১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ০৪

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

১০.
মাদ্রাসার শিক্কা শেস করি আমি একন আদুনিক শিক্কা নেওয়ার জইন্য কম্ফিউটার এর উফর এখটা ডিফ্লমা কোস কইত্তেচি। নাস্তেকরা আমাদের মত মাদ্রাসার সাত্রদের লিয়ে হাসি তামসা করে। কয়, আমরা হুজুররা নিকি ইউটুব আর পেচবুক সারা কিসুই জানি না। তাই আমি নাস্তেকদের চেলেঞ্জ হিসেবে রাইতে কম্ফিটার এর উপর ডিফ্লমা করি নাস্তেক দের মুকে সুনকালি দিব। দিনে মাদ্রেসায় সাত্র পরাইব, আর রাইতে নাস্তেকদের সাতে কম্ফিটার এর জ্ঞান লই টক্কর দিব। কম্ফিটার এর উফর ডিফ্লমা কইত্তে যায়া আমার জিবহা ভাইর হইয়া যাইতেচে। কুন শালায় যে এওত কডিন জিনিস বানাইছে। সার রা ফরা দিলে আমি মুতার কতা কই বাগা মারি দেই। হুম ওয়াক না কি যানি এখটা আছে না, অইটা হইল আমার দুই সুকের দুসমন। হুম অয়াক এর কারনে আইজ কাইল ইসলামি মেহফিলেও ঠিম মত তাইকতে ফারি না। এই কম্ফিটার হইল এখটা নাস্তেকি যন্ত্র। আমাদের নবির আমলই বালো সিল, পেচবুক নাই ইউটুব নাই কিসুই নাই। কালি উটে সরে ঘুরো আর হেরেমে নতুন নতুন বিবি আনো।

১১.
"ছবাই কেন গাইতে গেলে ফ্রেমের গানই গায়?
আমি অন্য কিসু গাইব আজ অন্য সুরে গাইব।"

একানে "অন্য কিসু" বলতে অন্য কিসু বুঝানু হয় নি।
একানে "অন্য কিসু" বলতে আল্লা ও তার দোস্তের দীনের গানকে বুজানু হয়েছে।

১২.
সুটু বেলায় ফ্রায় বিস বসর বয়চ ফইয্যন্ত আমার মুকে বুকে বগলে নিম্নাংগে (হিন্দি সুল) কুতাও সুল গজাইতে সিল না। আমার মুক সিল জেনানা দের মত কুমল। ফারা ফ্রতিবেসি বন্দু বান্দব সবাই মোরে লই আসায়াসি কইত্ত। আমার ফরিবার সবাই সিন্তায় ফরি যায়। কি কইরবে কি কইরবে সবাই জকন বাইবতে সিল, এমুন সুময় ফাসের ফ্রামের লেংড়া কবির আসি কয় সফি হুজুরের কাসে যাইতে। সে নিকি সফি হুজুরের কাস তেকে একটা ফু নিয়েসিল, তার ফর তার ফাও বালা হই যায়। আল্লার উফর বরসা করি মোর বাপ মায় মোরে সফি হুজুরের দারে লই গেল। হুজুর মোরে দেকি দুয়া ফরি এক্কান ফু দিলেন। তারফর তেকে আজিয়া আমার নিচে উফ্রে এত সুল। মুকে গনো দারি । সবাই আমার মুকের সুন্দর দারি দেকি ইনবকচে কালি জিগায় হুজুর আফনার এত সুন্দর দারির রহসসো কি? তাই আজিয়া বলি দিলাম। আল্লামা সফি হুজুরের ফু তে ই আজিয়া আমার মুকে বুকে এত সুন্ধর সুল (হিন্দিতে ফইরবেন না)।

বিতর্কক্লান্ত আস্তিক

ইসলামের নবী ও ইসলামে শাদী মোবারক

লিখেছেন পুতুল হক

'কবুল' বললেই বিয়ে হয়ে যায় আর 'তালাক' বললেই বিয়ে ভেঙে যায়। ইসলামে বিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ যদি হয়, তাহলে এই সম্পর্কে একটাও আয়াত নেই কেন? কোনোমতে "কবুল" বলেই মেয়েদের নিয়ে বিছানাতে যাওয়া ইসলামী পদ্ধতিতে বিয়ের উদ্দেশ্য। তাই মন্ত্র-ফন্ত্র পড়ে সময় নষ্ট করার কথা মোহাম্মদ ভাবেনি। ঘর থেকে পুরোন একটা জড় পদার্থ বের করে ফেলে দিতে যতোটা সময় লাগে, মুসলমান পুরুষের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ততটুকু সময়ও লাগে না ধর্মীয় বিধান মতে।

আমাদের দেশে বিয়ে নিয়ে যে সমস্ত অনুষ্ঠানাদি হয়, তা সবই ইসলাম-পূর্ব যুগের ধর্ম বা সামাজিক প্রথা থেকে নেয়া। বিয়েকে কেন্দ্র করে ইসলাম ধর্মে আনন্দ করার সুযোগ নেই। যেখানে-সেখানে যখন তখন কবুল বলেই বিয়ে হয়ে যায়। শুধু প্রয়োজন দু'জন পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ ও দু'জন নারী সাক্ষী। হরদম যেহেতু বিয়ে করা চলতেই থাকে, তাই বিয়ে করা জীবনের কোনো বিশেষ ঘটনা নয়। ইসলামী মতে, নারী-অঙ্গ পুরুষের কাছে বিক্রি করে দেয়াটাই বিয়ে। তাও আবার মূল্য নির্ভর করে ক্রেতার সামর্থ্যের ওপর। বিক্রয়ের এই চুক্তিটি যখন সম্পন্ন হয়, তখন ক্রেতার সুবিধা-অসুবিধার দিকটি একমাত্র বিবেচনার বিষয়।

সমমনা হওয়া, বা মনের মিল হওয়া বা ভালোবাসা, প্রেম এসবের কোনোই প্রয়োজন নেই। বিয়ের উদ্দেশ্য - যৌনতা আর সন্তান পয়দা করা। যয়নবকে বিয়ে করার পর মোহাম্মদের বিয়ের গাড়ি থামেনি, আয়েশাকে বিয়ে করার পরও নয়। ৬৩ বছরে পৃথিবী থেকে বিদায় না নিয়ে যদি ৮৩ বছর পর্যন্ত সে বেঁচে থাকতো, তাহলে পৃথিবীর যে কী হাল হতো, তা কল্পনাও করা যায় না। আরও এক কুড়ি বিবি আর শতাধিক দাসী অবশ্যই তার প্রয়োজন হতো। তার সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য জিবরাইল ৪০০ পুরুষের শক্তিসম্পন্ন আরক নিয়ে হাজির হতো।

মহানবীর একটি হাদিসে আছে: "যখন কোনো বান্দা বিবাহ করলো, তখন যে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করল। আর বাকী অর্ধেকের জন্য সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে" - বায়হাকী। খাদিজার মৃত্যুর পর যখন সে বিপুল বিক্রমে একের পর এক বিয়ে করা শুরু করলো, তখন কি তাঁর ঈমান ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়েছিল? বারবার বিয়ে করেও ক্ষয় পূরণ হচ্ছিলো না তাই।

কোরআনে আছে, "তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে..." [সূরা আর-রোম, আয়াত-২১]।

এখন আল্লা সবকিছু সৃষ্টিরও পূর্বে তার নূর দিয়ে মোহাম্মদকে সৃষ্টি করেছে। মোহাম্মদের থেকে তার বিবিরা সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে মোহাম্মদের বিবিরাও কি আল্লার নূরের সৃষ্টি? "এলেন করা" কাকে বলে, জানি আমরা? বিয়ের সময় কনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। বিয়ের পর ঘোষণা করে বা অন্য যে কোনো পন্থায় সামাজিকভাবে তা জানিয়ে দিতে হবে, যাকে "এলান করা" বলা হয়।

আরও একটি হাদিস দেখুন: "আয়িশা (রাঃ) একবার নবীজী (সাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন, একজন যুবতী নারীর ক্ষেত্রে যখন তাকে তার পিতা-মাতা বিবাহ দেয়,তার অনুমতি নেয়া উচিত কি? রাসূল (সাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই তাকে (কনেকে) তার (নিজের) মতামত দিতে হবে; আয়িশা (রাঃ) আবার প্রশ্ন করলেন, কিন্তু একজন কুমারী তো লাজুক থাকে, হে আল্লাহর রাসূল? রাসূল (সাঃ) উত্তর দিলেন, তার নীরবতাই সম্মতি বলে বিবেচিত হবে।"  - বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।

মোহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করে, তখন কি সে সম্মতি দেয়ার মত পরিণত হয়েছিল? তাহলে মোহাম্মদের সাথে আয়েশার বিয়ে বৈধ হয় কীভাবে?

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৪

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৭

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে বয়ান দিচ্ছিলাম। বিষয় ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মক্কা বিজয়। বয়ান দিচ্ছিলাম এইভাবে:
- ... বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় ছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা। ১৪০০ বছর পার হয়ে গেল, পৃথিবীর কোনো সেনাপতি আজ পর্যন্ত পারে নাই এবং পারবে না বিনা রক্তপাতে শত্রুকে পরাস্ত করতে। দ্বীনের নবী হজরত মোস্তফা (সঃ) একমাত্র সেনাপতি, যিনি এই কাজ করতে পেরেছিলেন...

বয়ান শান্তিমত শেষ করতে পারলাম না, একটা ছিনতাইকারী সামনের কাতারে বসা ছিল। হলুদ দাঁত কেলিয়ে খিলখিল করে জোরে জোরে হাসতেছিল। আমার মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেল। প্রশ্ন করলাম:
- ওরে জাহান্নামি ছিনতাইকারী, তুই কবে জেল থেকে ছাড়া পেলি? এইভাবে হাসতেছিস কেন?

ছিনতাইকারী হাসতে হাসতে উত্তর দিল:
- হুজুর, নবীজির স্ট্র্যাটেজি দুনিয়ার কোনো সেনাপতি না বুঝলেও আমি, এই অধম ছিনতাইকারী, বুঝতে পারি এবং অনুসরণ করি।

আমি আনন্দে গদগদ হয়ে বললাম:
- মাশাল্লাহ। তা তুই কীভাবে কাজটা করিস, দাঁড়িয়ে সবাইকে বল।

ছিনতাইকারী মসজিদে দাড়িয়ে বলল:
- খুবই সিম্পল ব্যাপার। ভোঁতা ছুরি, চাপাতি দিয়ে বিনা রক্তপাতে ছিনতাই করা যায় না। ভোঁতা জিনিষ দেখলে লোকজন ভয় পায় না। বরং উল্টো ছিনতাইকারীকে অ্যাটাক করে। এতে করে মারামারি হয়, রক্তপাত হয়। তাই আমি নবীজির স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করে সবসময় সাথে ধারালো চকচকে চাপাতি, ছুরি রাখি। ধারালো ছুরি দেখলে লোকজন সহজে ভয় পেয়ে দ্রুত সবকিছু দিয়ে দেয়। একেবারে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয়ের মত। নবীজি ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে মক্কা আক্রমণ করেছিল। উনি ভোঁতা ছুরি, মানে ১০ জন লোক নিয়া মক্কা আক্রমণ করে নাই। এভাবে ভিক্টিমের মনে আতংক সৃষ্টি করে বিনা রক্তপাতে সহজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানে ছিনতাই করতে হয়।

ছিনতাইকারীর কথা শুনে উত্তেজনার ঠেলায় আমার বায়ু বের হয়ে গেল। আমি ওযু করতে দৌড় দিলাম।

হুজুরের দোয়া ব্যর্থ হয় না

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৫ – (প্রমাণ করুন মদপান হারাম!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

বড় চাচার বন্ধু ডাকলেন একদিন, জামাতের বড় মাপের আলেম তিনি; ডেকেই প্রশ্ন করলেন, "বাবা, তুমি নাকি তোমার চাচারে বলেছো, কোরান অনুসারে মদপান হারাম না! নিয়ম মেনে মাতাল না হয়ে ২/৩ পেগ খাওয়া যায়! এসব কী কথা তোমার?!"

আমি বললাম, "চাচা, ইসলামে তো কোরানই শেষ কথা, আল্লার নবী তো নিজেই হাদীস লিখে রাখতে মানা করেছিলেন; এবং আপনারাই বলেন, কোরানের কোনো কথার বিপরীতে যদি হাদীসের বক্তব্য চলে আসে, তবে সে হাদীস মানা যাবে না। যদি তা-ই হয়, তবে মদ হারাম বিষয়ে হাদীসের বক্তব্য কোরানের পুরোপুরি বিপরীত, এবং সত্যিই কোরান অনুসারে মদপান হারাম নয়!"

চাচা বললেন, "আমাকে বিস্তারিত বুঝাইয়া দাও!"

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭৯

১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

থাবার থাবড়া (দ্বিতীয় সংস্করণ): কুফরী কিতাব

স্টিকি পোস্ট

ঠিক চার বছর আগে এই দিনে ইছলামের মহানবীর মহান বীর কিছু অনুসারী অশেষ ছওয়াব হাছিলপূর্বক তাদের বেহেশতগমন নিশ্চিত করে ফেলেছে থাবা বাবার মতো এক বেদ্বীন, কাফের, মুশরিক, নাস্তিককে হত্যা করার মতো ফরজ ও সুন্নত কর্মটি সাধন করে। এবং দেশের বিপুল সংখ্যক মুছলিম এই হত্যাকাণ্ডে উচ্চকণ্ঠ বা নীরব সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ্য করেছে তাদের মনে পুষে রাখা বর্বরতা। অবশ্য "লেখার কারণে মানুষহত্যা যায়েজ" - এমন শিক্ষায় তাদের দীক্ষিত করেছে ইছলাম ধর্ম। নবীজি নিজেই তার জীবনে এমন উদাহরণ স্থাপন করে গেছে কয়েকটি।

"থাবা বাবা" ছদ্মনামের আড়ালে সরল কিন্তু স্পষ্টবক্তা, সরস কিন্তু প্রয়োজনে শ্লেষাত্মক এবং বিচিত্র বিষয়ে ঈর্ষণীয় জ্ঞানের অধিকারী কিন্তু নিরহংকারী এই মানুষটিকে তাঁর পরিচিত গণ্ডির অনেকে খুব পছন্দ করতো, তবে বাকিদের চক্ষুশূল ছিলেন তিনি তাঁর অকপট স্পষ্টবাদিতার কারণে। 

চার বছর ধরে থাবা বাবা নেই, তবে তাঁর লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকালই। "থাবার থাবড়া" নামে একটি ইবুক প্রকাশ করা হয়েছিল তিন বছর আগে। তবে বর্তমান সংস্করণটি কিছুটা পরিবর্ধিত তো বটেই এবং তা সাজানোও হয়েছে ভিন্ন ধরনে। ধর্মকারীতে প্রকাশিত থাবা বাবার সমস্ত লেখা (প্রবন্ধ, গল্প, ছড়া, রম্য রচনা), তাঁর বানানো ও অনূদিত সব পোস্টার ও কার্টুন সংকলিত হয়েছে এখানে।

এই ইবুকের পরিকল্পনা, বিন্যাস ও নির্মাণ নরসুন্দর মানুষ-এর। প্রচ্ছদ বানিয়েছেন কবি

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ২.৫ মেগাবাইট মাত্র

ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/2YD6RG
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/ubyQZc

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়, এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (শেষ পর্ব)

লিখেছেন আবুল কাশেম


উপসংহার

এই রচনা পড়ে আমরা নিম্নের কয়েকটি সিদ্ধান্ত দিতে পারি।

১) নবী মুহাম্মদ তাঁর চাচাত বোন উম হানিকে বাল্য এবং কৈশোর থেকেই ভালবাসতেন। নবী তাঁর এই প্রথম প্রেম কোনদিনই ভোলেননি।

২) আবু তালেব যখন যুবক মুহাম্মদ কর্তৃক উম হানিকে বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন মুহাম্মদ অতিশয় নিরাশ এবং অপমানিত বোধ করেন। এই অপমানের জ্বালা মুহাম্মদ কখনই ভোলেননি। হয়ত প্রতিশোধ গ্রহণের প্রবণতাও তাঁর মধ্যে ছিল। মুহাম্মদ নবূয়ত লাভের পর এই প্রতিশোধ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অনুমান করা যায়, নবীর আগ্রাসন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণতার অন্যতম কারণ উম হানির সাথে নবীর ব্যর্থ প্রেমেই নিহিত আছে। এটা বলা অতিশয় হবে না যে, আবু তালেব উম হানিকে (হিন্দকে) ভেড়ার পালের রাখাল, নিরক্ষর, বেকার মুহাম্মদের হাতে তুলে দিলে ইসলামের জন্ম হত না।

৩) খাদিজাকে বিবাহের পরেও নবী উম হানির সাথে যোগাযোগ রাখতেন, যদিও অনুমান করা যায় যে, ধনকুবের খদিজার বিবাহের অন্যতম শর্ত ছিল যে, তাঁর জীবদ্দশায় মুহাম্মদ অন্য স্ত্রী নিতে পারবেন না। খাদিজা হয়ত মুহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে অবহিত ছিলেন না। নবী অতি কৌশলে তাঁর পরকীয়া প্রেম খাদিজার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।

৪) মুহাম্মদ উম হানির স্বামী হুবায়রাকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন, এবং চিরজীবন তাকে পথের কাঁটা হিসাবে ভেবেছেন।

৫) উম হানির স্বামী হুবায়রা কোনোদিনই মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করেননি, ইসলাম গ্রহণ করেননি। নির্বাসন, একাকীত্ব বেছে নিয়েছেন—কিন্তু মুহাম্মদের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।

৬) উম হানির স্বামী সর্বদাই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলেন। বিভিন্ন যুদ্ধে যোগদান করেছেন, মুসলিম সৈন্য হত্যা করেছেন এবং নিজেও আহত হয়েছেন।

৭) উম হানি এবং মুহাম্মদের সাক্ষাত ছিল খুবই ঘন ঘন—বিশেষত্ব হুবায়রার অবর্তমানে। এর কারণ এই হতে পারে যে, কাবার যেখানে মুহাম্মদ নামায পড়তেন অথবা কোরান আবৃত্তি করতেন, তা ছিল উম হানির গৃহের অতি নিকটে—শ্রুতির দূরত্বের মাঝে।

৮) মুহাম্মদ শত চেষ্টা করে—এমনকি আল্লাহর কাছ থকে বার্তা আনিয়েও পারেননি উম হানিকে মদিনায় নিয়ে গিয়ে তাঁর হেরেমে ঢোকাতে। উম হানি তাঁর স্বামী থেকে দূরে থাকলেও কখনই তাঁর স্বামী হুবায়রাকে ছাড়েননি।

৯) হুবায়রার পরিবার পরিজনের প্রতি উম হানির যথেষ্ট দরদ ছিল। তার প্রমাণ দেখা যায় যখন উম হানি আশ্রয় দিলেন তাঁর দুই দেবরকে। আলী চেয়েছিলেন এই দুই দেবরকে হত্যা করতে।

১০) নবীর জীবনে যদি কোনো ব্যর্থতা থেকে থাকে তা হবে - উম হানিকে উনি তাঁর অগুণতি স্ত্রীর মধ্যে একজন বানাতে পারেননি। উম হানি কখনও চাননি, অন্য সতীনদের সাথে মুহাম্মদের সংসারে ঢুকতে।

তথ্যসূত্র:

শান্তি প্রচারের প্রাথমিক শিক্ষা

১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

নাস্তিক হবার অনুভূতি

চিকিৎসায় দোয়ার ভূমিকা

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

কুদরতিক্রিয়া - ০৩

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৭.
হিজরত করি ডাকা সহর আসার ফরে আমাগের শেক হাসিনা বুর ইচলামের প্রতি বালবাসা দেকি আঁই তব্দা কাই জাই। দেসের সবসেয়ে বরো ইন্টানেসনাল এয়ারফুটের নামকরন তিনি করেসেন একজন জায়নামাজ বিগগানির নামে। জায়নামাজ বিগগানি হয়রত শাহজালাল (রাঃ) বাবা হিজরত কালে সিলেডের সুরমা নদি জায়নামাজে করি ফারি দিয়েসিলেন। এই গডনা লিয়ে একডা গান আচে - "বাবায় সুরমা নদি ফারি দিলো জায়নামাজে চড়ি।" তিনিই একমাত্র বিগগানি, যিনি বিনা ইঞ্জিলে জায়নামাজরে বাতাসে বাসাই সুরমা নদি ফারি দিয়াসিলেন। 

আজকে এই যে আকাসে এত এত বিমান, হেলিকফটার, ডুরন ঊড়ে, সবই ত বাবা জায়নামাজ বিগগানির অবদান। তার বাতাসে উড়া নকল করিই ত আজিয়া সবাই আকাসে উড়ে। আমাগের ইচলাম-বান্দব সরকার এত বরো একজন বিগনানির অবদানকে সিক্রিতি দেওয়ায় আমরা মুচল্মানরা দন্য। সারা বিশস আজ আমাগের বিগগানি বাবার অবদান জাইনতে ফারবে। পিতিবিতে আমাগের এই মুচলমান জায়নামাজ বিগগানি চাড়া আর কেউ কি ফেরেসিল ইঞ্জিল চাড়া জায়নামাজ আকাসে উড়াইতে? বলেন আফনারা? 

৮.
নাস্তেক জুতা-চুর মজিদ মিয়ায় আমারে এডাম টিজিং করেছে। আমারে হুনাইয়া হুনাইয়া কয়, "হুজুরের দাড়ি আর আমার ছাগলের দাড়ি সেইম।"
এহন আই কি কইত্তাম? ছাগলের দাড়ি শেইভ করি ফালাই দিয়ুম? নাকি আমার দাড়ি শেইভ করি দিয়ুম?

৯.
জাবেদ সাসারে লই আর ফারি না। লেকাপরা কিসু জানে না, অতস তাবিজের দুকান কুলি রাকসে। কুরানের একটা সুরারে ফডুকপি কইরা সাসায় ১০০০ কপি বানায়। হেরপর এই একহাজার কপিরে এক হাজার তাবিজের বাক্সের বিত্রে বইরা এক হাজার তাবিজ বানায়। এইডা মুচল্মানদের জন্য। আবার হিন্দুদের জইন্য গিতা ফডুকপি করে। একন এক কাস্টমারে তাবিজ নিয়া রেজাল না ফাইয়া সাসার কাসে আইয়া সাদারে দউরানি দিসে। 

একন আফনারাই বলেন সুরা ফডুকপি কইল্লে কি তাবিজে কাম দিব? কুন সুরার অর্ত কি, কুন সুরার নাম কি - সাসায় কিসুই জানে না। কালি কুরান সরিফ ফডুকপি করে। এইরম ফডুকপি তাবিজে যুদি কাম কইত্ত, তাইলে ত আমিও কবিরাজ হই যাইতাম।

বোরখা ও দৃঢ় ঈমান

১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ওয়াদি আল-কুরা হামলা - কে ছিল আক্রমণকারী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত তেত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মৃত্যুকালে যে সুবিশাল অংকের সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, তার সর্ব প্রথম স্বত্বভোগী ছিলেন তাঁর কোন দুই বিশিষ্ট অনুসারী; অতঃপর পরবর্তী তিন শত বছর যাবত কারা তাঁর সেই বিশাল সম্পদের স্বত্বভোগ করেছিলেন; অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সহায়তায় "ইসলাম" নামের যে বিষবৃক্ষের গোড়াপত্তন করেছেন, কারা হলেন সেই বিষবৃক্ষের ভুক্তভোগী; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খায়বার ও ফাদাক আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই মুহাম্মদ আরও এক জনপদের ওপর তাঁর আগ্রাসী আক্রমণ চালান। সেই জনপদের নাম 'ওয়াদি আল-কুরা'। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা সেই ঘটনার প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিস্তারিত বর্ণনার: [1]

‘আনাস হইতে বর্ণিত: খায়বার থেকে ফিরে আসার জন্য আমরা আল্লাহর নবীর সাথে রওনা হই, তিনি ওয়াদি আল-কুরা (Wadi al-Qurā) যাবার জন্য মনস্থির করেন। [এরপর সিরাতে 'পথিমধ্যে মুহাম্মদের সাফিয়া-কে বিবাহ, বিবাহ বাসর ও তাঁর হত্যা আশংকায় আবু আইয়ুবের সারারাত জেগে তাঁকে পাহারা দেয়ার বর্ণনা (পর্ব-১৪৪)]'।------আল্লাহর নবী আল-সাহবা নামক স্থানে আসেন ও বিরমার পাশ দিয়ে ওয়াদি আল-কুরা পর্যন্ত গমন করেন ও সেখানে যে-ইহুদিরা থাকে, তিনি তাদের সন্ধান করেন। 

আবু হুরাইরা হইতে বর্ণিত: আমরা আল্লাহর নবীর সঙ্গে খায়বার থেকে ওয়াদি আল-কুরা অভিমুখে রওনা হই। রিফা বিন যায়েদ বিন ওয়াহাব আল-জুধামি আল্লাহর নবীকে মিদাম নামের এক কালো ক্রীতদাস উপহার স্বরূপ প্রদান করে, যেন সে আল্লাহর নবীর ঘোড়ার জিনটি ঠিকঠাক করে দেয়। তারা ওয়াদি আল-কুরায় অবতরণ করে ও অবশেষে আমরা সেখানকার ইহুদিদের কাছে এসে পৌঁছাই, যাদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বেদুইনরা। যখন মিদাম আল্লাহর নবীর দেখাশুনা করছিলো, আমাদের ঘাঁটির স্থানটিতে ইহুদিরা তাদের বল্লম নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হয়। তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না ও তারা তাদের দুর্গগুলোর মধ্যে চিৎকার করছিলো। একটা তীর এসে মিদাম-কে বিদ্ধ করে ও তার মৃত্যু হয়। লোকজন বলাবলি করে: তুমি বেহেশতে পরমানন্দে কাটাবে। আল্লাহর নবী বলেন, "না। যার হাতে আমার জীবন তার কসম, খায়বার যুদ্ধের সময় সে যে আলখাল্লাটি লুটের মালগুলো থেকে হস্তগত করেছিল, তা যেভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার দরকার ছিল, তা সে করেনি, এখন তা তাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালাচ্ছে।" যখন লোকেরা তা শুনতে পায়, একজন লোক একটি বা দু'টি জুতার ফিতা নিয়ে লোকদের কাছে আসে। আল্লাহর নবী বলেন যে, জুতার এই ফিতাগুলো ছিল তাকে আগুনে জ্বালানোর রসদ।

আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি তাদেরকে সারিবদ্ধ করেন ও একটি ফ্ল্যাগ দেন সা'দ বিন উবাদা-কে, একটি ব্যানার দেন আল-হুবাব বিন আল-মুনধির-কে, অন্য একটি দেন সাহল বিন হুনায়েফ-কে ও তা ছাড়াও আর একটি দেন আব্বাদ বিন বিশর-কে। অতঃপর আল্লাহর নবী ইহুদিদেরকে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তাদের অবহিত করান যে, যদি তারা ইসলামে দীক্ষিত হয়, তবে তারা তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, আর আল্লাহ তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায় ও আল-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম [পর্ব-১৪১] তা গ্রহণ করে ও তাকে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আল-যুবায়ের তা গ্রহণ করে ও তাকেও সে হত্যা করে। তারপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আলী তা গ্রহণ করে ও তাকে সে হত্যা করে। তারপর অন্য একজন  দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তার কাছে গমন করে ও তাকে সে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তাকেও হত্যা করে, যতক্ষণে না আল্লাহর নবী তাদের এগারোজন লোককে হত্যা করে।  যখনই একজন লোককে হত্যা করা হতো, তিনি তাদের অবশিষ্ট লোকদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানাতেন। বস্তুত সেই সময় নামাজ আদায় করা হয়েছিল। সেই সময় আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের সাথে নামাজ আদায় করেন। অতঃপর  তিনি প্রত্যাবর্তন করেন ও তাদেরকে আল্লাহ ও তার নবীর দলে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

মিথ্যার রকমফের

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৯

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৪১.
নাস্তিকেরা বলে, তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। আসলে নাস্তিকতা একটা ফ্যাশন এবং তাই তারা শুধু ভাব মারার জন্যেই এ কথাটা বলে থাকে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪২.
আমাদের পাড়ার খলিল শেখকে জ্বিনে ধরেছিল। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৩.
আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু আমি সেটা প্রকাশ করবো না। কারণ আপনারা, নাস্তিকেরা, সেটা শুনে যুক্তি দিয়ে নাকচ করে দেবেন। অতএব আমার প্রমাণ যেহেতু অটুট রয়েছে, তার মানে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৪.
নাস্তিকেরা আধ্যাত্মিকতা বোঝে না। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৫.
ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জানি, আল্লাহ আছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনলে আপনি আমাকে পাগল মনে করবেন। কিন্তু আমাকে কি পাগল মনে হয়? হয় না। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৭

ভ্যালেন্টাইন দিবসে সবচেয়ে ছহীহ উপহার

১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

পল্টিবাজ কোরান - ০২

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৬

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে এক মুরিদ প্রশ্ন করিলো:
- হুজুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মানে কী? কীভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে?

আমি উত্তর দিলাম:
- খুবই সিম্পল জিনিস। কানাকে কানা, লুলাকে লুলা বললে অনুভূতিতে আঘাত লাগবেই।

মুরিদ প্রশ্ন করল:
- হুজুর, ইকটু খোলাসা করে বলেন।

আমি উত্তর দিলাম:
- একবার আমার সাথে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি বিল গেটসের দেখা হইছিল। তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, "ফক্কিন্নির বাচ্চা, কেমন আছো?" বিল গেটস হাসতে হাসতে আমাকে বলেছিল, "'আরে মি. নীল নিমো কেমন আছেন? আসেন, একসাথে বসে বিয়ার খাই।" এর কিছুদিন পরে, বাংলাদেশের ফার্মগেটে এক ভিক্ষুককে দেখে, আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম, "ফক্কিন্নির বাচ্চা, কেমন আছো?" ভিক্ষুক সাহেব লাঠি নিয়ে আমাকে পিটাইতে আসিয়াছিল। কয়েক মাস আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি তাকে বলেছি, "'একটা মশা মারার ক্ষমতা তোর নাই, তোর লজ্জা হওয়া উচিত।" ওবামা হাসতে হাসতে আমাকে বলিল, "আরে মি. নীল নিমো সাহেব, কেমন আছেন? আপনার সাথে কথা বলে বেশ ভাল লাগছে।" গতরাতে, ঘুমের ভিতর স্বপ্নে, আল্লাহ ও তার নবীর সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি তাদের বলেছি, "একটা মশা মারার ক্ষমতা তোদের নাই, তোদের লজ্জা হওয়া উচিত।" আল্লাহ ও তার নবী উত্তর দিল, "হালার পুত, তোরে কুপাইয়া কল্লা ফালাইয়া দিমু। তারপর দোজগের আগুনে অনন্তকাল দহন করবো। সুরা লাহাব পড়ে দেখছ নাই? আবু লাহাবের মত তোরেও টর্চার করমু।"

আমার উত্তর শুনে মুরিদ তব্দা খাইয়া বলিলো:
- তওবা, তওবা। হুজুর, এখন থেকে শিশুকামীকে শিশুকামী বলিবো না, ডাকাতকে ডাকাত বলিবো না।

আমি বলিলাম:
- মাসাল্লাহ, এই না হলে আমার মুরিদ!

অধিকারবলে

১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ছাগুবান্ধব পিপীলিকা

গুগল, বিং ও ইয়াহু তো বটেই, এমনকি Lycos, Gigablast-এর মতো বিজাতীয় সার্চ এঞ্জিনে বাংলা বা ইংরেজিতে 'ধর্মকারী' ভুল বানানে (ধর্মকারি, dhormokari, dharmokery ইত্যাদি) লিখে খোঁজ লাগালেও একেবারে শুরুতেই ধর্মকারীর লিংক দেখায়। অথচ বাংলাদেশের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ সার্চ এঞ্জিন হিসেবে কথিত 'পিপীলিকা'র চোখে বাংলা ব্লগ ধর্মকারী ধরা পড়ে না। 

পিপীলিকা চালু হবার পরপরই কৌতূহলবশে 'ধর্মকারী' লিখে খোঁজ লাগিয়ে হতাশ হয়েছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে-পত্রিকায় ধর্মকারীর নাম উল্লেখের লিংক তাতে পেছিলাম বটে, তবে ধর্মকারীর কোনও লিংক ছিলো না। "সবে চালু করেছে এঞ্জিনটি, এখনও হয়তো সব সাইট ইনডেক্সভুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি" ভেবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম একটা বছর। না, ধর্মকারীর নাম ওখানে ঢোকেনি এখনও। খুঁজলাম 'চুতরাপাতা' ও 'ধর্মলিকস' নামের আরও দু'টি ধর্মবিরোধী ব্লগ। না, সেগুলোও নেই। 

তবে 'সবুজ বাংলা' আর 'সদালাপ'-এর মতো ছাগুবান্ধব ব্লগগুলোর লিংক পিপীলিকা পিলপিল করে সরবরাহ করছে। মনে হচ্ছে, পিপীলিকা একটি ছাগুবান্ধব ছহীহ ছার্চ এঞ্জিন।

পিপীলিকা নিজেকে পূর্ণাঙ্গ বলে দাবি করলেও সার্চ এঞ্জিনের জন্য সবচেয়ে জরুরি অঙ্গ চোখেই তার সমস্যা। সে স্পষ্টতই একচোখা। তবে তার ঈমানদণ্ড মমিনদেরটার মতোই স্পর্শকাতর বলেই বোধ হয়।

এ থেকে আমরা কী বুঝবো? পিপীলিকারও কি ধর্মানুভূতি আছে?

* ২০১৪ সালে প্রকাশিত। অবস্থার পরিবর্তন হয়নি গত তিন বছরেও্। তবে সুখের কথা এই যে, পিপীলিকার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া ছাড়া আর কেউ এই সার্চ এঞ্জিন ব্যবহার করে বলে মনে হয় না।

বেদ্বীনবাণী - ৮৪

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৩

৩১০.
- নারীধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন পুরুষ সাক্ষীর রীতি চালু করা হয়েছে কেন?
- কারণ সেই যুগে পর্ন দেখার আর কোনও উপায় ছিলো না।

৩১১.
স্রেফ বিশ্বাসের কারণে মানুষদের স্টেরিওটাইপিং করা ভালো ব্যাপার নয় একেবারেই। হোক সে খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ বা টেররিস্ট।

৩১২.
- দুনিয়ার সবচেয়ে স্লো এবং অকার্যকর সার্চ ইঞ্জিন কোনটা?
- কোরআন। এখানে দুনিয়ার আদি থেকে অন্ত সব ইনডেক্সড (লিপিবদ্ধ) করা আছে। কিন্তু সেসব খুঁজে পাওয়া যায় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর।
(বানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম)

৩১৩.
- আস্তিকেরা কোরান থেকে শান্তিকামী আয়াত উদ্ধৃত করলে নাস্তিকদের কী জবাব দেয়া উচিত?
- "আয়াতটা প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আপনাকে প্রেক্ষাপট জানতে হবে এবং পড়তে হবে আগের ও পরের আয়াতগুলো।"

৩১৪.
নাস্তিকে ও আস্তিকে একটি মিল আছে: এদের কেউই পরকাল নিয়ে চিন্তিত নয়। আস্তিক জানে, সে জানে যাবে বেহেশতে। আর নাস্তিক পরকালে বিশ্বাসই করে না।
টেনশনে থাকে শুধু অজ্ঞেয়বাদীরা।

ঈশ্বরের বাসস্থান

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

জুম্মাবারে কুফরী কিতাব: কোরানে জিহাদ ও আক্রমণের আহ্বান


"জিহাদ" শব্দটি শুনলে কি আপনার মানসচক্ষে ভেসে ওঠে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইছলামের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কথা? মুছলিমদের অন্তরে যা-ই থাক, অন্তত মুখে তারা সে কথাই বলে। বাস্তবতাটা আসলে কী? শুধু কোরান ও তার ছহীহ তাফসির থেকে এই উত্তর খুঁজেছেন নরসুন্দর মানুষ। বইটির প্রচ্ছদ ও নির্মাণ-কৃতিত্বও তাঁরই।

ইছলাম বিষয়ে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী তিনি। ধর্মকারীতে চলমান তাঁর দুটো সিরিজ ও তাঁর লেখা ইবুকগুলোই সেই প্রমাণ দেবে। বাংলা ভাষার খ্যাতিমান ইছলাম-গবেষকদের কাতারে তিনি ঠাঁই করে নিচ্ছেন, এ নিয়ে কোনও সংশয় অন্তত আমার নেই।

বর্তমান ইবুকের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন:
সংবাদপত্রে দেখতে পাই মাঝে মধ্যেই 'নিষিদ্ধ জিহাদী বই-পত্র উদ্ধার’! মনে প্রশ্ন জাগে, জিহাদী বই কী কী? ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরান কি জিহাদী বই-পত্রের মধ্যে গণ্য? যদি তা না হয়, তবে তা কেন, আর যদি হয় তাই বা কেন?...
জিহাদ নিয়ে কী বলে কোরান? জিহাদ কি কেবলই মনের ময়লার বিরুদ্ধে, নাকি যুদ্ধ বলতে যা আমরা বুঝি (আক্রমণ, হত্যা, লুন্ঠন, দখল, মানুষ বিক্রি, দাসী গ্রহণ, যুদ্ধনারী ভোগ); জিহাদ তাই? ...
এসবের উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়েছে এ ইবুকটিতে; আমি চেষ্টা করেছি কোরানে প্রাপ্ত সকল যুদ্ধ (জিহাদ) ও আক্রমণ সংক্রান্ত আয়াত তুলে আনতে; আর যেহেতু আমি নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেছি, তাই নিজের মনগড়া কোনো ব্যাখ্যা যোগ করিনি; কারণ কিছুতেই আমি প্রভাবিত করতে চাই না পাঠককে; পাঠক নিজ দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নেবে, কোরানকে কি জিহাদী গ্রন্থ বলা চলে?
ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.৭ মেগাবাইট মাত্র
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/RuKIUW
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/IOkKCO

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়, এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

নুনুভূতিনাশক প্রেসক্রিপশন

লিখেছেন শহিদুল ইসলাম

১.
ডাক্তার ও রোগী কথোপকথন।

ডাক্তার: বলুন, আপনার কী অসুবিধা?

রোগী: জে ডাক্তার সাপ, ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানোর সময় নাস্তিকদের লেখা পড়তে যাইয়া আচৌক্কা অনুভূতিতে তীব্র আঘাত পাইছি! এখন খুবই আহত অবস্থায় আছি!

ডাক্তার: হুম, আঘাতটা কবে পেয়েছেন?

রোগী: জে গত দুইদিন আগে। পরে নাস্তিকদের অশ্রাব্য নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছি, ফাঁসি দাবি করছি! কিন্তু এতেও অনুভূতি ঠিক হয় নাই! 

ডাক্তার: আপনারা, রোগীরা, এই কাজটা খুবই খারাপ করেন। সমস্যা গুরুতর না হইলে অল্প থাকতে আসেন না, যাই হোক, আপনার প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছি। চাপাতি দিয়া তিন দিন প্রত্যেক দিনে একটা কইরা নাস্তিক কোপাইবেন! এতেও কাজ না হলে বিচিবোমা দিয়ে দিচ্ছি। আপনার দুইটা বিচির সাথে একটা বিচিবোমা অ্যাড করে নিবেন। পরে কিছু নাস্তিকদের মাঝে যাইয়া বিচি ফাটাইয়া দিবেন! এই জনমের মত অনুভূতিতে আর আঘাত পাইবেন না গ্যারান্টি!! 

২.
রোগী ও নাস্তিকের কথোপকথন।

রোগী: নাস্তিকতা হইলো বোকামি, আস্তিকতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই যৌক্তিক, কারণ বাইচান্স মৃত্যুর পরে দেখা গেল একজন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, তখন নাস্তিকরা সম্পূর্ণ ফেঁসে যাবে? আর আস্তিকদের ঈশ্বরের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অতএব ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। তোমরা নাস্তিকরা এখন যতই ফাল পারো, মরার পরেই প্রমাণ পাইবা! 

নাস্তিক: তাহলে আমি পৃথিবীর সকল ধর্মের সব ঈশ্বরেই বিশ্বাস করলাম! কারণ বলা তো যায় না, কোন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে! হা হা হা! আরেকটা কথা কন তো, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ শুধু মৃত্যুর পরেই পাওয়া যায় কেন? 

রোগী: তুই ধর্ম নিয়া ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছ, আমার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিছো! খাড়া, এখন আমি ডাক্তারের দেওয়া কোনও একটা প্রেসক্রিপশন প্রয়োগ করুম...

... বাকি অংশ রূপালি পর্দায়।

হিজাবী হুরি যতো - ৪

কুদরতিক্রিয়া - ০২

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪.
সুন্দরবন লই এত লাপালাপি করার কি আচে, বুজি না! সুন্দরবন সারাও ত মানুস বাইসতে ফারে। আমাগোর নবির দেসে কি কুনু সুন্দরবন আচে নিকি? আরবের মরুবুমিতে ত কুনু গাচ নাই, তার ফরেও ত আরবরা কত উন্নত। সুনা-দানা-তেলের অবাব নাই। আমাগের নবির দেসে সুন্দরবন নাই বইল্লা কি হেতেরা অকচিজেনের অবাবে মরি গেসে। সুন্দর বন কুনু বিসয় না, আসল কতা হইচ্ছে আল্লার রহমত। আল্লার রহমত তাইকলে মরুবুমিও অকচিজেনের পেকটরি অই যাই। তা সারা সুন্দরবনে আচেডা কি? গুরা, দুম্বা, উট কিছুই ত নাই! এই বনে আচে সুদু কিসু ইংস্র ফ্রানি। যারা সুন্দরবনের জইন্ন আন্দুলন কইত্তেসে, তাদেরকে এইসব ফ্রানিদের সামনে নিয়ে চেরে দেওয়া হুক, তাইলে বুজবে কত দানে কত চাইল। সুন্দরবন দংস হই মরুবুমি হই গেলে আমাগের লাব। সারদিকে উট, গাদা, দুম্বা গুরি বেরাইবে। ...দেসে আরব-আরব একটা বাব আইসবে। আহ কত সান্তি!

৫.
সিতের দিন যাতিসে। সিতের দিনে আমার কী যে কুসি লাগে, বুঝাইতে ফারুম না। সিতের রাইতে গরম গরম ওয়াজ মেহফিল আর মানসের বারিত গরম গরম গুস্ত রুটি কি মদুর! এইবারের সিতের সিজনডা বালো করি কাডাইতে ফাইল্লে (মানে ফকেডডা ভারি কইত্তে ফাইল্লে) সামনের বসর গরে বিবি ঊডাইব ইন্সাল্লা। সিতে তাই আরব দেসের কিচ্ছা কাহিনীরে রস লাগাই বলি মানসের চুকে ফানি এনে দিতেসি। যত রস তত টেকা।

৬.
আজিয়া জুম্মাবারে মজ্জিদে এক গরম জুসের কুতবা ফাট করেন আমাগের বরো হুজুর। কুতবার বিসয় সিল - ১৪ ঈ ফেব্রুআরি বিশসো বালোবাসা দিবসে যুবক যুবতি গনের বেলাল্লাপনা রুদ করি কী বাবে সহি সালামতে তা ফালন করা যায়। বয়ানে হুজুর বলেন, অই দিন কম বয়সি সেলেমেয়েরা ফ্রকাইশ্যে, গুফনে, সিফায় সাফায়, বনে-জংগলে, গাসের আড়ালে সুমাসুমিতে লিপ্ত অই যায়। যা জেনার সমতুইল্য গুনা। আগামি বিশসো বালোবাসা দিবস উফলক্কে এইসব ফাফ তেকে যুবক যুবতিদের রইক্কা কইত্তে আমাগের মাদেসার সাত্র বাহিনী সেচ্চাসেবক হিসেবে এক গণ বিবাহের আয়ুজন কইরবে। আমাগের সাত্র বাহিনী কাতা কলম লই মাডে গাটে গুরাগুরি কইরবে, আর যেকানে অবিবাহিত যুবক যুবতিকে সুমাসুমিতে লিপ্ত অবস্তায় ফাইবে, সেকানে তাদেরকে দুইজনের সম্মতিতে অলফ সুময়ের জইন্ন মুতা বিবাহ দেয়া অইবে। এই বিবাহের মেয়াদ তাইকবে এক গন্টা তেকে ফাচ গন্টা ফইয্যন্ত। বিবাহ সেসে তাহারা উক্ত সুময়ের জইন্য ফ্রকাসে সুমাসুমি কইত্তে ফাইরবে। বিবাহের হাদিয়া দাইয্য করা অয়েসে মাতর ফাচশত টেকা। মাদেসার সাত্রগন সারাদিন বিবাহ ফরানি সেসে যে আয় হবি, তা আমাগের মাদেসার উন্নয়নে বেয় করা হবি। তাই সকল যুবক যুবতি গনের উদ্দেস্যে গুসনা অইলো: আসুন, আমরা সকলেই বিশসো বালোবাসা দিবসে সহি হালাল উফায়ে সুমাসুমি করি আর মাদেসার অর্তনিতিক উন্নয়নে বুমিকা রাকি।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৩

১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ধর্ম ও ধার্মিক এবং আমার অভিজ্ঞতা - ০২

লিখেছেন রাহুল মল্ল

নিজে নাস্তিক হয়েও বিভিন্ন সময় ধার্মিক বন্ধু, পরিবার, সহপাঠীর সাথে দিন কাটাতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রায় ধর্মও ধার্মিক দের ব্যাপারে অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারাবাহিক সিরিজের আজ ২য় পর্ব।

৫) চট্টগ্রাম থেকে এক ছুটিতে বাড়ি ফিরছি। ছাত্র ছিলাম তখন। পকেটে তেমন বেশি টাকাটুকা নেই। ভাড়া দিয়ে পকেটে ১০৫ টাকা ছিল। ১০০ টাকার একটা নোট আর ৫টাকার নোট। বারো আউলিয়া নামের একটি বাজারে আসতেই বাসের গতি কমে যায়। কারণ ছিল এটি রাস্তার পাশে একটি সুসজ্জিত মাজার। সবাই জানালা দিয়ে টাকা দিচ্ছে নিয়ত করে। ছোটছোট বাচ্চারা নিচে থেকে কুড়িয়ে দানবাক্সে রাখছে। সামনে আমার পরীক্ষা। চিন্তা করলাম, দোয়া একটু নিই। ভাবতে ভাবতে বাসের গতিও বাড়ছে। দ্রুত পকেট থেকে বের করে ৫ টাকার নোট দিতে গিয়ে ১০০ টাকার নোট দিয়ে দিলাম। সেদিন থেকে আলি আউলিয়ার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে।

৬) পাশের বাড়িতে একটা ছেলে ছিল। নাম আলাউদ্দিন। ছোট থেকেই সবাই হুজুর ডাকতো। কারণ ছিল ছোট থেকেই সে খুব ধার্মিক। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো, রোজা রাখতো। রমজান মাসে খুব ভোরে সুর করে আজান দিতো। তাঁর আজানের সুর আশেপাশে যে কেউ শুনেই আলাদা করতে পারতো। এক কথায়, আর দশটা ছেলে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল সে। ১২ বছর বয়সে মারা গেছে। মাথায় টিউমার হয়ে।

৭) গার্লফ্রেন্ডকে বললাম, আমি ধর্ম বিশ্বাস করি না। সেদিন সাথে সাথে ব্রেক-আপ হওয়ার দশা। একটু চিন্তা করে 'মিথ্যা' বললাম, "আমি মজা করেছি। আসলে আমি ধার্মিক।" তারপর সব ঠিক। 

৮) আমাদের গ্রামে এক মহিলা আছে। আগে প্রায় প্রতি মাসে তার জন্য বিচার-সভা-মিটিং হতো গ্রামে। কারণ ছিল - স্বামী ছাড়াও তার যৌনসম্পর্ক ছিল অনেকের সাথে। খুব খারাপ মহিলা হিসাবে পরিচিত ছিল পাড়ায়।

কিছুদিন আগে মা-কে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম, সেই মহিলার শরীরে মহাদেব স্থান করেছে। জটাধারী হয়ে গেছে সে। গ্রামে তার জন্য অনেক বড় মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত তাকে পূজা দিচ্ছে সবাই। মন্দিরের আর্থিক সহায়তা করে গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তি, যারা এক সময় সেই মহিলার বিচার করতো, সাজা দিতো।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭৮

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)
ছবি পাঠিয়েছেন অমিত দে
"সরস সতী পূজা" শব্দবন্ধটি "দুষ্টু শব্দ"-এর সৌজন্যে

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (পর্ব ৯)

লিখেছেন আবুল কাশেম


মক্কা বিজয়ের পর নবী কোথায় গেলেন?

নবী মুহাম্মদ বাহুবলে মক্কা দখল করলেন। কয়েকজন ছাড়া সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করলেন। মক্কার লোকেরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। সবাই আশা করছিল, মুহাম্মদ পৈত্রিক ভিটেমাটিতে অবস্থান করবেন, যথা তাঁর চাচা আবু তালেবের গৃহে। কিন্তু নবী তা না করে কাবার সন্নিকটে নিজের থাকার জন্য একটা তাঁবু গাড়লেন। সেখানে তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা ফাতেমা ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়। তাঁবুটি যে উম হানি বা আবু তালেবের গৃহের খুব কাছেই ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমরা ওপরে একটা হাদিসে দেখেছিলাম যে, উম হানি যখন নবীর তাঁবুতে গেলেন, তাঁর গৃহে আশ্রিত দুই দেবরের প্রাণভিক্ষা করতে যাদেরকে হযরত আলী হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, তখন নবী গোসল সারলেন এবং ভোরের নামায পড়লেন। আমরা ধরে নিতে পারি এটা ফজরের নামাযের সময় ছিল - যা সূর্য ওঠার আগেই হয়। এই ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায় যে, নবীর তাঁবু ছিল উম হানির গৃহের কাছেই। তখন উম হানির গৃহে যে তাঁর স্বামী হুবায়রা ছিল না, তা একেবারে পরিষ্কার। নবী ফজরের নামায শেষ করলেন। তারপর উম হানির সাথে কথাবার্তা বললেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করলেন যে, উনি (উম হানি) যাকে আশ্রয় দেবেন, তারা তাঁর নিরাপত্তা পাবে। এখন ব্যাপার হচ্ছে - এত ভোরে মুহাম্মদ উম হানিকে তাঁর তাবুতে আপ্যায়ন করার পর কী করলেন? মুহাম্মদ কি উম হানির গৃহে তাঁর পদধূলি দিলেন?

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা অনেক ইসলামী পণ্ডিতেরা কৌশলে এড়িয়ে যেতে চান। কারণ যদি দেখান হয় যে, নবী উম হানির গৃহে তশরীফ নিয়েছিলেন তবে উম হানি এবং মুহাম্মদের মাঝে যে পরকীয়া প্রেম তখনও জীবিত ছিল, তার প্রমাণ দেওয়া যায়। আর এই কর্ম যদি নবী করে থাকেন, তবে উনি নিজের আইন নিজেই ভঙ্গ করেছেন প্রমাণিত হয়। এই ঘটনা আরও প্রমাণিত করে যে, উম হানির স্বামী তাঁর স্ত্রীর সাথে থাকতেন না। এর কারণ আগে দেওয়া হয়েছে। পরে আরও জোরালো প্রমাণ দেখান হবে।

এই প্রসঙ্গে এখন দেখা যাক কিছু হাদিস এবং ঐতিহাসিক দলিল।

৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

হিপোক্রিসির ইছলামী সংজ্ঞা

লিখেছেন সাইফুল ইসলাম

প্রশ্ন: হিপোক্রিসি কাকে বলে?

উত্তর:

- সিরিয়ায় আইএস-এর ওপর বোমা হামলায় সিভিলিয়ানরা ক্ষতিগ্রস্ত। মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- সিরিয়ায় সিভিলিয়ানদের উপর আইএস-এর বর্বরতা। মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ।

- ইরাক, আফগানিস্তান, মায়ানমারে হামলা। মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে মুসলমানদের উপর মুসলমান দেশ/গোষ্ঠী কর্তৃক হামলা। মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ।

- ইসলামের কোনো বিষয়ে কেউ মজা করছে, কার্টুন আঁকছে, সিনেমা বানিয়েছে। মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- অন্য ধর্মের মানুষদের উপাসনালয় ভাঙা হয়েছে, ইসলামের নাম ব্যবহার করেই হামলা আর মানুষ হত্যা করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ।

- ফ্রান্সের সমুদ্র সৈকতে বুরকিনি নিষিদ্ধ। মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- মুসলিম-প্রধান দেশ মরক্কোয় বুরকা ব্যবহার, উৎপাদন, বিপণন নিষিদ্ধ। মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ।

- সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় ভ্রমনের ওপর আমেরিকার ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা। মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- পাঁচটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর কুয়েতের অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা। মুসলিম বিশ্ব নিশ্চুপ।

- রসরাজ কাবা ঘরের অবমাননা করছে। সারা দেশের মুসলিম উম্মাহ উত্তাল।
- রসরাজ না, জাহাঙ্গীর কাবা ঘরের অবমাননা করছে। মুসলিম উম্মাহ নিশ্চুপ।

- আমেরিকা-ইউরোপে এসে হিজাব পরা বা না-পরা আমার অধিকার, এটাতে বাধা দিলে মুসলিম বিশ্ব উত্তাল।
- সৌদি আরবে হিজাব পরতে বাধ্য করা ঠিকাছে। যে কোনো দেশের আইনকে আমাদের সম্মান করা উচিত। তাই এই ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ নিশ্চুপ।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৫

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৫

লিখেছেন নীল নিমো

অনেকদিন ধরে একজন বে-নামাজি মুমিনাকে লাইনে আনার চেষ্টা করছি। তাকে নামাজ পড়ার জন্য অনেকবার দাওয়াত দিয়েছিলাম। তিনি একজন মডারেট, হিজাবী এবং টাইট জিন্স-প্যান্টি মুসলমান। আজকে সকালবেলা তার সাথে দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম:
- ওই বে-নামাজি আল্লাহর বান্দী, আল্লাহকে খুশি করার জন্য আজকে ফযরের নামাজ পড়েছেন?

বে-নামাজি মুমিনা আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করল:
- হুজুর, বউকে সন্তুষ্ট করার জন্য গত রাতে আপনি কি সহবত করেছেন?

আমি উত্তর দিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লা, বউয়ের সাথে সহবত করা আমার ব্যক্তিগত রিলেশনের ব্যাপার। আপনি এই ব্যাপারে জিজ্ঞাস করেন কেন?

বে-নামাজি মুমিনা প্রশ্ন করল:
- হুজুর, আল্লাহকে খুশি করা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আপনি এই ব্যাপারে জিজ্ঞাস করেন কেন?

আমি উত্তর দিলাম:
- নামাজ কায়েম বা প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহর নির্দেশ, তাই আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম।

বে-নামাজি উত্তর দিল:
- হুজুর, সহবতের মাধ্যমে বউকে ঠাণ্ডা রাখা যায়, আর নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকেও ঠাণ্ডা রাখা যায়। তাই নামাজ এবং সহবত একই জিনিষ। বউকে খুশি রাখাও তো আল্লাহর নির্দেশ, তাহলে সহবতের কথা জিজ্ঞাস করলে লজ্জা পেলেন কেন?

আমি বল্লাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ।

এরপর বে-নামাজি মুমিনা আমাকে প্রস্তাব দিল:
- আসেন হজুর, জামাতের সাথে সহবত করি।

আমি বুঝতে পারলাম, হিজাবী-জিন্স-প্যান্টি মুমিনারা নাস্তিকদের থেকেও বিপদজনক। তাই মুমিনার কথা শুনে আমি দৌড় দিয়ে পালালাম।

পবিত্র কর্তব্য

৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকা (পর্ব ২৫)


গত পর্বে বলা হয়েছিলো মক্কার ১৩ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে কুরাইশদের ভেতর থেকে কখনও মুসলিম না হওয়া 'ঘরের শত্রু বিভীষণ' ধাঁচের একাধিক চরিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা মুহাম্মদ এবং হাশিম গোত্রের বয়কটকালীন সময়সহ আজীবন মুহাম্মদকে সমর্থন-সাহায্য-সহযোগিতা করে গেছেন। মুহাম্মদের টিকে থাকার পেছনে এদের মানবিক ভূমিকা মক্কার কুরাইশদের মহত্ব প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট! তাদের সংখ্যা আপনার হাতের আঙ্গুলের জোড়া থেকে বেশি অবশ্যই, তবে আজ কয়েকজনের কথা বলাই যথেষ্ট মনে করছি।

১. মুতাইম ইবনে আদী
২. হিশাম ইবনে আমর
৩. যুহাইর ইবনে আবি উমাইয়া
৪. উৎবা ইবনে রাবীয়া
৫.আবদুল্লা ইবনে উরাইক্বিত্ব

এদের কারণে হাশিম গোত্র এবং মুহাম্মদের বয়কটকালীন টিকে থাকা সহজ হয়েছে; মুহাম্মদকে জীবিত রাখতে মুতাইম ইবনে আদী নিজ গোত্রের সকল শক্তি ব্যয় করেছেন, খাদ্য সরবরাহ করেছেন, বয়কট চুক্তি বাতিল করেছেন, নিজ সন্তান দিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছেন; এমনকি মক্কা থেকে মদিনায় পলায়নে সাহায্য করেছেন মুহাম্মদকে। সবার আলাদা আলাদা ভূমিকা থাকলেও অবিশ্বাস্য সত্য হচ্ছে, যাকে মুহাম্মদের সবচেয়ে বড় শত্রুদের মধ্যে একজন হিসাবে গণ্য করা হয়, সেই মুহাম্মদের চাচা আব্দুল উজ্জা / আবু লাহাব-ও মুহাম্মদের টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় বিভীষণ ছিলেন কুরাইশদের! যদিও সে ঘটনা আজ না বলে কিছুটা ধাঁধাঁ রেখে দেওয়া যেতেই পারে!

মুহাম্মদ বয়কটের সময়ে নিজের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করেন, এবং তিনি যে একজন মানুষ, সেটা মেনে নেন; মুজেজা বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশ করার অক্ষমতাও মেনে নেন, সেই সাথে কোরআনের আয়াত পরিবর্তন ও মুজেজা প্রকাশের বিষয়টি যে কেবল আল্লাহর জন্য, তা প্রকাশিত আয়াতে ঘুরেফিরে আসতে থাকে; তবে তা ১০২ তম প্রকাশের চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি কুরাইশদের কাছে প্রমাণ করতে না পরার পর থেকে। ১০৩ তম প্রকাশ থেকে আগামী কয়েক পর্ব পর্যন্ত মুহাম্মদের এই দ্বিধার কাল চলতে থাকবে। কখনও তিনি ক্ষমতাবান আল্লার নবী, কখনও তিনি কেবল নগন্য বার্তাবাহী মানুষ!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২৫ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকার ৩য় চার অংশঅনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজী অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

সর্বশক্তিমান পেজগিতে

ঈশ্বরভীতি ও হস্তমৈথুন

লিখেছেন সদরুল আমিন মোসাদ্দেক

হস্তমৈথুন কেন পাপ হবে 

প্রথমেই বলে রাখি, আমি সেই ধর্মের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি, যে-ধর্মের প্রচারকের মৃত্যুর পরেও তার যৌনাঙ্গ দণ্ডায়মান ছিল - যদিও ভদ্রলোক তার জীবনকালে (ক্ষমতাবান হবার পর অর্থাৎ নবুয়ত্ত নামক মানসিক রোগ চলাকালীন স্ত্রী এবং যৌনদাসী সমেত কয়েক ডজন নারীর সাথে বহুগামী যৌনজীবন চালিয়ে গেছেন) তেমন কোনো সফল উৎপাদনশীলতার (সুস্থ সন্তান জন্মদানের) প্রমাণ রেখে যেতে পারেননি। 

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

আমার বয়ঃসন্ধিকালে, আমি যখন প্রচণ্ড রকমের ধার্মিক, আমার পুরুষাঙ্গ নিয়ে সমস্যায় পড়লাম। হাতের কাছে পাওয়া ইসলামী বই বেহেস্তী জেওর, বেহেস্তের কুঞ্জী, “মুকচোদুল” মুমেনিন জাতীয় কিছু বই থেকে জানতে পারলাম - হস্তমৈথুন করা হারাম এবং পাপ।

আমি তখন ভয়ানক রকমের ধার্মিক, তাই প্রতিবার হস্তমৈথুন করার পর প্রচণ্ড রকমের অনুতাপে জর্জরিত হতে হতো। কিন্ত নিজেকে প্রশ্ন করলাম এটা কেন পাপ হবে। আমি তো কারো ক্ষতি করছি না। কাউকে ধর্ষণ করছি না, কার ক্ষতি হচ্ছে এতে? বলা বাহুল্য, আমি তখনো ধর্মকে যৌক্তিক ব্যাপার বলে মনে করতাম। 

কিন্তু  কাকে জিজ্ঞেস করবো এসব প্রশ্ন? তখন না ছিল ইন্টারনেট, না ছিল গুগল। আজ আমরা মনের মধ্যে জাগা যে কোনো প্রশ্নের উত্তর হাতের মুঠোয় থাকা আয়তাকার যন্ত্র থেকে জেনে নিতে পাড়ছি। কিন্তু তখন আমি ছিলাম অসহায়। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম না। তাই আমি ভাবতাম, প্রতিবার এই কাজ করার ফলে হয়ত আমার একটা সম্ভাব্য শিশুর মৃত্যু হয়, যার হয়ত জন্ম হতে পারতো যদি জায়গামতো বীর্যপাত করতে পারতাম। আমার অনুতাপ তীব্রতর হলো। এবং ভাবলাম, শয়তান আমার মাথায় আমার ভাল-লাগা কোনো মেয়ের সাথে যৌনমিলনের অবৈধ চিন্তা মাথায় এনে দিয়ে আমাকে এই ভয়ঙ্কর পাপ করায়।

বাংলাস্তানের কিতাব মাহফিলে

৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

আগের ফেসবুক আইডি নিয়ে নিয়মিত ক্যাচালে অতিষ্ঠ হয়ে একটি বিকল্প আইডি খুলতে হলো

ফাদাক - ৬ (শেষ পর্ব): মুহাম্মদের বিশাল সম্পদ - কারা ছিলেন স্বত্বভোগী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৮): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত বত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মৃত্যুকালে যে সুবিশাল অংকের সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন (পর্ব-১৫৫), তার হিস্যা কী কারণে তাঁর কন্যা ফাতিমা, তাঁর পত্নী ও অন্যান্য নিকট-আত্মীয়দেরই একমাত্র ন্যায্য অধিকার, তাঁদের সেই ন্যায্য উত্তরাধিকারের অধিকার থেকে আবু বকর ইবনে কুহাফা যে অজুহাতে তাঁদের বঞ্চিত করেছিলেন তা কী কারণে মুহাম্মদের পরিবারের প্রতি চরম অবমাননা, অন্যায় ও প্রহসন ও কুরানের স্পষ্ট আদেশের বরখেলাপ, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

পৃথিবীর আর সব ধর্মের সাধারণ ধর্মবিশ্বাসীরা যেমন তাঁদের ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও তার ইতিহাস সম্বন্ধে নিগুঢ় জ্ঞান না রেখেই তাঁদের নিজ নিজ ধর্ম নিখুঁত ও সত্য জ্ঞানে পালন করেন, সাধারণ ইসলাম বিশ্বাসীরাও তার ব্যতিক্রম নয়। আদি উৎসের ইসলামের ইতিহাসের এই সকল স্পষ্ট নথিভুক্ত গভীর ও অন্ধকার ইতিহাসগুলো যখন সাধারণ মুসলমানদের কাছে প্রকাশ করা হয়, তখন তাঁরা প্রথমেই করেন অস্বীকার (Denial)! প্রশ্ন করেন, "এ কীভাবে সম্ভব? আপনি কি বলতে চান যে, আবু বকর-উমর ও আলী-ফাতিমা কুরান-হাদিস জানতেন না?" এই প্রশ্নের অতি সহজ জবাব হলো, মুহাম্মদের এই একান্ত বিশিষ্ট অনুসারীরা ইসলামের অনুশাসন নিশ্চয়ই জানতেন! তাঁরা জেনে-শুনেই এই অন্যায় অপকর্মগুলো সম্পন্ন করেছিলেন! না জেনে কি মুহাম্মদের এই বিশিষ্ট অনুসারীরা একে অপরের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে নবীর পরিবারের বিরুদ্ধে, এ সকল অন্যায় ও অনৈতিক কর্মগুলো করতে পারতেন?

আদি উৎসের সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণিত তথ্য উপাত্তগুলোর বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, এই ঘটনার যিনি ছিলেন বিচারক, তিনিই ছিলেন বাদী ও তিনিই সাক্ষী! এমন একটি বিচারব্যবস্থা, যেখানে বিচারক নিজেই পালন করেন বাদী ও সাক্ষীর ভূমিকা, প্রতিপক্ষের যুক্তি-প্রমাণ ও সাক্ষীর সাক্ষ্যকে করেন প্রত্যাখ্যান (পর্ব-১৫৬) এবং কুরানের স্পষ্ট আদেশকে অবলীলায় করেন অমান্য, তখন সেই বিচারকের বিচারকে এক প্রহসন (পর্ব-১৫৭) ছাড়া অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকে না।

যে সমস্ত সুন্নি ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা (অধিকাংশই না জেনে) ফাতিমার পক্ষের দুই জন পুরুষ সাক্ষীর একজনকে ফাতিমার স্বামী ছিলেন বিধায় তা গ্রহণযোগ্য নয় আখ্যা দিয়ে আবু-বকরের এই অন্যায়, অনৈতিক ও অমানবিক কর্মের বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন, তারা প্রকারান্তরে আবু বকরের মতই কুরানের স্পষ্ট আদেশেরই অবমাননা করেন। এ বিষয়ে আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদের বাণী (কুরান) অত্যন্ত স্পষ্ট:

৪:১৩৫- “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহ্র ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। -----"

Ø অর্থাৎ, সাক্ষীটি যদি ঐ ব্যক্তির নিজের সন্তানও হয়, তথাপি সেই অজুহাতে তাঁকে 'অযোগ্য' বলে ঘোষণা করা কুরানের আদেশের সরাসরি বরখেলাপ! পিতা-মাতার পক্ষে বা বিপক্ষের সাক্ষীও হতে পারে তাঁর নিজ সন্তানেরা। আলী ইবনে আবু তালিব ফাতিমার স্বামী ছিলেন, সে কারণেই তাঁর সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হয়নি, এমন উদ্ভট দাবির কোনো সত্যতা আদি উৎসে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই কু-যুক্তিটি পরবর্তী যুগের সুন্নি পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের অপপ্রচার ও মিথ্যাচার।

আদি উৎসের ইমাম বুখারীর বর্ণনায় (৫:৫৯:৩৬৭) আমরা জানতে পারি যে, উমর ইবনে খাত্তাব তাঁর শাসন আমলের (৬৩৪-৬৪৪ সাল) তৃতীয় বর্ষে, ফাতিমার মৃত্যুর সাড়ে তিন বছর পর, মদিনার বানু নাদির গোত্রের কাছ থেকে লুণ্ঠিত (পর্ব-৫২ ও ৭৫) মুহাম্মদের সম্পত্তি "শর্ত সাপেক্ষে" মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবু তালিব ও চাচা আল-আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কাছে ফেরত দিয়েছিলেন, যার আলোচনা 'ফাতিমার মানসিক আর্তনাদ (পর্ব-১৫৪)!' পর্বে করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ফাদাক ও খায়বারে অবস্থিত মুহাম্মদের সম্পত্তি মুহাম্মদের পরিবারের কাছে ফেরত দেননি। পূর্বপুরুষদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য উত্তরসূরিদের এ শর্ত বাধ্যতামূলক নয় যে, তাঁরা সেই সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও তা থেকে উপার্জিত অর্থ তাঁদের মৃত পূর্বপুরুষদের মতই খরচ করবেন, যদি না এই ব্যাপারে কোনো লিখিত ওসীয়ত (উইল) থেকে থাকে। আদি উৎসের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, আবু বকর তার দাবির সপক্ষে এই মর্মে মুহম্মদের কোনো ওসীয়ত নামা কখনোই হাজির করেননি। এমত অবস্থায় মুহাম্মদ তাঁর জীবদ্দশায় যেভাবে তাঁর বিশাল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন, দান-খয়রাতি করেছেন, অনুসারীদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন, মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির হিস্যা পাওয়ার জন্য 'মুহাম্মদের উত্তরাধিকারীদেরও মুহাম্মদের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে', উমর ইবনে খাত্তাবের আরোপিত এমন বাধ্যবাধকতা অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রশ্ন হলো,

পল্টিবাজ কোরান - ০১

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৮

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৩৬.
নাস্তিকেরা মৃত্যুর পরে তাদের ভুল বুঝতে পারবে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৭.
আল্লাহর অস্তিত্ব না থাকলে আদম-হাওয়াকে কে বানিয়েছে? দেখলেন তো, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৮.
অনেক বিখ্যাত মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৩৯.
ইউটিউবে একটা ভিডিও আছে, যেটা দেখে আল্লাহকে অবিশ্বাস করা সম্ভব নয়। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪০.
নাস্তিকেরা বলে, আল্লাহর প্রয়োজন তাদের নেই। অর্থাৎ বাকিদের প্রয়োজন আছে আল্লাহর। তার মানে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

অন্ধত্বের কারণসমূহ

৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

হা-হা-হাদিস – ১৮৪

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

Jabir b. Samura reported: The Messenger of Allah (may peace be upon him) said: The people who lift their eyes towards the sky in Prayer should avoid it or they would lose their eyesight.

কুদরতিক্রিয়া - ০১

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

১.
আজিয়া আসরের নামাচের ফরে বগলফুর বাজারে আনমুনে হাইটতে সিলাম। এমুন সুময় বাজারের কম্ফিটার-এর দুকান্দার রিদয় আমাক ডাকি উডে, ও কুদরত আলি হুজুর। আমি বইল্লাম জি। কয়, হুজুর এদিক একটু আসেন। আইসলাম, কিন্তু কেনু? কয়, হুজুর আফনের মাদেসার ফুলাফান আমার কম্ফিটার-এর বাকির টেকা দেয় না ফ্রায় তিন মাস হলু। আমি বইল্লাম, মাদেসার সাত্রদের আবার কম্ফিটার-এর দুকানে কিয়ের বাকি? কয় হুজুর আফনের সাত্ররা মেমুরি কাডে আমার কম্ফিটার তেকে ছহবত-এর বিডু নিসে বাকি, কিন্তু একন টেকা দেওনের নাম নাই। আমি ত অবাক! কম্ফিটারে আবার কিয়ের ছহবত? কয়, হুজুর আফনে এই সব বুইজবেন না, আফনে কালি আমার টেকা ড লিয়ে দেন। আমি কই, বিসয়ডা আমার বুজা দরকার, একটু দেকাইয়া বুজাও ত। এর ফর দুকান্দার রিদয় আমারে যা দিকাইল, তা দিকি আমি ত এক্কেবারে টাসকি কাই গেলাম। অরে কাফেরের দল করসে ডা কি রে? সি সি সি! আমার ত মুকে বইলতেই লইজ্জা লাইগতেসে, তারফরেও বলি ফেলি। আমি দেইকালাম কি, দলা দলা নাসারা যুবক-যুবতি নেংটা অই ফ্রাকাস্যে ছহবত কইত্তেসে।... নাউজুবেল্লা নাউজুবেল্লা! আমরা ত জানি, আমাগের দেসে বিবি-জামাইরা মিলি রাইতে বাত্তি নিবাই আন্দারে ছহবত করে। কিন্ত এই কাফেরের দল ত ফ্রকাস্যে কেমেরার সাইমনে লেংডা অই জিনা কইত্তেসে। আর আমি বুইজলাম, আমার সাত্ররা বুজি এইসব ছহবত-এর বিডু টেকা দি কিন্না নিয়া মুবাইলে দেকে! আর এই সব দেকি আত মারি মাদেসা নাফাক করে! নাউজুবেল্লা নাউজুবেল্লা! দারা, আজিয়া মাদেসায় যাই লই, তারফর গি তগর ফিডের সামরা তুইলতেসি...

২.
সরসতি দেবির নিজের বিদ্যার দউর কদ্দুর ফইয্যন্ত? হে তে কি এন্ট্রান্স ফাস কইচ্ছিল নি?

৩.
নাস্তেকরা এতু কাফের কেনু? হারাদিন কালি আমাগের নবিজির বিবাহিক জীবন লিয়ে সমালুসনা করে। কয়, নবিজি চুদ্দডা বিয়া কইচ্ছেন, নবিজি গনিমতের মাল হিসাবে নারিদের বুগ কইচ্ছেন, নবিজি দাসি লাগিয়েসেন। নবিজি নিকি সিসুদের সাতে ছহবত কইচ্ছেন! অরে নাস্তেক কাফের, নবিজি এতু এতু বিবাহ করাসেন ছহবত করার জইন্ন না। ছহবতের জইন্ন বিবাহ কইল্লে ত নবিজির শত শত সুন্তান তাইকত। এতু গুলি বিবাহ সিল সমাজের উফকার আর রাজনিতিক কারনে। কুন কুন গুত্রের সাতে আত্তিয়তা কইত্তে সাইলে নবিজি বিবাহ কইত্তেন। এর ফরেও কাফেররা কয়, নবিজি এত গুলা বিবিরে কাওন-দাওন কাফর-সুফর দিতেন কিবাবে? অরে নাস্তেক এর দল, নবিজির কি সমফত্তি সিল না? নবিজির বরো বিবি কাদিজার (রাঃ) রেকে যাওয়া সম্ফত্তি কি কম সিল? আর যুদ্দে লব্দ গনিমতের মাল কি কম সিল? (সুরা আনফাল, আয়াত ১)। অহে নাস্তেক, আমদের নবিজির বিবাহিত লাইপ লিয়া এত না বাবি নিজেদের আমল নামা লিয়ে বাব। কয় দিন ফর ফর দিকা যায়, এক নাস্তেক আরেক নাস্তেক এর আমল নামার স্কিন সট ফ্রকাস করি দেয়। নাস্তেকদের নিজেদের নইতিকতা যেকানে টিক নাই, সেকানে তরা অন্যের জীবনের নইতিকতা লই এত মাতা বেতা দেকাস কেনু?

বিশ্বাসে সংশয়ের ফসল - দোয়া-মোনাজাত

৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ধর্ম মানেই ঘৃণার চাষ

লিখেছেন পুতুল হক

আমি এমন একটা দেশে বাস করি, যেখানে অধিকাংশ মানুষ ধার্মিক। ধার্মিক বলতে শুধু মুসলমান নয়, এখানকার হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে যারা এসেছেন, তারাও অধিকাংশ ধার্মিক। এরাই আমার আত্মীয়, বন্ধু। আমার হিতাকাঙ্ক্ষী বলতে যাদের মুখ ভেসে ওঠে, তখন আস্তিক ও নাস্তিকের পৃথক কোনো তালিকা পাই না। 

যাদের ঘিরে আমার পৃথিবী, তাদের মাঝেই আমি আবার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ি শুধুমাত্র আমার অবিশ্বাসের কারণে। এই সমাজে অবিশ্বাসীরা ভয়ানক অপরাধী। অন্য ধর্মের কেউ যদি শোনে মুসলমানের ঘরে জন্মেও আমি অবিশ্বাসী, তখন তাদের কাছেও আমি অপরাধী। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখা পরম পুণ্য আর তাতে অবিশ্বাস করা সব চাইতে জঘন্য পাপ।

বিশ্বাসীরা ঘৃণা করে অবিশ্বাসীকে। কারণ জানা আছে কারো? আমি নিশ্চিত জানি, কোনো অবিশ্বাসী শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখার জন্য কাউকে ঘৃণা করে না। ঘৃণা কাদের মধ্যে বেশী হলো তাহলে? বুক-ভর্তি ঘৃণা নিয়ে ভালোবাসার চাষ হয় না।

ধর্ম যতদিন জীবিত থাকবে, ততদিন একটা সুন্দর পৃথিবীর আশা করাটা বোকামি। সম্প্রদায় থেকেই সাম্প্রদায়িকতা। সব মানুষের গায়ের রং যদি একরকম হত, তবে সাদা, কালো বা পীতবর্ণের কারণে যে অন্যায় আর শোষণ হয়েছে এবং হচ্ছে, সেসব হতে পারতো না। গায়ের রঙ আমরা চাইলেই এক করে দিতে পারি না। কিন্তু চাইলে ধর্মহীন হওয়া সম্ভব। এতে কারো পাপ হবে না।

বামাতিদের কাছে সব সমস্যার সমাধান - বিপ্লব করে কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠা। যেমন করে মুসলমানের কাছে আল্লাহ্‌র আইন, হিন্দুদের কাছে ফিরে পাওয়া খাঁটি সনাতন, খ্রিষ্টানের কাছে যীশুর বাণী। সকল সমস্যার সমাধানের জন্য কেউ যখন কেবল একটা দাওয়াই প্রেসক্রাইব করে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, ঐ ব্যাটার মগজ ভাইরাসে ঠাসা।

পৃথিবী নানারকম 'বাদ'-এর ফাঁদ বহুদিন যাবত দেখছে। মানবতাবাদও ক্ষেত্রবিশেষে আপেক্ষিক হয়ে পড়ে। আমার রফতানি যখন বাড়ে, তখন অন্যের আমদানি বাড়ে। আমি আমার প্রয়োজনে যখন নদীতে বাঁধ দিই, তখন অন্যপাড় শুকিয়ে যায়। আমার উঠোনের ধান যখন আমি আগলে রাখি, তখন কাকের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়।

সৃষ্টিকর্তা বলে সত্যই যদি কেউ থাকতো তবে সে বলে দিত মানুষ কাকে গ্রহণ করবে, কতোটা গ্রহন করবে, কাকে বর্জন করবে, কতোটা বর্জন করবে। পরিমাণ বা সীমার মাপকাঠি যে নির্ধারণ করে, সে হচ্ছে সময়। সময়ের প্রয়োজনকে সবার আগে স্থান দিতে হবে।

ধর্মীয় যুক্তিবাদ অর্থাৎ যুক্তি বাদ

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৪

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে সকালবেলা ডেনমার্কের রাস্তায় জামাতের এক নেতার সাথে দেখা। ভদ্রলোক খুবই ঈমানদার, পরেজগার, গণ্যমান্য ব্যক্তি। আমাকে দেখা মাত্রই ভদ্রলোক কাছে এসে একটি নুরানি হাসি দিয়ে জিজ্ঞাস করল:
- আরে মুফতি সাহেব যে! কেমন আছেন? কোথায় যাচ্ছেন?

আমি উত্তর দিলাম:
- বাজারে যাচ্ছি। একটি নারী খরিদ করিব।

জামাত নেতা রেগে উত্তর দিল:
- আস্তাগফিরুল্লাহ নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করুক। এইসব ফালতু কথা বললে তো আপনার ঈমান আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি তার কথায় পাত্তা না দিয়ে উত্তর দিলাম:
- ভাই, আমি তো নবীজির মত ধনী মানুষ না। তাই একবারে নগদ টাকা দিয়ে গোটা একটা নারী কিনতে পারবো না। ভাবতেছি, ১ ঘন্টার জন্য ভাড়া করে তারপর দেনমোহর আদায় করে দিব। ইসলামে তো মুত্তা বিবাহ বৈধ, ঠিক কি না?"

জামাত নেতা উত্তর দিল:
- এইসব ফালতু তথ্য কোথায় পান আপনি, আপনার তো কোরান হাদিসের কোনো জ্ঞান নাই।

আমি উত্তর দিলাম:
- বাজার থেকে নারী কেনা তো রাসুলের সুন্নাহ। রাসুল তো বাজার থেকে নারী কিনতেন, রাসুলুল্লাহ তার সাহাবীদেরকে উপহার হিসাবে নারী প্রদান করতেন। আপনি যদি নারী কেনাবেচায় বাধা দেন, তাহলে তো আপনি আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধচারণ করলেন। আমি আপনাকে রেফারেন্স দিচ্ছি।

এ সম্পর্কে আল্লাহপাক কোরান মজিদে ইরশাদ করেন:
- "হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর কৃতদাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণেরও স্ত্রী ও কৃতদাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।" (সুরা আল আজহাব, আয়াত নম্বর ৫০)

এইছাড়া সহিহ মুসলিমের হাদিস আছে:
জাবির বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যাক্তি আল্লাহর নবীর কাছে আসল, এবং বলল, ‘ও আল্লাহর রসুল, আমার কাছে যুদ্ধে পাওয়া একজন বন্দিনী আছে যে আমাদের কৃতদাসি, এবং আমি তার সাথে যৌনসংসর্গ করে থাকি । কিন্তু আমি চাই না সে গর্ভবতী হয়ে পড়ুক।’ আল্লাহর নবী বললেন, ‘আজল প্রক্রিয়া অনুসরণ করো, যদি পছন্দ করো তো । তবে আল্লাহ কতৃক তার (ক্রীতদাসী) জন্যে যা নির্ধারণ হয়ে আছে তা হবেই।’ (সহিহ মুসলিম, বই ৮, হাদিস ৩৩৮৩)

আমার উত্তর শুনে জামাত নেতা বলে উঠল:
- ভুল ভুল, কোরানের ভুল ব্যাখ্যা, ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র। আল্লাহ মাফ করুক। তোওবা তোওবা। কোরান-হাদিস সব জায়গাতে খাটে না। যাই, আমি ওযু করে আসি। আপনি আমার ঈমানটা নষ্ট করে দিলেন। ঈমান নষ্ট হয়ে গেলে ওযু করতে হয়। আমি বাসার দিকে গেলাম। ফি নারে জাহান্নামা। আপনার উপর আল্লাহর গজব বর্ষিত হউক।

আমি উত্তর দিলাম:
- যতদিন আমারা কোরান এবং হাদিস শক্ত করে ধরে রাখব, ততদিন কেউ আমাদেরকে নারী খরিদ করাতে বাধা দিতে পারবে না। কেউই আমাদের উপর গজব নাজিল করতে পারবে না।

এরপর আমি ডেনমার্কের বিখ্যাত Istedgade রোডের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। জামাত নেতা আমার পিছন পিছন আসল।

হিজাবী হুরি যতো - ৩

৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

আল-কুরান ও ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইড: ১৪০০ বছর আগে দেয়া বিস্ময়কর তথ্য

লিখেছেন আক্কাস আলী

বর্তমান যুগের কথিত বিজ্ঞানমনস্ক নাস্তেকরা কুরানের ভুল ধরায় ব্যস্ত। কুরানে হাজারটা বৈজ্ঞানিক নিদর্শন থাকলেও সেটা কখনই এই নাস্তেকদের চোখে পড়বে না। তাদের আরেকটা দাবি হচ্ছে, কুরানে নাকি কোনো বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্যই স্পষ্ট করে দেয়া নেই।

আরে বলদ নাস্তেকরা, শুনে রাখ... Quran is a book of Signs and not Science. কুরান বিজ্ঞানের বই নয়, এটাতে থাকবে বিভিন্ন নিদর্শনসমূহ। আর, এই নিদর্শনসমূহ থেকেই আমাদেরকে বিজ্ঞানটা বের করে আনতে হবে। অর্থা, কুরানে শুধু ইঙ্গিত দেয়া থাকবে, বাকি বিজ্ঞানটা আমাদের বুঝে নিতে হবে।

কুরানে যদি বৈজ্ঞানিক নিদর্শন না-ই থাকবে, তাহলে কুরান নিয়ে সারা বিশ্বে এতো গবেষণা হচ্ছে কেনো? নাসা, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট, সার্ন, ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, রয়াল সোসাইটি, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি... ইত্যাদি প্রতিটি জায়গায় আজকে কুরান নিয়ে ব্যাপক ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। তারা কুরান থেকে তথ্য চুরি করে নতুন নতুন আবিস্কার করে যাচ্ছে।

যাহোক, কথা বাড়াবো না। আজকে আমরা দেখবো কুরানের একটি মোজেজা। ১৪০০ বছর আগে আল কুরানে বলা হয়েছে ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইডের (dihydrogen monoxide) কথা। অতীতে এটা নিয়ে তেমন একটা ঘাঁটাঘাঁটি হতো না, কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরা এই যৌগটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমার আল কুরানে হাজার বছর আগেই এই সম্পর্কে উল্লেখিত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। কুরানের আয়াত ধরে ধরে আমরা রেফারেন্স একটু পরে দিচ্ছি। আগে জেনে আসি এই আশ্চর্য যৌগটি সম্পর্কে।

Dihydrogen Monoxide (DHMO) একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন রাসায়নিক যৌগ। এটাকে হাইড্রোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড কিংবা আরও সাধারণভাবে হাইড্রিক এসিডও বলা হয়ে থাকে। Dihydrogen Monoxide (DHMO) নিজে বিষাক্ত নয়, তবে প্রায়ই এতে অন্যান্য বিষাক্ত যৌগ মিশ্রিত থাকে। এ কারণে এটি খুব মারাত্মক ও জীবনঘাতী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইডের কিছু বিপদজনক প্রতিক্রিয়া:
➤ সামান্য পরিমাণ Dihydrogen Monoxide (DHMO) যদি দুর্ঘটনাবশত আপনার শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে, তাহলে আপনি মুহূর্তেই মারা যেতে পারেন।
➤ কঠিন DHMO-এর সংস্পর্শে আপনি অনেক সময় ধরে থাকলে আপনার শরীরের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
➤ Acid Rain-এর অন্যতম কারণ এই DHMO.
➤ বায়বীয় DHMO-এর সংস্পর্শে চামড়ায় মারাত্মক Burn হতে পারে।
➤ মাটি ক্ষয়ের একটি অন্যতম কারণ DHMO.
➤ DHMO-এর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে El-Nino ওয়েদার ইফেক্ট শুরু হতে পারে।

এই তালিকা শেষ হবার নয়... তবে এই যৌগটি কি শুধুই আমাদের ক্ষতি করে? কোনো উপকার নেই এর মধ্যে? হ্যাঁ, ভাই, আমাদের মূল আলোচনার যায়গা এটাই। আল্লাহ কুরানে আমাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন, বলেছেন কী কী ভাবে এই ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড যৌগটিকে মানুষের কল্যাণে লাগানো যায়। আল্লাহ আমাদের বলেছেন যৌগটির উপকারিতা সম্পর্কে। উক্ত আয়াতগুলো বিজ্ঞানীদের মনে ব্যাপক আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। তো বন্ধুরা, চলুন দেখে আসি DHMO-এর কিছু উপকারিতা, অপকারিতা, ও বৈশিষ্ট্য - অবশ্যই কুরানের আলোকে।

➤ কোন পাথরকে সজোরে আঘাত করে ফাটানো হলে তা থেকে DHMO উদগীরণ হতে পারে।
➤ এমনকি, পা দিয়ে মাটিতে সজোরে লাথি দিলেও মাটি থেকে DHMO উদগীরণ হতে পারে। মাটি থেকে বের হয়ে আসা DHMO শীতলীকারক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
➤ DHMO যৌগটি না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ঘটতো না।
➤ সকল উদ্ভিদ DHMO এর উপর নির্ভরশীল।
➤ অতীতে DHMO এর মাত্রাধিক্যের কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ জীব মারা গিয়েছিলো।
➤ আমাদের সংস্পর্শে থাকা রোগ জীবাণু দূরীকরণে DHMO ব্যবহৃত হতে পারে।
➤ আকাশে অনেক পরিমাণ DHMO থাকতে পারে যা মাটির সংস্পর্শে আসে এবং মাটিতেও সংরক্ষিত হয়।

বলাই বাহুল্য, বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা কুরান থেকে এইসকল তথ্য চুরি করে নিয়ে DHMO এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জেনেছে এবং আরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শুনে অবাক হবেন যে, আজকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টেও এই ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড ব্যবহৃত হচ্ছে। হে নাস্তেকরা, একটিবার ভেবে দেখুন, ১৪০০ বছর আগে এক মূর্খ রাখাল কি করে এইসব তথ্য জানবে??

সর্বশেষে এই Dihydrogen Monoxide (DHMO) এর রাসায়নিক গঠন নিয়ে আলোকপাত করে আজকের বক্তব্য শেষ করবো। “ডাই” মানে হচ্ছে দুই। “ডাইহাইড্রোজেন” দিয়ে ২ টা হাইড্রোজেন পরমাণুকে বোঝায়। আর, “মনো” কথার অর্থ হচ্ছে এক। অর্থাৎ, “মনোঅক্সাইড” দিয়ে আমরা বুঝবো ১ টি অক্সিজেন পরমাণু। সুতরাং, ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড হচ্ছে দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণু আর একটা অক্সিজেন পরমাণুর মিলিত রুপ। রাসায়নিক সংকেতটি হবে এরূপ: H2O । প্রচলিত ভাষায় ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইডকে “পানি” বলা হয়ে থাকে।

ও আচ্ছা, রেফারেন্সগুলোই তো দেয়া হয়নি। ওপরে যে তথ্যগুলো দিলাম ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড নিয়ে, সেগুলো কুরানে পাবেন যথাক্রমে ২:৬০, ৩৮:৪২, ২১:৩০, ২০:৫৩, ১১:৪০, ৮:১১, ২৩:১৮ আয়াতগুলোতে।

যাযাকাল্লাহ খায়ের।

ঝুঁকি হ্রাস

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৪ – (রামের বাবা ও মুহাম্মদের পিতা সমান!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টা, আসর নামাজের একটু আগের ঘটনা, বন্ধুদের সাথে বসে চা খাচ্ছিলাম। প্রায় ছুটির বিকেলেই বন্ধুরা মিলে চৌরাস্তার মোড়ে আড্ডায় বসি। মোড়ের কালাম চাচার দোকানের চা জগৎসেরা বলা চলে অনায়াসে। আমার বন্ধুদের ভেতর সকল পেশার জনগণ বিদ্যমান, তবে আজকের গল্প লিঙ্গমুণ্ডু-কাটা এক মুসলমান মুমিন নিয়ে!

কথা বলার ফাঁকে হাওয়া থেকে তাবলীগ জামাত-এর লোকজন এসে হাজির, তারপর যথারীতি শুরু হলো বয়ান: আপনারা তো সকলেই ‍মুসলিম? উত্তর দিলাম, হ্যাঁ।

আমাদের কত সৌভাগ্য, আল্লাহ আমাদের মুসলমানের ঘরে জন্ম দিয়েছেন। আজ যদি আমরা মুসলমানের ঘরে জন্ম না নিয়ে কোনো বেদ্বীন-কাফেরের ঘরে জন্ম নিতাম, ভেবে দেখেন তো, মরনের পরে কোথায় ঠাঁই হতো আমাদের! যে আল্লাহ আমাদের মুসলিম হবার তৌফিক দান করেছেন, তার জন্য কি আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিত নয়? উত্তর দিলাম, হ্যাঁ।

তা বাবারা চলেন আজকের আসরের নামাজটা একসাথে জামাতের সাথে মসজিদে পড়ি; আমরা মাগুরা জেলা থেকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে আপনাদের এলাকায় এসেছি; সকলে ওয়াদা করেন, আসরের নামাজটা আমাদের সাথে পড়বেন!

যারা এরকম পরিস্থিতিতে পড়েছেন, কেবল তাদের পক্ষেই বোঝা সম্ভব, ঠিক কেমন লাগে তখন! তবে আমাদের ঘটনা এতটা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো যে, তার প্রমাণ দিতে মসজিদে গিয়ে আসর নামাজ পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিলো!

এলাকার চৌরাস্তা পেরিয়ে পশ্চিমের শেষ প্রান্তে শ্মশান ঘাট আছে একটা, প্রায় প্রতিদিনই লাশবাহী মানুষ আর হরে-কৃষ্ণ-হরে-কৃষ্ণ ও রাস্তায় খই ফেলতে ফেলতে হিন্দু শবযাত্রা চোখে পরে। প্রকৃতির লীলা বোঝা বড় দায়, তাবলীগ জামাতের বয়ান শুনতে শুনতেই একটি শবযাত্রা পার হলো সামনে দিয়ে। দোকানদার চাচাকে প্রশ্ন করলাম: চাচা, কে মারা গেলো, জানেন কিছু?

চাচার উত্তর: ওই যে স্কুল শিক্ষক রামলাল বাবু আছে না, তার বাবা! বেচারা খুব ভাল লোক ছিলেন, এত ভালো মানুষ আমি আমার জন্মে দেখিনি।

লিঙ্গমুণ্ডু-কাটা তাবলীগের এক মুসলমান মুমিন দোকানদার চাচার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন: এই তো চোখের সামনে দিয়ে প্রমাণ দেখছেন, মানুষটা এত ভালো হবার পরেও কেবল ঈমান না থাকার কারণে, ভাল কাজের কোনো মূল্য তিনি পাবেন না, চিতায় পুড়ে ছাই হবার পরও তাকে দোযখের আগুনে পুড়তে হবে অনন্তকাল!

মাথায় বিচি উঠে গেলো আমার; শালার লোক বলে কী? বলেই ফেললাম: তবে তো স্কুল শিক্ষক রামলাল কাকার বাবা আর নবী মুহাম্মদের পিতা একই দোযখের বাসিন্দা হবেন! 

তাবলীগি মুমিনের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো, অবাক হয়ে বলে উঠলেন: কিসের সাথে আপনি কী তুলনা করেন? এ কথা মানছি যে, নবী মুহাম্মদের আব্বাজান ইসলাম কবুল করতে পারেন নাই, কিন্তু ‍তিনি তো সাধারণ কেউ নন!

আমি বলালাম: কার কথা মানবো, আপনার? না হাদিসের? সহিহ্ হাদিসে পরিষ্কার বলা আছে; নবী মুহাম্মদের আব্বা আবদুল্লা দোযখবাসী!

মুমিন বলে উঠলো: আপনি প্রমাণ দিতে পারবেন?

বললাম: অবশ্যই।

আসরের আজান দিয়ে দিলো! তাদের সাথে লম্বা লাইন ধরে যেতেই হলো মসজিদে! তার পরের ঘটনা বরাবরের মতই সংক্ষিপ্ত!

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস নং:৪৬৪৩, হাদিসের মান: সহিহ্

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা কোথায়? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। যখন সে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বলেনঃ আমার ও তোমার পিতা জাহান্নামে।

 

প্রিয় মুমিন পাঠক, আপনাদের নবীর পিতা, যিনি জন্ম না নিলে মুহাম্মদের জন্মই হতো না, এবং যার নিজ সন্তানকে দেখার সুযোগ পর্যন্ত হয়নি, সে কিনা যাবে জাহান্নামে! এ কেমন পুত্র আবদুল্লার! এ কেমন দয়ার নবী আপনাদের, যিনি তার জন্মের আগেই মৃত পিতাকে বেহেস্তে নেবার ক্ষমতা রাখেন না! আপনারা কী করে আশা করেন, তিনি আপনাদের বেহেস্তে নেবার জন্য সুপারিশ করবেন?

যদি এই হাদিসের বর্ণনা সত্য হয়, তবে রামলাল কাকার বাবা আর আপনাদের নবীর পিতার কতটুক পার্থক্য থাকে, ভেবে দেখেছেন কি?

(চলবে)