৩১ মার্চ, ২০১৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০৩

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

পর্ব ১ > পর্ব ২


নীতি-দ্বৈতনীতি

প্রতিটি মানুষ সমান, ইসলামের এই নীতির প্রশংসা না করলে ছোট করা হবে মুহাম্মদের নীতিবোধের। তবে সমান হবার প্রথম শর্ত আপনাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে!
বুখারী-১-২-১২:  তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।
বুখারী-৯-৮৫-৮৩: এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই, না সে তার প্রতি জুলুম করবে, না তাকে অন্যের হাওলা (দায়িত্বে দেওয়া) করবে। যে কেউ তার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন।
বুখারী-৮-৭৩-৭০: মুহাম্মদ বলেছেন: মুসলমানকে গালি দেওয়া/ক্ষতি করা ফাসিকি (কবিরা গুনাহ) এবং একে অন্যেকে হত্যা করা কুফরী।
ইসলামে মিথ্যা সব সময়ই মিথ্যা নয়, এমনকি কসমও নয় চুড়ান্ত কসম!
বুখারী-৩-৪৯-৮৫৭: সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য (নিজের থেকে মিথ্যা বলে) ভালো কথা পৌঁছে দেয় কিংবা ভালো কথা বলে।
বুখারী-৮-৭৮-৬১৮: আবু বকর কখনও কসম ভঙ্গ করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ্ তাআলা কসমের কাফফারা সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। তিনি বলতেন: আমি যেকোনো ব্যাপারে কসম করি, এরপর যদি এর চেয়ে উত্তমটি দেখতে পাই তবে উত্তমটিই করি এবং আমার কসম ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করে দেই।
মুহাম্মদ নিজে শিখিয়েছেন, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা কথা বলা অন্যায় নয় মোটেই। মুহাম্মদের জামাতা আলী'র ভিন্নমত হবার কারণ আছে কি?
বুখারী-৫-৫৯-৩৬৯: মুহাম্মদ বললেন: কাব ইবনে আশরাফের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছো কে? কেননা সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলকে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা দাঁড়ালেন, এবং বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা বললেন, তাহলে আমাকে কিছু মিথ্যা কথা বলার অনুমতি দিন। মুহাম্মদ বললেন: হ্যাঁ বল।বুখারী-৯-৮৪-৬৪: আলী বলেছেন: আমি যখন তোমাদেরকে রাসুলুল্লাহ–এর কোন হাদীস বর্ণনা করি ‘আল্লাহর কসম’! তখন তাঁর উপর মিথ্যা কথা আরোপ করার চেয়ে আকাশ থেকে নিচে পড়ে যাওয়াটা আমার কাছে শ্রেয়। কিন্তু আমি যদি আমার ও তোমাদের মধ্যকার বিষয় সম্পর্কে কিছু বলি, তাহলে মনে রাখাতে হবে যে, মিথ্যা শত্রুর বিরুদ্ধে একটি কৌশল।
মুসলিম-৩২-৬৩০৩: মুহাম্মদ বলেছেন: সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে আপোষ মীমাংসা করে দেয়। সে কল্যাণের জন্যই (মিথ্যা) বলে এবং কল্যাণের জন্যই চোগলখুরী (দুমুখো) করে। ইবনে শিহাব বলেন: তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো বিষয়ে রাসুলুল্লাহ মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। যুদ্ধ ক্ষেত্রে, লোকদের মাঝে আপোষ-মীমাংসার জন্য, স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর কথা ও স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর কথা প্রসঙ্গে।
ইসলামে বিচারব্যবস্থা শরিয়া আইন-নির্ভর, শরিয়া মানুষের অন্যায়ের সমতাভিত্তিক বিচার করে বলে ধারণা করেন অনেকেই। তা হতে পারে অবশ্যই, যদি আপনি একজন (কাফির) অমুসলিমকে মানুষ মনে না করেন!
বুখারী-১-৩-১১৩: আবু জুহায়ফা বলেন: আমি আলী-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের কাছে কি লিখিত কিছু আছে? তিনি বললেন: না, কেবলমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর সেই বুদ্ধি ও বিবেক, যা একজন মুসলিমকে দান করা হয়। এ ছাড়া যা কিছু এ পত্রটিতে লেখা আছে। আবু জুহায়ফা বলেন: আমি বললাম, এ পত্রটিতে কী আছে? তিনি বললেন: দিয়াতের (আর্থিক ক্ষতিপূরণ) ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, মুসলিমকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না।
মুহাম্মদ এতটাই নৈতিক মানুষ ছিলেন, মৃত্যুর পূর্বে তার অনুসারীদের দিয়ে গিয়েছিলেন সবচেয়ে বড় মানবিকতার পাঠ!
বুখারী-৪-৫২-২৮৮: মুহাম্মদ ইন্তিকালের সময় তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। (১) মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ (মক্কা, মদীনা, ইয়ামামা ও ইয়ামান) থেকে বিতাড়িত করো। (২) প্রতিনিধি দলকে আমি যেরূপ উপঢৌকন দিয়েছি তোমরাও আনুরূপ দিও। (৩) (রাবী বলেন) তৃতীয় ওসীয়তটি আমি ভুলে গিয়েছি।
মুসলিম দাস-দাসী-গোলামের প্রতি তার মায়া ছিলো অসম্ভব, অথচ অমুসলিম নারী-শিশু নিয়ে তার দ্বৈতনীতি বিদ্যমান ছিলো আজীবন!
বুখারী-৩-৪৬-৬৯৩: মুহাম্মদ বলেছেন, কেউ কোনো মুসলিম গোলাম আযাদ (মুক্ত) করলে আল্লাহ সেই গোলামের প্রত্যেক অংগের বিনিময়ে তার এককটি অংগ (জাহান্নামের) আগুন থেকে মুক্ত করবেন। সাঈদ ইবনে মারজানা বলেন, এ হাদীসটি আমি আলী ইবন হুসায়নের খিদমতে পেশ করলাম। তখন আলী ইবনে হুসায়ন তার এক গোলামের কাছে উঠে গেলেন যার বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবনে জাফার তাকে দশ হাজার দিরহাম কিংবা এক হাজার দীনার দিতে চেয়েছিলেন এবং তিনি তাকে আযাদ করে দিলেন।
মুসলিম-১৯-৪৩২২: সাব ইবন জাছছামা থেকে বর্ণিত: আমি মুহাম্মদ-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণে মুশরিকদের শিশুদের উপরও আঘাত করে ফেলি। মুহাম্মদ বললেনঃ, তারাও তাদের (মুশরিক যোদ্ধাদের) অন্তর্গত।
(চলবে)

শুধু আপনার ধর্মটিই সঠিক

কুদরতিক্রিয়া - ১৪

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৩৪.
মনে করুন, এই মুহুরতে ফক্রিত জিহাদের ডাক আইসল। আফনে একজন ফক্রিত মুচলিম হিসাবে জিহাদে যুগ দিলেন। কারন জিহাদ করা ফরজ। তকন যুদি বাংলাদের ফুলিস আফনাকে জংগি বলি দরি জেলে সালান করে, তকন কি কইরবেন আফনে? এরফর আরো যুদি দেকেন আফনার আসেফাসের মানুস বা বন্দু বান্দব আফনাকে গিন্না কইত্তেসে বা বইলতেসে, আফনি ফক্রিত মুসলিম না, তকন কেমন লাগবে আফনের?

৩৫.
একডি সজ সড়ল ফ্রস্ন: আইসসা, আমাগের নবির দেসের বরো বরো আরব রা দারি রাকে না কেনু, টুফি ফরে না কেনু? তারা কি কুরান-হাদিম ফরে না। কুরান-হাদিচ ত তাদের নিজ মাতরি বাসায় ই রসিত, কুরান হাদিচ ত তারা আমাদের সেয়ে বেসি বুজার কতা, তাই না কি? 


সবির এই লুকডা দারি না রাকি মুচ রাইকসে কেনু? মুচ রাকা ত হারাম। তাদের দেসেত ইচলামি সাসন কায়েম আসে, তারফরেও তারা কেনু নবির সামাইন্য সুন্নত দারি ডা রাকে না? "আমেরিকার সরযন্ত্র" এইডা বলি কেউ আবার উত্তর দিয়েন না। কুদরত আলি সরল মানুস, তাই এই সহজ ফ্রশ্ন ডা কইল্লাম। সহজ উত্তর সাই।

৩৬.
এক কারাপের কারাপে কয়, বাংলাদেশের ভুত মানেই নিকি আরব দেসের জীন। আমি বইল্লাম, বাংলাদেশের ভুত বইলতে কিসু নাই, সবই রুফকতার গপ্প। তারফর কারাপ ডায় কয়, তাইলে জীন বইলতে ও কিসু নাই, সবই আরব্য রুফকতার গপ্পো। আমি বইল্লাম, দিমু লাত্তি। হেতি কয়, হুজুর আফনে যুদি হারা জীবন সাদনা কইরা আমারে এক্কান জিন দেকাইতে ফারেন, কুদার কসম আমি হারা জিবন আফনের গুলামি করুম। ফাইরবেন নি দিকাইতে? আমি বইল্লাম, যা, বাগ একান তেকে! জিন চুকে দিকা যায় না।

সমান-অসমান

৩০ মার্চ, ২০১৭

দূরদৃষ্টিহীন সৃষ্টিকর্তা

লিখেছেন পুতুল হক

চোদ্দশো বছর আগের মক্কা নগরী। সেখানে মোহাম্মদ নামে চল্লিশ বছরের এক লোক বাস করতো। তার স্ত্রী খাদিজা একজন ধনাট্য ব্যবসায়ী এবং মোহাম্মদের চাইতে বয়সে পনের বছরের বড়। মোহাম্মদ খাদিজার বেতনভুক কর্মচারী ছিলো এবং পরবর্তীতে ঘরজামাই। ঘরজামাই মানে হচ্ছে গৃহপালিত জামাই। 

এক রোদ ঝলমল করা দুপুরে আকাশ থেকে নেমে এলো বিরাট ডানাওয়ালা এক জীব। সেই জীব মানুষের মত করে কথা বলে। মক্কার সব নারী-পুরুষ সেখানে সমবেত হল। ডানাওয়ালা ও সবাক সেই জীব খাঁটি আরবি ভাষায় সবাইকে শুনিয়ে বলল:
- আমি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছ থেকে তোমাদের জন্য আল্লাহর বাণী নিয়ে এসেছি। এই বাণী অনুসরণ করলে তোমরা পাবে ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক মুক্তি। এতেই আছে তোমাদের জন্য সর্বকালের জীবন বিধান। তোমাদের মধ্যে যে মোহাম্মদ, খাদিজার স্বামী, আব্দুল্লাহর পুত্র, তাকে মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তোমরা তাঁর কথা শুনবে, তাঁর দেখানো পথে চলবে।

এরপর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মক্কার সকল নারী-পুরুষ ও শিশু মোহাম্মদকে তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে নিলো। ডানাওয়ালা জীব প্রায়ই আসতো মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে, সবাইকে ডেকে তা পড়ে শোনাতো। ধীরে ধীরে আল্লাহ এবং মোহাম্মদের কথা চারদিকে রটে গেলো। দেশ-বিদেশ থেকে লোক এসে মোহাম্মদকে তাঁদের পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে নিল। সারা বিশ্ব আল্লাহতে বিশ্বাস করলো এবং আল্লাহর ধর্ম ইসলাম হল পৃথিবীর একমাত্র সহি ধর্ম। 

#

ব্যাপারটা যদি এমন হত, তাহলে কারো মনে কোনো সন্দেহ, অবিশ্বাস থাকতো না। কিন্তু এমনটা হল না।

মোহাম্মদের কাছে প্রথম ডানাওয়ালা জীব এসেছিল হেরা গুহায়। মোহাম্মদ ছাড়া আর কেউ তাকে দেখেনি, কেউ তার কথা শোনেনি। সৃষ্টিকর্তা চাইলো তার কথা প্রচারিত হোক, কিন্তু তার বাণী সে পাঠালো গোপনে। 

গোপন ব্যাপারের প্রতি সৃষ্টিকর্তাদের একটু বেশিই আকর্ষণ থাকে।

কোন কোরান


বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

২৯ মার্চ, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৩

লিখেছেন ইমানুল হক

৫.
আল্লা আমাক ৪৫ বছরে অনেক কিছু দিয়েসে তার নিয়ামত ইসেবে। এই যেমুন, কয়ডা দিন দরি একডা মাইয়ারে বালা
লাইগদাছে। নাম অইলো মজ্জিনা। আমাগো গিরামেই থাহে। খুব বালা লাগে তারে, বয়স বেশি না। মাথ্র ৯ বছর। যহনি সামন দিয়া যায়, তাহাই থাইকতে মুন চায়। তাছাড়া যহন মনে অয়, নবিজির লগে দেহা অইলে সুন্নতি কামের জইন্য তিনি আমাক ক্যামনে জরাই দরে মুলাকাত কইরবে, তাই বেবে কুশিতে দুই চোক আমার বন্দ অই যায়। যাঅক, আবার গিরামে ইমানদার লুক ইসেবে বড়ই নাম ডাক। ফাচ অক্ত নামায পড়ি, ইডা আল্লার রঅমতে আমার সুনামডাও বাড়াইছে। বিয়ার চিন্তা ডুকি গেল মাতায়। কি করি? ঠিক কইল্ল্যাম, মিয়ার বাফের কাছ গটকডারে পাডাইতে অবি। মিয়ার বাপও আমার মতই একজন খাটি মুমিন বান্দা, দাড়ি-টুপি সব সুময়েই থাহে মাতায়। কফালে সুন্নতি দাগ বানাই পেইলছে ইতিমইদ্দে। আমার বয়সি লুক। বিবাহের ফ্রস্তাবডা দিলাম এলাকার হাপেজসাপ কুদ্রতালি হুজুরের মাইদ্দমে। কারণ হেয় আবার সুন্নতি বেফার-সেফার বালা বুজাইতে ফাইরবো মিয়ার বাপেরে। 

আমাগের নবীজি (সাঃ) ও ৫১ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়শাক বিয়ে কইচ্ছিলেন। পরে ৯ বছরে গরে উটাই নেন, ছুবানাল্লা। [সুনান আবু দাউদ :: আদব ও শিষ্টাচার অধ্যায় ৪৩, হাদিস ৪৯৩৬ মূসা ইবন ইসমাঈল (র) .... আইশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন মদীনায় আসি, তখন আমার কাছে কয়েকজন মহিলা আসে, আর সে সময় আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। এ সময় আমার মাথার চুল ছোট ছিল। তারা আমাকে নিয়ে গিয়ে সুন্দর রুপে সুসজ্জিত করে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তিনি আমার সাথে সহবাস করেন, আর তহন আমার বয়স আছিল নয় বছর।] তাছাড়া কুরানে আল্লাতালা গুসোনা দিয়া কইছেন যে, "বিবাহ কর নারীদের মইধ্য থিকা যাকে তোমাগের বালো লাগে, দুই, তিন বা চারটি। আর যদি আশঙ্কা থাহে যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার কইত্তে ফাইরবা না, তাঅলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)…." – সুরা নিসা ০৩:০৩। 

আরেক বিবিরে কাওয়ানের লাই যতেষ্ট টাহা আল্লায় আমারে দিছে ইনশাল্লায়া। যাঅক, কুদ্রতালি হুজুর দুইদিনেই মিয়ার বাপেরে পডাই পেইল্ল্যেন। আলামদুলিল্ল্যা। বাড়িতে দুই বিবিরেও জানানো ওইলো ফ্রস্তুতি নিতে নতুন বিবির জইন্য। এক নম্বর বিবি যেমুন তেমুন, দুই নম্বর বিবি আবার একটু অল্প সিক্কিত। সে রাগে ফায়ার অই গ্যাছে। সে আমারে কিচুতেই তিন নম্বর বিবাঅ কইত্তে দিবে না। সে আমাক বইল্য বিবাঅ কইত্তে অইলে তাগো পারমিসন লাইগবো। আমিও এদিকে নাচোরবান্দ্যা বিবাঅ করার জইন্য। 

আমাগো নবীজি ককনোই বিয়া কইত্তে কুন বিবির অনুমিত লয় নাই। আমি বুইজলাম [নারী শয়তানের রূপ (Sahih Muslim 8:3240)] তারে ফড়া ফানি কাওয়ান লাইগবো। যাইঅক, তারে এক গড়ে আপাতত তালা মারি রাকি বিয়ার প্রতম রাত্রি বাসর সাইরলাম। আলামদুলিল্লায়া!! আল্লা!

কি যে খুশি লাইগদেসে! ইসলামি, ইসলামি একডা শান্তির বাতাস ফাইচ্ছি অন্তেরের মইদ্দে। আল্লা তুমাক অশেষ ধইন্ন্যবাদ নবীর আদশ্য অক্করে অক্করে ফালনে আরো একদাপ আগাইয়া দেওয়ার লাই। পৃতিবিতে যতদিন বাইচবো, মুসলিম অয়েই বাচবো। আল্লা আমাক আরো বালো তাকার তওপিক দেও। আমিন।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৪

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৮ – (তোর কী হবে রে, হিমু!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


গাঁও-গেরামের মানুষ আমি, ঢাকা এলেই কেমন জানি দমবন্ধ লাগে! অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে পোশাক-আশাক, লৌকিক অনুষ্ঠান খুব একটা ভালো লাগে না আমার! যাক এসব আত্মপ্রচার; আসল কথায় আসি। ২০০৮ সালের ঘটনা, ঢাকায় দু'দিনের জন্য জরুরি কাজে খালাতো ভাইয়ের বাসায় ছিলাম। শুক্রবার বিকেলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম, হঠাৎ খালাতো ভাই ধরে নিয়ে গেলো হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে! গিয়ে পড়লাম মহা ফাঁপরে; শালার খালাতো ভাইসহ সবাই হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি পরে এসেছে। মাঝখানে আমি কালো একটা টিশার্ট পরে পোকার মত কিলবিল করছি! শেষতক বুঝলাম, এটা হিমু-ভক্তদের মিলনমেলা!

শালার ভাইরে কইলাম: "আমি তো জীবনে হুমায়ূন আহমেদের হ পর্যন্ত পড়ি নাই! আমারে নিয়া আসলি কোন দুঃখে! আর আনলি যখন এই কালো টিশার্ট পরে আসতে দিলি কেন! আগে কইলে আর কিছু না পারি, আমার কাছে গু কালারের একটা টিশার্ট ছিলো, সেটা পরে আসতাম! হলুদ আর গু কালার তো প্রায় কাছাকাছি যায়!"

আলোচনা পর্ব চলছিলো; সবাই গুণগান করছিলেন হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্র হিমুর! অনেকেই আড়চোখে দেখছিলো আমাকে! এর মাঝে একজন মাইকে বলেই ফেললো, “আমাদের মাঝে একজন কালো রঙের ভাই আছেন! তিনি সম্ভবত হিমু, হুমায়ূন আহমেদ আর আজকের অনুষ্ঠান সম্পর্কে না জেনেই চলে এসেছেন! এবার তিনি আমাদের সামনে কিছু বলবেন!" আমি বুঝলাম, আমাকে বাঁশ দেবার চেষ্টা হচ্ছে, মনে মনে বললাম, “আমারে তো চেনো না বান্দরের (হিমুর) দল! বাঁশ আমি উল্টো দেওয়াও জানি!"

ডায়াসে দাঁড়িয়ে:  
"উপস্থিত বন্ধুরা, সকলকে জন্ডিসীয় ‍শুভেচ্ছা! আজকের অনুষ্ঠানে এসে আমার প্রথম উপলব্ধি যেটা হলো: হলুদের আধিক্যে এই রুমের সবার হয়ত জন্ডিস হয়েছে! জন্ডিসের বাংলা অর্থ সম্ভবত 'ন্যবা', সে হিসাবে আপনারা সকলেই আজ ন্যবার রোগী! আমি হুমায়ূন না-পড়া একজন পাঠক, তাই হিমু বা হুমায়ূন নিয়ে বেশি বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়! আপনারদের সকলের তাঁর লেখার প্রতি ভক্তি দেখে সত্যিই মুগ্ধ হচ্ছি! এবং আপনারা তার সৃষ্টি একটি চরিত্রের প্রতি এতটা নেশাগ্রস্ত দেখে অবাকও হচ্ছি! হয়ত উপস্থিত আপনারা প্রায় সবাই মুসলিম ঘরের সন্তান! যদি আপনারা হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি নবী মুহাম্মদের মনোভাব জানতেন, তবে হয়ত অনেকেই হলুদ রঙের পোশাক পরে হিমু হতে দ্বিধাগ্রস্ত হতেন! কারণ:

নবী ‍মুহাম্মদ হলুদ পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন!
আলী ইবনে আবু তালিব বলেন নবী মুহাম্মদ আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন তিলওয়াত করতে, সোনার অলংকার ব্যবহার করতে এবং হলুদ বর্ণের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন
সহিহ মুসলিম: হাদিস ৫৩৩১ (ই.ফা. ৫২৬৪, ই.সে. ৫২৭৭)

নবী ‍মুহাম্মদ হলুদ পোশাক জ্বালিয়ে দিতে বলেছেন!
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত: নবী মুহাম্মদ আমার পরনে হলুদ বর্ণের দু'খানা কাপড় দেখলেন । তিনি বললেন: তোমার মা কি তোমাকে এ কাপড় পরিধান করতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কি এ দুটো ধুয়ে নেব? তিনি বললেন: তুমি এ দুটো বরং জ্বালিয়ে দাও
সহিহ মুসলিম: হাদিস ৫৩২৯ (ই.ফা. ৫২৬২, ই.সে. ৫২৭৫)

তো: উপস্থিত হিমু ভাইয়েরা, কোনো কিছুর প্রতি ভালো লাগা থাকা ভালো, তবে তা যদি আপনার নিজস্ব মৌলিকতাকে নষ্ট করে, তবে তা অনুকরণ করা সব সময় সুখকর নয় - তা সে যা-ই হোক না কোনো! আপনার মন যখন চায়, যে কোনো রংয়ের পোশাক পরতে পারেন, তবে তা যদি হিমুর নামে আপনার স্বকীয়তাকে নষ্ট করার পর্যায়ে চলে যায়, তবে আমার মত কালো বহিরাগত মানুষ নবী মুহাম্মদের উদাহরণ টেনে একথা বলতেই পারে, তোর কী হবে রে, হলুদ হিমু!... আজকের অনুষ্ঠানে আমার মত উটকো ঝামেলাকে কথা বলতে দেবার জন্য ধন্যবাদ!"

(চলবে)

মনজাগরণ যাদের হয় না


২৮ মার্চ, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৬

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে রাস্তায় এক জাহান্নামি নাস্তিকের সহিত দেখা হয়ে গেল। নাস্তিক দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারণ, এরা আমার ওযু নষ্ট করে দেয়।

জাহান্নামি নাস্তিকটা আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, আপনি একজন ইসলামি স্কলার। আমি একজন পাতি নাস্তিক। আপনার কাছে একটি প্রশ্ন ছিল, দেখি, উত্তর দিতে পারেন কিনা।

আমি উত্তর দিলাম:
- ওহে পাতি নাস্তিক, তুই কি প্রশ্ন করতে চাস?

নাস্তিক প্রশ্ন করিল:
- কে সর্বপ্রথম কোরান মজিদেকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পবিত্র কোরান মজিদের অবমাননা করেছিল?

আমি বল্লাম:
- নাস্তিকরা?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- হয় নাই, ভুল উত্তর।

আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। বলিলাম:
- তাহলে নিশ্চয়ই ইহুদি, নাসারা, খ্রিষ্টান কিংবা হিন্দুরা।

নাস্তিক বলিল:
- হয় নাই, ভুল উত্তর। মুসলমানরাই সর্বপ্রথম কোরান পুড়িয়েছিল। নবীজির ঘনিষ্টতম সাহাবী, ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রাঃ) সর্বপ্রথম কোরান মজিদে আগুন দেন। তিনি আগুন দিয়ে কোরান মজিদ পুড়িয়ে ফেলে আসমানি কিতাব কোরানের অবমাননা করেছিলেন।

নাস্তিকের কথা শুনে কোনোমত ওযুটা শক্তমত চেপে ধরে কেটে পড়লাম।

উন্মুখ উল্লুক উম্মতেরা

সৌদি নারীদের সত্যি কাহিনী - ২

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১০]

আগের পর্ব

দেখুন, এই সৌদি সমাজে আমার ভগিনীরা একেবারেই অসহায় এবং সীমাহীনভাবে পীড়িত। নিজেদের জীবন নিজের হাতে নিয়ে চালাবার কোনো অধিকার তাদের নেই। ওরা সম্পূর্ণভাবে আমার পিতা, আমার ও অন্যান্য ভাইদের ওপর সর্বদা নির্ভরশীল। ওরা কোনোভাবেই একা বাইরে যেতে পারে না। ওদের কেউ ঘরের বাইরে গেলে একজন পুরুষ, যেমন ভাই অথবা পিতাকে নিয়ে যেতে হবে - তার দেহরক্ষী অথবা সহায় হিসেবে। এমনকি দুর্ঘটনা, হাসপাতাল অথবা অন্য কোনো জরুরি অবস্থাতেও ওদের কেউ ঘরের বাইরে পা ফেলতে পারবে না। বিশ্বাস করুন, ওদের কারও হাসপাতাল যাবার প্রয়োজন হলে আমার ভাইকে ডাকতে হবে। তাকে অন্য শহর থেকে আসতে হবে ৩০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে। সৌদি আরবে মেয়েদের গাড়ি চালানো নিষেধ; আমার বোনেরা গাড়ী চালাতে পারে না, আমার পিতাও গাড়ী চালানো জানেন না। এসব কারণে আমার ভগিনীদের এই সীমাহীন দুর্দশার মাঝে কালাতিপাত করতে হয়। যতই জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, ওদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য ওদেরকে ওদের মাহ্‌রামের (আমি, আমার ভাই অথবা পিতা) জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া ওদের কোনো পথ নাই। এদিকে আমার পিতা কেমন করে ব্যাংকের কার্ড (এ টি এম) ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়, তা জানেন না। তাই আমার কোনো ভগিনী টাকা ওঠাতে চাইলে তার কার্ড কোনো অজ্ঞাত লোকের হাতে তুলে দিতে হবে। নিত্যনৈমিত্তিক জিনিস কিনতে চাইলে টাকা কোনো অজানা পুরুষের হাতে দিতে হবে। সেই লোক তখন যা খুশি তাই দাম বলবে। এভাবে সৌদি মেয়েদের দৈনিক অসীম দুর্দশাপূর্ণ অবস্থার মাঝে জীবন কাটাতে হয়। আমি এখানে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দিলাম। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমার নিজের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ওদের সাহায্য করি।

আপনারা হয়তো বলবেন: ওদেরকে সৌদি আরবের বাইরে কোথাও নিয়ে যাও। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। সৌদি মেয়েদের পাসপোর্ট পেতে হলে ওদের আইনী অভিভাবকের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন। শুধু পাসপোর্ট পেলেই হবে না; বিদেশে একা যাবার জন্য মেয়েদের তাদের পিতা অথবা তাদের স্বামীর স্বাক্ষরিত বিশেষ কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে, একজন নিরক্ষর হিসেবে আমার পিতা কস্মিনকালেও আমার বোনদেরকে বিদেশে পাড়ি দেবার অনুমতি দেবেন না।

মাঝে মাঝে আমি চিন্তা করি, কেন আমাদের সমাজের নারীদেরকে এই সীমাহীন উৎপীড়ন সইতে হচ্ছে। আমার বোনেরা তাদের পিতা অথবা ভাইয়ের অনুমতি ব্যতিরেকে কিছুই করতে পারে না। ওরা সর্বদাই ঘরের ভেতরে আছে, টেলিভিশন দেখছে। ওদের জন্য না আছে কোনো খেলাধুলা, না আছে কোনো কাজ, না আছে কোনো বেঁচে থাকার লক্ষ্য। সত্যি বলতে কি, ওরা বিশ্বের বৃহত্তম জেলে বন্দী আছে - সেই জেলখানা হচ্ছে গোটা সৌদি আরব; আর এই দেশ হচ্ছে খাঁটি, সত্যিকার ইসলামের দেশ।

সুসঙ্গত কারণেই হয়ত অনেকে জানতে চাইবেন - সৌদি নারীদের এই অবর্ণনীয় দুর্দশার হেতু কী; কিসের জন্যে এখানকার নারীরা অকথ্য নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে? অতি সহজেই আমরা নির্বোধ, যুক্তিহীন, অশিক্ষিত ও সেকেলে সৌদি নিয়ম কানুনকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারি। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারি যে, এসব কিছুরই উৎস হচ্ছে ইসলাম। পরিষ্কারভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এসবের জন্য একমাত্র ইসলাম দায়ী। ইসলামী আইন কানুন আমাদের নারীদেরকে পরিণত করেছে পুরুষদের সম্পত্তিতে। তাদেরকে দাসত্বে ফেলে দিয়েছে এবং নারী হিসেবে তাদের যে মান, সম্ভ্রম, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা আছে, তাও হরণ করে নিয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি, ইসলাম আমাদের নারীদের নারীত্বের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করে তা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে।

ইসলাম একজন পিতাকে তার কন্যার ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়েছে। পিতা কন্যাকে সর্বতোভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। কন্যাকে যেমনভাবে বিবাহ করানো, তাকে সামাজিক জীবন থেকে সরিয়ে রাখা, এমনকি তাকে মেরে ফেলারও সম্পূর্ণ অধিকার পিতার রয়েছে। আপনারা হয়তো এই জেনে আশ্চর্য হবেন যে, এক সৌদি পিতা যখন খুশি তার কন্যাকে মেরে ফেলতে পারে আইনের তোয়াক্কা না করে। অনুগ্রহপূর্বক জেনে নিন যে, এক সৌদি পিতা তার কন্যাকে মেরে ফেললেও সে পিতা কক্ষনই মৃত্যুদণ্ড পাবে না। এর কারণ হচ্ছে, কন্যা পিতার সম্পত্তি, সে ঐ সম্পত্তি যেভাবে খুশি নিষ্পত্তি করে দিতে পারে - এমনকি মেরে ফেলেও। সৌদি আরবে শরিয়া আইন অনুযায়ী, কোনো পিতা তার কোনো সন্তানকে খুন করলে সরকারের কোনো ক্ষমতা নাই ওই পিতাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা।

ইসলামী আইন অনুযায়ী, পিতার অনুমতি ছাড়া কন্যা বিবাহ করতে পারে না। করলে তা হবে হারাম। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায় যে, ইসলামে পিতা হচ্ছেন একজন পবিত্র, সাধু পুরুষ - একজন সেনাপতি ও এক বদমেজাজী একনায়ক। এমনকি পিতা অশিক্ষিত, নিরক্ষর, মূঢ়, অনৈতিক, অন্যায়কারী ও সন্তানদের প্রতি অবহেলাপূর্ণ হলেও তার সন্তানদের, বিশেষতঃ কন্যাদের, সেই পিতার বিরুদ্ধে করার কিছুই নেই।

আমি এখন কী করতে পারি?

এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হবে - আমার করার কিছুই নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতাই আমার নেই। আমি যদি আমার পিতার বিরুদ্ধে মামলা করি, তবে ইসলামি বিচারক আমার পিতাকে হয়তো প্রশ্ন করবে: আপনি আপনার কন্যাদের বিবাহের ব্যবস্থা করেন না কেন? এর উত্তরে আমার পিতা হয়তো উদাসীনভাবে বলবেন: আমার এই মেয়েগুলো আমার অধীনে আছে; এরা আমার সম্পত্তি। এদের জন্যে আমি যদি সুপাত্র জোগাড় না করি, তবে আল্লাহ্‌ আমাকে শাস্তি দিবেন। এর প্রমাণ হিসাবে আমার পিতা হয়তো দেখাবেন যেই সব পাত্র তিনি দেখেছেন, তাদের সবাই ধূমপায়ী। তিনি হয়তো সাক্ষী নিয়ে দেখাবেন ঐসব পাত্ররা মসজিদে অনামাযী। এর বিরুদ্ধে ইসলামি বিচারককে নিশ্চুপ থাকতে হবে। বিচারক কোনোক্রমেই আমার পিতাকে সাজা দিতে পারবে না। বরঞ্চ বিচারক আমাকেই সাজা দেবেন, কেননা আমি আমার পিতার সিদ্ধান্ত মানিনি, এবং আমার পিতাকে সম্মান করিনি।

এখন আমি এইরূপ যন্ত্রণা ও হতাশার মাঝে থেকে ধৈর্য ধরে আমার পিতার মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। তিনি মারা যাবার পর আমার ভগিনীদের দায়দায়িত্ব আমারই হাতে আসবে। সরকারীভাবে তাদের মালিকানা আমার হাতে ন্যস্ত হবে। আমরা যেমনভাবে গাড়ি, বাড়ি, ছাগল, উট...ইত্যাদির মালিক হই, সেভাবেই আমিও আমার ভগিনীদের মালিক হব। তারপর আমার ইচ্ছামত আমি তাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হব। আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্বর্গে পাঠাতে পারি অথবা নরকেও।

পাঠকবৃন্দ, অনুগ্রহপূর্বক আমার ভগিনীদের জন্য কোনো দুঃখ প্রকাশ করবেন না, এবং তাদের প্রতি করুণাও করবেন না। আপনারা জেনে একটু তৃপ্তি পাবেন যে, তুলনামূলক ভাবে আমার ভগিনীরা অনেক সৌভাগ্যবতী। কেননা ওরা বছরে একবার অথবা দু’বার শপিং কমপ্লেক্সে বেড়াতে যেতে পারে। ওরা সৌন্দর্যচর্চার জন্য মেক আপ ব্যবহার করতে পারে। এমনকি গান সঙ্গীতও শুনতে পারে। তাদের সবচাইতে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে, তারা টেলিভিশনের চ্যানেল পরিবর্তন করতে পারে। কেননা বহু সৌদি নারীদের এই অধিকারটুকুও নেই। আপনাদের কাছে এটা বিস্ময়কর হলেও এটাই সত্য।

জানুয়ারী ২৭, ২০০৬

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৯

২৭ মার্চ, ২০১৭

চিঠি হুমকি - ২: খসরু পারভেজ-এর প্রতিক্রিয়া ও নির্দেশ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত সাঁইত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দামেস্কের শাসনকর্তা আল মুনধির বিন আল-হারিথ ও পারস্যের শাসনকর্তা 'কিসরার' কাছে যে চিঠি-হুমকি প্রেরণ করেছিলে,ন তার ভাষা কেমন ছিলো, সেই চিঠিগুলো পড়ার পর এই শাসকরা যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন, তা জানার পর মুহাম্মদ তাঁদেরকে কীভাবে অভিশাপ বর্ষণ করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো,
"বিনা উস্কানিতে যদি কোনো ব্যক্তি শাসকদের কাছে চিঠি লিখে ঘোষণা দেন যে 'আমার বশ্যতা স্বীকার করো, তাহলে তুমি হবে নিরাপদ', অতঃপর তাঁরা যখন সেই হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন, তখন সেই ব্যক্তিটি তাঁদের কে করেন অভিসম্পাত, তবে এই শাসকদের পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে?"

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 

পূর্ব প্রকাশিতের পর:

‘ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব হইতে প্রাপ্ত [ইবনে হুমায়েদ <সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক <ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব (পর্ব-১৬২)] তথ্যের ভিত্তিতে (মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের) অব্যাহত বর্ণনা, তিনি বলেছেন:

---- কিসরা তা পড়ার পর ছিঁড়ে ফেলেন ও বলেন, "আমার গোলাম হয়ে সে আমাকে এভাবে লেখে!" অতঃপর কিসরা ইয়ামেনের গভর্নর বাধান (Badhan) এর কাছে এক চিঠি লেখেন, নির্দেশ,

"তোমার লোকজনদের মধ্য থেকে দুই শক্তিশালী ব্যক্তিকে হিজাজের এই লোকটির কাছে পাঠাও ও তাকে আমার কাছে ধরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো।"

অতঃপর বাধান পারস্য অধিপতির আদেশপত্রটি সহ খোররাখুসরাহ (Khurrakhusrah) নামের এক পারস্যবাসীর সাথে বাদাওয়াহ (Babawayh) নামের তার এক পেশাদার কেরানী ও হিসাবরক্ষককে প্রেরণ করেন। তিনি তাদের মারফত আল্লাহর নবীর কাছে এক চিঠি পাঠান, যেখানে তার আদেশ ছিলো এই যে, তিনি যেন এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কিসরার কাছে গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি বাদাওয়াহ-কে বলেন, "এই লোকটির এলাকায় যাও, তার সাথে কথা বলো ও তার সম্বন্ধে আমার কাছে রিপোর্ট পেশ করো।"

অতঃপর এ দুই ব্যক্তি যাত্রা শুরু করে। আল-তায়েফে পৌঁছার পর তারা নাখিব অঞ্চলে কিছু লোকের সাক্ষাৎ পায় যারা ছিলেন কুরাইশ বংশোদ্ভূত; তারা তাদেরকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। তারা বলে যে, তিনি মদিনায়। কুরাইশরা এ দুই ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়ে পুলকিত ও আনন্দিত হয়; তারা একে অপরকে বলে, "আনন্দ করো! রাজার রাজা কিসরা এখন তার শত্রু হয়ে গিয়েছে। তোমরা এই মানুষটির হাত থেকে পরিত্রাণ পেয়েছো।" [3] [4]

এ দুই ব্যক্তি যাত্রা করে ও আল্লাহর নবীর কাছে গিয়ে উপস্থিত হয়। বাদাওয়াহ তাঁকে সম্বোধন করে, বলে: "সম্রাটের সম্রাট ও নৃপতির নৃপতি কিসরা চিঠি মারফত রাজা বাধান-কে এই আদেশ করেছেন যে, তিনি যেন তোমাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার কোনো লোককে পাঠিয়ে দেন। বাধান আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে তুমি আমার সঙ্গে যেতে পারো। যদি তুমি তাই করো, তিনি তোমার সপক্ষে নৃপতির নৃপতি কিসরার কাছে লিখবেন ও তোমাকে তার কাছ থেকে রক্ষা করবেন। যদি তুমি তা অগ্রাহ্য করো, তুমি জানো যে, তিনি কে!  তিনি তোমাকে ধ্বংস করবেন, তোমার লোকদের ধ্বংস করবেন ও তোমার এলাকাগুলো ছারখার করে দেবেন।"

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৮

মডারেট মুছলিম বা ইছলামের অন্য কোনও ইজ্জতরক্ষক "ইহা ছহীহ ইছলাম নহে" জাতীয় বাণী বর্ষণের আগেই একটি হাদিস জেনে নিন, যাতে ইছলামের নবী বলেছে, "আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।" (বুখারি ৫২:২২০)

ইসলামে যা প্রধান

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

পাঁচ-পাঁচবার নামাজ পড়ি,
তিরিশটা দিন রোজা,
তারপরেও কমছে না তো
আমার পাপের বোঝা!

প্রতি বছর দিচ্ছি জাকাত,
দিচ্ছি বড় দান,
তবুও কেন পাই না অামি
বেহেস্তী সুঘ্রাণ!

তিরিশ পারা কোরান পড়ি
বুঝি বা না বুঝি
বুখারী অার মুসলিমে তাই
সঠিক রাস্তা খুঁজি!

উমরা করি, হজ্জও করি
মক্কা-মদিনা গিয়া,
হালাল বিবি রাখছি ঘরে
বোরখা-হিজাব দিয়া!

মিথ্যা কথা কই না আমি
হালাল কামাই খাই,
তবুও কেন বেহেস্ত যাবার
নিশ্চয়তা নাই!

তবে যদি...

সকল কিছু ফালায় দিয়া
জিহাদ-পথে যাই,
তবেই নাকি হুর-গেলমান
ডিরেক্ট বুকে পাই!

নবীর হাদীস স্পষ্ট বলে,
হও রে আগুয়ান -
তলোয়ারের তলেই অাছে
বেহেস্তী আসমান!

নবী আমার সোনার খনি
তার কথাটাই খাঁটি,
নামাজ পড়ো, যুদ্ধ করো
হও রে পরিপাটি!

যদ্দিন না খোদার শাসন
কায়েম নাহি হয়,
হাতে রাখো অস্ত্র, বুকে -
জিহাদী হৃদয়!

তেল বলো আর সোনাই বলো
অাসল সেটা নয়,
ইসলামেতে জিহাদ প্রধান
সত্য পরিচয়!

মডারেট সুবচন

২৫ মার্চ, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৩

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৩১.
কম্ফিটার এর উফরে ডিফ্লমা কইত্তে যাই জীবন ডা শ্যাষ। ইহুদি নাসারা রা যে কেমতে এত জটিল কম্ফিটার বানাইল, বুজি না। এই ডিফ্লমা ফরিক্কার কারনে আজিয়া সুক্কুরবারের জুম্মার নামায ডা ফইয্যন্ত ফইত্তে ফারি নাই। মেহফিলে সুময় দেওয়া ত দুরের কতা, ঠিক মত বাত কাওনের অ টাইম নাই। টাট্টিকানায় গিয়া অবসর ফাইলে পেচবুকে একটু ডুকি আরকি। হে আল্লা, তুমি আরে উডাই নেও, আমি নাস্তেক দের সাতে মুকাবিলা কইত্তে যাই কম্ফিটার সিকতে সিলাম। আর এই ডিফ্লমার খারনে আমি নামাযে ঠিকমত সুময় দিতি ফারি না। সব দুস অই ইহুদি নাসারা নাস্তেক দের।

৩২.
আমরা করতি আসি জিহাদ, আর হালার সরকারে কয় জংগিবাদ।

৩৩.
আজিয়া সকালে জাবেদ আলি সাসার বস্তিতে গিয়া দেকি, সাসারে তার বড় বউ ঝারু দিয়া পিডাইতেছে। আর সাসায় বাচনের লাই তার ছুডু বউ এর কোলে উডি বই রইসে। তাবিজ বেচনের টেকা দিয়া হেতি কিসু ফান বিরি কাইসিল আর ছুডু বউ এর লাগি এক্কান লিপিসটিক কিনি আইনসিল। আর তাতেই বড় বিবি খেপি ঝারু দি পিডাইছে। সারাদিন তাবিজ বেচি মুডে আসি টেকা সাসায় তার বড় বউ এর আতে তুলি দেয়। আর বাকি টেকা দি না জানি কি কি করাসেন, আল্লাই তা বালা জানেন। 

জাবেদ সাসার বড় বউ রে দেকলি ফরে আমার বাংলা সিনেমার বেডি বিলেন রসুন জামিল মেডামের কতা মুনে ফরি যায়। দুইজনে এক্কেরে সেইম টু সেইম। সাসারে কত বুজাই, আজেবাজে টেকা করচ করন চাড়ো। সংসার যকন বড় করস, তকন সব বিবিরে সুমান চুকে দেক। কিন্তু সাসায় কতা সুনে না। ছুডু বিবিরে লুকাইয়া জিলাপি কিনি কাওয়ায়। মাইজ্জা ডা রে এইডা ওইটা কিনি দেয়, আরও কত কি বইলব! নিজের দুসে এই বুড়া বয়সে ঝারুর পিডা কাইলে কার কি করার আচে, কন?

ইছলামী জঙ্গিবাদ ও ইউরোপীয় সুশীলতা

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

জিহাদের বাস্তবতা

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

(লেখাটি লিখেছিলাম ২০১৪ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর। জিহাদ নিয়ে বুখারী হাদিস থেকে অনেকটা বিশ্লেষণধর্মী এই লেখাটি ছিল মডারেটদের উদ্দেশ্যে।)

কেন জানি মনে হচ্ছে, আইসিসকে অনুসরণ করে আরো কয়েকটি জিহাদী দল ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশও এটার বাহিরে নয়।

জিহাদ নিয়ে কার কী ধারণা, জানা নেই। সবার কাছে হয়তো নিজ নিজ ব্যাখ্যা আছে, যা জিজ্ঞাসা করলে অবশ্যই পাওয়া যাবে। কেউ হয়তো বলবেন, বাবা-মায়ের সেবা করা এক ধরনের জিহাদ। আবার কেউ কেউ বলবেন, নিজেকে শয়তানের কাছ থেকে বাঁচিয়ে রাখাও জিহাদ। তবে হাদিস-গ্রন্থগুলো পড়লে চিত্রটা অন্যরকম লাগে। বুখারী শরীফের জিহাদ অধ্যায় থেকে কয়েকটা হাদিস বলি। হাদিসগুলো মনে রাখবেন। মানুষ কেন জিহাদে যেতে চায়, বুঝে যাবেন। এবং নিজে অবশ্যই হাদিস শরীফ খুলে পড়ে নেবেন।

১. জান্নাত হল তলোয়ারের ছায়ার নিচে। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৭৩)।
২. আল্লাহ পাক দুই ধরনের মানুষকে হাসিমুখে বরণ করেন। যারা জিহাদে শহীদ হয় এবং যারা জিহাদে গিয়ে হত্যা করে। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৮০)।
৩. একজন জিহাদী সেই ব্যক্তির সমান যিনি রোযা রাখেন এবং ইবাদত করেন। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৪৬)।
৪. জিহাদে দুপুর এবং বিকেল কাটানো দুনিয়া এবং দুনিয়ার ভেতর যে কোনো কাজের থেকেও উত্তম। (বুখারি, খণ্ড, ৪, বই ৫২, হাদিস ৫০)।

কল্পনা করুন, এই কয়েকটা হাদিস আপনার সন্তানকে মসজিদ মাদ্রাসায় হুজুর পড়াচ্ছেন। তিনি মুখে সরাসরি বলছেন না, অথচ ওদেরকে মনে মনে জিহাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। কেউ হয়তো বলবেন এগুলো জিহাদ নয়, ব্রেইনওয়াশ। আপনাকে বলি, বুখারী শরীফ হাতে নেন। জিহাদ অধ্যায় পড়া শুরু করেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, কোনটা জিহাদ আর কোনটা নয়। এই অধ্যায়ের ২৪৮ টা হাদিসের মধ্যে ৯৫ শতাংশ হাদিসই শুধুমাত্র যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা ও সন্ত্রাস নিয়ে।

এই অধ্যায়ের দুটো অ-সহিংস এবং শান্তিপূর্ণ হাদিস বলি।

৫. ...হে আল্লাহর রাসুল, কোন কোন কাজ আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ। উনি বলেন .. ১. সময়মত আল্লাহকে ইবাদত করা। ২. বাবা মায়ের সেবা করা। ৩. জিহাদে অংশ নেয়া। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৪১)।
৬. এক ব্যক্তি নবীজীর কাছে এলেন জিহাদে অংশ নেবার জন্য। উনি তাকে ফিরে যেয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে সেবা করতে বললেন। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ২৪৮)।

অনেকের কাছে হয়ত এগুলোই জিহাদ। এমন হলেই হয়তো ভাল হতো। জিহাদী দল জন্ম নিত না। তবে এগুলো জিহাদ নয়। অনেককেই বলতে শুনি, মানুষ বাকি হাদিসগুলোই মানে না, জিহাদ নিয়ে পড়ে থাকে। তাদের বলি, এভাবে দুনিয়া চলে না। জিহাদীরা আপনার আমার মত ভাবে না। তাদের দিন দুনিয়া কোরআন-হাদিসেই সীমাবদ্ধ। আপনি আমি যেভাবে চারদিক ভেবে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারি, তারা সেটা পারবে না। স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ভাল চাকরি এবং সাধারণ জীবন যাপনের চিন্তা আপনার আমার মনে থাকলেও তাদের নেই। আমাদের মত করে ভাবতে পারলে তো আর জিহাদই করত না, ডিগ্রি নিয়ে চাকরির চিন্তা করতো। তাদেরকে কোরআন-হাদিস নিয়েই থাকতে হয়। এগুলোই তাদের জীবন। তাদের চিন্তাচেতনা এগুলো নিয়েই। তাদের মতে বাহিরের জগৎ নষ্ট এবং ইসলাম থেকে অনেক বাহিরে। 

আপনাকেই কয়েকটা প্রশ্ন করি। আপনার কাছেই কোন জগৎ বেশি গুরুত্বপূর্ণ? ইহজগৎ নাকি পরজগৎ? পরজগৎ বলবেন নিশ্চয়ই। জিহাদীদের কাছেও তেমনটাই। পরজগতে আপনাদের সাথে কে থাকবে? আপনার বাবা-মা? ভাই-বোন? স্ত্রী-সন্তান?কেউ না নিশ্চয়ই। সবাইকে তাদের কৃতকর্মের ফলাফলই ভুগতে হবে, তাই না? কেউ এসে তো আপনার গডকে হাতজোড় করে বলতে পারবে না, আমার ছেলেকে মাফ করে দিন। আমার স্বামীকে মাফ করে দিন। নাকি বলবে? যারা জিহাদে নামতে চান, তাদের মনে এমন কথাগুলোই ঘুরপাক খায়। নিজের হিসেব যখন নিজেকেই দিতে হবে, সুতরাং এমন কিছু করতে হবে, যাতে জাহান্নাম এড়ানো যায় এবং জান্নাত পাওয়া যায়। অতএব ৫ নাম্বার হাদিসে উল্লেখিত তিন নাম্বার কাজটিই প্রথম দুটোকে ওভারটেক করে।

প্রথম দুটো কাজ না এড়িয়ে কীভাবে অনেকে এই হাদিস ব্যবহার করে কিভাবে জিহাদে যেতে পারে, এবার সেটা বলি। যাদের বাবা-মা নেই, তাদের জন্য খুব সোজা। অনেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়েই জিহাদে যায়। আবার অনেক বাবা-মা-ই তাদের সন্তানকে পুণ্য লাভের আশায় জিহাদে যেতে বাধা দেন না। ছেলে তো আর মেয়েবাজি বা জুয়া খেলতে যাচ্ছে না! আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতেই যাচ্ছে। আবার অনেকে বাবা-মাকে না বলেই চলে যায়। কারণ তারা বোঝে, তাদের বাবা-মা বাধা দেবেন ছেলে হারানোর ভয়ে। কিন্তু কেউ তো আর আল্লাহর ঊর্ধ্বে নয়। বাবা-মা বাধা দিচ্ছেন ইমোশনাল হয়ে। কিন্তু এতে তো আর জান্নাত মিলবে না! জিহাদে গিয়ে মরলে বা মারলেই জান্নাত (১ নাম্বার )।

নিজেকেই প্রশ্ন করুন। আপনার মনের ভেতরে কি নেই, সমাজে ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠা হোক? নিশ্চই আছে। আবার বলবেন, তবে কাউকে মেরে নয়। জনাব, আপনার ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠা হোক, এমনটা চায় মাত্র ১৫০ কোটি মানুষ। আর বাকি ৫৫০ কোটি মানুষ মোটেও এমন চায় না। তারা কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিষ্টান, কেউ বৌদ্ধ, আর কেউ নাস্তিক। তারা সবাই চায় তাদের ধর্ম বা মতের ওপর আইন প্রতিষ্ঠা হোক। সবার কাছে সবার ধর্মই সত্য, প্রকৃত গড থেকে আগত। আপনি তাদের কী বলে ডাকেন? কাফির! মুর্তাদ! বিধর্মী! কী, বলেন না? ওরা না থাকলেও তো চলবে, তাই না? আল্লাহর আদেশ মতই রাষ্ট্র চলা চাই। কেউ বাধা দিলে প্রথমে প্রথমে প্রতিবাদ। না মানলে ব্যবস্থা তো আছেই। আপনি হয়তো পিস লাভিং অন্য ব্যবস্থাটা এড়াতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু যারা মুখের আগে হাত চালায়, একরোখা, তাদের মাথায় থাকবে ২ নাম্বার হাদিসটা। আর ওদের মারার জন্য নিজে মরে গেলেই কি? জান্নাত তো নিশ্চিত। (হাদিস নাম্বার ৩)।

ওপরের কারণগুলো বুঝিয়ে তারা পিস লাভিং আপনাকেও ব্রেইনওয়াশ করতে পারে। মজার বিষয়, আপনি তাদের ভুলও বলতে পারবেন না। সবকিছুই কোরআন-হাদিস মোতাবেক। তারা যদি আপনাকে প্রশ্ন করে, আপনি কি চান না ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা হোক? ইসলাম শুধু মানলেই হলো না, খিলাফত প্রতিষ্ঠাও করতে হবে! স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার আইন মানতে হবে। আপনি কি কোনো প্রশ্নের উত্তরে "না" বলবেন? বলবেন না। কারণ "না" বললে আপনাকে কাফির মুর্তাদদের দলেই গণ্য করা হবে। এমনকি আপনার প্রাণও যেতে পারে। আপনার নরম মনকে এভাবেই বিষিয়ে তোলা হতে পারে। আপনি হয়তো আপনার চিন্তাচেতনা দিয়ে হযতো তবু এড়িযে যেতে পারবেন, কিন্তু বাচ্চারা? ১৮-২০ বছরের কিশোর-যুবকরা? যারা দিনরাত মাদ্রাসায় পড়ে থাকে, তারা?

লোকে বলে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। কে, কোন সময় কোন পথে চলে যায়, কেউ জানে না? না হোক আপনার সন্তান, ভাই কিংবা পরিচিত, কেউ জিহাদে যাওয়ার জন্য আপনাকে বললো বা আপনাকে যেতেও দাওয়াত দিলো ওপরের হাদিসগুলা দিয়ে। আপনি কী করবেন, ভেবে দেখেছেন? আপনি জানেন, বাংলাদেশ থেকেও অনেক ভাই-বোন আইসিসকে সমর্থন দিচ্ছে। হয়তো আপনার ছোট ভাই কিংবা বন্ধুও রয়েছে এই তালিকায়। ওদের সাথে জিহাদ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। মানবধর্ম শেখান। শুধু মুসলিম-মুসলিম নয়, হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই যে একই পরিবারের ও পরষ্পর ভাই-ভাই, সেটা শেখান। একত্রে বসবাসে উদ্বুদ্ধ করুন। যখনই দেখবেন, কেউ এসে "এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই" বলে অন্য ধর্মের মানুষ থেকে আপনাকে আলাদা করে দিচ্ছে এবং জিহাদে যাওয়ার দাওয়াত দিচ্ছে, বুঝে নেবেন এটা ধর্ম নয়, রাজনীতির খেলা।

আরেকটা জিনিসের পার্থক্য জেনে নিন। ধর্ম পালন এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা - দুটো দুই জিনিস। ধর্ম প্রতিষ্ঠার কাজ ছিল আপনার নবী-রাসুলদের। আপনার দায়িত্ব এগুলো পালন করা। যখনই সেটা প্রতিষ্ঠা করতে যাবেন, তখনই রক্তারক্তি শুরু হবে। স্বয়ং আপনার নবীও এটা এড়াতে পারেননি। সর্বশেষ অনুরোধ, আপনার নেতা যে-ই হোন না কেন, তার কোনো আদেশ মানার আগে নিজের জ্ঞান, চিন্তাচেতনা ও বিবেক ব্যবহার করবেন। এগুলোকে কারো হাতে তুলে দেবেন না।

মোমিনাকে জঙ্গি বানানোর পদ্ধতি


গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে নারী জঙ্গিদের তৎপরতার কয়েকটি সংবাদ:
➤ জেএমবির চার নারী জঙ্গি গ্রেফতার ➤ শরীরে বোমা বেঁধে নিয়েছিলেন সীতাকুন্ডে আটক নারী জঙ্গি ➤ ওরা দুর্ধর্ষ নারী জঙ্গি ➤ আজিমপুরের তিন নারী জঙ্গি রিমান্ডে ➤ এবার নারী জঙ্গি! ➤ এবার আত্মঘাতী নারী জঙ্গি ➤ নারী জঙ্গি বলল, 'তাড়াতাড়ি সোয়াত নিয়ে আসো'

২৪ মার্চ, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৫

লিখেছেন নীল নিমো

গত শুক্রবার বয়ান দিচ্ছিলাম ঠিক এইভাবে:
- জাহান্নামি নাস্তিকরা মনে করে, আল্লাহ নাই, সবকিছু নাকি শূন্য থেকে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। কতটা মাথা খারাপ হলে মানুষ এই কথা বিশ্বাস করতে পারে? নাস্তিকদের আসলেই মাথা খারাপ।

পাশে একজন জাহান্নামি নাস্তিক বসা ছিল, সে উত্তর দিল:
- হুজুর, আপনি কি তাহলে শূন্যতে বিশ্বাস করেন না?

আমি উত্তর দিলাম:
- শূন্য থেকে কোনোকিছু সৃষ্টি হতে পারে না। তাই নাস্তিকদের শূন্য একটি অর্থহীন ধারণা। শূন্য বলে কিছু নাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বত্র বিরজমান। সৃষ্টির পূর্বে তিনি ছিলেন, এখনো আছেন।

তখন নাস্তিক হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, বর্তমান গণিত শাস্ত্র শূন্যের উপর দাড়িয়ে আছে। ০ থেকে ৯ - এই ১০টি সংখ্যার ভিতরে শূন্য আছে। আপনি যে কোনো গণনা পদ্ধতিই নিন না কেন, বাইনারি, অক্টাল, হেক্সাডেসিম্যাল সবগুলোতেই শূন্য আছে। এই শূন্য না থাকলে কোনোকিছু গণনা করা যেত না, সংখ্যা লেখা যেত না। তার মানে, শূন্য না থাকলে কম্পিউটারও চলত না। এই মহাবিশ্বের সব গণনা শুন্য থেকে শুরু হয়। এই যখন অবস্থা, তাহলে শূন্য ছাড়া কীভাবে সৃষ্টতত্ত্বের হিসাব বা গণনা শুরু করবেন? আস্তিকদের উচিত, আজ থেকে শূন্য সংখ্যাটা ব্যবহার করা বাদ দেওয়া। কারণ আস্তিকরা মনে করে, শূন্য বলে কিছু নাই। শূন্যের জায়গাতে সবসময় আল্লাহপাক ঘাপটি মেরে বসে থাকে।

নাস্তিকের কথা শুনে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আমি বলিলাম:
- আমার প্রশ্রাব ধরেছে, আমি একটু টয়লেট গিয়ে পেটের মূত্র ব্লাডারটা খালি করে আসি।

নাস্তিক হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, আপনারা আস্তিকরা তো শূন্যতে বিশ্বাস করে না। আপনারা বিশ্বাস করেন, সব জায়গাতে আল্লাহ আছে। পেটের মূত্রথলি কীভাবে খালি বা শূন্য করবেন? মূত্রথলিতে তো আল্লাহ এসে বসে আছে।

দুই কানে আঙুল দিয়ে পায়খানার দোয়া পড়তে পড়তে আমি দ্রুতপায়ে টয়লেটের দিকে এগিয়ে গেলাম:
- আল্লাহুম্মা ইন্নি আওযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবায়িস।

পল্টিবাজ কোরান - ০৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০২

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


মানুষ মুহাম্মদ - নবী মুহাম্মদ

আবু কাশেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! ৬১০ সালের শুরুতে মক্কায় এ নামেই পরিচিত ছিলেন মুহাম্মদ, এখন যাকে আমরা ‘নবী মুহাম্মদ’ নামে চিনি। ৬১০ সালের আগষ্ট মাস থেকে এই আজকের দিন পর্যন্ত ‘মানুষ মুহাম্মদ’-এর ওপর নবুয়্যতের যে-পোশাক চাপানো হয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে পৃথিবী আজ দুটি ভাগে বিভক্ত; একদলে আছে মুহাম্মদের অনুসারী মুসলিম, বাকি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের পরিচয় অবিশ্বাসী-কাফের নামে!

যেহেতু এই সিরিজটিতে আমরা মানুষ মুহাম্মদ ও নবী মুহাম্মদের ভালো-মন্দের একটি রূপরেখা তুলে ধরবো, তাই প্রথম অধ্যায়ে সব বিষয়ের ছোট-খাট আভাস দেবো। চলুন, প্রথমেই জেনে নিই কেমন ছিলেন এই মানুষটি, চেহারা থেকে শুরু করে মন-মননে, চাল-চলনে।
বুখারী-৭-৭২-৭৯১: মুহাম্মদ-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিলো, না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ানো; আর তা ছিলো দু'কান ও দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত।
বুখারী-৭-৭২-৭৯৩: মুহাম্মদ-এর মাথা ও দু'পা ছিলো মাংসবহুল। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত অপর কাউকে দেখিনি; তাঁর হাতের তালু ছিলো চওড়া।
বুখারী-৪-৫৬-৭৫১: মুহাম্মদ মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিলো। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি।
মুহাম্মদ ছিলেন উজ্জ্বল সাদা (ফর্সা) রংয়ের মানুষ, এতটাই সাদা যে, শরীরের রংয়ের জন্য আলাদা করে চেনা যেতো তাকে!
বুখারী-৪-৫৬-৭৬৫: মুহাম্মদ যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, আমরা তার বগল দেখতে পেতাম। অন্য রেওয়াতে আছে, বগলের সাদা শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
বুখারী-৯-৯০-৩৪২: খন্দকের যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ আমাদের সাথে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, তাঁর পেট মুবারকের সাদা শুভ্রতাকে মাটি আচ্ছাদিত করে ফেলেছে।
বুখারী-১-৩-৬০: একবার আমরা রাসুলুল্লাহ্‌-এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকলো। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখলো। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললো: তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ্‌ কে? রাসুলুল্লাহ্‌ তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।
সাধারণ স্বাভবিক মানুষের মতই মুহাম্মদ কথা না শুনলে রেগে যেতেন, স্বাভাবিকভাবেই নিজের রাগ-ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না; একজন নেতা হিসেবে অনুসারীদের প্রতি মায়া-অনুশাসন ছিলো প্রাকৃতিকভাবেই।
বুখারী-১-২-১৯: মুহাম্মদ সাহাবীদের যখন কোনো আমলের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন, ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তাআলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন। একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিলো। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।
বুখারী-১-৩-৮৭: একবার এক ব্যক্তি বললো: ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না; কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। (আবু মাসউদ বলেন) আমি রাসুলুল্লাহ্‌-কে কোনো ওয়াজের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেন: হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করো। অতএব: যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে; কারণ তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।
আয়েশা মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীদের একজন ছিলেন; ৫১ বছর বয়সে ৬ বছর বয়সী আয়েশাকে বিয়ে করেন মুহাম্মদ। এই আয়েশা পর্যন্ত ফেরেশতা জিব্রাইলকে দেখার সুযোগ পাননি; অন্যদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তার কথা তিনি নিজেই বলেছেন, এসব থেকে আমরা মুহাম্মদের যৌনরুচি আর শিশুকাম-প্রীতির আভাস পেতেই পারি।

হিজাবী হুরি যতো - ৯

২২ মার্চ, ২০১৭

সহি ইছলাম প্রসারণ প্রকল্প

লিখেছেন বেনামী সংস্কারক

সুবানাল্যা, মাশাল্যা... ইছলামই একমাত্র সত্য ধর্ম, শান্তির ধর্ম, আর সেই জন্যই ইছলামের সায়াতলে নাসতেক কাফেররা দিনের পর দিন আশ্রয় গ্রহণ করছে। একদিন পুরো বিশ্ব এভাবেই ইছলামবাজ দিয়ে ভরে যাবে।

এখন দেখা যাক, ইছলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি যেভাবে:

ধাপ ১:
জোর করে অন্যদের মুসলম্যান বানানো।

যেমন, জেলখানার কলিগ থুক্কু কয়েদিকে জোর করে মুছলিম-হবি-নয়তো-গর্দান-যাবে বলিয়া হুমকি। এছাড়া নেটে হাজার হাজার খবর পাবেন বিশ্বস্ত সূত্রসহ, যেখানে দেখবেন, লোভ দেখিয়ে বা জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়

ধাপ ২:
এর পরে জনসংখ্যা ডেসটিনির হাতের চাইতেও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধিকরণ।

যেমন, এবার ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের লক্ষে পাঁচটি করে বাচ্চা নিতে বলল এর-দো-আন। জানেন তো, মুছলিমদের সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য পালে-পালে বাচ্চা বিয়ানোর জন্য উৎসাহ দেয়া হয় ইছলামে। আর তাছাড়া, ইছলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম তো বটেই।

ধাপ ৩:
সারা পৃথিবীতে শান্তির নজির ছড়িয়ে দিতে গিয়ে শহিদ নতুবা শ্রীঘর (রেফারেন্স চাহিয়া লজ্জা দিবেন না)


বারবার ধাপ ১-৩ এর অনুসরণ।

নিশ্চয়ই মুছলম্যানরা সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে গর্ব করার অধিকার রাখে।

ক্রুশের বদলে

কুদরতিক্রিয়া - ১২

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

২৮.
নাস্তেক দের কতা মুনে অইলে ফরে আমার সুদু আসি ফায়। খিক খিক খিক... হি হি হি। নাস্তেক রা কয় দুয়া নিকি হস্ত মিতুন এর মত। যাকে বেবে করা অয়, তার কুনু কামে লাগে না। সুদু যে করে, সেই সুক ফায়। হা হা হা। নাস্তেক দের কতা সইত্য হলি ফরে ত আজিয়া আমরা ইস্তেমার মাডে সবাই মিলি কত বরো হস্তমিতুন করি ফেইল্লাম। সেক হাসিনাও আমাদের সাতে হস্ত মিতুন কইল্লেন। কিন্তু নাস্তেক রা কয়, এইগুলাক নিকি কুনু কামে আহে না! দুয়া যুদি কুনু কামে না আইসত, তাহলে ফিতিবিতে এত এত মানুস দুয়া করে কেন, অরে নাস্তেক?

২৯.
নাস্তেক রা কয়, আসমান বলি নাকি কিসু নাই। নীল যে রং আমরা দেখি, অইটা নাকি আমরার দৃষ্টি সীমা। আসমানের কুন রং নাই। এ জন্যি রাতের আকাশ রে কালো দেখায়। আসমান নাকি আলুর ফ্রতিফলন। মঙ্গল গ্রহের আকাশ নাকি লালচে বা বাদামি! এখন গুগলে সার্চ দিয়া দেখি, গঠনা সত্যি। এখন আমি কিতা করতাম? আমি ত নাস্তেকদের কথায় বিব্রান্ত হই যাইতেছি।

৩০.
আজিয়া মাদেসার মুহতামিম বরো হুজুরের কাস তেকে সেই গাইল কাইসি। হুজুর কয়: 
- হারা রাত জাগি জাগি পেচবুকে কিয়া করেন? পজরের অয়াক্তে টিক মত উডতে ফারেন না। নামাচে সব সুময় লেইট করেন। সকালে মাদেসায় আইসা জিমান। 

আমি কইলাম:
- হুজুর, আমার উপ্রে সয়তানে আসর কইচ্চে। আমি কিয়া করাম? পেচবুকের মুহো আমাকে আসন্ন করি ফেলাইসে। দুইয়াদারি কাম লই আমি বেস্তো অই গেসি। হুজুর, আমার জইন্ন দুয়া করেন আর সয়তানের দুকা তেকে বাছার ফত দিকাই দেন।

হুজুর অনেক্কন সিন্তা কইরা আমার এক্কান তাবিজ দিসেন আর এক গেলাস ফানি ফরা ফু দি কাওয়াসেন। একন আল্লা মালুম, আমি যেনু সয়তানের দুকা ত্তন বাচি সহি চালামতে চইলতে ফারি। সবাই দুয়া কইরবেন...

ইসলাম ভইরা দে

২১ মার্চ, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ২

লিখেছেন ইমানুল হক

০৩.
আমি যেইদিন হইছি, সেইদিন খুবই বিস্টি আছিল। আমি হওয়ার সাত সাত আমার বাপ (হেমায়েতুল হক) দৌড়াইয়া গেছে আযান দেওয়ার লাই, আমার হুজুর চাচার আদেশে। আযানও দিতাছে, আমারও কান্দন ইস্টার্ট। আমার বাপে গেছেগা আযান ভুইল্ল্যা। হুজুর চাচা কয়, এই যে শয়তানের ছুয়াতেই এমন হইছে। (জন্মের সময় সন্তান কাঁদে শয়তানের স্পর্শে। - সহিহ বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫৪, হাদিস ৫০৬)। যদিও ডাক্তরেরা ভুয়া কতা বলি বেড়ায় যে, "জন্মের সুময় শিশু যহন অয় তহন ভ্রূণস্তরের এমনিওটিক ফ্লুইড আর অন্যান্য নিঃসরনের ফলে লাংস কলাপস অয় আর শ্বাস -প্রশ্বাসের ক্রিয়া তহনই শুরু অয়।এইসব সিক্রেশনের জইন্য শ্বাস প্রশ্বাসের রাস্তা ঠিকমত ক্লিয়ার অয় না। তাই বাচ্চা সর্বশক্তিতে কাইন্দা ওঠে আর ক্লিয়ার শ্বাসপ্রশ্বাস তহনই শুরু হয়। আর লাংস তহনইএকটিভেটেড অইয়া যায়।"

যাইঅক, ডাক্তরগো ভুল দারণা একদিন ঠিকই ভাংবে, কিন্তু আপছুস, তাগোরে কেউ জাহান্নামের আগুন থিকা বাচাইবার পাইরবনা। যাক, ঘটনায় আসি। বাপে ছিলো নাছোড়বান্দা, হুজুর চাচারে দিয়া ঝাড়াইয়া তারপর ক্ষান্ত দিছে। যার বদৈল্যতেই আমি আইজকার এই ফরহেজগার ইমানুল হক, ইমান লইয়া দ্বীনি জীবন যাপন কইরতেছি। আমার বাপ খুব বালা লোক আছিলো। আল্লা তাক বেস্ত নসিব করুক। সবাই আমার বাপের লাই দোয়া কইরবেন। আরেকডা ব্যাপারে দুয়া চাই: আমি যেন এই শক্ত ঈমান লই বাইচতে ফারি।

০৪.
এক কাফের মুশরেকের কতার জবাব দিব আইজ। হেই মুনাফেক হালা নবির সুন্নত খতনা নিয়া হাসে, কয়, "বুল করেছে আল্লায়, সুধরাইবো কি মোল্ল্যায়?" (নাউজুবেল্লা)। 

যাক, গটনায় আসি, আমার বয়স তহন ছয় বছর। বাপে ঠিক কইল্য সুন্নতে খতনা করাইব। এই নিয়া খুবই ব্যতিব্যস্ত অই গেল। কী আর করার, ডাক ফইড়ল আমাগের হুজুরচাচার। হে আবার এই কাজে ইক্সপার্ট। কারণ সুন্নতে খতনা নিকি আবার সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদিসে আছে, "হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. হ্যার পিতা থিকা বর্ণনা করেছেন, রাসূল স. কইছেন, খতনা পুরুষদের জইন্য সুন্নত। আর নারীদের জইন্য সম্ভ্রমের উপকরণ। (মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং-২০৭৩৮)। 

তা আমি যহন হুনলাম, আমি ত ভয়েই শ্যাষ। আল্লা আমার নুনু কাটি লাইব, তাইলে আমি মুতুম কি দিয়া! আমি ত চাইছি ছুটি ফলামু। কিন্তু যাইওক, আমাক দরি আইনলো আমার সুলেমান মামা। আমাক নেওয়া অইল হুজুর চাচার কাছে। উনি মামাকে বইল্লেন আমাক ফিছ মুরা করি দইরতে। আর আমাক কইলেন, "ইমান, ভয়ের কিছু নাই, খালি একখান ফিফড়ার কামুর খাইবা। কিচ্চু অইবনা।" কে হুনে কার কতা, আমিতো আগেই চিল্লান ইস্টার্ট করি দিসি। আমাক কইল চোখ বন্দ কইরতে। ভয়ে ভয়ে বইল্লাম, ইক্টু ফিফড়ার মত ব্যতা ফাইলাম, দেহি কাম গটাই ফেলছে। যাক, বাবা খুশি অই কইল, "দেহ ইমানের মা, আমগো ইমান আইজকা থিকা মুসলমান অই গ্যাছে, পুলাডা এত দিন মালোয়ান আছিল। আল্লার দরবারে লাক লাক শুকরিয়া।" 

আমি হেই দিনডার কতা আজও মনে করি, কত কষ্ট করি আমি মুসলমান অইছি। কিন্তু তাগের অগ্রিম জায়ান্নামি চিত্র দেকি খারাপ লাগে, যারা আল্লার এই নিয়ামত না বুজি খিকখিক করে হাসে আর কয়, "বুল করেছে আল্লায়, সুধরাইবো কি মোল্ল্যায়?" আমি তাগের কইতে চাই, "তরার ত জন্মের ঠিক নাই, আল্লার নবির সুন্নত ক্যামনে বুজবি!! এই জন্যই তরা হারামী কাফের, মুশরেক আর সিষ্টির নিক্রিষ্ট ফ্রানি। (আল্লা কইছে, "তারাই সিষ্টির নিক্রিষ্ট ফ্রানি, যারা সত্য ফ্রত্যাখ্যান করে আর অবিশ্যাস করে।" - কুরান ৯৮:৬)। আল্লা তগের হেদায়াত দেক।" 

পরিশেষে কই, এ আল্লা, আমাক তুমি মাপ করি দেও, অগো কতা মনে ফইড়লেই আমার নাফাকি কতা মুগদা চইল্লা আহে, অযুডা সাত সাত ভেংগে যায়। যেবাবেই ওক, আমাক আমার ইমান নিয়ে চলার তৌফিক দেও মাবুত। আমিন।

কোরান ও রবীন্দ্রনাথের কুম্ভিলকবৃত্তি

শুধু ইহুদি-নাছারার বিজ্ঞানীরাই কি কোরান থেকে চুরি করে? না, এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই কাফের কবিরাও। রবীন্দ্রনাথের কথাই ধরা যাক। তিনি তো কোরানের একটি আয়াত থেকে পুরো চোথা মেরেছেন!

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৪

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে সকালবেলা এক নাস্তিককে মুসলমান বানাতে গিয়ে আমিই নাস্তানাবুদ হয়ে গেলাম। ঘটনাটি নিম্নরূপ:

গতকাল রাত্রে এক নাস্তিককে বলেছিলাম:
- ইসলাম খুবই সহজ ধর্ম। শুধুমাত্র পরিপূর্ণ জীবনবিধান পবিত্র কোরান মজিদকে মেনে নিলেই হবে। সে মুসলনমান হয়ে যাবে। হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি ধর্মের মত ইসলাম ধর্ম জটিল ধর্ম নয়। ইসলাম ধর্মকে আল্লাহপাক মানুষের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।

আলহামদুল্লিলাহ, আমার কথা শুনে, নাস্তিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি হয়ে গেল। ঠিক হলো, আজকে সকালবেলা নাস্তিক আমার কাছে এসে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাবে।

তো, আজকে সকালবেলা নাস্তিক আমার কাছে এলে আমি নাস্তিককে কালিমা তৈয়েবা পড়িতে বলিলাম:
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।

নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, আমি কোরানের আয়াত ছাড়া কোনোকিছুই পড়িব না। কালিমা তৈয়েবা কোরান শরিফে নাই।

আমি বলিলাম:
- হাদিসে আছে। পড়ে ফেলুন।

নাস্তিক বলিল:
- নবীজির মৃত্যুর ২০০ বছর পর হাদিস রচনা করা হয়েছিল। হাদিস আসমানি কিতাব নহে। উজবিকাস্তানে জন্ম নেওয়া তুর্কি ইমাম বুখারী, সহি হাদিস সংকলন করেছিলেন ৮৪০ সালে। শিয়া, সুন্নি, আহমেদিয়া, সুফিরা সহি হাদিস নিয়া দ্বিমত প্রকাশ করেছে। এমনকি অনেক সুন্নিও দাবি করে যে, তাওহীদ এবং রিসালত এক সাথে কোনো হাদিসে আসে নাই। তাই বিতর্কিত হাদিস পড়ে আমি মুসলমান হতে চাই না। আপনি বলেছিলেন, আসমানি কিতাব কোরান মানলেই হবে। মুসলমান হতে হলে বিতর্কিত হাদিস পড়তে হবে, এটা আপনি তো আগে বলেন নাই।

নাস্তিকের কথা শুনে আমি তব্দা হয়ে গেলাম। আমার নিজের ঈমানের ভিত্তি লইয়া নাস্তিক টান মারল। আমার মাথাটা ঘুরে উঠলো। আমার দুরবস্থা দেখে নাস্তিক তাড়তাড়ি ১১২-তে ফোন করল।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৩

২০ মার্চ, ২০১৭

পুতুলের হক কথা - ৩০

লিখেছেন পুতুল হক

১১২.
এই দেশের অধিকাংশ মুসলমানের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্থ না-বুঝে কোরআন খতম করা পর্যন্ত। তাদের খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান বিটিভির বড়দিনের অনুষ্ঠান। আর হিন্দুধর্ম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান বিটিভির জন্মাষ্টমী আর দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান। বুদ্ধপূর্ণিমার ক্ষেত্রেও তাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বিটিভি সেরা। কিন্তু যারা সাম্প্রদায়িক (আর ধার্মিক মানেই সাম্প্রদায়িক), তাদের মধ্যে কখনো স্থায়ী সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় না।

১১৩.
এতোগুলো স্রষ্টা পৃথিবী জুড়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিকমানের স্রষ্টা নেই একটিও। আমাদের মহান আল্লাহ বেহেস্তে আমের কোন বন্দোবস্ত রাখেননি। আম্রপালি, ল্যাংড়া কিংবা হিমসাগর যেখানে ফলে না, সেটা আবার কিসের বেহেস্ত? রোজার মাস ছাড়া বাকি সময়ে খেজুর দেখলে মনে হয় উটের খাবার। অবশ্য উট খেজুর খায় কি না, আমি জানি না।

১১৪.
ভয়ংকর সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক কৌশলের নাম ইসলাম। এই মতবাদ সবার আগে দখল করে আক্রান্তের বিবেক, স্বাভাবিক বোধ, মানবিকতা আর ন্যায়পরায়ণতা। আক্রান্ত ব্যক্তি এসব মানবিক গুণ বন্ধক দিয়ে নিজেকে সমর্পণ করে এমন এক সত্ত্বার কাছে, যে নির্দেশ দেয় - পিতা পুত্রের গলায় ছুরি চালাও, ভাই ভাইকে গুলি করো। এমনই এক সত্তা, যে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক প্রেমকে তার অস্তিত্ত্বের প্রতি হুমকি মনে করে। এমনই এক সত্তা, যে মানব জাতির অর্ধাংশ নারীকে কেবল যৌনসামগ্রী হিসেবে দেখতে শেখায়। তার তৈরি বেহেস্তে নানান আরাম-সামগ্রীর মধ্যে নারীও কেবল এক সামগ্রী। ইচ্ছে হল, ৭২ নারী কাউকে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়ে গেলো! আহা... ভুল হয়ে গেলো। তারা তো নারী নয়, তারা হুর। নারীর চাইতেও আরামপ্রদ!

পারলৌকিক প্লেবয়

সৌদি নারীদের সত্যি কাহিনী

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১০]

অনেকেই বলে থাকেন, ইসলাম নারীদের শ্রদ্ধা করে এবং তাদের মূল্য দিয়ে থাকে। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি বলতে পারি, এই ধারণা সর্বৈব মিথ্যা। সৌদি আরবের আদি অধিবাসী হিসেবে আমি স্বচক্ষে দেখেছি, কী ঘৃণ্য ও নীচুভাবে ইসলামী সমাজে নারীদেরকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আমি যা চাক্ষুষ দেখেছি - ইসলামে নারীদের কী দুর্দশাদায়ক ও হীনকর অবস্থা - তা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করব এই রচনায়। আমি হলফ করে বলতে পারি: এই রচনার প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ সত্য এবং সত্য ছাড়া এক বিন্দু মিথ্যা নেই। এই রচনায় কিছুমাত্র মনগড়া বা অতিরঞ্জিত বিষয় নেই। এই লেখা আমি নিজের মন থেকে লিখেছি, কেউই আমাকে বাধ্য কিংবা প্রভাবিত করেনি এই লেখার জন্য। এর কারণ - আমার জন্ম সৌদি আরবে, এবং এই সৌদি আরবেই আমি পাকাপোক্তভাবে থাকি।

আমার আছে তিন ভগিনী। পড়াশোনার জন্য তারা ভীষণ অনুপ্রাণিত। নিজের চেষ্টায় ওরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের নারীদের শিক্ষার ওপর বিভিন্ন অযৌক্তিক, সেকেলে ও অন্যায্য নিয়ম চাপিয়ে দেয়ার জন্য ওরা ওদের পছন্দসই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারল না। আমার শত ইচ্ছা সত্ত্বেও ওদের শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য আমার করার কিছুমাত্র ছিল না। আমার হাত আছে বাঁধা। কারণ আমাদের সমাজে যে-নারী আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতা হয়, সে সমাজের বিরাগভাজন হয়।

আমার এক ভগিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করে পড়াশোনা ছেড়ে দিল। তার কারণ, সে চাইছিল সে সৌন্দর্যচর্চায় প্রশিক্ষণ নেবে; কিন্তু আমাদের মতো খাঁটি ইসলামি সমাজে তার অভিলাষ পূর্ণ করা সহজ নয়। তার জন্যে বিউটি থেরাপিস্ট হওয়া একেবারেই অলীক কল্পনা মাত্র। আমার অপর দুই ভগিনী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হতে চাইল। তাই ওরা উচ্চমাধ্যমিক মাত্রায় শিক্ষা সমাপন করল।

আমার পরিষ্কার মনে আছে, আমার ঐ ভগিনীরা যখন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল, তখন ওদের পরিচয়পত্রে ওদের নাম ছিল ঠিকই, কিন্তু ছবি ছিল আমার পিতার। এর অর্থ এই যে, আমার ভগিনীদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নাই। ওরা কাগজে আছে নামেমাত্র। পাঠকবৃন্দ, আপনারা এই ধরনের জঘন্য ব্যবস্থা জেনে চমকে যাবেন না। আমাদের সমাজে নারীদেরকে ধরা হয় গৃহপালিত পশুর মতো। গৃহপশুর যেমন সর্বদাই এক মালিক থাকে, তেমনিভাবে আমাদের নারীদের সর্বদাই কেউ না কেউ মালিক হয়। আমাদের নারীরা মানব হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে না। সৌদি আরবের আইন বলে যে, কোনো কলেজের মেয়ে তার পরিচয়পত্রে তার নিজস্ব ছবি লাগাতে পারবে না। একমাত্র মেয়ের পিতার, ভ্রাতার, স্বামীর অথবা তার আইনী অভিভাবকের (মাহ্‌রম) ছবি থাকবে।

সে যাই হোক। আমার ঐ দুই বোন শিক্ষকতা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকল। কিন্তু ব্যাপার হলো, চাকরিস্থল আমাদের গৃহের নিকট হতে হবে। কারণ আমার বোনেরা কোনো পরিস্থিতিতেই আমার পিতার নাগালের বাইরে যেতে পারবে না। এর অর্থ হল - ওরা কোনোদিনই চাকরি পাবে না।

একজন বিবেকবান ভ্রাতা হিসাবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের এলাকার অনেক পুরুষের তুলনায় আমার ভগিনীরা বিদুষী, দায়িত্ববান - এমনকি আমার চাইতেও। আমি পরিপূর্ণভাবে জানি যে, ওদেরকে সুযোগ দেওয়া হলে কোনো সমস্যা ছাড়াই ওরা নিজেরাই নিজেদের জীবন সুষ্ঠুভাবে গড়ে নিতে পারবে। সত্যি বলতে কি, ওরা অনেক শক্ত কাজ আমাদের চাইতেও ভালোভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য রাখে।

কিন্তু, হায় কী দুর্ভাগ্য! এই আমার তিন শিক্ষিতা, জ্ঞানসম্পন্না, উচ্চাকাঙ্খী ও দায়িত্বশীল ভগিনীগন এক নিরক্ষর পিতার হাতে বন্দিনী। আমার পিতা গৃহের বাইরের বিশ্ব সমন্ধে কিছুই জানেন না। তিনি বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতি ও বিকাশের কোনো প্রয়োজনীয়তাই দেখেন না। এরই সাথে তিনি আমার তিন বোনকে বাধ্য করছেন তাঁর চৌহদ্দিতে তাদের জীবনকে বেঁধে দিতে।

আমার পিতা আমার বোনদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। এর কারণ এই যে, আমার পিতা কঠিনভাবে শর্ত দিয়েছেন যে, অ ধূমপানকারী, পাক্কা ইসলামি এবং একই গোত্রের পাত্র ছাড়া আরা কাউকে আমার বোনেরা বিবাহ করতে পারবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, এই মূঢ় এবং অনড় শর্তের কারণে আমার বোনদের চিরকুমারী থাকতে হবে। অদূর এবং সুদূর ভবিষ্যতে ওদের বিবাহের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

আমাদের এই কঠোর ইসলামি সমাজে যেসব পুরুষ ধুমপান করে অথবা/এবং নামায রীতিমত পড়ে না, তাদেরকে বিবাহের অনুপযুক্ত ধরা হয়। কোনো পুরুষ বিবাহ করতে চাইলে তাকে দু’জন সাক্ষী জোগাড় করতে হবে, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, ঐ বিবাহইচ্ছুক পুরুষ ধূমপায়ী নয় এবং মসজিদে নিয়মিত নামায আদায় করে। এই নিয়মটা একেবারেই বাধ্যবাধকতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটা সৌদি সমাজে এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঐ সাক্ষ্য ছাড়া বিবাহ ভেঙে যেতে পারে। আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এক সৌদি গোত্রের পাত্র অন্য সৌদি গোত্রের পাত্রীকে কোনোক্রমেই বিবাহ করতে পারবে না। যদিও উভয় গোত্রই মুসলমান। এই প্রসঙ্গে এক সৌদি মহিলার অ মুসলিম পাত্রকে বিবাহের কথা না-ই বা লিখলাম। এটা তো সম্পূর্ণ হারাম, চিন্তাই করা যায় না।

আমাদের গোত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দুই- তিন গুণ বেশি। এর অর্থ হল, আমাদের অনেক মহিলাকে চিরজীবন অবিবাহিত থেকে যেতে হবে। কারণ আমাদের গোত্রের বাইরে বিবাহ করা সম্পূর্ণ অচিন্তনীয়। আমাদের সমাজে পুরুষরা বিশ বছরের নিচের মেয়েদেরকে বিবাহ করতে চায়। তাদের ষোল বছর অথবা তার কম বয়সি মেয়েদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ। এর পরিণাম এই যে, বিশ বয়সের ঊর্ধ্বের মেয়েদের বিবাহের সম্ভাবনা একদম শূন্য। এইসব মেয়ের জন্য একটাই পথ - তাদেরকে বৃদ্ধ পুরুষ বিবাহ করতে হবে।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, এইসব গোঁয়ার ইসলামী নিয়ম কানুনের জন্য আমাদের সমাজের বাড়তি বয়সের মেয়েদের ভবিষ্যৎ বিবাহজীবন একেবারেই দুরূহ।

এখন দেখা যাক আমার পিতার সত্যিকার কারণ: কেন তিনি তাঁর মেয়েদের বিবাহের ব্যাপারে একেবারেই নিরুৎসাহী। এই ব্যাপারে আমি বলতে চাচ্ছি, কেন আমার পিতা তাঁর মেয়েদেরকে অন্য গোত্রের ছেলেদের হাতে তুলে দিতে নারাজ।

বেশিরভাগ সৌদি পুরুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, নারীদের নিজস্ব কোনো আশা, আকাঙ্খা, উচ্চাভিলাষ থাকতে পারে না। তাই বিবাহের ব্যাপারে সৌদি মেয়েদের অভিমত সম্পূর্ণ অবান্তর। একটি সৌদি মেয়ে সম্পূর্ণভাবে তার মালিকের সম্পদ। মেয়েটির মালিক তার মেয়েটির ভাগ্য নির্ধারক। সৌদি পুরুষেরা মনে করে যে, তাদের গোত্রের মেয়েদের অন্য অজানা গোত্রের ছেলের সাথে বিবাহ হওয়া খুবই লজ্জার ব্যাপার। একজন সৌদি কোনো রকমেই এটা মানতে পারবে না যে, তাদের গোত্রের এক মেয়ের 'সম্মান' অন্য গোত্রের ছেলে দেখে নেবে। এক সৌদি পিতা চিন্তাই করতে পারে না যে, তার কন্যা অন্য গোত্রের অচেনা ছেলের সাথে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হবে - এমনকি বিবাহের পরেও। যদিও সে মুসলিম। এটাই হচ্ছে আমার পিতার আসল কারণ - কেন তিনি তাঁর মেয়েদের বিবাহে রাজি নন অন্য গোত্রের ছেলের সাথে। তাঁর মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটবে, যখন তিনি জানবেন যে, ঐ বাইরের লোকটি তাঁর মেয়ের সাথে যৌনতায় মিলবে এবং সে তাঁর কন্যার যৌনাঙ্গ দেখে ফেলবে।

ওপরে উল্লেখিত কারণের জন্য প্রচুর সৌদি পিতা দ্বি বিবাহের আয়োজন করেন। অর্থাৎ, আপনি আপনার ছেলেকে দিন আমার কন্যার কাছে, এবং আমি আমার কন্যাকে দিব আপনার ছেলের হাতে। এই নিয়মটা ভগিনী হলেও চলবে। এভাবে উভয়পক্ষ সান্ত্বনা পায় যে, উভয়ের 'সম্মান' রক্ষা হলো। আমাদের সমাজে যখন কারও অর্থের প্রয়োজন পড়ে কিংবা নতুন স্ত্রীর প্রয়োজন হয়, তখন মেয়েদের এভাবে পণ হিসাবে ব্যবহার করে কিছু সৌদি মহিলা অর্থোপার্জন করে। কিন্তু তারা যা- ই আয় করে, তার সবটাই চলে যায় তাদের পিতার অথবা স্বামীর পকেটে। অনেক মহিলার পিতা আশঙ্কা করেন যে, তাঁদের কন্যার আয় স্বামীর কাছে চলে যাবে - তাই সেই সব পিতারা চান না যে, তাঁদের কন্যারা বিবাহ করুক। আমার মনে হয়, এটাও হয়ত আমার পিতার একটা কারণ হতে পারে - কেন তিনি একপ্রকার বিবাহ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আমার বোনদের ওপর।

তাহলে এই সমাজে আমার বোনেরা কেমন করে বেঁচে আছে?

(পরবর্তী পর্ব এখানে)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৮

১৯ মার্চ, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ১: দামেস্ক ও পারস্যের শাসনকর্তার কাছে!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ছত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করার পর (পর্ব: ১১১-১২৯) প্রায় চার বছর জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁর ঘটনাবহুল নবী-জীবনের শেষের এই চারটি বছর (মার্চ, ৬২৮ সাল - জুন, ৬৩২ সাল) আরব, পারস্য, বাইজানটাইন (রোমান) ও ইথিওপিয়ার কিছু শাসকদের কাছে যে-চিঠিগুলো লিখেছিলেন, সেগুলো তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর কোন কোন অনুসারীদের পত্রবাহক রূপে নিযুক্ত করেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

প্রশ্ন ছিল:
মুহাম্মদের সেই চিঠিগুলোর ভাষা কি আপাত সহনশীল 'মক্কায় মুহাম্মদ (পর্ব-২৬)' এর বাণী-সদৃশ ছিলো? যেমন,দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই (২:২৫৬); তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তি করবে ঈমান আনার জন্য? (১০:৯৯); তুমি তো শুধু সতর্ককারী মাত্র (১১:১২); আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন (৫০:৪৫); যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক (৭৪:৫৫); তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে (১০৯:৬)” -  ইত্যাদি? নাকি তা ছিলো বানু কুরাইজার নৃশংস গণহত্যার (পর্ব: ৮৭-৯৫) পর থেকে তাঁর মৃত্যুকাল অবধি বিভিন্ন অবিশ্বাসী জনপদের ওপর তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের অমানুষিক নৃশংসতায় অর্জিত একের পর এক উপর্যুপরি সফলতায় উজ্জীবিত 'মদিনায় মুহাম্মদ (পর্ব-২৭)' এর ত্রাস ও প্রত্যক্ষ হুমকি-সদৃশ? যেমন, "আমিই নবী, আমার বশ্যতা স্বীকার করো নতুবা পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো" - এরূপ?

আল-তাবারীর (৮৩ ৮ - ৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 


দামেস্কের শাসনকর্তার কাছে চিঠি:

'ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী বানু আাসাদ বিন খুযায়েমা গোত্রের শুজা বিন ওহাব নামের এক সদস্যকে দামেস্কের শাসনকর্তা আল মুনধির বিন আল-হারিথ বিন আবি শিমর আল-ঘাসানির কাছে প্রেরণ করেন।

মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি [৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ] হইতে বর্ণিত: তিনি তার কাছে লেখা যে চিঠিটি শুজার মাধ্যমে পাঠান তা হলো এই,

"যে সৎ পথ অনুসরণ করে ও তা বিশ্বাস করে, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনাকে একমাত্র আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান করি, যার কোনো শরীক নাই, তাহলে আপনার রাজত্ব আপনারই থাকবে।"  

শুজা বিন ওহাব তার কাছে চিঠিটি নিয়ে আসেন ও তাদেরকে তা পড়ে শুনান। আল-মুনধির বলেন, "কে আছে এমন, যে আমার রাজত্ব জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে? আমি সেই লোক, যে তার বিরুদ্ধে যাবে।"  

আল্লাহর নবী বলেন, "তাঁর রাজত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে।” 
(‘সম্ভাব্য অন্য অনুবাদ, "তাঁর সাম্রাজ্য ধ্বংস হোক!"’) [3] ----

পারস্যের শাসনকর্তার ('কিসরা/খসরু') কাছে চিঠি:

'এই বছর, আল্লাহর নবী 'কিসরার' কাছে লেখা তাঁর যে চিঠিটি আবদুল্লাহ বিন হুদাফা আল-সাহমি মাধ্যমে পাঠান, তা হলো এই: