১১ জানুয়ারী, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি-পূর্ববর্তী সাত মাস!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব - ১০৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – তিরাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর দশ বছরের মদিনার নবী-জীবনে মোট কতজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন; মোট কতজন নারীর সঙ্গে একত্রে সংসার করেছিলেন; মৃত্যুকালে তিনি মোট কত জন স্ত্রী জীবিত রেখে গিয়েছিলেন; তাঁর কতজন রক্ষিতা ছিল; মারিয়া আল-কিবতিয়া নামের রক্ষিতাকে তিনি কীভাবে অর্জন করেছিলেন  ও তাঁর এই রক্ষিতার সঙ্গে মাবুর নামের এক দাসের সম্পর্ক কী ছিল; কী কারণে এই মারিয়া আল-কিবতিয়ার গর্ভজাত সন্তান ইবরাহীমের পিতা মুহাম্মদ ছিলেন না; মারিয়া পুত্র ইবরাহীমের সম্ভাব্য পিতা কে ছিলেন, খাদিজা মৃত্যু পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদের সন্তান জন্মদান ক্ষমতা কেমন ছিল - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসে "হুদাইবিয়া সন্ধি (চুক্তি)" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। হিজরি ছয় সালের জিলকদ মাসে (মার্চ, ৬২৮ সাল), মক্কার অদূরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে, মক্কাবাসী কুরাইশ ও মুহাম্মদ এর মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা "হুদাইবিয়া সন্ধি" পর্বে করা হবে।  মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ সাল), আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল) প্রমুখ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত 'সিরাত' এর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, এই হুদাইবিয়া সন্ধি বর্ষের (Year of Hudaybiyyah) রবিউল আওয়াল মাস থেকে শুরু করে শাওয়াল মাস (জুলাই, ৬২৭ সাল - ফেব্রুয়ারি, ৬২৮ সাল) পর্যন্ত সন্ধি-পূর্ববর্তী সাত মাস সময়ে মুহাম্মদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা অবিশ্বাসী জনপদের ওপর চোদ্দটি আগ্রাসী হামলা চালান। ইসলামে নিবেদিত আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে এই হামলাগুলোর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন।

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [1] [2]

[আল-তাবারীর লিপিবদ্ধ "তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক” এর মূল ইংরেজি অনুবাদটির বাংলা অনুবাদ (নিচে); এই হামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন 'আল-ওয়াকিদি' তাঁর “কিতাব আল-মাগাজি” গ্রন্থে।] [2]]

মুহাম্মদ বিন মাসলামার অধীনে ধু আল-কাসসা বানু থালাবা ও উওয়াল গোত্রের বিরুদ্ধে:

এই বছর রবিউল আউয়াল মাসে [যার শুরু হয়েছিল জুলাই ২১, ৬২৭ সাল] আল্লাহর নবী দশ জন লোক সঙ্গে দিয়ে মুহাম্মদ বিন মাসলামা-কে অভিযানে পাঠান। শত্রুরা তাদের জন্য অপেক্ষায় ছিল, যতক্ষণে না সে ও তার সঙ্গীরা নিদ্রায় যায়। তারা কোনো কিছু সন্দেহ করার আগেই দেখতে পায় যে, শত্রুরা তাদের সম্মুখে। মুহাম্মদ বিন মাসলামার সঙ্গীরা হয় খুন; মুহাম্মদ আহত অবস্থায় যায় পালিয়ে’। [3]

উককাসা বিন মিহসানের অধীনে আল-ঘামর (al-Ghamr) হামলা:

‘আল-ওয়াকিদি হইতে বর্ণিত: এই বছর রবিউস সানি মাসে [যার শুরু হয়েছিল আগস্ট ২০, ৬২৭ সাল] আল্লাহর নবী চল্লিশজন লোককে সঙ্গে দিয়ে উককাসা বিন মিহসান-কে আল-ঘামর অভিযানে প্রেরণ করেন। থাবিত আকরাম ও শুজা বিন ওহাব ছিল এই দলে। সে দ্রুত অগ্রসর হয়, কিন্তু শত্রুরা তাদের আগমনের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। সে তাদের জলসেচনের স্থানে শিবির স্থাপন করে ও সঙ্গীদের তাদের সন্ধানে পাঠায়। তারা একজন গুপ্তচরকে ধরে ফেলে, যে তাদেরকে পথপ্রদর্শন করে তাদের কিছু গবাদি পশুর সন্ধান দেয়। তারা দুইশত উটের সন্ধান পায় ও সেগুলো ধরে মদিনায় নিয়ে আসে’। [4]

আবু ওবায়েদা আল-জাররা অধীনে ধু আল-কাসসা (Dhu al-Qassa) হামলা:

'আল-ওয়াকিদি হইতে বর্ণিত: এই বছর রবিউস সানি মাসে আল্লাহর নবী চল্লিশজন লোককে সঙ্গে দিয়ে আবু ওবায়েদা আল-জাররা-কে ধু আল-কাসসা অভিযানে প্রেরণ করেন। তারা সারা রাত্রি পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে সকালের সামান্য আগে ধু আল-কাসসা পৌঁছে। তারা অধিবাসীদের আক্রমণ করে, যারা পালিয়ে আশ্রয় নেয় পাহাড়ে; তারা তাদের গবাদি পশু ও পুরানো কাপড়-চোপড় লুণ্ঠন করে ও একজন লোককে ধরে ফেলে। সে মুসলমানিত্ব বরণ করে ও আল্লাহর নবী তাকে ছেড়ে দেয়’। [5]

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে আল-জামুম (al-Jamum) হামলা:

‘এই বছর যায়েদ বিন হারিথার অধীনে একটি হামলাকারী দল আল-জামুম নামক স্থানে গমন করে। সে মুযায়েনার হালিমা নামের এক নারীকে ধরে ফেলে, সে তাদেরকে বানু সুলায়েম গোত্রের তাঁবুর পথ দেখায়ে নিয়ে যায়; সেখানে থেকে তারা তাদের গবাদি পশু ও ভেড়াগুলো লুণ্ঠন করে এবং লোকদের বন্দী করে। সেই বন্দীদের একজন ছিল হালিমার স্বামী। যখন যায়েদ তার লুণ্ঠিত সামগ্রী নিয়ে ফিরে আসে, আল্লাহর নবী মুযায়েনার এই মহিলাকে তাঁর স্বামীসহ মুক্ত করে’।

বানু লিহায়েন (Lihyan) গোত্রের উপর হামলা:

[এই বছর জমাদিউল আউয়াল মাসে [যার শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বর ১৮, ৬২৭ সাল] বানু বানু লিহায়েন (Lihyan) হামলাটি সংঘটিত হয়, যার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব: ৯৬ এ করা হয়েছে]।

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে আল-ইস (al-Is) হামলা:

‘এই বছর জমাদিউল আউয়াল মাসে যায়েদ বিন হারিথার অধীনে এক হামলাকারী দল আল-ইস গমন করে। এই হামলায় আবু আল-আস বিন আল-রাবি [মুহাম্মদের জামাতা] এর সমস্ত বাণিজ্য-সামগ্রী লুণ্ঠন করা হয়। সে আল্লাহর নবীর কন্যার কাছে আশ্রয় ও সাহায্য কামনা করে; সে তাকে সাহায্য করে’। [বিস্তারিত আলোচনা: পর্ব-৪০ এ করা হয়েছে]।

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে আল-তারাফ (Al-Taraf) হামলা:

‘এই বছর জমাদিউস সানি মাসে [যার শুরু হয়েছিল অক্টোবর ১৮, ৬২৭ সাল] যায়েদ বিন হারিথার অধীনে ১৫ সদস্যের এক হামলাকারী দল বানু থালাবা গোত্রের উপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে আল-তারাফ গমন করে। বেদুইনরা এই ভয়ে পালিয়ে যায় যে, আল্লাহর নবী তাদেরকে আক্রমণ করেছে। যায়েদ তাদের পশুর পাল থেকে বিশটি উট লুণ্ঠন করে। সে চার রাত্রি পর্যন্ত বাইরে ছিল’। [6]

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে হিসমা (Hisma) হামলা:

‘এই বছর জমাদিউস সানি মাসে 'যায়েদ বিন হারিথার অধীনে এক হামলাকারী দল হিসমা গমন করে। মাসুদ বিন মুহাম্মদের পিতা [মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম] হইতে > মাসুদ বিন মুহাম্মদ হইতে >  [আল-ওয়াকিদি]  হইতে বর্ণিত: এই ঘটনাটি শুরু হয় তখন যখন দিহায়া আল-কালবি সিজারের দরবার থেকে ফিরে আসে [পর্ব: ১০৮], যে তাকে বাণিজ্য-সামগ্রী ও কাপড়-চোপড় উপঢৌকন স্বরূপ প্রেরণ করে। যখন দিহায়া ‘হিসমা’ নামক স্থানে পৌঁছে, জুধাম এর কিছু লোক তার পথ রোধ করে ও তার সামগ্রী ডাকাতি করে, তার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। [মদিনায়] ফিরে এসে তার বাড়িতে প্রবেশ করার আগেই সে আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও তাঁকে ঘটনাটি জানায়। আল্লাহর নবী তখন যায়েদ বিন হারিথা কে ‘হিসমায়’ পাঠায়। [7] [8]

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে ওয়াদি আল-কুরা (Wadi Al-Qura) হামলা:

‘এই বছর রজব মাসে [যার শুরু হয়েছিল নভেম্বর ১৬, ৬২৭ সাল] 'যায়েদ বিন হারিথার অধীনে এক হামলাকারী দল ওয়াদি আল-কুরা গমন করে’। [9]

বানু আল-মুসতালিক গোত্রের উপর হামলা:

[এই বছর শাবান মাসে (যার শুরু হয়েছিল ডিসেম্বর ১৬, ৬২৭ সাল) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বানু আল-মুসতালিক গোত্রের ওপর আগ্রাসী হামলা চালায়, যার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব-৯৭-১০১ এ করা হয়েছে]।

আবদ আল-রাহমান বিন আউফ এর অধীনে দুমাত আল-জানদাল হামলা:

‘এই বছর শাবান মাসে [যার শুরু হয়েছিল ডিসেম্বর ১৬, ৬২৭ সাল] আবদ আল-রাহমান বিন আউফ-এর অধীনে এক হামলাকারী দল দুমাত আল-জানদাল (Dumat al-Jandal) গমন করে। আল্লাহর নবী তাকে বলে, "যদি তারা তোমার আজ্ঞা পালন করে, তবে তুমি তাদের নেতার (রাজার) কন্যাকে বিবাহ করবে।" ঐ লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে, তাই আবদ আল-রাহমান তুমাদি বিনতে আল-আসবাগ-কে বিবাহ করে। পরিণতিতে সে হয় আবু সালামাহ [ইবনে আবদ আল-রাহমান] এর মাতা। [10[ [11]

আলী ইবনে আবু তালিব এর অধীনে ফাদাক হামলা:

‘এই বছর শাবান মাসে আলী ইবনে আবু তালিব এর অধীনে এক হামলাকারী দল ফাদাক গমন করে। ইয়াকুব বিন উতবা হইতে >আবদুল্লাহ বিন জাফর হইতে > [আল-ওয়াকিদি] হইতে বর্ণিত: আলী ইবনে আবু তালিব এক শত জন লোক নিয়ে বানু সা'দ বিন বকর গোত্রের ওপর হামলার অভিপ্রায়ে ফাদাক-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কারণটি ছিল এই যে, আল্লাহর নবী খবর পান যে, তাদের একটি দল খাইবারের ইহুদিদের সাহায্যের অভিসন্ধি করেছে। আলী তাদের উদ্দেশ্যে রাত্রি বেলা চলাচল করে ও দিনের বেলা অপেক্ষা করে। সে এক গুপ্তচরকে ধরে ফেলে, যে তাদের কাছে স্বীকার করে যে, তাকে খাইবারে পাঠানো হয়েছিল এই প্রস্তাব জানিয়ে দিতে যে, যদি খাইবারের লোকেরা তাদেরকে খেজুরের ফসল প্রদানে রাজি হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে’।

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে উম্মে কিরফা ও তাঁর লোকদের উপর হামলা:

‘এই বছর রমজান মাসে [যার শুরু হয়েছিল জানুয়ারি ১৮, ৬২৮ সাল] যায়েদ বিন হারিথার অধীনে এক হামলাকারী দল উম্মে কিরফা-র (Umm Qirfah) বিরুদ্ধে আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এই হামলায় উম্মে কিরফা (ফাতিমা বিনতে রাবিয়া ইবনে বদর)- কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সে দড়ি দিয়ে তার দুই পা বেঁধে ফেলে, তারপর তাকে দুইটি উটের সাথে বেঁধে ফেলে যতক্ষণে তার শরীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সে ছিল অতি বৃদ্ধা মহিলা’। [12]

কুরয বিন জাবির আল-ফিহরির অধীনে বানু উরেয়াহ গোত্রের লোকদের উপর হামলা:

‘আল-ওয়াকিদি হইতে বর্ণিত: এই বছর কুরয বিন জাবির আল-ফিহরির অধীনে এক হামলাকারী দল উরেয়াহ গোত্রের সদস্যদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, যারা হিজরি ছয় সালের শওয়াল মাসে [যার শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারি ১৩, ৬২৮ সাল] আল্লাহর নবীর এক পশুপালককে হত্যা করে ও উটগুলোকে চালিত করে নিয়ে যায়। আল্লাহর নবী বিশজন অশ্বারোহী সহকারে কুরয-কে পাঠায়’। [13]

অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> হুদাইবিয়া সন্ধি পূর্ববর্তী সাত মাসে ১৪ টি হামলা! অর্থাৎ গড়ে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি হামলা! আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় সে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, “মুহাম্মদের মতবাদে অবিশ্বাসী কোনো গোত্র-দল বা জনগোষ্ঠী সংঘবদ্ধভাবে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কখনোই কোনো হামলা করেননি। বিস্তীর্ণ জনপদের অবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে সংঘবদ্ধ যথেচ্ছ হামলাকারী দলের সদস্যরা ছিলেন সর্বাবস্থায় মুহাম্মদ (বানু লিহায়েন ও বানু আল-মুসতালিক হামলা) ও তাঁর অনুসারীরা”।

যায়েদ বিন হারিথার অধীনে ‘হিসমা’ হামলার প্রেক্ষাপটে যা বর্ণিত হয়েছে, তা হলো, দিহায়া আল-কালবি যখন ‘হিসমা’ নামক স্থানে পৌঁছে, তখন জুধাম নামের এক যাযাবর জন-গুষ্টির কিছু লোক মুহাম্মদের এই অনুসারীকে পথিমধ্যে ধন-দৌলতসহ তাকে একা পেয়ে তার মালামাল ডাকাতি করে। এই ঘটনা কোনোভাবেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর 'হিসমা' জনগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ আক্রমণের উদাহরণ নয়। একইভাবে মুহাম্মদের এক পশুপালককে একা পেয়ে উরেয়াহ গোত্রের কিছু সদস্য মারফত এই পশুপালককে খুন ও তার উটগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনভাবেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর উরেয়াহ গোত্রের জনগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ আক্রমণের উদাহরণ হতে পারে না। কারণ, এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ঢালাওভাবে নির্বিচারে আক্রমণের অভিপ্রায়ে মদিনার উদ্দেশে কখনোই রওনা হননি।

অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে অবিশ্বাসী জনপদবাসীর ওপর ঢালাও ও নির্বিচারে আক্রমণের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে দিকে দিকে যাত্রা করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল অবিশ্বাসী জনপদবাসীকে বশীভূত করে ইসলামে অন্তর্ভুক্ত করা, অন্যথায় তাঁদের সম্পত্তি লুট করা ও তাঁদেরকে বন্দী করে ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করা।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]


The narrative of Al-Tabari:

“In this year the Messenger of God sent out Muhammad b Maslama with ten men in Rabi I [began on July 21, 627]. The enemy lay in wait for them until he and his companions went to sleep. Before they suspected anything, there was the enemy. The companions of Muhammad b Maslama were killed; Muhammad escaped wounded.

According to al-Waqidi: In this year, in the month of Rabi II [began Aug 20, 627] the Messenger of God sent out Ukkashah b Mihsan with forty men to al-Gham]. Among them were Thabit Aqram and Shuja b Wahb. He travelled quickly, but the enemy become aware and fled. He encamped by their water and sent out scouts. They captured a spy who guided them to some of their cattle. The found two hundred camels and brought them down to Medina.

According to al-Waqidi: In this year the Messenger of God dispatched the raiding party of Abu Ubaydah b al-Jarrah to Dhu al-Qassa in the month of Rabi II [began Aug 20, 627] with forty men. They travelled through the night on foot and reached Dhu al-Qassah just before dawn. They raided the inhabitants, who escaped them by fleeing to the mountains, and took cattle, old clothes, and a single man. He became a Muslim, and the messenger of God released him.

In this year a raiding party led by Zayd b Harithah went to al-Jamum [the nature and date is uncertain]. He captured a woman of the Muzaynah named Halimah, who guided them to an encampment of the Banu Sulaym, where they captured cattle, sheep, and prisoners. Among the prisoners was Halimah’s husband. When Zayd brought back whathe had taken, the Messenger of God granted to the woman of Muzaynah her husband and her freedom.

In this year a raiding party led by Zayd b Harathah went to al-Is on Jumada I [began Sep 18, 627]. During it, the property that was with Abu Al-As b al-Rabi was taken. He asked the prophet’s daughter Zaynab to grant him refuge, and she did so.

In this year a Fifteen-man rading party led by Zayd b Haritha went to Al-Taraf in Jumada II [began Oct 18, 627] against B Thalabah. The Bedouins fled, fearing that the Messenger of God set out against them. Zayd took twenty camels from their herds. He was way four nights.

In this year a raiding party led by Zayd b Haritha went to Hisma in Jumada II [began Oct 18, 627]. According to [Al-Waqidi] – Musa b Muhammad – his father [Muhammad b Ibrahim], who said: The beginning of this incidence was when Dihyah al-Kalbi came back from the court of Caesarm, who had presented Dihyah wth gifts of merchandise and clothings. When Dihyah reached Hisma, men from Judham [Nomandic tribe on the borders of of the Byzantine Empire] intercepted him and robbed him, leaving him with nothing. He came to the Messenger of God even before entering his own house [in medina] and informed him. The Messenger of God then sent Zayd b Haritha to Hisma.  

In this year a raiding party led by Zayd b Haritha went to Wadi Al-Qura (“the valley of the villages” was a fertile valley stretching north from Medina on the road of Syria) in Rajab [began Nov 16, 627].

In this year a raiding party led by Abd Al-Rahman b Awf went to Dumat al-Jandal in Shaban, [began Dec 16, 627]. The Messenger of God said to him, “if they obey you, marry the daughter of their king.” The people became Muslim, and therefore Abd al-Rahman married Tumadi bt Al-Asbagh. She became the mother of Abu Salamah [b. Abd al-Rahman b Awf]. Her father was their chief and king.

In this year a raiding party led by Ali b Abi Talib went Fadak in Shaban [began Dec 16, 627]. According to [al-Waqidi] – Abdullah b Jafar – Yaqud b Utba, who said: ‘Ali b Abi Talib set out for Fadak with a hundred men against a clan of the B. Sa’d b Bakr. Thos was because the Mesenger of God had received information that a force of theirs intended to aid Jews of Khaybar. Ali travelled towards them by night and lay in wait during the day. He captured a spy, who confessed to them that he had been sent to Khaybar to offer the people their aid on condition that they would give them the date harvest of Khaybar.

In this year a raiding party led by Zayd b Haritha set out against Umm Qirfah in the month of Ramadan [Jan 14, 628].  During it Umm Qirfah (Fatimah bt. Rabiah b Badr) sufferd cruel death. He tied her legs with rope and then tied her between two camels until they split her in two.  She was very old woman.

According to Muhammad b Umar [al-Waqidi]: In this year a raiding party led by Kurz b Jabir al-Fihri set out against the members of Banu Urayah who had killed the herdsman of the Messenger of God and driven off camels in Shawal [Feb 13, 628] of the year 6. The Messenger of God sent Kurz with twenty horsemen.

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৫৫-১৫৬০ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[2] অনুরূপ (বিস্তারিত) বর্ণনা:  “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৫৫০-৫৭১ http://www.britannica.com/biography/al-Waqidi

ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২৭০-২৮১

[3] 'ধু আল-কাসসার বানু থালাবা ও বানু উওয়াল গোত্র ছিল ঘাতাফান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত (Dhu Al-Qassa of Banu Thalabah and Uwal, sub tribes of GHatafan)। জায়গাটি ছিল মদিনা থেকে পূর্বদিকে এক রাতের রাস্তা’ - আল-তাবারীর নোট।

[4] ‘আল-ঘামর: হলো মদিনার পূর্ব দিকে ইয়ামামায় (মধ্য আরব) অবস্থিত বানু আসাদ বিন খুজসয়েমা গোত্রের জলসেচন স্থান’- আল-তাবারীর নোট।

[5] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৬৭৩

[6] ‘আল-তারাফ: মদিনা থেকে ৩৬ মাইল দূরবর্তী আল-মারাদ এর নিকটবর্তী একটি স্থান’- আল-তাবারীর নোট।

[7] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): Ibid, “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৬৬২-৬৬৪।

[8] ‘হিসমা স্থানটি সিরিয়া যাওয়ার রাস্তার পাশে, তাবুক এর পশ্চিমে। জুধাম উপজাতি: বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের সীমান্তের যাযাবর উপজাতি’। - আল-তাবারীর নোট।

[9] ‘ওয়াদি আল-কুরা- "গ্রাম উপত্যকা (the valley of the villages)" নামের এই উর্বর উপত্যকার বিস্তৃতি ছিল মদিনার উত্তর দিক থেকে সিরিয়া যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত’ - আল-তাবারীর নোট।

[10] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): Ibid, “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৬৭২।

[11] ‘দুমাত আল-জানদাল হলো উত্তর আরবের ওয়াদি সিরহানের সন্নিকটে এক মরূদ্যান। এর অধিবাসীরা ছিল বানু কালব গোত্রের লোক ও কিছু আরব খ্রিস্টান। বর্তমানের আল-জাউফ (al-Jawf) শহরটি এই স্থানে অবস্থিত’ - আল-তাবারীর নোট। 

[12] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): Ibid, “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৬৬৪-৬৬৫।

[13] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): Ibid, “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৬৭৭-৬৭৮।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন