৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

ফাদাক আগ্রাসন - ১: প্রাণভিক্ষার আকুতি!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত সাতাশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কী কারণে খায়বারের নিরপরাধ জনপদবাসীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করেছিলেন; এই আক্রমণে তিনি তাঁদের ওপর কী ধরনের অমানুষিক নৃশংসতা প্রদর্শন করেছিলেন; তাঁদেরকে পরাস্ত করার পর তিনি কীভাবে তাঁদের সমস্ত সম্পদ এবং মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা ও শিশুদের বন্দী করে দাস ও যৌনদাসীরূপে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন; কী শর্তে  তিনি তাঁদের পুরুষদের হত্যা না করে এক বস্ত্রে বিতাড়িত করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন ও পরবর্তীতে তিনি কী শর্তে  তাঁদেরকে তাঁদেরই জমিগুলোয় শ্রমিক হিসাবে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন; মুহাম্মদের মৃত্যুর পর উমর ইবনে খাত্তাব তাঁদের কী হাল করেছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের বিশদ আলোচনা গত তেইশটি পর্বে করা হয়েছে।

খায়বার বিজয় সম্পন্ন করার পর মুহাম্মদ তাঁর পরবর্তী আগ্রাসন চালান সেখান থেকে ৮ মাইল দূরবর্তী (মদিনা থেকে ৮৭ মাইল) ফাদাক নামের এক সমৃদ্ধ মরূদ্যানের (Oasis) লোকদের ওপর। মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসনের (সেপ্টেম্বর, ৬২২ সাল) পর থেকে শুরু করে খায়বার বিজয় সম্পন্ন করা পর্যন্ত (জুন-জুলাই, ৬২৮ সাল) গত ছয়টি বছরের মদিনা জীবনে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর যে আগ্রাসী হামলাগুলো চালিয়েছিলেন, তার প্রায় সবগুলোই ছিল সরাসরি আক্রমণের মাধ্যমে। মুহাম্মদের এই ফাদাক আগ্রাসন ছিল তার ব্যতিক্রম। কী প্রক্রিয়ায় মুহাম্মদ ফাদাক দখল করেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে লিখে রেখেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) অব্যাহত বর্ণনা: [1] [2]

'যখন আল্লাহর নবী খায়বার বিজয় সম্পন্ন করেন, আল্লাহর নবী খায়বারের লোকদের কী হাল করেছেন, তা যখন ফাদাকের জনগণ শুনতে পায়, আল্লাহ তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করে। তারা তাঁর কাছে এই শর্তে শান্তি প্রস্তাব পাঠায় যে, তারা তাদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাঁকে দিয়ে দেবে। তাঁর খায়বার অবস্থানকালে (তাবারী: 'কিংবা পথিমধ্যে') কিংবা মদিনা প্রত্যাবর্তনের পর তাদের বার্তাবাহক তাঁর কাছে আসে ও তিনি তাদের শর্তগুলো মেনে নেন। এইভাবে ফাদাক পরিণত হয় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিরূপে, কারণ তা কোনো ঘোড়া কিংবা উটের পিঠে চড়ে আক্রমণের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি [পর্ব-২৮]।'

‘কী ঘটেছে, তা যখন ফাদাকের জনগণ শুনতে পায়, তারা আল্লাহর নবীর কাছে যে আবেদন করে, তা হলো: তারা তাঁর কাছে তাদের সম্পত্তি পরিত্যাগ করে চলে যাবে, তিনি যেন তাদেরকে প্রাণে না মেরে বিতাড়িত হবার সুযোগ দান করেন; তিনি তাতে রাজি হন। এ ব্যাপারে যে ব্যক্তিটি মধ্যস্থতা করে, সে হলো বানু হারিথা গোত্রের মুহায়িসা বিন মাসুদ (Muhayyisa b. Mas'ud) নামের এক ভাই।'   

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিস্তারিত বর্ণনা: [3]

‘তারা বলেছেন: যখন আল্লাহর নবী খায়বার বিজয় করেন, তিনি ফাদাক-এর কাছাকাছি গমন করেন ও মুহায়িসা বিন মাসুদ-কে ফাদাকের জনগণের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য পাঠান, তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেন এই বলে যে, যেমন করে তারা খায়বারের জনগণের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, তেমন করে তারা তাদের এলাকায়  আগমন করবে ও তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে।

মুহায়িসা বলেছে: আমি তাদের কাছে যাই ও তাদের সাথে দু'দিন অবস্থান করি, তারা চেষ্টা করে সুযোগের অপেক্ষার, বলে, "নাটায় আছে আমির, ইয়াসির, উসায়ের, আল-হারিথ ও ইহুদি নেতা মারহাব; আমরা মনে করি না যে, মুহাম্মদ তাদের কাছে ঘেঁষতে পারবে। প্রকৃতপক্ষেই, সেখানে দশ হাজার সৈন্য আছে।" মুহায়িসা বলে:  যখন আমি তাদের শয়তানী দেখতে পাই, আমি ফিরে আসার মনস্থ করি, কিন্তু তারা বলে, "তোমার সাথে আমরা আমাদের লোক পাঠাবো, যারা আমাদের জন্য শান্তি প্রস্তাব পেশ করবে", কারণ তারা মনে করেছিলো যে, ইহুদিরা মুসলমানদের আক্রমণ ঠেকাতে পারবে। তারা এই রকম করতেই থাকে যতক্ষণে না খবর আসে যে নাইম দুর্গের ইহুদি ও তাদের সাহায্যকারী লোকদের হত্যা করা হয়েছে [পর্ব-১৩৪]। ঐ বিষয়টি তাদের শক্তিকে দুর্বল করে ও তারা মুহায়িসা-কে বলে, "আমরা তোমাকে যা বলেছি, তা তুমি গোপন রেখো, তাহলে এই অলংকারগুলো হবে তোমার!" তারা তাদের মহিলাদের অনেক অলংকার-সামগ্রী সংগ্রহ করেছিলো। মুহায়িসা বলে, "বরং, তোমাদের কাছ থেকে যা শুনলাম, তা আমি আল্লাহর নবীকে জ্ঞাত করাবো," অতঃপর তারা যা বলেছিল, তা সে আল্লাহর নবীকে জ্ঞাত করায়।

মুহায়িসা বলেছে: কিছু ইহুদিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের নেতাদের মধ্যে থেকে নান বিন ইয়াওসা নামের এক নেতা আমার সাথে আসে ও আল্লাহর নবীর সাথে যে চুক্তিটি করে, তা হলো,

অপপ্রচারের অ্যাপ

মোটা দাগে বলা, বোধহয়, যায়:
মিডিয়া - প্রচারমাধ্যম
সোশ্যাল মিডিয়া - অপপ্রচারমাধ্যম

কুরান চিপে চিপে বিজ্ঞান বের করার কৌশল

লিখেছেন আক্কাস আলী


১. আল্লাহ ওরফে মুহাম্মদ: "আসমান থেইক্যা পানি পড়ে... হক মাওলা!"
আধুনিক ইসলামবাজ: "আলহামদুলিল্লাহ, কুরানে পানিচক্রের নিখুঁত বর্ণনা রয়েছে!"

২. আল্লাহ ওরফে মুহাম্মদ: "চন্দ্র আর সূর্য ঘুরতেছে।"
আধুনিক ইসলামবাজ: "কুরানে পৃথিবীসহ সকল গ্রহ-নক্ষত্রের নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণনের কথা বলা আছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের মারাত্মক উৎস আল কুরান।"

৩. আল্লাহ ওরফে মুহাম্মদ: "বীর্য দিয়াই সন্তান পয়দা হয়!"
আধুনিক ইসলামবাজ: "১৪০০ বছর আগের এক গ্রন্থে ভ্রূণতত্ত্বের বর্ণনা আছে... আছে জেনেটিক্স... চিল্লাইয়া কন - সুবহানাল্লাহ!"

সরিষার দানা যেভাবে চিপ দিয়া তেল বাহির করতে হয়, ঠিক সেইভাবে কুরান চিপ্পা তা থেকে বিজ্ঞান বাহির করে আধুনিক ইসলামবাজরা। আসলে একজন রাখালের দৃষ্টিতে যতটুকু দেখা যায়, কুরানে ঠিক ততটুকুই আছে। ওপরের ইসলামী দাবিগুলো একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

১. পানিচক্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটা হচ্ছে পানির বাষ্পীভবন (Water Evaporation)... কিন্তু এটা একটা রাখালের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, তাই কুরানেও পানি বাষ্পীভবনের কথা নেই। আছে শুধু আসমান থেইক্যা পানি পড়া... এই কথা একবার না, বহুবার বলেছে... কিন্তু বাষ্পীভবনের কথা একবারও নাই!

২. মুহাম্মদ দেখতো যে, চাঁদ আর সূর্য, একখান দিয়া উঠে, আরেকখান দিয়া ডুবে... ব্যস, সে বুঝে ফেললো যে, চাঁদ আর সূর্য ঘোরে... কুরানে লিখেও দিলো... বিজ্ঞান না জানা একটা রাখালকে জিজ্ঞেস করুন, সেও বলবে একই কথা... চাঁদ-সুরুয ঘোরে... এর বেশি তো কিছু নেই কুরানে... রাখালটা অবশ্য ভাবতো যে, চাঁদ-সূর্য দুইটাই পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, কিন্তু আধুনিক ইসলামবাজরা সূর্যের ঘোরাকে বানায় দিলো মিল্কি ওয়েতে ঘোরা...! ধান কাটায় আর চুল কাটায় মিলে যাওয়া আরকি...

তো, আল্লাহ ওরফে মুহাম্মদ মিল্কি ওয়ে পর্যন্ত গেলেন, কিন্তু পৃথিবী ঘোরে, এই কথাটা কুরানে একটিবারও কইলেন না ক্যান? খালি চোখে পৃথিবীর ঘোরাঘোরি বোঝা সম্ভব না, কিন্তু চাঁদ-সূর্যের ঘোরাঘোরি বোঝা সম্ভব... ঠিক তো?

৩. নবী নিজের বীর্য দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে, এইটা দিয়েই তো বাচ্চা হয়! তাই বীর্যের অবদানের কথা কুরানে আছে... কিন্তু একজন রাখালের পক্ষে বুঝা সম্ভব নয় যে, একটা বাচ্চা জন্মদানের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর থেকে বেশি অবদান একটা ডিম্বাণুর... স্ত্রী ডিম্ব তো আর বীর্যের মত নির্গত হয় না, তাই নবীও ওইটা দেখে নাই... এজন্যেই কুরানে নাই ডিম্বের কথা... 

এই হচ্ছে কুরানীয় বিজ্ঞানের অবস্থা আর আধুনিক ইসলামবাজ কর্তৃক কুরান চিপে বিজ্ঞান বের করার কৌশল...

বেকুবাল্যা

এর চেয়ে অনেক বীভৎস ছবি ব্যবহার করা যেতে পারতো, মন সরেনি। চাইলে conjoined twins বা deformed babies লিখে ইমেজ সার্চ দিয়ে আল্যাফাকের মাত্রাজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করুন

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১১ – (মহানবীর মহানিয়ন্ত্রণ; আমার হস্তমৈথুন!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


জন্মদাতা পিতার সাথে সম্পর্ক আমার সবসময়ই ভালো, দু'জনে প্রায় বন্ধুর মতই মিশি। আমার আব্বা বলেন: ‘বাপের জুতা যখন ছেলের পায়ে হয়, তখন বাপ-ছেলে বন্ধু হয়ে যায়!’ একবার কোরবানীর হাটে আব্বাকে নাম ধরে ‘সামাদ ভাই! সামাদ ভাই!’ বলে ডেকে ডেকে খুঁজে বের করেছিলাম! আব্বা বলেছিলেন; ‘নাম ধরে ডাকিস কেন, বেয়াদব!’ আমি বলেছিলাম, ‘হাটের মধ্যে আব্বা-আব্বা ডেকে, শ-খানেক বাপের ছেলে হবার ইচ্ছা নাই, তাই!’

আজকের গল্প আমার বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন: 

লম্বা ছুটিতে বাসায় ছিলাম, ভাই-বোনসহ মা ছিলেন নানাবাড়ি; আমরা বাপ-বেটা দু'জনে বাড়ী পাহারা দিচ্ছিলাম আরকি! আব্বা বাসার বাইরে ছিলেন, আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের আসমানী কিতাব (রসময় গুপ্ত)’ পড়ছিলাম, আর ‘এখন যৌবন যার, হস্তমৈথুনের তার শ্রেষ্ঠ সময়!’ বাণী’র ওপর আমল আদায় করছিলাম! 

আল্লাহ বলিয়া যে কিছু নাই, প্রমাণ করিয়া; কোথা হইতে আব্বা আসিয়া রুমে প্রবেশ করিলেন! আসিয়াই জীভ কাটিয়া ‘হারামজাদা’ বলিয়া হুর-হুর করে রুম থেকে বাহির হইয়া গেলেন! আমার যাহা বাহির হইবার ছিলো, তাহা উল্টা ভিতরে ঢুকিয়া কলিজা পর্যন্ত উঠিয়া গেলো! ভাবিতে লাগিলাম, এই ঘটনা সামাল দিবো কীভাবে!?

বিকাল বেলা আব্বা ডাক দিয়া বলিলেন:
'বয়স হইছে ঠিক আছে, কিন্তু এসব তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে! 
তোর কিছু বলার থাকলে বল?’

আমি বলিলাম:
আব্বা, রাস্তায় এক মেয়েকে দেখে উত্তেজিত হয়ে গেছিলাম; কী করবো, বিয়া-সাদী তো দাও নাই; তাই এইসব একটু করা লাগে মাঝে মাঝে!

আব্বা বলিলেন:
‘এসব কী কথা! সামান্য মেয়েমানুষ দেখেই উত্তেজনা ধরে রাখতে পারিস না! 
তুই কোন শ্রেণীর মানুষ?’

আমি আমার মোক্ষম চাল দিলাম:
‘আব্বা, আল্লার নবী রাস্তায় মেয়েমানুষ দেখে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই,
আমি কোথাকার কোন বাহাদুর!’

আব্বা ভেবাচেকা খেয়ে গেলেন। তিনি জানেন, আমি কোরআন-হাদিস বেটে খাওয়া ছেলে; মুখের রং পাল্টে গেলো তার; জানতে চাইলেন, ‘বল তো, কী বলতে চাস!’ আমি মনে মনে এটাই চাচ্ছিলাম। ঘর থেকে সহিহ মুসলিম হাদিসের বই এনে নিচের হাদিসটি দেখালাম!

আমর ইবন আলী (র)......জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত: 
রাসুলুল্লাহ (সা) এক মহিলাকে দেখলেন ও উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি দৌড়ে তার স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন একটি চামড়া পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাথে যৌনকাজ করে ঠান্ডা হলেন। তারপর বের হয়ে সাহাবীদের নিকট এসে তিনি বললেনঃ স্ত্রীলোক সামনে আসে শয়তানের বেশে এবং ফিরে যায় শয়তানের বেশে। অতএব তোমাদের কেউ কোনো স্ত্রীলোক দেখতে পেলে সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে। কারণ, তা তার মনের ভেতর যা রয়েছে তা দূর করে দেয়। [1]

আব্বা এ বিষয়ে আর একটি কথাও বললেন না, কেবল বললেন:
‘বাবা, এসব বেশি অভ্যাস থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়!’

আমি উত্তর দিলাম:
‘হুঁ!’

প্রিয় মুমিন ভাই-বোনেরা; আপনারা বলেন ও বিশ্বাস করেন, নবী মুহাম্মদ ছিলেন সংযমী পুরুষ, তার মত সংযমী দুনিয়াতে কেউ ছিলো না; আর ভবিষ্যতে কেউ হবে না। কিন্তু হাদিস বলে, তিনি ছিলেন নারীলিপ্সু, পরস্ত্রীকাতর, যৌনতাড়িত অসংযমী মানুষ! এতটাই দুর্বল যৌনকাতর মানুষ ছিলেন তিনি, রাস্তায় অপরিচিত মেয়েমানুষ দেখেও উত্তেজনা ধরে রাখতে পারতেন না!

আপনার মতামত এ বিষয়ে কী বলে?

তথ্যসূত্র:
[1] সহিহ মুসলিম হাদিস: খণ্ড: ৮, হাদিস: ৩২৪০

(চলবে)

বেদ্বীনবাণী - ৮০

পুতুলের হক কথা - ২৮

লিখেছেন পুতুল হক

১০৬.
বেহেস্তের কথা শুনতেই বিরক্ত লাগে। কোনো কাজকর্ম নেই সারাদিন, শুধু মজার মজার খাবার খাও আর সেক্স কর। একনাগাড়ে এই পৃথিবীতে কতজন মানুষ এরকম একটা জীবন সহ্য করতে পারবে? বেহেস্ত একটু অন্যরকম হলে ভালো হত না? এই যেমন, আমরা আমাদের ভুলগুলো শুধরে আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারলাম। শারীরিক বা আর্থিক কারণে যে মানুষগুলো পৃথিবীতে অবিকশিত রয়ে গেলো, তারা বিকশিত হবার সুযোগ পেলো। দুর্ঘটনা বা যুদ্ধের কিংবা অসুখের কারণে যারা পূর্ণ জীবন পায়নি, তাঁরা একটা পরিপূর্ণ জীবন পেলো। বিয়ে না করে শেষ জীবনে একাকীত্বের শিকার মানুষগুলো যথাসময়ে বিয়ে করে ফেললো, যেসব দম্পতির ছেলেমেয়ে ছিল না, তাঁরা সন্তান পেলো। যার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল কবিতার একটি বই বের করার কিংবা একটি উপন্যাস লেখার, সে তা করে ফেললো। যার সখ ছিল গায়ক হবার, সে গায়ক হল, যার সখ ছিল চিত্রকর হবার সে চিত্রকর হল... এরকম আরকি! বেহেস্ত সুখের হবে তখনই, যখন মানুষের অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো পূর্ণতা পাবে। ক্ল্যাসিকাল নাচ আমি খুব পছন্দ করি। আমার প্রিয় মানুষের সাথে ভরতনাট্যম কিংবা ফ্লেমিংগো নাচবো রোজ সকালে, দুপুরে, সন্ধ্যায়, সারারাত - এমন একটা বেহেস্ত কি আছে? খুব ছোটোবেলায় গ্রামে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বরযাত্রী আমরা বউ নিয়ে ফিরেছিলাম মাঝরাতে নৌকায় ক্ষেতের পাশের খাল দিয়ে। সেদিন পূর্ণিমা ছিল। আকাশ ভরা তারা ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের শীতল বাতাস ছিল। অনেকে নৌকা থেকে নেমে আইল ধরে হেঁটেছিল। কখনো হঠাৎ করে কেউ গেয়ে উঠেছিল কোনো গানের কয়েকটি লাইন। কী কারণে যে হঠাৎ করে কান্না আরম্ভ করেছিলাম! নওশা ছোটমামা জিজ্ঞেস করলে বলি, আমার কেমন যেন লাগে। এখন বুঝি, সে-রাতে আমার অসম্ভব ভালো লেগেছিল। বেহেস্তে কি সেরকম একটা রাত পাওয়া যাবে?

১০৭.
হাজার হাজার বছর আগে বাইবেল, বেদ বা কোরআন লেখা হয়েছিলো হয়তো। ওসব বই যারা লিখেছিল, তাদের কথামত পৃথিবী ঘোরে না, সূর্য-চন্দ্রের উদয়-অস্ত হয় না। ওসব বই না লেখা হলেও আকাশ-নদী-সমুদ্র-বায়ু-পশুপাখী সব কিছু তাদের নিয়মে চলতো। কৃষ্ণ, মোহাম্মদ বা ঈসা, মুসা নামে কেউ যদি জন্মেও থাকে, তারা পারেনি ভ্রুণ ছাড়া একটা শিশু জন্ম দিতে, গাছ ছাড়া একটা ফুল জন্ম দিতে, মেঘ ছাড়া বৃষ্টি দিতে। প্রকৃতির ওপর তারা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তারা প্রভাব ফেলেছে শুধু মানুষের উপর। তাদের কথা শুনে মানুষ বিভক্তই হয়েছে শুধু।

১০৮.
আমাদের বাসায় শিবিরের যে-ছেলেটি আসে, সে গতকাল ছুটি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি চলে গেছে। ফোনে খবর এসেছিলো, ওর বাবা ওর ছোটভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই জেনে নিলাম কেন ভদ্রলোক এমন কাজটি করলো। বাবা ভদ্রলোক তাবলীগ জামাতের সমর্থক। তার গ্রামের প্রায় সবাই এই মনোভাবের। তার বাড়িতে নির্দেশ দেয়া আছে কেউ পীরের মুরিদ হতে পারবে না, মাজারে যেতে পারবে না, ওরশে যেতে পারবে না, কোন সূফীর শিষ্য হতে পারবে না। ছেলেটির নানাবাড়ির লোকজন আবার মাইজভাণ্ডারীর মুরিদ। নানাবাড়ির গ্রামে ওরশ হবে, গানবাজনা হবে, তাই ছোট ভাই লুকিয়ে সেখানে গিয়েছিল। বাবা ভদ্রলোক জেনে যায় এবং বাড়ি ফেরার পর এই কাণ্ড ঘটায়। ধর্ম এক, শুধুমাত্র তাকে পালন করার কিছু রীতিনীতির ভিন্নতার কারণে বাবা ছেলেকে প্রায় খুন করতে যাচ্ছিল। হিন্দু, খ্রিষ্টান বা ইহুদিদের কাছে তাদের ধর্ম দাঁত-নখ হারিয়ে যেমন একটা মিথে পরিণত হয়েছে। আমি আশা করি, ইসলাম এক সময় মুসলমানদের কাছে সেরকম একটা মিথে পরিণত হবে। কিন্তু সেটা কবে? মুসলমানদের খুলির ভেতর মগজ থাকে না, থাকে মোহাম্মদ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রতিষেধক কবে পাবো আমরা?

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৪

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২১)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


মাদ্রাসা দুটো অতিক্রম ক’রে আমি রূপনগর খালের পুলের ওপর উঠলাম। পুলের বাম দিকটা ফাঁকা, খালের দিকে তাকালে মনে হয় নাগরিক জঙ্গলের ভেতর থেকে দৈত্যাকৃতির একটা অ্যানাকোন্ডা বেরিয়ে এসেছে; সরু খালের ময়লা-পচা-কালো জল থেকে দুর্গন্ধ ভেসে আসছে নাকে। পুলের ডানদিকে পাশাপাশি দুটো চায়ের দোকান; দুটো চায়ের দোকানেই সাতসকালে মানুষের জটলা থাকে, টেলিভিশনে ভারতীয় সিরিয়াল কিংবা বাংলা সিনেমা দেখার ফাঁকে ফাঁকে চা-সিগারেট সহযোগে চলে নানান রকম আলোচনা, এরা প্রাতঃভ্রমণকারী নয়, আশপাশের নিম্নবিত্ত মানুষ; এখন অবশ্য দুটো দোকানের চারটা বেঞ্চে মোটে দু’জন, দু’জনের মাথায়ই টুপি। টেলিভিশন বন্ধ, দোকানের সামনে পর্দা দেওয়া, এক দোকানদারের মোবাইলে বাজছে ইসলামী গান - 

আল্লাহ তুমি অপরূপ
না জানি কতো সুন্দর 
তোমায় আমি সঁপেছি প্রাণ
সঁপেছি এই অন্তর...। 

আল্লাহ্ অপরূপ! কেমন তার রূপ? তবে যে মুমিন মুসলমানরা নিরাকার আল্লাহ্’র কথা বলে! আমি দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে পুলের ঢাল বেয়ে নেমে ইটের এবং মাটির রাস্তা ধরে পৌঁছে গেলাম বোর্টানিক্যাল গার্ডেনের গেটে। গেট বলতে চিড়িয়াখানা রোডের মুখের ১ নং কিংবা গড়ান চটবাড়ির দিকের ২ নং গেটের মতো নয়; এখানে দেয়ালের নিচের অংশে ইটের গাঁথুনি নেই। ওপরে দেয়াল, তার নিচ দিয়ে মাথা নিচু ক’রে ঢুকতে হয়। সর্বক্ষণই এদিক দিয়ে প্রবেশ করা যায়, তবে সাতটার দিকে রাস্তার পাশে চেয়ার পেতে চোয়াড়ে গোছের একটা ছেলে বসে থাকে পাশে রাখা টিকিটের ওপর সিগারেটের প্যাকেট আর মোবাইল চাপা দিয়ে, আর কিছুক্ষণ পরই তার জায়গায় বসে একজন বৃদ্ধ। তখন দর্শনার্থীদের ঢুকতে হলে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।

বুম-বুম ইছলাম

কৌতুক, বাস্তবতা ও কৌতুকের বাস্তবতা

গত ১৯ আগস্টে "ধর্মাতুল কৌতুকিম" সিরিজে একটি কৌতুক প্রকাশিত হয়েছিল:
ব্রিটেনে ধর্মীয় সহনশীলতার পরীক্ষা নিতে প্রথমে রোমান সৈনিকের পোশাক পরে গিয়ে দাঁড়ালাম গির্জার পাশে। খ্রিষ্টানদের কেউ পাত্তাও দিলো না।
এর পরে এক সিনাগগের পাশে দাঁড়ালাম হিটলার সেজে। ই্হুদিরা ক্ষিপ্ত হলো খুব, তবে যথেষ্ট ভদ্রভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে আমাকে চলে যেতে বললো।
তারপর আমি মসজিদের পাশে গিয়ে খাচ্ছিলাম বেকন স্যান্ডউ
...

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মনোযোগী পাঠক গত ৩১ আগস্টের পত্রিকায় (কৌতুক প্রকাশের ১২ দিন পরে) প্রকাশিত একটি খবরের লিংক পাঠিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, কৌতুকটি প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে ফ্রান্সে। 

ব্ল্যাসফিমাস পিৎজা

শূকরের মাংস সম্বলিত পিৎজা অর্ডার দেয়ার "অপরাধে" এক স্থানীয় যুগলকে নিষ্ঠুরভাবে আক্রমণ করেছে দুই মুছলিম।

সোজাসাপ্টা কথা

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

নাস্তিক ধ্বংসের প্রতিজ্ঞা

বানিয়েছেন মুফতি নীল নিমো হুজুর
(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (পর্ব ৩)

লিখেছেন আবুল কাশেম


মুহাম্মদ কেন আরবদের মাঝে ব্যতিক্রম হবেন?

এদিকে ইসলামের বিশিষ্ট ঐতিহাসিক তাবারি লিখেছেন, মুহাম্মদ উম হানিকে বিবাহের প্রস্তাব দেন, কিন্তু উম হানি তা গ্রহণ করলেন না, কারণ উম হানির সাথে তাঁর শিশু ছিল (খণ্ড ৯, পৃঃ ১৪০)। 

এই দুই ঘটনা কিছুটা পরস্পরবিরোধী হলেও আমরা অনুমান করতে পারি যে, নবী উম হানিকে হয়ত দু’বার বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রথমবার উম হানির পিতা আবু তালেবের কাছে। সেই সময় মুহাম্মদ নিজেকে নবী বলে ঘোষণা দেননি; অর্থাৎ মুহাম্মদের বয়স অল্প ছিল, খুব সম্ভবত কুড়ি কিংবা বাইশ। দ্বিতীয় বার উম হানিকে প্রস্তাব দেন আবু তালেবের মৃত্যুর পর, উম হানির স্বামী যখন নিখোঁজ হয়ে যান (অনেকে, যেমন ওপরে রডিন্সন, লিখেছেন মারা যান) অথবা মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজার মৃত্যুর পর। মুহাম্মদ নিজেকে নবী বলে ঘোষণা দেন, যার ফলে সমগ্র কুরাইশদের বিরাগভাজন হন। এই সময় মুহাম্মদের বয়স সম্ভবত ৫০ অথবা ৫১ হবে। কারণ খাদিজা এবং আবু তালেব মারা যাবার অল্প কিছু সময়ের মাঝেই মুহাম্মদ বিধবা সওদাকে বিবাহ করেন আর আবু বকরকে প্রস্তাব দেন তাঁর কন্যা আয়েশাকে বিবাহ করার। সামান্য সময়ের ব্যবধানেই মুহাম্মদ ছয় বছরের শিশু আয়েশাকে বিবাহ করেন।

অনুমান করা যায়, মুহাম্মদের এই দুই বিবাহের ব্যাপারে উম হানি জ্ঞাত ছিলেন। তাই মুহাম্মদ উম হানিকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে উম হানি আরেক এক সতীন হতে চাইলেন না। উম হানি স্বামী-ছাড়া, এক সন্তানের মা হয়ে একা থাকা পছন্দ করলেন। কিন্তু মুহাম্মদের সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে কুণ্ঠিত হলেন না। তার প্রমাণ আমরা দেখব নিচের অংশগুলিতে।

খাদিজা মারা যাবার পর, উম হানিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না করতে পারলেও মুহাম্মদ হাল ছেড়ে দিলেন না। আল্লাহ নবীর সাহায্যে দ্রুত এগিয়ে আসলেন। আল্লা পাঠিয়ে দিলেন আয়াত ৩৩:৫০, যে-আয়াতে নবীকে বলা হল, তিনি ইচ্ছে করলেই তাঁর যে কোনো চাচাত, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোনদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে পারবেন বিবাহ ছাড়াই—শুধু এই হবে যে, ঐ বোনদেরকে মদিনায় হিজরত করতে হবে। কিন্তু নবী অত বোকা ছিলেন না। তিনি জানতেন, এই আয়াতের প্রতিফল কী হবে তাঁর অনুসারীদের মাঝে। তাই আল্লা তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, এই অতি-নিকট আত্মীয়দের সাথে বিবাহ বহির্ভূত যৌনলীলার অনুমতি শুধুমাত্র নবীর জন্যই বহাল থাকবে, অন্য মুসলিমদের জন্য নয়।

আমরা আয়াত ৩৩:৫০ পড়ে নিই।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭২


২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধর্মকারীর কুফরী কিতাব - ২৬: নান্টু ঘটক ও কাছিম কাহিনী - জুপিটার জয়প্রকাশ

বাংলা অনলাইনের পুরনো বান্দাদের অনেকের কাছে একটি পরিচিত নাম - জুপিটার জয়প্রকাশ। বিদ্রূপাত্মক ব্যঙ্গরচনা লিখতেন তখন। কখনও-সখনও প্যারোডি কবিতা। অবশ্য তাঁর সেই সক্রিয়তা সাম্প্রতিককালে স্তিমিত। তবে কিছুদিন আগে তিনি তাঁর একটি ছড়া-সংকলন প্রকাশের আগ্রহ জ্ঞাপন করলে ধর্মকারী তাতে সানন্দ সম্মতি জানায়। আজ, কাল্পনিক যিশুর কল্পিত জন্মবার্ষিকীর একটু আগে, বইটির জন্ম হচ্ছে। লেখক তাঁর নিজের কথা এভাবে বলেছেন:

আমার গামছা যেন সপ্তম স্বর্গের রুমাল
আমার পুরোনো জামা দেবতার বিজয় নিশান
আমার পকেটে ফুটো, যেন দ্বার খোলা আসমান
আমার অশ্রাব্য গালি, তারও মাঝে আছে সুর-তাল।

পরনিন্দুকের দল নিন্দা করে শ্রান্ত হয়ে যাক
আমার কাব্যের স্রোতে ভরে দেব এভিরিহোয়্যার
কবিতায় ধুয়ে যাবে ঘামে ভেজা আন্ডারওয়্যার
তারই ছন্দের সাথে তাল দেবে তেরে-কেটে-তাক।

আমি এক পৃথিবীর কবি, তবু পরিচিত নই
নামে কী বা এসে যায়? কর্মেই সবার পরিচয়
সুকর্মে সুনাম পেতে লাগে যদি অধিক সময়
গালি দিয়ে অধিকার কেড়ে নিতে কভু ভীত নই।

অভিনব ও চমকপ্রদ এই ছড়া-ইবুকটি বানিয়েছেন নরসুন্দর মানুষ। আর প্রচ্ছদ করে দিয়ে ধন্যবাদার্হ হয়েছেন কবি

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ০.৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/gC8c5Y
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/OeEpTu

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:


* অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাবের আর্কাইভ কুফর-e-কিতাব

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৪

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ১৬.
এক বিমান দুর্ঘটনায় ১৪৭ জনের মৃত্যু হলেও এক শিশু বেঁচে গেছে। তার গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত লাগেনি। অতএব প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ১৭.
মানুষের যুক্তি স্বভাবগতভাবেই ত্রুটিযুক্ত। তাই কোনও প্রস্তাবনা বাতিল করার মতো যথাযথ যৌক্তিক উপায় তার নেই। তাই যখন বলা হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে, তার মানে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ১৮.
আল্লাহ মানে ভালোবাসা। ভালোবাসা অন্ধ। স্টিভি ওয়ান্ডারও অন্ধ। স্টিভি ওয়ান্ডারের অস্তিত্ব আছে। এর অর্থ আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ১৯.
আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন। তুমি হৃদয়হীন, তাই তার ভালোবাসার জবাব দাও না বলে তা টের পাও না। আমি জবাব দিই। আর তাই তাঁর ভালোবাসা আমি অনুভব করি সর্বক্ষণ। এর অর্থ, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। 

প্রমাণ ২০.
পৃথিবীর অধিকাংশ লোক ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে না। এটা শয়তানের ষড়যন্ত্র এবং অপকীর্তির ফল। শয়তানকে কিন্তু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং প্রমাণ হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

রহমতে দ্বিমত

নিমো হুজুরের খুতবা - ১৪

লিখেছেন নীল নিমো

রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এক নাস্তিক ও এক মুমিনের সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি তাদেরকে জিজ্ঞাস করলাম:

- মদ পান করা এবং বাজার থেকে যুবতী নারী কিনে বাসায় এনে জোরপুর্বক সেক্স করা - এই দুইটি কাজের ভিতরে কোনটি খারাপ কাজ?

মুমিন বলিল:

- ইসলামে মদ খাওয়া হারাম, তবে নারী কেনাবেচা ইসলামে হালাল। নবীজির সুন্নাহ হিসাবে ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করাও হালাল। তাই মদের পরিবর্তে আমি নারীকেই বেছে নিবো।

নাস্তিক বলিল:

- মদ খেলে অন্য কারো ক্ষতি করা হয় না, তবে কোনো নারীর অনুমতি ছাড়া তার সাথে সেক্স করা যায় না। তাই আমি মদকেই বেছে নিবো।

এরপর দুইজনে মিলে আমাকে প্রশ্ন করল:

- হুজুর, আপনার মতে কোনটি খারাপ কাজ?

আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিলাম:

- ইসলামের প্রাথমিক যুগে নবীজির আত্মীয়স্বজন, সাহাবীগন সবাই মদ বা ওয়াইন খেতেন। পরে জিহাদে হেরে যাবার ভয়ে ওয়াইন খাওয়া নিষেধ করা হয়। তবে নবীজি ওয়াইন খেতে মানা করলেও ভোদকা, টাকিলা, হুইস্কি ইত্যাদি খেতে নিশেধ করেন নাই। কারণ ফেসবুক, ইউটিউব, টাকিলা, হুইস্কি, পর্নহাব... ইত্যাদি কী জিনিষ, তা নবীজি জানতেন না। তাই ইসলামে এগুলো হারাম না। এছাড়াও দেখবেন, ইসলামে দাবা খেলা হারাম হলেও ক্রিকেট খেলা হারাম নয়। পাকিস্তানীরা ক্রিকেট খেলে। তাই ইসলামে ওয়াইন খাওয়া হারাম হলেও ভোদকা খাওয়া হারাম নয়।... যাই হোক, আমি রাসুলের সুন্নাহ অনুসরণ করে বাজার থেকে ক্রীতদাসী কিনে আনব। এরপর দুইজনে মিলে ভোদকা খাব। এরপর ক্রীতদাসী যদি জোর করে আমার সাথে সেক্স করতে চায়, তাহলে আমি কি না করতে পারি?

নাস্তিক এবং মুমিন দুইজনে বলিল:

- নীল নিমো হুজুর, আপনি আসলেই একজন বিচক্ষণ মানুষ। আল্লাহ এবং ক্রীতদাসী দুইজনেই খুশি থাকবে। একেবারে উইন উইন সিচুয়েশন।

আল্লাপাকের কাছে হাজার শুকরিয়া, নাস্তিক-আস্তিক দুইজনেই একটি বিষয়ে একমত হল।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬৭

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ২২)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{৬১৬ সালের দিকে রোম সাম্রাজ্যের কিছু অংশ দখল করে নেয় পারসিয়ান (ইরান) সাম্রাজ্য; মূলত ইরাক ও সিরিয়া নিয়ে রোম ও পারসিয়ান সাম্রাজ্যের মধ্যে প্রায় সাড়ে-তিনশ বছরের উত্তেজনা ছিলো; এ অংশগুলোর মালিকানা দাবি করতো দু'পক্ষই, যুদ্ধে হাতবদল হতো মাঝে মধ্যেই, কিন্তু তাতে বিরোধ কমতো না মোটেই! মুহাম্মদের কাছে যখন রোমের পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছায়, মুহাম্মদ তার স্বভাবসুলভ প্রতিভায় ৯৪ নং প্রকাশ সামনে নিয়ে আসেন; এবং বলেন, খুব দ্রুতই রোমানরা আবারও জয় করে নেবে সেসব অংশ! রোমানদের এই পরাজয়ে মুহাম্মদ এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন; অনুসারীদের বলেই ফেলেন, একদিন পুরো রোম সাম্রাজ্য মুসলিমদের দখলে চলে আসবে! এসব অবশ্য ভিন্ন ইতিহাস।

আবু-জেহেলের সফল দিক-নির্দেশনায়, মক্কাবাসীদের বুঝতে বাকি রইল না, মুহাম্মদ একজন সুপ্ত কাব্য প্রতিভার মানুষ; প্রাচীন রূপকথার সাথে ইহুদি-খ্রিষ্টান মিথগুলোকে মিশিয়ে প্রকাশ করাই তার কাজ; আর এ কাজে মক্কার বসবাসকারী ইহুদি-খ্রিষ্টান মানুষগুলো তাকে সহযোগিতা করছে। সে যদি সত্যি সত্যি আল্লাহর নবী/রসূল হয়ে থাকে, তবে কেন কোরআন বই হিসেবে একত্রে আসে না? কেন কোরআন আরবি ভাষায়? কেন কোনো ফেরেশতা তার সাথে সাথে থাকে না? কেন তাকে সাধারণ মানুষের মতই চলাফেরা করতে হয়? কেনো সে সম্পদশালী হয় না?

মুহাম্মদ অবশ্যই কবি, উন্মাদ, মিথ্যাবাদী ও যাদুগ্রস্থ!

মুহাম্মদ বরাবরের মতই ভয়-ভীতি-লোভ মিশিয়ে ৯৫-৯৬ নং প্রকাশে অনুসারীদের কাছে এসব বিষয়ের উত্তর দেবার চেষ্টা করেন। তবে কোরআন এতটাই একপেশে অবস্থানে ছিলো মক্কার ১৩ বছর সময়কালীন; মুহাম্মদের অনুসারী ছাড়া কোনো অভিযোগের উত্তর কখনোই অভিযোগকারীদের কাছে পৌঁছায়নি!

মুহাম্মদের নবী-দাবির বুজরুকি ধরতে কুরাইশা’রা একেবারে একটি ভিন্ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করেন; এবং এ যাত্রায় ফাঁদে ধরা পড়েন মুহাম্মদ; অবস্থা এমন দাঁড়ায়, মক্কার হাওয়া-বাতাস-খাদ্য-পানি নিষিদ্ধ হয়ে যায় তার জন্য! 

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২২ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ১৫ তম চার অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

সাংঘর্ষিক বাসনা

ইছলামে জঙ্গিবাদ বাদ

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গটি আবারও আলোচিত হবার সময় একটি কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব: জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইছলামের কোনও যোগাযোগ নেই, থাকতে পারেও না।

শান্তির ধর্মের আসমানী কিতাব কোরান থেকে কয়েকটি শান্তিকামী আয়াত পড়ুন:
আর তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই। (২:১৯১)
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। (৩:১৫১)
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। (৫:৩৩)
যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন। (৯:১৪)
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম। (৯:২৯)
হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ (ইংরেজি অনুবাদে - strive hard) করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। (৯:৭৩)
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন। (৯:১২৩)
আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়। (৮:১২)
এবার দেখা যাক, কয়েকটি হাদিসে ইছলামের নবী কী বলেছে:
আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি। (বুখারি ৫২:২২০)
তরবারির ছায়ার নিচে বেহেশত। (বুখারি ৫২:৭৩)
অবিশ্বাসীকে হত্যা করা আমাদের জন্য একেবারেই ছোট্ট একটি ব্যাপার। (তাবারি ৯:৬৯)
এ ছাড়া, আল্যা-রসুলকে স্বীকার না করা পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া আছে বুখারী ৮:৩৮৭-এ ও মুসলিম ১:৩৩-এ।

ইবন ইসহাক/হিশাম ৯৯২-এ পাওয়া যাচ্ছে নবীজির নির্দেশনা:
যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে, তাদেরকে হত্যা করো।
আসুন, এখন ইছলামের ইতিহাস থেকে জেনে নেয়া যাক কয়েকটি ঘটনা:
১. নবী ও তার অনুসারীদের আগ্রাসী নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মৌখিক প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছিলেন বলে ১২০ বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ ইহুদী কবি আবু আফাককে নবীর আদেশে হত্যা করে তার অনুসারীরা।
২. আবু আফাক-কে হত্যার পর আসমা-বিনতে মারওয়ান তাঁর বিদ্বেষ প্রকাশ করলে নবীর নির্দেশে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত নিরস্ত্র এই জননীকে নৃশংসভাবে খুন করে নবীজির এক চ্যালা। ঘাতক যখন এই জননীকে খুন করে, তখন এই হতভাগা মা তাঁর এক সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যুষে খুনী তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর সাথে একত্রে সকালের নামাজ (ফজর) আদায় করে।
৩. কাব বিন আল-আশরাফ নামের এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাজের নিন্দা করা শুরু করেন ও বদর যুদ্ধে যাদেরকে খুন করার পর লাশগুলো গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন কবিতা আবৃতির মাধ্যমে। তাঁকেও নির্দয়ভাবে খুন করে নবীর উম্মতেরা
অতএব ওপরের উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইছলামের কোনও যোগাযোগ নেই।

ঈদুল ক্রিসমাস


২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

ক্রিসমাস - চুরি করা খিচুরি উৎসব

ক্রিসমাস মানে যিশুর জন্মোৎসব? একদমই নয়। কারণ যিশু বলে কেউ কখনও ছিলো, সেটাই প্রমাণ হয়নি আজ অব্দি। বাইবেল ছাড়া তৎকালীন আর কোনও রচনায় যিশুর উল্লেখ পাওয়া যায় না। আর তাই যিশু যে একটি কাল্পনিক চরিত্র, সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে তার জন্মতারিখ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পূর্ববর্তী অনেক কাল্পনিক চরিত্রের লজ্জাজনক সাদৃশ্যের কারণে।

আর ক্রিসমাস? বিভিন্ন জাতির, বিভিন্ন গোত্রের, বিভিন্ন সংস্কৃতির বিভিন্ন ঐতিহ্য, প্রথা, আচার ও উপকরণ চুরি করে খিচুরি বানিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে ক্রিসমাস। বিশদ জানতে অপূর্ব ভিডিও-নির্মাতা TheThinkingAtheist-এর এই ভিডিওটি দেখতেই হবে।

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/kenbgMjRvlY

এবং প্রিয়তম ক্রিসমাস-সঙ্গীত (লিরিক্স ভিডিওতে এমবেড করা):

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/BqfZUX5svCg

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২০)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


ক্লাস নেই, ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। সকালে উঠার তাড়া না থাকলেও খুব সকালেই উঠলাম, সকালটা না ঘুমিয়ে প্রাতঃভ্রমণ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চাই। এমনিতেও বেশিরভাগ ছুটির দিনে প্রাতঃভ্রমণে যাই বোর্টানিক্যাল গার্ডেনে, বাসা থেকে রূপনগরের ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে একুশ-বাইশ মিনিট লাগে। 

ছয়টা দশ বাজে। বাবা বাদে বাকিরা সেহেরী খাওয়ার পর নামাজ পড়ে আবার ঘুমিয়েছে, বাবা নামাজ পড়ার পর আর ঘুমান না। আমি ট্রাউজার্স প’রে, সাদা টি-শার্টটা গায়ে চড়িয়ে মানিব্যাগ থেকে শ’খানেক টাকা নিয়ে পকেটে ওকালাম; ব্যাগে এক বোতল ঠাণ্ডা পানি নিলাম, তারপর কেডস্-এ পা গলিয়ে ব্যাগটা পিঠে চড়িয়ে বাবাকে দরজা লাগাতে ব’লে নিচে নামলাম। 

জনশূন্য গলি। একটুও বাতাস নেই, ওপর থেকে নিচে নামতেই ঘেমে গেছি। সেই রোজার প্রথমদিন বিকেলে একটু বৃষ্টি হয়েছিল, তারপর থেকে আবার টানা খরা চলছে। রোজার প্রথমদিন বৃষ্টি হওয়ায় আমার মা আর ফুফু আলাপ করছিলেন আল্লাহর কুদরতের কথা নিয়ে। মা বলেছিলেন, ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ্ দরদী; নইলে এতোদিন বৃষ্টির দেখা নেই, আর রোজার প্রথম দিনেই রোজদারদের কষ্টের কথা চিন্তা ক’রে তিনি উদার হস্তে পানিবর্ষণ করলেন। গরমে কষ্ট দিয়ে তিনি তার বান্দাদের পরীক্ষা নেন।’

ফুফু মায়ের কথায় সায় দিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লার ঠিকই দয়া আছে, মানুষই তারে ডাকার মতো ডাকতে পারে না।’

মা আবার বলেছিলেন, ‘আর বেশি গরম পড়বে না, দেখো। আল্লা তার বান্দাদের আর কষ্ট দেবে না। বৃষ্টিও হবে।’ 

দ্বিতীয় রোজার দিন সকাল থেকেই আবার সেই আগের মতো গরম পড়তে শুরু করেছে। ফ্যানের নিচে বসে থাকলেও গা থেকে দরদর ক’রে ঘাম ঝরে। দয়াবান আল্লাহ্’র কুদরত বটে! 

রোজার মাসের সকালবেলার রাস্তার চিত্র অন্য সময়ের চেয়ে ব্যতিক্রম। স্কুল-কলেজ বন্ধ। রান্নার ঝামেলা নেই ব’লে মানুষও একটু দেরি ক’রে ঘুম থেকে ওঠে, রাস্তায়ও এর প্রভাব পড়ে। অন্য সময়ে গলিগুলোতে যারা প্রাতঃভ্রমণ করে, এ মাসে তাদেরও দেখা যায় না। রাস্তার পাশের ছোট ছোট হোটেলগুলো এতোক্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, বাতাসে ভেসে আসে পরোটা, ডিমভাজা আর পোড়া তেলের মিশ্রিত গন্ধ; কিন্তু রমজান মাস হওয়ায় এখনো হোটেলগুলো খোলাই হয়নি। 

রাস্তায় দাঁড়ানো একটা পুলিশভ্যান চোখে পড়লো। পেছনে বসা চারজন পুলিশ বেঘোরে ঘুমোচ্ছে, চালকও ডানদিকে মাথা এলিয়ে দিয়ে অচেতন। জনগণকে রক্ষা করবে কী, এরা এখন নিজেদের রক্ষা করার অবস্থায়ও নেই। এখন যদি জঙ্গিরা এসে অতর্কিত হামলা চালায়, তো জেগে উঠার পরিবর্তে মহাঘুমের দেশে পাড়ি দেবে এরা। আজকাল পুলিশ-সেনাবাহনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা করছে জঙ্গিরা। কিছুদিন আগে মিরপুর বেড়িবাঁধে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আর বাকিরা তাকে ফেলে যার যার জীবন নিয়ে পালিয়েছে। কচুক্ষেতে একজন সেনাসদস্যকে কুপিয়ে আহত করেছে। এরকম ঘটনা এখন হরহামেশাই ঘটছে। সেনাসদস্যদের চেয়ে বেশি বিপদে আছে পুলিশ কনস্টেবলরা। কারণ তাদেরকে বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ডিউটি করতে হয়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরবাইকে এসে হামলা ক’রে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। কিন্তু এই ঘুমন্ত পুলিশদের দেখে কে বলবে যে, দেশ এখন এক ক্রান্তিকাল পার করছে আর তারা নিজেরাও অবস্থান করছে বিপদসীমায়!

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২৩ (শেষ পর্ব): রক্ত মূল্য!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ছাব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা খায়বারের জনপদের ওপর অতর্কিত আক্রমণে তাঁদেরকে খুন, জখম ও বন্দী করার পর তাঁদের যে ভূ-সম্পদ লুণ্ঠন ও হস্তগত করেছিলেন, তা তারা কীভাবে বংশ পরস্পরায় ভোগ করেছিলেন; মুহাম্মদ তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর খায়বারের লুটের মালের হিস্যা থেকে তাঁর একান্ত নিকট আত্মীয়দের যে সম্পদ প্রদান করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তাঁর কোন অনুসারীরা তা বাজেয়াপ্ত করে তাঁদেরকে সেই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছিলেন; এই কর্মে তারা কী অজুহাত উত্থাপন করেছিলেন; তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। খায়বারের জনপদবাসীদের ওপর মুহাম্মদের এই আগ্রাসী আক্রমণ ও বিজয় কেতনের রক্ত-মূল্য কত ছিল, তার আংশিক আলোচনা “রক্তের হোলি খেলা - ‘নাইম’ দুর্গ দখল!” পর্বে করা হয়েছে। আদি উৎসে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদি।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) অব্যাহত বর্ণনা: [1] [2]

‘খায়বারে যে সকল মুসলমানরা শহিদ হয়েছিলেন তাদের নাম:

কুরাইশ মধ্যে, উমাইয়া বিন আবদু শামস গোত্র ও তাদের মিত্র:
[১] রাবিয়া বিন আখহাম বিন সাখবারা বিন আমর (আল-ওয়াকিদি: ''যাকে আল-নাটায় [পর্ব-১৩৮] হত্যা করেছিলেন আল-হারিথ নামের এক ইহুদি),
[২] রাইফা বিন আমির বিন ঘানম বিন দুদান বিন আসাদ,
[৩] থাকিফ বিন আমর (আল-ওয়াকিদি: 'যাকে হত্যা করেছিলেন উসায়ের নামের এক ইহুদি), ও
[৪] রাফিয়া বিন মাসরুহ (আল-ওয়াকিদি: ''যাকে হত্যা করেছিলেন আল-হারিথ নামের এক ইহুদি [পর্ব-১৩৩])

বানু আসাদ বিন আবদ আল-উজ্জা গোত্রের:
[৫] আবদুল্লাহ বিন আল-হুবায়েব।

আনসারদের মধ্যে, বানু সালিমা গোত্রের দুই জন:
[৬] বিশর বিন আল-বারা বিন মা'রুর - যার মৃত্যু হয়েছিল আল্লাহর নবীকে হত্যা চেষ্টায় উদ্দেশ্যে পরিবেশিত বিষ মিশ্রিত ভেড়ার মাংস ভক্ষণের কারণে [পর্ব-১৪৫], ও
[৭] ফুদায়েল বিন আল-নুমান।

বানু যুরায়েক গোত্রের:
[৮] মাসুদ বিন সা'দ বিন কায়েস বিন খালাদা বিন আমির বিন যুরায়েক (আল-ওয়াকিদি: 'যাকে হত্যা করেছিলেন মারহাব' [পর্ব-১৩৪])

বানু আউস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু আবদুল-আশহাল গোত্রের:
[৯] মাহমুদ বিন মাসলামা [পর্ব-১৩০] বিন খালিদ বিন আদি বিন মায়েদা বিন হারিথা বিন আল-হারিথ, ও
[১০] তাদের মিত্র বানু হারিথা গোত্রের এক লোক।

বানু আমর বিন আউফ গোত্রের:
[১১] আবু দেইয়াহ বিন থাবিত বিন আল-নুমান বিন উমাইয়া বিন ইমরুল-কায়েস বিন থালাবা বিন আমর বিন আউফ;
[১২] আল-হারিথ বিন হাতিব;
[১৪] আউস বিন আল-কায়েদ;
[১৫] উনায়েফ বিন হাবিব;
[১৬] থাবিত বিন আথলা, ও
[১৭] তালহা।

বানু গিফার গোত্রের:
[১৮] উমারা বিন উকবা - যে তীর-বিদ্ধ হয়েছিল।

বানু আসলাম গোত্রের:
[১৯] আমির বিন আকওয়া (আল-ওয়াকিদি: 'যিনি নাইম দুর্গে নিজেনিজেই আহত হন, আল-রাজী নামক স্থানে তাকে ও মাহমুদ বিন মাসলামা কে একই কবরে দাফন করা হয়।')।
[২০] মেষপালক আল-আসওয়াদ (খায়বারবাসী এক মেষপালক), যার নাম ছিল আসলাম। [2] 

ইবনে শিহাব আল-যুহরি হইতে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক খায়বারে যারা শহিদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন:

[২১] মাসুদ বিন রাবিয়া, আল-কারা অঞ্চলের বানু যুহরা গোত্রের এক মিত্র; ও
[২২] আউস বিন কাতাদা, বানু আমর বিন আউফ গোত্রের এক আনসার।’

- অনুবাদ, টাইটেল, [**] ও নম্বর যোগ - লেখক।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনা: [2]

নোবেল-উল মুস্তাকিম

সূরা আল্যা

নাজিল হয়েছে বেনামী সংস্কারক-এর ওপর

পটভূমি: মাশাল্যা, সুবহানাল্যা, আল্যা চাইলে কেউ ঠ্যাকাতে পারবে না, তারই প্রমাণ আরেকবার হয়ে গেল। কুটনামির শিকার হওয়া কুরআনের নির্যাস তথা সর্বশেষ সূরা 'সূরা আল্যা' আজ ১৪০০ বছর পরে আলোর মুখ দেখল। দীর্ঘদিন ধামাচাপা থাকার ফলে কিছু আয়াত ছাগলে খেয়ে ফেলেছে, কারও কাছে সেগুলো থাকলে স্বেচ্ছায় সংযুক্ত করে দোজাহানের কামিয়াবি হাসিল করুন।

সূরা আল্যা

- ওহে মূর্খ কাফের-নাস্তেক-মোশরেক-জাহান্যামীর দল, তোমরা কি জানো না আল্যা এক ও অদ্বিতীয়? তবে তার সর্বনাম 'আমি' 'আমরা' 'তিনি' 'তারা'

- তিনি সব সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তাকে কেউ সৃষ্টি করার প্রশ্নই আসে না

- তিনি বলেন 'হও' আর সব হয়ে যায়, তবে আবু লাহাব তথা কিছু সময়ে এই দাবি শিথিলযোগ্য বা ব্যতিক্রম

- তিনি পুরুষ, পর্দাশীল, অত্যাধিক ঝলকানিযুক্ত

- তার হাত, চোখ, কান, ব্রেন এমনকি পাছাও আছে

- পুরুষ হলেও নারীদের প্রতি তার আকর্ষণের বদলে বিশেষ অ্যালার্জি আছে এবং ক্রুদ্ধও বটে

- তিনি মাঝে মাঝে কনফিউজড হয়ে যান কিছু বিষয়ে

- তার চ্যালাচামুন্ডার কোনো অভাব নেই এই পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর বাইরে 

- তিনি মানুষকে পছন্দ করেন খুব কম, কিন্তু একটুতেই অপছন্দ করেন

- তিনি নিজেই নিজেকে সত্যি দাবি করেন, নিজেই নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করেন

- তার অস্তিত্ত্বের প্রমাণ তিনি কখনই দেন না

- তিনি তার প্রিয় বান্দাদের প্রতি কঠোর পরীক্ষা নেন অসুখ-অভাব-যন্ত্রণা দিয়ে, যেমন প্রেমের পরীক্ষা নেন খুন দিয়ে, আর তার প্রতি বিরাগভাজনদের প্রতি তিনি দয়ালু, আরাম আয়েশে রাখেন

- তিনি গণিত, জীববিদ্যা, দর্শন ও যুক্তিতে অনেক কাঁচা, সবচাইতে কাঁচা মহাকাশ তথা জ্যোতির্বিদ্যাতে

- তিনি যুদ্ধশাস্ত্রে তথা একজনকে আরেকজনের পেছনে লেলিয়ে দিতে নাম্বার ওয়ান কিং খান খান খান খান** 

- তিনি মানুষের চাইতে অনেক বেশি হিংসুটে এবং পক্ষপাতদুষ্ট, তার সুনাম করলে তথা তৈলমর্দন করলে খুশি হন আর সত্যি বললে ক্ষেপে যান, মিথ্যা বললে বা মজা করলে কী করেন, তা অপ্রকাশ্য

- তিনি ইশারা দিতে ওস্তাদ তবে সুনির্দিষ্ট করে কম বলেন, তিনি রহস্যময়

- তিনি মাছের পেট, শুকরের পাছা, গাছের ডাল থেকে শুরু করে শীতকালের ধোঁয়া ওঠা প্যাঁচানো হাগু সবখানেই নিজের নিশানা রাখেন

মিথ্যা থেকে জন্ম যে-ধর্মের


২২ ডিসেম্বর, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ২৬

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফয়সল আরেফিন দীপন ও নাজিমুদ্দিন সামাদ সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারলাম, ইস্রায়েল সন্তানদেরকে মিশর থেকে বের করে আনার উদ্দেশ্যে পরমেশ্বর যখন মূসাকে ফারাওর কাছে প্রেরণ করতে চাইলেন, তখন মূসা কীভাবে তার আত্মবিশ্বাসহীনতা উপস্থাপন করলেন এবং নিজের অযোগ্যতা তুলে ধরে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করলেন। ফলশ্রুতিতে পরমেশ্বর মূসার মুখের সঙ্গে সঙ্গে থাকার ও কী বলতে হবে তা তাকে শিখিয়ে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও মূসা তার কল্পিত পরমেশ্বরের আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে স্বীয় দায়িত্বভার এড়াতে গড়িমসি করতে লাগলেন। মূসার এমন অবিমৃশ্যকারিতায় বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে স্বকপোলকল্পিত পরমেশ্বর বাধ্য হলেন মূসার অভিপ্রায় অনুসরণ করে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হারূনকে তার সহযোগী নবী মনোনীত করতে। একইভাবে স্বকপোলকল্পিত পরমেশ্বর মূসাকে এটাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, মূসাকেই ঈশ্বরের ভূমিকা পালন করতে হবে। অর্থাৎ মূসার অনুগত নবীর ভূমিকা পালন করবে হারূন এবং নবী হারূনকে নিয়ন্ত্রণকারী ঈশ্বরের ভূমিকা পালন করবে মূসা। আর এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, স্বয়ং মূসা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ঈশ্বর এবং স্বকপোলকল্পিত পরমেশ্বর বরং মনিব মূসার আজ্ঞাবহ দাস।

তবে আল-কুরআনের বর্ণনায় মূসার ঐশ্বরিক ভূমিকা স্বীকার করা না হলেও, মূসার চাহিদার প্রেক্ষিতেই যে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হারূনকে তার সহযোগী নবী মনোনীত করা হয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে। যেমন:
মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও। এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহবার জড়তা দূর করিয়া দাও— যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারূনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর, ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর, যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর; এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। ‘তুমি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’ তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ তাহা তোমাকে দেওয়া হইল। [সূরা তা-হা: ২৫-৩৬]
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘তুমি জালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও, ‘ফির‘আওনের সম্প্রদায়ের নিকট; উহারা কি ভয় করে না ?’ তখন সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আশংকা করি যে, উহারা আমাকে অস্বীকার করিবে, এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই! সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও। [সূরা শু‘আরা: ১০-১৩]
‘আমার ভ্রাতা হারূন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে।’ আল্লাহ বলিলেন, ‘আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করিব এবং তোমাদের উভয়কে প্রাধান্য দান করিব। [সূরা কাসাস: ৩৪-৩৫]
অর্থাৎ মূসার অভিপ্রায় অনুসরণ করেই যে পরমেশ্বর যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, আল-কুরআনের উপর্যুক্ত বর্ণনাসমূহেও সে বিষয়টি স্পষ্ট।

মৃত্যুর পরে

সব ধর্মই বিষাক্ত

লিখেছেন শাহিন মন্ডল

আমরা তখন ক্লাস টেনে পড়ছি, চাতরা স্কুলের পাশে এক দাদার সাথে পরিচয় হয়েছিলো। ভালোই সময় দিতো আমাদেরকে। গেলো বছর একদিন থেকে তাকে কেমন মনমরা হয়ে বসে থাকতে দেখেছি, চাপাচাপি করে জানতে পেরেছিলাম, অভিদা নাকি এক মুসলিম মেয়েকে ভালোবাসতো এবং সেই মেয়েটার অনিচ্ছা সত্ত্বেও নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়ির লোক কাফিরের সাথে তাদের মেয়ের বিয়ে দেবে না। খুব খারাপ লাগতো অভিদার সামনে যেতে, ঐরকম হতাাশ ওর মুখে দেখতে পারতাম না,শুধু ভাবতাম - কী বিষাক্ত নিয়ম মানুষকে ভাগ করে দেওয়ার! ধর্ম মানুষকে কতোটা শান্তি দিয়েছে? এই ঘটনার জন্য দায়ী ধর্ম। যে ধর্ম প্রেমে বাধা দেয়, মানুষে-মানুষে বিভেদ টেনে আনে, সে ধর্ম থাকার কী দরকার? আপনারা যারা ধার্মিক হয়েও সহিষ্ণুতা, সেকুলারিজম আর প্রেমের বাণী প্রচার করে থাকেন, তাঁরা কি বোঝেন না যে, আজ ধর্ম আছে বলেই বিভেদ আছে। আপনাদের কাছে তাই প্রশ্ন: আপনাদের লজ্জা নেই? যখন সিনেমায় দেখানো হয় ভিন্ন ধর্মের অভিনেতা, অভিনেত্রীর প্রেমের গপ্পো, তখন তো বেশ চেটেপুটে উপভোগ করেন, খবরে যখন দেখেন বাড়ি থেকে মেনে না নেওয়ায় আত্মহত্যা করেছে ভিন্নধর্মের প্রেমিক-প্রেমিকা, তখন তো ভ্রু কুচকে অনেক ভাষণ দেবেন, আর নিজের ভাইবোনের বেলায়? সত্যি আপনাদের লজ্জা নেই, লজ্জা শব্দটাও আপনাদের কাছে যেতে লজ্জা পায়। এর চেয়ে আর বেশি কী বলবো! শুধু বিখ্যাত দু'টো লাইন মনে পড়ে গেলো, "ধর্মটাকেই চিতায় তোলো, ধর্মটাকেই কবর দাও।"

ধর্ম! হ্যাঁ, ধর্ম! এই ধর্মের তো বহু অর্থ দেখেছি কিন্তু এক কথায় আমরা যেটা বুঝি, মানে সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সেগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করবো ভাবছিলাম। আচ্ছা, এই ধর্মগুলো থাকায় কার কী সুবিধা হচ্ছে? শুধুমাত্র এই ধর্ম ভিন্ন হলেই বিভেদ, দাঙ্গা শুরু হয়, আর লাশ লুটে খায় ধর্ম ও ধার্মিকের দল। আপনি কী বলবেন? আপনি সহিষ্ণু ও সেকুলার ধার্মিক। আচ্ছা, ধরে নিলাম তা-ই। আপনি খুব ভালো ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ, এখন আপনার কাছে প্রশ্ন: পারবেন আপনার মেয়ে অথবা বোনকে ভিন্নধর্মের ছেলের সাথে দেখতে? পারবেন না তো!

ধর্মের বিষ যে আপনার শরীরে, কীভাবে পারবেন! আচ্ছা, জন্মের পর কি ধর্ম নিজে বেছে নিয়েছিলেন? আপনাদের মত তথাকথিত সেকুলারদের মুখেই তো বলতে শুনি, "কোনো ধর্মই খারাপ নয়।" যদি তাই-ই হয়, তাহলে বিধর্মীকে বিবাহ করাকে কোনো ধর্ম স্বীকৃতি দেয় না কেনো? আজ ধর্ম আছে বলেই ধর্মীয় মৌলবাদ আছে, তাই নয় কি?

কুকুর-বেড়ালদের মধ্যে এমন কোনো ধর্ম নেই বলেই তাদের ভেতরে বৃহত্তর কোনো দাঙ্গা বাধে না। তাহলে আমরা কুকুর-বেড়ালেরও অধম নই কি? ধর্ম নামক যে বিষাক্ত মাদক ঘটায় বিরোধের উত্‍পত্তি, সেটা কীভাবে প্রেমের কথা বলে, বুঝি না। আমরা নাকি সভ্য জাতি। মানুষ নাকি সভ্য! হাস্যকর! বস্ত্র পরিধান করলেই সভ্য হওয়া যায় না, বরং কুকুর-বেড়াল মানুষের থেকেও সভ্য কারণ তারা ধর্মের মত অপ্রয়োজনীয় কিছু মানে না, আর তাই নিয়ে দাঙ্গাও করে না। 

যে বিষয় নিয়ে শুরু করেছিলাম - একটা মানুষ আর একটা মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারবে না, কারন তাদের ধর্ম আলাদা, এখানে ধর্ম নিজেই বলে দিচ্ছে "যে মুসলিম সে মুসলিম", "যে হিন্দু সে হিন্দু", "যে খ্রীষ্টান সে খ্রিষ্টান" - অর্থাৎ তারা কেউই মানুষ নয়, তা না হলে মানুষের সাথে মানুষের বিবাহরীতি থাকতো, হিন্দুর সাথে হিন্দু বা মুসলিমের সাথে মুসলিম - এই বিবাহরীতি থাকতো না। 

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ৩১

বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতাদের অবস্থান বড়োই বেমানান, দৃষ্টিকটু, অশোভন এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবি ও কার্টুন সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach. খিয়াল কৈরা!)।


২১ ডিসেম্বর, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ২৭

লিখেছেন পুতুল হক

১০৩.
কোরআনের অর্থ বুঝে পড়লে যদি লোকে ইসলাম ত্যাগ করতো, তবে সৌদি আরব কিংবা যেসব দেশের মানুষ আরবিতে কথা বলে, তারা অনেক আগেই নাস্তিক হয়ে যেত। খ্রিষ্টান বাইবেল অর্থ বুঝে পড়ে এবং ভক্তিতে গদগদ হয়। বেদ-রামায়ন-মহাভারতে কী লেখা আছে, বেশিরভাগ হিন্দু তা জানে এবং পবিত্র পুস্তক মানে। আক্ষরিক অর্থ বোঝা বা না বোঝার সাথে বিশ্বাসের কি রকমফের হয়? বেদপুরাণের গল্প কিংবা কোরআন-হাদিসের গল্প কিংবা বাইবেলের গল্প সত্যিকারে সম্ভব না - এটা বুঝতে আধুনিক মানুষের খুব বেশি লেখাপড়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবুও মানুষ কোনো না কোনো ফালতু বইয়ের আজগুবি কথা বিশ্বাস করার জন্য মুখিয়ে থাকে। মানুষের চাইতে বোধহয় গরু-ছাগল ভালো। এদের বাচ্চাদের অন্তত রূপকথায় বিশ্বাস করে বড় হতে হয় না।

১০৪.
ওমর আজকাল দাড়ি কামায় না। মুখভরা সুন্নত। ওমরের মা মিসেস আমেনা খাতুন স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক দেনদরবার করে স্বামীর অফিসে একটি কেরানির চাকরি জোগাড় করেছেন। সতের বছর ধরে সাধ্যের বাইরে ছেলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন।

ছেলেকে দাড়ি কাটার কথা বললে তার জবাব শুনে খুব অবাক হয়েছেন। মুসলমান ছেলেকে নাকি দাড়ি রাখতে হবে। মিসেস আমেনা খাতুনের স্বামী মনোয়ার হোসেন সাহেবের দাড়ি ছিল না। বাবা এবং শ্বশুর দাড়ি রেখেছিলেন বৃদ্ধ বয়সে। তাদের ছেলে তেইশ বছর বয়সে দাড়ি রাখে মুসলমানিত্বের কারণে।

মিসেস আমেনা খাতুনের অবাক হবার পালা শেষ হতে আরো বাকি ছিল। ছেলে মায়ের জন্য বুরখা কিনে এনে আদেশের সুরে বলে এখন থেকে বুরখা পড়তে এবং পুরুষ কলিগদের সাথে কম মেলামেশা করতে।

ছেলে বলে, এদেশে নাকি শরিয়া আইন আসবে। এদেশের মুসলমানরা নাকি এতোদিন মুসলমান ছিল না। এদেরকে মুসলমান বানাতে হবে। মাকে বলে বেপর্দা চলাফেরা না করতে।

সতের বছরের পরিশ্রমের ফল বুরখা হাতে বসে আছেন মিসস আমেনা খাতুন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও থমকে যাননি যিনি, এক পা এক পা করে এগিয়েছেন, আজ তাঁর পায়ে শতমণ ওজনের পাথর বেধে দেয় তাঁরই আপন ছেলে।

‌১০৫.
মোহাম্মদের সমসাময়িক বিশ্ব-ইতিহাসে মোহাম্মদের নাকি কোনো উল্লেখ নেই। তার জীবদ্দশায় তাকে নিয়ে কোনো কাব্য রচনা হয়নি, অথচ তখনকার আরব ছিল কাব্যে বিশ্বসেরা। নেই ওহীর কোনো শিলালিপি বা অন্য কোনো প্রমাণ। মক্কা ছিল আরবের ব্যবসা-বানিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র। সিরিয়া, ইয়েমেন, ভারতবর্ষ, রোমান সাম্রাজ্য, এই সমস্ত অঞ্চলের সাথে মক্কার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। কাজেই মোহাম্মদের মত প্রভাবশালী ব্যক্তির কথা সিরিয়া, ভারতবর্ষ বা রোমান ইতিহাসে থাকা উচিৎ ছিলো। সত্য হচ্ছে - মোহাম্মদ সম্পর্কে যত যা কিছু লেখা হয়েছে, তা তার মৃত্যুর শতাধিক বছর পরে। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার ইতিহাসে একবার মাত্র মোহাম্মদের উল্লেখ পাওয়া যায় এবং সেটাও খুব নগণ্যভাবে। মোহাম্মদের প্রথম জীবনী লেখা হয় তাঁর মৃত্যুর দেড়শত বৎসর পর। সারা বিশ্বে ইসলাম কায়েম মানে আরবের আধিপত্য বিস্তার। শরিয়া আইন নামে যে সমস্ত বিধিবিধান আছে, তা তো সব প্রাচীন আরবের প্রচলিত প্রথা আর আরবের সংস্কৃতির বিস্তার। মুসলমানের পোশাক মানে আরবের পোশাক, মুসলমানের উৎসব মানে আরবের প্রচলিত উৎসব। "মোহাম্মদ" নামের এক অতিরঞ্জিত চরিত্র দাঁড় করিয়ে আরব ঔপনিবেশিকতার বিস্তারের নাম কি ইসলাম? তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর কিছু ক্ষমতালোভী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর দুর্নীতিপরায়ণ আরব নেতার আবিষ্কার কোরান আর হাদিস?

হা-হা-হাদিস – ১৮২

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

Narated By 'Aisha : I used to wash the traces of Janaba (semen) from the clothes of the Prophet and he used to go for prayers while traces of water were still on it (water spots were still visible).

জনৈক উন্মাদ রবীন্দ্রনাথের কাহিনী

লিখেছেন আক্কাস আলী

নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ একদা কারওয়ান বাজারের চিপা গলিতে পায়চারী করিতেছিলেন আর সকলকে উচ্চস্বরে বলিয়া বেড়াইতেছিলেন যে, “আমি গীতাঞ্জলী রচনা করিয়াছি... উহা অনেক সুন্দর হইছে... উহার প্রতিটি কবিতার ভাষাশৈলী বহুত উন্নতমানের যাহা বলাই বাহুল্য... আমি নোবেল পুরস্কার পাইয়াছি...”

আমি বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়াইয়া ব্যাপারখানা লক্ষ্য করিতেছিলাম। কী হইলো আমাদের ঠাকুরদাদার! গীতাঞ্জলীর প্রশংসা তিনি নিজেই করিতেছেন! তাও আবার এই কারওয়ান বাজারের চিপাগলিতে! খটকা লাগিলো... কোথাও একটা গলদ আছে...

হঠাৎ এক তরকারিওয়ালা তাহাকে উদ্দেশ্যে করিয়া চিল্লাইয়া উঠিলো, “ঐ মালু... কী বালের বই লেখছস তুই? আমি বইডা পইড়া দেখছিলাম গত রাইতে, কিছুই ত হয় নাই! তোরে আবার কবি কয় কেডা? আর তোরে পুরস্কার দিছেই বা কুন হালায়?”

তরকারীওয়ালার এইরূপ ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনিয়া আমাদের রবিদা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হইয়া রহিলেন! কিছুক্ষণ পর তীব্র ক্রোধে বিকট একটা আওয়াজ তুলিলেন... গগণ বিদীর্ণ হইবার উপক্রম! অমনি আশেপাশে লোকজন জমিয়া গেলো। অবশেষে ঠাকুর দাদার মুখ হইতে কথা বাহির হইলো, মূর্খ কুলাঙ্গার তরকারিওয়ালার উদ্দেশে তিনি বলিলেন, “ওহে বৎস... তুমি কি সবদিক ভাবিয়া এইসব কথা বলিলে? তুমি কি জানো, আমি এই জগতের কত বড় কবি? গীতাঞ্জলীর প্রতিটি কবিতায় আমি কীরূপ অসাধারণ কারুকার্য ও ভাষাশৈলী প্রদর্শন করিয়াছি? আর তুমি এইসব অস্বীকার করিতেছো? যাও, যদি পারো, তাহা হইলে গীতাঞ্জলীর মত একটা বই লিখিয়া আনো। অন্তত একটা কবিতা লিখিয়া আনিতে পারিলেও চলিবে... চ্যালেঞ্জ রইলো হে তরকারিওয়ালা, দেখি তুমি কতটুকু পারো... আমি জানি তুমি তাহা পারিবে না, আর না পারিলে আমি তোমার গর্দান নিবো। আর হ্যাঁ, তোমার কবিতা কীরূপ হইয়াছে, তাহা আমি নিজেই রায় দিবো”

আমি তো পুরাই টাসকি খাইলাম! ঠাকুরদাদা আবার উন্মাদ হইয়া গেলো নাকি!? নিজের কবিতার প্রশংসা নিজে করে! তরকারিওয়ালারে চ্যালেঞ্জ দেয়! তার মত কবিতা লিখিতে কহে! ঐ কবিতা গীতাঞ্জলীর সমকক্ষ হইয়াছে কি না, তাহা ঠাকুরদাদা নিজেই রায় দিবেন! আবার তরকারিওয়ালার কবিতা ভালো না হইলে তাহার গর্দান নিবেন! নাহ... ব্যাপারখানা ঠিক সুবিধার মনে হইলো না। আমি এইবার আগাইয়া গেলাম। ব্যাপারখানা খোলাসা হওয়া দরকার।

কাছে যাইতেই আমি ধাঁধায় পড়িয়া গেলাম! কাহিনী কী! এই ব্যাক্তিটির চেহারার অবয়ব যেনো একটু অন্যরকম লাগিতেছে। এই ব্যক্তি তো রবীন্দ্রনাথ নয়... যদিও দাদার মতই লম্বা পাকা গোঁফদাড়ি রহিয়াছে।

পাশের এক পানের দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “ভাইজান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইখানে কী করিতেছেন? উনি কি মাঝেমধ্যেই এই গলিতে আসেন?”

পানের দোকানদার তাহার তরমুজের বীচির মত দাঁতগুলো বাহির করিয়া জবাব দিলো, “হেহে... কারে কী কন, মিয়া? আপনের মাথাডাও তো গেছে দেখতাছি! উই হালার নাম রবীউল্লাহ। মাথায় গণ্ডগোল আছে। উন্মাদ... হালায় নিজেরে কবি কয়! হ্যায় নাকি রবীন্দ্রনাথ! সারাদিন বিড়বিড় কইরা কবিতা কয় আর এই গলিতে ডিউটি দেয়।”

দোকারনাদের কথা শুনিয়া আমি কিছুটা লজ্জিত বোধ করিলাম। আমি কাহারে রবীন্দ্রনাথের আসনে বসাইয়াছিলাম! ঠাকুর দাদার মত লোক কি এই চিপাগলিতে আসিয়া নিজের কবিতার প্রশংসা নিজেই করিবে? আর এক তুচ্ছ তরকারিওয়ালাকে চ্যালেঞ্জ করিবে! পানের দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করিবার পূর্বেই এই ব্যাপারখানা আমার বোধগম্য হওয়া উচিত ছিলো।

আমি লজ্জিত বিবেকে সুরা বাকারার ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াত পাঠ করিতে করিতে বাড়ি ফিরিলাম।

একই অঙ্গে এতো রূপ


* কসপ্লে - Costume Play-র সংক্ষিপ্ত রূপ। কাল্পনিক কোনও চরিত্রের কল্পিত পোশাক পরিধান করে নিজেকে সেই চরিত্র হিসেবে ভাবতে থাকাকে কসপ্লে বলা হয়।

২০ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধর্মকারীর কুফরী কিতাব - ২৫: আরজ আলী মাতুব্বর - সত্যের সন্ধান

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেই কি কাউকে শিক্ষিত বলা উচিত, যদি সে মুক্তচিন্তা করতে না পারে? পাঠ্যপুস্তক পড়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করাটাই কি শিক্ষিত হবার পরিচায়ক? যুক্তি-প্রমাণহীন কোনও বিশ্বাস ভেঙে যাবে বলে প্রশ্ন করতে ভীত শিক্ষিত ব্যক্তির শিক্ষার মূল্য কতোটা? নিজের ধারণার পরিপন্থী কোনও সত্যকে অস্বীকার করা ব্যক্তিকে সুশিক্ষিত বলা যাবে কি, যদি তার থেকে থাকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও? 

আরজ আলী মাতুব্বর - প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, তবে স্বশিক্ষিত, সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন বলে মুক্তচিন্তা করতে পারতেন। ধর্মীয় রীতিনীতি ও কুসংস্কার বিষয়ে যতো প্রশ্ন এসেছে তাঁর যুক্তিমনস্ক মস্তিষ্কে, তিনি সেসবের উত্তর খুঁজেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, প্রচ্ছন্ন সরস কটাক্ষ করেছেন। তিনি তাঁর লব্ধ জ্ঞান ও নিজস্ব অনুসন্ধিৎসু বুদ্ধিবৃত্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে রচনা করেছেন কয়েকটি বই। তাঁর ভাষাজ্ঞান, রসবোধ রীতিমতো ঈর্ষাজাগানিয়া। 

বাংলাদেশের এই দার্শনিক ও চিন্তাবিদ আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা "সত্যের সন্ধান"-এর ইবুক প্রকাশ করা হচ্ছে আধুনিকতম অবয়বে। বইটির বিভিন্ন অনলাইন ভার্শন বহু বছর ধরে লভ্য হলেও সেটির সবচেয়ে সুদর্শন, সবচেয়ে ঝকঝকে এবং সবচেয়ে দৃষ্টিসুখকর ইবুক ভার্শন প্রকাশ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করাই ছিলো আমাদের উদ্দেশ্য। "নরসুন্দর মানুষ" নামের এক অমানুষ বইটি ইউনিকোডে টাইপ করে হাইলাইট করেছেন বিশেষ অংশগুলো এবং বানিয়েছেন অনিন্দ্যসুন্দর ইবুকটিও। মূল বইয়ে আরজ আলী মাতুব্বর-এর নিজের আঁকা সাদা-কালো কাভারটির চমৎকার "কাভার ভার্শন" করে "কবি" বানিয়েছেন প্রচ্ছদ। নরসুন্দর মানুষ ভূমিকায় লিখেছেন:
প্রতিদিন ১১ কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে বরিশাল লাইব্রেরিতে এসে বই পড়ে আবার সন্ধ্যায় পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরে যেতেন তিনি; অন্য পাঁচ-দশটা গ্রাম্য শিশুর মতই অতি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর; সামান্য ভিটেবাড়ি ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পাননি তিনি; বাবাকে হারান শৈশবেই।
পিতৃহীন ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ মায়ের ছায়ায় বড় হচ্ছিলেন। বাংলা ১৩৩৯ সনে সেই মাকে হারিয়েও প্রচণ্ড আঘাত পান, আরজ আলী তখন যৌবনে দাঁড়িয়ে; মৃত মায়ের একটি ছবি তোলার অপরাধে মায়ের জানাজা হলো না; এক ধাক্কায় আরজ আলী’র মনন থেকে উঠে আসতে শুরু করলো ধর্ম, দর্শন, সমাজতত্ত্ব, জগৎ ও জীবন নিয়ে নানা জিজ্ঞাসা। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শুরু করেন, কিন্তু তাঁর মনে জেগে ওঠে প্রশ্নের পর প্রশ্ন; আলোড়িত প্রশ্নগুলো লিখে রাখতে শুরু করেন, আর এভাবেই লিখে ফেলেন তার প্রথম বই ‘সত্যের সন্ধান’, এটি বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন স্বশিক্ষিত বস্তুবাদী দার্শনিক; বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব সবক্ষেত্রেই ছিল তাঁর আলোকিত পদচারণা, ৮০ তম জন্মবার্ষিকীতে জীবনের সমূদয় উপার্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি’, মানবকল্যাণে নিজ দেহ ও চোখ দান করে গিয়েছিলেন; জ্ঞানার্জনে শিক্ষার কোনো বিকল্প হতে পারে না - এই সত্যটি উপলব্ধি করে আমৃত্যু জ্ঞানান্বেষণে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি।
মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বত্তার মূল ভিত্তি হচ্ছে মানবীয় উৎকর্ষতা ও যৌক্তিক-বিশ্লেষণার্থক চিন্তার প্রসারতা। সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মানুষের চেয়ে তাই আমাদের বেশি প্রয়োজন স্বশিক্ষিত আলোকিত মানুষের। কালের ক্রমবিকাশে লৌকিক স্বশিক্ষিত মানুষেরাই হয়ে দাড়িয়েছেন মহাজাগতিক আলোকবর্তিকা, যাঁরা ছাড়িয়ে গেছেন সময়কে। ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ সেই লৌকিক স্বশিক্ষিত দার্শনিক, যাঁর দর্শন এখনো বহুমাত্রিক কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেদ করে যৌক্তিক মুক্তির সন্ধান দেয় আমাদের। তাঁর হাত ধরে আজও আমরা খুঁজে নিতে পারি মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, বিজ্ঞানমস্কতার উত্তরণ।
‘আরজ আলী মাতুব্বর’-এর ১১৬ তম জন্মদিনে তাঁর প্রশ্নের আলোয় আলোকিত হবার চেষ্টাই হতে পারে আমাদের উত্তরণের ব্রত। শুভ জন্মদিন, অগ্রজ।
এ এমন এক বই, যেটা পড়া না থাকলে অতিঅবশ্যপাঠ্য। এমনকি পড়া থাকলেও বারবার পাঠে বিরক্তি জাগে না একবিন্দু, ম্লান হয় না মুগ্ধতা।

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১.৯ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/hGF9xW
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/7vkU7Q

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে: