৬ এপ্রিল, ২০১৭

জিহাদ - ইসলামের প্রাণভোমরা

লিখেছেন পুতুল হক

ইসলামের প্রাণে রয়েছে জিহাদ বা বলা যায় জিহাদ ইসলামের প্রাণ। শান্তির ধর্ম ইসলাম থেকে জিহাদ বা পবিত্র ধর্মযুদ্ধকে বাদ দিলে ইসলাম মৃত। পৃথিবীতে যতদিন পর্যন্ত একজন ইসলামে অবিশ্বাসী জীবিত থাকবে, মুসলমানদের কাছে জিহাদ ততদিন জীবিত। জিহাদের মধ্য দিয়েই ইসলাম তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠিত করবে। ব্যক্তিস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। 

একজন মুসলিমের শান্তি এবং একজন বিধর্মী ও নাস্তিকের শান্তির মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য অত্যন্ত প্রকট। মুসলমানের কাছে শান্তি তখনই আসবে, যখন পৃথিবী অবিশ্বাসীমুক্ত হবে। তাদের কাছে পৃথিবীতে অশান্তির কারন তিনটি: নাস্তিক, অমুসলিম এবং সে সমস্ত মুসলিম, যারা ইসলামী আক্কিদায় জীবনযাপন করে না। শান্তি মানে এই তিন ধরনের অশান্তি সৃষ্টিকারী মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনা অথবা তাদেরকে পৃথিবী থেকে বিদায় দেয়া। ইসলামে অবিশ্বাসীদের কাছে মোহাম্মদের পাঠানো পয়গাম "আসলিম, তাসলাম"; অর্থ - ইসলাম স্বীকার করো ও শান্তি পাও। অর্থাৎ ইসলাম অস্বীকার করা মানেই অশান্তি। 

মডারেট এবং এক্সট্রিমিস্ট, সব মুসলমান বিশ্বাস করে একমাত্র "দারুল ইসলাম" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ রাখা সম্ভব। যেখানে মডারেটরা বিধর্মীদের সরাসরি খুন করবে না হয়তো, কিন্তু ইসলামে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের অবমাননাকর জীবন বেছে নিতে, বিভিন্ন রকম বৈষম্যমূলক আইন ও শাস্তি অবিশ্বাসীদের জন্য প্রয়োগ করবে। এভাবে মডারেটরা অস্ত্রের ব্যবহার না করেও জিহাদ করবে এবং পৃথিবী নাস্তিক- ও অবিশ্বাসীমুক্ত করবে। 

ইসলামী জঙ্গিরাও এই একই কাজ করবে, তবে তা সরাসরি। তাঁরা সরাসরি বিধর্মীদের কল্লা কাটবে, সরাসরি তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করবে, বিধর্মীদের বাড়িঘর সম্পত্তি লুট করবে এবং পৃথিবী অবিশ্বাসীমুক্ত করবে। দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের সব চাইতে বড় বাধা - পশ্চিমের উন্নত বিজ্ঞানভিত্তিক জীবন। পশ্চিমের গণতন্ত্র, মানবতাবাদ, নারী স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে মুসলমানদের বড় ভয়। পশ্চিমের উদারতার সুযোগ নিয়ে হাজারে হাজারে মুসলমান পরিবার-পরিজন নিয়ে বছরের পর বছর সেসব দেশে বসবাস করেও দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথের বাধা পশ্চিমকে ধংস করার স্বপ্ন দেখে। তাই পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালানো, কিংবা ক্যাফেটেরিয়াতে জিম্মি করা কিংবা গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর মত ঘটনা মুসলমানের কাছে নিন্দিত নয় বরং নন্দিত। এই সমস্ত অপতৎপরতার সাথে জড়িয়ে যারা প্রাণ দেয় তারাই মুসলমানের কাছে প্রকৃত বীর, তাঁরা শহীদ। সম্প্রীতি বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কখনো জিহাদের ওপরে অবস্থান করতে পারে না। বরং জিহাদ সকল সম্প্রীতি, সহবস্থানের ওপর অবস্থান করে। তাই অবিশ্বাসী প্রতিবেশীর ওপর হামলা করতে মুসলমান কখনো পিছপা হবে না।

ইহুদি ধর্ম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে কেউ অস্বীকৃতি জানালে সে ইহুদি ও খ্রিষ্টানের শত্রু হয়ে যায় না, মূর্তিপুজা করতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে সে মূর্তিপুজায় বিশ্বাসীদের শত্রু হয়ে যায় না। কিন্তু ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর সাথে সাথে সে ইসলাম তথা মুসলমানের শত্রু। এই শত্রুতা চলবে ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত। সমগ্র বিশ্ব ইসলামী শাসনাধীনে আনার নির্দেশ সমগ্র কোরআন এবং ইসলামের ইতিহাস জুড়ে বিস্তৃত। 

"শান্তি" শব্দটি মুসলমানের জন্য এক অর্থ বহন করে আর অবিশ্বাসীর জন্য ভিন্ন অর্থবহন করে। মুসলমানের শান্তি যুদ্ধের মাধ্যমে আসে। তাই কোরআন, হাদিস আর ইসলামী ইতিহাসের পাতায় পাতায় শান্তির ধর্ম ইসলামের শান্তির অগণ্য উদাহরণ পাওয়া যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন