলা করতে যায়নি। দেশের সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর দখল করা, সাম্প্রদায়িক নির্যাতনেও কোনো নাস্তিক জড়িত নয়। বরং হুমায়ুন আজাদ, আহমদ ছফাদের মতো স্বঘোষিত নাস্তিক এবং জ্ঞানী লেখকদের লেখাগুলো আওয়ামি লীগের পক্ষেই গেছে অধিকাংশ সময়।

শ্রদ্ধেয় লেখক আহমদ ছফা লিখেছেন, "আওয়ামি লীগ জিতলে একা জেতে, আর হারলে পুরো বাংলাদেশ হারে।" - বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তব সত্য কথা।

বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে আওয়ামি লীগকে কখনোই পছন্দ করে না। ৯০% মুসলমানের দেশে তাদের প্রথম পছন্দ ইসলামের ধারকবাহক জামাত-বিএনপিই। পরে জামাত-বিএনপির অপশাসনে অতিষ্ঠ হয়েই তারা 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' অবস্থা থেকেই আওয়ামি লীগকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করে। এই পাঁচ বছরে 'ইসলাম গেল ইসলাম গেল' কান্নার রোল ওঠে। 'দেশ ভারত দখল করে নিচ্ছে' - এমন গুজব রটায় জামাতিরা। তাদের সাথে তাদের খালাতো ভাই বামাতিরাও যোগ দেয়। 

কোথায় কেবল ইসলাম অবমাননা হয় না আওয়ামি লীগের শাসনামলে! গণজাগরণ মঞ্চে ইসলামকে অপমান করা হয়! লতিফ সিদ্দিকি মাইকে কিছু বললেই ইসলাম চলে যায়! ফেসবুকে ইসলাম অবমাননা হয়! বলগ দিয়ে ইন্টারনেট চালিয়েও ইসলামের অবমাননা করা হয়! আওয়ামি লীগের পাঁচ বছরের শাসনামলে সলীম আলীর বদনার তলা ফুটা হলেও মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে!

বাঙালি মুসলমানের এই মানসিকতাকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন আরেক নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ: "বিএনপি (+ জামাত) আল্লাহর আশীর্বাদপ্রাপ্ত। তাদের অপরাধকে জনগণ মনে করে সুকর্ম, জনগণ তা দ্বিধাহীনভাবে মেনে নেয়। আওয়ামি লীগের অপরাধকে জনগণ মনে করে কুকর্ম, জনগণ তা মানতে চায় না। আওয়ামি লীগ ১০০ টাকা চুরি করলে জনগণ মনে করে তারা ১০০ কোটি টাকা চুরি করেছে। আর বিএনপি ১০০ কোটি টাকা চুরি করলে বিএনপি ঠিক কাজটাই করেছে। বিএনপি (+ জামাত) নেতারা মদ খেলে বা নারীচর্চা করলে জনগণ মনে করে তারা ধর্মচর্চা করছে। আর আওয়ামি লীগ নেতারা নামাজ পড়লে জনগণ মনে করে তারা ভণ্ডামো করছে।" (সূত্র: "আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম" গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত)

মুজিব নাকি জিয়া? - বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এক লাইনেই শেষ করেছেন হুমায়ুন আজাদ: "ঘোষণা দিয়ে ঘোষক হওয়া যায়, মুজিব হওয়া যায় না।" তিনি আরো লিখেছেন, "রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন এবং মুজিব হতে লাগে সাধনা, আর জিয়া হতে লাগে আকস্মিক সুযোগ।"

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এক কোটি কাঠমোল্লা আর ওলামা লীগ এবং অনলাইনের নতুন জন্ম নেওয়া জামাতি লীগারদের সকালে গরুর কলিজা ভুনা দিয়ে পরোটা ভাজি, দুপুরে মেজবানি গরুর মাংস, আর রাতে গরুর রানের শিক কাবাব খাওয়ালেও তাদের থেকে এই কথাগুলো বের করতে পারবেন না, যা এই নাস্তিকেরা বলে গেছেন।

এই নাস্তিকেরা কাউকে চাপাতি নিয়ে কোপাতে যায়নি। তাদের লেখার কারণে জাতীয় অর্থনীতি ধ্বসে পড়েনি। তাদের লেখার কারণে কারো মরণব্যাধি এইডস বা ক্যান্সার হয়নি। নাস্তিকেরা ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে আওয়ামি লীগের ক্ষমতার চেয়ার ধরে টানও মারেনি। তারা শুধু লেখালেখি করে।

আওয়ামি লীগের যা ক্ষতি হওয়ার, তা ধর্মোন্মাদ মুসলমানদের দ্বারাই হয়েছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা দাড়িওয়ালা মোল্লারাই করেছে। কোনো নাস্তিক নয়। জামাতি লীগাররা শ্লোগান দিচ্ছে, "বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, নাস্তিকের ঠাঁই নাই।"

একটু সাবধান হোক আওয়ামি লীগ। এই ধর্মান্ধরা বঙ্গবন্ধুকে একেবারে জামাত-শিবির বানিয়ে ছাড়ল! এই জামাতি লীগারেরাই (মুখে শেখ মুজিব অন্তরে গোলাম আজম) একদিন শেখ হাসিনার গলায় ছুরি বসাবে। নিশ্চিত থাকুন। কুকুর যতই প্রভুভক্ত হোক, কুকুরই থাকে। এমন না যে আপনার প্রিয় কুকুর আপনাকে কামড় দিলে আপনার জলাতঙ্ক হবে না। যে সাপকে রোজ দুধ-কলা খাওয়ান, সে সাপ কামড় দিলেও কিন্তু মারা যাবেন আপনি। এমন না যে আপনার খাওয়ানো দুধ-কলার কারণে আপনার শরীরে বিষক্রিয়া হবে না। সাবধান!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন