৯ অক্টোবর, ২০১৫

ঈশ্বরের অনৈশ্বরিক কর্মকাণ্ড - ৪

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

কোরবানী স্পেশাল পর্ব

ধরুন, এক মায়ের দু'টি সন্তান। সেই মায়ের আদেশে বড় সন্তানটি ছোট সন্তানটিকে মেরে ফেললো আর মা খুব খুশি হলেন। তাহলে বুঝতে হবে, মা ও বড় ছেলে, দু'জনেরই মাথায় সমস্যা আছে।

এবার আসুন, ঈশ্বর ও তার সৃষ্টি নিয়ে কথা বলা যাক। দুটো জ়ীবন - মানুষ ও প্রাণী। এ দুটোই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সৃষ্টি। এক সৃষ্টিকে অন্য সৃষ্টি হত্যা করলে যদি ঈশ্বর খুশি হয়, তাহলে সেই ঈশ্বরের ঈশ্বরত্ব নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন ওঠে।

মুসলিমদের আল্লাহ তার বান্দাদের হুকুম করে নিরীহ পশুদের জবাই করতে, আর এটা করতে পারলে আল্লাহ ও বান্দা উভয়ই খুব খুশি হয়।অন্যদিকে ভগবানও তার ভক্তদের পশু বলি করতে বলে এবং এটা করতে পারলে উভয়ই খুব খুশি হয়। এরপরও এদেরকে দয়ালু বলে মনে স্থান দিতে হবে।

যতসব নির্দয় কাজ করে এইসব ঈশ্বরকে খুশি করতে হয়, কেননা ঈশ্বর যে দয়ালু, তাই সে নির্দয় কাজ পছন্দ করে।

এখানে যে যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে হয়: 

ক) আপনি কি প্রাণী হত্যা করেন না?

উত্তর: হ্যাঁ,করি। আর সেটা আমি বাধ্য হয়েই করি এবং এক্ষেত্রেও কথিত দয়ালু ঈশ্বরই দায়ী। কেননা সে-ই আমাকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছে যে, আমাকে জীবহত্যা করেই বেঁচে থাকতে হয়। সে এই খাদ্যশৃঙ্খল অন্যভাবেও করতে পারতো, যেভাবে করলে আমাকে জ়ীবহত্যা করতে হত না।

আর আমি হত্যা করি, এটা যদি আমার অপরাধ হয় - যদিও বাধ্য হয়ে করি, তাহলে ঈশ্বরের অনেক উপায় থাকতেও যে সে জীবহত্যা করলে খুশি হয়, এটাও নেহায়েত কম অপরাধ নয় কথিত ঈশ্বরের জন্য।

খ) একেবারে ওপরের উদাহরণে যদিও বলতে পারেন যে, ছোট ছেলেটি হয়তো অপরাধ করেছিল তাই হত্যা করা হয়েছে।

উত্তর: আচ্ছা, মানলাম - মা ও বড় ছেলে অপরাধী ছেলেকে মেরেছে, কিন্তু প্রাণীকে কী অপরাধে আল্লাহ, ভগবান যথাক্রমে জবাই ও বলি করতে বলে? আবার যে-ব্যক্তি জবাই বা বলি করলো, ঈশ্বর তার প্রতিই খুশি হয়, যে জবাই বা বলি হল, তার প্রতি নজর নেই।

শেষ করছি বাঙালি দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর এর একটা কথা দিয়ে "যে কুরবানি দিল তার যদি বেহেস্ত নসিব হয় তাহলে যে কুরবানি হল তার কেন বেহেস্ত নসিব হবেনা?"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন