১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

ইছলাম: ধর্মীয় রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক ধর্ম? - ৬

লিখেছেন জর্জ মিয়া


নবী মোহাম্মদ তার ধর্ম ইছলাম প্রচারের বহু আগে থেকেই এ সম্বন্ধে বিস্তুর জেনে-শুনে নেন। মক্কায় বসে মারয়া পাহাড়ের কাছাকাছি জাবর নামে এক ব্যক্তির দোকানে প্রচুর সময় কাটাতেন। এখানে বসেই তিনি মুলত জাবরের সাথে ধর্মীয় নানা আলোচনা করতেন, যে-ব্যাপারে কোরানেও একাধিক বার উল্লেখ আছে। আর এক কারণে ইছলাম প্রচারের শুরুর দিকে অনেক কোরাইশই দাবি করতেন যে, নবী মোহাম্মদ কোরানের আয়াত পেয়েছেন এক বিদেশীর কাছ থেকে। কোরাইশদের এই দাবি দেখুন সুরা নাহলের ১০৩ আয়াতে (১৬:১০৩)। 

এছাড়াও মোহাম্মদ যাদের সাথে ধর্মীয় আলোচনা করতেন, তাদের মধ্যে সন্ন্যাসী আয়েশ, পারস্যের সালমান আল ফার্সি, ইথিওপিয়ার বেলাল উল্লেখযোগ্য। মোহাম্মদের মূর্তিপূজা বিরোধিতার শুরুটা এখান থেকেই। বিরোধিতা যে শুধুমাত্র তার একারই ছিলো, তাও না। তবে তার মত অন্য হানিফা মতদার্শী কেউই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হত্যা, খুন, ধর্ষণ করেননি। এখানেই মোহাম্মদের সাথে অন্যদের বিস্তর ফারাক। 

“তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের অধিকারি (দাস, দাসী এবং যুদ্ধবন্দিনী) - আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদেরকে বৈধ করেছেন (৪:২৪) - এ আয়াতের ব্যাখ্যা তফসির আল জালালানে দেখি: "যাদেরকে যুদ্ধের ময়দানে আটক করেছে, তাদের সাথে সহবাস করা তাদের জন্য বৈধ, যদি তাদের স্বামীগণ জীবিতও থাকে।” 

ইবনে ইসহাকের নবী সিরাতে দেখতে পাই, বানু কুরাইজা গোত্রের সমস্ত পুরুষ সদস্যদের হত্যা করার পরে তাদের ধন-সম্পত্তি ও ৬ হাজার শিশু ও নারী মোহাম্মদের আয়ত্তে চলে আসার পরে নারীদের জিহাদিদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়। ইছলামী খলীফা ওসমান জয়নাব নামের এক সুন্দরী নারীকে; নবীর জামাতা-কাম ভাই আলী, রায়তাকে; এবং রায়হানা নামের সুন্দরীকে মোহাম্মদ নিজের জন্য নির্বাচিত করেন। চিন্তা করে দেখুন, কী শ্রেষ্ঠ নবী ইছলামের! 

এ বিষয়ে আরও দ্রষ্টব্য: আবু সুনান বই, ১১, হাদিস ২১৫০; বুখারি ৫, বই ৫৯, হাদিস ৬৩৭; বুখারী খণ্ড ৩, বই ৪৬, হাদিস ৭১৭; সহি মুছলিম, বই ১৯, হাদিস ৪৩২১, ৪৩২৩।

ইছলাম প্রচারের কিছু আগে নবী মোহাম্মদ দরিদ্র পিতৃ-মাতৃহীন সন্তান তখন। দাদা ও চাচাদের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশুনা করেই তার জীবন চলে যাচ্ছিলো। এরই মধ্যে পরিণয় ঘটে যায় আবু লাহাবের কন্যা উম্মে হানির সাথে। আবু লাহাব ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেই, সম্ভবত, তাকে বিয়ে দিয়ে দেন দু'বার বিবাহিতা, প্রভাবশালী, ৪০ বছর বয়স্কা খাদিজার সাথে। এটাকে মমিন মুছলিম ভাইয়েরা আবার অন্য দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। বলা হয়ে থাকে যে, নবী মোহাম্মদের মুজেজায় মশগুল হয়েই নাকি খাদিজা তাকে বিয়ে করেন। ব্যাপারটি মোটেও সত্য নয়। কেননা তখন খাদিজার ঘরে দুই বিবাহযোগ্যা কন্যা ছিলেন। যাদের কোনো একজনের সাথে মোহাম্মদের বিয়ে হলেই, বোধকরি, বেশি যুতসই হতো; বিশেষ করে যখন মধ্যবয়স্কা কোনো নারী যদি ২৬ বছরের কোন তাগড়া যুবককে বিয়ে করেন ঘরে বিবাহযোগ্যা কন্যা রেখেই। কন্যার জামাই না করে কেন মোহাম্মদকে খাদিজা নিজের জামাই করে নিলেন, প্রশ্নটা রেখে গেলাম এখানে। তাছাড়া উম্মে হানির, সম্ভবত, মত ছিলো মোহাম্মদের পাণি গ্রহনে। যার বিস্তারিত আমরা মেরাজের ঘটনায় আলোচনা করবো।

তৎকালীন একজন কবির সাথে উম্মে হানির বিয়ে ঠিক ছিলো বহু আগেই। আর কে না জানে যে, তখন এই কাবাকে ঘিরে কবিদের কদর ছিলো সবচেয়ে বেশি! সেখানে এক উদ্বাস্তু মোহাম্মদের কাছে কেন দেবেন মেয়েকে? যেখানে আগেই তিনি অন্যত্র কথা দিয়ে রেখেছেন এবং মান-সম্মান বলে সমাজে কিছু ব্যাপার আছে, যার বাইরে আবু লাহাব নিজেও নন। আর এ কারণেই মোহাম্মদের একটা গতি হোক খাদিজাকে বিয়ে করে, আর হানি-মোহাম্মদের প্রেমের অবসান ঘটুক, এটিই সম্ভবত চেয়েছিলেন আবু লাহাব। খাদিজা মোহাম্মদকে বিয়ের করার পেছনে কাজ করেছে, ধারণা করি, “হানিফা দর্শন”, যা থেকে প্রভাবিত ছিলেন মোহাম্মদ, খাদিজা ও তার স্বীয় চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নওফল।

এ বিয়েকে ধরা যায় রাজনৈতিক এক বিশাল কারণ হিসেবে। কেননা মোহাম্মদের নবী হবার পেছনে এই বিয়ে মারাত্মক তাৎপর্যপূর্ণ। মোহাম্মদের মূর্তিপূজা-বিরোধী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো, যা তিনি খাদিজাকে বিয়ে করে পূর্ণ করেন। খাদিজাকে বিয়ে করার পরে মোহাম্মদের অর্থের আর কোনো অভাবই রইলো না। তার দুই মেয়েকে চাচা আবু লাহাবের দুই পুত্র ওতাইবা ও উতবার সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। ওতাইবা বা উতবা কেউই ইছলাম গ্রহণ করেননি। তাহলে ইছলামের নবীজি এমন উদ্ভট কর্মটি কেন করলেন? নবী মোহাম্মদের ইছলাম ধর্মে আবু লাহাব ভেড়েননি, গ্রহণ করেননি তার স্ত্রী ও দুই পুত্র। আবার এদিকে মনের মানুষকে না পাওয়ার ক্ষোভ। সব মিলিয়েই নাজিল হলো "ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত। ধ্বংস হোক সে নিজেও আর তার স্ত্রী।" (কোরান-সুরা লাহাব)।

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন