২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

আয়েশার প্রতি অপবাদ - ৬: অপবাদকারীকে পুরস্কারে ভূষিত!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১০৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী ও পরিবার সদস্যরা তাঁর প্রিয় পত্নী আয়েশা বিনতে আবু বকরের ওপর যে-ব্যভিচারের অভিযোগ আরোপ করেছিলেন, তার সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি তাঁর আল্লাহর রেফারেন্সে অভিযোগকারীদের কাছে কী সাক্ষ্য হাজির করার আদেশ জারি করেছিলেন; এই প্রমাণ হাজির ব্যতিরেকে আয়েশার ওপর ব্যভিচারের অভিযোগ আরোপকারী দলের মুখ্য সদস্যদের তিনি কী শাস্তির হুকুম জারি করেছিলেন; তাঁর নির্দেশিত এই সাক্ষ্য উপস্থিত করে কোনো ধর্ষণ ও ব্যভিচার প্রমাণ করা কী কারণে প্রায় অসম্ভব (Almost impossible) ও বাস্তবতাবিবর্জিত একটি প্রস্তাবনা; আল্লাহর নামে তাঁর এই নির্দেশ কীভাবে তাঁর মতবাদ (শরিয়া আইন) অনুসারী সমাজের নারীদের জন্য “এক মরণ ফাঁদ” - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা গত দুটি পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা পুনরারম্ভ: [1] [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১০৪) পর:

'সাফওয়ান বিন আল-মুয়াত্তাল যখন জানতে পায় যে, হাসান বিন থাবিত তার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়েছিল ও কবিতার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তার বিরুদ্ধে ও ইসলাম-গ্রহণকারী মুদার এর আরবদের (Arabs of Mudar) বিরুদ্ধে বলে বেড়িয়েছিল, তখন সে তরবারি হাতে তার সম্মুখীন হয়। ইয়াকুব বিন উতবা আমাকে যা বলেছেন, তা হলো, সাফওয়ান তার সম্মুখীন হয় ও তার তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করে। [4] 

মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিথ আল-তায়েমি আমাকে বলেছেন: যখন সে হাসানকে আঘাত করে, তখন থাবিত বিন কায়েস বিন আল-সামমাস (Thabit b. Qays b. al-Shammas) নামের এক লোক সাফওয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও তার হাত দুটো তার গলার সাথে বেঁধে ফেলে। তারপর তাকে সে বানু আল-হারিথ বিন আল-খাযরাজ গোত্রের এক লোকের বাড়িতে ধরে নিয়ে আসে। 

আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (Abdullah b. Rawaha) তার সম্মুখীন হয় ও জিজ্ঞাসা করে, ঘটনাটি কী ঘটেছিল। সে বলে, "আমি কি তোমাকে অবাক করেছি? সে হাসান কে তার তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে; আল্লাহর কসম, সে হয়তো তাকে মেরেই ফেলতো।"

আবদুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে, সে যা করেছে, তা আল্লাহর নবী অবগত আছেন কি না। জবাবে যখন সে বলে, তিনি তা অবগত নন, তখন সে বলে যে, সে দুঃসাহসী কাজ করেছে এবং সে যেন অবশ্যই এই লোকটিকে ছেড়ে দেয়। সে তাই করে। 

অতঃপর তারা আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও তাঁকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। তিনি হাসান ও সাফওয়ানকে ডেকে পাঠান। পরের জন [সাফওয়ান] বলে, "সে আমাকে এমন অপমান ও ব্যঙ্গ করেছে যে, আমি আমার রাগ সমলাতে না পেরে তাকে আঘাত করেছি।"

আল্লাহর নবী হাসানকে বলেন, "তুমি কি আমার লোকদের এই কারণে কু-নজরে দেখো যে, আল্লাহ তাদেরকে ইসলামে সামিল করেছে?" তিনি আরও বলেন, "তোমার ওপর যা ঘটেছে, সে ব্যাপারে সহনশীল হও।" হাসান বলে, "হে আল্লাহর নবী, এটি আপনার এক্তিয়ার (It is yours, O apostle)।"

এই একই সংবাদদাতা আমাকে বলেছেন যে, আল্লাহর নবী ক্ষতিপূরণ বাবদ তাকে বির-হা (Bir Ha) নামের এক জমি প্রদান করেন, আজ মদিনায় যেখানে বানু হুদায়েলা-র দুর্গ অবস্থিত। এই জমিটি ছিল আবু তালহা বিন সা'হি নামের এক লোকের, যিনি ভিক্ষা স্বরূপ এটি আল্লাহর নবীকে দিয়েছিলেন; যা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনি হাসানকে দান করেন (It was a property belonging to Abu Talha b. Sahl which he had given as alms to the apostle who gave it to Hassan for his blow); তিনি তাকে আরও দান করেন শিরিন নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসীকে, যার গর্ভে জন্ম হয় আবদুল রহমান নামের তার এক সন্তান। 

আয়েশা বলতেন, "ইবনুল-মুয়াত্তাল সম্বন্ধে তারা প্রশ্ন করেছিল ও তারা জানতে পেরেছিল যে, সে পুরুষত্বহীন (impotent); সে কখনোই কোনো নারী স্পর্শ করেনি। এই ঘটনার পর সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।"’

আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ): 
'---আল্লাহর নবী হাসানকে দান করেন বারাহ (Barah) নামক স্থানে বেইরাহ (Bayrah) নামের এক ফাঁকা জমি (যেখানে কোনো গাছ-গাছালি নেই) ও তার আশে পাশে যা কিছু আছে এবং শিরিন নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসী।’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, যে-হাসান বিন থাবিত ছিলেন আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা ও প্রচারকারী দলের তিন জন মুখ্য সদস্যের একজন - যাদেরকে মুহাম্মদের আদেশে ৮০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল (পর্ব: ১০৪), সেই হাসান বিন থাবিত-কে মুহাম্মদ শুধু যে এক বিশাল সম্পত্তি প্রদানে পুরস্কৃত করেছিলেন তা-ই নয়; তিনি তার যৌনসুখের জন্য দান করেছিলেন "শিরিন" নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসীকে, যে-দাসীর গর্ভে হাসান জন্ম দিয়েছিলেন এক ছেলে সন্তান। 

প্রশ্ন হলো, এই ঘটনাটি ঠিক কখন সংঘটিত হয়েছিল? আয়েশাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদ-এর বাণীবর্ষণ ও হাসান বিন থাবিত-কে শাস্তি প্রয়োগ করার আগে? নাকি তার পরে? আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত ধারাবিবরণীতে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল আয়েশাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য মুহাম্মদ-এর বাণীবর্ষণ ও হাসানকে শাস্তি প্রয়োগ করার পর। অর্থাৎ হাসানকে অভিযুক্ত ও শাস্তি প্রয়োগ করার পূর্ব পর্যন্ত সাফওায়ন ও আয়েশাকে নিয়ে মুহাম্মদ অনুসারীদের এই রটনার কিছুই হয়তো সাফওয়ান জানতেন না। যদি তিনি তা আগে থেকেই জানতেন, তবে নিরপরাধ হাসানকে (মুহাম্মদ তখনও তাকে অভিযুক্ত করেননি) আঘাত করার জন্য সাফওয়ানের বিচার ও শাস্তি হওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছিল হাসানকে অপরাধী সাব্যস্ত করার পর, হাসানকে আঘাত করার জন্য মুহাম্মদ সংক্ষুব্ধ সাফওয়ানকে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করেননি।

কে এই শিরিন? 

মুহাম্মদ কি তাকে 'লুট' করে পেয়েছিলেন (গণিমত)? নাকি তিনি তাকে ক্রয় করেছিলেন?

উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে নিরীহ জনপদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের নারীদের ধরে নিয়ে এসে যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুহাম্মদ শিরিনকে হস্তগত করেননি, অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি তাকে কিনেও আনেননি। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী, মুহাম্মদ ইবনে সাদ প্রমুখ আদি বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ মিশরীয় সম্রাট আল-মুকাওকিস এর কাছ থেকে শিরিনকে উপঢৌকন হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ জারীকৃত ইসলাম নামক বিধানে কোনো নারীকে “লুট, ক্রয় ও উপঢৌকন” হিসেবে গ্রহণ করে তার সাথে অবাধ যৌনমিলন সম্পূর্ণরূপে বৈধ!

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৯৮-৪৯৯

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫২৬-১৫২৯ 

[3] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক: আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৪৩৬-৪৩৯ http://www.britannica.com/biography/al-Waqidi

ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২১২-২১৪

[4] মুদার এর আরবরা হলেন কুরাইশ মুহাজিররা। মুদার হলো উত্তর আরবের এক বিশাল গোত্র সমষ্টি; যাদের মধ্যে ছিলেন কায়েস আইলান, হুদায়েল, খুজামাহ, আসা'দ, কিনানাহ, কুরাইশ, দাববাহ ও তামিম (Qays Aylan, Hudhayl, Khuzamah, Asad, Kinanah, Quraysh, Dabbah and Tamim)। হাসান বিন থাবিত ছিলেন মদিনার আল-খাযরাজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন