১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ধর্ম ও ধার্মিক এবং আমার অভিজ্ঞতা - ০২

লিখেছেন রাহুল মল্ল

নিজে নাস্তিক হয়েও বিভিন্ন সময় ধার্মিক বন্ধু, পরিবার, সহপাঠীর সাথে দিন কাটাতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রায় ধর্মও ধার্মিক দের ব্যাপারে অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারাবাহিক সিরিজের আজ ২য় পর্ব।

৫) চট্টগ্রাম থেকে এক ছুটিতে বাড়ি ফিরছি। ছাত্র ছিলাম তখন। পকেটে তেমন বেশি টাকাটুকা নেই। ভাড়া দিয়ে পকেটে ১০৫ টাকা ছিল। ১০০ টাকার একটা নোট আর ৫টাকার নোট। বারো আউলিয়া নামের একটি বাজারে আসতেই বাসের গতি কমে যায়। কারণ ছিল এটি রাস্তার পাশে একটি সুসজ্জিত মাজার। সবাই জানালা দিয়ে টাকা দিচ্ছে নিয়ত করে। ছোটছোট বাচ্চারা নিচে থেকে কুড়িয়ে দানবাক্সে রাখছে। সামনে আমার পরীক্ষা। চিন্তা করলাম, দোয়া একটু নিই। ভাবতে ভাবতে বাসের গতিও বাড়ছে। দ্রুত পকেট থেকে বের করে ৫ টাকার নোট দিতে গিয়ে ১০০ টাকার নোট দিয়ে দিলাম। সেদিন থেকে আলি আউলিয়ার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে।

৬) পাশের বাড়িতে একটা ছেলে ছিল। নাম আলাউদ্দিন। ছোট থেকেই সবাই হুজুর ডাকতো। কারণ ছিল ছোট থেকেই সে খুব ধার্মিক। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো, রোজা রাখতো। রমজান মাসে খুব ভোরে সুর করে আজান দিতো। তাঁর আজানের সুর আশেপাশে যে কেউ শুনেই আলাদা করতে পারতো। এক কথায়, আর দশটা ছেলে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল সে। ১২ বছর বয়সে মারা গেছে। মাথায় টিউমার হয়ে।

৭) গার্লফ্রেন্ডকে বললাম, আমি ধর্ম বিশ্বাস করি না। সেদিন সাথে সাথে ব্রেক-আপ হওয়ার দশা। একটু চিন্তা করে 'মিথ্যা' বললাম, "আমি মজা করেছি। আসলে আমি ধার্মিক।" তারপর সব ঠিক। 

৮) আমাদের গ্রামে এক মহিলা আছে। আগে প্রায় প্রতি মাসে তার জন্য বিচার-সভা-মিটিং হতো গ্রামে। কারণ ছিল - স্বামী ছাড়াও তার যৌনসম্পর্ক ছিল অনেকের সাথে। খুব খারাপ মহিলা হিসাবে পরিচিত ছিল পাড়ায়।

কিছুদিন আগে মা-কে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম, সেই মহিলার শরীরে মহাদেব স্থান করেছে। জটাধারী হয়ে গেছে সে। গ্রামে তার জন্য অনেক বড় মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত তাকে পূজা দিচ্ছে সবাই। মন্দিরের আর্থিক সহায়তা করে গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তি, যারা এক সময় সেই মহিলার বিচার করতো, সাজা দিতো।

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন