৩০ এপ্রিল, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ২০

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফয়সল আরেফিন দীপন ও নাজিমুদ্দিন সামাদ সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


এবারে আসি সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতের ‘দৃষ্টি’ বিষয়ক পর্যালোচনায়। উক্ত আয়াতে মুহম্মদ তার আত্মীকৃত ঈশ্বর ‘আল্লাহকে’ প্রত্যক্ষদর্শনের অসম্ভাব্যতা জ্ঞাপন করেছেন। আমরা জানি, কোনও কিছু দর্শন করার প্রধান মাধ্যম হলো চোখ। তবে শুধু চোখের উপস্থিতি দর্শনের শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে না। দর্শনের শর্ত পূরণের জন্য চোখে দৃষ্টিশক্তি থাকা বাঞ্ছনীয়। তাই যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন চোখের পক্ষেই কোনও দর্শনীয় বিষয়বস্তু যথাযথভাবে দর্শন করা সম্ভব। অথচ আল-কুরআনের উক্ত আয়াত অনুযায়ী, চোখ তো কোন ছার, যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীই আল্লাহকে দর্শন করতে পারে না। কারণ আল্লাহর অস্তিত্ব সমস্ত দৃষ্টির অগোচরে অবস্থিত বিধায় দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীর পক্ষে তাকে প্রত্যক্ষদর্শন করা দূরে থাক, তাকে কল্পনা বা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করাও সম্ভবপর নয়। উক্ত আয়াতের অনুবাদে আল-কুরআনের অধিকাংশ অনুবাদকগণ ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। যদিও কিছু অনুবাদে ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দের পরিবর্তে ‘চোখ’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন— “চোখ তাঁকে দেখতে পারে না, কিন্তু তিনি সব চোখ দেখতে পান।” এ বিষয়ে মৌলভি শের আলী’র ইংরেজি অনুবাদটি নিম্নরূপ: 
"Eyes cannot reach Him but He reaches the eyes. And He is the Incomprehensible, the All-Aware."

তবে ‘চোখ’ শব্দের তুলনায় ‘দৃষ্টি’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ায় আল-কুরআনের সুবিধাবাদী অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারগণ উক্ত আয়াত অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রশ্নে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘চোখ’ শব্দের পরিবর্তে ‘দৃষ্টি’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। তাই তাদের ব্যাখ্যানুযায়ী মুহম্মদের আল্লাহকে চোখ দিয়ে দেখা দূরে থাক, দৃষ্টি অথবা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার ক্ষমতাও কারও নেই। অথচ সেই দর্শনাতীত আল্লাহকে দর্শনীয় আল্লাহয় রূপান্তর করতে পূর্বোক্ত আয়াতের বিপরীতার্থক আয়াত মুহম্মদ তার প্রণীত আল-কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হইবে, তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। [সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩]”
উক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুমিন বান্দাগণ পরকালে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকবে। এখানে তাকিয়ে থাকা বলতে চোখের সাহায্যে দেখার প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মুুমিন বান্দাগণ স্বীয় চক্ষু দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো পাপীবান্দা পরকালে আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে না, এমন কথাও আল-কুরআনে ব্যক্ত করা হয়েছে:
কখখনো নয়, নিশ্চিতভাবেই সেদিন তাদের রবের দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে। [সূরা মুতাফফিফীন: ১৫]
উক্ত আয়াতে পাপীবান্দাগণকে আল্লাহর দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে, এমন কথা বলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শুধু পুণ্যবানগণ আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে, এমন বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা জ্ঞাপন করা হলেও এক্ষেত্রে নতুন একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তটি হলো, আল-কুরআনে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে ইহলৌকিক জীবনে কেউ দর্শন করতে না পারলেও পারলৌকিক জীবনে শুধু পুণ্যবানগণ তাকে দর্শন করার সুযোগ পাবে। এভাবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত অবস্থান হতে বিচ্যুত হয়ে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনীয়তার পরিবর্তিত অবস্থান গ্রহণ করেছেন মুহম্মদের কল্পিত আল্লাহ। আর মৃত্যু পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পারলৌকিক জীবনে জান্নাতবাসীগণ যে শুধুমাত্র নিজেদের সাধারণ চোখ দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে, এই মর্মে স্বয়ং মুহম্মদ হাদিসে কুদসি বিবৃত করেছেন:
আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না। কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না। স্থলভাগের কোন অধিবাসী ( আমাকে ) দেখিবে না, যতক্ষণ উহাকে নীচে নিক্ষেপ করা না হয়। ( অর্থাৎ তাহার মৃত্যু হয় )। জলভাগের কোন অধিবাসীও দেখিবে না, যে পর্যন্ত না তাহাকে বিচ্ছিন্ন করা হয় ( অর্থাৎ মৃত্যু হয় )। নিশ্চয়ই আমাকে দেখিবে জান্নাতবাসিগণ— যাহাদের চক্ষু দৃষ্টিহীন করা হইবে না এবং যাহাদের শরীর জরাগ্রস্ত হইবে না।
হাকীম ও তিরমিযী ইহা ইবনে আব্বাস ( রা)-এর সূত্রে সংগ্রহ করিয়াছেন।
হাদিস নং— ৩৩৭; আল্লামা মুহাম্মদ মাদানী: “হাদীসে কুদসী” ( অনুবাদ— মোমতাজ উদ্দীন আহমদ ), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০০৪ খৃ., পৃ. ২৮১
তবে উপর্যুক্ত হাদিসে কুদসির প্রথম বাক্য (আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না।) - এর সাথে হিব্রু বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত নিম্নলিখিত বাণীটির প্রথমাংশের যথেষ্ট মিল রয়েছে:
তিনি আরও বললেন, ‘তুমি কিন্তু আমার মুখমণ্ডল দেখতে পাবে না, কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না। [যাত্রাপুস্তক ৩৩:২০]
কিন্তু উক্ত বাণীর দ্বিতীয়াংশ (কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না।’ ) - এর সাথে বর্ণিত হাদিসে কুদসির দ্বিতীয় বাক্য (কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না।) - এর সামান্য পার্থক্য রয়েছে। অথবা বাক্য দু'টির মাঝে বিপ্রতীপ মিল বিদ্যমান। যেমন, বাইবেলের বাণীতে পরমেশ্বরকে দেখার পরে কোনো মানুষের মৃত্যুর নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, আর হাদিসে কুদসির বাক্যটিতে কোনো মানুষের মৃত্যুর পরে আল্লাহকে দেখার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাইবেল ও হাদিসে কুদসির বর্ণনায় পার্থক্য যথাক্রমে ‘ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের পরে মৃত্যুর নিশ্চয়তা’ এবং ‘মৃত্যুর পরে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা।’

(চলবে)

ধর্মীয় যুক্তির ধরন

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭৫

২২১.
- নিজ দেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে কাতার সবচেয়ে লাভবান হবে কোন দিক থেকে?
- বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে আলিশান স্টেডিয়ামগুলোয় বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে জাঁকজমকের সঙ্গে পাথর ছুঁড়ে নারীহত্যা উৎসবের আয়োজন করা সম্ভব হবে।

২২২.
- প্রার্থনা করার সময় ধর্মবিশ্বাসীরা হাঁটু গেড়ে বসে কেন?
- এই আসনে ব্লোজব দেয়া অত্যন্ত সুবিধেজনক বলে।

২২৩.
- বিজ্ঞান ও ধর্মের ভেতরে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞান সারাটা সময় উত্তর খোঁজায় নিয়োজিত, আর ধর্ম বহু আগেই মন-গড়া ও অপরিবর্তনীয় উত্তর বানিয়ে রেখেছে।

২২৪.
- শিশুদেরকে ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা দেয়ার উপায় কী?
- সবাইকে একটা ঘরে জড়ো করে সেখানে উপস্থিত না হওয়া।

২২৫.
- পাঁচ মিনিটে কোরান পড়ে ফেলা কি সম্ভব?
- সম্ভব, যদি সহিংস, নারীবিদ্বেষী, ঘৃণাপূর্ণ, মানবতাবিরোধী ও বারবার উল্লেখিত একই ধরনের আয়াতগুলো বাদ দেয়া হয়।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৩৭

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/pelwFkquzO0

২৯ এপ্রিল, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১. অনেক মেধাবী মানুষও ধর্ম ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে - এমন দাবির মাধ্যমে ধর্ম ও ঈশ্বরের সত্যতা ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে আস্তিকেরা। সেই দাবির ভিত্তিহীনতা ও সারশূন্যতা প্রকট করে তোলা হয়েছে একটি ভিডিওতে। আর ঠোঁটকাটা বিল মার তো এই দাবিকে শুধু নস্যাৎই করেননি, করে তুলেছেন হাস্যকরও। মেধাবী বিশ্বাসীদের তিনি ডেকেছেন smart stupid person নামে। অতীব উপভোগ্য ভিডিও। 
https://youtu.be/Y201QzDdzbg, https://youtu.be/ocv7F586SQU

২. বিবর্তনের প্রমাণ আছে আমাদের শরীরেই। যুক্তি-প্রমাণ না-মানা হাওয়ার পোলাদের জন্য এই ভিডিও দ্রষ্টব্য নয়।
https://youtu.be/rFxu7NEoKC8

৩. মমিনেরা যতোই দাবি করুক, জিহাদ সব সময়ই শান্তিপূর্ণ, কোরান, হাদিস, নবীর জীবনী ও ইছলামের ইতিহাস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সে কথাই সর্বৈব মিথ্যা প্রমাণ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে ওঠা আরবিভাষী নাস্তেক মহিলা।
https://youtu.be/KXGE2eBUdlQ

৪. ইহুদি শিশুবালকের খতনা করার অব্যবহিত পর র‍্যাবাই (ইহুদি মোল্লা) বালকের লিঙ্গ মুখে পুরে নিয়ে রক্ত চুষতে থাকে। এটাই তাদের রীতি ও ঐতিহ্য। খতনা ব্যাপারটাই বীভৎস, তদুপরি রক্তচোষার প্রথা! তো এই ড্রাকুলাগিরির নাকি বিশাল গুরুত্ব আছে! অন্তত ইহুদি মোল্লা সেটাই প্রমাণ করতে চাইছে।
https://youtu.be/g2Ij3l8qoxU

৫. Enlightenment-এর নামে বৌদ্ধধর্মে চলে যৌননিপীড়ন। ২১ মিনিটের ডকুমেন্টারি।
https://youtu.be/yWhIivvmMnk

৬. মসজিদগুলো উপাসনালয় শুধু নামেমাত্র। অধিকাংশ মসজিদের প্রধান কাজ বীভৎস ঘৃণা ও সহিংসতা প্রচার এবং জঙ্গি উৎপাদন। ব্রিটেনের মসজিদে গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিও ব্যবহার করে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি Undercover Mosque প্রচারিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৮ সালে প্রচারিত হয়েছিল Undercover Mosque: The Return. দেখতে গেলে গায়ের রোম শিউরে ওঠে। বোঝাই যায়, এই ডকুমেন্টারিগুলো ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সজাগ ও সতর্ক করতে পারেনি। 
https://youtu.be/kJk_AiK-4No, https://youtu.be/njRKaX0ORuI

হা-হা-হাদিস – ১৭২

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

... As for the resemblance of the child to its parents: If a man has sexual intercourse with his wife and gets discharge first, the child will resemble the father, and if the woman gets discharge first, the child will resemble her.

যৌনজ্বরাক্রান্ত ইসলাম

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করা বৈধ। ক্রীতদাসী হইল কিনে আনা দাসী। আগের যুগে বাজারে দাস-দাসী বেচাকেনা হইত। দাসদের দিয়ে কামলা খাটাত আর দাসীদের সাথে সেক্স করত। অবশ্য এই প্রথা ইসলাম আনে নাই। ইসলামের আগেও ছিল, আরব ছাড়াও অন্য অঞ্চলেও ছিল। ইসলাম এই জিনিসটার স্বীকৃতি আর বৈধতা দিয়েছে মাত্র। এখন আইএস-এর হাত ধরে ক্রীতদাসী প্রথা আবার আসছে।

ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করতে হলে আপনার তাকে বিয়াও করতে হবে না। অনেক মুমিনেরই বক্তব্য - ক্রীতদাসীকে নাকি বিয়ে করতে হয়। ফিকহের বইগুলা বলে অন্য কথা। নিশ্চিত হবার জন্য ফিকহের উপর নন্দিত গ্রন্থ মালাবুদ্দা মিনহু (লেখক সানাউল্লাহ পানিপথী) দেখতে পারেন।

একজন পুরুষ কয়টা দাসী (দাসী মানেই যৌনদাসী) রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে শান্তির ধর্মের কোনো বিধি-নিষেধ নাই। আপনি চাইলে হাজার জন, লক্ষ জন, কোটিজন রাখতে পারবেন। আল্লাহ আনলিমিটেড দাসী রাখার বৈধতা দিয়েছেন। 

ইসলাম ধর্মে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণও বৈধ। মুসলিমরা অবশ্য ইসলামের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবার ডরে ধর্ষণ শব্দটি এড়িয়ে যান। কয়দিন আগে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিপোক্রিসির বাইরে এসে সত্যটা বলে দিছিল, যেটা আমরা মিডিয়া মারফতে দেখেছি।

ধরেন, শফি হুজুর তার হেফাজতি কর্মীদের নিয়া বলিউড এটাক দিল। বলিউডের পতন হল। এখন সেখানকার নায়িকারা সব শফি হুজুর আর তার সৈন্যদের দাসী হয়ে যাবে। আর উপরেই বলেছি, ইসলামে দাসী সহবত হালাল। এখানে দাসী মানেই যৌনদাসী। তো এখন ধরেন, ক্যাটরিনা কাইফ শফি হুজুরের ভাগে পড়ল। আপনার কী মনে হয়, ক্যাটরিনা খুশি মনে হুজুরের লগে সেক্স করবে? নাকি পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে? এইটা কি ধর্ষণ না? আপনার কমন সেন্স কী বলে?

পাক আর্মি আমাদের মেয়েদের উপর হামলে পড়েছিল কেন, গেস করতে পারলেন? প্রিয় নবী বনু কুরাইজার নারীদের দাসী বানিয়েছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। (দেখুন সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া- মাওলানা মুশতাক, বিশ্বনবী- গোলাম মোস্তফা)

ইসলামে শিশুকামিতাও বৈধ। এই কুসংস্কার থেকেও নবীজি বেরোতে পারেন নাই। আয়েশাকে যখন বিয়ে করেন, আয়েশা তখন ৬, যখন আয়েশাকে ঘরে আনেন, আয়েশা তখন ৯! অবশ্য জাকির নায়েকসহ আজকালকার অনেক ডিজিটাল মুমিনরা আয়েশার বয়স ১৪/১৬ ছিল বলে দাবি করেন। তবে তাঁরা এড়িয়ে যান যে, আয়েশার বয়স যাই থাউক, ইসলামে শিশুদের বিয়ে করিয়ে দেয়ার বৈধতা আছে। আর তাই সামনে পড়লে মুমিনরা এটা অস্বীকারও করেন না। অস্বীকার করার উপায়ও তাদের নাই। তাই এখন তারা আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক তত্ত্বকে কাচকলা দেখায়ে বাল্যবিয়ে যে কতটা সায়েন্টিফিক, সেই উদ্ভট জিনিস প্রতিষ্ঠা করার ধান্দা করেন।

ইসলামে পুরুষের জন্য আনলিমিটেড বিয়েও বৈধ। ভ্রু কুঁচকায়েন না। কোরানে চার বিয়ে নির্দিষ্ট করে নাই। একসাথে চার স্ত্রীর বেশি রাখা রাখা নিষিদ্ধ করছে। তার মানে আপনি এখন রুমা, ঝুমা, নিমা, সুমারে বিয়া করলেন, তারপর আবার নিমা আর সুমারে তালাক দিয়া দীপা আর নিপারে বিয়া করতে পারবেন। তারপর এদের ভাল না লাগলে সব কয়টাকে তালাক দিয়া নীলা, শিলা, মিলা আর উর্মিলাকে বিয়া করতে পারবেন। ইসলামে তালাক নিরুৎসাহিত কিন্তু নিষিদ্ধ না। তালাক না দিলে ভাল, দিলে কোন সমস্যা নাই।

ইসলামে মু'তা বিয়েও বৈধ। এই মুতা বিয়ে হল হালাল পতিতাবৃত্তি। একজনকে আপনি টাকা দিয়ে এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের জন্য বিয়ে করতে পারবেন। চুক্তির সময় শেষ হলে বৌয়ের মেয়াদও শেষ। ইসলামে হিল্লা বিয়ে নামে আরেক অদ্ভুত প্রথাও আছে। এটা অবশ্য হানাফি মাজহাবের নীতি। স্বামী বৌরে তিন তালাক দিল। তারপর ভুল বুঝতে পারল, এখন বৌ ফেরত চায়। সে কী করবে? ইসলাম বলে, বৌকে একরাতের জন্য আরেক পুরুষের কাছে বিয়ে দাও। শুধু বিয়েতে হবে না, সেক্সও করতে হবে। তারপর ঐ লোক তালাক দিলে তখন তোমার বৌ নিতে পারবা। বড়ই মজার পদ্ধতি।

ইসলামে অজাচারও এক রকম বৈধ। নিজের চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই-বোনের সাথে বিয়ে বৈধ। বর্বর আরবরা এতই সাম্প্রদায়িক ছিল যে, নিজের আত্মীয় ছাড়া আর কোথাও কন্যাদান করত না। সেই কুপ্রথা ইসলামের হাত ধরে ঢুকেছে বাংলায়।

ইসলামে পালক মেয়েকে বিয়ে করাও বৈধ। (সুবাহানাল্লা বলেন) আপনি একটা মেয়েকে পেলে-পুষে বড় করলেন। মেয়ে আপনাকে আব্বা ডাকে। মেয়ে সাবালিকা হলে তারে বৌ বানিয়ে ওগো ডাক শুনতে পারবেন। আবার পালক ছেলেও বড় হয়ে তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। দারুণ না?

তাহলে আমরা আজ জানলাম, ইসলামে ১) ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স বৈধ, ২) যুদ্ধবন্দিনীকে ধর্ষণ বৈধ, ৩) আনলিমিটেড দাসীসম্ভোগ বৈধ, ৪) একসাথে চার বৌ রাখা বৈধ, ৫) পুরুষের আনলিমিটেড বিয়ে বৈধ, ৬) শিশুকামিতা বৈধ, ৭) পতিতাবৃত্তি (ওরফে মুতা বিয়ে) বৈধ, ৮) হিল্লা বিয়ে নামক কুপ্রথা বৈধ, ৯) অজাচার বৈধ, ১০) পালক মেয়ে বিয়েও বৈধ।

অথচ যৌনবিকৃতিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ধর্মের অনুসারীরা কিনা আমাদের গালি দেয়, "তোরা নাস্তিক হইছস ইচ্ছামত সেক্স করার জন্য!"

* প্রাসঙ্গিক আরেকটি রচনা: যৌনকেশ, অবাধ রমণীসঙ্গম ও নাস্তিককুল

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪৮

২৮ এপ্রিল, ২০১৬

শেখ'স শপ - ০৬

লিখেছেন শেখ মিলন

১৬.
আমার এক মুসলিম বন্ধুর সাথে ফেসবুকীয় আলাপন:
আমি: কী করিস?
বন্ধু: চটি পড়ি। তুই?
আমি: গীতা পড়ি।
বন্ধু: তুই কি শালা মালাউন হয়ে গিয়েছিস?

১৭.
পাপ করে যদি মাফ পাওয়া যায়, তবে পাপ না করাই তো বোকামি। ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কি এ কারণেই বেশি?
(তওবা পাঠ, গঙ্গাস্নান, হজ্জ্ব, কাশিযাত্রা, যিশুকে রক্ষাকর্তা হিসেবে গ্রহণ প্রভৃতি করলে পাপমুক্তি হয়)

১৮.
এই দেখো দেশ ডিজিটাল হয়েছে।
তবু নিন্দুকেরা বলে কিনা, দেশ পিছিয়েছে।
এখন তো আর দেশে বছর বছর বন্যা হয় না,
বন্যার জলে গ্রামের পর গ্রাম, মাঠের পর মাঠ ভাসে না,
এখন মাসে মাসে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়,
রক্তস্রোতে ভেসে যায় রাজপথ-ফুটপথ, ঘরের মেঝে...

বেদ্বীনবাণী - ৬৭


আজ কটি খুন হল?

বিএনপি-র শাসনামলে হুমায়ুন আজাদ রচিত নিচের কবিতাটি নজরে পড়লো বিকাশ মজুমদারের সৌজন্যে। এখনও তা কী ভীষণ সমসাময়িক! কী ভীষণ বাস্তব! ঘটনাক্রমে আজ হুমায়ুন আজাদ-এর জন্মদিন। 

আজ কটি খুন হল? মাত্র ৫২৫?
বেশ। আমি একটু বেশি ভাবি, ভেবেছিলাম ২,০২০;
তাহলে কমেছে খুন? বেশ। কটি নারী হয়েছে ধর্ষিতা?
মাত্র ৭৭০? বেশ; কী নাম তাদের? মনোয়ারা, মায়ারানী, গীতা,
আনোয়ারা, উর্মিলা? তাহলে ধর্ষণ কমেছে? পরিস্থিতি
এখন অনেক ভালো? আইনশৃঙ্খলার হয়েছে বিস্ময়কর উন্নতি?
কটি ছিনতাই হয়েছে আজ? বেশি নয়? ঢাকাতেই মাত্র ৮১৮?
বেশ, বেশ ভালো; আমি ভেবেছিলাম বুঝি ১০,০১২।
ততোটা হয় নি? বাসটাসট্রাক দুর্ঘটনায় মরেছে কজন?
মাত্র ১০টি বাস উলটে পরেছে খন্দে? এতো কম? আত্মীয়স্বজন
খুঁজছে লাশ? পাচ্ছে না? বেশ, না পাওয়াই ভালো।
লঞ্চ ডুবেছে ২খানি মাত্র? আবহাওয়া চমৎকার ছিলো? যাত্রীরা ঠাণ্ডা কালো
জল সাঁতরিয়ে ব্রজেন দাশের মতো নিশ্চয়ই উঠে গেছে পারে।
মাত্র ১,৫০০ লাশের জন্য ভাইবোন আত্মীয়রা হাহাকারে
নষ্ট করছে নদীর পারের স্নিগ্ধ নীরবতা? এ অন্যায়। কী দরকার বেঁচে?
কী সুখ বাঁচায়? ভালোই তো, আল্লার মাল আল্লা নিয়ে গেছে।
ক-শো কোটি খেয়েছে আমলারা? মাননীয় দরদী মন্ত্রীরা ক-শো
কোটি? ১০,০০০ কোটি নয়? বহু কম? বেশ, মাত্র ৬০০
কোটি? তাহলে চলবে কীভাবে গণতন্ত্র? এ কেমন কথা?
আপনি আচরি ধর্ম তারা অসৎ জনগণকে শেখাচ্ছে সততা?
হাজতে হৃদযন্ত্র থেমে গেছে কজনের? পুলিশ তাদের প্রহার না ক’রে
চুম্বন করছে? পুলিশের দৃঢ় আলিঙ্গনে, শৃঙ্গারে, পুলকের জ্বরে
ম’রে গেছে ১২৫ জন? তবু ভালো ৫২৫ জন নয়,
পুলিশের কী দোষ? ওদের দেহের অন্ত্রগুলো - বৃক্ক হৃৎপিণ্ড যকৃত হৃদয়
নিশ্চই রুগ্ন ছিলো; তবে মরে তারা ষড়যন্ত্র করে গেছে
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, যখন ওমরা করে পট্টি বেঁধে দেশে গণতন্ত্র এসেছে।
রংপুরে মঙ্গা চলছে? চলুক। মরছে? মরুক। পেঁয়াজের কেজি এখন ৪০?
এতো কম? এতো শস্তা? বেশ ভালো, হতে পারতো ১২০।
আমলারা ভালো আছে? মন্ত্রীরা? কাস্টমস? কালোবাজারিরা?
বেশ, তারা ভালো থাকলেই ভালো থাকব আমরা তুচ্ছ ভিখারিরা।
স্তব কর। কোনো কথা নয়। চুপ। গণতন্ত্র এসেছে, কথা অপরাধ,
মসজিদ তোল, পাড়ার মাইকে, টেলিভিশনে সম্প্রচার কর মৌলবাদ;
মানুষ মরুক, মঞ্জুরা ধর্ষিত হক, চলুক ছিনতাই; কী সুন্দর মেষে
পরিণত হয়ে সুখে আছি খালেদা আর গোলাম আজমের দেশে!

কবিতাটি তিনি যদি এখন লিখতেন, তাহলে তাতে ধারাবাহিক নাস্তিক হত্যার প্রসঙ্গও থাকতো নিশ্চয়ই এবং বদলে যেতো শেষ চরণটি।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৩৫

২৭ এপ্রিল, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ২৮

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।


AseDeliri: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোয়ান্টাম মেকানিক্স, আপেক্ষিক তত্ত্ব, ডারউইনীয় বিবর্তন... বিদ্যুৎ, এয়ার কন্ডিশনিং, গাড়ি, বিমান...

hamza: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি salah al Fawzaan বা ibn baz-এর কথা শুনতে চাই না, যারা আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে, পৃথিবী স্থির।

Indebula: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম পুরুষদের শেখায় না বিকৃতকামীর মতো আচরণ না করতে, উল্টো আমাকে আমার পুরো শরীরটা ঢাকতে হয়, যাতে আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারি ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারি।

Dean: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার কোনও বিশ্বাস-সিস্টেম নেই। শুধু শুধু বিশ্বাস আমি করি না। কোনও সিদ্ধান্ত টানার আগে আমার প্রয়োজন তথ্য, উপাত্ত ও প্রমাণ।

N: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম এগোয় বিদ্যমান জ্ঞানকে ধ্বংস করে। লাইব্রেরি, ভাস্কর্য, চিত্রকলা পুড়িয়ে দেয়। চরিত্রগতভাবেই ইছলাম হচ্ছে অজ্ঞানতা।

Parisa: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ একজন নারী হিসেবে আমি চাই না আমাকে ক্লোনের মতো দেখাক।

Atheist Genie: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি যাকে ভালোবাসি, তার সঙ্গে থাকার অধিকার আমার নেই। প্রাকৃতিক, সহজাত ও নির্দোষ সম্পর্ক রাখার কারণে ইছলামে শাস্তির ব্যবস্থা আছে।

Ali Asif: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম অন্য ধর্মবিশ্বাসগুলোকে শ্রদ্ধা করে না। ইছলামের প্রবর্তক মক্কায় নিজ হাতে ভেঙেছে অসংখ্য মূর্তি, যেগুলো অন্য অনেকের কাছে প্রিয় ছিলো তাদের ঈশ্বর বলে।

nxor: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি পরিণতমনস্ক মহিলা, ভ্রমণের সময় আমার মাহরামের প্রয়োজন নেই। অথবা আমার শরীর নিয়ে আমার কী করা উচিত, আমার চাই না সেটা স্থির করে দিক আমার সমাজ।

Brother Rachid: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সব সুন্দরের বিরুদ্ধে: সঙ্গীত, চিত্রকলা (ক্যালিগ্রাফি ছাড়া), ভাস্কর্য... সবই ইছলামে হারাম!

সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইছলামের ভূমিকা

ছহীহ্ ইছলামী পর্নসমগ্র - ১

বাসর রাতের করণীয়-বর্জনীয়: উত্তর দিয়েছেন মাউলানা মিরাজ রহমান

পাঠিয়েছেন নাস্তিক বাংলাদেশ 

নির্বাচিত কয়েকটি প্রশ্নোত্তর অবিকৃত অবস্থায় নিচে প্রকাশ করা হলো। বাকিগুলো পড়ুন এখানে ক্লিক করে। লিংক কাজ না করলে এখানে স্ক্রিনশট

প্রশ্ন : বাসর ঘরে ঢুকে নামায ও দোয়া পড়ার পর আর কোন আমল আছে কি না?

উত্তর : বিভিন্ন ইসলামী কিতাবে বাসরঘরে ঢুকে উপরোক্ত আমলগুলো করতে বলা হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত নিজেরা পরিচিত হতে থাকবে। তবে প্রথমে স্বামী মহর বিষয়ক আলোচনা করে নিবে। তা পূর্ণ আদায় না করে থাকলে স্ত্রী থেকে সময় চেয়ে নিবে। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম)

প্রশ্ন : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম কি করতে হবে?

উত্তর : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্ব প্রথম নিয়ত সহীহ করে নেয়া; অর্থাৎ, এই নিয়ত করা যে, এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করার দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী, আহকামুল ইসলাম)

প্রশ্ন : সংগমের শুরুতে কোন দোয়া পড়তে হবে?

উত্তর : সংগমের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে কার্য শুরু করা। তারপর শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া। উভয়টিকে একত্রে এভাবে বলা যায়- বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা। অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ, শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগমের বিশেষ কিছু আদব ও বিধি-নিষেধ জানতে চাই?

উত্তর : সংগমের কিছু আদব ও নিয়ম নিন্মরূপ- কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া, পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করা, সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। বীর্য, যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা, সংগম অবস্থায় বেশী কথা না বলা, বীর্যের ও স্ত্রীর যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি না করা, সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া, এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত হতে চাইলে যৌনাঙ্গ এবং হাত ধুয়ে নিতে হবে, বীর্যপাতের পরই স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা, যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে, সংগমের পর অন্ততঃ বিছুক্ষণ ঘুমানো উত্তম, জুমুআর দিনে সংগম করা মুস্তাহাব, সংগমের বিষয় কারও নিকট প্রকাশ করা নেষেধ, এটা একদিকে নির্লজ্জতা, অন্যদিকে স্বামী/স্ত্রীর হক নষ্ট করা, সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া, তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : কোন কোন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না?

উত্তর : নিম্নোক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না। স্ত্রীর মাসিক বা প্রসবকালীন স্রাব চলা কালে। এতেকাফ অবস্থায়। রোজার দিনের বেলায়। এহরাম অবস্থায়। স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দ্বারা। (দেখুন- স্বামী-স্ত্রীর মধুর মিলন, আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনীর দিকে নজর দেয়া যাবে কি না

উত্তর : সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া। তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (সূত্র - শরহুন নুকায়া ও হিদায়া)

প্রশ্ন : বীর্যপাতের সময় কোন দোয়া পড়বে?

উত্তর : বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে- বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা তাজআল লিশ্শাইতানি ফিমা রাযাকতানী নাসীবান। অর্থ : হে আল্লাহ, যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ রেখ না। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনী স্বামী চোষতে পারবে কি না? এবং স্বামীর লিঙ্গ স্ত্রী চোষতে পারবে কি না?

উত্তর : সংগম অবস্থায় স্বামী স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানকে চোষা এবং মুখে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, এবং মাকরুহ ও গুনাহের কাজ। এটা কুকুর, গরু, বকরী ইত্যাদি প্রানীর স্বভাবের মত। তাই এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। চিন্তা করে দেখুন যে মুখে পবিত্র কালিীমা পড়া হল, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়, দরুদ শরীফ পড়া হয়, তাকে এমন নিকৃষ্ট কজে ব্যবহার করতে মন কিভাবে চায়। তাই এ কাজ মুমিনের কাজ হতে পারে না। (দেখুন- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ও ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, আহকামে জিন্দেগী)

ঘৃণা যখন সুশ্রাব্য

২৬ এপ্রিল, ২০১৬

সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

পশ্চিমবঙ্গে (ভারত) এখন ভোটের মরসুম। সন্ত্রাস ও নানাবিধ কারণে এখানে প্রায় দেড় মাস ধরে ভোট চলে। যদিও কে জিতবে, সেটা নির্ভর করে ২৭% সংখ্যালঘু (!) মুসলিমদের হাতে। মুসলিম ভোট যার দিকে, সেই জেতে। এমনকি বিরোধীদের পালে হাওয়া তখনই লাগে, যখন সংখ্যালঘু ভোট তাদের দিকে যেতে শুরু করে। 

রাজনীতিতে কিভাবে মুসলিম ভোট প্রভাব ফেলে সেটা একটু বলবো। এক দীর্ঘস্থায়ী সরকার ছিল, সেই সরকার শেষ বেলায় ভোটের আগে মুখ ফসকে একটি সত্যি কথা বলে ফেলেছিল, "বর্ডার সংলগ্ন এলাকার মাদ্রাসাগুলো বাংলাদেশী জামাতের আখড়া হয়ে গেছে, এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কিন্তু ব্যবস্থাও কিছু হলো না, উপরন্তু পরের নির্বাচনে বর্ডার সংলগ্ন সমস্ত বিধানসভা বিপুল ভোটে হেরে গেল। 

আরও একটু বলবো। বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী 'Islamic Studies' এ এম.এ। তিনি ভোটের আগে চলে গেলেন ভারতীয় একটি মডারেট জামাতি দলের সভায়। সেই মডারেট জামাতি দলের নেতা হলেন বাংলাদেশি জামাতের শিরদাঁড়া। Military Intelligence-এর ভাষায় যাকে বলে Local Support. এবার ব্যাখ্যা করবো 'ভোটব্যাংক' এর অর্থটা।

* পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ মুসলিমই স্কুলের মুখ দেখেনি, দেখেছে মাদ্রাসার, তাই ইমাম কি হুকুম শর আঁখো পর। আর এই ইমাম সাহেবগুলিকে আগের রাজনৈতিক দল কিনে নিত। এখনকার সরকার 'ইমাম ভাতা' শুরু করেছে সরকারিভাবে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এক মুক্তমনা মিরাতুন নাহার বলেছেন, 'ইমাম ভাতা লাগানো হয়েছে, মসজিদের মাইক কিনতে, কোনো উন্নয়নশীল কাজে নয়।'

* সাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষার অভাবের জন্য অধিকাংশ মুসলিমই বাছবিচার করে ভোট দেয় না। যারা তাদের পেছনে তৈলমর্দন করবে, ভোট তাদেরই দেবে।

* ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনও মৌলবাদী দল নির্বাচনে লড়তে পারবে না। এই নির্দেশকে কার্যত বূড়ো আঙুল দেখিয়ে সমস্ত মৌলবাদী দল নির্দেশিকা জারি করে যে কোন দলকে ভোট দেবেন।

পশ্চিমবঙ্গেও ব্যতিক্রম নেই। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা তাই ধর্মসভার নামে এক প্রকার রাজনৈতিক সভা করে বলে দিয়েছেন কোন দলকে ভোট দিতে হবে।

শেষ করবো একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে। একটি Press Club-এর সদস্য হওয়ার দরুন এই ভোটের আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত এক সংবাদমাধ্যমের এক সাংবাদিক দাদার সাথে এক গোপন ডেরাতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, যে ডেরা থেকে ভোটের বাহুবলীরা অস্ত্রশস্ত্র কেনে।

ডেরাটি একটি বড় মফস্বলের মসজিদ। আর কিছু বলতে হবে?

পুনশ্চ: পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু মুসলিম বাদ দিয়ে আরো ৩% মানুষ আছে অন্য ধর্মের। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের নিয়ে 'ভোট ব্যাংক' বানানো গেল না। কোনও রাজনৈতিক দলই পারলো না। অথচ এই সব রাজনৈতিক দলগুলোই বলে, "২%-৩% ভোট সব কিছু উলটে-পালটে দিতে পারে।"

লিন্ডসে লোহানের বুক জুড়ে আল্লাহর নাম

"লিন্ডসে লোহানের বুক জুড়ে আল্লাহর নাম" - সেই ২০১১ সালে ধর্মকারী এই মর্মে সচিত্র ও স-প্রমাণ ঘোষণা দিয়েছিল। তাই তাঁর ইছলামের শায়াতলে আগমনের সম্ভাবনায় বিস্মিত হবার মতো কোনও উপকরণ একেবারেই নেই।

ছবিটি পাঠিয়েছিলেন শয়তানের চ্যালা, তবে সেটা একটু আপডেট করে দিয়েছিলেন কৌস্তুভ

ইসলাম মেধাবীদের রক্ত চায়

লিখেছেন রহমান পৃথু

মুসলমানারা মেধাবীদের রক্ত চায়। মেধার প্রকাশ দেখলে মুসলমানরা ক্ষেপে যায়, তাকে মেরে ফেলে। যে ভাল লিখতে পারে, চিন্তা করতে পারে, যারা অভিজিৎ হতে চায়, তারা ইসলামের শত্রু।

মুসলমানরা মনে করে, সব জ্ঞান কুরানসম্মত হতে হবে। কুরান সব জ্ঞানের মাপকাঠি। যে তার বাইরে চর্চা করবে, সে বাঁচতে পারবে না। মেধার সাথে ইসলামের শত্রুতা আজন্ম।

যিনি ভালো অংক জানেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান জানেন, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান... ভাল গান, বাজনা, নাচ পারেন, ছবি ভাল আঁকতে জানেন, মূর্তি গড়তে জানেন... এ চর্চা করতে পারবেন না। মরবেন। কারণ কুরানে নেই। 

শিক্ষা-জ্ঞান-মেধা-বুদ্ধি-বিবেক মানুষকে সভ্য বানায়। এর মাধ্যমে সভ্যতা তৈরি হয়। যারা এসবের চর্চা করে - তাঁরা মানুষের মধ্যে সেরা হয় ... আর যারা চর্চা করে না ... তাঁরা সেরাদের অনুগ্রহ, দয়া ও সাহায্যে বেঁচে থাকে।

মুসলমানরা মেধাবী ও সভ্যদের কাছে কী চায়? মেধাবীদের তৈরি গাড়ি, উড়োজাহাজ, কম্পিউটার, প্রযুক্তি, ভাল জুতো, লিপস্টিক, ব্রা, অস্ত্র ... টাকা চায়। চিকিৎসা চায়, ঔষধ চায়, খাবার চায়, সেবা চায়, চাকুরি চায়। অনুগ্রহ চায়, আশ্রয় চায়।

কিন্তু মুসলমানরা মেধাবীদের কাছে জ্ঞান চায় না। মেধা চায় না। বিবেক চায় না। বুদ্ধি চায় না। মানবতার শিক্ষা চায় না। পশ্চিমা সভ্যদের জীবনবোধ, মানবিক মূল্যবোধ, বিচারবোধ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো চায় না।

শুধু মেধাবীদের রক্ত চায়।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ নিজে কবি, সাহিত্যিক, জ্ঞানী গুণীদের রক্ত নিয়েছেন। যে কারণে আরবে কোনো শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষার প্রসার হয়নি। একটি সময় দু'-এক জন যা হয়েছে্ - ইসলামের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে - গ্রীক রোমানদের অনুবাদ করা বই পড়ে।

আল্লার রচিত কুরানের চেয়ে ভালো, শ্রেষ্ঠ কোনো গ্রন্থ কেউ লিখুক - মুহাম্মদ তাঁর জীবদ্দশায় সহ্য করেননি। ভালো চিকিৎসকদের তিনি জাদুকর আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলতেন। এমনকি সুদর্শন রঙিন পোশাক পরা কাউকে দেখলেও তিনি তাকে নাজেহাল করেতেন। ... হাদিসের কথা।

দুর্ভাগ্য - তিনি মারা গেছেন চিকিৎসার অভাবে। মানুষ তাঁকে আল্লাহ্‌র নবী হিসাবে সন্দেহ না করুক, তাই তাঁকে বিষ খাওয়ানোর পরও - এই ভয়ে - মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের শরণা্পন্ন হননি। ফেরেস্তারা তাঁর চিকিৎসা করেন।... ফলে অকালে তিনি মারা যান।

দেশ এখন ইছলামের শায়াতলে


২৫ এপ্রিল, ২০১৬

যিশুর অস্তিত্বসংকট

যিশু নামের কেউ কখনও ছিলো এই ধরাধামে, এর কোনও প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায় না। শুধু বাইবেলে তার নাম উল্লেখ আছে। অর্থাৎ "তার অস্তিত্ব ছিলো, কারণ তা বলা আছে বাইবেলে।"

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

নবীবিবিবিবরণী: সাফিয়া

নবীর এক বিবির নাম ছিলো সাফিয়া। নবীবিবিত্ব লাভ করার আগে সে ছিলো খাইবারের এক ধনী ইহুদি নেতার স্ত্রী। একদিন ইছলামের শান্তিকামী নবী তার জিহাদি উম্মতদের নিয়ে আক্রমণ করে এই গোত্রকে। আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিলো - ইহুদিদের ধনসম্পদ দখল করা ও সেই গোত্রের সুন্দরী নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে আয়ত্তে আনা। সাফল্যলাভের পর গোত্রটির সেরা সুন্দরী সাফিয়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ নবী তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে বিয়ে করে। বিয়েটি অনুষ্ঠিত হয় সাফিয়ার স্বামীর শিরশ্ছেদ এবং পিতা ও অজস্র আত্মীয়ের হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরে। সাফিয়ার বয়স তখন ছিলো ১৭, নবীজির - ৫৭।

ওপরের সমস্ত তথ্য ইছলামী তথ্যসূত্র ও দলিল থেকে আহরিত। বিস্তারিত জানতে নিচের স্লাইড শো দেখুন অথবা স্লাইড শো থেকে বানানো পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন।

সাইজ: ১.৭ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/3ZzB7B
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/esCt2X

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৭৮


২৪ এপ্রিল, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১২ : চুক্তি স্বাক্ষর - কী ছিল তার শর্তাবলী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছিয়ানব্বুই

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমর যখন তাঁর পুত্র আবু জানদাল-কে মক্কায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন, তখন স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিশিষ্ট অনুসারী উমর ইবনে খাত্তাব কী উদ্দেশ্যে আবু জানদাল বিন সুহায়েলের পাশে হেঁটে গিয়েছিলেন, তাঁর সেই উদ্দেশ্য কী কারণে ব্যর্থ হয়েছিল; আদি উৎসের সকল 'সিরাত' গ্রন্থকারদের রচিত এই উপাখ্যান ও অনুরূপ উপাখ্যানের বর্ণনার সঙ্গে 'হাদিস' গ্রন্থকারদের রচিত বর্ণনায় কী ধরণের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; এই পার্থক্যগুলোর আলোচনাকালে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা 'সিরাত' গ্রন্থকারদের বিরুদ্ধে সাধারণত কোন দু'টি অভিযোগ উত্থাপন করেন; কী কারণে তাঁদের সেই অভিযোগগুলো অযৌক্তিক ও অভিসন্ধিমূলক; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), আল ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ সাল), ইমাম মুসলিম (৮২১-৮৭৫ সাল) প্রমুখ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনার আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ তাঁর হুদাইবিয়া অবস্থানকালে কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমর-এর সাথে যে-লিখিত সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলেন, তার আলোচনা "চুক্তি আলোচনা (পর্ব: ১১৯)!" পর্বে করা হয়েছে। অতঃপর মুহাম্মদ সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করেন।

হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের আলোচনা শুরুর আগে এই চুক্তির শর্তাবলীর দিকে আর একবার মনোনিবেশ করা যাক: [1] [2] [3] [4] [5]

‘তারা আগামী দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ রাখবে, যাতে জনগণ সহিংসতা পরিহার করে নিরাপদে থাকতে পারে এই শর্তে যে,

[১] যদি কোনো ব্যক্তি তার অভিভাবকদের অনুমতি ব্যতিরেকে মুহাম্মদের কাছে আসে, তবে তিনি তাকে তাঁদের কাছে ফেরত দেবেন; কিন্তু মুহাম্মদের পক্ষের কোনো ব্যক্তি যদি কুরাইশদের কাছে আসে, তবে কুরাইশরা তাকে তাঁর কাছে ফেরত দেবে না।

[২] আমরা একে অপরের প্রতি শত্রুতা (enmity) প্রদর্শন করবো না ও কোনোরূপ গোপন অভিসন্ধি বা প্রতারণার আশ্রয় নেবো না।

[৩] যে কোনো ব্যক্তি যদি মুহাম্মদের সঙ্গে সংযুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছা করে, তবে সে তা করতে পারবে এবং যে কোনো ব্যক্তি যদি কুরাইশদের সঙ্গে সংযুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছা করে, তবে সে তা করতে পারবে।" বানু খোজা গোত্র তৎক্ষণাৎ সেখানে ঘোষণা করে যে, 'আমরা মুহাম্মদের সাথে সংযুক্ত হলাম' এবং বানু বকর গোত্র একইভাবে কুরাইশদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়, আর যুক্ত করে:

[৪] 'তোমরা এই বছর অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করবে ও আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মক্কা প্রবেশ করবে না,

[৫] আর পরের বছর আমরা তোমার আসার পথ পরিষ্কার রাখবো, তুমি তোমার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারবে ও সেখানে তিন রাত্রি পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবে। তোমরা আরোহীদের মত অস্ত্র সঙ্গে আনতে পারবে, যেমন খাপের ভিতরে তলোয়ার তোমরা এর চেয়ে বেশি কিছুই সঙ্গে আনতে পারবে না।'

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [6] [7]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১২১) পর:

‘চুক্তিনামাটি সম্পন্ন করার পর চুক্তিটির সাক্ষী হওয়ার জন্য আল্লাহর নবী মুসলমান ও মুশরিক প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠান, যাদের মধ্যে ছিলেন: আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা, উমর ইবনে আল-খাত্তাব, আবদুর রহমান বিন আউফ, আবদুল্লাহ বিন সুহায়েল বিন আমর, সাদ বিন আবু ওয়াককাস, (আল ওয়াকিদি: 'উসমান বিন আফফান, আবু উবায়েদা বিন জাররাহ, হুয়ায়েতিব বিন আবদ আল-উযযাহ), মাহমুদ বিন মাসলামা (তাবারী: 'বানু আবদ আল-আশাল গোত্রের এক সদস্য'), সে সময়ের মুশরিক মিকরাজ বিন হাফস বিন আখিয়াফ ও এই চুক্তিপত্রের লেখক আলী ইবনে আবু তালিব। [3]

আল্লাহর নবী অপবিত্র ভূখণ্ডে (Profane country) শিবির স্থাপন করেছিলেন, প্রায়শই তিনি পবিত্র এলাকায় (Sacred area) প্রার্থনা করতে অভ্যস্ত ছিলেন। চুক্তিনামাটি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি পশুগুলো কুরবানি করেন ও সেখানে বসে পড়েন এবং তাঁর মাথার চুল কামিয়ে ফেলেন। আমি শুনেছি যে, সেই সময় যে-ব্যক্তিটি তাঁর মাথার চুল কামিয়ে দিয়েছিলেন, তার নাম ছিল খিরাশ বিন উমাইয়া বিন আল-ফাদল আল-খুযায়ি (Khirash b. Umayya b. al-Fadl al-Khuza'i); যখন লোকেরা আল্লাহর নবীর এ সকল কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে, তারা লাফ দিয়ে উঠে পড়ে ও তারাও তাইই করে।' 

'ইবনে আব্বাস হইতে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে < মুজাহিদ হইতে প্রাপ্ত হয়ে < আবদুল্লাহ বিন আবু নাজিহ আমাকে বলেছেন: [8]

"আল-হুদাইবিয়ার দিনে কিছু লোক তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলে, পক্ষান্তরে অন্যরা তাদের চুল ছেঁটে ফেলে।" আল্লাহর নবী বলেন, "যারা চুল কামিয়ে ফেলেছে, তাদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হউক।" তারা বলে, "হে আল্লাহর নবী, যারা চুল ছেঁটেছে, তাদের প্রতিও কি?" এই প্রশ্নটি তাদেরকে তিন বার করতে হয়েছিল, যতক্ষণে না পরিশেষে তিনি যোগ করেন, "এবং যারা চুল ছেঁটেছে।" যখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায়, কেন তিনি বারবার আল্লাহর শান্তি বর্ষণের নামোচ্চারণ-টি চুল কামানো ব্যক্তিদের প্রতি সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, তিনি বলেন, "কারণ তারা কোনো সন্দেহ করেনি।"

সেই একই উৎস আমাকে জানিয়েছে যে, আল্লাহর নবী হুদাইবিয়া সন্ধি বর্ষে যে-পশুগুলো কোরবানি করেছিলেন, তার মধ্যে ছিল আবু জেহেলের একটি উট, যার নাকে ছিল সিলভারের নাক-আংটা; যে-কারণে মুশরিকরা হয়েছিলেন রোষান্বিত (আল-তাবারী: 'তিনি এটি করেছিলেন, যাতে মুশরিকরা হয় রোষান্বিত’)।' [9]

আল তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অতিরিক্ত বর্ণনা: [7] [10]

‘মুহাম্মদ বিন আবদ আল-আলা < মুহম্মদ বিন থাওয়ার < মামুর < আল-যুহরি < উরওয়া বিন আল-যুবায়ের < আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা; এবং ইয়াকুব বিন ইবরাহিম < ইয়াহিয়া বিন সাইদ < আবদুল্লাহ বিন মুবারক < মামুর < আল-যুহরি < উরওয়া < আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা ও মারওয়ান বিন আল-হাকাম [পর্ব: ১১৮] হইতে বর্ণিত হুদাইবিয়া উপাখ্যানের বর্ণনা:

সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের বলেন, "উঠে দাঁড়াও, কুরবানি করো ও মাথার চুল কামিয়ে ফেলো।"

আল্লাহর কসম, একজন লোকও উঠে দাঁড়ায় না, তিনি তিনবার এই কথাটি তাদেরকে বলেন। যখন কেউই উঠে দাঁড়ায় না, তিনি উঠে দাঁড়ান ও উম্মে সালামার [পর্ব-১০৮] তাঁবুর ভিতরে গমন করেন ও লোকদের মারফত কী ধরনের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন, তা তাঁকে খুলে বলেন। উম্মে সালামা তাঁকে বলেন: "হে আল্লাহর নবী, আপনি কি তা সমর্থন করেন? বাইরে যান ও আপনার মোটাসোটা উটটি কুরবানি করার আগে ওদের কারও সাথে কোনো কথা বলবেন না, অতঃপর যে আপনার চুল কামিয়ে দেয়, সেই লোকটিকে ডেকে পাঠান, যেন সে আপনার মাথার চুল কামিয়ে দেয়।" 

তিনি উঠে দাঁড়ান, বাহিরে যান ও তা করার আগে তিনি কারও সাথে কোনো কথা বলেন না। তিনি তাঁর মোটাসোটা উটটি কুরবানি করেন ও যে-লোকটি তাঁর চুল কামিয়ে দেয়, তাকে তিনি ডেকে পাঠান, সে তাঁর চুল কামিয়ে দেয়। যখন তারা তা প্রত্যক্ষ করে, তারা উঠে দাঁড়ায় ও কুরবানি করে; অতঃপর তারা একে অপরের মাথার চুল কামিয়ে দেয়া শুরু করে, যতোক্ষণ না তারা তাদের প্রবল মর্মবেদনার কারণে একে অপরকে প্রায় মেরেই ফেলে (When they saw this, they rose up and slaughtered, and they began to shave each other, until they almost killed each other for grief)।

অনুবাদ, টাইটেল, ও [নম্বর] যোগ – লেখক।

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা:

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা (৩:৫০:৮৯১) আল-তাবারীর ওপরে বর্ণিত অতিরিক্ত বর্ণনারই অনুরূপ। [11]

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদ যে-পশুগুলো কুরবানি করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিল আবু জেহেলের (আবু আল-হাকাম) একটি উট। আবু জেহেলের আসল নাম ছিল আমর বিন হিশাম বিন আল-মুঘিরা। তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশোদ্ভূত, বানু মাখযুম গোত্রের নেতা। মুহাম্মদের আগ্রাসী প্রচারণার বিরুদ্ধে আবু লাহাবের (পর্ব: ১২) মতো তিনিও ছিলেন মুহাম্মদের এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এই সেই আবু জেহেল, যাকে অমানুষিক নৃশংসতায় বদর যুদ্ধে হত্যা করা হয়েছিল, যার বিস্তারিত আলোচনা "নৃশংস যাত্রার সূচনা (পর্ব-৩২)" পর্বে করা হয়েছে:

'--তারপর আমি তার কল্লা কেটে ফেলি এবং আল্লাহর নবীর কাছে তা নিয়ে এসে বলি, “এই সেই আল্লাহর শত্রু আবু জেহেলের মুণ্ডু।" তখন আল্লাহর নবী আমাকে বলেন, "আল্লাহর কসম, তিনি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নাই, তাই না?"  আমি বলি, "হ্যাঁ, এবং তার কল্লা আল্লাহর নবীর সামনে ছুঁড়ে মারি, তিনি আল্লাহকে ধন্যবাদ জানান।"'

ওপরে বর্ণিত আবু জেহেলের ঐ উটটি মুহাম্মদ, সম্ভবত, সেই সময়ই হস্তগত (গণিমত) করেছিলেন। আবু জেহেলের এই উটটিকে মুহাম্মদ জবাই করেছেন খবরটি শোনার পর কুরাইশরা হয়েছিলেন রোষান্বিত; আল-তাবারীর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, কুরাইশদেরকে রাগান্বিত করার উদ্দেশ্যেই মুহাম্মদ আবু জেহেলের এই উটটি জবাই করেছিলেন। 

আদি উৎসের ওপরে উল্লেখিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - যখন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমরের সাথে সন্ধিচুক্তি সমাপ্ত করেছিলেন, তখন মুহাম্মদের প্রায় সকল অনুসারীই ছিলেন অত্যন্ত শোকাহত। আল-ওয়াকিদি, আল-তাবারী ও ইমাম বুখারীর বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো: সেই অবস্থায় মুহাম্মদের সমস্ত অনুসারীরা তাঁদের নবীর কার্যকলাপে এতই মনঃক্ষুণ্ণ ছিলেন যে, সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর যখন মুহাম্মদ তাঁদের কাছে এসে তাঁদেরকে পশু কুরবানি করা ও তাদের চুল কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন একজন অনুসারীও তাঁর সেই নির্দেশ মান্য করেননি, তিন তিন বার আদেশ করার পরেও নয়! অতঃপর তাঁরা নবীর আদেশ মান্য করেছিলেন অবশ্য।

প্রশ্ন হলো,
“অনুসারীদের এহেন হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করা ও সর্বোপরি তাঁর নিজের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে অতঃপর মুহাম্মদ কী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন?”

>> এই ঘটনার পূর্বে মুহাম্মদের নবী জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব আমরা অতি সহজেই নির্ধারণ করতে পারি। আর তা হলো:


উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাঁর ঘটনাবহুল নবী-জীবনের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে যে-দু’টি কৌশল অবলম্বন করতেন, এখানেও ঠিক তাইই করেছিলেন! বিফল ও অক্ষম মুহাম্মদের মক্কার ওহি নাজিল (পর্ব: ৮ ও ২৬)-এর সাথে সফল ও শক্তিমান মুহাম্মদের মদিনার ওহি নাজিল (পর্ব: ২৭)-এর পার্থক্য কোথায়, তার আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

মহানবী মহাজন, যে-পথে ক'রে গমন করেছেন সুন্নত পালনীয়

ধর্মীয় গাঁজাখুরি গল্পে ধার্মিকদের প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন শহীদুজ্জামান সরকার 

নবী মুহাম্মদের সাথে এক গাধার দেখা হলো। মুহাম্মদ গাধাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কী?”

“আমার নাম ইয়াজিদ ইবন শিহাব,” গাধাটি উত্তর দিল। গাধাটি আগে একটি ইহুদি মালিকের অধীনে ছিল। মাত্রাতিরিক্ত গাধামির কারণে মালিক গাধাটিকে ঠিকমতো খাবার দিত না এবং মারত। মুহাম্মদ গাধার নাম পরিবর্তন করে ইয়াফুর রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপর তাকে একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করলেন, “তুমি কি মাদী সঙ্গ কামনা করো?”

গাধাটি লজ্জা পেয়ে বলল, “জ্বি না, নবীজি!”

তারপর থেকে মুহাম্মদ এই গাধার পিঠে চড়ে ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। মুহাম্মদ কারো সাথে দেখা করতে চাইলে গাধাকে পাঠাতেন তাদের ডেকে আনতে। মুহাম্মদ মারা গেলে গাধাটি মনের দুঃখে একটি কুয়ার মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা মহাপাপ এবং সেই পাপের ফলে গাধাটিকে দোজখের আগুনে পুড়তে হয়।

খাঁটি ইসলামী দলিল থেকে পাওয়া এই ঘটনা পড়ে হিন্দু পাঁঠারা বড়ই খুশি হয়ে গেল। তারা বলতে লাগল, ইহা একটি গাঁজাখুরি গল্প। কিন্তু যখন তাদের জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা, গণেশ-এর বাহক ছিল ইঁদুর, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা?"

হিন্দু পাঠারা বলল, "কেন নয়! গণেশ হলো দেবতা - ভগবানের রূপ। তিনি সব কিছুই পারেন। আর মুহাম্মদ হলো সাধারণ মানুষ।"

মজার বিষয় হচ্ছে এই যে, ভগবানও নাকি জন্মগ্রহণ করে! নিচে দেখুন...

একদা পার্বতী পুত্রলাভে ইচ্ছুক হলে শিব অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। অগত্যা পার্বতীর পীড়াপীড়িতে শিব পার্বতীর গা থেকে বস্ত্র টেনে নেন, তারপর সেটিকে পুত্র জ্ঞানে চুম্বন করতে বলেন, পার্বতী সেই বস্ত্রকে পুত্রের আকার দিয়ে কোলে নিতেই সেটি জীবিত হয়ে ওঠে, তখন শিব পুত্রকে কোলে নিয়ে বলেন, "এই পুত্র স্বল্পায়ু।" তারপর উত্তর দিকে মাথা করে তাকে শোয়াতেই তৎক্ষণাৎ শিশুটির মস্তক ছিন্ন হয়ে যায়, পার্বতী এতে দারুণ শোকাহত হন। এমন সময় দৈববাণী হয়: : যে উত্তর দিকে মাথা করে শুয়ে আছে, এমন কারো মাথা এনে জুড়ে দিলে তবেই এই পুত্র বেঁচে উঠবে।" পার্বতী তখন নন্দীকে পাঠান মস্তকের সন্ধানে। নন্দী তখন ইন্দ্রের বাহণ ঐরাবত হাতির মাথা কেটে আনেন।

দেবতারা নন্দীকে বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন। এই মাথাটি জুড়ে দিয়ে শিব পুত্রকে জীবিত করেন, পরে ইন্দ্র শোকাহত হলে শিবের বরে ঐরাবত-এর দেহ সমুদ্রে ফেলে দিলে তিনি আবার মস্তকপ্রাপ্ত হন। (সূত্র: বৃহদ্ধর্ম পুরান, গনেশ জন্ম কাহিনী)

আরেকটি কাহিনী: পরশুরাম ২১ বার পৃথিবী নিঃহ্মত্রীয় করে কৈলাসে শিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে দ্বাররক্ষক গণেশ তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ বাধে, পরশুরাম তখন কুঠারাঘাতে গণেশের একটি দাঁত সমূলে উৎপাটন করে ফেলেন। (সূত্র: ব্রহ্মবৈর্বত পুরান, পরশুরাম ও গণেশ যুদ্ধ আখ্যান)

যদিও এটাও একটা গাঁজাখুরি গল্প, কিন্তু হিন্দু পাঁঠারা মানতে নারাজ। ধার্মিকদের এ ধরনের পিছলামি দেখে একটা গল্প মনে পড়লো।

একবার এক মহিলা বাসের ড্রাইভারকে এই বলে অভিযোগ জানালো, "আপনার গাড়ির হেলপারগুলোর মুখের ভাষা বড়ই নোংরা! খালি গালাগালিতে ভরপুর।"

মহিলার অভিযোগ শুনে ড্রাইভার বললো, "ম্যাডাম, আসলে হইসে কি, এই চুতমারানির পোলাদের মুখের ভাষাটাই খারাপ। কী করবেন, কন? চুতিয়ারা এখনও মানুষ হইলো না।"

এক জোড়া পোস্টার



২২ এপ্রিল, ২০১৬

প্রস্থান

কবি হেলাল হাফিজ যদি হতেন হালাল হাফেজ, তাহলে তাঁর “প্রস্থান” কবিতাটি কেমন হতে পারতো, কল্পনা করেছেন নাস্তিকথন

মমিনা তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, সালাম নিয়ো ৷
এক বিকেলে মেলায় কেনা বোরখা নামের সে বস্তাটা
খুব গরমে তোমার গায়ে কেমন আছে, তা জানিয়ো।
আল-কুরানের কোন পাতাটা তোমার প্রিয়, খুব পঠিত 
রক্ত চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো।
কোন সূরাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন সে আয়াত উস্কানি দেয় ভাসতে বলে জেহাদ বানে
সালাম দিয়ো, কালাম দিয়ো।

আর না হলে মাশআল্লাহ ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই।
গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে?
আমি না হয় দাওয়াত দিয়েই ভুল করেছি ভুল করেছি,
ভুল জেনানার পরাগ মেখে
পাঁচ দুপুরের ফরজ সালাত খুন করেছি, কী আসে যায়?

এক জীবনে কত আমল নষ্ট হবে,
এক মমিনা কতোটা আর কষ্ট দেবে!

আমাদের আত্মীয়েরা – ৯২

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই



- টেরর করে কে রে? - আমি বোমা মারিনি

লিখেছেন পুতুল হক


মুসলমান 'টেরোটিস্ট নই' বলে প্ল্যাকার্ড ধরে। এ যেন ঠাকুর-ঘরে-কে-রে-আমি-কলা-খাইনি অবস্থা! আরে বাবা, আমরা কি বলছি যে, তোমরা টেরোরিস্ট? আমরা এও জানি, কোরআন-হাদিসের কোথাও তোমাদের টেরর করতে বলা হয়নি। তোমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন এবং তোমাদের প্রাণাধিক প্রিয় নবী তোমাদের যা করতে বলেছে, তা হল - পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠা কর। তোমরা জিহাদ কর। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য তোমরা ছল-বল-কৌশল অবলম্বন কর। এ কারণে তোমরা সূচ হয়ে কাফেরের দেশে ঢুকে ফাল হয়ে ইসলামী আইন চাও, কাফের খুন কর, বোমা মারো বাণিজ্যকেন্দ্রে, জনসমাগমে, হোটেলে, প্রতিবন্ধীদের আশ্রয়কেন্দ্রে। 

আল্লাহ্‌ এবং নবী যেহেতু অনুমতি, উৎসাহ এবং নির্দেশ দিয়েছে, কাজেই সব রকম বিবেক-বিবেচনা তোমরা গিলে খেয়ে মলাশয়ে বিসর্জন দিয়েছ। তোমরা চাও তোমাদের নবী-রাসুলের যুগে ফিরে যেতে, আমরা চাই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। তোমরা চাও আল্লাহর দাস হতে, আমরা চাই মুক্ত মানুষ হতে। তোমরা চাও ধ্বংস, আমরা চাই সৃজনশীলতা। তোমরা চাও অন্ধভাবে নিজেকে সঁপে দিতে প্রাচীন বিশ্বাসের পায়ে, আমরা চাই যুক্তি দিয়ে বিজ্ঞান দিয়ে নিজকে চিনে নিতে। 

আমরা যখন তোমাদের বিশ্বাসের সাথে তাল মেলাতে পারি না, তখন আমরা তোমাদের বন্ধু হলেও তোমরা আমাদের মেরে ফেলতে পারো। তোমাদের ইসলামী দুনিয়া মানুষের জন্য নিষ্ঠুরতম দুঃস্বপ্ন, টেরিফায়েইং। তোমাদের জিহাদ পৃথিবীর জন্য ভয়ংকরতম টেরর। তোমরা টেরোরিস্ট নও, জিহাদি। তোমরা টেরোরিস্টদের মধ্যে ভয়ঙ্করতম।

মুশকিল আসান


২১ এপ্রিল, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ১৯

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফয়সল আরেফিন দীপন ও নাজিমুদ্দিন সামাদ সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


এ ছাড়া আল-কুরআনে ঐশী বর্ণনার বিবেচনায় ভুল সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশিষ্ট বহু আয়াত বিদ্যমান; আল-কুরআনে বিন্যস্ত সূরাসমূহের প্রথম সূরা ‘সূরা ফাতিহা’ যার অন্যতম উদাহরণ। যে সূরাতে মুহম্মদ তার কল্পিত আল্লাহর প্রতি স্তুতি জ্ঞাপনপূর্বক কতিপয় প্রার্থনা নিবেদন করেছেন। অথচ স্বীয় আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক উক্ত বাণীসমূহকেই আল্লাহ প্রদত্ত ঐশী বাণীরূপে আল-কুরআনের প্রথমে অন্তর্ভুক্ত করেছেন মুহম্মদ।

তবে মুহম্মদ তার আনীত আল-কুরআনে অজস্র ঐশী আয়াতের ভিড়ে নিজের দু'-একটি বাণী আল্লাহ প্রদত্ত ঐশী বাণীরূপে চালিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি এমন নয়। বস্তুত আল-কুরআনের ওই সব আয়াতের বর্ণনা-কৌশল ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তা মুহম্মদি হাদিস হিসাবে সহজেই নির্ণেয়। আদপে আল-কুরআনে বর্ণিত একটি বাণীও ঐশী বাণী নয়। আল-কুরআনের সকল বাণী মূলত মুহম্মদের নিজস্ব বাণী। কারণ কল্পিত আল্লাহর ভূমিকায় ঐশী বাণী নাযিলের দায়িত্ব প্রতারক মুহম্মদকেই পালন করতে হয়েছে; যেমন ঐশী বাণী নাযিলের দায়িত্ব প্রতারক মূসা তার কল্পিত পরমেশ্বরের ভূমিকায় অতীতে পালন করেছেন। তাই হিব্রু বাইবেলের বর্ণনায় মূসার কল্পিত পরমেশ্বরকে যেমন মূসার আজ্ঞাবহ দাসের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়, তেমনি আল-কুরআনের বর্ণনায় মুহম্মদের কল্পিত আল্লাহকেও মুহম্মদের আজ্ঞাবহ দাসের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। 

এ কারণে মুহম্মদ নিজের মনগড়া বাণী দ্বারা সমগ্র আল-কুরআন প্রণয়ন করলেও সেই আল-কুরআনেই মুহম্মদের প্রতারণামূলক বাণীসমূহকে আল্লাহ প্রদত্ত ঐশী বাণীর স্বীকৃতি প্রদান করেছেন মুহম্মদের আজ্ঞাবহ দাস আল্লাহ। অর্থাৎ মুহম্মদ তার প্রতারণামূলক বাণীর সপক্ষে স্বীয় আজ্ঞাবহ দাস আল্লাহর নিকট থেকে ঐশী স্বীকৃতিজ্ঞাপক প্রতারণামূলক ঐশী সনদও আদায় করেছেন। আল-কুরআনে বর্ণিত সেই প্রতারণামূলক ঐশী সনদে যা ব্যক্ত হয়েছে তা নিম্নরূপ:
তারকারাজির শপথ যখন তা অস্তমিত হলো। তোমাদের বন্ধু পথভ্রষ্ট হয়নি বা বিপথগামীও হয়নি। সে নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলে না। যা তার কাছে নাযিল করা হয় তা অহী ছাড়া আর কিছুই নয়। [সূরা আন নাজম: ১-৪ আয়াত]
উক্ত আয়াতসমূহের ভাষ্য এই যে, মুহম্মদ নিজের খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না; তিনি শুধু আল্লাহর খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন। অর্থাৎ তিনি যা কিছু বলেন, তা শুধু আল্লাহর ইচ্ছাতেই বলেন। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে ওনার মুখ দিয়ে কোনো কথা ব্যক্ত হয় না। তাই এক্ষেত্রে কথা বলার মুখটি মুহম্মদের হলেও ওই মুখে ব্যক্ত যাবতীয় কথাই আল্লাহর কথা। কারণ আল্লাহ যা কিছু বলতে চান, তা তার নিজের মুখে ব্যক্ত না করে মুহম্মদের মুখে ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে মুহম্মদের মুখ আল্লাহর মুখ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তাই তার মুখে যা কিছু ব্যক্ত হয়, তা আল্লাহর অহী ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিবেচনায় মুহম্মদের মুখনিঃসৃত সকল বাণী একান্ত আল্লাহর বাণী হিসাবে স্বীকৃত। অর্থাৎ আল-কুরআনের বাইরে মুহম্মদের হাদিসসমূহও আল্লাহ প্রদত্ত অহী। সাধু রীতিতে বলতে গেলে, ‘যাহা আল-কুরআনের বাণী, তাহাই মুহম্মদি হাদিস; তদ্রূপ যাহা মুহম্মদি হাদিস, তাহাই আল-কুরআনের বাণী।’

তাই আমাদের বিবেচনায় সমগ্র ‘আল-কুরআন’ মুহম্মদের মনগড়া বাণীর সংকলন হলেও উক্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যানুযায়ী তা মুহম্মদের কল্পিত আল্লাহ প্রদত্ত মনগড়া বাণীর ঐশী সংকলন।

একইভাবে মুহম্মদের হাদিসসমূহ আল্লাহ প্রদত্ত অহী বলে স্বীকৃত হওয়ায় আমরা তা আল-কুরআনের বাণীর সদৃশ বাণী বিবেচনা করতে বাধ্য। তাই আমরা আমাদের আলোচনায় প্রামাণ্য উপাত্ত উপস্থাপনের প্রয়োজনে আল-কুরআনের বাণীর ন্যায় মুহম্মদি হাদিসের অবতারণা করব।

(চলবে)

রসমোল্লা

আমরা হই দাসী, সৌদি ভাবে যৌনদাসী

লিখেছেন ইত্তিলা ইতু

প্রায় ৮ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে আবার শুরু হয় সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো। গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া এসব নারীরা আরবদের নিপীড়নের শিকার হতে পারে, অনেকে এমন আশঙ্কা করলেও বিভিন্ন দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এসব ব্যাপারে তখন আশ্বস্ত করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে এসব আশ্বাস কোনো কাজে লাগেনি। কর্মস্থলে নির্যাতনের কারণে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা যখন তাদের নারীদের সৌদি আরবে পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ কেন নারী শ্রমিকদের সৌদি আরবে পাঠানো শুরু করে, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। অন্যান্য দেশগুলো নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটি বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। 

সৌদি সরকার দুই লাখের বেশি নারীকর্মীর চাহিদা জানালে বাংলাদেশ থেকে মাসে দশ হাজার নারীকর্মী পাঠানোর কথা বলা হয়। অথচ ২০১৫ সালের হিসেবে মাত্র ২০ হাজার ৯শ ৫২ জন নারী সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তির এক বছরে চাহিদার দশ ভাগের একভাগ নারী বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গেছেন। কাজ করতে যাবার অল্প দিনের মধ্যে আবার নারীদের ফেরত আসার প্রবণতাও দেখা গেছে। বাংলাদেশ থেকে পুরুষ কর্মীরা যেখানে টাকা খরচ করে সৌদি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব, সেখানে বিনা খরচে নারীকর্মীরা কেন আরবে যেতে চান না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইন্টারনেট ঘেঁটে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের কী ধরনের অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়, সেসব নিয়ে অনেক তথ্য পেয়ে গেলাম। একটি ছোট্ট নমুনা দেখে নিন শুরুতেই।

সৌদি আরবে বাসার কাজ করে মাসে ১৫-১৬ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব এবং সেখানে নারীরা পর্দার মধ্যে নিরাপদে থাকেন, এ আশ্বাস দিয়ে দরিদ্র অসহায় মেয়েদের সৌদিতে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

দেশে ধর্ষণ হলেই শোনা যায়, ওই মেয়ের কাপড় ঠিক ছিল না, পর্দা করতো না, তাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়, ইসলামী দেশগুলোতে নাকি ধর্ষণ নেই। কারণ তাদের মেয়েরা পর্দা মেনে চলে। সেই পর্দার নিরাপত্তার দোহাই দিয়েই এদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত, কামুক-ধর্ষকদের কাছে পর্দা আর বেপর্দার মধ্যে যে কোনো পার্থক্য নেই, সেটাই প্রমাণিত হয় সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের অবস্থা দেখে। বর্বর আরবদের কাছে গরীব দেশ থেকে তাদের দেশে কাজ করতে যাওয়া খেটে খাওয়া নারীরা ভোগ লালসার পণ্য ছাড়া আর কিছু নয়। 

সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, গৃহকর্মীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়, তাদের সাথে দেশের স্বজনদের যোগাযোগ করতে দেয় না। প্রায় সব নারী শ্রমিকদের একটিই অভিযোগ ‘ধর্ষণ’। তারা ধর্ষণের শিকার হয়, একই পরিবারের পিতা এবং ছেলে দ্বারা। অতিরিক্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে তারা অনেকেই আর স্বাভাবিক হতে পারেন না, কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, নারী কর্মীরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায়, বিষয়টি যথেষ্ট দুশ্চিন্তার কারণ। কেননা, বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে, নির্যাতনের শিকার এসব নারী দায়িত্বরতদের কাছ থেকে সাহায্য পান না। রিয়াদে একটি কোম্পানির কক্ষে আটকে থাকা ২০ থেকে ২৫ জন বাংলাদেশী নারী শ্রমিকের আকুতি ‘ভাই আমাদের বাঁচান।’ অডিওটা শুনে সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের নির্যাতনের চিত্রটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।

সুন্দরী গৃহকর্মীদের ঘরে আনতে জোর আপত্তি খোদ সৌদি আরবের নারীদের। তাদের অভিমত, বিভিন্ন দেশ থেকে সুন্দরী এবং কমবয়সী নারী গৃহকর্মীরা এসে সংসারের অশান্তি বাড়ায়। তাই সৌদি নারীরা সুন্দরী ও কমবয়সী মেয়েদের গৃহকর্মী করতে চান না। ভেবে দেখুন, সৌদি পুরুষেরা মানসিক ভাবে কতটা অসুস্থ। আমাদের দৃষ্টিতে তারা অসুস্থ হলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ। তাদের সুস্থতার রেফারেন্স:

কোরান ৩৩:৫০: ও অহীবাহক, আমরা আপনার জন্য হালাল করেছি(যৌনকর্মে লিপ্ত হতে) আপনার স্ত্রীদের সাথে যাদের মোহরানা আপনি পরিশোধ করেছেন, এবং তাদের(নারী) সাথে যারা আপনার ডান হস্তের অন্তর্গত(দাসী) এবং যারা আপনার যুদ্ধবন্দী যাদেরকে আল্লাহই আপনার প্রতি দিয়েছেন।"

কোরান ২৩:৫-৬: "তারা যারা অন্যদের সাথে যৌনকর্ম হতে বিরত থাকে শুধু নিজের স্ত্রী,দাসী এবং অন্য যাদেরকে তাদের জন্য হালাল করা হয়েছে(যুদ্ধবন্দী) ছাড়া।"

কিতাব আল তাবাক-ত আল-কাবীর ভলুম ৩৯, পৃষ্ঠা ১৯৪: তিনি (নবী মুহাম্মদ) তার (দাসী) সাক্ষাতে গেলেন এবং তাকে হিজাবে থাকতে নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তিনি তার সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত হলেন কারন সে ছিল তারই সম্পত্তি। -

সূরা আল মুমিনূন ২৩:৬: “তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে (নিজেদের যৌনাঙ্গকে) সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।”

মালিকের মুয়াত্তা হাদিস ২৯.৩২.৯৯: ইয়াহিয়া—মালিক—দামরা ইবনে সাইদ আল মাজনি—আল হাজ্জাজ ইবনে আমর ইবনে গাজিয়া থেকে: উনি (অর্থাৎ আল হাজ্জাজ) জায়েদ ইবনে সাবিতের সাথে বসে ছিলেন। এই সময় ইয়ামান থেকে ইবনে ফাহদ আসলেন। ইবনে ফাহদ বললেন: “আবু সাইদ! আমার কাছে ক্রীতদাসী আছে। আমার কোন স্ত্রীই এই ক্রীতদাসীদের মত উপভোগ্য নয়। আমার স্ত্রীর কেউই এমন তৃপ্তিদায়ক নয় যে আমি তাদের সাথে সন্তান উৎপাদন করতে চাই। তা হলে কি আমি আমার স্ত্রীদের সাথে আজল করতে পারি?” জায়েদ ইবনে সাবিত উত্তর দিলেন: “হে হাজ্জাজ, আপনি আপনার অভিমত জানান”। আমি (অর্থাৎ হাজ্জাজ) বললাম: “আল্লাহ্‌ আপনাকে ক্ষমা করুন। আমরা আপনার সাথে বসি আপনার কাছে কিছু শিক্ষার জন্যে”। তিনি (অর্থাৎ জায়েদ) বললেন: “আপনার মতামত জানান”। আমি বললাম: “ঐ ক্রীতদাসী হচ্ছে তোমার ময়দান। তুমি চাইলে সেখানে পানি ঢাল অথবা তৃষ্ণার্ত রাখ। আমি এইই শুনেছি জায়েদের কাছ থেকে”। জায়েদ বললেন; “উনি সত্যি বলেছেন”।

সমস্যা হল, এসব বলতে গেলেই অনুভূতিতে আঘাত লেগে যায়। সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে রেফারেন্স দিয়ে কথা বললে। প্রধানমন্ত্রীর মতে নাস্তিকরা পর্ন লিখে, পর্ন তো আসলে দেয়া আছে আপনার পবিত্র গ্রন্থগুলোতে। আমরা শুধু সেসব কপি-পেস্ট করি। পবিত্র গ্রন্থগুলো থেকে পবিত্রতার ঢাল উঠিয়ে অন্য যে কোনো বইয়ের মত করে পড়ে দেখুন, তাহলেই বুঝে যাবেন।

এবার শুনেছি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে যেসব নারী শ্রমিক যাবে, তাদের সঙ্গে একজন পুরুষ নিকটাত্মীয়কে নেবে সৌদি আরব। এই হল বোনাস। নারী শ্রমিক ধর্ষণ করে এবার সাথে একটা করে গেলমান পেয়ে গেল। বেহেশতে গেলে পাওয়া যাবে হুরপরী, গেলমান - এই লোভ যাদের মগজে ঢোকানো আছে, তারা পৃথিবীতে হুরপরী-গেলমান পেলে নিজেদেরকে আটকে রাখতে পারবে, এই নিশ্চয়তা কি আপনি দিতে পারেন? মন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে নারীদের পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো হবে। দেশে কী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, জানি না, তবে ওপরে যে রেফারেন্স দিলাম, সেসবের প্রশিক্ষণ সৌদিরা জন্মগতভাবেই প্রাপ্ত. কাজেই আপনাদের প্রশিক্ষণ কতটুকু কাজে লাগবে, বলার উপায় নেই।

এতকিছুর পরও কেন সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হচ্ছে না? কেন নিজের দেশেই এসব নারী শ্রমিকের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না? নারী শ্রমিকদের অত্যাচারের বিনিময়ে কিছু বৈদেশিক মুদ্রা দেশে না এলে কি দেশের অর্থনীতিতে ধ্বস নেমে যাবে?