৩১ জুলাই, ২০১৬

ঈশ্বরের ইতিহাস - ৪ (সৃষ্টিতত্ত্ব)

লিখেছেন মেসবাহ উস সালেহীন

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩

ইসলামী মিথ অনুযায়ী, আদম আর হাওয়া হচ্ছেন আদি পিতা-মাতা। আদমের বংশধরদের বলে আদমী। হিন্দু মিথ অনুযায়ী, আদি পিতা মনু আর আদি মাতা হচ্ছেন শতরুপা। মনুর সন্তানকে বলে মানুষ। এই কন্সেপ্টের কারণে আমার এলাকায় এক মুরুব্বি মানুষকে মানুষ বলতেন না, সব সময় বলতেন আদমী। কাউকে মানুষ বলে ডাকলেই তিনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, ও হচ্ছে মনুর বংশধর। তাঁর কাছে এটা খুবই গুরুতর পাপ বলে মনে হতো।

আমরা তাহলে কার বংশধর? আদম নাকি মনুর? নাকি পৃথিবীতে প্রাণ এসেছে অন্য উপায়ে? ধর্মগুলো কি বলে এ ব্যাপারে? কবে পৃথিবী সৃষ্টি হল?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে 'দি স্টোরি অফ গড' নামে একটা প্রোগ্রাম হয়েছিল, যেটার ৪ নাম্বার এপিসোডের বিষয় ছিল সৃষ্টিতত্ত্ব। এপিসোডটার রিভিউ লেখার চেষ্টা করছি।

প্রোগ্রামের হোস্ট মরগ্যান ফ্রিম্যান কথা বলেছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে। তবে মেইনস্ট্রিম ধর্মগুলো থেকে তিনি খুব সামান্য সাহায্যই পেয়েছেন। ভারতীয় হিন্দুধর্ম বিশারদ benda paranjape, মিশরের ইসলামি গবেষক আহমেদ রাগাব কিংবা রোমের father guiseppe tanzella-এর সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে সবাই বলেছে, বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মীয়ভাবে সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করা যাবে না। ঈশ্বর বিগ ব্যাং হওয়ারও আগেই ছিলেন, হয়তো তিনিই বিগ ব্যাং ঘটিয়েছেন। ধর্মীয় কেতাবে যা লেখা আছে, যেভাবে সৃষ্টি হওয়ার কথা লেখা আছে, সেটা বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে না, আবার ভুল প্রমাণ করতেও পারে না।তাই এই আলোচনাগুলো পৃথক রাখা উচিত। ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ভাল কথা, তাহলে ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছেন কে? এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলেছেন, আমরা অনেক ক্ষুদ্র প্রাণী, এই প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজতে পারব না। এটা আমাদের জ্ঞানবুদ্ধির বাইরে, আমাদের স্রেফ বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।

ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান – প্রধান এই ৩ টি ধর্মেই একটা কমন মিথ পাওয়া যায়: "ঈশ্বর ৬ দিনে পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলী তৈরি করেছিলেন।" বাইবেলের বুক অফ জেনেসিস-এ সৃষ্টি সম্পর্কে একটা দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে। দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও আমি এখানে সেটা উদ্ধৃত করছি:

ইছলাম রকস

ছহীহ ছওয়াল

সুকুমার রায়ের লেখা "জীবনের হিসাব" নামের ছড়ার প্যারোডি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

বিদ্যে-বোঝাই বিজ্ঞানীসব হুজুর দেখে থামে,
প্রশ্ন করে, "বলতে পারেন, বৃষ্টি কেন নামে?
পাহাড়গুলো কেমনে সৃজে, উল্কা কেন খসে?"
প্রশ্ন শুনে বৃদ্ধ হুজুর আরাম করে বসে।
হুজুর বলে, "এসব কি আর কঠিন প্রশ্ন? ধুরো!
আছে জানা এসব আমার, বুঝলে সকল খুড়ো?"

হিপক্রিটাস হঠাৎ বলে, "বলুন দেখি এটা,
ক্যামনে সৃজে বেটি, আবার ক্যামনেই বা ব্যাটা?
জাইগোট-টা কেমনে ঘটে? বীর্য কোথায় থাকে?"
হুজুর বলেন, "হাহ্-হাহ্-হাহ্, প্রশ্ন করেন কাকে!
জবাব জানে মাদ্রাসাতে পড়া সকল পোলা,
তারাই দেবে এসব বলে, থাকুক এসব তোলা।"

খানিক বাদে বলেন তাঁরা, "বলুন দেখি, হুজুর,
কেন এমন মিষ্টি খেতে আঙুর, কলা, খেজুর?
ক্যামনে আসে দিন থেকে রাত? ক্যামনে আসে দুধ?"
প্রশ্ন শুনে হুজুর সাহেব হলেন ধ্যানে বুঁদ।
এই না দেখে বিজ্ঞানীরা হকচকিয়ে থেমে
ভাবে: জবাবসহ ওহী আসছে নাকি নেমে!

হঠাৎ জেগে উঠে হুজুর মুচকি হেসে কয়,
"মুরতাদদের প্রশ্নে হবে আমার পরাজয়?
প্রশ্নবাণে ঠেকায় মোরে - সাধ্য এমন কার?
আমার আছে কোরান, হাদিস, মোহাম্মদ আল্লার।
মূর্খ তোরা, শোন তাহলে. ক্যামনে এসব হয়,
দোজাহানের মালিক খোদা যক্ষনই 'কুন' কয়।"

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৮৯

৩০ জুলাই, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ৫: রক্তের হোলি খেলা - ‘নাইম’ দুর্গ দখল!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১৩৪): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত আট

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আগ্রাসী আক্রমণের শিকার হয়ে খায়বারের ভীত-সন্ত্রস্ত ইহুদি জনপদবাসী তাদের দুর্গ-মধ্যে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কীরূপ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন; পর পর দু'-তিন দিন ব্যর্থ হবার পর আলী ইবনে আবু তালিবের নেতৃত্বে মুহাম্মদ যে-হামলাকারী দলটি পাঠিয়েছিলেন, তার মোকাবিলায় দুর্গ-মধ্য থেকে কোন ইহুদি লোকটি সর্বপ্রথম বের হয়ে এসে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন; কে তাঁকে হত্যা করেছিলেন; এই যুদ্ধে আলী ইবনে আবু তালিব কীরূপ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি সাধারণ যুদ্ধ-ঢালের পরিবর্তে কোন বস্তুকে যুদ্ধ-ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন; মুহাম্মদের জীবদ্দশায় বিভিন্ন যুদ্ধে আলী অসাধারণ বীরত্বের প্রকাশ করা সত্ত্বেও কী কারণে আলীসহ মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবারের (হাশেমী বংশ) কোনো সদস্য সুদীর্ঘকাল মুসলিম জাহানের অধিপতি হবার সুযোগ পাননি; কারা তাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন বলে শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের সেই বিশ্বাসের ভিত্তি কী - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

ইসলাম-বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা ইসলামের ইতিহাসের খায়বার যুদ্ধ আলোচনায় যে-উপাখ্যানগুলো তাঁদের ওয়াজ মাহফিল, বক্তৃতা, বিবৃতি, রেডিও-টেলিভিশন আলোচনা ও টক-শো, সামাজিক মেলামেশায় ইসলামের আলোচনা - ইত্যাদি অনুষ্ঠানে গর্বভরে বয়ান করেন; মাদ্রাসা-স্কুল-কলেজের পাঠ্য পুস্তক সিলেবাসে শিক্ষা বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত করেন ও প্রশ্নপত্র তৈরি করেন; বুদ্ধিজীবীরা বই লেখেন; সাংবাদিকরা খবরের কাগজে আর্টিকেল লেখেন - তার সর্বাগ্রে ও শীর্ষস্থানে অবস্থান করে খায়বার যুদ্ধে আলী ইবনে আবু তালিবের এই বীরত্বের ইতিহাস! সে-কারণেই আলীর বীরত্বের এই উপাখ্যান অসংখ্য ইসলাম-বিশ্বাসীরই মুখে মুখে।

প্রশ্ন হলো:
"আলী ইবনে আবু-তালিব ও তাঁর সঙ্গীদের এই বিজয় ও বীরত্বের 'রক্ত-মূল্য' কত ছিলো?"

অর্থাৎ,
"মুহাম্মদ ও আলীর নেতৃত্বে খায়বারের নিরপরাধ (তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর আক্রমণ করতে আসেননি, আক্রমণকারী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা) ইহুদি জনগণের মোট কতজন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর মুহাম্মদের প্রতিশ্রুত (পর্ব: ১২৩) এই আসন্ন বিজয় (কুরান: ৪৮:১৮-২১) কর্মটি সম্পন্ন হয়েছিলো?" 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা পুনরারম্ভ: [1] [2] [3]   
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৩৩) পর:

আবদুল্লাহ বিন সাহল বিন আবদুল রহমান বিন সাহল নামের বানু হারিথা গোত্রের এক ভাই জাবির বিন আবদুল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন:

আমাদের আত্মীয়েরা – ৯৭


ওপরের ছবিটি দেখে এরিক মারিয়া রেমার্কের লেখা "থ্রী কমরেডস" উপন্যাসে Pet Shop-এর বর্ণনার কথা মনে পড়ে গেল:

"এক কোণে দাঁড়িয়ে তাদের কথাবার্তা শুনছিলাম আমি। হঠাৎ কে যেন হ্যাট চেপে ধরুল আমার। চমকে উঠে ঘুরে তাকালাম। এক বানর তার পার্চের এক প্রান্তে এসে বসেছে। হলদেটে চামড়া, বিষণ্ণ মুখ, গোলাকার কালো চোখ, বৃদ্ধার ঠোঁটের মত ঠোঁট। পেটের ওপর দিয়ে বাঁধা চামড়ার কোমরবন্ধ, সেটার সাথে শেকল। ছোট ছোট হাত, কালো, একেবারে মানুষের হাতের মত, দেখলে চমকে যেতে হয়।

আমি আমার জায়গা ছেড়ে নড়লাম না একবিন্দুও। পার্চ ধরে সে আরও এগিয়ে এল আমাকে লক্ষ্য করে। তাকিয়ে আছে সে আমার দিকে; সন্দিন্ধ নয়, কিন্তু সতর্ক দৃষ্টি। সাবধানে একটা হাত বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। আমি সামনে বাড়িয়ে দিলাম একটা আঙ্গুল। হাত একটু পেছনে টেনে নিল সে, তারপর ধরল সেটা। ঠাণ্ডা সেই হাতের স্পর্শে বিচিত্র এক অনুভূতি হলো আমার - কেমন করে ধরেছে সে আমার আঙুল! যেন দুঃখী বোবা মানুষ চাচ্ছে নিজেকে মুক্ত করতে, রক্ষা করতে। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না অতটা নিষ্প্রভ, পাংশু চোখের দিকে।"

'রঙ্গিলা রাসুল' সমাচার, পাকিস্তানের জন্মে এর সম্ভাব্য ভূমিকা এবং পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইন - ৪

লিখেছেন মার্ক এন্টনি

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩

ঐতিহাসিকগণ বলেন, জিন্নাহ কংগ্রেসের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করলেও কংগ্রেসের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং ভারত বিভাগ তিনি চাননি। কিন্তু ১৯৩০ সালে একটি আলাদা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের ধারণা তৈরির পর থেকেই ইকবাল বারবার জিন্নাহকে পাকিস্তান নামে একটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরির কথা বলতে থাকেন। 

শেষ পর্যন্ত জিন্নাহ ১৯৪০ সালে অফিশিয়ালি ঘোষণা দেন যে, পাকিস্তান সৃষ্টিই তাঁর লক্ষ্য। ইকবাল জিন্নাহকে সবসময়ই একটি আলাদা মুসলিম রাষ্ট্রের গঠনের জন্য কথা বলে আসছিলেন। ১৯৩৭ সালের ২১ শে জুন জিন্নাহকে লেখা ইকবালের একটি চিঠি দেখুন:
একটি আলাদা মুসলিম অঙ্গরাজ্যই কেবল ভারতকে শান্তিপূর্ণ রাখতে পারে এবং মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের কর্তৃত্ব থেকে রক্ষা করতে পারে। কেন উত্তর পশ্চিম ভারত এবং বাংলার মুসলিমদেরকে একটি জাতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, যে জাতি নিজের সিদ্ধান্তেই চলতে পারে, যেমনটা ভারতের মধ্যকার জাতিগুলো এবং বাইরের জাতিগুলো চলছে?
পাঞ্জাব মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ইকবাল জিন্নাহর রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও পাঞ্জাবী নেতা স্যার সিকান্দার হায়াত খানের রাজনৈতিক চুক্তির সমালোচনা করেন, যাদেরকে ইকবাল সামন্তপ্রভু শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসেবে দেখতেন এবং যারা ইসলাম ও তার মূল রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন না। যাই হোক, ইকবাল প্রতিনিয়তই মুসলিম নেতাদের ও জনগণকে জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগকে সমর্থন করতে উৎসাহিত করেছেন। ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলার সময় তিনি বলেন:
কেবল একটাই রাস্তা খোলা আছে। মুসলিমদেরকে জিন্নাহ্‌র হাত শক্ত করতে হবে। তাদের সবাইকে মুসলিম লীগে অংশগ্রহণ করা উচিত। আমরা সকলে একত্রে মিলিত হলেই কেবল হিন্দু ও ব্রিটিশ উভয়ের বিরুদ্ধেই ভারতের প্রশ্নে লড়াই করতে পারব। এটা ছাড়া আমাদের দাবি কখনই বাস্তবায়িত হবে না। সবাই বলবে, আমাদের দাবি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াবে। কিন্তু সেটা তাদের আমাদের উদ্দেশ্যকে বানচাল করার কৌশল ছাড়া আর কিছুই না। এই দাবি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বকে রক্ষা করার জন্য... মুসলিম লীগের নেতৃত্বে এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হতে পারে। আর কেবল জিন্নাহ্‌র নেতৃত্বেই মুসলিম লীগ বিজয়ী হতে পারে। এখন জিন্নাহ ছাড়া আর কেউই মুসলিমদের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা রাখে না।
প্রশ্ন হচ্ছে: যেখানে ১৯৩০ সালের দিকে আল্লামা ইকবাল সমস্ত মুসলিম লীগ নেতার ওপরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন, তিনি হঠাৎ করে জিন্নাহর ওপরে এত দরদ দেখানো শুরু করলেন কেন? এর কারণ এটা নয় তো যে, জিন্নাহ ইলমুদ্দিনের কেসে বোম্বে থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন? আর এ কারণে অন্যান্য যে কোনো নেতার চাইতে জিন্নাহই ইকবালের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন আর জিন্নাহর চোখ দিয়েই ইকবাল সাহেব পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখতে থাকেন?

হতে পারে। কিন্তু এতে জিন্নাহর নিজের উপকার হয়নি কি? আল্লামা ইকবাল যখন সকলকে কেবল জিন্নাহকেই মুসলিমদের স্বাধীনতা এনে দিতে একমাত্র সক্ষম নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তখন ভারতের সকল মুসলিমের কাছে জিন্নাহ এক অবিসংবাদী নেতায় পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন।

(চলবে)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৪৭

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: আক্কাস আলী

২৯ জুলাই, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ১৬

লিখেছেন পুতুল হক

৬১.
উচ্চবিত্ত মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা অনেক কিছু করে। সাথে একটু ইসলামও করে। বলাবাহুল্য, এই ইসলাম তাদের সুবিধামত হয়। বাপের অসৎ টাকায় নেশা করে, পার্টি করে, ফ্রি সেক্স করে। তবে শুধু করার আগে 'বিসমিল্লাহ' আর করার পরে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে। ধর্ম তাদের জীবনাচার নয়, কেবল বর্ম। কারণ সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত আছে - যারা ধর্ম করে, তারা খারাপ মানুষ নয়।

৬২.
'আমার বন্ধু প্রতি ঈদে তার বাবার কবর জিয়ারত করে। আমি তাকে বললাম, নবী কিন্তু কোনো ঈদে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেনি। বুঝলাম না, বন্ধু কেন আমার সাথে রাগ করলো!

৬৩.
আমার ধর্ম আমার কাছে, ইসলাম ধর্ম সবার কাছে। ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না।

৬৪.
আমাদের বাসায় একজন ছুটা বুয়া ছিলেন প্রায় পনের বছর আগে। গ্রাম থেকে পালিয়ে চলে আসেন ঢাকায় এবং তারপর অনেক সংগ্রাম করে টিকে থাকার এক জীবন্ত কিংবদন্তী বুয়া। গ্রামে তাঁকে হিল্লা বিয়ে দেয়া হচ্ছিলো। সেদিন মাউলানার দিকে বসার পিড়ি ছুঁড়ে দিয়ে পালিয়ে আসেন। একদিন আমাকে বলেছিলেন "তোমাদের মত লেখাপড়ার সুযোগ পেলে আমি আল্লাহর ধার ধারতাম না।" 

উচ্চশিক্ষিত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হিজাবি মেয়েদের দেখলে সেই বুয়ার কথা মনে পড়ে যায়।

৬৫.
যারা বলে, 'ইসলাম শান্তির ধর্ম', 'খুন-খারাবি ইসলাম সমর্থন করে না' কিংবা 'ইসলাম কখনো তলোয়ার দিয়ে ক্ষমতা দখল করেনি', তারা হয় না জেনে বলে কিংবা আংশিক জেনে বলে কিংবা ভুল ব্যাখ্যায় প্রভাবিত হয়ে বলে। ভুল মানুষের হতেই পারে। কিন্তু ভুল শুধরে না নিয়ে যারা চাপাতি হাতে তেড়ে আসে, তারাই প্রকৃত মুসলমান।

পষ্ট কইরা লেখা - ৩৪

ধর্মের চিড়িয়াখানায় - ৭

লিখেছেন ধর্মহীন জিরাফ

৩১.
মহামতি আইনস্টাইন নিজের টেলিফোন নাম্বারটাও মনে রাখতেন না। বললে বলতেন, যে-জিনিসটা লেখা আছে, সেটা মূখস্থ করার দরকার কী? আর ডঃ জাকির নায়েক শ্লোকের পর শ্লোক মুখস্থ বলে যায় চোখ-কান বন্ধ করে।

পার্থক্যটা বুঝতে পারছেন?

৩২.
মানবতাকে ফার্মেন্টেশন করলে তা ধর্মে রূপ নেয়।

৩৩.
ধর্মগুলো মানুষকে 'মানবিক ঈশ্বর' দিতে পারেনি। তারা মানুষকে দিয়েছে এমন এক ঈশ্বর, যে ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষুধাযন্ত্রণা দ্যাখে নীরব দর্শক হয়ে, ধর্ষিতার চিৎকার যে শোনে ভাবলেশহীনভাবে - এসব তুচ্ছ মানবিক অনুভূতি তাকে স্পর্শ করে না।

এই ঈশ্বরে আমি আস্থা রাখতে পারি না।

৩৪.
কোনো শহরে একজন করে পুরুষের জন্য ৭২ টা করে নারী (যৌনদাসী) বরাদ্দ দিলে পুরো শহরটা একটা সমৃদ্ধ বেশ্যাগারে রূপ নেবে।

৩৫.
"আমি একজন প্রকৃত মুসলিম এবং আমি ভীষণ অসাম্প্রদায়িক।"

হাহাহাহা... ওহ স্যরি! ইসলামিক রসিকতায় তো হাসা ঠিক না। যে ধর্ম বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছে বারংবার, সেই ধর্মে বিশ্বাসী একজন মানুষ বলছে যে, সে কিনা অসাম্প্রদায়িক! হাহাহাহা... ওহ, স্যরি।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৪৫

২৮ জুলাই, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা অধ্যায় - গোপন প্রচারের তিন বছর (পর্ব ০৬)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{মানুষের জীবনযাপন বোঝার সহজ উপায় হচ্ছে তার শহরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ নিরীক্ষণ করা; মক্কার চারপাশটা যদি ঘুরে দেখা সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে নবী জীবনের অনেক ঘটনার লৌকিক ব্যাখ্যা করা সম্ভব; সেই সুযোগ আমার হয়েছে, মক্কা লাইব্রেরীর কিউরেটর আমার গাইড ছিলেন! 

আসুন, সংক্ষেপে আজ মক্কা চেনা শুরু করি; গত পর্বের ছবিটির সাথে এই পর্বের ছবিটি ডাউনলোড করে জুম করে সিরিয়াল অনুসারে দেখতে থাকুন।
৫৫৫০ x ২৮১০ রেজলুশনের মূল ছবিটির ডাউনলোড লিংক (৩ মেগাবাইট)

১: এটি মুহাম্মদের জন্মস্থান; ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত মুহাম্মদ এখানেই ছিলেন; বড় হলুদ বৃত্তটি মুহাম্মদের বানু হাশিম গোত্রের এলাকা; বানু হাশিম গোত্রের ১০ টি উপগোত্র ছিল; এটি মক্কা শহরের পূর্বের সীমা।

২: এই অংশে ছিল খাদিজার বাসা, মুহাম্মদ ২৫ থেকে ৫৩ বছর বয়স পর্যন্ত এই বাড়িতেই ছিলেন; মুহাম্মদের চাচা আবু লাহাব (আব্দুল উজ্জা) ছিলেন খাদিজার প্রতিবেশী; তাদের দুজনের বাড়ির দেওয়াল একসাথে সংযুক্ত ছিল।

৩: এটি সাফা পাহাড়ের চূড়া (উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট); এর ওপর থেকেই মুহাম্মদ জনসমুক্ষে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। সাফা কাবা থেকে ৩৩০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত।

৪: এটি মারওয়া পাহাড়ের চূড়া (মারওয়া-কে পাহাড় না বলে উঁচু টিলা বলা যুক্তিযুক্ত); এর পাশেই ছিল জাবির নামে এক কর্মকারের দোকান; মুহাম্মদ এখানে সময় কাটাতেন মাঝে মধ্যেই। ৩ এবং ৪ এর মাঝের দূরত্ব প্রায় ১২০০ ফুট। মারওয়া কাবা থেকে ১১০০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত।

৫: এই অংশে বাস করতেন মুহাম্মদের পারিবারিক চাচা আবু জেহেল (উমার ইবনে হিশাম/ আবু হাকাম); মুহাম্মদ বদর যুদ্ধের সময় তাঁকে মুসলমানদের ফেরাউন বলেছিলেন।

৬: সাফা পাহাড়ের পাদদেশের এই অংশে ছিল আরকাম-এর বাসা, এই বাসাকে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে আলোচনা আর ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করেছিলেন ৬১৪ সাল থেকে।

৭: মুহাম্মদের চাচা আব্বাস ঠিক এই অংশে বাস করতেন।

৮: এটি জমজম কুপের অবস্থান এলাকা।

৯: এটি নবী মুহাম্মদের প্রথম প্রেম এবং মেরাজ নামক গল্প তৈরির স্থান - মানে উম্মে হানির বসবাসের স্থান।

১০: এটি নবী মুহাম্মদের একমাত্র বন্ধু, পরামর্শক, শ্বশুর আবু বকর-এর বাসস্থানের এলাকা; মুহাম্মদ প্রতিদিন একবার অবশ্যই এখানে আসতেন; এটি মক্কা শহরের পশ্চিম সীমার শেষ অংশ বলতে পারেন; ১ থেকে ১০ এর দূরত্ব এক মাইলের একটু বেশি; বলতে পারেন দেড় কিলোমিটার।

১১: এটি জান্নাতুল মালা কবরস্থান; মক্কা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান; এখানে মুহাম্মদদের দাদা, চাচা, সন্তান এবং খাদিজার কবর আছে। হেঁটে হেঁটে হেরা গুহায় যেতে হলে জান্নাতুল মালা কবরস্থানের পাশ দিয়েই যেতে হয়।

১২: এটি হেরা গুহার পাহাড় (জবলে নূর); হেরা-কে গুহা বলা আর বেড়ালকে বাঘ বলা একই কথা। এর আকার (১২ বাই ৫১/৪ বাই ৭) বর্গফুট মাত্র; এখান থেকে মক্কা শহরকে দেখা যায়। এর অবস্থান মক্কা থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে। মুহাম্মদ তার প্রথম সন্তানের মৃত্যু; মক্কা ডুবিয়ে-দেওয়া বন্যা, আলীকে প্রতিপালনের জন্য নিয়ে আসা আর কাবা পুননির্মাণের সময় থেকে হেরায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। এ সময় মুহাম্মদের বয়স ছিল ৩৫।

১৩: এটি মিনা এলাকা; এর অবস্থান মক্কা থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে। এখানে শয়তানকে পাথর মারার প্রথা পালন করা হয়। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মিথ জন্ম নেয় এখান থেকেই।

মক্কা, মাত্র দেড় কিলোমিটারে ঘুরপাক খাওয়া একটি শহর; জনসংখ্যা ১৫০০ থেকে ২০০০ জনের মধ্যে; পানির সহজলভ্যতা এই শহরকে লম্বা মরুভূমি যাত্রার বিশ্রামস্থল হিসেবে বাড়তে সাহায্য করেছে; তার সাথে বেদুঈন আর হিজাজের শতাধিক গোত্রের বিনোদন ও ধর্ম পালনের স্থান হিসেবে গড়ে ওঠে মক্কা। মুহাম্মদের ইসলাম প্রচার ৬১০ থেকে ৬২০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই দেড় কিলোমিটারেই বৃত্তবন্দী থেকেছে; কুরাইশদের ভুল সিদ্ধান্ত আর মুহাম্মদের দূরদর্শিতা ৬২০ সালের পর থেকে ইসলামকে খোলা ময়দানে নিয়ে আসে; যার সুফল আজও ভোগ করছে সামান্য কয়েকজন, আর তার কুফলের যন্ত্রণা ভোগ করছে পুরো পৃথিবী!

বর্তমান মক্কা শহরটা চেনা হলো আজ; কিন্তু মুহাম্মদের সময় কেমন ছিলো মক্কার চেহারা; এই ধারাবাহিকের ৮ম পর্ব থেকেই মুহাম্মদ সাফা পাহাড়ে উঠে মক্কাবাসীদের সাবধান করা শুরু করবেন; আমরাও ঠিক সাফা চূড়ায় উঠে দেখবো, মুহাম্মদ কেমন দেখেছিলেন তাঁর সময়ের শহরটিকে!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ৬ষ্ঠ পর্ব; এই পর্বে থাকছে গোপন প্রচারের তিন বছরের শেষ পাঁচ অংশঅনুবাদের ভাষা ৫০ টির বেশি বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নিরামিষ-অতিষ্ঠ নুহ নবী

জাকির নায়েকের ‘কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ এবং তার যুক্তিখণ্ডন - পর্ব ৪

লিখেছেন Enigmatic Jihad


পরবর্তীতে জাকির নায়েক যে-বিষয়টি তুলে ধরেন, তা হলো, চাঁদ এবং তার আলো সম্পর্কিত। জাকির নায়েক বলেন যে ১৪০০ বছর আগেই কোরআনে বলা হয়েছে যে, চাঁদের আলো প্রতিফলিত আলো। এক্ষেত্রে জাকির নায়েক প্রথমে এই আয়াতটি উল্লেখ করেন: "'কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলের রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সুর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।" (সুরা ফুরকান-৬১) - এখানে সুর্যকে বোঝাতে ﺳِﺮَﺍﺟًﺎ (সিরাজ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ বাতি। এখানে তিনি আরোও দুটি আয়াত উল্লেখ করেন: "'তিনিই সেই সত্বা, যিনি সুর্যকে উজ্জ্বল আলোকময় এবং চাদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।" (সুরা ইউনুস-৫) এবং "তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আসমানকে স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে চাঁদকে রেখেছেন আলোরুপে, এবং সুর্যকে রেখেছেন প্রদীপরুপে।" (সুরা নুহ-১৫-১৬)

যাই হোক, এখানে জাকির নায়েকের যুক্তি হলো, কোরআনে সুর্যকে বোঝাতে যে সকল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, চন্দ্রকে বোঝাতে সেই সকল শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। সুতরাং, কোরান সুর্য ও চাঁদের আলোর পার্থক্যকে স্বীকার করে। এখন, আপনি নিশ্চয় গরুকে ভেড়া এবং ভেড়াকে ছাগল ডাকবেন না। তাই সুর্যকে এবং চন্দ্রকে নিশ্চয়ই একই শব্দ দ্বারা প্রকাশ করার কোনো প্রশ্নই নেই এবং এর কোনো মানেও হয় না এবং তা দ্বারা তাদের আলোর প্রকৃতি সম্পর্কেও জানা যায় না। আমি বলি ছাগল, আর কেউ বলে হাগল, নিশ্চয়ই দুটো আলাদা বস্তু না। আর এত কষ্টের কী প্রয়োজন, সর্বজ্ঞানী আল্লাহ শুধুমাত্র এইটুকু লিখলেই পারতেন, "তোমরা কি দেখ না, আমি চন্দ্রকে উজ্জ্বল করেছি, তার স্বীয় আলো ব্যতীত?" কোরান কি মানুষের জন্য সহজ ও বোধগম্যভাবে লেখা হয়নি?

এর পরের বিষয়টি হলো, সুর্যের আবর্তন সম্পর্কে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে, পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে স্থির হয়ে আছে এবং সূর্যসহ অন্যান্য গ্রহগুলো এর চতুর্দিকে আবর্তন করছে। পাশ্চাত্যে খ্রিষ্টপুর্ব দ্বিতীয় শতাব্দিতে টলেমির যুগ থেকে মহাবিশ্বের এ ভূ-কেন্দ্রিক ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত সত্য হিসেবে বিদ্যমান ছিলো। ১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে নিকোলাস কোপারনিকাস তার সুর্যকেন্দ্রিক গ্রহ সংক্রান্ত গতিতত্ত্ব দেন, যাতে বলা হয়, সুর্য তার চারদিকে ঘুর্ণায়মান গ্রহগুলোর কেন্দ্রে গতিহীন।

আসলে টলেমির এই ভূ-কেন্দ্রিক মডেল অনেক সভ্যতাতেই খুব গ্রহণযোগ্যতা পায়, যেমন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা। এ কারণেই অনেক গ্রিক দার্শনিককে পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করতে দেখা যায়। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো অ্যারিস্টটলীয় পদার্থবিদ্যা এবং টলেমির জগৎ। টলেমির এই ধারণা অজ্ঞাতকাল থেকে শুরু করে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই ছিলো। "মেগেল ম্যাথমেটিক সাইনট্যাক্সিস", মধ্যযুগে যা ছিলো জ্যোতিষশাস্ত্রের বাইবেল, তার রচয়িতা টলেমি যে শুধু ভূ-কেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা পোষণ করতেন, তা নয়, তার ব্যাপক প্রচারও করতেন। তবে তখনকার কেউ যে সূর্যকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের সম্পর্কে কোনো ধারণার অধিকারী ছিলেন না, তা নয়। টলেমির কয়েক শতাব্দী আগে ইজিয়ান অঞ্চলের চিয়স দ্বীপে জন্মগ্রহণকারী এরিস্টার্কাস সুর্যকেই বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু বলে গণ্য করেছিলেন। কোপার্নিকাস ফ্রুয়েনবার্গ গির্জায় থাকাকালীন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ (খালি চোখে) ও গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্ব নিয়ে জ্ঞানসাধনা চালিয়ে যান। তাঁর অধ্যয়ন যত এগিয়ে যেতে থাকে, তিনি টলেমীয় ধারণায় বেশি করে আস্থাহীন হয়ে পড়তে লাগলেন। ১৫১০ থেকে ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল ধরে কোপার্নিকাস তাঁর মতবাদের সংক্ষিপ্তসার হিসেবে "de hypothesibus motuum coelestium a syconstitutis commentariolus" (মহাশূন্যের বস্তুনিচয়ের বিন্যাস থেকে তাদের গতিশীলতা সম্বন্ধে তত্ত্বসমুহের ওপর মন্তব্য) রচনা করেন। গ্রহমণ্ডলীয় কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে বিদ্যমান সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি ও নিজ অক্ষের চারদিকে তার আহ্নিক ঘুর্ণন থেকেই যে তারকাগুলোর আপাত প্রতীয়মান দৈনিক গতি, সূর্যের বার্ষিক গতি ও গ্রহসমুহের পশ্চাদগতিশীল আচরণের উদ্ভব ঘটে - এ কথাই ছিলো ঐ রচনার মূল প্রতিপাদ্য।

এবার আসি কোরানের আয়াতের দিকে: "তিনিই সৃষ্টি করেছেন, রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই স্বীয় কক্ষপথে বিচরণ করে।' (সুরা আম্বিয়া-৩৩) - এর পর তিনি সূর্যের আবর্তন সম্পর্কে কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য উল্লেখ করেন। সূর্য বিচরণ করে আপন কক্ষপথে, ঠিক আছে। কিন্তু পৃথিবী? পৃথিবী স্থির হলেও কিন্তু সূর্যের বিচরণ সম্ভব। এবং কোরানে এটাই বলেছে, কারণ কোরানে কোথাও বলা হয়নি যে, পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তন করে। স্থির পৃথিবীর ধারণা থেকেই সুর্যের আবর্তনের ধারণার জন্ম। ঠিক যেই জিনিসটা ব্যাখ্যা করার জন্যই ওপরের ইতিহাস, এবং টলেমি যে ভূ-কেন্দ্রিক মডেল উপস্থাপন করেছিলেন, তাতেই সূর্যের এই পরিভ্রমণের ব্যাখ্যা উল্লেখিত। উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে চাঁদ এবং সূর্য নিজ কক্ষে বিচরণ করে, সেখানে অন্যান্য গ্রহ বা পৃথিবী সম্পর্কে বলা হয়নি। এখানে আমরা জানি যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, সুর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, কারণ আমরা সুর্যকে প্রতিদিন পূব আকাশে উদয় ও পশ্চিমে অস্ত যেতে দেখি। সেখানে চাঁদ ও সূর্যকে একত্রে আবর্তনকারী দাবিটি সম্পূর্ণভাবেই ভ্রান্ত ও অবৈজ্ঞানিক।

নামাজরঙ্গ - ৪৪

২৭ জুলাই, ২০১৬

কোরআন আসলে কার বাণী? - ৫

লিখেছেন সাঈদুর রহমান


এবার আসছি দ্বিতীয় অংশে, যেখানে আমি দেখাতে চাচ্ছি, বর্তমান কোরআনের বেশির ভাগ আয়াত মূলত জীবরাঈলের কথা।

আল্লাহই অবতীর্ণ করিয়াছেন সত্যসহ কিতাব এবং তুলাদন্ড। তুমি কি জান, সম্ভবত কিয়ামত আসন্ন? (কোরআন ৪২:১৭) - আয়াতটি মুহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে জীবরাঈলের কথা। জীবরাঈল নিশ্চিত না, কেয়ামত কখন হবে। যদি আল্লাহর কথা হত, তাহলে 'সম্ভবত' শব্দটা এখানে থাকত না!

এগুলো হচ্ছে আল্লাহর আয়াত, তোমার নিকট যথাযথ ভাবে তিলাওয়াত করিতেছি। (কোরআন ৩:১০৮) - এখানে আল্লার বাণী নেই, অরিজিনাল কোরআন থেকে আল্লার বাণী শুনানোর আগে/পরে জীবরাঈল মুহাম্মদকে যে-কথাগুলো বলত, সেটাই বর্তমান কোরআনের লেখকেরা তুলে ধরেছেন।

যখন আমরা এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন। (কোরআন ১৬:১০১) - আল্লাহ ভাল জানেন মানে হল - এগুলো আল্লার নয়, জীবরাঈলের কথা।

হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? (কোরআন ৯:১৩৮) - আল্লাহ কি জানেন না? নাকি জীবরাঈলের না জানাটা যুক্তিসঙ্গত?

আল্লাহ চাহেন তো (ইনশাল্লাহ) তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। (কোরআন ৪৮:২৭) - আল্লাহ 'ইনশাল্লাহ' বলতে যাবে কেন? জীবরাঈল বললেই সেটা যুক্তিসঙ্গত হয়, তাই নয় কি?

হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? (কোরআন ৮২:৬) - আল্লাহ কি জানেন না?

অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? (কোরআন ৪:৮৮) - আল্লাহ কি জানেন না ?

তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না। (কোরআন ৭১:১৩) - আল্লাহ কি জানেন না?

শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর। (কোরআন ৯১:৫) এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন (কোরআন ৯২:৩) - আল্লাহ কি নিজের কাছে নিজে শপথ করছেন, নাকি জীবরাঈলের শপথ করাটা যুক্তিসঙ্গত?

আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে। (কোরআন ১১১:১) - আল্লাহ কি নিজেই নিজের কাছে প্রার্থনা করছেন, নাকি জীবরাঈল আল্লাহর কাছে বলাটা যুক্তিসঙ্গত?

ওপরোক্ত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে আমার মন্তব্য এবং পয়েন্টগুলো সম্পূর্ণভাবেই যুক্তিযুক্ত। তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, যদি অরিজিনাল কোরআনের লেখক কোনো ঈশ্বর (আল্লাহ) বলে দাবি করা হয়েও থাকে, বর্তমান কোরআন তার বাণী নয়। বর্তমান কোরআনকে আরবিতে অনুবাদ করে নিজের মত করে জীবরাঈল মুহাম্মদকে শুনিয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই অরিজিনাল কোরআনের আয়াত না বলে বর্তমান কোরআনে জীবরাঈলের সাথে মুহাম্মদের কথোপথন কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মানে হল - বর্তমান কোরআন কোনো ঈশ্বরের নয়, জীবরাঈলের বাণী। কোরআন পড়ে নিশ্চিত হোন।

প্রাচীনতম ট্রল

আল্লাহু আসগর!

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুসলমানগণ নিজেদেরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় বলে দাবি করে থাকে। যদিও ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট সম্প্রদায় বর্তমান পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া ভার। তাই এক আলোচনা সভায় তথাকথিত মুসলমানদের তেমন শ্রেষ্ঠত্বের অমূলক দাবির বিপরীতে আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বললাম, আমার বিবেচনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ন্যায় বিবেকহীন, নির্লজ্জ ও নিকৃষ্ট সম্প্রদায় বর্তমান পৃথিবীতে আর একটিও নেই। আমার এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নরাধম মুসলমানদের জঙ্গি ঈমানি চেতনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলো। তারা আমার কথা ভুল প্রমাণ করতে নানারকম উদাহরণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে হাজির করতে লাগল। তাদের এমন দুর্বিনীত প্রয়াসে বিরক্ত হয়ে আমি বললাম, আপনারা স্বীয় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি প্রমাণ করতে অজস্র অমূলক উদাহরণের অবতারণায় লিপ্ত হয়েছেন, যদিও তেমন প্রয়াসে আপনাদের দাবি সত্য প্রমাণের সম্ভাবনা ক্ষীণ। অথচ আপনাদের দাবি অসত্য প্রমাণে আমার একটি উদাহরণই যথেষ্ট হতে পারে। আমার এমন মন্তব্যে তারা কিছুটা বিভ্রান্ত হলো এবং কৌতূহলী হয়ে উদ্দিষ্ট উদাহরণটি শোনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

উদাহরণটি ব্যক্ত করার পূর্বে তাদেরকে আমি কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করলাম। তাদের উদ্দেশে  বললাম, "কুখ্যাত কোনো খুনির পরিহিত পোশাক সংগ্রহ করে যদি আপনাদেরকে তা পরিধানের আহ্বান জানানো হয়, আপনারা কি সেই আহ্বানে সাড়া দেবেন?" 

তারা সমস্বরে বললো, "না, সাড়া দেব না।"

আমি তাদেরকে বললাম, "পোশাক তো কোনো অপরাধ করেনি, তাহলে একটি পোশাক পরিধানের নিরীহ আহ্বানে আপনারা কেন সাড়া দেবেন না?"

তারা বলল, "পোশাকটি কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও তা আমাদের নিকট ঘৃণার্হ বস্তু বলে বিবেচিত হয়েছে। কারণ কুখ্যাত একজন খুনি যে-পোশাক পরিধান করে নরহত্যা সম্পন্ন করেছে, সেই পোশাক আমরা পরিধান করতে পারি না; তেমন কর্ম আমাদের নিকট ঘৃণ্যকর্ম বলে বিবেচিত।"

তারপর তাদেরকে বললাম, "কুখ্যাত কোনো ধর্ষকের ব্যবহৃত পায়জামা-পাঞ্জাবি সংগ্রহ করে যদি আপনাদেরকে তা পরিধানের প্রস্তাব করা হয়, আপনারা কি তা পরিধানের প্রস্তাবে সম্মত হবেন?"

তারা সমস্বরে বললো, ‘না, সম্মত হবো না।’ 

আমি তাদেরকে বললাম, "পায়জামা-পাঞ্জাবি তো কোনো অপরাধ করেনি, তাহলে এক জোড়া পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিধানের নিরীহ প্রস্তাবে আপনারা কেন সম্মত হবেন না?"

তারা বলল, "ধর্ষকের ব্যবহৃত পায়জামা-পাঞ্জাবি কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও তা আমাদের নিকট ঘৃণার্হ বস্তু বলে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, কুখ্যাত একজন ধর্ষক যে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিধান করে ধর্ষণকাণ্ড সম্পন্ন করেছে, সেই পায়জামা-পাঞ্জাবি আমরা পরিধান করতে পারি না; তেমন কর্ম আমাদের নিকট ঘৃণ্যকর্ম বলে বিবেচিত।"

অতঃপর তাদেরকে বললাম, "সমাজ-রাষ্ট্রে ঘৃণিত কোনো রাজাকারের ব্যবহৃত টুপি সংগ্রহ করে যদি আপনাদেরকে প্রদান করা হয়, আপনারা কি তা পরিধানপূর্বক নামাজ আদায়ে সম্মত হবেন?"

তারা সমস্বরে বললেন, "না, সম্মত হবো না।"

আমি তাদেরকে বললাম, "টুপি তো কোনো অপরাধ করেনি, তাহলে একটি টুপি পরিধানের নিরীহ কর্মে আপনারা কেন সামিল হবেন না?"
তারা বলল, "টুপিটি কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও তা আমাদের নিকট ঘৃণার্হ বস্তু বলে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, সমাজ-রাষ্ট্রে ঘৃণিত একজন রাজাকার যে টুপি পরিধান করে নিজ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হীন ভূমিকা পালন করেছে, সেই টুপি আমরা পরিধান করতে পারি না; তেমন কর্ম আমাদের নিকট ঘৃণ্যকর্ম বলে বিবেচিত।"

তারা উত্তেজিত হয়ে আরও জানালো, "মুসলমান হিসাবে আমরা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে যেমন সমর্থন করি না, তেমনি কোনো অপরাধীকেও আমরা পছন্দ করি না। আর সে কারণেই কোনো অপরাধীর ব্যবহৃত কোনো বস্তু আমরা ব্যবহার করতে চাই না। হোক সে সামান্য অথবা অসামান্য অপরাধী। এমনকি আমরা কোনো অপরাধীর আচার-ব্যবহারও অনুকরণ ও অনুসরণ করতে চাই না। তেমন কর্মকে আমরা বড্ড অস্বস্তিকর, বিব্রতকর, অপমানসূচক ও অন্যায় কর্ম বলেই বিবেচনা করে থাকি। আর এটাই আমাদের বাস্তবিক নীতি।"

এ পর্যায়ে আমি তাদের নিকট উদ্দিষ্ট উদাহরণ হিসাবে আল্লাহর মহিমাময় তাকবির ‘আল্লাহু আকবর’-এর প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম। আর তাদেরকে বললাম, "আপনাদের নীতিনিষ্ঠতা ও নিকৃষ্টতার সত্যতা যাচাই করতে, আসুন, আমরা উপর্যুক্ত তাকবিরটির যথাযথ মাহাত্ম্য অনুসন্ধান করি।

‘আল্লাহু আকবর’ তাকবিরটির অর্থ — আল্লাহ মহান। যা আল্লাহর প্রতি অযাচিত স্তুতি নিবেদনের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ উচ্চারণ করে থাকে। এটি এমন একটি ধ্বনি, যা মুসলিম জঙ্গিরা বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে যাবতীয় বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন সংঘটনের সময় গর্বের সাথে উচ্চারণ করে থাকে। তাই ফ্রান্সের প্যারিসে শার্লি এবদু কার্যালয়ে জঙ্গি হামলা, প্যারিসের রেস্তোরাঁ ও বাতাক্ল কনসার্ট হলে জঙ্গি হামলা, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলা, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা, ফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক হামলা, জার্মানির ট্রেনে আফগান শরণার্থীর কুড়াল হামলা ও সিরিয়া-ইরাকে আইএস অধিকৃত অঞ্চলে অসহায় নারীদেরকে যৌনদাসীরূপে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সংশ্লিষ্ট মুসলিম জঙ্গিগণ সচেতনভাবে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়বাহী 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি জোর গলায় ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রত্যেক হামলাকারী ও নির্যাতনকারী প্রমাণ করেছে যে, তাদের এই জঙ্গি হামলা ও নির্যাতন ইসলামধর্মে স্বীকৃত জিহাদ-ই-আকবরের সামিল এবং তারা প্রত্যেকে আল্লাহভক্ত মুসলমান। তারা নিরীহ মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে আল্লাহ প্রদত্ত পবিত্র দায়িত্ব বলে গণ্য করে থাকে; তাই তারা নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব সম্পন্ন করার সময় ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি মহা আনন্দে উচ্চারনের মধ্য দিয়ে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে।

অপরপক্ষে নরহত্যাকারী, ধর্ষক ও দেশদ্রোহীদের ব্যবহৃত বস্তু ও সুচিহ্নিত আচারব্যবহার বর্জন করাই যদি আপনাদের বাস্তবিক নীতি হয়ে থাকে, তবে কোন মোহে আপনারা নরহত্যাকারী, ধর্ষক ও দেশদ্রোহী মুসলিম জঙ্গীদের প্রয়োগসিদ্ধ অভিব্যক্তি নির্লজ্জের ন্যায় অনুকরণ ও অনুসরণ করে থাকেন? যে মুসলিম জঙ্গিরা সারা বিশ্বের যে কোনো স্থানে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন চালানোর সময় আল্লাহর মহিমাময় তাকবির 'আল্লাহু আকবর' জোর গলায় ঘোষণা করে থাকে; সেই একই 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি উচ্চারণ করে আপনারা কীভাবে নামাজ আদায় করে থাকেন? যে 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি উচ্চারণ করে মুসলিম জঙ্গিরা নরহত্যা চালায়; সেই একই আল্লাহু আকবর ধ্বনি উচ্চারণ করে আপনারা কীভাবে আযান ও ইকামত প্রদান করেন? যে 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি উচ্চারণ করে মুসলিম জঙ্গিরা অসহায় নারীদেরকে যৌনদাসীরূপে ক্রয়-বিক্রয় ও ধর্ষণ করে থাকে; সেই একই 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি উচ্চারণ করে আপনারা কীভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে থাকেন? এটা কি আপনাদের নীতিবিরুদ্ধতা নয়; যে নীতির বড়াই আপনারা ইতিপূর্বে করেছেন? খুনি, ধর্ষক ও দেশদ্রোহীর পরিহিত পোশাক ও টুপির ন্যায় খুনি, ধর্ষক ও দেশদ্রোহী মুসলিম জঙ্গিদের উচ্চারিত 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি কি আপনাদের নিকট ঘৃণার্হ বিষয় বলে বিবেচিত হয় না? নাকি খুনি, ধর্ষক ও দেশদ্রোহী মুসলিম জঙ্গিদের যাবতীয় অপকর্মের বেলায় সচেতনভাবে আপনারা আপনাদের নীতি বিসর্জন দিয়ে থাকেন? যদি আপনারা আপনাদের নীতি বিসর্জন না-ই দিয়ে থাকেন, তাহলে নিজেদের প্রতিশ্রুত নীতির অনুসরণ করে নামাজ, আযান ও ইকামত হতে খুনি, ধর্ষক ও দেশদ্রোহী মুসলিম জঙ্গিদের মুখে উচ্চারিত 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি কেন বর্জন করেন না? বর্বর মুসলিম জঙ্গিদের মুখে উচ্চারিত বুলি এখনও কেন আপনাদের মুখে উচ্চারিত হয়?

কারণ আপনারা খুনি, ধর্ষক ও দেশদ্রোহী মুসলিম জঙ্গিদের নিষ্ঠাবান সমর্থক। যে তাকবির মুসলিম জঙ্গিদেরকে যাবতীয় অপরাধ সংঘটনে প্রেরণা যোগায়, সেই একই তাকবির আপনাদেরকে প্রেরণা যোগায় ওই সকল মুসলিম জঙ্গিদের সংঘটিত যাবতীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে। আর সে কারণেই আপনারা নামাজ, আযান ও ইকামত হতে খুনে 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি বর্জন না করে বরং সেই ধ্বনির মোহে নিজেদের প্রতিশ্রুত নীতি বর্জন করেছেন। অথচ অসংখ্য নিরীহ মানুষ নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হলে যে-আল্লাহর মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়, অজস্র অসহায় নারী ইসলামি ধর্ষণের শিকার হলে যে-আল্লাহর গৌরব ঘোষিত হয়, মানবিক মূল্যবোধের বিচারে তেমন আল্লাহকে আপনারা কিছুতেই মহান বলে স্বীকার করতে পারেন না। তেমন আল্লাহ কোনোভাবেই ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনির যোগ্য নয়। বরং তার ঐতিহাসিক হীনতা তুলে ধরতে ‘আল্লাহু আসগর’ ধ্বনি উচ্চারণ করাই আপনাদের জন্য সমীচীন; যার অর্থ - আল্লাহ মহাক্ষুদ্র বা আল্লাহ হীনতম। কিন্তু আপনারা, নরাধম মুসলমানগণ, কখনই হীনতম আল্লাহর হীনতা স্বীকার করবেন না। আর এ কারণেই মুসলমানগণ আমার বিবেচনায় বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বিবেকহীন, নির্লজ্জ ও নিকৃষ্ট সম্প্রদায়।"

মডারেট ও বামাতিজনে দেহো আলো

২৬ জুলাই, ২০১৬

ধর্মকারীর কুফরী কিতাব "ইসলামের অজানা অধ্যায়" (দ্বিতীয় খণ্ড)

ইছলামের প্রকৃত ও বিশদ ইতিহাস এবং নবী মুহাম্মদের জীবনী, চরিত্র ও মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে হলে পরিশ্রমী গবেষক ও সুলেখক গোলাপ মাহমুদ রচিত এই ইবুক-সিরিজটি আপনাকে পড়তেই হবে। দীর্ঘ এই রচনাটি সম্পূর্ণভাবে আদি ও মূল ইছলামী তথ্যসূত্রনির্ভর। এতে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনা ও তথ্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভরযোগ্য এবং স্বীকৃত ইছলামী দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত - একটি তথ্যও মনগড়া, অমূলক ও ভিত্তিহীন নয়।

"ইসলামের অজানা অধ্যায়"-এর দ্বিতীয় খণ্ড আজ প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে "মুহাম্মদের ব্যক্তিমানস জীবনী"-র প্রথম পর্ব "মদিনায় মুহাম্মদ - এক" অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নবীচরিতের এমন নিখুঁত, গভীর ও এতো বিস্তারিত বিশ্লেষণ বাংলা ভাষায় আগে কখনও করা হয়েছে বলে মনে হয় না।

এই ইবুকের বিপুল শ্রমসাপেক্ষ নির্মাণকর্মের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নরসুন্দর মানুষ-এর। নামে মানুষ হলেও তিনি, প্রকৃতপক্ষে, অমানুষ। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অবিশ্বাস্য উৎসাহের সঙ্গে নিরলসভাবে করা এই কাজগুলো তাঁর চরিত্রের অমানুষিক দিকটিই প্রকট করে তোলে। তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী খণ্ডও নাকি প্রায় প্রস্তুত!... তাঁকে পেয়ে ধর্মকারী ঋদ্ধ হয়েছে।

আর হ্যাঁ, ধর্মকারী ব্লগে গোলাপের গবেষণা-সিরিজটির ধারাবাহিক প্রকাশ অব্যাহত থাকছে এবং পাশাপাশি বর্তমান ইবুকের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম... খণ্ডও একে একে আলোর মুখ দেখবে অচিরকালেই। অনন্যসাধারণ এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে ধর্মকারী অহংকার করতেই পারে।

----------

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ৪.০৫ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/k0RwBw
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/dbGwba

ইবুকটির অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন নিচে এমবেড করা হলো।

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ৩৬

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫

no: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কিছু মুছলিম মনে করে, অন্য ধর্মগুলো নিয়ে রঙ্গব্যঙ্গ করা যায়েজ, কিন্তু ইছলাম নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা মানেই তা গর্হিত কাজ ও "ইছলামোফোবিয়া।"

YasmiNe: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সমালোচনাকারীদেরকে হুমকি ও হত্যা এবং ধর্মত্যাগকারীদেরকে হত্যার মাধ্যমে টিকে থাকতে হয় যে-ধর্মকে, সেটা সত্যধর্ম হতে পারে না।

femmendos: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার মর্যাদা অর্ধেক পুরুষের চেয়ে বেশি। (কোরান ৪:১১)

Sam Wad: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সম্পর্কে আমি যা জানি, সেটাই ইছলামকে বাতিল করার জন্য যথেষ্ট। "আপনারা ইছলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না" জাতীয় কুযুক্তি ব্যবহার করবেন না।

Khurshid Yuldoshev: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বিন লাদেন বেহেশতে যাবে, কিন্তু নিউটন, ডারউইন, আইনস্টাইন, এমনকি গান্ধীও যাবেন দোজখে। কারণ তাঁরা অমুছলিম।

AgnosticAlias: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সুরা নিসা।

Persian Rose: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ স্যাটেলাইট টিভি দেখতে নিষেধ করার অধিকার মোল্লাদের নেই। নেই পুলিশ ডেকে এনে দালানের ছাদ থেকে ডিশ অ্যান্টেনা নামিয়ে জরিমানা করানোর অধিকার।

ExMuslimBecause: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ নতজানু হয়ে জায়নামাজে মাথা ঠেকানোর চেয়ে ক্যান্সারের নিরাময় খোঁজার পেছনে সময় ব্যয় করা উত্তম।

AtheistInHijab: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ প্রত্যেক ঈদুল আজহায় কথাটা আমি না ভেবে পারি না যে, কোরবানির যে-প্রথাটি আমরা উদযাপন করি, তা নির্দয়, বর্বর ও বীভৎস। 

Maryam Namazie: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার পর্দাত্যাগ কোনও ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে না।

কার্যকরী ক্রুশ

জান্নাতের প্রধান ফটকের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, ৭ জন নিহত

লিখেছেন তুয়াম লুকিলাম

আসস, নিজস্ব প্রতিবেদক:

জান্নাতুন আদনের প্রধান ফটকের সামনে গতকাল এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪ জন ফেরেশতাসহ মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। জান্নাতুন আদনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ফেরেশতাদের সরদার হজরত মুক্রীন (আ) আসস-কে জানান, গতকাল এক অজ্ঞাত পরিচয় দাড়িওয়ালা জ্বীন জান্নাতুন আদনে প্রবেশ করতে আসে। সে কর্তব্যরত ফেরেশতাদের তার কাছে থাকা জাল ভিসা এবং পাসপোর্ট দাখিল করলে ফেরেশতাদের সন্দেহ হয়। তারা এই সন্দেহভাজন জ্বীনকে আটক করতে গেলে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হয় এবং হামলাকারীসহ আশেপাশে থাকা ৭ জন নিহত হন, এবং ১ জন গুরুতর আহত হন। 

নিহত দেবতা ২ জন হচ্ছেন হজরত এরিয়েল (আ) ও হজরত প্রমিথিউস (আ); তাদের সাথে থাকা কামদেব হজরত কিউপিড (আ) গুরুতর আহত অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদাউসের হজরত ইবনে সিনা (র.) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জান্নাতুন আদনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হজরতে এথেনা বিশ্বাস (আ) জানিয়েছেন, ইডেনে কোনো জঙ্গী নেই, সব মিডিয়ার সৃষ্টি। এবং তা ইবলিশ ও ফেরাউনের চক্রান্ত হতে পারে। তারা জান্নাতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। 

এদিকে মৃত্যু অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান হজরত আযরাঈল (আ) নিহতদের ছিন্নভিন্ন রুহ/আত্মাকে খেজুরের আঁশ দিয়ে সেলাই করে অন্তিম সৎকারের আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। আজ বাদ আসর নিহতদের জানাজা-শেষে ব্ল্যাক হোলে মরদেহ নিক্ষেপ করা হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন হজরতে মুনি বিশ্বামিত্র (আ)। 

উক্ত ঘটনায় সারা আসমানে ৩ দিন ব্যাপী জান্নাতী শোক পালন করা হবে।

(আসমানী সংবাদ সংস্থা, সংক্ষেপে - আসস নামে একটি সংবাদ সংস্থা খোলা হয়েছে, এখানে আসমানের আল্লা খোদা গড ভগবান দেবতা ফেরেশতাসহ জ্বীন জাতি ও মৃত নবী রসূল এবং অবতারগণের ব্যঙ্গাত্মক খবরসমূহ সিরিজ আকারে প্রকাশ করা হবে)

ইউরোপীয় আত্মঘাতী সুশীলতা

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

২৫ জুলাই, ২০১৬

মাদ্রাসাছাত্রের নাস্তিক হয়ে ওঠার গল্প

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

একজন মানুষ হুট করেই নাস্তিক হয়ে যায় না। নানা সময় নানা কারণের ভেতর দিয়া আসার ফলে মানুষ নাস্তিক হয়। আমিও সেভাবেই হয়েছি। প্রথমত, জন্মগতভাবে সব মানুষই নাস্তিক। একটু চিন্তা করলেই সেটা বোঝা যায়। জন্মের সময় আমার ধর্ম ছিল না। আমার কোনো স্মৃতি ছিল না, কোনো আদর্শ, কোনো জ্ঞান কিছুই ছিল না। আমার পরিবারের হাত ধরেই আমার মুসলিম হবার দীক্ষা। পারিবারিকভাবে আমি তাই একজন মুসলিম হয়ে বড় হতে থাকলাম। স্কুলে কিছুদিন পড়ার পর আমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে গেলাম। আমি মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মত ফাঁকিবাজ ছিলাম না। নিয়মিত ক্লাসে যেতাম। নিয়মিত পড়া শিখতাম। ভাল ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে আমি পরিচিতি পেয়ে গেলাম।

আমাদের পাড়ায় আমাদের এক খেলার সাথী ছিল হিন্দু। মাঝে মাঝেই আমার মনে হত, আহা রে, আমরা সব বন্ধুরা জান্নাতে যাব, অথচ এই একটা বন্ধু দোযখে যাবে। এটা ভাবলে খুব কষ্ট হত। বন্ধু দোযখে যাবে - এটা মানতে চায় না মন, আবার মনে হত, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তবুও মনটা খুঁতখুঁত করত। একটা ভাল ছেলে কেন শুধু শুধু দোযখে যাবে? এটা ছিল একেবারে কচি বয়সে ধর্ম নিয়ে আমার সংশয়। 

ছোটবেলা থেকেই হুমায়ুন আর জাফর ইকবালের বই পড়ার অভ্যাস। বই পড়লে মানুষের চিন্তাশক্তি বাড়ে। তাই বলা যায়, মাদ্রাসায় পড়লেও আমি সীমাবদ্ধ মানসিকতার হইনি। একদিন জাফর ইকবালের একটা বই পড়তে গিয়ে আবার সেই জিনিসটা মাথাচাড়া দিল: কেন হিন্দুরা বেহেশতে যাবে না, যদি তারা ভাল লোকও হয়? কেন আইনস্টাইন, নিউটন, বাফেটরা দোযখে যাবে? এই ভাবনাটা আমাকে সবসময় পীড়া দিত। 

আমি একসময় মাদ্রাসা থেকে হেফজ শেষ করলাম। গ্রামের মসজিদে শুরু করলাম তারাবী পড়ানো। তখন আলেম হবার জন্য আবারো ভর্তি হই আরেক মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে। এদিকে কোরান অনুবাদ পড়তে গিয়ে সুরা তাওবা পড়ে ভয়ানক আঘাত পেলাম। এগুলো শান্তির বাণী! খুনের আদেশ, হামলার আদেশ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এসব দেখে রাগে-দুঃখে চোখে পানি চলে এল। তখন ভাবলাম, আমার বোঝার ভুল। এটা আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ যা করে, ভালর জন্য করে। আল্লাহ ভাল জানে, তাই এরকম করেছে। আমি সামান্য বান্দা, কতই বা জ্ঞান আমার!... যদিও নিজেকে এসব বলে প্রবোধ দিতাম, তবুও ভেতরে ভেতরে খচখচ করত। মনে হত, পরম করুণাময়ের এ কী বিচার! 

মাদ্রাসায় সেরা কোরানে হাফেজ হিসাবে গোলাম মুস্তফার বিশ্বনবী বইটা উপহার পাই। এই বইটা পড়তে গিয়ে বনু কুরাইজার গণহত্যা পড়তে গিয়ে কেঁপে উঠি। নবী এই জিনিস করেছেন, মানতে কষ্ট হয়। আমার মনে হয়, এগুলো মিথ্যা। সব জাল হাদিস। মহানবী এমন হতেই পারেন না। নিজেকে বললাম, গোলাম মোস্তফা তো আলেম না। তিনি নির্ঘাত কোনো ভুল করছেন। আমার নবী এমন হতেই পারেন না। 

কিন্তু না, পরে জানি, মহানবী নিজেই হত্যা করেছেন বনু কুরাইজার ৮০০ পুরুষকে, দাসী বানিয়েছেন মেয়েদের আর শিশুদের। শিশুদের দাস বানানোটা মেনে নিতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। আবার নিজেকে বলি, নবী আল্লাহর নির্দেশেই করেছেন। সব আল্লাহর হুকুম। মৌলানা হবার জন্য ৯ বছর পড়তে হয়। আমি পড়ছি তখন ২য় বর্ষে। সেই সময় ফেসবুকে এলাম। ফারাবির লেখা অনেক ভাল লাগত। ফারাবির ফলোয়ার হলাম। এইটা ২০১১ সালের কথা। তখন ফারাবির মাধ্যমেই বিভিন্ন নাস্তিক পেজের দেখা পেলাম। এসব পেইজে মহানবীকে নিয়ে আজেবাজে পোস্ট দেখে বুক কাঁপতে লাগল। মনে হত, এদেরকে যদি কেউ আমার সামনে এনে দিত, তবে কুপিয়ে মগজ বের করতাম। 

তা সত্ত্বেও ঠিক করলাম, এদের লেখাগুলো পড়ব। ফারাবি যেরকম লিখে জবাব দেয়, আমিও সুন্দর সুন্দর নোট লিখে জবাব দেব। নাস্তিকদের লেখা পড়ি, যাচাই করি, কিন্তু উত্তর খুঁজে পাই না। কী উত্তর দিব! নাস্তিকরা যা বলছে, তা তো সত্যি। নাস্তিকরা বলল, কোরানে মেয়েদের শস্যক্ষেত্র বলা হয়েছে। আমি মাদ্রাসার ছাত্র, আমি জানি কথাটা সত্য। আমি অস্বীকার করতে পারি না। অস্বীকার করলে কোরানের আয়াতকেই অস্বীকার করা হবে। নাস্তিকরা লেখে, বনু কুরাইজার নির্মমতা, জয়নব কেলেংকারি, দাসপ্রথা, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের কথার ৭৫% ই কোরান-হাদিসের কথা। বাকিটা হয়ত অজ্ঞতা। কিন্তু ৭৫% কথাই তো কোরান-হাদিস থেকেই বলছে। 

ঠিক এই সময় থেকেই আমি পড়াশুনায় অমনোযোগী হতে থাকি। নামাজ পড়ার আগ্রহ পাই না। কোরান তেলাওয়াত করি না। আমার কট্টর ধার্মিক বাবা ধর্মের অনর্থক নিয়মকানুন পালনে আমাকে বাধ্য করত। যেমন - টিভি দেখা যাবে না। ক্রিকেট খেলা দেখতে পারি না, বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারি না, মেয়ে কাজিনদের সাথে গল্প করতে পারি না, কোনো মেয়ে কাজিনের সাথে বা গ্রামের কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলেই প্রচণ্ড খারাপ ব্যবহার করত আমার বাবা। সব মিলিয়ে বিদ্রোহী হতে থাকল আমার মন। 

ধর্মবিশ্বাস তখন অনেকটাই নষ্ট। তবে ধর্ম না মানলেও নাস্তিকরা ধর্মের বিপক্ষে লিখছে, এটা মানতে পারতাম না। তখনও মনে হত, ধর্ম না থাকলে মানুষ খারাপ হয়ে যাবে। পরকালের ভয়ে অনেকে খারাপ কাজ করে না... ইত্যাদি ভাবতাম। নিজে যদিও প্রায় নাস্তিকই হয়ে গেছি, তবু ভাবতাম, আমি ভাল বলেই আমার আর ধর্মের প্রয়োজন নেই। কিন্তু অন্যদের আছে। এই ধারণাটা নাস্তিক হবার পরও অনেকদিন ছিল। 

কিন্তু একদিন এক নাস্তিক একটা প্রশ্ন করল, ধর্মই যদি মানুষকে সৎ রাখতে পারে, তাহলে মুসলিম দেশগুলাই সবচেয়ে খারাপ কেন আজ? মুসলিমরা সব দিক থেকে পিছিয়ে কেন? এই প্রশ্ন আমাকে মানতে বাধ্য করল, অন্তত ইসলাম ধর্ম একেবারেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস। 

মাদ্রাসায় পড়তাম বলে মাদ্রাসার বাইরের জগতটার ব্যাপারে ধারণা ছিল না। নাস্তিক হবার পর পাঞ্জাবি-পায়জামা ছেড়ে দিয়ে প্যান্ট-টিশার্ট ধরলাম। নবীর সুন্নত হিসেবে এক মুঠি দাড়ি ছিল। কামিয়ে ফেললাম। বাবা-মা'র সাথে সম্পর্ক এতটাই খারাপ হল যে, ঘরে থাকাই দায়। বুঝলাম, ধর্ম - বিশেষত ইসলাম - কী চিজ! বুঝলাম, এই নোংরা জিনিস যতদিন দুনিয়াতে থাকবে, দুনিয়ার অকল্যাণ। এটি সন্তানকে মা-বাবার কাছে ঘৃণ্য করে তোলে। এরপর থেকেই আমি মন থেকে সমর্থন করি ধর্মবিরোধীদের। নব্য নাস্তিক হিসেবে আমি গর্বিত।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৫৮

নাজিল হলো ফাজিল 'পরে - ৩

লিখেছেন বিরামহীন-আরাম

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে (সূরা আন-নাবা, শেষ অংশ): পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। (৩১) উদ্যান, আঙ্গুর, (৩২) সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী। (৩৩) এবং পূর্ণ পানপাত্র। (৩৪) তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না। (৩৫) এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান (৩৬) যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়,কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে না। (৩৭) যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে। (৩৮) এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক। (৩৯) আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়,আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম। (৪০)

এই আয়াতগুলো থেকে আমরা কী বুঝলাম?

আগেই কইসি কুরানে খালি ছাইঞ্চ আর ছাইঞ্চ - মানে বিগ্যান! আপনার মনে তিল পরিমান সন্দেহ থাকলে আবার মিলায়ে নেন। তবে এই আয়াতগুলা ঠিক ডাইরেক্ট ছাইঞ্চ না। ছোশাল ছাইঞ্চ বলতে পারেন। আর ছোশাল ছাইঞ্চ তো ছাইঞ্চ-ই। কী বলেন? তা এইটা কীভাবে ছোশাল ছাইঞ্চ-এর ভিতরে পড়লো? দেখেন:

পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। (৩১) - >>> আপনি যদি পুরুষ হন: আপনি তো আর এমনি এমনি আল্লারে ডাকবেন না, তাই না? বিনা কারণে তো আর পরহেযগার হবেন না। একটা কিছু মোটিভেশান তো লাগবেই। এইগুলা পরের আয়াতে জলবৎ তরলং করা হয়েছে। আপনি পাবেন আঙ্গুর, পূর্ণ যৌবনা তরুণী এবং পূর্ণ পানপাত্র। এখন পানপাত্র হাতে আঙ্গুর খাইতে খাইতে আপনি পূর্ণ যৌবনা তরুণীর সাথে লুডু খেলবেন নাকি দাবা খেলবেন, সেইটা আপনার ব্যাপার। তউবা আস্থাগফিরুল্লাহ। ভুইলা গেছি, দাবা খেলা তো হারাম!... আর আপনি যদি নারী হন: দেখেন, আপনার জন্য তেমন বিশেষ সুবিধাদি রাখা হয় নাই। তবে আপনি একদম নিরাশ হবেন না। আপনার স্বামী যাদের সাথে লুডু খেলবে, তাদের সর্দারনী হইবার বিরল গৌরব আপনি অর্জন করবেন। আর যদি আপনি অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান, তা হইলে আর কী! ঐ যে উদ্যান আছে, সেইখানে বনে বাদাড়ে বইসা আঙ্গুর খাইবেন। বলেন সুভানাল্লাহ।

উদ্যান, আঙ্গুর, (৩২) - >>> বুঝতেই পারেন বালু-মরুভূমির আরবে উদ্যান এবং আঙ্গুর দুইটাই কীরকম দুষ্প্রাপ্য জিনিস। আপনার জন্য তাই বেহেস্তে এই দুইটার পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হইল। কিন্তু খবরদার আঙ্গুর বেশি খাইলে কিন্তু লুজ মোশান হইতে পারে। ওইখানে ওরস্যালাইন পাওয়া যায় কি না, এইটা আমি শিওর না।... কিন্তু আল্লায় আঙ্গুরের লোভ দেখাইয়া কেমনে ফ্রান্সের “ভোঁস রোমানি” অঞ্চলের মুমিনদের বেহেস্তে লইয়া যাবে, এইটা আমার মাথায় ঢুকে না। রোমানি এলাকা ওয়াইন আর আঙ্গুরের লাইগা পৃথিবী বিখ্যাত। তাদের কাছে গিয়া অন্য কোনো জায়গার আঙ্গুরের কথা কইলে "বান্দির পুত" বইলা চটকানা দিব। আল্লায় সেইসব মুমিনগো ঠেকা দিব কেমনে?

সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী। (৩৩) - >>> একটু আগেই কইসি, আপনি পরহেযগার মানুষ। চাইলেই আপনি তাদের লইয়া লুডু অথবা কুতকুত খেলতে পারেন। পৃথিবীর মত বাধ্যবাধকতা ওইখানে তো আর নাই। কেউ জিগাইবই না, আপনি কেন ৭২ জন পূর্ণযৌবনা তরুণীর সাথে কুতকুত খেলেন? সাহস থাকলে আপনি আপনার আব্বার কুতকুত খেলাও দেখতে পারেন। কী সুন্দর ফ্যামিলি রি-ইউনিয়ন হইবো, চিন্তা করসেন। বলেন, এমনই যেন হয়, আমিন। 

এবং পূর্ণ পানপাত্র। (৩৪) - >>> পানপাত্রে তো আর আপনার লাইগা গরম গরুর দুধ কেউ রাখবো না, তাইলে ওইখানে কী থাকবো, সেইটা বুইঝা লন। আর বেহেস্তে গরু পাইবেন কই? বেহেস্তে চার পায়া প্রাণী বলতে আছে খালি বুরাক। আপনার যদি প্রোটিনের খুব দরকার হয়, তাইলে আল্লার কাছে বুরাকের দুধ চাইতেই পারেন। বেহেশতী হিসাবে আপনার একটা হক আছেনা। আল্লায় না করবো না নিশ্চয়। তিনি চ্রম দয়াশীল।... আর একখান কথা, আপনি যদি ক্লাশ টেন ছাইঞ্চ পাশ দিয়া থাকেন, একটু চিন্তা কইরা দেইখেন তো, বেহেশতী আঙ্গুর থেইকা ফারমেন্টেশান ছাড়া আর কোন তরিকায় ফেরেশতারা শরাব বানায়? পৃথিবীর ফালতু তরিকা নিশ্চয় তেনারা ইস্তেমাল করেন না।

তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না। (৩৫) - >>> এইখানে সত্য কথা বলা হইসে। বেহেশতে নিশ্চয় আপনার কান থাকবো না। কানের কী কাজ? সব কাজ তো দুই রানের মধ্যিখানে। ঠিক কি না? আর লুডু, কুতকুত খেলার সময় কানে কিছুই শোনা যায় না।

এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান (৩৬) - >>> আলহামদুলিল্লাহ্‌। পৃথিবীতে যা কিছু নিষেধ, সব বেহেস্তে খুল্লামখুল্লা। 

যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়,কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে না। (৩৭) যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে। (৩৮) - >>> নভোমন্ডল, ভূমন্ডল? ইউটিউবে একটু দেইখা লন, পৃথিবী কোন জায়গাতে আছে এই গ্যালাক্সির। চিন্তা করেন তো, হেলমেট অক্সিজেন ছাড়া জোব্বা পইরা বুরাকে চাইপা আমাগো নবী গ্যালাক্সি পাড়ি দিয়া যাইতাছে সাত আসমানের ঐ পারে সব নবীগো নামাজে ইমামতি করতে। চিন্তা করলেই আমার চোখে পানি চইলা আসে। হাসির চোটে। রূহ ও ফেরেশতা সারিবদ্ধভাবে খাড়াইবো। একদম ইস্কুলের এসেম্বলির মতো। আর্মির মার্চের পাস্টের মতো। আবার সবাইরে চুপ থাকতে হইবো। অবশ্য যাগোরে অনুমতি দেয়া হইবো তারা কিন্তুক মিনমিন কইরা কইতে পারবো “আল্লা, রফিক্যা হেঞ্চিল দি অ্যাঁর হোন্দে ডিঁয়া দিসে।”

এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক।(৩৯) আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়,আফসোস - আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম। (৪০) - >>> সত্য না হইয়া যাইবো কই? উদ্যান, আঙ্গুর, তরুণী, শরাব এইসব সত্য না হইয়া যাইবো কই? শাস্তিও সত্য। এই বিষয়ে আরেকদিন আয়াত নাজেল করুমনে। ...বিচারের দিনে কাফেরেরা কইবো, "ইশ! হোমওয়ার্ক যদি কইরা আসতাম, তাইলে আর বেঞ্ছের উপ্রে কান ধইরা দাঁড়াইতে হইতো না। আফসুস।"

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৮৮

২৪ জুলাই, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ৪: আলী ইবনে আবু তালিবের বীরত্ব!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৩৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত সাত

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আগ্রাসী হামলার আকস্মিকতা কাটিয়ে ওঠার পর খায়বারের ইহুদি জনপদবাসী তাঁদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টায় যে-প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা ও উমর ইবনে আল-খাত্তাব যখন তাদের দলবল নিয়ে মুহাম্মদের কাছে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তখন মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে কী ঘোষণা দিয়েছিলেন;  উমরের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ অনুসারীরা উমরের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছিলেন; পরদিন সকালে চোখের অসুখে আক্রান্ত আলী ইবনে আবু তালিব-কে যুদ্ধের ঝাণ্ডাটি দেয়ার আগে মুহাম্মদ কীভাবে আলীর চোখের চিকিৎসা করেছিলেন [কুরান (পর্ব: ১-৯ ও ১৩) ও হাদিস গ্রন্থে এরূপ বহু 'ইসলামী বিগ্যান' এর সন্ধান পাওয়া যায়!]; মুহাম্মদ তাঁর দশ বছরের মদিনা-জীবনে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যে বিপুল সংখ্যক সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তার কয়টিতে তিনি উমর ইবনে খাত্তাব ও আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা-কে অধিনায়ক হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন; নেতৃত্ব-পদমর্যাদায় (Leadership position) নিম্নতম অভিজ্ঞতা ও এ সকল যুদ্ধ-বিগ্রহের কোনোটিতেই কোনোরূপ বিশেষ অবদানের স্বাক্ষর না রাখা সত্ত্বেও মুহাম্মদের মৃত্যুর দিনটিতে তাঁর লাশটি বিছানায় ফেলে রেখে আবু বকর কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন; মৃত্যুকালে আবু বকর সেই ব্যক্তিকে কী পুরস্কারে পুরস্কৃত করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা পুনরারম্ভ: [1] [2]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৩২) পর:

'তাই আলী সেটি [ঝাণ্ডা] নিয়ে রওনা হয়, ত্বরা করার কারণে সে হাঁপাচ্ছিল আর আমরা তার পথ অনুসরণ করে পেছনে পেছনে আসছিলাম যতক্ষণে না সে তার ঝাণ্ডাটি দুর্গের নিচের এক স্তূপ পাথরের ওপর আটকে রাখে। এক ইহুদি ওপর থেকে তাকে দেখে ও জিজ্ঞাসা করে যে, সে কে, যখন সে তাকে তা জানায়, তখন সে বলে, "তুমি জিতে গেছো, যা মুসার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল!", কিংবা এরকম কোনো বাক্য (আপাতদৃষ্টিতে ইহুদিটি আলীর নামটি-কে ওমেন (omen) মনে করেছিল যখন সে বলেছিল 'আলাতুম'); তার মাধ্যমে আল্লাহর বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সে ফিরে আসে না।

আল্লাহর নবীর মুক্তিপ্রাপ্ত আবু রাফি নামের এক দাস হইতে > তার পরিবারের এক সদস্যের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে > আবদুল্লাহ বিন হাসান আমাকে বলেছেন:

"যখন আল্লাহর নবী তাঁর যুদ্ধের ঝাণ্ডাটি সহ আলীকে প্রেরণ করেন, আমারা তার সঙ্গে রওনা হই। অতঃপর যখন সে দুর্গের নিকটে আসে তখন দুর্গ-সেনারা বের হয়ে আসে ও সে তাদের সাথে যুদ্ধ করে। এক ইহুদি তাকে এমনভাবে আঘাত করে যে, তার ঢালটি তার হাত থেকে পড়ে যায়, তাই আলী দুর্গ পাশের এক দরজা টেনে তুলে তা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। যুদ্ধরত অবস্থায় সেটি সে তার হাতেই ধরে রাখে যতক্ষণে না আল্লাহ আমাদের বিজয়ী করে, সবকিছু শেষ হলে সেটা সে দূরে নিক্ষেপ করে। আমি যা নিজে দেখেছি, তা হলো, আরও সাতজন লোক নিয়ে সেই দরজাটি আমরা ওল্টানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমরা তা পারিনি।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনা: [3]

'প্রথমেই যে ব্যক্তি বের হয়ে তাদের দিকে আসে সে হলো মারহাবের ভাই আল-হারিথ ও তার দল। মুসলমানরা তাদের সম্মুখীন হয়, আলী লাফ দিয়ে গিয়ে তাকে সজোরে আঘাত করে ও তাকে হত্যা করে। আল-হারিথের সঙ্গীরা দুর্গে ফিরে যায় ও ভেতরে প্রবেশ করে তারা সেটির দরজা বন্ধ করে নিজেদের আবদ্ধ করে রাখে।---

আবু রাফি হইতে বর্ণিত: "যখন আল্লাহর নবী আলীকে তার ঝাণ্ডাসহ প্রেরণ করেন তখন আমরা তার সাথে ছিলাম। দুর্গের দরজায় আলী এক লোকের সম্মুখীন হয়। লোকটি আলীকে আঘাত করে, আর আলী তার ঢাল দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। অতঃপর আলী দুর্গ মধ্যে অবস্থিত একটি দরজা হাতে নেয় ও সেটি দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। তার মাধ্যমে আল্লাহর এই দুর্গ জয়ের পূর্ব পর্যন্ত দরজাটি ছিল তার হাতেই। সে দুর্গ জয় করে তার ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে খবরটি পৌঁছে দেয়ার জন্য সে এক লোককে আল্লাহর নবীর কাছে পাঠায়। এই দুর্গটি ছিল মারহাবের।

(‘The first of those who set out to them was al-Harith, the brother of Marhab, with the runners. The Muslims appeared, and Ali Jumped and struck hard, and Ali killed him. The companions of al-Harith returned to the fortress, entered and locked themselves in.’---)

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, পর পর দুই-তিন দিন ব্যর্থ হামলার পর নাটার এই দুর্গটির পতন হয় আলী ইবনে আবু তালিবের নেতৃত্বে। 'ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ' শিরোনামের গত একশত ছয়টি পর্বের বিস্তারিত আলোচনায় আমরা জেনেছি যে, অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিগ্রহে আলী ইবনে আবু তালিব বিভিন্ন সময়ে যে-বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, এই উপাখ্যানটি তার আর একটি উদাহরণ। মুহাম্মদের জীবদ্দশায় বিভিন্ন যুদ্ধে আলী ইবনে আবু তালিবের বীরত্বগাথার যে-পরিচয় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, তা হলো:

১) বদর যুদ্ধে আলী নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলেন প্রথমে ওতবা বিন রাবিয়ার ছেলে আল-ওয়ালিদ বিন ওতবা কে, অতঃপর তাঁর পিতা ওতবা বিন রাবিয়াকে - যার বিস্তারিত আলোচনা "নৃশংস যাত্রার সূচনা (পর্ব ৩২)!" পর্বে করা হয়েছে।

২) ওহুদ যুদ্ধে যখন মুহাম্মদ গুরুতর আহত হয়েছিলেন, এই আলী ইবনে আবু তালিব তাঁর হাতটি ধরে রাখেন ও তালহা ইবনে ওবায়েদুল্লাহ তাঁকে টেনে ওঠান, যতক্ষণে না তিনি খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এই যুদ্ধে মুহাম্মদের বডি-গার্ড মুসাব বিন উমায়ের নিহত হওয়ার পর মুহাম্মদ যুদ্ধের ঝণ্ডাটি দিয়েছিলেন আলীকে, আর আলী অন্যান্য মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন - যার বিস্তারিত আলোচনা "আহত মুহাম্মদ (পর্ব: ৬০)!" "আক্রান্ত মুহাম্মদ (পর্ব: ৬১)!” পর্বে করা হয়েছে।

৩) খন্দক যুদ্ধে আলী তাঁরই পিতার বন্ধু আমর বিন আবদু উদ্দ-কে নৃশংসভাবে হত্যা করেন! তাঁর পিতার এই বন্ধুটি সেখানে বলেছিলেন, "হে আমার ভাতিজা, আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই না।" প্রতি-উত্তরে আলী তার জবাব দিয়েছিলেন এই বলে, "কিন্তু আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই।"- যার বিস্তারিত আলোচনা "আলী ইবনে আবু তালিবের নৃশংসতা (পর্ব ৮২)!" পর্বে করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত 'সিরাত ও হাদিস' গ্রন্থের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - মুহাম্মদ তাঁর জীবদ্দশায় আবু বকর ও উমর-কে কোনোরূপ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব-পদমর্যাদায় শুধু যে-নিয়োগ দান করেননি (পর্ব: ১৩২) তাইই নয়, এই বিপুল সকল যুদ্ধবিগ্রহের কোনোটিতেই এই দুই ব্যক্তি আলী ইবনে আবু তালিব ও মুহাম্মদের অন্যান্য বিশিষ্ট অনুসারীদের মত কোনো 'বিশেষ বীরত্ব' প্রদর্শন করেছিলেন, এমন তথ্যও কোথাও বর্ণিত হয়নি। সাধারণ সুন্নি মুসলমানদের কাছে এই তথ্যটি খুবই আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আদি উৎসের বর্ণনায় এই প্রামাণিক তথ্যটি (Evidence) অত্যন্ত স্পষ্ট।

তা সত্ত্বেও,
মুহাম্মদের মৃত্যুর পর মুহাম্মদের এই দুই অনুসারী কী প্রক্রিয়ায় নিজেদেরকে মুসলিম জাহানের অধিপতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তা আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। ওমর ইবনে খাত্তাবের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর মুহাম্মদের একান্ত পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে এই আবু-বকর ও ওমর কীরূপ আচরণ করেছিলেন, তার আলোচনা "হিন্দের প্রতিশোধ স্পৃহা! (পর্ব ৬৪)" পর্বে করা হয়েছে। আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, আয়েশার প্রতি অপবাদ শ্রবণ করার পর যখন মুহাম্মদ এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য আলী ইবনে আবু তালিব-কে  তলব করেন ও তাঁর পরামর্শ চান, তখন আলী তাঁকে যে-পরামর্শটি দিয়েছিলেন, তা হলো, "অঢেল মহিলা আছে, আপনি সহজেই একজনের পরিবর্তে অন্য একজনকে গ্রহণ করতে পারেন (পর্ব: ১০৩)।" - এই ঘটনাটি কোনোভাবেই আলী ইবনে আবু-তালিবের সঙ্গে আয়েশা ও তার পরিবারের সুসম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে না।  নিজ কন্যার বিরুদ্ধে এমন একটি অপমানজনক উক্তি অতি সহজেই  কী কেউ ভুলে যেতে পারেন? অসহায় সেই মুহূর্তে আলীর এই অপমানজনক উক্তি কি আয়েশার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব?

অতঃপর চব্বিশটি বছর (৬৩২-৬৫৬ সাল) মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবারের (হাশেমী বংশের) কোনো সদস্য মুসলিম জাহানের অধিপতি হবার সুযোগ পাননি। মুহাম্মদের মৃত্যুর চব্বিশ বছর পর ইসলামের ইতিহাসের তৃতীয় খুলাফায়ে রাশেদিন উসমান ইবনে আফফানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এক অস্বাভাবিক পরিবেশে মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবারের সদস্য এই আলী ইবনে আবু-তালিব ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার সুযোগ পান। অতঃপর বিভিন্ন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সীমাহীন নৃশংসতার উদাহরণ সৃষ্টি করেও (পর্ব: ৮২) মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবারের এই সদস্য মাত্র পাঁচ বছর (৬৫৬-৬৬১ সাল) ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছিলেন!

শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মদের মৃত্যুর ঐ দিনটি থেকেই আলী ইবনে আবু-তালিব সহ মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবার (হাশেমী বংশ) সদস্যদের নেতৃত্ব বঞ্চিত করতে যে-লোকগুলো ক্ষমতার রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তাদের প্রথম ও প্রধান ছিলেন আবু-বকর ইবনে আবি কুহাফা ও উমর ইবনে আল-খাত্তাব। শিয়া মুসলমানদের কাছে উমর ও আবু বকর (ও আয়েশা) নামটি হলো ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত চরিত্র!  তাঁদের এই বিশ্বাসের ভিত্তি হলো আদি উৎসে বর্ণিত ইসলামের ইতিহাসের এই সব তথ্য-উপাত্ত।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

প্রচারে বিঘ্ন অথবা ধর্মপ্রচারক ও ধর্মপচারকেরা – ৪৪

শেখ'স শপ - ১১

লিখেছেন শেখ মিলন

৩১.
জঙ্গিরা সহীহ মুসলিম না (প্রমাণসহ)... ঢাকা গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার বিষয়ে বন্ধুর সাথে আমার আলাপন:

আমি: নামেই ইসলাম শান্তির ধর্ম। যতো অশান্তি, তার সবই সৃষ্টি করে মুসলমানেরা।
বন্ধু: দেখ, সব মুসলমান এক না। তাছাড়া জঙ্গিরা সহীহ মুসলমান না।
আমি: কে বলেছে? দেখিস না, তারা 'আল্লাহু আকবার' বলে ইসলামের স্বার্থে জিহাদ করে?
বন্ধু: সে জন্যই তারা সহীহ মুসলিম না। যদি তারা সহীহ মুসলিম হতো, তাহলে 'আল্লাহু আকবার' না বলে 'বিসমিল্লাহ' বলে জিহাদ শুরু করতো।

৩২.
পর্দাপ্রথার পক্ষে মুমিনীয় যুক্তি:

আদিম মানুষ নগ্ন থাকতো, কারণ তারা ছিলো অসভ্য। আমরাই এখন সভ্যতার শীর্ষে, তাই নারীর সমস্ত শরীর কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখি।

৩৩.
অবশেষে মুমিন যখন স্বীকার করে নিলো, মুসলিমরা জান্নাতী হুরের লোভে জঙ্গি হয়, তখন সে আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো...

মুমিন: আমরা, মুসলিমরা, নাহয় জান্নাতের হুরের লোভে জঙ্গি হই, তোরা কিসের লোভে নাস্তিক হোস?
আমি: বিদেশী সুন্দরী অমুসলিম মেয়েরা ও নায়িকারা তো সব জাহান্নামী। তাগো লোভে...

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৪৬

এই কূটনীতি বাস্তবায়নের একটি নমুনা এখানে

২৩ জুলাই, ২০১৬

ঈশ্বরের ইতিহাস - ৩ (ঈশ্বর কে?)

লিখেছেন মেসবাহ উস সালেহীন


ঈশ্বর কে? কোথায় থাকেন তিনি? লালন গেয়েছিলেন, "জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা, দেখায় আসমানে।" মূসা নবী জিহোভাকে দেখেছিলেন তূর পাহাড়ের ওপরে। মহানবী আল্লাহর ওহী পেয়েছিলেন হেরা গুহায়। গৌতম বুদ্ধ একটা অশোক গাছের তলায় বোধি লাভ করেছিলেন।এরা সবাই ঈশ্বরকে দেখেছিলেন আলাদা আলাদা ফরম্যাটে। সবাই একই ঈশ্বরকে দেখেননি। তাহলে একেক ধর্মের কি আলাদা আলাদা ঈশ্বর?তারা সহাবস্থান করে কীভাবে? ইসলাম, খ্রিষ্টান কিংবা ইহুদি ধর্মে ঈশ্বর ১ জন। কিন্তু হিন্দু ধর্মে হাজার হাজার ঈশ্বর কেন?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে "দি স্টোরি অফ গড" নামে একটা প্রোগ্রাম দেখানো হয়েছিল। প্রোগ্রামটার ৩ নাম্বার এপিসোডের বিষয় হচ্ছে - "হু ইজ গড?"

সভ্যতার প্রথম দিকে মানুষ অনেক প্রাকৃতিক শক্তির পূজা করত। আকাশ, নদী, সূর্য, পাহাড়, গরু, ঝড়-বৃষ্টি, জঙ্গল - এই শক্তিগুলোকে মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু এই প্রাকৃতিক জিনিসগুলো তার কৃষি কাজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে সময়মত জোয়ার-ভাটা না হলে যাতায়াতের সমস্যা হতে পারে। সময়মত বৃষ্টি না হলে ফসলের বারোটা বাজবে। এই সব কথা চিন্তা করে তারা প্রাকৃতিক শক্তিগুলোকে উপাসনা করত। প্রাকৃতিক শক্তিগুলোকে খুশি করার জন্য তারা অনেক পূজা-অর্চনা করত। বাংলাদেশের অনেক গ্রামে এখনো কৃষকেরা ‘শিরালী’ নামে এক বিশেষ প্রকার ওঝা/ফকির দিয়ে ফসলের ক্ষেতে পূজা-অর্চনা করে এই আশায়, যেন শিলা বৃষ্টি এসে ফসলের কোনো ক্ষতি করতে না পারে ।

তবে কোনো কোনো এলাকার বুদ্ধিমান মানুষ হয়তো উপলব্ধি করেছিল, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা আর সকল প্রাকৃতিক শক্তিকেই নিয়ন্ত্রণ করে সূর্য। সূর্যের কারণেই ফসল ফলে, ফসল বেড়ে ওঠে, সূর্যের কারণেই ঝড়-বৃষ্টি ঘটে। তাই তারা অন্য সব প্রাকৃতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র সূর্যকে উপাসনা করা শুরু করল। ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জে এরকম একটা মন্দির পাওয়া গেছে, যেটা দেখে মনে হয়, স্থানীয় মানুষ এটা সূর্যের উপাসনা করার জন্য তৈরি করেছিল। একটা সমতল মাঠের ভেতরে অনেকগুলো লম্বা লম্বা পাথর গোল করে সুন্দর একটা জ্যামিতিক প্যাটার্নে সাজানো আছে স্টোনহেঞ্জে। বছরের বিভিন্ন মাসে পাথরগুলোর ছায়া পড়ে একটা নিখুঁত জ্যামিতিক প্যাটার্ন তৈরি করে। (তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, স্টোনহেঞ্জ ছিল চাঁদের দেবতার মন্দির। অনেকে আবার মনে করেন, এটা কোনো ধরনের ধর্মীয় মন্দির নয়, এটা জাস্ট সূর্য কিংবা চাঁদ পর্যবেক্ষনের জন্য একটা জ্যোতির্বিজ্ঞান টাওয়ার। অনেকে মনে করেন, এটা জাস্ট সময়ের হিসেব রাখার একটা ক্যালেন্ডার।)

ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জ বাদেও ওই সময় বিশ্বের আরো নানা প্রান্তে সূর্যের পূজা করা শুরু হয়। মিশরের ফারাও-রা (ফেরাউন) অনেকগুলো দেব-দেবীর পূজা করত। কিন্তু প্রায় ২৫০০ বছর আগে ফারাও আখেনাটেন ঘোষণা করেছিলেন, সূর্যই একমাত্র দেবতা ,আমি সেই সূর্যের প্রতিনিধি, তোমরা আমাকেই পূজা করো। আখেন আটেন মানে হচ্ছে আটেন-এর (সূর্য) ক্রীতদাস। রাজা আখেন আটেন-এর নাম একটু কম পরিচিত। আখেন আটেন-এর বউ এর নাম নেফারতিতি আর ছেলের নাম তুতেন খামেন। আখেন আটেন মারা গেলে মিশরের জনগণ আবার বহু-ঈশ্বরবাদী বিশ্বাসেই ফিরে যায়। এক উপাসকের পূজা বহাল থাকল না।

আখেন আটেন-এর মৃত্যুর বহু বছর পরে মিশরের নীল নদের তীরে মূসা নামে একজন ক্রীতদাস-সর্দার এক ঈশ্বরের ধারণা নিয়ে আসলেন। তার ঈশ্বরের নাম জিহোভা। স্থানীয় প্রশাসন তাকে তার ধর্ম প্রচারে বাধা দিলে তিনি দলবল নিয়ে নীল নদ পার হয়ে ইজরাইলে এসে বসতি স্থাপন করলেন। (নীল নদ কীভাবে পার হলেন, সেটা নিয়ে অনেক মিথ আছে। প্রচলিত গল্প হচ্ছে এই যে, তিনি তাঁর হাতের অলৌকিক লাঠির সাহায্যে নদীর পানিতে আঘাত করলে নদীতে ৭ টি সেতু তৈরি হয়। মূসার লোকেরা সবাই সেই সেতু ধরে পার হয়েছিল। ধাওয়া করে আসা ফেরাউনের সৈন্যরাও সেই সেতুতে উঠেছিল পার হওয়ার জন্য। কিন্তু তারা মাঝামাঝি আসতেই সেতুগুলো ভেঙে পড়ে। সৈন্যরা সব পানিতে ডুবে মারা যায়। আরজ আলি মাতব্বর এই ঘটনার ব্যাখ্যা হিসেবে বলেছেন, সম্ভবত, মূসা নবীর লোকেরা নদী পার হয়েছেন ভাটার সময় আর ফেরাউনের সৈন্যরা ডুবে গেছে জোয়ারের পানিতে। মূসা নবী লাঠি ব্যবহার করে দেখেছিলেন, কোথায় পানির গভীরতা কম।)

সেই ইসরাইলে পরবর্তীকালে আরো অনেকগুলো ধর্ম তৈরি হল। যেমন, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্ম। এই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করে, এদের কাছে আসমানী কিতাব এসেছিল। এই ধর্মগুলোকে একত্রে বলে সেমেটিক ধর্ম। ইসলাম, খ্রিষ্টান কিংবা ইহুদি বাদেও আরো কয়েকটা ছোটো ছোট সেমেটিক ধর্ম রয়েছে, সেগুলোও একেশ্বরবাদী এবং সেগুলোর জন্ম ইজরাইলে। যেমন, বাহাই ধর্ম।