২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

সীমানা যখন সীমা না

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

আমার এক বন্ধু আমার হাতে বাংলা অনুবাদসহ কুরান ধরিয়ে দিয়ে বললো, "এই নে, অনুবাদসহ কুরান। মন দিয়ে পড়, পড়ে এবার ধার্মিক হ..."

আমিও আগ্রহ দেখিয়েই নিলাম। যদিও ঐ কপিটা সহই আমার কাছে আরো বেশকিছু কপি ছিল আলাদা আলাদা অনুবাদকের। যাই হোক, কাল আমি যদি ঐ বন্ধুটিকেই অভিজিৎ রায়ের "অবিশ্বাসের দর্শন' বা রিচার্ড ডকিন্সের 'দ্য গড ডিলিউশন' বা হিচেন্সের 'GOD is not great' বইটি তার হাতে ধরিয়ে বলি, "এই নে, মানুষ হবার বই। মন দিয়ে পড়, আর পড়ে মানুষ হ..."

তবে কি আমি সীমালঙ্ঘন করে ফেলবো? হ্যাঁ, এটা অবশ্যই এটা সীমালঙ্ঘন হবে। কেননা সীমালঙ্ঘন শুধু আমরাই, নাস্তিকরা, করতে পারি।


ইসলামিস্টরা, রাজনীতিবিদরা এত কিছু বলে, এত কিছু করে, তবুও সীমালঙ্ঘন তো দূরে থাক, সীমার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না। তারা রাতদিন ধরে পরিশ্রম করে যা খুশি বলে ও করেও হয়তো সীমারই নাগাল পাবে না। লঙ্ঘন তো দূরের কথা! এদিকে নাস্তিকেরা নিজেদের মতামত অনলাইনেও প্রকাশ করতে পারে না। ধার্মিকদের ঠুনকো, নড়বড়ে অনুভূতিতে সেটা ঘূর্ণিঝড় নার্গিসের মত আঘাত হানে। বই পড়তে দেয়া তো দুরের কথা!

কেন যে এত ঠুনকো অনুভূতি নিয়ে তারা স্বেচ্ছায় অনলাইনে নাস্তিকদের লেখালেখিতে উঁকিঝুঁকি মেরে অনুভুতিকে আহত করে, বুঝি না! কোনো নাস্তিক কি মাইকে ঘোষণা বা পত্রিকা-টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলে, "তোরা অনলাইনে আমার লেখা পড়ে এসে আহত হয়ে যা"?

অন্যদিকে ধার্মিকরা শীতের রাতে রাতভর ওয়াজ-মাহফিলে বিধর্মীদের, বিধর্মিদের উপাস্যদের সার্ফ এক্সেল দিয়ে ধোলাই করতে করতে নিজেদের শরীরই গরম করে ফেলে। কিন্তু তাতে শ্রোতাদের, মডারেটদের, আইনরক্ষাকারীদের শরীরও গরম হয় বৈ সীমালঙ্ঘন হয় না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন