৩ মে, ২০১৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০৭

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


নারী বৃত্তান্ত

ইসলাম নারীকে দিয়েছে পুরুষের সমান অধিকার, ইসলাম নারীকে করেছে মহান! মুহাম্মদ নারীকে কীভাবে দেখতেন তার পরিচয় পাওয়া যাবে এ অধ্যায়ে! আমরা ইসলামে নারীর ভালো-মন্দ রূপরেখা পাবো মুহাম্মদের হাদীস থেকেই।
বুখারী-১-২-২৮: মুহাম্মদ বলেছেন: আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, 'তারা কি আল্লাহ্‌র সঙ্গে কুফরী করে?' মুহাম্মদ বললেন: 'তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ভালোটা অস্বীকার করে।' তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ভালো করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, 'আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।'
বুখারী-১-৬-৩০১: একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য মুহাম্মদ ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: হে মহিলা সমাজ! তোমরা সাদকা করতে থাক। কারন আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা আরয করলেন: কী কারনে, ইয়া রাসুলুল্লাহ্? তিনি বললেন: তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেন: আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসুলুল্লাহ্? একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন: 'হ্যাঁ'। তখন তিনি বললেন: এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না? তাঁরা বললেন: 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন: এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।
বুখারী-২-১৮-১৬১: মুহাম্মদ এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। মুহাম্মদ তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সুরা বাকারা পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। এরপর দীর্ঘ রুকু করেন। তারপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি সিজদা করেন। আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার দীর্ঘ রুকু করেন, তবে তা আগের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন, তবে তা প্রথম রুকু অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গিয়েছে। তারপর তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমুহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দুটির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহ কে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা থেকে কি যেন ধরেছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পেছনে সরে এলেন। তিনি বললেন: আমি তো জান্নাত দেখছিলাম এবং একগুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়ে ছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে, দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। এরপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা স্ত্রী লোক। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কী কারণে? তিনি বললেন: তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ভালোটা অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, এরপর সে তোমার থেকে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার থেকে কখনো ভালো ব্যবহার পেলাম না।
ইসলামে যৌনতার ক্ষেত্রে নারীর ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই; নারী সবসময়ই থাকবে পুরুষের ইচ্ছাধীন। একই অপরাধে তার শাস্তিও হতে পারে ভিন্ন মাত্রার!
মুসলিম-০৮-৩৩৬৭: মুহাম্মদ বলেছেন: কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার জীবন। কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যখন বিছানায় আহ্বান করে, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে, নিঃসন্দেহে যে পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর প্রতি সন্তষ্ট হয়, ততক্ষন আসমানবাসী তার প্রতি অসন্তষ্ট থাকে।
বুখারী-৩-৪৯-৮৬০: এক বেদুঈন এসে বলল, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহর কিতাব মোতাবেক আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন।' তখন তাঁর প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে বলল, 'সে ঠিকই বলেছে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ মোতাবেক ফয়সালা করুন।' পরে বেদুঈন বলল, 'আমার ছেলে এ লোকের বাড়ীতে মজুর ছিল। তারপর তার স্ত্রীর সাথে সে যিনা করে।' লোকেরা আমাকে বলল, 'তোমার ছেলের উপর রাজম (পাথর মেরে হত্যা) ওয়াজিব হয়েছে।' তখন আমি আমার ছেলেকে একশ বকরী এবং একটি বাদীর বিনিময়ে এর কাছ থেকে মুক্ত করে এনেছি। পরে আমি আলিমদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন, 'তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন ওয়াজিব হয়েছে। সব শুনে মুহাম্মদ বললেন, 'আমি তোমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ মোতাবেকই ফয়সালা করব। বাদী এবং বকরীপাল তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে, আর তোমার ছেলেকে একশ বেত্রাঘাত সহ এক বছরের নির্বাসন দেওয়া হবে।' আর অপরজনকে বললেন, 'হে উনাইস, তুমি আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর কাছে যাবে এবং তাকে রাজম (কোমড় পর্যন্ত মাটিতে পুতে রেখে পাথর মেরে হত্যা) করবে।' উনাইস তার কাছে গেলেন এবং তাকে রাজম করলেন।
নারী ইসলামের দৃষ্টিতে অপূর্ণ মানুষ, পুরুষ ছাড়া নারীর পূর্ণতা লাভ হয় না। নারী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্যে ১ নং অবস্থানে থাকবে সবসময়ই! মুহাম্মদের নীতিবোধ অনুসারে - নারীকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে!
বুখারী-২-২০-১৯২: মুহাম্মদ বলেছেন: কোন মহিলাই যেনো মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে না নিয়ে তিন দিনের বেশী সফর না করে।
মুসলিম-৩১-৫৯৬৬: মুহাম্মদ বলেছেন: পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছেন, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে মরিয়ম বিনতে ইমরান ও ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া ছাড়া আর কেউ পূর্ণতা লাভ করেননি। আর অন্যান্য মাহিলাদের উপর আয়েশার ফযীলত অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের ফযীলতের মত।
বুখারী-২-২০-১৯৪: মুহাম্মদ বলেছেন: যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহ্‌রাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে এক দিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়।
মুসলিম-৩৬-৬৬০৩: মুহাম্মদ বলেছেন: আমি আমার (ওফাতের) পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চাইতে অধিকতর ক্ষতিকর বেশি ফিতনা রেখে যাইনি।
বুখারী-৩-৩১-১৭২: মুহাম্মদ বলেছেন: এ কথা কি ঠিক নয় যে হায়য শুরু হলে মেয়েরা সালাত আদায় করেনা এবং সাওমও পালন করে না। এ হল তাদের দ্বীনেরই ত্রুটি।
বুখারী-৬-৬০-৫১: ঈহুদীরা বলতো যে: যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (তাদের এ ধারণা রদ করে) তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছে গমন কর এবং নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, তোমাদেরকে তাঁর কাছে হাজির হতে হবে। আর বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। (২:২২৩) আয়াত অবতীর্ণ হয়।
বুখারী-৩-৪৮-৮২৬: মুহাম্মদ বলেন: মহিলাদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা (উপস্থিত মহিলারা) বলল: তাতো অবশ্যই অর্ধেক। মুহাম্মদ বলেন: এটা মহিলার জ্ঞানের ত্রুটির কারণে।
বুখারী-৭-৬২-৩১: মুহাম্মদ-এর নিকট লোকেরা অশুভ স্ত্রীলোক সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বলেন, কোন কিছুর মধ্যে যদি অপয়া থাকে, তা হলো: বাড়ি-ঘর, স্ত্রীলোক এবং ঘোড়া।
বুখারী-৭-৬২-৩৩: মুহাম্মদ বলেন: পুরুষের ওপরে মেয়েলোকের অপেক্ষা অন্য কোন বড় ফিতনা আমি রেখে গেলাম না।
বুখারী-৭-৬২-১১৩: মুহাম্মদ বলেছেন: নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে।
ইসলাম পুরুষকে দিয়েছে সামান্য অপরাধেও নারীকে প্রহারের অধিকার, ত্যাগ করার অধিকার, আর তা মুহাম্মদের হাদীস অনুসারে গ্রহনযোগ্যতা দাবি রাখে পূর্ণমাত্রায়।
বুখারী-৭-৬২-১৩৪: "কোন নারী যদি তার স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ অথবা উপেক্ষার আশংকা করে তাহলে তারা উভয়ে আপোষ মীমাংসা করে নিলে তাতে তাদের উভয়ের কোন অপরাধ নেই। বস্তুতঃ আপোষ মীমাংসাই উত্তম। এবং লোভের কারণে স্বভাবতঃই মানুষের হৃদয় কৃপণ; এবং যদি তোমরা সৎ ব্যবহার কর ও সংযমী হও তাহলে তোমরা যা করছো তদ্বিষয়ে আল্লাহ অভিজ্ঞ (৪:১২৮)" এই আয়াত প্রসঙ্গে আয়েশা বলেন: এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলার সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে শাদী করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে: আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার আর আমকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তাআলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী যদি পারস্পরিক সন্ধি করে নেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই এবং সন্ধি করা উত্তম।
বুখারী-৭-৭২-৭১৫: রিফাআ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে আবদুর রহমান কুরাযী তাকে বিবাহ করে। 'আয়েশা বলেন, তার গায়ে একটি সবুজ রঙ্গের উড়না ছিল। সে আয়েশা-এর নিকট অভিযোগ করলেন এবং (স্বামী প্রহারের দরুন) নিজের গায়ের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালো। মুহাম্মদ যখন এলেন, আর স্ত্রীলোকেরা একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে, তখন আয়েশা বললেন: কোন মুমিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে অধিক সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন: 'আবদুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী মুহাম্মদ-এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দুটি ছেলে সাথে করে এলো। স্ত্রীলোকটি বলল: আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এ ছাড়া আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে, তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে বেশী তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আচল ধরে দেখাল। 'আবদুর রহমান বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ্! সে মিথ্যা বলছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায়। অর্থাৎ (পূর্ণ শক্তির সাথে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়। মুহাম্মদ বললেন: ব্যাপার যদি তাই হয় তাহলে রিফাআ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার যোগ্য হতে পার না, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেন: মুহাম্মদ, আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেন, এরা কি তোমার পুত্র? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এই আসল ব্যাপার, যে জন্যে স্ত্রীলোকটি এরূপ করছে। আল্লাহর কসম! কাকের সাথে কাকের যেমন সাদৃশ্য থাকে, তার চেয়েও অধিক মিল আছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ আব্দুর রহমানের সাথে তাঁর পুত্রদের)।  
ইসলাম নারীর অধিকারের দিকে কতটা মানবিক (!), তার প্রমাণ পাওয়া যায় এইসব হাদীসে। মুহাম্মদ যে কেবল একজন্য মরুদস্যু ছিলেন, তার জন্য অন্য কোনো প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে কেবল অন্ধ মুমিনদের জন্য। মুহাম্মদের মতে - নারী মানে শরীর, মানুষ নয়!
বুখারী-৫-৫৯-৪৫৯: ইবনে মুহায়রীয থেকে বর্ণিত: একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবু সাঈদ খুদরী-কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবু সাঈদ খুদরী বললেন, আমরা রাসুলুল্লাহ্-এর সংগে বানু মুসতালিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে খায়েস হল এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। তাই আমরা আযল করা পছন্দ করলাম এবং তা করার মনস্থ করলাম। তখন আমরা বলাবলি করতে লাগলাম, রাসুলুল্লাহ্ আমাদের মাঝে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন: এরুপ না করলে তোমাদের ক্ষতি কি? জেনে রাখ, কিয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।
বুখারী-৭-৬২-৮১: মুহাম্মদ বলেছেন: সকল শর্তের চেয়ে শাদীর শর্ত পালন করা তোমাদের জন্য অধিক কর্তব্য এই জন্য যে, এর মাধ্যমেই তোমাদেরকে মহিলাদের বিশেষ অংশ ভোগ করার অধিকার দেয়া হয়েছে।
বুখারী-৭-৬২-১২১: মুহাম্মদ বলেছেন: যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সাথে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর তার স্ত্রী অস্বীকার করে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ মহিলার ওপর লানত/অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে।
বুখারী-৭-৬২-৫১: আবু জামরা থেকে বর্ণিত যে: আমি মহিলাদের মুতা বিবাহ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তখন তিনি তার অনুমতি দেন। তাঁর আযাদকৃত গোলাম তাঁকে বললেন, যে এরূপ হুকুম অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা কি মহিলাদের কাছে পাওয়ার জন্য ছিল? তখন ইবনে আব্বাস বললেন: হ্যাঁ।
মুসলিম-০৮-৩২৪৮: জাবির ইবন আব্দুল্লাহ উমরা পালন করতে এলেন। তখন আমরা তাঁর আবাসে তাঁর নিকট গেলাম। লোকেরা তাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেসা করল। অতঃপর তারা মুতা সস্পর্কে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা রাসুলুল্লাহ-এর যুগে এবং আবু বকর ও উমর এর যুগে মুতা (অস্থায়ী বিবাহ) করেছি।
বুখারী-৭-৭২-৮১৫: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত: আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা অঙ্গ-প্রতঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায়, আর সে সব নারীদের উপর যারা চুল, ভূরু উঠিয়ে ফেলে এবং সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দের্যের জন্যে সামনের দাত কেটে সরু করে দাঁতের মাঝে ফাক সৃষ্টি করে, যা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন এনে দেয়। রাবী বলেন: আমি কেনো তার উপর লানত করবো না, যাকে নবী লানত করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছে: ‘‘রাসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক (৫৯:৭)”
বুখারী-৭-৬২-১৩৩: কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে শাদী দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নবী-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল: আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করিয়ে দেই। তখন নবী বললেন: না তা করো না, কারন, আল্লাহ্ তাআলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লানত বর্ষণ করে থাকেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে।
বুখারী-৩-৩৮-৫০৮: মুহাম্মদ বলেন, হে উনাইস ইবনে যিহাক আসলামী; সে মহিলার কাছে যাও; যদি সে (অপরাধ) স্বীকার করে তবে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা কর।
বুখারী-৮-৮২-৮০৩: আলী জুমআর দিন জনৈকা মহিলাকে যখন রজম (যৌনতার দায়ে কোমড় পর্যন্ত মাটিতে পুতে পাথর ছুড়ে হত্যা) করেন তখন বলেন, আমি তাকে রাসুলুল্লাহ এর সুন্নাত অনুযায়ী রজম করলাম।
(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন