৩০ নভেম্বর, ২০১৫

যুগে যুগে দেশে দেশে নরবলি - ০২

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

প্রাচীন চীন সভ্যতার রক্তে-মজ্জায় মিশে আছে ধর্মীয় কুসংস্কারের নানা কাহিনী। ঐতিহাসিকরা বলেন, চীনা ঘটনায় অনেক কিছুই রটনা হলেও সত্যতা প্রচুর। 

জানা গেছে, চীনের রাজা চিন-শি-হুয়াং-তি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম চীনের প্রাচীর (Great Wall of China) তৈরি করেছিলেন।| এই প্রাচীর তৈরির সময় রাজা অনেক নরবলি করেছিলেন দু'টি কারণে: ১. প্রাচীরটি মজবুত হবে এবং ২. এই প্রাচীর টপকে বিদেশি আক্রমণকারীরা চীন আক্রমণ করতে ভয় পাবে।

চীনে নরবলির আরও অনেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যার। সভ্য জগতে চীনের অনেক অবদান রয়েছে, তথাপি দেখা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর কোথাও তার স্ত্রী, দাস-দাসী ও রক্ষিতাদের একই কবরে জীবন্ত সমাধিস্থ করা হয়েছে। চীনে যুদ্ধবন্দীদের ধরে যত্ন করে রাখা হত। দেবতা-পূজা দেবার সময় ঐ সব বন্দীদের হৃৎপিণ্ড কেটে বের করে নিয়ে নিবেদন করা হত দেবার্ঘের থালাতে। চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিম জাতি এখনও প্রতি বছর একটি কুকুরের মূর্তির সামনে নরবলি দিয়ে দেবতার আর্শীবাদ চায়। তবে সাম্প্রতিককালে এসব হলেও প্রকাশ্যে নয়, লুকিয়ে চুরিয়ে হয়ে থাকে।

চীনে আর একটি জঘন্য প্রথা বহুদিন ধরে চালু ছিল। কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে হত্যা (Murder) করলে হত্যাকারীর শরীরের কিছু অংশ কেটে নিয়ে অথবা সরাসরি দেবস্থানে বলি দিয়ে নিহত মানুষটির আত্মার শান্তি কামনা করা হতো।

চীনে যেমন 'জীবন্ত কবরস্থ প্রথা' চালু ছিল, মিশরেও (Ancient Egypt) তেমনটাই ছিল। প্রাচীন মিশরে ফ্যারাও বা আভিজাত ধনী ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার পিরামিডের মধ্যে তার স্ত্রী আত্মীয়-পরিজন, কর্মচারী, সৈনিক সবাইকে ঢুকিয়ে দিয়ে এক প্রকার কবরস্থ করা হত।


পণ্ডিত ডায়োডরাস লিখেছেন, প্রাচীন মিশরীয় দেবতা ওসিরিসের (Osiris) উদ্দেশে এক রাজা আরক্ত রঙের একজন মানুষকে বলি দিত। মিশরীয়রা একে কুপ্রথা না বলে 'একটি স্বাভাবিক সামাজিক বিধান' বলে মনে করতো।

প্রতি বছর নীলনদের জলে একজন করে যুবতীকে ডুবিয়ে মারা তথা উৎসর্গ করা হত।| এভাবে ডুবিয়ে মারলে নদীর দেবতা নাকি খুশি হয়ে সারা বছর নদীকে স্রোতস্বিনী ও সমৃদ্ধ রাখবে।

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন