২৩ এপ্রিল, ২০১৭

রঙ্গিলা রসুল: একটি ধর্মকারী কুফরী কিতাব

সম্পূর্ণ ছহীহ ও ইছলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও দলিল থেকে নবীর জীবন, তার কর্মকাণ্ড বা ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কিত উদ্ধৃতি দিলেও ঈমান্দার মুছলিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে - এই প্রবণতাটি কিন্তু সাম্প্রতিক নয়। বস্তুত এটাই ইছলামী ঐতিহ্য। শুধু তা-ই নয়, শুধু শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে (সত্যতা যাচাইয়ের স্বভাব বিশ্বাসীদের নেই) উন্মত্ত সহিংসতায় ঝাাঁপিয়ে পড়াটাও তাদের ঈমানী বৈশিষ্ট্য।

অখণ্ড ভারতবর্ষে ১৯২০-এর দশকের প্রারম্ভে পাঞ্জাবের মুসলিমরা একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। সেটিতে হিন্দুদের দেবী সীতাকে পতিতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এবং কথিত আছে, এর প্রতিশোধ নিতেই হিন্দু পণ্ডিত চমূপতি "রঙ্গিলা রসুল" নামে একটি সত্য তথ্য সম্বলিত ব্যঙ্গাত্মক পুস্তিকা লেখেন, যা ১৯২৩ সালে প্রকাশ করেন লাহোরের প্রকাশক রাজপাল। বইটির শেষে উল্লেখ করাও আছে: "এই পুস্তকে যে সমস্ত রেফারেন্স ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা কেবল সুন্নী দলিল হইতে গৃহীত।"

এর পরে ইলমুদ্দিন নামের মর্দে মুছলিম রাজপালকে হত্যা করে।

"রঙ্গিলা রসুল" নামের পুস্তিকাটিকে অখণ্ড ভারতবর্ষের প্রথম নিষিদ্ধ বই হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই বইটিকে মূল হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুরসিক ও সুলেখক জুপিটার জয়প্রকাশ। মূল বইয়ের চরিত্র ও স্বাদ অটুট রাখতে অনুবাদক ব্যবহার করেছেন সাধু বাংলা ভাষা, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত উপযুক্ত ও উপাদেয় হয়েছে।

আর ইবুকটি নির্মাণের সার্বিক কৃতিত্ব সকল কাজের কাজী নরসুন্দর মানুষ-এর।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.১৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/cxYigX
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/lmyUSp

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়এই ঠিকানায়)

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

তেলাপোকা পেলো পাখির মর্যাদা

লিখেছেন আক্কাস আলী

- স্যার, আসবো?
- Yes... Come in...
- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
[মাথা নেড়ে সালামের জবাব দিলেন, অতঃপর বসতে ইশারা করলেন]
- Introduce yourself...
- I am Akkas Ali Mohammad Bin Abdul Kuddus. I live in Chittagong. I am a sunni muslim. I read in Al-Jamiatul Ahlia Darul Ulum Muinul Islam. It also has another name, it is Hathazari Madrassa. My favorite teacher's name is Allama Shah Ahmad Shafi...
- Okay, Okay, বুঝলাম। তো আক্কাস সাহেব, আপনি এখানে পাঞ্জাবি-টুপি পরে কেন এসেছেন? ড্রেস কোড ফলো করেননি। এর কারণটা কী?
- স্যার, এইসব হচ্ছে সুন্নতী পোশাক। হুজুরে পাক (সাঃ) এইরকম পোশাকই পরিধান করতেন।
- বুঝলাম। কিন্তু নবীজি এ ধরনের পোশাক পরতেন তার দেশের আবহাওয়াগত কারণে। বড় কোর্তা আর মাথার উপর টুপি বা পাগড়ি রাখতে হতো মরু অঞ্চলে সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্যে। শুধু নবীজি নন, কাফেররাও তখন একই ধরনের পোশাক পরতেন। বোঝা গেলো? আপনি এখানে এসব পরে থাকবেন কোন দুঃখে? আরেকটা কথা, নবীজি তো উটে চড়ে যাতায়াত করতেন, আপনি উটে চড়ে আসলেন না কেন? সুন্নত কি কেবল নিজের সুবিধা অনুযায়ী?
- জানি না, স্যার।
- আচ্ছা, বাদ দিন। আপনি তো চট্টগ্রামের ছেলে। চট্টগ্রামের কয়েকটা দর্শনীয় স্থানের নাম বলুন।
- চট্টগ্রামে অনেক অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। যেমন ধরেন, হযরত খাজা গরীবুল্লাহ শাহ (রঃ) এর মাজার, বায়েজিদ বোস্তামির মাজার, শাহ আমানত (রঃ) এর মাজার, আমাদের বড় মাদ্রাসা, আর... আর...

[উত্তর শুনে ভাইবা বোর্ডের সবাই একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর একদম ডানপাশে বসা মাথায় বিশাল টাকওয়ালা স্যার আমাকে প্রশ্ন করলেন।]

- আক্কাস সাহেব, চলুন, প্রথমেই ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনি কী কী জানেন, সংক্ষেপে বলুন। কেন এবং কী কারণে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? যুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কী ছিলো?
- ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিলো। সেই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যায়। আসলে ভারতের হিন্দুরা ষড়যন্ত্র করে এই যুদ্ধ লাগিয়েছিলো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করতে। আর আপনি একটা বিরাট ভুল কথা বলেছেন স্যার, জাতির জনক শেখ মুজিব না। আমাদের পরিচয় একটাই - আমরা মুসলমান। আর আমাদের জাতির পিতা হইলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।

[সবাই চুপ মেরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন শুরু করলেন পাশের ম্যাডাম]

- সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা যাক। আচ্ছা, বলুন তো, দিন ও রাত সংঘটিত হওয়ার কারণ কী? দিন-রাতের দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধিই বা কেন হয়?
- দিনের বেলা সূর্য থাকে, তাই দিন। আর রাতের বেলা সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় পড়ে যায়। তখন সূর্য থাকে না বলে রাত হয়। আল্লাহ অনুমতি দিলে পরের দিন সুর্য উঠে দিন শুরু হয়। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫৪, হাদিস ৪২১)
- তার মানে, সুর্য যখন আরশের নিচে সেজদায় যায়, তখন পৃথিবীর কেউই সুর্যকে দেখতে পায় না? সব দেশেই রাত হয় একসাথে?

[রুমের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলো। আমি বিব্রত বোধ করলাম। অতঃপর আবার প্রশ্ন!]

- মানুষের জ্বর কেন হয়? জ্বর হলে কী করা উচিত? তাপমাত্রা কত উঠলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
- জ্বর হইলো আল্লাহর গজব, আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেন জ্বরের মাধ্যমে। জাহান্নামের আগুনের তাপ যখন আমাদের গায়ে এসে লাগে, তখনই আমাদের জ্বর হয়। (বুখারি, খণ্ড ৭, বই ৭১, হাদিস ৬১৯) জ্বর হইলে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হইবে আর নিজ গুনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ঔষধ হিসেবে কালিজিরা খাওয়াইলে জ্বর ভালো হবে ইনশাল্লাহ। শুধু জ্বর না, কালিজিরাতে সব রোগের নিরাময় রয়েছে। (বুখারি, খণ্ড ৭. বই ৭১, হাদিস ৫৯২)

- তেলাপোকা চেনেন? এরা কোন পর্বের প্রাণী? এদের চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
- অত কিছু জানি না। তবে তেলাপোকা হইলো বিশেষ এক ধরনের পাখি।
- তা ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশে অনেক অনেক তেলাপোকা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেলাপোকাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদেরকে পাখিদের দলভুক্ত করাই উত্তম কাজ। আচ্ছা, আক্কাস সাহেব, আমার মনে হয় আপনি ক্লাস সেভেন-এইটের বিজ্ঞানটাও ভালোমতো জানেন না। অনেক ফাঁকিঝুকি দিয়েছেন নিশ্চয়ই ছাত্রজীবনে?
- না, স্যার। আসলে সেই প্রাইমারী লেভেল থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত কোনো ক্লাসেই আমরা বিজ্ঞান পড়ি নাই। আমরা পড়ছি ইসলামের ইতিহাস, কোরান, আরবি ও ফার্সি ব্যাকরণ, বুখারি-মুসলিম-তিরমিজি, ফিকহ এইসব। তবে ইংলিশে আমি অনেক ভালো। ফার্মগেট থেকে "৭ দিনে ইংরেজি শিখুন" নামে একটা বই কিনছিলাম, ঐটা পড়েই ইংলিশের জাহাজ হইছি।
- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগলো কথা বলে। এখন আপনি আসতে পারেন।
- চাকরিটা হবে তো, স্যার?
- হবে হবে... মাস্টার্সের ছাট্টিফিকেট যেহেতু পেয়েছেন, চাকরিও পাবেন।

নাস্তিক টেররিস্ট

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৬

৩২৩.
মুছলিম:
- আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীর ১৬০ কোটি মুছলিমের মধ্যে শতকরা ৯৩ জনই মডারেট বা শান্তিপ্রিয়? মাত্র ৭ শতাংশ মুছলিম জঙ্গি। এটা এক জরিপের ফলাফল।
নাস্তিক:
- তা বটে! মাত্র ১১ কোটি ২ লক্ষ মুছলিম জঙ্গি। জেনে আশ্বস্ত হলাম।

৩২৪.
- আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারটা লম্বা, ব্র্যাড পিট-এরটা ছোট্ট, ম্যাডোনা'র সেটা নেই এবং পোপ-এর সেটা থাকলেও ব্যবহার করে না। কী সেটা?
- পদবী।

৩২৫.
ধরা যাক, বেহেশতে গিয়ে আপনি ৭২ হুরির একজনের প্রেমে পড়ে গেলেন।
আপনাকে কি তবু বাধ্য করা হবে বাকি ৭১ জনের সঙ্গে সেক্স করতে?
যদি বাধ্য করা না হয়, তাহলে বাকি ৭১ হুরি কী করবে অনন্তকালব্যাপী?
ওহ্, আপনি বলছেন, তাদেরকে অন্য বেহেশতবাসীদের ভেতরে বিলি করে দেয়া হবে।
তাহলে তো প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে, বেহেশতী ৭২ হুরির আইডিয়াটাই ত্রুটিযুক্ত।

আবার দেখুন, অনন্ত কালের কিছুটা সময় ধরে সেই একই হুরির সঙ্গে সঙ্গম করতে করতে  ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়লেন আপনি, তখন?
অতএব এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে - ৭২ জন হুরির কারুর সঙ্গেই প্রেমে না পড়া।
যার অর্থ - অনন্তকালব্যাপী প্রেমহীন সেক্স। হ্যাঁ, প্রেমহীন সেক্স। দারুণ না?
অবশ্য এই জাতীয় জটিল বিষয় নিয়ে ধর্মবিশ্বাসীরা চিন্তিত নয়।

নীতিকথা: যে ব্যক্তি মাথা খাটায় না, সে-ই ধর্মবিশ্বাসী।

৩২৬.
১০ বছরের বালিকাকে হেঁটে যেতে দেখে এক চৌদি মুছলিম আরেক চৌদিকে বললো:
- আমি নিশ্চিত, মেয়েটা ছোটোবেলায় খুব আকর্ষণীয় ছিলো।

৩২৭.
- মাইক্রোওয়েভ ও ইছলামী টেররিস্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
- টাইমারের শেষ বিন্দুতে পৌঁছালেও মাইক্রোওয়েভ বিস্ফোরিত হয় না।

গাধা চিরন্তনী

২২ এপ্রিল, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪২

লিখেছেন নীল নিমো

আমার একজন ঈমানদার মুসলমান মুরিদ এক মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করছে। মহিলাটি আমার কাছে এসে নালিস করল:
- হুজুর, আপনার ঈমানদার মুসলমান মুরিদ আমাকে পিটাইছে। আপনি এর বিচার করেন।

আমি প্রশ্ন করিলাম:
- আমার ঈমানদার মুরিদটি যে মুসলমান, সেটা কীভাবে শিওর হলেন?

মহিলাটি উত্তর দিল:
- তার লম্বা দাড়ি আছে।

আমি বলিলাম:
- রবীন্দ্রনাথেরও তো দাড়ি ছিল, তাই বলে সে কি মুসলমান ছিল?

মহিলাটি বলিল:
- তার নাম, মোহাম্মদ ইসলাম। সে জোব্বা ও টুপি পরিহিত ছিল। আমাকে মার দেওয়ার সময় আল্লাহু আকবর বলে আরবিতে শ্লোগান দিচ্ছিল।

আমি বলিলাম:
- এরপরও আমি শিওর হতে পারছি না, সে মুসলমান কি না। কারণ মুসলমান নাম থাকলেই যে সে মুসলমান হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা নাই। সাদ্দাম হোসেনের খ্রিষ্টান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ছিল তারেক আজিজ। আজকাল কাতার-দুবাই ভ্রমল করার সময় খ্রিষ্টানরা শখ করে জোব্বা-টুপি পরে। আর তাছাড়া আল্লাহ শব্দটির হিন্দি অনুবাদ হল ভগবান আর বাংলা অনুবাদ হল সৃষ্টিকর্তা। এমন হতে পারে আমার মুরিদ মোহাম্মদ ইসলাম একজন হিন্দু। ঠিক কি না?

মহিলাটি রেগে গিয়ে বলিল:
- সে আমার প্রাক্তন স্বামী, তাকে আপনি আমার থেকেও ভালভাবে চিনেন? কোরান ও সুন্নাকে ফলো করে সে আমারে নিয়মিত মারধর করত। সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, ৩০ রোজা রাখে, যাকাত দেয়, হজ্ব করেছে। সকাল-বিকাল ৫ কলেমা পড়ে। তাছাড়া তার সুন্নতে খতনা করা আছে।

আমি বলিলাম:
- তাহলে সে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান, একজন মুসলমান কখনই তার বউকে মারতে পারে না।

মহিলাটি বলিল:
- সে একটা মসজিদের খতিব, সে মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারে না। কোরানের সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে নারীদের পিটাইতে বলা আছে। তাছাড়া সহি মুসলিমের হাদিসের উল্লেখ আছে নবীজি নিজেও মেয়ে মানুষ পিটাইতেন। আয়শার বুকে নবীজি ঘুষি মারতেন। নবীজি কি তাহলে মানসিক ভারসাম্যহীন খ্রিষ্টান ছিলেন?

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি এইবার নিশ্চিত, এইটা পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র। মিডিয়ার অপপ্রচার। হিটলার ১১ মিলিয়ন মানুষকে মেরে ফেলেছে। সাদ্দাম, গাদ্দাফি মারা গেল, আর আপনি তো সামান্য মার খেয়েছেন। এগুলোর তুলনায় এই মাইর কিছুই না।

আমার উত্তর শুনে মহিলাটি শলাঝাড়ু নিয়ে আমাকে ধাওয়া দিল। ঝাড়ু ধাওয়া খেয়ে আমি দৌড়ে পালালাম।

হইতে সাবধান

সৌদি আরব কি ইসলামী সন্ত্রাসীদের পক্ষে না বিপক্ষে? - ২

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির ও সৌদি নারীদের অবস্থা অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে, খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, এপ্রিল ৪, ২০১০]


এরপর শুরু হতো ইসলামের গৌরবময় অতীত নিয়ে বড়াই করা ও বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা। এখন আমি বুঝি যে, এসব করা হতো একমাত্র আমাদের কচি ও সহজে প্রভাবিত মনকে ইসলামী জোশে ভরপুর করার জন্যে, যাতে করে আমরা ইসলামের অতীত বিজয় গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারি। ধর্মীয় শিক্ষকরা তরুণ সমাজকে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকার জন্যে নির্দেশ দিতেন; এগুলো হচ্ছে: ধূমপান, পাশ্চাত্যের ধরণে চুল ছাঁটা ও পোশাক পরা, মেয়েলি পোশাক পরা, সঙ্গীত শোনা - বিশেষত পাশ্চাত্য সঙ্গীত, টেলিভিশন উপভোগ করা। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের মোল্লারা বলত টেলিভিশন দেখা হচ্ছে সব চাইতে বড় পাপ। সত্যি বলতে কি, এ ব্যাপারে একটা ফতোয়া আছে, যাতে বলা হয়েছে যে, যার কাছে স্যাটালাইট অ্যান্টেনা থাকবে, সে বেহেশতে যাবে না। পাশ্চাত্যের অনুকরণে চুল বাঁধা হচ্ছে একেবারে দুর্বিনীত ব্যাবহার। এরই জন্যে আমাদের মাথার চুল ছাঁটা থাকত সামনে এবং পিছনে। সত্যি বলতে কি আমাদের মাঝে যাতে কোন ক্রমেই পাশ্চাত্যের চুল ছাঁটার প্রভাব না পড়ে সে জন্যে আমাদের প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের মাথা পরীক্ষা করতেন। কেউ যদি চুল কাটার আইন অবজ্ঞা করত, তবে জোরপূর্বক তার মাথার চুল ছেঁটে দেয়া হত বিদ্যালয়ের সেলুনে। এর অর্থ হলো, আমাদের অনেকেরই চুল ছাঁটা হতো 'জিরো' ভাবে - একে বারে ক্রু কাট যাকে বলে। আমাদেরকে তখন দেখলে মনে হত সামরিক বাহিনীর ক্ষুদে সৈনিক - ধর্মীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র নয়।

আমাদেরকে সর্বদাই মনে করিয়ে দেয়া হতো মৃত্যু সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে, মৃত্যু হচ্ছে ইসলামের একটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বক্তৃতা দেওয়া হতো যে, মৃত্যুর কথা মনে করা খুবই পুণ্যের কাজ। এরপর আমাদেরকে বর্ণনা দেওয়া হতো মৃতের দেহের সৎকার (কবর দেওয়া) এবং অন্যান্য অনুসাঙ্গিক বিষয় যা মৃত্যু ও শোককে ঘিরে থাকে। বলতে হয়, আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা সর্বদাই মৃত্যু নিয়ে আবিষ্ট বা মোহাচ্ছন্ন। যারা এই সব মর্মান্তিক বিষয় আমাদের ঐ কোমল মনে মৃত্যুর ধারণা ভাবনা ঢুকিয়ে দেয়, তারা কোনোদিন চিন্তাও করে না, এর কী মারাত্মক প্রভাব পড়ে তরুণ মনে। এই সবের জন্যে আমি প্রায়ই ভাবতাম, আল্লাহ্‌ কী কারণে আমাকে ইহজগতে পাঠালেন, যখন জন্মের সাথে সাথেই আমাকে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হতে বলা হচ্ছে। এসবের কী অর্থ হতে পারে - ইসলাম মানেই কি মৃত্যু? আমাদের মনে গভীর ভীতির সঞ্চারের জন্যে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়া হতো, কবরের ভিতরে আমাদের কী যন্ত্রণাই না পেতে হবে! এর পরিণাম এই হলো যে, কবরের ঐ যন্ত্রণা এড়ানোর জন্য যেসব কাজ মানা করা হয়েছে, আমরা মনে মনে প্রস্তুত হয়ে গেলাম, যে কোনোভাবেই ঐ আদেশ পালনের জন্যে।

এখন যখন আমি ঐ সব দিনগুলির কথা ভাবি, তখন আমার কোনো সন্দেহ থাকে না যে, আমাদের শিক্ষকেরা পরিষ্কার গুল মারতেন আমাদের শিশু মনে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টির জন্যে, যাতে করে যেমন করেই হোক আমরা ইসলামকে আঁকড়ে থাকব। এই প্রসঙ্গে একটা কালো সাপের গল্প মনে পড়ে গেল। গল্পটা হচ্ছে নিম্নরূপ:

এক ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার তাকে কবর দেওয়ার জন্যে কবরস্থানে নিয়ে গেল। কবরস্থানে দেখে এক কালো সাপ কবরের পাশে অবস্থান করছে। তাই তারা অন্য একটি কবরের কাছে গেল। সেখানেও ঐ একই অবস্থা—একটি কালো সাপ কবরের নিকট বসে আছে। এই ভাবে অনেক ঘোরাঘুরি করে লোকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর মরিয়া হয়ে ঐ কালো সাপকে উপেক্ষা করেই তারা মৃত লোকটিকে কবর দিয়ে দিল। কিন্তু যেই তারা ফিরে যাচ্ছিল, তখনই তারা শুনতে পেলো, কবরের ভেতর থেকে আসছে ভীষণ চিৎকার ও হৈ-হল্লার শব্দ। তারা তৎক্ষণাৎ কবরটি খুঁড়ে ফেলল এবং দেখল ঐ কালো সাপ কেমন করে এঁকে বেঁকে কবরে ঢুকে পড়ে মৃত দেহটিকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে মৃত ব্যক্তির হাড় ভেঙে গেছে। তখন লোকেরা ঐ মৃতের পিতাকে জিজ্ঞেস করল, "তোমার ছেলে কী করেছিল?" পিতা উত্তর দিল, "আমার ছেলে খারাপ তেমন কিছুই করেনি; শুধুমাত্র ব্যাপার এই যে, সে নিয়মিত নামায পড়ত না।"

এখন আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, আমাদের শিক্ষকেরা ঐ ধরনের প্রচুর মিথ্যা, ভয়ংকরী গল্প শুনিয়েছেন। আজ প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছানোর পর মোল্লাদের ঐ সব আজগুবি গল্পের কথা মনে পড়লে আমার হাসিই আসে। কিন্তু সেদিন তাদের বানানো ভয়ানক গল্পগুলোর প্রতিটি শব্দ আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম, যেহেতু তারা ছিল শক্তিশালী ও ধর্মের শিক্ষক। আমরা প্রচণ্ড ভীতি ও আতঙ্কের মাঝে থাকতাম। সর্বত্র আমরা দেখতাম আতঙ্ক, সন্ত্রাস; মৃত্যুভীতি, কবরের যন্ত্রণা, এবং শেষ বিচার দিনের শাস্তির কথায় উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা কাঁপতে থাকতাম। এছাড়াও সর্বদা আমাদের মনকে আবিষ্ট করে থাকত কাফের, আল্লাহ্‌র ক্রোধ আক্রোশ, পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরাঈল... ইত্যাদি। তখন আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতাম না যে, ঐ শিক্ষকেরা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলতেন। সর্বত্র আমরা ভীতি ছাড়া কিছুই দেখতাম না। আমাদের চারদিক ঘিরে থাকত সন্ত্রাস, ভীতি ও আতঙ্ক। আমরা আতঙ্কিত থাকতাম এই ভেবে যে, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাঈল আমাদেরকে আণবিক বোমা মেরে ধ্বংস করে দেবে। আপনার হয়তো হাসবেন, কিন্তু সত্যি সত্যি বলছি: আমার এক বন্ধুর ছেলে যখনই এরোপ্লেনের শব্দ শোনে, তখনই সে কান্না জুড়ে দেয়। সেই শিশু বয়সী ছেলে মনে করে, এরোপ্লেনের শব্দ মানেই যুদ্ধ্বের শুরু। এই আতঙ্কের রোগ আমাদের প্রত্যকের মনে আজ মজ্জাগত হয়ে গেছে আমাদের ঐ ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্যে। আমাদের জন্ম হয় আতঙ্ক নিয়ে, জীবনযাপন করি আতঙ্কের সাথে, এবং মারাও যাই আতঙ্কের ছায়ায়। আমাদের সরকার আমাদেরকে বন্দী করে রেখেছে চিরস্থায়ী আতঙ্ক দিয়ে - এই সর্বগ্রাসী ইসলামী আতঙ্ক থেকে আমাদের মুক্তির কোন পথই নেই।

আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকেরা কখনই বিশ্বাস করে না যে, যথাযথ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া সৌদি আরবের ছাত্রদের অনুকুলে। বলা বাহুল্য যে, এই মোল্লারা একেবারেই ভুল পথে রয়েছে। এরা এক মিথ্যা অহমিকা ও ভান করা দম্ভের মোহে আচ্ছন্ন। আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে যে মৌলিক ইংরেজি শেখানো হয়, তা নিতান্তই ধোঁকাবাজিতে ভরপুর। সত্যি কথা হলো: ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় চলে অবাধ নকল। আমি আমাদের দেশের শিক্ষকদের সাথে এই নকলের ব্যাপারে প্রচুর আলাপ করেছি। কিন্তু তারা একেবারে নিশ্চিত যে, ইংরেজি শেখা আমাদের জন্য তেমন গুরুত্বের কিছু নয় - আমাদের খুবই গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের ভাষার জন্য, যে ভাষায় কোরআন লেখা হয়েছে।

আমাদের শিক্ষানীতির একটা বৈশিষ্ট্য এই যে, মুসলমানদের সাফল্যের প্রশংসা ছাড়া আমরা আর কারো ই প্রশংসা করতে পারি না। অ মুসলিমদের কোন সাফল্যের প্রশংসা করা এক মহাপাপ ও দণ্ডার্হ অপরাধ। আমাদের শিক্ষকেরা সবসময় জিহাদ এবং জিহাদে অংশগ্রহণের ফযিলতের কথা নিয়ে ব্যস্ত। আমাদেরকে বলা হচ্ছে জিহাদিদেরকে মুগ্ধভাবে প্রশংসা করতে ও সর্বতোভাবে তাদেরকে অনুকরণ করতে। আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করা হচ্ছে যে, আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য জীবনে একবার হলেও জিহাদে যোগদান করা। এই ব্যাপারে নিম্নের হাদিস প্রায়ই উল্লেখ করা হয়:
আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর রসুল বলেছেন, "যে কেউ আল্লাহ্‌র সাথে দেখা করবে অথচ তার কাছে জিহাদের কোনো চিহ্ন থাকবে না, সে এক খুঁত নিয়ে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে।" (জামি তিরমিজি, ভলুম ৩, হাদিস ১৬৬৬, প্রকাশক: দারুস্‌সালাম,‌ রিয়াদ, সৌদি আরব। অনুবাদ অনুবাদকের)
আমাদের সমাজে যেসব ছাত্র ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে, তারা সর্বদাই হচ্ছে সর্বোত্তম ছাত্র। এই ছাত্ররা প্রধান শিক্ষক থেকে সাধারণ শিক্ষক পর্যন্ত সবার সম্মান পেয়ে থাকে। এরা তাদের চুল ছাঁটে 'জিরো'তে, পোশাক থাকে 'থোয়াব' এবং প্রায়ই ধর্মীয় পুলিশ হিসাবে চাকুরি করে ওরা যেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিল সেই বিদ্যালয়েই। পুরস্কার হিসাবে তারা পায় প্রচুর সুযোগ সুবিধা ও অপরিমেয় সম্মান। এই জন্যেই প্রচুর ছাত্র ধার্মিক হয়, কেননা তারা আকুলভাবে কামনা করে ঐ সব মহার্ঘ ও ঐশ্বর্যবান সুযোগ সুবিধা ও আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা, যা সরকার ও জনগণ ওদেরকে অকুন্ঠভাবে দিয়ে থাকে। মোদ্দা কথায়, সৌদি আরবের ধর্মান্ধ লোকেরা সরকার ও আমজনতা থেকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার পায়। এদেরকে বলা হয় আল্লাহ্‌র তত্ত্বাবধায়ক।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৭

২১ এপ্রিল, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৬

লিখেছেন ইমানুল হক

৮. 
আমার বিষন ভয় লাইগতাছে। আল্লা, আমি কি করুম, তুমিই কও। এই কতাও হুনতে অয়? কি কলিযুগ আইলো! 

ইক্টু আগে দেহা হইছিল মেম্বরের ফুলার লগে। আমি জিগাইলাম:
- বাজান, ক্যামন আছো?

মেম্বরের ফুলার জবাব:
- এই তো চাচা, তেমন ভালো না। আপনি কেমন আছেন?

আমি বইল্যাম:
- বালাই আছি। কিন্তু তুমার আবার কি অইলো?

মেম্বরের পো উওর দিল: 
- দেখেন না, দেশটা একেবারে ইসলামিক জঙ্গি দিয়ে ভরে গেল। চারিদিকে শুধু ইসলামিক জঙ্গিদের আতংক। দেশটা তো একবারে ধ্বংস করে ফেলবে।

- কি কও বাজান, এইসব ত ইসলামে কয় নাই, এইগুলা ত ইহুদী-ক্রিষ্টানগের চক্রান্ত। এগুলাত কান দিও না। আল্লা এইগুলার উফরে গজব পেলবে, দেইহো। আল্লায় কইছে: "হে কিতাবিগণ! তুমরা তুমাগের দর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি কইরো না আর আল্লার ব্যাফারে সত্যি কতা কও।" (সূরা নিসা: ১৭১) তাছাড়া আরেক জাগায় কইছে: "তুমার প্রতিফালক ইচ্চা কইল্যে পিতৃবীত যারা আছে, হগ্যলেই ইমান আইন্ত (আল্লার উফ্রে)। তালি কি তুমি ইমানদার অওয়ার জইন্য মাইনশের লগে জবরদুস্তি করবা?" - আমি বুজাইলাম। 

মেম্বরের পোর পাল্টা জবাব:
- তালি ফড়ে এই আয়াতডা কি মিছা নি চাচা? "আমি কাফেরদের মনে ভীতির সন্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হানো এবং তাদেরকে কাটো জোরায় জোরায়।" (সূরা: ৮ আয়াত: ১২) আর আর এক জায়গায় আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন: "অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আত তাওবাহ, আয়াত:৫) এইগুলাও কি ইহুদী-নাসারাদের চক্রান্ত নাকি চাচা?" 

আমার মেজাজ খারাপ অই গেল কতাডা হুইনা। কি কমু, বাইবতে ফাইল্লাম না। মেম্বারের ফুলা, কিছু কওয়াও যায় না।

দিশা না ফাই "নাউজবেল্লা, নাউজবেল্লা" বইলতে বইলতে বাসার দিক তারাতারি দৌর দি চলি আইলাম। আর এই সূরাডা কি মেম্বরের ফুলা বানাই কইলো নিকি, চিন্তা কইত্তে লাইগলাম।

সুপারমার্কেটে আদম-হাওয়া

ইছলামী ধাঁধা

২০ এপ্রিল, ২০১৭

পিছলামি

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

আচ্ছা, ধার্মিকরা সব সময় পিছলায় কেন?

বলবেন, "নবী ছিল লুইচ্চা, ডাকাত, পেডোফাইল..."
বলবে, "না, নবী ইসলাম প্রচারের জন্য সব করেছে।"

বলবেন, "জাকির নায়েক ভণ্ড, অল্পশিক্ষিত, ভুল বলে, টাকা দিয়া বাড়ি গাড়ি করছে..." 
বলবে, "না, যা করেছে, ইসলাম প্রচারের জন্য করছে।"

বলবেন, "কুরানে বিজ্ঞান তো দূরের কথা, বিজ্ঞানের ব-ও নেই।"
বলবে, "না, কুরান সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস।"

বলবেন, "নবী সম্বন্ধে পড়েছেন? তার হাদিসের বইগুলো কোনোদিন উল্টেপাল্টে দেখেছেন? 
বলবে, "না, হাদিস মানুষে লিখেছে। ভুল থাকতে পারে।"

বলবেন, "কুরান কোনোদিন নিজ ভাষায় পড়েছেন?"
বলবে, "না, কুরান পড়া হয় নি। বর্তমান কুরানের অনুবাদ ভুল আছে।"

বলবেন, "জাকির যা বলে, যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন?"
বলবে, "না, তবে জাকির যা বলে, সব সঠিক।"

বলবেন, "কুরানে যে বিজ্ঞান আছে, সেটা কী করে জানলেন? আপনি কি বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?" 
বলবে, "না, বিজ্ঞানে বিশ্বাস নেই, সবসময় পাল্টায়। তবে কুরানে বিজ্ঞান আছে, সেটা সত্য।"

বেদ্বীনবাণী - ৮৮


ধর্ম বিষয়ে তাঁর আরও ক্ষুরধার বক্তব্য:

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/mhZq9PslWYA

আজানে মাইকের প্রয়োজনীয়তা

পোঁদধ্বনি: দূষিত বায়ু ত্যাগের শব্দ (সৌজন্য: দুষ্টু শব্দ)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৮২

১৯ এপ্রিল, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ৫: শঙ্কিত হিরাক্লিয়াস!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬৬): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসন-পরবর্তী ছয়টি বছরে (৬২২-৬২৮ সাল) "ধর্মের নামে আগ্রাসী আরব শক্তির উত্থান" ঘটিয়েছিলেন, তা কী উপায়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস জানতে পেরেছিলেন বলে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তার বিস্তারিত আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে।

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 


'অতঃপর হিরাক্লিয়াস তার পুলিশ-প্রধানকে ডেকে পাঠান ও তাকে বলেন, "আমার জন্য তুমি সিরিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকো, যতক্ষণে না তুমি এই লোকটির এলাকার কোনো লোককে আমার কাছে হাজির করতে পারো (Turn Syria upside down for me, until you bring me someone from the people of this man)" - অর্থাৎ, তিনি আল্লাহর নবীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন।

আল্লাহর কসম, আমরা তখন গাজায়, তার পুলিশ-প্রধান আমাদের ওপর চড়াও হয় ও বলে, "তোমরা কি হিজাজের এই লোকটির এলাকার লোকদের কেউ?" আমরা বলি, "হ্যাঁ।" সে বলে, "আমাদের সাথে সম্রাটের কাছে চলো!" তাই, আমারা তার সাথে যাত্রা শুরু করি। যখন আমরা সম্রাটের কাছে এসে হাজির হই, তিনি বলেন, "তোমরা কি এই লোকটির স্বজাতীয়দের কেউ?" আমরা বলি, "হ্যাঁ।"

তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "তোমাদের মধ্যে কে এই লোকটির সাথে আত্মীয়তা সূত্রে সবচেয়ে বেশী নিকটস্থ?" বললাম, "আমি।" আল্লাহর কসম, আমি কখনোই এর আগে এমন কোনো বিধর্মী (খৎনাবিহীন) লোককে দেখিনি, যাকে আমি এই লোকটির চেয়ে বেশী বিচক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতে পারি - অর্থাৎ, হিরাক্লিয়াস।

তিনি বলেন, "তাকে আমার নিকটে নিয়ে এসো।” তিনি আমাকে তাঁর সম্মুখে বসান, আর আমার সহচরদের বসান আমার পিছনে; অতঃপর তিনি বলেন: "আমি তাকে প্রশ্ন করবো। যদি সে মিথ্যা বলে, তাকে খণ্ডন করবে।"

আল্লাহর কসম, যদি আমি মিথ্যাও বলতাম, তারা আমাকে খণ্ডন করতো না; তথাপি, আমি ছিলাম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, এতই উচ্চবংশজাত যে, মিথ্যা বলা আমার সাজে না। এ ছাড়াও আমি জানতাম যে, যদি আমি মিথ্যা বলি, অন্ততপক্ষে ব্যাপারটি যা হবে, তা হলো এই যে, আমার সম্বন্ধে এই বিষয়ে তারা আমার বিপক্ষে বলাবলি করবে; তাই আমি তাকে মিথ্যা বলিনি। 

হিরাক্লিয়াস বলেন, "আমাকে এই লোকটি সম্পর্কে বলো, যে তোমাদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হয়ে দাবিগুলো করছে।" আমি তার কাছে তার গুরুত্ব কমিয়ে বলা ও তাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করি। আমি বলি, "হে সম্রাট, "তার সম্পর্কে দুশ্চিন্তা করবেন না। তাঁর গুরুত্ব এত কম যে, তার প্রভাব আপনার ওপর বর্তাবে না।" আমার এই কথার কোনো গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, "তার সম্পর্কে আমি যা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবো, তুমি তার জবাব দেবে।" আমি বলি, "জিজ্ঞাসা করুন, যা আপনার ইচ্ছা।"

তিনি বলেন, "তোমাদের মধ্যে কী তার বংশ পরিচয়?" আমি বলি, "বিশুদ্ধ - আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বংশ।" তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "বলো, তার বংশের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে, সে যা বলছে সেরূপ আগে কখনো তা বলেছে, যাতে এমন হতে পারে যে সে তা অনুকরণ করছে?" আমি বলি, "না।"

তিনি বলেন, "তোমাদের ওপর তার কি কোনো কর্তৃত্ব করার অধিকার ছিল, যে কারণে তোমরা পরে তাকে বেইজ্জতি করেছো, আর সে কারণেই সে এই বক্তৃতাগুলো শুরু করেছে এই অভিপ্রায়ে যে, তোমরা তাকে তার কর্তৃত্বের অধিকার ফিরিয়ে দেবে?" আমি বলি, "না।"

তিনি বলেন, "তোমাদের মধ্যে যে লোকগুলো তার অনুসারী, তাদের সম্পর্কে বলো; তারা কারা?" আমি বলি, "দুর্বল, দরিদ্র, তরুণ ছেলে ও নারীরা। যে লোকগুলো বহু বছর যাবত সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত, তাদের কেউই তার অনুসারী নন।" তিনি বলেন, "যে লোকগুলো তার অনুসারী, তাদের সম্পর্কে বলো: তারা কি তাকে ভালবাসে ও তার ওপর অবিচল থাকে, নাকি তারা তার সাথে কলহ করে ও তাকে পরিত্যাগ করে?" আমি বলি, "এমন কোনো লোক নেই যে তাকে অনুসরণ করেছে, অতঃপর তাকে পরিত্যাগ করেছে।"

তিনি বলেন, "তোমাদের ও তার মধ্যের যে যুদ্ধ-বিগ্রহ, সে সম্পর্কে বলো।" আমি বলি, "বিভিন্ন প্রকার - কখনও কখনও আমাদের বিরুদ্ধে সে জয়ী হয়, আর কখনও কখনও তার বিরুদ্ধে আমরা হই জয়ী।"

তিনি বলেন, "আমাকে বলো, সে কি বিশ্বাসঘাতকতা করে?" (এই বিষয়টি ছাড়া তিনি আমাকে তার সম্বন্ধে আর যা যা জিজ্ঞাসা করেছেন, সে ব্যাপারে আমি তার [মুহাম্মদের] চরিত্র সম্পর্কে যুক্তিযুক্ত বিরূপ মন্তব্য প্রকাশের কারণ খুঁজে পাইনি।) আমি বলি, "না; তার সঙ্গে আমরা এক সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ, (আর) আমরা শঙ্কিত এই ভেবে যে, সে আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে।"

ক্যামনে কী!

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

ইছলামী ভুয়া দাবিগুলোর ব্যবচ্ছেদ - ৩

লিখেছেন সিরাজুল হক

অনলাইনে ও অফলাইনে ইছলামী অপপ্রচার চলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। মিথ্যা, ভুয়া ও অবাস্তব ইছলামী দাবিও নিঃশর্তে মেনে নিয়ে "আলহামদুলিল্লাহ"-র ঢেঁকুর তোলে তথ্য যাচাইয়ে অনীহ মুছলিমরা। অবশ্য কুয়ার ব্যাঙ কুয়ার বাইরের খবর রাখবে, তেমন আশা করাটাও নির্বুদ্ধিতা। 

কোরানে নাকি এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য দেয়া আছে, যেগুলো নাকি সেই যুগে অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার বছর আগে অজানা তো ছিলোই, এমনকি কোরানে উল্লেখিত সেই তথ্যগুলো নাকি সাম্প্রতিক বিজ্ঞান সবে আবিষ্কার করছে!

আমি সেই অপপ্রচারগুলোর তথ্যনিষ্ঠ জবাব দেবো এক এক করে।


৭.
ইছলামী দাবি: পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দু'শ বছর আগে। সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে !! 

বাস্তবতা: সুরা লোকমানের ২৯ নাম্বার আয়াতে শুধু বলা হয়েছে যে, দিনের পর রাত আসে, আর সূর্য-চন্দ্র নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে ("তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে।"); এই তথ্য তো সেই আমলের যে কোনো জ্যোতির্বিদই জানতো। এর জন্য আল্লাহ লাগে? আর এখানে কোথায় বলা হয়েছে যে, সূর্যের বিভিন্ন অবস্থানের কারণে দিনের ও রাতের দৈর্ঘ্য আলাদা হয়? এমনকি সে আভাস পর্যন্ত এখানে নেই। কেন নেই, জানেন? কারণ মুহাম্মদ-এর মক্কা ছিলো মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য খুব সামান্য। এবং ঠিক এই কারণেই ইসলামে ৩০ দিন রোজার মতো একটা আপাদমস্তক অবৈজ্ঞানিক একটি রীতি আছে, যেটা মেরু অঞ্চলে পালন করা অসম্ভব (মরু আর মেরুর তফাতও নবী জানতে না), কারণ ওখানে হয় ৬ মাস দিন থাকে, আর ৬ মাস রাত। এতেই বোঝা যায়, ইসলাম আসলে সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য নয়। 

৮.
ইছলামী দাবি: পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা , সমান্তরাল... কোরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে গেছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার। 

বাস্তবতা: কোরানের কোন আয়াতে বলা আছে, পৃথিবীর আকার উটপাখির ডিমের মতো? রেফারেন্স কোথায়? নেই। কারণ, আধুনিক মুসলিমদের নবী জোকার নালায়েক বিচিত্র ও বিবিধ ত্যানা পেঁচিয়ে ও জোড়াতালি দিয়ে এ কথা প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও কোরানের অসংখ্য অনুবাদের কোত্থাও উটপাখির ডিমের কথা উল্লেখ নেই।

তর্কের খাতিরে তবু যদি ধরে নেয়া হয় যে, "কোরানে বলা আছে - পৃথিবীর আকার উটপাখির ডিমের মতো এবং এমন তথ্য কোরানেই প্রথম পাওয়া যায়", সে দাবিও ধোপে টেকে না। কারণ খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ সালের আগে পিথাগোরাস এই কথা বলে গেছেন। এবং সেটা ইসলাম আবির্ভাবের ১১০০ বছর পূর্বে

৯.
ইছলামী দাবি: ভ্রূণতত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে পুরুষই ( শিশু ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। ভাবা জায়... কুরআন এই কথা জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে। ( সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াত, সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭- ৩৯ নং আয়াত) 

বাস্তবতা: সুরা আন-নাজম ৪৫-৪৬ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, "এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী, একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।" এখানে যদি ভ্রূণ সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, তাহলে আয়াতদ্বয় অনুযায়ী - প্রত্যেক ভ্রুণ থেকে এক জোড়া নারী-পুরুষ সৃষ্টি হবার কথা। আমরা সবাই জানি, বাস্তবে তা হয় না। যা মনে চায় ব্যাখ্যা দিলেই হলো, তাই না? আর সুরা আল ক্বেয়ামাহ ৩৭-৩৯ আয়াত দুটো বলে, "সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।" এখানে ভ্রূণতত্ত্ব কোথায়? আর কোথায়ই বা বলা হয়েছে, হবু-সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে?

মুসলিমদের কী মজা! যখন যেটা আবিষ্কার হবে, সেটা কেড়ে নিয়ে আউট অব কন্টেক্সট কোরানে বসিয়ে দিয়ে "১৪০০ বছর আগে কোরানেই এ কথা বলা ছিলো" বলে ছাগুসুলভ লাফালাফি করে তারা। আল্লাহ তো আপনাদের মতো অর্বাচীন, তাই সুরা আন-নাজসে কিয়ামত নিয়ে কথা বলতে বলতে হঠাৎ সেক্স নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে!:/

অক্সিজেন অপেক্ষা ইছলাম গুরুত্বপূর্ণ

১৮ এপ্রিল, ২০১৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০৫

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


জিহাদ-যুদ্ধ-ধর্মযুদ্ধ

মক্কায় অবস্থানের সময় (নবী হিসেবে ১৩ বছর) মুহাম্মদ আপাতদৃষ্টিতে শান্তিপ্রিয় বাণীপ্রচারক ছিলেন, যদিও এ মত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়! দুর্বল মানুষ যেভাবে রাগ-ক্ষোভ বুকের ভেতর পুষে রাখে, মুহাম্মদ ছিলেন ‍ঠিক তেমন জাতের মানুষ। মদিনায় এসে ক্রমশ মুহাম্মদের আসল মরুদস্যু-রূপ প্রকাশ পেতে থাকে, আর তাতে ঘি ঢালতে থাকে মক্কার ১৩ বছরের জমে থাকা রাগ আর ক্ষোভ! চলুন, হাদীসে সন্ধান করি মুহাম্মদের মরুদস্যু-রূপ।
বুখারী-১-৭-৩৩১: মুহাম্মদ বলেন: আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। (১) আমাকে ত্রাস-ভয়-আতঙ্ক দেখানোর ক্ষমতার মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে, যে একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়। (২) সমস্ত জমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে; কাজেই আমার উম্মাতের যে কোনো লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে। (৩) আমার জন্য গনীমতের (যুদ্ধ-হামলায় প্রাপ্ত) মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি। (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফাআতের অধিকার দেওয়া হয়েছে। (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।
মুসলিম-১-৩১: মুহাম্মদ বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া; আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে।
ইসলামের মূল বিষয় যুদ্ধ বা জিহাদ। জিহাদ ছাড়া ইসলামের ভিত্তি চাকা-ছাড়া গাড়ির মত। চলুন, দেখে আসি হাদীসে!
বুখারী-২-২৬-৫৯৪: মুহাম্মদ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বলেন: হজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবুল হজ্জ)।
জিহাদ না করার ইচ্ছা, মুসলিমকে মুনাফিকের মৃত্যু দেয়! আর তাই কারও উচিত নয় যুদ্ধবিদ্যা ত্যাগ করা।
মুসলিম-২০-৪৬৯৬: মুহাম্মদ বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, অথচ কোনদিন জিহাদ করলো না বা জিহাদের কথা তার মনে কোনো দিন উদিতও হলো না, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যু বরণ করলো।
বুখারী-৪-৫২-১৪৬: মুহাম্মদ বলেছেন: এমন এক সময় আসবে যখন এক দল লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের সাথে কি নবী-এর সাহাবীদের কেউ আছেন? বলা হবে, হ্যাঁ। তারপর (তাঁর বরকতে) বিজয় দান করা হবে। তারপর এমন এক সময় আসবে, যখন জিজ্ঞাসা করা হবে, নবী-এর সাহাবীদের সহচরদের (তাবেঈন) মধ্যে কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছেন? বলা হবে, হ্যাঁ। তারপর তাদের বিজয় দান করা হবে। তারপর এমন এক যুগ সময় আসবে যে, জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছেন, যিনি নবী-এর সাহাবীদের সহচরদের সাহচর্য লাভ করেছে, (তাবে-তাবেঈন)? বলা হবে, হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে।
মুসলিম-২০-৪৭১২: মুহাম্মদ-কে আমি বলতে শুনেছি, অচিরেই অনেক ভূখণ্ড তোমাদের পদানত হবে। আর শক্রদের মোকাবেলায় আল্লাহই তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হবেন। তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তীর নিক্ষেপের খেলার অভ্যাস ত্যাগ না করে।
মুসলিমের জন্য জিহাদে অংশগ্রহণের চেয়ে বড় কিছুই হতে পারে না, আর মক্কা অধ্যায় শেষ হবার পর মুসলিমের জন্য আর জিহাদ ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই! জিহাদের ডাকে তাই পেছন ফেরার সুযোগ নেই কোনো মুসলিমের।

ডাইনোসর-তত্ত্ব

কুদরতিক্রিয়া - ১৭

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪৩.
বুলি নাই... বুলি নাই...
৫ ই মের শাফলা সত্তরে সেক হাসিনার ফুলিস বাহিনির হাতে ফুটকির মইদ্দে লাডির ফিডা গুলা আজো বুলি নাই...

সফি হুজুর, আমার ফুটকি তেকে লাডির বারির দাগ একনো যায় নি। অতস আজিয়া আফনি সেই হাসিনার সাতে আতাত কইল্লেন! মুনে রাকবেন, আমার ফুটকির দাগের সাতে বেইমানি কইল্লেন সফি হুজুর। আফনি আর আফনার সেলে মিলে ত কুটি কুটি টেকা কামাই কইল্লেন। অতস আমার ফুটকির জইন্ন ফাচ টেকার মলম কিনিও দিলেন না, হুজুর। কুনু দিন একটু কুজ নিয়ে দেইকলেনও না কেমুন আচে আমার ফুটকির সেই দাগগুলু। 

ফ্রতি বসর ৫ ই মে আইসলে মুনে ফড়ি যাই ফুলিসের লাডির আগাতে কত-বিক্কত আমার সেই ফুটকি নিয়ে রাইতের আদারে কান দরি ফলায়নের কতা। দির্গ একমাস কি যে যন্ত্রনা বুগ করাসি, তা আমার মুনে তাইকবে, হুজুর। বুকের বেথা বুকে সাফা দিয়ে তবুও আফনাক সুন্মান করে যাবো, হুজুর। কিনতুক মুনে রাইকবেন, হাজার আলিমের কত-বিক্কত ফুটকির মাজে দারিয়ে আফনি সেক হাসিনার সাতে কানা কাইলেন।

৪৪.
মুরতি হডাও...
সারা দেসে কাডল গাস লাগাও...

৪৫.
আমাগের মাদেসায় বইশাকি সেসনে মাসটর্স বরতির জইন্ন আবেদন ফকরিয়া সুরু হইতেসে। যারা যারা আমাগের মাদেসায় মাসটার্স বর্তি হতি সান, তারা সিগ্রই আবেদন ফত্র ফুরন করে মাদেসার কেরানি মুহাম্মদ ইচলাম (ছুট) এর কাসে জমা দিন। ইংরাজি মাইদ্যম তেকে যারা মাদেসায় মাসটর্স কইত্তে আইসবেন, তাদেরকে বিশেস যত্ন সহকারে ফড়ানু হবে। 

এসাড়াও রয়েসে আবাসিক সুবিদা সহ উন্নত মানের সাত্রাবাস ও লজিং। গরিব কওমি সাত্রদের বিসেস বিত্তি ফ্রদান করা হবি। বিএচচি সাত্রদের কে মেদা তালিকায় উফরে রাকা হবে, তাদের জইন্ন তাইকবে বিসেস মেদা ফুরুস্কার। আজই আমাগের মাদেসায় মাসটর্স বর্তি হয়ে দুনিয়া ও আকিরাত এ বিসেস নেকি হাসিল করুন। বর্তি ফকরিয়া সইলবে আগামি ৩ মাস বেফি।

ও জান, আজান

১৭ এপ্রিল, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪১


লিখেছেন নীল নিমো

জাহান্নামি নাস্তিকদের যন্ত্রণায় ঠিকমত কোরান তেলোয়াত করতে পারছি না। আজকে আমি সুরেলা কন্ঠে, মাখরাজ গুন্না সহকারে কলকলা হরফ সঠিকভাবে উচ্চারণ করে কোরান তেলোয়াত করছিলাম। যার বাংলা অর্থ নিম্নরূপ:

"হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ত করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণ করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য - অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।" [কোরান ৩৩:৫০]

এক নাস্তিক আমাকে বাধা দিয়ে জিজ্ঞাস করল:
- হুজুর, "নবীজির অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে" বলতে আল্লাহ কী বুঝাচ্ছেন? নবীজির কী এমন অসুবিধা ছিল?

আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি তাকে তেতুল তত্ত্ব শুনিয়ে দিলাম:
- তেতুল দেখলে জিভে যেমন পানি আসে, ঠিক তেমনি মেয়ে মানুষ সামনে পড়লে ... এই পানি আসে। এইটা মুসলমান ঈমানদার পুরুষ মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি পানি না আসে তাহলে বুঝতে হবে আপনি পুরুষ না।

নাস্তিক বলল:
- হুজুর, কিছুই বুঝলাম না।

আমি উত্তর দিলাম:
- আপনি আন্ডারওয়ার পরেন কেন? নিশ্চয়ই বিব্রতকর অসুবিধাজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে? নবিজী আন্ডারওয়ার পরিধান করতেন না। তাই নবীজির অসুবিধা দূর করতে আল্লাপাক উপরোক্ত আয়াত নাজিল করেছেন।

মুর্খ নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, কিছুই বুঝলাম না।

আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বললাম:
- ওরে জাহান্নামি নাস্তিক, তুই awkward boner লিখে গুগলে সার্চ দে।

গুগলে সার্চ দিয়ে নাস্তিক এসে বলিল:
- ছি, ছি, ছি নবীজিরে অনেক ভাল মনে করছিলাম। নবিজির কি ২৪/৭ awkward boner হয়ে থাকত?

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, কোরানের সব কিছু নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা ঠিক না, ঈমানে ঝাকুনি লাগতে পারে।

পল্টিবাজ কোরান - ১০

নাস্তিকদের অবাধ ও বিকৃত যৌনাচার

লিখেছেন আক্কাস আলী

সব সময়ই তো মুমিনদের লুঙ্গি ধরে টানাটানি করি, মহামানবদের নামে কুৎসা রটাই। একজন নাস্তিক হিসেবে আজ নিজেদের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। নাস্তিকদের একদম তলের খবর বলতে পারেন। অধিকাংশ নাস্তিকই সেক্সের ব্যাপারে একদম লাগামছাড়া, অজাচারে অভ্যস্ত বিকৃত যৌনতার লোক। ফেসবুকে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে অনেক নাস্তিক বন্ধুরই কিছু গোপন কথা আমি জানি, যা আজ জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেবো, তাদের আপত্তি সত্ত্বেও। তো চলুন, কিছু রসময় কাহিনী শুনি।

➤ কেস স্টাডি ১:
মিনহাজুল ইসলাম পাটওয়ারী (ছদ্মনাম), মুক্তমনা এই বন্ধুটি সম্পর্কে না বললেই নয়। মিনহাজ ভাই বিড়ি সিগারেট একদমই পছন্দ করেন না, তবে ড্রিংস করেন রেগুলার। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ২/৩ টা মেয়েবন্ধু সহ ফুওয়াং ক্লাবে গিয়ে ড্রিংস করেন, করেন নাচগান... ফস্টিনস্টি... একটা কথা না বললেই নয়, তিনি সবকিছুই দলীয়ভাবে করতে পছন্দ করেন, হোক সেটা বেড়াতে যাওয়া কিংবা সেক্স করা।

➤ কেস স্টাডি ২:
হাবিব আমার খুবই ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু। এই নাস্তিক বন্ধুটির বাসা রামপুরা, আমার বাসার খুব কাছেই। হাবিব ও আরও দু'জন মিলে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে। হাবিব ঢাকার একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়াশুনা করে। আর রুমমেট দুজন চাকুরিজীবী। তো, হাবিবদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে যে, ওদের বাসায় কোনো কাজের মেয়েই সপ্তাহখানেকের বেশি টেকে না। কারণটা আর কেউ না জানলেও আমি জানি। হাবিব একটু লুইচ্চা টাইপের, কাজের মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা ওর আসল উদ্দেশ্য। খালি বাসায় সুযোগ বুঝে কুপ্রস্তাব দেয়, রাজি না হলেই ঐ মেয়ের চাকরি নট। আর রাজি হলেও অল্প কিছুদিন মজা করে তাকে বিদায় করে আবার নতুন কাজের মেয়ে খুঁজতে থাকে। কথায় আছে, চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন। সর্বশেষ যতটুকু জেনেছি, হাবিব শুভকাজরত অবস্থায় এলাকাবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। অতঃপর, হালকার উপর ঝাপসা উত্তম-মধ্যম খেয়ে ঐ বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

➤ কেস স্টাডি ৩:
মাহবুব আলম (ছদ্মনাম) আমার খুব ভালো একজন অনলাইন বন্ধু। তবে তার কিছু কিছু দিক আমার খুবই খারাপ লাগে। সে তার কলেজ পড়ুয়া ছোট বোনের সাথে খুবই অন্তরঙ্গ। ইনবক্সে মাঝে মধ্যে দুজনের এমন কিছু আপত্তিকর পিক পাঠাতো আমাকে, আমি নিজেই টাশকি খেয়ে যেতাম। যাহোক, আর বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না, তাদের ভাই-বোনের মাঝে কীরকম সম্পর্ক, সেটা ধারণা করা যেতে পারে।

➤ কেস স্টাডি ৪:
এবার বলবো অতি আধুনিক এক পরিবারের কথা, যে-পরিবারের সকল সদস্যই নাস্তিক। তাঁরা থাকেন জার্মানির মিউনিখে। ফ্যামিলির একমাত্র ছেলেটি অনলাইনে খুবই সক্রিয়, সবসময় মানবতার পক্ষে লেখালেখি করে। ফেসবুকে সে 'কালোবিড়াল' ছদ্মনামে লেখে। যাহোক, কিছুদিন আগে আমাদের কালোবিড়াল ভাইয়ের বিয়ের কথা হচ্ছিলো। জার্মান প্রবাসী এক বাঙালী পরিবারে গেলেন পাত্রী দেখতে। কালোবিড়াল ভাই যখন পাত্রী দেখতে গিয়েছিলেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে, তখন পাত্রীর ছোটবোনকে দেখে পছন্দ করে ফেললেন কালোবিড়াল ভাইয়ের বাবা! পুত্রের জন্যে নয়, নিজের জন্যে! আস্তাগফিরুল্লাহ! বলতে চাই না, আবার না বলেও পারছি না, এতো উন্নতমানের লুইচ্চা নাস্তিক আমি খুব কমই দেখেছি। আঙ্কেল নিজের ছেলের জন্যে পাত্রী দেখতে গিয়ে পাত্রীর ছোটবোনকে নিজের জন্যে পছন্দ করে ফেললেন! অবশেষে যা হওয়ার, তা-ই হলো; মেয়ের পরিবার তো আর নাস্তিক নয়, এসব আঁচ করতে পেরে তাদের অনেকটা অপমান করেই তাড়িয়ে দিয়েছিলো।

➤ কেস স্টাডি ৫:
খুলনার এক তরুণ নাস্তিকের সাথে পরিচয় হয়েছে কিছুদিন হলো। তিনি প্রেম করেন তাঁর ভাতিজীর (চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে) সাথে। মেয়েটা কিন্তু খাঁটি মোমিনা, কিন্তু তারপরও এই প্রেমে কীভাবে রাজি হলো, সেটাই ভাবছি।

...

নাস্তিকদের এরকম বিকৃত আচরণ নিয়ে লিখলে আরও অনেক লেখা যাবে। নাস্তেকদের কোনো ধর্ম নেই, জাহান্নামের ভয় নাই, এইজন্যেই বোধহয় ওরা এসব করে বেড়ায়। এখন নাউযুবিল্লাহ বলে এইসব কুলাঙ্গার নাস্তিকদের মুখে তিনবার থুতু ছুড়ে মারা আপনার ঈমানী দায়িত্ব।

থুতু মেরেছেন? 
আলহামদুলিল্লাহ... খুব ভালো করেছেন... তো, চলুন এবার দেখি আপনার ছোড়া থুতু কার মুখে গিয়ে পড়লো।

ওপরে বর্ণিত সব কেস স্টাডির চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কোনো নাস্তিকের সাথে এই কেসগুলো সম্পর্কযুক্ত নয়। সবগুলো কেসের ক্ষেত্রে নাস্তিকদের পরিবর্তে কোন মুমিন কিংবা নবী-রাসূলের নাম বসাতে হবে। ব্যাখ্যা করছি এক এক করে।

হিজাবী হুরি যতো - ১২

১৬ এপ্রিল, ২০১৭

আমাদের মায়েরা

লিখেছেন পুতুল হক

কিছুদিন ধরে দেখছি, পাড়ার মসজিদে এশার নামাজের পর আরবি বর্ণমালা, কোরআন, হাদিস শেখানো হচ্ছে ছেলে-বুড়ো সবাইকে। ঘরে ঘরে জিহাদি বুঝি এবার তৈরি হবেই হবে। 

একটা পরিবারে কোনো সন্তানের মাথায় যখন জিহাদের ভূত চাপে, তখন সে পরিবারের সবার ওপর দিয়ে কী যে দুঃসহ ঝড় যায়, তা আমি কাছ থেকে দেখেছি। আমার একমাত্র চাচাতো ভাই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে পড়তো। আমিও তখন ছোট। স্বাভাবিকভাবে ছোটবেলা থেকেই মোল্লা টাইপ কথা বলত। মুরুব্বিরা সেসব কথা হেসে উড়িয়ে দিতেন। সে যখন মাত্র ক্লাস ফোরে বা ফাইভে পড়ে, তখন থেকে সে তার মা, বোনদের পোশাক ও চলাফেরার ওপর খবরদারি আরম্ভ করে। 

ছেলে পড়ালেখায় খুবই ভালো, তাই চাচা-চাচী কিছু বলতেন না। বছর বছর তাঁর খবরদারি বাড়ে এবং তা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে আসে। চাচাতো বোনদের পোশাক, সাজসজ্জা আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে এমন অশালীন কথা বলতে আরম্ভ করলো যে, প্রায়ই সেই সংসারে কান্নাকাটি, ঝগড়া হতে থাকলো। তবুও চাচা-চাচী ছেলেকে কিছু বলেন না, কারণ একমাত্র ছেলে, তদুপরি সাংঘাতিক মেধাবী। আর ছেলে তো দ্বীনের রাস্তাতে আছে, অসুবিধা কী! শীতকালেও ফজরের নামাজ পর্যন্ত মসজিদে জামাতে পড়ে আসে। প্রায় সব নামাজ সে জামাতে আদায় করে। তার ইজতেমা থেকেও ঘুরে আসা হয়ে যায়। 

সবার টনক নড়ে এসএসসি পরীক্ষার আগে যখন সে ঘোষণা দিলো যে, দুনিয়াদারির পড়ালেখা সে আর করবে না। দ্বীন শিক্ষা করবে, দ্বীনের রাস্তায় চলবে। চাচা-চাচীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। আব্বু রোজ বিকেলে চাচার বাসায় যায় ভাতিজাকে বোঝাতে। যেখানে যত আত্মীয়-বন্ধু আছে, সবাইকে খবর দেয়া হয় ছেলেকে বোঝানোর জন্য। কিন্তু তার কথা খুব উগ্র আর ভয়ংকর। পারলে তখনই শহীদ হয়। চাচী বিছানা নিলেন। চাচা কোনোরকমে অফিস করেন। বেশিরভাগ সময় ছেলেকে পাহারা দিতে বাসাতেই থাকেন। 

অনেকের অনেকদিন ধরে বোঝানোর পর সে পরীক্ষা দিতে রাজি হয় এই শর্তে যে, এসএসসি পাশের পর তার পড়ালেখার ব্যাপারে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। চার মাস ব্যাপী ২৪ ঘন্টা আমার কাজিনকে পাহারা দিতে কেউ না কেউ সাথে থাকে। কোনো জামাতি বা হুজুর টাইপের লোকের সাথে তাকে একটা কথাও বলতে দেয়া হয়নি। মসজিদে, মাঠে, কোচিং-এ, যেখানেই গেছে, কেউ না কেউ তার সাথে ছিল। পরীক্ষার পরেই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন আত্মীয়দের বাড়িতে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পাড়ায় এবং স্কুলে যে গ্রুপগুলো তাকে দ্বীনের রাস্তায় আনার মহান দায়িত্ব পালন করেছিল, তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে দেয়া হয় না। 

পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম কুড়ি জনের মধ্যে আমার কাজিন। খুশি খুশি খুশি। তার চিন্তাভাবনার কাজ শুরু করার আগেই তাকে নটরডেম কলেজে ভর্তি করা হলো। কাজিনটা আজও জানে না, তার মা তখনও তাকে কীভাবে পাহারা দিয়ে রেখেছিল। চাচীকে পার না হয়ে বাতাসেরও সাধ্য ছিল না তার ছেলের কাছে যায়। আমার ভাইটা বুয়েট থেকেও ভালো রেজাল্ট করে। জিহাদের ভূত তার মাথাতে আর আসেনি। 

তখন দেখেছি চাচা-চাচী মোহাম্মদ বা আল্লার চাইতে তাদের ছেলেকে বেশি ভালোবাসেন। ধর্মের চাইতে সন্তান বড়। আমার মা-বাবা, চাচা-চাচী, এরা সবাই বাঙালী মুসলমান। নিজেদের কখনো আরবের লোক ভাবেননি। তাদের চলনে-বলনে কখনো আরবীয় সংস্কৃতি ফুটে ওঠেনি। ছেলের কথায় জিহাদি ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল, এতেই মায়ের কলিজা ফেটে চৌচির। শহীদ হবার জন্য ছেলের গায়ে বোমা বেঁধে দেয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। 

আমাদের মায়েরা গড়পড়তাভাবে এমনই হয়ে থাকেন। আমাদের নরম মাটি, মিষ্টি জল, হারমোনিয়াম, একতারা, বাঁশি, নতুন গুড়ের ক্ষীর, নতুন চালের পিঠাপুলি, বড়শীর আগায় ছটফট করা তাজা মাছ, সুয়োরাণী-দুয়োরাণী, সূচরাজা, বেহুলা-লক্ষিন্দর, ‌ঈদ-পুজা আমাদের মায়েদের এমনই করে গড়ে।

মোল্লাচার

ইস্টার বিষয়ে বিস্তর বিভ্রান্তি

যে কোনও ধর্মগ্রন্থ মানেই পরস্পরবিরোধী বাণীর খনি। এই যেমন, বাইবেল (শব্দটিতে এ-কারের বদলে আ-কার বসাতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলাম) নামের ঐশী কিতাবে পরস্পরবিরোধিতার সংখ্যা কতো, কে জানে! তবে একটি সাইটে ১০০০ টি অসঙ্গতি উল্লেখ করা আছে। অবাক হবার কিছু নেই। আদিম কালের মরু-মেষচালকদের রচনা তো এমনই হবার কথা। 

বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে সর্বমোট বইয়ের সংখ্যা সাতাশ। তার মধ্যে চারজন লেখকের (মথি, মার্ক, লুক, জন) রচিত চারখানা বইয়ে বর্ণিত হয়েছে যিশুর জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের গালগল্প। সেগুলোকে বলা হয় গসপেল ('গসিপ' বললে যথার্থ হতো, কারণ সবই শোনা কথার ভিত্তিতে লেখা), যার অর্থ - শুভ সংবাদ। বাংলা বাইবেলে এই বইগুলোর নাম - মথি লিখিত সুসমাচার, লুক লিখিত সুসমাচার... ইত্যাদি।

তো এই চার লেখকের দেয়া অনেক তথ্যই বিস্তর বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। এসবে ইস্টার অর্থাৎ মৃত্যুর পরে যিশুর আবার জীবিত হবার ঘটনা সংক্রান্ত বিবিধ তথ্যভিন্নতা বিষয়ে চমৎকার একটি নিবন্ধে চোখ বুলিয়ে নিন। কয়েকটি উল্লেখ করা যাক:

১. স্থাপনের আগে ক্রুশটি বহন করেছিল কে?
   (তিন লেখক বলছে - সাইমন, চতুর্থজন লিখছে - যিশু)

২. ক্রুশের ওপরে কী লেখা ছিলো?
   (চার লেখক দিয়েছে চারটি ভিন্ন ভার্শন)

৩. যিশুর সর্বশেষ বাণী কী ছিলো?
   (চারজন উদ্ধৃত করেছে তিন রকম বাণী)

৪. রোববারে মেরি মাগদালিনের সঙ্গে কে কে গিয়েছিল সমাধিস্থলে?
   (চার লেখকের চার ভার্শন)

৫. মেরি মাগদালিন কোন সময়ে সমাধিস্থলে গিয়েছিল?
   (চারজনের কথায় মিল নেই)

৬. সমাধিস্থলে গিয়ে মেরি মাগদালিন (ও তার সঙ্গী/সঙ্গীরা) কী দেখেছিল?
   (চার লেখক লিখেছে ভিন্ন ভিন্ন কথা)

৭. মেরি মাগদালিন (ও তার সঙ্গী/সঙ্গীরা) কি কবরে ঢুকেছিল?
   (তিনজন 'হ্যাঁ' লিখলেও একজন লিখেছে 'না')

...ইত্যাদি।

ইস্টার: পোস্টার-কার্টুন-ছবি

বাইবেল নামের ফিকশনে উল্লেখিত কাল্পনিক চরিত্র যিশু ক্রুশবিদ্ধ হবার তিনদিন পর নাকি আবার জীবিত হয়ে ওঠে। তার সর্বক্ষমতাময় বাপ কেন যে তাকে মরতে দিয়েছিল, আবার পরে বাঁচিয়েই বা তুলেছিল কেন, কে জানে! খ্রিষ্টধর্ম মতে, সে মরেছিল তার অনুসারীদের পাপের ভার নিয়ে। তার অনুসারীদের সঙ্গে এই ছিলো তার চুক্তি। কিন্তু তা-ই যদি হবে, তাহলে আবার জীবন্ত হয়ে উঠে সে কি চুক্তি লংঘন করলো না?

সর্বমোট ন'খানা পোস্টার-কার্টুন-ছবি।



১৫ এপ্রিল, ২০১৭

এক ঈশ্বরের সাথে বাক্যালাপ

লিখেছেন সরকার আশেক মাহমুদ

আজ বিকালে হাঁটার সময় হঠাৎ এক পরিচিত ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়ে গেল। তবে এই ঈশ্বর ভদ্রলোক এখন রিটায়ারমেন্টে আছেন। তাঁর গ্রীক নাম Mr. Poseidon, তবে রোমানরা তাঁকে ডাকে Neptune নামে।

একদা তিনি খুবই প্রতাবশালী পূজনীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অথচ সমুদ্র-দেবতা হওয়া সত্ত্বেও ইদানীং তাঁকে কেউ পাত্তাই দেয় না। ভদ্রলোককে দেখলে খুব মায়া হয়। তাই আজ আবার বললাম, "কী খবর, কেমন আছেন?"

"তুই আবার এসেছিস, দূর হ এখান থেকে!" বয়সের ভারে অবসরকালীন বিরক্তিতে এবং সম্মান হারাবার দুঃখে বেচারা একটু বদমেজাজিই বটে।

আমি বললাম, "এত চ্যাতেন কেন, একদিন না একদিন সবাইকেই অবসরে যেতে হয়। একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার সমসাময়িক কতজন তাঁদের পজিশন ধরে রেখেছেন এখনও পর্যন্ত?" এই বলে Wikipedia থেকে অন্যান্য সমুদ্রে দেব-দেবীগণের অতিকায় তালিকা থেকে নাম পাঠ করা শুরু করলাম।

কিন্তু তিনি আমাকে থামিয়ে দিলেন, বললেন:
- ঐ থাম থাম! আগে বল, আমাদের সবাইকে অবসরে পাঠায়ে লাভ কী হইছে?

আমি বললাম:
- মানে?

- দ্যাখ, আগেও তোরা একাধিক ঈশ্বর থাকলেও মারামারি কাটাকাটি করতি, এখনো এক ঈশ্বর বানিয়েও মারামারি চালাইয়া যাচ্ছিস। কোনো সমস্যার সমাধান হইছে? তোরা মরুভুমির ঈশ্বর মানলেই কী আর সমুদ্রের ঈশ্বর মানলেই কী! কামড়াকামড়ি থামবে না। মাঝখান থেকে আমার ইজ্জত গেল - দেশ-বিদেশের আদমেরা আইসা এখন আমার লগে সেলফি তোলে।


আমি তাঁর তীক্ষ্ণ ত্রিশূলের দিকে তাকিয়ে আর তাঁর উগ্র মেজাজ লক্ষ্য করে প্রস্থান করলাম। ঈশ্বরদের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করার চেষ্টা করা আসলে অর্থহীন।

তল্লাশির কারণ

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৯ – (আল্লাহ ও ইসলাম অনুসারে - হাদীস মানা হারাম!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


কিছুদিন ধরে ইন্টারনেটে অষ্ট্রেলীয় শিয়া ইমাম শেখ মোহাম্মদ তাওহিদী-র (Imam Shaikh Mohammad Tawhidi) কিছু ভিডিও চোখে পড়ছে! তিনি সরাসরি হাদীস সংকলন সহিহ্ বুখারী-কে নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন! তার মত অনুসারে, এই আধুনিক যুগে ইসলামের সকল ভুল ব্যাখ্যা, অনাচার আর জঙ্গিবাদের মূলে আছে বুখারীর হাদীস সংকলন! এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সুন্নী ইমামদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেছে! আগ্রহীরা গুগল করে সত্যতা যাচাই করতে পারেন।

যাক! অবশেষে ঘরের ভেতর থেকে কেউ ইসলামের ফাঁক-ফোঁকড়ের মূলে হাত দিতে শুরু করেছে! হোক না সে শিয়া বা সুন্নী! তবে আমার মতামত আরও মারাত্মক! যদি কোনো মুসলিম সত্যিকার অর্থে কোরআনকে সৃষ্টিকর্তার (!) বাণী হিসাবে গণ্য করেন, তবে তাঁকে কোরআন বাদে সকল হাদীস গ্রন্থকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে! কারণ: আল্লাহ কোরআনে একাধিকবার হাদীস মানতে নিষেধ করেছেন! কী, বিশ্বাস হচ্ছে না! চলুন, প্রমাণ করি, আল্লাহ ও ইসলাম অনুসারে - হাদীস মানা হারাম!

কোরআন নিজেকে পরিপূর্ণ জীবনবিধান দাবি করে এবং এ-ও দাবি করে কোরআন মানুষের জন্য যথেষ্ট! এর বাইরে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই! কোরআনে বলা হয়েছে:

"…হুকুমের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়..." (৬:৫৭)

"এটা কি (কোরআন) তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে,
আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি,
যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়।
এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্যে রহমত ও উপদেশ আছে।" (২৯:৫১)

"আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন?
অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়।" (৩৯:৩৬)

হাদীস একটি আরবী শব্দ এবং কোরআনে হাদীস শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে অনুবাদের ক্ষেত্রে হাদীস শব্দটির ভিন্ন ভিন্ন মানে করেছেন অনুবাদকগন; যেমন: “বাণী/কথা/পর্যালোচনা/কথাবার্তা/বাক্য/ধর্মোপদেশ/কালাম/রচনা/কিতাব”। ইসলাম অনুসারে, কোরআন হচ্ছে আল্লাহর হাদীস, এবং আল্লাহ চান কোরআন ছাড়া মুসলিমগন অন্য কোনো হাদীস অনুসরণ না করুক। আমরা যদি আয়াতের বাংলা অনুবাদ করার সময় হাদীস শব্দটির অনুবাদ হাদীস-ই রেখে দেই, তবে বিষয়টি পানির মত পরিস্কার হয়ে যাবে পাঠকের কাছে! চলুন, কয়েকটি আয়াত দেখি:

কোরআন মুসলিমদের বলে:
“তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাআলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর আর কোন হাদীসের উপর ঈমান আনবে?” (৭:১৮৫)

“এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশে
অবান্তর হাদীস সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” (৩১:৬)

“এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে।
অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে।” (৪৫:৬)

“যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে,
তবে এর (কোরানের) অনুরূপ কোন হাদীস উপস্থিত করুক।” (৫২:৩৪)

“এরপরে (কোরান ছাড়া) আর কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে?” (৭৭:৫০)

যেসকল পাঠক দ্বিধায় পড়ে গেছেন, তাঁদের জন্য কয়েকটি আয়াতের বাংলা উচ্চারণ দিয়ে দিলাম; খুঁজে দেখুন, হাদীস শব্দটি আছে কি না!

সম্পর্কের ধাঁধা

১৩ এপ্রিল, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৫

লিখেছেন ইমানুল হক

৭.
শুক্রবার গটেছে গটনাডা। জুম্মার নামাজে গেছি সহাল সহাল। নতুন বিবি (৩ নম্বর বিবি) মজ্জিনাই ফাঞ্জাবি-টাঞ্জাবি ফড়াই, খাওয়াই নামাজে পাডাইছে। অযু কইরা মজ্জিদে বইছি, হুজুরে দেহি খুতবা পাট কইত্তাছে। হুজুর কইতাছে:

- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাতালার বড়ই মেহেরবানি যে, তিনি আমাগের উফর কুরআন অবতীর্ণ করেচেন। আমাগের মুচলিম ইসেবে ফেরন করেচেন। আমাগের ফ্রিয় নবি অযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত ইসেবে দুনিয়াত পাঠিয়েচেন। চুব্যানআল্লাহ। আজ আমরা জানমু, আল্লাহ জান্নাতে মুমিনগো লাইগ্যা কি কি নিয়ামত রেখেচেন, তা নিয়ে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেচেন, "জান্নাতবাসীরা জান্নাতের মধ্যে পানাহার কইরবে; কিন্তু পেশাব-পায়খানা কইরবে না, তারা নাক ঝরাবে না।" বলুন চুবানাল্লা। 

সবাই সমশ্বরে বইল্লাম, "চুবানাল্লা। হুজুর কতা চালাই গেলেন:
- এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন, "মহান আল্লাহ বলেচেন, 'আমি আমার ফুণ্যবান বান্দাদের জইন্য এমন জিনিস ফ্রস্তুত রেখেচি, যা কুন চক্ষু দর্শন করেনি, কুন কর্ন ছ্রবন করেনি এবং যার সম্পর্কে কুন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি। (সূরা সাজদাহ ১৭) (সহীহুল বুখারী ৩২৪৪, ৪৭৭৯,৪৭৮০)। সিষ্টির সেরা মাক্লুকাতকে আল্লাহ এমন জিনিস বেস্তে দিবেন, যা কেউ দেকেনি, ছোঁয় ও নি। আলামদুলিল্লা। তাচাড়া বুখারী-মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আচে যে, "জান্নাতে) তাগের পা হবে স্বর্ণের, তাগের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধময়। তাগের ফ্রত্যেকের জইন্য এমন দুইজন স্ত্রী তাইকবে, যাগের সৌন্দর্যের দরুন মাংস ভেদ কইরা ফায়ের নলার আড়ের মজ্জা দেহা যাইবে। তাগের মইধ্যে কোন মতভেদ তাইকবে না। ফারস্ফরিক বিদ্বেষ তাইকবে না। তাগের সহলের অন্তর একডা অন্তরের মত হবে। তারা সহাল-সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠে রত তাইকবে।" আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুবাহানঅতায়ালা এই চকল নিয়ামত রেকেচেন শুধু উম্মতে মুহাম্মাদীর জইন্য। বলেন চুবানাল্লা। 

আমি সবাইর সাত সাত কই উটলাম, "চুবানাল্লা"। হুজুর এইটা কইয়া, যে যে সুন্নত ফরে নাই, তাগের সুন্নত ফড়ার জন্য বইল্ল্যেন। নামায ফইত্তে দারাইলাম। আর মনে অই গেল হেই হুরির কতা, যেইডা মাত্রই হুগুুর বইন্যনা কইল্ল্যেন। তাগের ফায়ের মাংস নাকি বের হইয়া নলার মজ্জা দেহা যাইব। আরে কত চুন্দর!! যদি এই দুইন্যায় ফাইতাম, তালি দিন রাইত তারি লই আদর ছোহাক কইত্তাম। 

এই কতা ভাইবতে ভাইবতে নিজেরে আটাকাইতে পাইরলাম না, চুরা পরার আগেই কাম অইয়া গেল। আমি নামাচ থুই বাড়ির দিকে জোরে আটা দিলাম, ওদিকে জইল্লার বাফে ফিছন থিকি ডাইক পাইত্তাছে... ও ইমানুইল্লা কই যাও, এদিকে আমি তার কতায় কান না দিয়া তারাতারি বারি ফিরি আমার ছোড বোউ মজ্জিনারে কুইজতে লাইগলাম। দেহি, আমার বউ পাশের বারির মাইয়াডার লগে ফুতুল খেইলতেছে। আমি যাই লাথি মাইরা ফুতুল কেলা ভেঙ্গে দিলাম আর তারে ফুতুল কেলা থেইক্যা উঠ্যাইয়া টাইন্তে টাইন্তে গরের সিকল লাগাইলাম। এরপর নিজেরে ঠান্ডা করি ফরজ গোসল কইত্তে চইল্লাম।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৬

হিন্দু শিশুশিক্ষা

নিমো হুজুরের খুতবা - ৪০

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে ওয়াজ করছিলাম:
- পহেলা বৈশাখ চলে আসলো। নাস্তিকরা মেয়েদের ওড়না, শাড়ি ধরে টানাটানি করবে, মদ খাবে, অশ্লীলতায় মেতে উঠবে…”



কথা শেষ করতে পারলাম না, এক জাহান্নামি নাস্তিক বাম হাত ঢুকিয়ে দিল:
- হুজুর, নাস্তিকরা নয়। বরং মুমিন্সরা এই কাজ করে। তাছাড়া তাহারাশ (Taharrush) হল অ্যারাবিক কালচারের অংশ।

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, এগুলি কী বলেন?

নাস্তিক বলিল:
- একজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ তিন উপায়ে যৌনচাহিদা পূরণ করতে পারে।

১. মাস্টারবেশন (হস্তমৈথুন) করে।
২. গার্লফ্রেন্ড বা মেয়েবন্ধুর সাথে সেক্স করে।
৩. বউয়ের সাথে সেক্স করে।

যৌনচাহিদা পূরণের প্রথম এবং দ্বিতীয় উপায় ইসলামে সম্পূর্ণ নিশিদ্ধ। বাকি রইল বিবাহ করা। বিবাহ করতে হলে স্বাবলম্বি হওয়া লাগে, চাকরি-ব্যবসা করা লাগে। আর এগুলোর জন্য চাই প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা। মাদ্রাসায় পড়ে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা পাওয়া যায় না। তাই তিনটি উপায়ই মুমিন্সদের নাগালের বাহিরে। তাই অতৃপ্ত বুভুক্ষ তৃষ্ণার্ত মুমিন্সরা সারা বছর লুতি করে। আর বছরে দুইবার (পহেলা বৈশাখ ও থার্টিফাষ্ট) মেয়েদের ওড়না-শাড়ি ধরে টানাটানি করে, তাহারাশ করে।

নাস্তিকের কথা শুনে আমি তব্দা খাইলাম। তব্দা খাইলে বা জ্ঞান হারালে ওযু করতে হয়, এইটা রাসুল্লাহর আদেশ। আমি ওযু করতে গেলাম।

মদিনা সনদের আসন্ন পদক্ষেপ

১২ এপ্রিল, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৬

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪০.
আমাগের সফি হুজুরের কেমতা দেইকসেন নি আফনারা? বরতমান পদানমন্তির সেয়ে কেমতায় কুনু অংসে কম না আমাগের সফি হুজুর। বইলতে ফারেন, দেসের বরতমান ২য় ফুরুস পদানমন্তি আমাগের হুজুর। হুজুর জাই সান দেসে তাই অয়। সেক হাসিনা ফইয্যন্ত হুজুরের কতায় উড বস করেন। হিহিহি... আমার সুদু আসি ফায়।

৪১.
আজিয়া বিকালে বগলফুর বাজারে যাইতেসিলাম। ফতের মইদ্দে নাস্তেক জুতা চুর মজিদ মিয়ার লগে দেকা। আমারে দেকিই সালাম দি মজিদ সুরায় কয়, হুজুর, একটা কতা বইলতাম। আমি বইল্লাম, কও। সাতে সাতে হেতি কয় হুজুর, "আল্লার বা সিসটি করতার বয়স কত?" কতাডা সুনার সাতে সাতেই মেজাজ ডা গরম অই গেল। হারামজাদা কয় কি! আল্লার আবার বয়স আচে নিকি? কেউ কি আল্লার বয়স গইনতে ফাইরব নিকি? বিসটির দিন, তাই হাতে চাতা নিয়া সলাফেরা করি। বাইবলাম মাতাডা টানডা করনেত দরকার, তাই মজিদ সুরার ফিডের উফর চাতা ডা ইস্তেমাল কইল্লাম। চাতা দি ফিডাইফুডাই দউরাই হেতেরে কুনু রকম বাগাই আবার বাজার ফানে হাটা সুরু কইল্লাম। 

মাতাডা একটু টানডা হইতেই আমার মাতায়ও ফ্রস্ন আইসল, আসলেই কি আল্লার বয়স তাইকতে ফারে? মহাবিস্য সিসটির ও ত একটা বয়স আচে বলি বিগগানি রা কয়। এবং তারা নিকি হিসাব করি তা বাহির কইত্তে ফারে। মহাবিস্য সিসটির আগে তেকেই ত একমাতর আল্লা সিলেন। আর মহাবিস্য সিসটির কত আগ তেকে আল্লা সিলেন? আল্লা ত অনন্তকাল তেকেই সিলেন। তাহইলে মহাবিস্য সিসটির বয়স আর তার অনন্ত কাল আগে যকন আল্লা একা সিলেন এই দুইডা যুক দিলে কি আল্লার বয়স বাহির হইব? নাকি অনন্তকাল এর ও একটা নিদরিস্ট সিমা আচে? আর যুদি সিমা তাকে, তাহইলেত সহজেই যুক করি আল্লার বয়স বাহির করা যাইবে। আইসসা, অনন্ত কাল সুমান কত লক্ক হাজার কুটি বসর হইতে ফারে? লিসচই কুটি কুটি হাজার হাজার লক্ক লক্ক বসর!!! অরে বাফরে আমার চুটু মাতায় এই সব বরো বরো হিসাব দইত্ত না। আর নাউজুবেল্লা নাউজুবেল্লা! আমি মজিদ চুরার ফাল্লায় ফরি এই সব কি সিন্তা কইত্তেসি। আল্লা, মাফ করি দাও...

৪২.
কবরডা সুনি কুসিতে আমার দুই ছুকের জল এক হই গেসে, আজিয়া সগলে আমার ফক্ক তেকে মিসটি মিডাই কাও রে...

সরকার কওমি মাদেসার সনদকে সিকরিতি দিসসে ৷হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দাবি মেনেই সরকার এই সিকরিতি দিতে যাসসে। আলহামদুলিল্লাহ...

মুছলিম-ই-মানদণ্ড

নবী পুরুষ, খোদাও পুরুষ

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

বেহেস্তী সব হুরি
উনিশ থেকে কুড়ি,
মায়ের জন্য সেলাই-সুতা
বাপের বাহাদুরী!

যে মায়েতে জন্ম দিলো
সে তো মানুষ হাফ,
বীর্যপাতে অারাম যাহার
সেই তো অামার বাপ!

পুরুষ, তুমি মদ-মদিরা
গিলমানদের পাও,
মনে তোমার থাকবে তখন
অভাগা মোর মাও!

নবী পুরুষ, খোদাও পুরুষ
পুরুষ অামার পিতা,
মায়ে অামার বাঁধবে নাকি
তোমার পায়ের ফিতা!

নবীর ছিলো চোদ্দটা বউ
অামার বাপের চার,
মায়ে কিছু বলতে গেলেই
জুটতো পিঠে মার!

হাদীস বলো কোরান বলো
ধর্ম মতে বলে,
নারী মানেই থাকবে নত
পুরুষলোকের তলে!

মানুষ জন্ম খাঁটি
ধর্ম মতে - মাটি
নারী ছাড়া আল্লাহ্ তো নেই
যতই কোরান ঘাঁটি!

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৮১

১১ এপ্রিল, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ৪: হিরাক্লিয়াস এর স্বপ্ন-দর্শন!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব - ১৬৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ঊনচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর ঘটনাবহুল নবী জীবনের যে-সময়টিতে পারস্য সম্রাট (কিসরা/খসরু) পারভেজ, বাইজেনটাইন সম্রাট (সিজার) হিরাক্লিয়াস, আবিসিনিয়ার শাসনকর্তা নাজ্জাসী ও অন্যান্য আরব শাসনকর্তাদের কাছে চিঠি-হুমকি প্রেরণ করেছিলেন, সেই সময়টিতে সম্রাট পারভেজ ও হিরাক্লিয়াসের মধ্যে যে প্রাণান্তকর লড়াই অব্যাহত ছিলো, তার সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছিলো; এই যুদ্ধের ফলাফল কী ও কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল; নিজ সন্তান দ্বিতীয় কাবাদ শেরোয়ার মাধ্যমে খসরু পারভেজ ও তার অন্যান্য সন্তানরা কী ভয়াবহ করুণ পরিণতির শিকার হয়েছিলেন; বাইজেনটাইন সম্রাট হিরাক্লিয়াস ও পারস্য সম্রাট পারভেজ যখন একে অপরের বিরুদ্ধে বহু বছরব্যাপী (৬১০-৬২৮ সাল) প্রাণান্তকর লড়াইয়ে ক্রমান্বয়ে নিজেদের শক্তি ক্ষয় করে চলেছেন, তখন মুহাম্মদের নেতৃত্বে 'ধর্মের নামে আগ্রাসী আরব শক্তির' শক্তিমত্তা কীরূপে বৃদ্ধি পেয়েছিলো - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 
পূর্ব প্রকাশিতের পর:

ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ <মুহাম্মদ ইবনে ইশাক < ইবনে শিহাব আল-যুহরি < উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসুদ < আবদুল্লাহ বিন আব্বাস < আবু সুফিয়ান বিন হারব হইতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:

'আমরা ছিলাম বণিক সম্প্রদায়ের লোকজন। আমাদের ও আল্লাহর নবীর মধ্যের যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে আমাদের বাণিজ্য-যাত্রা হয়েছিল ব্যাহত [পর্ব-২৯], যার ফলে আমাদের সম্পদ হয়েছিলো নিঃশেষিত। আমাদের ও আল্লাহর নবীর মধ্যে সন্ধি-চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর [পর্ব-১২২], আমাদের আশঙ্কা ছিলো এই যে, হয়তো আর আমাদের নিরাপত্তা মিলবে না ('After the truce between us and the Messenger of God, we feared that we might not encounter security' - এই বাক্যের যৌক্তিক অর্থ  হলো, আবু সুফিয়ান আশঙ্কা করেছিলেন যে সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হবে)। [3] 

আমি একদল কুরাইশ বণিকদের সঙ্গে নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। আমাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থানটি ছিল 'গাজা (Gaza)', আর হিরাক্লিয়াসের সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে যে পারসিকরা ছিলো, তাদের বিরুদ্ধে তার বিজয় অর্জনের সময়টিতে আমরা সেখানে গিয়ে পৌঁছাই। তিনি তাদেরকে বিতাড়িত করেন ও যে 'বিশুদ্ধ-ক্রস (Great Cross)' টি তারা অপহরণ করে এনেছিলো, তিনি তাদের কাছ থেকে তা পুনরুদ্ধার করেন [পর্ব-১৬৪]। [4] 

তাদের বিরুদ্ধে তার এই বিজয় অর্জন সম্পন্ন করার পর ও তাদের কাছ থেকে এই 'বিশুদ্ধ ক্রস-টির (True Cross)' পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার পর (তিনি 'হিমস এ অবস্থান করছিলেন [5]), তিনি তা পুনরুদ্ধারের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও তাকে প্রার্থনা করার নিমিত্তে তিনি জেরুজালেমের ('বায়তুল মুকাদ্দাস') উদ্দেশে পদব্রজে রওনা হোন। তার জন্য বিছানো হয় গালিচা ও তাতে ছড়ানো হয় সুগন্ধি।

জেরুজালেমে পৌঁছা ও সেখানে তার প্রার্থনা কর্ম সম্পন্ন করার পর একদা প্রত্যূষে তিনি অস্থির অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন - তখন তার সঙ্গে ছিল তার সামরিক কমান্ডাররা ও রোমানদের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তার সামরিক কমান্ডাররা তাকে বলেন, "ঈশ্বরের কসম, হে মহারাজ, আজ সকালে আপনি অস্থির অবস্থায় ঘুম থেকে জেগেছেন।" তিনি জবাবে বলেন, "হ্যাঁ, গত রাতে আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে যে, লিঙ্গাগ্রচর্মছেদন (খৎনা) প্রথা পালনকারী রাজ্য হবে বিজয়ী (I was shown in a dream last night that the kingdom of the circumcision will be victorious)।"

তারা তাকে বলে, "মহারাজ, ইহুদিরা ছাড়া এমন কোন রাজ্যের খবর আমরা জানি না, যারা খৎনা (circumcision) প্রথা পালন করে, আর তারা আপনার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের অধীন। আপনার সাম্রাজ্যের ভেতরে আপনার অধীনস্থ সকল শাসকের কাছে এই মর্মে খবর পাঠান যে, তারা যেন তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সকল ইহুদিদের হত্যা করে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে।" 

আল্লাহর কসম, যে মুহূর্তে তারা এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্ক করছিলো, বসরার শাসনকর্তার [পর্ব-১৬১] পাঠানো বার্তাবাহক এক 'আরব' কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হয় [6] - রাজারা একে অপরের কাছে এ ভাবেই তাদের খবর আদান প্রদান করতেন - ও বলে,