৩ জানুয়ারী, ২০১৬

হযরত মুহাম্মদের যৌনজীবন ও সন্তানজন্মদানের ক্ষমতা!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১০৮): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – বিরাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭

প্রিয় পত্নী আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা ও প্রচারকারী দলের মুখ্য সদস্য হাসান বিন থাবিত-কে কী কারণে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এক বিশাল সম্পত্তি ও শিরিন নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসী প্রদানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিলেন, মুহাম্মদ কী উপায়ে সেই সম্পত্তি ও দাসীটির মালিক হয়েছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী, মুহাম্মদ ইবনে সাদ প্রমুখ আদি বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আলেকজান্দ্রিয়ার (মিশর) সম্রাট আল-মুকাওকিস-এর কাছ থেকে উপঢৌকন হিসাবে শুধু শিরিনকেই দাসী হিসাবে গ্রহণ করেননি, তিনি গ্রহণ করেছিলেন শিরিনেরই ভগ্নি মারিয়া আল-কিবতিয়া নামের আর এক সুন্দরী দাসী ও মাবুর নামের এক দাসকে।  

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [1] [2]
'আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন। সালিত বিন আমর আল-আমিরি-কে প্রেরণ করেন আল-ইয়ামামার শাসক হুদাহা-এর কাছে [মধ্য আরবের বানু হানিফা গোত্র প্রধান]; আল-আলা বিন আল-হাদরামিকে প্রেরণ করেন আল-বাহরাইনের শাসক আল-মুনধির বিন সাওয়ার-এর কাছে; আমর বিন আল-আস কে প্রেরণ করেন ওমানের শাসক জেইফার বিন জুলানদার-এর কাছে; হাতিব বিন আবু বালতা-কে প্রেরণ করেন আলেকজান্দ্রিয়ার শাসক আল-মুকাওকিস-এর কাছে, সে তার কাছে তাঁর চিঠিটি হস্তান্তর করে ও মুকাওকিস তাকে চারজন দাসী দান করে, যাদের একজন ছিল আল্লাহর নবীর পুত্র ইবরাহীমের মাতা মারিয়া; দিহায়া বিন খালিফা আল-কালবি-কে প্রেরণ করেন সিজার-এর কাছে, যে ছিল রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস।’

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:
'সেই বছর [হিজরি ৭ সাল, মে ৬২৮-এপ্রিল ৬২৯ সাল] হাতিব বিন আবু বালতা আল-মুকাওকিস-এর ওখান থেকে ফিরে আসে; সাথে নিয়ে আসে মারিয়া ও তার ভগ্নি শিরিন, দুলদুল নামের তার এক মাদী খচ্চর, ইয়াফুর নামের তার এক গাধা ও কয়েক সেট পরিধান সামগ্রী। এই দুই দাসীর সাথে আল-মুকাওকিস এক নপুংসক লোককে প্রেরণ করে ও সে তাদের সঙ্গেই থাকে। তাদেরকে নিয়ে পৌঁছার আগেই হাতিব তাদেরকে মুসলমান হওয়ার আহ্বান করে, মারিয়া ও তার ভগ্নি তা গ্রহণ করে। আল্লাহর নবী, তার উপর শান্তি বর্ষিত হউক, তাদেরকে উম্মে সুলায়েম বিনতে মিহান-এর সাথে বসবাসের ব্যবস্থা করে। মারিয়া ছিল সুন্দরী। আল্লাহর নবী তার ভগ্নিকে হাসান বিন থাবিতের কাছে প্রেরণ করে ও তার গর্ভে জন্ম নেয় আবদ আর-রাহমান বিন হাসান।’ [3]

আল-তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি:

'আল্লাহর নবীর অধীনে ছিল মাবুর নামের এক নপুংসক দাস, সম্রাট আল-মুকাওকিস যাকে দুইজন দাসী সহকারে পাঠিয়েছিলেন। যাদের একজনের নাম ছিল মারিয়া, যাকে তিনি উপপত্নী (Concubine) হিসাবে গ্রহণ করেন। অন্যজনের নাম ছিল শিরিন, হাসান বিন থাবিতের বিরুদ্ধে সাফওয়ান বিন মুয়াত্তালের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যাকে তিনি হাসন-কে দান করেছিলেন। শিরিনের গর্ভে এক ছেলে সন্তান জন্ম লাভ কারে, যার নাম হলো 'আবি আল-রহমান বিন হাসান। মাবুর নামের এই দাসটিকে সম্রাট আল-মুকাওকিস পাঠিয়েছিলেন এই দুইজন দাসীকে পাহারা দিয়ে (মদিনায়) পৌঁছে দেয়ার জন্য। মদিনায় আগমনের পর সে তাদেরকে আল্লাহর নবীর কাছে নিবেদন করে।

বলা হয়ে থাকে যে, সে ছিল সেই লোক (যাকে) অভিযুক্ত করা হয়েছিল মারিয়ার সাথে (অপকর্ম) সাধনের জন্য। যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর নবী তাকে খুন করার জন্য আলীকে পাঠিয়েছিলেন।

যখন সে আলীকে দেখতে পায় ও তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে, তখন সে নিজেকে এমনভাবে অনাবৃত করে যতক্ষণে না আলীর পূর্ণ দৃষ্টিগোচর হয় যে, সে সম্পূর্ণরূপে খোজাকৃত, একজন পুরুষের (সাধারণত) যা থাকে, তার কিছুই তার নেই। তাই (আলী) তাকে হত্যা করা হতে বিরত থাকে।’ [4] [5]

(“The messenger of God also had a eunuch called Mabur, who was presented to him by al-Muqawqis with two slave girls; one of them was called Mariyah, whom he took as a concubine and the other [was called] Sirin, whom he gave to Hasan bin Thabit after Safwan bin al-Mu’attal had committed an offense against him. Sirin gave birth to a son called ‘abl al-Rahman bin Hasan. Al-Muqawqis had sent this eunuch with the two slave girls in order to escort them and guard them on the way [to Medina]. He presented them to the Messenger of God when they arrived. It is said that he was the one [with whom] Mariah was accused of [wrong doing], and that the Messenger of God sent ‘Ali to kill him’. When he saw Ali and what he intended to do with him, he uncovered himself until it became evident to Ali that he was completely castrated, not having anything left at all what men [normally] have, so [Ali] refrained from killing him.”) [4] [5]

অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মারিয়া কিবতিয়া ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এক মহিলা, মুহাম্মদ তাকে উপপত্নী (রক্ষিতা) হিসাবে ব্যবহার ও ভোগ করেন। যার গর্ভে জন্ম নেয় এক সন্তান, নাম রাখা হয় ইবরাহিম। অত্যন্ত শিশুকালে (১৮ মাস বয়স) এই ইবরাহিম মৃত্যুবরণ করেন।

মুহাম্মদের প্রথম পত্নী খাদিজা বিনতে খুয়ালিদ ছিলেন আরবের এক অত্যন্ত বিদুষী ও সম্ভ্রান্ত মহিলা ব্যবসায়ী। তিনি মুহাম্মদকে প্রথমে নিযুক্ত করেন তাঁর ব্যবসার এক কর্মচারী হিসাবে। পরবর্তীতে তিনি মুহাম্মদকে বিবাহ করেন। এই বিবাহকালে তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর, আর মুহাম্মদের বয়স ছিল ২৫ বছর। বিবাহের পর তিনি মুহাম্মদকে তাঁর পরিবারে নিয়ে আসেন। মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর পরিবারের ঘরজামাই ও  তাঁর সম্পদেই মুহাম্মদের ভরণ-পোষণ চলে (পর্ব- ৪১); অন্তরে অন্য নারীসম্ভোগ ও বিবাহবাসনা যতই তীব্র থাকুক কিংবা না থাকুক, এমন এক সম্মানিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ধনী পত্নীর সম্পদে জীবন যাপনকারী যে-কোনো স্বামীর জন্যেই “ঐ পত্নীর জীবদ্দশায়” অন্য নারীর প্রতি দুর্বলতা ও বিবাহবাসনা প্রকাশ নিঃসন্দেহে ঐ ঘরজামাই স্বামীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকি। বিশেষ করে সেই স্বামীটি যদি হন বে-রোজগার ও তাঁর পত্নীর তুলনায় কম সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন। অত্যন্ত স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন ঘরজামাই স্বামীও এমন দুঃসাহসী আচরণ করেন না, তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও জীবিকার প্রয়োজনেই।

"মুহাম্মদের চরিত্রে বহু নারী আসক্তি ছিল না" প্রমাণ করার জন্য যে-সমস্ত ইসলামী পণ্ডিত ও অপণ্ডিত খাদিজার জীবদ্দশায় মুহাম্মদ কোনো দ্বিতীয় বিবাহ করেননি যুক্তিটি উত্থাপন করেন, তাঁরা, বোধ করি, ভুলে যান যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ছিলেন তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। তাঁরা নিশ্চয়ই বোঝাতে চান না যে, এক অত্যন্ত স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন ঘরজামাই স্বামীও যা করেন না, মুহাম্মদ তা-ই করবেন?

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ বহু নারীতে আসক্ত ছিলেন কি না, তার প্রমাণ ইতিহাস হয়ে আছে মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরান এবং তাঁরই মতবাদে বিশ্বাসী বিশিষ্ট অনুসারীদের লিখিত সিরাত ও হাদিসের বর্ণনায়। মদিনায় মুহাম্মদের স্বেচ্ছানির্বাসনের (হিজরত) প্রায় তিন বছর আগে (৬১৯ সাল) খাদিজার মৃত্যু হয়। খাদিজার মৃত্যুর পর মুহাম্মদ বহু নারীকে বিবাহ করেন। মোট ১৩ জনের সঙ্গে সংসার করেন, ১১ জনের সাথে একত্রে। [6]

মৃত্যুকালে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মদ যে-নয়জন স্ত্রী জীবিত রেখে যান, তাঁরা হলেন:

১) সওদা বিনতে যামাহ; ২) আয়েশা বিনতে আবু বকর; ৩) হাফসা বিনতে উমর আল-খাত্তাব; ৪) হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া (উম্মে সালামা); ৫) জুয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিথ, বানু আল-মুসতালিক গোত্র আক্রমণকালে যাকে তিনি হস্তগত করেছিলেন (পর্ব: ১০১); ৬) উম্মে হাবিবা বিনতে আবু-সুফিয়ান বিন হারব; ৭) যয়নাব বিনতে জাহাশ, ইতিপূর্বে যিনি ছিলেন তাঁর পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারিথা-এর স্ত্রী (পর্ব-৩৯), মুহাম্মদ তাঁকে ঐশী বাণী (৩৩:৩৭) অবতারণার মাধ্যমে বৈধ করেছিলেন; ৮) সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব, খায়বার আক্রমণকালে যাকে তিনি হস্তগত করেছিলেন; ৯) মায়মুনা বিনতে আল-হারিথ, যিনি ছিলেন তাঁর নিজের চাচীর বোন (চাচা আল-আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের শালী), মুহাম্মদ তাঁকে ঐশী বাণী (৩৩:৫০) অবতারণার মাধ্যমে বৈধ করেছিলেন। [7] [8]

এ ছাড়াও মুহাম্মদ আর যে সমস্ত নারীকে বিবাহ করেছিলেন, তাঁরা হলেন:

১০) সানা (অথবা সা'বা) বিনতে আসমা বিন আল-সালত; ১১) আল-শানবা বিনতে আমর আল-গিফারিয়া; ১২) ঘাযিয়া বিনতে জাবির; ১৩) আসমা বিনতে আল-নুমান; ১৪) রায়হানা বিনতে আমর বিন খুনাফা, বানু কুরাইজা গোত্র আক্রমণকালে যাকে তিনি হস্তগত করেছিলেন (পর্ব- ৯৩); ১৫) যয়নাব বিনতে খুযায়েমা (উম্মে আল-মিসকিন); ১৬) শারাফ বিনতে খালিফা; ১৭) আল-আলিয়া বিনতে যাবিয়ান; ১৮) কুতায়েলা বিনতে কায়েস; ১৯) ফাতিমা বিনতে শুরাইয়া;; ২০) আমরা বিনতে ইয়াজিদ ও ২১) লাইলা বিনতে খাতিম

এ ছাড়াও তাঁর ছিল আরও চার জন রক্ষিতা (Concubine):

মারিয়া আল-কিবতিয়া ছাড়াও আরও তিন জন, তাঁরা হলেন: রায়হানা বিনতে যায়েদ বিন আল-কুরাইজা, বলা হয় তিনি ছিলেন বানু নাদির গোত্রের; যয়নাব বিনতে জাহাশ-এর দানকৃত এক দাসী ও অন্য একজন যুদ্ধবন্দিনী (যার নাম জানা যায় না)।

মুহাম্মদ তাঁর ঐশী বাণীর মাধ্যমে মালিকানাভুক্ত দাসীদের সাথে যৌনকর্ম সম্পূর্ণরূপে বৈধ করেছেন:

২৩:১-৭ - "মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।"     

>> ইসলামের ইতিহাসের আদি থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সমস্ত ইসলামী উৎসের বর্ণনায় যে-বিষয়টি প্রায় সকল মহলে স্বীকৃত তা হলো, “মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে ইবরাহিম নামের এক সন্তান ছাড়া মুহাম্মদের সমস্ত ছেলে-মেয়ের জন্ম খাদিজার গর্ভে”যখন মুহাম্মদের বয়স ছিল ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে, আর খাদিজার বয়েস ৪০-৫০ এর মধ্যে। তাঁর সেই সন্তানরা হলেন: চার কন্যা: যয়নাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা। এদের সকলেই তাঁর তথাকথিত নবুয়ত প্রাপ্তির (৬১০ সাল) সময় পর্যন্ত বেঁচেছিলেন, ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ও মদিনায় হিজরত করে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। তিন পুত্র: আল-কাসেম (যে-কারণে মুহাম্মদের 'কুনাহ' ছিল আবুল কাসেম), আল-তাহির ও আল-তৈয়ব। তাঁর তথাকথিত নবুয়ত প্রাপ্তির আগেই তাদের সকলের মৃত্যু হয়। [9]

খাদিজার মৃত্যুর পর থেকে মুহাম্মদের মৃত্যুকাল পর্যন্ত (৬১৯-৬৩২ সাল) সুদীর্ঘ ১২-১৩ বছরে একমাত্র মারিয়া কিবতিয়া ছাড়া তাঁর এতগুলো স্ত্রী ও রক্ষিতাদের কেউই গর্ভধারণ করেননি! মুহাম্মদ যৌনকর্মে অক্ষম ছিলেন, এমন ইতিহাস কোথাও নেই; বরং বর্ণিত আছে যে, তিনি ছিলেন অভূতপূর্ব যৌনক্ষমতার অধিকারী। একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে চিকিৎসা শাস্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যু-পরবর্তী বিশাল সংখ্যক পত্নী ও উপপত্নী সম্বলিত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ দম্পতিরা ছিলেন বন্ধ্যা (Infertile)!

আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে বন্ধ্যাত্বের সংজ্ঞা হলো (current through Nov, 2015):

"কোন দম্পতি যদি কোন প্রকার জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যতিরেকে ঘন ঘন যৌনসঙ্গম করা সত্ত্বেও এক বছরের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সের কম নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ করাতে অসমর্থ হয়; কিংবা কোনোরূপ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যতিরেকে ঘন ঘন যৌনসঙ্গম করা সত্ত্বেও ছয় মাসের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সের বেশি নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ করাতে অসমর্থ হয়; তবে সেই অবস্থাকে বলা হয় বন্ধ্যাত্ব।" (‘Infertility is defined as failure of a couple to conceive after 12 months of regular intercourse without use of contraception in women less than 35 years of age; and after six months of regular intercourse without use of contraception in women 35 years and older’.) [10]

দম্পতি মানে হলো, একজন পুরুষ ও একজন নারী। সেই হিসাবে মুহাম্মদের এই বিশাল পরিবারে দম্পতির সংখ্যা হলো তাঁর পত্নী ও উপপত্নী সংখ্যার সম পরিমাণ। অর্থাৎ, মারিয়া আল-কিবতিয়া ছাড়াও কমপক্ষে ১৫ টি (১৩জন স্ত্রী, যাদের সাথে তিনি সংসার করেছেন ও দুই জন উপপত্নী), যেখানে মুহাম্মদ ছিলেন একমাত্র পুরুষ। কোনো বিশেষ দম্পতির বন্ধ্যাত্বের কারণ মাত্র তিনটি:

১) সেই নারী টি বন্ধ্যা, অথবা
২)  সেই পুরুষটি বন্ধ্যা, অথবা
৩) সেই নারী ও পুরুষ উভয়েই বন্ধ্যা।

নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হলো দুই প্রকারের। যে-নারী কখনোই গর্ভধারণ করেননি বা যে-পুরুষ কখনোই কোনো নারীর গর্ভে সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি, তাকে বলা হয় “Primary Infertility”; আর যে-নারী ইতিপূর্বে গর্ভধারণ করেছেন অথবা যে-পুরুষ ইতিপূর্বে কোনো নারীর গর্ভে সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বন্ধ্যা হয়ে গিয়েছেন; তাকে বলা হয় “Secondary Infertility”. Primary Infertility-এর মোক্ষম উদাহরণ হলো মুহাম্মদের এই ১৫জন পত্নী ও উপপত্নী, যারা এই এতগুলো বছর যাবত কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যতিরেকে মুহাম্মদের সেই তথাকথিত অভূতপূর্ব যৌন ক্ষমতার অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও কখনোই গর্ভবতী হননি। Secondary Infertility-এর মোক্ষম উদাহরণ হলো মুহাম্মদ; যিনি ইতিপূর্বে খাদিজার গর্ভে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যতিরেকে ঘন ঘন যৌনকর্ম সম্পাদন করা সত্ত্বেও বহু বছরে তাঁর এতগুলো পত্নী-উপপত্নীর কাউকেই গর্ভবতী করতে পারেননি।

সন্তান জন্মদানের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো (পর্ব: ৬) পুরুষের বীর্যে (Semen) গুনগত মান ও পরিমাণের শুক্রাণু (sperm)  নারীদের ডিম্বাণু (Ovum); শুক্রাণু তৈরি হয় পুরুষের অণ্ডকোষের (Testicle) ভেতরে সেমিনিফিরাস টিউবুল (seminiferous tubules) নামক স্থানে, আর ডিম্বাণু তৈরি হয় নারীর ডিম্বাশয়ে (ovary); বীর্যের উপাদান হলো শুক্রাণু ও বীর্যরস। বীর্যরস তৈরি হয় সেমিনাল ভেসাইকুল (Seminal vesicle) ও প্রস্টেট (Prostate) গ্রন্থির ভিতরে। অণ্ডকোষ ও ডিম্বাশয়-এর কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে হাইপোথালামাস-পিটুইটারি ও অণ্ডকোষ (ডিম্বাশয়) চক্রের (Hypothalamo-Pituitary-Gonadal axis) এক জটিল কার্যপ্রণালীর মাধ্যমে। শরীরের এই তিনটি অঙ্গের যে-কোনো একটি স্থানের কার্যপ্রণালী কোনো কারণে ব্যাহত হলে শুক্রাণুর (ডিম্বাণুর) মান ও পরিমাণের তারতম্য ঘটে।

শতকরা ২৩ ভাগ ক্ষেত্রে দম্পতির বন্ধ্যাত্বের কারণ হলো - পুরুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। পুরুষের এই অবস্থাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে “Male Infertility (পুরুষের বন্ধ্যাত্ব)" নামে আখ্যায়িত করা হয়, যা হতে পারে মোটামুটি পাঁচটি স্বাস্থ্যগত কারণে। সেই কারণগুলো হলো: শুক্রাণুহীন অবস্থা (Azoospermia), অল্প-শুক্রাণু অবস্থা (Oligospermia), দুর্বল শুক্রাণু অবস্থা (Malformed sperm or inactive sperm), শুক্রাণু নির্গমনের নালীতে প্রতিবন্ধকতা (blocked reproductive tracts), অথবা তা হতে পারে অজানা বা অসনাক্ত কারণে (Idiopathic)।

সন্তান জন্ম দানে অক্ষম - এর অর্থ এই নয় যে, সেই ব্যক্তিটি যৌনকর্মে অক্ষম (পুরুষত্বহীন বা নপুংসক), চিকিৎসা শাস্ত্রে যে অবস্থাকে বলা হয় “Male Erectile Dysfunction”. একজন যৌনকর্ম সম্পাদনে সম্পূর্ণ সক্ষম পুরুষও হতে পারে সন্তানজন্মদানে সম্পূর্ণ অক্ষম; যদি তাঁর বীর্যে শুক্রাণুর গুণগত মান (Quality), অথবা পরিমাণ (Quantity), অথবা শুক্রাণু নির্গমনে (Ejaculation) প্রতিবন্ধকতা থাকে। একই ভাবে একজন যৌনকর্মে সম্পূর্ণ অক্ষম পুরুষও হতে পারে সন্তান জন্ম দানে সম্পূর্ণ সক্ষম; যদি তাঁর শুক্রাণুর গুণগত মান, অথবা পরিমাণ, অথবা শুক্রাণু নির্গমনে কোনোই  প্রতিবন্ধকতা না থাকে। এই দু'টি শারীরিক অসুস্থতা (পরিস্থিতি) একে অপরের পরিপূরক নয়। দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি।

প্রশ্ন হলো, কী কারণে মুহাম্মদ পরিবারে এতগুলো দম্পতি ছিলেন বন্ধ্যা?
উত্তর হলো, মাত্র দুটি কারণে:
১) মুহাম্মদের এই ১৫জন পত্নী-উপপত্নী-র সকলেই ছিলেন বন্ধ্যা (Primary Infertiity)
২) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ছিলেন বন্ধ্যা (Secondary Infertility)

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর বিভিন্ন বয়সী এতগুলো পত্নী ও উপপত্নীদের সবাই বন্ধ্যা হবেন, এমন চিন্তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক। সুতরাং প্রায় সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, খাদিজার গর্ভে মুহাম্মদের শেষ সন্তান জন্মদানের পরের কোনো এক সময় থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ছিলেন সন্তান জন্ম দানে অক্ষম (Secondary Infertility); অর্থাৎ, আদি উৎস বর্ণিত ইসলামের ইতিহাসের প্রাপ্তিসাধ্য তথ্য-প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা যে-সত্যের সন্ধান পাই, তা হলো, খাদিজার মৃত্যু-পরবর্তী মুহাম্মদের এতগুলো পত্নী ও উপপত্নীর মধ্যে একমাত্র গর্ভবতী মারিয়া আল-কিবতিয়ার সন্তান ইবরাহিমের পিতা মুহাম্মদ ছিলেন না!

প্রশ্ন হলো, মারিয়া আল-কিবতিয়ার সন্তান ইবরাহিমের পিতা কে ছিলেন?

ইতিহাস সব সময় বিজয়ীর পক্ষে, কীভাবে তা বিকৃত করা হয়, তার বহু উদাহরণ আমরা ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছি (পর্ব: ৪৫); মাবুর সত্যিই নপুংসক ছিলেন কি না, তা নিশ্চিতরূপে জানা সম্ভব নয় এবং তা এই আলোচনায় মুখ্য বিবেচ্যও নয়। এখানে যে-বিষয়টি মুখ্য, তা হলো, মাবুর সন্তান জন্মদানে সক্ষম ছিলেন কি না। কারণ, একজন নপুংসক (Male Erectile Disorder ) ব্যক্তিও হতে পারেন সন্তান জন্মদানে সম্পূর্ণ সক্ষম, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ প্রমাণিত সত্য। আর যে-বিষয়টি মুখ্য, তা হলো, আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত ইতিহাসের আলোকে আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে, সুদীর্ঘ ১২-১৩ বছরেও একমাত্র মারিয়া আল-কিবতিয়া ছাড়া মুহাম্মদের অন্য কোনো স্ত্রী কিংবা যৌনদাসী গর্ভধারণ করেননি; আর সেই একমাত্র গর্ভধারিণী দাসী মারিয়া আল-কিবতিয়ার দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলেন মাবুর নামের এক দাস, যে-দাসের সঙ্গে এই গর্ভধারিণীর "অপকর্ম"-এর অভিযোগ ছিল; আর মাবুর তাঁর প্যান্ট খুলে আলীকে তার যৌনাঙ্গ দেখিয়ে সাক্ষাৎ মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পেয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে, এই অপকর্মটি ছিল নিঃসন্দেহে এই একমাত্র গর্ভধারিণী মারিয়া ও মাবুর এর মধ্যে যৌনসম্পর্ক ঘটিত ব্যভিচার।

ইমাম বুখারির (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা:
ইমাম বুখারীর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, যেদিন ইবারাহীম-এর মৃত্যু হয়, সেদিন ছিল ‘সূর্যগ্রহণ’; তৎকালীন আরবের লোকের ধারণা ছিল যে, ‘সূর্যগ্রহণ’ হয় কোনো লোকের মৃত্যু বা জন্ম হলে। প্রতি মুহূর্তেই জগতের কোনো না কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করছে, আর ‘সূর্যগ্রহণ’ হয় বহু বছর পরে পরে। তাই তীক্ষ্ণবুদ্ধির মুহাম্মদ জানতেন যে, মানুষের জন্ম বা মৃত্যুর সাথে সূর্যগ্রহণের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। কিন্তু তিনি  স্বাভাবিকভাবেই জানতেন না, ‘সূর্যগ্রহণ’-এর কারণ কী। তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজে দাঁড়ান ও অনেক লম্বা সময় নিয়ে রুকু ও সেজদা করেন। তারপর নামাজের পরে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে যৌন ব্যভিচার বিষয়ে বক্তৃতা করেন ও তাঁর অনুসারীদের জানিয়ে দেন যে ব্যভিচারের শাস্তি কত ভয়াবহ! ছেলের মৃত্যুর দিনে যৌনব্যভিচার বিষয়ে বক্তৃতা! সেই বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, "হে মুহাম্মদ অনুসারীরা! আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা হাসতে কম, কান্না করতে প্রচুর!" [11] [12]

>> কী জানতেন মুহাম্মদ? মুহাম্মদ কি তবে জানতেন যে, মারিয়ার গর্ভজাত সন্তানের পিতা তিনি নন? ইবরাহীমের পিতা অন্য কেউ? আল-তাবারীর বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - এই রটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাবুরের প্রতি মুহাম্মদ এতই বীতশ্রদ্ধ ছিলেন যে, মুহাম্মদ তাঁর জামাতা আলীকে পাঠিয়েছিলেন তাকে খুন করতে! চারজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই ব্যভিচার প্রমাণ করার পর মাবুরকে হত্যার জন্য মুহাম্মদ তাঁর জামাতা আলীকে পাঠিয়েছিলেন, এমন তথ্য কোথাও উল্লেখিত হয়নি। অন্যদিকে আয়েশার প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ (পর্ব: ১০২-১০৭) মোচনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহর রেফারেন্সে চারজন পুরুষ সাক্ষী হাজির করার উদ্ভট ও অবাস্তব আদেশ জারি করেছিলেন। যে কারণে মুক্তি মিলেছিল আয়েশার! কিন্তু তাঁর মতবাদে অনুসারী লক্ষ-কোটি নারীর জন্য তা হয়ে আছে এক সাক্ষাৎ মরণ ফাঁদ হিসাবে! সেই রাত্রিতে সত্যিই কী ঘটেছিল, তা কোনোভাবেই জানা সম্ভব নয়। কারণ সেই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। সেই রাত্রিতে সাফওয়ান বিন মুয়াত্তাল যদি আয়েশাকে সত্যিই ধর্ষণ করতেন, আর আয়েশা মদিনায় ফিরে এসে মুহাম্মদকে তাঁর ধর্ষিতা হওয়ার অভিযোগ জানাতেন, তাহলে কি মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রী আয়েশাকে "চার জন পুরুষ সাক্ষী" জোগাড় করে নিয়ে এসে তাঁর ধর্ষিতা হবার প্রমাণ হাজির করার আদেশ জারি করতেন? আর তা না করতে পারার কারণে ধর্ষিতা আয়েশাকে কি তিনি ৮০ ঘা বেত্রাঘাত করার হুকুম জারি করতেন? নাকি মাবুর-কে যেমন খুন করার হুকুম জারি করেছিলেন, সাফওয়ানকেও তেমনি খুন করার আদেশ জারি করতেন? সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর আল্লাহর রেফারেন্সে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশে কী নির্দেশ হাজির করতেন?

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৬৫৩ http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৬১ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[3] Ibid “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ) -পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৯১-১৫৯২

[4] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী, ভলুউম ৯, (The Last Years of the Prophet) – translated and Annotated by Ismail K. Poonawala [State university of New York press (SUNY), Albany 1990, , ISBN 0-88706-692—5 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৭৮১-১৭৮২ http://books.google.com/books?id=XxG8BsHNw-MC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[5] কিতাব আল-তাবাকাত– লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম-৮, ১৫৩

[6] Ibid “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী, ভলুউম ৯, ISBN 088706-692—5 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৭৬৬-১৭৭৮

[7] ৩৩:৩৭- "আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয়
কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।"

[8] ৩৩:৫০ –“হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে --- ।”

[9] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৬, translated and Annotated by W. Montgomery Watt and M.V McDonald, [State university of New York press (SUNY), Albany, @1988, New-York 12246, ISBN 0-88706-707-7 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১১২৮-১১২৯

Ibid: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, সম্পাদনা: ইবনে হিশাম, ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৮৩,
Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”, ইবনে হিশামের নোট- নম্বর ১২৯, পৃষ্ঠা ৭১১


[11] সহি বুখারি: ভলিউম ২, বই ১৮, হাদিস নং ১৫৩-১৫৪
Narrated Al-Mughira bin Shu'ba: "The sun eclipsed in the life-time of Allah's Apostle on the day when (his son) Ibrahim died. So the people said that the sun had eclipsed because of the death of Ibrahim. Allah's Apostle said, "The sun and the moon do not eclipse because of the death or life (i.e. birth) of some-one. When you see the eclipse pray and invoke Allah."

[12] সহি বুখারি: ভলিউম ২, বই ১৮, হাদিস নং ১৫৪ http://www.hadithcollection.com/sahihbukhari/51-Sahih%20Bukhari%20Book%2018.%20Eclipses/1564-sahih-bukhari-volume-002-book-018-hadith-number-154.html
(বড় হাদিস, প্রাসঙ্গিক অংশ: “——He delivered the Khutba (sermon) and after praising and glorifying Allah he said, "The sun and the moon are two signs against the signs of Allah; they do not eclipse on the death or life of anyone. So when you see the eclipse, remember Allah and say Takbir, pray and give Sadaqa." The Prophet then said, "O followers of Muhammad! By Allah! There is none who has more ghaira (self-respect) than Allah as He has forbidden that His slaves, male or female commit adultery (illegal sexual intercourse). O followers of Muhammad! By Allah! If you knew that which I know you would laugh little and weep much.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন