৫ অক্টোবর, ২০১৫

বনি কুরাইজা গণহত্যা – ৯ (শেষ পর্ব): সা'দের মৃত্যুতে আল্লাহর আরশে কম্পন!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৯৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – উনসত্তুর

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪

কুরান, 'সিরাত' ও হাদিসের আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কর্মময় নবী জীবনের বনি কুরাইজা গণহত্যা-পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁর মনস্তত্ব বিশ্লেষণ ও কী উদ্দেশ্যে তিনি নিরপরাধ বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদের ওপর অমানুষিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন, তার বিশদ আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

বনি কুরাইজার নৃশংস গণহত্যা সম্পন্ন হওয়ার পর মুহাম্মদের একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী সা'দ বিন মুয়াদের মৃত্যু হয়। এই সেই সা'দ বিন মুয়াদ, যার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মুহাম্মদ "তাঁর উদ্দেশ্য" চরিতার্থ করেছিলেন (পর্ব- ৯০)।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1]  

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৯৪) পর:

‘বনি কুরাইজার ব্যাপার নিষ্পত্তি হওয়ার পর সা'দের জখমটি ফেটে যায় ও তার ফলে শহীদের মর্যাদায় তার মৃত্যু হয়। মুয়াদ বিন রিফায়া আল-যুরাকি (Mu'adh b. Rifa'a al-Zuraqi) আমাকে বলেছেন:

“আমার লোকদের একজন আমাকে বলেছে যে, সা'দের মৃত্যুর পর মাঝরাতে অলঙ্কৃত পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় জিবরাইল আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও বলে: ‘হে মুহাম্মদ, কে এই মৃত ব্যক্তি, যার কারণে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে গিয়েছে ও আরশ কেঁপে উঠেছে? (O Muhammad, who is this dead man for whom the doors of heaven have been opened and at whom the throne shook?)’ আল্লাহর নবী তাঁর পরিধেয় পোশাক তাড়াতাড়ি টেনে নিয়ে উঠে পড়েন ও সা'দের কাছে গমন করেন এবং দেখতে পান, ইতিমধ্যেই তার মৃত্যু ঘটেছে ।"

আমরা বিনতে আবদুল-রহমানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে বলেছেন: 'উসায়েদ বিন হুদায়ের (Usayd b. Hudayr) এর সঙ্গে আয়েশা যখন মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন উসায়েদ তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনতে পায় ও রীতিমতো শোক প্রকাশ করে।

আয়েশা বলেন, "হে আবু ইয়াহিয়া, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক। যেখানে তোমার চাচার ছেলে ইন্তেকাল করেছে ও যার কারণে আল্লাহর আরশ নড়ে উঠেছে, তাকে বাদ দিয়ে তুমি কি এক মহিলার জন্য শোক প্রকাশ করবে?"

আল-হাসান আল-বাসরির (al-Hasan al-Basri) কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমাকে বলেছেন:

'সা'দ ছিলেন মোটা এক মানুষ। লোকেরা তার মৃতদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হালকা অনুভব করে। কিছু আনুগত্যহীন লোক বলে, "সে ছিল মোটা মানুষ, কিন্তু তার মৃতদেহের চেয়ে হালকা কোনো মৃতদেহ আমরা কখনোই বহন করিনি।"'

যখন আল্লাহর নবী এই খবরটি শুনতে পান, তিনি বলেন, "তাদের সাথে অন্যান্য বাহকরাও ছিল। যার হাতে আমার জীবন, তার কসম, ফেরেশতারা সা'দের আত্মা গ্রহণ করে হয়েছে আনন্দিত ও তার [সা'দের] কারণে আরশ উঠেছে নড়ে (When the apostle heard of this he said, 'He had other carriers as well. By Him Who holds my life in His hand the angels rejoiced at (receiving) the spirit of Sa'd and the throne shook for him.)।"

জাবির বিন আবদুল্লাহ > আবদুল-রহমান বিন আমর বিন আল-জামুহ এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুয়াদ বিন রিফায়া আমাকে বলেছেন:

'যখন সা'দ-কে কবর দেয়া হয়, তখন আল্লাহর নবীর সাথে আমরা ছিলাম। তিনি বলেন সুবহানাল্লাহ ও তাঁর সাথে আমরাও বলি তাই। অতঃপর তিনি বলেন আল্লাহ আকবার ও লোকেরাও তাঁর সাথে বলে তাই। যখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করে, কেন তিনি সুবহানাল্লাহ বলেছেন, তিনি বলেন, "এই ভাল মানুষটির ওপর কবর সঙ্কুচিত হয়ে আসছিল, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তার ওপর তা শিথিল করে।" [3]

সা'দ প্রসঙ্গে আনসারদের একজন [কবিতার মাধ্যমে] বলেছেন:
"সা'দ আবু আমর ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠার খবর আমরা শুনিনি।"

আল্লাহর নবী বলেন, "প্রত্যেক কাঁদুনে মহিলা মিথ্যা বলে, ব্যতিক্রম শুধু তারা, যারা সা'দ বিন মুয়াদের জন্য কেঁদেছিল।"

খন্দকের যুদ্ধে মাত্র ছয়জন মুসলমান শহীদ হন। বানু আবদুল-আশহাল গোত্রের তিন জন: সা'দ বিন মুয়াদ; আনাস বিন আউস বিন আতিক বিন আমর ও আবদুল্লাহ বিন সাহল। বনি সালিমা গোষ্ঠীর (Clan) অন্তর্ভুক্ত বানু জুশাম বিন আল-খাযরাজ গোত্রের দুই জন: আল-তোফায়েল বিন আল-নুমান ও থালাবা বিন ঘানামা। বনি দিনার গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বানু আল-নাজজার গোত্রের এক জন: কাব বিন যায়েদ, এলোপাতাড়ি ভাবে নিক্ষিপ্ত একটি তীরের আঘাতে যার মৃত্যু হয়।

তিন জন মুশরিক (Polytheist) হয় খুন। বনি আবদুল-দার গোত্রের: মুনাববিহ বিন ওসমান বিন উবায়েদ বিন আল-সাববাক, একটি তীরের আঘাতে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন ও মক্কায় প্রত্যাবর্তনের পর তার মৃত্যু হয়। বনি মাখযুম বিন 'ইয়াকাযা' গোত্রের: নওফল বিন আবদুল্লাহ বিন আল-মুঘিরা, সে খন্দকের মধ্যে ঝাঁপ দেয় ও সেখানে আটকে পড়ে ও খুন হয়। বনি মালিক বিন হিসল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বানু আমির বিন লুয়েভি গোত্রের: আমর বিন আবদু উদ্দ, যাকে হত্যা করে আলী [পর্ব: ৮২]।

বনি কুরাইজার দিনে বনি আল-হারিথ বিন আল-খাযরাজ গোত্রের এক মুসলমান শহীদ হয়: খাললাদ বিন সুয়ায়েদ বিন থালাব বিন আমর (Khallad b. Suwayd b. Tha'laba b. 'Amr)। তার উপর এক জাঁতা নিক্ষেপ করা হয় ও তাতে সে গুরুতর জখম হয় [পর্ব-৯১]। তারা ঘোষণা করে যে, আল্লাহর নবী বলেছেন, "সে পাবে দুইটি শহীদের সমপরিমাণ পুরস্কার।"

আমি শুনেছি যে, খন্দক রক্ষা বাহিনীর প্রত্যাবর্তনের পর আল্লাহর নবী বলেন, "এই বছরের পর কুরাইশরা তোমাদের আর আক্রমণ করবে না, কিন্তু তোমরা তাদের আক্রমণ করবে।” এর পর কুরাইশরা আর তাদের আক্রমণ করেনি; তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত যে তাদের আক্রমণ করেছিলেন, সেই ব্যক্তিটি হলেন তিনি।’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

>>> বনি কুরাইজা গোত্রের বিরুদ্ধে সা'দ বিন মুয়াদ নামের মুহাম্মদের এই একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারীর অমানুষিক নৃশংস রায় ঘোষণার পর উৎফুল্ল মুহাম্মদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, "তুমি যে রায়টি দিয়েছো, সেটিই হলো সাত আসমানের ওপর অধিষ্ঠিত আল্লাহর রায়।" আর আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, সা'দের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ তাঁর এই প্রিয় অনুসারীর মৃত্যুর পর ঘোষণা দিয়েছিলেন "ফেরেশতারা সা'দের আত্মা গ্রহণ করে হয়েছে আনন্দিত ও তার কারণে আল্লাহর আরশ (সিংহাসন) উঠেছে নড়ে।" বনি কুরাইজা গণহত্যার নায়ক মুহাম্মদ (আল্লাহ) তাঁর এই সহচরের প্রতি কেমন গভীর পরিতুষ্ট ছিলেন, তার সাক্ষ্য ধারণ করে আছে আদি উৎসের এই বর্ণনা।

বনি কুরাইজা গণহত্যা উপাখ্যানের সংক্ষিপ্তসার[4]

১) বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা চুক্তি ভঙ্গ করে খন্দক যুদ্ধকালে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন, এমন দাবি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তীক্ষ্ণবুদ্ধির মুহাম্মদ নিজেও তা জানতেন, আর সেই কারণেই তিনি তাঁর আক্রমণের "অজুহাত জিবরাইল"-এর ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগের যদি সুনির্দিষ্ট একটি প্রমাণও মুহাম্মদের গোচরে থাকতো, তবে তাঁকে আর অশরীরী জিবরাইলের অজুহাতের আশ্রয় নিতে হতো না।

২) মুহাম্মদের প্রকৃত অভিপ্রায় যে বনি কুরাইজা গণহত্যা, তা মুহাম্মদ অনুসারীরা শুরু থেকেই অবগত ছিলেন, যা আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনধির নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদেরকে তাঁদের আত্মসমর্পণের পূর্বেই ইশারায় জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই একই কারণে, বনি কুরাইজা গোত্রের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর আল-আউস গোত্রের লোকেরা দৌড়ে এসে মুহাম্মদের কাছে তাঁদের প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন।

৩) বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা 'মুহাম্মদের প্রস্তাবে' রাজি হয়েছিল - এই দাবিটি ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বনি কুরাইজা গোত্রের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে রায় প্রদান পর্যন্ত যে সব ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়েছিল, তা ছিল মুহাম্মদ ও আল-আউস গোত্রের লোকদের মধ্যে; বনি কুরাইজার কোনো লোক এ সকল ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাঁদেরকে বন্দী অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে যখন দলে দলে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনও পর্যন্ত তাঁরা জানতেন না যে, ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁদেরকে কী করা হবে। তাঁরা তা বুঝতে পেরেছিলেন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে।

৪) মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা মদিনার বাজারে গর্ত খুঁড়ে সেই গর্ত পাশে বনি কুরাইজার ৬০০-৯০০ জন নিরস্ত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দলে দলে ধরে এনে এক এক করে জবাই করে তাঁদের কাটা মুণ্ডু ও লাশ সেই গর্তে নিক্ষেপ করেন। যৌনাঙ্গের লোম গজানো শুরু হয়েছে, এমন কাউকেই রেহাই দেয়া হয়নি। তাঁদেরকে হত্যা করার পর মুহাম্মদ তাঁদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি ও তাঁদের স্ত্রী, কন্যা, মাতা, ভগ্নি ও শিশুদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। দলপতির অধিকার বলে মুহাম্মদ এই লুটের মালের এক-পঞ্চমাংশ হিস্যা একাই গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মুহাম্মদ এই বন্দী নারীদেরকে বিক্রি করে ঘোড়া ও যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করেন।

৫) স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ মানব ইতিহাসের এই নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করেন এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। সেই উদ্দেশ্যটি হলো:  তাঁর অনুসারীদের কাছে তাঁর (আল্লাহর) শক্তিমত্তার প্রমাণ উপস্থাপন, লুটের মাল (গনিমত) অর্জন, ও “প্রয়োজনে ‘তিনি' কতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন", প্রতিপক্ষের কাছে তার উদাহরণ প্রদর্শন।

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনায় আমরা জানতে পারি:

আবু হুরাইরা হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী বলেছেন, "--সন্ত্রাসের মাধ্যমেই আমি জয়যুক্ত হয়েছি ---! [5]

মুহাম্মদের এই দাবি যে যথার্থ, তা মুহাম্মদের স্বরচিত গ্রন্থ কুরান ও আদি উৎসে বর্ণিত মুহাম্মদ-অনুসারীদেরই লিখিত 'সিরাত' ও হাদিসের বর্ণনায় দিবালোকের মতই স্পষ্ট।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৬৮-৪৬৯


[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৯৮- ১৫০০ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[3] Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”, ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৭১৭, পৃষ্ঠা ৭৬৬
‘The metaphorical meaning of this tradition is (explained) the words of Aisha: “The apostle said, the grave has a hold on people; if anyone were to escape from it would be Sa’d b Muadh.”’

[4] আদি উৎসে বনি কুরাইজা গণহত্যা উপাখ্যানের বর্ণনা:
a) Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৪৬১-৪৬৯
b) Ibid “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী, পৃষ্ঠা ১৪৮৫-১৫০০
অনুরূপ বর্ণনা (Parallal):
c) কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ৪৯৬-৫৩১
d) কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), অনুবাদ এস মইনুল হক, প্রকাশক কিতাব ভবন, নয়া দিল্লি, সাল ২০০৯ (3rd Reprint), ISBN 81-7151-127-9(set), ভলুউম ২, পৃষ্ঠা ৯১-৯৬

[5] সহি বুখারি: ভলিউম ৪, বই ৫২, নং ২২০
Narated By Abu Huraira: Allah's Apostle said, "I have been sent with the shortest expressions bearing the widest meanings, and I have been made victorious with terror (cast in the hearts of the enemy), and while I was sleeping, the keys of the treasures of the world were brought to me and put in my hand." Abu Huraira added: Allah's Apostle has left the world and now you, people, are bringing out those treasures (i.e. the Prophet did not benefit by them).

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন