৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

হজ্ব করতে গিয়ে আমি নাস্তিক হয়ে গিয়েছি

লিখেছেন আলহাজ্ব নাস্তিক

মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আমার পরিবারটির সব সদস্যই ধার্মিক। আমিও তাদের মতই ইসলাম-প্রেমিক ছিলাম। এমনকি মা-বাবার সাথে ২-বার হজ্বও করেছি আমি। মুলত হজ্ব করতে গিয়েই আমার নাস্তিক হওয়া শুরু। কারণ ওখানে গিয়ে মক্কায় ১২ জন তরুণের প্রকাশ্য শিরশ্ছেদ দেখলাম আমি। তরুণদের অপরাধ ছিল একটা মেয়ের সাথে সেক্স করেছিল তারা। হরমোনজনিত উত্তেজনায় সেক্সের কারণে এভাবে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করাটা আঘাত করেছিল আমার মনে। তারপর হজ্বের মাঠের কর্মকাণ্ড সব হাস্যকর মনে হলো আমার কাছে। যেমন শয়তানকে পাথর মারা, কাবার চারদিকে তাওয়াফ করতে গিয়ে চাপে মানুষ মরা, হজরে আসওয়াদ চুমু দিতে গিয়ে এলাহী কাণ্ড, সাফা মারোয়ায় দৌড়াদৌড়ি, এমনকি কাবায় ঢুকে ফেরার পথে জুতা না পাওয়া ইত্যাদি। আমরা যে-বছর হজ্বে গেলাম, সে বছর তাঁবুতে আগুন লেগে অনেক মানুষ মারা যায় মিনায়। যদিও হাজীরা ছিল সব আল্লাহর মেহমান বা অতিথি। অতিথিদের প্রতি তার আচরণে মর্মাহত হলাম আমি যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে।

দেশে ফিরে ইসলামকে ভাল করে বোঝার জন্যে বই আর নেট থেকে কোরান-হাদিস তথা ইসলামি সব কিতাব পড়া শুরু করলাম সব কাজ বাদ দিয়ে। জানতে আর বুঝতে যে, ইসলামটা আসলে প্রকৃত কী? এ সময় শাহবাগে গণজাগরণ শুরু হলো। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে সেখানে যোগ দিলাম আমি। দেখলাম, হেফাজত-জামাতসহ অধিকাংশ ইসলামি সংগঠনগুলো শাহবাগের মুক্তি আর স্বাধীনতার আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে "নাস্তিক্য" আন্দোলন বলছে। নিজে 'আলহাজ্ব' হওয়ার পরও শাহবাগে সংযুক্ত হওয়ার কারণে কেন 'নাস্তিক' হবো, বুঝতে পারলাম না। এর মধ্যে শুরু হলো হেফাজতের ঢাকা অববোধ কর্মসূচি। ইসলামের নামে ঢাকাতে তারা যা যা করলো, তাতে ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাটুকু অনেকটাই হারালাম আমি, বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম এলাকায় কোরান পোড়ানো, গাছ কাটা, নারী সাংবাদিককে তাড়া করা, ১৩-দফা ইত্যাদি। যদিও তারা বললো, তারা ইসলামের হেফাজত করছে। এমন হাস্যকর হেফাজত দেখে ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা চলে গেল আমার।

এর মাঝে কোরান-হাদিস বেশ কবার পড়ে সব শেষ করলাম। পুরো কোরান-হাদিসে ইহুদিদের প্রতি নবীর সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিমদের অব্যাহত আক্রমণ, ঘৃণা, হত্যা ইত্যাদি দেখে খুবই মর্মাহত হলাম মানুষ হিসেবে। ছিয়া-সিত্তাসহ সকল হাদিসগ্রন্থে মদিনায় নবীর আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অমুসলিম মানুষের প্রতি আক্রমণ, ইসলাম গ্রহণ না করলে বিতাড়ণ বা হত্যা, গণিমত, অমুসলিম নারীদের সাথে যৌনতা - এসব পড়ে জানলাম, ইসলাম আসলে কী? ইসলাম পড়ার পর অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানারও আগ্রহ বাড়লো আমার খুব। তাই বিলুপ্ত ও চলমান সব ধর্ম সম্পর্কে যত সোর্স আছে, জানার চেষ্টা করলাম আমি। দেখলাম, সব ধর্মই চলমান অবস্থায় অনেক বড় বড়, সুন্দর কথা বলেছে কিন্তু অবশেষে বিলুপ্ত হয়েছে নানা কারণে। তাই মনে দৃঢ়তা জেগেছে, ইসলামসহ সব কাল্পনিক ধর্মই একদিন বিলুপ্ত হবে। তো খামোখা নিজের পারিবারিক ধর্মের বোঝা ইসলামকে বইতে পারলাম না আর। মুক্তমনা হিসেবে ঘোষণা করলাম নিজেকে নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করে। এই হলো আমার মুক্তমানুষ তথা ইসলামমুক্ত হওয়ার কিসসা।

আমাকে ইসলাম ছাড়তে বাধ্য করছে ইসলামি ধর্মপুস্তক তথা কোরান-হাদিসের বাণীসমূহ এবং হেফাজত, জামাত, শিবির, আইএস, বোকোহারাম, শিয়া-সুন্নীসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের কথা ও সহিংস কাজ তথা বিশ্বের মুক্তমনা মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন