৩০ জানুয়ারী, ২০১৬

সহিহ মুসলিমরা সবচেয়ে সংখ্যালঘু হবার পথে

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

"২০৭০ সালের মাঝেই ইসলাম হবে তামাম দুনিয়ার সবচেয়ে সংখ্যালঘু অনুসারীদের ধর্ম" (প্রাসঙ্গিক একটি পোস্ট দেখুন) - না, আপনি ভুল পড়েননি, ঠিকই পড়েছেন। আসুন, বিষয়টা একটু পরিষ্কার করা যাক।

পৃথিবীতে বর্তমানে মুসলিমের সংখ্যা ১৫০ কোটির আশেপাশে। কিন্তু সহিহ মুসলিমের সংখ্যা কত?

আসুন, যারা সহিহ মুসলিম নয় তাদের বাদ দিয়ে হিসাব করি, তাহলেই সহিহ মুসলিমের সঠিক সংখ্যাটা জানা যাবে।

তালেবানরা সহিহ মুসলিম নয়,
বোকো হারাম সহিহ মুসলিম নয়,
আইসিসরা সহিহ মুসলিম নয়,
লাস্কার-ই-তাইয়্যিবাও সহিহ মুসলিম নয়,
আল-কায়দাও সহিহ মুসলিম নয়,
আন্সারুল্লাহ বাংলা সহিহ মুসলিম নয়,
হামাস সহিহ মুসলিম নয়,
জামাতে ইসলাম সহিহ মুসলিম নয়,
হরকত-উল-জিহদও সহিহ মুসলিম নয়,
যারা নামাজ পড়ে না, তার সহিহ মুসলিম নয়,
যারা নিয়মিত পড়ে না, তারাও সহিহ মুসলিম নয়,
যারা ধর্ষণ করে তারাও সহিহ মুসলিম নয় (যদিও ধরা পড়ার আগে সহিই ছিল),
যারা পর্দা করেনা তারা সহিহ মুসলিম নয়,

আরো কিছু সংগঠন যেমন [হরকত-উল-জিহাদ, হরকত-উল-মুজািহদিন, জইস-মুহদ, জিহাদ-এ-মুহদ, তাহ-রিখ-এ-নিফাজ-সিরায়াত-এ-মুহদ, আল-হিকমা, আল-বদর-মুজািহিদন, জামাতে ইসলামিয়া, হিজাব-এ-ইসলািময়া, জিময়াতুল মুজািহিদন বাংলােদশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশ (জি), শাহাদাত ই আল হিকমা ও জাত মুসিলম জনতা বাংলােদশ (জেএমজিব), শাহাদাত-ই আল হিকমা, হরকাতুল জিহাদ আল ইসলািম, শহীদ নসুাহ আল আরাফাত বিডে, হিজবুত তাওহিদ, জামায়াত-ই ইয়াহিয়া, আল তুরাত, আল হারাত আল ইসলামিয়া, জামাতুল ফালাইয়া তাওহিদি জনতা, বি ইসলামী, জুাতুল আল সাদাত, শাহাদাত-ই-নবুওয়ত, আহর দল, জইশ মাফা বাংলাদেশ, আল জিহাদ বাংলাদেশ, ওয়ারত ইসলািমক, জামায়াত-আস-সাদাত, আল খিদমত, হরকত-এ ইসলাম আল জিহাদ, হিজবুহ ইসলামী সমাজ, মুসিলম শিরয়া কাউলি, ওয়া ইসলামিক ফর জিহাদ, জইশ মুহাদ, তা আমীর উদীন বাংলাদেশ, হিজবুল মাহাদী, আল ইসলাম মাটায়ারস বিডে ও তানজীম] এরা কেউই সহিহ মুসলিম নয়,

কিছু তরিকা যেমন: আটরশি, চরমোনাই, দেওয়ানবাগ, রসুলবাগ, কুতুববাগ, মাইজভান্ডারী, এনায়েতপুরী, শার্ষিনা, কল্লাশাহ, খাজাবাবা, চন্দ্রপুরী - এরাও সহিহ মুসলিম নয়,

আরো কত দল যে হবে... আরো আছে সেসব সহ এগুলো বাদ দিয়ে সহিহ মুসলিমের সংখ্যা বের করুন, বের করে আমাকে জানান।

আমার আবার বড় বড় হিসেব দেখলেই ঘুম আসে।

এক জোড়া পোস্টার

সাইনবোর্ডে লেখা: "চার্চ চত্বরের পাহারায় আছে কুকুরেরা"
ওপরে-নিচে বড়ো হরফে লেখা: "ঈশ্বর নয় কেন?"
(অনুবাদসহ পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল)

কোরান কুইজ – ৯০

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ১০০: মৃত্যকালে মানুষের প্রাণহরণ করে কে?

১) একজন ফেরেশতা
২) একাধিক ফেরেশতা
৩) আল্যা স্বয়ং

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

নুহ নবীর নৌকায়


২৯ জানুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ১৭

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬

BharathRF:  আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ব্লগার ও কার্টুনিস্টদের 'আক্রমণ' থেকে যার সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়, সেই আল্যা কীভাবে অন্যদের রক্ষা করবে?

NoorTwinks: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মনুষ্যসৃষ্ট কোনও কিছুতেই আমি ভয় পাই না।

ঘুণপোকা: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ অমুসলিমের মৃত্যু-সংবাদে যে-দোয়া পড়া হয়, সেটা আসলে অভিশাপ। ছিঃ, ইসলাম!

a jimmin n a jammin:  আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ধর্ম ছাড়া পৃথিবী অনেক সুন্দর হতো।

Milad Jama: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান হিসেবে আমি নবীর সক্রিয় দাসপ্রথাচর্চা সমর্থন করতে পারি না।

হাবিবুর: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাদের হিন্দু প্রতিবেশী পরিবারকে নিজ দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে মুসলিমদের অত্যাচারে।

the_mehran:  আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম একমাত্র ধর্ম, যার ‌একান্ত নিজস্ব 'ফোবিয়া' আছে।

Frank: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ ও সাধারণ জ্ঞান।

রাফাত সিরাজ নির্ঝর: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম ঘৃণা করে বাকস্বাধীনতা, সঙ্গীত, নাচ, কার্টুন, অবিশ্বাসী, সমকামী, নারী, কুকুর ও মানবাধিকার।

Ahmed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ "কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য..." (কোরান ৮:৪১)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪০

পাঠিয়েছেন কৌস্তুভ


মুসলমান - ইসলাম = মানুষ

লিখেছেন পুতুল হক

মুসলমানের মধ্য থেকে ইসলামটুকু নিয়ে নিন, সে তখন আর দশটা সাধারণ মানুষের মত মানুষ। জিহাদের নামে সে নিজেকে বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেবে না। বাবার বিরুদ্ধে ছেলে দাঁড়াবে না, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই দাঁড়াবে না। শুধুমাত্র অ-ইসলামী হবার কারণে কারো মাথা কেটে নিতে তখন তাদের ঠিক হাত কাঁপবে। 

একজন হিন্দু বা ইহুদি বা খ্রিষ্টানের সাথে মুসলমানের কোনো পার্থক্য নেই। তারা একইভাবে হাসে, কাঁদে, সুখ পায়, দুঃখ পায়, ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পার্থক্য শুধুমাত্র তাদের বিশ্বাসে। যখনই সে মুসলমান, তখনই সে বাকিদের জন্য হুমকি। তখন সে সমগ্র পৃথিবী ইসলামের ছায়াতলে আনার স্বপ্ন দেখে। পৃথিবীর সকল নারীকে কালো বোরখায় ঢেকে দেয়ার স্বপ্ন দেখে। 

মোহাম্মদের বাহিনীর কথা ভাবুন একবার। এরা কিন্তু একই আরবে বসবাসকারী যারা ইহুদি, খ্রিষ্টান আর পৌত্তলিক হয়ে পাশাপাশি বসবাস করেছে ইসলামের আগ পর্যন্ত। তাদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ছিল, কিন্তু ধর্মের নামে একে অপরকে কখনো নির্মূল করেনি। এরাই যখন মুসলমান হলো, তখন বানু নাদীর, বানু কাউনুকা, বানু কোরাইজা ধ্বংস করে দিলো। 

কা’বা ঘর, যাকে মুসলমান এখন বলে আল্লার ঘর, সেখানে কি ইসলামের পূর্বে যে কোনো ধর্মের মানুষ প্রার্থনা করতে যায়নি? ৩৬০ টি মূর্তিকে যারা ভাঙে, এক সময় তারাই এদের পুজা করেছে। পূর্বপুরুষ যাদের শ্রদ্ধা করেছে, ভালবেসেছে তাদের কী অবলীলায় ধ্বংস করে দিলো! আরবের লোক বেদুঈন ছিল, যাযাবর ছিল, পৃথিবীর অন্য অংশের তুলনায় হয়তো পিছিয়ে পড়ে ছিল, কিন্তু ইসলামের জন্মের আগে তারা গণহত্যা করেছে বলে শুনেছেন? অথচ পরবর্তীতে এরাই ধ্বংসে মেতে উঠলো। 

একটা ভয়ংকর মানসিক রোগের নাম ইসলাম। এই রোগে মানুষ তার প্রকৃত পরিচয় ভুলে যায়, তার বিবেক পচে যায়, বিচার-বিবেচনার স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। স্কুল থেকে দু'শ কিশোরী ধরে নিয়ে যায় মুসলমান, প্রকাশ্যে ক্রীতদাসী বিক্রি করে মুসলমান, সাংবাদিকের মাথা কেটে ফেলার দৃশ্য সগর্বে প্রচার করে মুসলমান। ইসলামে মানবতা, গণতন্ত্র, নারী স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। তাই মুসলমানরা এসবের বিরোধী। ইসলামে দুনিয়ার জীবন গুরুত্বহীন, তাই উন্নতি-প্রগতির বালাই নেই। মুসলমান ফিরে যেতে চায় ১৪০০ বছর আগের যুগে, যখন সমতল পৃথিবীর ওপর সাত আসমান ছিল আর খুঁটি দিয়ে পৃথিবী গেড়ে দেয়া হয়েছিল। 

একটা ভদ্র শিক্ষিত ছেলেও একসাথে চার স্ত্রীর কথা ভাবে, যদি সে হয় মুসলমান। চিন্তা করা যায়, একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ফেলে রোজ রাতে দাসী ভোগ করবে, কিন্তু স্ত্রী তাকে কিছুই বলতে পারবে না! আপনি যতই পাপ করুন, যতই অন্যায় করুন, আল্লার সাথে কাউকে অংশীদার না করলে আপনার সব পাপ থেকে আপনি মুক্তি পাবেন। 

তবে মুসলমানের মধ্য থেকে ইসলামটুকু বের করে দিলে সে আর পৃথিবীর জন্য, মানবতার জন্য হুমকি হবে না। সে তখন সাধারণ মানুষ, যার মনে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, মানুষের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা থাকে, যে অন্যের মত প্রকাশকে নিশ্চিত করে, প্রিয়তমার হাত ধরে হাঁটার সময় তার খোলা চুলের সুবাস নেয়।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৬৭


২৮ জানুয়ারী, ২০১৬

চার দ্বিপদী

১.
এক শিশিতে বিশ্বাস আর আরেক শিশিতে ভয়
এই দু'শিশির ঝাঁকুনিতেই ধর্ম জন্ম হয়
(লিখেছেন মুস্তাফিজ রহমান)


২.

হাদিছ ঘেঁটে কোরান ঘেঁটে জানি আমি পষ্ট,
যে রচেছে এসব, সে তো বদের মহান, নষ্ট
(লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সাঃ))


৩.

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গেয়েছিলেন:
অলির কথা শুনে বকুল হাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো


সেই দুই চরণের ছান্দস ত্রুটিযুক্ত প্যারোডি:
আল্যার কথা শুনে নাস্তিককুল হাসে,
কই, তাদের মতো মমিন আল্যার কথা শুনে হাসে না তো

৪.
৫৪, ৯-এ ব্যাপক ফারাক - যতোই বলুক গণিতে
আল্যা চাইলে বৃদ্ধ-শিশ্ন দংশায় কচি যোনিতে

ক্রুশের ছবি – ১৮

শুধুই ক্রুশের ছবি। অন্যদিকে নজর গেলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে!


ডাস্টবিন থেকে কুড়আনো চিন্তা - ১৫

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

৫৬.
নাস্তিক বলল, "ওরে মমিন, তোর পোঁদ মারা গেল বলে!"
মমিন বলল, "আল্লাপাক আমার রক্ষাকর্তা।"

আল্লা বর্শা-বল্লম হাতে মমিনের গুহ্যদ্বারে বসে মমিনের পোঁদ পাহারা দিতেছে, দৃশ্যটা কল্পনা করেই নাস্তিক হাসতে হাসতে শেষ।

৫৭.
দাবি করা হয়, বুদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম নাকি দর্শননির্ভর। তাহলে ইসলাম ধর্ম কি ধর্ষণনির্ভর? 

৫৮.
টিভিতে খবর দেখাল - রাতের অন্ধকারে মূর্তি ভাঙতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে আওয়ামিলীগ কর্মী।
অ্যান্টিলীগ মমিন: "দেখ দেখ, লীগই রাতে মূর্তি ভেঙে জামাতের ঘাড়ে চাপায়।
নাস্তিক: "আওয়ামীলীগ হইলে মুসলমান হওয়া যাবে না, এমন কোনো কথা আছে? প্রতিমার মত শিরক বেদাতি জিনিস ভাঙা প্রত্যেকটা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব, এবং সুন্নতও বটে।"

৫৯.
রাব-বুল-আলামিন = রবের ষাঁড় আলামিন (মোহম্মদ)

৬০.
মডারেট মুচুল্লিরা সহি মুসলিমদের সহিংসতা ধামাচাপা দিতে কয়, "সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নাই।"
কথা সইত্য, এ জন্যেই ইসলাম কোনো ধর্ম না, ইহা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

ধর্ম নামের ধান্ধা

পাঠিয়েছেন প্রশান্ত

২৭ জানুয়ারী, ২০১৬

দ্য গ্রেইট ইছলামী পিছলামি

চুরির শাস্তি - চোরের হাত কেটে ফেলা, 
বিবাহবহির্ভূত যৌনসম্পর্কের শাস্তি - পাথর ছুঁড়ে হত্যা, 
ইছলাম ত্যাগের শাস্তি - হত্যা... 
ইত্যাকার বর্বর বিধানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কোরান অনুমোদিত এবং সেসব ইছলামী আইনের অন্তর্ভুক্তও বটে। সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন যে কোনও মানবিক মানুষই ভয়াবহ এই কুৎসিত বিধানগুলোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকে।

তবে খাছ মুছলিমদের যদি প্রশ্ন করা হয়, ওপরোক্ত আইনগুলো তারা সমর্থন করে কি না, তারা 'হ্যাঁ' অথবা 'না' উত্তর দেয় না প্রায় কখনওই। কারণ ঘোর অমানবিক এই আইনগুলো সমর্থন করলে নিজেদের বর্বরতা প্রকাশিত হয়ে পড়ে, আবার বিরোধিতা করলে ক্ষুণ্ণ হয়ে যায় নিজেদের মুছলিম পরিচয়... এই দোটানায় পড়ে তারা প্রয়োগ করতে শুরু করবে ছহীহ ইছলামী পিছলামি।

সোয়া সাত মিনিটের ভিডিওতে এমন কয়েকটি পিছলামির অপূর্ব সংকলন:

ভিডিও লিংক:https://youtu.be/j7GZNaZkkio

বেদ্বীনবাণী - ৬০


ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ২৯

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

১৪১.
বাংলাস্তানে নিরীহ বাউলদের হত্যা করে কারা? মূর্তি ভাঙে কারা? উস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে ছাই করে কারা? নাস্তিক লেখকদের কুপিয়ে, জবাই করে হত্যা করে কারা? অমুসলিমদের উপাসনালয় ভাঙে কারা, পোড়ায় কারা? বৌদ্ধমূর্তি ভাঙে কারা?

যাদের এত এত অবদান বাংলাস্তানকে পৃথিবীর দরবারে নতুন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য, তাদেরকে সরকার শুধু লালন-পালন করছে, এসব মহান কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো পুরস্কার দিচ্ছে না কেন?

১৪২.
আল্যা এত আত্মপ্রদক্ষিণরত কেন? তার রচিত কেতাব কুরান জুড়ে তিনি কেবলই আমি-আমি-আমি-আমিই-আমিই-আমিই... করেছেন কেন?

১৪৩.
- নবীজির অনেকগুলি বিবি দাসী ও গনিমত ছিল ছহবত করার জন্য। কিন্তু বড় বিবি খাদিজা ছাড়া আর কারো গর্ভে তিনি বাচ্চা পয়দা করতে সক্ষম হননি কেন?

- খাদিজা মারা যাবার সময় নবীজির বয়স ছিল ৫০ বছর। তারপরই নবীজি বেহিসাবে বিবাহ করতে শুরু করেন এবং দাসী ও গণিমত ছহবত করতে শুরু করেন এতোদিনের অবদমিত কাম চরিতার্থ করার জন্য। অপরদিকে খাদিজা নবীজির আম্মুর বয়েসী ছিলেন বলে ছেলের বয়েসী নবীজির চাহিদা মেটাতে অক্ষম ছিলেন। কিন্তু নবীজি খাদিজার চাকর ছেলে ছিলেন বলে খাদিজার জীবদ্দশায় অন্য কারুর সাথে কামলীলা করার হিম্মত করতে পারেননি। খাদিজা মারা যাবার সময় নবীজির বয়েস ৫০ ছিল এবং তার বলে আর তেমন বল ছিল না বলে এত অগণিত জনের সহিত ছহবত করেও কোনো সন্তান উৎপাদন করতে পারেননি। আহারে!

১৪৪.
শান্তির ধর্মের অনুসারীরা দৈনিক পাঁচবার আজান নামের অশ্রাব্য শব্দদূষণ সৃষ্টি ক'রে শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের শান্তি কেড়ে নেয়। বিশেষ করে, শেষরাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে, তখন অকথ্য অশ্রাব্য স্থূলতম শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে নিদ্রিত নিরপরাধ মানুষের নিদ্রা ভঙ্গ ক'রে পৃথিবীতে দোজগী পরিবেশের অবতারণা করে। এটা শান্তির ধর্মের অনুসারী শান্তিকামীদের দ্বারা সৃষ্ট বোনাস অশান্তি।

১৪৫.
অনেকেই অভিযোগ করে থাকে, আল্ল্যাকে ডেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না, বিপদে আপদে তার কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে কখনো পাওয়া যায় না, দুর্ভিক্ষের সময় খাবার পাওয়া যায় না... ইত্যাদি। কিন্তু আল্যাকে কাবাঘরে চিরগৃহবন্দী করে রেখে তার কাছে সাহায্য চাওয়া ও তাকে ডাকাডাকি করা তো চূড়ান্ত ব্যঙ্গাত্মক ব্যাপার। আল্যা নিজে অসহায়ভাবে বন্দী থেকে অন্য কাউকে কীভাবে সাহায্য সহযোগিতা করবেন? কোন অপরাধে তাকে বন্দী করে রাখা হলো? তাকে কি কোনোদিন মুক্তি দেয়া হবে না? আল্যার কি কোনো আল্যাধিকার নেই?

গাজরলোভী গাধাগুলো


২৬ জানুয়ারী, ২০১৬

ধর্মের ভণ্ডামি ও ভণ্ডামির ধর্ম

সার্বিকভাবে যুক্তিপ্রবণ, পরিণতমনস্ক, সক্রিয়মস্তিষ্ক ও চিন্তাশীল মানুষদের সঙ্গে ধর্মব্যবসা লোকসানেরই পথ দেখে শুধু, ধর্মবাজেরা সেটা খুব ভালো করেই জানে। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে অবুঝ শিশুদের প্রতি, যাদের মগজে ভিত্তিহীন ভীতি ও প্রলোভন প্রবিষ্ট করিয়ে দিয়ে ধর্মভীরু বানিয়ে ফেলা একেবারেই শ্রমসাধ্য ব্যাপার নয়। 

একটা সাইট নজরে পড়লো muslimconverts.com নামে। সেখানে শিশুদের জন্যও একটি অংশ আছে, যেখানে লেখা আছে, একেবারে খুদে শিশুরাও চাইলে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়াই নূরের পথে আসতে পারবে। অর্থাৎ বাবা-মাকে না চটিয়ে চুপচাপ ইসলাম গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এবং বলা হচ্ছে, পরে যখন সাহস ও তাগদ হবে, তখন তাদেরকে কথাটা পেড়ে ফেললেই চলবে। 
If you are a Small child you can still become a Muslim without your parents permission. 
If you are a child you do not need your parent's permission to become a Muslim. If you fear they may harm, you can become Muslim in secret and tell them when you are ready. 
পূর্ণাকারে দেখতে হলে ছবিতে ক্লিক করতে হবে

কী ধূর্ত কাপুরুষতা! কী চূড়ান্ত ভণ্ডামি!

তবে একটি কথা তারা সজ্ঞানেই এড়িয়ে গেছে: ইসলাম-গ্রহণ-করা শিশু প্রাপ্তমনস্ক হবার পর যদি তার বোধোদয় হয় এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে ইসলাম ত্যাগ করে, তখন ইসলামের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার যুক্তিতে কোরান-হাদিসের আইন অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হবে।

(১০.৬.১২ তারিখে প্রথম প্রকাশিত) 

হা-হা-হাদিস – ১৬৩

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

Narated By 'Abdullah bin 'Umar : Once I went upstairs in Hafsa's house and saw the Prophet answering the call of nature with his back towards the Qibla and facing Sham.

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭২

২১০.
- ইছলামে কেন যে জুয়া নিষিদ্ধ, বুঝতে পারি না।
- কেন, জুয়া ব্যাপারটাই তো খারাপ।
- তা বটে, কিন্তু একেবারেই কোনও তথ্য-প্রমাণ-স্যাম্পল ছাড়া কাল্পনিক ৭২ হুর, গেলমান আর দুধ-মধুর নহরের লোভে নিজেকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার চেয়ে বড়ো জুয়া আর কী হতে পারে?

২১১.
শেষ বিচারের দিনে।
আল্যা: মিথ্যা কথা বলেছো?
বান্দা: বলেছি।
আল্যা: চুরি করেছো?
বান্দা: করেছি।
আল্যা: ধর্ষণ করেছো?
বান্দা: করেছি।
আল্যা: মানুষহত্যা করেছো?
বান্দা: করেছি।
আল্যা: জুম্মার নামাজ কামাই করেছো? 
বান্দা: করিনি।
আল্যা বান্দার সামনে খুলে দিলো বেহেশতের দরজা।

২১২.
- ফেরেশতা হওয়া খুবই সহজ।
- কীভাবে?
- খাদ্য আর কামের প্রয়োজন না থাকলে যে কেউই ফেরেশতা হতে পারে।

মমিনীয় মগজ


২৫ জানুয়ারী, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি-১: প্রেক্ষাপট: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১১): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – পঁচাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯ > পর্ব ১১০

"যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

[ইসলামের ইতিহাসে "হুদাইবিয়া সন্ধি (চুক্তি)" এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সন্ধি পরবর্তী সময়ে কুরাইশ ও অন্যান্য অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যাবতীয় নৃশংসতার বৈধতার প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাঁদের বিরুদ্ধে এই চুক্তিভঙ্গের অজুহাত হাজির করেন ও  তাঁর আল্লাহর নামে সেই বিখ্যাত “৯:৫ -তরবারির আয়াত (The Verse of the Sword)” সহ সুরা তওবার আরও অনেক নৃশংস আদেশ জারি করেন। ইসলামকে জানতে হলে মুহাম্মদকে জানতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তাই হুদাইবিয়া সন্ধির এই অধ্যায় থেকে শুরু করে সুরা-তওবা অধ্যায় পর্যন্ত প্রতিটি পর্বের আলোচনা শুরুর পূর্বে "শুরু করিতেছি আল্লাহর নামে"-এর অনুকরণে "যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" বাক্যটি যুক্ত করবো।]

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যায়েদ বিন হারিথা (অথবা আবু বকর) এর অধীনে একদল সৈন্য সহ 'বানু ফাযারাহ' গোত্রের ওপর যে-হামলাকারী দল পাঠিয়েছিলেন, সেই হামলা তারা কীভাবে সম্পন্ন করেছিলেন; কী অমানুষিক পাশবিকতায় তাঁর এই অনুসারীরা উম্মে কিরফা নামক এক অতি বৃদ্ধা মহিলাকে হত্যা করেছিলেন; কীভাবে তারা অন্যান্য বন্দীদের সাথে উম্মে কিরফার কন্যাকে ধরে নিয়ে এসে 'যৌনদাসী'-তে রূপান্তরিত করেছিলেন; মুহাম্মদের আগ্রাসী হামলায় ধৃত এই সুন্দরী রমণীটি 'গনিমতের মাল'-এর অংশ হিসাবে মুহাম্মদের কোন সাহাবীর (মুহাম্মদের জীবিত অবস্থায় দীক্ষিত তাঁর প্রত্যক্ষ অনুসারী) ভাগে পড়েছিল; অতি সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক মুক্ত মানুষের অবস্থান থেকে নিমেষেই যৌনদাসী রূপে পরিবর্তিত হওয়ার পর এই অসহায় নারীটির নব্য দাস-মালিক তার এই যৌনদাসীর বস্ত্র উন্মোচন সম্পন্ন করার পূর্বেই কেন তাঁকে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন; সেই অনুসারীর কাছ থেকে এই যৌনদাসীটিকে গ্রহণ করে মুহাম্মদ তাঁকে তাঁর কোন আত্মীয়কে দান করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত ইসলাম নামক আদর্শে উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে অবিশ্বাসী জনপদের মুক্ত মানুষকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসে তাঁদেরকে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া, তারপর তাদেরকে ইচ্ছামত বিক্রি করা (পর্ব- ৯৩) অথবা দান করা (পর্ব-১০১ ও ১১০) সম্পূর্ণরূপে বৈধ!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) মতে হিজরি ৬ সালের শাবান মাসে (যার শুরু হয়েছিল ডিসেম্বর ১৬, ৬২৭ সাল) মুহাম্মদের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা বানু আল-মুসতালিক গোত্রের লোকদের ওপর অতর্কিত নৃশংস আগ্রাসী হামলা চালান ও তাঁদের সম্পদ লুণ্ঠন করেন, তাঁদের কিছু লোককে খুন করেন ও বহু লোককে বন্দী করে ধরে এনে দাস ও যৌনদাসী রূপে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন (পর্ব-৯৭-১০১);  বানু আল-মুসতালিক হামলার তিন মাস পরে, হিজরি ৬ সালের জিলকদ মাসে (যার শুরু মার্চ ১৩, ৬২৮ সাল), মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর ৭০০- ১৪০০ সশস্ত্র অনুসারীকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। যাত্রার প্রাক্কালে তিনি বারংবার ঘোষণা দেন যে, "তিনি ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাচ্ছেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্যে নয়।" মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যখন মক্কার অদূরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছান, তখন মক্কাবাসী কুরাইশরা তাদেরকে মক্কা প্রবেশে সক্রিয় বাধা প্রদান করেন। দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দলের উপক্রম হয় ও এক পর্যায়ে মুহাম্মদ ও মক্কাবাসী কুরাইশদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়, ইসলামের ইতিহাসে যা "হুদাইবিয়া সন্ধি (চুক্তি)" নামে বিখ্যাত।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮) বর্ণনা: [1] [2] [3]

'অতঃপর [বানু আল-মুসতালিক হামলা] আল্লাহর নবী রমজান ও শওয়াল মাস মদিনায় অবস্থান করেন এবং জিলকদ মাসে যুদ্ধ করার অভিপ্রায় না নিয়ে ওমরা-হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি তাঁর সাথে যোগ দেয়ার জন্য অন্যান্য আরব গোত্র ও প্রতিবেশী বেদুইনদের আহ্বান জানান এই ভয়ে যে, হয়তো কুরাইশরা তাঁর সশস্ত্র বিরোধিতা করবে অথবা তাঁর কাবা-শরীফ দর্শন প্রতিরোধ করবে; তারা আসলে তাইই করেছিল। বহু আরব গোত্র তাঁর সাথে যোগদানে বিরত থাকে  ও তিনি মুহাজির ও আনসার এবং তাঁর সাথে যুক্ত কিছু আরব গোত্রদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তিনি কুরবানির জন্য পশুদের সঙ্গে নেন ও তীর্থযাত্রীর পোশাক পরিধান করেন, যাতে সকলেই জানতে পারে যে যুদ্ধ করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়, তাঁর উদ্দেশ্য হলো কাবা-শরীফ দর্শন ও তার শ্রদ্ধা করা।

মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল-যুহরি হইতে < উরওয়া বিন আল-যুবাইয়ের হইতে < মিসওয়ার বিন মাখরামা ও মারওয়ান বিন আল-হাকাম আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] জানিয়েছেন: 

আল্লাহর নবী হুদাইবিয়া সন্ধি-বর্ষে (year of al-Hudaybiya) শান্তির উদ্দেশ্য কাবা-শরীফ দর্শন অভিপ্রায়ে গমন করেন, তিনি ৭০ টি উট কুরবানির জন্য সঙ্গে নেন। তাঁর সঙ্গে ছিল ৭০০ অনুসারী, যাতে একটি উট ১০ জন লোকের ভাগে পরে। আমি আরও যা শুনেছি তা হলো যাবির বিন আবদুল্লাহ বলতেন যে, "হুদাইবিয়া যাত্রায় আমরা ছিলাম ১৪০০ লোক।"’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

>>> মহাকালের পরিক্রমায় এক নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের ইতিহাস হলো সেই নির্দিষ্ট স্থান ও কালের পারিপার্শ্বিক অসংখ্য ধারাবাহিক ঘটনাপরম্পরা ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি। এই ধারাবাহিক ঘটনাপরম্পরায় পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহের পরিণাম (consequence) পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ঘটনাপরম্পরার এই ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে কোনো বিশেষ সময়ের ইতিহাসের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়; বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সে কারণেই মুহাম্মদের তথাকথিত নবুয়ত পরবর্তী সময় থেকে হিজরত পূর্ববর্তী সময়ে মুহাম্মদের বাণী (পর্ব: ২৬) ও কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে হিজরত, নাখলা ও নাখলা-পূর্ববর্তী অভিযানের কারণ ও পর্যালোচনা সম্ভব নয়; নাখলা ও নাখলা পূর্ববর্তী অভিযানে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী নৃশংস কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে বদর যুদ্ধের কারণ ও পর্যালোচনা সম্ভব নয় এবং বদর যুদ্ধের ফলাফল ও বদর যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ওহুদ যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নৃশংস কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে ওহুদ যুদ্ধের কারণ ও পর্যালোচনা অসম্ভব।

নাখলা ও নাখলা পূর্ববর্তী অভিযানের (পর্ব: ২৮-২৯) পরিণাম হলো বদর যুদ্ধ (পর্ব: ৩০-৪৩), আর এই যুদ্ধে কুরাইশদের প্রতি মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের পাশবিক নৃশংসতার পরিণাম হলো ওহুদ যুদ্ধ (পর্ব: ৫৪-৭১); একই ভাবে, ওহুদ যুদ্ধের ফলাফল ও ওহুদ যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ঘটনাপরম্পরার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদের কারণ ও পর্যালোচনা সম্ভব নয়। বনি নাদির (ও বনি কেউনুকা) গোত্র উচ্ছেদ ও কুরাইশসহ অন্যান্য অবিশ্বাসী গোত্রের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের (পর্ব: ৫২-৭৫) পরিণাম হলো খন্দক যুদ্ধ (পর্ব: ৭৭-৮৬); ইসলামের ইতিহাসের এই একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে খন্দক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও এই যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে বনি কুরাইজা গণহত্যার কারণ ও তার পর্যালোচনা  অসম্ভব (পর্ব- ৯৪)।

অনুরূপভাবে, হুদাইবিয়া সন্ধি সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা পেতে হলে মুহাম্মদের নবুয়ত পরবর্তী সময় থেকে হুদাইবিয়া সন্ধি পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসের সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে, হুদাইবিয়া সন্ধি-পূর্ববর্তী গত এক বছরে বনি কুরাইজা গণহত্যা (মার্চ, ৬২৭ সাল) সহ অবিশ্বাসী গোত্র ও জনপদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আরও চোদ্দটি অতর্কিত আগ্রাসী হামলা, খুন, জখম, লুণ্ঠন ও মুক্ত মানুষকে ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌনদাসী করণ এবং উম্মে কিরফা-র পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে হুদাইবিয়া সন্ধির কারণ ও বাস্তবতা অনুধাবন সম্ভব নয়। তাই উৎসাহী পাঠকদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ এই যে, ইসলাম-বিশ্বাসী অসংখ্য পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের "সুবিধাজনক উদ্ধৃতিযুক্ত" ভাষণ ও রচনায় বিভ্রান্ত হতে না চাইলে, তাঁরা যেন ন্যূনতম পক্ষে পূর্ববর্তী ঘটনা-প্রবাহের অতি সংক্ষেপ সারাংশ ও পর্যালোচনা সম্বলিত নিম্নবর্ণিত এই পর্বগুলোর দিকে আর একবার চোখ বুলিয়ে নেন:

তথাকথিত নবুয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে বদর যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনা: পর্ব: ৪১-৪৩
হিজরতের সময় থেকে ওহুদ যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনা: পর্ব: ৬৯
নবুয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে বনি কুরাইজা গণহত্যা পর্যন্ত ঘটনা: পর্ব- ৮৬ ও ৯৪
বনি কুরাইজা গণহত্যার সময় থেকে হুদাইবিয়া সন্ধি পর্যন্ত ঘটনা: পর্ব- ১০১ ও ১০৯

অত্যন্ত সংক্ষেপে, মুহাম্মদের নবুয়ত প্রাপ্তির সময় সময় থেকে হুদাইবিয়া সন্ধি পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসের দিকে আর একবার নজর দেয়া যাক:

নবুয়ত পরবর্তী মুহাম্মদের মক্কার নবী জীবনের কর্মকাণ্ডের ইতিহাস:

৬১০ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক সময়ে হেরা পর্বতের গুহার ভেতর জিবরাইল ফেরেশতা মারফত মুহাম্মদের তথাকথিত নবুয়ত প্রাপ্তির ঘটনাটি ঘটে। এরপর প্রায় তিন বছর মুহাম্মদ তাঁর মতবাদ প্রচার করেন গোপনে, তারপর প্রকাশ্যে। মুহাম্মদ যখন প্রকাশ্যে তাঁর মতবাদ প্রচার শুরু করেন, কোনো কুরাইশই তাঁর প্রচারে কোনোরূপ বাধা প্রদান করেননি; কিন্তু মুহাম্মদ যখন তাঁর ধর্মপ্রচারের নামে কুরাইশদের পূজনীয় দেব-দেবী, কৃষ্টি-সভ্যতা ও পূর্ব-পুরুষদের অসম্মান করা শুরু করেন,

মুমিনদের ঈমান দুর্বল কেন

মডারেট মুসলিম মানসপট

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক থেকে যখন অমুসলিম লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া হলো, তখন মডারেট মুসলমানদের মন্তব্য: "মাদ্রাসায় যারা পড়ে তারা এমনিতেই সাম্প্রদায়িক হয়। এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করার কিছু নেই। মাদ্রাসা দিয়ে ইসলামকে বিবেচনা করবেন না।"

মাদ্রাসায় যখন বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়, বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত বোমা বিস্ফোরণে মাদ্রাসা ভস্ম হয়ে যায়, তখন মডারেট মুসলমানদের মন্তব্য: "মাদ্রাসার সাথে জড়িত মানুষেরা এমনিতেই উগ্রবাদের সাথে জড়িত থাকে। মাদ্রাসা দিয়ে ইসলামকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।"

মাদ্রাসার ছাত্ররা যখন দল বেঁধে সাম্প্রদায়িক হামলা চালায়, ভাস্কর্য ভাঙে, মূর্তি ভাঙে, মাদ্রাসার বড় বড় আলেম আর হুজুরেরা যখন নারীদের নিয়ে একের পর এক অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে যায়, মাইকে নাস্তিক কতলের ঘোষণা দেয়, তখন মডারেট মুসলমানদের মন্তব্য: "কিছু মাদ্রাসার ছাত্র কিংবা মোল্লাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ইসলাম নিয়ে মন্তব্য করতে যাবেন না।"

এখন আপনি মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারের কথা বলুন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা কথা বলুন, মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে ১৪০০ বছর আগের মরুভূমির ধুলাবালির শিক্ষা না দিয়ে, কুয়োর ব্যাঙ না বানিয়ে রেখে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার কথা বলুন, তখন মডারেট মুসলমানদের মন্তব্য: "ইয়ে মানে... মানে... উম... হুম... মানে ইয়ে.... হুম... উম মাদ্রাসা তো আছেই ধর্মীয় শিক্ষার জন্য। সেখানে যদি ধর্মই না পড়িয়ে বিজ্ঞান পড়ানো হয়, তাহলে তার নাম আর মাদ্রাসা দেওয়ারই বা দরকার কী!"

অন্য সব সময় মডারেট মুসলমানদের কাছে মাদ্রাসা খারাপ। শুধু বর্তমান যুগের সাথে তুলনায় অকেজো, অচল, বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের অনুকূল আবহাওয়া উপযোগী দেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এই মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারের কথা বলুন, তাতেই মডারেটরা ব্যথায় কোঁকাতে শুরু করবে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখুন, এই মডারেট মুসলমানদের পরিবারের কেউই মাদ্রাসায় পড়ে না। নিজের সন্তানটি একদম স্মার্ট। তবে তারা আবার এটাও আশা করবে যে, অন্যের সন্তান মাদ্রাসায় যাবে, কোরানে হাফেজ হবে, আলেম হবে আর ইসলাম রক্ষা করবে।

এই মডারেট মুসলমানেরাই সবচেয়ে বেশি ভীতিকর। এরা লাইফ স্টাইল চাইবে ইউরোপ-আমেরিকার মতো, আবার রাষ্ট্রধর্ম চাইবে ইসলাম! স্বপ্ন দেখে ইউরোপ-আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করবে, আবার ওদিকে এটাও আশা করে যে, একদিন ইউরোপ-আমেরিকা শাসন করবে ইসলাম! এই মহাজ্ঞানী মডারেটদের মাথায় এটা ঢোকে না যে, ইসলাম যেখানে শাসন করে, সেখানে ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা সভ্যতা হয় না। ইসলামে যেখানে শাসন করে, সেখানে হয় নারীদের বস্তাবন্দী করা, সেখানে দাবা খেলা হারাম, সেখানে ধর্ষণের জন্য নারীকে চারজন সাক্ষী যোগাড় করতে হয়, সেখানে ছবি দেখা ছবি আঁকা সবই হারাম। এই মডারেটেরা হাতকাটা ব্লাউজ পরে ফেইসবুকে ছবি আপলোড দিয়ে তারপর আবার ইসলাম প্রচার করতে বসবে, 'খুনি আস্তিক এবং তার হাতে নিহত নাস্তিক দুজনেই সমান অপরাধী।' একদিকে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে লিটনের ফ্ল্যাটে যাবে, আবার অন্যদিকে নাস্তিকেরা ইসলাম অবমাননা করছে জিকির তুলবে। ওপরে হিজাব নিজে টপস, তারপর স্টাইলিশ হিজাবী সেলফি দেবে। আবার বলবে, 'মুসলমান হয়ে পূজা/ক্রিসমাস/প্রবারণা পূর্ণিমার শুভেচ্ছা দেওয়া হারাম।' তাদের চোদ্দ গোষ্ঠীর কেউ মাদ্রাসাতে না গেলেও মাদ্রাসা নিয়ে কিছু বললেই তাদের অনুভূতিতে লেগে যায়।

(সর্বমোট সাতটি ছবি; সবগুলো দেখতে হলে মূল ছবি বা ছোট ছোট ছবিগুলোর ওপরে একের পর এক ক্লিক করতে হবে)

আগেও বলেছি, এখনও বলছি: এই মডারেট মুসলমানেরাই সবচেয়ে বড় অপরাধী। মাদ্রাসা, জঙ্গিবাদ, আল-কায়েদা, আইএস এরা তো স্রেফ সন্ত্রাসের মুখপাত্র মাত্র। এই মডারেট মুসলমানেরাই সন্ত্রাসের মূল যোগানদাতা, যারা মুখে আইএস ঘৃণা করে, আবার এটাও আশা করে, কোনো একদিন পৃথিবীব্যাপী খিলাফত হবে, জিহাদ হবে, ইসলাম কায়েম হবে।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২২৩

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে 

২৪ জানুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ১৬

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫

Gerrit Smith: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আখিরাতে সুন্নী জিহাদীদের সঙ্গে নিজেকে কল্পনা করতে পারি না।

Tanbir llias: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামবাদীরা বাংলাদেশে আমার বাসায় হামলা করেছিল। সৌভাগ্যক্রমে আমি তখন বাসায় ছিলাম না। তখন তারা নাস্তিকহত্যার ফতোয়া জারি করে।

Shubby Sq: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আল্যা তার বইটা লেখার সময় জানতো শুধু মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে।

Saudi Atheist: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ নারীর পর্দা করার প্রয়োজনীয়তা আমি বোধ করি না। কারণ কর্মস্থলগামী কোনও পশ্চিমা নারীকে দেখে আমার ঈমানদণ্ড উত্থিত হয় না।

জাহেদা পারভীন: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি শৈশবে তিন হুজুরের কাছে আরবি পড়েছি, তাদের প্রত্যেকেই আমার শিশু-শরীর হাতড়িয়েছে।

Hani Kafir: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সমালোচনা করলে ইছলাম সহিংসতা প্রয়োগ করে।

Mahnoor Wahab: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব আছে (সুরা ২:২২৮) - এ কথা গ্রহণ করতে আমি অস্বীকৃতি জানাই।

Jihadi Kermit: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বর্বর নবী অপেক্ষা সুস্বাদু মদ উত্তম।

Parisa: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি আমার স্বামীকে অন্য মেয়েদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই না।

Khaled Osman: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মোহাম্মদ মানুষ হত্যা করেছে, নারীধর্ষণ করেছে, তার ছিলো এক গাদা বিবি। তবু মুছলিমরা তাকে মনে করে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব।

আমাদের আত্মীয়েরা – ৮৮

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/b6m-XlOxjbk

নাস্তিকরা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না কেন

লিখেছেন শহীদুজ্জামান সরকার

আস্তিকের প্রশ্ন: নাস্তিকরা এত এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না কেন?

উত্তর: প্রথমত, প্রমাণ থাকলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই, যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। ঈশ্বরকে যেহেতু বিশ্বাস করতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে যে সমস্ত যুক্তিপ্রমাণ (এভিডেন্স) উত্থাপন করা হয়, তা অপ্রতুল।

দ্বিতীয়ত, ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকে। যত দূর পর্যন্ত মানুষ প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যাখ্যা করতে পারে, তত দূর পর্যন্ত ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রয়োজন হয় না। যেখানে গিয়ে মানুষের অজ্ঞতা শুরু, সেখান থেকেই প্রয়োজন হয় একজন ঈশ্বরের। এক সময় মানুষ বিশ্বাস করত, ঈশ্বর বা কোনো দেবদূত বৃষ্টিপাতের পেছনে দায়ী। আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা জানি যে, প্রাকৃতিক নিয়ম পানিচক্রের কারণেই বৃষ্টিপাত হয়। একই কথা বন্যা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এক কালে মানুষ এগুলোর পেছনে ঈশ্বরের গজব খুঁজে পেত (ইরান জাতীয় বর্বর দেশের অসহানুভুতিশীল লোকেরা এখনো পায়); কিন্তু আজ আর কেউ দুর্যোগের শিকার লোকদের পাপী বান্দা না ভেবে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় বিজ্ঞানের কল্যাণে। তবে সাধারণ মানুষ এখনো তাদের ধী-শক্তির ঊর্ধ্বে যা কিছু রয়েছে, তার পেছনে ঈশ্বরের ছায়া খুঁজে বেড়ায়। মানুষ যতই প্রকৃতিকে জানবে, ততই ঈশ্বরের ভূমিকা কমে আসবে। একজন আস্তিক তার অজ্ঞতাকে যেমন ঈশ্বর দ্বারা পূরণ করেন, নিজের প্রয়োজনে; একজন নাস্তিক তার অজ্ঞতাকে পূরণ করেন অজানাকে জানার অদম্য কৌতূহল দ্বারা। তাই তার জন্য ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না।

তৃতীয়ত, ঈশ্বরকে উপস্থাপন করা হয় মহাবিশ্বের আদি কারণ হিসেবে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে এর অভিযাত্রায় ঈশ্বরের সক্রিয় হস্তক্ষেপ রয়েছে, নাকি সবকিছু প্রাকৃতিক নিয়মে চলছে, তা নিয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। আমার জানা তাদের মতগুলো নিম্নরূপ:

১. ঈশ্বর সবকিছু সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তার অনুমতি ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না, চোর চুরি করে না, ধর্ষক ধর্ষণ করতে পারে না, খুনি খুন করতে পারে না, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারে না।

২. ঈশ্বর মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে কিছু নিয়মে আবদ্ধ করে দিয়েছেন (যাকে প্রাকৃতিক নিয়ম বা ল'জ অব নেচার বলা হয়ে থাকে); এরপর থেকে সবকিছু এই নিয়মের মধ্যেই চলছে। এই নিয়মের মধ্যেই মানুষ এবং অন্যান্য বুদ্ধিসম্পন্ন জীবদের (যেমন, জ্বীন, দেব-দেবী, শয়তান) চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আছে। ঈশ্বর কেয়ামতের পর সব হিসাবনিকাশ মেলাবেন।

৩. অনেকে আবার দুটোর সংমিশ্রণে অদ্ভুত এক ধরনের বিশ্বাস রাখেন, যেখানে ঈশ্বরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং চিন্তার স্বাধীনতা দুইটাই নিশ্চিত করা হয় (কীভাবে সম্ভব, আমি বুঝি না)।

যাই হোক, বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা জানি যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে যা কিছু ঘটেছে, তা প্রাকৃতিক নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব; এ জন্য ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে একটা বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন হতে পারে, সেটা হল: "এই মহাবিশ্ব (প্রাকৃতিক নিয়মসমূহ সহকারে) সৃষ্টির আদি কারণ কী?"

এই প্রশ্নের উত্তর দু'ভাবে পাওয়া যায়। এক, একটি কাল্পনিক সত্তার আশ্রয় নেয়া; দুই, নিজেদের অজ্ঞতা স্বীকার করে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ানো অথবা খোঁজার জন্য অপেক্ষা করা। নাস্তিকেরা দ্বিতীয় সমাধানে আস্থাশীল।

চতুর্থত, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদি কারণ হিসেবে কোনো একটি বিশেষ সত্তাকে যদি মেনে নেয়াও হয়, তবুও ধর্মসমূহে বর্ণিত ঈশ্বরসমূহ যে সমস্ত পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্যসমূহ (যেমন, সর্বশক্তিমানতা, সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমানতা, সর্বজ্ঞতা ও স্বাধীন ইচ্ছা ইত্যাদি) ধারণ করে তা বিবেচনা করে সেই ঈশ্বরসমূহকে খারিজ করে দেয়া যায়।

এ কারনেই নাস্তিকেরা ঈশ্বর, বিশেষত ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মানব বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট ঈশ্বরের অস্তিত্বে আস্তিকদের মত বিশ্বাস স্থাপন করতে ইচ্ছুক নয়।

আরব দেশে নারীর দশা - ০৮

 Al-Watan (Saudi Arabia), July 11, 2007

মা বলছে মেয়েকে: "তাঁর সঙ্গেই তোমার বিয়ে হবে। শেষ কথা। তোমার বাবা তাঁকে কথা দিয়েছেন।"
Al-Gumhouriyya (Egypt), September 19, 2007

২৩ জানুয়ারী, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ১০

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ও ফয়সল আরেফিন দীপন সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


যাইহোক, অবশেষে মূসা ইস্রায়েলের জনগণের ঈশ্বর বিদ্রোহের ঘটনা জানতে পারলেন। বাইবেলে যার বর্ণনা নিম্নরূপ:
তখন প্রভু মোশীকে বললেন, ‘এখনই নেমে যাও, কারণ তোমার সেই জনগণ, যাদের তুমি মিশর দেশ থেকে এখানে এনেছ, তারা ভ্রষ্ট হয়েছে। আমি তাদের যে পথে চলবার আজ্ঞা দিয়েছি, সেই পথ ত্যাগ করতে তাদের তত দেরি হয়নি! তারা নিজেদের জন্য একটা ছাঁচে ঢালাই করা বাছুর তৈরি করে তার সামনে প্রণিপাত করেছে, তার উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করেছে, এবং বলেছে, ইস্রায়েল, এ-ই তোমার পরমেশ্বর, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাকে এখানে এনেছেন। [যাত্রাপুস্তক ৩২:৭-৮]
একই বর্ণনা বাইবেলের দ্বিতীয় বিবরণেও রয়েছে:
যখন আমি সেই প্রস্তরফলক দু’টোকে, তোমাদের সঙ্গে প্রভু যে সন্ধি স্থির করতে যাচ্ছিলেন সেই সন্ধির প্রস্তরফলক দু’টোকেই নেবার জন্য পর্বতে উঠেছিলাম, তখন চল্লিশদিন চল্লিশরাত পর্বতে থেকেছিলাম, রুটিও খাইনি, জলও পান করিনি। প্রভু আমাকে পরমেশ্বরের আঙুল দিয়ে লেখা সেই প্রস্তরফলক দু’টো দিয়েছিলেন, যার উপরে ছিল সেই সকল বাণী যা প্রভু জনসমাবেশের দিনে পর্বতের উপরে আগুনের মধ্যে থেকে তোমাদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন। সেই চল্লিশদিন চল্লিশরাত শেষে প্রভু ওই প্রস্তরফলক দুটোকে, সন্ধির সেই লিপিফলক দু’টোকে আমাকে দেবার পর প্রভু আমাকে বললেনঃ ওঠ, এখান থেকে শীঘ্রই নেমে যাও, কারণ তোমার সেই জনগণ, যাদের তুমি মিশর থেকে বের করে এনেছ, তারা ভ্রষ্ট হয়েছে। আমি তাদের যে পথে চলবার আজ্ঞা দিয়েছি, সেই পথ ত্যাগ করতে তাদের তত দেরি হয় নি। তারা নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালাই-করা একটা প্রতিমা তৈরি করেছে। [দ্বিতীয় বিবরণ ৯:৯-১২]
উক্ত বর্ণনা থেকে আমরা আরও জানতে পারি, পর্বতচূড়ায় চল্লিশ দিন অবস্থানকালে মূসা সিয়াম সাধনা করেছেন। তা জানাতেই তিনি বলেছেন: ‘তখন চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত পর্বতে থেকেছিলাম, রুটিও খাইনি, জলও পান করি নি।’

মজার বিষয় হলো, মুহম্মদ রমজান মাসকে কুরআন নাজিলের মাস দাবি করেন এবং সেই মাসে সিয়াম পালন করতেন, যা মূসার প্রতারণাকে হুবহু অনুকরণের সামিল।

যাহোক, ইস্রায়েলের জনগণের ঈশ্বর বিদ্রোহের ঘটনা জানতে পেরে মূসা এতটাই বিচলিত হলেন যে, নিজের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়েছে বিবেচনায় দ্রুত নিজের জনগণের মাঝে ফিরে এলেন। ফিরে যা দেখলেন, তাতে তিনি স্থির থাকতে না পেরে প্রচণ্ড ক্রোধে ফেটে পড়লেন। বাইবেলে তারই বর্ণনা নিম্নরূপ:
শিবিরের কাছাকাছি হয়ে যেই দেখলেন সেই বাছুর ও সেই নাচ, ক্রোধে জ্বলে উঠে মোশী নিজের হাত থেকে সেই প্রস্তরফলক দু’টোকে নিক্ষেপ করে পর্বতের পাদতলে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেললেন। তারপর তাদের তৈরি করা সেই বাছুর নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন, তা টুকরো টুকরো করে গুঁড়ো করলেন, এবং তার গুঁড়ো জলের উপরে ছড়িয়ে ইস্রায়েল সন্তানদের সেই জল জোর করে খাওয়ালেন। [যাত্রাপুস্তক ৩২:১৯-২০]
আর যেহেতু এই ঈশ্বর বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছেন মূসার ভাই হারুন, সে কারণে মূসা হারুনের ওপর প্রচণ্ড মাত্রায় চটেছিলেন। তাই বাইবেলের বর্ণনায় হারুনের প্রতি মূসাকে কৈফিয়ৎ তলব করতে দেখা গেলেও কুরআনের বর্ণনায় তাদেরকে মারামারি করতে দেখা যায়।
এই বিষয়ে বাইবেলের বর্ণনা নিম্নরূপ:
পরে মোশী আরোনকে বললেন, ‘এই লোকেরা তোমার কী করল যে, তুমি এদের উপরে এমন মহাপাপ ডেকে আনলে?’ আরোন উত্তরে বললেন, ‘আমার প্রভুর ক্রোধ জ্বলে না উঠুক। আপনি তো জানেন যে, এই জনগণ অমঙ্গলের প্রতি প্রবণ। তারা আমাকে বলল, আমাদের পুরোভাগে চলবেন এমন দেবতাকে আমাদের জন্য তৈরি কর, কেননা ওই যে মোশী মিশর দেশ থেকে আমাদের এখানে এনেছে, তার যে কী হল, তা আমরা জানি না।’ আর আমি তাদের বললাম, ‘তোমাদের মধ্যে যার যে সোনা আছে, সে তা খুলে দিক। আর তারা তা আমাকে দিলে আমি তা আগুনে ফেললাম আর এই বাছুরটা বেরিয়ে এল।’ যখন মোশী দেখলেন, জনগণ আর কোন বাধা মানছে না, যেহেতু আরোন তাদের যে কোন বাধা সরিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাদের শত্রুদের বিদ্রূপের বস্তু হয়েছিল। [যাত্রাপুস্তক ৩২:২১-২৫]
এই অবস্থায় মূসা কোনো উপায়ান্তর না দেখতে পেয়ে বিদ্রোহীদের প্রতি ঐশ্বরিক শাস্তির হুমকি প্রদান করেন। একই সাথে ইস্রায়েলের জনগণের হয়ে নিজের কল্পিত পরমেশ্বরের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উদ্দেশ্য, ভীতি প্রদর্শন করে হলেও ইস্রায়েলের জনগণকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাছাড়া মূসার জনগণ যেহেতু সহজেই মূসার পরিকল্পিত প্রতারণার বশ্যতা স্বীকার করেনি, সেহেতু আক্ষেপ প্রকাশ করতে মূসার জনগণকে কঠিনমনা জাতি বলা হয়েছে। এই বিষয়ে বাইবেলের বর্ণনা নিম্নরূপ:
প্রভু মোশীকে আরও বললেন, ‘আমি এই জাতিকে লক্ষ্য করলাম; তারা সত্যি কঠিনমনা এক জাতি! এখন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও, যেন আমার ক্রোধ তাদের উপরে জ্বলে ওঠে ও আমি তাদের সংহার করি! আমি তোমাকেই এক মহান জাতি করব।’ মোশী তাঁর পরমেশ্বর প্রভুকে এই বলে প্রশমিত করতে চেষ্টা করলেন, ‘প্রভু, তোমার যে জনগণকে তুমি মহাপরাক্রম ও শক্তিশালী হাত দ্বারা মিশর দেশ থেকে বের করেছ, তাদের উপরে তোমার ক্রোধ কেন জ্বলে উঠবে? মিশরীয়েরা কেন বলবে: পার্বত্য অঞ্চলে তাদের বিনাশ করার জন্য ও পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত করার জন্যই তিনি অমঙ্গলকর অভিপ্রায়ে তাদের বের করে এনেছেন! তুমি তোমার প্রচন্ড ক্রোধ সংবরণ কর; তুমি যে তোমার আপন জনগণের অমঙ্গল ঘটাতে চাও, তেমন সঙ্কল্প ছেড়ে দাও। [যাত্রাপুস্তক ৩২:৯-১২]
উক্ত ঈশ্বর বিদ্রোহের পূর্বাপর ঘটনা চুরি করে মুহম্মদ তার কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন নিম্নোক্ত ভাষায়:
ওদিকে মূসা ফিরে এলেন তার জাতির কাছে ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ অবস্থায়। এসেই বললেন: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার বড়ই নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছো! তোমরা কি নিজেদের রবের হুকুমের অপেক্ষা করার মত এতটুকু সবরও করতে পারলে না?’ সে ফলকগুলো ছুঁড়ে দিল এবং নিজের ভাইয়ের ( হারুন ) মাথার চুল ধরে টেনে আনলো। হারুন বললো: ‘হে আমার সহোদর! এ লোকগুলো আমাকে দুর্বল করে ফেলেছিল এবং আমাকে হত্যা করার উপক্রম করেছিল। কাজেই তুমি শত্রুর কাছে আমাকে হাস্যাস্পদ করো না এবং আমাকে এ জালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।’ তখন মূসা বললো: ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করো এবং তোমার অনুগ্রহের মধ্যে আমাদের দাখিল করে নাও, তুমি সবচাইতে বেশী অনুগ্রহকারী।’ (জওয়াবে বলা হলো) ‘যারা বাছুরকে মাবুদ বানিয়েছে তারা নিশ্চয়ই নিজেদের রবের ক্রোধের শিকার হবেই এবং দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছিত হবে। মিথ্যা রচনাকারীদেরকে আমি এমনি ধরণের শাস্তিই দিয়ে থাকি। [সূরা আরাফ ১৫০-১৫২]
এভাবে নিজের বানানো কুরআনে মূসার যাবতীয় প্রতারণার সাফাই গেয়েছেন মুহম্মদ।

থ্রিসামদুলিল্লাহ


ঈশ্বরের অনৈশ্বরিক কর্মকাণ্ড - ৯

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

প্রসঙ্গ: গুণহীনের গুণাবলীর গুণকীর্তন

মাথায় যত প্রকার গুণের কথা আসা সম্ভব, তার সবগুলোই আস্তিকেরা তাদের স্ব স্ব ঈশ্বরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে থাকেন। যত প্রকার গুণ আছে, সেগুলোর সবই ঈশ্বরের হওয়া চাই। এ যেন গুণগ্রাসী ঈশ্বর। গুণাবলী গ্রাস করাতেই তার আনন্দ। এই গ্রাসকার্যে সাহায্য করতে ঈশ্বরের অন্ধ অনুসারীদের জুড়ি মেলা ভার।

"ঈশ্বরেরা" গুণবান, নাকি গুণহীন, সেটা সংক্ষেপে দেখবো। প্রথমেই দেখে নিই "ঈশ্বর" না বলে "ঈশ্বরেরা" বলার কারণ। এখানে "ঈশ্বরেরা" ব্যবহার করেছি এ জন্য যে, পৃথিবীতে সৃষ্ট ধর্মের সংখ্যাও যেমন অগণিত, তেমনি অগণিত ধর্মের ঈশ্বরের সংখ্যাও অগণিত। আমার এই কথাটাতে সকল আস্তিকই প্রবল আপত্তি জানাবে, আর বলবে, "ঈশ্বর একজনই। আমার ধর্মে যার কথা বলা আছে, তিনিই সেই এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর।" উক্ত কথাটা কিন্তু শুধুমাত্র একজন আস্তিকের নয়, সকল আস্তিকই স্ব স্ব ধর্মের ঈশ্বরকেই এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করে। এ বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে তারা রক্ত দিতে প্রস্তুত, প্রস্তুত রক্ত নিতেও।

বলা বাহুল্য, এক ধর্মের ঈশ্বরের সাথে অন্য ধর্মের ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্যে, কাজে ফারাক অনেক।

কিছু কিছু ধর্ম ও সেই ধর্মগুলোর অনুসারীরা ঈশ্বর যে "এক ও অদ্বিতীয়" তা প্রমাণ করতে বলে থাকে, "ঈশ্বর যদি একাধিক থাকতো, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেতো। ঈশ্বর একাধিক থাকলে সব কিছু এত সুষ্ঠভাবে চলতো না।নিজেদের মাঝেই বিবাদ সৃষ্টি করতো।"

মজার বিষয় হলো, আস্তিকেরা ঈশ্বরকে গুণবান বানাতে গিয়ে অনেক সময়ই গুণহীন বানিয়ে ফেলে। যেমনটা এক্ষেত্রে করেছে।

তারাই জোর গলায় প্রচার করে, ঈশ্বর আমাদের মতো অর্থাৎ মানুষের মত নন, তিনি আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুণসম্পন্ন।আবার তারাই ঈশ্বরকে আমাদের মতো বলেও দিব্যি বলে যাচ্ছে। আমরা যেমন অধিকজন মিলে কাজ করি, এতে সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও হয়। একজনের সাথে অন্যের কিছু অমিল থাকে। আমরা অনেক সময়ই তা মানিয়ে নিতে পারি না, তাই ঝামেলায় সৃষ্টি হয়। তাই ভাগাভাগি করে কিছু করা থেকে বিরত থাকে অনেকেই। এ নিয়ে আমাদের এখানে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে। তা হলো: "হাঝা (ভাগাভাগি) করে কিনবো'বল'? > তারচে ভালো, গিয়ে ঘুমাই চল।" এমনটা বলার কারণ হলো আমাদের আচরণ। আমাদের আচরণের সাথে তো ঈশ্বরদের আচরণের তুলনা চলে না, তাঁদের আচরণ ভালই হবে (যা কিছু ভাল, সবই তো তাঁদের)।

তাহলে, তাঁরা (ঈশ্বরেরা) একাধিক থাকলেই সমস্যা কী? একাধিক থাকলেই যে তাঁরা আমাদের মত বিবাদে লিপ্ত হবেন এটা কেমন কথা? ঈশ্বরদের এত নিচে নামানো কি ঠিক? তাছাড়া এমন কাজ ঈশ্বরদের গুণাবলীর সাথে যায় না! এটা গুণহীনের সাথেই যায়। আরো একটা কথা, ঈশ্বর যে ভাল হবেনই, এমন ভাবাটা কি যুক্তিযুক্ত? আমাদের সকল প্রয়োজন মেটানোর জন্য একজন ভাল ঈশ্বরের দরকার। দরকার হলেই যে থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

এই মূহুর্তে আমার ভাল গাড়ি, বাড়ি দরকার, কিন্তু নেই। এসব করার সামর্থ্যও নেই। কেউ আমাকে মেরেছে, কিন্তু আমি এই প্রতিশোধ নিতে অক্ষম। তাই একজনকে কল্পনা করে নিলাম, যিনি অতিশয় ভাল। তিনি এখন না দিলেও মরার পর আমাকে ঠিকই গাড়ি-বাড়ি দেবেন এবং আমার হয়ে প্রতিশোধও নিয়ে নিবেন। যদিও এতে কল্পসুখ ছাড়া আর কিছুই মিলবে না!

যাই হোক, আমাদের প্রয়োজনেই আমরা ভাল ঈশ্বরের কল্পনা করি। কিন্তু তিনি তো খারাপও হতে পারেন কিংবা তাঁর মাঝে ভাল-খারাপ দুটোই থাকতে পারে। তিনি খারাপ হলে আমাদের অসুবিধা হতে পারে, তাই আমরা তা স্বপ্নেও ভাবি না যে, ঈশ্বর খারাপ হতে পারে। কিন্তু ঈশ্বরকে ভাল ভেবে নেওয়ার কল্পনা কোনো কাজেই আসবে না, যেমনটা কাজে আসে না হরিণের ক্ষেত্রে। হরিণ অনেক সময় একটু ঝোপ পেলেই নিজের মাথাটা ঢুকিয়েই আত্মতৃপ্তি লাভ করে এই ভেবে যে, তাকে শিকারি জন্তুটা দেখছে না।কিন্তু যথাসময়ে শিকারি ঠিকই তাকে খেয়ে ফেলে। আত্মতৃপ্তি কোনই কাজেই আসে না। যেমনটা আমরা আত্মতৃপ্তি লাভ করি ঈশ্বরকে ভাল গুণের অধিকারী বলে বিশ্বাস করে।

আস্তিকরা ধর্মের ও ঈশ্বর থাকার গুরুত্ব বোঝাতে আরেকটা মোক্ষম যুক্তি ব্যবহার করে থাকে, তা হলো: "আপনি যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনি বিভিন্ন অন্যায় কাজে খুব সহজেই লিপ্ত হতে পারেন। কেননা আপনার ঈশ্বরভীতি নেই। আপনি পাপকাজ করতে পারেন, কেননা আপনার শাস্তি পাওয়ার ভয় নেই। আপনার ভালমন্দ কাজের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকলে এবং ভালমন্দ কাজের বিচার করার মতো যদি কেউ না থাকে, তাহলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই অসৎকাজে লিপ্ত হতে পারেন।"

তাদের এই 'মোক্ষম' যুক্তিটা একটু তাদের দিকেই ঘুরিয়ে দেওয়া যাক। আস্তিকদের মতে ঈশ্বরের ওপরে কিছু নেই। তিনিই সর্বোচ্চ। তাঁকে তাঁর কাজের জন্য কারো কাছেই জবাবদিহিতা করতে হয় না।আপনাদের যুক্তি অনুসারেই - জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকলে অন্যায় করার প্রবণতা থাকে। ঈশ্বর মশাইয়ের ভাল বা মন্দ কোনো কাজেরই যখন কৈফিয়ত দিয়ে হয় না, তাহলে তিনি যে অন্যায় করেন নি বা করছেন না বা করবেন না, এর নিশ্চয়তা কী?

যদি বলেন জবাবদিহিতা ছাড়াও অন্যায় থেকে বিরত থাকা যায়, তাহলে আগে নিজের যুক্তি সামলানোর কাজে লেগে পড়েন। যদি বলেন মানুষ এবং ঈশ্বরের ব্যাপার ভিন্ন, তাহলে একাধিক ঈশ্বর থাকলে মানুষের মত ঝগড়া করতো এমন ভাবেন কেন? তারা ঝগড়াই করবে কেন আর ধ্বংসই বা হবে কেন? সুতরাং নিজেদের যুক্তি সামলানোর কাজে লেগে পড়েন।

আমি চাই, ঈশ্বর থাকলে ভাল হয় এবং এটাও চাই, তিনি যেন ভাল হন। কিন্তু চাইলাম বলেই যে থাকবে, তা তো নয়! তাছাড়া তিনি যে শুধু ভালই হবেন, এটা কেমন কথা? তিনিও যে ভুলের ঊর্ধ্বে নন, সে বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী লেখায় হাজির হবো।