৩০ এপ্রিল, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৯

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪৭.
আজিয়া শকাল আমার জইন্য বড়ই আন্দনের শকাল। শকালে ফজরের নামাচ ফড়ে বসি আছি, কি কাবো কি কাবো বাবচি, এমুন সুময় গেরামের মতলিব মেম্বারের বারি তেকে গুস্ত রুটি সলি আচে।

গুস্ত রুটি দেকি আমার জিব্বা লক লক কইত্তেসে এমুন সুময় সুনি, এইডা দুম্বার গুস্ত। আমাদের নবির দেস সুদি আরুব তেকে লিল্লা এসেচে। আমার রিদয় আনন্দে আরো উতলা হই যাই। আমার বিসসাশ ই হইতেসে না আমি আল্লা নবির ফবিত্র দেসের গুস্ত কাচ্চি। আনন্দের টেলায় ডাবল ডাবল গুস্তের টুকরা সাবাত কইত্তে সিলাম।

এমুন সুময় এক হাড্ডি তে কামর ফরি আমার দাত মুবারক সহিদ হই যাই। সহিদ বইলতেসি, কারন আল্লা র রাস্তায় আল্লার নামে জবাই করা গুস্ত কেয়ে আমার দাত ফরি গেসে। দাত সহিদ হয়েসে, তাতে মুনে একটু অ দুক্কু নাই। আল্লা নবির দেসের গুস্ত কাচ্চি, এইডা ই ত বর ফাওয়া।

কানা সেস করি বাংগা দাত কানা হাতে লই আয়নার দিকে সাইয়া একটা হাসি দিলাম, নিজের সেহারা দেকি নিজের ই হাসি ফাইল। তার ফরে দুক্কে দুক্কে মুনে ফরি গেলো আমারে নবিজির দাত মুবারক সহিদ এর গডনা।

কাফের রা যুদ্দের ময়দানে ফাতর মারি নবিজির দাত মুবারক সহিদ করি দিসিল। আবস্য নাস্তেক রা বলে বিন্ন কতা। তারা কয়, নবিজিকে নাকি কাফের রা এমুন মাইর দিসিল যে, ফরে সাহাবিরা নবিজি কে অজ্জান অবস্তায় মিরিত বাবি উদ্দার করে। আহারে কত কস্ট ই না হয়ে সিল নবিজির!

বাবচি বিকালে ডেনটাল ডাকতরের গেসে গি দাত কানা ফুনঃনিরমান কইরব। কিন্তু ইসসা হইচ্চে না। কারণ নবিজি ও ত দাত ফুনঃনিরমান করেন নি। নবিজির আমলে ত এমুন ডাকতর সিলো না, , তাইকলে লিসচই নবিজি দাত ডা ফুনঃনিরমান কইত্তেন।

কিন্তু আমি একন কি কইরব? নবিজির মত কি দাত ফুনঃনিরমান চারা তাকি যাইব শারা জিবন?

পল্টিবাজ কোরান - ১১

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৭

৩২৮.
- আত্মঘাতী বোমারুর সবচেয়ে বড়ো ভীতি কোনটি?
- একাকী মৃত্যু।

৩২৯.
- ২০০০ বছর আগে ডিএনএ টেষ্টের ব্যবস্থা থাকলে কী হতো?
- খ্রিষ্টধর্মের প্রচলনই হতো না।

৩৩০.
আল্যার পরিকল্পনা:
১. বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করা
২. শিশুদেরকে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত করা
৩. গাছ, পাতা, বেগুন মাছ, মাংসসহ নানান বিটকেলে স্থানে আরবি অক্ষরে নিজের নাম খোদাই করা

৩৩১.
- ধর্মগুলো ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে অনুমোদন করে কেন?
- যাতে ধর্ষক আবার ধর্ষণ করতে পারে মেয়েটিকে।

৩৩২.
- সন্ত্রাসের সঙ্গে ইছলামের নাকি কোনও সম্পর্ক নেই?
- হ্যাঁ, যেমন নেই জাতপ্রথার সঙ্গে হিন্দুধর্মের সম্পর্ক।

ইছলামের ঝাণ্ডা

২৯ এপ্রিল, ২০১৭

কোন কোরআন?

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিরিশ বছরের একটানা চেষ্টায় তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজটি শেষ করেন - "তাফহীমুল কোরআন" নামে তিনি প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার কোরআনের ব্যাখ্যা (তাফসীর) গ্রন্থ রচনা করেন। ১২ টির বেশি ভাষায় তাঁর এই তাফসীর গ্রন্থটি অনূদিত হয়েছে এবং কোরআন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী রচনা হিসাবে বিবেচিত হয় মুসলিম সমাজে! গ্রন্থের 'প্রসঙ্গ কথায়' মারাত্মক কিছু কথা বলেছেন তিনি: "কুরআন মজিদের সূরাগুলো আসলে ছিল এক একটি ভাষণ। ইসলামী দাওয়াতের বিশেষ একটি পর্যায়ে একটি বিশেষ সময়ে প্রতিটি সূরা নাযিল হয়েছিলো। কোরআন একটি রচনার আকারে নয়, বরং ভাষণ আকারে বর্ণিত হয়েছে।”

সত্যিই তাই, কোরআন মুহাম্মদের নবী-জীবনের ২৩ বছর সময়ে আল্লার (!) নামে দেওয়া ভাষণের সংকলন ভিন্ন কিছু নয়! এ বিষয়ে মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী সাহেবের কথার সাথে একমত হলেও কোরআনের সংকলন সম্পর্কে ভূমিকায় লেখা তাঁর বর্ণনার সাথে একমত হবার উপায় নেই আমাদের; তিনি বলেছেন: "আজ যে কুরআন মজিদ আমাদের হাতে আছে, সেটি হজরত আবু বকর সিদ্দীকের (রা.) নোসখার অনুলিপি। এই অনুলিপিটি হযরত উসমান (রা.) সরকারী ব্যবস্থাপনায় সারা দুনিয়ার দেশে দেশে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানেও দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে কুরআনের সেই প্রামাণ্য নোসখাগুলো পাওয়া যায়। কুরআন মজীদ সঠিকভাবে সংরক্ষিত হবার ব্যাপারে যদি কারোর মনে সামান্যতমও সংশয় থাকে, তাহলে মানসিক সংশয় দূর করার জন্য তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় গিয়ে সেখানকার কোনো বই বিক্রেতার দোকান থেকে এক খণ্ড কুরআন মজিদ কিনে নিতে পারেন। তারপর সেখান থেকে চলে আসতে পারেন ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। জাভার কোনো হাফেযের মুখে কুরআনের পাঠ শুনে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে কেনা তাঁর হাতের নোসখাটির সাথে তা মিলিয়ে দেখতে পারেন। অতপর দুনিয়ার বড় বড় গ্রন্থাগারগুলোয় হজরত উসমানের (রা.) আমল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্তকার যতগুলো কুরআনের নোসখা রক্ষিত আছে, সবগুলোর সাথে সেটি মেলাতে পারেন। তিনি যদি তার মধ্যে কোন একটি হরফ নোকতার পার্থক্য দেখতে পান, তাহলে সারা দুনিয়াকে এই অভিনব আবিষ্কারের খবরটি জানানো তার অবশ্যকর্তব্য।"

আজকের এই পোস্টের বিষয় মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী সাহেবের ভূমিকায় লেখা অংশটুকুর প্রতিটি বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণিত করা, যা আদতে প্রতিটি মুসলিমের চরম বিশ্বাসেরই অন্ধ প্রকাশ মাত্র! আমরা প্রমাণ করবো:

বিষয়বস্তু - ১. কোরআন মোটেই একটিমাত্র নয়!

বিষয়বস্তু - ২. কোরআন মোটেই সঠিকভাবে সংরক্ষিত নয়!

বিষয়বস্তু - ৩. কোরআনগুলোর ভেতরে একাধিক পার্থক্য আছে!

বিষয়বস্তু - ১:
১৯৯৩ সালে কোরআন নিয়ে আমি প্রথম ধাক্কা খাই। আমার এক বন্ধুর চাচা সৌদি আরবের মদিনা থেকে উপহার দেবার জন্য ১০ টি কোরআন কিনে আনেন, ঘটনাক্রমে আমি সেসময় বন্ধুর বাসাতেই ছিলাম। একটি বাদে ৯ টি কোরআনের প্রচ্ছদ ছিলো হুবুহু এক রকম! আমার আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেই ভিন্ন প্রচ্ছদের কোরআনটি! ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে আরবি কোরআন পড়ি, তবে এই কোরআনটির সূরা ফাতিহা পড়তে গিয়ে আমার চোখে কিছু ভিন্নতা চোখে পড়ে! কোরআনটির ফাতিহার প্রথম আয়াতটি অনেক লম্বা অন্য ৯ টি কোরআনের সেই আয়াত থেকে! আমি বিস্ময়-চোখে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, এমনটা কেন?! সেই দিন থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই কোরআন আমার কাছে মনুষ্যরচিত ভুলভাল গ্রন্থের পরিচয় নিয়ে প্রকাশিত হয় এবং আস্তিকতার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়!

যিনি এই পর্বটি এখন পড়ছেন, আপনাকে অনুরোধ করবো আপনার পিসিতে বা মোবাইলে থাকা কোরআনের সূরা ফাতিহা বের করুন! দেখুন ফাতিহার প্রথম আয়াত শেষ হয়েছে এইটুকুতে:

বর্তমানের ধর্ম বনাম ভবিষ্যতের ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেইম

লিখেছেন নরমপন্থী

শিষ্য: বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের কারণে যেভাবে সবকিছু যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে মানুষ অলস কিংবা বেকার হয়ে পড়বে। কারণ যন্ত্রই সবকিছু করে দেবে। মানুষ তখন কী করবে ? কীভাবে জীবনের অর্থ খুঁজে পাবে। জীবন কি অর্থহীন মনে হবে না? 

গুরু: কোনো কোনো বিষেশজ্ঞদের মতে, খেয়েদেয়ে কোনো কাজ থাকবে না, তাই মানুষ হয়তো ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেইমগুলোর মধ্যে মজে থাকবে।


শিষ্য: তার মানে মানুষের জীবন এবং মানসিকতা পাল্টে যাবে?

গুরু: না, মানুষ আদিম কাল থেকে একই রকম গল্পে মজে আছে, এটা তো নতুন কিছু নয়। মানুষ এতদিন যাবৎ ধর্ম নামক ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেইমের মাধ্যমে জীবনের অর্থ খুঁজে আসছে। যেমন আমি এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলাম কিংবা কয়েকটা রোজা রাখলাম, কয়েক নেকি পুরস্কার হিসেবে পেলাম। কম্পিউটার গেইমের বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেইমের মধ্যেও কোনো একটি কাজে সফল হলে যেমন পয়েন্ট পাওয়া যায় - তেমনি পয়েন্ট যুক্ত হতে থাকবে। তবে অতীত কালে কিংবা বর্তমানে ধর্মের নামে যুগ যুগ ধরে "পয়েন্ট" পাবার কাজ করে আসছে কল্পনার ভিত্তিতে - ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেইমের মধ্যে তা হয়তো করবে যন্ত্রের ভিত্তিতে।

(Yuval Noah Harari-র ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত)

এক জোড়া পোস্টার

বানিয়েছেন কাবিল কোহকাফী

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

সৌদি আরব কি ইসলামী সন্ত্রাসীদের পক্ষে না বিপক্ষে? - ৩

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির ও সৌদি নারীদের অবস্থা অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে, খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, এপ্রিল ৪, ২০১০]


আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে অংকের শিক্ষকেরা খুব স্বাভাবিকভাবেই জিহাদ নিয়ে আলোচনা করেন, এমনকি যে সব শিক্ষক বিজ্ঞান পড়ান, তাঁরাও জিহাদ নিয়ে মাতোয়ারা থাকেন। অনেক বিজ্ঞান শিক্ষক যখনই কাফেরদের কোনো নতুন আবিষ্কার সম্বন্ধে জানেন, তখনই নিশ্চিতের সাথে বলেন যে, কাফেরদের পূর্বেই ঐ সব আবিষ্কার অতীতে ইসলামের দ্বারা হয়েছিল। আমাদের ক্রীড়া শিক্ষকেরা ক্রীড়ার স্থলে আলোচনা করেন ইসলামী ক্রীড়ায় হারাম ও হালাল পোশাক সম্বন্ধে। উদাহরণত বলা যায় যে, শর্টস অথবা জার্সি—যাতে কোনো প্রতীক থাকবে, তা হারাম। আমার মনে আছে: একবার ছাত্র শিক্ষদের সাথে এক ফুটবল খেলার সময় আমাদের এক শিক্ষক শর্টস প্যান্ট পরে খেলতে নামলেন। এই জঘন্য ব্যাপার দেখে আমাদের প্রধান শিক্ষক ঐ শিক্ষককে আদেশ দিলেন অবিলম্বে কাফেরদের পোশাক পরিবর্তন করার জন্যে, না করলে ঐ শিক্ষকের চাকুরি খোয়া যাবে। প্রধান শিক্ষকের যুক্তি ছিল এই যে, শিক্ষককে হতে হবে ছাত্রদের জন্য উদাহরণ স্বরূপ। এতদ হয়রানির পরও ঐ শিক্ষক কাফেরদের পোশাক পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে তিনি চাকুরি থেকে বরখাস্ত হলেন। সেই শিক্ষকের বদলে ক্রীড়া শিক্ষক হিসাবে আনা হলো এক লম্বা দাড়িওয়ালা, ঢোলা ট্রাউজার পরিহিত এক ধর্মীয় শিক্ষককে। 

আমার মনে আছে আমাদের কট্টরপন্থী ইতিহাসের শিক্ষক ৭৩২ খ্রিঃ তূরের যুদ্ধের কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, মুসলমানেরা তখন বলেছিল যে, অতি শীঘ্রই ইউরোপে ধ্বনিত হবে আযানের শব্দ। কিন্তু আমার আজ ইচ্ছে করে ঐ শিক্ষককে জানানোর যে, এখন তো ইউরোপের সর্বত্রই আযান ধ্বনিত হচ্ছে। আজকাল এই আযান আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য কাফেরদের দেশেই সবচাইতে জোরালো। ইসলামের এই বিজয় হয়েছে একটিও যুদ্ধ না করে। আমি মনে করি এটা সম্ভব হয়েছে মূঢ় কাফেরদের জন্যেই। এই মূঢ়তা হচ্ছে কাফেরদের আবিষ্কৃত অবাধ গণতন্ত্র। এখন দেখা যাচ্ছে, কাফেরদের এই বোকামির সুযোগ নিয়ে জিহাদিরা পাশ্চাত্য সভ্যতা ধ্বংস করতে খড়্গহস্ত। কাফেরদের তৈরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই আজ তাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিহাদিরা এখন এই পশ্চিমা গণতন্ত্রকেই মোক্ষ অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করছে পাশ্চাত্যের সর্বনাশের জন্য। এই সব ধূর্ত ইসলামীদের এখন আর কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয় না। কাফেরদের অস্ত্র দিয়েই ওরা কাফেরদের ঘায়েল করতে চায়। দেখা যাচ্ছে, নির্বোধ কাফেররা হাসিমুখে তুলে দিচ্ছে তাদের অস্ত্র ইসলামীদের হাতে। পশ্চিমা গণতন্ত্র ও অবাধ চিন্তার স্বাধীনতা এখন ইসলামীদের হাতে দু’টি বড় অস্ত্র।

আমরা তাহলে দেখছি, আমাদের বিদ্যালয়ে শুধু ধর্মের শিক্ষকেরাই নয়, প্রতিটি শিক্ষকই ইসলাম নিয়ে বিভোর - দিন, রাত চব্বিশ ঘন্টা, মাস, বছর - যেন আমাদের জীবনে ইসলাম ছাড়া আর কিছুই নেই - ইসলাম আমাদেরকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। এমনকি আমাদের ইংরেজি ক্লাসেও পড়ানো হয় ইসলাম - মক্কা, মদিনা - এই সবের ইতিহাস। প্রত্যেক টার্মে আমাদেরকে শিখতে হত ছয়টি ইসলামী বিষয়। এগুলো হলো: কোরআন, হাদিস, তফসির, তাজোয়াদ, তৌহিদ, এবং ফিকহ্‌। এছাড়াও প্রতিদিন বিদ্যালয়ে প্রাতঃরাশের পর বিশ্রামের যে সময়টুকু পেতাম, সেটা কাটাতে হতো যোহরের নামায পড়ে। যে সব ছাত্র হাফিয হতে চাইত, তাদেরকে সন্ধ্যাবেলায় আমার বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে হত হাফয-ই কোরআন শেখার জন্য।

এই প্রসঙ্গে অনেকেই হয়তো জানতে চাইবেন যে, গান-সঙ্গীতের কোনো চর্চা ছিল কি না। এ ব্যাপারে বলতে হচ্ছে যে, ইসলামে গান-সঙ্গীতের কোনো স্থান নেই - এ সব একেবারেই হারাম, কেননা গান-সঙ্গীত হলো শয়তানের ধ্বনি।

আমাদের বিদ্যালয়জীবনের দিনগুলোতে সবচাইতে যে-ব্যাপারে বেশি আলোচনা হতো, তা ছিল যে মুজাহিদ্দিনেরা আফগানিস্তান থেকে যুদ্ধ করে ফিরেছে তাদের বিষয়ে। আমাদের প্রাতঃরাশ বিরতির সময় আমরা হাঁ হয়ে শুনতাম ওদের বীরত্বের গাঁথা - কেমন করে একজন মাত্র মুজাহিদ অনেক রাশিয়ান সৈনিককে মেরে ফেলেছে, তাও মাত্র 'আল্লাহু আকবর, লাইলাহা ইল্লা আল্লাহ্' শব্দ উচ্চারণ করে। শুনতাম কেমন অলৌকিকভাবে আহত মুজাহিদ্দিনেরা অনতিবিলম্বে সেরে উঠত। জানতাম কী অপূর্ব সুগন্ধি বাতাসে ভেসে বেড়াত নিহত, পচিত, গলিত শহীদদের লাশ থেকে। এই সব শ্বাসরুদ্ধকর, অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক গল্প শুনে আমরা সম্মোহিত হয়ে পড়তাম এবং ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে পড়তাম ঐ সব মুজাদিদের ওপর যারা যুদ্ধে যোগদান করেছে এবং যারা শহীদ হয়েছে আফগানিস্তানে। মনে আমাদের এতই প্রবল প্রেরণা জন্মাতো জিহাদ যুদ্ধে চলে যেতে এবং শহীদ হতে যে, ঐ মুহূর্তেই যেন আমরা সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি হয়ে যেতাম।

এখন আমরা অতি সহজেই বুঝতে পারি যে, অসীম কাফেরভীতি, তাদের প্রতি সীমাহীন ঘৃনা, এবং তাদেরকে মেরে ফেলার অদম্য স্পৃহা, অথবা তাদের হাতে শহীদ হবার অপরিসীম আকাঙ্খাই বহু সৌদি তরুনকে চালিত করেছিল আফগানিস্তানের যুদ্ধে যোগ দিতে। দেখুন, কতজন সৌদি আফগানিস্তান, চেচনিয়া, ইরাক এবং অন্যান্য স্থানে জিহাদ করতে গিয়ে মারা গেছে। এই সব অকুতভয়, মৌলবাদী ইসলামীরা মনে করে, শিক্ষালাভ করা সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। সোজাসুজি বেহেস্তে যাবার একমাত্র রাস্তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র জন্যে জিহাদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া - এটাই তাদের বেছে নেয়া পথ।

জিহাদি জোশে মাতোয়ারা হয়ে আমরা অনেকেই মনে মনে রাজি হয়ে যেতাম যে, অর্থহীন পার্থিব জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমাদের শহীদের পথে পা বাড়াতে হবে। এই উদ্দেশ্যে আমরা আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকদের মতামত চাইলাম। তাঁদের মতামত ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। অনেকের মত ছিল, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নই, আমাদের উচিত হবে প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া। অনেক শিক্ষক পরামর্শ দিলেন যে, আমাদের দরকার মুফতির অনুমতি নেওয়া। যদি মুফতি অনুমতি দেন, তবে অবিলম্বে আমাদের পা বাড়াতে হবে কাফেরদের হত্যার জন্য। ঐ সব শিক্ষকেরা বললেন আমাদের বন্দুক, পিস্তল, অথবা কোনো অস্ত্র নেবার দরকার নেই, কারণ যাই-ই হোক আমরাই তো জিতবোই। আর যদি মারা যাই, তবে একেবারে সোজাসুজি বেহেস্তে, আর যদি কাফের হত্যা করে ফিরে আসি, তবে তা হবে ইসলামের বিজয়। যেভাবেই দেখা যাক, আমাদের বিজয় তো অবশ্যম্ভাবী। এই ভাবেই আমরা একেবারেই নিশ্চিত হলাম যে, আমাদের পরাজয় কোনোমতেই হবে না। 

আমার মনে পড়ছে, বিদ্যালয়ে নামায ছিল আমাদের উপর নির্মম অত্যাচার। নিয়মিত নামাযের ওপরেও আমাদেরকে অতিরিক্ত নামায পড়তে বাধ্য করানো হত। আগেই লিখেছিলাম যে, বিদ্যালয় শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে যোহরের নামায পড়তে হত। কিন্তু এটাই আমাদের শেষ আনুষ্ঠানিক ব্যাপার ছিল না। এরপরও আমাদেরকে বাধকতামূলকভাবে পড়তে হত সুন্নত নামায। এ নামায ছিল আমাদের সবচাইতে অপছন্দ। আমাদের শিক্ষকেরা আমাদেরকে জোরজবরদস্তি সহকারে ঐ নামাযে বাধ্য করতেন, শুধু আমাদের নবী ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য।

বিদ্যালয়ের ঐ সব ক্রিয়াকলাপের দরুন আমাদের মনে হত, আমরা যেন নবী মুহম্মদের যুগেই বাস করছি—সেই সুদুর অতীতে। এখন যখন আমি ঐসব দিনগুলির কথা স্মরণ করি, তখন আমার মনে হয় আমরা যেন এক সময় ভ্রমণে (time-travel) ছিলাম, কিন্তু এই ভ্রমন ছিল পশ্চাদ্দিকে। আমরা বাস করতাম বর্তমানে নয় - বরং সপ্তম শতাব্দীতে। এমনকি আমাদের শিক্ষকেরা বলতেন যে, আধুনিক সময় বলতে তালিবান সময়কেই বোঝায় - তালিবান সময় ছাড়া আর কোনো সময় ছিল না, থাকতে পারে না। এই তালিবান সময় আর কিছু না - এ হচ্ছে মুহম্মদের সময়। আমার মনে এটাই হচ্ছে ইসলামী সময় ভ্রমণ যন্ত্র (Islamic Time Machine). 

এ পর্যন্ত আমি আমাদের বিদ্যালয় জীবনের কথা লিখলাম। আফগান যুদ্ধ শেষ হবার পর কাফের রাশিয়ানরা ইসলামী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায়। আমাদের মুজাহিদ্দিনরা দেশে ফিরে আসে। তখন আমি মনে করেছিলাম যে, জিহাদের প্রতি প্রবল ব্যাকুলতা হয়তো শেষ হবে। এরপর ৯/১১ ঘটল এবং সৌদি আরব অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে গেল। আমি মনে করলাম, এবার ইসলামীরা সুপ্ত থাকবে। কিন্তু আমার ভাবনা ছিল একেবারেই ভ্রান্ত।

এটা অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার যে, এত কিছু ঘটে যাবার পরও ইসলামীদের ইসলামী জোশের কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আমার অনুজ আমারই বিদ্যালয়ে যায়। সে বলল যে, আমাদের অনেক বিদ্যালয়ের সাথীরা এখন ঐ বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করছে। তারা প্রবল বিক্রমে ইসলামী স্পৃহা যা তারা তাদের সময়ে পেয়েছিল, তা প্রচার করে যাচ্ছে। সত্যি কথা হলো, ঐ ধর্মীয় শিক্ষকেরাই আজকের ইসলামী সন্ত্রাসী। এরা এখন এতই প্রভাবশালী যে, সরকার পর্যন্ত তাদেরকে রীতিমত ভয় পায়। নিশ্চিতভাবে এটা ইসলামী সন্ত্রাসীদের জন্যে এক বিপুল বিজয় - তারা যা চাচ্ছিল তা-ই পেয়ে গেছে। এখন তারা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, তাদেরকে নড়ানোর ক্ষমতা কারো নেই। এই সব ওহাবি সন্ত্রাসিরা এখন এতই শক্তিশালী যে, তারা সোজাসুজি বলে, তারাই সৌদি আরবের শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করবে - আর কেউ নয়। ইদানীং তারা যা চাইছিল, তা পেয়ে গেল। নতুন শিক্ষা মন্ত্রী হচ্ছেন কাসেম অঞ্চলের লোক - আর কাসেম হচ্ছে ওহাবি ভূমি। দেখুন ঐ নতুন শিক্ষামন্ত্রীর ছবি (ছবিটা এখানে দেওয়া হলো না। - অনুবাদক)।

(চলবে)

দূরদর্শী আল্যা

২৮ এপ্রিল, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৭

লিখেছেন ইমানুল হক

৯.
কী যে দুশ্চিন্তায় আচি, বলে বোজাইতে ফাইরব না। গত কাইল তনে আমি তানায় আচি জামিনের অফেক্কায়। কী যে অইল আল্ল্যার দুনিয়াডায়, বুইজবার ফারতিছিনা। এহন আল্ল্যার বিচার কেউ মাইন্তে চায় না, নবি-রাচুলের কতা কেউ শুইন্তে চায় না।

যাই অক, মূল গডনায় আহি। কাইল বিয়ান রাইতে টিক ফজরের আগে আমার বারিতে চোর আইছিল, চোরডায় চুরি করার সুময় আমি চোরডাক দরি ফেইল্লাম। চোর দরার ফেচনেও আর একডা কাহিনি আচে। মাজ রাইতে আমি ছুডু বউরে গুম পারাইয়া তার গর থেইক্যা বাইর অইয়া নুতুন একডা লুঙ্গি ফরি গেলাম বড় বিবির গরে। ঢুকি তার সাত সোয়ার ব্যবস্তা কইল্লাম। বড় বিবির লগে সউয়ার কিচুক্কন ফর চোরডা গরের বেতর ঢুইকল, ঢুকে চোরডা সব কিচু গুচিয়ে গাট্টা বানাল, কিন্তু জাওনের সুময় চোরডা আমার নুতুন লুঙ্গীর দিকে নজর ফইরল। জেই না চোরডা আমার লুঙ্গি ধরে দিল টান অমনি আমার লুঙির কাচা গেল খুলি, আমার দীরগ ফরিস্রমের গুম ডা গেল নস্ট অইয়া। আমি গুমের গরেই চিল্লাই উঠি কইলাম, "কেডা রে সুদির পুত আমার লুঙ্গি দরে টান দেয়!"এই কতা শুনে চোরডা যেইনা গাট্টা লয়ে দৌর দিতে চাইল অমনি আমি খপ করি দইরলাম, দরেই মারলাম একডা কেচকি তারফর দিলাম কয়ডা লাতি আর উস্টা। গর থেইক্যা বাইরে আইন্যা বানলাম উডানের হিজল গাচে।

ফরে দেখি, চোরডা আমাগো সুক্কুরের ফোলা হারু। হারু ফোলাডা ত কারাফ আছিল না কিন্তু বাপ মরি জাওয়ার ফর অবাবে ফরি ফোলাডা কারাফ অই গ্যাছে। এহন চুরি-ছেচ্চরি কইচ্চে। যাই অক, এরফর সিন্তায় ফইরলাম, কী করা যায়। একডা উচিত সিক্কা না দিলে সিক্কা অইব না।

গেলাম মজ্জিদের দিকে ঈমাম সায়েবক কুইজতে, ফতে দেখা অই গেল তরিকুল হুজুরের লগে। তরিকুল কইল, "কই যাও, ইমানুইল্ল্যা?" আমি বইল্লাম, "হুজুর, যাচ্চি মজ্জিদে ঈমাম সায়েবক ডাইক্তে।" কিন্তু ফতি মইদ্দে ফইরল কুদরত হুজুরের বারি। বাইবলাম, তাক ডাকি লই যাই। তরিকুল গুজুর আর কুদ্রতালি হুজুর দুজনেক নি বারি ফিল্লাম। দেহি, হারু চোরা ব্যাতায় কোকাচ্চে। আমি কুদ্রতালি হুজুরকে বইল্লাম, "হুজুর, চোরের সাস্তি কী দেওয়া যায়।"

হুজুর বইল্ল, "চোরের সাস্তি অল হাত কাটি দেওয়া।"

(সূত্র: কুরান: যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়। সুরা মায়িদা, ৫ আয়াত ৩৮। হাদিস: যদি ফাতিমা (রাঃ)ও চুরি করাতো, তবে অবশ্যই আমি তাঁর হাত কেটে দিতাম। বুখারি, ভলিউম ৮, বই ৮১, হাদিস নম্বর ৭৭৯। হাদিস: আয়েশা থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেছেন, চোরের হাত কাটতে হবে সে যদি এক দিনারের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ চুরি করে। বুখারি, ভলিউম ৮, বই ৮১, হাদিস নম্বর ৭৮১। হাদিস: আল্লাহর রসুল চোরের হাত কেটেছেন একটি ঢাল চুরির অপরাধে যার মূল্য তিন দিনার ছিল। বুখারি, ভলিউম ৮, বই ৮১, হাদিস নম্বর ৭৮৭। হাদিস: আল্লার রসুল বলেছেন, আল্লাহর অভিশাপ তার উপর যে একটি ডিম চুরি করল অথবা একটি দড়ি, এজন্য তার হাত কাটার শাস্তি দিতে হবে। বুখারি, ভলিউম ৮, বই ৮১, হাদিস নম্বর ৭৯১।)

যেমন কতা তেমন কম্ম। গর তেকে কুরবানীর চাফাতি কানা নিলাম, ঠিক এইর মইদ্দে মেম্বরের ফুলা কইত্তেকে হাজির অইল বুইজলাম না। হালার ফুত আইয়া দিল ফুলিশরে ফুন। ফুলিশের কতা হুনি তরিকুল হুজুর দিল দৌর, কুদ্রতালি হুজুরও তার ফিছ ফিছ দৌরাইতে লাইগলো। মাঝকানে আমি ফইল্লাম ফুলিশের কাছ আইন হাতে নেওয়ার লাই দরা।

ও আল্ল্যা, ও মাবুদ, তোমার আইন, তুমার বিচার মাইনলেও কি দুশ? মানুষের বানানো বিচার কি তুমার বিচার থেইক্কাও বালা?? আমি এহন কী কইত্তাম, তানায় বসে আচি জামিনের লাইগ্যা, সবাই আমার লাই দুয়া কইরবেন।

ইছলামী রণসঙ্গীত

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪৩

লিখেছেন নীল নিমো

১.
শবে মেরাজের দিন রাস্তায় আমার ক্রাশের সাথে দেখা। বলিলাম:
- হানি, রাতে ফ্রি আছো? চলো, দুইজনে মিলে আজকে রাতে মিরাজে যাই।

হানি আমারে পাল্টা প্রশ্ন করিল:
- মিরাজ কী জিনিস?

বলিলাম:
- আরবি শব্দ মিরাজ-এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে - উপরে ওঠা। আমাদের নবীজি রাতের বেলা উম্মে হানিকে নিচে রেখে উপরে উঠতেন। এইটাকে মিরাজ বলা হয়। চলো, দুইজনে মিলে, যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পবিত্র মিরাজ পালন করে বহুত নেকি হাসিল করি।

হানি ক্ষেপে গিয়ে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাতেই আমি দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেলাম। আফসুস, নাস্তিকরা ভ্যালেন্টাইন ডে'র তাৎপর্য বুঝলো, কিন্তু মিরাজের তাৎপর্য বুঝলো না।

২.
আজকে একটি কুকুর খরিদ করিলাম। খরিদ করার পর কুকুরটির নাম কী রাখা যায়, তা নিয়ে পেরেশান হয়ে গেলাম।

এক মুমিন মুরিদ আমাকে পরামর্শ দিয়ে বলিল:
- হুজুর, কুকুরের নাম রাখা অতি সহজ। কুকুরের সেকেন্ড নেম বা ফ্যামিলি (second / surname / family name) নাম রাখা লাগে না। টম, ম্যাক্স এমন একটা সিংগেল নাম রেখে দিলেই হবে।

পাশে এক বেয়াদপ, জাহান্নামি পাতি নাস্তিক ছিল, সে বলিল:
- হুজুর, ঠিক একইরকম ভাবে আমাদের নবীজির কোনো সেকেন্ড নেম নাই। আরবদের কালচার অনুসারে বাবার নাম ইউজ করা হয় সেকেন্ড নেম হিসাবে। কিন্তু নবীজির পিতা আবদুল্লাহ ছিলেন জাহান্নামী মূর্তিপুজারী পেগান। তাই নবীজি লজ্জায় তার নামের শেষে তার পিতার ব্যবহার করিতেন না। নামের আগে পিছে হজরত, আল্লাহর নবী, রাসুল, মহানবী, সঃ, দীনের নবী... ইত্যাদি যতই গুণবাচক বিশেষণ যুক্ত করুন না কেন, সেকেন্ড নেমের হক আদায় হবে না। নামটা কুকুরের নামের মত হয়ে থাকবে। তাই আমাদের উচিত নামাজসহ দরুদ শরিফ সব জায়গাতেই নবীজির পুরো নাম 'মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ' উচ্চারণ করা। আচ্ছা, হুজুর, নামাজের মধ্যে নবীজির নামের পর জাহান্নামি আবদুল্লাহর নাম উচ্চারণ করা কি ঠিক হবে?

নাস্তিকের কথা শুনে আমি জ্ঞান হারালাম। এরপর কিছুই মনে নাই।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৮

বাজারে এসেছে নতুন পণ্য। বাকি শুধু বিপণন।

২৭ এপ্রিল, ২০১৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০৬

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


জিজিয়া ও যিম্মী

ইসলামী ভূখণ্ডে ইহুদী-খ্রিষ্টানকে অবশ্যই তাদের সকল আয়ের ৫০ ভাগ ইসলামী সরকারকে কর বা জিজিয়া হিসেবে দিতে হবে; মুহাম্মদ নিজে এ প্রথা প্রচলন করেছিলেন! জিজিয়া দেবার পরেও আপনার পরিচয় হবে যিম্মী (dhimmi - "protected person") হিসেবেই!
বুখারী-৪-৫৩-৩৮৮: জুরায়রিয়া ইবনে কুদামা তামীমী, উমর ইবনে খাত্তাব-কে বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের কিছু অসীয়্যাত করুন।' তিনি বললেন, 'আমি তোমাদের আল্লাহর অঙ্গীকার রক্ষার অসীয়্যাত করছি। কারণ এ হল তোমাদের নবীর অঙ্গীকার এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনের জীবিকা।'
বুখারী-৪-৫৩-৩৮০: উমর ইবনে খাত্তাব, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে হিজায ভূখণ্ড থেকে নির্বাসিত করেন। আর মুহাম্মদ যখন খায়বার জয় করেন, তখন তিনিও ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। আর সে জমীন বিজিত হওয়ার পর তা আল্লাহ, মুহাম্মদ ও মুসলিমগণের অধিকারে এসে গিয়েছিল। তখন ইয়াহুদীরা মুহাম্মদ-এর নিকট আবেদন করল, যেন তিনি তাদের এ শর্তে থাকার অনুমতি দেন যে, তারা কৃষি কাজ করবে এবং তাদের জন্য অর্ধেক ফসল থাকবে। তখন মুহাম্মদ বলেছিলেন, যতদিন আমরা চাই তোমাদের এ শর্তে থাকার অনুমতি দিচ্ছি। তারা এভাবে রয়ে গেল। অবশেষে উমর  ইবনে খাত্তাব তাঁর শাসনামলে তাদের তায়মা আরীহা নামক স্থানের দিকে নির্বাসিত করেন।
দাস-দাসী-ক্রীতদাস-বাঁদী

মুহাম্মদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিলো প্রায় ৬০ জন (৩৬ জন পুরুষ, ২৪ জন মহিলা) দাস-দাসীর শ্রম আর ঘামের গন্ধ! দাস-দাসী-মানুষ ক্রয়-বিক্রি ছিলো মুহাম্মদ এবং তার সাহাবীদের আয়ের খুব বড় একটি অংশ। হাদীসে তার স্পষ্ট হদিস পাওয়া যায়, এ অধ্যায়ে আমরা দাস-দাসীদের নিয়ে ইসলামের প্রথম পাঠ জেনে নিতে পারব অনায়াসে।
বুখারী-৭-৬২-১৩২: মুহাম্মদ বলেছেন: তোমরা কেউ নিজ স্ত্রীদেরকে গোলামের মতো প্রহার করো না। কেননা, দিনের শেষে তার সাথে তো মিলিত হবে।
মুসলিম-০১-০১৩১: মুহাম্মদ বলেছেন: যখন দাস পালিয়ে যায়, তখন তার নামাজ কবুল হয় না।
বুখারী-৩-৩৪-৩৬২: মুহাম্মদ বলেছেন: যদি বাঁদী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমানিত হয়, তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে, আর তিরস্কার করবেনা। তারপর যদি আবার ব্যভিচার করে তাকে বেত্রাঘাত করবে, তিরস্কার করবেনা। এরপর যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে তবে তাকে বিক্রি করে দিবে, যদি পশমের রশির (ন্যায় সামান্য বস্তুর) বিনিময়েও হয়।
বুখারী-৩-৪৬-৭২৩: মুহাম্মদ বলেছেন: যে লোক তাঁর বাঁদীকে উত্তমরুপে জ্ঞান ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এবং তাকে আযাদ করে ও বিয়ে করে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে। আর যে গোলাম আল্লাহর হক আদায় করে এবং মনিবেরও হক আদায় করে, সেও দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।
বুখারী-৩-৪৮-৮২৭: উকবা ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত যে: তিনি উম্মু ইয়াহইয়া বিনতে আবু ইহাবকে বিয়ে করলেন। তিন বলেন: তখন কালো বর্ণের এক দাসী এসে বলল, আমি তো তোমাদের দুজনকে দুধপান করিয়েছি। সে কথা আমি মুহাম্মদ-এর কাছে উত্থাপন করলে তিনি আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমি সরে গেলাম। পরে এসে বিষয়টি (আবার) তার কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি তখন বললেন, (এ বিয়ে হতে পারে) কী ভাবে? সে তো দাবী করছে যে, তোমাদের দুজনকেই সে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি তাকে (উকবাকে) তার (উম্মু ইহাবের) সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করতে বললেন।
বুখারী-৩-৩৬-৪৮৩: মুহাম্মদ দাসীদের দিয়ে অবৈধ উপার্জন (পতিতাবৃত্তি) নিষিদ্ধ করেছেন।
বুখারী-৩-৪৬-৭০২: ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: তিনি শরীকী গোলাম বা বাঁদী সম্পর্কে ফাতওয়া দিতেন যে, শরীকী গোলাম শরীকদের কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তিনি বলতেন, সম্পূর্ণ গোলামটাই আযাদ করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। যদি আযাদকারীর কাছে গোলামের মূল পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে সে অর্থ থেকে গোলামের নায্যমূল্য নির্ণয় করা হবে এবং শরীকদের তাদের প্রাপ্য হিস্যা পরিশোধ করা হবে, আর আযাদকৃত গোলাম পূর্ণ আযাদ হয়ে যাবে।
বুখারী-৩-৩৮-৫০০: ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: তার কতকগুলো ছাগল-ভেড়া ছিলো, যা সাল্ নামক স্থানে চড়ে বেড়াতো। একদিন আমাদের এক দাসী দেখল যে, আমাদের ছাগল-ভেড়ার মধ্যে একটি ছাগল মারা যাচ্ছে। তখন সে একটা পাথর ভেংগে তা দিয়ে ছাগলটাকে যবেহ করে দিলো। কাব তাদেরকে বলেন, তোমরা এটা খেয়ো না, যে পর্যন্ত না আমি মুহাম্মদ-কে জিজ্ঞাসা করে আসি অথবা কাউকে মুহাম্মদ-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে পাঠাই। মুহাম্মদ তা খাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, এ কথাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগল যে, দাসী হয়েও সে ছাগলটাকে যবেহ করলো।
বুখারী-৩-৪৭-৭৪৩: এক মুহাজির মহিলার কাছে মুহাম্মদ লোক পাঠালেন। তাঁর এক গোলাম ছিল কাঠ মিস্ত্রী। তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমাদের জন্য একটা কাঠের মিম্বার বানিয়ে দেয়। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন। যে গিয়ে এক প্রকার গাছ কেটে এনে মিম্বার তৈরী করল। কাজ শেষ হলে তিনি মুহাম্মদ-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে। তিনি বললেন, সেটা আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা সেটা নিয়ে এলো। মুহাম্মদ সেটা বহন করে সেখানে স্থাপন করলেন, যেখানে তোমরা (এখন) দেখতে পাচ্ছ।
বুখারী-৫-৫৮-২৬২: সর্বপ্রথম আমাদের মধ্যে (মদীনায়) আগমন করলেন মুসআব ইবনে উমায়ের ও ইবনে উম্মে মাকতুম। তারা লোকদের কুরআন পড়াতেন। তারপর আসলেন, বিলাল, সাদ ও আম্মার ইবনে ইয়াসির এরপর উমর ইবনে খাত্তাব। তারপর মুহাম্মদ আগমন করলেন। তিনি বিশজন সাহাবীসহ মদীনায় আসলেন। তাঁর আগমনে মদীনাবাসী যে পরিমাণ আনন্দিত হয়েছিল সে পরিমান আনন্দ হতে কখনো দেখিনি। এমনকি দাসীগণও বলছিল নবী মুহাম্মদ শুভাগমন করেছেন।
বুখারী-৮-৭৩-২২৯: মুহাম্মদ এক সফরে ছিলেন। তাঁর আনজাশা নামে এক গোলাম ছিল। সে হুদী গান গেয়ে উটগুলো হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেন: হে আনজাশা! তুমি ধীরে উট হাকাও, যেহেতু তুমি কাচপাত্র তুল্যদের (আরোহী) উট চালিয়ে যাচ্ছ। আবু কিলাবা বর্ণনা করেন, কাচপাত্র সদৃশ শব্দ দ্বারা মুহাম্মদ মহিলাদের বুঝিয়েছেন।
আফ্রিকার ইথিউপিয়াকে তৎকালীন সময়ে বলা হতো হাবাশা, আর হাবাশার জনগণকে বলা হতো হাবশী; ইথিউপিয়ার মানুষেরা ছিলেন কালো বর্ণের; মুহাম্মদ কতখনি বর্ণবাদী মানসিকতার ছিলেন, তার পরিচয় পাওয়া যাবে এবার।
বুখারী-১-১১-৬৬২: মুহাম্মদ বলেছেন: তোমরা শোনো ও আনুগত্য প্রকাশ কর, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশীকে আমীর নিযুক্ত করা হয় – যার মাথা কিসমিসের মতো।
বুখারী-২-২৬-৬৬১: মুহাম্মদ বলেছেন: হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।
বুখারী-৯-৮৭-১৬৩: মুহাম্মদ বলেছেন: আমি স্বপ্নে দেখেছি। এলোমেলো চুল বিশিষ্ট একজন কালো মহিলা মদীনা থেকে বের হয়ে মাহাইয়া তথা জুহফা নামক স্থানে গিয়ে থেমেছে। আমি এর ব্যাখ্যা এরূপ দিলাম যে, মদীনার মহামারী তথায় স্থানান্তরিত হলো।
বুখারী-৪-৫২-৩০৯: রাফি ইবনে খাদীজ বলেছেন: আমরা আশা কিংবা আশংকা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখী হব। আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? মুহাম্মদ বললেন: যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং (যার যবেহকালে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে তা আহার কর। কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছি: তা এই যে, দাঁত হলো হাঁড় আর নখ হল হাবশীদের ছুড়ি।
(চলবে)

এটা কিন্তু সারকাজম

কৃষ্ণকলি feat. তেঁতুল শফি

রবি ঠাকুর লিখেছিলেন:

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,
কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে
কালো মেঘের কালো হরিণ-চোখ।

ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে,
মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।


তাঁর অনুকরণে জুপিটার জয়প্রকাশ লিখলেন:

তেঁতুল শফি আমি তারেই বলি,
হুজুর যাকে বলে দেশের লোক।
দেখেছিলেম শাপলাতলার মাঠে
বুড়ো বীরের জিহাদ করার শখ।

হাতে-পায়ে জোর ছিল না মোটে,
ক্ষমতা নেই নিজের পায়ে হাঁটে।
বুড়ো? তা সে যতই বুড়ো হোক,
দেখেছি তার কল্লা কাটার শখ।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৮৩


ইছলামের ক্রসড্রেসার নবীর নারী-পোশাক পরার বাতিক সম্পর্কে আরও তথ্য এখানে

২৬ এপ্রিল, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ৬: সংকটে হিরাক্লিয়াস - ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত একচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর যে চিঠিটি রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দিহায়া বিন খালিফা আল-কালবি নামের তাঁর এক অনুসারীকে বসরার শাসনকর্তা ঘাসানিদ গোত্র প্রধান শামির (Shamir) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন, সেই চিঠিটি বসরার শাসনকর্তার এক পত্রবাহক মারফত সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পৌঁছার সময়টিতে সম্রাট হিরাক্লিয়াস কী উদ্দেশ্যে তখন বাণিজ্য-কর্মে সিরিয়ায় অবস্থিত কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ও তাঁর সঙ্গীদের তার দরবারে ধরে নিয়ে এসেছিলেন; সেই দরবারে উপস্থিত সকল প্রবীণ সভাসদদের উপস্থিতিতে হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ান-কে কী কী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেখানে কী অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন; অতঃপর তিনি যখন মুহাম্মদের চিঠিটি তার দরবারে উপস্থিত প্রবীণ বিশিষ্টজনদের পাঠ করে শুনিয়েছিলেন, তখন সেখানে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো; সেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে আবু সুফিয়ান ফিরে আসার প্রাক্কালে কী উক্তিটি করেছিলেন; হিরাক্লিয়াসের দরবারে প্রদত্ত আবু-সুফিয়ানের বেশ কিছু জবাব সত্য হলে তা কীভাবে নিশ্চিতরূপেই মুহাম্মদকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করে - ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 


'দিহায়া আল-কালবি মারফত হিরাক্লিয়াসের কাছে আল্লাহর নবীর চিঠিটি ছিল এই:

দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহর নামে।
আল্লাহর নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি:  

যে সঠিক পথের অনুসরণ করে, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। জানানো যাইতেছে: “বশ্যতা স্বীকার করো, তাহলে তুমি হবে নিরাপদ [3]'। যদি তুমি বশ্যতা স্বীকার করো, তবে আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবে। কিন্তু যদি তুমি তা প্রত্যাখ্যান করো, চাষীদের পাপ ('অর্থাৎ, তোমার প্রজাদের') তোমার উপর বর্তাইবে।"’ [4] [5] ------

ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক < ইবনে শিহাব আল-যুহরি হইতে বর্ণিত, যিনি বলেছেন:

আবদুল মালিক বিন মারওয়ান [উমাইয়া খলিফা মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম পুত্র (পর্ব- পর্ব-১৫৮)] এর শাসন আমলে [৬৮৫-৭০৫ সাল] এক খ্রিষ্টান যাজকের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছিল, তিনি আমাকে বলেছেন যে, তিনি আল্লাহর নবী ও হিরাক্লিয়াসের মধ্যে যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল, সে ব্যাপারে অবগত আছেন।

সেই যাজকের বর্ণনা মতে:
যখন হিরাক্লিয়াস আল্লাহর নবীর চিঠিটি দিহায়া বিন খালিফা মারফত প্রাপ্ত হন, তিনি তা গ্রহণ করেন ও তা তার দুই উরু ও পাঁজরের মাঝখানে রাখেন [পর্ব-১৬১]। অতঃপর তিনি লোকটির কার্যকলাপ, তার বর্ণনা ও তার কাছ থেকে তিনি যে পত্রটি পেয়েছেন, সে বিষয়গুলো জানিয়ে রোমের (Rome) এক লোকের কাছে চিঠি লেখেন, লোকটি হিব্রু ভাষায় তারা যে জ্ঞানার্জন করতেন, সে বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। প্রতি উত্তরে রোম সম্রাট তাকে লিখে জানান: "সে হলো সত্যিই সেই নবী, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। এই ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই। তুমি তাকে অনুসরণ করো ও তাকে বিশ্বাস করো।"

অতঃপর হিরাক্লিয়াস তার পক্ষ থেকে এই আদেশ জারি করেন যে, রোমান কমান্ডারদের যেন তার প্রাসাদোপম ভবনে সমবেত করা হয়, অতঃপর তার দরজাগুলো যেন বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি তার ওপরের চেম্বার থেকে নিচে তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন  তিনি তাদের ভয়ে ছিলেন ভীষণ ভীত-সন্ত্রস্ত - ও বলেন:

"হে রোমান জনগণ, কিছু ভাল কাজের জন্য আমি তোমাদের একত্রিত করেছি। আমি এই লোকটির চিঠি পেয়েছি, সে আমাকে তার ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আল্লাহর কসম, সত্যিই সে হলো সেই নবী, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি ও যাকে আমরা খুঁজে পাই আমাদের গ্রন্থে। এসো, আমরা তাকে অনুসরণ করি ও তাকে বিশ্বাস করি, যাতে আমরা পৃথিবীর ইহকাল ও পরকালের জীবনের নিরাপত্তা পেতে পারি।"

কোনোরূপ ব্যতিক্রম ছাড়া, তাদের প্রত্যেকে রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে ভবনটি থেকে প্রস্থান করার জন্য দ্রুতবেগে দরজাগুলোর দিকে ধাবিত হয়, কিন্তু তারা দেখতে পায় যে, তারা তালাবন্ধ অবস্থায় আছে।

হিরাক্লিয়াস বলেন, "তাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে এসো" - তিনি তাদের ভয়ে ছিলেন ভীষণ ভীত-সন্ত্রস্ত - অতঃপর বলেন, "হে রোমান জনগণ, আমি তোমাদের কাছে যে ভাষণটি দিয়েছি, তার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, আমি দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যাপারটির পর তোমরা তোমাদের ধর্মে কী পরিমাণ একনিষ্ঠ। এখন যা দেখলাম, তাতে আমি তোমাদের ব্যাপারে সন্তুষ্ট।"

তারা তার সম্মানে তার কাছে নত হয়; তিনি ভবনের দরজাগুলো খুলে দেওয়ার আদেশ দেন ও তারা প্রস্থান করে।'

‘ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক < এক জ্ঞানী ব্যক্তি হইতে বর্ণিত: যখন দিহায়া বিন খালিফা আল্লাহর নবীর চিঠিটি হিরাক্লিয়াসের কাছে পোঁছান, তিনি দিহায়া-কে বলেন:

মুহাম্মদী মূত্র মোবারক-মত্ত মমিনেরা: প্রকৃত মূত্রমনারা - ০৭

অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও যুক্তিরহিত কথা বলায় মমিনদের জুড়ি নেই। এই যেমন 'মুক্তমনা' শব্দটিকে তারা ব্যঙ্গ করে 'মূত্রমনা' বলে থাকে, যদিও বিন্দুমাত্র কারণ নেই এর পেছনে। মুক্তমনাদের মূত্রপ্রীতির কথা কখনও শোনা যায় না। তাই বলে মূত্রমনা বলে কেউ নেই, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সিরিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করা হচ্ছে, প্রকৃত মূত্রমনা কারা। ইছলামের নবী উটের প্রস্রাব মমিনদের জন্য হালাল করে দিয়ে তা পান করার নির্দেশনাও দিয়েছে। ইছলামী স্কলাররাও স্বীকার করে এ কথা। তাইলে কী খাড়াইল? কারা আসলে মূত্রমনা?

আরও দেখুন:

ইছলামী ইতরামি

➤ একটুর জন্যে নিশ্চিত জান্নাতবাস মিস করলো এক ফাকিস্তানী মোমিনা, মেডিক্যালের ছাত্রী। যার কিনা মানুষের জান বাঁচানোই লক্ষ্য হবারে কথা, সে খ্রিষ্টানদের ইস্টার উৎসবে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।

➤ ইছলাম নারীকে আর কতো সম্মান দেবে! ১৯ বছরের মেয়েকে তার পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে সে কুমারী ছিলো না বলে, ১৮ বছরের মেয়ে ও তার মাকে হত্যা করা হয়েছে মেয়েটি অ্যাবোরশন করিয়েছে সন্দেহে, ১৭ বছরের মেয়েকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে সে জোর-করে-দেয়া বিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল বলে। মাত্র তিন সপ্তাহে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে আফগানিস্তানের একটি প্রদেশে।

➤ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। ১৩ বছর আগে যখন সে ইছলাম অবমাননা করেছিল, তখন এই তিন বোন ছিলো খুব ছোট। তবে তারা ভোলেনি, বড়ো হয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে তাকে খুন করে। এবং এ নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই

➤ ব্রিটেনে শিশুদের ওপর যৌননির্যাতনের যতো ঘটনা ঘটে, তার ৯০ শতাংশেরও বেশির সঙ্গে মুছলিমরা জড়িত। অর্থাৎ সেদেশে শিশুকামীদের সবচেয়ে সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ দলটি শিশুকামীর উম্মতদেরই। তারা বিচারের সময় আদালতে "আল্লাহু আকবর" বলে চিৎকারও করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শিশুকাম অনুমোদন করেন!

➤ ইছলামী রীতি: রোজা রাখবে মুছলিমরা, তবে অমুছলিমদের বাইরে খাওয়া নিষিদ্ধ; একইভাবে মুছলিমপ্রধান মালয়েশিয়ায় মাগরিবের সময় দোকান বন্ধ রাখার সরকারী নির্দেশ অমুছলিমদের জন্যও প্রযোজ্য


➤ শিশুকামী নবীর অনেক উম্মত দাবি করে, মেয়ের বয়স ৯ হলেই সে দৈহিক মিলনের উপযুক্ত হয়ে যায় বলে । তাই বলে ১১ বছরের শিশুকন্যার সঙ্গে ছহবত করেছে (নাহয় একটু জোর খাটিয়েছে) বলেই তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? এদিকে আরেক মাদ্রাসা-শিক্ষক ৮ বছরের এক ছাত্রীকে যৌনহয়রানি করেছে। 

➤ স্রেফ ইহুদি হবার কারণে এক স্কুলবালককে পিটিয়েছে এবং অস্ত্রের রেপ্লিকা দেখিয়ে হুমকি দিয়েছে মুছলিম স্কুলবালকেরা। সে স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।

➤ অস্ট্রেলীয় মোল্লা বলেছে, মুছলিম মেয়েদের অ-মুছলিম বয়ফ্রেন্ড ও তারা ভুরু প্লাক করলে তাদার জাহাননামবাস নিশ্চিত।

➤ হাতে চাপাতি, মুখে "আল্লাহু আকবর" - এই না হলে সাচ্চা মুছলিম! এমন এক মুছলিম ডাচ পুলিশের গুলি খেয়ে কতোবার যে চিৎকার করে আল্যাকে ডাকলো! স-ভিডিও সংবাদ।

হিজাবী হুরি যতো - ১৩

২৫ এপ্রিল, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৮

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪৬.
কুরান সরিফ এর ফেমে ফরি গেসি। কিতাব কানা যতই ফরি, ততই মুগ্ধ হই।

বিগগান কেলা করে কুরানের ফাতায় ফাতায়। 

সংসকিতি তার বাজে বাজে।

ইতিহাস তার সিপায় সিপায়।

রাজনিতি, আইননিতি তার রন্দে রন্দে। 

যুদ্দনিতি তার ফরিচ্চেদে ফরিচ্চেদে।

বিগবেংক, মহাকর্স, অবিকর্স, সক্তির নিত্ততা সুতর, রকেট উড়ানুর সুতর, বলের সুতর, কাজের সুতর, আকাসের সুতর, বাতাসের সুতর সবই তার ইসারায় ইসারায়। 

জিবন বিদান তার অক্করে অক্করে।

গনিমত, তরিকত, সহিকত, বিবাহকত সবই তার ফাতার মদ্দে মদ্দে।

জিব বিগগান, চিকিতসা বিগগান কুরানে আচে সমান সমান। 

করতে সাও দাসি ভুগ, কুরান তবে করো সম্বুগ।

বেস্তের বর্ননা যারা সোন নাই, কোরান তারা কুনুদিন কুলো নাই! !

ফুত্রবদু ভুগ, কচি ভুগ এত কুরান মহামানবকে করাইচে সম্ভুগ। 

আরো আচে মুতানিতি। এর ফরো তুমরা আর কি সাও বলো দিকি? 

জানতে সাও মহাকাস, কুরানের ফাতায় চুক বুলাও টাস টাস।

গরুর গারি ঘুরার গারি, এত কুরান ইসারায় দিয়াসে করি তইরি।

দেকো নাই যারা সমুদরো, কুরানের ফাতায় তারা ডুব দেও তরাতর ।

যদি যাইতে সাও আকাসে, কুরানরে বাসাও মনের হরসে।

কাইতে সাও সারাবান তহুরা? কুরানের মদ্দেই দেকো আচে সুরা।

জাইনতে সাও ভুগুল? কুরান উল্টাই দেকো ফাবে না তার গিয়ানের কুল।

হতে চাও বিগগানি? কুরানে কুজো, ফাবে তাতে খনি।

নামাজরঙ্গ - ৪৯

বোরাক - একমাত্র ছহীহ্ ডানাওয়ালা ঘোড়া

২৪ এপ্রিল, ২০১৭

মুহাম্মদ-হানির মধুর রাতে (তিনটি প্যারোডি কবিতা)

হানিলতা সেন

জীবনানন্দ দাশ-এর বনলতা সেন কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

হাজার বছর ধরে আমি ডাকাতি করিতেছি হেজাজের পথে,
উত্তপ্ত মদিনা থেকে নিশীথের অন্ধকারে উহুদ বদরে
অনেক লুটেছি আমি; কোরায়জা মোস্তালিকের ধূসর জগতে
মক্কায় ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি অতৃপ্ত প্রাণ এক, ঘরেতে ৬৫ পার খাদিজা ছিলেন,
আমারে ঈমানদণ্ড-শান্তি দিয়েছিল মেরাজের হানিলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার বেহেস্তের কারুকার্য; অতিদূর মরুভূমির ’পর
উট হারিয়ে যে-বেদুইন হারায়েছে দিশা
ধূসর বালির দেশ যখন সে চোখে দেখে বালিচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি চেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
খেজুর বিচির মতো চোখ তুলে মেরাজের হানিলতা সেন। 

সমস্ত মেরাজ শেষে জিকিরের শব্দের মতন
সকাল আসে; জিহ্বায় হানির গন্ধ চোখদুটো নীল;
হিজরের সব সাহাবা জেগে গেলে খোঁজাখুঁজির করে আয়োজন
তখন ফাঁদি কল্পগল্প - আসমান ভ্রমণের রঙে ঝিলমিল;
বুড়ি বউয়ের ঘরে ফিরি - আমি নবী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার হানিলতা সেন।


আমি হব মেরাজ রাতের পাখি

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমি হব' কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

আমি হব মেরাজ রাতের পাখি,
গভীর রাতে হানির দ্বারে উঠব আমি ডাকি।
সুয্যি মামা জাগার আগেই উঠবে হানি জেগে,
"হয়নি মেরাজ, একটু আরো" - বলব আমি রেগে।
বলবে হানি, "লুচ্চা নবী, মেরাজে তুমি থাক।
হয়নি মেরাজ, তাই বলে কি সকাল হবে না ক।
আমরা যদি না জাগি তো কেমনে সকাল হবে?"
"হানির মধু খেলে পরেই মেরাজ হবে তবে।"


রাত পোহাবার বাকি কতখানি, হানি?

ইসলামি রে-নিসা থুক্কু রেনেসাঁ যুগের কবি ফররুখ আহমেদের কবিতা "পাঞ্জেরী" প্যারেডি করেছেন নাস্তিকথন

নিজেরে যখনই আবাল মনে হবে - ১৪



নবী-হানির মধুময় রাতে আরও কিছু পাঠ্য:

১. উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা - আস্ত এক ইবুক। নবীর এই প্রেমকাহিনী নিয়ে যাদের কৌতূহল আছে, তাদের জন্য ইছলামের ইতিহাসের বিস্তর দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে আবুল কাশেম লিখেছেন অসাধারণ এক রচনা। 

২. লাইলাতুল মেরাজ – বিজ্ঞান, নাকি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গাঁজাখুরি গল্প?: মেরাজ নামের গুলবাজির চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন হযরত ঠাকুর

৩. সচিত্র শবে মেরাজনবীর আল্লার সাথে সাক্ষাৎ এবং জাহান্নাম পরিদর্শন নিয়ে মুসলমান চিত্রশিল্পীদের আঁকা কিছু ছবিসহ একটি দারুণ বিশ্লেষণী রচনা লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা। লেখাটিতে এভাবে অনুসিদ্ধান্ত টানা হয়েছে: "মেরাজের কাহিনী যে সম্পূর্ণ ভূয়া, সেটা বুঝতে আর অসুবিধা থাকার কথা নয়, যদি না আপনি আজীবন বকরি হয়ে থাকেন।"

কী হয়েছিল সেই রাতে অথবা শবে মেরাজের ইতিহাস

লিখেছেন শান্তনু আদিব

গত রাত ছিলো পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ নামেই আমরা জানি। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই রাতে ইসলামের নবী যুদ্ধ ছেড়ে হয়ে উঠেছিলেন প্রেমের নবী, যদিও তা শুধু এক রাতের জন্যই। বর্বর আরবেরা সেই প্রেমের মর্ম বোঝেনি, বোঝেনি, প্রেম সে তো প্রেমই, হোক সে আপনকীয়া অথবা পরকীয়া। বোঝে না নাস্তেকরাও, তাই তারা প্রেমের নবীর প্রেমময় রাতের নামে মন্দ কথা বলে।
#
নবী তখন সদ্য বিপত্নীক। নবীর ফুপু এবং বউ বুড়ি খাদিজা মরেছে, নবীরও হাড় জুড়িয়েছে। বিগত দুই যুগের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত নবীর আকাশে-বাতাসে তখন শুধুই স্বাধীনতার গন্ধ। বিগতযৌবনা পয়সাওয়ালা দজ্জাল বউ-এর সাথে যে না থেকেছে, সে ভিন্ন অন্য কেউ এই ব্যথা বুঝবে না।

যাই হোক, মূল গল্পে ফিরে আসি, সে রাতে নবী তার চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে পবিত্র কাবার পাশে সাইকাডেলিক শ্রুম সহযোগে জিকির আসগারে ব্যস্ত ছিলেন। কে না জানে, জিকির আসগার মানেই তা বোরিং একটি কাজ এবং উন্নত মানের ঘুমপাড়ানিয়া। রাতের এক পর্যায়ে জিকির করতে করতে ঘুমিয়ে গেল সবাই, শুধু ঘুম আসে না নবীর। নবী তখন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, তার চোখ হাসে, তার মুখ হাসে, তার টগবগিয়ে খুন (রক্ত) হাসে ঈমানদণ্ডে। মরুভূমির রাতের ঠাণ্ডা বাতাসেও সেই টগবগানি থামে না।

স্বচ্ছ আকাশের মিটিমিটি তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তারাগুলো কার কথা যেন মনে করিয়ে দিল, যদিও সে নাইবা এলো, তাই বলে কি নবীর তার কাছে যেতে মানা? শুধু শ্বশুর বাড়ি মধুর হাঁড়ি নয়, গোপন প্রেমিকার বাড়িও মধুর হাঁড়ি হতে পারে, যদি প্রেমিকার স্বামী বাড়ি না থাকে আর তার ওপরে যদি হয় সেই প্রেমিকার নাম হয় হানি। যেই ভাবা সেই কাজ, ঘুমোচ্ছে চ্যালাচামুণ্ডারা। এখনই সময় তার কাছে যাবার।
#
নবী তো গেলো হানির মধু খেতে, এদিকে চ্যালাচামুণ্ডারা তো নেশায় বুঁদ। এর মাঝে ঠাণ্ডা, বোধহয়, একটু বেশি পড়েছিল অথবা হিসু চাপায় কোনো এক চ্যালার ঘুম গেল ভেঙ্গে। হিসু করে এসে খেয়াল হল, নবী সেখানে নেই। ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল, নবীকে কি কুরাইশেরা ধরে নিয়ে গেল? না কোনো শয়তান জ্বিন তাকে উধাও করল? নাকি কোনো ইহুদি ডাইনি বুড়ির তুকতাকে নবী ছোট হতে হতে পিঁপড়ার সমান হয়ে গেল। সেই চ্যালা ডেকে তুলল অন্য চামুণ্ডাদের। সবার মনেই ভয়, সবার মনেই সংশয়। তাই তারা ঠিক করল, দল বেঁধে নবীকে খুঁজতে বের হবে।

খুঁজতে খুঁজতে তাদের চোখে পড়ল, সারা মক্কায় এত রাতেও শুধু হানির বাড়িতেই টিমটিম করে হ্যারিকেন জ্বলছে। তা দেখে একটু কাফের টাইপের এক চ্যালা, যার আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি কম ছিল, বলে উঠল, "নিশ্চয়ই নবী গেছে হানির মধু খেতে।" অন্যরা সবাই শুনে তাকে এই মারে কি সেই মারে! নবীর মত মানুষ কি পারবে খাদিজার মত কাউকে ভুলে হানির মধু খেতে! কিন্তু সন্দেহ এমনই এক জিনিস, যা কাউকেই ছাড়ে না। শয়তানের প্ররোচনায় তারা তখন হানির ঘরে নক দিল।
#
ঘরের মাঝে মেরাজরত অবস্থায় কেঁপে উঠল নবী এবং উম্মে হানির বুক। কী হবে, কী হবে এখন, জাতকুলমান সবই আজ যাবে। কিন্তু নবী তো শুধু হানির মধু খেয়ে বড় হয়নি, উট দুম্বা থেকে শুরু করে বুড়ি খাদিজার শুকনা মধু পর্যন্ত খেয়েছে। ফিচলা বুদ্ধি তারও কম না। প্রেমের নবী জানে যে, তার চ্যালারা তেমন প্রগ্রেসিভ না। আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি আছে তাদের, এবং গায়ে-গতরে বড় হলেও এরা আসলে ভোদাই কিসিমের। তাই তাড়াতাড়ি কাপড় ঠিক করে নবী দরজা খুলে সবাইকে সাদর সম্ভাষণ জানায়।
#
আরবি মেরাজ শব্দটি আরাজা থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। আপনারা সবাই জানেন, মিশনারি পজিশন কী জিনিস এবং উহাই একমাত্র সহীহ সঙ্গমের তরিকা। যেখানে নারীরা থাকবে নিচে এবং পুরুষেরা তাদের উপরে আরোহণ করবে। ইংরেজিতে যাকে বলে রাইডিং। নবীও উম্মে হানির ঘরে হানির ওপর আরোহণ করেছিল, আহরণ করেছিল মধু। বিগট, মাথামোটা, খ্যাত, নট আধুনিক ভোদাই কিসিমের সাহাবীদেরকে কিন্তু নবী মিথ্যা বলেনি পুরোপুরি, তবে এই একটু ঘুরিয়ে বলেছিল এই যা। বলেছে, ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়েছে, হয়েছে স্বর্গভ্রমণ। দুই যুগের উপোসী নবীর কাছে নিশ্চয়ই সে রাত ছিল স্বর্গভ্রমণের সমতুল্য আর উম্মে হানি নিশ্চয়ই ছিল সে রাতের ঈশ্বর।

আজ নবীত্র চাপা মারাজ

২৩ এপ্রিল, ২০১৭

রঙ্গিলা রসুল: একটি ধর্মকারী কুফরী কিতাব

সম্পূর্ণ ছহীহ ও ইছলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও দলিল থেকে নবীর জীবন, তার কর্মকাণ্ড বা ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কিত উদ্ধৃতি দিলেও ঈমান্দার মুছলিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে - এই প্রবণতাটি কিন্তু সাম্প্রতিক নয়। বস্তুত এটাই ইছলামী ঐতিহ্য। শুধু তা-ই নয়, শুধু শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে (সত্যতা যাচাইয়ের স্বভাব বিশ্বাসীদের নেই) উন্মত্ত সহিংসতায় ঝাাঁপিয়ে পড়াটাও তাদের ঈমানী বৈশিষ্ট্য।

অখণ্ড ভারতবর্ষে ১৯২০-এর দশকের প্রারম্ভে পাঞ্জাবের মুসলিমরা একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। সেটিতে হিন্দুদের দেবী সীতাকে পতিতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এবং কথিত আছে, এর প্রতিশোধ নিতেই হিন্দু পণ্ডিত চমূপতি "রঙ্গিলা রসুল" নামে একটি সত্য তথ্য সম্বলিত ব্যঙ্গাত্মক পুস্তিকা লেখেন, যা ১৯২৩ সালে প্রকাশ করেন লাহোরের প্রকাশক রাজপাল। বইটির শেষে উল্লেখ করাও আছে: "এই পুস্তকে যে সমস্ত রেফারেন্স ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা কেবল সুন্নী দলিল হইতে গৃহীত।"

এর পরে ইলমুদ্দিন নামের মর্দে মুছলিম রাজপালকে হত্যা করে।

"রঙ্গিলা রসুল" নামের পুস্তিকাটিকে অখণ্ড ভারতবর্ষের প্রথম নিষিদ্ধ বই হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই বইটিকে মূল হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুরসিক ও সুলেখক জুপিটার জয়প্রকাশ। মূল বইয়ের চরিত্র ও স্বাদ অটুট রাখতে অনুবাদক ব্যবহার করেছেন সাধু বাংলা ভাষা, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত উপযুক্ত ও উপাদেয় হয়েছে।

আর ইবুকটি নির্মাণের সার্বিক কৃতিত্ব সকল কাজের কাজী নরসুন্দর মানুষ-এর।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.১৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/cxYigX
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/lmyUSp

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়এই ঠিকানায়)

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

তেলাপোকা পেলো পাখির মর্যাদা

লিখেছেন আক্কাস আলী

- স্যার, আসবো?
- Yes... Come in...
- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
[মাথা নেড়ে সালামের জবাব দিলেন, অতঃপর বসতে ইশারা করলেন]
- Introduce yourself...
- I am Akkas Ali Mohammad Bin Abdul Kuddus. I live in Chittagong. I am a sunni muslim. I read in Al-Jamiatul Ahlia Darul Ulum Muinul Islam. It also has another name, it is Hathazari Madrassa. My favorite teacher's name is Allama Shah Ahmad Shafi...
- Okay, Okay, বুঝলাম। তো আক্কাস সাহেব, আপনি এখানে পাঞ্জাবি-টুপি পরে কেন এসেছেন? ড্রেস কোড ফলো করেননি। এর কারণটা কী?
- স্যার, এইসব হচ্ছে সুন্নতী পোশাক। হুজুরে পাক (সাঃ) এইরকম পোশাকই পরিধান করতেন।
- বুঝলাম। কিন্তু নবীজি এ ধরনের পোশাক পরতেন তার দেশের আবহাওয়াগত কারণে। বড় কোর্তা আর মাথার উপর টুপি বা পাগড়ি রাখতে হতো মরু অঞ্চলে সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্যে। শুধু নবীজি নন, কাফেররাও তখন একই ধরনের পোশাক পরতেন। বোঝা গেলো? আপনি এখানে এসব পরে থাকবেন কোন দুঃখে? আরেকটা কথা, নবীজি তো উটে চড়ে যাতায়াত করতেন, আপনি উটে চড়ে আসলেন না কেন? সুন্নত কি কেবল নিজের সুবিধা অনুযায়ী?
- জানি না, স্যার।
- আচ্ছা, বাদ দিন। আপনি তো চট্টগ্রামের ছেলে। চট্টগ্রামের কয়েকটা দর্শনীয় স্থানের নাম বলুন।
- চট্টগ্রামে অনেক অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। যেমন ধরেন, হযরত খাজা গরীবুল্লাহ শাহ (রঃ) এর মাজার, বায়েজিদ বোস্তামির মাজার, শাহ আমানত (রঃ) এর মাজার, আমাদের বড় মাদ্রাসা, আর... আর...

[উত্তর শুনে ভাইবা বোর্ডের সবাই একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর একদম ডানপাশে বসা মাথায় বিশাল টাকওয়ালা স্যার আমাকে প্রশ্ন করলেন।]

- আক্কাস সাহেব, চলুন, প্রথমেই ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনি কী কী জানেন, সংক্ষেপে বলুন। কেন এবং কী কারণে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? যুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কী ছিলো?
- ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিলো। সেই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যায়। আসলে ভারতের হিন্দুরা ষড়যন্ত্র করে এই যুদ্ধ লাগিয়েছিলো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করতে। আর আপনি একটা বিরাট ভুল কথা বলেছেন স্যার, জাতির জনক শেখ মুজিব না। আমাদের পরিচয় একটাই - আমরা মুসলমান। আর আমাদের জাতির পিতা হইলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।

[সবাই চুপ মেরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন শুরু করলেন পাশের ম্যাডাম]

- সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা যাক। আচ্ছা, বলুন তো, দিন ও রাত সংঘটিত হওয়ার কারণ কী? দিন-রাতের দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধিই বা কেন হয়?
- দিনের বেলা সূর্য থাকে, তাই দিন। আর রাতের বেলা সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় পড়ে যায়। তখন সূর্য থাকে না বলে রাত হয়। আল্লাহ অনুমতি দিলে পরের দিন সুর্য উঠে দিন শুরু হয়। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫৪, হাদিস ৪২১)
- তার মানে, সুর্য যখন আরশের নিচে সেজদায় যায়, তখন পৃথিবীর কেউই সুর্যকে দেখতে পায় না? সব দেশেই রাত হয় একসাথে?

[রুমের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলো। আমি বিব্রত বোধ করলাম। অতঃপর আবার প্রশ্ন!]

- মানুষের জ্বর কেন হয়? জ্বর হলে কী করা উচিত? তাপমাত্রা কত উঠলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
- জ্বর হইলো আল্লাহর গজব, আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেন জ্বরের মাধ্যমে। জাহান্নামের আগুনের তাপ যখন আমাদের গায়ে এসে লাগে, তখনই আমাদের জ্বর হয়। (বুখারি, খণ্ড ৭, বই ৭১, হাদিস ৬১৯) জ্বর হইলে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হইবে আর নিজ গুনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ঔষধ হিসেবে কালিজিরা খাওয়াইলে জ্বর ভালো হবে ইনশাল্লাহ। শুধু জ্বর না, কালিজিরাতে সব রোগের নিরাময় রয়েছে। (বুখারি, খণ্ড ৭. বই ৭১, হাদিস ৫৯২)

- তেলাপোকা চেনেন? এরা কোন পর্বের প্রাণী? এদের চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
- অত কিছু জানি না। তবে তেলাপোকা হইলো বিশেষ এক ধরনের পাখি।
- তা ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশে অনেক অনেক তেলাপোকা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেলাপোকাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদেরকে পাখিদের দলভুক্ত করাই উত্তম কাজ। আচ্ছা, আক্কাস সাহেব, আমার মনে হয় আপনি ক্লাস সেভেন-এইটের বিজ্ঞানটাও ভালোমতো জানেন না। অনেক ফাঁকিঝুকি দিয়েছেন নিশ্চয়ই ছাত্রজীবনে?
- না, স্যার। আসলে সেই প্রাইমারী লেভেল থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত কোনো ক্লাসেই আমরা বিজ্ঞান পড়ি নাই। আমরা পড়ছি ইসলামের ইতিহাস, কোরান, আরবি ও ফার্সি ব্যাকরণ, বুখারি-মুসলিম-তিরমিজি, ফিকহ এইসব। তবে ইংলিশে আমি অনেক ভালো। ফার্মগেট থেকে "৭ দিনে ইংরেজি শিখুন" নামে একটা বই কিনছিলাম, ঐটা পড়েই ইংলিশের জাহাজ হইছি।
- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগলো কথা বলে। এখন আপনি আসতে পারেন।
- চাকরিটা হবে তো, স্যার?
- হবে হবে... মাস্টার্সের ছাট্টিফিকেট যেহেতু পেয়েছেন, চাকরিও পাবেন।

নাস্তিক টেররিস্ট

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৬

৩২৩.
মুছলিম:
- আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীর ১৬০ কোটি মুছলিমের মধ্যে শতকরা ৯৩ জনই মডারেট বা শান্তিপ্রিয়? মাত্র ৭ শতাংশ মুছলিম জঙ্গি। এটা এক জরিপের ফলাফল।
নাস্তিক:
- তা বটে! মাত্র ১১ কোটি ২ লক্ষ মুছলিম জঙ্গি। জেনে আশ্বস্ত হলাম।

৩২৪.
- আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারটা লম্বা, ব্র্যাড পিট-এরটা ছোট্ট, ম্যাডোনা'র সেটা নেই এবং পোপ-এর সেটা থাকলেও ব্যবহার করে না। কী সেটা?
- পদবী।

৩২৫.
ধরা যাক, বেহেশতে গিয়ে আপনি ৭২ হুরির একজনের প্রেমে পড়ে গেলেন।
আপনাকে কি তবু বাধ্য করা হবে বাকি ৭১ জনের সঙ্গে সেক্স করতে?
যদি বাধ্য করা না হয়, তাহলে বাকি ৭১ হুরি কী করবে অনন্তকালব্যাপী?
ওহ্, আপনি বলছেন, তাদেরকে অন্য বেহেশতবাসীদের ভেতরে বিলি করে দেয়া হবে।
তাহলে তো প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে, বেহেশতী ৭২ হুরির আইডিয়াটাই ত্রুটিযুক্ত।

আবার দেখুন, অনন্ত কালের কিছুটা সময় ধরে সেই একই হুরির সঙ্গে সঙ্গম করতে করতে  ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়লেন আপনি, তখন?
অতএব এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে - ৭২ জন হুরির কারুর সঙ্গেই প্রেমে না পড়া।
যার অর্থ - অনন্তকালব্যাপী প্রেমহীন সেক্স। হ্যাঁ, প্রেমহীন সেক্স। দারুণ না?
অবশ্য এই জাতীয় জটিল বিষয় নিয়ে ধর্মবিশ্বাসীরা চিন্তিত নয়।

নীতিকথা: যে ব্যক্তি মাথা খাটায় না, সে-ই ধর্মবিশ্বাসী।

৩২৬.
১০ বছরের বালিকাকে হেঁটে যেতে দেখে এক চৌদি মুছলিম আরেক চৌদিকে বললো:
- আমি নিশ্চিত, মেয়েটা ছোটোবেলায় খুব আকর্ষণীয় ছিলো।

৩২৭.
- মাইক্রোওয়েভ ও ইছলামী টেররিস্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
- টাইমারের শেষ বিন্দুতে পৌঁছালেও মাইক্রোওয়েভ বিস্ফোরিত হয় না।

গাধা চিরন্তনী

২২ এপ্রিল, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪২

লিখেছেন নীল নিমো

আমার একজন ঈমানদার মুসলমান মুরিদ এক মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করছে। মহিলাটি আমার কাছে এসে নালিস করল:
- হুজুর, আপনার ঈমানদার মুসলমান মুরিদ আমাকে পিটাইছে। আপনি এর বিচার করেন।

আমি প্রশ্ন করিলাম:
- আমার ঈমানদার মুরিদটি যে মুসলমান, সেটা কীভাবে শিওর হলেন?

মহিলাটি উত্তর দিল:
- তার লম্বা দাড়ি আছে।

আমি বলিলাম:
- রবীন্দ্রনাথেরও তো দাড়ি ছিল, তাই বলে সে কি মুসলমান ছিল?

মহিলাটি বলিল:
- তার নাম, মোহাম্মদ ইসলাম। সে জোব্বা ও টুপি পরিহিত ছিল। আমাকে মার দেওয়ার সময় আল্লাহু আকবর বলে আরবিতে শ্লোগান দিচ্ছিল।

আমি বলিলাম:
- এরপরও আমি শিওর হতে পারছি না, সে মুসলমান কি না। কারণ মুসলমান নাম থাকলেই যে সে মুসলমান হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা নাই। সাদ্দাম হোসেনের খ্রিষ্টান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ছিল তারেক আজিজ। আজকাল কাতার-দুবাই ভ্রমল করার সময় খ্রিষ্টানরা শখ করে জোব্বা-টুপি পরে। আর তাছাড়া আল্লাহ শব্দটির হিন্দি অনুবাদ হল ভগবান আর বাংলা অনুবাদ হল সৃষ্টিকর্তা। এমন হতে পারে আমার মুরিদ মোহাম্মদ ইসলাম একজন হিন্দু। ঠিক কি না?

মহিলাটি রেগে গিয়ে বলিল:
- সে আমার প্রাক্তন স্বামী, তাকে আপনি আমার থেকেও ভালভাবে চিনেন? কোরান ও সুন্নাকে ফলো করে সে আমারে নিয়মিত মারধর করত। সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, ৩০ রোজা রাখে, যাকাত দেয়, হজ্ব করেছে। সকাল-বিকাল ৫ কলেমা পড়ে। তাছাড়া তার সুন্নতে খতনা করা আছে।

আমি বলিলাম:
- তাহলে সে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান, একজন মুসলমান কখনই তার বউকে মারতে পারে না।

মহিলাটি বলিল:
- সে একটা মসজিদের খতিব, সে মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারে না। কোরানের সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে নারীদের পিটাইতে বলা আছে। তাছাড়া সহি মুসলিমের হাদিসের উল্লেখ আছে নবীজি নিজেও মেয়ে মানুষ পিটাইতেন। আয়শার বুকে নবীজি ঘুষি মারতেন। নবীজি কি তাহলে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান ছিলেন?

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি এইবার নিশ্চিত, এইটা পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র। মিডিয়ার অপপ্রচার। হিটলার ১১ মিলিয়ন মানুষকে মেরে ফেলেছে। সাদ্দাম, গাদ্দাফি মারা গেল, আর আপনি তো সামান্য মার খেয়েছেন। এগুলোর তুলনায় এই মাইর কিছুই না।

আমার উত্তর শুনে মহিলাটি শলাঝাড়ু নিয়ে আমাকে ধাওয়া দিল। ঝাড়ু ধাওয়া খেয়ে আমি দৌড়ে পালালাম।

হইতে সাবধান

সৌদি আরব কি ইসলামী সন্ত্রাসীদের পক্ষে না বিপক্ষে? - ২

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির ও সৌদি নারীদের অবস্থা অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে, খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, এপ্রিল ৪, ২০১০]


এরপর শুরু হতো ইসলামের গৌরবময় অতীত নিয়ে বড়াই করা ও বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা। এখন আমি বুঝি যে, এসব করা হতো একমাত্র আমাদের কচি ও সহজে প্রভাবিত মনকে ইসলামী জোশে ভরপুর করার জন্যে, যাতে করে আমরা ইসলামের অতীত বিজয় গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারি। ধর্মীয় শিক্ষকরা তরুণ সমাজকে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকার জন্যে নির্দেশ দিতেন; এগুলো হচ্ছে: ধূমপান, পাশ্চাত্যের ধরণে চুল ছাঁটা ও পোশাক পরা, মেয়েলি পোশাক পরা, সঙ্গীত শোনা - বিশেষত পাশ্চাত্য সঙ্গীত, টেলিভিশন উপভোগ করা। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের মোল্লারা বলত টেলিভিশন দেখা হচ্ছে সব চাইতে বড় পাপ। সত্যি বলতে কি, এ ব্যাপারে একটা ফতোয়া আছে, যাতে বলা হয়েছে যে, যার কাছে স্যাটালাইট অ্যান্টেনা থাকবে, সে বেহেশতে যাবে না। পাশ্চাত্যের অনুকরণে চুল বাঁধা হচ্ছে একেবারে দুর্বিনীত ব্যাবহার। এরই জন্যে আমাদের মাথার চুল ছাঁটা থাকত সামনে এবং পিছনে। সত্যি বলতে কি আমাদের মাঝে যাতে কোন ক্রমেই পাশ্চাত্যের চুল ছাঁটার প্রভাব না পড়ে সে জন্যে আমাদের প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের মাথা পরীক্ষা করতেন। কেউ যদি চুল কাটার আইন অবজ্ঞা করত, তবে জোরপূর্বক তার মাথার চুল ছেঁটে দেয়া হত বিদ্যালয়ের সেলুনে। এর অর্থ হলো, আমাদের অনেকেরই চুল ছাঁটা হতো 'জিরো' ভাবে - একে বারে ক্রু কাট যাকে বলে। আমাদেরকে তখন দেখলে মনে হত সামরিক বাহিনীর ক্ষুদে সৈনিক - ধর্মীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র নয়।

আমাদেরকে সর্বদাই মনে করিয়ে দেয়া হতো মৃত্যু সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে, মৃত্যু হচ্ছে ইসলামের একটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বক্তৃতা দেওয়া হতো যে, মৃত্যুর কথা মনে করা খুবই পুণ্যের কাজ। এরপর আমাদেরকে বর্ণনা দেওয়া হতো মৃতের দেহের সৎকার (কবর দেওয়া) এবং অন্যান্য অনুসাঙ্গিক বিষয় যা মৃত্যু ও শোককে ঘিরে থাকে। বলতে হয়, আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা সর্বদাই মৃত্যু নিয়ে আবিষ্ট বা মোহাচ্ছন্ন। যারা এই সব মর্মান্তিক বিষয় আমাদের ঐ কোমল মনে মৃত্যুর ধারণা ভাবনা ঢুকিয়ে দেয়, তারা কোনোদিন চিন্তাও করে না, এর কী মারাত্মক প্রভাব পড়ে তরুণ মনে। এই সবের জন্যে আমি প্রায়ই ভাবতাম, আল্লাহ্‌ কী কারণে আমাকে ইহজগতে পাঠালেন, যখন জন্মের সাথে সাথেই আমাকে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হতে বলা হচ্ছে। এসবের কী অর্থ হতে পারে - ইসলাম মানেই কি মৃত্যু? আমাদের মনে গভীর ভীতির সঞ্চারের জন্যে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়া হতো, কবরের ভিতরে আমাদের কী যন্ত্রণাই না পেতে হবে! এর পরিণাম এই হলো যে, কবরের ঐ যন্ত্রণা এড়ানোর জন্য যেসব কাজ মানা করা হয়েছে, আমরা মনে মনে প্রস্তুত হয়ে গেলাম, যে কোনোভাবেই ঐ আদেশ পালনের জন্যে।

এখন যখন আমি ঐ সব দিনগুলির কথা ভাবি, তখন আমার কোনো সন্দেহ থাকে না যে, আমাদের শিক্ষকেরা পরিষ্কার গুল মারতেন আমাদের শিশু মনে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টির জন্যে, যাতে করে যেমন করেই হোক আমরা ইসলামকে আঁকড়ে থাকব। এই প্রসঙ্গে একটা কালো সাপের গল্প মনে পড়ে গেল। গল্পটা হচ্ছে নিম্নরূপ:

এক ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার তাকে কবর দেওয়ার জন্যে কবরস্থানে নিয়ে গেল। কবরস্থানে দেখে এক কালো সাপ কবরের পাশে অবস্থান করছে। তাই তারা অন্য একটি কবরের কাছে গেল। সেখানেও ঐ একই অবস্থা—একটি কালো সাপ কবরের নিকট বসে আছে। এই ভাবে অনেক ঘোরাঘুরি করে লোকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর মরিয়া হয়ে ঐ কালো সাপকে উপেক্ষা করেই তারা মৃত লোকটিকে কবর দিয়ে দিল। কিন্তু যেই তারা ফিরে যাচ্ছিল, তখনই তারা শুনতে পেলো, কবরের ভেতর থেকে আসছে ভীষণ চিৎকার ও হৈ-হল্লার শব্দ। তারা তৎক্ষণাৎ কবরটি খুঁড়ে ফেলল এবং দেখল ঐ কালো সাপ কেমন করে এঁকে বেঁকে কবরে ঢুকে পড়ে মৃত দেহটিকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে মৃত ব্যক্তির হাড় ভেঙে গেছে। তখন লোকেরা ঐ মৃতের পিতাকে জিজ্ঞেস করল, "তোমার ছেলে কী করেছিল?" পিতা উত্তর দিল, "আমার ছেলে খারাপ তেমন কিছুই করেনি; শুধুমাত্র ব্যাপার এই যে, সে নিয়মিত নামায পড়ত না।"

এখন আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, আমাদের শিক্ষকেরা ঐ ধরনের প্রচুর মিথ্যা, ভয়ংকরী গল্প শুনিয়েছেন। আজ প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছানোর পর মোল্লাদের ঐ সব আজগুবি গল্পের কথা মনে পড়লে আমার হাসিই আসে। কিন্তু সেদিন তাদের বানানো ভয়ানক গল্পগুলোর প্রতিটি শব্দ আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম, যেহেতু তারা ছিল শক্তিশালী ও ধর্মের শিক্ষক। আমরা প্রচণ্ড ভীতি ও আতঙ্কের মাঝে থাকতাম। সর্বত্র আমরা দেখতাম আতঙ্ক, সন্ত্রাস; মৃত্যুভীতি, কবরের যন্ত্রণা, এবং শেষ বিচার দিনের শাস্তির কথায় উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা কাঁপতে থাকতাম। এছাড়াও সর্বদা আমাদের মনকে আবিষ্ট করে থাকত কাফের, আল্লাহ্‌র ক্রোধ আক্রোশ, পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরাঈল... ইত্যাদি। তখন আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতাম না যে, ঐ শিক্ষকেরা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলতেন। সর্বত্র আমরা ভীতি ছাড়া কিছুই দেখতাম না। আমাদের চারদিক ঘিরে থাকত সন্ত্রাস, ভীতি ও আতঙ্ক। আমরা আতঙ্কিত থাকতাম এই ভেবে যে, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাঈল আমাদেরকে আণবিক বোমা মেরে ধ্বংস করে দেবে। আপনার হয়তো হাসবেন, কিন্তু সত্যি সত্যি বলছি: আমার এক বন্ধুর ছেলে যখনই এরোপ্লেনের শব্দ শোনে, তখনই সে কান্না জুড়ে দেয়। সেই শিশু বয়সী ছেলে মনে করে, এরোপ্লেনের শব্দ মানেই যুদ্ধ্বের শুরু। এই আতঙ্কের রোগ আমাদের প্রত্যকের মনে আজ মজ্জাগত হয়ে গেছে আমাদের ঐ ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্যে। আমাদের জন্ম হয় আতঙ্ক নিয়ে, জীবনযাপন করি আতঙ্কের সাথে, এবং মারাও যাই আতঙ্কের ছায়ায়। আমাদের সরকার আমাদেরকে বন্দী করে রেখেছে চিরস্থায়ী আতঙ্ক দিয়ে - এই সর্বগ্রাসী ইসলামী আতঙ্ক থেকে আমাদের মুক্তির কোন পথই নেই।

আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকেরা কখনই বিশ্বাস করে না যে, যথাযথ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া সৌদি আরবের ছাত্রদের অনুকুলে। বলা বাহুল্য যে, এই মোল্লারা একেবারেই ভুল পথে রয়েছে। এরা এক মিথ্যা অহমিকা ও ভান করা দম্ভের মোহে আচ্ছন্ন। আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে যে মৌলিক ইংরেজি শেখানো হয়, তা নিতান্তই ধোঁকাবাজিতে ভরপুর। সত্যি কথা হলো: ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় চলে অবাধ নকল। আমি আমাদের দেশের শিক্ষকদের সাথে এই নকলের ব্যাপারে প্রচুর আলাপ করেছি। কিন্তু তারা একেবারে নিশ্চিত যে, ইংরেজি শেখা আমাদের জন্য তেমন গুরুত্বের কিছু নয় - আমাদের খুবই গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের ভাষার জন্য, যে ভাষায় কোরআন লেখা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষানীতির একটা বৈশিষ্ট্য এই যে, মুসলমানদের সাফল্যের প্রশংসা ছাড়া আমরা আর কারো ই প্রশংসা করতে পারি না। অ মুসলিমদের কোন সাফল্যের প্রশংসা করা এক মহাপাপ ও দণ্ডার্হ অপরাধ। আমাদের শিক্ষকেরা সবসময় জিহাদ এবং জিহাদে অংশগ্রহণের ফযিলতের কথা নিয়ে ব্যস্ত। আমাদেরকে বলা হচ্ছে জিহাদিদেরকে মুগ্ধভাবে প্রশংসা করতে ও সর্বতোভাবে তাদেরকে অনুকরণ করতে। আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করা হচ্ছে যে, আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য জীবনে একবার হলেও জিহাদে যোগদান করা। এই ব্যাপারে নিম্নের হাদিস প্রায়ই উল্লেখ করা হয়:
আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর রসুল বলেছেন, "যে কেউ আল্লাহ্‌র সাথে দেখা করবে অথচ তার কাছে জিহাদের কোনো চিহ্ন থাকবে না, সে এক খুঁত নিয়ে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে।" (জামি তিরমিজি, ভলুম ৩, হাদিস ১৬৬৬, প্রকাশক: দারুস্‌সালাম,‌ রিয়াদ, সৌদি আরব। অনুবাদ অনুবাদকের)
আমাদের সমাজে যেসব ছাত্র ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে, তারা সর্বদাই হচ্ছে সর্বোত্তম ছাত্র। এই ছাত্ররা প্রধান শিক্ষক থেকে সাধারণ শিক্ষক পর্যন্ত সবার সম্মান পেয়ে থাকে। এরা তাদের চুল ছাঁটে 'জিরো'তে, পোশাক থাকে 'থোয়াব' এবং প্রায়ই ধর্মীয় পুলিশ হিসাবে চাকুরি করে ওরা যেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিল সেই বিদ্যালয়েই। পুরস্কার হিসাবে তারা পায় প্রচুর সুযোগ সুবিধা ও অপরিমেয় সম্মান। এই জন্যেই প্রচুর ছাত্র ধার্মিক হয়, কেননা তারা আকুলভাবে কামনা করে ঐ সব মহার্ঘ ও ঐশ্বর্যবান সুযোগ সুবিধা ও আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, যা সরকার ও জনগণ ওদেরকে অকুন্ঠভাবে দিয়ে থাকে। মোদ্দা কথায়, সৌদি আরবের ধর্মান্ধ লোকেরা সরকার ও আমজনতা থেকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার পায়। এদেরকে বলা হয় আল্লাহ্‌র তত্ত্বাবধায়ক।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৭

২১ এপ্রিল, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৬

লিখেছেন ইমানুল হক

৮. 
আমার বিষন ভয় লাইগতাছে। আল্লা, আমি কি করুম, তুমিই কও। এই কতাও হুনতে অয়? কি কলিযুগ আইলো! 

ইক্টু আগে দেহা হইছিল মেম্বরের ফুলার লগে। আমি জিগাইলাম:
- বাজান, ক্যামন আছো?

মেম্বরের ফুলার জবাব:
- এই তো চাচা, তেমন ভালো না। আপনি কেমন আছেন?

আমি বইল্যাম:
- বালাই আছি। কিন্তু তুমার আবার কি অইলো?

মেম্বরের পো উওর দিল: 
- দেখেন না, দেশটা একেবারে ইসলামিক জঙ্গি দিয়ে ভরে গেল। চারিদিকে শুধু ইসলামিক জঙ্গিদের আতংক। দেশটা তো একবারে ধ্বংস করে ফেলবে।

- কি কও বাজান, এইসব ত ইসলামে কয় নাই, এইগুলা ত ইহুদী-ক্রিষ্টানগের চক্রান্ত। এগুলাত কান দিও না। আল্লা এইগুলার উফরে গজব পেলবে, দেইহো। আল্লায় কইছে: "হে কিতাবিগণ! তুমরা তুমাগের দর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি কইরো না আর আল্লার ব্যাফারে সত্যি কতা কও।" (সূরা নিসা: ১৭১) তাছাড়া আরেক জাগায় কইছে: "তুমার প্রতিফালক ইচ্চা কইল্যে পিতৃবীত যারা আছে, হগ্যলেই ইমান আইন্ত (আল্লার উফ্রে)। তালি কি তুমি ইমানদার অওয়ার জইন্য মাইনশের লগে জবরদুস্তি করবা?" - আমি বুজাইলাম। 

মেম্বরের পোর পাল্টা জবাব:
- তালি ফড়ে এই আয়াতডা কি মিছা নি চাচা? "আমি কাফেরদের মনে ভীতির সন্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হানো এবং তাদেরকে কাটো জোরায় জোরায়।" (সূরা: ৮ আয়াত: ১২) আর আর এক জায়গায় আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন: "অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আত তাওবাহ, আয়াত:৫) এইগুলাও কি ইহুদী-নাসারাদের চক্রান্ত নাকি চাচা?" 

আমার মেজাজ খারাপ অই গেল কতাডা হুইনা। কি কমু, বাইবতে ফাইল্লাম না। মেম্বারের ফুলা, কিছু কওয়াও যায় না।

দিশা না ফাই "নাউজবেল্লা, নাউজবেল্লা" বইলতে বইলতে বাসার দিক তারাতারি দৌর দি চলি আইলাম। আর এই সূরাডা কি মেম্বরের ফুলা বানাই কইলো নিকি, চিন্তা কইত্তে লাইগলাম।