১৮ জানুয়ারী, ২০১৬

উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – চুরাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯

হুদাইবিয়া সন্ধি-পূর্ববর্তী সাত মাস সময়ে অবিশ্বাসী জনপদের ওপর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অধীনে দু'টি ও তাঁরই নির্দেশে তাঁর অন্যান্য বিশিষ্ট অনুসারীদের অধীনে আরও বারোটি হামলা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল; এই হামলাগুলো পরিচালনার মাধ্যমে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কী কী লুণ্ঠন সামগ্রী (গনিমত) আহরণ করেছিলেন; কীভাবে তাঁরা মুক্ত মানুষদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত মুহাম্মদের জীবনী গ্রন্থের ('সিরাত') প্রাণবন্ত বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ছিলেন রাতের অন্ধকারে নিরীহ কুরাইশ বাণিজ্য কাফেলা হামলা, তাঁদের সম্পদ লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ড (পর্ব: ২৮-২৯); বহু নৃশংস গুপ্তহত্যা, শত শত বছর যাবত বংশ-বংশানুক্রমে বসবাসরত আবাসভূমি থেকে একটি গোত্রের সমস্ত অধিবাসীদের উৎখাত ও তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন ও ভূমি-দখল, বিনা অপরাধে একটি গোত্রের সমস্ত মানুষদের অমানুষিক নৃশংসতায় গণহত্যা, তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন, ভূমি-দখল ও মহিলা ও শিশুদের দাস ও যৌনদাসী-করণ - ইত্যাদি বহু অমানবিক নৃশংস কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ অংশীদার। 

আমরা ইতিমধ্যেই আরও জেনেছি যে, একমাত্র ওহুদ (পর্ব: ৫৪-৭১) ও খন্দক যুদ্ধ (পর্ব: ৭৭-৮৬) ছাড়া সর্বত্রই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরাই ছিলেন অবিশ্বাসী জনপদের ওপর অতর্কিত হামলাকারী। আক্রান্ত জনগোষ্ঠী করেছেন তাদের জান মাল রক্ষার চেষ্টা। 

অতিবৃদ্ধ কবি আবু আফাক (পর্ব- ৪৬), কবি আসমা-বিনতে মারওয়ান (পর্ব- ৪৭), কবি ক্বাব বিন আল-আশরাফ (পর্ব- ৪৮), ইবনে সুনেইনা (পর্ব- ৪৯) ও আবু রাফিকে (পর্ব- ৫০) নৃশংস গুপ্তহত্যা; বনি কেইনুকা গোত্র (পর্ব: ৫১) ও বনি নাদির গোত্র (পর্ব: ৫২ ও ৭৫) উচ্ছেদ ও তাদের সম্পত্তি লুট; বনি কুরাইজা গণহত্যা (পর্ব: ৮৭-৯৫); বানু আল-মুসতালিক হামলা (পর্ব: ৯৭-১০১); খাইবার ইহুদি গোত্রের ওপর হামলা (বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে) - ইত্যাদি নৃশংসতার ইতিহাস ইসলামে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী অনেকই কম-বেশি অবগত আছেন। কিন্তু যে-ইতিহাস অনেকেই জানেন না, তা হলো, "উম্মে কিরফা” নামের এক অতিবৃদ্ধা মহিলাকে অমানুষিক পাশবিকতায় হত্যা করার ইতিহাস। হিজরি ৬ সালের রমজান মাসে (জানুয়ারি, ৬২৮ সাল), হুদাইবিয়া সন্ধির মাত্র দুই মাস আগে এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন হয়। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ সাল), আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল) প্রমুখ ইসলামে নিবেদিত আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত 'সিরাত' গ্রন্থে এবং ইমাম মুসলিম (৮২১-৮৭৫ সাল) বর্ণিত হাদিস গ্রন্থে বিভিন্নভাবে এই হামলার ঘটনাটির বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে।

যায়েদ বিন হারিথা (বা আবু বকর) অধীনে বানু ফাযারাহ হামলা ও উম্মে কিরফা হত্যা:

আল-তাবারীর বর্ণনা: [1] [2] [3]

[আল-তাবারীর "তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক” এর মূল ইংরেজি অনুবাদটির অনুবাদ]

'ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ: ইবনে হুমায়েদ হইতে <সাালামাহ [4] হইতে <ইবনে ইশাক হইতে < আবদুল্লাহ বিন আবি বকর হইতে বর্ণিত: 

আল্লাহর নবী যায়েদ বিন হারিথা-কে ওয়াদি আল-কুরা প্রেরণ করেন, যেখানে সে বানু ফাযারাহ-র সম্মুখীন হয়। সেখানে তার কিছু অনুসারীরা হয় নিহত ও যায়েদ-কে নিহতদের মধ্য থেকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল বানু সা'দ বিন হুদায়েম গোত্রের ওয়াদ বিন আমর, যাকে হত্যা করে বানু বদর (বিন ফাযারাহ) গোত্রের এক লোক। ফিরে আসার পর যায়েদ প্রতিজ্ঞা করে যে, সে ফাযারাহ গোত্রের ওপর হামলা করার আগে অপবিত্রতা দূরীকরণের জন্য গোসল করবে না। 

আহত অবস্থা থেকে সুস্থ হত্তয়ার পর, আল্লাহর নবী একদল সৈন্যসহ তাকে বানু ফাযারাহ আক্রমণের জন্য পাঠায়। ওয়াদি আল কুরা নামক স্থানে সে তাদের মুখোমুখি হয় ও আক্রমণের মাধ্যমে তাদের ক্ষতিসাধন এবং প্রাণহানি ঘটায়। কায়েস বিন আল মুসাহার আল-ইয়ামুরি হত্যা করে মাসাদা বিন হাকামা বিন মালিক বদর-কে ও বন্দী করে উম্মে কিরফা-কে। (তার নাম ছিল ফাতিমা বিনতে রাবিয়াহ বিন বদর। সে বিবাহ করেছিল মালিক বিন হুদায়েফা বিন বদর-কে। সে ছিল অতি বৃদ্ধা এক মহিলা)। সে উম্মে কিরফার কন্যাদের ও আবদুল্লাহ বিন মাসাদা-কে ও বন্দী করে[5]

উম্মে কিরফা-কে হত্যা করার জন্য যায়েদ বিন হারিথা হুকুম করে কায়েস-কে, সে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। সে তার দু'পা আলাদা আলাদা করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে ও সেই দড়িগুলো দুইটি উটের সাথে বেঁধে দেয়, তারা তার শরীর দু'ভাগে বিভক্ত করে দেয়।

অতঃপর তারা উম্মে কিরফা-র কন্যা ও আবদুল্লাহ বিন মাসাদা-কে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে। উম্মে কিরফা-র কন্যাটি সালামাহ বিন আমর বিন আল আকওয়া এর ভাগে পড়ে, সে তাকে নিয়ে যায়। সে ছিল তার লোকদের মধ্যে এক সম্মানিত বিশিষ্ট পরিবারের সদস্যা: আরবরা যা বলতো, তা হলো, "যদি তুমি উম্মে কিরফা-র চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে, তবু তুমি চেষ্টা করেও এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারতে না।”

তাকে পাবার ব্যাপারে আল্লাহর নবী সালামাহর সাথে কথা বলে ও সালামাহ তাকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করে। তারপর তিনি তাকে দান করেন তাঁর মামা হাযেন বিন আবি ওয়াহব-কে, তার গর্ভে জন্ম নেয় 'আবদ আল রাহমান বিন হাযেন' নামের এক সন্তান। 

অন্য এক উৎস থেকে এই অভিযানের যে-বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হলো: সালামাহ বিন আল-আকওয়া হইতে বর্ণিত হয়েছে যে, এই অভিযানের অধিনায়ক ছিল আবু বকর বিন আবি কুহাফা। আল-হাসান বিন ইয়াহিয়া হইতে < আবু আমির হইতে < ইকরিমা বিন আমমার হইতে < আইয়াস বিন সাালামাহ হইতে < তার পিতা (সালামাহ বিন আল-আকওয়া) হইতে বর্ণিত: 

“আল্লাহর নবী আবু বকর-কে আমাদের অধিনায়ক হিসাবে নিযুক্ত করেন ও আমরা বানু ফাযারাহ-র গোত্রের কিছু লোকের ওপর হামলা করি। যখন আমরা তাদের জলাশয়ের স্থানের (watering place) নিকটে পৌঁছোই, আবু বকর আমাদেরকে সাময়িক বিরতি ও বিশ্রামের আদেশ দেন। প্রত্যূষের নামাজ শেষ হওয়ার পর আবু বকর আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের হুকুম দেন। আমরা নিচের জলাশয়ের স্থানে পৌঁছোই, সেখানে আমরা তাদের কিছু লোককে হত্যা করি। আমি তাদের একদল লোককে দেখতে পাই, যাদের মধ্যে ছিল তাদের মহিলা ও সন্তানরা, যারা দৌড়ে আমাদেরকে প্রায় পিছু ফেলে পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিল। তাই আমি তাদের ও পাহাড়ের মধ্যস্থান লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করি। যখন তারা তীরটি দেখতে পায়, তারা থেমে যায়। আমি তাদেরকে চালিত করে আবু বকরের কাছে নিয়ে আসি। তাদের মধ্যে ছিল বানু ফাযারাহ গোত্রের এক নারী, যার পরনে ছিল পুরানো এক টুকরা চামড়ার পোশাক। তার সঙ্গে ছিল তার কন্যা, আরবের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের একজন। লুণ্ঠিত সামগ্রীর হিস্যা (booty) হিসাবে আবু বকর তার সেই কন্যা আমাকে দান করে। 

আমি যখন মদিনায় প্রত্যাবর্তন করি, আল্লাহর নবী বাজারটির মধ্যে আমার সাথে দেখা করেন ও বলেন, ‘সালামাহ, কী উত্তম সেই পিতা, যে তোমকে জন্মদান করেছে! নারীটিকে আমাকে দাও।’ আমি বলি, ‘হে আল্লাহর নবী, আমি এখনও তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। হে আল্লাহর নবী,
সে এখন আপনার’।

আল্লাহর নবী তাকে মক্কায় প্রেরণ করেন ও তার বিনিময়ে তিনি মুশরিকদের হাতে ধৃত কিছু মুসলমান বন্দীকে মুক্ত করেন। (উপাখ্যানের এই বর্ণনা-টি সালামাহ হইতে প্রাপ্ত)।"'

ইমাম মুসলিমের বর্ণনা:

ইমাম মুসলিমের বর্ণনা (সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৪৫) সালামাহ বিন আল-আকওয়া হইতে বর্ণিত উপাখ্যানেরই অনুরূপ। [6]

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারিথার অধীনে তাঁর কিছু অনুসারীকে হামলার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন ওয়াদি আল-কুরা নামক স্থানে। বানু ফাযারাহ গোত্রের লোকেরা এই হামলাকারীদের প্রতিরোধ করে। তাঁরা হামলাকারীদের বেশ কিছু লোককে হত্যা করে, অধিনায়ক যায়েদ আহত অবস্থায় মদিনায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়। যায়েদ সুস্থ হওয়ার পর মুহাম্মদ একদল সৈন্যসহ তাকে আবারও পাঠান সেই একই ওয়াদি আল-কুরা নামক স্থানে। ফজরের নামাজ পড়ার পর তারা তাদেরকে অতর্কিত হামলা করে, তাদের বেশ কিছু লোককে খুন করে, যাদের একজন ছিলেন অতিবৃদ্ধা উম্মে কিরফা। ঘটনার বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, উম্মে কিরফা ছিলেন অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল প্রবাদতুল্য। এই অতি বৃদ্ধা মহিলাকে মুহাম্মদ অনুসারীরা অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করে, তাঁদের সম্পত্তি লুণ্ঠন করে ও তাঁদেরকে ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করে।

কী ছিল তাঁদের অপরাধ? 

উম্মে কিরফা ও তাঁর জনগণের অপরাধ ছিল এই যে তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। প্রথমবারের হামলা তাঁরা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, দ্বিতীয়বারে হয়েছিলেন বিফলকাম। তাঁদের অপরাধ ছিল এই যে, তাঁরা মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে নবী হিসাবে গ্রহণ করেননি। তাই তাঁদের এই ভয়াবহ পরিণতি। বানু ফাযারাহ গোত্রের কোনো লোক কখনোই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনো আগ্রাসী হামলা চালাননি

ইবনে হিশাম ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’ বইটি সম্পাদনাকালে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক রচিত মূল বইটির কপি থেকে কিছু অংশ বর্জন, সংক্ষিপ্ত ও কখনো সখনো পরিবর্তন করেছেন, যা তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করেছেন (পর্ব: ৪৪); তিনি তা কেন করেছেন, তাও তিনি তাঁর সম্পাদকীয় ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, "যে-বিষয়ের আলোচনা লজ্জাকর ও যে-বিষয় কিছু মানুষের মর্মপীড়ার কারণ হতে পারে", তা তিনি গোপন করেছেন। উম্মে কিরফাকে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা ও তার বিবরণ এমনই একটি ঘটনা। 

অন্যদিকে আল-তাবারী, মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ছাত্র সালামাহ মারফত মুহাম্মদ ইবনে ইশাক রচিত মূল বইটির কপি থেকে যে-তথ্যগুলো পেয়েছেন, তার কোনো কিছু গোপন না করেই তিনি তাঁর গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। একইভাবে এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন আল ওয়াকিদি তাঁর “কিতাব আল-মাগাজি”- গ্রন্থে। 

ইমাম মুসলিম তাঁর হাদিস গ্রন্থে এই হামলার ঘটনার শুধু একটি ভার্শন উদ্ধৃত করেছেন। বানু ফাযারাহ হামলায় উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড ঘটনার কোনো উল্লেখ করেননি। আর ইমাম মুসলিম ছাড়া অন্যান্য হাদিস গ্রন্থকার বানু ফাযারাহ হামলা ও উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড ঘটনার কোন উল্লেখই করেননি। কী কারণে তাঁরা তা উদ্ধৃত করেননি, তা জানা সম্ভব নয়। হতে পারে, তাঁরা এই ঘটনার কোনো বিবরণই জানতেন না! কিংবা হতে পারে, তাঁরা তা জানতেন, কিন্তু তাঁদের কাছে তা নির্ভরযোগ্য বলে বোধ হয়নি। কিংবা হতে পারে, তাঁরা ইচ্ছা করেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এই বীভৎসতার ইতিহাস গোপন করেছেন; কিন্তু ইবনে হিশামের মত তা প্রকাশ করেননি! পৃথিবীর সমস্ত মানুষই যে ইবনে হিশাম, আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর মত হবে, এমন তো কথা নেই!

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

The narrative of Al-Tabari:

The story is as follows: According to Ibne Humayed < Salamah < Ibne Ishaq < Abdulla bin Abi Bakr, who said:

The Messenger of God sent Zayd bin Harithah to Wadi Al Qura, where he encountered the Banu Fazarah. Some of his companions were killed there and Zayd was carried away wounded from along the slain. One of those killed was Ward bin Amr, one of the Banu Saad bin Hudhayam: he was killed by one of the Banu Badr (b Fazarah).

When Zayd returned, he vowed that no washing [to cleanse him] from impurity should touch his head until he had raided the Fazarah. After he recovered from his wounds, the messenger of God sent him with an army against Banu Fazarah. He met them in Wadi Al Qura and inflicted casualties on them. Qays bin Al Musahhar al-Ya’muri killed Mas’adah bin Hakamah bin Malik bin Badr and took Umm Qirfah prisoner. (Her name was Fatimah bt Rabiah b. Badr. She was married to Malik bin Hudhayfah bin Badr. She was very old woman).

He also took one of Umm Qirfah’s daughters and Abdallah bin Masadah prisoner. Zayd bin Harithah ordered Qays to kill Umm Qirfah, and he killed her cruelly. He tied each of her legs with a rope and tied the ropes to two camels, and they split her in two. Then they brought Umm Qirfah’s daughter and Abdallah bin Masadah to the Messenger of God. Umm Qirfah’s daughter belonged to Salamah bin Amr bin Al Akwa, who had taken her - she was a member of a distinguished family among her people: the Arabs used to say, “Had you been more powerful than Umm Qirfah, you could have done no more”. The Messenger of God asked Salamah for her, and Salamah gave her to him. He then gave her to his maternal uncle, Hazen bin Abi Wahb, and she bore him ‘Abd Al Rahman bin Hazn”.

The other version of the story of this expedition- from Salamah b. al-Akwa is that its commander was Abu Bakr b. Abi Quhafah.  According to al-Hasan b. Yahya – Abu Amir – Ikrimah b Ammar – Iyas b Salamah – his Father [Salamah b. al-Akwa], who said: The Messenger of God appointed Abu Bakr as our commader, and we raided some of the Banu Fazarah. When we came near the watering place, Abu Bakr ordered us to halt for a rest. After we prayed the dawn prayer, Abu Bakr ordered us to launch the raid against them. We went down to the watering place, there we killed some people. I saw a group of people, women and children among them, who had almost outstripped us to the mountain; so I sent an arrow between them and the mountain. When they saw the arrow, they stopped, and I led them back to Abu Bakr. Among them was a woman of Banu Fazarah wearing a worn out piece of leather. With her was her daughter, among the fairest of the Arabs. Abu Bakr gave me her daughter as booty.

When I returned to Medina, the Messenger of God met me in the market and said, “Salamah, how excellent a father begot you! Give me the woman.” I said, “Messenger of God, I have not uncovered her garment. She is yours, Messenger of God.” The Messenger of God sent her to Mecca, and with her he ransomed some Muslim captives who are in the hands of the polytheists. [This version of the story Comes from Salamah.]

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৫৭-১৫৬০ 

[2] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal): “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৬৬৪-৬৬৫

[3] অনুরূপ বর্ণনা:  “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৫৬৪-৫৬৫ http://www.britannica.com/biography/al-Waqidi

ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২৭৭-২৭৮

[4] সালামাহ বিন আল ফাদল আল আবরাশ  ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ছাত্র (পর্ব: ৪৪)।

[5] যায়েদ বিন হারিথা ছিলেন মুহাম্মদের পালিত পুত্র, মুহাম্মদের পত্নী যয়নাব বিনতে জাহাশ এর প্রাক্তন স্বামী।

[6] সহি মুসলিম, বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৪৫ http://hadithcollection.com/sahihmuslim/147-Sahih%20Muslim%20Book%2019.%20Jihad%20and%20Expedition/12756-sahih-muslim-book-019-hadith-number-4345.html

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন