৩১ জানুয়ারী, ২০১৭

চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার রহস্য উন্মোচন!


লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


মাথা ঠাণ্ডা করে বসুন: আজ প্রমাণ করার চেষ্টা করবো, মুহাম্মদ কীভাবে ও কবে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন! এটি একটি নিরস পোষ্ট, তাই মাথা ঠাণ্ডা থাকা জরুরী!


সূরা আল কামার (৫৪) (চন্দ্র); ১ থেকে ২ আয়াত;

১. সময় নিকটবর্তী এবং চন্দ্র অর্ধেক হয়েছে,
২. আর তারা কোনো নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলেঃ এটাতো প্রচলিত যাদু।

একটু খটকা লাগলো কি? কিয়ামত আর চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কথা আমার করা অনুবাদে পাওয়া যাচ্ছে না; তাই তো! সংযুক্ত থাকা ছবির অনুবাদের মতই হবে আপনার এতদিন ধরে পড়ে আসা অনুবাদ, তবে আজ এটা জেনে নিন, তা একটি ভুল অনুবাদ!

 

এবার নিচের সংযুক্ত ছবিতে ১নং আয়াতের বাংলায় লেখা আরবি উচ্চারণ দেখুন; কিয়ামত শব্দটি খুঁজে পেলেন কি? যদি আরবিতে না থাকে, তবে অনুবাদে কিয়ামত আসে কোন কিয়ামত থেকে?

 

উল্লিখিত আয়াতে আরবি ‘কিয়ামত’ শব্দটির অস্তিত্ব নেই, আরবি ‘ছাআত’ শব্দের অনুবাদে আরবি কিয়ামতের ব্যবহার কি ঠিক? সেই সাথে আয়াতটির মূল শব্দ ‘শাক্কা’র বর্তমান/ভবিষ্যৎ আকার ‘নুশাক্কা’র অনুবাদ করা হয়েছে ‘দ্বিখণ্ডিত হয়েছে’মূলত: ‘শাক্কা’ শব্দটির অর্থ: দু’ভাগ/ দ্বিখণ্ডিত, বিদীর্ণই নয়, বরং ফিরানো, ফিরিয়ে রাখা, অতিক্রম করা, পার হওয়া, যাওয়া-ভ্রমণ বা আবিষ্কার, ভেদ করা, অর্ধেক, আংশিক, প্রভাতের আলো, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া, বিজলী চমকানোসহ প্রায় ৫০টি। (সুত্র: আরবি-ইংলিশ ডিকশনারি, জে এম. কাউয়ান; আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান; মদিনা পাব্লিকেশন)।

কোনো কোনো তাফসিরে ভবিষ্যৎ অর্থে কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ হিসাবে ‘চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হবে’ বলেও অর্থ করা হয়েছে। [সুত্র: বোখারী, ৫ম খণ্ড. ৫ম সংস্করণ, আজিজুল হক, ফুটনোট, পৃষ্ঠা: ৩৩৯]

বোঝা যায়, বিষয়টি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যেই অমীমাংসিত মতভেদ রয়েছে। পূর্বেই বলা হয়েছে, অনুবাদে ব্যবহৃত আরবি শব্দ ‘কিয়ামত’ নেই, আছে ‘ছাআত’, যার অর্থ: সময়, ঘন্টা, ঘড়ি, যুগ। [সুত্র: কোরানের অভিধান; আল কোরান একাডেমী, লন্ডন; আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান; মদিনা পাবলিকেশন]

আমার করা অনুবাদে কিয়ামত-এর বদলে সময় এবং দ্বিখণ্ডিত-এর বদলে অর্ধেক কেন নিয়েছি, তা এই পর্বে পরিষ্কার হয়ে যাবে নিশ্চয়!

ফাদাক - ৫: নবী-পরিবারের দাবি ও 'আমি শুনিয়াছি' বাদ্য!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত একত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই মুসলিম জাহানের প্রথম খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর ইবনে কুহাফা কী অজুহাতে মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুবিশাল অংকের লুটের মালের সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করেছিলেন (পর্ব-১৫৪); অতঃপর সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকারের হিস্যা ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় নবী-কন্যা ফাতিমা নিজে ও তাঁর অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে আবু বকরের কাছে বারংবার ধর্না দিয়েছিলেন; যুক্তি-প্রমাণ (পর্ব-১৫৫)  সাক্ষী উপস্থাপনের (পর্ব-১৫৬) মাধ্যমে নবী কন্যা ফাতিমা তাঁর দাবির যথার্থতার প্রমাণ উপস্থিত করা সত্ত্বেও কী অজুহাতে আবু বকর তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; আবু বকরের প্রতি অত্যন্ত বীতশ্রদ্ধ ও রাগান্বিত নবী-কন্যা কীরূপ মানসিক যন্ত্রণায় কষ্টভোগ করেছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা গত তিনটি পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুবিশাল অংকের লুটের মালের সম্পত্তির (গনিমত) হিস্যা থেকে আবু বকর মুহাম্মদের একান্ত নিকট আত্মীয়দের বঞ্চিত করেছিলেন সত্য, কিন্তু তিনি এই সম্পদের উপার্জন থেকে মুহাম্মদের নিকটাত্মীয় ও তাঁদের বংশধরদের ভরণ-পোষণের সাহায্য ব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন; যা আবু বকরের মৃত্যুর পরে ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় খুলাফায়ে রাশেদিন উমর ইবনে খাত্তাব বন্ধ করে দিয়েছিলেন! উমর ইবনে খাত্তাব কী অজুহাতে আবু বকরের প্রদত্ত সেই সাহায্য ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন তার বিস্তারিত আলোচনা ‘লুটের মালের উত্তরাধিকার ও পরিণতি (পর্ব-১৫১)! পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে সা'দের (৭৮৪-৮৪৫ সাল) বর্ণনা মতে, নবী-কন্যা ফাতিমা তাঁর স্বামী আলী ইবনে আবু-তালিবকে সঙ্গে নিয়ে সর্বপ্রথম যেদিন আবু বকরের সঙ্গে তাঁর পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারের হিস্যা ফেরত পাওয়ার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল মুহাম্মদের মৃত্যুর পরদিনই! যার সরল অর্থ হলো:

"মুহাম্মদের মৃত্যুর ঐ দিনটিতেই আবু বকর মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুবিশাল অংকের সম্পত্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করেছিলেন!"

পাঠক, একটু মানবিক দৃষ্টি ভঙ্গির মাধ্যমে কল্পনা করুন: “ফাতিমা নামের এক তরুণীর পিতার মৃত্যুর ঐ দিনটিতেই তাঁর পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছেন আবু বকর ইবনে কুহাফা নামের তাঁর পিতারই এক বিশিষ্ট শিষ্য! ফাতিমার চোখের পানি শুকানোর সময় পর্যন্ত এই শিষ্যটি তাঁকে দেননি! এই কর্মের প্রতিবাদে পিতার মৃত্যুর পরের দিনই সমস্ত কষ্ট বুকে নিয়ে ফাতিমা নামের এই মেয়েটি তাঁর পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারের হিস্যার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন সেই 'আবু বকরের' কাছে! ক্ষমতাধর আবু বকর তাঁর এই কর্মের বৈধতা প্রদান করছেন এই বলে:

"আমি শুনেছি, ‘আল্লাহর নবী বলেছেন, 'আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর উচিত নয়, যা আমরা (অর্থাৎ নবীরা) রেখে যাই তা হয় সাদাকা (যা ব্যবহার করতে হয় দান খয়রাতের জন্য)।‘”

অন্যদিকে, ফাতিমা ও তাঁর পরিবার সদস্যরা আবু-বকরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাঁদের উত্তরাধিকারের হিস্যা ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন যুক্তি-প্রমাণ ও সাক্ষী সহ বারংবার তার কাছে ধর্না দিচ্ছেন! কিন্তু আবু বকর বিভিন্ন অজুহাতে তা অগ্রাহ্য করছেন; ক্ষমতা এখন তার হাতে! অতঃপর, ফাতিমা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে রাগে অভিমানে আবু বকরের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ছয় মাস কাল জীবিত থাকার পর মৃত্যুবরণ করলেন, তাঁর স্বামী তাঁকে রাত্রিকালেই দাফন করলেন (পর্ব-১৫৪)!"  

এমনই একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এই দুই দাবিদারের যে কোনো এক পক্ষের দাবি ও কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে অসৎ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত! এই দুই পক্ষ একই সাথে কখনোই সত্য, সৎ ও নীতিপরায়ণ হতে পারে না।

প্রশ্ন ছিলো, "এমন কী কোনো পন্থা আছে, যার মাধ্যমে প্রায় নিশ্চিতরূপেই অনুধাবন করা যায়, কে সেই অসৎ ও ভণ্ড?"

জবাব, “হ্যাঁ, পন্থা নিশ্চয়ই আছে। আর তা হলো, ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা ও যুক্তি বিদ্যার প্রাথমিক পাঠ।"

নির্বোধ কাফেররা

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯২

৩০৫.
- সব ধর্ম অ্যাবোরশনের বিরুদ্ধে কেন?
- কারণ যৌননির্যাতনের জন্য আরও শিশু তাদের প্রয়োজন।

৩০৬.
- ঈশ্বর বা ধর্ম বিষয়ে বিতর্কের সময় নাস্তিকদের করা সবচেয়ে বড়ো ভুল কোনটি?
- তারা মনে করে, তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তি বোঝে ও গ্রহণ করে।

৩০৭.
- বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আগে আল্যা কী করছিল?
- যারা গবেটের মতো এই প্রশ্নটা করবে, তাদেরকে কী শাস্তি দেয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিল।

৩০৮.
- হাবিল বা কাবিল পৃথিবীর প্রথম মাদারফাকার বটে, তবে সবচেয়ে খ্যাতনামা মাদারফাকার কে?
- যিশু।

৩০৯.
- আজানের সময় মাইক ব্যবহার করা হয় কেন?
- আজানের শব্দ শয়তানের কানে পৌঁছানোর জন্য। কারণ আজান শুরু হলেই শয়তান সশব্দে দূষিত বায়ু ত্যাগ করে, যাতে আজান তাকে শুনতে না হয় (বুখারি, খণ্ড ১, বই ১১, হাদিস ৫৮২); এবং সবাই জানে, পোঁদধ্বনি অপেক্ষা মাইকের শব্দ অনেক বেশি তীব্র। 

মুশকিল আসান

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত খুঁজতে বই পড়ে দেখবে পুলিশ

... বাংলা একাডেমির সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা উন্মাদনা ছড়াতে পারে, এমন বিতর্কিত বই প্রকাশ হওয়ার আগেই তা রোধে পুলিশ ও গোয়েন্দারা কাজ করবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে...

অতএব

৩০ জানুয়ারী, ২০১৭

থাকবে শুধু আল্লাহর নাম

লিখেছেন ক্যাটম্যান

একদিন বাজারে গিয়েছি মাছ ও তরিতরকারি কিনতে। প্রথমে মাছ কেনার উদ্দেশ্যে মেছুয়া বাজারে ঢুকলাম। গিয়ে দেখি, হরেকরকম মাছ নিয়ে নিকারিরা বসে আছে। মনস্থির করলাম চাপিলা মাছ কিনব, তাই একজন নিকারির নিকট চাপিলা মাছ দেখে এগিয়ে গেলাম। মাছগুলো টাটকা কি না, তা যাচাই করতে আঙুলের সাহায্যে কয়েকটি মাছ নেড়েচেড়ে দেখি যে, অধিকাংশ মাছ নরম হয়ে গেছে। তার মাঝে পচা-গলা মাছও রয়েছে। মাছের এমন করুণ অবস্থা দেখে আমি তার মাছ না কিনে সামনে পা বাড়ালাম। এভাবে আমার চলে যাওয়া দেখে সঙ্গে সঙ্গে নিকারি বলে উঠল, 'কি ভাই মাছ কিনবেন না?' আমি তাকে বললাম, 'আপনার মাছ পচা, তাই কেনা সম্ভব নয়।' নিকারি বলল, 'দুই-একটা মাছ পচছে তো কী হইছে, তাই বইলা কি এই পচা মাছ বিক্রি হইব না? এই পচা মাছও বিক্রি হইব; কিছুই পইড়া থাকব না, থাকব শুধু আল্লাহর নাম।'

নিকারির মুখে এমন জ্ঞানগর্ভ বাণী শুনে আমি থমকে গেলাম, আর ভাবলাম, তবে কি আল্লাহর নাম নিকারির পচা মাছের চেয়েও পচা? আল্লাহর নাম কি এতই বাজে যে, নিকারির পচা মাছ খদ্দেররা গ্রহণ করবে, অথচ আল্লাহর নামকে কোনো খদ্দের গ্রহণ করবে না? এমন ভাবনায় মগ্ন হয়ে এবার ঢুকলাম তরিতরকারির বাজারে। আলু কেনার উদ্দেশ্যে আলুথালু গোছের একজন আলু-ব্যাপারীর দোকানে হাজির হলাম। আলু-ব্যাপারীকে বললাম, 'আমাকে এক কেজি আলু মেপে দিন তো।' আমার চাহিদা শুনে ব্যাপারী তার দাঁড়িপাল্লায় ভালো ও পচা আলুর বাছবিচার না করে এক কেজি আলু মেপে দেয়ার উপক্রম করলেন। আমি তাকে তার দাঁড়িপাল্লা থেকে পচা আলুগুলো বাদ দিতে বলায় তিনি বললেন, 'সামান্য পচা বইলা কি এই আলু বিক্রি হইব না? এই পচা আলুও বিক্রি হইব; কিছুই পইড়া থাকব না, থাকব শুধু আল্লাহর নাম।'

এবার আলু-ব্যাপারীর মুখে এমন জ্ঞানগর্ভ বাণী শুনে আমি আবার থমকে গেলাম, আর ভাবলাম, তবে কি আল্লাহর নাম ব্যাপারীর পচা আলুর চেয়েও পচা? আল্লাহর নাম কি এতই বাজে যে, ব্যাপারীর পচা আলু খদ্দেররা গ্রহণ করবে অথচ আল্লাহর নামকে কোনো খদ্দের গ্রহণ করবে না।

এমন ভাবনায় বিস্রস্ত হয়ে এবার বেগুন কিনতে একজন বেগুন-বিক্রেতার নিকট হাজির হলাম। গিয়ে দেখি তার বেগুনের ঝাঁকায় ভালো বেগুনের মাঝে পোকায় খাওয়া বেগুনও রয়েছে। বেগুন বিক্রেতাকে বললাম, 'পোকায় খাওয়া বেগুন বাদ দিয়ে আমাকে ভালো মানের এক কেজি বেগুন মেপে দিন তো।' আমার এমন চাহিদার বিপরীতে তিনি বললেন, 'একটু পোকায় খাইছে বইলা কি এই বেগুন বিক্রি হইব না? এই পোকায় খাওয়া বেগুনও বিক্রি হইব; কিছুই পইড়া থাকব না, থাকব শুধু আল্লাহর নাম।'

এবার বেগুন-বিক্রেতার মুখে এমন জ্ঞানগর্ভ বাণী শুনে আমি আবারও থমকে গেলাম, আর ভাবলাম, তবে কি আল্লাহর নাম ব্যাপারীর পোকায় খাওয়া বেগুনের চেয়েও পোকাক্রান্ত? আল্লাহর নাম কি এতই বাজে যে, ব্যাপারীর পোকায় খাওয়া বেগুন খদ্দেররা গ্রহণ করবে অথচ আল্লাহর নামকে কোনো খদ্দের গ্রহণ করবে না। পতিতারও তো খদ্দের জোটে, তবে কি আল্লাহর নামের জন্যে একজন খদ্দেরও জুটবে না? মানবসমাজে পতিতারও আবেদন রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর নামের কি কোনোই আবেদন নেই? আল্লাহর নাম পচা মাছ, পচা আলু, পোকায় খাওয়া বেগুন ও এমনকি পতিতাদের চেয়ে এতটাই খারাপ যে, মানবসমাজে এত কিছু থাকতে শুধু আল্লাহর নাম অবহেলাভরে পড়ে থাকবে। তবে কে এই আল্লাহ? কী তার পরিচয়? এমন কী বিশেষত্ব তার রয়েছে, যার কারণে আমাকে নিকারির মুখে, ব্যাপারীর মুখে অমন জ্ঞানগর্ভ বাণী শুনতে হলো। তাই আর কালক্ষেপণ না করে তারই অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হলাম। পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান শেষে আল্লাহর যে সমস্ত বিশেষত্ব খুঁজে পেলাম, তা জানার পর থেকে মনে হলো, তার নাম শুধু অবহেলাভরে পড়ে থাকার বিষয় নয়, ঘৃণাসহকারে তা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপের যোগ্যও বটে।

কারণ, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে প্রতারক মুহম্মদ প্রতারণাপূর্ণ ইসলামধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে লুটেরা মুহম্মদ অসহায় মানুষের মূল্যবান সম্পদ লুট করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে খুনী মুহম্মদ অসংখ্য মানুষকে খুন করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে নিপীড়ক মুহম্মদ অজস্র নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক দাস-দাসী বানিয়ে নির্মমভাবে নিপীড়ন করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে ধর্ষক মুহম্মদ অজস্র নারীকে ধর্ষণ করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে অপরাধী মুহম্মদ তার কৃত যাবতীয় অপরাধের বৈধতা আদায় করেছে, যে-আল্লাহর নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী মুহম্মদের সন্ত্রাসবাদের অনুসারী ইসলামি সন্ত্রাসবাদীগণ বিশ্বব্যাপী নিরীহ মানুষের ওপরে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ চালিয়ে আসছে, যে-আল্লাহ মানুষের দুঃখদুর্দশা লাঘবে অপারগ, যে-আল্লাহ মানুষে মানুষে বিভেদের কারণ, যে-আল্লাহ প্রতিক্রিয়াশীল পরজীবী সম্প্রদায়ের পুঁজি, যে-আল্লাহ সার্বিক প্রগতির অন্তরায়, তেমন ঘৃণার্হ আল্লাহর নাম চরম ঘৃণায় বর্জন করাই সমীচীন। আর তাই মানবসমাজে মানসম্পন্ন অথবা নিম্নমানসম্পন্ন বিষয়বস্তুর ব্যাপক অথবা কিঞ্চিৎ গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় আল্লাহর নামের কোনোই গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই নিকারি ও সব্জি-ব্যাপারীগণ তাদের নিম্নমানসম্পন্ন পণ্যের খদ্দের প্রাপ্তির বিষয়ে আশাবাদী হলেও আল্লাহর নাম যে আস্তাকুঁড়ে অবহেলাভরে পড়ে থাকবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। যদিও আমি টাকা দিয়ে নিকারির পচা মাছ, ব্যাপারীর পচা আলু ও পোকাক্রান্ত বেগুন কিনিনি, তবে বিনা টাকায় তাদের নিকট থেকে অমন টাটকা জ্ঞান লাভ করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার চোখ-নাক-কান বুজে এল। তাই কোনোরকম কার্পণ্য না করে নিকারি ও সব্জি-ব্যাপারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে আমি মনে মনে বললাম, 'শুকুর আলহামদুলিনিকারি ওয়া শুকুর আলহামদুলিব্যাপারী।'

আমাদের আত্মীয়েরা – ১০৪

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

শাড়ি বনাম শালোয়ার-কামিজ

লিখেছেন পুতুল হক

বুরখা-হিজাব ছাড়াও পোশাকের ক্ষেত্রে বাঙালি মেয়েদের আরো বড় একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে। শাড়ি নয়, এখন জাতীয় পোশাক বলা যায় শালোয়ার-কামিজকে। শাড়ি হিন্দুয়ানী পোশাক বলে জোর প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরে চালানো হয়েছে। এবং মুসলমান মেয়েদের মধ্যে এই কথাটি খুব গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। 

শাড়ি পরে নামাজ হয় না। মাটি নাকি সব দেখে! বিস্তারিত লিখতে অসহ্য লাগছে। এসব কথা মানুষ বলে কীভাবে? এরা এতো রুচিহীন, নোংরা হয় কেমন করে?

সময়ের সাথে পোশাকের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এখন যেভাবে শাড়ি পরা হয়, পঞ্চাশ বছর আগে তেমনটা ছিল না। সময়ের পরিবরতনে নানান জাতের মানুষের সংস্পর্শে আমাদের পোশাকের পরিবর্তন ঘটেছে এবং ঘটবে। কিন্তু সুকৌশলে বাঙালির সংস্কৃতি থেকে বাঙালিকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য কিংবা বাঙালির কাছে বাঙালি সংস্কৃতিকে অপাংক্তেয় বা হেয় প্রমাণ করার জন্য যখন শাড়িকে বেশরিয়তি বলা হয়, সেটাকে কীভাবে মেনে নেয়া যায়?

ত্রিশ বা চল্লিশ বছর আগে শুধুমাত্র কিশোরী এবং অবিবাহিত মেয়েরা শালোয়ার-কামিজ পরত। এখন আমার নানিদের পরনেও থাকে শালোয়ার-কামিজ। কয়েক বছর আগেও উৎসব-অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়ি ছিল পরিণত-বয়স্ক মেয়েদের প্রধান পোশাক। এখন সেখানেও বুরখা টাইপের লম্বা কামিজ জায়গা করে নিয়েছে।

চলাফেরার সুবিধার জন্য বা কাজের সুবিধার জন্য শালোয়ার-কামিজ বেছে নেয়ার কথা বলা নিতান্তই একটা অপব্যাখ্যা। তাহলে আমরা অন্তত চাইনিজ মেয়েদের মত শার্ট-প্যান্ট বেছে নিতাম। 

মূল কারণ ধর্মীয় এবং পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদের প্রতি প্রেম। মুসলমানের কাছে "সবার উপর ইসলাম সত্য, তাহার উপর নাই।"

খ্রিষ্টধর্মও নারীকে দিয়েছে বিয়াফক সম্মান


করিন্থীয় ১-১৪
৩৪ মণ্ডলীতে স্ত্রীলোকেরা নীরব থাকুক। ঈশ্বরের লোকদের সমস্ত মণ্ডলীতে এই রীতি প্রচলিত আছে। স্ত্রীলোকদের কথা বলার অনুমোদন নেই। মোশির বিধি-ব্যবস্থা যেমন বলে সেইমত তারা বাধ্য হয়ে থাকুক।
৩৫ স্ত্রীলোকেরা যদি কিছু শিখতে চায় তবে তারা ঘরে নিজেদের স্বামীদের কাছে তা জিজ্ঞেস করুক, কারণ সমাবেশে কথা বলা স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয়।

তিমথি ১-০২
১১ নারীরা সম্পূর্ণ বশ্যতাপূর্বক নীরবে নতনম্র হয়ে শিক্ষা গ্রহণ করুক।
১২ আমি কোন নারীকে শিক্ষা দিতে অথবা কোন পুরুষের ওপরে কর্তৃত্ত্ব করতে দিই না; বরং নারী নীরব থাকুক।

২৯ জানুয়ারী, ২০১৭

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৭

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৩১.
মৃত্যুর পরে আল্লাহর হুকুমে মনকির-নকির কবরে আসবে জেরা করতে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩২.
মানুষের যুক্তি সব সময়ই ত্রুটিপূর্ণ। অতএব আল্লাহর অস্তিত্বের বিপক্ষে তুমি যে যুক্তিই দেখাও না কেন, তা নিখুঁত নয়। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৩.
- আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
(নাস্তিক প্রতিযুক্তি দেখালো)
- আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
(নাস্তিক প্রতিযুক্তি দেখালো)
- আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
(নাস্তিক প্রতিযুক্তি দেখালো)
- আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
(নাস্তিক হাল ছেড়ে দিয়ে ক্ষান্ত দিলো)
অতএব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৪.
আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। তার মানে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৫.
আল্লাহ শাস্তি দেবে বলে আমি হস্তমৈথুন করা থেকে নিজেকে বিরত রাখি। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৪

নিমো হুজুরের খুতবা - ২২

লিখেছেন নীল নিমো

২২.
বিবর্তনবাদকে ভুল প্রমাণের জন্য আজকে এক নাস্তিককে দাঁতভাঙা প্রশ্ন করলাম:
- বানর থেকে যদি বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ হয়, তাহলে মানুষ কেন বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তন হচ্ছে না?

নাস্তিক উত্তর না দিয়ে উল্টা প্রশ্ন করে আমার দাঁত ভেঙে দিল:
- কাঠালের বিচি থেকে যদি কাঠাল গাছ জন্ম নেয়, তাহলে একটি কাঠালের বিচি হাতে নিয়ে, ১ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে, হাতের ভিতরে কাঠাল গাছ জন্মে নিয়ে কাঠাল ধরে না কেন?

সবাই নাস্তিকদের থেকে ১০০ হাত দুরে থাকবেন। নিজ দায়িত্বে নিজের ঈমান আমলের হেফাজত করবেন।

২৩.
মুফতি নীল নিমো হুজুর: 
- ছাগল/উট/মুরগি কিংবা গরুকে বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবর বলে জবেহ করতে হয়। তা না হলে মাংস হালাল হয় না।

নাস্তিক: 
- তাহলে কি ৪০ বছর যাবৎ নবী মুহাম্মদ হারাম মাংস ভক্ষণ করেছিলেন?

মুফতি নীল নিমো হুজুর: 
-আস্তাগফিরুল্লাহ।

২৪.
চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে আমি ভীষন বিপদে আছি। মুরিদের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। কারণটি নিম্নরূপ:
বর্তমান সময়ে সিলিকন-সার্জারি করে যে কোনো মুমিন-মুসলমান ভাই খুব সহজেই ক্রীতদাসী/গার্লফ্রেন্ড/বিবির স্তনকে তীরের মত চৌখা করতে পারে। তাই বেহেস্তের হুরীদের তীরের মত চৌখা স্তনের লোভ দেখিয়ে মুমিন-মুসলমানদের লাইনে আনা যাচ্ছে না।

পবিত্র কোরান মজিদের রেফারেন্স:
"মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য; বাগান ও আঙ্গুর রস এবং সমবয়স্ক সুন্দরী উন্নতবক্ষা (তীরের ন্যায় খাড়া-খাড়া স্তনযুগল) কুমারী যুবতীগণ এবং তাদের হাতে থাকবে শরাব ভর্তি পেয়ালা, যা আল্লাহর কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার।" (আল কোরান ৭৮:৩১-৩৬)

হিজাবী হুরি যতো - ২

ঠিক ৪ বছর আগে ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে ধর্মকারীতে প্রকাশিত "ওপর তলায় ফিটফাট" নামে একটি পোস্ট:

Hijab Islam নামের একটি ব্লগে বড়োই দুঃখ নিয়ে বলা হয়েছে: কিছু বোনের কাছে হিজাব মানে মাথা আবৃত করার জন্য এক টুকরো কাপড়বিশেষ। তারা টাইট পোশাক পরিধান করে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রকটভাবে দৃশ্যমান করে রাখে। বোনদের মনে রাখা উচিত, হিজাব শুধু মাথার জন্য নয়, পুরো শরীরের জন্য।

এর নিচে তারা এই ছবিটি প্রকাশ করেছে:


তো 'কেটে দেয়া' অংশটুকু দেখতে কৌতূহল হলো বড়ো। তারপর গুগল ইমেজে খোঁজ লাগিয়ে যেটা পাওয়া গেল:

২৮ জানুয়ারী, ২০১৭

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২৮)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


আধো ঘুমের মাঝেই উপলব্ধি করলাম বাস ক্রমশ ওপর দিকে উঠছে। চোখ খুলে জানালার বাইরে দৃষ্টি ছুড়ে দিতেই দেখি প্রেয়সীর চুলের মতো ঘন গাছপালা, গ্রীবার মতো আদুরে আলো-ছায়াময় শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি! অরণ্যের ভেতর দিয়ে মৃত অ্যানাকোন্ডার মতো একে-বেঁকে প'ড়ে আছে কালো পিচের রাস্তা, আর বড় আকৃতির পিঁপড়ার মতো তার গা বেয়ে চলেছে বাসটি। বান্দরবান শহরের খুব কাছেই চ'লে এসেছি আমরা, সাত-আট মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাব বাসস্ট্যান্ডে। আমার পাশের সিটে আবির ঘুমোচ্ছে, ওকে জাগালাম। সামনের সিটে বসেছে শাশ্বতীদি আর পরাগদা; ওরা আগেই জেগেছে, তাকিয়ে আছে জানালার বাইরের সবুজে। বাসের যাত্রীরা একে একে জেগে উঠছে। পেছন দিকের কেউ একজন মোবাইলে গান চালিয়েছে - 'লাল পাহাড়ের দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা'। 

বাস থেকে নেমে অটোয় চেপে গেলাম উংক্ষ্যংছড়িগামী বাসের কাছে। বাস ছাড়ার আগে টয়লেট সেরে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা ক'রে নিলাম। মিনিট চল্লিশের মধ্যে সিট পূর্ণ হলে গজরাতে গজরাতে পাহাড়ী পথে চলতে শুরু করলো বাস। শুরু হলো রোমাঞ্চকর যাত্রা। কোথাও পাহাড়ের কোল ঘেঁষা রাস্তা, কোথাওবা রাস্তা থেকে পাহাড় অনেক নিচে। রাস্তার বাঁকগুলো ঘোরার সময় বা কোথাও খারাপ রাস্তার কারণে বাস যখন কাত হয়, তখন নিচের দিকে তাকালে বুকের ভেতর শিরশির ক'রে একটা বেতাল হাওয়া ব'য়ে যায়! তবে বেতাল হাওয়ায় বেশি মনোযোগ না দিয়ে পাহাড়ের কোলে আটকে থাকা দুধের নদীর মতো সাদা মেঘমালা উপভোগ করাই শ্রেয়। কোথাও রাস্তার ওপরেই আছে টুকরো টুকরো মেঘ, ঘাতকের মতো মেঘের বুক চিরে ধাবিত হচ্ছে বাস। জানালা খোলা থাকায় আমাদেরও হচ্ছে মেঘের সাথে আলিঙ্গন, মধুর চুমোচুমি! 

বাস থেকে উংক্ষ্যংছড়িতে নেমে উঠলাম সাঙ্গু নদীর ঘাটে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা ট্রলারে। আমরা চারজন ব্যতিত আর পাঁচজন পর্যটক উঠলো ট্রলারে, বাকিরা স্থানীয় আদিবাসী। ঘাট ছাড়ার আগ মুহূর্তে এক বৃদ্ধা দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করায় তার জন্য অপেক্ষা করলো ট্রলার। বৃদ্ধার ঊর্ধ্বাঙ্গে ব্লাউজ আর নিম্নাঙ্গে লুঙ্গি, পায়ে বার্মিজ স্যান্ডেল, মাথার কাঁচা-পাকা চুল পেছন দিকে খোঁপা করা, পিঠে পাহাড়ী টুকরি, মুখে কালো রঙের পাইপ; দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে ট্রলারে উঠে টুকরিটা সামনে রেখে পাটাতনে বসলেন। ট্রলার ঘাট ছাড়লো। বৃদ্ধা আয়েশ ক'রে পাইপ টেনে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলেন। ট্রলারে এতোগুলো পুরুষ রয়েছে, সেদিকে তার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই, পারের দিকে তাকিয়ে আপন মনে পাইপ টানছেন। মনে মনে এই বৃদ্ধার সঙ্গে আমার দাদীর তুলনা করতে গিয়ে নিজেকে কেমন বোকা মনে হলো! এই বৃদ্ধা হয়তো লেখাপড়া জানেন না, কিন্তু লেখাপড়া জানা অনেক বাঙালি নারীর চেয়ে তিনি স্বাধীন, স্বতন্ত্র, ব্যক্তিত্ববান। আমরা বাঙালিরা নাকি সভ্য-আধুনিক। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষিত পুরুষও নারীদেরকে গৃহবন্দী ক'রে রাখতে পছন্দ করে। মওলানাদের কথা আর নাইবা বললাম। অধিকাংশ শিক্ষিত নারীকেই পুরুষের গঞ্জনা সইতে হয়। আমরা, তথাকথিত সভ্য সমাজের মানুষেরা, আজও নারীকে যে সম্মান দিতে পারিনি, অনেক বাঙালির ভাষায় বন্য-জংলি আদিবাসীরা তাদের নারীদের তার চেয়েও অধিক সম্মান দিয়েছে। অনেক আদিবাসী সমাজই মাতৃতান্ত্রিক। আমাদের তথাকথিত সভ্যতা-আধুনিকতা বন্য আদিবাসীদের সামনে মাথা হেঁট ক'রে থাকে লজ্জায়! আমরা হয়তো অনেকেই তা বুঝি, আর অধিকাংশ মানুষই বুঝি না।

বৃদ্ধার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আমি দৃষ্টি এবং মন দিলাম সাঙ্গুর দু'পারের প্রকৃতিতে। দু'পাশে সবুজ অরণ্য, মাঝে মাঝে ছবির মতো ঘর-বাড়ি, কোথাও জুমচাষে ব্যস্ত কৃষক। জীবনে পদ্মা-মেঘনা-যমুনাসহ অনেক বড় বড় নদী দেখেছি, নৌ-ভ্রমণ করেছি; সেসব নদী এবং নদী পারের আলাদা সৌন্দর্য আছে; তবে সাঙ্গু আর তার দু'পারের কাছে সেসব নদী আর নদীপারের জনপদ যেন অনেকটাই স্লান! আমি বান্দরবান থেকে ট্রলারে আটঘন্টাব্যাপী থানচিতে গিয়েছি। কিন্তু সাঙ্গু আর দু'পারের মানুষ-প্রকৃতি কখনোই আমাকে ক্লান্ত করেনি, বরং উজ্জ্বীবিত করেছে। শাশ্বতীদির ক্যামেরা পর পর ক্লিক করছে, ধারণ করছে নদীপারের দৃশ্য।

নামাজরঙ্গ - ৪৫

মূল ছবিটি পাঠিয়েছেন মাসুদ পারভেজ

মূল ছবিটি পাঠিয়েছেন মাসুদ পারভেজ

শিয়া আর সুন্নি, ঝগড়া নতুন নি?

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

➤ বাঙালি জাতির নবী হযরত জাকির নায়েক (জো. না.) একটি লেকচারে বলেছিলেন, কোরানে কোনো জায়গায় শিয়া-সুন্নি নেই।

➤ তিনি আরো বলে থাকেন, মুসলিমরা যেন নিজেদের শিয়া-সুন্নি বলে পরিচয় না দেন। কথাটা বলে একটা উদাহরণ তিনি টানেন। সেটা হল - আরবদের নবী হযরত মোহাম্মদ কি শিয়া না সুন্নি মুসলিম ছিলেন?

কথাটা শোনামাত্রই হাততালি শুরু হয়ে যায়। বোকা মুসলিমরা একটা বারের জন্যও ভাবে না, কথাটা কতটুকু হাস্যকর। যারা 'মুহাম্মদকে অনুসরণ' করে তাদের সুন্নি বলা হয়। মোহাম্মদ কি নিজেকে নিজে অনুসরণ করত, যে-কারণে তাকে সুন্নি বলা যাবে? তিনি শিয়া হতে পারেন নাকি, পরে বলছি।

➤ কোরানে সুরা ৩৭: ৮৩ তে বলা হয়েছে ইব্রাহিম ছিল নুহের শিয়া।

শিয়া শব্দের অর্থ অনুসরণকারী। যে কেউ কাউকে অনুসরণ করলে তাকে শিয়া বলা চলে। শিয়ারা বলে, তারা কোরান এবং মুহাম্মদ এবং তার মনোনীত ব্যক্তিদের অনুসরণ করে। তাই তারা নিজেদের শিয়া পরিচয় দেয়। এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার সকল সুন্নি মুসলিমদেরও মুহাম্মদের শিয়া বলা চলে।

সুরা ২: ১৮৩ তে বলা হয়েছে আল্লা মুহাম্মদকে বলছে ইব্রাহিমকে অনুসরণ করতে। এদিক দিয়ে মুহাম্মদকেও ইব্রাহিমের শিয়া বলা চলে। তাছাড়া কোরানের ২৮: ১৫ তে মুসার অনুসারীকে শিয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

➤ শিয়ারা ৫ টা প্রধান নামাজ তিন ওয়াক্তে আদায় করে। কিন্তু সুন্নিরা সেটা আলাদা ৫ ওয়াক্তে আদায় করে।

শিয়ারা আয়েশা, আবু বক্কর, ওমর, উতমানদের কাফির তুল্য মনে করে। তারা মুতা বিবাহ করে, তাকিয়া করে, নামাযের ধরন ভিন্ন, আযান ভিন্ন।

শিয়াদের এসব কিছু না করলে, না মানলে, হে জাকির নায়েকের উম্মতগণ, নিজেদের সুন্নি মুসলিম বলেই পরিচয় দিন।

বি.দ্র. এই মুফত উপদেশটা দিতে হল এক লোকের উপর বিরক্ত হয়ে যিনি তোতা পাখির মত আমাকে বলেছিলেন, আমি মুসলিম। শিয়া-সুন্নি নই।

ইছলামী অস্কার

মূল কার্টুনটি পাঠিয়েছেন সৌরভ মাইতি

২৬ জানুয়ারী, ২০১৭

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (পর্ব ৭)

লিখেছেন আবুল কাশেম


নবীর স্বপ্ন আয়েশা ও সওদাকে বিবাহ

পূর্বেই সওদাকে বিবাহের ব্যাপারে কিছু লেখা হয়েছিল, এখানে আরও কিছু তথ্য দেওয়া হল।

খাদিজার সাথে বিবাহের আগে উম হানি ছাড়া নবীর জীবনে অন্য কোনো নারীর প্রবেশের উল্লেখ আমরা ‘সিরা’ বা মুহাম্মদের জীবনীতে দেখি না। যদিও ২৫ বছরের মুহাম্মদের সাথে চল্লিশোর্ধ্ব খাদিজার বিবাহের ঘটনা বেশ বিরল, তবুও মুহাম্মদ এই বিয়েতে মোটামুটি শান্তিতেই ছিলেন। তখন আরব সমাজে মহিলাদের বিবাহ অল্প বয়সেই হয়ে যেত—খুব সম্ভবতঃ, ১৫-১৬ বছরেই। সেই হিসাবে বলা যেতে পারে যে, মুহাম্মদ বিবাহ করলেন তাঁর মায়ের বয়সী এক মহিলাকে। এর আগে খাদিজার দু’বার বিবাহ হয়েছিল। তাই সংসার এবং দাম্পত্য জীবনে ছিল খদিজার প্রচুর অভিজ্ঞতা। আর খাদিজা ছিলেন ধনকুবের। তাই মুহাম্মদের প্রায় সব চাহিদাই খাদিজা মেটাতে পেরেছিলেন শুধু একটা শর্তে—তা ছিল যে খদিজার জীবদ্দশায় মুহাম্মদ আর কোনো স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবেন না।

এই প্রসঙ্গে রডিন্সন লিখেছেন (পৃঃ ৫৫):
…অনেকে বলেন আরব সমাজে বহু বিবাহ অবাধে প্রচলিত ছিল কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তেমন ছিলনা। যতটুকু মনে করা হয় বহুবিবাহ প্রথা তার চাইতে অনেক কম ছিল। কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদ ছিল বহুল প্রচলিত এবং সহজ। এছাড়াও বেশ্যাবৃত্তি, যার অপর নাম ছিল অস্থায়ী বিবা‌হ তাও প্রচলিত ছিল। ধর্মের রীতিনীতি সমর্থিত যৌনসংগম অনেক সময় করা যেত। খুব সহজেই কেনা যেত সুন্দরী এবং তরুণী যৌন-দাসীদের। খুব সম্ভবত তাঁদের বিবাহের শর্ত ছিল যে মুহাম্মদ কোন দ্বিতীয় স্ত্রী নিতে পারবেন না। ধনবতী খদেজার পক্ষে এই দাবী করা ছিল নিতান্তই স্বাভাবিক।
স্যার উইলিয়াম মুর লিখেছেন (পৃঃ ১০৯):
খাদিজার মৃত্যুর দুই অথবা তিন মাসের ব্যবধানে মুহাম্মদ সওদাকে বিবাহ করলেন এবং সেই সাথে আবু বকরের কন্যা আয়েশাকে বাগদত্তা স্ত্রীও বানালেন। অনেকেই বলেন আয়েশার সাথে বিবাহের কারণ ছিল দুই বন্ধুর মধ্যে বন্ধুত্ব গাড় করা।
খাদিজার মৃত্যুর পর মুহাম্মদ প্রথমে বিবাহ করেন সওদাকে। সওদা ছিলেন বয়স্কা, স্থূল, অনাকর্ষণীয় এবং গরীব। খাদিজা এবং সওদা মুহাম্মদকে যা দিতে পারেননি—যৌবন, সৌন্দর্য এবং শিশুশুলভ চপলতা, এই সবই মুহাম্মদ দেখলেন তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু আবু বকরের ছয় বছর বয়স্ক শিশু কন্যা আয়েশার মাঝে। একই সাথে উম হানির সাথেও নবী চালিয়ে যেতে থাকলেন পরকীয়া প্রেম।

শিশু আয়েশার সাথে ৫১ বছর বয়স্ক মুহাম্মদের বিবাহ নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। তাই এই নিয়ে এখানে বেশি লেখার প্রয়োজন নেই। শুধু আমাদের কৌতূহল হল, এই দুই বিবাহ (সওদা এবং আয়েশা) কি নবীর মেরাজের আগে হয়েছিল, না পরে? এই ব্যাপারেও এখনও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।

এই সময় নির্ধারণ একটু গুরুত্বপূর্ণ; কারণ আমরা একটু পরেই দেখব যে, নবী যে রাত্রিতে আকাশভ্রমণ (ঈস্‌রা এবং মেরাজ) করেছিলেন, তা কোথা থেকে শুরু করেছিলেন—উম হানির ঘর হতে না অন্য কোনো স্থান হতে। কারণ ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে, নবী কোনোদিনই রাত্রিবেলা উম হানির গৃহে ঘুমিয়ে মেরাজ করেননি। তার কারণ তিনি তখন সওদার সাথে বিবাহিত, আর আয়েশার সাথে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন আবু বকরকে। তাই তিনি কেমন করে উম হানির ঘরে রাত্রিযাপন করবেন?

এর উত্তর তেমন জটিল নয়। প্রথমে রডিন্সনের উদ্ধৃতি পড়লে বোঝা যায় যে, খাদিজার মৃত্যুতে মুহাম্মদ ওপরে ওপরে দুঃখ প্রকাশ করলেও মনে মনে হয়ত একটু স্বস্তি পেয়েছিলেন। কারণ এখন তিনি খাদিজার হাতের মুঠো থেকে মুক্ত। এখন যা খুশি তাই করতে পারবেন—যে মেয়েকে পছন্দ, তার সাথেই রাত কাটাতে পারবেন—বিবাহ করেই হোক বা না করেই হোক। যদি পরকীয়াও হয়, তাতেই বা কী অসুবিধা?

যাক, এই ব্যাপারে আমরা পরে দীর্ঘ জানব। এখন আয়েশা এবং সওদাকে বিবাহ নিয়ে কিছু চমৎকার হাদিস পড়ে নেব।

প্রথমেই দেখা যাক, মার্টিন লিঙ্গস্‌ কী লিখেছেন (পৃঃ ১০৬):

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭৬

আল্যা তাদের পক্ষে, তবুও সব ম্যাচে কেন হারে?

সব আলামতই বাংলাস্তানমুখী। একটা সময়ে ফাকিস্তানী ক্রিকেট দলের ক্রিকেট মাঠে নামাজ পড়া নিয়ে হাসাহাসি করেছি।

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

এখন দেশী ক্রিকেটাররাও সেই রাহে অনুসরণ করছে। নিউজিল্যান্ড সফরের সময় অধিনায়ক মুশফিক তাঁর ফেসবুকে এই ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, 'আপনি কোথায় আছেন সেটি কোনও বিষয় না। সবার আগে নামাজ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।' এছাড়া মাহমুদুল্লাহ সেখানকার স্থানীয় একটি মসজিদে জুম্মার নামাজে ইমামতিও করেছেন।

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

তো নিউজিল্যান্ডে সব ম্যাচে হারার পরে কী প্রমাণিত হলো শেষমেশ? রহমান পৃথু এ বিষয়ে লিখেছেন:
সদ্য সমাপ্ত নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের সর্বনাশ করেছে ... নামাজ। প্রার্থনা নিজ কর্মক্ষমতার ওপর অনাস্থা তৈরি করে।
প্রমাণিত হয়েছে - নামাজ ব্যর্থতার চাবি। নামাজে কাজ হয় না। আল্লাহ বলে কেউ নেই। 
নিউজিল্যান্ডের মাঠে দল বেঁধে নামাজ পড়তে দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমের ওপর থেকে মন উঠে গেছে।
আর "গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর" কুদরত আলি নিয়ে এসেছেন সময়োপযোগী একটি প্রস্তাব:
টিকেট কেলাকে সুন্নতি কেলা গুসনা করা একনই সময়ের দাবি। টিকেট কেলায় ফ্রতিটি কেলয়ার সুন্নতি ফুসাক ফরিদান করে। তাদের আডু দেকা যায় না। কেলুয়ারদের মাতায় সবসুময় সুন্নতি টুফি ফরিদান করা তাকে। ফ্রতিটি টিকেট কেলুয়ার একন দারি রাকে। এই যেমুন সাকিব, শুভ, বিরাত কুলি, যুবরাজ, পান্দে, আফ্রিদি, মিচবাহসহ অনেক টিকেটার সুন্নতি দারি রেকেসে। টিকেটারদের সরিলের মুক সারা আর কুনু অংগ দিকা যায় না। কেলার ফাশাফাসি তারা মাডে নামাজও আদায় করে। যে কেলায় এমুন সুন্নতি টুফি, দারি, নামাজসহ আডু ডাকা ফুশাক আচে, সেই কেলাকে কেনু সুন্নতি কেলা হিসাবে গুসনা করা হবি না?
জোর কদমে বাস্তবায়িত হচ্ছে মদিনা সনদ।

নুহ নবীর নৌকায়

২৫ জানুয়ারী, ২০১৭

ধর্ম ও ধার্মিক এবং আমার অভিজ্ঞতা - ০১

লিখেছেন রাহুল মল্ল

নিজে নাস্তিক হয়েও বিভিন্ন সময় ধার্মিক বন্ধু, পরিবার, সহপাঠীর সাথে দিন কাটাতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রায়  ধর্ম-ধার্মিক ব্যাপারে অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা জানা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারাবাহিক সিরিজের আজ ১ম পর্ব।  

১) আমাদের বাড়িতে প্রতি বছর শীতলা পূজায় পাঁঠাবলি হয়। দেখে খারাপ লাগতো। কিছু নিরীহ প্রাণী হত্যা করে উৎসব করাটা। একবার মা-বাবাকে বললাম, বলিটা অন্তত বন্ধ করেন। এমনি নিরিবিলি পূজা করেন। সবাই আমার ওপর রেগে  গেল। বললো, দেবতা রেগে গেলে ধ্বংস করবে।  তারপর একটু চিন্তা করে বললাম, ঠিকাছে, তাইলে বলিগুলো আমি নিজেই করি এই বছর। সাথে সাথে মা-বাবা সহ সকলে বলল, ছিঃ ছিঃ এসব পাপ। নিরীহ ছাগল কাটার কথা মুখে আনাই পাপ।

২) প্রায় ৩ বছর ধরে দেশের বাইরে মেসে থাকি। প্রথম প্রথম যখন মেসে উঠলাম, সেই মেসে সবাই হিন্দু। কয়েকজন অনুকুল ভক্ত, কয়েককজন ইসকন ভক্ত। যাইহোক, বিদেশে রান্না করে খাওয়া তা মুশকিল। আপনার সব কাজ করে দেবে, টাকা লাগলে ধার দেবে কিন্তু রান্না করে দেবে না। আপদে পড়লাম। প্রথমত, রান্না জানি না। কোনোদিন করিনি। দ্বিতীয়ত, আমাকে একা খেতে হবে রান্না না শিখে নেয়া অব্দি। 

ধীরে ধীরে ২-৩ মাসে শিখে গেলাম রান্না। একদিন ছুটির দিনে খাসির মাংস কিনে আনলাম ১২ ডলার দিয়ে। রান্না করে খেতে বসব। ২ জন তখন স্নান করে ঠাকুর নমস্কার করে খেতে বসছে আমার পাশেই। বললাম, নেন অল্প অল্প করে। স্বাভাবিকভাবে তারাও আমাকে দেয় মাঝেমাঝে। খাওয়া অবস্থায় কেউ বলে মাংসে মসলা কম, একজন বলে এলাচি বেশি। বা আরেকটু সিদ্ধ হবে। আমি নতুন রান্না শিখলাম, কেমনই বা রান্না করব। যা রান্না করেছি, খেয়েছে সেদিনের মত।

তার কিছুদিন পর বাসায় খাসির মাংস নিয়ে আসলো। একজন অন্যজনকে বলছে, দাম ১৮ ডলার করে। চিন্তায় পড়ে গেলাম; আমি এত সস্তাদরে কিনলাম কীভাবে? পরদিন মার্কেটে আবার গেলাম। দেখলাম, আমি যা কিনেছি, সেটা গরুর মাংস।

৩) দাদুর শরীর খুব অসুস্থ। ডাক্তার বলেছে সময় শেষ। সেই ঘটনা মৃত্যুর ২ দিন আগে। শুয়ে আছে, চারপাশে সবাই বসে থাকে সারাক্ষণ। পানি ছাড়া কিছুই খাচ্ছে না। দাদু ছিল প্রচণ্ড ধার্মিক। সবাই আমাকে ডেকে বললো, "একটু গীতাপাঠ কর। শুনলে স্বর্গে যাবে।" আমি পাশে বসে প্রথম থেকে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর দাদু হাত দিয়ে ইশারা করল। তার শুনতে ভাল লাগছে না, বিরক্ত লাগছে। বলল সরে যেতে। আমি গীতাপাঠ বন্ধ করে বসে থাকলাম। 

৪) গ্রামে একমাত্র মুসলিম বাড়ি আমাদের পাশের ঘর। তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক। প্রতিবেশী হলেও নিজের পরিবারের মত আসা-যাওয়া। একদিন তাদের মেয়েকে দেখতে আসে বরপক্ষ। আমাকে রাখা হল বরপক্ষ আপ্যায়নে। সবাইকে একে একে চা-নাস্তা দিলাম। খাওয়াদাওয়া শেষে মুরব্বীরা বসে বিয়ের আলোচনা করছে। আমি বরের সাথে বসে কথা বলছি। কথার একপর্যায়ে বর বললো "এখানে কি শুধু একটাই মুসলিম বাড়ি?" বললাম, "হ্যাঁ।" বর বললো, "তাহলে তো সমস্যা। আরো কয়েক পরিবার মুসলিম থাকলে আশেপাশের হিন্দু পরিবারগুলো পিটিয়ে তাড়ানো যেতো।" 

বিয়ের পর আসা-যাওয়াতে বর জানতে পারলো, আমি পাশের বাড়ির হিন্দু। 

(চলবে)

অলৌকিক ঘটনার ব্যবচ্ছেদ

নিমো হুজুরের খুতবা - ২১

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে ওয়াজ করছিলাম এই ভাবে:
- মুসলমানদের নৈতিকতার উৎস হল কোরান। কোরান মুসলমানদেরকে শিখিয়েছে কোনটা হালাল, কোনটা হারাম। কোনটা নৈতিক, আর কোনটা অনৈতিক। কোরান অনুসরণ করে মুসলমানদের আখলাক (চরিত্র) হয়েছে সর্বোৎকৃষ্ট। জাহান্নামী নাস্তিকদের চরিত্রের ঠিক নাই। এদের কোনো নৈতিকতা নাই। এদের নৈতিকতার কোনো বই নাই। এরা যা ইচ্ছা, তা করে। অবাধে যৌনাচার করে বেড়ায়, গু-মুত খেয়ে বেঁচে থাকে। মা-বোনদেরকেও বাদ দেয় না...

কথা শেষ করতে পারলাম না। এক নোয়াখাইল্লা নাস্তিক আমাকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাস করিল:
- হুজুর, ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ না করলে কি একজন মানুষের চরিত্র খারাপ হয়ে যায়?

আমি উত্তর দিলাম:
- অবশ্যই, ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ না করলে চরিত্র খারাপ হয়ে যায়। আখলাক বলে কিছুই থাকে না।

নোয়াখাইল্লা নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, নবুয়াত পাবার আগে ৪০ বছর পর্যন্ত নবী করিম (সঃ) এর কোনো ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থ ছিল না। নবীজির নৈতিকতার কোনো উৎস ছিল না। তখন নবীজি কি অবাধে যৌনাচার করে বেড়াতেন? তিনি কি গু-মুত খেয়ে বেঁচে ছিলেন? মা বোনদেরকেও..."

আজ সারা দিন রোজা রাখছিলাম আমি। নাস্তিকের কথা শুনে আমার মাথাটা ঘুরে উঠল। মুরিদরা আমাকে ধরাধরি করে নিয়ে গিয়ে, আমার মাথায় বদনা থেকে ঠাণ্ডা পানি ঢালল। 

আমার জন্য দোয়া করবেন।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭১

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: আক্কাস আলী

২৪ জানুয়ারী, ২০১৭

ফাদাক - ৪: গণিমতের উত্তরাধিকার – সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৬): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মালিকানাধীন যে লুটের মালের সম্পদগুলো (গণিমত) মৃত্যুকালে রেখে গিয়েছিলেন, সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকারের দাবি নিয়ে তাঁর কন্যা ফাতিমা তাঁর মৃত্যুর কতদিন পরে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর ইবনে কুহাফার কাছে গমন করেছিলেন; আবু বকর তাঁর সেই দাবির যথার্থতা প্রমাণের জন্য যখন 'প্রমাণ' দাবি করেছিলেন, তখন তিনি আবু বকরের কাছে কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছিলেন; সেই ব্যক্তিটির সঙ্গে মুহম্মদের সম্পর্ক কী ছিলো, ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সম্পদের বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে সা'দের (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনায় আমরা আর যে-তথ্যটি জানতে পারি, তা হলো:

"আল্লাহর নবী (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর মৃত্যুকালে সাদা খচ্চর, অস্ত্র-শস্ত্র ও 'সাদাকার' নিমিত্তে এক টুকরা জমি ব্যতীত আর কোনো কিছুই রেখে যাননি; না দিরহাম, না দিনার, না ক্রীতদাস, না দাসী।" [1]  

কী রূপ সহজ-সরল ও দরিদ্র অবস্থায় মুহাম্মদ তাঁর দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত করতেন, তার প্রমাণ হাজির করতে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা সচরাচর যে-উদাহরণগুলো অজ্ঞ মুসলমান ও অমুসলমানদের উদ্দেশ্যে 'বয়ান করেন', তা হলো সিরাত ও হাদিসে বর্ণিত এই সব বাছাইকৃত (Selective) টুকরো টুকরো বর্ণনা! নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস জানার চেষ্টা না করলে সুবিধাবাদী ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের এই সব বাছাইকৃত রেফারেন্স সমৃদ্ধ ভাষণের মাধ্যমে যে কোনো ইসলাম অজ্ঞ ব্যক্তি অতি সহজেই বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন। ফাদাক, খায়বার ও মদিনায় মুহাম্মদ "কী পরিমাণ সুবিশাল অংকের লুটের সম্পদ" রেখে গিয়েছিলেন তার বিস্তারিত আলোচনাও আগের পর্বে (পর্ব-১৫৫) করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ) ও আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ) ছাড়াও মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের মধ্যে আর যে বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিক ইসলামের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-বালাধুরি (Aḥmad ibn Yaḥyā al-Balādhurī)। তাঁর জন্ম ইরানে, বসবাস করতেন বাগদাদে ও সেখানেই  তাঁর মৃত্যু হয় ৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরি ২৭৮-২৭৯ সাল)।

আল-বালাধুরির বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাব ফুতু আল-বুলদান (kitab futuh al-buldan)', যেখানে তিনি মুহাম্মদের মদিনা হিজরতের (৬২২ সাল) সময় থেকে মুহাম্মদ ও তাঁর মৃত্যু-পরবর্তী আরব মুসলিম শাসনকর্তার আমলে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সমসাময়িক ইতিহাসের বর্ণনা করেছেন; যার পরিব্যাপ্তি আরব থেকে মিশর, উত্তর আফ্রিকা, স্পেন, পূর্ব ইরাক, ইরান ও সিন্ধু বিজয় পর্যন্ত। মুহাম্মদের রেখে যাওয়া লুটের মালের সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রশ্নে ফাতিমা ও আবু বকরের বিরোধ প্রসঙ্গে যে অতিরিক্ত তথ্যগুলো তিনি বর্ণনা করেছেন, তা হলো এই:

ভিক্ষাবৃত্তি-নির্ভর বৈভবশালী ধর্মগুলো

ইহজগতে অর্থ উপার্জনের (বলা উচিত – করায়ত্ত করার) সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতির নাম ধর্ম। অপরিমেয় অর্থের মালিক হয়েও আয়ের হিসেব দিতে হয় না, উৎস জানাতে হয় না, কর দিতে হয় না, মামলা-মোকদ্দমার ভয় নেই, রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের ঘাঁটাতে সাহস করে না। ধর্মবিশ্বাস নামের দুর্বলতাকে পুঁজি করে মসজিদ-মন্দির-চার্চ-সিনাগগগুলো কতোটা ধনপ্রাচুর্যে প্লাবিত, কতোটা বিপুল অর্থের অধিকারী, সাধারণ বিশ্বাসীরা সেটির খবরও রাখে না।


মনে পড়লো, অস্ট্রেলীয় কমেডি গ্রুপ "দ্য চেসার" একটি গানের মাধ্যমে (লিরিকস এখানে) ব্যঙ্গ করেছিল ধর্মের অর্থ হাতানোর পদ্ধতিকে। গানটিতে বলা হয়েছিল:
I’ve got all of heavens riches,
Thanks to all you stupid bitches!

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৩ – (এ কোন ফাতিমা?)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


কিছুদিন আগে খবর পেলাম, দত্তক কন্যাকে বিয়ে করার বৈধতা দিয়ে বিল পাস করেছে ইরানের পার্লামেন্ট! মাত্র ১৩ বছর বয়স হলেই পালিত কন্যাকে বিয়ে করতে আর কোনো রকম বাধা থাকবে না ইরানে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নারী ও শিশু অধিকার কর্মীরা এ বিল পাশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আরো বাড়বে এবং দত্তক কন্যাকে বিয়ে করার সুযোগ অবারিত হবে।**

শরিয়া আইনে দত্তক সন্তানকে উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এজন্য এমন সন্তান কখনো পালক পিতা/মাতার সম্পদের অংশীদার হয় না। কোনো মুসলমানের জন্য নিজের জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেওয়া শরিয়া আইনে বৈধ নয়। সে হিসেবে খুব একটা চমকে যাবার মত খবর নয় এটা।

নবী মুহাম্মদ বলেছেন:
'জেনে-শুনে যে নিজ পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেয়,
তার উপর জান্নাত হারাম' [1]

কিন্তু পরের খবরে না চমকে উপায় নেই; ইরাকে এ ধরনের এক নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের মেয়েকেও বিবাহ করা বৈধ! এবং শিয়া সূত্রানুসারে নবী মুহাম্মদ নিজেই নাকি নিজের কন্যা ফাতিমার প্রতি যৌনকাতর ছিলেন! 

সত্যি বলছি, গত ৫/৭ বছরের মধ্যে এত বড় ধাক্কা আর কোনো বিষয়েই পাইনি আমি! সকল সুন্নি হাদিস ও সিরাত সংকলন আমার সংগ্রহে আছে; আছে শিয়া হাদিস সংকলনসহ কয়েক হাজার বইপত্র! কিন্তু এমনটা চোখে পড়েনি আমার! এবার একটু নতুন করে গবেষণায় নামতেই হয়; এতো আমার নিজের বিশ্বাসের দরজাতেই নতুন করাঘাত! দেখতে শুরু করলাম নতুন করে। যতটুকু পেলাম, আপনাদের কাছে হুবুহু তুলে দিচ্ছি:

It was narrated by (imam) jafan Ibn. Muhamad:
The phophet Muhammad used to put his face between the breasts of Fatimah. [2]
(নবী মুহাম্মদ ফাতিমার দুই স্তনের মাঝখানে মুখ দিতেন!)

Whenever I long for paradise, I kiss the throat of Fatemah. [3]
(যখনই নবী মুহাম্মদ বেহেস্তের আকাঙ্ক্ষা করেন, তিনি ফাতিমার গলায় চুমু দেন)

Fatima is human huri whenever I long for paradise I smell her. [4]
(ফাতিমা মনুষ্য-হুরী, যখনই নবী মুহাম্মদ বেহেস্তের আকাঙ্ক্ষা করেন, তিনি তার ঘ্রাণ নেন)

সত্যিই তো; এসব কী? এটা কি পিতাসুলভ আচার, নাকি যৌনকাতর এক উন্মাদের প্রলাপ! এ সকল শিয়া তথ্য-উপাত্ত যদি সত্য হয়, তবে ইরানের পার্লামেন্টে বিল পাশ অথবা নিজ মেয়েকে বিয়ের বৈধতায় ইরাকী নির্দেশনাকে কতটা দোষ দেওয়া যায়! বীজ ভালো না হলে গাছ আর কতটা ভালো হতে পারে!

আপনাদেরকে নবী মুহাম্মদের জীবনকালীন তিনজন ফাতিমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার:

(ক) ফাতিমা বিনতে আসাদ (Fatimah bint Asad): মুহাম্মদের চাচা আবু তালেবের স্ত্রী, খলিফা আলীর জননী, ইনি ৬২৬ ইং সালে মদিনায় মারা যান; মুহাম্মদ মদিনায় মাঝে মাঝে তার ঘরে যেতেন এবং দুপুরে ঘুমাতেন! [5]

(খ) ফাতিমা আল-আলিয়া বিনতে যাবায়ান আল-দাহাক্ (Fatimah al-Aliya bint Zabyan al-Dahhak): ছোট একটি গোত্র-প্রধানের কন্যা ছিলেন, মুহাম্মদ তাকে ৬৩০ ইং সালের ফেব্রুয়ারি/মার্চের দিকে বিয়ে করেন এবং মসজিদের বাইরে পরপুরুষকে উঁকি দিয়ে দেখার অপরাধে দু-তিন সপ্তাহ পরই তালাক দিয়ে দেন! [6]

(গ) ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (Fatimah bint Muhammad): মুহাম্মদের সবচেয়ে ছোট কন্যা, খলিফা আলীর প্রথম স্ত্রী, মুহাম্মদের মৃত্যুর কয়েক মাস পর আগষ্ট, ৬৩২ ইং সালে মাত্র ২৭/২৮ বছর বয়সে মারা যান! [7]

পাঠকদের কাছে প্রশ্ন, এই ফাতিমা যদি (খ) নং ফাতিমা আল-আলিয়া বিনতে যাবায়ান আল-দাহাক্ হয়ে থাকেন, তবে মুহাম্মদকে যৌনকাতর উন্মাদ বলার জন্য ক্ষমা চাইতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যদি (ক) নং চাচী ফাতিমা অথবা (গ) নং কন্যা ফাতিমার মধ্যে কেউ হন, তবে মুমিন পাঠক কী বলবেন, জানার ইচ্ছা হয়!

আর তাই, আজকে একটাই প্রশ্ন আপনাদের কাছে; এ কোন ফাতিমা?!

তথ্যসূত্র:

** খবরের সত্যতা গুগল সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন; লিংক দিলাম না তাই!
[1]. বুখারী হাদিস, মুসলিম হাদিস; মিশকাত হাদিস/৩৩১৪।
[2]. Bihaar al-Anwar, Vol 43, Page 78.
[3]. Fadhael-Al-Khamsah, Vol 3, Page 127.
[4]. Lisan al Mizan, Vol 03, Page 346.
[5] ibn Sa'd, Muhammad (1995). Kitab at-Tabaqat al-Kabir (The Book of the Major Classes). VIII The Women of Madina. Translated by Bewley, Aisha. London: Ta-Ha Publishers. ISBN 978-1-897940-24-2.
[6] Bewley/Saad 8:100-101, 153. 
Al-Tabari, Vol. 9, p. 138; Al-Tabari, Vol. 39, pp. 186-188. Despite the confusion over the name, she is probably also the woman referred to in Al-Tabari, Vol. 9, pp. 136-137 and the “Fatima bint Shurayh” of Al-Tabari, Vol. 9, p. 139
[7] "Fatimah", Encyclopaedia of Islam. Brill Online.

(চলবে)

কোলাজ-লজ্জা

২৩ জানুয়ারী, ২০১৭

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২৭)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


আমাদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হলো, রেজাল্টও হলো, অরিত্র ফার্স্ট ক্লাস আর আমি পেলাম সেকেন্ড ক্লাস। মাস্টার্স রেজান্টের কিছুদিন পর অরিত্র ভাল একটি কলেজে জয়েন করলো, আমিও অন্য একটি এনজিও'তে ঢুকলাম। দু'জনের রোজগার আরো বাড়লো, আমরা বাসা বদল ক'রে আরো ভালো একটি বাসা নিলাম লালমাটিয়ায়। আমার তো বাড়ির সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন, তবু আমি একবার আব্বার নামে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলাম, টাকা ফেরত এসেছিল। অরিত্র প্রতিমাসে তিন হাজার ওর বাবা-মাকে আর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আমার দেবর অলককে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতো। এসব খরচ বাদেও আমাদের দু'জনের বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকা বেঁচে যেতো, ব্যাংকে দু'জন একটা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুললাম, টাকা জমতে লাগলো। অরিত্র আমাকে প্রায়ই বলতো, 'আমাদের অনেক টাকা দরকার।'

আমি বলতাম, 'আমরা যা বেতন পাই তাতে তো আমাদের দিব্যি চ'লে যাচ্ছে, ব্যাংকেও জমছে, অতো চিন্তার কী আছে!'

ও শুধু বলতো, 'দরকার দরকার।'

এর বেশি কিছু ভেঙে বলতো না। 

আমাদের গভীর প্রণয়ের কথা ওর বাড়ির কেউ জানতো না, জানতো যে, আমি ওর বন্ধু, একসঙ্গে থাকি। অলক কিংবা আমার শ্বশুর যখন ঢাকায় আসতো, তখন আমি আমার এক বান্ধবীর বাসায় চ'লে যেতাম। আমার কথা জিজ্ঞেস করলে ও জানাতো যে. এনজিও'র কাজে আমি ঢাকার বাইরে। এই লুকোচুরি খেলতে খেলতে অনেকদিন কাটলো। ওর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে আমাদের সম্পর্কের কথা জানতো কেবল ওর পিসতুতো ভাই তনয়। তনয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, থাকতো তাঁতীবাজার। ও অনেক উদার, আমাদের সম্পর্কটাকে সহজভাবেই নিয়েছিল। মাসে দু'-তিনদিন আমাদের বাসায় আসতো, এখানো আসে। 

এরপর একসময় অরিত্রর বাড়ি থেকে ওকেও বিয়ের জন্য জোরাজুরি করতে শুরু করলো। ও 'এখন নয় এখন নয়' ব'লে কালক্ষেপণ করতো, কিন্তু এক পর্যায়ে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি রীতিমতো উঠে-পড়ে লাগলেন ওর বিয়ের জন্য; পাত্রীদের বায়োডাটাও সংগ্রহ করতে শুরু করলেন তারা। আমাদের দু'জনের সামনেই তখন কঠিন বাস্তবতা। আমার বাবা-মা আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন, আমি চাইতাম না অরিত্রর ক্ষেত্রেও তাই হোক। আমরা দু'জন পরামর্শ ক'রে অলককে ঢাকায় আসতে বললাম, অলক এলো; তনয় আগে থেকেই বাসায় ছিল। তনয়কে সামনে রেখে অলককে সব খুলে বললাম আমরা। অরিত্র ওদেরকে বললো, 'আমরা টাকা জমাচ্ছি, যদি বাবা কিছু সাহায্য করতে পারে তাহলে তাড়াতারিই হয়তো সেক্স চেঞ্জ ক'রে ও দৈহিকভাবেও নারী হবে। বাবা-মা চাইলে তখন না হয় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবো।'

আস্তিকীয় যুক্তি বাদ

পুতুলের হক কথা - ২৯

লিখেছেন পুতুল হক

১০৯. 
মনে আছে, আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, তখন আমাদের ফ্যামিলিতে পরপর কিছু বিপর্যয় এসেছিলো। যথারীতি মা মোল্লা-মৌলভী ডাকাডাকি শুরু করে দিয়েছিলেন। অনেক কিছু করা হচ্ছিল ঘরকে বদ দৃষ্টি, বালা-মুসিবত থেকে মুক্ত করার জন্য। ঘরের কোণায় কোণায় তাবিজ বাঁধা হল, ঘরের দরজায় সুরা ইয়াসিন বাঁধাই করে টাঙিয়ে দেয়া হল, ফকির খাওয়ানো হল, জানের সদকা দেয়া হল ছাগল জবাই করে। একদিন সন্ধ্যায় মা দুধ দিয়ে পুরোটা ঘর নিজ হাতে মুছলেন। মায়ের এজমা। রাতে তাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি। বিপর্যয়ের তালিকায় আরো একটা যোগ হয়েছিলো।

১১০.
কেউ একজন এই বিশ্বচরাচর সৃষ্টি করেছে। তাঁর নিয়মে চলছে উদয়-অস্ত, শীতগ্রীষ্ম। মুখ তিনি দেন, আহার তিনি দেন। রোগ তিনি দেন, মুক্তি তিনি দেন। মানুষের এতো চিন্তা-ভাবনার কোনো দরকার নেই। অন্য সব পশুপাখির মত সে শুধু খাবে আর বাচ্চা পয়দা করবে আর চোখ বন্ধ করে থাকবে। বাড়তি শুধু একটা কাজই মানুষকে করতে হবে, সেটা হচ্ছে - স্রষ্টার উপাসনা। আমি যদি একজন নামকরা স্রষ্টা আল্লাহ্‌র কথা বলি, তাহলে বলতে হয় আল্লাহ্‌র উপাসনা কিন্তু শুধু তার নাম জপলেই হবে না। সে কিছু আদেশ-নিষেধ মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছে। আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন না করা একটা ইবাদত। তার নির্দেশমত অন্যের ঘাড়ে তলোয়ার ধরে তাদের আল্লাহ্‌র অধীন করা সব চাইতে বড় ইবাদত। আল্লাহ নিজে মানুষের জীবন কাটাননি, তাই মানবজনম কীভাবে কাটাতে হবে, সেটা বলে দেয়ার জন্য তিনি মানুষ-নবীরাসুল পাঠান। অবশ্য গরুর জীবন কীভাবে কাটাতে হবে, সেটা বলে দেয়ার জন্য কোনো গরু-নবীরাসুলের কথা শুনিনি। তেমনই গাধা, হাঁস-মুরগি বা বাঁদরের মধ্য থেকেও নবী-রাসুলের কথা শুনিনি। আপনারা কেউ জানলে আমাকে দয়া করে জানাবেন। স্রষ্টাকে ভালোবাসলে ভালো জীবজন্তু হওয়া গেলেও মানুষ হতে হলে স্রষ্টার বিরুদ্ধে যেতে হয়।

১১১.
বাংলাদেশের মুসলমানদের মনে ইহুদিদের সম্পর্কে যত ঘৃণা, জিঘাংসা আছে, তাঁর লক্ষভাগের একভাগ যদি পাকিস্তানীদের জন্য থাকতো, তবে এদেশে রাজাকার ক্ষমতার ডালপালা মেলতে পারতো না। সম্ভব হত না কোনো নব্য রাজাকার তৈরি। দেড় হাজার বছর আগে কেতাবে বলেছে, ইহুদিরা ইসলামের শত্রু। তাই আজীবন মুসলমানের কাছে ইহুদিরা শত্রু হয়ে রয়েছে। আর যারা মাত্র অর্ধশতক বছর আগে নিজ ভাই, বাবা, মা, আত্মীয়, বন্ধু হত্যা করেছে কিংবা সহোদরা, বান্ধবী, নাবালক শিশু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর পাশবিকতা করেছে, তাদের একই উম্মাহ বলে গলায় জড়াই। আল্লাহ কেবল তাঁর বিধিবিধানের সম্মান দেখলো, আমার সম্মান দেখেনি। আমিও তার সম্মান দেখবো না।

বেদ্বীনবাণী - ৮৩


ওপরের কথাগুলো ভিডিওতে:

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/nIdst3TJFJI

২২ জানুয়ারী, ২০১৭

জুম্মাবারে কুফরী কিতাব: জঙ্গিনামা - ৩


প্রত্যেক মুছলিমের জন্য ফরজ করা হয়েছে জিহাদ নামের ইছলামী বর্বরতা। অনেক ভণ্ড মুছলিম জিহাদকে কোমল ও সুমিষ্ট মোড়কে উপস্থাপন করতে চাইলেও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সেই মুছলিমদের প্রতারণার জাঙ্গিয়া-নামানো জবাব দেয়া হয়েছে জঙ্গিনামা নামের অভিনব এই ইবুকে।

➜ জিহাদ দ্বারা কিভাবে ফিৎনা ফ্যাসাদ নির্মূল করা সম্ভব অথচ জিহাদ করতে গেলে তো ব্যাপক রক্তপাত হয়, অসংখ্য মানুষের প্রাণনাশ ঘটে?
➜ মুসলমানদের উপর জিহাদের হুকুম কী? অনেকেই তো জিহাদ পছন্দ করে না, বা জিহাদ করতে চায় না।
➜ কোন কোন লোকদের সাথে আমাদের জিহাদ করতে হবে?
➜ কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের জিহাদ আমাদেরকে কতদিন পর্যন্ত চালিয়ে যাতে হবে?
➜ আমরা তো দেখি যে, কাফির-মুশরিকরাই ধন-দৌলতের প্রাচুর্যের মধ্যে আরামে আছে। আর আমাদেরকে আল্লাহ্‌ তা'আলা যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তাহলে কাফির-মুশরিকদের মতো আমাদের এতো ধন-দৌলত নেই কেন?
➜ আমাদেরকে সর্বদা এ ধরনের প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে কেন? আর কেনই বা সর্বদা সাথে অস্ত্র রাখতে হবে?
➜ যদি নিজেদের বাপ, ভাইদের মধ্য থেকে কেউ কাফের হয় বা ঈমানের তুলনায় কুফরকে বেশি পছন্দ করে, তাহলে তাদেরকেও কি অভিভাবক রূপে গ্রহণ করা যাবে না?
➜ জিহাদ ছাড়ার কারণে আমাদের উপর যেই শাস্তি আসবে, তার ধরনটা কী রকম হবে? তা কি শুধু আখিরাতেই আসবে, নাকি দুনিয়াতেও আসবে?
➜ জিহাদ না করলে আমরা কি জান্নাতেও যেতে পারবো না?
➜ জিহাদের কথা বললে তো অনেকেই অব্যাহতি চায়, বিভিন্ন ওজর দেখায়, যারা এ ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের ঈমান কোন পর্যায়ের?

এমন ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে শুধু কোরানের আয়াত উদ্ধৃত করে। এ বিষয়ে নিচের কথাগুলো বলেছেন বইটির সংকলক, অনুবাদক, প্রচ্ছদশিল্পী ও নির্মাণকারী নরসুন্দর মানুষ

এই ইবুক সিরিজটির প্রথম খণ্ড পাঠের পর যেসব মুসলিমদের রেফারেন্স-রেফারেন্স (তথ্যসূত্র-তথ্যসূত্র) বলে চিৎকার ছিলো, তাদের মাথায় ঠাণ্ডা পানি ঢালতেই প্রথম খণ্ডের তাফসীর (ব্যাখ্যা) হিসেবে দ্বিতীয় খণ্ডের জন্ম দেয়া হয়! 

কিন্তু অতি সম্প্রতি পৃথিবীতে কিছু নতুন জাতের মুসলিম জন্মেছে, যাদের বলা হয় 'কোরান অনলি' (শুধু কোরান মানি) মুসলিম। এই উদ্ভট ধরনের মুসলিমদের প্রশ্নের জবাব দিতে; এই খণ্ডে সরাসরি কোরানকেই তাদের মুখোমুখি বসিয়ে দেওয়া হলো; যেহেতু এটি 'কোরান' ও 'শুধু কোরান মানি' মুসলিমের মধ্যে একটি কথোপকথনমূলক ইবুক, তাই পাঠক কোরানের ভাষাতেই পেয়ে যাবেন ইসলামে জিহাদের প্রয়োজনীয়তা এবং ইসলাম ধর্মের আসল চরিত্রের দিক-নির্দেশনা!

এই খণ্ডটিকে আমরা জঙ্গিবাদের তুরুপের তাস বলে বিবেচনা করছি!

(আরও ৮২ টি বাংলা কুফরী কিতাব পাওয়া যাবে এই ঠিকানায়)

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ৯৯০ কিলোবাইট মাত্র
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/hiUhW2
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/ZmZyox

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও আখেরি মোনাজাত

লিখেছেন ক্যাটম্যান

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ'র অকাল মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ সাধারণ জনগণের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। একইসাথে চলচ্চিত্র শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কারণ, সালমান শাহ অভিনীত বেশ কিছু চলচ্চিত্র তখনও মুক্তির অপেক্ষায় ছিল; আরও ছিল তার অভিনয়-অসমাপ্ত চলচ্চিত্রে লগ্নীকৃত অর্থ জলাঞ্জলির সম্ভাবনা। যেহেতু নায়ক সালমান শাহ'র জনপ্রিয়তা তার মৃত্যুর পরে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তাই তার গুণমুগ্ধ দর্শক ও শ্রোতাসাধারণের ভালোবাসা ও আবেগকে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানী চলচ্চিত্র প্রযোজকগণ চলচ্চিত্র ব্যবসার এক মোক্ষম ফন্দি আঁটেন, যাতে করে তারা প্রয়াত নায়কের অভিনীত চলচ্চিত্রে লগ্নীকৃত অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত মুনাফাও অর্জন করতে পারেন। আর সেই মোক্ষম ফন্দিটি হলো, সালমান শাহ অভিনীত মুক্তি প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্রকে তার জীবনের শেষ চলচ্চিত্র বলে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন। যেন আবেগপ্রবণ দর্শকবৃন্দ মৃত সালমান শাহ'র জীবৎকালীন শেষ অভিনয় দেখতে পঙ্গপালের ন্যায় প্রেক্ষাগৃহে ছুটে আসে এবং চলচ্চিত্র ব্যবসায় রমরমা অবস্থার উদ্ভব হয়। অর্থাৎ চলচ্চিত্র ব্যবসায় সালমান শাহ'র মৃত্যু যেন শাপে বর হয়ে দেখা দেয়।

যথারীতি আমাদের শহরের একটি প্রেক্ষাগৃহে সালমান শাহ'র শেষ অভিনীত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য আনা হলো। মাইকে উক্ত চলচ্চিত্রটিকে সালমান শাহ'র অভিনীত শেষ সিনেমা বলে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হলো। এমন কৌশলী প্রচারণায় প্ররোচিত হয়ে বাংলার হুজুগে দর্শকবৃন্দ প্রচণ্ড আগ্রহসহকারে প্রেক্ষাগৃহে ছুটলো। তারা প্রেক্ষাগৃহের টিকেট কাউন্টারে এমনভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ল যে, প্রেক্ষাগৃহের টিকেট কাউন্টার ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো। সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্রটির হাউসফুল বা পূর্ণগৃহ প্রদর্শনী হলো। পরের সপ্তাহে শহরের আরেক প্রেক্ষাগৃহে সালমান শাহ অভিনীত আরেকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য আনা হলো। আর প্রচার করা হলো সেই একই ঘোষণা, 'সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা।' এমন ঘোষণায় প্রয়াত নায়কের অনুরাগী দর্শকবৃন্দ কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও সালমান শাহ অভিনীত আরো একটি শেষ সিনেমা দেখার জন্যে এবার সেই প্রেক্ষাগৃহে ছুটলো। যথারীতি সেই প্রেক্ষাগৃহেও চলচ্চিত্রটির সপ্তাহব্যাপী পূর্ণগৃহ প্রদর্শনী হলো। তার পরের সপ্তাহে শহরের আরেক প্রেক্ষাগৃহে সালমান শাহ অভিনীত আরেকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য আনা হলো। আবারও সেই একই ঘোষণা প্রচারিত হলো, 'সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা।' এবার হুজুগে দর্শকবৃন্দ পূর্বের তুলনায় অধিকতর মাত্রায় বিভ্রান্ত হলো; কিন্তু বিভ্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা সেই প্রেক্ষাগৃহে ছুটলো সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা দেখার উদ্দেশ্যে। আর যথারীতি সেই প্রেক্ষাগৃহেও চলচ্চিত্রটির প্রায় সপ্তাহব্যাপী পূর্ণগৃহ প্রদর্শনী হলো। তবে এই সিনেমার মধ্য দিয়েই যে সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা প্রদর্শনের ধারা থেমে গেল, বিষয়টি এমন নয়। পরবর্তীতে কয়েক মাসব্যাপী সালমান শাহ অভিনীত বেশ কিছু চলচ্চিত্র একইরকম কৌশলী প্রচারণাকে অবলম্বন করে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ক্রমান্বয়ে প্রদর্শিত হতে থাকলো। আর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের এমন প্রতারণাপূর্ণ ধারা ক্রমাগত চলতে থাকায় সালমান শাহ'র অনুরাগী দর্শকবৃন্দ যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়লো, তেমনি তাদের আগ্রহেও ভাটা পড়লো। অর্থাৎ এভাবে বারবার বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হয়ে অবশেষে তাদের সালমান শাহ'র শেষ সিনেমা দেখার বাসনাও নিবৃত্ত হলো। কারণ, মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনে বারবার প্ররোচিত হয়ে প্রয়াত নায়কের অনুরাগী দর্শকবৃন্দ নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে এতদিন যে চলচ্চিত্রসমূহ দর্শন করেছেন, তার কোনোটাই বিজ্ঞাপনে প্রচারিত ও প্রতিশ্রুত 'সালমান শাহ'র শেষ সিনেমা' নয়। এমন প্রচারণায় তারা মূলত প্রতারিত হয়েছেন।

তেমনি প্রতারণার এক চরম উদাহরণ হলো, বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত। ১৯৬৬ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূর্বেকার ন্যায় এবারও টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমার আসর বসেছে। বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য মুসলমান অংশগ্রহণ করে থাকে; উদ্দেশ্য - প্রচুর সংখ্যক মুসলমান এক জায়গায় সমবেত হয়ে কুরআন-হাদিসের বয়ান শোনা এবং প্রতিক্রিয়াশীল বোধে উজ্জীবিত হয়ে ধর্মীয় মৌলবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা প্রচারের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আর উপরি পাওনা হিসাবে গুনাহ মাফ এবং জান্নাতের মদ, মধু, দুধ ও যৌনাবেদনময়ী হুর-গেলমান ভোগের নিশ্চয়তা লাভ। তাই সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ শেষে এমন আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। আখেরি শব্দের অর্থ শেষ বা অন্তিম এবং মোনাজাত শব্দের অর্থ প্রার্থনা। সেই বিবেচনায় আখেরি মোনাজাত কথাটির অর্থ শেষ প্রার্থনা, অর্থাৎ যার পরে আর কোনো প্রার্থনার অবকাশ নেই। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসলমানগণ আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও পরবর্তী কালে আরও অসংখ্য প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করে থাকে। এমনকি বিশ্ব ইজতেমার প্রতিটি আসরে সমবেত হয়ে প্রতিটি আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে থাকে। অথচ আখেরি মোনাজাতের অর্থ ও শর্ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় একবার আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে থাকলে পরবর্তীতে আর কোনো মোনাজাত বা প্রার্থনায় তার অংশগ্রহণের অধিকার নেই। যেমন, কারও মৃত্যু হলে পুনরায় তার মৃত্যুবরণের সম্ভাবনা নেই, তেমনি কেউ আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করলে পুনরায় কোনো প্রকার মোনাজাতে তার অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ 'আখেরি মোনাজাত' কথাটির মধ্য দিয়ে অন্তিম প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু তেমন প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে কেউ যদি পুনঃপুনঃ আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে থাকে, তবে সে নিশ্চিতভাবে মুনাফেকের দলভুক্ত হয়ে পড়ে। কারণ, মুসলমানদের নবী মুহম্মদের মতে মুনাফেকের লক্ষণ তিনটি, যথা - মুনাফেক মিথ্যা কথা বলে, অঙ্গীকার করলে বা প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উপর্যুক্ত লক্ষণসমূহের অন্তত দু'টি লক্ষণ স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যায়। যেমন, তারা আখেরি মোনাজাতের কথা বলে পুনঃপুনঃ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে, যা মিথ্যা কথার সামিল। আর আখেরি মোনাজাত কথাটির মধ্য দিয়ে শেষ প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি দিলেও পুনঃপুনঃ আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। অথচ বারবার মিথ্যা কথা বলা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা সত্ত্বেও মুনাফেক হিসাবে তারা বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ করে না। যেমন লজ্জাবোধ করেনি সালমান শাহ অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রযোজকগণ। যারা বারবার মিথ্যা প্রচার চালিয়ে এবং প্রয়াত নায়কের শেষ অভিনীত সিনেমা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছে। চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের নিকট মৃত সালমান শাহ যেমন এক তামাশার নাম, তেমনি তাবলিগ জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের নিকট আখেরি মোনাজাত হলো এক মহা তামাশার নাম। যা শুধু নামেই আখেরি, কাজে নয়। এ যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতো, 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ।' তেমনি আখেরি মোনাজাত প্রসঙ্গে বলা যায় - 'আখেরি হইয়াও হইল না আখেরি।'

তাই বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত যেন সালমান শাহ'র শেষ সিনেমা, যা শুধু মুনাফেকদের পরিচয়কেই স্পষ্ট করে।

প্রথম আইনজীবী

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৬

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ২৬.
একটি বিমান দুর্ঘটনায় ১৫৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছে এবং বেঁচে গেছে শুধু একটি শিশু। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২৭.
পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ অমুছলিম। এটা আসলে শয়তানের কীর্তি। এবং শয়তানের অস্তিত্ব যেহেতু আছে, তার মানে আল্লাহর অস্তিত্বও আছে।

প্রমাণ ২৮.
আল্লাহর অস্তিত্ব না থাকা সম্ভব নয়, এটা বুঝতে পারেন? এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২৯.
কোরান সত্য এবং কোরানে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য আছে। যেহেতু সেই কোরানেই বলা হচ্ছে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। অতএব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩০.
নবীজি মেরাজে গিয়ে আল্লাহর সাথে দেখা করে এসেছেন। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে,আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

হিজাবী হুরি যতো - ১

পাঠিয়েছেন আক্কাস আলী