৬ নভেম্বর, ২০১৫

নাস্তিকরা প্রাণখুলে হাসে কেন - ৩

লিখেছেন সাউদ আল মুহাম্মাদ

খাড়ান, আগে শান্তিমতো হাইসা লই। আমার স্বজাতি মুসলিমরা যেভাবে কোরআনের বাণীগুলান সত্য প্রমাণ করনের লাইগা উইঠা পইড়া খাইয়া না খাইয়া নামছে, তাতে কুনু কিছু লেখনের আগে প্রাণ খুইলা হাইসা নেওন ফরজ কাম হইয়া গ্যাছে।

নিরাপদ এবং নিরাপত্তা - এই শব্দ দু'টির অর্থ সবাই জানি। কিন্তুু হাসার জন্য এগুলোর ভিন্ন অর্থ প্রয়োজন, যা একমাত্র জ্ঞানী-গুণী, বিজ্ঞানী মুসলিমদের কাছে ব্যাপক পরিমানে পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একাধিক জায়গায় মক্কাকে ‘নিরাপদ’ এবং নিরাপত্তা ঘোষণা দিয়েছেন, এই কারণে ইয়াজিদ পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেয়। ইয়াজিদের বীর সেনারা (কারবালায় মুহাম্মদের চৌদ্দ গুস্টি হত্যা করে পুরো বংশ ধ্বংসকর্ম সম্পাদনের তিন বছর পর) মক্কা অবরোধ করে। তারা মহান আল্লাহর ঘরে তথা কাবায় জ্বলন্ত ন্যাপথালিনযুক্ত অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ করে কাবা ঘর জ্বালিয়ে দেয়। 

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একাধিক জায়গায় মক্কাকে ‘নিরাপদ’ এবং নিরাপত্তার শহর ঘোষণা দিয়েছেন, এই কারণে মক্কায় ক'দিন পর পর নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে এবং নিয়মিত ব্যাপক হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়। এ বছর হজ্বে শয়তানকে পাথর মারতে গিয়ে নিহত হাজীর সংখ্যা বর্তমান হিসেব অনুযায়ী ২১৭৭ জন। এখনও শত শত হাজীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ক্রেন ভেঙে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর আল্লাহ কেন তার কথা রাখতে ব্যর্থ - এই প্রশ্নটি হয়তো বহু মানুষের মনেই জাগ্রত হয়েছে। সুরা আল ইমরানের ৯৭ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি সেখানে (মক্কার হারাম) প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে।’ সুরাতুল আনকাবুতের (আয়াত নং ৬৭) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ‘তারা কি দেখে না যে, আমি (মক্কা নগরীকে) একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুপার্শ্বে যারা আছে, তাদের উপর আক্রমণ করা হয়।’ সুরা তীনে আল্লাহ তাআলা মক্কাকে নিরাপদ শহর হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুরা বাকারায় (আয়াত ১২৫) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ‘আর স্মরণ করো তখনকার কথা যখন আমি এই গৃহকে (কাবা) লোকদের জন্য কেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল গণ্য করেছিলাম।’

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একাধিক জায়গায় মক্কাকে ‘নিরাপদ’ এবং নিরাপত্তার শহর ঘোষণা দিয়েছেন, তবে কেন কদিন পর পর দুর্ঘটনায় নিয়মিত মুসলমানদের প্রানহাণি ঘটে? সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি নিয়ে যে বা যারাই এমন প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন, তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, কুরআনে বর্ণিত উপরোল্লেখিত মক্কা ও মক্কার মসজিদকে ‘নিরাপদ’ বলে আখ্যায়িত করার বিখ্যাত যতগুলি ব্যাখ্যা রয়েছে, তার সবগুলোই গাঁজাখুরি এবং হাস্যকর। ত্যানাপ্যাঁচানো ব্যাখ্যাগুলো নিম্নরূপ:

ত্যানা ১. আয়াতে উল্লেখিত নিরাপত্তা বলতে জাহেলী যুগের নিরাপত্তার কথা বোঝানো হয়েছে। তখন হারামে কেউ প্রবেশ করলে আর তাকে কেউ কোনো ধরণের আক্রমণ করতো না। অনেকে সাধারণ অর্থে হারামে প্রবেশকারীর নিরাপদ থাকার অর্থ করেছেন। অর্থাৎ হারামকে আল্লাহ তা’আলা এতোটা মর্যাদা ও গাম্ভীর্য দান করেছেন যে, কোনো খুনির কাছ থেকেও কেউ সেখানে খুনের বদলা নিয়ে নিজের হাত রক্তে রাঙাতে চায় না।

ত্যানা ২. কোনো কোনো তাফসীরবেত্তার মতে, হারাম শরীফের নিরাপত্তার মানে হলো, মানুষের গুনাহের ফলে আল্লাহ প্রদত্ত যে আযাব-গজব নাজিল হয়ে থাকে, তা থেকে মক্কার এই মসজিদ নিরাপদ থাকবে। (এই দু’টি ব্যখ্যা ইমাম তাবারীর তাফসীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।) যেমনটি (সুরাতুল বাকারা ১২৬ নং আয়াতে) ইবরাহিম [আ.] দু’আ করেছিলেন।

ত্যানা ৩. কেয়ামতের পূর্বলগ্নে পৃথিবীর কোনো শহর ও জনপদ দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে না। প্রতিটি স্থানে সে হানা দেবে। কিন্তু মক্কা (এবং মদীনা) নগরীতে সে প্রবেশ করতে পারবে না। এ মর্মে সহীহ বোখারী ও মুসলিমে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর আলোকে অনেক মুফাসসির বলেন, মক্কা ও তাতে প্রবেশকারীর নিরাপত্তা বলতে মানবিতিহাসের সবচে বড় ফিতনা দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ত্যানা ৪. অনেকের মতে, এখানে ‘সংবাদসূচক শব্দ’ ব্যবহার করা হলেও উদ্দেশ্য নির্দেশ জারি করা। যা কুরআনের বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ একটি পদ্ধতি। উদ্দেশ্য হলো, শাসকগণ যেন হারামে প্রবেশকারীদের কোনো প্রকার অনিষ্ট সাধন না করেন, বরং তাদের নিরাপত্তা বিধান করেন। ইমাম জাসসাস সহ অনেকেই এমনটি ইঙ্গিত করেছেন।

ত্যানা ৫. অনেকে বলেছেন, মক্কার হারামে প্রবেশকারীকে নিরাপদ বলার অর্থ হলো, সেখানে কোনোরূপ দণ্ড বাস্তবায়ন চলবে না। সুতরাং সেখানে কোনো খুনী বা কাফেরকে হত্যা করা যাবে না, চোরের হাত কাটা যাবে না ইত্যাদি।

ত্যানা ৬. বিগত ৫ হাজার বছরে মক্কা কখনো বহির্শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয় নি। ইবরাহিম [আ.]-এর দোআর ভিত্তিতে সেই দিক থেকে (বহির্শক্তির আক্রমন ও দখল হতে) নিরাপদ রাখার অর্থও হতে পারে। সুরাতুল আনকাবুতের ৬৭ নং আয়াতে এদিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একাধিক জায়গায় মক্কাকে ‘নিরাপদ’ এবং নিরাপত্তা ঘোষণা দিয়েছেন, তবে কেন ক্রেন ভেঙ্গে ঘটে গেলো মক্কার ইতিহাসের পঞ্চম বড় দূর্ঘটনা। আবরাহার হস্তি বাহিনীর আক্রমনের পর শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যুগে মক্কায় ঘটেছিল দ্বিতীয় হতাহতের ঘটনা, যাতে হাজ্জাজের আক্রমণে একজন সাহাবীসহ বহু লোক নিহত হন। আর তৃতীয় হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে - শিয়াদের বিদ্রোহের সময়। তখনও বহু মানুষ হতাহত হয়েছ। এরপর ১৯৮৯ সালে দুইটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে মক্কায় ঘটেছিল চতুর্থতম আরেকটি বড় দুর্ঘটনা। এতে একজন নিহত ও ১৬জন আহত হন। আর পঞ্চম অথচ আকারে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে গেলো ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে। এই ঘটনায় আল্লাহ, ইসলাম এবং আল কোরআনের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে অনেকেই এখন নাস্তিক হয়ে প্রাণখুলে হাসে।

প্রাণখুলে হাসার জন্য কোরআন নামক কৌতুকসমগ্র থেকে চলুন টিভি চ্যানেলের লাইভ প্রোগ্রামের মতো সরাসরি কিছু দেখি:

ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤـَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

ﻭَﺍﻟﺘِّﻴﻦِ ﻭَﺍﻟﺰَّﻳْﺘُﻮﻥِ
শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

ﻭَﻃُﻮﺭِ ﺳِﻴﻨِﻴﻦَ
এবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের,

ﻭَﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪِ ﺍﻟْﺄَﻣِﻴﻦِ
এবং এই নিরাপদ নগরীর।

ﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺃَﺣْﺴَﻦِ ﺗَﻘْﻮِﻳﻢٍ
আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।

ﺛُﻢَّ ﺭَﺩَﺩْﻧَﺎﻩُ ﺃَﺳْﻔَﻞَ ﺳَﺎﻓِﻠِﻴﻦَ
অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻓَﻠَﻬُﻢْ ﺃَﺟْﺮٌ ﻏَﻴْﺮُ ﻣَﻤْﻨُﻮﻥٍ
কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার।

ﻓَﻤَﺎ ﻳُﻜَﺬِّﺑُﻚَ ﺑَﻌْﺪُ ﺑِﺎﻟﺪِّﻳﻦِ
অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে?

ﺃَﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺄَﺣْﻜَﻢِ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻤِﻴﻦَ
আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?

(সূরা ত্বীন আল কোরআনের ৯৫ নাম্বার সূরা)

---------------------------

ﻓِﻴﻪِ ﺁﻳَﺎﺕٌ ﺑَﻴِّـﻨَﺎﺕٌ ﻣَّﻘَﺎﻡُ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻭَﻣَﻦ ﺩَﺧَﻠَﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﺁﻣِﻨًﺎ ﻭَﻟِﻠّﻪِ

ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺣِﺞُّ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻣَﻦِ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻉَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺳَﺒِﻴﻼً ﻭَﻣَﻦ ﻛَﻔَﺮَ

ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪ ﻏَﻨِﻲٌّ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ

এতে রয়েছে মকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থন রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না। আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।

(সূরা আল ইমরান আয়াত ৯৭)

-------------------------

ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَﻭْﺍ ﺃَﻧَّﺎ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﺣَﺮَﻣًﺎ ﺁﻣِﻨًﺎ ﻭَﻳُﺘَﺨَﻄَّﻒُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻣِﻦْ ﺣَﻮْﻟِﻬِﻢْ

ﺃَﻓَﺒِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻭَﺑِﻨِﻌْﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﻜْﻔُﺮُﻭﻥَ

তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুপার্শ্বে যারা আছে, তাদের উপর আক্রমণ করা হয়। তবে কি তারা মিথ্যায়ই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করবে?

(সূরা আল আনকাবুত আয়াত ৬৭) 

---------------------

ﻭَﺇِﺫْ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖَ ﻣَﺜَﺎﺑَﺔً ﻟِّﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺃَﻣْﻨﺎً ﻭَﺍﺗَّﺨِﺬُﻭﺍْ ﻣِﻦ ﻣَّﻘَﺎﻡِ

ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻣُﺼَﻠًّﻰ ﻭَﻋَﻬِﺪْﻧَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻭَﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﺃَﻥ ﻃَﻬِّﺮَﺍ

ﺑَﻴْﺘِﻲَ ﻟِﻠﻄَّﺎﺋِﻔِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻌَﺎﻛِﻔِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺮُّﻛَّﻊِ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ

যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর স্মরণ করো তখনকার কথা যখন আমি এই গৃহকে (কাবা) লোকদের জন্য কেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল গণ্য করেছিলাম’। 
(সূরা বাকারা আয়াত ১২৫)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন