২৮ নভেম্বর, ২০১৫

আয়েশার প্রতি অপবাদ - ২: মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১০৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতাত্তর

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা বানু আল-মুসতালিক গোত্রের ওপর সফল হামলাটি (পর্ব: ৯৭-১০১) সম্পন্ন করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তনকালে পথিমধ্যে তাদের অজ্ঞাতেই নবীপত্নী আয়েশা বিনতে আবু বকর কীভাবে একটি রাতের কিয়দংশ থেকে পর দিন দুপুর নাগাদ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন; অতঃপর সেই নিশুতি রাতে আরবের ধু-ধু মরুপ্রান্তর থেকে সাফওয়ান বিন আল-মুয়াত্তাল বিন আল-সুলামি (Safwan b. al-Mu'attal al-Sulami) নামের এক মুহাম্মদ-অনুসারী কী অবস্থায় ১৩-১৪ বছর বয়সী কিশোরী আয়েশাকে উদ্ধার করেছিলেন; রাত্রিশেষে পরদিন দুপুর নাগাদ সাফওয়ান বিন আল-মুয়াত্তাল-এর উটের পিঠের ওপর সওয়ার হয়ে আয়েশা যখন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের পরবর্তী বিশ্রামস্থলে এসে পৌঁছেন, তখন মুহাম্মদ-অনুসারীদের অনেকে আয়েশা সম্পর্কে কীরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের "আয়েশার প্রতি অপবাদ" উপাখ্যানের সম্পূর্ণই অভিযুক্ত আয়েশার নিজস্ব বর্ণনা।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:  [1] [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১০২) পর:

'তারপর আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করি ও অবিলম্বেই আমি (আয়েশা) খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি, তাই এ বিষয়ের কিছুই আমার কর্ণগোচর হয় না। এই রটনাটি আল্লাহর নবী ও আমার পিতা-মাতার কাছে পৌঁছে, কিন্তু তাঁরা আমাকে তার কিছুই জানায় না, যদিও আমি আমার প্রতি আল্লাহর নবীর অভ্যস্ত উদারতার অভাব বুঝতে পারি। আগে যখন আমি অসুস্থ হতাম, তখন তিনি আমার প্রতি সমবেদনা ও উদারতা প্রদর্শন করতেন। কিন্তু আমার এবারের অসুস্থতায় তিনি তা করেননি এবং আমি তাঁর মনোযোগের অভাব বোধ করি।

আমার মা (উম্মে রুমান) যখন আমার সেবা-শুশ্রূষা করছিলেন, তখন তিনি আমাকে দেখতে আসেন ও একমাত্র যে কথাটি তিনি বলেন, তা হলো, "সে কেমন আছে?, যা আমাকে ব্যথিত করে [4]। তাই আমি তাঁকে অনুরোধ করি যে, তিনি যেন আমাকে আমার মা-এর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, যাতে মা আমার শুশ্রূষা করতে পারে।

তিনি বলেন, "তোমার যা ইচ্ছা হয় তাই করো"। অতঃপর আমাকে আমার মায়ের কাছে পাঠানো হয় ও প্রায় বিশ দিন পর আমার সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমি এই ঘটনার কিছুই জানতে পারি না। 

আরবের জনগণ আমরা: বিদেশীদের বাড়ি-ঘরের মত আমাদের বাড়িতে তখন কোনো পায়খানা (টয়লেট) ছিল না; আমরা তাদের দারুণ অপছন্দ ও ঘৃণা করতাম। আমাদের অভ্যাস ছিল বাইরের মদিনার খোলা মাঠে যাওয়ার। মহিলারা প্রত্যেক রাতেই বাহিরে যেত ও আমি এক রাতে উম্মে মিসতাহ বিনতে আবু রুহম (Umm Mistah d. Abu Ruhm) বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ (তার মা ছিলেন আবু বকরের আন্টি, সাখর বিন আমির বিন কা'ব বিন সা'দ বিন তায়েম-এর কন্যা) এর সঙ্গে বাইরে যাই। আমার সঙ্গে হাঁটার সময় হোঁচট খেয়ে তিনি তার গাউনের ওপর পড়ে যান ও চিৎকার করে বলেন, "হোঁচট খাক মিসতাহ"; মিসতাহ ছিল আউফ (Auf) এর ডাক-নাম।

আমি বলি, "বদর যুদ্ধে [পর্ব: ৩০-৪৩] অংশগ্রহণকারী এমন একজন মুহাজির সম্বন্ধে এমন মন্তব্য করা খারাপ।"

জবাবে তিনি বলেন, "এই আবু বকর পুত্রী, তুমি কি খবরটি শোনোনি?" যখন আমি বলি যে, আমি তা শুনিনি, তিনি আমাকে মিথ্যাবাদীরা কী বলেছে, তা বলতে থাকেন। যখন আমি আমার বিস্ময় প্রকাশ করি, তিনি আমাকে যা যা ঘটেছে, তার সমস্তই খুলে বলেন। আল্লাহর কসম, যে কাজটি আমার করার দরকার ছিল, তা আমি করতে পারি না; আমি ফিরে আসি।

আমি আমার কান্না বন্ধ করতে পারি না, মনে হয় কান্নায় আমার কলিজা ফেটে যাবে। আমি আমার মাকে বলি, "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক! লোকেরা আমার সম্বন্ধে খারাপ কথা বলছে (তাবারী: 'এবং তুমি তা জানতে') কিন্তু তুমি আমাকে কিছুই বলোনি।"

সে জবাবে বলে, "আমার ছোট্ট মামণি, এ নিয়ে বেশী দুশ্চিন্তা করো না। কদাচিৎ কোনো সুন্দরী মহিলা যখন কোনো লোককে বিবাহ করে ও লোকটি তাকে ভালবাসে, তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী পত্নীরা যেমন সেই মহিলা সম্পর্কে পরচর্চা করে, পুরুষরাও ঠিক তাই করে।"

'আল্লাহর নবী উঠে যান ও তাঁর লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন, যদিও আমি এর কিছুই জানতাম না। আল্লাহর প্রশংসা করার পর তিনি বলেন, "কিছু লোক আমার পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ও আমাকে চিন্তায় ফেলে কী বোঝাতে চায়? আল্লাহর কসম, আমি তাদেরকে শুধু ভাল বলেই জানি ও তারা এমন একজন পুরুষ সম্বন্ধে অপবাদ দেয়, যাকে আমি জানি একজন ভাল মানুষ হিসাবে, যে মানুষটি আমার সঙ্গ ছাড়া কখনোই আমার বাড়িতে প্রবেশ করে না।"

'সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধীরা ছিল খাযরাজ গোত্রের আবদুল্লাহ বিন উবাই, মিসতাহ ও হামনা বিনতে জাহাশ (Hamna d. Jahsh), কারণটি হলো তার বোন যয়নাব বিনতে জাহাশ ছিল আল্লাহর নবীর পত্নীদের একজন এবং একমাত্র সেই তার পক্ষে আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আর যয়নাব, আল্লাহ তাকে তার ধর্ম দ্বারা রক্ষা করেছে ও সে আমার ভাল ছাড়া অন্য কিছুই বলেনি। কিন্তু হামনা তার বোনের পক্ষে দিগদিগন্তে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ায় এবং সে জন্য আমি খুবই কষ্ট পাই (অথবা 'সে (যয়নাব) খুবই কষ্ট পায়')।

'যখন আল্লাহর নবী এই ভাষণটি দেন তখন উসায়েদ বিন হুদায়ের (Usayd b. Hudayr) বলে, "তারা যদি আল-আউস গোত্রের লোক হয়, তবে আমরা তাদের কাছ থেকে আপনাকে পরিত্রাণ দেব; আর যদি তারা খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি আমাদের হুকুম করুন, যেন তারা তাদের কল্লা কাটতে পারে।"

সা'দ বিন উবাদা (Sa'd b. 'Ubada) উঠে দাঁড়ায় - এর আগে যাকে ধার্মিক বলে মনে করা হতো, বলে, "আল্লাহর কসম, তুই মিথ্যা বলছিস। অবশ্যই তাদের কল্লা কাটা হবে না। তুই যদি না জানতিস যে, তারা খাযরাজ গোত্রের লোক, তবে তুই এই কথাটি বলতি না। যদি তারা তোদের নিজেদের লোক হতো, তবে তুই এই কথাটি বলতি না।"

উসায়েদ জবাবে বলে, "মিথ্যুক তুই নিজে! তুই একটা মুনাফিক (disaffected), যে একজন মুনাফিকের সমর্থনে মুনাফিকদের পক্ষে ঝগড়া করে।"

অবস্থা এমন ভীষণ আকার ধারণ করে যে, আউস ও খাযরাজ এই দুই গোত্রের মধ্যে প্রায় যুদ্ধের উপক্রম হয়।

আল্লাহর নবী সেই স্থান ত্যাগ করেন ও আমাকে দেখতে আসেন। তিনি আলী ও উসামা বিন যায়েদ (Usama b. Zayd)-কে তলব করেন ও তাদের পরামর্শ চান। উসামা আমার উচ্চ প্রশংসা করে ও বলে, "তারা হলো আপনার পরিবার (আয়েশার নাম ব্যবহার যত্নের সাথে এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে) ও আপনি এবং আমরা তাদের সম্বন্ধে ভাল ছাড়া আর কিছু জানি না, এটি একটি মিথ্যা প্রচারণা ও অপবাদ।"

আর আলী বলে,
"অঢেল মহিলা আছে, আপনি সহজেই একজনের পরিবর্তে অন্য একজনকে গ্রহণ করতে পারেন। একজন ক্রীতদাসীকে জিজ্ঞাসা করুন, সে আপনাকে সত্য বলবে।"


('---- When the apostle made this speech Usayd b. Hudayr said: "If they are of Aus let us rid you of them; and if they are of the Khazraj give us your orders, for they ought to have their heads cut off." Sa'd b. 'Ubada got up - before that he had been thought a pious man and said, "By Allah, you lie. They shall not be beheaded. You would not have said this had you not known that they were of Khazraj. Had they been your own people you would not have said it." Usayd answered, "Liar yourself! You are a disaffected person arguing on behalf of the disaffected person arguing on behalf of the disaffected."

Feeling ran so high that they were almost fighting between these two clans of Aus and Khazraj. The apostle left and came in to see me. He called 'Ali and Usama b. Zayd and asked their advice. Usama spoke highly of me and said "They are your family (Care is taken to avoid the use of 'A'isha's name.) and we and you know only good of them, and this is a lie and a falsehood. 'As for 'Ali he said"Women are plentiful, and you can easily change one for another. Ask the slave girl, for she will tell you the truth.")

তাই আল্লাহর নবী বুরায়েরা (Burayra)-কে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডাকেন। আলী উঠে দাঁড়ায় ও তাকে প্রচণ্ড মারধর করে ও বলে, "আল্লাহর নবীকে যা সত্যি তা জানা।" জবাবে সে বলে, "আমি তার সম্বন্ধে ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না। আয়েশার একমাত্র দোষ, যা আমি জানি, তা হলো - মাখা ময়দার তাল (dough) দলাইমলাই করার পর আমি যখন তাকে তা দেখে রাখতে বলি, তখন সে তা অবহেলা করে এবং ভেড়ারা (তাবারী: 'ভেড়ায় বাচ্চারা') এসে তা খেয়ে ফেলে!"

'অতঃপর আল্লাহর নবী আমার কাছে আসেন। আমার সঙ্গে ছিল আমার পিতা-মাতা ও এক আনসারী মহিলা, আমরা দুজনই কাঁদছিলাম। তিনি বসে পড়েন ও আল্লাহর প্রশংসা আদায় করার পর বলেন, "আয়েশা, তুমি জানো, লোকেরা তোমার সম্বন্ধে কী বলাবলি করছে। আল্লাহকে ভয় করো ও লোকেরা যা বলছে, তেমন অপকর্ম যদি তুমি করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে তওবা ও অনুশোচনা করো; কারণ সে তার বান্দাদের তওবা কবুল করে।"

যখন তিনি এই কথাগুলো বলেন, আমার কান্না থেমে যায় ও আমি তার কিছুই অনুভব করি না। আমি আমার বাবা ও মায়ের কাছ থেকে আল্লাহর নবীর এই উক্তির জবাবের জন্য অপেক্ষা করি, কিন্তু তারা কোনো কথাই বলে না। আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, আল্লাহর কাছে আমি এতই তুচ্ছ যে, সে আমার ব্যাপারে কোনো কুরানের আয়াত নাজিল করবে না, যা মসজিদে পড়া হবে ও নামাজে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু আমি আশা করছিলাম যে, আল্লাহ তার নবীকে স্বপ্নে এমন কিছু দেখাবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার ওপর আরোপিত অপবাদের সুরাহা করবে, কারণ আল্লাহ জানে, আমি নির্দোষ; অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ হবে।

যখন আমি দেখি যে, আমার পিতা-মাতা আমার ব্যাপারে কিছুই বলছে না, তখন আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, কেন তারা এমনটি করছে। তারা জবাবে বলে যে, তারা জানে না, তাদের কী বলা উচিত। আল্লাহর কসম, আমি এমন কোনো পরিবারের কথা জানি না, যারা ঐ দিনগুলোতে আবু-বকরের পরিবারের চেয়ে বেশী কষ্টভোগ করেছে।

যখন তারা চুপ করে থাকে, আমি আবার কান্নায় ভেঙে পড়ি ও বলি, "আমি কখনোই আল্লাহর কাছে তওবা করবো না, যা আপনি আমাকে করতে বলছেন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ জানে, আমি এই ব্যাপারে নির্দোষ। আমি জানি, লোকেরা যা বলাবলি করছে, তা যদি আমি কবুল করি, তবে যা আমি করিনি, সেটাকেই স্বীকার করে নেয়ার সামিল হবে; আর তারা যা বলছে, তা যদি আমি অস্বীকার করি, তবে আপনি তা বিশ্বাস করবেন না।"

তারপর আমি বিধ্বস্ত মস্তিষ্কে ইয়াকুব (Jacob)-এর নামটি স্মরণ করার চেষ্টা করি, কিন্তু তা মনে করতে পারি না। তাই আমি বলি, "ইউসুফ (Joseph)-এর পিতা যা বলেছেন, তা-ই আমি বলবো: 'আপনি যা আমাকে করতে বলছেন, তার জবাবে আমার কর্তব্য হলো ধৈর্য ধারণ করা ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা।"’ (সুরা-১২:১৮[5]

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

>>> আরবের মরু প্রান্তরে সেদিনের সেই নিশুতি রাতে সত্যিই কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়, কারণ এই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। কিন্তু অভিযুক্ত আয়েশার ওপরে বর্ণিত জবানবন্দিতে যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুহাম্মদ ও তাঁর বহু অনুসারীদের মনে "আয়েশার চরিত্র" নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। মুহাম্মদের এই অনুসারীদের অনেকেই ছিলেন তাঁর প্রতি একান্ত বিশ্বস্ত, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন হাসান বিন থাবিত (Hassan b. Thabit) ও তার সহকারীরা এবং আলী ইবনে আবু-তালিব।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুহাম্মদ অনুসারীরা ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত: একদল আয়েশার পক্ষে, আর এক দল আয়েশার চরিত্রে সন্দিহান। এই ব্যাপারে তাঁরা এতটায় দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন যে, তাঁরা মুহাম্মদের উপস্থিতিতেই নিজেদের মধ্যে তীব্র কোন্দলে লিপ্ত হয়ে প্রায় রক্তারক্তি অবস্থায় পৌঁছেছিলেন।

ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুহাম্মদ ছিলেন বিমর্ষ, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও তাঁর এই প্রিয় পত্নী আয়েশার প্রতি বীতশ্রদ্ধ। তিনি নিজেও আয়েশার বর্ণিত আত্মপক্ষ সমর্থনের কাহিনী যে বহুদিন যাবত (প্রায় এক মাস) বিশ্বাস করেননি, তা ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট! এই ঘটনার এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিল না, যার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে মুহাম্মদ আয়েশার এই আত্মপক্ষ সমর্থনের বিবৃতির (Testimony) সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করতে পারেন। যে কারণেই সুদীর্ঘ প্রায় এক মাস যাবত মুহাম্মদ "তাঁর সৃষ্ট আল্লাহ-র" নামে কোনোরূপ ঐশী বাণীর অবতারণা করতে পারেননি (পর্ব: ৭০); মুহাম্মদ এ ব্যাপারে ছিলেন সম্পূর্ণ অসহায়! তাঁর পরিবার সম্বন্ধে তাঁর নিজেরই অনুসারীদের এই অপবাদ ও কোন্দল সহ্য করা ছাড়া তাঁর গত্যন্তর ছিল না।

তাঁর একমাত্র ভরসা ছিল "আয়েশা"! আয়েশাই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যে তাঁকে জানাতে পারে, সেই নিশুতি রাতে সত্যিই কী ঘটেছিল। যে কারণে মুহাম্মদ আয়েশাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, "লোকেরা যা বলছে তেমন অপকর্ম যদি তুমি করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে তওবা করো...।"

মুহাম্মদের সময়কালে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জনপদবাসীদের তুলনায় আরব জনপদবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মান কেমন ছিল, তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই বর্ণনায়। ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, বিদেশীদের বাড়ি-ঘরের মত তাদের বাড়িতে তখন কোন টয়লেট ছিল না। তারা তাদের প্রস্রাব-পায়খানা সম্পন্ন করতো খোলা ময়দানে। নবী-পত্নীরাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। 

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৯৫-৪৯৬

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫২১-১৫২৫ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[3] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal):  কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৪২৯-৪৩৩

ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob;
ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২১০-২১২

[4] Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ", ইবনে হিশামের নোট- নম্বর ৭৪০, পৃষ্ঠা ৭৬৮
“তিনি ছিলেন উম্মে রুমান, যয়নাব বিনতে আবদু দুহমান, বানু ফিরাস বিন ঘানাম বিন মালিক বিন কিনানা গোত্রের।”

[5] সুরা ইউসুফ (১২:১৮) - এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে আনল। বললেন: এটা কখনই নয়; বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখন ছবর করাই শ্রেয়। তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্য স্থল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন