২২ নভেম্বর, ২০১৫

ঈশ্বরের অনৈশ্বরিক কর্মকাণ্ড - ৭

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

বাইবেল বা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের কথা মুসলিমদের বলা হলে তারা গর্জে উঠে বলে, "আরে, ওগুলো তো একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিলো, এখন ওগুলোর কোনোই প্রয়োজন নেই। তাছাড়া ওগুলো মানুষে বিকৃত করে ফেলেছে।"

এই কথাগুলো কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি করে, সেগুলো বলার আগে আমাদের এলাকার এক পাউরুটি-বিক্রেতার সম্পর্কে কিছু কথা বলে নিই।

আমাদের এলাকায় পাউরুটি ও কেক প্রস্তুত করে তা দোকানে দোকানে বিক্রি করেন আলমগীর হোসেন। তাঁর প্রস্তুতকৃত পাউরুটিগুলোর মেয়াদ থাকে তিন দিন পর্যন্ত। তাঁর বিক্রি করা পাউরুটিগুলো তিন দিন হওয়ার আগেই দোকানে দোকানে গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটিগুলো ফেরত নিয়ে আসেন। সেগুলো আবার প্রক্রিয়াজাত করে দোকানে পাঠান। মোটকথা, তিনি চান না, মানুষ মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ুক। দোকানে থাকলে দোকানদার বিক্রি করে দিতে পারে বা ক্রেতা না দেখে কিনেও নিতে পারে, তাই তিনি নিজ উদ্যোগেই দোকানে দোকানে গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটিগুলো নিয়ে আসেন।

এখন আসি মুসলিমদের ঐ বক্তব্যের প্রসঙ্গে।

ক) আল্লার যেহেতু বাণী নাযিল করার ক্ষমতা আছে, তাহলে নিশ্চয় তা উঠিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও আছে। তাহলে যে-বাণী বা যে-গ্রন্থের মেয়াদ শেষ, তা উঠিয়ে না নিয়ে date expired গ্রন্থ রেখে দিয়ে সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন কেন? নাকি উঠিয়ে নিতে পারেননি? ক্ষমতা নেই বলে?

খ) নাকি উঠিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ছিলো, কিন্তু উঠিয়ে নেওয়ার সদিচ্ছা ছিলো না?

গ) যদি বলেন যে, "আল্লাহ তো বলে দিয়েছে সেগুলো অনুসরণ না করতে, কারণ সেগুলো ঐ সময়ের জন্য ছিলো," এখানেও কিছু সমস্যা আছে। যেমন: আল্লাহ কি তাহলে সর্বকালের জন্য উপযোগী গ্রন্থ নাযিলে ব্যর্থ? তাছাড়া মাত্র কয়েক হাজার বছরের মাঝেই শতশত গ্রন্থ নাযিল করার প্রয়োজন হলে সামনে পৃথিবীর ধ্বংসের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এক কুরান কীভাবে সার্ভিস দিয়ে যাবে?

ঘ) কেউবা বলবেন "বিভিন্ন গ্রন্থ রেখেছেন আল্লাহ ইচ্ছা করেই, আর এর মাধ্যমে বান্দাদের পরীক্ষা নেবেন, কে আল্লার কথা শুনে আল্লার নির্দেশিত গ্রন্থই অনুসরণ করে।" এখন আপনাকে স্মরণ করতে বলবো আলমগীর হোসেনের কথা, যিনি মানুষ হয়ে অন্য মানুষকে কত ভালবাসেন। তিনিও কিন্তু পাউরুটিগুলোর প্যাকেটে সতর্কিকরন হিসেবে expiry date লিখেই দেন। কারণ তিনি জানেন, মানুষ ভুল করে কিনতেই পারে বা দোকানদার ঠকবাজি করে তা বিক্রি করে দিতেই পারে। তাই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে নিজেই তা উঠিয়ে আনতেন। তাছাড়া ক্রেতা তারিখ না দেখেই কেনে কি না, এই পরীক্ষাও তিনি করতে যান না। কেননা পরীক্ষা নিতে গিয়ে যদি কারো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই পরীক্ষা না নেওয়াই উত্তম।

যেখানে একজন মানুষ অন্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এত চিন্তা করে, ক্ষতির ভয়ে পরীক্ষার প্রয়োজন মনে করে না, সেখানে আল্লাহ নাকি মহান! তিনি কেন মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা নামক খেলায় লিপ্ত হবেন, যেটা করলে মানুষের ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা আছে? যেমন, কিছু মানুষ দোযখের আগুনে অনন্তকাল পুড়বে। আল্লাহ যদি মানুষকে নিয়ে (পরীক্ষা নামক খেলা) না খেলতেন, তাহলে কাউকেই দোযখে যেতে হতো না।

তাই ভাবি, আলমগীর হোসেনের মত সুবুদ্ধি যদি আল্লার থাকতো, তবে তিনি কারো ক্ষতি হতে পারে, এমন পরীক্ষা কখনই নিতেন না। আলমগীর যেখানে সামান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য ক্রেতাকে পরীক্ষায় ফেলতে চান না, তিনি ঈশ্বর হলে বান্দাদের আরো কতই না ভালবাসতেন!

আবার আল্লার নামে তাঁর বান্দারাই মিথ্যাচার করে এই বলে, আল্লাহ নাকি সবই জানেন। আল্লাহ সবই জানলে কি আর পরীক্ষা করতেন বান্দাদের? তাছাড়া আল্লার কাজকারবার দেখলেই বোঝা যায়, তিনি সব জানেন না। যেমন, মানুষের দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা রেখেছেন, তারা ভাল কাজ ও মন্দ কাজের হিসাব লিখে রাখছে। সেগুলো আবার মিজানের পাল্লায় তুলে পরিমাপ করে তবেই আল্লাহ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন